× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Last minute surprises in a year of frustration in the capital markets
hear-news
player
print-icon

পুঁজিবাজারে হতাশার বছরে শেষ মুহূর্তের চমক

পুঁজিবাজারে-হতাশার-বছরে-শেষ-মুহূর্তের-চমক
এক বছর আগে আজকের দিনে পুঁজিবাজারের সূচক ছিল ৬ হাজার ১৫০ পয়েন্ট। সেই হিসাবে এক বছরে বেড়েছে ২২৬ পয়েন্ট। তবে কেবল বছর শেষের দুইটি দিন বিবেচনা করলে চলবে না। এই অর্থবছরের শুরুতে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, সেটি পূরণ করতে পারেনি। বরং ব্যাপকভাবে হতাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে হাজারো বিনিয়োগকারীকে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষ দিন পুঁজিবাজারে দিনভর সূচকের অবস্থান ও লেনদেনের গতি ধরে রাখার লড়াইয়ের মধ্যে শেষ ১৫ মিনিটে দেখা গেল চমক।

দিনভর সূচক ওঠানামা করতে থাকে। লেনদেনের অবস্থান ধরে রাখতে পারে কি না, এ বিষয়টি নিয়েও ছিল দৃষ্টি। তবে বেলা ২টা ১৬ মিনিটের পর শেষ ১৪ মিনিটে হঠাৎ লাফ দিয়ে উঠে যায় সূচক। এ সময়ে লেনদেনও হয় ২০০ কোটি টাকার বেশি।

বৃহস্পতিবার চলতি সপ্তাহ অর্থবছরের শেষ কর্মদিবসে বেলা ২টা ১৬ মিনিট সূচক ছিল আগের দিনের চেয়ে ৫ পয়েন্ট বেশি। এটি যেকোনো সময় আগের দিনের অবস্থানের নিচেও নেমে যেতে পারত, আবার উঠেও যেতে পারত। কিন্তু এর পরের ১৪ মিনিট তা দ্রুত ওপরের দিকে উঠতে থাকে।

১৩ মিনিটে সূচক বেড়ে যায় ৩২ পয়েন্ট। তখন আগের দিনের তুলনায় সূচকে যোগ হয় ৩৭ পয়েন্ট। তবে একেবারে শেষ মুহূর্তের সমন্বয়ে সেখান থেকে কিছুটা কমে ২৬ পয়েন্ট যোগ হয়ে শেষ হয় লেনদেন। শেষ পর্যন্ত সূচকের অবস্থান দাঁড়ায় ৬ হাজার ৩৭৬ পয়েন্ট।

এ নিয়ে টানা চার দিন সূচক বাড়ল। এক দিন বাদে লেনদেনও প্রতিদিনেই ছাড়িয়ে গেছে আগের দিনকে।

বেলা শেষে ৯৩৭ কোটি ৭৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয়, যা গত ১৬ জুনের পর সর্বোচ্চ। সেদিন লেনদেন ছিল ১ হাজার ৪৬ কোটি ৬৩ লাখ ২২ হাজার টাকা।

দিনভর লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৫টির, কমেছে ১৩৬টির এবং অপরিবর্তিত দামে লেনদেন হয়েছে ৫০টি কোম্পানির শেয়ার।

পুঁজিবাজারে হতাশার বছরে শেষ মুহূর্তের চমক
বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের সূচক বাড়ে একেবারে শেষ ১৪ মিনিটের উত্থানে

এক বছর আগে আজকের দিনে পুঁজিবাজারের সূচক ছিল ৬ হাজার ১৫০ পয়েন্ট। সেই হিসাবে এক বছরে বেড়েছে ২২৬ পয়েন্ট।

তবে কেবল বছর শেষের দুইটি দিন বিবেচনা করলে চলবে না। এই অর্থবছরের শুরুতে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, সেটি পূরণ করতে পারেনি। বরং ব্যাপকভাবে হতাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে হাজারো বিনিয়োগকারীকে।

এই অর্থবছরে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল ঝলমলে। মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারদর বাড়তে থাকে, বাড়ে জাংক শেয়ার বলে পরিচিত স্বল্প মূলধনি বা দুর্বল কোম্পানির দরও। একপর্যায়ে এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ সূচক ও লেনদেন হয়।

লেনদেন ৩ হাজার কোটি টাকা ও সূচক ৭ হাজার ৩০০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যাওয়ার পর ২০১০ সালের মহাধসের ক্ষতি কাটিয়ে সূচক আবার ১০ হাজার ছুঁবে-এমন আশার কথা বলাবলি হতে থাকে।

তবে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া সংশোধন বজায় থাকে ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে নানা বিষয়ে মতভেদের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এর প্রভাব পড়ে পুঁজিবাজারে।

এই মতভেদ দূর করতে অর্থ মন্ত্রণালয় বৈঠক করলেও পরের ঘোষিত বৈঠক আর হয়নি। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারির চতুর্থ সপ্তাহে ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরুর পর নামে ধস। এরপর শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক টানাপড়েনে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের পুঁজিতেও টান পড়তে থাকে।

লেনদেন একপর্যায়ে ৪০০ কোটির নিচে নেমে আসে। তবে মে মাসের শেষ দিক থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু হয়। এই সময়ে লেনদেন কিছুটা বাড়লেও মূল্যসূচকের উন্নতি হয়নি।

বরং জুনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ৫৬ পয়েন্ট।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, তবে অর্থবছর শেষ হতে যাচ্ছে, অনেক কোম্পানি তাদের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে; যা দেখে বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেবেন। এই সময়টায় নতুন বিনিয়োগ আসে বাজারে।

ট্রেজার সিকিউরিটিজের চিফ অপারেটিং অফিসার মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জুনের শেষ, অর্থবছর শেষ হবে। নতুন অর্থবছরে নতুন পরিকল্পনায় বিনিয়োগ করবেন বিনিয়োগকারীরা। যার কারণে এই সময়ে লেনদেন কিছুটা বাড়ে। কয়েক দিন পর এটা আরও বাড়বে বলে মনে করছি।’

ব্যাংক-বিমার ভালো দিন

সবচেয়ে ভালো দিন পার করেছেন ব্যাংক ও সাধারণ বিমা খাতের বিনিয়োগকারীরা। খাতভিত্তিক লেনদেনের ষষ্ঠ অবস্থানে থাকলেও দর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শীর্ষে ছিল ব্যাংক।

তালিকাভুক্ত ৩৩টি ব্যাংকের মধ্যে ২৫টি বা ৭৫ শতাংশের বেশি কোম্পানির দর বেড়েছে। এ ছাড়াও আগের দামেই লেনদেন হয়েছে ৫টি কোম্পানির শেয়ার। বিপরীতে মাত্র ১০ পয়সা করে দর কমেছে ৩টি ব্যাংকের। টাকার অংকে লেনদেন হয়েছে ৫৯ কোটি ৬১ লাখ।

সাধারণ বিমা খাতের ২৫টি বা ৭০ শতাংশের কাছাকাছি কোম্পানির দর বেড়ে লেনদেন হয়েছে। অপরিবর্তিত ছিল ৩টির দর। বিপরীতে কমেছে ১৩টি বা ৩১ শতাংশের দর। খাতটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি ১০ লাখ টাকার মতো।

ভালো দর বৃদ্ধি দেখা গেছে জীবন বিমাতেও। ৯টি বা ৭০ শতাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধি দেখা গেছে। যদিও লেনদেন হয়েছে মাত্র ১২ কোটি টাকা।

১০৭ কোটির বেশি লেনদেন করে তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের ২৬টি বা ৬১ শতাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধি দেখা গেছে। বিপরীতে কমেছে ৩০ শতাংশ কোম্পানির দর।

সুবিধা করতে পারেনি বাকি খাতের বিনিয়োগকারীরা। লেনদেনের শীর্ষে থাকা বস্ত্র খাতে ৪৮ শতাংশ দর বৃদ্ধির বিপরীতে ৩৬ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়েছে।

সর্বোচ্চ ১৩৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ পাঁচের বাকি খাতের মধ্যে ওষুধ ও রসায়নে ৩৫ শতাংশ, বিবিধ ২৮ শতাংশ ও জ্বালানি খাতে ৫৬ শতাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধি দেখা গেছে।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

লাগামহীন ঘোড়ার মতো ছুটছে নতুন তালিকাভুক্ত মেঘনা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের দর। ৮ জুন লেনদেন শুরুর পর থেকে প্রতিদিনই দিনের সর্বোচ্চ সীমা বা এর কাছাকাছি দর বেড়েছে শেয়ারটির।

আজ ৪ টাকা ৪০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি সর্বশেষ ৪৯ টাকা ৩০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। ৭ হাজার ১৮৩ বারে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০টি শেয়ার ওই দামে বেচাকেনা হয়েছে।

দর বৃদ্ধির দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইন্ট্রাকো রি-ফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড। দুই বছর ধরে মুনাফা কমছে কোম্পানিটির। ২০১৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বছর থেকেই বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিয়ে আসছে কোম্পানিটি। তবে মুনাফা কমে যাওয়া ২০২১ সালে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ২ শতাংশ বা ২০ পয়সা।

টানা তিন কর্মদিবস দর বাড়ল কোম্পানির শেয়ারের। বৃহস্পতিবার শেয়ার দর ২ টাকা ২০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়ে সর্বশেষ ২৫ টাকায় লেনদেন হয়।

এর পরেই দর বেড়েছে নাভানা সিএনজি লিমিটেডের। কোম্পানিটির দর ২ টাকা ৬০ পয়সা বা ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে লেনদেন হয়েছে ৩০ টাকা ৯০ পয়সায়।

এ ছাড়া দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে রয়েছে যথাক্রমে, শাইনপুকুর সিরামিকস, আফতাব অটো, ক্রাউন সিমেন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, সোনালী পেপার, হামিদ ফেব্রিকস ও আমরা নেটওয়ার্কস।

দর পতনের শীর্ষ ১০

বুধবার গ্রামীণফোনের সিম বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। পরের দিনই কোম্পানিটির দর কমল সর্বোচ্চ।

নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে বিটিআরসি বলছে, গ্রামীণফোন কোয়ালিটি সার্ভিস দিতে পারছে না। যদিও কোম্পানিটি দাবি করেছে, তাদের সেবা বিশ্বমানের চেয়ে এগিয়ে।

তবে গ্রামীণফোনের দর পতন শুরু হয়েছে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে। ১২ সেপ্টেম্বর ৩৮৭ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন হওয়ার পরে শুরু হয় দর পতন। মাঝে কিছুটা বাড়লেও আগের দরে আর পৌঁছাতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার শেয়ারটির দর ৬ টাকা বা ২ শতাংশ কমে সর্বশেষ ২৯৪ টাকা ১০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। এদিন এক হাজার ৩২ বারে কোম্পানিটির এক লাখ ৭৩ হাজার ২৬২টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার বাজার মূল্য ৫ কোটি ৯ লাখ টাকা।

এর পরেই দর পতন হয়েছে লোকসানি জুট স্পিনার্সের। ২ টাকা ৯০ পয়সা বা ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে সর্বশেষ ১৪৩ টাকা ৭০ পয়সা দরে লেনদেন হয়েছে প্রতিটি শেয়ার।

১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটি বছরের পর বছর লোকসান দেখাচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা কোনো দিন লভ্যাংশ পায়নি।

পতনের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে লোকসানি সাভার রিফ্যাক্টরিজ। গত তিন বছর ধরে কোম্পানিটি লোকসান দেখাচ্ছে। বৃহস্পতিবার শেয়ার দর ৪ টাকা ৭০ পয়সা বা ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে সর্বশেষ দাঁড়ায় ২৩৩ টাকা ২০ পয়সা।

দর পতনের শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে বিডি মনোস্পুল পেপার, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল, পেপার প্রসেসিং, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, এসকে ট্রিমস, নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল ও সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

সূচক বাড়াল যারা

সবচেয়ে বেশি ১১ দশমিক ০৯ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে রবি। এদিন কোম্পানিটির দর ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ দর বেড়েছে।

আগের দিনের মতো দর বাড়ায় সূচকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট যোগ করেছে আইসিবি। দর ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ৪ দশমিক ৩২ পয়েন্ট।

তিতাস গ্যাস সূচকে যোগ করেছে ১ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

এ ছাড়া প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, পূবালী ব্যাংক, সোনালী পেপার, বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিল, আইএফআইসি ব্যাংক ও ক্রাউন সিমেন্ট সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৩২ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ১১ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট সূচক কমেছে গ্রামীণফোনের কারণে। কোম্পানিটির দর কমেছে ২ শতাংশ। আগের দিনেও কাছাকাছি পয়েন্ট সূচক কমেছিল গ্রামীণফোনের দরপতনে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমিয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে ১ দশমিক ০৭ শতাংশ।

এর পরেই ইউনাইটেড পাওয়ারের দর শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ দর কমার কারণে সূচক কমেছে ১ দশমিক ৭২ পয়েন্ট।

এ ছাড়া স্কয়ার ফার্মা, ওয়ালটন হাইটেক, বেক্সিমকো ফার্মা, বেক্সিমকো গ্রীণ সুকুক বন্ড, বিকন ফার্মা, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ব্র্যাক ব্যাংকের দরপতনে সূচক কিছুটা কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০ কোম্পানি কমিয়েছে ১৯ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট।

আরও পড়ুন:
ফের পতনে লেনদেন তলানিতে, দুর্বল কোম্পানির ‘সুদিন’
মন্দা পুঁজিবাজারে দুর্বল কোম্পানির দাপট
সিএসই-৩০ সূচকে নতুন ৮ কোম্পানি
নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীরা, লেনদেন তলানিতে
পুঁজিবাজারে দরপতনের ‘তিনে তিন’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
A dividend of Rs 15 on a mutual fund of Rs 9

৯ টাকার মিউচ্যুয়াল ফান্ডে দেড় টাকা লভ্যাংশ

৯ টাকার মিউচ্যুয়াল ফান্ডে দেড় টাকা লভ্যাংশ
এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ডের ইউনিট দর ৮ টাকা ৮০ পয়সা, লভ্যাংশ দেবে দেড় টাকা। এসইএমএল আইবিবিএল শরীয়াহ্ ফান্ডের ইউনিট দর ৮ টাকা ৬০ পয়সা, লভ্যাংশ ৬০ পয়সা। এসইএমএল লেকচার ইক্যুয়িটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ডের ইউনিট দর ৯ টাকা ১০ পয়সা। লভ্যাংশ ৫০ পয়সা।

গত এক বছরে টালমাটাল পুঁজিবাজারেও মুনাফা করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত স্ট্র্যাটেজিক ইক্যুয়িটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের তিনটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

এগুলো ইউনিটপ্রতি ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ দেড় টাকা করে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। পুঁজিবাজারে একেকটি ইউনিট ৮ টাকা ৬০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৯ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হচ্ছে।

২০২১ সালের জুলাই থেকে গত ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে বুধবার ফান্ড তিনটির ট্রাস্টি কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। এগুলো হলো এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড, এসইএমএল লেকচার ইক্যুয়িটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড ও এসইএমএল আইবিবিএল শরীয়াহ্ ফান্ড।

ফান্ড তিনটির মুনাফা পুঁজিবাজারের এক বছরের সার্বিক অবস্থার তুলনায় বেশ ভালো। ২০২১ সালের প্রথম কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইর সার্বিক সূচক ছিল ৬ হাজার ২১৯ পয়েন্ট, যা অর্থবছর শেষে গত ৩০ জুন ছিল ৬ হাজার ৩৭৬ পয়েন্ট।

এক বছরে বেড়েছে ২.৫২ শতাংশ। তবে তিনটি ফান্ডের ইউনিট মূল্যের বিবেচনায় বিনিয়োগকারীরা মুনাফা পাবেন এর চেয়ে বেশি।

তিনটি ফান্ডই এবার আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে

সবচেয়ে বেশি দেবে এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড

তিনটি ফান্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেবে এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড। এর ইউনিটধারীরা প্রতি ইউনিটের বিপরীতে ১৫ শতাংশ বা দেড় টাকা করে লভ্যাংশ পাবেন।

বর্তমানে ফান্ডটির ইউনিট মূল্য ৮ টাকা ৮০ পয়সা। অর্থাৎ ইউনিটমূল্যের ১৭ দশমিক ০৪ শতাংশ বিনিয়োগকারীরা এক বছরের লভ্যাংশ হিসেবেই পাবেন।

ফান্ডটি যত টাকা আয় করেছে, লভ্যাংশ দেবে তার চেয়ে বেশি। এবার এটির ইউনিট প্রতি আয় (ইপিইউ) হয়েছে ৯৩ পয়সা। এটি গত বছরের প্রায় অর্ধেক।

২০২১ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরে ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৮৭ পয়সা আয় করে দেড় টাকা করে লভ্যাংশ দিয়েছিল।

জুন শেষে ইউনিট প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিইউ) দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৫৪ পয়সায়। ২০২১ সালের জুন শেষে যা ছিল ১২ টাকা ৩০ পয়সা।

২০১৯ সালে ফান্ডটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। প্রতি বছরই বিনিয়োগকারীরা ফান্ডটি থেকে লভ্যাংশ পেয়েছেন

৮ টাকা ৬০ পয়সার ফান্ডে লভ্যাংশ ৬০ পয়সা

এসইএমএল আইবিবিএল শরীয়াহ্ ফান্ডের ইউনিটধারীরা ইউনিট প্রতি ৬ শতাংশ বা ৬০ পয়সা নগদ লভ্যাংশ পাবেন।

এই ফান্ডটির ইউনিট দর এখন ৮ টাকা ৬০ পয়সা। এই হিসেবে ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগকারীরা পাবেন লভ্যাংশ হিসেবে।

এই ফান্ডটির ইউনিট প্রতি আয় (ইপিইউ) হয়েছে ৫২ পয়সা।

আগের বছর ইউনিটপ্রতি ২ টাকা ৩৫ পয়সা আয় করে ১ টাকা লভ্যাংশ দিয়েছিল ফান্ডটি। ওই বছর আয়ের তুলনায় লভ্যাংশ কম হওয়ার কারণ ছিল তার আগের বছর ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ১৩ পয়সা লোকসান সমন্বয়।

এবার সমন্বয়ের কোনো হিসাব ছিল না বলে আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেয়া গেছে আগের বছরের রিজার্ভ থেকে।

জুন শেষে এই ফান্ডটির ইউনিট প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিইউ) দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৮৩ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১১ টাকা ৩১ পয়সা।

ফান্ডটি ২০১৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এর মধ্যে ২০২০ সালে কেবল তারা লভ্যাংশ দিতে পারেনি লোকসানের কারণে।

ফান্ডগুলোর রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ ঘোষিত লভ্যাংশ পেতে হলে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে ওই দিন পর্যন্ত ফান্ডের ইউনিট ধরে রাখতে হবে।

ইউনিটপ্রতি ৫০ পয়সা লভ্যাংশ

এসইএমএল লেকচার ইক্যুয়িটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ডের বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫ শতাংশ বা ইউনিট প্রতি ৫০ পয়সা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা করেছে।

এই ফান্ডটির ইউনিট দর এখন ৯ টাকা ১০ পয়সা। এই হিসাবে ইউনিটদরের ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ হিসেবে পাবেন।

এই ফান্ডটির এবার ইউনিট প্রতি আয় (ইপিইউ) হয়েছে ৪৬ পয়সা।

আগের বছর ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি ২ টাকা ৮৪ পয়সা আয় করে দেড় টাকা করে লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই বছর লভ্যাংশ কম হয়েছিল আগের বছর ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৭ পয়সা লোকসান সমন্বয়ের কারণে। গত বছর কোনো লোকসান না থাকায়, এবার আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দিতে পারবে ফান্ডটি।

গত ৩০ জুন শেষে ফান্ডটির ইউনিট প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিইউ) দাঁড়ায় ১০ টাকা ৮০ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ১১ টাকা ৮৪ পয়সা।

এই ফান্ডটি ২০১৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এর মধ্যে ২০২০ সালে বাজারে ধসের মধ্যে কেবল তারা লভ্যাংশ দিতে পারেনি।

আরও পড়ুন:
ট্রাক ভাড়া বাড়ায় বেনাপোলে পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থা
বিনিয়োগে যাচ্ছে স্টক ডিলাররা
ফ্লোর প্রাইসে প্রথম ‘বড় পতন’
তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলে নিল পুঁজিবাজার
বিদেশি বিনিয়োগের পালেও জোর হাওয়া

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
This time the panel broker of ICB Capital is City Brokerage

এবার আইসিবি ক্যাপিটালের প্যানেল ব্রোকার হলো সিটি ব্রোকারেজ

এবার আইসিবি ক্যাপিটালের প্যানেল ব্রোকার হলো সিটি ব্রোকারেজ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ও সিটি ব্রোকারেজের কর্মকর্তারা। ছবি: নিউজবাংলা
সিটি ব্রোকারেজের নিজস্ব অ্যাপ ‘সিটি ইনফিনিট’ ব্যবহার করে যে কোনো জায়গা থেকে শেয়ার কেনাবেচা যাবে।

জনতা ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের পর এবার আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্যানেল ব্রোকার হলো দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্রোকারহাউজ সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেড।

রাজধানীর সিটি সেন্টারে সিটি ব্রোকারেজের প্রধান কার্যালয়ে বুধবার এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে।

ফলে এখন থেকে আইসিবি ক্যাপিটালের বিনিয়োগকারী বা গ্রাহকরা সিটি ব্রোকারেজের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন।

সিটি ব্রোকারেজের নিজস্ব অ্যাপ ‘সিটি ইনফিনিট’ ব্যবহার করে যে কোনো জায়গা থেকে শেয়ার কেনাবেচা যাবে।

একই সঙ্গে সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেডের গ্রাহকরা আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড থেকে মার্জিন লোন পাওয়ার যোগ্য হবেন।

সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী এম আফফান ইউসুফ এবং আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও জিএম অসিত কুমার চক্রবর্তী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেডের এফপিভি ও বিক্রয় প্রধান সাইফুল ইসলাম, এসএভিপি এবং করপোরেট প্রধান সাইফুল ইসলাম মাসুম, হেড অফ রিটেইল মহিউদ্দিন আহমেদ বুলবুল উপস্থিত ছিলেন।

আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আল আমিন তালুকদার, উপ-প্রধান নির্বাহী মেহমুদ হাসান মুরাদ, শামীম পারভেজ ও মোহাম্মদ আসাদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

গত ৪ আগস্ট জনতা ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্যানেল ব্রোকার হিসেবে চুক্তি স্বাক্ষর করে সিটি ব্রোকারেজ।

আরও পড়ুন:
এক যুগের দাবি পূরণের পরও পুঁজিবাজারের উল্টো দৌড়
ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডোবা কোম্পানির শেয়ারে এত আগ্রহ!
বিনিয়োগে যাচ্ছে স্টক ডিলাররা
ফ্লোর প্রাইসে প্রথম ‘বড় পতন’
তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলে নিল পুঁজিবাজার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
After meeting the demands of an era the capital market is in the opposite direction

এক যুগের দাবি পূরণের পরও পুঁজিবাজারের উল্টো দৌড়

এক যুগের দাবি পূরণের পরও পুঁজিবাজারের উল্টো দৌড়
বাজারের এই চিত্র ভাবিয়ে তুলেছে মিয়া আব্দুর রশিদ সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা শেখ ওহিদুজ্জামান স্বাধীনকে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আগের কর্মদিবসের পতনটা স্বাভাবিক দর সংশোধন ছিল। তবে আজকেরটা শুধু দর সংশোধন নয়, এর সঙ্গে বেশ কিছু মোটিভ যুক্ত হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি যদি পতনের কারণ হতো তাহলে রোববারেই বড় পতন হতো।’

এক যুগের চাওয়া ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে গণনার ঘোষণা আসার পরে আবারও উল্টো পথে পুঁজিবাজার।

এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত আসার টানা তিন কর্মদিবস দরপতন হলো পুঁজিবাজারে। এর মধ্যে রোববার ৮ পয়েন্ট, সোমবার ৪৫ পতনের পর মঙ্গলবার আশুরার ছুটি শেষে বুধবার আরও ৭৮ পয়েন্ট পড়ল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স। অর্থাৎ তিন কর্মদিবসেই ১৩১ পয়েন্ট কমল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক।

অথচ প্রতিটি শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য বা ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পর এক্সপোজার লিমিট নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর আগের সপ্তাহে টানা পাঁচ কর্মদিবসে সূচক বেড়েছিল ৩৩১ পয়েন্ট। সেই সঙ্গে লেনদেনে দেখা গিয়েছিল ঊর্ধ্বগতি।

গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক সার্কুলারে জানায়, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট গণনার ক্ষেত্রে শেয়ারের ক্রয়মূল্যকেই বাজারমূল্য ধরা হবে।

এতদিন বাজারমূল্য অথবা ক্রয়মূল্যের মধ্যে যেটি বেশি, সেটিকে ধরেই ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনা করা হতো। এর ফলে কোনো শেয়ারের দর বেড়ে গিয়ে বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করলে ব্যাংকগুলো শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হতো।

সেটি না করলে এক দিন শেয়ার ধরে রাখলেই ব্যাংককে জরিমানার একাধিক ঘটনা ঘটেছে, যে কারণে এদিকে দৃষ্টি রাখতে হতো কোম্পানিগুলোকে।

এটিকে পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি বাধা হিসেবে ধরা হতো। আশা করা হচ্ছিল, এই সমস্যার সমাধান হলে বাজারে বিক্রয়চাপ কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়বে।

এক যুগের দাবি পূরণের পরও পুঁজিবাজারের উল্টো দৌড়
ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পর ডিএসইতে এক দিনে সবচেয়ে বেশি দরপতন হলো বুধবারই

তবে বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ৪৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর ইস্যুতে নতুন করে যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়েছে। এর পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার অব্যাহত দরপতন ইস্যুও যোগ হয়েছে।

শেয়ারগুলো দর হারানোর সঙ্গে সঙ্গে কমছে লেনদেন। টানা তিন দিন সূচকের পাশাপাশি লেনদেন কমে নেমে গেছে হাজার কোটি টাকার নিচে।

রোববার আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমেছিল কমই। সোমবার সূচক অনেকটাই কমলেও লেনদেন গতি ধরে রাখে। তবে বুধবার দেখা গেল ধপাস।

সোমবারের তুলনায় এদিন লেনদেন কমেছে প্রায় ২০৯ কোটি টাকা। হাতবদল হয়েছে ৭৯৯ কোটি ৪৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকার শেয়ার। সোমবার হাতবদল হয়েছিল ১ হাজার ৮৩ কোটি ৪৬ লাখ ৭ হাজার টাকার শেয়ার।

এদিন ২৭৯টি কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে কেবল ২৬টির দর। আগের দরেই লেনদেন হয়েছে ৭৪টি শেয়ার।

ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পর এক দিনে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ তুলে দেয়ার কারণে এখন সূচকের পতনের ‍সুযোগ বেড়েছে। ফ্লোর ও এক্সপোজার লিমিট ইস্যুতে এক সপ্তাহে বাজার ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যাওয়ার কারণে এখন বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারের দুই শতাংশের পতনের সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটিই বাজারে বড় দরপতনের কারণ।

যেমন বেক্সিমকো লিমিটেড, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, বেক্সিমকো ফার্মা, ইউনিক হোটেল, ওরিয়ন ফার্মার মতো কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এগুলো সূচকের বড় পতনে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে।

বাজারের এই চিত্র ভাবিয়ে তুলেছে মিয়া আব্দুর রশিদ সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা শেখ ওহিদুজ্জামান স্বাধীনকে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আগের কর্মদিবসের পতনটা স্বাভাবিক দর সংশোধন ছিল। তবে আজকেরটা শুধু দর সংশোধন নয়, এর সঙ্গে বেশ কিছু মোটিভ যুক্ত হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি যদি পতনের কারণ হতো তাহলে রোববারেই বড় পতন হতো।’

তিনি বলেন, ‘কম দামে শেয়ার কেনার একটা মোটিভ রয়েছে। ৩০০ পয়েন্ট বেড়েছে সেটা হয়তো ২০০ পয়েন্ট ফেলে কম দামে শেয়ার কিনতে চান বাজারের বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।’

সব খাতেই দরপতন

ঢালাও পতনের দিন কোনো খাতেই স্বস্তি মেলেনি। প্রায় সব খাতেই সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে।

তবে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি ছিল বস্ত্র খাতে। এই খাতে লেনদেন হয়েছে দেড় শ কোটি টাকার বেশি। সব মিলিয়ে হাতবদল হয়েছে ১৫২ কোটি ৮০ লাখ টাকার, যা মোট লেনদেনের ২১.০২ শতাংশ।

তবে ৭৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ বা ৪৫টি কোম্পানির দরপতন হয়েছে খাতটিতে। মাত্র ৬ দশমিক ৯০ শতাংশের দর বেড়েছে আর আগের দরেই লেনদেন হয়েছে ১৫.৫২ শতাংশ কোম্পানির।

আর কোনো খাতের লেনদেন ১০০ কোটি স্পর্শ করতে পারেনি। ৩টি বা ২১ শতাংশ কোম্পানির বৃদ্ধি দেখা গেছে বিবিধ খাতে। দরপতন হয়েছে ৫৭ দশমিক ১৪ শতাংশ কোম্পানির। আগের দরেই লেনদেন হয়েছে ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার।

খাতটিতে লেনদেন হয়েছে ৯৬ কোটি ৩৪ লাখ অর্থাৎ মোট লেনদেনের ১৩.২৫ শতাংশ।

লেনদেনের ১০ শতাংশের বেশি হয়েছে প্রকৌশল ও ওষুধ খাতে।

তবে প্রকৌশলে ৮৩.৩৩ শতাংশ আর ওষুধ খাতে ৯৩.৫৫ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়েছে।

পঞ্চম স্থানে থাকা জ্বালানি খাতের ৫৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা লেনদেনের পাশাপাশি ৭৮.২৬ শতাংশের দরপতন ও ৮.৭০ শতাংশের দরবৃদ্ধি দেখা গেছে।

ব্যাংক খাতে ৪টি কোম্পানি বা ১২.১২ শতাংশের দরবৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৬০ শতাংশ কোম্পানির দর।

এ ছাড়া খাদ্য, বিমা, পেপার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আইটি ও পাট খাতে ব্যাপক পতন হলেও সামান্য অল্প কিছুসংখ্যক কোম্পানির দর বৃদ্ধি হয়েছে।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ দর বেড়েছে উৎপাদনে না থাকা লোকসানি কোম্পানি জুট স্পিনার্সের। সর্বশেষ শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৯০ টাকা ৮০ পয়সায়।

দ্বিতীয় স্থানে ছিল সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ। ৫ দশমিক ০৭ শতাংশ বেড়ে প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২০ টাকা ৭০ পয়সায়।

তৃতীয় সর্বোচ ৫ দশমিক ০১ শতাংশ দর বেড়েছে এস আলম কোল্ডরোল স্টিলের। শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ৩৫ টাকা ৬০ পয়সায়।

এ ছাড়া শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে আমান ফিড, অ্যাপেক্স স্পিনিং, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, ডমিনেজ স্টিল, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম ও ফারইস্ট ফাইন্যান্স।

দরপতনের শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি দর কমেছে মোজাফফর স্পিনিংয়ের। ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ দর কমে সর্বশেষ শেয়ারটি লেনদেন হয়েছে ২৯ টাকা ৪০ পয়সায়।

৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ দর কমেছে দ্বিতীয় স্থানে থাকা সোনারগাঁও টেক্সটাইলের। হাতবদল হয়েছে ৬১ টাকা ৪০ পয়সা। সোমবার ছিল ৬৬ টাকা।

তৃতীয় স্থানে সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে ১৯ টাকায় লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে যথাক্রমে বিডি থাই ফুড, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল, এসকে ট্রিমস, তুং হাই নিটিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ম্যাকসনস ইন্ডাস্ট্রিজ ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি।

সূচক কমাল যারা

সবচেয়ে বেশি ৯ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট সূচক কমেছে ওয়ালটন হাইটেকের দরপতনে। কোম্পানিটির দর কমেছে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ২২ পয়েন্ট কমিয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

লাফার্জ হোলসিমের দর ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ কমার কারণে সূচক কমেছে ৪ দশমিক ৬২ পয়েন্ট।

বেক্সিমকো ফার্মা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ওরিয়ন ফার্মা, ইউনাইটেড পাওয়ার, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউনিক হোটেল ও আইসিবির দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৪ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে বার্জার পেইন্টস। কোম্পানির দর শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে।

আর কোনো কোম্পানি এককভাবে এক পয়েন্ট সূচকে যোগ করতে পারেনি।

ব্র্যাক ব্যাংক, ম্যারিকো বাংলাদেশ, সোনালী পেপার, ইউনিলিভার, ইস্টার্ন ব্যাংক, আমান ফিড, এস আলম স্টিল, ট্রাস্ট ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংক সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ৫ দশমিক ০২ পয়েন্ট।

আরও পড়ুন:
ভালো স্টার্টআপকে পুঁজিবাজারে চান বিএসইসি চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ ব্যাংককে বিএসইসির ধন্যবাদ
এক্সপোজার লিমিট শেয়ারের ক্রয়মূল্যে: বাংলাদেশ ব্যাংক
৯ মাস পর জাগল পুঁজিবাজার
বিএসইসি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেবে, আশা পলকের

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
So much interest in the debt scandal shares of the company

ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডোবা কোম্পানির শেয়ারে এত আগ্রহ!

ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডোবা কোম্পানির শেয়ারে এত আগ্রহ! ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার এখন ছুটছে পাগলা ঘোড়ার মতো।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব কোম্পানির দর বাড়ার পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এগুলোর দর বাড়ে জুয়াড়িদের কারণে। আর গুজবে কান দিয়ে কিছুটা দাম বাড়ান সাধারণ বিনিয়োগকারী।

ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিআইএফসি ২০১৭ সালে ১০ টাকার শেয়ারপ্রতি ৬৯ টাকা ৫৫ পয়সা লোকসান দেয়ার পর বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে দিতে পারলেই বাঁচে। একপর্যায়ে দর নেমে আসে দুই টাকার ঘরে। সেই কোম্পানির শেয়ার এখন ছুটছে পাগলা ঘোড়ার মতো।

ওই বছর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি কোনো সম্পদ ছিলই না, ছিল ৬৬ টাকা ৪০ পয়সার দায়।

গত ১৪ জুলাই কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ৬ টাকা ২০ পয়সা। সেদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান ছিল ৬ হাজার ৩২৪ পয়েন্ট। সেখান থেকে ধস নেমে ফ্লোর প্রাইস ঘোষণার দিন ২৮ জুলাই সূচকের অবস্থান নামে ৫ হাজার ৯৮০ পয়েন্ট। অর্থাৎ ১০ কর্মদিবসে কমে ৩৪৪ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট।

তবে বাজারের গতির বিপরীতে গিয়ে এই সময়ে বিআইএফসির শেয়ারদর এই সময়ে বাড়ে ৫১ শতাংশের বেশি। সেদিন শেয়ারদর দাঁড়ায় ৯ টাকা ৪০ পয়সা। ১০ দিনে বাড়ে ৩ টাকা ২০ পয়সা।

ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে গণনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার আসার পর পাঁচ দিনে ৩৩১ পয়েন্ট সূচক বাড়ার পর বিআইএফসির শেয়ারদর বাড়ে আরও বেশি।

একপর্যায়ে তা ১৩ টাকা ৬০ পয়সায় উঠে যায়। অবশ্য এখন সেখান থেকে কিছুটা কমে ১২ টাকা ২০ পয়সায় নেমেছে।
২০১৭ সালের হিসাব দেয়ার পর বিআইএফসি ২০১৯ সালের আর্থিক হিসাব প্রকাশ করেছে। এই বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১২ টাকা ২০ পয়সা।

২০১৭ সালের তুলনায় লোকসান কমলেও শেয়ারপ্রতি দায়ের দিক থেকে আরও অবনতি হয়েছে। ২০১৯ সাল শেষে শেয়ারপ্রতি দায় দাঁড়ায় ৯৪ টাকা ২৭ পয়সায়।

এমন একটি কোম্পানির শেয়ারদর ১৮ কর্মদিবসে শতভাগের বেশি বেড়ে যাওয়া কোনো স্বাভাবিকতার মধ্যে পড়ে না- এটা বলাই যায়।
বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে, বিআইএফসির মতো ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় সব শেয়ারদরই একইভাবে ঊর্ধ্বগামী।

সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বাড়ছে ইন্টার‌ন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং ইউনিয়ন ক্যাপিটালের দর।

ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া এসব কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও দেশসেরা কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বাড়েনি সে রকম।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব কোম্পানির দর বাড়ার পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এগুলোর দর বাড়ে জুয়াড়িদের কারণে। আর গুজবে কান দিয়ে কিছুটা দাম বাড়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারী।

ইন্টার‌ন্যাশনাল লিজিং

২০১৯ সালে কোম্পানিটি ১০ টাকার শেয়ারের বিপরীতে লোকসান দিয়েছে ১২৬ টাকা ৩৬ পয়সা। পরের বছর লোকসান দাঁড়ায় ৩১ টাকা ৩০ পয়সা। ২০২১ সালের আর্থিক হিসাব এখনও প্রকাশ হয়নি। সম্প্রতি প্রকাশ পাওয়া ওই বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব শেষে জানানো হয়, তিন প্রান্তিক মিলে শেয়ারপ্রতি লোকসান ৭ টাকা ৭১ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি দায় ১৫২ টাকা ৬৪ পয়সা।

গত ২০ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৫ টাকা। গত দুই কর্মদিবস কিছুটা কমার পরও এখন ৬ টাকা ৭০ পয়সা। বেড়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা বা ৩৪ শতাংশ। দুই দিন আগে তা ছিল আরও বেশি, ৭ টাকা ১০ পয়সা।

গত বছর কোম্পানিটির সাবেক এমডি পিকে হালদারের যোগসাজশে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আলোচনায় আসে প্রতিষ্ঠানটি।

ইউনিয়ন ক্যাপিটাল

২০১৮ সালে শেয়ারপ্রতি ৫৬ পয়সা লাভের পর ২০১৯ সালে ৬ টাকা ১৩ পয়সা লোকসান হয়। ২০২০ সালে ৩ টাকা ৮ পয়সা এবং ২০২১ সালে সর্বশেষ ৮ টাকা ৩ পয়সা লোকসান গুনেছে কোম্পানিটি।

গত ২ নভেম্বর বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এক কোটি টাকার বেশি ঋণ প্রদানে নিষেধাজ্ঞা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে পারছে না ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড।

স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণের অর্থ আদায় না করেই অবলোপন বা রাইট অফ করছে। এভাবে নানা অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদ শেষ করে দায় পরিশোধের সক্ষমতা হারাচ্ছে আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানটি। শত কোটি টাকা আটকে রেখে ঋণ দিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত ২০ জুলাই এই কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৬ টাকা ৯০ পয়সা। এক পর্যায়ে গত রোববার উঠে যায় ৯ টাকা ৪০ পয়সায়। পরদিন কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ টাকায়। এই কয়দিনে বেড়েছে ২ টাকা ১০ পয়সা বা ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

এই কোম্পানির শেয়ারদরে অস্বাভাবিকতা আগেও দেখা গেছে। ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এর শেয়ারদর ১৫ টাকা ৫০ পয়সায় উঠে গিয়েছিল। পরে আবার ৬ টাকা ৬০ পয়সায় নেমেও যায়।

ফাস ফাইন্যান্স

পি কে হালদারের ঋণে কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া কোম্পানি এটিও।

২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ১৪ টাকা ৬১ পয়সা লোকসান দেয়া কোম্পানিটি পরের বছরের আর্থিক প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ করেনি। ওই বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত আয় ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ হয়েছে প্রায় এক বছর পর।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই বছরের তিন প্রান্তিকে ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৭ টাকা ২০ পয়সা। এর এই সময় পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি দায় আছে ২০ টাকা ৫৯ পয়সা।

গত ১৯ জুলাই এই কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ৪ টাকা ৯০ পয়সা। বর্তমান দর ৬ টাকা ৩০ পয়সা। বেড়েছে ১ টাকা ৪০ পয়সা বা ২৮ দশমিক ৬০ শতাংশ।

তবে দর আরও বেড়ে হয়েছিল ৬ টাকা ৭০ পয়সা।

গত বছর সেপ্টেম্বরেও কোম্পানিটির শেয়ারদর অস্বাভাবিকবাবে বাড়তে দেখা যায়। নানা গুজব-গুঞ্জনে এক পর্যায়ে তা ১১ টাকা ৭০ পয়সায় উঠে যায়।

ফারইস্ট ফাইন্যান্স

এই কোম্পানিটি চলতি অর্থবছরের কোনো প্রান্তিকের হিসাব প্রকাশ করেনি এখনও। ২০২১ সালের চূড়ান্ত হিসাবও দেয়নি। ওই বছরের ১ নভেম্বর প্রকাশ করে সেপ্টেম্বর পর‌্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত হিসাব দিয়েছে।

এতে দেখা যায় গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা। শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য কেবল ১ টাকা ১৫ পয়সার।

গত ১৯ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৫ টাকা ২০ পয়সা। বর্তমান দর ৬ টাকা ৩০ পয়সা। বেড়েছে ১ টাকা ১০ পয়সা বা ২১ দশমিক ১৫ শতাংশ।

তবে দর বেড়েছিল আরও বেশি, ৬ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত।

গত বছরের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্তও কোম্পাটির দর অস্বাভাবিকহারে বাড়তে দেখা যায়। সে সময় দর উঠে ১০ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত। গত ২২ মে নেমে আসে ৪ টাকা ৭০ পয়সায়।

ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেড

২০২১ সালের আর্থিক হিসাব ও চলতি অর্থবছরের দুই প্রান্তিকের হিসাব একসঙ্গে প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি। এতে দেখা যায় গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের এর শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৮ টাকা ৪৭ পয়সা। আর গত জুন শেষে দুই প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৪ টাকা ১২ পয়সা।

কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি কোনো সম্পদ নেই, উল্টো দায় আছে ১৮ টাকা ৪৪ পয়সার।

এই কোম্পানির শেয়ারদর গত ২০ জুলাই ছিল ৫ টাকা। বর্তমান দর ৬ টাকা। অর্থাৎ এক মাসেরও কম সময়ে বেড়েছে এক টাকা বা ২০ শতাংশ।

গত বছরের সেপ্টেম্বরেও একবার শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তা উঠে যায় ৯ টাকা ৯০ পয়সায়।

প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স

এই কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ার প্রতি ৯৩ টাকা লোকসান দেয়ার পর ২০২১ সালের আর্থিক হিসাব এখনও প্রকাশ করেনি।

গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটি ওই বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ার প্রতি ৬ টাকা ৩৩ পয়সা লোকসান দিয়েছে। তখন প্রতি শেয়ারের বিপরীতে সম্পদ ছিল ৯ টাকা ৮১ পয়সার।

গত ১৯ জুলাই এই কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ৬ টাকা ৪০ পয়সা। বর্তমান দর ৭ টাকা ৭০ পয়সা। এই কয়দিনে বেড়েছে ১ টাকা ২০ পয়সা বা ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

সোমবার দর ৮ টাকা ১০ পয়সাতেও উঠেছিল, পরে সেখান থেকে কমে ৪০ পয়সা।

এই কোম্পানির দর বাড়া শুরু হয় গত ২২ মে। সেদিন হাতবদল হয় ৬ টাকা ১০ পয়সা দরে।

গত বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে এই কোম্পানিটির শেয়ারদরে এবারের চেয়ে বেশি উল্লম্ফন দেখা যায়। সে সময় দর ৫ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়ে যায় ১৪ টাকা ৬০ পয়সায়। সেখান থেকে পরে নেমে আসে ৬ টাকায়।

‘এর কারণ জুয়া’

যেসব কোম্পানির অদূর ভবিষ্যতে মুনাফায় ফেরা বা লভ্যাংশ দেয়ার ন্যূনতম সম্ভাবনা নেই, সেসব কোম্পানির শেয়ারদরে এভাবে লাফ দেয়ার পেছনে জুয়াড়িয়াদের প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে বলে মনে করেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এই অধ্যাপক বলেন, ‘এসব কোম্পানি তো আর রাতারাতি ভালো হয়ে যায় না। কিন্তু তারপরও এগুলোর দাম বাড়ে, এর কারণ হলো জুয়া খেলা। জুয়াড়িরা এসব শেয়ারের দাম টেনে তোলে। আর গুজবে কান দিয়ে অনেকেই এই শেয়ার কেনেন।’

তিনি বলেন, ‘দেশে যদি ২০ লাখ বিনিয়োগকারী থাকেন, এর মধ্যে ৫০ থেকে ৭০ হাজার হবে যারা প্রকৃত বিনিয়োগকারী। তারা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করেন। বাকিরা ওমুক ভাই, তমুক ভাইকে ফলো করে শেয়ার কেনেন।

‘এসব গুজব এবং জুয়াড়িদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হয়তো তিন বারের মধ্যে একবার উইন করেছে, তাই বেশি টাকা বানানোর আশায় সেই পথই বারবার অনুসরণ করে। এতে জুয়াড়িরা লাভবান হয়, কিন্তু তারা কোনো আয় করতে পারেন না।’

আরও পড়ুন:
বিনিয়োগে যাচ্ছে স্টক ডিলাররা
ফ্লোর প্রাইসে প্রথম ‘বড় পতন’
তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলে নিল পুঁজিবাজার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Death of DSE director Habibullah

ডিএসইর পরিচালক হাবিবুল্লাহর মৃত্যু

ডিএসইর পরিচালক হাবিবুল্লাহর মৃত্যু হাবিবুল্লাহ বাহার
রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর৷

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক হাবিবুল্লাহ বাহার মারা গেছেন।

রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর৷

গত ৪ আগস্ট ব্রেন স্ট্রোক হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় হাবিবুল্লাহ বাহারকে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ডিএসইর পক্ষ থেকে হাবিবুল্লাহ বাহারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত শোক বার্তায় বলা হয়, পুঁজিবাজারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তার অবদান আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।

এ ছাড়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূঁইয়া ডিএসইর ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

হাবিবুল্লাহ বাহার ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। ১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন ডিএসইর এই পরিচালক।

আরও পড়ুন:
আইওএসসিও’র ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ায় বিএসইসি চেয়ারম্যানকে ডিএসই’র অভিনন্দন
নতুন গভর্নরকে ডিএসইর অভিনন্দন
ডিএসইর নতুন সিএফও সাত্বিক আহমেদ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Stock dealers are going to invest

বিনিয়োগে যাচ্ছে স্টক ডিলাররা

বিনিয়োগে যাচ্ছে স্টক ডিলাররা ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন ও স্টকডিলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠক। ছবি: নিউজবাংলা
পুঁজিবাজারে তারল্য, চাহিদা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বুধবার ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন ও স্টকডিলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএসইসি।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে আগামী কয়েক দিন বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে স্টক ডিলাররা।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউকিরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে এক বৈঠকে এ আশ্বাস দিয়েছে স্টকব্রোকার প্রতিনিধিরা।

পুঁজিবাজারে তারল্য, চাহিদা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বুধবার ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন ও স্টকডিলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএসইসি।

এতে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসি কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমদ।

এ সময় বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম, বিএসইসির মার্কেট সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স বিভাগ ও ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, ডিবিএ সভাপতি রিচার্ড ডি‌‌’ রোজারিও এবং শীর্ষ স্টকডিলার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন ।

সভায় বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও বাজার মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করা হয়।

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে চারটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন ডিএসই ও ডিবিএর প্রতিনিধিরা।

সেগুলো হলো-

১. সামর্থ্য মোতাবেক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে স্টকডিলাররা আগামী কয়েকদিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া।

২. বিগত সময়ে শেয়ার বিক্রি করে অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমানে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। সে সব বিনিয়োগকারীদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে পুনরায় বিনিয়োগের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা।

এ ছাড়া যেসব ইন-অ্যাকটিভ অ্যাকউন্ট আছে তাদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগসহ উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা।

৩. প্রত্যেক স্টক ব্রোকার তাদের বিদ্যমান বিনিয়োগকারী ছাড়া নতুন সম্ভাব্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। যা বাজারে চাহিদা ও তারল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে সহায়তা করবে।

৪. বাংলাদেশের যেসব জেলায় স্টক ব্রোকারের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ নেই, সেসব জেলায় বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা। স্টকব্রোকারগুলো ডিজিটাল বুথ অথবা শাখা অফিস খোলার মাধ্যমে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমদ ডিবিএর সুপারিশগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দেন। সেই সঙ্গে সবাইকে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন:
ফ্লোর প্রাইসে প্রথম ‘বড় পতন’
তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলে নিল পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজার উন্নয়নে সব সহায়তা দেব: নতুন গভর্নর
ভালো স্টার্টআপকে পুঁজিবাজারে চান বিএসইসি চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ ব্যাংককে বিএসইসির ধন্যবাদ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Income Kamal Waltons dividend is Rs25 per share

আয় কমল ওয়ালটনের, লভ্যাংশ শেয়ারে ২৫ টাকা

আয় কমল ওয়ালটনের, লভ্যাংশ শেয়ারে ২৫ টাকা
২০২১ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত ওয়ালটনের শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪০ টাকা ১৬ পয়সা। আগের বছর কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৫৪ টাকা ২১ পয়সা। অর্থাৎ আয় কমেছে ১৪ টাকা ৫ পয়সা বা ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ।

আগের বছরের চেয়ে আয় প্রায় ২৬ শতাংশ কমে গেছে দেশের সবচেয়ে বড় ইলেকট্রনিক পণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানি ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের। তবে আয় কমলেও তারা লভ্যাংশ আগের বছরের সমান রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৫০ শতাংশ, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি ২৫ টাকা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

তবে কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা লভ্যাংশ কম নেবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদেরকে ১৫০ শতাংশ করে শেয়ার প্রতি ১৫ টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সোমবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত ওয়ালটনের শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪০ টাকা ১৬ পয়সা। আগের বছর কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৫৪ টাকা ২১ পয়সা। অর্থাৎ আয় কমেছে ১৪ টাকা ৫ পয়সা বা ২৫ দশমিক ৯১ শতাংশ।

আয় কমলেও কোম্পানির সম্পদ মূল্য কিছুটা বেড়েছে। গত জুন শেষে প্রতি শেয়ার প্রতি ৩৩৪ টাকা ৬৮ পয়সার সম্পদ ছিল কোম্পানিটির। এক বছর আগে যা ছিল ৩১১ টাকা ৫৯ পয়সা।

অর্থাৎ এক বছরে শেয়ার প্রতি সম্পদ বেড়েছে ২৩ টাকা ৯ পয়সা।

এই লভ্যাংশ চূড়ান্ত করতে বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম ডাকা হয়েছে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর যাদের হাতে শেয়ার থাকবে, তারাই এই লভ্যাংশ পাবে।

২০২০ সালে পুঁজিবাজারে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির বর্তমান শেয়ার দর ১ হাজার ১৬ টাকা। কোম্পানিটি তার মোট শেয়ারের কেবল ০.৯৭ শতাংশ বাজারে ছেড়েছে। তাদেরকে আরও সাড়ে ৯ শতাংশ বা এক কোটি ২০ শেয়ার ছাড়তে বলা হয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই নির্দেশ দেয়ার পর ওয়ালটনের শেয়ারের ব্যাপক দরপতন হয়েছে। গত এক বছরে এক হাজার ৪৮৪ টাকা থেকে অনেকটাই নেমে এসেছে দর। বর্তমানে যে দর, সেটিই বছরের সর্বনিম্ন।

অবশ্য এই দর তার ইস্যু মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। ২০২০ সালে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৫২ টাকা দরে আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩১৫ টাকা দরে শেয়ার ইস্যু করা হয়।

তালিকাভুক্তির বছরে কোম্পানিটি ২০০ শতাংশ, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি ২০ টাকা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

আরও পড়ুন:
আয় বাড়তে থাকলেও লভ্যাংশ কমাচ্ছে ম্যারিকো
মুনাফায় ফিরলেও টানা দুই প্রান্তিকে লোকসান হাইডেলবার্গে
আয় বাড়িয়ে লভ্যাংশও কিছুটা বাড়াল কন্টিনেন্টাল
আয় বাড়লেও লভ্যাংশ কমাল লংকাবাংলা
কমল আয়, বাড়ল লভ্যাংশ

মন্তব্য

p
উপরে