× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
The central bank continues to sell dollars
hear-news
player
print-icon

ডলার বিক্রি করেই চলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ডলার-বিক্রি-করেই-চলেছে-কেন্দ্রীয়-ব্যাংক
১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১২ দিনেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৪৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এর ফলে রিজার্ভ দুই বছর পর ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

বাজার ‘স্থিতিশীল’ রাখতে গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় নতুন অর্থবছরেও বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাজারে ডলারের চাহিদার জোগান দিতে ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবস মঙ্গলবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার দর ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা দরে ১৩ কোটি ৪০ লাখ (১৩৪ মিলিয়ন) ডলার বিক্রি করা হয়েছে। ঈদের ছুটির আগে বিক্রি কয়েক দিনে বিক্রি করা হয়েছিল ৩৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

সব মিলিয়ে ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১২ দিনে (১ থেকে ১২ জুলাই) ৪৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এর ফলে রিজার্ভ দুই বছর পর ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। মঙ্গলবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৯ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার।

মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে ৭৬২ কোটি (৭.৬২ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বিপরীতে বাজার থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকার মতো তুলে নেয়া হয়।

অথচ তার আগের অর্থবছরে (২০২০-২১) বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় দর ধরে রাখতে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় দেশে আমেরিকান ডলারের তীব্র সংকট দেখা দেয়। রপ্তানি আয় বাড়লেও ডলারের সংকট মেটাতে পারছে না। ফলে প্রতিনিয়ত বেড়েছে ডলারের দাম। এ জন্য রিজার্ভ থেকে ডলার ছেড়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিনিয়ত দামও বাড়িয়েছে। এরপরও কিছুতেই বাগে আসছে না ডলারের তেজী ভাব।

বাংলাদেশ ব্যাংক যে দামে ডলার বিক্রি করছে, বাজারে তার চেয়ে ৩-‍৪ টাকা বেশি দরে কেনাবেচা হচ্ছে। ফলে আমদানিকারকদের বেশি দামে ডলার কিনতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করলেও ব্যাংকগুলো প্রবাসী আয় এনেছে ৯৬ থেকে ৯৭ টাকায়, আর আমদানিকারকদের কাছে বিক্রি করেছে ৯৬ থেকে ৯৭ টাকা দামে। খোলা বাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলার বিক্রি হচ্ছে ৯৭ থেতকে ৯৮ টাকার মধ্যে। মে মাসে খোলাবাজারে ডলারের দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক বৃহস্পতিবার ৯৬ টাকা ৫০ পয়সা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯৭ টাকায়।

গত বছরের আগস্ট থেকে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করে; দুর্বল হতে শুরু করে টাকা। তার আগে এক বছরেরও বেশি সময় ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় ‘স্থির’ ছিল ডলারের দর।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরজুড়ে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন দেখা যায়। সে কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যায়। সে পরিস্থিতিতে ডলারের দর ধরে রাখতে ওই অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তারই ধারাবাহিকতায় বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

আগস্ট মাস থেকে দেখা যায় উল্টো চিত্র। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে আমদানি। রপ্তানি বাড়লেও কমতে থাকে রেমিট্যান্স। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও কমতে থাকে। বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়; বাড়তে থাকে দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, চলে পুরো অর্থবছর।

সেই ধারাবাহিকতায় চাহিদা মেটাতে নতুন অর্থবছরেও (২০২২-২৩) ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই একই জায়গায় ‘স্থির’ ছিল ডলারের দর। এরপর থেকেই বাড়তে থাকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রার দর।

হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, এই ১১ মাসে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে ডলারের দর বেড়েছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
ডলার বিক্রি ৭০০ কোটি ছাড়াল
টাকার মান কমল আরও ৫০ পয়সা
হঠাৎ কিছুটা শক্তি ফিরে পেল টাকা
আবার মান হারাল টাকা, চার দিনে চারবার
এক দিনে টাকার মান কমল দুইবার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Islami Bank in Shivpur Narsingdi

নরসিংদীর শিবপুরে ইসলামী ব্যাংক

নরসিংদীর শিবপুরে ইসলামী ব্যাংক
মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক দেশের সর্ববৃহৎ ও শক্তিশালী ব্যাংক। আমানত, বিনিয়োগ, আমদানি, রপ্তানি, রেমিট্যান্সসহ সকল সূচকে ইসলামী ব্যাংক শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

নরসিংদীর শিবপুরে শাখা খুলেছে ইসলামী ব্যাংক। এটি ব্যাংকটির ৩৮৫তম শাখা।

সোমবার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা শাখাটির উদ্বোধন করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের বক্তব্য দেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ কায়সার আলী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শাব্বির, ঢাকা ইস্টজোন প্রধান আমিনুর রহমান, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মিজানুর রহমান ভুঁইয়া এবং শিবপুর শাখাপ্রধান মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন।

গ্রাহক শুভানুধ্যায়ীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন শিবপুর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাপসী রাবেয়া, সরকারী শহীদ আসাদ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ হারুন অর রশিদ, সদর রোড বণিক সমিতির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন ভূইয়া, সানমুন টেইলার্সের প্রোপ্রাইটর তপন চন্দ্র বর্মন এবং খান ট্রেডার্সের প্রোপ্রাইটর মাইন উদ্দিন খান।

মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক দেশের সর্ববৃহৎ ও শক্তিশালী ব্যাংক। আমানত, বিনিয়োগ, আমদানি, রপ্তানি, রেমিট্যান্সসহ সকল সূচকে ইসলামী ব্যাংক শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। সারাদেশে বিস্তৃত শাখা, উপশাখা, এজেন্ট ও সিআরএম নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্রাহকদের সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিদান স্বরুপ আমানত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বড় বড় শিল্প কারখানায় বিনিয়োগের মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে ইসলামী ব্যাংক। গার্মেন্টস শিল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে এ শিল্পের বিকাশে ভূমিকা রাখছে।’‘দেশের ২৯ হাজার গ্রামে ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বিনা জামানতে গ্রুপভিত্তিক বিনিয়োগ সেবা প্রদান করছে ইসলামী ব্যাংক। এই প্রকল্পের সদস্য সংখ্যা ২৫ লাখ ২৪ হাজার; যার ৯২ শতাংশই নারী গ্রাহক।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে ৩৮৫টি শাখা, ২২৫টি উপশাখা, ২৭০০ এজেন্ট আউটলেট এবং ২০০০ এর অধিক এটিএম ও সিআরএম মেশিনের মাধ্যমে গ্রাহকদের আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ সেবা প্রদান করছে ইসলামী ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
ইসলামী ব্যাংক হেড অফিস কমপ্লেক্স শাখা নতুন ঠিকানায়
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের আইপিও আবেদন শুরু ১৬ অক্টোবর
ইসলামী ব্যাংকের নতুন পাঁচ সেবা চালু
৭% মুনাফায় সিএমএসএমই ঋণ দেবে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
৭% মুনাফায় সিএমএসএমই ঋণ দেবে ইসলামী ব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Exim Bank Sub Branch in Nitaiganj Narayanganj

নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে এক্সিম ব্যাংকের উপশাখা

নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে এক্সিম ব্যাংকের উপশাখা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য অঞ্জন কুমার সাহা। সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন।

আধুনিক ও ইসলামিক ব্যাংকিং সেবাকে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আরও কাছে পৌঁছে দিতে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে এক্সিম ব্যাংকের উপশাখা উদ্বোধন করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার নারায়ণগঞ্জ শাখার অধীনে পরিচালিত এই উপশাখাটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য অঞ্জন কুমার সাহা। সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অঞ্জন কুমার সাহা বলেন, ‘দেশব্যাপি এক্সিম ব্যাংক তার সামগ্রিক ব্যাংকিং কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে ব্যাংকের এই উপশাখা উদ্বোধন করা হয়েছে।’

তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে এক্সিম ব্যাংকের নিতাইগঞ্জ উপশাখার সাথে ব্যাংকিং করার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘এক্সিম ব্যাংক তার সামগ্রিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।’

তিনি ব্যাংকের বহুমূখী আমানত ও বিনিয়োগ হিসাবসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা উপশাখাটি উদ্বোধন করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং নিতাইগঞ্জ উপশাখার মাধ্যমে এ এলাকার জনগণ এক্সিম ব্যাংকের আন্তরিক সেবা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন:
এক্সিম ব্যাংকের নতুন এমডি ফিরোজ হোসেন
এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিলেন রাশেদুল হাসান
এক্সিম ব্যাংকের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ
হজযাত্রীদের জন্য আশকোনায় বুথ খুলেছে এক্সিম ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশংসাপত্র পেল এক্সিম ব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Banks have increased spending on sustainable and green financing

টেকসই ও সবুজ অর্থায়নে ব্যয় বাড়িয়েছে ব্যাংক

টেকসই ও সবুজ অর্থায়নে ব্যয় বাড়িয়েছে ব্যাংক টেকসই ও সবুজ অর্থায়নে ব্যয় বাড়িয়েছে ব্যাংক। প্রতীকী ছবি
কার্বন নিঃসরণ কমাতে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বেড়েছে ব্যাংকগুলোর অর্থায়ন। আবার টেকসই অর্থায়নের আওতায় এমন প্রকল্প যুক্ত হচ্ছে, যেখানে ব্যবহার হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ। এর ফলে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পের সংখ্যাও বাড়ছে দিন দিন।

অনিয়ন্ত্রিত কার্বন নিঃসরণে বাড়ছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি। বাড়ছে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও পানি বৃদ্ধি এবং মাটির লবণাক্ততা। ঝুঁকিগুলোকে শনাক্ত করে তা বন্ধে শুরু হয়েছে নানামুখী কার্যক্রম। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন ব্যাংক।

কার্বন নিঃসরণ কমাতে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বেড়েছে ব্যাংকগুলোর অর্থায়ন। আবার টেকসই অর্থায়নের আওতায় এমন প্রকল্প যুক্ত হচ্ছে, যেখানে ব্যবহার হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ। এর ফলে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পের সংখ্যাও বাড়ছে দিন দিন।

ঝুঁকি কমাতে এই দুই খাতে অর্থায়নের লক্ষ্য বেঁধে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এসব খাতে অর্থায়নে নজর বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি এখন দেশের অনেক ব্যাংকের শাখা ও এটিএম বুথে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার হচ্ছে।

ব্যাংকগুলোতে বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে গুরুত্ব পাচ্ছে প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার। কাগজের ব্যবহার কমাতেও উদ্যোগ নিয়েছে কোনো কোনো ব্যাংক। এ খাতে ব্যাংকগুলোর অর্থায়ন বাড়ছে।

চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে ৩১ হাজার ৬২২ কোটি ডলার। এর মধ্যে ব্যাংকগুলো অর্থায়ন করেছে ৩০ হাজার ৫৭৮ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

একই সময়ে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যাংকগুলো ২ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে, যা ব্যাংকগুলোর মোট মেয়াদি ঋণের ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০৫০ সালের মধ্যে ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের ৫০ শতাংশ সবুজ অর্থায়নে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। তবে এ দুটি খাতে ঋণ বাড়াতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার কমাতে হবে।

টেকসই অর্থায়নে কত অর্থ

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফিন্যান্স পলিসি অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো সাসটেইনেবল ফিন্যান্সের ১১টি ক্যাটাগরিতে মোট ৬৮টি পণ্যের বিপরীতে ঋণ দিতে পারে। এসব পণ্যের অধিকাংশই সবুজ অর্থায়নের অন্তর্ভুক্ত।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলো টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে ৩০ হাজার ৫৭৮ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করেছে ১ হাজার ৪৩ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ১৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

গত মার্চ পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলো টেকসই প্রকল্পে অর্থায়ন করে ২৫ হাজার ২৯০ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করে ৮৫৯ কোটি ডলার, যা মোট ঋণের ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

ঋণ বিতরণের এই ঊর্ধ্বমুখী হার ইঙ্গিত দিচ্ছে, সবুজ অর্থায়নের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে।

টেকসই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কৃষি, সিএমএসএমই, পরিবেশবান্ধব কারখানা, সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল প্রকল্পে অর্থায়ন। যদিও মোট ঋণের ২০ শতাংশ টেকসই প্রকল্পে হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঋণের ৭৩ শতাংশ নিয়েছে পুরুষ আর ২৭ শতাংশ নারী।

সবুজ অর্থায়ন

একই সময়ে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যাংকগুলো ২ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার অর্থায়ন করেছে, যা ব্যাংকগুলোর মোট মেয়াদি ঋণের ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করেছে ৩১০ কোটি ডলার, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর মেয়াদি ঋণের ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ।

মার্চ পর্যন্ত পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যাংকগুলো ১ হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার অর্থায়ন করে, যা ব্যাংকগুলোর মোট মেয়াদি ঋণের ৩ দশমিক ১০ শতাংশ। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়ন করে ৪০৯ কোটি ডলার, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর মেয়াদি ঋণের ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বর্জ্য পরিশোধনাগার বা ইটিপি নির্মাণ, পরিবেশবান্ধব ইট উৎপাদন অন্যতম। এই খাতে মোট মেয়াদি ঋণের ৫ শতাংশ ঋণ দেয়ার শর্ত রয়েছে।

টেকসই ও সবুজ অর্থায়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করতে দুই বছর ধরে বিভিন্ন মানদণ্ডে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) টেকসই বা সাসটেইনেবল রেটিং বা মান প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শীর্ষ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

চলতি জুন শেষে টেকসই অর্থায়নে বিদেশি ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ২৯ শতাংশ অর্জন করেছে। বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণের তালিকায় দ্বিতীয় ন্যাশনাল ব্যাংক ৬৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

এরপর আছে যথাক্রমে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ৫৩ দশমিক ৭২, কৃষি ব্যাংক ৫০ দশমিক ৬৭, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ৩১ দশমিক ৪৭, ট্রাস্ট ব্যাংক ২৮ দশমিক ৫৫, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ২৫ দশমিক ৮১, যমুনা ২৩ দশমিক ০৯, এনআরবি কমার্শিয়াল ২২ দশমিক ৪১, ব্র্যাক ২০ দশমিক ৬৮ এবং জনতা ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রার ২০ দশমিক ১১ শতাংশ বিতরণ করেছে।

ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) মধ্যে বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ ঋণ বিতরণ করেছে। এ ছাড়া লংকান অ্যালায়েন্স ৮৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ, হজ ফাইন্যান্স ৫৭ শতাংশ, মেরিডিয়ান ফাইন্যান্স ৪৭ দশমিক ০৯ শতাংশ ও সিভিসি ফাইন্যান্স ৪৩ দশমিক ২১ শতাংশ ঋণ দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
মহামারিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জোয়ার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Justice is not a reward if there is a case

মামলা থাকলে শুদ্ধাচার পুরস্কার নয়

মামলা থাকলে শুদ্ধাচার পুরস্কার নয়
যথাসম্ভব প্রমাণের ভিত্তিতে ক্যাটাগরি অনুসারে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্তকে শুদ্ধাচার পুরস্কার দিতে হবে। কোনো কর্মীর মোট প্রাপ্ত নম্বর ন্যূনতম ৮০ না হলে তিনি শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন না।

ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শুদ্ধাচার পুরস্কার দেয়ার নীতিমালার পর এবার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নীতিমালা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তাধীন অথবা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে বা দণ্ডপ্রাপ্ত হলে তাকে শুদ্ধাচার পুরস্কার দেয়া যাবে না।

এ ছাড়া পুরস্কার পেতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যূনতম তিন বছর সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকতে হবে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

এতে বলা হয়, শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান (সংশোধন) নীতিমালা, ২০২২ অনুযায়ী, শুদ্ধাচার পুরস্কার পেতে হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যূনতম তিন বছর সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকতে হবে।

যথাসম্ভব প্রমাণের ভিত্তিতে ক্যাটাগরি অনুসারে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্তকে শুদ্ধাচার পুরস্কার দিতে হবে। কোনো কর্মীর মোট প্রাপ্ত নম্বর ন্যূনতম ৮০ না হলে তিনি শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন না।

কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ অভিযোগ তদন্তাধীন অথবা ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে বা দণ্ডপ্রাপ্ত হলে তিনি শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন না বলেও উল্লেখ করা হয়।

একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রাপ্ত নম্বর একই হলে যৌথভাবে সেরা কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচন করতে হবে এবং প্রত্যেকে পৃথকভাবে পুরস্কৃত হবেন।

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যেকোনো অর্থবছরে একবার শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলে বদলি বা পদোন্নতি হলেও তিনি পরবর্তী তিন অর্থবছরে পুনরায় পুরস্কার পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন না।

বদলিযোগ্য চাকরির জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কর্মস্থলের প্রত্যয়ন নিতে হবে।

পুরস্কার দিতে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে প্রধান করে বাছাই কমিটি করতে নির্দেশনাও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট ও সম্মাননার পাশাপাশি সর্বশেষ মূল বেতনের সমপরিমাণ এক মাসের অর্থ প্রদান করা হবে।

আরও পড়ুন:
গম-ভুট্টা চাষে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক
শান্তা হোল্ডিংস ও ব্র্যাক ব্যাংক চুক্তি
কার্ডে কেনাকাটায় বাড়তি চার্জ, অস্বস্তি
দায়িত্বে ফিরছেন ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধান
ইসলামী ব্যাংক হেড অফিস কমপ্লেক্স শাখা নতুন ঠিকানায়

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Sonali Bank will provide loans for wheat and corn cultivation

গম-ভুট্টা চাষে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক

গম-ভুট্টা চাষে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণ চুক্তিপত্র সই করেছে সোনালী ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে গম ও ভুট্টার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ১ হাজার কোটি টাকা দেবে। অংশগ্রহণ চুক্তি করা ব্যাংকগুলো চাহিদার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেবে এবং তফসিলি ব্যাংকগুলো কৃষকদের মাঝে তা বিতরণ করবে।

গম ও ভুট্টার উৎপাদন বাড়াতে এ দুই খাতে ঋণ দেবে রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী ব্যাংক লিমিটেড।

চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত ১ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণ চুক্তিপত্র সই করেছে সোনালী ব্যাংক।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে তহবিলের চুক্তিতে সোনালী ব্যাংকের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আফজাল করিম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে কৃষি ঋণ বিভাগের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ সই করেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এ কে এম সাজেদুর রহমান খান, সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ ও জেনারেল ম্যানেজার মো. নূরুন নবী, বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগের উপপরিচালক মার্জিয়া আক্তার ও যুগ্ম পরিচালক মো. হাসান চিশতী।

বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে গম ও ভুট্টার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ১ হাজার কোটি টাকা দেবে। অংশগ্রহণ চুক্তি করা ব্যাংকগুলো চাহিদার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেবে এবং তফসিলি ব্যাংকগুলো কৃষকদের মাঝে তা বিতরণ করবে।

পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গম ও ভুট্টা চাষের উপযোগী অঞ্চলগুলোতে বিতরণে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান-সিইওর শ্রদ্ধা
জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে সোনালী ব্যাংক চেয়ারম্যানের শ্রদ্ধা
জিয়াউল হাসান আবারও সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The dollar rate of remittances is also decreasing

কমছে রেমিট্যান্সের ডলারের দর

কমছে রেমিট্যান্সের ডলারের দর
বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এখন ডলারের কোনো সংকট নেই। আমরা আশা করছি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে: বাফেদা চেয়ারম্যান

রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আনতে প্রতি ডলারের জন্য সর্বোচ্চ দর ১ টাকা কমিয়ে ১০৮ টাকা থেকে ১০৭ টাকায় নামিয়ে আনা হচ্ছে।

আমদানি কমায় এবং রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে বলে বিদেশি মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিম জানিয়েছেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে আমরা বাফেদার বৈঠক করব। ওই বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে টাকা-ডলারের বিনিময় হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে। আমরা রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ডলারের দর ১০৮ টাকা থেকে ১০৭ টাকায় নামিয়ে আনব। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে ৯৯ টাকাই রাখব।’

বাজারে ডলার সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) নেতারা গত ১১ সেপ্টেম্বর এক সভায় ডলারের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দেন। তাতে রপ্তানি আয়ে প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ দাম ৯৯ টাকা, প্রবাসী আয়ে ১০৮ টাকা দাম বেঁধে দেয়া হয়। আর ডলারের পাঁচ দিনের গড় খরচের চেয়ে এক টাকা বেশি দামে আমদানি দায় শোধ করতে বলা হয় ব্যাংকগুলোকে।

১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। যেটাকে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এর মধ্য দিয়ে ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ বাজারভিত্তিক করা হয়েছে।

টাকা-মুদ্রা বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়ার পর মঙ্গলবার ডলারের তেজ বেশ খানিকটা কমেছিল। এক দিনের ব্যবধানে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে আমেরিকান মুদ্রা ডলারের দর সাড়ে ৫ টাকা কমেছিল। কিন্তু বুধবার তা ফের বেড়েছে।

গত সোমবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৮ টাকা। আর সর্বনিম্ন দর ছিল ৯৯ টাকা ৬৫ পয়সা। ব্যবধান ছিল ৮ টাকা ৩৫ পয়সা। মঙ্গলবার ডলারের সর্বোচ্চ দর ৫ টাকা ৪৪ পয়সা কমে ১০২ টাকা ৫৬ পয়সায় নেমে আসে। আর সর্বনিম্ন দর ২ টাকা ১৩ পয়সা বেড়ে ১০১ টাকা ৭৮ পয়সা হয়েছিল। ব্যবধান নেমে এসেছিল মাত্র ৭৮ পয়সায়।

বুধবার ডলারের সর্বোচ্চ দর ফের বেড়ে ১০৭ টাকা ৬৫ পয়সায় উঠেছে। সর্বনিম্ন দর ছিল ১০০ টাকা। ব্যবধান বেড়ে ৭ টাকা ৬৫ পয়সা হয়েছে।

‘আগামী সপ্তাহ থেকে ডলার দুর্বল হবে; টাকা শক্তিশালী হবে’ এমন আশার কথা শুনিয়ে বাফেদার চেয়ারম্যান সোনালী ব্যাংকের এমডি আফজাল করিম বলেন, ‘ডলারের বাজার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। কিছুদিনের মধ্যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। আমদানি বেশ কমেছে; রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে বাজারে। এখন ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হবে। আর এটা অব্যাহত থাকবে বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে আমরা বাফেদার বৈঠক করব। ওই বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে টাকা-ডলারের বিনিময় হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে। আমরা রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ডলারের দর ১০৮ টাকা থেকে ১ টাকা কমিয়ে ১০৭ টাকায় নামিয়ে আনব। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে ৯৯ টাকাই রাখব।’

নতুন দর নির্ধারণের পর আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর আরও কমে আসবে জানিয়ে আফজাল বলেন, ‘বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এখন ডলারের কোনো সংকট নেই। আমরা আশা করছি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’

সংকট নিরসনে ডলারের দামের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দিয়ে দাম বাজারভিত্তিক করে দেয়া হয় গত ১৩ সেপ্টেম্বর। এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও স্বাভাবিক হচ্ছিল না ডলারের বাজার; উল্টো আগের মতোই চড়ছিল। দুর্বল হচ্ছিল টাকা; শক্তিশালী হয়েই চলছিল ডলার। তবে মঙ্গলবার থেকে স্বস্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু বুধবার ফের হোঁচট খেয়েছে।

ডলারের দাম নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকগুলোর দামকে স্বীকৃতি দেয়া শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই দরকেই আন্তব্যাংক লেনদেন দর বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে। আগের দিনের লেনদেনের দরকে পরের দিন সকালে প্রকাশ করা হয়। এটাকেই বাজারভিত্তিক দর বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

১৩ সেপ্টেম্বরের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছে রিজার্ভ থেকে খুব একটা ডলার বিক্রি করছে না। জ্বালানি তেল, সারসহ সরকারি কেনাকাটার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর জন্য রিজার্ভ থেকে সামান্য কিছু ডলার বিক্রি করা হচ্ছে।

সপ্তাহের শেষ দিন গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বুধবারের আন্তব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৭ টাকা ৬৫ পয়সা। আর সর্বনিম্ন দর ছিল ১০১ টাকা।

বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে মঙ্গলবারের আন্তব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০২ টাকা ৫৬ পয়সা; সর্বনিম্ন দর ছিল ১০১ টাকা ৭৮ পয়সা।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সোমবারের আন্তব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৮ টাকা; সর্বনিম্ন দর ছিল ৯৯ টাকা ৬৫ পয়সা।

১৩ সেপ্টেম্বর এই দর ছিল যথাক্রমে ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা ও ১০১ টাকা ৫০ পয়সা।

তার আগে প্রায় দেড় মাস আন্তব্যাংকে ডলারের ক্রয়-বিক্রয়মূল্য ৯৫ টাকায় আটকে রেখেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজারভিত্তিক করার আগের দিন অবশ্য ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও কমিয়ে ৯৬ টাকা করা হয়েছিল।

কয়েক দিন ধরে খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেট এবং ব্যাংকগুলোতে একই দামে নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কার্ব মার্কেটে ১১৪ টাকা ২০ পয়সায় ডলার বিক্রি হয়েছে। আর রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ১০৬ টাকা ২৫ পয়সায় নগদ ডলার বিক্রি করেছে। জনতা ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৬ টাকা ৯০ পয়সায়। অগ্রণী ব্যাংক থেকে কিনতে লেগেছে ১০৭ টাকা।

বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক গতকাল ১০৫ টাকা ৫০ পয়সায় নগদ ডলার বিক্রি করেছে। সিটি ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৪ টাকায়।

বাফেদার চেয়ারম্যান আফজাল করিম বলেন, ‘বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসছে। ব্যাংকে নগদ ডলারের দামও কমে আসবে।’

ডলারের দর ৫০ পয়সা বাড়ানোই যেখানে বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছিল এতদিন, সেখানে ১৩ সেপ্টেম্বর এক দিনে ১০ টাকা ১৫ পয়সা বাড়িয়ে ডলারের বাজার বাজারভিত্তিক করা হয়। ওইদিন বৈদেশিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এই মুদ্রাটির বিনিময় হার ঠিক করে দেয়া হয় ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা। আগের দিন দাম এক টাকা বেড়ে হয়েছিল ৯৬ টাকা। অর্থাৎ এক দিনে বাড়ে ১০ টাকা ১৫ পয়সা বা ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ওই সিদ্ধান্তে ইতিহাস সৃষ্টি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশে দেশে মুদ্রার দরপতনের যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। সাত মাসের কম সময়ে দেশের মুদ্রার দর পতন হয়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। এই যুদ্ধ শুরুর আগে দর ছিল ৮৪ থেকে ৮৫ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, টাকা ও ডলারের বিনিময় মূল্য ব্যাংকগুলো নির্ধারণ করেছে। জোগান ও চাহিদা এবং বাফেদার দামের ভিত্তিতে ডলারের এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দৈনন্দিন ভিত্তিতে ডলার কেনাবেচার মধ্যে নেই। তবে বাজার বিবেচনায় প্রয়োজন হলে কেনাবেচা করবে।

ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে এখন এই দরে ডলার কেনাবেচা করছে। এটাকেই আন্তব্যাংক দাম বলা হচ্ছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে দামে ডলার কেনাবেচা করত, সেটি আন্তব্যাংক দর হিসেবে উল্লেখ করা হতো। সেই দামই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
ডলারের দর আরও ১ টাকা বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ব্যাংকে ডলারের নতুন দর কার্যকর হয়নি
ডলার নিয়ে সিদ্ধান্তের ‘মাথামুণ্ডু নেই’
ডলারের একক রেট: রেমিট্যান্সে ১০৮, রপ্তানিতে ৯৯
ডলারের অভিন্ন দর নির্ধারণে আরও সময় চায় এবিবি ও বাফেদা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Shanta Holdings and BRAC Bank deal

শান্তা হোল্ডিংস ও ব্র্যাক ব্যাংক চুক্তি

শান্তা হোল্ডিংস ও ব্র্যাক ব্যাংক চুক্তি
চুক্তির ফলে প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মকর্তারা ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন গ্রহণের পাশাপাশি এমপ্লয়ি ব্যাংকিংয়ের সব ধরনের সেবা ও সুবিধা উপভোগ করবেন।

ব্র্যাক ব্যাংক শান্তা গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান-শান্তা হোল্ডিংস লিমিটেড ও শান্তা লাইফস্টাইল লিমিটেডের সঙ্গে এমপ্লয়ি ব্যাংকিং চুক্তি করেছে।

এই চুক্তির ফলে প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মকর্তারা ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন গ্রহণের পাশাপাশি এমপ্লয়ি ব্যাংকিংয়ের সব ধরনের সেবা ও বিশেষায়িত সুবিধা উপভোগ করবেন বলে ব্যাংকটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকায় চুক্তি সই অনুষ্ঠানে শান্তা গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এম আনিসুল হক, শান্তা হোল্ডিংসের সিইও এম হাবিবুল বাসিত, সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (হেড অব অ্যাডমিন অ্যান্ড এইচআর) ইরশাদুর রহমান এবং শান্তা লাইফস্টাইলের সিইও দেওয়ান এম সাজিদ আফজাল।

ব্র্যাক ব্যাংকের হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং মাহীয়ুল ইসলাম, হেড অব এমপ্লয়ি ব্যাংকিং খন্দকার এমদাদুল হক, এরিয়া হেড, ঢাকা ওয়েস্ট রিজিওন আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ব্র্যাক ব্যাংক গ্রাহকরা ‘উপায়’ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে পারবেন
৭% সুদে সিএমএসএমই ঋণ দেবে ব্র্যাক ব্যাংক
ব্র্যাক ব্যাংকে জাতীয় শোক দিবস পালন
ব্র্যাক ব্যাংকের ‘তারা’ গ্রাহকদের ছাড় দিচ্ছে ওয়ান্ডার ওম্যান
ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং বন্ডের সাবস্ক্রিপশন ক্লোজার অনুষ্ঠান

মন্তব্য

p
উপরে