× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
In Khulna cow skin is 300 600 rupees and goat is free
hear-news
player
print-icon

খুলনায় গরুর চামড়া ৩০০-৬০০ টাকা, ছাগলের ফ্রি

খুলনায়-গরুর-চামড়া-৩০০-৬০০-টাকা-ছাগলের-ফ্রি
খুলনা মহানগরীর চামড়াপট্টিতে রোববার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, বড় গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। ছোট গরুর চামড়া ৩০০ টাকায়। আর ছাগলের চামড়া হয় এমনিতেই রেখে দিচ্ছেন অথবা ৫-১০ টাকা দিচ্ছেন।

খুলনায় কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নিয়ে অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন মাদ্রাসার হুজুর ও কসাইরা।

তারা বলছেন, ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দাম তো নয়ই, দিচ্ছেন গত বছরের চেয়েও অনেক কম।

মহানগরীর চামড়াপট্টিতে রোববার বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, বড় গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। ছোট গরুর চামড়া ৩০০ টাকায়। আর ছাগলের চামড়া হয় এমনিতেই রেখে দিচ্ছেন অথবা ৫-১০ টাকা দিচ্ছেন।

কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলেও চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে বিক্রেতাদের দামেই দিয়ে দিচ্ছেন হুজুর ও কসাইরা।

মো. মাসুদ নামের এক মাদ্রাসাশিক্ষক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৬ থেকে ৭ লাখ টাকা দামের তিনটি গরুর চামড়া নিয়ে এসেছি। সরকার নির্ধারিত দাম নয়, তিনটি মিলিয়ে ৩ হাজার টাকা চাচ্ছি, কিন্তু তাও দিতে রাজি নয় কেউ। তারা সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা দিতে চায়।’

নগরীর মহিরবাড়ী খালপাড় এলাকার দারুল উলুম মহিলা মাদ্রাসার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হুজুর ১০টি চামড়া বিক্রি করেছেন চামড়াপট্টিতে।

তিনি জানান, বড় গরুর চামড়াগুলো বিক্রি করেছেন ৫৫০ টাকা দরে আর ছোট গরুগুলোর ৩০০ টাকা দরে। সঙ্গে দুটি ছাগলের চামড়া এনেছিলেন। ব্যাপারী সেগুলো ফ্রিতে রেখে দিয়েছেন এবং উল্টো লবণের দাম চেয়েছেন।

ঈদের আগেই চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এবার ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম ৪৭ থেকে ৫২ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, গরুর আকৃতি ও ওজনভেদে চামড়ার পরিমাপ কমবেশি হয়। সাধারণত গরুর চামড়া সর্বনিম্ন ২২ থেকে সর্বোচ্চ ২৬ বর্গফুট পর্যন্ত হয়। আর ছাগল-খাসির চামড়ার গড়হার হচ্ছে সাড়ে ৪ বর্গফুট।

খুলনার চামড়াপট্টির ব্যাপারীরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কিনে সেই দামে তারা ট্যানারিতে বিক্রি করতে পারেন না। তা ছাড়া ট্যানারি মালিকরা তাদের পাওনা টাকাও ঠিকমতো দেন না।

একসময় খুলনার চামড়াপট্টিতে ৪৫টির মতো দোকান থাকলেও এখন কোনো স্থায়ী দোকান নেই। চামড়া কেনাবেচা হয় রাস্তার ওপর। তারপর সেখান থেকে নিয়ে গিয়ে রূপসা এলাকায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়।

নগরীর শেখপাড়া চামড়াপট্টির মেসার্স কার্ত্তিক এন্টারপ্রাইজের মালিক কার্ত্তিক ঘোষ বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দামে আমরা ট্যানারি মালিকদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে পারি না। সরকার নির্ধারিত দাম চাইলে তারা বলে যাও সরকারের কাছেই বিক্রি করো। আমরা নেব না।

‘তখন আমাদের আর কিছু করার থাকে না। নিরুপায় হয়ে তাদের কাছে কম রেটে চামড়া দিতে হয়। এ কারণেই আমরা কম রেটে বাজার থেকে চামড়া সংগ্রহ করছি।’

আরেক চামড়া ব্যবসায়ী ইয়াসিন লেদারের মালিক আবু জাফর বলেন, ‘৪০ বছর ধরে আমাদের কয়েক পুরুষের চামড়ার ব্যবসা। ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে আমরা বকেয়া টাকা পাচ্ছি না। আমরাই চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাই না।

‘১১ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন ট্যানারি মালিকের কাছে আমাদের প্রায় ৪০ লাখ টাকা আটকে আছে।’

আরও পড়ুন:
কুষ্টিয়ায় চামড়ার দাম নিয়ে হতাশা
প্রধানমন্ত্রীকে নরেন্দ্র মোদির ঈদ শুভেচ্ছা
রাত ১২টার মধ্যে পশুর বর্জ্যমুক্ত হবে খুলনা সিটি
কোরবানির মাংসের বাজার, কেজি ৩০০ থেকে ৪৫০
নেহাত খারাপ না কর্মস্থলের ঈদ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Facilitation increased in exchange and sale of gold ornaments

স্বর্ণালংকার পরিবর্তন ও বিক্রিতে সুবিধা বাড়ল

স্বর্ণালংকার পরিবর্তন ও বিক্রিতে সুবিধা বাড়ল
আগে স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ীদের কাছে কেউ গহনা বিক্রি করলে মূল দামের ২০ শতাংশ বাদ দেয়া হতো। তবে বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে মূল দামের ১৫ শতাংশ টাকা কম দেয়া হবে।

স্বর্ণালংকার বিক্রি করলে এখন থেকে বেশি টাকা পাবেন অলংকারের মালিকেরা। অলংকার পরিবর্তন করার ক্ষেত্রেও বাড়ছে সুবিধা।

স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আগে স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ীদের কাছে কেউ গহনা বিক্রি করলে মূল দামের ২০ শতাংশ বাদ দেয়া হতো। তবে বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে মূল দামের ১৫ শতাংশ টাকা কম দেয়া হবে।

এছাড়া, অলংকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ দাম বাদ দেয়ার আগের নিয়ম পরিবর্তন করে ৮ শতাংশ করা হয়েছে।

এর ফলে আগের চেয়ে বাড়তি সুবিধা পাবেন গহনার মালিক। বাজুস সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সংগঠনের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এছাড়া স্বর্ণালংকার বা গহনা বিক্রির সময় ন্যূনতম মজুরি প্রতি গ্রামে ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশের সব জুয়েলারি ব্যবসায়ীকে এই সিদ্ধান্ত অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে বাজুস।

আরও পড়ুন:
স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে ১৩৪১ টাকা
বিমানের ময়লার ঝুড়িতে মিলল ১ কেজি স্বর্ণের বার
আমিরাতফেরত যাত্রীর ব্যাগে সোয়া কেজি স্বর্ণ
ডিবি পরিচয়ে স্বর্ণালংকার লুটে গ্রেপ্তার ৪
স্বর্ণের দাম আরও কমল

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Oil prices may come down after 2 months Information Minister

২ মাস পর কমতে পারে তেলের দাম: তথ্যমন্ত্রী

২ মাস পর কমতে পারে তেলের দাম: তথ্যমন্ত্রী ফাইল ছবি
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববাজারে দাম কমে আসলে তার প্রভাব আমাদের দেশে পড়তে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগে। তখন আমাদের দেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হবে।’

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রভাব দেশে আসতে আসতে দেড় থেকে দুই মাস লেগে যেতে পারে বলে মনে করছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহদ।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতিতে এতো ভর্তুকি দেয়া সম্ভব না। প্রতিদিন ১০০ ডলার করে গত তিন মাসে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। এখন সরকার দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।

‘বিশ্ববাজারে দাম কমে আসলে তার প্রভাব আমাদের দেশে পড়তে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগে। তখন আমাদের দেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি জনগণের কাছে অনুরোধ জানাব, বিশ্ববাজারে যখন তেলের মূল্য কমে আসবে, সেটি যখন বাংলাদেশের বাজারে প্রভাব পড়তে শুরু করবে তখন জ্বালানি তেলের মূল্য আবার সমন্বয় করা হবে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি জানি এই বিষয়টি নিয়ে অনেক রাজনৈতিক দল মাঠ গরম করার চেষ্টা করছে। তাদেরকে আমি অনুরোধ জানাব বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে তাকাতে। সরকার গত বছর ৫৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে৷ এবছরও কি ৫৩ হাজার কোটি টাকা বা বিপিসির পক্ষে প্রতিদিন ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া সম্ভব?

‘সেটি কোনো দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। সেটি সম্ভব নয় বিধায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপের অনেক শক্তিশালী দেশ এবং জাপানও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নীতি নিয়ে চলছে। সংকটময় পরিস্থিতির জন্যই বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানো হয়েছে।’

জ্বালানি তেলে দাম আরও আগে বাড়ানো উচিৎ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তেলের দাম আরো আগেই বাড়ানো উচিৎ ছিল। তাহলে আমাদের এতো ভর্তুকি দিতে হতো না। হঠাৎ করে বাড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে মানুষ একটু হতচকিত হয়ে গেছে। এটা আমি জানি বা বুঝি। তবে বিশ্ব প্রেক্ষাপটে মূল্য সমন্বয় না করে উপায় ছিল না।

‘যখন বিশ্ব বাজারে দাম কমে তখন এর প্রভাব পড়তে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগে। এজন্য যে দাম কমলে আজকেই বাংলাদেশে চলে আসে না। আসতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই মাস। যখন দেখতে পারছি যে কোনভাবে আমাদের অর্থনীতি এতো ভর্তুকি দেয়া সম্ভব না, প্রতিদিন ১০০ ডলার করে গত তিন মাসে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। তখন সরকার দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। যখন বিশ্ব বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারে সমন্বয় করা হবে।’

জ্বালানির দামে দোহাই দিয়ে গণপরিবহনে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায়ের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘সরকার যে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে তার থেকে যদি কেউ ভাড়া বেশি নেয়। সেটা অন্যায়। সরকার নিশ্চয়ই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এটির প্রভাব অন্যান্য পণ্যের ওপর এখনই পড়ার কোন কারন নেই।’

মন্ত্রী বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তেলের দাম ৭০ থেকে ১০০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর তেলের দাম বাড়ায়নি। গত বছর ৫৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছি। এভাবে ভর্তুকি দেয়া কোনোভাবেই সম্ভব না। গত ৩ মাসে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। এ জন্যই দাম বাড়ালো হয়েছে।

‘কিছু তেল ভারতে পাচার হচ্ছিল। ভারত থেকে আসা লরি ট্রাক তেল ভরে নিয়ে যায়। সরকার দাম বাড়ানোর পরেও ডিজেলে ভর্তুকি দিতে হবে।’

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে গত শুক্রবার জানানো হয়। ওই দিন মধ্যরাতেই কার্যকর হয় নতুন দর। এর প্রতিবাদে চলছে বিক্ষোভ।

দেশে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী এক লিটার ডিজেল ও কেরোসিন কিনতে হবে ১১৪ টাকায়।

অকটেনের দাম লিটারে বাড়ানো হয় ৪৬ টাকা। এখন প্রতি লিটার অকটেন কিনতে ১৩৫ টাকা গুনতে হবে। এর বাইরে লিটারপ্রতি ৪৪ টাকা বাড়ানো হয় পেট্রলের দাম। এখন থেকে জ্বালানিটির প্রতি লিটার ১৩০ টাকা।

শতকরা হিসাবে ডিজেলের দাম বাড়ানো হয় ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। আর অকটেন ও পেট্রলের দাম বৃদ্ধি করা হয় ৫১ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: ঢাকার বিক্ষোভের খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে
তেলের দাম না কমানো পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি চ্যালেঞ্জ করে রিট

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Writ challenging the decision to increase the price of fuel oil

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি চ্যালেঞ্জ করে রিট

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি চ্যালেঞ্জ করে রিট প্রতীকী ছবি
রিটে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ সচিব, মন্ত্রণালয়টির উপসচিব এবং বিইআরসি চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়। রিটটি বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্টে বেঞ্চে শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী।

ডিজেল, পেট্রল, অকটেনসহ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের রিট করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সোমবার রিটটি করেন।

রিটে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ সচিব, মন্ত্রণালয়টির উপসচিব ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটটি বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্টে বেঞ্চে শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে গত ৫ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।

রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা জানিয়ে দেশে জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী এক লিটার ডিজেল ও কেরোসিন কিনতে হবে ১১৪ টাকায়।

অন্যদিকে অকটেনের দাম লিটারে বাড়ানো হয় ৪৬ টাকা। এখন প্রতি লিটার অকটেন কিনতে ১৩৫ টাকা ‍গুনতে হবে।

এর বাইরে লিটারপ্রতি ৪৪ টাকা বাড়ানো হয় পেট্রলের দাম। এখন থেকে জ্বালানিটির প্রতি লিটার ১৩০ টাকা।

শতকরা হিসাবে ডিজেলের দাম বাড়ানো হয় ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। আর অকটেন ও পেট্রলের দাম বৃদ্ধি করা হয় ৫১ শতাংশ।

জ্বালানি তেলের বর্ধিত এ দাম কার্যকর হয় শুক্রবার মধ্যরাত থেকে। এর আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালানি তেল নিতে পেট্রল পাম্পে ভিড় জমান গাড়িচালকরা, তবে অনেক জায়গায় বন্ধ করে দেয়া হয় পেট্রল পাম্প।

আরও পড়ুন:
বিশ্ববাজারে কমলে দেশেও কমবে তেলের দাম: কাদের
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ মহাসড়কে
লঞ্চ ভাড়া কতটা বাড়বে, সিদ্ধান্ত বিকেলে
ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে ধর্মঘটে ট্যাংকলরি মালিকরা
তেলের দামে যে সংস্কার চায় আইএমএফ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The explanation of the increase in oil prices is given by the Ministry of Energy

তেলের দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের

তেলের দাম বাড়ানোর ব্যাখ্যা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতীকী ছবি
ডিজেলের দাম বাড়ানোর পরও এ তেলে লিটারপ্রতি ৮ দশমিক ১৩ টাকা লোকসান গুনতে হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। জ্বালানি তেল যাতে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার না হয়ে যায়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

জ্বালানি তেলের আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ব্যাখ্যা দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা জানিয়ে দেশে জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী এক লিটার ডিজেল ও কেরোসিন কিনতে হবে ১১৪ টাকায়।

অন্যদিকে অকটেনের দাম লিটারে বাড়ানো হয় ৪৬ টাকা। এখন প্রতি লিটার অকটেন কিনতে ১৩৫ টাকা ‍গুনতে হবে।

এর বাইরে লিটারপ্রতি ৪৪ টাকা বাড়ানো হয় পেট্রলের দাম। এখন থেকে জ্বালানিটির প্রতি লিটারের দাম ১৩০ টাকা।

তেলের দাম বাড়ানোর পরদিন শনিবার দুপুরে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, মূল্য বৃদ্ধি না করা হলে তিনটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা হারাবে সরকার।

ডিজেলের দাম বাড়ানোর পরও এ তেলে লিটারপ্রতি ৮ দশমিক ১৩ টাকা লোকসান গুনতে হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

জ্বালানি তেল যাতে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার না হয়ে যায়, সে বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সর্বশেষ গত বছরের ৩ নভেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কেবল ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য বৃদ্ধি করে পুনর্নির্ধারণ (ডিজেল ৮০ টাকা ও কেরোসিন ৮০ টাকা) করা হয়। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রবণতা সত্ত্বেও অকটেন ও পেট্রলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়নি।

মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরুর দিকে কোভিড-১৯-এর প্রকোপ কিছুটা কমায় বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর পরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য আরও বেড়ে যায়।

ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘বিপিসির ব্রেক ইভেন অর্থ আন্তর্জাতিক বাজারে যদি ডিজেল প্রতি ব্যারেল ৭৪ দশমিক শূন্য ৪ ডলার এবং অকটেন প্রতি ব্যারেল ৮৪ দশমিক ৮৪ ডলারে নেমে আসে, তবে ডিজেল ও অকটেন প্রতি লিটার যথাক্রমে ৮০ টাকা ও ৮৯ টাকায়, অর্থাৎ বিদ্যমান মূল্যে বিক্রয় করা সম্ভব হতো, যা এখন প্রায় অসম্ভব।

‘একইভাবে ক্রুড অয়েলের মূল্য এ বছরের জুনে ব্যারেলপ্রতি ১১৭ মার্কিন ডলার অতিক্রম করে, যা এখনও অব্যাহত আছে। জ্বালানি তেল আমদানিতে সর্বশেষ গত জুলাই মাসের গড় প্লাস রেট অনুযায়ী বিপিসির দৈনিক লোকসানের পরিমাণ ডিজেলে প্রায় ৭৪ কোটি ৯৪ লাখ ৯২ হাজার ৭০০ টাকা ও অকটেনে প্রায় ২ কোটি ৯২ লাখ ২৩ হাজার ২১৬ টাকা। মোট প্রায় ৭৭ কোটি ৮৭ লাখ ১৫ হাজার ৯১৬ টাকা। গত মে ও জুনে লোকসান ছিল শতাধিক কোটি টাকা।’

বিপিসির বিপুল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে জানিয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘এভাবে গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিপিসির প্রকৃত লোকসান/ভর্তুকি দাঁড়ায় ৮ হাজার ১৪ কোটি টাকার ওপরে। সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ে ডিজেলের মূল্য ১১৪ টাকা করা হলেও গত জুলাইয়ের গড় হিসাবে প্রতি লিটারে খরচ পড়বে ১২২ দশমিক ১৩ টাকা, অর্থাৎ প্রতি লিটারে তার পরও ৮ দশমিক ১৩ টাকা লোকসান বিপিসিকে বহন করতে হবে।

‘গত ১২ জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় ডিজেল লিটারপ্রতি ৯২ দশমিক ৭৬ রুপি বা সমতুল্য ১১৪ দশমিক শূন্য ৯ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে, যা বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩৪ দশমিক শূন্য ৯ টাকা বেশি এবং পেট্রল লিটারপ্রতি ১০৬ দশমিক শূন্য ৩ রুপি বা সমতুল্য ১৩০ দশমিক ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা বাংলাদেশ থেকে ৪৪ দশমিক ৪২ টাকা বেশি। এ পার্থক্যের কারণে বহু কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে আমদানীকৃত জ্বালানি পণ্য পাচার হওয়ার আশঙ্কা বিদ্যমান। তাই মূল্য সমন্বয়ে পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি পণ্যের মূল্যের পার্থক্যজনিত পাচার রোধ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।’

‘বিপিসির আর্থিক সক্ষমতা কমছে’

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিপিসির আর্থিক সক্ষমতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকে। জ্বালানি পণ্যের বিদ্যমান হারে তেল বিক্রয় ও অন্যান্য আয় খাতে গড়ে বিপিসির মাসিক জমা/আয় প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এলসি পেমেন্টসহ অন্যান্য খাতে বিপিসির ব্যয় বর্তমানে সর্বশেষ জুলাই মাসে গিয়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৩১২ দশমিক ৭৬ কোটি টাকা।’

এতে বলা হয়, ‘বিপিসির জ্বালানি তেলের অর্থায়নের জন্য দুই মাসের আমদানি মূল্যের সমান হিসেবে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন হিসেবে সংস্থান রাখা আবশ্যক। বর্তমানে চলতি মূলধন হ্রাস পাওয়ায় গত মার্চ থেকে অদ্যাবধি উন্নয়ন প্রকল্প ও বিবিধ খাত থেকে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করে ভর্তুকিসহ জ্বালানি তেলের মূল্য ও অন্যান্য বিল পরিশোধ করতে হয়েছে।

‘গত ৩১ জুলাই বিপিসির হিসাবে সামগ্রিকভাবে অর্থ জমা রয়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা, যা দিয়ে আগস্ট মাসের পর আমদানি ব্যয় অর্থায়ন করা সম্ভব হবে না। উল্লেখ্য, বিপিসির জন্য জাতীয় বাজেটে কোনো অর্থ সংস্থান রাখা হয়নি। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক পেমেন্ট অবিস্মিত রাখার মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে বিপিসির আর্থিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখা জরুরি।’

এতে আরও বলা হয়, ‘২০১৬ সালে সরকার যখন জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস করে পুনর্নির্ধারণ করে, তখন ডলার ও টাকার বিনিময় হার ছিল ৭৯ টাকা। গত বছরের ৩ নভেম্বর সরকার যখন জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করে, তখন ডলার ও টাকার বিনিময় হার ছিল ৮৫ দশমিক ৮৫ টাকা, যা বর্তমানে ৯৩ দশমিক ৫০ টাকায় উন্নীত হয়েছে।

‘অধিকন্তু বর্তমানে ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকসমূহ বিসি রেটে বিপিসির এলসি খুলতে অনীহা প্রকাশ করায় বাংলাদেশ ব্যাংক মার্কেট রেটে ডলার সংগ্রহের নির্দেশনা প্রদান করে। ফলে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণেও জ্বালানি তেল আমদানিতে বিপিসির ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।’

সরকারের ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘বর্তমানে বিপিসিতে তার পরিচালন সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিজস্ব তহবিল হতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প চলমান। এগুলো হলো সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং উইথ ডবল পাইপলাইন, ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন, জেট এ-১ পাইপলাইন এবং ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন।

‘তা ছাড়া ইআরএল ইউনিট-২ প্রকল্পের সমুদয় অর্থ (প্রায় ১৯ হাজার ৪০৪ দশমিক ৭২ কোটি টাকা) বিপিসির নিজস্ব তহবিল হতে সংস্থানের জন্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ডিপিপি অনুমোদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা না হলে বর্ণিত প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে বিপিসি আর্থিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।’

আরও পড়ুন:
ভাড়া বাড়লে সড়কে বাস নামাবেন বগুড়ার মালিকরা
সিলেটে কমেছে বাস চলাচল, নেয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া
অগ্রিম টিকিটে বাড়তি ভাড়া, বন্ধ নতুন টিকিট
‘রাতে আটটি পাম্প ঘুরেও তেল নিতে পারিনি’ 
বাস ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে বৈঠক বিকেলে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The landlords knew that the price of oil would increase

তেলের দাম বাড়বে, আগেই জানতেন বাসমালিকরা

তেলের দাম বাড়বে, আগেই জানতেন বাসমালিকরা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরের দিন শনিবার কম বাস চলাচল করতে দেখা যায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। ছবি: নিউজবাংলা
যাত্রীদের ভোগান্তি আড়ালে আগের ভাড়া নিতে বাসের কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন মালিকরা। একই সঙ্গে বাসের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে চালকদের অন্তত শনিবার দিনভর গাড়ি চালাতে বলেছেন তারা। শনিবার সকাল থেকে রাজধানী ও দূরপাল্লার বাস চলাচলের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে এমন তথ্য পেয়েছে নিউজবাংলা।

সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা হঠাৎ দিলেও বিষয়টি আগেই জানতেন বাসমালিকরা। এ কারণে কৌশলী ভূমিকা নিয়েছেন তারা।

যাত্রীদের ভোগান্তি আড়ালে আগের ভাড়া নিতে বাসের কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন মালিকরা। একই সঙ্গে বাসের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে চালকদের অন্তত শনিবার দিনভর গাড়ি চালাতে বলেছেন তারা।

শনিবার সকাল থেকে রাজধানী ও দূরপাল্লার বাস চলাচলের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে এমন তথ্য পেয়েছে নিউজবাংলা।

এদিকে ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির কথা বলে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করতে দেখা যায় বাসের চালক ও সহকারীদের। ভাড়া বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা শনিবার বিকেলের মধ্যে না এলে পরিবহন ধর্মঘটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন চালকরা।

কৌশলী বাসমালিকরা

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা জানিয়ে দেশে জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের শুক্রবার সন্ধ্যার প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী এক লিটার ডিজেল ও কেরোসিন কিনতে হবে ১১৪ টাকায়। অন্যদিকে অকটেনের দাম লিটারে বাড়ানো হয় ৪৬ টাকা। এখন প্রতি লিটার অকটেন কিনতে ১৩৫ টাকা ‍গুনতে হবে।

এর বাইরে লিটারপ্রতি ৪৪ টাকা বাড়ানো হয় পেট্রলের দাম। এখন থেকে জ্বালানিটির প্রতি লিটার ১৩০ টাকা।

ডিজেলের আকস্মিক এ মূল্যবৃদ্ধির পর শনিবার সকাল থেকে রাজধানী ও দূরপাল্লার অনেক বাসের চলাচল স্বাভাবিক ছিল। এমনকি তারা আগের ভাড়াতেই গাড়ি চালানোর দাবি করেন, তবে এর বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে।

শুক্রবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর থেকেই অনেক মালিক তাদের বাস চালানো বন্ধ রাখেন।

রাজধানীর গুলিস্তান-মহাখালীসহ একাধিক বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। রাজধানীর গুলিস্তানে গিয়ে দেখা যায় প্রায় সব রুটের বাস ছাড়ছে এখান থেকে।

গাজীপুরগামী একটি পরিবহনের চালক মিল্টন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মালিক বলেছে আজকে কষ্ট করে হলেও আগের ভাড়াতেই বাস চালাতে। বিকেলের মধ্যেই ভাড়া বাড়ানোর একটি সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে। এটা নিয়ে আমাদের দুঃশ্চিন্তা করতে মানা করেছে মালিক।’

ঢাকার দোহারগামী একটি বাসের চালক মোহাম্মদ আলী জানান, মালিকের নির্দেশে তিনিও আগের ভাড়াই নিচ্ছেন।

তেলে বাড়তি খরচ করে বাস চালানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই তো দুপুর পর্যন্তই চালাব। তারপর অবস্থা বুঝে বন্ধ করে দেব। ভাড়া না বাড়লে গাড়ি বন্ধ থাকবে।’

আগের ভাড়াতে বাস চলছে কি না, তা যাচাই করতে কয়েকটি বাসে চড়ে রাজধানীর একাধিক গন্তব্যে যান এ প্রতিবেদক। প্রতিটি বাসের সহকারীরা যাত্রীদের কাছ থেকে আগের ভাড়াই আদায় করেন।

আগের ভাড়ায় বাস চালাচ্ছেন কেন জানতে চাইলে গুলিস্তান থেকে গাজীপুরগামী একটি পরিবহনের সহকারী বলেন, ‘আমরা তো বাস নামাইতাম না। আমাগো মালিক আওয়ামী লীগের নেতা। সরকারের কথা তো মানতে হইব। আমাগোরে কইল তোরা বাস চালা।

‘ভাড়া বাড়ানোর ব্যবস্থা হইতাছে। বাড়তি ভাড়া নিয়া গ্যাঞ্জাম বাধাইস না। পাবলিক ক্ষেইপা গেলে চাপ আইব। চুপচাপ থাক; সব হইব।’

যাত্রাকালে কথাচ্ছলে মহাখালী থেকে মিরপুরগামী একটি বাসচালকের কাছ থেকেও একই ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মিরাজ নামের ওই চালক বলেন, ‘মালিক বলল, কোনো ঝামেলার দরকার নাই। ভাড়া অটো বাড়ব। কোনো আওয়াজ দরকার নাই।’

চালকের তথ্য অনুযায়ী, এ পরিবহনের মালিকও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত।

মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেল স্বনামধন্য পরিবহনগুলোর টিকেট কাউন্টারগুলো খোলা, তবে বন্ধ রয়েছে অনেকগুলো পরিবহনের কাউন্টার।

খোলা কাউন্টারগুলোতে আগের ভাড়াতেই যাত্রীদের টিকেট দেয়া হচ্ছে।

তেলের দাম বাড়বে, আগেই জানতেন বাসমালিকরা

উত্তরা পরিবহনের টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বরত মো. আলিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকেই আমাদের বাস চলছে, তবে আগের তুলনায় অর্ধেক। সব মালিকরা বাস চালাচ্ছেন না। আজকে সকাল থেকে ৬টা বাস ছেড়ে গেছে।

‘অন্য দিন এই সময়ে ১২ থেকে ১৫টি বাস ছাড়ে। একটু পর হয়তো আর আমাদের বাস চলবে না।’

কিশোরগঞ্জগামী অনন্যা পরিবহনের কাউন্টারের দায়িত্বরত মো. শামীম বলেন, ‘আমাদের বাস চলেছে। মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে সমিতির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। বিকেলের মধ্যে সিদ্ধান্ত না পেলে বাস বন্ধ করার প্রস্তুতি আছে আমাদের।’

কাউন্টারগুলো থেকে আগের ভাড়ায় যাত্রী তোলা হলেও কিছু কিছু বাসের চালক-সহকারীদের মাঝ রাস্তা থেকে বাড়তি ভাড়ায় যাত্রী তুলতেও দেখা যায়।

মহাখালী টার্মিনালের বাইরে ময়মনসিংহগামী স্বাধীন পরিবহনের একটি বাসের সহকারীর সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ান সুমন নামের এক যুবক। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি মুক্তাগাছা যাব। অন্য সময় ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় যাই। আজকে ওরা ৩৫০ টাকা চাইছে ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে। সরকার তো এখনও বাসের ভাড়া বাড়ায়নি। তাহলে তারা কেন বাড়তি ভাড়া আদায় করছে?’

তেলের দাম বাড়বে, আগেই জানতেন বাসমালিকরা

মালিক সমিতির মহাসচিবের ভাষ্য

বাস চলাচল, ভাড়া বৃদ্ধিসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সব মালিককে বাস চালাতে আমরা নির্দেশ দিয়েছি। একই সঙ্গে বাড়তি ভাড়া না নিতেও বলা হয়েছে। অধিকাংশ বাসমালিকই আমাদের নির্দেশনা মানছেন।

‘কেউ কেউ আছে, তারা তাদের বাস বন্ধ রেখেছেন। আমরা ভাড়া সমন্বয়ের জন্য বিআরটিএকে চিঠি দিয়েছি। আজকে বিকেল ৫টায় বিআরটিএ কার্যালয়ে একটি বৈঠক হবে। আমরা যাত্রী সাধারণের কথা মাথায় রেখে বাস চালিয়ে যাব।’

নির্দেশনা অমান্য করে বাড়তি ভাড়া নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খাতে একটা অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। আর অস্থির সময়ে সবাইকে নিয়মের মধ্যে রাখা সম্ভব হয় না।

‘এমন সময়ে অনেকেই সুযোগ নিতে চায়। তবুও আমরা খেয়াল রাখব ভাড়া সমন্বয়ের আগে কেউ যেন বাড়তি ভাড়া আদায় করতে না পারে।’

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার খবর আগে থেকে জানতেন কি না, সে প্রশ্নের জবাবে এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা জানতাম। মাসখানেক আগে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে একটা মিটিং করেছিলাম আমরা। তখন এ বিষয়টা নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল।’

আরও পড়ুন:
বাস ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে বৈঠক বিকেলে
মাগুরায় ‘মালিক পক্ষের নির্দেশে’ বাস ভাড়া বেশি
রাজশাহীতে বাস সংকট, দুর্ভোগে যাত্রীরা
চট্টগ্রামে বন্ধ ডিজেলচালিত বাস, চলছে গ্যাসেরগুলো
রাজধানীতে বাস পাচ্ছেন না যাত্রীরা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
I could not get oil even after visiting eight pumps at night

‘রাতে আটটি পাম্প ঘুরেও তেল নিতে পারিনি’ 

‘রাতে আটটি পাম্প ঘুরেও তেল নিতে পারিনি’  রাজধানীর শাহবাগের মেঘনা পেট্রল পাম্প থেকে জ্বালানি তেল নিচ্ছেন বাইক চালকরা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
সগির হোসেন লিয়ন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম এত বেশি বাড়ানো হয়েছে যে, এতে মানুষের জন্য অত্যন্ত খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হবে। তেলের দাম এবার যত বাড়ানো হয়েছে, আমার মনে হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে এত টাকা একবারে বাড়েনি।’

‘গতকাল (শুক্রবার) রাতে আটটি পাম্প ঘুরেও তেল নিতে পারিনি। অবশেষে আজকে (শনিবার) সকালে বাড়তি দামে তেল নিতে পেরেছি।’

রাজধানীর রমনা পেট্রল পাম্পে তেল নিতে এসে কথাগুলো বলছিলেন সগির হোসেন লিয়ন নামের এক ব্যক্তি।

দেশের ইতিহাসে একসঙ্গে এত টাকা কখনও বাড়েনি বলে দাবি করেন ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য তেল নিতে আসা লিয়ন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম এত বেশি বাড়ানো হয়েছে যে, এতে মানুষের জন্য অত্যন্ত খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হবে। তেলের দাম এবার যত বাড়ানো হয়েছে, আমার মনে হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে এত টাকা একবারে বাড়েনি।

‘গতকাল তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সবাই পাম্পগুলো বন্ধ রাখে। গতকাল আটটি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। অবশেষে আজকে বেশি দামে তেল নিলাম। এ ধরনের অরাজকতা জনজীবনের ওপর বিরাট প্রভাব ফেলবে।’

একই পাম্পে তেল নিতে আসা পাঠাও চালক মেহেদী হাসান বলেন, ‘এভাবে হঠাৎ করে তেলের দাম এত টাকা বাড়ানো ঠিক হয়নি। বাড়াবে ঠিক আছে। সেটা ধীরে ধীরে বাড়াতে পারত।

‘লিটারপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়াতে পারত, কিন্তু একসঙ্গে এত টাকা বাড়াল। এটা কি মেনে নেয়ার মতো?’

অকটেনে লিটারপ্রতি ৪৬ টাকা বাড়ানোর বিষয়টিকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে মেহেদী বলেন, ‘সবকিছুরই পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে। তেলের দাম বাড়ানোর ফলে ভাড়াও বাড়বে।’

আরেক বাইক চালক সোহেল বলেন, ‘দাম যতই বাড়াক, আমাদের কোনো উপায় নেই। যাতায়াত করতে হবে। আর এ জন্য বাড়তি টাকায় হলেও তেল কিনতে হবে। সরকার তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০০ করুক বা ২ হাজার টাকা করুক, আমাদেরকে তো সেই দামেই কিনতে হবে। এ ছাড়াও তো উপায় নেই।

‘তেলের নাম বাড়ল মানে সবকিছুর দামই আরও বাড়বে। তেলের সঙ্গে সবকিছুর সম্পর্ক। মানুষের আয় তেমন বাড়েনি, কিন্তু জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। যাদের আয় কম, তাদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ হবে।’

তেলের দাম বাড়ার কথা জানতেন না পাঠাও চালক ইমরান। পাম্পে এসে তিনি জানতে পারেন বিষয়টি।

ইমরান বলেন, ‘আজকে পাম্পে তেল নিতে এসে দেখি দাম বেড়েছে। এখন কী করার। বাড়তি দামেই কিনতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাইকের ট্যাংকি ফুল করতে যেখানে আগে ৮০০ টাকা লাগত, এখন সেখানে ১ হাজার ২৩০ টাকা লাগল।’

রমনা পেট্রল পাম্পের ম্যানেজার ওসমান গণি বলেন, ‘টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে মেশিনের গিজার ঠিক করতে দেরি হওয়ায় আজকে ১০টা থেকে আমরা ওপেন করেছি। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গতকাল রাত ১২টা থেকে বাড়তি মূল্য কার্যকর হয়েছে। আমরা আজকে শুরু করেছি। হঠাৎ করে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষ একটু আতঙ্কিত হয়েছে, তবে অন্য দিনের তুলনায় আজকে তেল আরও বেশি করে মানুষ কিনছে।’

পাম্পটির কর্মচারী আশরাফুল বলেন, ‘দাম বাড়লেও আজকে সবাই আরও বেশি বেশি করে তেল নিচ্ছেন। অনেকেই বাইকের ট্যাংকি ভরে নিচ্ছেন। সামনে যদি আরও বাড়ে বা তেল যদি না পাওয়া যায়! মানুষ এক ধরনের আতঙ্কে আছে। সবাই দেখি বেশি করে তেল কিনছেন।’

প্রেক্ষাপট

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা জানিয়ে দেশে জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের শুক্রবার সন্ধ্যার প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী এক লিটার ডিজেল ও কেরোসিন কিনতে হবে ১১৪ টাকায়।

অন্যদিকে অকটেনের দাম লিটারে বাড়ানো হয় ৪৬ টাকা। এখন প্রতি লিটার অকটেন কিনতে ১৩৫ টাকা ‍গুনতে হবে।

এর বাইরে লিটারপ্রতি ৪৪ টাকা বাড়ানো হয় পেট্রলের দাম। এখন থেকে জ্বালানিটির প্রতি লিটার ১৩০ টাকা।

শতকরা হিসাবে ডিজেলের দাম বাড়ানো হয় ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। আর অকটেন ও পেট্রলের দাম বৃদ্ধি করা হয় ৫১ শতাংশ।

জ্বালানি তেলের বর্ধিত এ দাম কার্যকর হয় শুক্রবার মধ্যরাত থেকে। এর আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালানি তেল নিতে পেট্রল পাম্পে ভিড় জমান গাড়িচালকরা, তবে অনেক জায়গায় বন্ধ করে দেয়া হয় পেট্রল পাম্প।

আরও পড়ুন:
ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে বাস বন্ধ হতে পারে খুলনায়
তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাবিতে মিছিল, ‘ছাত্রলীগের বাধা’
‘আইএমএফের ঋণ পেতে’ বাড়ানো হলো তেলের দাম
তেলের দাম বাড়ার খবরে পেট্রল পাম্পে অস্বাভাবিক চিত্র
এক লাফে ডিজেলের দাম বাড়ল লিটারে ৩৪ টাকা, অকটেন ৪৬

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Meeting on bus fare increase in the afternoon

বাস ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে বৈঠক বিকেলে

বাস ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে বৈঠক বিকেলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাসের ভাড়া সমন্বয়ের জন্য বসছে বিআরটিএ ও পরিবহন মালিকরা। ফাইল ছবি
বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে গণপরিবহনে ভাড়া সমন্বয়ের সভা হবে। পরিবহন নেতা ও সংশ্লিষ্টরা বৈঠকে অংশ নেবেন।’

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসের ভাড়া সমন্বয়ের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে বৈঠকে বসছেন পরিবহন মালিকরা।

বিআরটিএ কার্যালয়ে শনিবার বিকেল ৫টায় এ বৈঠক শুরু হবে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার।

তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে গণপরিবহনে ভাড়া সমন্বয়ের সভা হবে। পরিবহন নেতা ও সংশ্লিষ্টরা বৈঠকে অংশ নেবেন।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘বিকাল ৫টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

‘এর আগে আমরা ভাড়া সমন্বয়ের জন্য চিঠি দিয়েছিলাম। সমন্বয় কমিটি ভাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’

বৈঠকে বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবহন মালিকরা। এ নিয়ে বিকাশ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহরাব হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের অবস্থা করোনার সময় থেকেই খারাপ। এখন তেলের দাম বাড়ছে। বাস ভাড়াতো বাড়ে নাই।

‘আমরা আজকে লস দিয়েই গাড়ি চালাচ্ছি। অনেকে বন্ধ রাখার কথা বলেছে। বন্ধ রেখেছেও। আমাদের গাড়িগুলো আজকে চলছে। কিন্তু কয়দিন এভাবে লস দিয়ে চালাতে পারব জানি না।’

তেলের দাম বাড়ানোর সঙ্গে সমন্বয় করে বাস ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘আমাদের যে হারে খরচ বাড়ছে, সে হারে ভাড়া বাড়েনি। বাড়তি খরচে গাড়ি চালিয়ে আবার আমাদের নিতে হচ্ছে হাফ ভাড়া।

‘সবকিছু আমাদের ওপর চাপিয়ে দিলে তো ব্যবসা করতে পারব না। লাভ তো দূরের কথা; খরচই উঠবে না।’

প্রেক্ষাপট

বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা জানিয়ে দেশে জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের শুক্রবার সন্ধ্যার প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ৩৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী এক লিটার ডিজেল ও কেরোসিন কিনতে হবে ১১৪ টাকায়।

অন্যদিকে অকটেনের দাম লিটারে বাড়ানো হয় ৪৬ টাকা। এখন প্রতি লিটার অকটেন কিনতে ১৩৫ টাকা ‍গুনতে হবে।

এর বাইরে লিটারপ্রতি ৪৪ টাকা বাড়ানো হয় পেট্রলের দাম। এখন থেকে জ্বালানিটির প্রতি লিটার ১৩০ টাকা।

শতকরা হিসাবে ডিজেলের দাম বাড়ানো হয় ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ। আর অকটেন ও পেট্রলের দাম বৃদ্ধি করা হয় ৫১ শতাংশ।

জ্বালানি তেলের বর্ধিত এ দাম কার্যকর হয় শুক্রবার মধ্যরাত থেকে। এর আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বালানি তেল নিতে পেট্রল পাম্পে ভিড় জমান গাড়িচালকরা, তবে অনেক জায়গায় বন্ধ করে দেয়া হয় পেট্রল পাম্প।

আরও পড়ুন:
তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাবিতে মিছিল, ‘ছাত্রলীগের বাধা’
‘আইএমএফের ঋণ পেতে’ বাড়ানো হলো তেলের দাম
তেলের দাম বাড়ার খবরে পেট্রল পাম্পে অস্বাভাবিক চিত্র
এক লাফে ডিজেলের দাম বাড়ল লিটারে ৩৪ টাকা, অকটেন ৪৬
জ্বালানি তেল ৯০ ডলারে নেমেছে, স্বস্তির ইঙ্গিত

মন্তব্য

p
উপরে