× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Soybean is available at 14 taka less
hear-news
player
print-icon

১৪ টাকা কমেই মিলছে সয়াবিন

১৪-টাকা-কমেই-মিলছে-সয়াবিন
বাজারে নির্ধারিত দামেই সয়াবিন তেল বিক্রি করতে দেখা গেছে। ছবি: নিউজবাংরা
কারওয়ান বাজারের আল্লাহর দান জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী ওমর ফারুক বলেন, ‘প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল আমরা ১৮৫ টাকায় বিক্রি করছি। এ ছাড়া ২ লিটার ৩৭০ টাকা, ৩ লিটার ৫৫৫ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতল ৯১০ টাকায় বিক্রি করছি।’

সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৪ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে। নির্ধারিত মূল্যেই তেল কিনতে পারছেন ক্রেতারা।

বিক্রেতাদের অনেকে বলছেন, আরও আগে থেকেই তারা নতুন নির্ধারণ করা দামে তেল বিক্রি করছেন।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা যায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকায় দেশেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম প্রতি লিটারে ১৪ টাকা কমানো হয়। লিটারে ৬ টাকা কমানো হয় পাম অয়েলের দামও।

বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে বৃহস্পতিবার থেকেই হ্রাসকৃত মূল্য কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনের নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম মোল্লা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন দাম অনুযায়ী এখন থেকে দেশে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ১৮৫ টাকায় এবং খোলা সয়াবিন বিক্রি হবে ১৬৬ টাকায়। একইভাবে পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হবে ৯১০ টাকায়। এ ছাড়া তিন লিটার সয়াবিন ৫৫৫ টাকা এবং ২ লিটার ৩৭০ টাকায় বিক্রি হবে। পাম অয়েলের প্রতি লিটার বিক্রি হবে ১৫২ টাকায়।

শুক্রবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন।

কারওয়ান বাজারের আল্লাহর দান জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী ওমর ফারুক বলেন, ‘প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল আমরা ১৮৫ টাকায় বিক্রি করছি। এ ছাড়া ২ লিটার ৩৭০ টাকা, ৩ লিটার ৫৫৫ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতল ৯১০ টাকায় বিক্রি করছি।’

তিনি বলেন, ‘শুধু গতকাল থেকে নয়, গত কয়েক দিন থেকেই আমরা লিটারপ্রতি ১৪ টাকা কমিয়ে কাস্টমারদের তেল দিচ্ছি।’

১৪ টাকা কমেই মিলছে সয়াবিন

শাহ মিরান স্টোরের মামুন বলেন, ‘অল্প কিছু তেল বিক্রি করি। তার পরেও প্রতি পাঁচ লিটারের বোতল ৯১০ টাকায় বিক্রির কথা বলা হলেও আমি বিক্রি করছি ৯০০ টাকায়।’

নতুন নির্ধারণ করা দামের চেয়েও কিছুটা কমে তেল বিক্রি করছেন বলে দাবি করেন হাজি স্টোরের কামাল গাজী। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা কয়েক দিন থেকেই কম দামে তেল বিক্রি করছি; বরং নির্ধারিত দামের চেয়ে আরও দুই-এক টাকা কমেই দিচ্ছি।’

নতুন নির্ধারিত দামের চেয়েও কয়েক টাকা কমে তেল বিক্রির দাবি করেন আলম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী নূর আলম। তিনি বলেন, ‘নতুন তেল না আনলেও যে তেল আছে, ওইটারই রেট কমিয়ে বিক্রি করছি।’

১৪ টাকা কমেই মিলছে সয়াবিন

ক্রেতা জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘৫ লিটার তেলে ৯১০ টাকা রাখল। দাম কমালেও আমি বলব, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় সেভাবে কমায়নি। তেলের দাম যে স্তরে উঠেছিল, সেখান থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ দাম কমে গেছে, কিন্তু আমাদের বাজারে কমানো হয়েছে ৭ শতাংশ। তাহলে এটা কি কমানো বলে?’

ফ্রেশ তেলের ডিলার মিলু স্টোরের বিপ্লব চন্দ্র পাল বলেন, ‘আমরা পাইকারিভাবে প্রতি পাঁচ লিটারের বোতল ৮৯০ টাকা, তিন লিটারের ৫৪৩ টাকা, দুই লিটারের ৩৬২ টাকা এবং এক লিটারের বোতল ১৮১ টাকায় বিক্রি করছি। আবার কখনও কখনও এর চেয়ে দুই-এক টাকা কমেই দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘এই তেল খুচরা বিক্রেতারা বিক্রি করবেন যথাক্রমে ৯১০, ৫৫৫, ৩৭০ ও ১৮৫ টাকায়।’

বিপ্লব বলেন, ‘মালের সরবরাহ রয়েছে। যেদিন থেকে কমেছে, সেদিনই মালের গাড়ি চলে এসেছে। আমরা কম দামেই মাল সরবরাহ করছি। কোনো সংকট নেই।’

সিটি গ্রুপের সান তেলের ডিলার বিসমিল্লাহ স্টোরের মঞ্জুর বলেন, ‘আমরা পাঁচ লিটারের বোতল ৮৮০ টাকা ও এক লিটারের বোতল ১৮০ টাকায় বিক্রি করছি।’

নতুন দামে তেলের সরবরাহ রয়েছে বলে জানান এই পাইকারি বিক্রেতা।

১৪ টাকা কমেই মিলছে সয়াবিন

এদিকে নতুন দাম কার্যকর হচ্ছে কি না তা যাচাইয়ে বাজারে অভিযান চালাবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন সংস্থাটির মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান।

তিনি জানান, ভোক্তা পর্যায়ে যাতে দ্রুত নতুন দামের সুফল মেলে, সে লক্ষ্যে অভিযান চালাবে অধিদপ্তর। এই অভিযানে কোম্পানিগুলো নতুন দামে তেল সরবরাহ করছে কি না এবং বিক্রেতারা সেটি রাখছে কি না, তা দেখা হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ পরীক্ষা করা হবে।

গত ২৬ জুন দেশে ভোজ্যতেলের দাম কমানো হয়। ওই সময় প্রতি লিটার সয়াবিনে ৬ টাকা কমানো হয়। সে অনুযায়ী বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিনের দাম নির্ধারণ করা হয় ১৯৯ টাকা। খোলা সয়াবিনের দাম ঠিক করা হয় ১৮০ টাকা। আর আগের দাম ১৫৮ টাকায় পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছিল।

এর আগে রোববার ভোজ্যতেলের দাম কমানোর সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ। তিনি বলেন, ‘দেশে ভোজ্যতেলের দাম আরেক দফা কমছে।’

আন্তর্জাতিক বাজার দরের প্রেক্ষাপটে দেশে দাম কমার এই হারের যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দামে অস্থিরতা না থাকলে এবার দাম কমানোর রেশিও আরও বাড়তে পারত। আগে এক ডলারে যে টাকা পাওয়া যেত, এখন তার চেয়ে বেশি পরিশোধ করতে হচ্ছে। এর প্রভাব তেলের দামেও পড়েছে। ফলে চাইলেও দাম আরও কমানো সম্ভব হয়নি।’

তপন কান্তি ঘোষ দাবি করেন, তেলের দাম কমা-বাড়া একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামীতে দেশে ভোজ্যতেলের দাম আরও কমানো হবে।

সয়াবিন আমদানি হয়ে থাকে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মতো দূরের দেশগুলো থেকে। ওইসব বাজার থেকে তেল আনতে ৪০ থেকে ৫০ দিন সময় লাগে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশে তার প্রভাব পড়তে দেরি হয়। আবার দেশে যখন কমে আসে তার সুফল পেতে না পেতেই দেখা যায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবার বেড়ে গেছে।

অপরদিকে পাম অয়েল আমদানি হয় ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে। পাম অয়েল দেশে আসতে সময় কম লাগলেও বিশ্ববাজারে এতদিন সয়াবিনের উচ্চ মূল্যের কারণে তেলটির চাহিদা বেড়ে গিয়েছিল। ইন্দোনেশিয়া রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের দামও কমে আসে, তবে সে তুলনায় দেশে দাম কমেছে কম হারেই।

আরও পড়ুন:
শ্রীমঙ্গলে ৬ হাজার লিটার সয়াবিন জব্দ, ৩ প্রতিষ্ঠান সিলগালা
জব্দ ২৫০০০ লিটার সয়াবিন বিক্রি খোলাবাজারে
সিলেটে আরও সাড়ে ৩ হাজার লিটার সয়াবিন জব্দ
পুরোনো বোতলের সয়াবিন নতুন দামে বিক্রি, জরিমানা
বাড়ছে সয়াবিন তেলের সরবরাহ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The explanation of the increase in oil prices is given by the Ministry of Energy

তেলের দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের

তেলের দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতীকী ছবি
ডিজেলের দাম বাড়ানোর পরও এ তেলে লিটারপ্রতি ৮ দশমিক ১৩ টাকা লোকসান গুনতে হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। জ্বালানি তেল যাতে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার না হয়ে যায়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

জ্বালানি তেলের আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ব্যাখ্যা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা জানিয়ে দেশে জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী এক লিটার ডিজেল ও কেরোসিন কিনতে হবে ১১৪ টাকায়।

অন্যদিকে অকটেনের দাম লিটারে বাড়ানো হয় ৪৬ টাকা। এখন প্রতি লিটার অকটেন কিনতে ১৩৫ টাকা ‍গুনতে হবে।

এর বাইরে লিটারপ্রতি ৪৪ টাকা বাড়ানো হয় পেট্রলের দাম। এখন থেকে জ্বালানিটির প্রতি লিটারের দাম ১৩০ টাকা।

তেলের দাম বাড়ানোর পরদিন শনিবার দুপুরে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, মূল্য বৃদ্ধি না করা হলে তিনটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা হারাবে সরকার।

ডিজেলের দাম বাড়ানোর পরও এ তেলে লিটারপ্রতি ৮ দশমিক ১৩ টাকা লোকসান গুনতে হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

জ্বালানি তেল যাতে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার না হয়ে যায়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সর্বশেষ গত বছরের ৩ নভেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কেবল ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য বৃদ্ধি করে পুনর্নির্ধারণ (ডিজেল ৮০ টাকা ও কেরোসিন ৮০ টাকা) করা হয়। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রবণতা সত্ত্বেও অকটেন ও পেট্রলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়নি।

মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরুর দিকে কোভিড-১৯-এর প্রকোপ কিছুটা কমায় বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর পরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য আরও বেড়ে যায়।

ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘বিপিসির ব্রেক ইভেন অর্থ আন্তর্জাতিক বাজারে যদি ডিজেল প্রতি ব্যারেল ৭৪ দশমিক শূন্য ৪ ডলার এবং অকটেন প্রতি ব্যারেল ৮৪ দশমিক ৮৪ ডলারে নেমে আসে, তবে ডিজেল ও অকটেন প্রতি লিটার যথাক্রমে ৮০ টাকা ও ৮৯ টাকায়, অর্থাৎ বিদ্যমান মূল্যে বিক্রয় করা সম্ভব হতো, যা এখন প্রায় অসম্ভব।

‘একইভাবে ক্রুড অয়েলের মূল্য এ বছরের জুনে ব্যারেলপ্রতি ১১৭ মার্কিন ডলার অতিক্রম করে, যা এখনও অব্যাহত আছে। জ্বালানি তেল আমদানিতে সর্বশেষ গত জুলাই মাসের গড় প্লাস রেট অনুযায়ী বিপিসির দৈনিক লোকসানের পরিমাণ ডিজেলে প্রায় ৭৪ কোটি ৯৪ লাখ ৯২ হাজার ৭০০ টাকা ও অকটেনে প্রায় ২ কোটি ৯২ লাখ ২৩ হাজার ২১৬ টাকা। মোট প্রায় ৭৭ কোটি ৮৭ লাখ ১৫ হাজার ৯১৬ টাকা। গত মে ও জুনে লোকসান ছিল শতাধিক কোটি টাকা।’

বিপিসির বিপুল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে জানিয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘এভাবে গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিপিসির প্রকৃত লোকসান/ভর্তুকি দাঁড়ায় ৮ হাজার ১৪ কোটি টাকার ওপরে। সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ে ডিজেলের মূল্য ১১৪ টাকা করা হলেও গত জুলাইয়ের গড় হিসাবে প্রতি লিটারে খরচ পড়বে ১২২ দশমিক ১৩ টাকা, অর্থাৎ প্রতি লিটারে তার পরও ৮ দশমিক ১৩ টাকা লোকসান বিপিসিকে বহন করতে হবে।

‘গত ১২ জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় ডিজেল লিটারপ্রতি ৯২ দশমিক ৭৬ রুপি বা সমতুল্য ১১৪ দশমিক শূন্য ৯ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে, যা বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩৪ দশমিক শূন্য ৯ টাকা বেশি এবং পেট্রল লিটারপ্রতি ১০৬ দশমিক শূন্য ৩ রুপি বা সমতুল্য ১৩০ দশমিক ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা বাংলাদেশ থেকে ৪৪ দশমিক ৪২ টাকা বেশি। এ পার্থক্যের কারণে বহু কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে আমদানীকৃত জ্বালানি পণ্য পাচার হওয়ার আশঙ্কা বিদ্যমান। তাই মূল্য সমন্বয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি পণ্যের মূল্যের পার্থক্যজনিত পাচার রোধ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।’

‘বিপিসির আর্থিক সক্ষমতা কমছে’

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিপিসির আর্থিক সক্ষমতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকে। জ্বালানি পণ্যের বিদ্যমান হারে তেল বিক্রয় ও অন্যান্য আয় খাতে গড়ে বিপিসির মাসিক জমা/আয় প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এলসি পেমেন্টসহ অন্যান্য খাতে বিপিসির ব্যয় বর্তমানে সর্বশেষ জুলাই মাসে গিয়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৩১২ দশমিক ৭৬ কোটি টাকা।’

এতে বলা হয়, ‘বিপিসির জ্বালানি তেলের অর্থায়নের জন্য দুই মাসের আমদানি মূল্যের সমান হিসেবে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন হিসেবে সংস্থান রাখা আবশ্যক। বর্তমানে চলতি মূলধন হ্রাস পাওয়ায় গত মার্চ থেকে অদ্যাবধি উন্নয়ন প্রকল্প ও বিবিধ খাত থেকে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করে ভর্তুকিসহ জ্বালানি তেলের মূল্য ও অন্যান্য বিল পরিশোধ করতে হয়েছে।

‘গত ৩১ জুলাই বিপিসির হিসাবে সামগ্রিকভাবে অর্থ জমা রয়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা, যা দিয়ে আগস্ট মাসের পর আমদানি ব্যয় অর্থায়ন করা সম্ভব হবে না। উল্লেখ্য, বিপিসির জন্য জাতীয় বাজেটে কোনো অর্থ সংস্থান রাখা হয়নি। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক পেমেন্ট অবিস্মিত রাখার মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে বিপিসির আর্থিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখা জরুরি।’

এতে আরও বলা হয়, ‘২০১৬ সালে সরকার যখন জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস করে পুনর্নির্ধারণ করে, তখন ডলার ও টাকার বিনিময় হার ছিল ৭৯ টাকা। গত বছরের ৩ নভেম্বর সরকার যখন জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করে, তখন ডলার ও টাকার বিনিময় হার ছিল ৮৫ দশমিক ৮৫ টাকা, যা বর্তমানে ৯৩ দশমিক ৫০ টাকায় উন্নীত হয়েছে।

‘অধিকন্তু বর্তমানে ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকসমূহ বিসি রেটে বিপিসির এলসি খুলতে অনীহা প্রকাশ করায় বাংলাদেশ ব্যাংক মার্কেট রেটে ডলার সংগ্রহের নির্দেশনা প্রদান করে। ফলে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণেও জ্বালানি তেল আমদানিতে বিপিসির ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।’

সরকারের ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘বর্তমানে বিপিসিতে তার পরিচালন সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিজস্ব তহবিল হতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প চলমান। এগুলো হলো সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং উইথ ডবল পাইপলাইন, ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন, জেট এ-১ পাইপলাইন এবং ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন।

‘তা ছাড়া ইআরএল ইউনিট-২ প্রকল্পের সমুদয় অর্থ (প্রায় ১৯ হাজার ৪০৪ দশমিক ৭২ কোটি টাকা) বিপিসির নিজস্ব তহবিল হতে সংস্থানের জন্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ডিপিপি অনুমোদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা না হলে বর্ণিত প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে বিপিসি আর্থিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।’

আরও পড়ুন:
ভাড়া বাড়লে সড়কে বাস নামাবেন বগুড়ার মালিকরা
সিলেটে কমেছে বাস চলাচল, নেয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া
অগ্রিম টিকিটে বাড়তি ভাড়া, বন্ধ নতুন টিকিট
‘রাতে আটটি পাম্প ঘুরেও তেল নিতে পারিনি’ 
বাস ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে বৈঠক বিকেলে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The landlords knew that the price of oil would increase

তেলের দাম বাড়বে, আগেই জানতেন বাসমালিকরা

তেলের দাম বাড়বে, আগেই জানতেন বাসমালিকরা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরের দিন শনিবার কম বাস চলাচল করতে দেখা যায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। ছবি: নিউজবাংলা
যাত্রীদের ভোগান্তি আড়ালে আগের ভাড়া নিতে বাসের কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন মালিকরা। একই সঙ্গে বাসের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে চালকদের অন্তত শনিবার দিনভর গাড়ি চালাতে বলেছেন তারা। শনিবার সকাল থেকে রাজধানী ও দূরপাল্লার বাস চলাচলের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে এমন তথ্য পেয়েছে নিউজবাংলা।

সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা হঠাৎ দিলেও বিষয়টি আগেই জানতেন বাসমালিকরা। এ কারণে কৌশলী ভূমিকা নিয়েছেন তারা।

যাত্রীদের ভোগান্তি আড়ালে আগের ভাড়া নিতে বাসের কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন মালিকরা। একই সঙ্গে বাসের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে চালকদের অন্তত শনিবার দিনভর গাড়ি চালাতে বলেছেন তারা।

শনিবার সকাল থেকে রাজধানী ও দূরপাল্লার বাস চলাচলের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে এমন তথ্য পেয়েছে নিউজবাংলা।

এদিকে ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির কথা বলে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করতে দেখা যায় বাসের চালক ও সহকারীদের। ভাড়া বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা শনিবার বিকেলের মধ্যে না এলে পরিবহন ধর্মঘটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন চালকরা।

কৌশলী বাসমালিকরা

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা জানিয়ে দেশে জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের শুক্রবার সন্ধ্যার প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী এক লিটার ডিজেল ও কেরোসিন কিনতে হবে ১১৪ টাকায়। অন্যদিকে অকটেনের দাম লিটারে বাড়ানো হয় ৪৬ টাকা। এখন প্রতি লিটার অকটেন কিনতে ১৩৫ টাকা ‍গুনতে হবে।

এর বাইরে লিটারপ্রতি ৪৪ টাকা বাড়ানো হয় পেট্রলের দাম। এখন থেকে জ্বালানিটির প্রতি লিটার ১৩০ টাকা।

ডিজেলের আকস্মিক এ মূল্যবৃদ্ধির পর শনিবার সকাল থেকে রাজধানী ও দূরপাল্লার অনেক বাসের চলাচল স্বাভাবিক ছিল। এমনকি তারা আগের ভাড়াতেই গাড়ি চালানোর দাবি করেন, তবে এর বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে।

শুক্রবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর থেকেই অনেক মালিক তাদের বাস চালানো বন্ধ রাখেন।

রাজধানীর গুলিস্তান-মহাখালীসহ একাধিক বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। রাজধানীর গুলিস্তানে গিয়ে দেখা যায় প্রায় সব রুটের বাস ছাড়ছে এখান থেকে।

গাজীপুরগামী একটি পরিবহনের চালক মিল্টন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মালিক বলেছে আজকে কষ্ট করে হলেও আগের ভাড়াতেই বাস চালাতে। বিকেলের মধ্যেই ভাড়া বাড়ানোর একটি সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে। এটা নিয়ে আমাদের দুঃশ্চিন্তা করতে মানা করেছে মালিক।’

ঢাকার দোহারগামী একটি বাসের চালক মোহাম্মদ আলী জানান, মালিকের নির্দেশে তিনিও আগের ভাড়াই নিচ্ছেন।

তেলে বাড়তি খরচ করে বাস চালানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই তো দুপুর পর্যন্তই চালাব। তারপর অবস্থা বুঝে বন্ধ করে দেব। ভাড়া না বাড়লে গাড়ি বন্ধ থাকবে।’

আগের ভাড়াতে বাস চলছে কি না, তা যাচাই করতে কয়েকটি বাসে চড়ে রাজধানীর একাধিক গন্তব্যে যান এ প্রতিবেদক। প্রতিটি বাসের সহকারীরা যাত্রীদের কাছ থেকে আগের ভাড়াই আদায় করেন।

আগের ভাড়ায় বাস চালাচ্ছেন কেন জানতে চাইলে গুলিস্তান থেকে গাজীপুরগামী একটি পরিবহনের সহকারী বলেন, ‘আমরা তো বাস নামাইতাম না। আমাগো মালিক আওয়ামী লীগের নেতা। সরকারের কথা তো মানতে হইব। আমাগোরে কইল তোরা বাস চালা।

‘ভাড়া বাড়ানোর ব্যবস্থা হইতাছে। বাড়তি ভাড়া নিয়া গ্যাঞ্জাম বাধাইস না। পাবলিক ক্ষেইপা গেলে চাপ আইব। চুপচাপ থাক; সব হইব।’

যাত্রাকালে কথাচ্ছলে মহাখালী থেকে মিরপুরগামী একটি বাসচালকের কাছ থেকেও একই ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মিরাজ নামের ওই চালক বলেন, ‘মালিক বলল, কোনো ঝামেলার দরকার নাই। ভাড়া অটো বাড়ব। কোনো আওয়াজ দরকার নাই।’

চালকের তথ্য অনুযায়ী, এ পরিবহনের মালিকও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত।

মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেল স্বনামধন্য পরিবহনগুলোর টিকেট কাউন্টারগুলো খোলা, তবে বন্ধ রয়েছে অনেকগুলো পরিবহনের কাউন্টার।

খোলা কাউন্টারগুলোতে আগের ভাড়াতেই যাত্রীদের টিকেট দেয়া হচ্ছে।

তেলের দাম বাড়বে, আগেই জানতেন বাসমালিকরা

উত্তরা পরিবহনের টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বরত মো. আলিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকেই আমাদের বাস চলছে, তবে আগের তুলনায় অর্ধেক। সব মালিকরা বাস চালাচ্ছেন না। আজকে সকাল থেকে ৬টা বাস ছেড়ে গেছে।

‘অন্য দিন এই সময়ে ১২ থেকে ১৫টি বাস ছাড়ে। একটু পর হয়তো আর আমাদের বাস চলবে না।’

কিশোরগঞ্জগামী অনন্যা পরিবহনের কাউন্টারের দায়িত্বরত মো. শামীম বলেন, ‘আমাদের বাস চলেছে। মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে সমিতির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। বিকেলের মধ্যে সিদ্ধান্ত না পেলে বাস বন্ধ করার প্রস্তুতি আছে আমাদের।’

কাউন্টারগুলো থেকে আগের ভাড়ায় যাত্রী তোলা হলেও কিছু কিছু বাসের চালক-সহকারীদের মাঝ রাস্তা থেকে বাড়তি ভাড়ায় যাত্রী তুলতেও দেখা যায়।

মহাখালী টার্মিনালের বাইরে ময়মনসিংহগামী স্বাধীন পরিবহনের একটি বাসের সহকারীর সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ান সুমন নামের এক যুবক। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি মুক্তাগাছা যাব। অন্য সময় ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় যাই। আজকে ওরা ৩৫০ টাকা চাইছে ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে। সরকার তো এখনও বাসের ভাড়া বাড়ায়নি। তাহলে তারা কেন বাড়তি ভাড়া আদায় করছে?’

তেলের দাম বাড়বে, আগেই জানতেন বাসমালিকরা

মালিক সমিতির মহাসচিবের ভাষ্য

বাস চলাচল, ভাড়া বৃদ্ধিসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সব মালিককে বাস চালাতে আমরা নির্দেশ দিয়েছি। একই সঙ্গে বাড়তি ভাড়া না নিতেও বলা হয়েছে। অধিকাংশ বাসমালিকই আমাদের নির্দেশনা মানছেন।

‘কেউ কেউ আছে, তারা তাদের বাস বন্ধ রেখেছেন। আমরা ভাড়া সমন্বয়ের জন্য বিআরটিএকে চিঠি দিয়েছি। আজকে বিকেল ৫টায় বিআরটিএ কার্যালয়ে একটি বৈঠক হবে। আমরা যাত্রী সাধারণের কথা মাথায় রেখে বাস চালিয়ে যাব।’

নির্দেশনা অমান্য করে বাড়তি ভাড়া নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খাতে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। আর অস্থির সময়ে সবাইকে নিয়মের মধ্যে রাখা সম্ভব হয় না।

‘এমন সময়ে অনেকেই সুযোগ নিতে চায়। তবুও আমরা খেয়াল রাখব ভাড়া সমন্বয়ের আগে কেউ যেন বাড়তি ভাড়া আদায় করতে না পারে।’

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার খবর আগে থেকে জানতেন কি না, সে প্রশ্নের জবাবে এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা জানতাম। মাসখানেক আগে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একটা মিটিং করেছিলাম আমরা। তখন এ বিষয়টা নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল।’

আরও পড়ুন:
বাস ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে বৈঠক বিকেলে
মাগুরায় ‘মালিক পক্ষের নির্দেশে’ বাস ভাড়া বেশি
রাজশাহীতে বাস সংকট, দুর্ভোগে যাত্রীরা
চট্টগ্রামে বন্ধ ডিজেলচালিত বাস, চলছে গ্যাসেরগুলো
রাজধানীতে বাস পাচ্ছেন না যাত্রীরা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
I could not get oil even after visiting eight pumps at night

‘রাতে আটটি পাম্প ঘুরেও তেল নিতে পারিনি’ 

‘রাতে আটটি পাম্প ঘুরেও তেল নিতে পারিনি’  রাজধানীর শাহবাগের মেঘনা পেট্রল পাম্প থেকে জ্বালানি তেল নিচ্ছেন বাইক চালকরা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
সগির হোসেন লিয়ন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম এত বেশি বাড়ানো হয়েছে যে, এতে মানুষের জন্য অত্যন্ত খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হবে। তেলের দাম এবার যত বাড়ানো হয়েছে, আমার মনে হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে এত টাকা একবারে বাড়েনি।’

‘গতকাল (শুক্রবার) রাতে আটটি পাম্প ঘুরেও তেল নিতে পারিনি। অবশেষে আজকে (শনিবার) সকালে বাড়তি দামে তেল নিতে পেরেছি।’

রাজধানীর রমনা পেট্রল পাম্পে তেল নিতে এসে কথাগুলো বলছিলেন সগির হোসেন লিয়ন নামের এক ব্যক্তি।

দেশের ইতিহাসে একসঙ্গে এত টাকা কখনও বাড়েনি বলে দাবি করেন ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য তেল নিতে আসা লিয়ন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম এত বেশি বাড়ানো হয়েছে যে, এতে মানুষের জন্য অত্যন্ত খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হবে। তেলের দাম এবার যত বাড়ানো হয়েছে, আমার মনে হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে এত টাকা একবারে বাড়েনি।

‘গতকাল তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সবাই পাম্পগুলো বন্ধ রাখে। গতকাল আটটি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। অবশেষে আজকে বেশি দামে তেল নিলাম। এ ধরনের অরাজকতা জনজীবনের ওপর বিরাট প্রভাব ফেলবে।’

একই পাম্পে তেল নিতে আসা পাঠাও চালক মেহেদী হাসান বলেন, ‘এভাবে হঠাৎ করে তেলের দাম এত টাকা বাড়ানো ঠিক হয়নি। বাড়াবে ঠিক আছে। সেটা ধীরে ধীরে বাড়াতে পারত।

‘লিটারপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়াতে পারত, কিন্তু একসঙ্গে এত টাকা বাড়াল। এটা কি মেনে নেয়ার মতো?’

অকটেনে লিটারপ্রতি ৪৬ টাকা বাড়ানোর বিষয়টিকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে মেহেদী বলেন, ‘সবকিছুরই পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে। তেলের দাম বাড়ানোর ফলে ভাড়াও বাড়বে।’

আরেক বাইক চালক সোহেল বলেন, ‘দাম যতই বাড়াক, আমাদের কোনো উপায় নেই। যাতায়াত করতে হবে। আর এ জন্য বাড়তি টাকায় হলেও তেল কিনতে হবে। সরকার তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০০ করুক বা ২ হাজার টাকা করুক, আমাদেরকে তো সেই দামেই কিনতে হবে। এ ছাড়াও তো উপায় নেই।

‘তেলের নাম বাড়ল মানে সবকিছুর দামই আরও বাড়বে। তেলের সঙ্গে সবকিছুর সম্পর্ক। মানুষের আয় তেমন বাড়েনি, কিন্তু জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। যাদের আয় কম, তাদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ হবে।’

তেলের দাম বাড়ার কথা জানতেন না পাঠাও চালক ইমরান। পাম্পে এসে তিনি জানতে পারেন বিষয়টি।

ইমরান বলেন, ‘আজকে পাম্পে তেল নিতে এসে দেখি দাম বেড়েছে। এখন কী করার। বাড়তি দামেই কিনতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাইকের ট্যাংকি ফুল করতে যেখানে আগে ৮০০ টাকা লাগত, এখন সেখানে ১ হাজার ২৩০ টাকা লাগল।’

রমনা পেট্রল পাম্পের ম্যানেজার ওসমান গণি বলেন, ‘টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে মেশিনের গিজার ঠিক করতে দেরি হওয়ায় আজকে ১০টা থেকে আমরা ওপেন করেছি। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল রাত ১২টা থেকে বাড়তি মূল্য কার্যকর হয়েছে। আমরা আজকে শুরু করেছি। হঠাৎ করে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষ একটু আতঙ্কিত হয়েছে, তবে অন্য দিনের তুলনায় আজকে তেল আরও বেশি করে মানুষ কিনছে।’

পাম্পটির কর্মচারী আশরাফুল বলেন, ‘দাম বাড়লেও আজকে সবাই আরও বেশি বেশি করে তেল নিচ্ছেন। অনেকেই বাইকের ট্যাংকি ভরে নিচ্ছেন। সামনে যদি আরও বাড়ে বা তেল যদি না পাওয়া যায়! মানুষ এক ধরনের আতঙ্কে আছে। সবাই দেখি বেশি করে তেল কিনছেন।’

প্রেক্ষাপট

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা জানিয়ে দেশে জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের শুক্রবার সন্ধ্যার প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী এক লিটার ডিজেল ও কেরোসিন কিনতে হবে ১১৪ টাকায়।

অন্যদিকে অকটেনের দাম লিটারে বাড়ানো হয় ৪৬ টাকা। এখন প্রতি লিটার অকটেন কিনতে ১৩৫ টাকা ‍গুনতে হবে।

এর বাইরে লিটারপ্রতি ৪৪ টাকা বাড়ানো হয় পেট্রলের দাম। এখন থেকে জ্বালানিটির প্রতি লিটার ১৩০ টাকা।

শতকরা হিসাবে ডিজেলের দাম বাড়ানো হয় ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। আর অকটেন ও পেট্রলের দাম বৃদ্ধি করা হয় ৫১ শতাংশ।

জ্বালানি তেলের বর্ধিত এ দাম কার্যকর হয় শুক্রবার মধ্যরাত থেকে। এর আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালানি তেল নিতে পেট্রল পাম্পে ভিড় জমান গাড়িচালকরা, তবে অনেক জায়গায় বন্ধ করে দেয়া হয় পেট্রল পাম্প।

আরও পড়ুন:
ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে বাস বন্ধ হতে পারে খুলনায়
তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাবিতে মিছিল, ‘ছাত্রলীগের বাধা’
‘আইএমএফের ঋণ পেতে’ বাড়ানো হলো তেলের দাম
তেলের দাম বাড়ার খবরে পেট্রল পাম্পে অস্বাভাবিক চিত্র
এক লাফে ডিজেলের দাম বাড়ল লিটারে ৩৪ টাকা, অকটেন ৪৬

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Meeting on bus fare increase in the afternoon

বাস ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে বৈঠক বিকেলে

বাস ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে বৈঠক বিকেলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাসের ভাড়া সমন্বয়ের জন্য বসছে বিআরটিএ ও পরিবহন মালিকরা। ফাইল ছবি
বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে গণপরিবহনে ভাড়া সমন্বয়ের সভা হবে। পরিবহন নেতা ও সংশ্লিষ্টরা বৈঠকে অংশ নেবেন।’

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসের ভাড়া সমন্বয়ের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে বৈঠকে বসছেন পরিবহন মালিকরা।

বিআরটিএ কার্যালয়ে শনিবার বিকেল ৫টায় এ বৈঠক শুরু হবে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার।

তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে গণপরিবহনে ভাড়া সমন্বয়ের সভা হবে। পরিবহন নেতা ও সংশ্লিষ্টরা বৈঠকে অংশ নেবেন।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘বিকাল ৫টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

‘এর আগে আমরা ভাড়া সমন্বয়ের জন্য চিঠি দিয়েছিলাম। সমন্বয় কমিটি ভাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’

বৈঠকে বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবহন মালিকরা। এ নিয়ে বিকাশ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহরাব হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের অবস্থা করোনার সময় থেকেই খারাপ। এখন তেলের দাম বাড়ছে। বাস ভাড়াতো বাড়ে নাই।

‘আমরা আজকে লস দিয়েই গাড়ি চালাচ্ছি। অনেকে বন্ধ রাখার কথা বলেছে। বন্ধ রেখেছেও। আমাদের গাড়িগুলো আজকে চলছে। কিন্তু কয়দিন এভাবে লস দিয়ে চালাতে পারব জানি না।’

তেলের দাম বাড়ানোর সঙ্গে সমন্বয় করে বাস ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘আমাদের যে হারে খরচ বাড়ছে, সে হারে ভাড়া বাড়েনি। বাড়তি খরচে গাড়ি চালিয়ে আবার আমাদের নিতে হচ্ছে হাফ ভাড়া।

‘সবকিছু আমাদের ওপর চাপিয়ে দিলে তো ব্যবসা করতে পারব না। লাভ তো দূরের কথা; খরচই উঠবে না।’

প্রেক্ষাপট

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা জানিয়ে দেশে জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের শুক্রবার সন্ধ্যার প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী এক লিটার ডিজেল ও কেরোসিন কিনতে হবে ১১৪ টাকায়।

অন্যদিকে অকটেনের দাম লিটারে বাড়ানো হয় ৪৬ টাকা। এখন প্রতি লিটার অকটেন কিনতে ১৩৫ টাকা ‍গুনতে হবে।

এর বাইরে লিটারপ্রতি ৪৪ টাকা বাড়ানো হয় পেট্রলের দাম। এখন থেকে জ্বালানিটির প্রতি লিটার ১৩০ টাকা।

শতকরা হিসাবে ডিজেলের দাম বাড়ানো হয় ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। আর অকটেন ও পেট্রলের দাম বৃদ্ধি করা হয় ৫১ শতাংশ।

জ্বালানি তেলের বর্ধিত এ দাম কার্যকর হয় শুক্রবার মধ্যরাত থেকে। এর আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালানি তেল নিতে পেট্রল পাম্পে ভিড় জমান গাড়িচালকরা, তবে অনেক জায়গায় বন্ধ করে দেয়া হয় পেট্রল পাম্প।

আরও পড়ুন:
তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাবিতে মিছিল, ‘ছাত্রলীগের বাধা’
‘আইএমএফের ঋণ পেতে’ বাড়ানো হলো তেলের দাম
তেলের দাম বাড়ার খবরে পেট্রল পাম্পে অস্বাভাবিক চিত্র
এক লাফে ডিজেলের দাম বাড়ল লিটারে ৩৪ টাকা, অকটেন ৪৬
জ্বালানি তেল ৯০ ডলারে নেমেছে, স্বস্তির ইঙ্গিত

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Turkey will buy Russian gas in rubles

রুবলে রাশিয়ার গ্যাস কিনবে তুরস্ক

রুবলে রাশিয়ার গ্যাস কিনবে তুরস্ক তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: এএফপি
ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রথমবারের মতো রাশিয়া সফর করছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। দুই নেতার বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একমত হয়েছেন উভয় নেতা।  

পশ্চিমা বাধা উপেক্ষা করে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান চালানোয় একের পর এক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া মস্কো জ্বালানিকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। বন্ধু নয়, এমন দেশকে রাশিয়ার জ্বালানি কিনতে হলে দাম পরিশোধ করতে হবে রুবলে, এমন শর্তজুড়ে দেয় ক্রেমলিন।

ওয়েল প্রাইসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ৪ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর রাশিয়ার গ্যাস তুরস্কের রুবলে কেনার বিষয়টি জানিয়েছেন রাশিয়ার সহকারী প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক।

ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রথমবারের মতো রাশিয়া সফর করছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। দুই নেতার বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একমত হয়েছেন উভয় নেতা।

তুরস্ক তার চাহিদার প্রায় অর্ধেক গ্যাস রাশিয়া থেকে আমদানি করে।

সম্প্রতি ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির ক্ষেত্রে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে মধ্যস্ততার ভূমিকা পালন করে তুরস্ক। এর মধ্যে ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর থেকে শস্যবাহী জাহাজ বন্দর ছেড়ে গেছে।

এর পাশাপাশি দুই নেতা সিরিয়া ও কুর্দিসংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনাও করেছে।

মার্চের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রুবলে গ্যাস বিক্রির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার সম্পদ জব্দ করার ফলে ওই দেশগুলোর মুদ্রার ওপর মস্কোর আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই রাশিয়া লেনদেনের ক্ষেত্রে ওই সব দেশের মুদ্রা নিষিদ্ধের পরিকল্পনা করছে।

পুতিন বলেন, ‘আমি অল্প সময়ে লেনদেনে পরিবর্তন আনতে কিছু ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মস্কোর বন্ধু নয় এমন দেশগুলোতে আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস রুবলের বিনিময়ে সরবরাহ করা হবে। আমাদের পণ্য ইইউ কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে ডলার বা ইউরোতে লেনদেনের কোনো মানে হয় না।’

তবে মস্কোর বন্ধু রাষ্ট্রগুলোও রুবলে আগ্রহ দেখিয়েছে আগেই। বেলারুশ জানিয়েছে, এরই মধ্যে রুবলে রাশিয়ার গ্যাস কেনা শুরু করেছে দেশটি।

আরও পড়ুন:
তুর্কিয়ের ড্রোন প্রকল্পে থাকতে চায় রাশিয়া
ইউরোপে রুশ গ্যাস পাওয়া নিয়ে নতুন শঙ্কা
ইউক্রেনীয় জেনারেলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রাশিয়ার
বৈশ্বিক খাদ্যসংকটের দায় পশ্চিমাদের: রাশিয়া
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে পিঠটান হাঙ্গেরির

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Fuel oil price increased diesel kerosene 114 petrol 130

এক লাফে ডিজেলের দাম বাড়ল লিটারে ৩৪ টাকা, অকটেন ৪৬

এক লাফে ডিজেলের দাম বাড়ল লিটারে ৩৪ টাকা, অকটেন ৪৬ জ্বালানির দাম বাড়ার খবরে রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেল নিতে গাড়ির সারি। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে ডিপোর ৪০ কিলোমিটারের ভিতর ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য হবে ডিজেল ও কেরোসিন ১১৪  টাকা লিটার, অকটেন ১৩৫  টাকা এবং পেট্রোল ১৩০ টাকা লিটার।

দেশে জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানো হয়েছে। এক লাফে ডিজেল ও কেরোসিনে বাড়ানো হয়েছে লিটারে ৩৪ টাকা। নতুন করে ডিজেল ও কেরোসিন এখন ভোক্তাকে কিনতে হবে ১১৪ টাকা করে।

অন্য দিকে অকটেনে প্রতি লিটারে বাড়ানো হয়েছে ৪৬ টাকা। এখন প্রতি লিটার অকটেন ১৩৫ এবং পেট্রোল ৪৪ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৩০ টাকা লিটার। এই হিসাবে ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ আর অকটেন-পেট্রোলে বেড়েছে ৫১ শতাংশ।

বৈশ্বিক বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য বেড়ে যাওয়া এমন সিদ্ধান্তের কথা জানায় সরকার। জ্বালানি তেলের নতুন এই দাম কার্যকর হবে শুক্রবার রাতেই।

শুক্রবার সন্ধ্যায় এক প্রজ্ঞাপন দিয়ে নতুন দাম কার্যকরের কথা জানায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিলের পর গত বছরের ৩ নভেম্বর দেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে সরকার। সে সময় ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানো হয় লিটারে ১৫ টাকা করে। তখন দাম বেড়ে হয় ৮০ টাকা লিটার।

এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে ডিপোর ৪০ কিলোমিটারের ভিতর ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য হবে ডিজেল ও কেরোসিন ১১৪ টাকা লিটার, অকটেন ১৩৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৩০ টাকা লিটার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় আমজনতার স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। যতদিন সম্ভব ছিল ততদিন সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির চিন্তা করেনি। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকটা নিরুপায় হয়েই কিছুটা এডজাস্টমেন্টে যেতে হচ্ছে।

‘২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য কমিয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সে অনুযায়ী জ্বালানি তেলের মূল্য পুনর্বিবেচনা করা হবে।’

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতির কারণে পাশের দেশ ভারতে নিয়মিত তেলের মূল্য সমন্বয় করে। গত ২২ মে কলকাতায় ডিজেলের মূল্য ছিল লিটার ৯২ দশমিক ৭৬ রুপি এবং পেট্রোল লিটার ১০৬ দশমিক ০৩ রুপি। যা এখনও কার্যকর।

সে হিসাবে বাংলাদেশি টাকায় দেশটিতে এসব জ্বালানির দাম যথাক্রমে ১১৪ দশমিক ০৯ টাকা এবং ১৩০ দশমিক ৪২ টাকা।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন গত ছয় মাসে (ফেব্রুয়ারি ২২ থেকে জুলাই ২০২২ পর্যন্ত) জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে ৮ হাজার ১৪ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। বর্তমানে, আন্তর্জাতিক তেলের বাজার পরিস্থিতির কারণে বিপিসির আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখাতে যৌক্তিক মূল্য সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।’

আরও পড়ুন:
বিশ্ববাজারে ৪ মাসে সবচেয়ে কম জ্বালানি তেলের দাম
তেল, গ্যাসের দাম বাড়াব না: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা
বিশ্ববাজারে কমছে জ্বালানি তেলের দাম
জ্বালানি তেলের দাম আবার বাড়ানোর চিন্তা
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ফের বাড়ছে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Realme C series has gained popularity

জনপ্রিয়তা পেয়েছে রিয়েলমির ‘সি’ সিরিজ

জনপ্রিয়তা পেয়েছে রিয়েলমির ‘সি’ সিরিজ
দুর্দান্ত এই স্মার্টফোনটিতে রয়েছে পাঁচ হাজার এমএএইচ সুবিশাল ব্যাটারি, ১৮ ওয়াটের কুইক চার্জ এবং সুপার পাওয়ার সেভিং মোড। ৫০ মেগাপিক্সেলের এআই ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের (এফ/১.৮) প্রাইমারি ক্যামেরা, ২ মেগাপিক্সেলের (এফ/২.৪) বিঅ্যান্ডডব্লিউ (সাদা-কালো) লেন্স এবং ২ মেগাপিক্সেলের (এফ/২.৪) ম্যাক্রো লেন্স। এর বাজারমূল্য ১৩ হাজার ৯৯০ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য)।

তরুণদের পছন্দের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমির সি সিরিজের ফোনগুলোর মধ্যে অন্যতম রিয়েলমি ‘সি টু ফাইভ ওয়াই’। স্মার্টফোনটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

এন্ট্রি-লেভেলে দুর্দান্ত সব ফিচারের সমন্বয়ের কারণে রিয়েলমির ‘সি’ সিরিজের ফোনগুলো তরুণের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তরুণরা সাধারণত তাদের স্মার্টফোনে চমকপ্রদ সব ফিচারসহ এক ফোনেই সব সুবিধা চান। তাদের এ চাহিদা পূরণ করেছে ‘সি’ সিরিজ।

রিয়েলমি ‘সি’ সিরিজে বেশ কিছু স্মার্টফোন রয়েছে, যেখানে দুর্দান্ত সব ফিচারের সঙ্গে সাশ্রয়ী মূল্যের সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ‘সি থ্রি ওয়ান’, ‘সি থ্রি ফাইভ‘ এবং ‘সি টু ফাইভ ওয়াই’।

এর মধ্যে ‘সি টু ফাইভ ওয়াই’ স্মার্টফোনটির দুর্দান্ত সব ফিচারের কারণে ব্যবহারকারীদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

দুর্দান্ত এই স্মার্টফোনটিতে রয়েছে পাঁচ হাজার এমএএইচ সুবিশাল ব্যাটারি, ১৮ ওয়াটের কুইক চার্জ এবং সুপার পাওয়ার সেভিং মোড।

৫০ মেগাপিক্সেলের এআই ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের (এফ/১.৮) প্রাইমারি ক্যামেরা, ২ মেগাপিক্সেলের (এফ/২.৪) বিঅ্যান্ডডব্লিউ (সাদা-কালো) লেন্স এবং ২ মেগাপিক্সেলের (এফ/২.৪) ম্যাক্রো লেন্স। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের সুন্দর মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে পারবেন।

ব্যবহারকারীরা যেন স্মার্টফোন ব্যবহারের নিরবচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা পান, সে জন্য রিয়েলমি ‘সি টু ফাইভ ওয়াই’ ফোনটিতে রয়েছে ১২ এনএম-এর শক্তিশালী অক্টাকোর প্রসেসর।

গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য নিশ্চিন্তে স্মার্টফোনে সংরক্ষিত রাখতে ফোনটিতে রয়েছে ৬৪ জিবি রম, সঙ্গে থাকছে ৪ জিবি র‌্যাম।

স্মার্টফোনটির রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা; এই স্মার্টফোনের দামের পরিসরে অন্য স্মার্টফোনগুলোর চেয়ে নিঃসন্দেহে সেরা।

ব্যবহারকারীদের দেখার অভিজ্ঞতাকে আরও বিস্তৃত করতে ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৫ ইঞ্চির বিশাল ডিসপ্লে, যার স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও ৮৮.৭ শতাংশ। এ ছাড়া ডিভাইসটির নান্দনিক ডিজাইন এর ব্যবহারকারীকে অন্যদের থেকে আলাদা করবে।

এসব ফিচারের কারণে ফোনটি এন্ট্রি-লেভেলের সেগমেন্টের স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সেরা হিসেবে দেশব্যাপী ব্যবহারকারীদের মন জয় করেছে। এর বাজারমূল্য ১৩ হাজার ৯৯০ টাকা (ভ্যাট প্রযোজ্য)। বিস্তারিত জানতে ভিজিট: https://www.realme.com/bd/realme-c25-y

আরও পড়ুন:
দেশে পাওয়া যাচ্ছে রিয়েলমির ফ্ল্যাগশিপ ৯ প্রো ফাইভজি
রিয়েলমির ৩ নতুন ডিভাইস, দারাজে ফ্ল্যাশ সেলে ছাড়
দারাজে রিয়েলমির স্টাইলিশ নারজো ৫০এ প্রাইম
রিয়েলমি নিয়ে এলো জিটি নিও ৩ নারুতো এডিশন

মন্তব্য

p
উপরে