× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Banks open Friday Saturday in the garment industry area
hear-news
player
print-icon

পোশাকশিল্প এলাকায় শুক্র-শনিবার ব্যাংক খোলা

পোশাকশিল্প-এলাকায়-শুক্র-শনিবার-ব্যাংক-খোলা
সার্কুলারে বলা হয়, ‘আসন্ন ঈদুল আজহার আগে তৈরি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক রপ্তানি বিল পরিশোধ এবং ওই শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে ব্যাংকের শাখা খুলে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

ঈদুল আজহার আগে তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে শিল্পসংশ্লিষ্ট এলাকায় ৮-৯ জুলাই, শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ সাইট সুপারভিশন বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো সার্কুলারে বলা হয়, ‘আসন্ন ঈদুল আজহার আগে তৈরি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক রপ্তানি বিল পরিশোধ এবং ওই শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের তৈরি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পূর্ণ দিবস খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হলো।’

এতে আরও বলা হয়, ওই দুই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা চালু থাকবে। তবে, ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে উল্লিখিত এলাকার বাইরে অবস্থিত কোনো ব্যাংক শাখার ওপর চেক দেয়া যাবে না।’

আরও পড়ুন:
বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে ৪৮১২ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
বেসরকারি ঋণের লক্ষ্য কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ: ক্ষতিপূরণ চান মোমেন
ব্যাংকঋণের সুদের সীমা ৯ শতাংশ উঠে যাবে?
আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও নেপালের পাশে বিশ্বব্যাংক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Wreath laying on Bangabandhus portrait at the initiative of Islami Bank

ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ

ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ
ব্যাংকের পরিচালক জয়নাল আবেদীন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

ইসলামী ব্যাংকের উদ্যোগে ১৫ আগস্ট সোমবার জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাংকের পরিচালক জয়নাল আবেদীন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ সময় ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ কায়সার আলী, ওমর ফারুক খান ও জে কিউ এম হাবিবুল্লাহ, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইয়ার আজম, সিদ্দিকুর রহমান, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার, আবুল ফয়েজ মুহাম্মাদ কামালউদ্দিন ও মুহাম্মদ শাব্বির, চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকী, ক্যামেলকো তাহের আহমেদ চৌধুরী ও আইবিটিআরএর প্রিন্সিপাল এস এম রবিউল হাসানসহ ব্যাংকের নির্বাহী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে ব্যাংকটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইসলামী ব্যাংকের ৩ জোনের ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন
ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন অনুষ্ঠিত
ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন
ইসলামী ব্যাংকে শরিয়াহ পরিপালন বিষয়ে ওয়েবিনার
ইসলামী ব্যাংকে এফসি ক্লিয়ারিং বিষয়ক কর্মশালা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
National Day of Mourning observed at BRAC Bank

ব্র্যাক ব্যাংকে জাতীয় শোক দিবস পালন

ব্র্যাক ব্যাংকে জাতীয় শোক দিবস পালন
ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ‘একজন স্বপ্নদর্শী নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন ও দীক্ষা কাল ও প্রজন্মকে ছাড়িয়ে যাবে।’

ব্র্যাক ব্যাংক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে।

সোমবার এ উপলক্ষে ব্যাংকটির উদ্যোগে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে সারা দেশের কর্মকর্তারা মহান এই রাষ্ট্রনায়কের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর এফ হোসেন তার বক্তব্যে জনগণের মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধুর আজীবন আন্দোলনের কথা এবং দেশ ও দেশবাসীর প্রতি ভালোবাসা কথা তুলে ধরেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার আহ্বান এবং যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার ভিশনের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, ‘একজন স্বপ্নদর্শী নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন ও দীক্ষা কাল ও প্রজন্মকে ছাড়িয়ে যাবে।’

এছাড়া মঙ্গলবার ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় জাতীয় শোক দিবস উপল একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

জাতীয় শোক দিবস পালনের অংশ হিসাবে ব্র্যাক ব্যাংক আগস্ট মাস জুড়ে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। যার মধ্যে আছে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম, দু:স্থদের মাঝে খাবার বিতরণ, প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং শাখাগুলোতে শোক ব্যানার লাগানো।

মঙ্গলবার প্রতিটি শাখায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ব্র্যাক ব্যাংকের ‘তারা’ গ্রাহকদের ছাড় দিচ্ছে ওয়ান্ডার ওম্যান
ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং বন্ডের সাবস্ক্রিপশন ক্লোজার অনুষ্ঠান
ব্র্যাক ব্যাংকের সাফল্যের গল্প ইউএনসিডিএফ’র কেস স্টাডিতে
ব্র্যাক ব্যাংকের প্রগতি সরণি শাখা ও নিকুঞ্জ উপশাখা উদ্বোধন
ছোট উদ্যোক্তাদের আরও ৮০ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্র্যাক ব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Low interest loan opportunities on foreign currency investments

বিদেশি মুদ্রায় বিনিয়োগে আরও কম সুদে ঋণের সুযোগ

বিদেশি মুদ্রায় বিনিয়োগে আরও কম সুদে ঋণের সুযোগ
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, লাইবর রেটের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ হারে বার্ষিক সুদে ব্যবসায়ীদের ঋণ দেয়া যাবে। আগে এই সুদ হার ছিল সাড়ে ৩ শতাংশ।

বিদেশি মুদ্রায় স্বল্প মেয়াদে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে কম সুদে ঋণ নিতে পারবেন রপ্তানি খাতের উদ্যোক্তারা।

মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ।

সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা বিবেচনা করে বার্ষিক সব খরচের সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদেশি মুদ্রায় বিনিয়োগে সুদ হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানোর কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, লাইবর রেটের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ হারে বার্ষিক সুদে ব্যবসায়ীদের ঋণ দেয়া যাবে। আগে এই সুদ হার ছিল সাড়ে ৩ শতাংশ।

লাইবর রেট হচ্ছে- ইংল্যান্ডের কোনো ব্যাংক অন্য কোনো ব্যাংককে যে সুদে ঋণ দেয় তার ৩ মাসের হার। বর্তমানে তা এসওএফআর নামে পরিচিত।

নির্দেশনায় বলা হয়, বিদেশি মুদ্রায় বিনিয়োগে সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রার সুদ হারের সঙ্গে বার্ষিক সুদ সবোর্চ্চ ৩ শতাংশ যোগ করতে পারবে ব্যাংকগুলো।

এছাড়া ডলারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে লাইবর রেট যতদিন কার্যকর রয়েছে ততদিন তা অনুসরণ করা যাবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রার সুদ হারকে ‘বেঞ্চমার্ক রেট’ হিসেবে ধরা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বল্প মেয়াদে ট্রেড ফাইন্যান্সের বেলায় ডলারের ক্ষেত্রে লাইবর রেট (ইংল্যান্ডের আন্তঃব্যাংকের ৩ মাসের গড় সুদ হার) অনুসরণ করা যাবে।

এখন বেঞ্চমার্ক রেফারেন্স রেট ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রায় স্বল্পমেয়াদি আমদানি-রপ্তানির সময় অর্থায়নে এই রেটের সঙ্গে ৩ শতাংশ সুদ পাবে।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে আরও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
‘সুইস ব্যাংকের কাছে অর্থ পাচারের তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ’
টাকা সাদা করার সুযোগ প্রচারে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ
দুই মাসের মধ্যে কাটবে অর্থনীতির চাপ: গভর্নর
ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনে সংশোধনী আনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The small dollar is losing its breath

ঊর্ধ্বশ্বাসে ছোটা ডলার হারাচ্ছে দম

ঊর্ধ্বশ্বাসে ছোটা ডলার হারাচ্ছে দম
বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় দর কমছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ব্যাংকগুলো আগের দামেই নগদ ডলার বিক্রি করছে। খোলাবাজারে গত সপ্তাহে ডলারের দর এক লাফে ১২০ টাকায় উঠেছিল। বৃহস্পতিবার তা এক টাকা কমে বিক্রি হয় ১১৯ টাকায়।

পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটে চলা ডলারের তেজ আরও কমেছে। খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে মঙ্গলাবার প্রতি ডলারের জন্য ১১৩ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১১৩ টাকা ৩০ পয়সা নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা; কিনেছেন ১১২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১১২ টাকা ৬০ পয়সায়।

সোমবার ছিল জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিন। তার আগের দিন রোববার প্রতি ডলারের জন্য ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা নিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা; কিনেছিলেন ১১৪ টাকায়।

বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় দর কমছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ব্যাংকগুলো আগের দামেই নগদ ডলার বিক্রি করছে।

খোলাবাজারে গত সপ্তাহে ডলারের দর এক লাফে ১২০ টাকায় উঠেছিল। বৃহস্পতিবার তা এক টাকা কমে বিক্রি হয় ১১৯ টাকায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাজারে ডলারের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। ক্রেতার সংখ্যাও কম। তাই দাম নিম্নমূখী।’

তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে দর ১২০ টাকায় ওঠার পর সরকারের বিভিন্ন সংস্থার তৎপরতা বেড়ে যায়। সে কারণে ভয়ে কেউ ডলার কিনতে আসছেন না। কিছু লেনদেন হচ্ছে খুবই গোপনে।’

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক রোববার ১০৪ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। জনতা ব্যাংক থেকে কিনতে লেগেছে ১০৪ টাকা ২৫ পয়সা। বেসরকারি সিটি ব্যাংক প্রতি ডলারের জন্য নিয়েছে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। ইস্টার্ন ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৭ টাকায়। এসআইবিএল নিয়েছে ১০৫ টাকা।

গত সপ্তাহের মতো ৯৫ টাকায় মঙ্গলবার ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটাকে আন্তব্যাংক বা ইন্টারব্যাংক রেট বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এই রেট গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে কার্যত অচল।

ব্যাংকগুলো এখনও এই দরের চেয়ে ৯ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে। আবার প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে ১০৪-১০৫ টাকা দিয়ে। আমদানি ঋণপত্র খুলতে নিচ্ছে ১০৪-১০৫ টাকা।

ঊর্ধ্বশ্বাসে ছোটা ডলার হারাচ্ছে দম

বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে আমেরিকান মুদ্রা ডলারের দৌড় থামাতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের দেড় মাসে (১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট) প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এরপরেও বাজারে ডলারের সংকট কাটছে না।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম আশার কথা শুনিয়ে বলেছেন, শিগগিরই ডলারের সংকট কেটে যাবে। বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে। ইতোমধ্যে কার্ব মার্কেটে বেশ খানিকটা কমেছে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার কারণেই বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে গেছে। সেই চাহিদা পূরণের জন্যই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাজারে ডলার ছাড়া হচ্ছে। আসলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম প্রধান কাজ এটি। যখন বাজারে ডলারের ঘাটতি দেখা দেবে তখন ডলার বিক্রি করা হবে। আবার যখন সরবরাহ বেশি হবে তখন কেনা হবে।

‘ডলার বিক্রির ক্ষেত্রে রিজার্ভ পরিস্থিতিও সব সময় বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। ঢালাও বিক্রি করলে রিজার্ভ কমে আসবে। সেক্ষেত্রে অন্য সমস্যা হবে। সে কারণেই ভেবেচিন্তে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি বিক্রি করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘দুই বছরের বেশি সময় ধরে করোনা মহামারির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তাণ্ডবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সব দেশের মতো আমাদেরও আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। সে কারণে রিজার্ভের ওপরও চাপ পড়েছে।

‘তবে সুখের খবর হচ্ছে, আমদানি কমতে শুরু করেছে। রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্সও বাড়ছে। শিগগিরই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’

খোলাবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকির কারণে অনেক ব্যবসায়ী ডলার কেনাবেচা করতে ভয় পাচ্ছেন।

খোলাবাজারে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে এর আগেও রাজধানীর বিভিন্ন মানি চেঞ্জারে অভিযান চালায় বাংলাদেশ ব্যাংক। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এ পরিদর্শন কার্যক্রম চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পাশাপাশি অবৈধভাবে ডলার মজুতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

ডলার কারসাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে অপসারণ করা হয়েছে। এরপরও বাজার স্বাভাবিক হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
এবার খোলাবাজারে ডলার ছুঁল ১২০ টাকা
দিনে ৪ কোটি ডলার বিক্রি, তবু বাগে আসছে না
ডলার কারসাজি: ৬ ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে অপসারণের নির্দেশ
আরও ৩০ পয়সা দর হারাল টাকা
খোলাবাজারে ডলারের দাম রেকর্ড ১১৫ টাকা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Provision deficit of 9 banks is 18 thousand 931 crores

৯ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ১৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা

৯ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ১৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিডেট। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
ঘাটতির তালিকায় রয়েছে সরকারি অগ্রণী, বেসিক, জনতা, রূপালী। বেসরকারি বাংলাদেশ কমার্স, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট, ন্যাশনাল, সাউথইস্ট ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের নাম।

করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে নানামুখী সুবিধা দিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণ পরিশোধেও বিভিন্ন ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরেও বেড়েছে খেলাপি ঋণ।

খেলাপি ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এসব ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে নয়টি ব্যাংক।

নয় ব্যাংকের তালিকায় চারটি সরকারি ও বেসরকারি পাঁচটি ব্যাংক রয়েছে।

চলতি জুন শেষে এসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ১৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ঘাটতির তালিকায় রয়েছে সরকারি অগ্রণী, বেসিক, জনতা, রূপালী। বেসরকারি বাংলাদেশ কমার্স, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট, ন্যাশনাল, সাউথইস্ট ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের নাম।

তবে কিছু কিছু ব্যাংক প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত প্রভিশন সংরক্ষণ করায় পুরো ব্যাংকিং খাতের ঘাটতি ১৩ হাজার ১২০ কোটি টাকা।

সরকারি চার ব্যাংক

রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ১১ হাজার ১৭ কোটি টাকা।

সবচেয়ে বেশি ঘাটতি বেসিক ব্যাংকে ৪ হাজার ৪৪১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

এর পরেই অগ্রণী ব্যাংকের ঘাটতি ২ হাজার ৯৭৩ কোটি ২২ লাখ টাকা।

তালিকায় তৃতীয় স্থানে রূপালীর ঘাটতি ২ হাজার ৯৬২ কোটি ১০ লাখ টাকা৷ জনতা ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ৬৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

তবে রাষ্ট্রমালিকানাধীন দুই ব্যাংক অতিরিক্ত প্রভিশন রাখতে পেরেছে। এর মধ্যে সর্ববৃহৎ সোনালী ব্যাংকের প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি অতিরিক্ত রয়েছে ৩৮০ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট ব্যাংকের অতিরিক্ত ১৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

বেসরকারি ব্যাংক

বেসরকারি পাঁচ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ৭ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা।

এর মধ্যে শুধু ন্যাশনাল ব্যাংকেরই ঘাটতি ৭ হাজার ১১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

এ ছাড়া মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ১৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে ১০২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

মোট ঋণ

চলতি জুন শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ ১৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

তিন মাস আগে মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। সে হিসাবে ৩ মাসে খেলাপি বেড়েছে ১১ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা।

নিয়ম অনুযায়ী, সব ধরনের ব্যাংক যেসব ঋণ দেয় তার গুণমান বিবেচনায় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রভিশন হিসেবে জমা রাখতে হয়। কোনো ঋণ শেষ পর্যন্ত মন্দ ঋণে পরিণত হলে তাতে যেন ব্যাংক আর্থিকভাবে ঝুঁকিতে না পড়ে, সেজন্য এ প্রভিশন সংরক্ষণের নিয়ম রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকে নতুন এমডি
পুঁজিবাজারে আরও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
সুইস রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি: হাইকোর্ট
সুইস ব্যাংকে অর্থের বিষয়ে ‘তথ্য চেয়েছিল বিএফআইইউ’
নতুন গভর্নরের পদক্ষেপে খেলাপি ঋণ কমবে: তারেক রিয়াজ খান

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
New MD at Sonali Rupali Agrani

সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকে নতুন এমডি

সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকে নতুন এমডি সোনালী ব্যাংকের নতুন এমডি আফজাল করিম, রূপালী ব্যাংকের মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এবং অগ্রণী ব্যাংকের মুরশেদুল কবীর। ছবি: সংগৃহীত
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘আগামী তিন বছরের জন্য চুক্তিতে তাদের নিয়োগ দেয়া হলো। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী তাদের নিয়োগের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।’

রাষ্ট্রায়ত্ত তিন বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

এরমধ্যে সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যাংক সোনালী ব্যাংকে এমডি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (বিএইচবিএফসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিম।

সোনালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মুরশেদুল কবীরকে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও করা হয়েছে। আর রূপালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে তিন বছরের জন্য ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।

তিন জনকেই ব্যাংক তিনটির শীর্ষ পদে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রোববার তিনটি আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করে এই নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের এমডি আতাউর রহমান প্রধানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আফজাল করিম, শামস-উল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মুরশেদুল কবির এবং ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তারা গত ছয় বছর ধরে ব্যাংক তিনটির শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এই তিন জনের মেয়াদই চলতি মাসের শেষের দিকে শেষ হবে। রূপালী ব্যাংকের বর্তমান এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের মেয়াদ শেষ হবে ২৫ আগস্ট। অন্য দুজনের মেয়াদও এক দিন আগে পরে শেষ হবে। এই তিন জনের বয়সই ৬৫ বছর হতে আর অল্প কিছুদিন বাকি আছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘আগামী তিন বছরের জন্য চুক্তিতে তাদের নিয়োগ দেয়া হলো। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী তাদের নিয়োগের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।’

ব্যাংক তিনটির বর্তমান এমডি এর আগে কয়েক দফা পুনর্নিয়োগ পেয়েছেন। এর মধ্যে আতাউর রহমান প্রধান এক মেয়াদে রূপালী ব্যাংকের এমডির দায়িত্ব পালন করে সোনালী ব্যাংকের এমডি হন। উবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ সোনালী ব্যাংকে এমডি পদের মেয়াদ শেষ করে রূপালী ব্যাংকের এমডি হন। আর মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম অগ্রণী ব্যাংকেই পুনর্নিয়োগ পান একাধিকবার।

আরও পড়ুন:
‘সুইস ব্যাংকের কাছে অর্থ পাচারের তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ’
বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামী ব্যাংকের বৃক্ষরোপণ
ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং বন্ডের সাবস্ক্রিপশন ক্লোজার অনুষ্ঠান
পদ্মা ব্যাংক ও ফ্লোরা সিস্টেমসের চুক্তি
সুইস ব্যাংকের কাছে কেন তথ্য চায়নি সরকার: হাইকোর্ট

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Expatriates are sending 800 crore rupees to the lighthouse every day

প্রবাসীরাই বাতিঘর, প্রতিদিন পাঠাচ্ছেন ৮০০ কোটি টাকা

প্রবাসীরাই বাতিঘর, প্রতিদিন পাঠাচ্ছেন ৮০০ কোটি টাকা
রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকার আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও সিরাজুল ইসলাম। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জুলাই মাসের মতো আগস্টেও ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসবে।’

দেশের অর্থনীতি নিয়ে নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেড়েই চলেছে। জুলাই মাসের পর আগস্টেও বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের সূচক ঊর্ধ্বমুখী।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগস্ট মাসের ১১ দিনেই ৯২ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৯৫ টাকা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৮ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা।

এ হিসাবে প্রতিদিন এসেছে ৮ কোটি ৩৫ লাখ ডলার বা প্রায় ৮০০ কোটি টাকা।

বাজারে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যাংকগুলো ১১০ টাকা দরেও রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে। সে হিসাব বিবেচনায় নিলে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ আরও বেশি।

মাসের বাকি ২০ দিনেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকার আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও সিরাজুল ইসলাম। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জুলাই মাসের মতো আগস্টেও ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসবে।’

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার (২.১ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে বেশি ১২ শতাংশ।

প্রতি ডলার ৯৫ টাকা হিসাবে টাকার অঙ্কে ওই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

করোনা মহামারির পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ধাক্কায় ওলটপালট হয়ে যাওয়া অর্থনীতিতে গত ৫ আগস্ট জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে যখন দেশজুড়ে ক্ষোভ-হতাশা এবং আগামী দিনগুলোতে কী হবে? এই প্রশ্ন সবার মধ্যে তখন স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ। মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২০-২১ অর্থবছরের কথা। ভরা করোনা মহামারির মধ্যেও ওই অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

‘মহামারির মধ্যে ওই সময় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন প্রবাসীরা’- এই মন্তব্য করে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় অর্থনীতিতে যে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে, সেই সংকট কাটাতেও সবার আগে এগিয়ে এসেছেন প্রবাসীরা। আবার বেশি বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছেন।’

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের বিস্ময়কর উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২২-২৩ অর্থবছরে তৈরি হবে নতুন রেকর্ড। এতে অনেকটাই চাপমুক্ত হবে দেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, ১ জুলাই শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ২১০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এ হিসাবে প্রতিদিন ৬ কোটি ৭৬ লাখ ডলার করে পাঠিয়েছেন তারা; টাকার হিসাবে প্রতিদিন দেশে এসেছিল ৬৪০ কোটি টাকা।

এখন তার চেয়েও বেশি টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা।

গত বছরের জুলাই মাসে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে মন্দা দেখা দেয়। পুরো অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩ কোটি (২১.০৩ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল; গড়ে প্রতিদিন ৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন ঘটে ২০২০-২১ অর্থবছরে। সে সময় ২ হাজার ৪৭৮ কোটি (২৪.৭৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। ওই অর্থবছরে প্রতিদিন গড়ে ৬ কোটি ৭৯ ডলার প্রবাসী আয় হিসেবে দেশে এসেছিল।

এসব হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সে রয়েছে ঊর্ধ্বগতি। এই প্রবণতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং এই অর্থবছরে নতুন রেকর্ড তৈরি হবে বলে মনে করছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে সাড়ে ৭ লাখ লোক কাজের সন্ধানে বিভিন্ন দেশে গেছেন। তারা ইতোমধ্যে রেমিট্যান্স পাঠাতে শুরু করেছেন। সে কারণেই ঈদের পরও রেমিট্যান্স বাড়ছে। এই ইতিবাচক ধারা পুরো অর্থবছর জুড়েই অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করছি।’

সাধারণত দুই ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাড়ে; ঈদের পর কমে যায়। তবে এবার কোরবানির ঈদের আগে যে গতিতে রেমিট্যান্স এসেছে, সেই ধারা ঈদের পরেও অব্যাহত আছে।

দেশে গত ১০ জুলাই কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। ঈদের আগে রেমিট্যান্স প্রবাহে ঢল নামে। ঈদের ৯০ কোটি ৯৩ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ঈদের পরে ২১ দিনে এসেছে ১১৮ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের কিছু বেশি।

ঈদের পরেও কেন রেমিট্যান্স বাড়ছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত কয়েক মাসে ডলারের দর বেশ খানিকটা বেড়েছে। প্রণোদনার পরিমাণ দুই শতাংশ থেকে আড়াই শতাংশ করা হয়েছে। এসব কারণে প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। সে কারণেই বাড়ছে রেমিট্যান্স।’

তিনি বলেন, ‘এই সময়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির খুবই দরকার ছিল। নানা পদক্ষেপের কারণে আমদানি ব্যয় কমতে শুরু করেছে। রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে আশা করছি এখন মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে রোববার প্রতি ডলার ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ব্যাংকগুলো এই দরে ডলার কিনেছে। তবে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যাংকগুলো ১১০ টাকা পর্যন্ত দরে প্রবাসীদের কাছ থেকে ডলার সংগ্রহ করেছে।

সে হিসাবে কোনো প্রবাসী এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে ১ ডলার দেশে পাঠালে ১১০ টাকার সঙ্গে নগদ প্রণোদনার ২ টাকা ৫০ পয়সা যুক্ত হয়ে ১১২ টাকা ৫০ পয়সা পাচ্ছেন।

কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজারে ডলারের দর প্রায় একই। সে কারণেই প্রবাসীরা এখন অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ে দেশে টাকা না পাঠিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাচ্ছেন বলে জানান ব্যাংকাররা।

প্রবাসীরাই বাতিঘর, প্রতিদিন পাঠাচ্ছেন ৮০০ কোটি টাকা

রেমিট্যান্স বাড়ার আরেকটি কারণের কথা বলেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙা হয়েছে। সেখানে কর্মরত আমাদের প্রবাসীরা বেশি আয় করছেন। দেশেও বেশি টাকা পাঠাতে পারছেন।

‘দেশে ডলারের সংকট চলছে। মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা চলছে। রিজার্ভ কমছে। এই মুহূর্তে রেমিট্যান্স বাড়া অর্থনীতির জন্য খুবই ভালো হবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ও তেমন পূর্বাভাস দিয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরজুড়ে (২০২১-২২) ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে থাকা প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে নতুন অর্থবছরে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

এই অর্থবছরে রেমিট্যান্স বাড়ার কারণ হিসেবে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘করোনা-পরবর্তী সময়ে দেশ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শ্রমিক নতুন করে বিদেশে যাওয়ায় তাদের কাছ থেকে বাড়তি পরিমাণ রেমিট্যান্স পাওয়া যাবে।’

দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর হালচাল নিয়ে তৈরি করা পাক্ষিক প্রতিবেদনেও রেমিট্যান্স নিয়ে সুসংবাদের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

১১ আগস্ট প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে। করোনা মহামারি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় সব প্রবাসী তাদের কর্মস্থলে ফিরেছেন। টাকার বিপরীতে ডলার বেশ খানিকটা শক্তিশালী হয়েছে।

‘এই বিষয়গুলো আগামী মাসগুলোতে রেমিট্যান্স বাড়াতে সাহায্য করবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৩০ জুন ২০২২-২৩ অর্থবছরের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। এতে বলা হয়, রেমিট্যান্স ঊর্ধ্বমুখী হবে এবং চলতি অর্থবছরে গত বছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি আসবে।

আরও পড়ুন:
১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স জুলাইয়ে
অর্থনীতিকে চাপমুক্ত করছে রেমিট্যান্স
প্রবাসী আয়ের পালে জোর হাওয়া, নতুন রেকর্ডের আশা
রপ্তানি কমবে, রেমিট্যান্স বাড়বে: বাংলাদেশ ব্যাংক
ঈদের পরও রেমিট্যান্সে ভালো গতি

মন্তব্য

p
উপরে