× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
LC decreases by 82 million dollars in 1 month relief to the economy
hear-news
player
print-icon

১ মাসে এলসি কমেছে ৮২ কোটি ডলার, অর্থনীতিতে স্বস্তি

১-মাসে-এলসি-কমেছে-৮২-কোটি-ডলার-অর্থনীতিতে-স্বস্তি
পণ্য আমদানিতে এলসি কমতে শুরু করায় অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদেরা। তারা বলছেন, আমদানির লাগাম টেনে ধরতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে।

দেশে ডলারের চাহিদা সামাল দিতে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের সুফল মিলতে শুরু করেছে। কমছে পণ্য আমদানির ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরিমাণ।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য ৭৩৮ কোটি ২৬ লাখ (৭.৩৮ বিলিয়ন) ডলারের এলসি খুলেছেন দেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা, যা গত ৯ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর আগের মাসে ৮২০ কোটি ডলারের এলসি খোলেন ব্যবসায়ীরা। এর অর্থ এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ৮২ কোটি ডলার সাশ্রয় হয়েছে।

আমদানির লাগাম টেনে ধরতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে এলসি খোলার পরিমাণ কমছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা করোনা মহামারির সঙ্গে ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি খরচ লফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। যার চাপ পড়ে অর্থনীতিতে। আমদানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স না বাড়ায় বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এটি দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।

আমদানি বাড়ায় বাজারে ডলারের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে গিয়েছিল। অস্থির হয়ে উঠেছিল মুদ্রাবাজার; এখনও আছে সেই অস্থিরতা। এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকা ১১ শতাংশের মতো দর হারিয়েছে।

গত বছরের ২১ জুলাই আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের দর ছিল ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা। বছর ধরে বাড়তে বাড়তে রোববার তা উঠেছে ৯৩ টাকা ৯৫ পয়সায়।

আমদানি বাড়ায় বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) ঘাটতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ১৭ বিলিয়ন পেরিয়ে গেছে। আমদানি খরচ বাড়ায় অর্থনীতির আরেক স্পর্শকাতর সূচক মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশে উঠেছে, যা গত ৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

এ পরিস্থিতিতে পণ্য আমদানিতে এলসি কমতে শুরু করায় অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানি কমাতে একটার পর একটা পদক্ষেপ নিয়েছে। তারই ইতিবাচক ফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে আমদানি আরও কমবে বলে মনে হচ্ছে। কেননা জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। খাদ্যপণ্যসহ অন্য পণ্যের দামও বিশ্ববাজারে নিম্নমুখী। মনে হচ্ছে সংকট কেটে যাবে।’

সরকার ব্যয় সংকোচনের জন্য বিদ্যুতের লোডশেডিংসহ অন্য যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে শিগগিরই তারও সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে করেন মঞ্জুর হোসেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে পণ্য আমদানির জন্য বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তারা মোট ৯ হাজার ২২৩ কোটি ৪৯ লাখ (৯২.২৩ বিলিয়ন) ডলারের এলসি খুলেছেন, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি।

২০২০-২১ অর্থবছরে এলসি খোলার পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৭০৩ কোটি ৭৪ লাখ (৬৭.০৩ বিলিয়ন) ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, করোনা মহামারি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকেই আমদানি খাতে খরচ বাড়তে থাকে। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য ৪৯৪ কোটি ৬৪ লাখ (৪.৯৪ বিলিরয়ন) ডলারের এলসি খোলা হয়। আগস্টে তা এক লাফে ৪৫ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে ৭১৮ কোটি ৪১ ডলারে ওঠে। সেপ্টেম্বরে তা আরও বেড়ে ৭৭৭ কোটি ডলার দাঁড়ায়। অক্টোবরে এলসি খোলা হয় ৭৪২ কোটি ১৬ লাখ ডলারের।

নভেম্বরে এলসি খোলা হয় ৮১০ কোটি ৬৯ লাখ (৮.১০ বিলিয়ন) ডলারের। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক মাসে এলসি খোলার পরিমাণ ৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায় ওই মাসে। ডিসেম্বরে এলসি খোলার পরিমাণ ছিল ৮৬৪ কোটি ৬২ লাখ ডলার।

চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ৮২৮ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের এলসি খোলেন ব্যবসায়ীরা। পরের মাস ফেব্রুয়ারিতে অবশ্য কমে ৭১০ কোটি ডলারে নেমে আসে। ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিন হওয়ায় এলসি খোলার পরিমাণও কমেছিল বলে জানান ব্যাংকাররা।

মার্চে ৮৯০ কোটি ২৬ লাখ ডলারের এলসি খোলেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা, যা ছিল এক মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি এলসি খোলার পরিমাণ।

এপ্রিলে তা কমে ৮২৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলারে নেমে আসে। মে মাসে এলসি খোলা হয় ৮২০ ডলারের। সর্বশেষ জুনে ৮২ কোটি ডলার বা ১০ শতাংশ কমে ৭৩৮ কোটি ২৭ লাখ ডলারে নেমে এসেছে।

আমদানি কমাতে প্রথম পদক্ষেপ নেয়া হয় ১৭ এপ্রিল। ওইদিন এক সার্কুলারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শিশুখাদ্য, জ্বালানিসহ অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্য, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, স্থানীয় ও রপ্তানিমুখী শিল্প এবং কৃষি খাতসংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানি ছাড়া অন্য সব পণ্য আমদানির বিপরীতে ঋণপত্র স্থাপনের (এলসি) নগদ মার্জিন হার ন্যূনতম ২৫ শতাংশ সংরক্ষণের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়।

এরপর ১০ মে বিলাসপণ্য আমদানি কমাতে আরও কড়াকড়ি আরোপ করে আরেকটি সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই সার্কুলারে বলা হয়, সকল ধরনের মোটরকার, হোম অ্যাপ্লায়েন্স হিসেবে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ নগদ মার্জিন সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে অতি জরুরি পণ্য ছাড়া অন্য সব পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নগদ মার্জিন সংরক্ষণ করতে হবে।

৫ জুলাই আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সব ধরনের মোটরকার, হোম অ্যাপ্লায়েন্স হিসেবে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, প্রসাধনী, স্বর্ণালংকার, তৈরি পোশাক, গৃহস্থালি বৈদ্যুতিক সামগ্রী বা হোম অ্যাপ্লায়েন্স, পানীয়সহ বেশ কিছু পণ্য আমদানিতে ব্যাংক থেকে কোনো ধরনের ঋণ সুবিধা পাবেন না আমদানিকারকরা।

এসব পণ্যের আমদানি ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে শতভাগ নগদ মার্জিন সংরক্ষণ করতে হবে, এর আগে যা ছিল ৭৫ শতাংশ।

রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে ব্যয় সংকোচনের পথ বেছে নিয়েছে সরকার। অতি প্রয়োজন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের কর্তাদেরও বিদেশ সফর বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কম গুরুত্বপূর্ণ আমদানিনির্ভর প্রকল্পের বাস্তবায়ন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

১ মাসে এলসি কমেছে ৮২ কোটি ডলার, অর্থনীতিতে স্বস্তি

চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার একগুচ্ছ সাশ্রয়ী নীতি নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বিদ্যুতের চাহিদা আয়ত্তে রাখতে গত মঙ্গলবার থেকে অঞ্চলভেদে লোডশেডিং করা হচ্ছে।

এসব পদক্ষেপের ফলে আমদানি খরচ কমছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমদানি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধারাবাহিকভাবে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিলাসবহুল পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত এলসি মার্জিন আরোপ করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে বেশ কিছু পণ্যের আমদানির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসানো হয়েছে। সেসবের ফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। এলসি কমতে শুরু করেছে। আগামী দিনগুলোতে আরও কমবে বলে আশা করছি।’

বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন বলেন, ‘করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের জিনিসের দাম বেড়ে গেছে; বেড়েছে জাহাজ ভাড়া। এ কারণে আমদানিতে খরচ বেড়ে গিয়েছিল। এ ছাড়া পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলী টানেলসহ বেশ কয়েকটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে দেশে বিনিয়োগের একটি আবহ তৈরি হয়েছে।

‘উদ্যোক্তারা নতুন পরিকল্পনা সাজিয়ে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য ক্যাপিটাল মেশিনারিসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি-সরঞ্জাম আমদানি করেছিলেন। এসব কারণে আমদানি খরচ বেড়ে গিয়েছিল। এখন কমতে শুরু করেছে। এটা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আমাদের অর্থনীতির জন্য মঙ্গল হবে। ডলারের বাজারেও স্বস্তি ফিরে আসবে।’

আকুর বিলও কমছে

আমদানি ব্যয় কমার তথ্য এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিলেও পাওয়া যাচ্ছে। গত ১২ জুলাই মে-জুন মেয়াদের ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলারের আমদানি বিল পরিশোধ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের ২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারের আকুর দেনা পরিশোধ করা হয়েছিল। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদের বিল শোধ করা হয় ২ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার।

মে-জুন মেয়াদের আকুর বিল পরিশোধের পর বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। এখনও ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে অবস্থা করছে।

রোববার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৯ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার।

গত বছরের ২৪ আগস্ট এই রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। ওই সময় ওই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ১০ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যেত। তখন অবশ্য প্রতি মাসে ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হতো।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পরপর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুত থাকতে হয়।

আরও পড়ুন:
গাড়ি আমদানিতে চট্টগ্রামকে ডিঙিয়ে মোংলার রেকর্ড
ভারতীয় সিনেমা আমদানিতে সম্মত চলচ্চিত্রের ১৯ সংগঠন
কাগজ আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি
কিছুতেই লাগাম পরানো যাচ্ছে না আমদানিতে
আমদানি কমাতে ১৩৫ পণ্যে শুল্কারোপ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Although the prices of eggs and broiler chickens have come down there is no relief in vegetables

বাড়তি দরে কিনতে নারাজ, দাম কমেছে ডিম-মুরগির

বাড়তি দরে কিনতে নারাজ, দাম কমেছে ডিম-মুরগির বাজারে নতুন আসায় শিম সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি শিম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সিমের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে টমেটো ও গাজার। ছবি: নিউজবাংলা
কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। ডিমের দাম প্রতি ডজনে ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বাজারে এক ডজন বাদামি ডিম ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। যেটি কয়েক দিন আগে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বাড়তি দামে কিনতে না চাওয়ায় ডিম ও মুরগির দাম কমে গেছে বলে জানান বিক্রেতারা। তবে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দামে স্বস্তি ফিরে আসলেও অস্থিরতা দেখা গেছে সবজির দোকানে। ৪০ টাকার নিচে কোনো ধরনের সবজি নেই বললেই চলে। বাজারে আসা নতুন শিমের কেজি ২০০ টাকা ছুঁয়েছে।

নিত্যপণ্যের মূল্যে ঊর্ধ্বগতিতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিই কাঁচাপণ্যের ঊর্ধ্বমুখিতার কারণ বলছেন বিক্রেতারা। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে উঠে এসেছে এমন চিত্র।

কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। দেশে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরে হুহু করে বেড়ে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা ছাড়ায়। দর কমে আজ প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়।

চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্রয়লার মুরগির দর কমেছে বলে জানান বিক্রেতারা। কারওয়ান বাজারের ‘মা রোকেয়া চিকেন ব্রয়লার হাউসের’ কামরুল হাসান বলেন, ‘ব্রয়লার মুরগির চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম কমে গেছে। মানুষ ব্রয়লার খাচ্ছে না। আর দুই-তিন দিন সরকারি ছুটি থাকায় ঢাকায় মানুষই নাই। বাজারেও মানুষ কম আসছে।’

বাড়তি দরে কিনতে নারাজ, দাম কমেছে ডিম-মুরগির

আরেক বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন লিটন বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম তো কমেনি। যার কারণে পাবলিকের পকেটে টাকা নাই। তারা মুরগি কিনবেন কী করে, তাই মুরগির চাহিদা কমে গেছে, দামও কমে গেছে।’

কিছুটা দাম বেড়েছে পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির। গত সপ্তাহে ২৭০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও চলতি সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি।

ব্রয়লার ‍মুরগির দাম দেড় শ টাকার নিচে থাকা সমীচীন বলছেন ক্রেতারা। জয়নাল আবেদীন নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘ব্রয়লার মুরগি মানুষ খেত না একসময়। আর এর উৎপাদন খুব দ্রুত সময়ে করা যায়। কীভাবে এর দাম ১৮০ টাকা বা ২০০ টাকা হয় মাথায় আসে না। এর দাম দেড় শ টাকার নিচে হওয়া উচিত।’

এদিকে ডিমের দাম প্রতি ডজনে ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বাজারে এক ডজন বাদামি ডিম ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। যেটি কয়েক দিন আগে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

আর সাদা ডিম বিক্রি হয়েছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা ডজন। যেটি আগে ছিল ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। এ ছাড়া দেশি মুরগির ডিমের ডজন ১৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

ডিম ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘দেড় শ টাকার ওপরে ছিল ডিমের দাম। গতকাল থেকে কমছে। মানুষ ডিম কেনা কমিয়ে দিয়েছে।’

ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম কমলেও বেশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। বাজারে নতুন আসায় শিম সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি শিম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

বাড়তি দরে কিনতে নারাজ, দাম কমেছে ডিম-মুরগির

শিমের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে টম্যাটো ও গাজর। টম্যাটো ১০০ থেকে ১৩০ টাকা এবং গাজর বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজিতে। এ ছাড়া প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়।

শসার কেজি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিক্রেতা রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘একটু পরে এই শসাই ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হবে।’

অন্যান্য সবজি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ২৫ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লাউ রকমভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মরিচের কেজি আগের মতোই ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া আদা ও রসুন ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম জানান, সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে পেঁয়াজ ও আলুর। পেঁয়াজ গত সপ্তাহের মতো ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা।

সবজির দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। বেসরকারি চাকরিজীবী তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘বেতন তো এক জায়গাতেই আছে। কিন্তু সবজির দাম তো বাড়ছেই। ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি কেনা যায় না। আমরা খাবটা কী?’

দাম বেড়েছে ইলিশ মাছের। রকমভেদে ইলিশের কেজিতে বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।

প্রতি কেজির ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। আগে এই ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকায়।

দেড় কেজি ওজনের ইলিশ গত সপ্তাহে ১৫০০ টাকায় পাওয়া গেলেও সেটি আজ বিক্রি হয়েছে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। দুই কেজি ওজনের ইলিশের দাম পড়েছে ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকা।

বিক্রেতা মিলন বলেন, ‘ভালো ইলিশের (চাঁদপুরের ইলিশ বুঝিয়েছেন) সরবরাহ কম। আইতেছে না, যার কারণে একটু বেশি দাম।’

অন্যান্য মাছের দামে খুব বেশি পরিবর্তন আসেনি। রকমভেদে রুই ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ও পাঙাশ ১৬০ থেকে ১৯০ টাকা, শিং ৩৫০ থেকে ৪৬০ টাকা, কই ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঘরে বসে সস্তায় বাজারের সুযোগ
‘৫০ পয়সা খরচ বাড়ায় দাম চার টাকা বাড়ার লজিক আছে?’
দাম নিয়ন্ত্রণে ডিম আমদানির চিন্তা
পণ্যমূল্য এত কেন বাড়বে, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর
চালের বাজার চড়ছেই, মজুত বেড়ে কী লাভ?

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Xi Putin is going to G20 summit Indonesia

জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে যাচ্ছেন শি, পুতিন: ইন্দোনেশিয়া

জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে যাচ্ছেন শি, পুতিন: ইন্দোনেশিয়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। ছবি: এএফপি
জোকো উইদোদো বলেন, ‘শি চিনপিং আসবেন। প্রেসিডেন্ট পুতিনও আসবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।’

চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চলতি বছরের নভেম্বরে বালিতে অনুষ্ঠেয় জি-টোয়েন্টি সম্মেলনে যোগ দেয়ার পরিকল্পনা করেছেন বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

উইদোদো বলেন, ‘শি চিনপিং আসবেন। প্রেসিডেন্ট পুতিনও আসবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।’

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, উইদোদোই প্রথম ব্যক্তি ‍যিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দুই রাষ্ট্রপ্রধানের জি-২০ সম্মেলনে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেন।

ইউক্রেনে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার হামলা এবং তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছার পর বালির সম্মেলনটিই হতে যাচ্ছে বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রথম কোনো জমায়েত।

সম্মেলনে যোগ দিলে ২০২০ সালের জানুয়ারির পর এটিই হবে শির প্রথম বিদেশযাত্রা। করোনাভাইরাস মহামারির প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে ওই বছরের শুরুতে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছিল চীন।

সে সময় থেকে একবারের মতো চীনের মূল ভূখণ্ড ছেড়েছিলেন শি। চীনের কাছে দেশটির বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংকে ফেরত দেয়ার ২৫তম বার্ষিকী ছিল চলতি বছরের পয়লা জুলাই। ওই দিন হংকংয়ে যান তিনি।

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক দেশগুলোর জোট জি-টোয়েন্টির বহুল প্রতীক্ষিত বালি সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে, তবে সম্মেলনে তিনি পুতিনের মুখোমুখি হবেন কি না, সেটি নিশ্চিত নয়।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জি-টোয়েন্টি সম্মেলনের আগে কিংবা সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে মুখোমুখি হতে পারেন বাইডেন ও শি।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Cheap market opportunities at home

ঘরে বসে সস্তায় বাজারের সুযোগ

ঘরে বসে সস্তায় বাজারের সুযোগ নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে অনলাইন ঘাঁটলে ১২ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কম দাম কেনাকাটার অনেক সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
‘আমরা পাইকারি দামে অনেক পণ্য কিনি এবং সেটা কম দামে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছি। ফলে আমরা খুচরা বাজারের চেয়ে কম দামে পণ্য দিতে পারছি।’

৫০ ছাড়িয়ে যাওয়া ডিমের হালি কেউ যদি ৪৫ টাকা রাখে, আবার বিনা মূল্যে ঘরে পৌঁছে দেয়?

কেবল ডিম নয়, ঘরে বসেই বাজারদরের চেয়ে কম দামে পণ্য পাওয়ার সুযোগ আছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে অনলাইন ঘাঁটলে এমন অনেক সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ১২ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কম দাম নিচ্ছে তারা।

রাজধানীতে অনলাইন অর্ডারে পণ্য পৌঁছে দিতে ডেলিভারি চার্জও নিচ্ছে না বেশির ভাগ অনলাইন শপ। তবে কোনোটিতে জুড়ে দেয়া হচ্ছে শর্ত। কোথাও নির্দিষ্ট পরিমাণ কেনাকাটা করলে বিনা পয়সায় বাসায় পৌঁছে দেবে বলছে।

বাজারদরের তুলনায় এত কমে পণ্য বিক্রির কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কয়েকটি বিষয়। বেশি বিক্রি কম লাভ- এই নীতিতে কোনো কোনো শপ পাইকারি দামে বিক্রি করে। কোনো কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রাহক ধরছে।

৪৫ টাকা হালিতে ডিম কিনুন

নিত্যপণ্যের মধ্যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি কথা যেটি নিয়ে, সেই ডিম বাজারদরের চেয়ে ২০ শতাংশ কমে কেনার ‍সুযোগ দিচ্ছে অনলাইন গ্রোসারি শপ ‘অথবা ডট কম’।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, বৃহস্পতিবার ঢাকার বাজারে ফার্মের মুরগির এক হালি বাদামি ডিমের দাম ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

ঘরে বসে সস্তায় বাজারের সুযোগ

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে অনলাইন ঘাঁটলে এমন অনেক সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ১২ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কম দাম নিচ্ছে তারা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

৫৫ টাকা হালি ধরে হিসাব করলে প্রতি পিস ডিমের দাম পড়ে ১৩ টাকা ৭৫ পয়সা। তবে ‘অথবা ডট কম’ বিক্রি করছে ১১ টাকা ২৬ পয়সা করে।

অর্থাৎ বাজারদরের চেয়ে প্রায় আড়াই টাকা বা ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ কমে দামে ডিম কেনা যাবে।

তবে এখানে এক হালি করে কেনার সুযোগ নেই। একসঙ্গে কিনতে হবে সাড়ে সাত হালি বা ৩০টি। আর এই ডিম ক্রেতাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হবে কোনো ডেলিভারি চার্জ ছাড়াই।

ডায়াপার্স বিডি ডট কমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘সোপ বিডি ডট কম’ নামের অনলাইন শপে কেনা যাচ্ছে এক ডজন ডিমও। তারা ১২টি ডিমের দাম নিচ্ছে ১৪৫ টাকা। প্রতিটির দাম পড়ছে ১২ টাকা ৮ পয়সা, যা বাজারের চেয়ে ১ টাকা ৬৭ পয়সা বা ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ কম।

ঘরে বসে সস্তায় বাজারের সুযোগ

টিসিবির হিসাবে বৃহস্পতিবার ঢাকার বাজারে ফার্মের মুরগির প্রতি পিস ডিমের দাম ছিল ১৩ টাকা ৭৫ পয়সা। তবে ‘অথবা ডট কম বিক্রি করছে ১১ টাকা ২৬ পয়সা করে। ডায়াপার্স বিডি ডট কমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘সোপ বিডি ডট কম-এ পাওয়া গেছে ১২ টাকা ৮ পয়সায়। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

সোপ বিডি কম কমে ডিম ছাড়াও বাজারদরের চেয়ে কমে পাওয়া যাচ্ছে অন্য নিত্যপণ্যও।

বাজারে পেঁয়াজের দর ৪০ থেকে ৫৫ টাকা। তবে এই শপে পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি ৩৮ করে। ৩০ টাকা কেজি মূল্যের আলু এখানে মিলছে ২৫ টাকায়।

এই শপ ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য দেবে, এ জন্য কোনো বাড়তি চার্জও নিচ্ছে না।

গ্রাহক পর্যায়ে পরিচিত বাড়াতে লোকসানে পণ্য বিক্রির কথা জানিয়েছেন ডায়াপার্স বিডির কাস্টমার-কেয়ার কর্মী মোস্তফা ইমন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের নতুন ওয়েবসাইট। গ্রাহক পর্যায়ে পরিচিত হওয়ার জন্য পণ্যের কেনা রেটের চেয়েও দুই-এক টাকা কম দামে আমরা বিক্রি করছি।’

৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কম দাম

ওয়ালটনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওয়ালকার্ট আদা, রসুনের দামে ৩১ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। থাই আদার প্রতি কেজিতে ৪০ টাকা বা ৩৬ শতাংশ ছাড় দিয়ে ৭০ টাকায় বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। যেটি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি। আর বাজারের চেয়ে ৩৮ টাকা কমে চায়না রসুন দিচ্ছে ১২০ টাকায়, যার বাজারমূল্য ১৫৮ টাকা।

ওয়ালকার্টের কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ নাহিয়ান হামিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা পাইকারি দামে অনেক পণ্য কিনি এবং সেটা কম দামে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছি। ফলে আমরা খুচরা বাজারের চেয়ে কম দামে পণ্য দিতে পারছি।’

৯৫০ টাকার যেকোনো পণ্যে ছাড় ১১০ টাকা

চেইন সুপার শপ মীনা বাজারে গিয়ে পণ্য কেনার চেয়ে ঘরে বসে কেনা অনেক বেশি লাভজনক।

এই প্রতিষ্ঠানের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মীনা ক্লিকে ৯৪৯ টাকার পণ্য অর্ডার করলে দিতে হবে ৮৩৯ টাকা। অর্থাৎ ১১০ টাকা ছাড় দিচ্ছে তারা। এই পণ্য বাসায় নিয়ে আসার পর কার্ড সোয়াপের মেশিনের মাধ্যমে বিল পরিশোধের সুযোগ থাকছে। ফলে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডেও সেই টাকা পরিশোধের সুযোগ আছে।

এই পণ্য হাতে পেতে আবার কোনো ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে না।

কোনো কোনো ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে সুপারশপে কেনাকাটায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাকের সুযোগ আছে। সে ক্ষেত্রে গ্রাহকের ছাড় আসলে আরও বেশি।

প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ম্যানেজার (ব্র্যান্ড ও কমিউনিকেশন) মর্তুজা আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লাভ-লোকসান এভাবে হিসাব করা যায় না। আমাদের প্রমোশনের জন্য মার্কেটিং বাজেট থেকে অ্যালোকেট করা হয়। এটার কারণে আমরা কম দামে দিতে পারি।’

শুক্রবার সুপারশপে ছাড়ের ছড়াছড়ি

নাজিরশাইল প্রিমিয়াম যে চালের দর কেজিতে ৭৮ টাকায় বিক্রি হয়, গত দুই শুক্রবার মীনা বাজার সেটি বিক্রি করেছে ৬৮ টাকায়।

কেবল চাল নয়, প্রতিটি শপই শুক্রবার রীতিমতো বড় আকারের লিফলেট ছেপে বিভিন্ন পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে থাকে।

প্রাণের অনলাইন শপ ডেইলি শপিংয়ের পক্ষ থেকে ছাড় দেয়ার আগের দিন হোয়াটস অ্যাপে কোন পণ্য কত টাকায় বিক্রি করা হবে, সে তথ্য জানিয়ে এসএমএস পাঠানো হয়।

স্বপ্ন সুপার শপ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। আর ছুটির দিন ছাড়াও এসব শপে দুটির সঙ্গে একটি বা তিনটির সঙ্গে একটি এমনকি একটির সঙ্গে একটি ছাড় থাকে।

আবার মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো সেবা ব্যবহার করলেও দিনে ৫০ থেকে ১০০ টাকা ছাড় পাওয়ার সুযোগ আছে। স্বাভাবিক ছাড়ের সঙ্গে এই ছাড় আবার বাড়তি।

আরও পড়ুন:
ডিমের পর তেলাপিয়া-পাঙাশও গরিবের হাতছাড়া!
‘৫০ পয়সা খরচ বাড়ায় দাম চার টাকা বাড়ার লজিক আছে?’
পুঁজিবাজারে একটু একটু করে ফিরল আরও প্রাণ
দাম নিয়ন্ত্রণে ডিম আমদানির চিন্তা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
There is no food shortage in Bangladesh World Bank

বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি নেই: বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি নেই: বিশ্বব্যাংক ফাইল ছবি
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বোচ্চ পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কবলে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ মূল্যস্ফীতির তোপে পড়লেও বাংলাদেশ সুবিধাজনক জায়গায় আছে। ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি হয়নি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাদ্যসংকট দেখা দিলেও বাংলাদেশে কোনো খাদ্য ঘাটতি নেই বলে সুখবর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সরকারের নানা পদক্ষেপ বাংলাদেশকে এই সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থাটি।

খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে নিয়ে এই তথ্য দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বুধবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কবলে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ মূল্যস্ফীতির তোপে পড়লেও বাংলাদেশ সুবিধাজনক জায়গায় আছে। ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে খাদ্য ঘাটতি হয়নি। তবে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত খাত মিলে দক্ষিণ এশিয়ায় গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ১৫ শতাংশ হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। মূলত খাদ্য ঘাটতিই এর প্রধান কারণ বলে মনে করছে সংস্থাটি।

খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশ সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে বিশ্বব্যাংক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। তবে ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ ও নেপালে বড় ধরনের খাদ্য ঘাটতি দেখা যায়নি। পাকিস্তানে সারের অভাব এবং তাপপ্রবাহের কারণে গম ও চালের উৎপাদন কম হয়েছে। ভুটান এবং শ্রীলঙ্কা অভ্যন্তরীণ খাদ্য সরবরাহে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি অনুভব করছে। শ্রীলঙ্কায় সারের ঘাটতির কারণে কৃষি উৎপাদন ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমেছে এবং খাদ্য আমদানি করার জন্য বৈদেশিক মুদ্রার অভাব রয়েছে। সার ও জ্বালানির (জমি প্রস্তুতি, পরিবহন এবং ফসল সংগ্রহের কার্যক্রমের জন্য) অভাব খাদ্য সরবরাহকে আরও সীমিত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শ্রীলঙ্কায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮০ শতাংশে উঠেছে। পাকিস্তানে ২৬ শতাংশ। বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এই সূচকটি সে তুলনায় অনেক কম, এক অঙ্কের ঘরে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার খাদ্য নিরাপত্তার উদ্বেগ মোকাবিলায় চাল আমদানিতে শুল্ক কমিয়েছে। এ ছাড়া কৃষি খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়েছে, সারে ভর্তুকি বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানিকারকদের নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার।

এ ক্ষেত্রে ভারতও স্বস্তিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। দেশটি ৪৪ হাজার টন ইউরিয়ার প্রথম চালান পেয়েছে। ভারতীয় চালের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে ৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন টন।

আর ভুটানে সরকার পাইকারি বিক্রেতা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কাছে প্রত্যক্ষভাবে এবং রেয়াতি কাজের মূলধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী মজুত করছে।

আরও পড়ুন:
শ্রীলঙ্কায় খাদ্যের অভাব ৫০ লাখ মানুষের: জাতিসংঘ
খাদ্যপণ্য রপ্তানিকারক দেশগুলোর সিদ্ধান্তে বদল চায় বাংলাদেশ
খাদ্য নিরাপত্তা না নিরাপদ খাদ্য
দাম নিয়ন্ত্রণে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত
সারা দেশে নওগাঁর আম পরিচিতি পাবে: খাদ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Because of the rise in the egg chicken market

ডিম-মুরগির বাজার চড়া যে কারণে

ডিম-মুরগির বাজার চড়া যে কারণে
বাজারে মুরগি ও ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরই তিন দিনের অঘোষিত ধর্মঘট পরিস্থিতি বাজারে অল্প সময়ের জন্য সরবরাহ ঘাটতি তৈরি করে। এরপর ঘটে এটির চেইন রিঅ্যাকশন।

সারা দেশে ডিম ও মুরগির দাম চড়ে যাওয়ার নেপথ্যে মাত্র তিন দিনের পরিবহন সংকট। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সরকারি ঘোষণার পর ভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা হিসেবে পণ্য পরিবহন খাতে ছিল অঘোষিত ধর্মঘট। ফলে খামার থেকে প্রথম তিন দিন এ দুই পণ্যের সরবরাহ আসেনি।

এতে গোটা দেশে খবর ছড়িয়ে পড়ে সরবরাহ সংকট। এ সুযোগ কাজে লাগায় মধ্যস্বত্বভোগী আড়তদার, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।

দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ও অনৈতিক বাড়তি মুনাফার চেষ্টায় প্রথম দফায় এই মধ্যস্বত্বভোগীরা যার যার আগের মজুত থেকেই দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেন। অন্যদিকে খামারিরা পরিবহন সংকটে সরবরাহ দিতে না পেরে প্রথম দিকে কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়লেও বাজারে দাম বাড়ার ফায়দা পরে তারাও নিতে শুরু করেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ডিম ও মুরগির সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি খামার গেটে প্রতি পিস ডিমের ক্ষেত্রে ২০-৫০ পয়সা হারে এবং লেয়ার ও ব্রয়লার মুরগির ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি ২-৩ টাকা করে বাড়াতে থাকেন খামারিরা। এভাবে খামারিরা দফায় দফায় যে হারে দাম বাড়িয়েছেন, আড়তদার, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা স্থানভেদে নিজেদের লাভ বিবেচনায় আনুপাতিক হারে দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নামেন। ফলাফল বাজারে এখন এসব পণ্যের দাম নামছে না।

এ প্রসঙ্গে ফিড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আহসানুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খামার পর্যায়ে দাম বেড়েছে এটা সত্য। এই বাড়তি দামের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে মধ্যস্বত্বভোগী যারা রয়েছে, তাদের আরও বাড়তি মুনাফার একটা অপচষ্টো তো সব সময়ই থাকে। আগে ৬ টাকায় কিনে ৯ টাকায় বিক্রি করত, এখন ৯-১০ টাকায় কিনে ১৩-১৪ টাকা বিক্রি করছে। তবে এবার দাম বাড়ার এই অপচেষ্টার পেছনে ছিল জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি।’

ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি ফজলে রহিম খান শাহরিয়ার জানান, সারা দেশে ডিম ও মুরগির দাম বৃদ্ধি উসকে দিয়েছে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর মাত্র তিন দিনের পরিবহন সংকট।

কারওয়ান বাজারের খুচরা ডিম ব্যবসায়ী বশিররুল্লাহ বলেন, ‘বাজারে কাঁচা সবজি ও মাছ-মাংসের দাম বাড়ায় মানুষ ডিম ও ব্রয়লার বেশি খাচ্ছে। ফলে চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে।’

ভোক্তার পকেট কেটে কে কতটা লাভ করছে

খামারে একটি ডিমের উৎপাদনের পেছনে খরচ পড়ে ৮ থেকে সাড়ে ৮ টাকা। খামারিরা সেই ডিমে পরিচালন খরচ যোগ করার পর আনুপাতিক হারে মুনাফা নির্ধারণ করে থাকেন। খামারসংশ্লিষ্টদের দাবি, খামার গেটে একটি ডিম এখন ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখানে খামারির ডিমপ্রতি লাভ দুই থেকে আড়াই টাকা।

সেই ডিম খামার গেট থেকে আড়তদার, পাইকার ও খুচরাপর্যায়ে তিন দফা হাতবদলের পর পরিবহন খরচ যোগ হয়ে ভোক্তাপর্যায়ে স্থানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ টাকা। অর্থাৎ এই মধ্যস্বত্বভোগীরা প্রতিটি ডিম থেকে লাভ করছেন ৪ থেকে ৫ টাকা।

একইভাবে ১৩৫ টাকা আট মাস বিনিয়োগের পর খামারিরা এক কেজি ওজনের একটি ব্রয়লার থেকে লাভ করেন ১৫-২০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজিতে খামারিদের বিক্রয় মূল্য ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। হাতবদলের পর ভোক্তাপর্যায়ে সেটি বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকায়। এখানে হাতবদলে দর বৃদ্ধি ৪০-৪৫ টাকা, যা পুরোটাই যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে।

বাড়তি দামে খামারিদেরও আছে যৌক্তিকতা

দেশে ছয়-সাত মাস ধরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি চলছে। ১৭ টাকার ভুট্টা হয়ে গেছে ৩৬ টাকা, ৩০ টাকার সয়াবিন মিল হয়ে গেছে ৬৫ টাকা। আটার দামও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এগুলো দিয়ে পোল্ট্রি ফিড তৈরি হয়। এর দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে মুরগি ও ডিমের উৎপাদন খরচের ওপর।

এ ছাড়া বিদ্যুতে লোডশেডিং হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এতে আগের তুলনায় খরচ দুই থেকে আড়াই টাকা বাড়তি যোগ হয়েছে। এর সঙ্গে ওষুধের দাম বেড়েছে। পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। সব কিছুর দাম বাড়ায় ব্যবসার পরিচালন খরচও বেড়েছে। এর ফলে এক বছর আগে একটি ডিম উৎপাদনে যেখানে খরচ হতো ৬ টাকা, এখন তার খরচ পড়ছে ৮ থেকে সাড়ে ৮ টাকা।

অন্যদিকে এক বছর আগে এক কেজি ওজনের একটি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। এখন সেই একই ওজনের ব্রয়লারের উৎপাদনে খরচ পড়ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা।

দাম বাড়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (বিএবি) সভাপতি ও নাহার এগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রকিবুর রহমান (টুটুল) জানান, দাম বৃদ্ধির প্রবণতা যেভাবেই ঘটুক, খামারপর্যায়ে দাম যৌক্তিকভাবেই বাড়ানো হয়েছে। দামের এই বৃদ্ধি না হলে দেশি খামারিরা এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়ে যেত।

পাইকারি ডিম ব্যবসায়ী সাত্তার মিয়া বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ডিম সংগ্রহ করে ঢাকায় আনা হয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গাড়ি ভাড়া বেড়েছে। সেতুর টোল ভাড়া বেড়েছে। সড়কে চাঁদাবাজি বেড়েছে। সব মিলিয়ে পরিবহন ব্যয় বাড়ায় ডিমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।’

চাহিদার তুলনায় আছে ঘাটতি

করোনা-পরবর্তী সময়ে মুরগি ও ডিমের দাম অনেক কমে গিয়েছিল। ফলে প্যারেন্ট মার্কেট হোল্ডাররা মুরগির বাচ্চা উৎপাদন প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক ডিমের খামারও বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া অতিমাত্রার গরম ও সার্বিক উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় কুলাতে না পারায় সারা দেশে এখন ছোট বেশির ভাগ খামার বন্ধ রয়েছে। এসবের প্রভাবে সারা দেশে চাহিদার তুলনায় মুরগি ও ডিমের সরবরাহ আগের চেয়ে ২০ শতাংশের বেশি কমে গেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ ‘হাউসহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেনডিচার সার্ভের’ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৬ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডিমের ভোগ ৭ দশমিক ২ গ্রাম থেকে ১৩ দশমিক ৫৮ গ্রাম বেড়েছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের উৎপাদনের তথ্য বলছে, দেশে প্রতিদিন মুরগি, হাঁস, কবুতর ও কোয়েলের প্রায় পৌনে পাঁচ কোটি ডিম উৎপাদন হয়। এর মধ্যে খামার পর্যায়ে ডিম উৎপাদন হয় প্রায় চার কোটি পিস।

পোল্ট্রি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা দাবি করছেন, বিভিন্ন খামার বন্ধ হয়ে পড়ায় এখন সেই উৎপাদন নেমে এসেছে তিন কোটিতে।

১০ টাকায় ডিম খাওয়ার দিন শেষ

ফিড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহসানুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন,লোকসান দিয়ে কেউ ব্যবসা করবে না। সব কিছুর দামই যেখানে বেড়েছে, সেখানে খামারিরা করোনা-পরবর্তী দীর্ঘদিন লোকসান করছিল। এখন পরিস্থিতির কারণে তারা দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। একটা ক্রাইসিস পিরিয়ডে মধ্যস্বত্বভোগীরাও হয়তো কিছুটা বাড়তি লাভের চেষ্টা করছে। তাই বলে কি লোকেরা কিনছে না? চাহিদা আছে বলেই তো কিনছে, আবার বাড়তি খরচের পাশাপাশি ঘাটতি থাকার কারণেই তো দাম বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘প্যারেন্ট হোল্ডাররা যখন ৫ টাকায় মুরগির বাচ্চা বিক্রি করেন, লোকসান দেন, তখন তো সরকার ২০ টাকা লাভ করে দিতে পারে না। যেটা বাড়ছে, সেটা বাড়তি চাহিদা এবং সরবরাহে ঘাটতি কারণেই। কিন্তু এটাকে নিয়ে খুব বেশি মাতামাতি হচ্ছে। সবারই মনে রাখা দরকার, ৮ টাকায় ডিম খাওয়ার দিন আর নেই। ৯০ টাকার ডলার এখন অফিশিয়ালি হয়েছে ১১৪-১১৫ টাকা। ডলারের এই বাড়তি দামের কারণে এ খাতে ফিড আমদানি খরচ সরাসরি ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ডিজেলের কারণে দেড় থেকে দুই টাকা খরচ বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে বাড়তি ডেলিভারি খরচ দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে পোল্ট্রি খাতটি একটি বিপজ্জনক অবস্থায় আছে।’

ডিম আমদানির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা

খুচরা এক হালি ডিমের দাম এখন ৫৫-৬০ টাকা। স্থানভেদে এখনও প্রতি ডজন ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ। যারা মাছ-মাংস ও কাঁচাবাজারের অসহনীয় দামে ভরসা করত এই ডিমের ওপর, তাদের কাছে এখন সেই ডিমও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবার ডিম আমদানির পথ উন্মুক্ত করে দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডিমের দাম এত বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। কিছু ব্যবসায়ী ডিমের বাজারকে অস্থির করে তুলেছেন। এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ভারত থেকে ডিম আমদানির বিষয়ে সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে।’

তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন খামারিরা। এ প্রসঙ্গে ফিড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহসানুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডিমের দাম বাড়ছে, সেটি ঠিক হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে মুরগির দাম অনেকটা কমে আসছে। কিন্তু খরচ অনেক বাড়ছে। সেটিও সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে। তাই বলে ডিম আমদানি? এটা কোনোভাবেই দেশীয় শিল্পের জন্য সুখকর হতে পারে না।’

ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি ফজলে রহিম খান শাহরিয়ার বলেন, ‘সরকার এখনও সেই সিদ্ধান্ত নেয়নি। শুধু পরিকল্পনায় আছে। আমার বিশ্বাস, বাস্তবে সেটির প্রতিফলন ঘটবে না, দেশীয় শিল্পের স্বার্থেই।’

আরও পড়ুন:
বিশ্বজুড়ে ডিমের দাম বাড়ল কেন
ফোন দিলে বিনা মূল্যে ডিম
মুরগির ডিম ফোটানোর ডিজিটাল মেশিন তৈরি করলেন রাশেদ
ডিমের খাবারে নাজিম মামার দিনে আয় ২৫ হাজার
‘শয়তানের ডিম’ খাওয়ার দিন আজ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Some unscrupulous traders have suddenly raised the prices of goods Amu

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হঠাৎ পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন: আমু

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হঠাৎ পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন: আমু নলছিটিতে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের শোকসভায় বক্তব্য দেন আমির হোসেন আমু। ছবি: নিউজবাংলা
‘সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হঠাৎ করেই জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেতে চাচ্ছেন। পণ্যের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চান।’

দেশকে অস্থিতিশীল করতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হঠাৎ পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন বলে দাবি করেছেন জোটের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঝালকাঠির নলছিটিতে বৃহস্পতিবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভায় তিনি এমন দাবি করেন।

সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমু বলেন, ‘সম্প্রতি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী হঠাৎ করেই জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেতে চাচ্ছেন। পণ্যের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চান।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের পরাজিত শক্তি পঁচাত্তরে নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। তদের মদদ দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট লাগিয়ে জিয়া সাড়ে ১১ হাজার মানবতাবিরোধীকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। তিনি ইনডেমেনিটি বিল করে খুনিদের রক্ষাও করেছিলেন।’

সকাল ১০টার দিকে নলছিটি সরকারি মার্চেন্টস মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তছলিম উদ্দিন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সরদার মোহাম্মদ শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক খান সাইফুল্লাহ পনির, উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান, পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়াহেদ কবির খান।

আরও পড়ুন:
১৫ আগস্টের সুবিধাভোগীরাই বঙ্গবন্ধুর খুনি: আমু
আ.লীগের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান আমুর
শেখ হাসিনা ক্ষমতায় বলেই বিচারহীনতা দূর হয়েছে: আমু

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Excess profit in dollars This time 6 banks MDK Shokaj

ডলারে ‘অতিরিক্ত মুনাফা’: এবার ৬ ব্যাংকের এমডিকে শোকজ

ডলারে ‘অতিরিক্ত মুনাফা’: এবার ৬ ব্যাংকের এমডিকে শোকজ প্রতীকী ছবি
ব্যাংকগুলোর এমডিদের বুধবার চিঠি দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম। ওই ছয় ব্যাংক হলো ডাচ-বাংলা, সাউথইস্ট, প্রাইম, সিটি, ব্র্যাক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।

ট্রেজারি-প্রধানদের অপসারণের নির্দেশনার পর এবার ডলার নিয়ে কারসাজির মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগে ছয়টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর এমডিদের বুধবার এ চিঠি দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম।

ব্যাংক ছয়টি হলো ডাচ-বাংলা, সাউথইস্ট, প্রাইম, সিটি, ব্র্যাক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক।

এর আগে এ ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি-প্রধানদের অপসারণের নির্দেশ দিয়ে প্রত্যেক ব্যাংকে চিঠি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

একই দিনে আরেকটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ডলার বিক্রির অতিরিক্ত মুনাফা নেয়া যাবে না ব্যাংকের আয় খাতে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিটি ব্যাংকে ইন্সপেকশন করা হবে। যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ডলারে অস্বাভাবিক মুনাফার তালিকায় আরও প্রায় এক ডজন ব্যাংক আছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এসব ব্যাংককে তদারকির আওতায় আনা হচ্ছে। এ জন্য সব ব্যাংকের কাছে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

তালিকায় রয়েছে ব্যাংক এশিয়া, ইসলামী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংকের নাম।

এসব ব্যাংক ২০২১ সালের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে ডলারে অস্বাভাবিক মুনাফা করেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন:
মেঘ-বৃষ্টির দিনে তেজ কমল ডলারের
শুধু সরকারি আমদানিতে ডলার জোগাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকের অন্য শাখায় ডলার কেনাবেচার সিদ্ধান্ত
এবার খোলাবাজারে ডলার ছুঁল ১২০ টাকা
দিনে ৪ কোটি ডলার বিক্রি, তবু বাগে আসছে না

মন্তব্য

p
উপরে