× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Even after reducing the interest rate the sale of savings certificates is not decreasing
hear-news
player
google_news print-icon

সুদের হার কমানোর পরও কমছে না সঞ্চয়পত্র বিক্রি

সুদের-হার-কমানোর-পরও-কমছে-না-সঞ্চয়পত্র-বিক্রি
১১ মাসে ৯৭ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে গ্রাহকদের সুদ-আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৭৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা; সুদ শোধ করতে হয়েছে ৩৬ হাজার ২৮ কোটি টাকা।

সুদের হার হ্রাস ও নানা ধরনের কড়াকড়ি আরোপের পরও সাধারণ মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ সঞ্চয়পত্র বিক্রি খুব একটা কমছে না।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সোমবার ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরের ১১ মাসের (জুলাই-মে) সঞ্চয়পত্র বিক্রির তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, এই ১১ মাসে সব মিলিয়ে ৯৭ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে গ্রাহকদের মূল টাকা (বিনিয়োগ) ও মুনাফা (সুদ) বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৭৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। যার মধ্যে সুদ শোধ করতে হয়েছে ৩৬ হাজার ২৮ কোটি টাকা।

মে মাস পর্যন্ত আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর এ খাতে সরকারের নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা। যা আগের গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯ হাজার ২২৯ কোটি টাকা বা ৫১ শতাংশ কম।

২০২০-২১ অর্থবছরের এই ১১ মাসে নিট বিক্রির পমিাণ ছিল ৩৭ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা।

২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে মোট ১ লাখ ২ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল। এর মধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছিল ৬২ হাজার ৬১৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এ হিসাবেই নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা।

সবশেষ মে মাসে ৭ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে সুদ-আসল বাবদ ৭ হাজার ২২৬ কোটি টাকা শোধ করা হয়েছে গ্রাহকদের। যার মধ্যে মুনাফা পরিশোধ করা হয়েছে ৩ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। এ হিসাবে মে মাসে নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৩৮ কোটি টাকা।

{আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর যেটা অবশিষ্ট থাকে, তাকে বলা হয় নিট বিক্রি। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে সুদ দিতে হয়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়}

সুদের হার কমানোর পরও কমছে না সঞ্চয়পত্র বিক্রি

সঞ্চয়পত্র কিনতে ব্যাংকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন গ্রাহকরা। ফাইল ছবি

সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, করোনা মহামারির মধ্যেও গত ২০২০-২১ অর্থবছরের পুরো সময়ে (১২ মাস, জুলাই-জুন) ১ লাখ ১২ হাজার ১৮৮ কোটি ২৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল। যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি।

নিরাপদ বিনিয়োগ, ব্যাংকের চেয়ে প্রায় তিন থেকে চারগুণ বেশি মুনাফা এবং পুঁজিবাজারের মন্দার কারণে এই বিপুল অঙ্কের টাকা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেছিলেন সাধারণ মানুষ। ওই বিনিয়োগের মধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ ৭০ হাজার ২২৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। সে হিসাবে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৫৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি।

২০১৯-২০ অর্থবছরের সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা।

এর আগে সবচেয়ে বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৯০ হাজার ৩৪২ কোটি ৩৯ লাখ টাকার।

এভাবে বিক্রি বাড়ায় সরকারের ঋণের বোঝা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছিল। সেই চাপ কমাতে সঞ্চয়পত্র বিক্রির লাগাম টেনে ধরতে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে মুনাফার ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করে সরকার। একই সঙ্গে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হয়।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার শর্ত আরোপসহ আরও কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। তারপরও বাড়তে থাকে বিক্রি।

সবশেষ সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারকে যাতে বেশি সুদ পরিশোধ করতে না হয়, সে জন্য বিক্রি কমাতে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ২ শতাংশের মতো কমিয়ে দেয় সরকার। তারপরও বিক্রি তেমন একটা কমেনি।

কড়াকড়ি আরোপ ও সুদের হার কমানোর পরও সঞ্চয়পত্র বিক্রি কেনো কমছে না-এ প্রশ্নের উত্তরে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সহজ উত্তর। সুদের হার কমানোর পরও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে ১০ শতাংশের বেশি সুদ পাওয়া যায়। এখানে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই। মাস শেষে মুনাফা ব্যাংকে চলে আসে। মেয়াদ শেষে আসলও চলে আসে। আর ব্যাংকে বা বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাখলে বা বিনিয়োগ করলে ৫ শতাংশের বেশি পাওয়া যায় না; ঝুঁকির বিষয়টিও চিন্তা করে অনেকে।

‘পুঁজিবাজারে মন্দার পর মন্দা লেগেই আছে। সে কারণেই যার যে সঞ্চয় আছে, তা চোখ বন্ধ করে সঞ্চয়পত্রেই বিনিয়োগ করছে।’

‘সুদের হার কমানোয় সরকারের সুদ পরিশোধের পরিমাণ হয়ত কমবে। কিন্তু বিক্রি খুব একটা কমবে বলে মনে হয় না।’

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ধরেছিল সরকার। ১১ মাসে অর্থাৎ জুলাই-মে সময়ে ১৮ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা নিয়েছে।

১ জুলাই থেকে যে ২০২২-২৩ অর্থবছর শুরু হবে, সেই বাজেটে ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্র থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে এই খাত থেকে ৪২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল সরকার। মূল বাজেটে ২০ হাজার কোটি টাকা ধার করার লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। বিক্রি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সংশোধিত বাজটে সেই লক্ষ্য বাড়িয়ে ৩০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা করা হয়।

তবে বছর শেষে দেখা যায়, সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে মূল বাজেটের দ্বিগুণেরও বেশি ঋণ নিয়েছে। সংশোধিত বাজেটের চেয়ে বেশি নিয়েছে ৩২ শতাংশ। আর আগের অর্থবছরের চেয়ে বেশি নিয়েছে প্রায় তিন গুণ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে, ৫২ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।

সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারকে যাতে বেশি সুদ পরিশোধ করতে না হয়, সে জন্য গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমিয়ে দেয় সরকার।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক রকম সুদের হার, ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক রকম হার এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরেক রকম হার নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

তবে ১৫ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হারে সরকার হাত দেয়নি। অর্থাৎ আগে যে হারে সুদ পাওয়া যেত, এখনও সেই হারে পাওয়া যাবে।

এর আগে ২০১৫ সালে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার গড়ে ২ শতাংশের মতো কমিয়েছিল সরকার।

বর্তমানে দেশে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র প্রচলিত আছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় পরিবার সঞ্চয়পত্র। মোট বিক্রির অর্ধেকেরও বেশি বিক্রি হয় এই সঞ্চয়পত্র।

পেনশনার সঞ্চয়পত্র ছাড়া সাধারণ সঞ্চয়কারীদের জন্য নির্ধারিত পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রেই সবচেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। এখনও এই সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এ হার অবশ্য ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে।

১৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। আর ৩০ লাখ ১ টাকা থেকে তার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষে মুনাফা সাড়ে ৯ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
বাজারের আগুনে কমেছে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ
করের টাকায় সঞ্চয়পত্রের সুদ গুনছে সরকার
সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমছে, বাড়ছে সরকারের ব্যাংক ঋণ
সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমছে
সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ কমায় স্বস্তিতে সরকার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Meeting with Japanese investors on Tuesday

জাপানের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক মঙ্গলবার

জাপানের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক মঙ্গলবার
জাপানে গিয়ে এই সম্মেলন করার কথা থাকলেও সেই সফর বাতিল করা হয়। যাদের জাপানে যাওয়ার কথা ছিল তারা বাংলাদেশে বসে জুম-এর মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত থাকবেন। আর টোকিওতে এএনএ ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে থাকবেন জাপানের অংশগ্রহণকারীরা।

দেশে বিনিয়োগ টানতে জাপানের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই বৈঠক হবে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিএসইসি।

এর আগে জাপানে গিয়ে এই সম্মেলন করার কথা থাকলেও সেই সফর বাতিল করা হয়। এখন বাংলাদেশ থেকে যাদের জাপানে যাওয়ার কথা ছিল তারা বাংলাদেশে বসে জুম-এর মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত থাকবেন। আর জাপানে এএনএ ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে জাপানের অংশগ্রহণকারীরা থাকবেন।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মাহাবুব আলম বলেন, ‘এই বৈঠক হাইব্রিডভাবে অনুষ্ঠিত হবে। জাপানে থাকবেন সে দেশে থাকা বাংলাদেশিরা, জাপান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমেদ আর জাপানি বিনিয়োগকারীরা। আর বাংলাদেশে থাকবেন বিএসইসি চেয়ারম্যান, বিআইডিএ চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টাসহ আরও অনেকে।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিএসইসি ও বিডা এই ‘ইনভেস্টমেন্ট ফ্ল্যাশ মব’ আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া কথা বলবেন বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে। বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন কথা বলবেন বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে কিভাবে বাইরে থেকে বিনিয়োগ করা যাবে সেসব নিয়ে।

এছাড়াও কথা বলবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

আর জাপানে থাকবেন দুই দেমের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিনিয়োগকারীগণ এবং শিল্পপতি-ব্যবসায়ীরা। তারা থাকবেন জাপানের টোকিওতে এএনএ ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
80 percent of vehicles come through Mongla Port Barbida

৮০ শতাংশ গাড়ি আসে মোংলা বন্দর দিয়ে: বারবিডা 

৮০ শতাংশ গাড়ি আসে মোংলা বন্দর দিয়ে: বারবিডা 
বারবিডা সভাপতি মো. হাবিব উল্লাহ ডন বলেন, ‘মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ এখন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে। গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা এখন আর মোংলা বন্দরে ঘটে না। আমদানিকৃত গাড়ির প্রায় ৮০ শতাংশই এখন মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়।’

দেশে আমদানি হওয়া গাড়ির প্রায় ৮০ শতাংশই আসে মোংলা বন্দর দিয়ে। ২০২১-২২ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে এসেছে ২০ হাজার ৮০৮টি গাড়ি, যা এই বন্দরের এ যাবতকালের রেকর্ড।

মোংলায় সোমবার দুপুরে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ রিকন্ডিশন ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারবিডা)।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলনকক্ষে ওই সভায় অংশ নেয়া কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে গাড়ি আমদানি বেড়েছে। এ খাত থেকে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় হচ্ছে সরকারের। এই মুহূর্তে বন্দর চ্যানেলের গভীরতা বাড়াতে পারলে বন্দরে আরও বড় জাহাজ আসতে পারবে। তখন একসঙ্গে অনেক বেশি গাড়ি আনা যাবে, কমবে পরিবহন খরচ।

বারবিডা সভাপতি মো. হাবিব উল্লাহ ডন বলেন, ‘মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ এখন নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা এখন আর মোংলা বন্দরে ঘটে না। আমদানিকৃত গাড়ির প্রায় ৮০ শতাংশই এখন মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়।’

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, ‘আমদানিকৃত গাড়ির শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মোংলা বন্দরের। আপনাদের কোনো ধরণের অভিযোগ থাকলে আমাকে সরাসরি লিখিত জানাবেন, আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব।’

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বন্দর প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পর ২০০৯ সালে ৮ হাজার ৯০০টি গাড়ি আমদানির মাধ্যমে মোংলা বন্দর দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়। সব রেকর্ড ভেঙে ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে মোংলা বন্দর দিয়ে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ৮০৮টি গাড়ি আমদানি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিলাস দ্রব্যের তালিকা থেকে গাড়িকে বাদ দেয়ার দাবি
রিজার্ভ কেউ চিবিয়ে খায়নি: প্রধানমন্ত্রী
দ্রুত পণ্য খালাসের উদ্যোগে সাড়া নেই
গাজীপুরে ফিলিং স্টেশনে বিস্ফোরণ: দগ্ধ আরেকজনের মৃত্যু
৩ কেজি স্বর্ণসহ দুবাইফেরত দুই যাত্রী গ্রেপ্তার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Instructions to verify the accuracy of the video about the banking sector

ব্যাংকিং খাত নিয়ে ভিডিওর যথার্থতা যাচাইয়ের নির্দেশ

ব্যাংকিং খাত নিয়ে ভিডিওর যথার্থতা যাচাইয়ের নির্দেশ মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
মন্ত্রিপিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আপনারাও বলছেন, আমার কাছে বেশ কয়েকটা ভিডিও আসছে, এগুলোর যথার্থতা যাচাই করে যদি হয়ে থাকে, কেন হয়েছে; কী হলো, এটা উনারা জানিয়ে দিবেন।’

ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনা ভিডিওর যথার্থতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

সচিবালয়ে সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকেদর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ কথা বলেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা ব্যাংকের ওদেরকে বলে দিয়েছি এটার সিনারিও জানানোর জন্য। আপনারাও বলছেন, আমার কাছে বেশ কয়েকটা ভিডিও আসছে, এগুলোর যথার্থতা যাচাই করে যদি হয়ে থাকে, কেন হয়েছে; কী হলো, এটা উনারা জানিয়ে দিবেন।’

আরও পড়ুন:
এবার বন্ধ সান্ধ্যকালীন ব্যাংকিং
মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে নতুন রেকর্ড
ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে লেনদেন যতবার খুশি
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন সীমা বাড়ল
ইসলামি অর্থ ব্যবস্থা এবার মোবাইল লেনদেনে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The High Courts verdict on the check dishonor case has not been suspended

চেক ডিজঅনার মামলা নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত হয়নি

চেক ডিজঅনার মামলা নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত হয়নি প্রতীকী ছবি
আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল বাকী পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ আদায়ের জন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা করতে পারবে না, হাইকোর্টের এমন রায় স্থগিত করেননি চেম্বার জজ আদালত। এ বিষয়ে শুনানির জন্য ফুল কোর্টে পাঠিয়ে দিয়েছেন।’

ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করা চেক ডিজঅনার মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেনি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের করা আবেদন সাড়া না দিয়ে চেম্বার জজ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন। পাশাপাশি শুনানির জন্য মামলাটি তিনি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে আপিল বিভাগে শুনানি হবে বৃহস্পতিবার।

আদালতে ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। অন্যদিকে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল বাকী।

আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল বাকী পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ আদায়ের জন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা করতে পারবে না- হাইকোর্টের এমন রায় স্থগিত করেননি চেম্বার জজ আদালত। এ বিষয়ে শুনানির জন্য ফুল কোর্টে পাঠিয়ে দিয়েছেন।’

হাইকোর্ট ২৩ নভেম্বর এ-সংক্রান্ত রায় দেয়। তবে সেটি স্থগিত চেয়ে আবেদন করে ব্র্যাক ব্যাংক।

ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ আদায়ের জন্য শুধু ২০০৩ সালের অর্থঋণ আইনের বর্ণিত উপায়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা করা যাবে বলে হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে।

রায়ে বিচারিক আদালতের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্ট বলে, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি চেক ডিজঅনার মামলা করে তাহলে আদালত তা সরাসরি খারিজ করে দেবে। একই সঙ্গে তাদের ঋণ আদায়ের জন্য অর্থঋণ আদালতে পাঠিয়ে দেবে।

এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকেও নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন:
জামালপুরের ইসলামপুরে ইসলামী ব্যাংক
এসএমই মেলায় পদ্মা ব্যাংকের বিশেষ এসএমই সেবা
ওসি মোয়াজ্জেমের হাইকোর্টে জামিন
চেক প্রত্যাখ্যান মামলা করতে পারবে না ব্যাংক: হাইকোর্ট
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষিতে ঋণ বাড়ানোর নির্দেশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The government can directly increase the price of oil gas electricity

তেল গ্যাস বিদ্যুতের দাম সরাসরি বাড়াতে পারবে সরকার  

তেল গ্যাস বিদ্যুতের দাম সরাসরি বাড়াতে পারবে সরকার  
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘একটি ছোট সংশোধন নিয়ে আসা হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকারই ট্যারিফ নির্ধারণ করতে পারবে।’

তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ক্ষমতা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) পাশাপাশি সরকারের কাছেও আসছে।

এ-সংক্রান্ত বিধান রেখে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২২-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। পরে সচিবালয়ে বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘একটি ছোট সংশোধন আনা হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকারই ট্যারিফ নির্ধারণ করতে পারবে।

‘এখন বিইআরসি এগুলো সব হ্যান্ডেল করে। কিন্তু বিইআরসির কিছু কিছু জায়গায় একটু সমস্যা হয়। যেমন ৯০ দিন পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্ত না দিয়েও থাকতে পারে। কারণ আইনে বলা আছে, বিইআরসি ৯০ দিনের মধ্যে এগুলো সব শুনানি নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবে। অনেক সময় আমাদের জরুরি প্রয়োজন আসে। সে ক্ষেত্রে অনেক সময় তারা সঠিকভাবে সমন্বয় করতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, যেমন এখন ধরুন ৯০ দিন সময় নিয়ে তারা শুনানি নেয়। একটা ইমার্জেন্সি এলো। আবার অনেক সময় দাম কমে গেল। কিন্তু বিআরসি ৯০ দিন ধরে দাম কমাবে। সরকার হস্তক্ষেপ করে একটা নোটিফিকেশন দিয়ে দাম কমিয়ে আনতে পারবে।

‘স্বাভাবিকভাবে দাম সমন্বয়ের কাজ বিইআরসি-ই করবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করবে।’

বেসরকারি খাতে জ্বালানি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ

সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করা যায় কিনা তার পথ খুঁজতে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ফুয়েলসহ অন্যান্য এনার্জি বেসরকারিভাবে আমদানির ব্যবস্থা করা যায় কিনা সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সেক্ষেত্রে দুটি অপশন- তারা এনে নিজেরাই বাজারে বিক্রি করলে কি বেটার হবে? এখন যে আইন আছে সে অনুযায়ী তারা ক্রুড অয়েল আনবে। এনে তারা যদি রিফাইন করে? এখন তো বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন) ছাড়া কেউ জ্বালানি বাজারজাত করতে পারে না। সাধারণত ক্রুড অয়েল রিফাইন করে ৪১ থেকে ৪২ শতাংশ রিফাইনড অয়েল হয়।’

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘রিফাইনড অয়েলটা তারা বিপিসির কাছে দিয়ে দিলো। অথবা তারা সরাসরি বাজারজাত করতে পারে কিনা সেটাও দেখতে হবে। তবে যেটা করতে হবে সেটা হলো, ক্রুড অয়েল রিফাইন করার পর বিটুমিনসহ অন্যান্য উপজাত পণ্য আসবে। এগুলো হয় তারা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করবে অথবা বাইরে রপ্তানি করবে।

‘তবে রিফাইনড অয়েলের বিষয়ে দুটি অপশন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। হয় তারা বিপিসির কাছে বিক্রি করে দিতে পারে। অথবা অন্য কোনো ম্যাকানিজম কিংবা আইন সংশোধন করে বিক্রির অনুমতি দেয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে বিএসটিআইকে মনিটরিং করতে হবে যেটা রিফাইনড হলো সেটা আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য কিনা।’

এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও খুব শিগগির একটি সিদ্ধান্তে যেতে মন্ত্রিসভা নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

আরও পড়ুন:
কঠিন সময়ে পাইকারিতে বাড়ল বিদ্যুতের দাম
পল্লী বিদ্যুতের শ্রমিককে কুপিয়ে আহত
বিদ্যুৎ খাতে সহায়তা দেবে সিঙ্গাপুর
৩ হাজার বকেয়া সংযোগ বিচ্ছিন্নের মিশন তিতাসের
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মায়ের সামনে প্রাণ গেল ছেলের

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Project on modernization of three toll stations

তিন শুল্ক স্টেশন আধুনিকায়নে প্রকল্প

তিন শুল্ক স্টেশন আধুনিকায়নে প্রকল্প সোনা মসজিদ স্থল বন্দর। ছবি: সংগৃহীত
চাঁপাইনবাবগুঞ্জের সোনামসজিদ, সিলেটের তামাবিল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া শুল্ক স্টেশন আধুনিকায়নে ৩১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নিয়েছে এনবিআর।

রাজস্ব আদায়ের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ দেশের তিনটি শুল্ক স্টেশন আধুনিকায়নে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এগুলো হলো চাঁপাইনবাবগুঞ্জের সোনামসজিদ, সিলেটের তামাবিল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া।

শুল্ক স্টেশনগুলো আধুনিকায়নে ৩১৩ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ একটি প্রকল্প নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর, যা গত মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেয়া হয়।

সূত্র জানায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের আওতায় কাস্টমসের অবকাঠামো তৈরি ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন করা হবে।

এনবিআরের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, উল্লিখিত শুল্ক স্টেশনগুলো রাজস্ব আদায়ের দিক থকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুল্ক স্টেশনের অবকাঠামো খুবই দুর্বল। জনবলেরও ঘাটতি রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ শুল্ক স্টেশনের জন্য যা দরকার এসব শুল্ক স্টেশনে তা নেই। অথচ বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড দিন দিন বাড়ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এসব শুল্ক স্টেশন দিয়ে পণ্য আনা-নেয়া সহজ হবে। গতি বাড়বে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে। একইসঙ্গে বাড়বে রাজস্ব আদায়।

বর্তমানে এনবিআরের অধীনে সারাদেশে ৫০টি শুল্ক স্টেশন সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরই অবকাঠামো দুর্বল। এনবিআর সূত্র বলেছে, তিনটি শুল্ক স্টেশন আধুনিকায়নের পর অন্যগুলোতেও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় যেসব কাজ হবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- কাস্টম অফিস ও কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ, আধনিক ল্যাব তৈরি, কম্পিউটার ক্রয় ইত্যাদি।

বর্তমানে এসব শুল্ক স্টেশনে ম্যানুয়াল বা প্রচলিত প্রথায় পণ্যের শুল্কায়ন করা হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া আধুনিক হবে। এতে করে পণ্য দ্রুত খালাস হবে। সহজ হবে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য।

বর্তমানে সারা দেশে কাস্টমসের শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয় তার ৩০ ভাগ এই তিনটি স্টেশনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এনবিআরের কর্মকর্তারা বলেন, আধুনিকায়নের কাজ শেষ হলে বাণিজ্যক কর্মকাণ্ড কমপক্ষে ২০ ভাগ বাড়বে।

ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয়সহ ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ৭টি রাজ্যে প্রবেশের অন্যতম দুয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া শুল্ক স্টেশন। ১৯৯৪ সালে চালু হওয়া এই স্থলবন্দর দিয়ে মাছ, পাথর, সিমেন্ট, ইট, বালি, শুটকি, প্লাস্টিক সামগ্রী, তুলাসহ প্রায় ৪২টি বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে তামাবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুল্ক স্টেশন হলেও এটি চলছে দুর্বল অবকাঠামো ও স্বল্প লোকবল দিয়ে।

কাস্টমস সূত্র বলেছে, এটিকে পূর্ণাঙ্গ শুল্ক স্টেশনে উন্নীত করা হলে রাজস্ব আদায় বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ হবে। গত অর্থবছরে তামাবিল শুল্ক স্টেশন থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ হয়। এই শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে পাথর ও কয়লা বেশি আসে।

এছাড়া সোনা মসজিদ স্থল বন্দর দিয়ে পাথর, চাল, পেঁয়াজ, শুটকি, ভুট্টাসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি করা হয়। এর মধ্যে বেশি আসে পাথর। এই শুল্ক স্টেশন থেকে মাসে গড়ে ৭০ থেকে ৮০ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ হয়।

আরও পড়ুন:
সীমানা জটিলতায় থেমে আছে বিলোনিয়া স্থলবন্দরের উন্নয়ন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Housing traders are seeing challenges in the new DAP

নতুন ড্যাপে চ্যালেঞ্জ দেখছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা

নতুন ড্যাপে চ্যালেঞ্জ দেখছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা রোববার এফবিসিসিআই কার্যালয়ে স্ট্যান্ডিং কমিটি অন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিংয়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: নিউজবাংলা
উদ্যোক্তারা বলছেন, আগে প্রশস্ত রাস্তা না থাকলেও ৮ থেকে ১০ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা যেত। এখন সেখানে অনুমোদন পাওয়া যাবে চার থেকে পাঁচ তলার। এতে স্বল্প প্রস্থের রাস্তার পাশের জমির মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বৈষম্যের শিকার হবেন আবাসন ব্যবসায়ীরাও। ক্ষতির মুখে পড়বে আবাসন শিল্প।

পরিকল্পিত আবাসন ও উন্নত রাজধানী গড়তে নতুন বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপ অনুমোদন পেয়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নতুন এই পরিকল্পনায় টেকসই নগরায়ণ-বান্ধব উদ্যোগ থাকলেও আবাসন শিল্পের জন্য বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে দাবি রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (রিহ্যাব)।

রোববার এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত স্ট্যান্ডিং কমিটি অন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিংয়ের দ্বিতীয় সভায় আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা এমনটা জানিয়েছেন।

উদ্যোক্তারা জানান, নতুন ড্যাপে রাস্তার প্রশস্ততা অনুপাতে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আগে যেখানে প্রশস্ত রাস্তা না থাকলেও ৮ থেকে ১০ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা যেত, এখন সেখানে অনুমোদন পাওয়া যাবে চার থেকে পাঁচ তলার। এ কারণে স্বল্প প্রস্থের রাস্তার পাশের জমির মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বৈষম্যের শিকার হবেন আবাসন ব্যবসায়ীরাও। এমন অবস্থায় শিল্পটি ক্ষতির মুখে পড়বে বলে দাবি তাদের।

বৈঠকে জানানো হয়, আগে রাজধানীতে জমির নিবন্ধন ফি নির্ধারণ হতো মৌজার দর অনুযায়ী। নতুন ড্যাপে সেটিকে পরিবর্তন করে বাজার মূল্য অনুযায়ী নির্ধারণের বিধান করা হয়েছে। এটিকেও আবাসন শিল্পের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন উদ্যোক্তারা।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন জানান, আবাসন খাতের সংকট নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। নিজেদের ধারণা সমৃদ্ধ করতে আবাসন ব্যবসায়ীদের ড্যাপ বিষয়ে গভীর বিশ্লেষণের পরামর্শ দেন তিনি। অন্যদিকে টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিতে ড্যাপকে বাস্তবতার আলোকে সমন্বয় করতে রাজউকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে কমিটির ডিরেক্টর ইনচার্জ ও রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, ‘ড্যাপে বেশকিছু ভালো দিক রয়েছে। তবে আবাসন খাতের জন্য কিছু জটিলতাও থেকে গেছে। এসব বিষয়ে সমাধানে আসতে রাজউক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ অন্য অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে রিহ্যাব। ‘আমরা সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, সহযোগী হয়ে কাজ করতে চাই।’

বৈঠকে এফবিসিসিআই-এর সহ-সভাপতি আমিন হেলালী বলেন, ‘এই বৈঠকের আলোচ্য বিষয়গুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরা আমাদের কাজ। আবাসন শিল্পের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সমিতির সঙ্গে বসে সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে।’ একইসঙ্গে আবাসন খাতের অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে রিহ্যাবের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

নির্মাণসামগ্রীর উচ্চ মূল্যের কারণে এমনিতেই সংকটে রয়েছে আবাসন খাত। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন ড্যাপ নিয়ে শঙ্কা। এমন সংকট থেকে উত্তরণে নীতিনির্ধারক ও অংশীজনদের নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানান কমিটির চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী ভূঁইয়া মিলন।

তিনি বলেন, ‘আবাসন ব্যবসায়ীরা ড্যাপের বিরুদ্ধে নয়। তাদের আপত্তি কেবল টেকসই নগরায়ণ এবং আবাসন খাতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো নিয়ে।

এফবিসিসিআইর পরিচালক এম জি আর নাসির মজুমদার, শফিকুল ইসলাম ভরসা, বিজয় কুমার কেজরিওয়াল, হাফেজ হারুন, আবু মোতালেব, আক্কাস মাহমুদ, মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, কমিটির কো-চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন জিটু, মোহাম্মদ আলী দ্বীন, কামাল মাহমুদ, এ.এফ.এম ওবায়দুল্লাহসহ অন্য সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ড্যাপের সম্মিলিত বাস্তবায়নে জোর স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর
ড্যাপ চূড়ান্ত, কারও প্রতি অবিচার হলে সংশোধন
‘উঁচু ভবন করলে বাড়বে ডায়াবেটিস’
ড্যাপের অনুমোদন ডিসেম্বরে: মন্ত্রী তাজুল
ডিসেম্বরের মধ্যে ড্যাপ গেজেট: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

মন্তব্য

p
উপরে