× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Uturn of reserve in three good news
hear-news
player
print-icon

তিন সুখবরে রিজার্ভের ইউটার্ন

তিন-সুখবরে-রিজার্ভের-ইউটার্ন
কয়েক দিন ধরে টানা কমে ২৬ জুলাই রিজার্ভ ৩৯ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়। ২৭ জুলাই তা আরও কমে ৩৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এরপর থেকে বাড়তে শুরু করেছে। আমদানি ব্যয় কমার পাশপাশি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয় বাড়ার কারণে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির পরও সূচকটি ঊর্ধ্বমূখী হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা।

বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ বাড়তে শুরু করেছে। মঙ্গলবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৯ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার। জুলাই মাসের ৫ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারের আমদানি খরচ হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে সাত মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

১২ জুলাই এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। চাহিদা মেটাতে রিজার্ভ থেকে অব্যাহতভাবে ডলার বিক্রির ফলে আরও কমে যায় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এই সূচক।

কয়েক দিন ধরে টানা কমে ২৬ জুলাই তা ৩৯ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়। ২৭ জুলাই তা আরও কমে ৩৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এরপর থেকেই বাড়তে শুরু করেছে। আমদানি ব্যয় কমার পাশপাশি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয় বাড়ার কারণে প্রতিদিন রিজার্ভ থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রির পরও সূচকটি ঊর্ধ্বমূখী হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা।

ডলার সংকটের কারণে আমদানি ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতে গত এপ্রিল থেকে একটার পর একটা পদক্ষেপ নিচ্ছিল সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক। তার ইতিবাচক ফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পণ্য আমদানির ঋণপত্র খোলার (এলসি) হার কমেছে ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ।

এই মাসে ৫৪৭ কোটি (৫.৪৭ বিলিয়ন) ডলারের এলসি খুলেছেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। গত ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে এলসি খোলা হয়েছিল ৭৯৬ কোটি (৭.৯৬ বিলিয়ন) ডলারের।

অন্যদিকে এই মাসে বিদেশি মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২ শতাংশের বেশি।

অর্থনীতির এই তিন সূচকের সুখবরেই রিজার্ভ বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসায় অনেকেই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। কেউ কেউ আবার ইচ্ছে করে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ভয়ের বা আতঙ্কের কিছুই ছিল না। কেননা, তখনও আমাদের ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর রিজার্ভ ছিল।’

‘এখন সুখবর হচ্ছে আমদানি ব্যয় কমছে। একইসঙ্গে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বাড়ছে। এখন আর আমাদের চিন্তার কিছু নেই। কিছুদিনের মধ্যেই রিজার্ভ আবার ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।’

তিন সুখবরে রিজার্ভের ইউটার্ন

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডলারের বাজার স্বাভাবিক করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নানা পদক্ষেপ নেয়া নেয়া হয়েছে; এখনও হচ্ছে। এরই মধ্যে আমদানি কমতে শুরু করেছে। আশা করছি, সবকিছু এখন স্বাভাবিক হয়ে যাবে। রিজার্ভও বাড়বে।’

কয়েক দিন ধরে খোলাবাজার বা কর্ব মার্কেটে একই জায়গায় ‘স্থির’ রয়েছে ডলারের দর। ব্যাংকগুলোতেও একই একই অবস্থা।

মঙ্গলবার কার্ব মার্কেটে ১০৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০৮ টাকায় প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনলী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক ১০২ টাকায় নগদ ডলার বিক্রি করেছে। সপ্তাহখানেক ধরে খোলাবাজার ও ব্যাংকে এই দরে বিক্রি হচ্ছে ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছে ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে। এটাকে আন্তব্যাংক লেনদেন বলে। গত দুই সপ্তাহ ধরে এই দরে ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত বছরের আগস্টে রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের যে মাইলফলক অতিক্রম করেছিল, তাতে বাজার থেকে ডলার কেনার অবদান ছিল।

এরপর আমদানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় রিজার্ভ কমতে শুরু করেছে।

গত ১২ জুলাই আকুর ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। এরপর থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত রিজার্ভ ৩৯ দশমিক ৮০ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে। এর পর তা আরও কমে ৩৯ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়।

ডলারের বাজার ‘স্থিতিশীল’করতে গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় নতুন অর্থবছরেও রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জুলাই মাসে ১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়েছে।

কয়েক মাস ধরেই ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ ডলারের বিপরীতে টাকার দাম ৯৪ টাকা ৭০ পয়সা ঠিক করে দিয়েছে, যা গত বছরের আগস্টে ছিল ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা।

প্রতি সপ্তাহে একাধিকবার টাকার অবমূল্যায়নও করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আন্তব্যাংক লেনেদেনের ক্ষেত্রে যে দর ঠিক করেছে, ব্যাংক ও খোলাবাজারে তার থেকে অনেক বেশি দামে ডলার কেনাবেচা হচ্ছে।

খোলাবাজারে ডলারের দাম রেকর্ড ১১২ টাকায় উঠেছিল। ব্যাংকগুলোও ১০২ থেকে ১০৮ টাকা দর রাখছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে ৯ থেকে ১৪ টাকা বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বেঁধে দেয়া দামকে আন্তব্যাংক দর বলা হয়ে থাকে। এই দর আসলে এখন অচল। বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই দরে ডলার কেনাবেচা করতে ব্যাংকগুলোকে কোনো চাপ দিচ্ছে না।

ব্যাংকগুলো ইচ্ছেমতো দামে তাদের নিজের মধ্যে ডলার কেনাবেচা করছে; নগদ ডলারও বিক্রি করছে অনেক বেশি দামে।

এ হিসাবে এক বছরে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর ব্যাংক ও খেলাবাজারে বেড়েছে ৩০ শতাংশের বেশি।

মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে গত ২০২১-২২ অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে ৭৬২ কোটি (৭.৬২ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই রিজার্ভ থেকে এক অর্থবছরে এত ডলার বিক্রি করা হয়নি।

অথচ তার আগের অর্থবছরে (২০২০-২১) বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় দর ধরে রাখতে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরজুড়ে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন দেখা যায়। সে কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যায়। সে পরিস্থিতিতে ডলারের দর ধরে রাখতে ওই অর্থবছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

তিন সুখবরে রিজার্ভের ইউটার্ন

আগস্ট মাস থেকে দেখা যায় উল্টো চিত্র। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে আমদানি ব্যয়। রপ্তানি বাড়লেও কমতে থাকে রেমিট্যান্স। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও কমতে থাকে। বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়; বাড়তে থাকে দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, চলে পুরো অর্থবছর।

সেই ধারাবাহিকতায় চাহিদা মেটাতে নতুন অর্থবছরেও (২০২২-২৩) ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই একই জায়গায় ‘স্থির’ছিল ডলার। এর পর থেকেই বাড়তে থাকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রার দর।

আকু মে-জুন মেয়াদের প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর গত ১২ জুলাই রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। এরপর থেকেই রিজার্ভ নিয়ে সারা দেশে আতঙ্ক ও নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল- প্রতি মাসে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে দেশে।

গত বছরের ২৪ আগস্ট এই রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। তখন ওই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ১০ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যেত। তখন অবশ্য প্রতি মাসে ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হতো।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পরপর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুত থাকতে হয়।

আরও পড়ুন:
রিজার্ভ থেকে ১৮ দিনেই ৬৮ কোটি ডলার বিক্রি
রিজার্ভে চাপ কমাতে আরও একটি পদক্ষেপ
রিজার্ভে চাপ কমাতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ সিদ্ধান্ত
ডলারের সরবরাহ বাড়াতে আরেক পদক্ষেপ
রিজার্ভ চুরি: বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে আরসিবিসির মামলা খারিজ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
27 thousand complaints about e commerce

ই-কমার্স নিয়ে ২৭ হাজার অভিযোগ

ই-কমার্স নিয়ে ২৭ হাজার অভিযোগ
২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৪৬টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ ফেরত চেয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ জমা পড়েছে ২৭ হাজার ৭৮৩টি। তার মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া অভিযোগের সংখ্যা ৪৬ দশমিক ২৮ ভাগ।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিশা মার্টে ২৬টি মটর বাইকের অর্ডার দেন নুরুল আবছার। জমা দেন ৩১ লাখ টাকার বেশি। কিন্তু সেই বাইক আর পাওয়া হয়নি। এতোদিন আশায় থেকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন এই যুবক।

তিনি বলেন, ‘নিজের এবং পরিবারের অন্যান্যদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানে জমা দেই। কিন্তু বাইক পাওয়া যায়নি। প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় অনেক বার। তবে, তা রক্ষা করা হয়নি। জমার রশিদ আছে, যদি এটা দিয়ে টাকা ফেরত পাওয়া যায়, তাহলে বেঁচে যাব।’

ই-কমার্সে টাকা জমা দিয়ে পণ্য না পাবার এমন উদাহরণ অনেক। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে জমেছে অভিযোগের স্তুপ। প্রতিদিনই টাকা ফেরত চেয়ে অভিযোগ দায়ের হচ্ছে। তবে, ব্যাংক এবং গেটওয়ের মাধ্যমে জমা দেয়া অর্থই কেবল ফেরত পাবার সম্ভাবনা নিশ্চিত করছে এই প্রতিষ্ঠান।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, ‘প্রতারিত হয়ে মানুষ আসছে, অভিযোগ দায়ের করছে। তবে, সরাসরি যারা পণ্যের জন্য অর্থ জমা দিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে টাকা ফিরিয়ে দেবার উপায় নেই।

কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কত অভিযোগ

২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৪৬টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ ফেরত চেয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ জমা পড়েছে ২৭ হাজার ৭৮৩টি। তার মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া অভিযোগের সংখ্যা প্রায় অর্ধেক বা ৪৬ দশমিক ২৮ ভাগ। অনিষ্পন্ন অভিযোগের সংখ্যা ১৪ হাজার ৯২৪টি।

কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে জমা পড়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ। মোট অভিযোগের সংখ্যা ১০ হাজার ৭৫৫টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া অভিযোগের সংখ্যা ৪ হাজার ৪৯৫টি। অনিষ্পন্ন অভিযোগ ৬ হাজার ২৬০টি। নিষ্পত্তির হার ৪১ দশমিক ৭৯ ভাগ।

এর পরেই এসেছে আরেকটি বন্ধ হয়ে যাওয়া ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের নাম। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের হয়েছে ৫ হাজার ৮৭১টি। তবে, অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৩৩টি। অনিষ্পন্ন অভিযোগের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৩৮। অভিযোগ নিষ্পত্তির হার শূন্য দশমিক ৫৬ ভাগ।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা দারাজ ডট কমের বিরুদ্ধে অভিযোগ ১ হাজার ৭০টি, যার ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশই নিষ্পত্তি হয়েছে। অনিষ্পন্ন অভিযোগ ১০৩টি।

এছাড়া ফাল্গুনি ডট কমের বিরুদ্ধে আসা ৬৬৮টি অভিযোগের মধ্যে ৫৯৮টি, প্রিয়শপের বিরুদ্ধে ৬৫৪টি অভিযোগের বিপরীতে ৪৬৮টি নিষ্পত্তি হয়েছে।

ধামাকা শপিংয়ের ৫৫৭ টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি মাত্র ৮১টি। কিউকমের বিরুদ্ধে ৩৬৭টি অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। এর মধ্যে নিষ্পত্তি মাত্র সাতটি।

ফুড পান্ডার বিরুদ্ধে ৩৪০টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি ২৬১টি।

আলেশামার্টের বিরুদ্ধে ৩১৮টি অভিযোগ করেন গ্রাহকরা। এর মধ্যে নিষ্পত্তি মাত্র তিনটি।

এ ছাড়া পাঠাওয়ের বিরুদ্ধে ২৭০টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৬৬টি, চালডালের বিরুদ্ধে ২০৬টি অভিযোগের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৭৯টি।

অথবা ডট কমের ২০১টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬২টি।

আজকের ডিল ডট কমের বিরুদ্ধে অভিযোগ ১৮৪টি, নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬৯টি। বিক্রয় ডট কমের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অভিযোগ ১৭৬টি, নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬০টি।

আদিয়ান মার্টে গ্রাহকের অভিযোগ ১৫৮টি, নিষ্পত্তি মাত্র ৩৯টি।

উবারের বিরুদ্ধে ১৩০টি অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। এর মধ্যে নিষ্পত্তি ১২৬টি। নিরাপদ ডট কমে গ্রাহকের অভিযোগ ১১৯টি, নিষ্পত্তি মাত্র ৭৩টি।

দালাল প্লাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ১০১টি। নিষ্পত্তি মাত্র সাতটি।

ফেইসবুক পেজ

এ সময়ে ফেইসবুক পেজগুলোর বিরুদ্ধে গ্রাহকরা ৫ হাজার ২২৭টি অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে ভোক্তা অধিদপ্তর নিষ্পত্তি করেছে ৪ হাজার ৬০৬টি অভিযোগ। শতকরা নিষ্পত্তির হার ৮৮ দশমিক ১২ শতাংশ।

কত ফেরত পেলেন গ্রাহক

হিসেব বলছে, ৫৩টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা অর্থের পরিমাণ ২১ হাজার কোটি টাকা। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকে হিসাবে স্থিতি মাত্র ৩৮৮ কোটি টাকা।

সবচেয়ে বেশি অর্থ জমা নেয় ইভ্যালি। এ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক নিরীক্ষায় বোর্ড গঠন করে দিয়েছে হাইকোর্ট। তবে অর্থ ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে সুখবর নেই।

কিউকম এ পর্যন্ত ১৭ হাজার ১০০ জন গ্রাহককে ফেরত দিয়েছে ১৩৮ কোটি টাকা। আলেশা মার্ট ২ হাজার ২১৮ গ্রাহককে দিয়েছে ৩৯ কোটি টাকা।

দালাল প্লাস দিয়েছে ১২ কোটি টাকা, বুম বুম ৮০ লাখ টাকা, ধামাকা ৪৩৩ জন গ্রাহককে ৩২ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছে।

এ ছাড়া আদিয়ান মার্ট ১৪ লাখ টাকা, আনন্দের বাজার ৬ লাখ টাকা, টোলাই ডট কম ১২ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সবশেষ তথ্য বলছে, ব্যাংক ও গেটওয়েতে জমে থাকা অর্থের মধ্যে ২১ হাজার ২০৮ জন গ্রাহক ফেরত পেয়েছেন ১৯৩ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
ই-কমার্স খাতকে এগিয়ে নিতে নতুন উদ্যোগ ‘দ্য চেঞ্জ মেকারস’
ই-কমার্স: পুলিশকে তালিকা দেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
ইভ্যালি গ্রাহকের মামলা: তাহসান-মিথিলা-ফারিয়াকে অব্যাহতি
গেটওয়ের টাকা ফেরতে গড়িমসি, এপ্রিলেই আইনি ব্যবস্থা
লাপাত্তা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তা আটক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Hotel free with two tickets to Bangkok

ব্যাংককের দুই টিকিটে হোটেল ফ্রি

ব্যাংককের দুই টিকিটে হোটেল ফ্রি
অফারে অন্তর্ভুক্ত হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাংককের হোটেল ম্যানহাটন সুকুমভিত, অ্যাম্বাসেডর হোটেল ও গ্র্যান্ড প্রেসিডেন্ট হোটেল। এই অফার ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে

ব্যাংকক যেতে টিকিট কিনলে দুই রাত বিনা মূল্যে হোটেলে থাকার অফার ঘোষণা করেছে বেসরকারি ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস। প্রতিষ্ঠানটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, ইউএস বাংলা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সপ্তাহে পাঁচ দিন ঢাকা-ব্যাংকক-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে। যাত্রা শুরুর প্রথম দিন থেকে বাংলাদেশি পর্যটকরা দুটি টিকিট কিনলেই দুই রাত ফ্রি হোটেলে থাকার সুযোগ পাবেন।

এই অফার ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। অফারে অন্তর্ভুক্ত হোটেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাংককের হোটেল ম্যানহাটন সুকুমভিত, অ্যাম্বাসেডর হোটেল ও গ্র্যান্ড প্রেসিডেন্ট হোটেল। আকর্ষণীয় এ অফারটি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের যেকোনো নিজস্ব সেলস্ কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

এই প্যাকেজের জন্য জনপ্রতি ন্যূনতম খরচ ধরা হয়েছে ৩৮ হাজার টাকা। অফারটি প্রাপ্তবয়স্ক দুইজন পর্যটকের জন্য প্রযোজ্য হবে। প্যাকেজের সাথে বুফে ব্রেকফাস্ট অন্তর্ভুক্ত। শর্তসাপেক্ষে প্যাকেজে অতিরিক্ত রাত ও শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এ মাসেই ঢাকা-মালে সরাসরি ফ্লাইট, নতুন বছরে কলম্বো
মালেতে ইউএস বাংলার ফ্লাইট নভেম্বর থেকে
টিকিট বেচে ২১ যাত্রীকে বিপাকে ফেলল ইউএস-বাংলা
ইউএস-বাংলার মাস্কাট ফ্লাইট স্থগিত
এবার ৪ আন্তর্জাতিক রুটে ইউএস-বাংলার বিশেষ ফ্লাইট

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Bajus offers 25 percent reward for gold seized during smuggling

চোরাচালানে জব্দ সোনার ২৫ শতাংশ পুরস্কারের প্রস্তাব বাজুসের

চোরাচালানে জব্দ সোনার ২৫ শতাংশ পুরস্কারের প্রস্তাব বাজুসের রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক যাত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ। ফাইল ছবি
বাজুস নেতা এনামুল হক খান প্রস্তাব করেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অভিযানে উদ্ধার হওয়া সোনার মোট পরিমাণের ২৫ শতাংশ সদস্যদের পুরস্কার হিসেবে দিলে প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।

চোরাচালান প্রতিরোধে জব্দ সোনার ২৫ শতাংশ পুরস্কার হিসেবে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যদের দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস)।

সমিতির পক্ষ থেকে অসাধু জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের প্রতিও দেয়া হয়েছে হুঁশিয়ারি বার্তা।

বাজুসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হলমার্ক ছাড়া কোনো অলংকার বিক্রি করা যাবে না। কোনো জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের হলমার্ককৃত অলংকার নিম্নমানের পাওয়া গেলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে অবহিত করা হবে।

শনিবার বাজুস আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান পাচার প্রতিরোধ ও আইন প্রয়োগ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এনামুল হক খান দোলন সমিতির প্রস্তাব ও অবস্থান ব্যক্ত করেন।

সারা দেশে জুয়েলারি শিল্পের বাজারে অস্থিরতা, চলমান সংকট ও সমস্যা, দেশি-বিদেশি চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, অর্থ পাচার ও চোরাচালান বন্ধ এবং কাস্টমস আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জোরালো অভিযানের দাবিতে রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং মলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ওই সময় সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবের যৌক্তিকতা তুলে ধরে এনামুল হক খান বলেন, ‘বাজুসের প্রাথমিক ধারণা, প্রবাসী শ্রমিকদের রক্ত, ঘামে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার করে প্রতিদিন জল, স্থল ও আকাশপথে কমপক্ষে প্রায় ২০০ কোটি টাকার অবৈধ সোনার অলংকার ও বার চোরাচালানের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসছে, যা ৩৬৫ দিন বা এক বছর শেষে দাঁড়ায় প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা।

দেশের চলমান ডলার সংকটে এই ৭৩ হাজার কোটি টাকার অর্থ পাচার ও চোরাচালান বন্ধে তিনি সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।

এনামুলের ভাষ্য, দেশে অবৈধভাবে আসা সোনার সিকিভাগও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নজরে আসছে না। ফলে নিরাপদে দেশে আসছে চোরাচালান হওয়া বিপুল পরিমাণ সোনার চালান। আবার একইভাবে পাচার হচ্ছে। বাংলাদেশ যে সোনা চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, এটা এখন আর কথার কথা নয়। এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য।

তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি উত্তরণে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নিয়মিত কড়া নজরদারি জরুরি। পাশাপাশি বাজুসকে সম্পৃক্ত করে আইন প্রয়োগকারী সব দপ্তরের সমন্বয়ে সোনা চোরাচালানবিরোধী সেল গঠন এবং চোরাচালান আইন সংশোধনও সময়ের দাবি।

এনামুল হক খান প্রস্তাব করেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অভিযানে উদ্ধার হওয়া সোনার মোট পরিমাণের ২৫ শতাংশ সদস্যদের পুরস্কার হিসেবে দিলে প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।

ব্যাগেজ রুলের সুবিধার আওতায় সোনা ও সোনার ভার আনতে গিয়ে দেশের ডলারের ওপর কেমন প্রভাব পড়ছে, তার সমীক্ষা করার তাগিদ দেন তিনি। তার মতে, সমীক্ষায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় কমবে।

আরও পড়ুন:
বৈধ জুয়েলারি থেকে গহনা কেনার পরামর্শ বাজুসের
বাজুস সদস্য ছাড়া স্বর্ণালংকার না কেনার পরামর্শ
৩ নারী উদ্যোক্তাকে সম্মাননা দিল বাজুস
বাজুসের নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
বাজুস সভাপতি সায়েম সোবহান

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The Finance Ministers position was not reflected in the Financial Times report

‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সংবাদে অর্থমন্ত্রীর অবস্থান প্রতিফলিত হয়নি’

‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সংবাদে অর্থমন্ত্রীর অবস্থান প্রতিফলিত হয়নি’ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি
অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত ‘চীন থেকে বেল্ট অ্যান্ড রোড ঋণ নিয়ে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর সতর্কতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে আ হ ম মুস্তফা কামালের অবস্থান যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তিনি চীন থেকে ঋণ নেয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের সতর্কতা আরোপ করেননি।

লন্ডনভিত্তিক পত্রিকা ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত সংবাদে চীনা ঋণ নিয়ে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের অবস্থান যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি উল্লেখ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এমনটা উল্লেখ করে শুক্রবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে প্রতিবাদ পাঠানো হয়েছে।

৯ আগস্ট অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামালের সাক্ষাৎকার নেয় ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সাক্ষাৎকারে মুস্তফা কামাল বলেছেন যে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) ব্যাপারে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী সতর্ক মনোভাব দেখিয়েছেন। তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, চীনের বিআরআই ঋণ নেয়ার আগে অন্তত দুবার ভাবা উচিত।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, প্রকাশিত ‘চীন থেকে বেল্ট অ্যান্ড রোড ঋণ নিয়ে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর সতর্কতা’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে আ হ ম মুস্তফা কামালের অবস্থান যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলা হয়, ‘শ্রীলঙ্কা গত মে মাসে ঋণখেলাপি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ নিতে চাইছে। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী স্পষ্টভাবেই বলেছেন, যেকোনো দেশের যেকোনো প্রকল্প অর্থায়ন পেতে পারে যদি যথাযথ সমীক্ষার পর বোঝা যায় যে প্রকল্পটি আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার মতো।

‘সম্ভাবনাময় নয়, এমন কোনো প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ কখনোই কোনো সংস্থা থেকে ঋণ নেয়নি—অর্থমন্ত্রী এ বিষয়েই জোর দিয়ে কথা বলেছেন তার সাক্ষাৎকারে। চীন থেকে ঋণ নেয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের সতর্কতা আরোপ করেননি তিনি।’

প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার যেখানে ৪১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার, সেখানে চীন থেকে নেয়া ঋণ ৪০০ কোটি ডলার। এ ছাড়া বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ২০২১ সালের হিসাবে ৫ হাজার ১০০ কোটি ডলার।’

প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়, ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এক বছর আগের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪ হাজার ৫০০ কোটি থেকে কমে ৪ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে গেছে। অথচ ২০১৯ সালের জুনেই রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ২৭০ কোটি ডলার।

‘২০২১ সালের আগস্টে তা ৪৭ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৮১০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড। রিজার্ভ এখন চার হাজার কোটি ডলার, যা দিয়ে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আইএমএফ যে ঝুঁকিমুক্ত সীমার কথা বলে থাকে, বাংলাদেশের রিজার্ভ এর মধ্যেই আছে।’

বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়ন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে অভিনন্দনও জানানো হয়েছে প্রতিবাদপত্রে।

আরও পড়ুন:
ব্যবসা সহজ নাকি কঠিন হলো
‘কালো টাকা’ প্রশ্নে অবস্থান পরিষ্কার করলেন অর্থমন্ত্রী
ফ্ল্যাট-জমির মালিকদের সবার কালো টাকা: অর্থমন্ত্রী
পুঁজিবাজার অবশ্যই চাঙা হবে: অর্থমন্ত্রী
পাচারের টাকা আনতে বাধা দেবেন না: অর্থমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Decision to buy dollars in other branches of the bank to control the market

বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকের অন্য শাখায় ডলার কেনাবেচার সিদ্ধান্ত

বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকের অন্য শাখায় ডলার কেনাবেচার সিদ্ধান্ত ফাইল ছবি
বর্তমানে বৈদেশিক লেনদেনে নিয়োজিত অথরাইজড ডিলার ব্যাংকগুলোর শাখা থেকেই কেবল নগদ ডলার কেনাবেচনার অনুমতি রয়েছে। তবে মানি চেঞ্জার ও খোলাবাজারে ডলারের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির কারণে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

মানিচেঞ্জার ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরতা কমানো ও হুন্ডি প্রতিরোধে এবার সারা দেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখায় নগদ বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বর্তমানে বৈদেশিক লেনদেনে নিয়োজিত অথরাইজড ডিলার ব্যাংকগুলোর (এডি) শাখা থেকেই কেবল নগদ ডলার কেনাবেচনার অনুমতি রয়েছে। তবে মানি চেঞ্জার ও খোলাবাজারে ডলারের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির কারণে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। চলতি সপ্তাহেই ব্যাংকগুলোতে এ ধরনের সেবা চালুর অনুমোদন দেয়া শুরু হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে বিদেশি মুদ্রা কেনাবেচার শাখার সংখ্যা খুব কম। যেগুলো আছে সেগুলোর বেশির ভাগই রাজধানী ঢাকা ও কয়েকটি বিভাগীয় শহরে। ফলে নগদ ডলার কেনাবেচার জন্য মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের ওপরই বেশি নির্ভর করতে হয়।

এ ধরনের সেবা কোন এলাকার কোন শাখায় চালু করা হবে, সেই সম্ভাব্য তালিকা চেয়ে আগামী রোববার দেশের সব ব্যাংকের কাছে চিঠি দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রাথমিকভাবে শাখাগুলোতে একটি ডেস্কের মাধ্যমেই এ সেবা চালুর অনুমোদন দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, খোলাবাজার থেকে যে কেউ ডলার কিনতে পারেন। ব্যাংক থেকে কিনতে পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট করতে হয়। যে কারণে অনেকে এখন খোলাবাজার থেকে ডলার কিনে শেয়ারবাজারের মতো বিনিয়োগ করছেন, যা অবৈধ। এতে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

সবশেষ বুধবার খোলাবাজারে এক ডলার কিনতে ১২০ টাকা গুনতে হয়েছে৷ অথচ আন্তব্যাংকে ডলার রেট ৯৫ টাকা।

আন্তব্যাংকের সঙ্গে খোলাবাজারে ডলারের দামের পার্থক্য প্রায় ২৫ টাকা। আর ব্যাংকের চেয়ে খোলাবাজার রেট অনেক বেশি হওয়ায় হুন্ডিতে টাকা পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা।

এমন প্রেক্ষাপটে ডলার বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দল এ পর্যন্ত এক শ’র বেশি মানি চেঞ্জার পরিদর্শন করেছে।

এর মধ্যে ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে ডলার কেনাবেচায় বিভিন্ন অনিয়মের কারণে শোকজ করা হয়। আর পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করেছে। লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করায় ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ডলারের দাম বৃদ্ধির পেছনে কারসাজির প্রমাণ পাওয়ায় ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানকে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
এবার খোলাবাজারে ডলার ছুঁল ১২০ টাকা
দিনে ৪ কোটি ডলার বিক্রি, তবু বাগে আসছে না
ডলার কারসাজি: ৬ ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে অপসারণের নির্দেশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Lighter ship fares increased

লাইটার জাহাজের ভাড়া বাড়ল

লাইটার জাহাজের ভাড়া বাড়ল লাইটার জাহাজের ভাড়া বাড়িয়েছে ডব্লিউটিসি। ছবি: নিউজবাংলা
ডব্লিউটিসি নির্বাহী পরিচালক মাহবুব রশিদ জানান, নভেম্বরের পর লাইটার জাহাজের যা ভাড়া ছিল, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, বরিশাল ও চাঁদপুরের জন্য তার ২২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এর বাইরের অন্যান্য গন্তেব্যের জন্য ১৫ শতাংশ হারে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে বহির্নোঙ্গর থেকে বন্দরের ভেতরের ভাড়া আগের মতই থাকছে।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর এবার দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহনে ব্যবহৃত লাইটার জাহাজের ভাড়া ১৫ থেকে ২২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের (ডব্লিউটিসি) সভায় ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।

ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল (ডব্লিউটিসি) অভ্যন্তরীণ পরিবহনে ব্যবহৃত লাইটার (ছোট আকারের) জাহাজগুলো পরিচালনা করে থাকে। এর আগে গেল নভেম্বরে লাইটার জাহাজের ভাড়া ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক মাহবুব রশিদ বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর লাইটার জাহাজের ভাড়া সমন্বয় না করে উপায় ছিল না। তাই সভায় ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্ত গত শনিবার থেকে কার্যকর ধরে নেয়া হচ্ছে।’

তিনি জানান, নভেম্বরের পর লাইটার জাহাজের যা ভাড়া ছিল, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, বরিশাল ও চাঁদপুরের জন্য তার ২২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এর বাইরের অন্যান্য গন্তেব্যের জন্য ১৫ শতাংশ হারে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে বহির্নোঙ্গর থেকে বন্দরের ভেতরের ভাড়া আগের মতই থাকছে।

সাধারণত বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির পর বড় জাহাজ বা মাদার ভেসেল থেকে বহির্নোঙ্গরে তা লাইটার জাহাজে লোড করা হয়। পরে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে এই লাইটার জাহাজেই পণ্য পৌঁছে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
মোংলায় ভারতের ট্রায়াল রানের জাহাজ
যুদ্ধরত রাশিয়ার প্রথম জাহাজ এলো মোংলায়
আমিরাতের নাবিকহীন বার্জ ভোলায় কীভাবে
নেপালে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার
পাইলটের ফোনে খোঁজ মিলল নেপালের উড়োজাহাজের

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
BFIU has sought information on money laundering from Swiss banks

‘সুইস ব্যাংকের কাছে অর্থ পাচারের তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ’

‘সুইস ব্যাংকের কাছে অর্থ পাচারের তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ’
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সুইস রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের বিপরীতে আমার কিছু বলার অবকাশ নেই। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) একাধিকবার বিভিন্ন দেশের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য চেয়েছে। চিঠিও দেয়া হয়েছে।’

দেশ থেকে টাকা পাচারের তথ্য সংগ্রহে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়ে থাকে। দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট থেকে (বিএফআইইউ) সুইস ব্যাংকেও একাধিক বার চিঠি দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম এ কথা বলেছেন।

সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশের নাগরিকদের জমা করা অর্থের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত সুইস ব্যাংক বা কর্তৃপক্ষের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য চায়নি- বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাতালি চুয়ার্ডের এমন মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মুখপাত্র বলেন, ‘সুইস রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের বিপরীতে আমার কিছু বলার অবকাশ নেই। আমি আমার মন্তব্য বলতে পারি। বিএফআইইউ একাধিকবার বিভিন্ন দেশের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য চেয়েছে। একাধিকবার তাদেরকে চিঠিও দেয়া হয়েছে। সেসব তথ্য রিপোর্ট আকারেও প্রকাশ করেছে বিএফআইইউ।’

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের যেখানে যেখানে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন হয়, তারা সব জায়গা থেকেই তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। বিএফআইইউ আন্তর্জাতিকভাবে এগমন্ড গ্রুপের সদস্য হওয়ায় এই গ্রুপের অন্য যে কোনো সদস্য দেশের কাছেই যে কোনো বিষয়ে তারা তথ্য চাইতে পারে।

‘ব্যাংকিং চ্যানেলে যদি আন্ডার ইনভয়েসিং এবং ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে আমাদের দেশের অর্থ অন্য দেশে চলে যায়, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেটা নজরদারি করতে পারে। কোন ব্যাংকের মাধ্যমে গেছে সেটাও বাংলাদেশ ব্যাংক জানতে পারবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। কিন্তু সেটা যদি অন্য কোনো মাধ্যমে যায় তাহলে বিএফআইইউ সেই তথ্য সংগ্রহ করবে।’

এর আগে বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে সুইস রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক বা এসএনবির ২০২২ সালের জুন মাসে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশিরা কত টাকা জমা রেখেছে ওই তথ্য প্রতিবছর সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক দিয়ে থাকে এবং ওই অর্থ অবৈধপথে আয় করা হয়েছে কিনা তা আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়।

‘গত বছরে বাংলাদেশিরা প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা করেছেন।’

নাতালি চুয়ার্ড বলেন, ‘তথ্য পেতে হলে কী করতে হবে সে সম্পর্কে আমরা সরকারকে জানিয়েছি। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো তথ্যের জন্য আমাদের কাছে অনুরোধ করা হয়নি। আমরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এ ধরনের তথ্য আদান-প্রদান করা সম্ভব এবং সেটি তৈরি করতে হবে। এ বিষয়ে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছি।’

আরও পড়ুন:
টাকা সাদা করার সুযোগ প্রচারে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ
দুই মাসের মধ্যে কাটবে অর্থনীতির চাপ: গভর্নর
ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনে সংশোধনী আনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
অনিবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রা আমানতে সুদ বাড়ল
শিল্প ও সেবা খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকার ঋণ

মন্তব্য

p
উপরে