× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
After four indicators relief this time in the form of inflation
hear-news
player
print-icon

চার সূচকের পর স্বস্তি এবার মূল্যস্ফীতির হিসাবে

চার-সূচকের-পর-স্বস্তি-এবার-মূল্যস্ফীতির-হিসাবে
পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে জুনে মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জুলাইয়ে তা ০.০৮ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি জুনে ছিল ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। সেটি জুলাইয়ে কমে হয়েছে ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ।

আমদানি ব্যয় হ্রাস, রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির প্রভাবে ক্রমহ্রাসমান রিজার্ভের ইউটার্নের মধ্যে অর্থনীতিতে আরও একটি স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএস।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতির পারদ কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে, যেটি ক্রমেই বেড়ে চলেছিল।

জুনে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি বা মাসভিত্তিক) দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় ওঠার পরের মাসে কিছুটা কমেছে।

জুনে মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জুলাইয়ে তা ০.০৮ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে।

এর অর্থ হলো গত বছরের জুলাই মাসে দেশের মানুষ যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় পেয়েছিলেন, এ বছর জুলাই মাসে তা কিনতে ১০৭ টাকা ৪৮ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।

জুনে একই পরিমাণ পণ্য কিনতে তাদের লেগেছে ১০৭ টাকা ৫৬ পয়সা।

এর মধ্যে আবার খাদ্যের মূল্যস্ফীতি তুলনামূলক বেশি কমেছে। জুনে এই মূল্যস্ফীতি হয় ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। সেটি জুলাইয়ে হয়েছে ৮ দশমিক ১৯ শতাংশ। তবে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ থেকে কিছুটা বেড়ে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ হয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ওলটপালট হয়ে যাওয়া অর্থনীতিতে আমদানি ব্যয় হ্রাস, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয় বাড়ার খবরের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী হওয়ার খবর দেশের মানুষকে স্বস্তি দেবে বলে মনে করছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ সব ধরনের পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। আমাদের প্রবাসী ভাইবোনেরা বেশি বেশি রেমিট্যান্স পাঠাতে শুরু করেছেন। রপ্তানি আয় বাড়ছে। রিজার্ভও বেড়েছে। যেটা সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের ছিল, সেই আমদানি কমতে শুরু করেছে।

‘সব মিলিয়ে মূল্যস্ফীতিও কমে আসবে বলে মনে হচ্ছে। অর্থনীতিতেও স্বস্তি ফিরে আসবে।’

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, নয় বছর আগে ২০১১-১২ অর্থবছর শেষে সার্বিক গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ওই বছরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ২১ শতাংশ।

২০১২-১৩ অর্থবছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশে নেমে আসে। ওই বছরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয় ৫ দশমিক ২২ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এর পর থেকে মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখীই ছিল।

৩০ জুন শেষ হওয়া বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে টানা ছয় মাস বাড়ার পর জানুয়ারিতে কিছুটা কমেছিল এই সূচক। ফেব্রুয়ারি থেকে তা আবার চড়ছে।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, দেড় বছর পর গত বছরের ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের ‘ঘর’ অতিক্রম করে ৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে ওঠে। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তা কমে ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশে নেমে আসে। এর প্রতি মাসেই বাড়ছে।

২০২১ সালের জুনে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এর পর থেকে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের নিচেই অবস্থান করছিল।

১২ মাসের গড় হিসাবে জুন মাস শেষে (২০২১ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের জুন) মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে বেশ খানিকটা ওপরে।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছিল সরকার। ২০২০-২১ অর্থবছরে এই লক্ষ্য ধরা ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু অর্থবছর শেষ হয় ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ে।

এ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, গত দুই অর্থবছরে সরকার মূল্যস্ফীতি আটকে রাখার যে লক্ষ্য ধরেছিল, তাতে আসলে সফল হয়নি।

২০২২-২৩ অর্থবছরের নতুন বাজেট গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে সরকার।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব দেশে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ, এডিবিসহ বিভিন্ন আর্থিক সংস্থা পূর্বাভাস দিচ্ছে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছিল।

মহামারীর ধাক্কা সামলে অর্থনীতির গতি বাড়ায় গতবছরের শেষ দিক থেকেই মূল্যস্ফীতি ছিল বাড়তির দিকে। চলতি বছরের শুরুতে ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্যমূল্য বাড়তে শুরু করে। তার প্রভাব পড়ে অন্যান্য পণ্যেও।

গ্রামে মূল্যস্ফীতি এখনও ৮ শতাংশের বেশি

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, গত কয়েক মাসের মতো জুলাই মাসেও শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি মূল্যস্ফীতি হয়েছে। জুন মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৮ দশমিক শূন্য নয় শতাংশ। জুলাইয়ে তা কিছুটা কমে ৮ দশমিক শূন্য দুই শতাংমে নেমেছে।

অর্থাৎ শহরের চেয়ে গ্রাম এলাকায় পণ্যমূল্য ও অন্যান্য সেবার দাম বেড়েছে বেশি।

জুলাই মাসে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ; জুন মাসে হয়েছিল ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য বলছে, শহরের চেয়ে গ্রামে খাবারের দাম বেশি। জুলাই মাসে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। জুনে হয়েছিল ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ। জুলাইয়ে গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি খানিকটা বেড়েছে। জুনে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ; জুলাইয়ে হয়েছে ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

জুলাই মাসে শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। জুনে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ। জুলাই মাসে শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জুনে হয়েছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য আট শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ হয়েছে।

আগামী মাসগুলোতেও কমবে

মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমূখী ধারা নিম্মমূখী হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বুধবার তার দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় অগাস্ট মাসে মূল্যস্ফীতির এই হার আরও একটু কমবে। আমি গণক নই, তবে আমার ধারণা কমার একটা লক্ষণ আমি লক্ষ্য করছি।’

জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসাকে ‘ইতিবাচক’হিসেবে বর্ণনা করে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি যে শ্রীলঙ্কার দিকে যাচ্ছে না, এটা তার ‘প্রমাণ’।”

চার সূচকের পর স্বস্তি এবার মূল্যস্ফীতির হিসাবে

‘অর্থনৈতিক পরিস্থিতির একটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে মূল্যস্ফীতি। পুরো অর্থনীতিটাকে এটা রিফ্লেক্ট করে এটা অর্থনীতির একটা প্রতিচ্ছবি। এই মূল্যস্ফীতি পুরো অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলে।

‘আর কম আয়ের মানুষের ওপর এটা আঘাত করে বেশি। জনগণের সরকারকে এটা চিন্তা করতে হবে। নিম্ম আয়ের মানুষের লাইফ ক্ষতিগ্রস্ত হয়- এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

“জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি যতটা কমেছে, সেই হার ‘অনেক কম’বলে মনে হলেও বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে এটাও ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’।”

‘শুধু যে কমেছে তা নয়, মাথার ছোবলটা একটু নুয়েছে। এটা আরও নুয়ে আসবে,’ বলেন মান্নান।

এই ধারণার পক্ষে যুক্তি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধের মধ্যেও ইউক্রেইন থেকে খাদ্য নিয়ে জাহাজ ছাড়া শুরু হয়েছে। অলরেডি জাহাজ ভেসে বেড়াচ্ছে, আমরাও পাব। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য পণ্যের দাম কিছুটা ফল করেছে। এই বেনিফিট এখন আরও আসবে।’

জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি কেনো কমেছে- এ প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘মূল কারণ হচ্ছে খাদ্য দ্রব্যের দাম কমে আসা। সয়াবিন তেল আমাদের খাদ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পণ্যটির দাম কিছুটা কমে আসায় এর প্রভাব পড়েছে। চালের দাম কমতে শুরু করা আরেকটা কারণ।

‘দেশে হঠাৎ চালের দাম বাড়তে শুরু করলে সরকার গত মাসে চাল আমদানির সুযোগ করে দেয়। এরপর থেকে চালের দামও কমতে শুরু করেছে। প্রধানত এই দুই পণ্যের দাম কমার কারণেই খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমতে শুরু করেছে।’

পরিসংখ্যান ব্যুরো মূল্যস্ফীতির যে তথ্য দেয়, বাস্তবে এই হার বেশি-বেসরকারি কিছু গবেষণা সংস্থার এমন অভিযোগের বিষয়ে মান্নান বলেন, ‘বিবিএস এর বাস্কেটে ৪২২টি পণ্যের মূল্য সংগ্রহ করি। এর মধ্যে দেশের সকল মানুষের ব্যবহার্য্য জিনিসপত্র থাকে।

‘কিন্তু ওই সংস্থাগুলো শুধুমাত্র কম আয়ের মানুষের ব্যবহারের, বিশেষ করে খাদ্য পণ্যের দাম বেশি ছিল বলে তারা বেশি মূল্যস্ফীতি হিসাব পেয়েছিল। কিন্তু সার্বিক মূল্যস্ফীতির হিসাবতো তাদের মত করে শুধুমাত্র খাদ্য নিয়ে তৈরি করতে পারি না।’

ডলার সংকটের কারণে আমদানি ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতে গত এপ্রিল থেকে একটার পর একটা পদক্ষেপ নিচ্ছিল সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক। তার ইতিবাচক ফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পণ্য আমদানির ঋণপত্র খোলার (এলসি) হার কমেছে ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ।

এই মাসে ৫৪৭ কোটি (৫.৪৭ বিলিয়ন) ডলারের এলসি খুলেছেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। গত ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে এলসি খোলা হয়েছিল ৭৯৬ কোটি (৭.৯৬ বিলিয়ন) ডলারের।

অন্যদিকে এই মাসে বিদেশি মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২ শতাংশের বেশি।

আর এর ফলে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ বাড়তে শুরু করেছে। বুধবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৯ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। জুলাই মাসের ৫ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারের আমদানি খরচ হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে সাত মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

১২ জুলাই এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। চাহিদা মেটাতে রিজার্ভ থেকে অব্যাহতভাবে ডলার বিক্রির ফলে আরও কমে যায় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এই সূচক।

কয়েক দিন ধরে টানা কমে ২৬ জুলাই তা ৩৯ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়। ২৭ জুলাই তা আরও কমে ৩৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এরপর থেকেই বাড়তে শুরু করেছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এই সূচক।

আরও পড়ুন:
মূল্যস্ফীতিতে জাপানে পেঙ্গুইনদের ‘অনশন’
মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে ফের নীতি সুদহার বৃদ্ধি
মূল্যস্ফীতিতে অশান্ত হতে পারে পরিবেশ, প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা
মূল্যস্ফীতি ৫.৬ শতাংশে বেঁধে রাখার আশা
ব্যাংক খাতের চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি-ডলারের দাম বৃদ্ধি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Commerce Minister orders action against those involved in market manipulation

বাজার কারসাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর

বাজার কারসাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর
টিপু মুনশি বলেন, ‘একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ আর নেই। বাজার যাতে প্রতিযোগিতামূলক থাকে সেজন্য কমিশন গঠন করা হয়েছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী কারসাজি বা অনিয়ম করে বাজার প্রভাবিত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে প্রতিযোগিতা কমিশন।’

অনিয়ম বা কারসাজি করে বাজারে অস্থিশীল পরিবেশ তৈরির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন আয়োজিত ‘ব্যবসা-বাণিজ্যে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিতকরণে অংশীজনের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে মন্ত্রী এ নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি প্রতিযোগিতা কমিশনকে নজরদারি বাড়াতে বলেছেন।

টিপু মুনশি বলেন, ‘এখন আর একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ নেই। বাজার যাতে প্রতিযোগিতামূলক থাকে সেজন্য কমিশন গঠন করা হয়েছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী কারসাজি বা অনিয়ম করে বাজার প্রভাবিত করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে প্রতিযোগিতা কমিশন। দেশের মানুষ ন্যায্য দামে পণ্য কিনতে পারলে তবেই কমিশন গঠনের উদ্যোগ স্বার্থক হবে।’

ভোক্তাদের সচেতন করতে কমিশনকে জেলা, উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার চালানোর পরামর্শ দেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কমিশনের সদস্য ড. এ এফ এম মনজুর কাদির ও নাসরিন বেগম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কমিশনের সদস্য জি এম সালাউদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার সাবিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর বিভাগের ডিআইজি আবদুল আলীম মাহমুদ, রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট রেজাউল ইসলাম, রংপুর উইমেন চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট বেগম আখতার জাহান ও রংপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু।

এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী রংপুর পৌরসভা আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ‘রংপুরে বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামের স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।

আরও পড়ুন:
এবার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৬৭ বিলিয়ন ডলার
বাণিজ্যমন্ত্রীর নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, যুবক রিমান্ডে
ঈদের আগে ১ কোটি পরিবারের হাতে টিসিবির পণ্য: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশে বিনিয়োগের সময় এখনই: বাণিজ্যমন্ত্রী
ভারত থেকে গম আমদানিতে বাধা নেই: মন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Find inflation mitigation strategy PM

মূল্যস্ফীতি প্রশমনের কৌশল খুঁজুন: প্রধানমন্ত্রী

মূল্যস্ফীতি প্রশমনের কৌশল খুঁজুন: প্রধানমন্ত্রী
একনেকের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য সব মন্ত্রণালয় আমরা দেখব যাতে মূল্যস্ফীতি কীভবে আরও প্রশমিত করা যায়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট হচ্ছে। কীভাবে মূল্যস্ফীতি প্রশমন করা যায়, সে বিষয়ে কৌশল খুঁজতে হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এনইসি সম্মেলন কক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য সব মন্ত্রণালয় আমরা দেখব যাতে মূল্যস্ফীতি কীভবে আরও প্রশমিত করা যায়।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে এম এ মান্নান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য বলেছেন। খাদ্য খাতে স্বাবলম্বী হওয়ার কথা বলেছেন। সেচের কাজ সোলারে করতে বলেছেন।’

এবার একনেক সভায় ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বরেন্দ্র এলাকায় পানি সংরক্ষণসহ ছয় প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৬২৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ সহায়তা থেকে ৮৭৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

এম এ মান্নান বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে পানি সংকটের কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। এ জন্য পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে। এ ছাড়া ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহারে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

অনুমোদিত অপর প্রকল্পগুলো

সোনাপুর-কবিরহাট-কোম্পানীগঞ্জ (বসুরহাট-দাগনভুইয়া) আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫৭ কোটি টাকা।

গল্পামারী-বটিয়াঘাটা-দাকোপ-নলিয়ান ফরেস্ট সড়কের ২৮তম কিলোমিটারে চুনকুড়ি নদীর উপর চুনকুড়ি সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৪৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার নদীবন্দর স্থাপন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫৮ কোটি টাকা।

কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

বিসিক মুদ্রণ শিল্প নগরী প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

বরেন্দ্র এলাকায় খালে পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে: অর্থমন্ত্রী
চার সূচকের পর স্বস্তি এবার মূল্যস্ফীতির হিসাবে
দু-এক মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে মূল্যস্ফীতি: অর্থমন্ত্রী
‘লুটেরা মন্ত্রীদের পদ্মা সেতু থেকে টুস করে ফেলে দেবে জনগণ’
ব্যাংকে সুদহারের নয়-ছয় নিয়ে উভয় সংকট

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Load shedding till September

লোডশেডিং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

লোডশেডিং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বরে লোডশেডিং শেষ হবে বলে আশা করছি। এর মধ্যেই আমরা ঘুরে দাঁড়াব।’

আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লোডশেডিং থাকবে। সে মাসই লোডশেডিংয়ের শেষ মাস হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি- একনেক সভা শেষে এমন মন্তব্য করেন তিনি। সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকারপ্রধান একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আগামী সেপ্টেম্বরে লোডশেডিং শেষ হবে বলে আশা করছি। এর মধ্যেই আমরা ঘুরে দাঁড়াব।’

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় গত জুলাই থেকে দেশের ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন স্থগিত রাখে সরকার।

১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই সভায় ১৯ জুলাই থেকে দেশে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

সে দিন থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে শিডিউল অনুযায়ী এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং শুরু হয়। পরে সেটি আরও বাড়িয়ে দুই ঘণ্টা করার কথা জানায় সরকার।

তবে ঢাকায় কোথাও কোথাও দুই ঘণ্টা হলেও বেশির ভাগ এলাকায় তিন থেকে চার ঘণ্টা করে লোডশেডিং হচ্ছে। আর গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের সময় দুই ঘণ্টার জায়গায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টারও বেশি হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে এখন জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। রাশিয়ার ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র গম রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এরপর শস্যটির রপ্তানিও শুরু করেছে রাশিয়া। অনেক দেশ রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেলও আমদানি করছে। ফলে আগামী দিনে জ্বালানি তেলের সংকট কেটে যাবে বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

একনেক সভায় এ সময় তিনি ডলারের বিকল্প হিসেবে অন্য মুদ্রায় বৈদেশিক বাণিজ্য করা যায় কি না সে বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন। এম এ মান্নান বলেন, ‘এখন অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবার সময়। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে রুপি, রুবল, ইউয়ানে লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

একনেক সভায় ২ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক।

আরও পড়ুন:
জার্মানিতে বিদ্যুতের দাম বেড়ে ৫ গুণ
সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল কৃষকের
যুক্তরাজ্যে জানুয়ারিতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের শঙ্কা
এক ঘণ্টার লোডশেডিং টানা পাঁচ ঘণ্টায়
শিল্পাঞ্চলে ছুটি ভাগ করে ৫শ মেগাওয়াট সাশ্রয়!

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Chinese investment disillusioned Pakistanis

চীনা বিনিয়োগের মোহভঙ্গ পাকিস্তানিদের!

চীনা বিনিয়োগের মোহভঙ্গ পাকিস্তানিদের!
চায়না-পাকিস্তান ইকোনোমিক করিডোর (সিপিইসি) এর আওতায় বর্তমানে পাকিস্তানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৯টি শিল্পায়নের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) রয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড)। কিন্তু চীনের রক্ষণশীল বিনিয়োগ নীতি এবং বিনিয়োগে বিলম্বিত সিদ্ধান্তের কারণে প্রকল্পগুলো তেমন ফলপ্রসূ হয়নি বলে মনে করছে জিওপলিটিকা।

দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে এবং অর্থনীতির চাকা আরও শক্তিশালি করতে ২০১২ সালে আইন করে শিল্পায়নের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) মডেল গ্রহণ করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু শিল্পের ঘাটতি পূরণের এই চেষ্টাও এখন ব্যর্থ হওয়ার পথে।

ইউরোপ ভিত্তিক থিংক ট্যাংক জিওপলিটিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদেশিক বাণিজ্যেও দেশটির অবস্থান খুব একটা ভালো নয়। কয়েকটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) থাকলেও তা দেশটির অর্থনীতিতে খুব একটা ভূমিকা রাখতে পারছে না।

রিজার্ভ সংকটে ভুগতে থাকা পাকিস্তানে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহে এসইজেডগুলো চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে মনে করছেন দেশটির অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। রিজার্ভ তৈরির জন্য রপ্তানির পরিবর্তে এখন বৈদেশিক সাহায্যের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে দেশটিকে।

আবার স্থানীয়রা মনে করছেন, অসামঞ্জস্যপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্য নীতির পাশাপাশি পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে না পারা সহ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দুর্নীতির কারণে এসইজেডগুলোর অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছে পাকিস্তান।

অর্থনীতির এই টালমাটাল নিম্নগতি পাকিস্তানকে বর্তমানে এক কঠিন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, আইন শৃংখলার ক্রম অবনতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান না থাকায় পাকিস্তানের অবস্থা অনেকটা শ্রীলংকার খুব কাছাকাছি। যে কোন মূহুর্তে দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে দেশটি। বিশ্ব অর্থনীতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোও এমন ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছে গত কয়েক মাস ধরে।

গত মাসে বিশ্বসেরা অর্থনীতি বিশ্লেষক সংস্থা মুডিস, ফিচ ও এসঅ্যান্ডপি এর রেটিং পাকিস্তানের নাজুক অর্থনীতির সূচককে আরও কয়েক ধাপ নিচে নামিয়ে দিয়েছে।

চায়না-পাকিস্তান ইকোনোমিক করিডোর (সিপিইসি) এর আওতাধীন বর্তমানে পাকিস্তানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৯টি এসইজেড রয়েছে। এর মধ্যে ৭টি পুরনো। এগুলোর বেশিরভাগই রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড)। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যই মূলত এসইজেডগুলো স্থাপন করা হয়েছে।

চীনা বিনিয়োগের মোহভঙ্গ পাকিস্তানিদের!
সিপিইসি এর আওতাধীন বর্তমানে পাকিস্তানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৯টি এসইজেড রয়েছে

পাকিস্তান তার সমস্ত মূলধন এবং প্রযুক্তিগত প্রয়োজনের জন্য প্রতিবেশী চীনের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। আর এই নির্ভরতা ক্রমন্বয়ে দেশটির ওপর এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ বলয় তৈরি করেছে। এ জন্যই এসইজেডগুলোর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধারেকাছেও যেতে পারেনি গত এক দশক ধরে।

এই কারণটি দেশটির অর্থনীতির চাকাকে শ্লথ করতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করছে জিওপলিটিকা। বিশ্বজুড়ে ভৌগলিক রাজনীতি ও অর্থনীতি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে এই গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

জিওপলিটিকার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীন পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) এর আওতায় এসইজেড প্রকল্পগুলো নেয়া হয়েছিল। তবে চীনের রক্ষণশীল বিনিয়োগ নীতি এবং বিনিয়োগে বিলম্বিত সিদ্ধান্তের কারণে প্রকল্পগুলো তেমন ফলপ্রসূ হয়নি।

এ ছাড়াও এসইজেড প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয় লোকজনও ক্ষোভ ও রোষে উত্তাল ছিল সবসময়।

২০১৬ সালে পাকিস্তান এসইজেড আইন সংশোধন করে আমদানি করা সমস্ত মূলধনী পণ্যের জন্য ১০ বছরের শুল্ক ও কর অব্যাহতি দেয়ার পথ প্রশস্ত করেও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে পারেনি।

জিওপলিটিকার বিশ্লেষনে বলা হয়েছে, এই প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বেইজিং অনেক শর্ত জুড়ে দিয়েছিল। যা ছিল অধিকমাত্রায় শোষণমূলক।

এমনকি শর্তগুলোতে ইসলামাবাদের নিঃশর্ত সমর্থন এবং ২০১৬ সালের সংশোধনীর পরও সিপিইসি-এর অধীনে ৯টি এসইজেড এর মধ্যে মাত্র তিনটিতে কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে।

এর মধ্যে রয়েছে পাঞ্জাবের ফয়সলাবাদের আল্লামা ইকবাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি, সিন্ধুর ধবেজিতে চায়না স্পেশাল ইকোনমিক জোন এবং বেলুচিস্তানের বোস্তান ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন।

অবশিষ্ট প্রকল্পগুলো চীনা আলোচনা, অধ্যয়ন এবং জরিপের মধ্যে আটকে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে।

এ অবস্থায় শিল্প খাতে চীনা বিনিয়োগের বিষয়ে সাধারণ পাকিস্তানিদের মোহভঙ্গ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইতোমধ্যে যে পরিমাণ কর্মসংস্থান বা অন্যান্য সুবিধার কথা বলা হয়েছিল বাস্তবে এসইজেডগুলোতে তা হয়নি। স্থানীয় কর্মী এবং ব্যবসায়ীরাও চীনা বিনিয়োগ নিয়ে সতর্ক থেকেছে। যে কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চীনা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের যৌথ উদ্যোগ তেমন একটা গড়ে উঠেনি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- সিপিইসির এর অধীনে সহজ অর্থায়নের প্রস্তাবে অন্ধভাবে চীনা নির্দেশ অনুসরণ করছে পাকিস্তান। এ কারণে পাকিস্তানে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের বেশিরভাগ সুযোগ চীনের দখলে চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার কাছ থেকে শিখুন: পাকিস্তানি আমলা
ইমরান খানের পিটিআই নিয়েছিল নিষিদ্ধ বিদেশি অনুদান
পাকিস্তানে বন্যায় ১৩৬ মৃত্যু, ইরানে ৬৯
রেটিং বলছে শ্রীলঙ্কাই হতে যাচ্ছে পাকিস্তান
পাকিস্তানে প্রথম হিন্দু নারী ডেপুটি পুলিশ সুপার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The price of fuel oil in the world market is again low

বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের ব্যারেল ৯০ ডলারের নিচে

বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের ব্যারেল ৯০ ডলারের নিচে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে আবারও ৩ ডলার কমেছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ৩২ ডলার বা ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেলে দাম এখন ৮৮ দশমিক ৭৭ ডলার, যা ২ দশমিক ৪ শতাংশ আগের সেশন থেকে কম।

বিশ্ববাজারে আরও কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত তেল ৩ ডলার করে কমে ৯০ ডলারের নিচে নেমেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ চীনে চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ এবং ইরানের পারমাণবিক চুক্তির প্রস্তাবের পর দেশটি থেকে তেল রপ্তানি বেড়ে গেছে। এর ফলেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরেক দফা কমেছে।

সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারে দাম ৩ দশমিক ৪৯ ডলার বা ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৬৬ ডলারে নেমেছে, যা গত শুক্রবারের চেয়ে দেড় শতাংশ কম।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ৩২ ডলার বা ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেলে দাম এখন ৮৮ দশমিক ৭৭ ডলার, যা ২ দশমিক ৪ শতাংশ আগের সেশন থেকে কম।

চীন সরকারের এক তথ্য বলছে, গত মাস থেকে দেশটির অর্থনীতি অপ্রত্যাশিতভাবে ধীর হয়ে এসেছে। এতে তেল শোধনাগারগুলোতে উৎপাদন দিনে ১ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা ২০২০ সালের মার্চের পর সর্বনিম্ন।

আইএসজি ব্যাংক তাদের পূর্বাভাসে বলছে, ২০২২ সালে চীনের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হবে, যা আগে ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। সেই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

পাশাপাশি করোনাভাইসের কারণে চীনের মূল ভূখণ্ডে কমে গেছে কর্মসংস্থানও।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবে ২০১৫ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। ফলে ইরান থেকে তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা উঠে যেতে পারে। আর সেটি উঠে গেলে ইরান থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তেল আমদানি করতে পারবে।

এমন অবস্থায় বিশ্ববাজারে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এবং তেলের দাম কমে গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমিরআব্দুল্লাহিয়ান বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরমাণু চুক্তি বিষয়ে নেয়া পদক্ষেপে তারা সোমবারই সাড়া দেবে। তবে পরমাণু চুক্তিটি এখানেই রফাদফা হতে পারে যদি যুক্তরাষ্ট্র তিনটি বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব রাখে।

আরও পড়ুন:
সমালোচনার মুখে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরার নির্দেশ মন্ত্রিসভার
তেলের দাম বাড়ার প্রভাব মাপবে সরকার
ট্রাক ভাড়া বাড়ায় বেনাপোলে পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থা
বাস ভাড়ার প্রতারণা কাদেরকে জানালেন জাফরউল্লাহ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Banglabandha import export stop on Mourning Day

শোক দিবসে বাংলাবান্ধায় আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

শোক দিবসে বাংলাবান্ধায় আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধের পাশাপাশি আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে৷’

জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি এক দিনের জন্য বন্ধ রয়েছে।

সোমবার সকাল থেকেই বন্দরটিতে সব ধরনের পণ্য আমদানি ও রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। তবে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে৷

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কুদরত ই খুদা মিলন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের ব্যবসায়ীদের যৌথ সিদ্ধান্তে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে এক দিনের জন্য পণ্য আমদানি ও রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার সকাল থেকে বন্দরের সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে।

বাংলাবান্ধা ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধের পাশাপাশি আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে৷’

আরও পড়ুন:
ঈদে ৮ দিনের ছুটির ফাঁদে বাংলাবান্ধা
বাংলাবান্ধায় আমদানি-রপ্তানি বন্ধ 
বাংলাবান্ধায় আমদানি-রপ্তানি ৩ দিন বন্ধ 
বাংলাবান্ধায় দিনের পর দিন আটকা ৪ শতাধিক ট্রাক
পঞ্চগড়-রাজশাহী এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হচ্ছে কাল

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Negotiations on SEPA agreement with India

ভারতের সঙ্গে সেপা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা

ভারতের সঙ্গে সেপা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে স্থলবন্দর। ফাইল ছবি
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে সেপা অনেকটাই ভিন্ন। কেননা এটি অনেক বিস্তৃত। এর মধ্যে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মেধাস্বত্ব ও ই-কমার্সের মতো অনেকগুলো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সেপা স্বাক্ষরিত হলে উভয় দেশের বাণিজ্য আরও বাড়বে। উন্মুক্ত হবে বিনিয়োগের নতুন দরজা।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) নামে নতুন এক চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে দুই দেশ। দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা বলছেন, দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা সাফটার অধীনে বাংলাদেশ ভারতে যেসব বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে আসছে, নতুন চুক্তিতে তার চেয়েও বেশি সুবিধা দেখতে চান তারা।

প্রস্তাবিত সেপা চুক্তির বিষয়ে এফবিসিসিআই একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এটি সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের পর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটবে। এরপর শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্যের সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধা আর পাবে না বাংলাদেশ। এতে করে রপ্তানি বাণিজ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এই ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ সম্পাদনের ব্যাপারে বেশি মনোযোগ দেয়ার কথা বলছেন দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা।

এফবিসিসিআই ওই প্রতিবেদনে বলেছে, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (সাফটা) চালু আছে। এর আওতায় শুল্ক ছাড়ের সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ। সাফটার আওতায় বিদ্যমান সুবিধা আরও বেশ কিছুদিন অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছে তারা।

বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি আছে। আবার দুটি দেশই আছে দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) আওতায়। এর অধীনে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।
কয়েক বছর পর বাংলাদেশ যখন উন্নয়শীল দেশের কাতারে যাবে, তখন আর সাফটার বিদ্যমান সুবিধা পাবে না। তখন দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বাণিজ্য বাড়াতে নতুন দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রয়োজন হবে। সেই চিন্তা থেকেই বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে পার্টনারশিপ বা অংশীদারত্বমূলক চুক্তির প্রস্তাব করে বাংলাদেশ।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে সেপা অনেকটাই ভিন্ন। কেননা এটি অনেক বিস্তৃত। এর মধ্যে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মেধাস্বত্ব ও ই-কমার্সের মতো অনেকগুলো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সেপা স্বাক্ষরিত হলে উভয় দেশের বাণিজ্য আরও বাড়বে। উন্মুক্ত হবে বিনিয়োগের নতুন দরজা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, মূলত স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের দিক থেকেই এই চুক্তির প্রস্তাবটি ছিল।

উত্তরণ-পরবর্তী বাংলাদেশ যাতে ভারত থেকে আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা পায়, সে জন্য সেপা চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ। বিশ্বের অনেক দেশেই কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সেপা/সিইপিএ) আছে। ইইউ দেশগুলোর মধ্যেও এই চুক্তি রয়েছে।

এই চুক্তি স্বাক্ষরের আগে একটি যৌথ সমীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয় এবং সমীক্ষার কাজ শেষ হওয়ার পর গত মাসে সরকারের কাছে জমা দেয়া হয় প্রতিবেদন।

প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করতে ২৫ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হয়। এতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং এসব সিদ্ধান্তের ওপর এফবিসিআইয়ের মতামত নেয়া হয়। গত সপ্তাহে এফবিসিসিআই তার মতামত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) ও ভারতের সেন্টার ফর রিজিওনাল ট্রেডের (সিআরটি) যৌথ সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সেপা চুক্তি দ্বিপাক্ষিক পণ্যবাণিজ্য, সেবা বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পারস্পরিকভাবে লাভজনক।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে আগামী ৭ থেকে ১০ বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৩-৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়বে। একই সময়ে ভারতের আয় বাড়বে ৪-১০ বিলিয়ন ডলার।

২০২০-২১ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, যা চীনের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি বর্তমানে বাংলাদেশ চেম্বার অফ ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আনোয়ার উল আলম পারভেজ চৌধুরী বলেন, ‘ভারত তাদের বাজারে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিলেও নন-ট্যারিফ বাধার কারণে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রত্যাশিতভাবে বাড়ছে না। সেপা চুক্তির সাফল্য পেতে হলে নন-ট্যারিফ শুল্ক বাধার সমস্যার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।’

বিএফটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাবেক বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দিন বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ভারতে রপ্তানিতে একটু ধাক্কা আসতে পারে। এ জন্যই সিইপিএ করা হচ্ছে। সিইপিএ হয়ে গেলে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি অনেক বাড়বে।’

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর ভিত্তিতে সেপা স্বাক্ষরের কথা বলে ভারত। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আরেকটি বৈঠকে উভয় পক্ষ এই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মত হয়। পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের জন্য এটি ভালো ভিত্তি হবে বলে একমত হন তারা।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ চুক্তি উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক হবে কি না, তা খতিয়ে দেখতে যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এফবিসিসিআইয়ের সুপারিশ

বর্তমানে আসিয়ানসহ সাতটি আঞ্চলিক জোটের সঙ্গে যুক্ত আছে বাংলাদেশ। এসব জোটের অধীন দেশের সংখ্যা ১১২টি। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বাণিজ্য বাড়াতে এসব দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার কথা বলেছে এফবিসিসিআই।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই। এ ছাড়া সাফটা বাণিজ্যের শর্ত কমপক্ষে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলেছে তারা।

ভারতের সঙ্গে সেপা নিয়ে আলোচনায় একটি বিশেষজ্ঞ টিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এই টিমে বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের যুক্ত করার সুপারিশ করেছে এফবিসিসিআই।

আলোচনায় সাফটায় যেসব সুবিধা আছে, সেপায় তার চেয়ে বেশি সুবিধা রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে এফবিসিসিআই বলেছে, সাফটার আওতায় বিদ্যমান শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রেখে কমপক্ষে ১০ বছর আরও বাড়তি সুবিধা দিতে হবে। এ ছাড়া অশুল্ক বাধা যাতে দূর করা হয়, সে বিষয়টি সেপা চুক্তিতে যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই।

আরও পড়ুন:
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে সৌদির সঙ্গে চুক্তি প্রস্তাব অনুমোদন
মাসে একবার পিজা খাওয়ার শর্তে বিয়ে!
আমিরাত-ইসরায়েলের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
জনপ্রশাসনের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা দেবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়
স্বয়ংক্রিয় বাজার ব্যবস্থাপনায় ঢুকছে দেশ

মন্তব্য

p
উপরে