× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

অর্থ-বাণিজ্য
Frustration in the capital market for not getting the opportunity of black money
hear-news
player
print-icon

‘কালো টাকার সুযোগ না পেয়ে’ পুঁজিবাজারে হতাশা

কালো-টাকার-সুযোগ-না-পেয়ে-পুঁজিবাজারে-হতাশা
মিয়া আব্দুর রশিদ সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা শেখ ওহিদুজ্জামান স্বাধীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাজেটে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ না থাকা বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের দাবি ছিল, পুঁজিবাজারের তারল্য বাড়াতে এবং অস্থিরতা দূর করতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রাখা। এতে বিনিয়োগকারীরা আশায় ছিলেন, কালো টাকা বিনিয়োগ হলে তারা স্বল্প সময়ে কিছু প্রফিট টেকিং করতে পারবেন। ফলে আজকে শেয়ার কেনায় আগ্রহ দেখা যায়নি। বাজেট পুনঃবিবেচনায় কী আসে, সেটাই হয়ত দেখবেন তারা।’

বাজেট ঘোষণার পর প্রথম কর্মদিবসে পুঁজিবাজারে দরপতন হলো। এক দিনে কোনো শেয়ারের সর্বোচ্চ পতনের হার ২ শতাংশ বেধে দেয়ার পরও সূচকের ৪৮ পয়েন্ট পতনে বড় দরপতনই বলা যায়।

গত সপ্তাহে একটু একটু করে বাড়তে থাকা পুঁজিবাজার গত বৃহস্পতিবার বাজেট ঘোষণার আগে আগে স্লথ হয়ে যায়। বিশ্লেষকরা সেদিন বলেন, পুঁজিবাজারের জন্য কী ঘোষণা আসে সেটা দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেবেন বিনিয়োগকারীরা।

এবার বাজেটে পুঁজিবাজারের কোম্পানিগুলোর করপোরেট করের হার আড়াই শতাংশ কমানোর কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। এটিকে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। তবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, কালো টাকা নামে পরিচিতি পাওয়া অপ্রদর্শিত আয় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। পুজিবাজারে লভ্যাংশের ওপর থেকে দ্বৈত করও প্রত্যাহার হয়নি। পাশাপাশি ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহার আগের মতোই ৩৭.৫ শতাংশ রাখা হয়েছে।

বাজেট প্রতিক্রিয়া শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব রেখেছে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ।

রোববার প্রথম কর্মদিবসের লেনদেনের চিত্র বলছে, বাজেট নিয়ে বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী হয়নি। এক দিনেই দর হারিয়েছে তিন শতাধিক কোম্পানি। এর মধ্যে একটি বড় অংশের দর কমেছে দিনের সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ পর্যন্ত বা এর আশেপাশে। বহু কোম্পানির দর সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত কমার পর ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে। অর্থাৎ এই বিধান না থাকলে দরপতন আরও বেশি হতে পারত।

লেনদেনের শুরু থেকেই সূচক ছিল নিম্নমুখী। আধা ঘণ্টা পরে উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।

দিন শেষ কমেছে ৩০৬টি কোম্পানির দর, বেড়েছে ৫৩টির, আর ১৯টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে আগের দরেই।

‘কালো টাকার সুযোগ না পেয়ে’ পুঁজিবাজারে হতাশা
বাজেট ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় রোববার বড় দরপতন দেখে দেশের পুঁজিবাজার

কমে গেছে লেনদেনও। বাজেট ঘোষণার দিন যেখানে হাতবদল হয়েছিল ৭৫৮ কোটি ২৬ লাখ ৬২ হাজার টাকার শেয়ার, সেটি কমে হয়েছে ৬৩৬ কোটি ৪০ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

এর চেয়ে কম লেনদেন হয়েছিল ৫ মে। সেদিন ডিএসইতে হাতবদল হয়ে ৪৬৮ কোটি ৭০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।

মিয়া আব্দুর রশিদ সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা শেখ ওহিদুজ্জামান স্বাধীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাজেটে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ না থাকা বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের দাবি ছিল, পুঁজিবাজারের তারল্য বাড়াতে এবং অস্থিরতা দূর করতে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রাখা। এতে বিনিয়োগকারীরা আশায় ছিলেন, কালো টাকা বিনিয়োগ হলে তারা স্বল্প সময়ে কিছু প্রফিট টেকিং করতে পারবেন। ফলে আজকে শেয়ার কেনায় আগ্রহ দেখা যায়নি। বাজেট পুনঃবিবেচনায় কী আসে, সেটাই হয়ত দেখবেন তারা।

স্বল্প মূলধনি, দুর্বল কোম্পানির আধিপত্য

দর বৃদ্ধির তালিকায় অপেক্ষাকৃত দুর্বল ভিত্তির কোম্পানিগুলোর আধিপত্য ছিল। শীর্ষে বিশের প্রায় সবগুলোই ছিল এ ধরনের কোম্পানি। এসব কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদান করে না। কোনোটি লভ্যাংশ দিলে খুবই নগণ্য।

শীর্ষ দশের তিনটির দর বেড়েছে ৯ শতাংশের ওপরে, একটি করে কোম্পানির ৭ ও ৬ শতাংশের বেশি, দুটির ৫ শতাংশের বেশি, একটির ৮ শতাংশের বেশি এবং দুটি কোম্পানির দর বেড়েছে ৩ শতাংশের বেশি।

সবচেয়ে বেশি ৯.৯১ শতাংশ দর বেড়েছে ইন্স্যুরেন্স খাতের কোম্পানি মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের। চলতি বছরেই তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির লেনদেন শুরু হয়েছে ৮ জুন। অভিহিত মূল্যের কিছুটা ওপরে থেকে লেনদেন হচ্ছে শেয়ার। ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকা মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের দর ১২ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩ টাকা ৩০ পয়সায় হাতবদল হয়েছে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯.৯০ শতাংশ দর বেড়েছে লোকসানি কোম্পানি দুলামিয়া কটনের। লভ্যাংশের ইতিহাস না থাকা কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায়ই অস্বাভাবিক হারে বাড়তে দেখা যায় আবার পড়েও যায়।

এরপরেই ৯.০৭ শতাংশ দর বেড়েছে মুন্নু ফেব্রিকসের। নিয়মিত লভ্যাংশ দিতে না পারার পর ২০০৯ সালে ওটিসি মার্কেটে পাঠানো হয় কোম্পানিটিকে। গত বছর ফেরে সেখান থেকে। কিন্তু নগণ্য পরিমাণ মুনাফার পর কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। চলতি অর্থবছরে অন্তর্বর্তীকালীন লভ্যাংশ এসেছে শেয়ারে ১০ পয়সা।

বেক্সিমকো গ্রুপের শাইনপুকুর সিরামিকসের দর ৯.৪৮ শতাংশ বেড়ে ৪৫ টাকায় হাতবদল হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৬.২০ শতাংশ বেড়ে ৪১ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়েছিল। এই কোম্পানিটির ল্যভাংশের ইতিহাস ভালো নয়। তার পরেও প্রায়ই কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে যায়।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৭.১০ শতাংশ বেড়ে লেনদেন হয়েছে ২১ টাকা ১০ পয়সায়। ধারাবাহিক দুই বছর লভ্যাংশ দিলেও ঘোষিত লভ্যাংশ বিতরণ না করায় কোম্পানিটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসইসি।

ইনফরমেশন সার্ভিস নেটওয়ার্কের দর বেড়েছে ৬.৬৫ শতাংশ। স্বল্প মূলধনি কোম্পানিটি লভ্যাংশ দিলেও খুবই নগণ্য। গত দুই বছরে যথাক্রমে ১ ও ২ শতাংশ হারে লভ্যাংশ পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

৫.৮৮ শতাংশ দর বেড়ে ১৯ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে ন্যাশনাল ফিড মিলসের শেয়ার। কোম্পানিটির লভ্যাংশের ইতিহাসও খুব বেশি ভালো নয়।

সপ্তম অবস্থানে থাকা এস আলম স্টিলসের দর ৫.২৬ শতাংশ বেড়ে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৩৪ টাকায় লেনদেন হয়েছে।

৪ শতাংশের বেশি দর বেড়ে স্বল্প মূলধনি ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস এক হাজার ৯২০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ২ হাজার ১৬ টাকা ৯০ পয়সায়, দুর্বল কোম্পানি সাফকো স্পিনিং ২১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ২২ টাকা এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের প্রতিটি শেয়ারের দাম ৩.২৩ শতাংশ বেড়ে ১১৮ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।

দর পতনের তালিকায় বিমার প্রাধান্য

শীর্ষ ১০টির দরই কমেছে সর্বোচ্চ সীমায়। সামিট অ্যালায়েন্সের দর ৩০ টাকা থেকে কমে ২৯ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।

বাকিগুলোর মধ্য বেশিরভাগই বিমা কোম্পানি, যেগুলোর দর গত সপ্তাহে অনেকটাই বেড়েছে দল বেঁধে।

দ্বিতীয় দর কমেছে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের। বৃহস্পতিবার ৮০ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছিল প্রতিটি শেয়ার। সেটি আজ হাতবদল হয়েছে ৭৮ টাকা ৭০ পয়সায়। নিটল ইন্স্যুরেন্সের দর ৫০ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে ৪৯ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।

এরপরেই ২.৫৪ শতাংশ দর কমেছে প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের। ৯০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে প্রতিটি শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৮৮ টাকা ২০ পয়সায়।

রেনউইক যজ্ঞেশর, জনতা ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন হাউজিং এবং বিচ হ্যাচারি ছিল এই তালিকায়।

সূচক কমাল যারা

সূচক সবচেয়ে বেশি নামিয়েছে ওয়ালটন। কোম্পানিটি একাই সূচক ফেলেছে ৬.১৮ পয়েন্ট। কোম্পানিটির দর কমেছে ১.০৫ শতাংশ।

রবির কারণে সূচক কমেছে ৪.৬১ পয়েন্ট। টেলিযোগাযোগ খাতের কোম্পানিটির দর কমেছে ১.৬৮ শতাংশ।

স্কয়ার ফার্মার দর ১.১৯ শতাংশ কমায় সূচক কমেছে ৪.০৫ পয়েন্ট।

এছাড়া ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ০.৫৪ শতাংশ দরপতনে ২.৮৫ পয়েন্ট, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্টের ১.১ শতাংশ দর কমায় ১.৬৩ পয়েন্ট, ব্র্যাক ব্যাংকের দরপতনে ১.৫৮ পয়েন্ট, বিকন ফার্মার কারণে ১.৫৪ পয়েন্ট, পাওয়ার গ্রিডের কারণে ১ পয়েন্ট, আল আরাফাহ ইসলামিক ব্যাংকের কারণে ০.৯৪ পয়েন্ট এবং বার্জার পেইন্টসের কারণে ০.৮২ পয়েন্ট সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক ফেলেছে ২৫.২ পয়েন্ট।

সূচক বাড়ানোর চেষ্টায় যারা

সূচকের আরও পতন ঠেকাতে প্রধান ভূমিকায় ছিল গ্রামীণফোন। কোম্পানিটির দর বেড়েছে ০.৫৬ শতাংশ, যার কারণে সূচক বেড়েছে ৪.০৪ পয়েন্ট।

আর কোনো কোম্পানি ১ পয়েন্ট সূচক বাড়াতে পারেনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ০.৯৮ পয়েন্ট যোগ হয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের দর বৃদ্ধির কারণে। কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ২.২৭ শতাংশ।

শাইনপুকুর সিরামিকসের দর ৯.২৫ শতাংশ বাড়ার ফলে সূচক বেড়েছে ০.৯৮ পয়েন্ট।

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলসের দর ২.৮ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে ০.৮ ৬ পয়েন্ট। ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের ০.৪ শতাংশ দর বৃদ্ধিতে সূচক বেড়েছে ০.৫৭ পয়েন্ট।

এছাড়া মুন্নু ফেব্রিকস ০.৪ পয়েন্ট, ইউনাইটেড পাওয়ার ০.৩১ পয়েন্ট, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস ০.২৯ পয়েন্ট, ক্রাউন সিমেন্ট এবং বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক বন্ডের কারণে সূচক বেড়েছে ০.২৬ পয়েন্ট।

সব মিলিয়ে এই ১০ কোম্পানি সূচকে যোগ করতে পেরেছে ৮.৯৫ পয়েন্ট।

আরও পড়ুন:
বিমায় হুলুস্থুল, ব্যাংকেও ভালো দিন
পুঁজিবাজার নিয়ে বিএসইসি কমিশনারের তিন আক্ষেপ
পুঁজিবাজারে ‘সাতে সাত’, বাড়ছে আত্মবিশ্বাস
হতাশার মধ্যে আলোর বিচ্ছুরণ পুঁজিবাজারে
সেপ্টেম্বরে চালু হচ্ছে এটিবি, ইটিএফ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Bangladesh Bank will stand by the development of capital market Governor

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে পাশে থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক: গভর্নর

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে পাশে থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক: গভর্নর আগামী অর্থবছরের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। ছবি: নিউজবাংলা
প্রায় এক বছর ধরে পুঁজিবাজার নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সঙ্গে নানা বিষয়ে মতভেদের কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের সীমা বা এক্সপোজার লিমিট গণনার পদ্ধতিই নয় কেবল, আরও নানা বিষয়ে দুই পক্ষের চিন্তা ভিন্ন। পুঁজিবাজার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রক্ষণশীল মনোভাবের জন্য যে কর্মকর্তাকে দায়ী করা হয়, তাকে ১৯ বছর পর বদলি করায় নতুন এক ধরনের সমীকরণ অবশ্য তৈরি হয়েছে।

পুঁজিবাজারকে আর্থিক খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে বাজারের সার্বিক স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সচেষ্ট থাকবে বলে আগামী অর্থবছরের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতে কথা বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঘোষিত নিজের মেয়াদের শেষ মুদ্রানীতিতে এ কথা বলেন গভর্নর ফজলে কবির।

প্রায় এক বছর ধরে পুঁজিবাজার নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সঙ্গে নানা বিষয়ে মতভেদের কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের সীমা বা এক্সপোজার লিমিট গণনার পদ্ধতিই নয় কেবল, আরও নানা বিষয়ে দুই পক্ষের চিন্তা ভিন্ন।

এ নিয়ে এক দফা সরাসরি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যস্থতায় আরও এক দফায় বৈঠক হলেও দুই পক্ষ কাছাকাছি আসেনি। আর পুঁজিবাজারে প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে দুই পক্ষ সমন্বয় করে কাজ করবে বলে ২০১৪ সালে সরকারের পক্ষ থেকে যে ঘোষণা দেয়া হয়, সেটি মেনে চলার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি।

পুঁজিবাজার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রক্ষণশীল মনোভাবের জন্য যে কর্মকর্তাকে দায়ী করা হয়, তাকে ১৯ বছর পর বদলি করায় নতুন এক ধরনের সমীকরণ অবশ্য তৈরি হয়েছে।

গভর্নর তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে তারল্য সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় আবর্তনশীল ভিত্তিতে পুনর্বিনিয়োগযোগ্য পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিলের আকার ১৫৩ কোটি টাকা বৃদ্ধি করে ১ হাজার ৯ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

‘এই তহবিল থেকে ২৮০ কোটি টাকা ছাড় করার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে প্রতিটি ব্যাংকের বিনিয়োগের জন্য ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের সুবিধার আওতায় রেপোর মাধ্যমে ২১৮ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে, যা পুঁজিবাজারের তারল্য বাড়াতে সাহায্য করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া নতুন অর্থবছরে বেসরকারি খাতে মুদ্রার সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছুটা রক্ষণশীল নীতি ঘোষণা করা হয়।

এই এক বছরে বেসরকারি ঋণে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ, যা সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে হবে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। অবশ্য লক্ষ্যমাত্রা যাই হোক না কেন, এই অর্থবছরে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ।

এই প্রবৃদ্ধি করার পেছনে কারণ হিসেবে উঠে এসেছে করোনার বিধিনিষেধের কারণে বেশ কয়েক মাস অর্থনীতির চাকা থমকে থাকা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ঋণ সরবরাহ অবশ্য বাড়ছে।

ঋণ সরবরাহ কিছুটা লাগামের কারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। বেসরকারি ঋণে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমানোর পাশাপাশি নীতি সুদহার বাড়িয়েও এই লক্ষ্য অর্জন করতে চাইছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই হারে ঋণ দিয়ে থাকে, যা ব্যাংকিং খাতে মৌলিক নীতিনির্ধারণী সুদের হার বা রেপো সুদহার হিসেবে পরিচিত।

এক সার্কুলার জারি করে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতির বাড়তি চাপ সামাল দিতে বাজারে অর্থপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখন থেকে নীতি সুদহার নির্ধারিত হবে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ।

এর আগে গত ২৯ মে এই সুদহার ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
ইটিএফ চালু নিয়ে ডন গ্লোবাল-বিএসইসি বৈঠক
ফের পতনে লেনদেন তলানিতে, দুর্বল কোম্পানির ‘সুদিন’
মন্দা পুঁজিবাজারে দুর্বল কোম্পানির দাপট
সিএসই-৩০ সূচকে নতুন ৮ কোম্পানি
নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীরা, লেনদেন তলানিতে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Satvik Ahmed is the new CFO of DSE

ডিএসইর নতুন সিএফও সাত্বিক আহমেদ

ডিএসইর নতুন সিএফও সাত্বিক আহমেদ
স্কয়ার টেক্সটাইল লিমিটেডে ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী হিসেবে ২০০১ সালে কর্মজীবন শুরু সাত্বিকের। ২২ বছরের বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ও নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) হিসেবে বৃহস্পতিবার যোগদান করেছেন সাত্বিক আহমেদ শাহ। ডিএসইর উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে যোগদানের আগে সাত্বিক আহমেদ এস আলম গ্রুগের মালিকানাধীন একুশে টেলিভিশনে অতিরিক্ত প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (অ্যাডিশনাল সিএফও) ছিলেন।

স্কয়ার টেক্সটাইল লিমিটেডে ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী হিসেবে ২০০১ সালে কর্মজীবন শুরু সাত্বিকের। ২২ বছরের বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ও নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি কনকর্ড গ্রুপ অব কোম্পানিজের হেড অব গ্রুপ অডিট এবং ইন্টারনাল কন্ট্রোলের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জেমকন গ্রুপ, বেঙ্গল গ্রুপ, অপসোনিন ফার্মা এবং স্কয়ার গ্রুপের স্কয়ার টেক্সটাইলেও বিভিন্ন পদে ছিলেন।

সাত্বিক আহমেদ শাহ হিসাববিজ্ঞানে বিকম ও এমকম পাস করেন। ফাইন্যান্সে এমবিএ ও চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্সি (সিসি) পাস করেন।

এ ছাড়া তিনি লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অফ সার্টিফিকেটেড অডিটরস থেকে লিড অডিটর আইএসও এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইনফরমেশন সিস্টেমস অডিট অ্যান্ড কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশন থেকে সার্টিফায়েড ইনফরমেশন সিস্টেম অডিটর-সিআইএসএ এবং ফাইন্যান্স ও অডিট সার্ভিসেস সেক্টরে কোর্স করেন।

আরও পড়ুন:
সুযোগ-সুবিধা কমানোর গুঞ্জনে ডিএসই এমডি অবরুদ্ধ
প্রণোদনার টাকা পুঁজিবাজারে আসেনি: রকিবুর
ব্যাংক বিমায় আগ্রহের দিনে ওয়েবসাইটে ৩৫ মিনিট জটিলতা
ডিএসইর লেনদেন চলবে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত
১ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর ডিএসইতে স্বাভাবিক লেনদেন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Last minute surprises in a year of frustration in the capital markets

পুঁজিবাজারে হতাশার বছরে শেষ মুহূর্তের চমক

পুঁজিবাজারে হতাশার বছরে শেষ মুহূর্তের চমক
এক বছর আগে আজকের দিনে পুঁজিবাজারের সূচক ছিল ৬ হাজার ১৫০ পয়েন্ট। সেই হিসাবে এক বছরে বেড়েছে ২২৬ পয়েন্ট। তবে কেবল বছর শেষের দুইটি দিন বিবেচনা করলে চলবে না। এই অর্থবছরের শুরুতে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, সেটি পূরণ করতে পারেনি। বরং ব্যাপকভাবে হতাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে হাজারো বিনিয়োগকারীকে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষ দিন পুঁজিবাজারে দিনভর সূচকের অবস্থান ও লেনদেনের গতি ধরে রাখার লড়াইয়ের মধ্যে শেষ ১৫ মিনিটে দেখা গেল চমক।

দিনভর সূচক ওঠানামা করতে থাকে। লেনদেনের অবস্থান ধরে রাখতে পারে কি না, এ বিষয়টি নিয়েও ছিল দৃষ্টি। তবে বেলা ২টা ১৬ মিনিটের পর শেষ ১৪ মিনিটে হঠাৎ লাফ দিয়ে উঠে যায় সূচক। এ সময়ে লেনদেনও হয় ২০০ কোটি টাকার বেশি।

বৃহস্পতিবার চলতি সপ্তাহ অর্থবছরের শেষ কর্মদিবসে বেলা ২টা ১৬ মিনিট সূচক ছিল আগের দিনের চেয়ে ৫ পয়েন্ট বেশি। এটি যেকোনো সময় আগের দিনের অবস্থানের নিচেও নেমে যেতে পারত, আবার উঠেও যেতে পারত। কিন্তু এর পরের ১৪ মিনিট তা দ্রুত ওপরের দিকে উঠতে থাকে।

১৩ মিনিটে সূচক বেড়ে যায় ৩২ পয়েন্ট। তখন আগের দিনের তুলনায় সূচকে যোগ হয় ৩৭ পয়েন্ট। তবে একেবারে শেষ মুহূর্তের সমন্বয়ে সেখান থেকে কিছুটা কমে ২৬ পয়েন্ট যোগ হয়ে শেষ হয় লেনদেন। শেষ পর্যন্ত সূচকের অবস্থান দাঁড়ায় ৬ হাজার ৩৭৬ পয়েন্ট।

এ নিয়ে টানা চার দিন সূচক বাড়ল। এক দিন বাদে লেনদেনও প্রতিদিনেই ছাড়িয়ে গেছে আগের দিনকে।

বেলা শেষে ৯৩৭ কোটি ৭৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয়, যা গত ১৬ জুনের পর সর্বোচ্চ। সেদিন লেনদেন ছিল ১ হাজার ৪৬ কোটি ৬৩ লাখ ২২ হাজার টাকা।

দিনভর লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৫টির, কমেছে ১৩৬টির এবং অপরিবর্তিত দামে লেনদেন হয়েছে ৫০টি কোম্পানির শেয়ার।

পুঁজিবাজারে হতাশার বছরে শেষ মুহূর্তের চমক
বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের সূচক বাড়ে একেবারে শেষ ১৪ মিনিটের উত্থানে

এক বছর আগে আজকের দিনে পুঁজিবাজারের সূচক ছিল ৬ হাজার ১৫০ পয়েন্ট। সেই হিসাবে এক বছরে বেড়েছে ২২৬ পয়েন্ট।

তবে কেবল বছর শেষের দুইটি দিন বিবেচনা করলে চলবে না। এই অর্থবছরের শুরুতে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, সেটি পূরণ করতে পারেনি। বরং ব্যাপকভাবে হতাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে হাজারো বিনিয়োগকারীকে।

এই অর্থবছরে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল ঝলমলে। মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারদর বাড়তে থাকে, বাড়ে জাংক শেয়ার বলে পরিচিত স্বল্প মূলধনি বা দুর্বল কোম্পানির দরও। একপর্যায়ে এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ সূচক ও লেনদেন হয়।

লেনদেন ৩ হাজার কোটি টাকা ও সূচক ৭ হাজার ৩০০ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যাওয়ার পর ২০১০ সালের মহাধসের ক্ষতি কাটিয়ে সূচক আবার ১০ হাজার ছুঁবে-এমন আশার কথা বলাবলি হতে থাকে।

তবে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া সংশোধন বজায় থাকে ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে নানা বিষয়ে মতভেদের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এর প্রভাব পড়ে পুঁজিবাজারে।

এই মতভেদ দূর করতে অর্থ মন্ত্রণালয় বৈঠক করলেও পরের ঘোষিত বৈঠক আর হয়নি। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারির চতুর্থ সপ্তাহে ইউক্রেনে রুশ হামলা শুরুর পর নামে ধস। এরপর শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক টানাপড়েনে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের পুঁজিতেও টান পড়তে থাকে।

লেনদেন একপর্যায়ে ৪০০ কোটির নিচে নেমে আসে। তবে মে মাসের শেষ দিক থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু হয়। এই সময়ে লেনদেন কিছুটা বাড়লেও মূল্যসূচকের উন্নতি হয়নি।

বরং জুনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ৫৬ পয়েন্ট।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, তবে অর্থবছর শেষ হতে যাচ্ছে, অনেক কোম্পানি তাদের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে; যা দেখে বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেবেন। এই সময়টায় নতুন বিনিয়োগ আসে বাজারে।

ট্রেজার সিকিউরিটিজের চিফ অপারেটিং অফিসার মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জুনের শেষ, অর্থবছর শেষ হবে। নতুন অর্থবছরে নতুন পরিকল্পনায় বিনিয়োগ করবেন বিনিয়োগকারীরা। যার কারণে এই সময়ে লেনদেন কিছুটা বাড়ে। কয়েক দিন পর এটা আরও বাড়বে বলে মনে করছি।’

ব্যাংক-বিমার ভালো দিন

সবচেয়ে ভালো দিন পার করেছেন ব্যাংক ও সাধারণ বিমা খাতের বিনিয়োগকারীরা। খাতভিত্তিক লেনদেনের ষষ্ঠ অবস্থানে থাকলেও দর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শীর্ষে ছিল ব্যাংক।

তালিকাভুক্ত ৩৩টি ব্যাংকের মধ্যে ২৫টি বা ৭৫ শতাংশের বেশি কোম্পানির দর বেড়েছে। এ ছাড়াও আগের দামেই লেনদেন হয়েছে ৫টি কোম্পানির শেয়ার। বিপরীতে মাত্র ১০ পয়সা করে দর কমেছে ৩টি ব্যাংকের। টাকার অংকে লেনদেন হয়েছে ৫৯ কোটি ৬১ লাখ।

সাধারণ বিমা খাতের ২৫টি বা ৭০ শতাংশের কাছাকাছি কোম্পানির দর বেড়ে লেনদেন হয়েছে। অপরিবর্তিত ছিল ৩টির দর। বিপরীতে কমেছে ১৩টি বা ৩১ শতাংশের দর। খাতটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি ১০ লাখ টাকার মতো।

ভালো দর বৃদ্ধি দেখা গেছে জীবন বিমাতেও। ৯টি বা ৭০ শতাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধি দেখা গেছে। যদিও লেনদেন হয়েছে মাত্র ১২ কোটি টাকা।

১০৭ কোটির বেশি লেনদেন করে তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের ২৬টি বা ৬১ শতাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধি দেখা গেছে। বিপরীতে কমেছে ৩০ শতাংশ কোম্পানির দর।

সুবিধা করতে পারেনি বাকি খাতের বিনিয়োগকারীরা। লেনদেনের শীর্ষে থাকা বস্ত্র খাতে ৪৮ শতাংশ দর বৃদ্ধির বিপরীতে ৩৬ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়েছে।

সর্বোচ্চ ১৩৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ পাঁচের বাকি খাতের মধ্যে ওষুধ ও রসায়নে ৩৫ শতাংশ, বিবিধ ২৮ শতাংশ ও জ্বালানি খাতে ৫৬ শতাংশ কোম্পানির দর বৃদ্ধি দেখা গেছে।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

লাগামহীন ঘোড়ার মতো ছুটছে নতুন তালিকাভুক্ত মেঘনা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের দর। ৮ জুন লেনদেন শুরুর পর থেকে প্রতিদিনই দিনের সর্বোচ্চ সীমা বা এর কাছাকাছি দর বেড়েছে শেয়ারটির।

আজ ৪ টাকা ৪০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি সর্বশেষ ৪৯ টাকা ৩০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। ৭ হাজার ১৮৩ বারে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০টি শেয়ার ওই দামে বেচাকেনা হয়েছে।

দর বৃদ্ধির দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইন্ট্রাকো রি-ফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড। দুই বছর ধরে মুনাফা কমছে কোম্পানিটির। ২০১৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বছর থেকেই বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিয়ে আসছে কোম্পানিটি। তবে মুনাফা কমে যাওয়া ২০২১ সালে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ২ শতাংশ বা ২০ পয়সা।

টানা তিন কর্মদিবস দর বাড়ল কোম্পানির শেয়ারের। বৃহস্পতিবার শেয়ার দর ২ টাকা ২০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়ে সর্বশেষ ২৫ টাকায় লেনদেন হয়।

এর পরেই দর বেড়েছে নাভানা সিএনজি লিমিটেডের। কোম্পানিটির দর ২ টাকা ৬০ পয়সা বা ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে লেনদেন হয়েছে ৩০ টাকা ৯০ পয়সায়।

এ ছাড়া দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে রয়েছে যথাক্রমে, শাইনপুকুর সিরামিকস, আফতাব অটো, ক্রাউন সিমেন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, সোনালী পেপার, হামিদ ফেব্রিকস ও আমরা নেটওয়ার্কস।

দর পতনের শীর্ষ ১০

বুধবার গ্রামীণফোনের সিম বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। পরের দিনই কোম্পানিটির দর কমল সর্বোচ্চ।

নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে বিটিআরসি বলছে, গ্রামীণফোন কোয়ালিটি সার্ভিস দিতে পারছে না। যদিও কোম্পানিটি দাবি করেছে, তাদের সেবা বিশ্বমানের চেয়ে এগিয়ে।

তবে গ্রামীণফোনের দর পতন শুরু হয়েছে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে। ১২ সেপ্টেম্বর ৩৮৭ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন হওয়ার পরে শুরু হয় দর পতন। মাঝে কিছুটা বাড়লেও আগের দরে আর পৌঁছাতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার শেয়ারটির দর ৬ টাকা বা ২ শতাংশ কমে সর্বশেষ ২৯৪ টাকা ১০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। এদিন এক হাজার ৩২ বারে কোম্পানিটির এক লাখ ৭৩ হাজার ২৬২টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার বাজার মূল্য ৫ কোটি ৯ লাখ টাকা।

এর পরেই দর পতন হয়েছে লোকসানি জুট স্পিনার্সের। ২ টাকা ৯০ পয়সা বা ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে সর্বশেষ ১৪৩ টাকা ৭০ পয়সা দরে লেনদেন হয়েছে প্রতিটি শেয়ার।

১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটি বছরের পর বছর লোকসান দেখাচ্ছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা কোনো দিন লভ্যাংশ পায়নি।

পতনের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে লোকসানি সাভার রিফ্যাক্টরিজ। গত তিন বছর ধরে কোম্পানিটি লোকসান দেখাচ্ছে। বৃহস্পতিবার শেয়ার দর ৪ টাকা ৭০ পয়সা বা ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে সর্বশেষ দাঁড়ায় ২৩৩ টাকা ২০ পয়সা।

দর পতনের শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে বিডি মনোস্পুল পেপার, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল, পেপার প্রসেসিং, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, এসকে ট্রিমস, নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল ও সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

সূচক বাড়াল যারা

সবচেয়ে বেশি ১১ দশমিক ০৯ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে রবি। এদিন কোম্পানিটির দর ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ দর বেড়েছে।

আগের দিনের মতো দর বাড়ায় সূচকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট যোগ করেছে আইসিবি। দর ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ৪ দশমিক ৩২ পয়েন্ট।

তিতাস গ্যাস সূচকে যোগ করেছে ১ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

এ ছাড়া প্রাইম ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, পূবালী ব্যাংক, সোনালী পেপার, বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিল, আইএফআইসি ব্যাংক ও ক্রাউন সিমেন্ট সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৩২ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ১১ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট সূচক কমেছে গ্রামীণফোনের কারণে। কোম্পানিটির দর কমেছে ২ শতাংশ। আগের দিনেও কাছাকাছি পয়েন্ট সূচক কমেছিল গ্রামীণফোনের দরপতনে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমিয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে ১ দশমিক ০৭ শতাংশ।

এর পরেই ইউনাইটেড পাওয়ারের দর শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ দর কমার কারণে সূচক কমেছে ১ দশমিক ৭২ পয়েন্ট।

এ ছাড়া স্কয়ার ফার্মা, ওয়ালটন হাইটেক, বেক্সিমকো ফার্মা, বেক্সিমকো গ্রীণ সুকুক বন্ড, বিকন ফার্মা, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ব্র্যাক ব্যাংকের দরপতনে সূচক কিছুটা কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০ কোম্পানি কমিয়েছে ১৯ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট।

আরও পড়ুন:
ফের পতনে লেনদেন তলানিতে, দুর্বল কোম্পানির ‘সুদিন’
মন্দা পুঁজিবাজারে দুর্বল কোম্পানির দাপট
সিএসই-৩০ সূচকে নতুন ৮ কোম্পানি
নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীরা, লেনদেন তলানিতে
পুঁজিবাজারে দরপতনের ‘তিনে তিন’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Prohibition on sale of Grameen SIM in dishonest services

মানহীন সেবায় গ্রামীণের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা

মানহীন সেবায় গ্রামীণের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা
‘গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত অভিযোগ পাচ্ছি। কল করলে কেটে যায়, ইন্টারনেট সেবাও ধীরগতির। এই বিষয়টি নিয়ে কোম্পানিটির সঙ্গে বারবার যোগাযোগ হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। আমরা তাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত মিটিং করি, ড্রাইভ টেস্ট হয়। কিন্তু তাদের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।’

মানসম্মত সেবা দিতে না পারার কথা জানিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।

যদিও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি দাবি করেছে, তাদের সেবা বিশ্বমানের চেয়ে এগিয়ে। নিষেধাজ্ঞাকে অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে পরিস্থিতি মূল্যায়নের কথাও জানিয়েছে তারা।

বুধবার দুপুরে বিষয়টির অনুমোদনের পরে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা গ্রামীণফোনে পাঠায় বিটিআরসি।

সংস্থাটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র বলেন, ‘গ্রামীণফোন কোয়ালিটি সার্ভিস দিতে পারছে না। তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অপারেটরটি (গ্রামীণফোন) সিম বিক্রি করতে পারবে না।’

মানসম্মত সেবা দিতে পারছে না বলতে কী বুঝাচ্ছেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত অভিযোগ পাচ্ছি। কল করলে কেটে যায়, ইন্টারনেট সেবাও ধীরগতির।’

এই বিষয়টি নিয়ে কোম্পানিটির সঙ্গে বারবার যোগাযোগ হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি বলেও জানান বিটিআরসি কর্মকর্তা। বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত মিটিং করি, ড্রাইভ টেস্ট হয়। কিন্তু তাদের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।’

মোবাইল ফোন সেবার মান নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ স্পষ্ট। কল ড্রপ, ইন্টারনেটের ধীরগতি নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ করে আসছেন ভোক্তারা। তবে এ নিয়ে মোবাইল ফোন অপারেটররা কিছু বলছেন না।

বিটিআরসি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত মে পর্যন্ত গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা ৮ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার।

গ্রামীণের বক্তব্য

যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোন অপারেটরটি নিউজবাংলাকে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠায়

তারা বলেছে, ‘দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টেলিকম ব্র্যান্ড গ্রামীণফোন বিটিআরসি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা আইটিইউর সেবার মানদণ্ড অনুসরণ করার পাশাপাশি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মানদণ্ড থেকেও এগিয়ে আছে।’

ধারাবাহিকভাবে নেটওয়ার্ক ও সেবার মানোন্নয়নে আমরা বিটিআরসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে জানিয়ে মোবাইল ফোন অপারেটরটি বলেম ‘নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া নিলামেও গ্রামীণফোন সর্বোচ্চ অনুমোদিত তরঙ্গ অধিগ্রহণ করেছে জানিয়ে সংস্থাটি এও বলেছে, ‘এমতাবস্থায়, অপ্রত্যাশিত এ চিঠি ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ আমরা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছি। আমরা মনে করি, আমাদের সম্ভাব্য গ্রাহকদের স্বার্থে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাথে গঠনমূলক আলোচনাই হবে এ সমস্যা সমাধানের সর্বোত্তম উপায়।’

আরও পড়ুন:
সিলেটের গ্রাহকদের ফ্রি মিনিট দিল গ্রামীণফোন
ফিলিপ কটলারের বইয়ে গ্রামীণফোনের কেস স্টাডি
ঝড়ে ভাঙল গ্রামীণফোনের টাওয়ার, ভোগান্তিতে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি গ্রাহক
গ্রামীণফোনের ২৫০% লভ্যাংশ অনুমোদন
জিপির ই-সিম সোমবার থেকে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Investors interest in textiles is growing

বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বস্ত্রে

বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বস্ত্রে
বেশ কিছুদিন পর ব্যাংক খাতে বেশির ভাগ শেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় বস্ত্র খাতও বেশ ভালো করেছে। প্রকৌশল এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতেও বেশির ভাগ কোম্পানির দর বেড়েছে।

অল্প অল্প করে হলেও টানা তৃতীয় দিন সূচক বাড়ল পুঁজিবাজারে। তলানি থেকে দুই দিনে উঠে আসা লেনদেনও ধরে রেখেছে তার অবস্থান।

আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের পর থেকে ঝিমুতে থাকা পুঁজিবাজারে বাজেট পাসের আগে আগে কিছুটা হলেও প্রাণ ফেরার চিত্র দেখা যাচ্ছে।

প্রকৌশল ও বস্ত্র খাতের শেয়ারে এদিন আগ্রহ ছিল বেশি। লেনদেনের ৩০ দশমিক ৬২ শতাংশই হয়েছে এই দুই খাতে। আগের দিনও সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিল বস্ত্র খাতে।

বেশ কিছুদিন পর ব্যাংক খাতে বেশির ভাগ শেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় বস্ত্র খাতও বেশ ভালো করেছে। প্রকৌশল এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতেও বেশির ভাগ কোম্পানির দর বেড়েছে।

দর বাড়ার শীর্ষে আবার স্বল্প মূলধনি বা দুর্বল কোম্পানির প্রাধান্য দেখা গেছে। অন্যদিকে মৌলভিত্তির কোম্পানিতে লেনদেন দেখা গেছে কম।

আবারও বিপুলসংখ্যক কোম্পানির শেয়ার দিনের দরপতনের সর্বনিম্ন সীমা ছুঁয়ে ফেলার পর ক্রেতাশূন্য হয়ে যায়। এর মধ্যে পাঁচ বছর পর উৎপাদন শুরু করার ছয় মাস পর তেল বাজারজাত করার ঘোষণা দেয়া এমারেল্ড অয়েলও ছিল।

আগের দিন রাজধানীতে অনুষ্ঠান করে ধানের কুঁড়ার তেল স্পন্দন বাজারজাত করার পাশাপাশি ছয় মাসেই ব্রেক ইভেনে অর্থাৎ না লাভ, না লোকসানে চলে আসার ঘোষণা দেয় কোম্পানিটি। এতে দিনের শুরুতে শেয়ারদর কিছুটা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত দর হারিয়ে শেষ করে লেনদেন।

বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বস্ত্রে
বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

চলতি সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার ২৬ পয়েন্ট দরপতনের পাশাপাশি লেনদেন নেমে আসে ৬০০ কোটি টাকার নিচে। সেদিন পর্যন্ত টানা ছয় কর্মদিবস লেনদেন আগের দিনের চেয়ে কমে যায়। তবে সোমবার বিকেলে হঠাৎ করে যে ক্রয় চাপ দেখা দেয়, পর দিনও তা অব্যাহত থাকে। সেদিন লেনদেন ছাড়ায় ৮১৮ কোটি টাকা।

বুধবার পুঁজিবাজারে সূচকের টানাটানি লক্ষ্য করা গেছে। লেনদেনের শুরুতেই সূচক আগের দিনের চেয়ে ২৯ পয়েন্ট বেড়ে গিয়েছিল। আগের দুই দিনের চিত্রের কারণে সে সময় লেনদেন নিয়ে আশাবাদ তৈরি হয়। কিন্তু এর পরের এক ঘণ্টায় পড়ে সূচক আগের দিনের অবস্থানে নেমে আসে। এরপর আবার ওঠানামা করতে করতে বেলা শেষে আগের দিনের চেয়ে ৭ পয়েন্ট বেড়ে শেষ হয় লেনদেন।

বেলা শেষে লেনদেন হয়েছে ৮০৫ কোটি ৬৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। আগের দিন লেনদেন ছিল ৮১৮ কেটি ৮২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।

দিন শেষে বেড়েছে ১৫৭টির কোম্পানির দর, বেড়েছে ১৭২টির দর, ৫২টির দর ছিল অপরিবর্তিত।

মিয়া আব্দুর রশিদ সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা শেখ ওহিদুজ্জামান স্বাধীন বলেন, ‘অনেক কোম্পানির অর্থবছর চলতি মাসেই শেষ হবে, নতুন বছর শুরু হবে দুদিন পর থেকে। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরে পছন্দের শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন বিনিয়োগকারীরা। এতে লেনদেন বাড়বে।’

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

দর বৃদ্ধি যেন থামছেই না পুঁজিবাজারে নতুন তালিকাভু্ক্ত কোম্পানি মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের। ৮ জুন লেনদেন শুরুর পর থেকে প্রতিদিনই দর বেড়েছে দিনের সর্বোচ্চ সীমা ও এর কাছাকাছি পর্যন্ত।

৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ দর বেড়ে ৪০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে ৪৪ টাকা ৯০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে প্রতিটি শেয়ার। এক হাজার ৬৪২ বারে ৫৫ হাজার ৩১০টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ওই দামে।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইন্ট্রাকো রি-ফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড। দর ২ টাকা বা ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়ে হাতবদল হয়েছে ২২ টাকা ৮০ পয়সায়। শেয়ারটির দর প্রায়ই ওঠানামা করতে দেখা যায়। তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন দর ছিল ২২ মে, ১৯ টাকা ৬০ পয়সা। আগের বছরগুলোর তুলনায় গত দুই বছরের শেয়ার প্রতি আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। যার কারণে কমেছে লভ্যাংশের পরিমাণ।

এর পরেই দর বেড়েছে এমবি ফার্মা লিমিটেডের। ৪২ টাকা ৯০ পয়সা বা ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে প্রতিটি শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৫৩৩ টাকা ৯০ পয়সায়।

১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত স্বল মূলধনি কোম্পানিটি ২০২১ সালে শেয়ার প্রতি ৫ টাকার বেশি লোকসান দেয়ার পর কোনো লভ্যাংশ দেয়নি বিনিয়োগকারীরা।

এ ছাড়াও দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে পেপার প্রসেসিং, লোকসানি ইমাম বাটন, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্কস, আজিজ পাইপস, সোনালী পেপার ও বিডি মনোস্পুল।

দর পতনের শীর্ষ ১০

দরপতনের শীর্ষে রয়েছে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। ১ টাকা ৬০ পয়সা বা ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭৮ টাকা ৮০ পয়সায়। ৫৪ বারে ১২ হাজার ১৬৪টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার বাজার মূল্য ৯ লাখ টাকা।

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন আপডেট করা নেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে। তবে ২০১৫ সালে ৫ শতাংশ ছাড়া আর কোনো বছর নগদ লভ্যাংশ প্রদান করেনি কোম্পানিটি। চলতি বছরের শুরু থেকেই দর পতন হচ্ছে কোম্পানির শেয়ারের।

জনতা ইন্স্যুরেন্স তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শেয়ারটির দর ৭০ পয়সা বা ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে ৩৪ টাকা ৬০ পয়সা দরে লেনদেন হয়। ৭ জুন থেকে ১৪ কর্মদিবস দর কমল শেয়ারটির। যদিও গত পাঁচ বছর ধারাবাহিতভাবে শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে।

দেশ গার্মেন্টস দর পতনের তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ৩ টাকা ৩০ পয়সা বা ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে শেয়ারটি সর্বশেষ ১৬৩ টাকা ৩০ পয়সা লেনদেন হয়।

দর পতনের শীর্ষ দশের বাকিগুলো হলো: সাভার রিফ্যাক্টরিজ, বঙ্গজ, ফরচুন সুজ, ড্যাফোডিল কম্পিউটারস, রুপালী ইন্স্যুরেন্স, জেনেক্স ইনফোসিস ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স।

সূচক বাড়াল যারা

সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। দর কোম্পানিটির ২ দশমিক ৭২ শতাংশ দর বেড়েছে।

ট্রাস্ট ব্যাংকের দর ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট।

সোনালী পেপার সূচকে যোগ করেছে ২ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

এ ছাড়া স্কয়ার ফার্মা, ইবিএল, এনআরবিসি ব্যাংক, রেনাটা, ম্যারিকো, যমুনা অয়েল ও পূবালী ব্যাংক সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ২৪ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ১২ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট সূচক কমেছে গ্রামীণফোনের কারণে। কোম্পানিটির দর কমেছে শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭২ পয়েন্ট কমিয়েছে বিকন ফার্মা। কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

বেক্সিমকোর দর শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ দর কমার কারণে সূচক কমেছে ৩ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট।

এ ছাড়া বার্জার পেইন্টস, বেক্সিমকো ফার্মা, আইসিবি, বেক্সিমকো সুকুক বন্ড, র‌্যাক সিরামিকস, আইপিডিসি ও পাওয়ার গ্রিডের দরপতনে সূচক কিছুটা কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০ কোম্পানি কমিয়েছে ৩১ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট।

আরও পড়ুন:
মন্দা পুঁজিবাজারে দুর্বল কোম্পানির দাপট
সিএসই-৩০ সূচকে নতুন ৮ কোম্পানি
নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীরা, লেনদেন তলানিতে
পুঁজিবাজারে দরপতনের ‘তিনে তিন’
ডিএসই-ডিবিএ বৈঠক: পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয়

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Emerald will release 26 tons of oil a day on the way to profit

লাভের পথে এমারেল্ড, দিনে ২৬ টন তেল বিক্রির ঘোষণা

লাভের পথে এমারেল্ড, দিনে ২৬ টন তেল বিক্রির ঘোষণা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাঁচ বছর পর বাজারে স্পন্দন ব্র্যান্ডের ধানের কুঁড়ার তেল নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে এমারেল্ড অয়েল। ছবি: নিউজবাংলা
ইউনিট দুটির দৈনিক মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৩৩০ টন। গ্যাসের অপর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে শুধু ১৮০ টনের ইউনিটটি সচল আছে। এই ইউনিটে ধানের কুঁড়া ক্র্যাশ করে ৩৫ টনের মতো অপরিশোধিত তেল পাওয়া যায়। এখান থেকে দৈনিক পরিশোধিত তেল পাওয়া যায় প্রায় ২৬ টন। এ সক্ষমতা নিয়ে আমরা প্রতিদিন প্রায় ২৬ টন তেল বাজারজাত করতে পারব: এমারেল্ড এমডি আফজাল হোসেন

বন্ধ হওয়ার পাঁচ বছর পর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) উদ্যোগে আবার বাজারে ফিরছে এমারেল্ড অয়েলের ধানের কুঁড়ার তেল ‘স্পন্দন’।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে স্পন্দন রাইস ব্র্যান অয়েলের নতুন করে মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জাপানি বিনিয়োগে পরিচালিত মিনোরি বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনায় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শেরপুরের কারখানাটিতে উৎপাদন শুরু হয়। গত ছয় মাসে ৪৫ কোটি টাকার তেল বাজারজাত করা হয়েছে। এরই মধ্যে কোম্পানিটি না লাভ-না লোকসানে চলে এসেছে।

এমারেল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মিনোরি বাংলাদেশের পরিচালক আফজাল হোসেন বলেন, ‘এমারেল্ড অয়েলের দুটি প্রোডাকশন ইউনিট আছে। এর একটির ধানের কুঁড়া ক্র্যাশ করার ক্ষমতা ১৮০ টন, অপরটির ক্ষমতা ১৫০ টন।

‘ইউনিট দুটির দৈনিক মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৩৩০ টন। গ্যাসের অপর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে শুধু ১৮০ টনের ইউনিটটি সচল আছে। এই ইউনিটে ধানের কুঁড়া ক্র্যাশ করে ৩৫ টনের মতো অপরিশোধিত তেল পাওয়া যায়। এখান থেকে দৈনিক পরিশোধিত তেল পাওয়া যায় প্রায় ২৬ টন। এ সক্ষমতা নিয়ে আমরা প্রতিদিন প্রায় ২৬ টন তেল বাজারজাত করতে পারব।’

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার তিন বছরের মাথায় ২০১৬ সালে কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে মিনোরি বাংলাদেশ কোম্পানিটির ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ শেয়ার কিনে মালিকানায় আসে।

উৎপাদন শুরুর মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ব্রেক ইভেনে (আয় ও ব্যয় সমান) পর্যায়ে চলে এসেছেন তারা। তবে গ্যাসসংকটে পুরো উৎপাদনক্ষমতা কাজে লাগাতে পারছেন না। সেটি করা গেলে শিগগিরই শেয়ারধারীদের ভালো লভ্যাংশ দিতে পারবেন।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি যেসব বন্ধ কোম্পানিতে প্রাণ ফেরানোর চেষ্টা করছে তার মধ্যে এমারেল্ড তৃতীয়, যেগুলো উৎপাদনে চলে এসেছে। এর আগে আলহাজ টেক্সটাইল ও রিংসাইন টেক্সটাইল উৎপাদন শুরু করে।

সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলও উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর ফ্যামিলে টেক্স বন্ধ-এমন খবরে বোর্ড পুনর্গঠন করা হলেও নতুন বোর্ড গিয়ে দেখেছে উৎপাদন আসলে চলছে। আর যার তত্ত্বাবধায়কে উৎপাদন চলছে, তাকে দিয়েই কোম্পানিতে প্রাণ ফেরানোর পক্ষে তারা।

এমারেল্ডের আয়োজনে বিনিয়োগকারীদের মুনাফার আশ্বাস দেন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মিনোরি বাংলাদেশের পরিচালক আফজাল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হলো এটিকে একটি লাভজনক কোম্পানিতে পরিণত করা এবং বছরের এবং বছরের শেষে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ প্রদান করা।’

লাভের পথে এমারেল্ড, দিনে ২৬ টন তেল বিক্রির ঘোষণা

দেশের ভোজ্যতেলের সংকট নিরসনে স্পন্দন ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন এমারেল্ড এমডি। সেই সঙ্গে উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘আমাদের দুটি বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রথমটি হলো গ্যাসের সংকট। দ্বিতীয়টি ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল। কোম্পানিটি যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন তিতাস গ্যাসের বকেয়া ছিল ৩২ লাখ টাকা। পরবর্তীতে ২০২১ সালে তিতাস গ্যাস লাইন চার্জসহ এক কোটি ৬৩ লাখ টাকা বকেয়া বিলের একটি স্টেটমেন্ট দেয়। এ টাকার পুরোটাই শোধ করা হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএসইসি কমিশনার রুমানা ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বর্তমান কমিশনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় একটি বন্ধ কোম্পানি পুনরায় চালু হয়েছে। ইতোমধ্যে এটি ভালো করছে, এবং কোম্পানির যে লক্ষ্য সেটি অর্জনের মধ্যে দিয়ে বিনিয়োগকারীদের ভালো লভ্যাংশ দিতে পারবে বলে বিশ্বাস করি।’

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, ‘কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কমিশন থেকে আমাদের বলা হলো, কিছু করার জন্য। মিনোরির মামুন মিয়া এলেন। তখন আমরা বললাম, লেটস স্টার্ট।

‘এমডি বলে গেছেন, লভ্যাংশ দেবেন। আমরা আশা করি হবে। এই কোম্পানির কিছুই ছিল না। ২০২২ জানুয়ারি প্রডাকশন শুরু করে ৪৫ কোটি টাকার মতো তেল বাজারজাত করেছে। আমি মনে করি, বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসবে। স্পন্দন পুঁজিবাজারের স্পন্দন ফিরিয়ে আনবে বলে বিশ্বাস করি।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এমারেল্ড দেশের বাজারের পাশাপাশি দেশের বাইরেও তেল পাঠাবে। সেই বিষয়টি উল্লেখ করে বিএসইসি কর্মকর্তা বলেন, ‘রপ্তানি করলে আনকনভেনশনাল খাত থেকে কারেন্সি আসবে। যোগ্য ডিরেক্টর আছেন। শেয়ার হোল্ডার ডিরেক্টররাও পরিশ্রম করছেন। কোম্পানি সফল হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

ল্যাবএইড হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল খাদ্য তত্ত্ববিদ নুসরাত জাহান দীপা, ল্যাবএইড হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট কার্ডিয়াক বিভাগের লোকমান হোসেন, এমারেল্ড অয়েলের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ও মিনোরি বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মিয়া মামুনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এমারেল্ড অয়েল ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় হয় এবং ২০১১ সালে স্পন্দন-ব্র্যান্ডেড রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদন শুরু করে। ২০১৪ সালে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করে।

২০১৬ সালে এমারেল্ড অয়েল ১৮ কোটি ২০ লাখ টাকা লাভ করে এবং শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়। ওই বছরই কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

লোকসান এবং কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা না করার কারণে কোম্পানিটির শেয়ার ২০১৮ সাল থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরির অধীনে লেনদেন হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
সোমবার উৎপাদনে ফিরছে আরএসআরএম স্টিল
এমারেল্ডে সাহায্যের হাত বিএসইসির
যে জটিলতায় আটকে এমারেল্ডের উৎপাদন
সেপ্টেম্বরে ‘জাগবে’ এমারেল্ডের স্পন্দন
জাপানি মিনোরিতে আবার জাগবে এমারেল্ডের স্পন্দন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
BSEC approved two mutual funds

দুটি মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন দিল বিএসইসি

দুটি মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন দিল বিএসইসি
অনুমোদন করা ‘আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড’ নামের মেয়াদি এই ফান্ডের প্রাথমিক আকার ১০০ কোটি টাকা।

পুঁজিবাজারে নতুন দুটি মিউচুয়াল ফান্ডের অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন- বিএসইসি। এর একটি মেয়াদি ও আরেকটি বেমেয়াদি।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৮২৯তম কমিশন বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

অনুমোদন করা ‘আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড’ নামের মেয়াদি এই ফান্ডের প্রাথমিক আকার ১০০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া বেমেয়াদি বা ওপেন এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড আনছে এজ এএমসি লিমিটেড, যার আকার হবে ২৫ কোটি টাকা।

গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড

আলোচিত ফান্ডটির উদ্যোক্তা ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ) ও আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড (আইসিবি-এএমসিএল)।

ফান্ডটিতে সিএমএসএফ ৫০ কোটি এবং আইসিবি এএমসিএল ২০ কোটি টাকার জোগান দিয়েছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অফ বাংলাদেশ (আইসিবি) প্রাইভেট প্লেসমেন্টে ৫ কোটি টাকার ইউনিট কিনেছে। বাকি ২৫ কোটি টাকার ইউনিট সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য রাখা হয়েছে।

ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। এর ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। আর কাস্টোডিয়ানের দায়িত্বে থাকবে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড।

এজ আল-আমিন শরিয়াহ কনজ্যুমার ফান্ড

বেমেয়াদি বা ওপেন এন্ড ‘এজ আল-আমিন শরিয়াহ কনজ্যুমার ফান্ড’ নামের ফান্ডটির প্রসপেক্টাস অনুমোদন করেছে বিএসইসি।

আলোচিত ফান্ডটির প্রাথমিক আকার হচ্ছে ২৫ কোটি টাকা। এতে উদ্যোক্তা এজ এএমসি লিমিটেড ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা দিয়েছে, যা ফান্ডের মোট আকারের (২৫ কোটি) ১০ শতাংশ। বাকি ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। এই ফান্ডের প্রতি ইউনিটের মূল্য হবে ১০ টাকা।

ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে এর উদ্যোক্তা এজ এএমসি লিমিটেড। ট্রাস্টি থাকছে সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। এই ফান্ডেরও কাস্টোডিয়ানের দায়িত্বে থাকবে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড।

আরও পড়ুন:
সিএসই-৩০ সূচকে নতুন ৮ কোম্পানি
নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীরা, লেনদেন তলানিতে
পুঁজিবাজারে দরপতনের ‘তিনে তিন’
ডিএসই-ডিবিএ বৈঠক: পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয়
বাজেট পাসের আগে পতনের ধারায় পুঁজিবাজার

মন্তব্য

p
উপরে