× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Even after increasing the price of fertilizer the subsidy is Rs 59 per kg
hear-news
player
print-icon

সারের দাম বাড়ানোর পরও কেজিতে ভর্তুকি ৫৯ টাকা

সারের-দাম-বাড়ানোর-পরও-কেজিতে-ভর্তুকি-৫৯-টাকা
গ্যাসের অভাবে চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ছবি: সংগৃহীত
ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের দাম ৮১ টাকা। সে হিসাবে দাম বৃদ্ধির পরও প্রতি কেজি ইউরিয়া সারে ৫৯ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে সরকারকে।

বৈশ্বিক গ্যাস সংকটের কারণে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত দুই ইউরিয়া সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউরিয়া সারের দাম কেজিপ্রতি ৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তার পরও এই সারে কেজিতে ৫৯ টাকা ভর্তুকি গুনতে হবে সরকারকে।

দেশের দুই রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চট্টগ্রাম ফার্টিলাইজার লিমিটেড ও যমুনা ফার্টিলাইজার লিমিটেডের বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩৭ লাখ ২৯ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের মোট চাহিদা ছিল ২৬ লাখ টন। বর্তমানে এই চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ৫০ হাজার টন। গ্যাস সংকটের কারণে বর্তমানে এ দুটি কারখানাতেই সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আর ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য ইউএফ-৮৫ এর পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই নিশ্চিত করা হয়েছে, দেশে এই মুহূর্তে সারের সংকট নেই। পর্যাপ্ত সার মজুত আছে। এর মধ্যেও ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ৬ টাকা বাড়িয়ে সোমবার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। আগে কৃষক এই সার ১৬ টাকা কেজি দরে কিনতে পারতেন। এখন থেকে তা কিনতে হবে ২২ টাকা কেজি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের বর্তমান দাম ৮১ টাকা। এর ফলে ৬ টাকা দাম বৃদ্ধির পরও সরকারকে কেজিতে ৫৯ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রতি কেজি ইউরিয়া সারে ভর্তুকি ছিল ১৫ টাকা।

ডিএপি সারে ১৮ শতাংশ নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া সারের উপাদান রয়েছে। সে জন্য ডিএপির ব্যবহার বাড়িয়ে ইউরিয়া সারের অপ্রয়োজনীয় ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য সরকার ডিএপি সারের মূল্য প্রতি কেজি ৯০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ টাকা করে কৃষকদের দিয়ে যাচ্ছে। এ উদ্যোগের ফলে বিগত কয়েক বছরে ডিএপি সারের ব্যবহার দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে ডিএপি ব্যবহার হতো আট লাখ টন। বর্তমানে এই সার ব্যবহার হচ্ছে ১৬ লাখ টন।

ডিএপি সারের ব্যবহার বাড়ায় ইউরিয়ার ব্যবহার কমার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা না কমে উল্টো বেড়েছে। সালে ইউরিয়া ব্যবহার হতো ২৫ লাখ টন, বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে ২৬ লাখ ৫০ হাজার টন।

গত এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম তিন থেকে চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশে সারে প্রদত্ত সরকারের ভর্তুকিও সমহারে বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে যেখানে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ৭ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা, সেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরে ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার কোটি টাকা।

কৃষি মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে, দেশে সব ধরনের সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আমন মৌসুম (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ৬ লাখ ১৯ হাজার টন। এর বিপরীতে মজুত রয়েছে ৭ লাখ ২৭ হাজার টন। সে হিসাবে মজুতের পরিমাণ চাহিদার চেয়ে প্রায় এক লাখ টন বেশি।

অন্যান্য সারের মধ্যে আমন মৌসুমে টিএসপির চাহিদা ১ লাখ ১৯ হাজার টন। এর বিপরীতে মজুত ৩ লাখ ৯ হাজার টন। ডিএপির চাহিদা ২ লাখ ২৫ হাজার টন, বিপরীতে মজুত আছে ৬ লাখ ৩৪ হাজার টন এবং এমওপির চাহিদা ১ লাখ ৩৭ হাজার টন, বিপরীতে মজুত রয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার টন।

আরও পড়ুন:
যমুনা সার কারখানা বন্ধ, বোরো আবাদে শঙ্কা
সিঙ্গাপুর থেকে গম ও সৌদি থেকে সার কিনবে সরকার
নেপালে সার কারখানা করতে বাংলাদেশকে প্রস্তাব

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Meherpur is happy despite suffering Jute farmers

ভোগান্তির পর খুশি মেহেরপুরের পাটচাষিরা

ভোগান্তির পর খুশি মেহেরপুরের 
পাটচাষিরা নানা ভোগান্তির পরও বাজারে পাটের দাম ভালো হওয়ায় হাসি ফুটেছে মেহেরপুরের চাষিদের মুখে। ছবি: নিউজবাংলা
মেহেরপুরের বামন্দীর পাটচাষি আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। এ বছর সাড়ে ১১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিঘায় পাট হয়েছে ১১ মণ। দাম পেয়েছি ২৭ হাজার টাকা। খরচ বাদে ১৬ হাজার টাকা লাভ আছে।’

অনাবৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটের কারণে চলতি মৌসুমে মেহেরপুরের পাটচাষিদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।

শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি সময়েও ভারি বৃষ্টি না হওয়ায় ভাড়া করা পুকুরে পাট জাগ দেয়াসহ শ্রমিক সংকটে মজুরি বেড়ে যাওয়ায় পাটের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় চাষিদের।

এত ভোগান্তির পরও বর্তমানে পাটের বাজারদর ভালো থাকায় হাসি ফুটেছে জেলার চাষিদের মুখে।

জেলার কয়েকজন কৃষক জানান, প্রতি বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। এ বছর তাদের এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা বেশি গুনতে হয়েছে। এদিকে প্রতি বিঘা জমিতে সাড়ে ১০ থেকে সাড়ে ১২ মণ পাট উৎপাদন হয়। বতর্মানে প্রতি মণ পাট ২৫০০ থেকে ২৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যে এ বছর জেলায় ২২০০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ দশমিক ৬ টন। এ হিসাবে জেলায় এবার ৭৯ হাজার ২০০ টন পাট উৎপাদন হবে।

ভোগান্তির পর খুশি মেহেরপুরের 
পাটচাষিরা

বৃহস্পতিবার জেলার বাণিজ্যকেন্দ্র খ্যাত বামন্দী ও গাংনী এলাকার কয়েকটি পাটের আড়ত ঘুরে দেখা যায়, মান ভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত। দাম ভালো হওয়ায় খরচ বাদে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। তাই পাট বিক্রি করে খুশি তারা।

বামন্দীর পাটচাষি আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। এ বছর সাড়ে ১১ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। বিঘায় পাট হয়েছে ১১ মণ। দাম পেয়েছি ২৭ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে ১৬ হাজার টাকা লাভ আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি মণ পাটে খরচ হয়েছে এক হাজার টাকার মতো। আর বিক্রি করেছি দুই হাজার ৫০০ টাকা দরে। লাভ হয়েছে দেড় গুণ।’

ঝোরাঘাট এলাকার পাটচাষি আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর ভারি বৃষ্টি না হওয়ায় শুরু থেকেই চার বিঘা জমির পাট নিয়ে বিপদে ছিলাম। দুই বিঘার পাট জাগ দেয়া শেষে বৃহস্পতিবার বিক্রি করেছি। প্রতি মণ পাট বিক্রি করেছি দুই হাজার ৫৫০ টাকা করে। দাম ভালো পাওয়ায় সব কষ্ট ভুলে গেছি।’

আরিফুল ইসলামের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে চাষি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘পাট ঘরে তোলা নিয়ে এ বছর শঙ্কায় ছিলাম। শ্রমিক সংকট, নেই পানি। বতর্মান বাজারদর ভালো হওয়ায় সব কষ্ট দূর হয়েছে।’

বাজারে নতুন পাটের আমদানি কম তবে চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন পাট ব‍্যবসায়ী একরামুল হক। বলেন, ‘নতুন পাট প্রকার ভেদে ২৬০০ থেকে ২৭০০ টাকা মণ বিক্রি চলছে। জাগ দেয়া ও শ্রমিক সংকটের কারণে চাষিরা বাজারে পাট আনতে দেরি করছেন। এর ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় পাট কম পাওয়া যাচ্ছে।’

মেহেরপুর কৃষি বিভাগের উপপরিচালক সামসুল আলম বলেন, ‘জেলায় এ বছর পাট চাষ হয়েছে ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। এ বছর জেলায় পাটের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও বাজারদর ভালো হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। এতে করে পাট চাষে তাদের আগ্রহ বাড়বে।’

আরও পড়ুন:
পানির নিচে আমন চারা, বিপাকে কৃষক
‘বড় বিপদে আছি বাপু’
বাঁধাকপি কাটল কে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Increase in fertilizer prices will not affect production Agriculture Minister

সারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে না উৎপাদনে: কৃষিমন্ত্রী

সারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে না উৎপাদনে: কৃষিমন্ত্রী গাজীপুরের পুবাইলে জমিতে সার ছিটাচ্ছেন এক ব্যক্তি। ফাইল ছবি
কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা ইউরিয়া সারের বর্তমান ব্যবহার কমপক্ষে ২০ শতাংশ কমিয়ে ইউরিয়ার ব্যবহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে পারি। এতে ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না; বরং উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে কৃষকের খরচও কমবে। এটি করতে হলে আমাদের কৃষক ভাইসহ সকলের সচেতনতা প্রয়োজন।’

সারের দাম বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব ফসল উৎপাদনের ওপর পড়বে না বলে দাবি করেছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার সারের দাম বৃদ্ধি ও মজুতের বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘ইউরিয়া সারের ব্যবহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে এবং চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে ডিলার পর্যায়ে ইউরিয়া সারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ১৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা এবং কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ টাকা পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার।

‘আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের বর্তমান দাম ৮১ টাকা। এর ফলে ৬ টাকা দাম বৃদ্ধির পরও সরকারকে প্রতি কেজিতে ৫৯ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের ভর্তুকি ছিল মাত্র ১৫ টাকা।’

দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। দাম নিয়ে কোনো কারসাজি করলে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘সারের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে দেশের কোথাও যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেই ব্যাপারে আমরা নিবিড়ভাবে মনিটর করছি। কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে দাম বেশি নিলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

‘আমরা ইউরিয়া সারের বর্তমান ব্যবহার কমপক্ষে ২০ শতাংশ কমিয়ে ইউরিয়ার ব্যবহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে পারি। এতে ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না; বরং উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে কৃষকের খরচও কমবে। এটি করতে হলে আমাদের কৃষক ভাইসহ সকলের সচেতনতা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ইউরিয়া সারের ব্যবহার হ্রাস ও ডিএপি সারের ব্যবহার বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ করে যাচ্ছি। ডিএপি সার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় ও মানসম্পন্ন ফসল উৎপাদনে কার্যকর এবং পরিবেশবান্ধব। ডিএপি সারে শতকরা ১৮ ভাগ নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া সারের উপাদান রয়েছে। সে জন্য ডিএপির ব্যবহার বাড়িয়ে ইউরিয়া সারের অপ্রয়োজনীয় ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য সরকার ডিএপি সারের মূল্য প্রতি কেজি ৯০ টাকা থেকে কমিয়ে প্রথমে ২৫ টাকা (২০০৯ সালে) এবং পরে ২০১৯ সালে ২৫ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ টাকা করে কৃষকদের দিয়ে যাচ্ছে।

‘এ উদ্যোগের ফলে বিগত কয়েক বছরে ডিএপি সারের ব্যবহার দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে ডিএপি ব্যবহার হতো ৮ লাখ টন। বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে ১৬ লাখ টন। ডিএপি সারের ব্যবহার বাড়ার ফলে ইউরিয়া সারের ব্যবহার কমার কথা, কিন্তু বাস্তবে ইউরিয়া সারের ব্যবহার কমেনি; বরং বেড়েছে। ২০১৯ সালে ইউরিয়া ব্যবহার হতো ২৫ লাখ টন। বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে ২৬ লাখ ৫০ হাজার টন।’

বিএনপি ও বাম দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ করছি সারের দাম বাড়ায় বিএনপিসহ কিছু বাম দল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিএনপির সার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ তাদের চরম নির্লজ্জতার প্রমাণ বলে আমি মনে করি। তারা বাস্তব অবস্থা বিবেচনা না করে সমালোচনা করছে। তারা সমালোচনার জন্য সরকারের সমালোচনা করছে।

‘বিএনপির শাসনামলে সারসহ কৃষি উপকরণের চরম সংকট ছিল। বিএনপি তাদের সময়ে কৃষককে সার দিতে না পেরে পালিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছে। সারের জন্য বিএনপি সরকার ১৯৯৫ সালে ১৮ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করেছিল।’

আরও পড়ুন:
উজবেকিস্তানে কারখানা করে সার আনবে ঢাকা
যমুনা সার কারখানা বন্ধ, বোরো আবাদে শঙ্কা
আমনের মৌসুমে সারের হাহাকার
সিঙ্গাপুর থেকে গম ও সৌদি থেকে সার কিনবে সরকার
গ্যাস সংকটে বন্ধ কারখানা, ইউরিয়ার বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Two dealers were fined Tk 1 lakh for selling fertilizers at high prices

বেশি দামে সার বিক্রি, দুই ডিলারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

বেশি দামে সার বিক্রি, দুই ডিলারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা
ভোক্তা অধিকারের চুয়াডাঙ্গা জেলার সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ জানান, গত ১ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ে জারি করা এক চিঠিতে ইউরিয়া সারের দাম খুচরা পর্যায়ে ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ টাকা করা হয়েছে। আর ১ আগস্টের আগে ডিলার পর্যায়ে মজুত করা সার আগের দাম অর্থাৎ ১৬ টাকা কেজি হিসেবেই বিক্রি করতে হবে।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করায় দুই ডিলারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার বেলা ২টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা শহরের পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই জরিমানা করা হয়।

ভোক্তা অধিকারের চুয়াডাঙ্গা জেলার সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ জানান, কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে গোপনে- এমন সংবাদ পেয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলার নতুন বাসস্ট্যান্ড মোড় ও হাফিজ মোড়ে অভিযান চালানো হয়।

নতুন বাসস্ট্যান্ড মোড়ে অবস্থিত বিসিআইসি ডিলার মেসার্স নূর মোহাম্মদ ট্রেডার্সে গিয়ে দেখা যায়, ১ আগস্টের আগে উত্তোলিত সার বেশি দামে বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। ৮০০ টাকার ইউরিয়া ৯৮০ টাকা ও অন্যান্য সারও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ভোক্তা অধিকারের আইন অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় শহরের হাফিজ মোড়ে অবস্থিত বিসিআইসি ডিলার মেসার্স জমির উদ্দিন অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে আরও একটি প্রতিষ্ঠানকে। এখানে টিএসপি সারের সরকার নির্ধারিত খুচরা মূল্য ২২ টাকা কেজি হলেও প্রতিষ্ঠানটি ৩৫ টাকা করে বিক্রি করছিল। এ ছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানে বিক্রয়ের জন্য সাজিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক জব্দ করা হয়।

সজল আহমেদ আরও জানান, গত ১ আগস্ট কৃষি মন্ত্রণালয়ে জারি করা এক চিঠিতে ইউরিয়া সারের দাম খুচরা পর্যায়ে ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ টাকা করা হয়েছে। একই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১ আগস্টের আগে ডিলার পর্যায়ে মজুত করা সার আগের দাম অর্থাৎ ১৬ টাকা কেজি হিসেবেই বিক্রি করতে হবে।

অভিযানে সহযোগিতা করে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল।

আরও পড়ুন:
যমুনা সার কারখানা বন্ধ, বোরো আবাদে শঙ্কা
আমনের মৌসুমে সারের হাহাকার
সিঙ্গাপুর থেকে গম ও সৌদি থেকে সার কিনবে সরকার
গ্যাস সংকটে বন্ধ কারখানা, ইউরিয়ার বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার
‘সূর্যের আলো থেকে হতে পারে ত্বকের ক্যানসার’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Bapu I am in great danger

‘বড় বিপদে আছি বাপু’

‘বড় বিপদে আছি বাপু’
মাদারীপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘এ বছর মাদারীপুর জেলায় ৩৫ হাজার ২০৬ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির পাট চাষাবাদ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ পাট কাটাও হয়েছে। তবে প্রায় চাষিদের পানির অভাবে পাট জাগ দিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে তাদের চলতে হবে।’

‘বড় বিপদে আছি বাপু, দেড়কানি জমিনে পাট বুনছি, পানি নাই, পাট জাগ দিতে পারতাছি না। সব পাট হুগনায় পইড়া গেছে।’

এভাবেই নিজের আশঙ্কা নিয়ে বলছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামের পাটচাষি আবু বকর কাজী। অন্য কৃষকদের মতো তিনিও চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। ফলনও বেশ ভালো হয়েছিল। তবে সময়মতো পানি না আসায় দুশ্চিন্তার ভাঁজ তার কপালে। শুধু আবু বকর কাজীই নয়, মাদারীপুরের এমন হাজারো পাটচাষির দুর্ভোগের এখন কমতি নেই।

মাঠে-ঘাটে পানি নেই। চাষিদের শঙ্কা, সময়মতো পাট কেটে পচাতে না পারলে পাটের রং সুন্দর হবে না, সোনালি আঁশ হবে না সোনালি রঙের। এতে ন্যায্য মূল্যও পাবেন না তারা। সারা বছরের পরিশ্রমই যাবে বিফলে। তাই চরম বিপাকে পড়েছেন পাটচাষিরা।

‘বড় বিপদে আছি বাপু’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাট পচানো নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন সদর উপজেলার ছিলারচর, কালিকাপুর, পাঁচখোলা, কুনিয়া, কেন্দুয়া, ঝাউদি, রাজৈর উপজেলার বদরপাশা, পাইকপাড়া, ইশিবপুর, দ্বারাদিয়া, কালকিনি উপজেলার এনায়েনতনগর, পূর্ব এনায়েতনগর, সাহেবরামপুর, সিড়ি খান ও শিবচর উপজেলার সন্নাসীরচর, কাঠালবাড়ী, ভান্ডারীকান্দি, উমেদপুর, পাচ্চরসহ অন্তত ৪০টি ইউনিয়নের পাটচাষিরা।

মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামের মাঠে-ঘাটে, খালে-বিলে তেমন পানি নেই। কোথাও পুরোপুরি শুকনো অবস্থায় চাষিদের পাট কাটতে হচ্ছে। মাথায় করে সে পাট পচানোর জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে পারিবারিক পুকুরে, যেখানে গ্রামের মানুষেরা গোসল করে থাকেন। এতে দূষিত হচ্ছে পুকুরের পানি। পুকুরের ওই দূষিত পানি দিয়ে গোসল এবং রান্না করায় নানা পানিবাহিত রোগেরও আশঙ্কা আছে।

পাটচাষি চান্দু সরদার বলেন, ‘এ বছর অনেকগুলো পাট বুনছিলাম। পানির অভাবে এখন হেই পাট জাগ দিতে পারতাছি না। কষ্ট কইরা চকের থেকে মাথায় কইরা বাইত্যে পাট আনতেছি। এবার পাট চাষে আমাদের ধস নামবে। এমন পরিস্থিতি হইলে আর পাট চাষ করব না। আমাদের মাথায় হাত।’

‘বড় বিপদে আছি বাপু’

আরেক পাটচাষি শাহাবুদ্দিন বেপারী বলেন, ‘এ বছর পাট নিয়ে বড় বিপদে আছি। আমার অল্প কিছু পাট, হেইডাও জাগ দিতে পারতেছি না। ৮ থেকে ১০ দিন ধইরা পুকুরে ফালাই রাখছি। প্রচুর রোদ থাকায় পাট গাছ শুকাইয়া যাচ্ছে। পানি নাই, কীভাবে জাগ দিব। এর থেকে রক্ষার মালিক একজনই। তিনি আমাদের মাবুদ। এ ছাড়া আর কোনো উপায় নাই। কৃষি অফিসের লোকদের তেমন কিছু করার নাই। তারাও তো পানি আনতে পারবে না।’

এ বিষয়ে মাদারীপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘এ বছর মাদারীপুর জেলায় ৩৫ হাজার ২০৬ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির পাট চাষাবাদ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ পাট কাটাও হয়েছে। তবে প্রায় চাষিদের পানির অভাবে পাট জাগ দিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে তাদের চলতে হবে। এ অবস্থায় নতুন কোনো প্রযুক্তিও তাদের দেয়া সম্ভব না।’

আরও পড়ুন:
টুঙ্গিপাড়া জুট মিলের ৩ ফুট দূরে এখন মধুমতী
তিড়িং পোকা কাটছে পাতা-ডগা
সার সংকটে চা চাষিরা
প্রভাস-দীপিকার সঙ্গে যুক্ত হলেন দিশা
চাকরি হারানো পাটকল শ্রমিকদের মানবেতর জীবন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Due to lack of water the farmers are worried about the growth of jute

পানির অভাবে পাটের জাগ নিয়ে দুশ্চিন্তা কৃষকের

পানির অভাবে পাটের জাগ নিয়ে দুশ্চিন্তা কৃষকের পানির অভাবে নিচু জমিতে মাটি চাপা দিয়ে পাটে জাগ দিচ্ছেন কৃষকরা। ছবি: নিউজবাংলা
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. হজরত আলী বলেন, ‘পাট চাষ এবার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। মাঠে পাটের অবস্থাও ভালো। এখন পাট কাটার সময় চলছে। কিন্তু বৃষ্টির অভাবে কৃষকরা পাটের জাগ দেয়া নিয়ে হতাশায় পড়েছেন।’

অনুকূল আবহাওয়ায় ফরিদপুরে ভালো পাটের ফলন ভালো হলেও চলতি বছর পাটের জাগ দেয়া নিয়ে বিপাকে চাষিরা।

বর্ষাকালেও তীব্র তাপদাহ ও ভারি বৃষ্টি না হওয়ায় পানির অভাবে মাঠেই শুকিয়ে যাচ্ছে পাট। ঠিক সময়ে জাগ দিতে না পারলে লোকসানে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। অনেকে আবার বাধ্য হয়ে নিচু জমিতে মাটি চাপা দিয়ে পাটে জাগ দিচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, এ বছর উপজেলার আটটি ইউনিয়নে মোট ১৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গত বছর আবাদ হয়েছিল ১২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে।

কৃষকরা বলছেন, এ বছর ফসলে রোগবালাই খুব একটা না থাকায় পাট চাষ ভালো হয়েছে। দামও আগের চেয়ে মোটামুটি ভালো। এতে ভালো লাভের আশা করছেন তারা।

তবে বৃষ্টি না হওয়ায় খাল-বিলসহ বিভিন্ন ডোবা ও নালায় পর্যাপ্ত পানি নেই। এ কারণে পাট কাটতে পারছেন না তারা। কেউ কেউ ভারি বৃষ্টিপাতে ডোবা-নালা পানিতে ভরাটের আশায় পাট কাটলে সেগুলো জাগ দিতে না পেরে মাঠেই শুকিয়ে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে মাটি চাপা দিয়ে জাগের ব্যবস্থা করছেন তারা।

সরেজমিন জেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, বেশির ভাগ জমির পাট কাটা শুরু হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় মাঠে তেমন পানি জমেনি। এ ছাড়া জমি থেকে নদী বা খাল অনেক দূরে হওয়ায় পাট নেয়া কষ্টকর হচ্ছে তাদের।

অনেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নসিমন ও ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানে বোঝাই করে নদী বা খালে নিয়ে যাচ্ছেন পাট। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তাই অনেকেই নিচু জমিতে মাটি চাপা দিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন।

এ সময় কয়েকজন কৃষক জানান, মাছ চাষ করায় খালের অনেক জায়গায় পাট জাগ দিতে দিচ্ছে না প্রভাবশালী মহল। তাই অনেক জমির পাট ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে মাঠে জলাবদ্ধতা হলে পুরোদমে পাট কাটা শুরু হবে বলেও জানান তারা।

সালথার কৃষক হায়দার মাতুব্বর বলেন, ‘এ বছর পাটের ফলন ভালো হলেও পানির অভাবে জাগ দিতে পারছি না। এতে চরম বিপাকে পড়েছি।’

মধুখালী পৌরসভার ভাটিকান্দি মথুরাপুর গ্রামের কৃষক মন্নু মৃধা বলেন, ‘এ বছর এক একর জমিতে পাট চাষ করেছি। পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছি না। মাটির ওপর কলার পাতা দিয়ে ঢেকে রেখেছি। মেশিনে সেচ দিয়ে পানি দিতে হবে। এটি অনেক ব্যয়বহুল।’

একই এলাকার আকরাম হোসেন বলেন, ‘বাড়ির পাশে সামান্য কাদা পানিতে কোনো রকম চুবিয়ে রেখেছি পাট।’

নগরকান্দার কৃষক পান্নু শেখ বলেন, ‘পানির অভাবে জাগ দিতে না পেরে বৃষ্টির অপেক্ষায় জমিতেই রেখে দিয়েছি পাট।’

উপজেলা উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল বারি বলেন, ‘জেলায় বিজেআরআই-৮ এবং রবি-১ জাতের পাটের বেশি আবাদ হয়েছে। রবি-১ জাতে ফলন বেশি ও পাট ভালো হওয়ায় কৃষকের চাহিদা বেশি। তবে জাগ দিতে না পারলে কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারাবেন।’

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. হজরত আলী বলেন, ‘পাট চাষ এবার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। মাঠে পাটের অবস্থাও ভালো। এখন পাট কাটার সময় চলছে। কিন্তু বৃষ্টির অভাবে কৃষক পাট নিয়ে হতাশায় পড়েছেন।

‘এ ছাড়া বৃষ্টির অভাবে জমিতে পর্যাপ্ত রস না থাকায় পাট শুকিয়েও যাচ্ছে। ভারি বৃষ্টি না হলে খাল-বিলে পানি জমবে না। সে ক্ষেত্রে কৃষকদের সেচ দিয়ে জাগ দিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
তিড়িং পোকা কাটছে পাতা-ডগা
প্রভাস-দীপিকার সঙ্গে যুক্ত হলেন দিশা
চাকরি হারানো পাটকল শ্রমিকদের মানবেতর জীবন
রাত যত হচ্ছে, পাটুরিয়ায় যাত্রীচাপ তত বাড়ছে
লঞ্চের চ্যানেলে ফেরি, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Agriculture loan targets increased

কৃষিতে বাড়ল ঋণের লক্ষ্যমাত্রা

কৃষিতে বাড়ল ঋণের লক্ষ্যমাত্রা কৃষিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। ছবি: নিউজবাংলা
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, গেল অর্থবছরে ঋণ বিতরণের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল, তার চেয়ে ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে বেশি, যা শতাংশে ১০১ দশমিক ৫৬ ভাগ। ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষিঋণ লক্ষ্য ছিল ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।

২০২২-২৩ অর্থবছরে কৃষিতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ৯১১ কোটি টাকা, যা গেল অর্থবছরের তুলনায় ৮.৮৮ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ বৃহস্পতিবার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ‘বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি’ ঘোষণা করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, গেল অর্থবছরে ঋণ বিতরণের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল তার চেয়ে ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে বেশি, যা শতাংশে ১০১ দশমিক ৫৬ ভাগ। ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্য ছিল ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে কৃষিঋণ নীতিমালার বিস্তারিত তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম।

এতে বলা হয়, কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বিশ্ব মন্দার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে খাদ্য সরবরাহ ঠিক রাখতে কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন ও বিপণনে অর্থায়ন ঠিক রাখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণ পদ্ধতিও সহজীকরণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে চলতি অর্থবছরে প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় হাঁস পালনের জন্য নিয়মাচর সংযোজন, চিয়া বীজ ,ত্বীন ফল, সুগার বিট চাষের জন্য নিয়মাচরসহ সাতটি খাত সংযোজন করা হয়েছে নতুন এ নীতিমালায়।

এ ছাড়া নীতিমালায় ভিয়েতনামী হাইব্রিড নারিকেল, কফি ও সুইট কর্ণ চাষের ঋণ নিয়মাচার সংযোজন, সামুদ্রিক শৈবাল চাষ, মৎস্য খাতের আওতায় গলদা চিংড়ি চাষ, সহজে অধিক সংখ্যক কৃষককে ঋণ দেয়ার লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোর দলবদ্ধভাবে কৃষিঋণ বিতরণের পদ্ধতি সংযোজন এবং একর প্রতি ফসল উৎপাদনের ঋণ নিয়মাচার যোগ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, এ নীতিমালা গ্রামীণ উন্নয়নে কাজ করবে।

এবার কৃষি ও পল্লি ঋণের চাহিদা বিবেচনায় চলতি অর্থবছরে মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো ১১ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক ১৯ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো মোট ২৮ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকার কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে ৩৩ লাখ ৪ হাজার ৮১১ জন কৃষি ও পল্লি ঋণ পেয়েছেন।

ব্যাংকগুলোর নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও এমএফআই লিংকেজের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৯৭ হাজার ৫২ জন নারী ১০ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লি ঋণ পেয়েছেন।

এ ছাড়া গত অর্থবছরে ২৪ লাখ ৯৯ হাজার ৯৪৫ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ হাজার ১৮২ কোটি টাকা এবং চর, হাওর প্রভৃতি অনগ্রসর এলাকার ৪ হাজার ৭৩ জন কৃষক প্রায় ১৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ঋণ পেয়েছেন।

আরও পড়ুন:
কৃষিতে ঋণ বাড়লেও আদায় কমেছে
৪ শতাংশ সুদে কৃষক পাবেন তিন হাজার কোটি টাকা
কৃষিতে ২৮,৩৯১ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো

মন্তব্য

p
উপরে