× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Tannery owners will buy leather from Thursday
hear-news
player
print-icon

বৃহস্পতিবার থেকে চামড়া কিনবেন ট্যানারি মালিকরা

বৃহস্পতিবার-থেকে-চামড়া-কিনবেন-ট্যানারি-মালিকরা
লবণযুক্ত চামড়া কেনার ঘোষণা দেন ট্যানারি মালিকরা। ছবি: নিউজবাংলা
বিভিন্ন ট্যানারি মালিক যার যার মত করে সাড়ে তিন লাখ পিস কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছেন। এখন লবণযুক্ত চামড়া কেনার মধ্য দিয়ে এ বছর ট্যানারি মালিকরা ৯৫ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া খাসির চামড়া সংগ্রহ করবেন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে কোরবানির পশুর চামড়া কেনা শুরু করবেন ট্যানারি মালিকরা। দেশে সচল ১৫৪টি ট্যানারি রাজধানীসহ সারা দেশে একযোগে সরকার নির্ধারিত মূল্যে তারা লবণযুক্ত চামড়া কিনবেন।

বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডি ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ টেনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহিন আহমেদ এই তথ্য জানান। এ সময় সংগঠনের নেতা ছাড়াও ট্যানারি মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শাহিন আহমেদ জানান, এরইমধ্যে কোরবানির তিন দিনে বিভিন্ন ট্যানারি মালিক যার যার মত করে সাড়ে তিন লাখ পিস কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছেন। এখন লবণযুক্ত চামড়া কেনার মধ্য দিয়ে এ বছর ট্যানারি মালিকরা ৯৫ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া খাসির চামড়া সংগ্রহ করবেন।

শাহিন আহমেদ জানান, কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য কেমিক্যাল প্রয়োজন। সুপারভাইজড বন্ড সুবিধার আওতায় ট্যানারিগুলো কেমিক্যাল সংগ্রহ করে থাকে। তাই ট্যানারি শিল্পের স্বার্থে সুপারভাইজড বন্ড বহাল রাখা ও এর সুবিধার আওতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এই সুবিধা বাড়াতে বিটিএ ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে আবেদন করেছে। আবেদনটি বিবেচনার জন্য তিনি সরকারের সহায়তা কামনা করেন।

এ সময় তিনি চামড়া শিল্প নগরীর সিইটিপির ত্রুটি বিচ্যুতি দূর, চামড়া খাতে ঋণের তিন বছরের সুদ মওকুফ, জরুরি ভিত্তিতে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন, এলডব্লিউজি সনদ অর্জনের পদক্ষেপসহ চামড়া শিল্প নগরীর ভূমি বরাদ্দ নীতিমালা হালনাগাদ করার দাবি জানান।

আরও পড়ুন:
যশোরে জমেনি চামড়ার হাট
জমে উঠতে শুরু করেছে নাটোরের চামড়া বাজার
১০০ পিস চামড়া মাটিচাপা দিল ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর
যে কারণে ঈদের ৩ দিন পর চট্টগ্রাম ঢুকবে উপজেলার চামড়া
চামড়া পাচার রোধে সীমান্তে সতর্ক বিজিবি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
After seeing the magistrate the price of eggs has reduced by 6 rupees

ম্যাজিস্ট্রেট দেখেই হালিতে ডিমের দাম কমল ৬ টাকা

ম্যাজিস্ট্রেট দেখেই হালিতে ডিমের দাম কমল ৬ টাকা রাজশাহীর একটি বাজারে ম্যাজিস্ট্রেট দেখে ডিমের দাম কমেছে ছয় টাকা। ছবি: নিউজবাংলা
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান বলেন, ‘তারা আগেই খবর পেয়েছিল কি না জানি না। আমরা বাজারে ঢোকামাত্রই ৬ টাকা দর কমে গেছে। আমরা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিমের দাম ৪০ টাকা হয়ে গেছে।’

রাজশাহীর একটি বাজারে ম্যাজিস্ট্রেট দেখে ডিমের দাম ৬ টাকা কমানোর খবর জানা গেছে।

নগরের সাহেব বাজারে বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, সকালে প্রতি হালি লাল ডিম বিক্রি হচ্ছিল ৪৬ টাকা দরে। দুপুর ১২টার দিকে সাহেব বাজারে অভিযানে যান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দল। এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট দেখে মুহূর্তেই ডিমের দাম ৬ টাকা কমে তড়িঘড়ি করে তালিকা বদলে লেখা হলো ৪০ টাকা।

তবে এ সময় মূল্য তালিকা ও বেশি দাম রাখার কারণে দুই ডিমের দোকানিকে জরিমানা করা হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান-আল-মারুফ নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ম্যাজিস্ট্রেট দেখেই হালিতে ডিমের দাম কমল ৬ টাকা

তিনি বলেন, ‘রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় ও জেলা কার্যালয়ের যৌথ নেতৃত্বে রাজশাহী মহানগরের খড়খড়ি, আশরাফের মোড় এবং নলখোলা মোড় ডিমের আড়ত ও পাইকারি দোকান এবং সাহেব বাজারের খুচরা ডিমের দোকান ও মুরগির মাংসের দোকানে তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

‘এ সময় পাইকারি আড়তে সাদা ডিমের দাম হালি ৩৭-৩৮ টাকা, লাল ডিমের পাইকারি দর হালিতে ৩৮-৪০ টাকা পাওয়া যায়। তবে এই দর নিয়ে খুচরা বাজারে গেলে সেখানে ক্রেতারা অভিযোগ করেন, সকালেই এখানে ৪৬ টাকা হালি দরে লাল ডিম বিক্রি হয়েছে।’

সহকারী পরিচালক হাসান আরও বলেন, ‘তারা আগেই খবর পেয়েছিল কি না জানি না। আমরা বাজারে ঢোকামাত্রই ৬ টাকা দর কমে গেছে। আমরা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিমের দাম ৪০ টাকা হয়ে গেছে।

‘আমরা অন্তত ৩০টি দোকানে গিয়েছি, সবখানেই মূল্য তালিকা আছে। চকচকা মূল্য তালিকায় লেখা আছে ১৮ আগস্ট ২০২২ লাল ডিম ৪০ টাকা, সাদা ডিম ৩৮ টাকা। এটি অদ্ভুত একটি বিষয়। মনে হলো জাদুর মতো কাজ হলো।’

ভোক্তা অধিকারের এই কর্মকর্তা জানান, সাহেব বাজারের অভিযানে আল মদিনা ট্রেডার্সে মূল্য তালিকা না থাকায় এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মধু ঘর তাদের মূল্য তালিকায় ৪২ টাকা লিখে রাখলেও বিক্রি করছিল ৪৪ টাকা। একজন ভোক্তা হাতেনাতে তাকে ধরিয়ে দিলে ওই দোকানমালিককে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জামাল উদ্দিন নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘সকালেই ৪৬ টাকা হালি ডিম কিনেছি। এখন ম্যাজিস্ট্রেট আসার সঙ্গে সঙ্গেই দাম কমে গেল। এটা কী করে সম্ভব। ওরা বলে বেশি দামে কিনেছে সে কারণে বেশি দামে বিক্রি করছে। এখন তাহলে ৪০ টাকা করে কীভাবে বিক্রি করছে। আসলে সব শক্তের ভক্ত, নরমের যম। নিয়মিত বাজার মনিটরিং থাকলে আমরা একটু স্বস্তি পাই। ম্যাজিস্ট্রেট আসলে সব কিছুরই দাম কিছুটা কমে।’

ডিম ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান জীবনের দাবি, আসলে ম্যাজিস্ট্রেট আসার কারণে নয়, তারা দাম কমিয়েছেন নতুন রেট পাওয়ার কারণে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সকালে ৪৬ টাকা দামেই ডিম বিক্রি করছিলাম কারণ আগের দিনের দাম ছিল এটা। আমাদের কেনাও হয়েছিল বেশি দামে। দুপুরের দিকে আমরা যখন দিনের নতুন রেট পেলাম, তখনই সেটা ৪০ টাকা দামে বিক্রি শুরু করি। আজকেও আমরা ৪০ টাকা হালি দামেই বিক্রি করছি। আবার নতুন রেট পেলে দাম কম-বেশি হতে পারে।’

আরও পড়ুন:
বাজারে কম ডিমের দাম, হোটেলে বেশি
জনগণকে গাছের পাতা খাওয়ার পরামর্শ মিসরের প্রেসিডেন্টের
ডিমের বাজারও চড়া
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করছে সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী
দ্রব্যমূল্যে বিশ্বের তুলনায় স্বস্তিতে বাংলাদেশ: বাণিজ্যসচিব

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Cheap market opportunities at home

ঘরে বসে সস্তায় বাজারের সুযোগ

ঘরে বসে সস্তায় বাজারের সুযোগ নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে অনলাইন ঘাঁটলে ১২ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কম দাম কেনাকাটার অনেক সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
‘আমরা পাইকারি দামে অনেক পণ্য কিনি এবং সেটা কম দামে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছি। ফলে আমরা খুচরা বাজারের চেয়ে কম দামে পণ্য দিতে পারছি।’

৫০ ছাড়িয়ে যাওয়া ডিমের হালি কেউ যদি ৪৫ টাকা রাখে, আবার বিনা মূল্যে ঘরে পৌঁছে দেয়?

কেবল ডিম নয়, ঘরে বসেই বাজারদরের চেয়ে কম দামে পণ্য পাওয়ার সুযোগ আছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে অনলাইন ঘাঁটলে এমন অনেক সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ১২ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কম দাম নিচ্ছে তারা।

রাজধানীতে অনলাইন অর্ডারে পণ্য পৌঁছে দিতে ডেলিভারি চার্জও নিচ্ছে না বেশির ভাগ অনলাইন শপ। তবে কোনোটিতে জুড়ে দেয়া হচ্ছে শর্ত। কোথাও নির্দিষ্ট পরিমাণ কেনাকাটা করলে বিনা পয়সায় বাসায় পৌঁছে দেবে বলছে।

বাজারদরের তুলনায় এত কমে পণ্য বিক্রির কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কয়েকটি বিষয়। বেশি বিক্রি কম লাভ- এই নীতিতে কোনো কোনো শপ পাইকারি দামে বিক্রি করে। কোনো কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রাহক ধরছে।

৪৫ টাকা হালিতে ডিম কিনুন

নিত্যপণ্যের মধ্যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি কথা যেটি নিয়ে, সেই ডিম বাজারদরের চেয়ে ২০ শতাংশ কমে কেনার ‍সুযোগ দিচ্ছে অনলাইন গ্রোসারি শপ ‘অথবা ডট কম’।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, বৃহস্পতিবার ঢাকার বাজারে ফার্মের মুরগির এক হালি বাদামি ডিমের দাম ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

ঘরে বসে সস্তায় বাজারের সুযোগ

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে অনলাইন ঘাঁটলে এমন অনেক সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ১২ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কম দাম নিচ্ছে তারা। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

৫৫ টাকা হালি ধরে হিসাব করলে প্রতি পিস ডিমের দাম পড়ে ১৩ টাকা ৭৫ পয়সা। তবে ‘অথবা ডট কম’ বিক্রি করছে ১১ টাকা ২৬ পয়সা করে।

অর্থাৎ বাজারদরের চেয়ে প্রায় আড়াই টাকা বা ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ কমে দামে ডিম কেনা যাবে।

তবে এখানে এক হালি করে কেনার সুযোগ নেই। একসঙ্গে কিনতে হবে সাড়ে সাত হালি বা ৩০টি। আর এই ডিম ক্রেতাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হবে কোনো ডেলিভারি চার্জ ছাড়াই।

ডায়াপার্স বিডি ডট কমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘সোপ বিডি ডট কম’ নামের অনলাইন শপে কেনা যাচ্ছে এক ডজন ডিমও। তারা ১২টি ডিমের দাম নিচ্ছে ১৪৫ টাকা। প্রতিটির দাম পড়ছে ১২ টাকা ৮ পয়সা, যা বাজারের চেয়ে ১ টাকা ৬৭ পয়সা বা ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ কম।

ঘরে বসে সস্তায় বাজারের সুযোগ

টিসিবির হিসাবে বৃহস্পতিবার ঢাকার বাজারে ফার্মের মুরগির প্রতি পিস ডিমের দাম ছিল ১৩ টাকা ৭৫ পয়সা। তবে ‘অথবা ডট কম বিক্রি করছে ১১ টাকা ২৬ পয়সা করে। ডায়াপার্স বিডি ডট কমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘সোপ বিডি ডট কম-এ পাওয়া গেছে ১২ টাকা ৮ পয়সায়। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

সোপ বিডি কম কমে ডিম ছাড়াও বাজারদরের চেয়ে কমে পাওয়া যাচ্ছে অন্য নিত্যপণ্যও।

বাজারে পেঁয়াজের দর ৪০ থেকে ৫৫ টাকা। তবে এই শপে পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি ৩৮ করে। ৩০ টাকা কেজি মূল্যের আলু এখানে মিলছে ২৫ টাকায়।

এই শপ ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য দেবে, এ জন্য কোনো বাড়তি চার্জও নিচ্ছে না।

গ্রাহক পর্যায়ে পরিচিত বাড়াতে লোকসানে পণ্য বিক্রির কথা জানিয়েছেন ডায়াপার্স বিডির কাস্টমার-কেয়ার কর্মী মোস্তফা ইমন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের নতুন ওয়েবসাইট। গ্রাহক পর্যায়ে পরিচিত হওয়ার জন্য পণ্যের কেনা রেটের চেয়েও দুই-এক টাকা কম দামে আমরা বিক্রি করছি।’

৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কম দাম

ওয়ালটনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওয়ালকার্ট আদা, রসুনের দামে ৩১ থেকে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। থাই আদার প্রতি কেজিতে ৪০ টাকা বা ৩৬ শতাংশ ছাড় দিয়ে ৭০ টাকায় বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। যেটি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি। আর বাজারের চেয়ে ৩৮ টাকা কমে চায়না রসুন দিচ্ছে ১২০ টাকায়, যার বাজারমূল্য ১৫৮ টাকা।

ওয়ালকার্টের কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ নাহিয়ান হামিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা পাইকারি দামে অনেক পণ্য কিনি এবং সেটা কম দামে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছি। ফলে আমরা খুচরা বাজারের চেয়ে কম দামে পণ্য দিতে পারছি।’

৯৫০ টাকার যেকোনো পণ্যে ছাড় ১১০ টাকা

চেইন সুপার শপ মীনা বাজারে গিয়ে পণ্য কেনার চেয়ে ঘরে বসে কেনা অনেক বেশি লাভজনক।

এই প্রতিষ্ঠানের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মীনা ক্লিকে ৯৪৯ টাকার পণ্য অর্ডার করলে দিতে হবে ৮৩৯ টাকা। অর্থাৎ ১১০ টাকা ছাড় দিচ্ছে তারা। এই পণ্য বাসায় নিয়ে আসার পর কার্ড সোয়াপের মেশিনের মাধ্যমে বিল পরিশোধের সুযোগ থাকছে। ফলে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডেও সেই টাকা পরিশোধের সুযোগ আছে।

এই পণ্য হাতে পেতে আবার কোনো ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে না।

কোনো কোনো ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডে সুপারশপে কেনাকাটায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাকের সুযোগ আছে। সে ক্ষেত্রে গ্রাহকের ছাড় আসলে আরও বেশি।

প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ম্যানেজার (ব্র্যান্ড ও কমিউনিকেশন) মর্তুজা আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লাভ-লোকসান এভাবে হিসাব করা যায় না। আমাদের প্রমোশনের জন্য মার্কেটিং বাজেট থেকে অ্যালোকেট করা হয়। এটার কারণে আমরা কম দামে দিতে পারি।’

শুক্রবার সুপারশপে ছাড়ের ছড়াছড়ি

নাজিরশাইল প্রিমিয়াম যে চালের দর কেজিতে ৭৮ টাকায় বিক্রি হয়, গত দুই শুক্রবার মীনা বাজার সেটি বিক্রি করেছে ৬৮ টাকায়।

কেবল চাল নয়, প্রতিটি শপই শুক্রবার রীতিমতো বড় আকারের লিফলেট ছেপে বিভিন্ন পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে থাকে।

প্রাণের অনলাইন শপ ডেইলি শপিংয়ের পক্ষ থেকে ছাড় দেয়ার আগের দিন হোয়াটস অ্যাপে কোন পণ্য কত টাকায় বিক্রি করা হবে, সে তথ্য জানিয়ে এসএমএস পাঠানো হয়।

স্বপ্ন সুপার শপ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। আর ছুটির দিন ছাড়াও এসব শপে দুটির সঙ্গে একটি বা তিনটির সঙ্গে একটি এমনকি একটির সঙ্গে একটি ছাড় থাকে।

আবার মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো সেবা ব্যবহার করলেও দিনে ৫০ থেকে ১০০ টাকা ছাড় পাওয়ার সুযোগ আছে। স্বাভাবিক ছাড়ের সঙ্গে এই ছাড় আবার বাড়তি।

আরও পড়ুন:
ডিমের পর তেলাপিয়া-পাঙাশও গরিবের হাতছাড়া!
‘৫০ পয়সা খরচ বাড়ায় দাম চার টাকা বাড়ার লজিক আছে?’
পুঁজিবাজারে একটু একটু করে ফিরল আরও প্রাণ
দাম নিয়ন্ত্রণে ডিম আমদানির চিন্তা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Labor strike fear of reduced tea production

শ্রমিক ধর্মঘট: চা উৎপাদন কমার শঙ্কা

শ্রমিক ধর্মঘট: চা উৎপাদন কমার শঙ্কা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি ও ধর্মঘট পালনে চা শ্রমিকরা। ছবি: নিউজবাংলা
২০২১ সালে দেশে রেকর্ড ৯ কোটি ৬৫ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়। এর আগে সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০১৯ সালে। সে বছর ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল। তবে এবার তাতে ধস নামার শঙ্কা বাগান মালিক ও কর্মকর্তাদের। ধর্মঘটের কারণে বাগানগুলোতে প্রতিদিন ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

‘আমাদের ফ্যাক্টরিতে লাখখানেক কেজি চা এক সপ্তাহ ধরে পড়ে আছে। শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে এগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পাতাগুলো নষ্ট হচ্ছে। আর দুই-এক দিন এভাবে চললে এই পাতা থেকে আর চা হবে না। হলেও গুণগত মান খুব খারাপ হবে।’

চলমান শ্রমিক ধর্মঘটে চা উৎপাদনের ক্ষয়ক্ষতির বর্ণনা দিতে গিয়ে নিউজবাংলাকে এমনটি বলছিলেন আকিজ গ্রুপের মালিকানাধীন মৌলভীবাজারের বাহাদুরপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল জব্বার।

দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে ধর্মঘট পালন করছেন দেশের সব চা বাগানের শ্রমিকরা। এতে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে দেশের উৎপাদনশীল এই খাতে। ভরা মৌসুমে শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে বেশির ভাগ বাগানের ফ্যাক্টরিতেই নষ্ট হচ্ছে তোলা পাতা। আবার বাগানের কচি পাতা বয়স্ক হয়ে পড়ছে। এতে দেশে উৎপাদন হ্রাসেরই শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২১ সালে দেশে রেকর্ড ৯ কোটি ৬৫ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়। এর আগে সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০১৯ সালে। সে বছর ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল। তবে এবার তাতে ধস নামার শঙ্কা বাগান মালিক ও কর্মকর্তাদের। ধর্মঘটের কারণে বাগানগুলোতে প্রতিদিন ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

শ্রমিক ধর্মঘট: চা উৎপাদন কমার শঙ্কা

চা বাগানের শ্রমিকরা বর্তমানে দৈনিক ১২০ টাকা মজুরি পান। মজুরি বাড়িয়ে তা ৩০০ টাকা করার দাবিতে ৮ আগস্ট থেকে আন্দোলনে নামেন তারা। প্রথমে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন। দাবি মেনে না নেয়ায় গত শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে বন্ধ হয়ে পড়েছে দেশের ১৬৬টি চা বাগানের উৎপাদন ও পাতা উত্তোলন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিকরা।

উত্তোলিত চা নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় মঙ্গলবার কারখানা চালু করতে যান মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ধামাই চা বাগানের কর্মকর্তা। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তা তালা দিয়ে রাখেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের মুক্ত করেন।

এই বাগানের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) শেখ কাজল মাহমুদ বলেন, ‘শ্রমিকদের আন্দোলনে আমাদের কোনো বিরোধিতা নেই। কিন্তু ফ্যাক্টরিতে বাগানের অনেক পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই পাতা বিক্রি করে তাদের ও আমাদের মজুরি দেয়া হয়। শ্রমিকরা যেহেতু আপাতত কাজ করছে না, তাই আমরা সবাই মিলে ফ্যাক্টরি চালু করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তারা এসে আমাদের তালা মেরে দেয়।’

বৃষ্টির সময়কে চায়ের উৎপাদন মৌসুম ধরা হয়। ফলে এখন চায়ের ভরা মৌসুম। এই সময়ে ধর্মঘটের কারণে সব বাগানের কারখানায় নষ্ট হচ্ছে উত্তোলিত চা। প্রায় এক কোটি কেজি চা সব বাগানের ফ্যাক্টরিতে জমা পড়ে আছে বলে দাবি বাংলাদেশ চা সংসদের।

ধর্মঘটের কারণে ফ্যাক্টরির চা-পাতা নষ্ট হওয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার বিভিন্ন বাগানের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের ডিনস্টন (খেজুরী ছড়া) চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক খালিদ হাসান রুমী মঙ্গলবার রাতে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি জিডি করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে ৯৯২০০ কেজি চা পাতা প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হয়নি। এই পরিমাণ পাতা থেকে ২২ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হতো। যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা।

শ্রমিক ধর্মঘট: চা উৎপাদন কমার শঙ্কা

১ লাখ ৫৩ হাজার কেজি চা পাতা নষ্ট হওয়ার অভিযোগ এনে একই থানায় জিডি করেছেন রাজঘাট চা বাগানের ব্যবস্থাপক মাঈনুল এহছান।

ফিনলে চা কোম্পানির চিফ অপারেটিং অফিসার তাহসিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বিভিন্ন বাগানে ৩৫ কোটি টাকার চা-পাতা নষ্ট হয়েছে। এগুলো থেকে আর ভালো মানের চা হবে না।’

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কয়েকটি বাগানের পক্ষ থেকে কাঁচা চা-পাতা নষ্টের অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আমরা প্রতিটি কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শন করে তার সত্যতা নিশ্চিত করব।’

কেবল ফ্যাক্টরির চা-পাতা নয়, বাগানের পাতাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে বাংলাদেশ চা সংসদের সিলেট বিভাগের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চায়ের জন্য মূলত কচি পাতাগুলো তোলা হয়। সব বাগানেই কচি পাতা বয়স্ক হয়ে যাচ্ছে। এগুলো থেকে আর চা হবে না। এ ছাড়া বৃষ্টি শেষ হয়ে গেলে গাছে আর কচি পাতা গজাবে না। ফলে একদিকে যেমন উৎপাদনে ধস নামবে, অন্যদিকে চায়ের গুণগত মানও হ্রাস পাবে।’

শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে সব বাগান মিলিয়ে প্রতিদিন ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রতি দুই বছর পর পর বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদ ও শ্রমিক সংগঠন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চা শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালে চা শ্রমিকদের মজুরি ১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, দুই বছর পেরিয়ে গেলেও মালিকপক্ষ শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে সম্মত হচ্ছে না।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে জানিয়ে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল নিউজবাংলাকে বলেন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। মাত্র ১২০ টাকায় এই বাজারে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। আমরা না বাঁচলে বাগান মালিকরা উৎপাদন করবেন কিভাবে। তাই বাগান মালিক ও চা শিল্পের স্বার্থেই শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন। তাদের ন্যূনতম বেঁচে থাকার মতো মজুরি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।’

শ্রম দপ্তরের শ্রীমঙ্গল কার্যালয়ের উপপরিচালক নাহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ভরা মৌসুমে ধর্মঘটের কারণে মালিক-শ্রমিক উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পুরো চাশিল্পই ক্ষতির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে আমরা দুই দফা তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। ১৬ আগস্ট শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আমরা তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘২৩ আগস্ট মালিক ও শ্রমিক পক্ষের নেতাদের নিয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বসবেন। আশা করি, এতে একটা সমাধান হবে। ধর্মঘট প্রত্যাহার করে ওই বৈঠকে যোগ দেয়ার জন্য আমি শ্রমিক নেতাদের অনুরোধ করছি।’

আরও পড়ুন:
‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি, শুনতে কি পাও আহাজারি’
গুলশানে মধ্যরাতে ১৪ তলা থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
পল্টনে প্রিন্টিং প্লেটের বান্ডেল পড়ে যুবকের মৃত্যু
১৮ তলা থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
চা শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The stock of fertilizer in the country is sufficient

দেশে সারের মজুত পর্যাপ্ত

দেশে সারের মজুত পর্যাপ্ত গাজীপুরের পুবাইলে জমিতে সার ছিটাচ্ছেন কৃষক। ফাইল ছবি
কৃষি মন্ত্রনালয় জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে ইউরিয়া সারের মজুত আছে ৬ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন, টিএসপি ৩ লাখ ৯৪ হাজার টন, ডিএপি ৭ লাখ ৩৬ হাজার টন এবং এমওপি ২ লাখ ৭৩ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সারের বর্তমান মজুত বেশি।

কৃষকদের চাহিদার বিপরীতে দেশে সব রকমের সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে বলে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রনালয়।

বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কৃষি মন্ত্রনালয় জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে ইউরিয়া সারের মজুত আছে ৬ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন, টিএসপি ৩ লাখ ৯৪ হাজার টন, ডিএপি ৭ লাখ ৩৬ হাজার টন এবং এমওপি ২ লাখ ৭৩ হাজার টন।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সারের বর্তমান মজুত বেশি। গতবছর এই সময়ে ইউরিয়া সারের মজুত ছিল ৬ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন, টিএসপি ২ লাখ ২৭ হাজার টন ও ডিএপি ৫ লাখ ১৭ হাজার টন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সারের বর্তমান মজুতের বিপরীতে আগস্ট মাসে সারের চাহিদা ইউরিয়া ২ লাখ ৫১ হাজার টন, টিএসপি ৪৭ হাজার টন, ডিএপি ৮১ হাজার টন এবং এমওপি ৫২ হাজার টন।

কৃত্রিমভাবে যাতে কেউ সারের সংকট তৈরি করতে না পারে এবং দাম বেশি নিতে না পারে, সে বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিবিড় তদারকি করছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

মন্ত্রনালয় জানায়, বৃহস্পতিবার ইউরিয়া সারের মজুদ ১৬৭৩ মেট্রিক টন, টিএসপি ৬৮৯ টন, ডিএপি ১৪০০ টন এবং এমওপি ৪৪৪ টন। বগুড়া জেলাতেও সব রকমের সারের মজুদ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আছে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

আরও পড়ুন:
সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ কৃষকদের
ক্রেতা ভেবে বললেন সার নেই, ধরা খেয়ে দিলেন জরিমানা
সার নিয়ে তেলেসমাতি, গুদাম রক্ষায় পুলিশ
মজুত সার জব্দ, গুদাম সিলগালা
সারের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে না উৎপাদনে: কৃষিমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
That old trick to increase the price of edible oil

ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে সেই পুরোনো কৌশল

ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে সেই পুরোনো কৌশল কোনো কোনো দোকানে আগে সরবরাহ করা ভোজ্যতেল থাকলে তা কিনতে পারছেন কিছু ক্রেতা। তবে চাহিদার তুলনায় তা কম। ফাইল ছবি
সরকারের কাছে সয়াবিন ও পামওয়েল তেলের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে আমদানি ও উৎপাদক সমিতি। এবার তাদের যুক্তি টাকার বিপরীতে ডলারের উচ্চ মূল্য। দাম বৃদ্ধির এই প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ট্যারিফ কমিশন। কিন্তু সময় দিতে রাজি নয় কোম্পানিগুলো।

দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে সরবরাহ কমিয়ে দেয়া। ফলে বাজারে পণ্যের সংকট সৃষ্টি। আর ঘাটতির কারণে বেড়ে যাচ্ছে দাম।

ভোজ্যতেলের বাজারে এমন চিত্র বরাবরের। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম বাড়াতে আবারও সেই পুরোনো কৌশলের আশ্রয় নিতে চলেছেন ব্যবসায়ীরা।

সরকারের কাছে সয়াবিন ও পামওয়েল তেলের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে আমদানি ও উৎপাদক সমিতি। এবার তাদের যুক্তি টাকার বিপরীতে ডলারের উচ্চ মূল্য। দাম বৃদ্ধির এই প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ট্যারিফ কমিশন। কিন্তু সময় দিতে রাজি নয় কোম্পানিগুলো।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল, মিরপুরের শেওড়াপাড়াসহ অলিগলির দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোমধ্যে বাজারে তেলের সংকট হয়েছে। কোম্পানির প্রতিনিধিরা পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করছেন না।

দোকানিরা বলছেন, টাকা দিলেও তেলের চাহিদা নিচ্ছে না সব কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি। ফলে ক্রেতারা চাহিদামতো তেল পাচ্ছে না। কোনো কোনো দোকানে আগে সরবরাহ করা তেল থাকলে তা কিনতে পারছেন কিছু ক্রেতা। তবে চাহিদার তুলনায় তা কম।

বাজার পরিস্থিতি

রাজধানীর হাতিরপুল বাজারে মদিনা স্টোরের দোকানি আলতাফ হোসেন জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তেলের সরবরাহ নেই। দোকানে সরিষার তেল ছাড়া কোনো সয়াবিন তেল নেই।

তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ কোম্পানির কোনো প্রতিনিধিকে এখন দেখা যায় না। দু-একজনের দেখা পেলেও তাদের বক্তব্য- দাম বাড়বে, তাই তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না।’

জামাল নামে আরেক দোকানি বলেন, ‘আগের কেনা সামান্য তেল আছে। তা-ও শেষ হয়ে যাবে। তেল চাইলে দেয়া হচ্ছে না। যেসব কোম্পানি বেশি পরিমাণ তেল সরবরাহ করে, তারাই চাহিদা নিচ্ছে না। ক্রেতারা পাঁচ লিটারের ক্যান চান। অথচ দোকানে এক ও দুই লিটারের মাত্র কয়েক বোতল ভোজ্যতেল আছে।’

মিরপুর ৬০ ফুট রোডের জহির জেনারেল স্টোরের জসিম জানান, ‘দোকানে তেল নেই। কোম্পানির লোকদের পাওয়া যায় না। দুই-একজনকে পেলেও তার সরবরাহের বিপরীতে অগ্রিম টাকা নেয় না। বলে, কোম্পানি থেকে তেল দেয়া হচ্ছে না।

‘বাধ্য হয়ে ক্রেতারা রাইস ব্রান অয়েল, সরিষা ও সানফ্লাওয়ার তেল নিচ্ছে। কিন্তু সাধারণ ক্রেতারা এত দামি তেল কিনতে পারছে না। এ নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডাও হচ্ছে।’

কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, ‘তেলের সরবরাহ থাকলেও আগের মতো না। দুই-একটি কোম্পানি তেল দিলেও কমিশন কমিয়ে দিয়েছে। এ কারণে বোতলের গায়ে লেখা দামের চেয়ে একটু ছাড় দিয়ে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।’

দামবৃদ্ধির প্রস্তাব

বিশ্ববাজারে দাম ক্রমান্বয়ে কমে আসায় দেশে ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয় করা হয় ১৮ জুলাই। এক মাস না যেতেই নতুন করে আবার দামবৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য পতনের উল্লেখ করে তেলের দামবৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে ভোজ্যতেল উৎপাদক সমিতি।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনে পাঠানো প্রস্তাবে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮০, বোতলজাত ২০৫ ও পাঁচ লিটার তেলের দাম ৯৬০ টাকা করার কথা বলা হয়।

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে বোতলজাত সয়াবিন লিটারে ২০ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৪ টাকা ও পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলে ৫০ টাকা দাম বৃদ্ধির কথা বলা হয়।

পর্যালোচনা করছে ট্যারিফ কমিশন

সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা বলেন, ১৮ জুলাই দাম সমন্বয়ের পর আবার ১৫ দিনের মাথায় দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব হাস্যকর।

‘দাম নির্ধারণ করা হয় এক মাসের জন্য। কিন্তু কোম্পানিগুলো নেই নিয়ম মানছে না। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম দ্রুত কমছে। আবার ডলারের বিপরীতে কমছে টাকার মান। সবদিক পর্যালোচনা শেষে সবশেষ যে মূল্য নির্ধারণ হয় তখনও ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখীই ছিল।’

ট্যারিফ কমিশন সূত্র জানায়, ডলারের তেজিভাব কমছে। তবে আগের তুলনায় এখনও বেশি। আমদানি পর্যায়ে ডলারের দাম এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম বিবেচনা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠাবে ট্যারিফ কমিশন। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ক্রেতার নাভিশ্বাস

প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম চড়া। বাজারে গিয়ে ক্রেতার নাভিশ্বাস উঠেছে। ভোজ্যতেল যেহেতু ক্রেতার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, তাই এই পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে কেনার ক্ষমতা হারাচ্ছে ভোক্তা। পড়ছে বাড়তি চাপ।

ক্রেতারা বলেন, সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধি এর আগেও করা হয়েছে। এবারও একই কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। ক্রেতাদের স্বার্থ দেখবে কে?

হাতিরপুল বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা আলিম উদ্দিন বলেন, ‘বেতন বাড়ছে না। অথচ সবকিছুর দাম বাড়ছে। ভয়াবহ এক সংকট সামনে এসেছে। আগে সংসারে যে পরিমাণ তেল প্রয়োজন হতো, এখন তা প্রায় অর্ধেক কমিয়েও সামাল দেয়া যাচ্ছে না।’

শেওড়াপাড়া বাজারের সানজিদা খাতুন বলেন, ‘তেল পাওয়া যাচ্ছে না। পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেল দিতে পারছে না। অগত্য দুই লিটার নিতে হলো।’

আলিম স্টোরে তেল কিনতে আসা ক্রেতা আমিনুল জানান, ‘তিনটি দোকান ঘুরে এক দোকানে তেল পাওয়া গেছে। তাও বোতলের গায়ে উল্লেখ থাকা দামের চেয়ে ১০ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। তেল কিনতে পকেটের টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যা

ট্যারিফ কমিশনের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, তরল পদার্থ পরিমাপের একক হিসেবে লিটার ব্যবহৃত হলেও ভোজ্যতেলের পাইকারি বাজারে মণ ও খুচরা বাজারে কেজিতে বিক্রির প্রবণতা রয়ে গেছে। এতে সাধারণ ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, খোলা ভোজ্যতেলের মিলগেট মূল্য অতিমাত্রায় পরিবর্তনশীল হওয়ায় সেকেন্ডারি মার্কেটে মূল্য প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। তাই খোলা ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। খোলা ভোজ্যতেলে সেকেন্ডারি বা পাইকারি বাজারে প্রবেশের পর এই তেলের কোনো ব্রান্ডিং থাকে না।

সরকারের এই প্রতিষ্ঠান মনে করে, খোলা ভোজ্যতেল সরবরাহের ক্ষেত্রে পরিশোধনকারী মিলগুলো সরবরাহ আদেশে দেয়া মেয়াদ ১৫ দিন উল্লেখ করলেও তা ৩ থেকে ৪ মাস পর্যন্ত ছাড়িয়ে গ্রহণ করা হয়। এতে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যের এসও (চাহিদাপত্র) বাজারে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন:
অবৈধ কারখানায় বোতলজাত করা হয় সয়াবিন
তেলের দাম: পিটিয়ে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধেই পুলিশের মামলা
তেলের পুষ্টিগুণ নিশ্চিতের উদ্যোগ
সয়াবিনের নতুন দাম কার্যকর
ধনী-গরিবের আলাদা পানির বিলে সময় লাগবে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Along with the dollar the price of lotus gold

ডলারের পাশাপাশি কমল স্বর্ণের দাম

ডলারের পাশাপাশি কমল স্বর্ণের দাম
স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমায় স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ।

টানা কয়েক দফা বেড়ে চূড়ায় ওঠার পর স্বর্ণের দাম বেশ খানিকটা কমেছে। দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের ভরি ২ হাজার ২৭৪ টাকা কমে ৮২ হাজার ৫৬ টাকায় নেমে এসেছে।

আমেরিকান মুদ্রা ডলারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটছিল স্বর্ণের দাম। ডলারের দাম কমতে শুরু করায় স্বর্ণের দামও কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

দশ দিন আগে গত ৭ আগস্ট অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের ভরি ৮৪ হাজার ৩৩১ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুস। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই মূল্যবান এই ধাতুটি এত দামে বিক্রি হয়নি।

বুধবার রাতে সব ধরনের স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাজুস। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমায় সাধারণ স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় গত মে মাসে স্বর্ণের ভরি বাড়তে বাড়তে ৮২ হাজার ৪৬৬ টাকায় উঠেছিল। এরপর বিশ্ববাজারে দাম কমায় তা ৭৫ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছিল।

এর পর আন্তর্জাতিক বাজারে দরবৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণেল দাম বাড়ায় জুলাই ও আগস্ট মাসে টানা কয়েক দফা বেড়ে সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের ভরি ৮৪ হাজার ৩৩১ টাকায় উঠেছিল।

বৃহস্পতিবার থেকে সবচেয়ে ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে লাগবে ৮২ হাজার ৫৬ টাকা। বুধবার পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৮৪ হাজার ৩৩১ টাকায়। দাম বেড়েছে ২ হাজার ২৭৪ টাকা।

অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও প্রায় একই হারে বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে নতুন দর কার্য‌কর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুস।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় টানা তিন দফা কমানোর পর গত ২৬ জুলাই প্রতি ভরি সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৩৪১ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। দুই দিনের ব্যবধানে ২৮ জুলাই আরও ২ হাজার ৭৪১ টাকা বাড়ানো হয়। ৩ আগস্ট ভরিতে আরও ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ানো হয়। সবশেষ ৭ আগস্ট বাড়ানো হয় ১ হাজার ৯৮৩ টাকা।

ডলারের পাশাপাশি কমল স্বর্ণের দাম

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত ৮ মার্চ দেশের বাজারে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। তার চার দিন আগে ৪ মার্চ বাড়ানো হয়েছিল ভরিতে ৩ হাজার ২৬৫ টাকা।

এরপর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করায় ১৫ মার্চ দেশের বাজারে ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। ২১ মার্চ কমানো হয় ভরিতে আরও ১ হাজার ৫০ টাকা।

কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় ১১ এপ্রিল সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭৮ হাজার ৮৪৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস।

এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় ২৫ এপ্রিল প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানো হয়। ১০ মে একই পরিমাণ কমানো হয়েছিল।

দুই দফায় ভরিতে ২ হাজার ৩৩২ টাকা কমানোর পর ১৭ মে ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়ানো হয়।

চার দিনের ব্যবধানে ২১ মে সেই স্বর্ণের দাম এক ধাক্কায় ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে দেয় বাজুস। অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে স্বর্ণের দাম উঠে যায় ৮২ হাজার ৪৬৬ টাকায়।

বিশ্ববাজারে দাম কমায় ২৬ মে সেই স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ৯১৬ টাকা কমিয়ে ৭৯ হাজার ৫৪৮ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। প্রায় দেড় মাস পর ৬ জুলাই আরও ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয় বাজুস।

বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। এ অবস্থায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বুধবার বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিশ্ববাজারে বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম, ২.৬৫ ভরি) স্বর্ণের দাম ছিল ১ হাজার ৭৬১ ডলার ৬৬ সেন্ট। এর আগে ৬ আগস্ট রাতে যখন স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়, তখন প্রতি আউন্সের দাম ছিল ১ হাজার ৭৭৪ ডলার ৯৬ সেন্ট।

মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বাড়তে বাড়তে ২ হাজার ৬০ ডলারে উঠেছিল।

১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে এক ভরি।

বৃহস্পতিবার থেকে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৮২ হাজার ৫৬ টাকায় বিক্রি হবে। বুধবার পর্যন্ত এই মানের স্বর্ণ ৮৪ হাজার ৩৩১ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কমেছে ২ হাজার ২৭৪ টাকা।

২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমে ৭৮ হাজার ৩২৪ টাকা হয়েছে। এই দশ দিন ৮০ হাজার ৪৮২ টাকায় বিক্রি হয়েছে এই মানের স্বর্ণ।

১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৮৬৬ টাকা কমে হয়েছে ৬৭ হাজার ১২৬ টাকা। বুধবার পর্যন্ত ৬৮ হাজার ৯৯৩ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমে হয়েছে ৫৫ হাজার ২৮৭ টাকা। এই দশ দিন এই মানের স্বর্ণ ৫৬ হাজার ৯৭৯ টাকা ভরিতে বিক্রি হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সকল স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না জানানো পর্যন্ত বাজুসের বেঁধে দেয়া দামে স্বর্ণ বিক্রি করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আগের দামেই বিক্রি হবে এই ধাতু।

আরও পড়ুন:
স্বর্ণসহ আটক রোহিঙ্গা মা-ছেলে
স্বর্ণের ভরি আবার ৮০ হাজার টাকা ছাড়াল
স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ১৩৪১ টাকা
বিমানের ময়লার ঝুড়িতে মিলল ১ কেজি স্বর্ণের বার
আমিরাতফেরত যাত্রীর ব্যাগে সোয়া কেজি স্বর্ণ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Day noon shooting and jewelery robbery

দিনদুপুরে গুলি চালিয়ে জুয়েলারি লুট

দিনদুপুরে গুলি চালিয়ে জুয়েলারি লুট প্রতীকী ছবি
জুয়েলারি ব্যবসায়ী মো. মোক্তার হোসেন জানান, বেলা ২টার দিকে একদল ডাকাত ঢুকে পড়ে আব্দুল্লাহপুর রসুলপুর বাজারের নাসির উদ্দিন সুপার মার্কেটে। সেখানে নিচতলায় থাকা নিউ আল আমিন জুয়েলার্সে চারজন ঢুকে অস্ত্রের মুখে স্বর্ণালংকার লুট করে। দোকানে থাকা নগদ টাকাও তারা নিয়ে নেয়।

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় একটি জুয়েলারিতে ডাকাতি হয়েছে। এ সময় স্বপন মণ্ডল নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি স্থানীয় নিউ আল আমিন জুয়েলার্সের মালিক।

বুধবার বেলা ২টার দিকে রসুলপুর বাজারে নাসির উদ্দিন সুপার মার্কেটের নিচতলায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ স্বপন মণ্ডলকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু) ভর্তি করা হয়েছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জামান বলেন, ‘একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তাৎক্ষণিক কাউকে গ্রেপ্তার সম্ভব হয়নি।’

স্বপনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন পাশের মার্কেটের জুয়েলারি ব্যবসায়ী মো. মোক্তার হোসেন। তিনি নিউজবাংলাকে জানান, বেলা ২টার দিকে একদল ডাকাত ঢুকে পড়ে আব্দুল্লাহপুর রসুলপুর বাজারের নাসির উদ্দিন সুপার মার্কেটে। সেখানে নিচতলায় থাকা নিউ আল আমিন জুয়েলার্সে চারজন ঢুকে অস্ত্রের মুখে স্বর্ণালংকার লুট করে। দোকানে থাকা নগদ টাকাও তারা নিয়ে নেয়। ডাকাত দলের অন্য সদস্যরা বাইরে অবস্থান করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদ পেয়ে মার্কেটের অন্য ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে ডাকাতরা কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।

স্বর্ণালংকার লুটের সময় দোকান মালিক স্বপন মণ্ডল বাধা দেন বলে জানান মোক্তার। তখন ডাকাতরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি ছোড়ে। একটি গুলি স্বপনের ডান পায়ের হাঁটুতে বিদ্ধ হয়।

স্বপনকে উদ্ধারের পর বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

জুয়েলারি দোকানটি থেকে কী পরিমাণ র্স্বণ ও টাকা লুট হয়েছে তা জানাতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। অন্য কোনো দোকানে লুট হয়নি, সে ক্ষেত্রে ডাকাতরা টার্গেট করেই স্বপনের দোকানে ঢুকেছে বলে তারা মনে করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যবসায়ীরা জানান, ডাকাত দলের সদস্যরা মুখোশ ব্যবহার করেনি। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল, মুখ ছিল খোলা। ডাকাতির সময় বৃষ্টি হচ্ছিল বলে মার্কেটে লোকজনের উপস্থিতি ছিল কম।

৪৬ বছর বয়সী স্বপন মণ্ডল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ বাগুইর গ্রামের মৃত গোপিন চন্দ্রের ছেলে। তিনি নাসির উদ্দিন সুপার মার্কেটের স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মোহাম্মদ বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘কেরানীগঞ্জ থেকে আনা গুলিবিদ্ধ স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পঙ্গুতে রেফার্ড করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
দেশি গয়নায় বিশ্ব জয়ের প্রত্যাশা
জুয়েলারি মেলা: ১০ লাখ টাকা জেতার সুযোগ
দেশের প্রথম জুয়েলারি এক্সপো শুরু ১৭ মার্চ

মন্তব্য

p
উপরে