× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

অর্থ-বাণিজ্য
Webinar on e TDS system
hear-news
player
print-icon

ই-টিডিএস সিস্টেম নিয়ে ওয়েবিনার

ই-টিডিএস-সিস্টেম-নিয়ে-ওয়েবিনার
‘পুরো এনবিআর অপারেশনের জন্য অটোমেশন প্রয়োজন, যাতে অডিট নির্বাচন, মূল্যায়ন, আপিল, ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে স্বয়ংক্রিয় হয়। এনবিআরকে অন্যান্য সরকারি, আধা-সরকারি সংস্থার সঙ্গেও একীভূত করতে হবে, যাতে তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইটিআইএন ধারকের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।’

এসএমএসি এইচআরএস লিমিটেড ট্যাক্স জোন ৬-এর সহযোগিতায় সোমবার ইলেকট্রনিক ট্যাক্স ডিডাক্ট অ্যাট সোর্স বা ইলেকট্রনিক উপায়ে উৎসে কর কর্তন (ই-টিডিএস) সিস্টেম নিয়ে ওয়েবিনার হয়।

এসএমএসি এইচআরএস লিমিটেডের চেয়ারম্যান জেরীন এম হোসেইন ওয়েবিনারে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান।

তিনি এসএমএসি এইচআরএসর পে-রোল সমাধান ও ট্যাক্স সচেতনতা প্রোগ্রাম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ভূমিকা দেন।

ই-টিডিএস কর্মকর্তা আলোচনায় যোগদান করা প্রায় ৬৫০ জন অংশগ্রহণকারীকে ই-টিডিএস সিস্টেমে একটি লাইভ উপস্থাপনা দেন।

এসএমএসি আইটি লিমিটেড একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা করেছে Taxdo। এটি অনলাইন রিটার্ন দাখিলের জন্য একটি সফটওয়্যার।

প্যানেল আলোচনার সময় এনসিসিআই সভাপতি তাহরিন আমান এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, এটি বাংলাদেশি কোম্পানিগুলির ব্যবসা করার খরচ কমিয়ে দেবে।

ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) নির্বাহী পরিচালক নুরুল কবির সমস্ত ব্যাংকে একটি চালান সিস্টেমের আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছিলেন, যাতে এটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় হয় এবং টিডিএস রিটার্নের ম্যানুয়াল ফাইলিং কম হয়।

শাহাদাত হোসেন, এফসিএ আইসিএবির সঙ্গে অংশীদারিত্বে ডিভিএস প্রবর্তনের পর এমন একটি ব্যবস্থা আনার জন্য এনবিআরকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘এতে হিসাবরক্ষকদের বোঝা অনেকাংশে কমবে।’

তিনি এনবিআরকে একটি বিস্তৃত সমন্বিত আইটি সিস্টেম তৈরির আহ্বান জানান, যার একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশল থাকবে।

শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘পুরো এনবিআর অপারেশনের জন্য অটোমেশন প্রয়োজন, যাতে অডিট নির্বাচন, মূল্যায়ন, আপিল, ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে স্বয়ংক্রিয় হয়। এনবিআরকে অন্যান্য সরকারি, আধা-সরকারি সংস্থার সঙ্গেও একীভূত করতে হবে, যাতে তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইটিআইএন ধারকের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।’

তিনি আইটি বিশেষজ্ঞ মোতায়েন, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত বাজেটের ওপর জোর দেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিমুদ্দিনের মতে এই ধরনের ডিজিটালাইজেশনের পদক্ষেপ খুবই স্বাগত। তিনি এনবিআরকে টিডিএস থেকে আইটেমের সংখ্যা কমানোর আহ্বান জানান।

তিনি বিশ্বাস করেন, টিডিএস ব্যবসার জন্য একটি বোঝা। এটি শুধুমাত্র বেতন, সুদ, ফি এবং লভ্যাংশের ওপর আরোপ করা উচিত।

এফবিসিসিআই সভাপতি এ ধরনের ব্যবস্থা বাস্তবায়নের আগে ব্যবসার জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে এনবিআরকে আহ্বান জানান। বলেন, ‘সরকার সংস্থাগুলো অনেক ইতিবাচক উদ্যোগ নিচ্ছে কিন্তু এগুলো ব্যবসায় ছড়িয়ে পড়ছে না।’ তিনি এনবিআরকে ডিজিটালাইজেশনের ওপরও জোর দেন।

এনবিআরের সদস্য প্রদ্যুৎ কুমার সরকার বলেন, ‘অনলাইন ট্যাক্স পেমেন্টের বিধান ইতিমধ্যেই আইনের অংশ এবং ই-টিডিএস ব্যবহার বৈধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে৷ এনবিআর কল সেন্টার স্থাপন করবে এবং সমন্বিত অনলাইন সিস্টেম তৈরির প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

এসএমএসি এইচআরএস লিমিটেডের পরিচালক স্নেহাশিষ বড়ুয়া সেশন পরিচালনা করেন।

প্রশ্নোত্তর অধিবেশন পরিচালনা করেন কর অঞ্চল-৬ এর কমিশনার জাহিদ হাসান।

আরও পড়ুন:
বাড়ছে শিক্ষার সঙ্গে কাজের ধরনে পার্থক্য
‘আধুনিক ঢাকা গড়তে এগুতে হবে তরুণদের’
গণতন্ত্র মানে সমালোচনা নয়, অর্জনও দেখতে হবে
মহামন্দায় কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নে জোর দেয়ার পরামর্শ
তরুণদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের হার কম

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The world famous Gree AC is involved in the dream Padma bridge

স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে জড়িয়ে বিশ্বখ্যাত গ্রি এসি

স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে জড়িয়ে বিশ্বখ্যাত গ্রি এসি দেশেই গ্রি এসি তৈরিতে কাজ করছেন কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা
সেতুর সার্ভিস পয়েন্ট, মাল্টিপারপাস হল, রিসোর্ট, মোটেল ম্যাচ, সুপারভিশন অফিস, ডরমেটরিসহ সব জায়গায় ব্যবহার হচ্ছে গ্রি এসি। এ সব পয়েন্টে ব্যবহার করা হয়েছে গ্রি এয়ারকন্ডিশনারের মাল্টি ভিআরএফ, স্প্লিট ওয়াল মাউন্টেড, সিলিং টাইপ, পোর্টেবল, ফ্লোর স্ট্যান্ডিং এবং ক্যাসেট এসি।

দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে পদ্মা সেতু চালুর মাধ্যমে। মানুষের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে বহুল প্রতীক্ষিত এই সেতু।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পদ্মা সেতু চালু হলে বাংলাদেশের জাতীয় আয় বাড়বে ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। প্রতি বছর দারিদ্র্য হ্রাস পাবে ১ দশমিক ০২ শতাংশ হারে। প্রতি বছর কর্মসংস্থান হবে ১ দশমিক ২ শতাংশ হারে।

যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত সেতুটি। অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে শনিবার।

এই সেতু আবেগ, জাতীয় অহংকার ও সাহসের আরেক নাম, সক্ষমতার প্রতীক। আর এই আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরেকটি নাম, গ্রি এসি।

সেতুর সার্ভিস পয়েন্ট, মাল্টিপারপাস হল, রিসোর্ট, মোটেল ম্যাচ, সুপারভিশন অফিস, ডরমেটরিসহ সব জায়গায় ব্যবহার হচ্ছে গ্রি এসি। এ সব পয়েন্টে ব্যবহার করা হয়েছে গ্রি এয়ারকন্ডিশনারের মাল্টি ভিআরএফ, স্প্লিট ওয়াল মাউন্টেড, সিলিং টাইপ, পোর্টেবল, ফ্লোর স্ট্যান্ডিং এবং ক্যাসেট এসি।

গ্রি এসি উৎপাদন ও বাজারজাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ ছিল চ্যালেঞ্জের কাজ। আর সেই চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে তারা গর্বিত।

দেশে এসি উৎপাদন ও বাজারজাতের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম ইলেকট্রো মার্ট। তারা বাজারজাত করে গ্রি ব্যান্ডের এসি।

এক যুগ আগেও এসির ব্যবহার ছিল বিলাসিতা। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে যাপিত জীবনের প্রয়োজনীয় অনুসঙ্গ হয়ে উঠেছে যন্ত্রটি। বর্তমানে উচ্চবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও এটি ব্যবহার করছেন। শুধু রাজধানী শহরেই নয়, জেলা, উপজেলা পর্যায়ের এর ব্যবহার প্রচুর।

এসব কারণে এসির বাজার দ্রুত বাড়ছে। উপজেলাতেও গড়ে উঠেছে শো রুম। বাজার বাড়তে থাকায় এখন দেশে উৎপাদন ও সংযোজনও হচ্ছে।

বড় হচ্ছে বাজার

বাংলাদেশ এয়ার কন্ডিশনিং ইকুইপমেন্টস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইআইএ) তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরে এসির বাজার প্রায় ৩০ শতাংশ হারে বেড়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩৬২ কোটি টাকার ৫.৮৮ লাখ কম্প্রেসার ইউনিট (মূল উপাদান) আমদানি করা হয়। আগের বছর আমদানি করা হয় ১৬৫ কোটি টাকার ৩.৩৪ লাখ ইউনিট। করোনার কারণে কম্প্রেসার ইউনিটের আমদানি কমলেও বর্তমানে তা দ্রুত বাড়ছে।

এসি তৈরিতে প্রযুক্তির অভাবনীয় আগমন ঘটেছে। ইনভার্টার অথবা এয়ার পিউরিফিকেশন প্রযুক্তি বাজারে আসার কারণে বিদ্যুৎ বিল কম হচ্ছে।

করোনার আগে ২০১৯ সালে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার এসি বিক্রি হয়। পরের বছর করোনার বিধিনিষেধের সময় তা সাড়ে তিন লাখে নেমে আসে। তবে গত বছর বিক্রি বেড়ে প্রায় ৪ লাখে উঠেছে। চলতি বছর ৪ লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্রি এসির বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রো মার্টের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আফসার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসি এখন অতি প্রয়োজনীয় যন্ত্র হয়ে উঠেছে। এটা এখন আর বিলাসিতার জিনিস নয়। আধুনিক কর্মময় জীবনে প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে কাজের মান, স্বাচ্ছন্দ্যময় কর্মপরিবেশ ও শারীরিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে এটি এখন অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। তাই অন্যান্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের মধ্যে ঘরে জায়গা করে নিচ্ছে যন্ত্রটি।’

তিনি বলেন, ‘করোনায় সময় এসির বাজারে একটা বড় ধাক্কা এসেছিল, যা মানুষের ভুল ধারণা ছিল। বর্তমানে গ্রি এসিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি যেমন বায়োলজিক্যাল ফিল্টার, ক্যাচেইন ফিল্টার, সিলভার আয়রন ফ্লিটার এবং ক্লোজসমা এয়ার পিউরিফিকেশন টেকনোলজি থাকার কারণে ঘরের বাতাসের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে সম্পূর্ণরূপে বিশুদ্ধ করে করোনা প্রতিরোধে সক্ষম। তাতে এখন আবার দ্রুত বিক্রি বাড়ছে। বর্তমানে দেশের এয়ারকন্ডিশনার চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ গ্রি পূরণ করে যাচ্ছে।’

দেশেই উৎপাদন

এক সময় দেশের এসির বাজারের পুরোটাই ছিল আমদানির্ভর। এ জন্য দামও ছিল বেশি। দেশে চাহিদা বাড়তে থাকায় ধীরে ধীরে কারখানাগুলো বিদেশ থেকে সরঞ্জাম এনে দেশে সংযোজন শুরু করে। আর এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে গ্রি এসি।

প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৮ সাল থেকে প্রায় দুই যুগের ও বেশি সময় ধরে বাজারজাতকরণ করে যাচ্ছে এবং ২০২০ সাল থেকে দেশেই এসি উৎপাদন করছে । এ কারণে দামও কিছুটা কমেছে। তবে মূল কমপ্রেসরসহ কিছু যন্ত্রাংশ আসছে বিদেশ থেকে।

আসছে নতুন নতুন প্রযুক্তি

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে পথ চলাই গ্রির সাফল্যের অন্যতম কারণ। তাই তো নতুন নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে।

বাজারে এখন দুই ধরনের এসি পাওয়া যায়। ইনভার্টার ও নন-ইনভার্টার। এর মধ্যে ইনভার্টারের দাম কিছুটা বেশি। কারণ, এ ধরনের এসিতে বিদ্যুৎ খরচ কম। এটি ঘরের আরামদায়ক তাপমাত্রা ঠিক রেখে এসির শক্তি খরচ কমিয়ে নিয়ে আসে।

কেমন দাম

বাজারে ব্র্যান্ডভেদে এক টনের বিদেশি ইনভার্টার এসির দাম ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। আর নন-ইনভার্টারের দাম ৫০ হাজার টাকার মধ্যে। দেড় টন ইনভার্টার এসির দাম ৭৫ থেকে ৮৫ হাজার টাকা।

এবার গরমের শুরুতেই এসি কিনেছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মোহাম্মদ এহসান। একটি জেলা শহরের থাকেন তিনি।

এহসান বলেন, ‘গরমে বাচ্চাটা রাতে একদম ঘুমাতে পারে না। সারাদিন অফিস করে বাড়িতে ফিরে গরমে আমারও আর ভালো লাগে না। তাই প্রয়োজনের জন্যই এসি কিনেছি। রাতে যদি ভালো ঘুম না হয় তাহলে পরের দিন অফিসে মনোযোগ দিয়ে কাজ করা যায় না। এতে নিজের মধ্যেও এক ধরনের চাপ তৈরি হয়।’

বিদ্যুৎ খরচ কি অনেক বেশি?

প্রায় দুই বছর ধরে এসি ব্যবহার করছেন উত্তরার বাসিন্দা আমজাদ কবির। তিনি বলেন, ‘অনেকে মনে করেন, এসি কিনলে বোধহয় বিদ্যুৎ খরচ অনেক হবে। তাই পোষাতে পারবেন না। কিন্তু ব্যাপারটি আসলে তা নয়।’

তিনি বলেন, ‘দুই ধরনের এসি আছে। এর মধ্যে ইনভার্টারের দাম কিছুটা বেশি। একটু বেশি দাম দিয়ে ইনভার্টার এসি কিনলে বিদ্যুৎ খরচ তেমন বাড়বে না।’

ব্যবহার বেশি যেখানে

আমদানিকারক ও বিপণন সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, ঢাকা শহরে এসি বেশি ব্যবহার হয়। তারপরেই রয়েছে চট্টগ্রাম। তবে এখন মফস্বল শহরগুলোতেও প্রচুর বিক্রি হচ্ছে।

তারা বলছেন, এসি ইনস্টল করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রুমের আকার, জানালার সংখ্যা, সূর্যমুখী জানালার সংখ্যা। এসব বিবেচনায় রেখে বেশিরভাগ মানুষই দেড় টন এসি ব্যবহার করে থাকে।

কেনার আগে অবশ্যই যা জানতে হবে

সেসব ঘরে এসি স্থাপন করতে হবে যেগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়। এতে বিদ্যুৎ খরচ অনেক কম হবে।

সাধারণত চার প্রকারের এসি বাজারে দেখা যায়। স্প্লিট ওয়াল মাউন্টেড, সিলিং টাইপ, পোর্টেবল এবং ক্যাসেট টাইপ।

বসবাসের জায়গা মধ্যম মানের তাপমাত্রার এলাকায় হলে এবং শুধু একটি ঠান্ডা বা গরম করতে হলে স্প্লিট টাইপ এসি উপযোগী। ঘরের বিদ্যমান ওয়ারিংয়েই সংযোগযোগ্য এবং ইনস্টল করা সহজ।

বর্তমানে খুব সহজে এসি স্থাপন এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়।

ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেড গ্রি এসির প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ফ্রি ইনস্টলেশন এবং তিন বছর বিনা মূল্যে বিক্রয়োত্তর সেবা দিয়ে থাকে। ফলে ব্যবহারকারীরা এ বিষয়ে পুরোপুরি চিন্তামুক্ত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন:
পদ্মায় ফেরি আটকে আর ঝরবে না তিতাসের মতো প্রাণ
পদ্মা সেতু আত্মমর্যাদার প্রতীক: রওশন
পদ্মা সেতু শেখ হাসিনার দৃঢ় সংকল্পের প্রমাণ: পাকিস্তান
পদ্মায় ফেরি বন্ধ
নৌকা নিয়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে চান মিনারুল

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Padma Bridge Hope for a clothing revolution in the south this time

পদ্মা সেতু: এবার দক্ষিণে পোশাক বিপ্লবের আশা

পদ্মা সেতু: এবার দক্ষিণে পোশাক বিপ্লবের আশা স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন হবে শনিবার। ছবি: নিউজবাংলা
বরিশাল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ‘পদ্মা সেতু কমপক্ষে দুই লাখ কর্মসংস্থান করবে। অনেক পোশাক কারখানার মালিক ইতোমধ্যে বরিশাল ও পায়রা বন্দরকে সংযোগকারী মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করেছেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পণ্য তৈরি করতে কারখানার মালিকরা ভোলা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আনার দাবি জানিয়েছেন। প্রায় ৫০ হাজার লোক পোশাক খাতে কাজ করার সুযোগ পাবে এই অঞ্চলে।’

পদ্মা সেতু চালু হলে রাজধানীসহ সারা দেশের সঙ্গে যাতায়াত সহজ হবে- এই বিবেচনায় বরিশাল অঞ্চলের ব্যবসায়িক উদ্যোগ ফরচুন গ্রুপ তার ব্যবসা বাড়াতে চাইছে।

গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বরিশাল বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, তারা পটুয়াখালীতে কৃষিভিত্তিক কারখানা খোলার পরিকল্পনা করছেন, যেখানে অন্তত এক হাজার কর্মসংস্থান হবে।

ঝালকাঠি বিসিক এলাকায় একটি প্রযুক্তি কোম্পানি খোলার জন্য ছয় একর জমি নিয়েছে গ্রুপটি, যেখানে ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি ফরচুন সুজ ও প্রিমিয়ার সুজ কারখানায়ও লোকবল বৃদ্ধি করা হবে।

তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর কারখানার নির্মাণকাজ শুরু হবে। কারণ নির্মাণসামগ্রী তখন সহজেই পরিবহন করা যাবে।’

এই ব্যবসায়ী জানান, ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের উন্নতির কারণে বেশ কিছু কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বরিশালে তাদের কারখানা খুলতে এগিয়ে আসছে।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াতের সুবিধার পাশাপাশি শিল্পায়নের আশাও করা হচ্ছে। বিশেষ করে পোশাক কারখানা স্থাপনের আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ী নেতাদের ধারণা, কয়েক লাখ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হবে দক্ষিণাঞ্চলে এই সেতুর কারণে।

বরিশালের গবেষক আনিসুর রহমান খান স্বপন বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলে গার্মেন্টস শিল্পের বিপ্লব ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বেশি। ঢাকা ও চট্টগ্রামের গার্মেন্টস সেক্টরে এই অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজ করে। সে হিসাবে এই অঞ্চলে দক্ষ জনবল রয়েছে। তারা ব্যয় কমিয়ে আনতে নিজ এলাকায় থেকে কাজ করতে আগ্রহী হবেন বেশি।

আবার পায়রা ও মোংলা বন্দরের সুবিধার কারণে শিল্প উদ্যোক্তাদেরও আমদানি-রপ্তানিতে চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় খরচ কমবে, ঝক্কিও কম পোহাতে হবে।

পদ্মা সেতু দিয়ে গ্যাস সরবরাহের লাইনও স্থাপন করা হয়েছে, ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পোশাক কারখানার জন্য এই বিষয়টি জরুরি।

বরিশাল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ‘পদ্মা সেতু কমপক্ষে দুই লাখ কর্মসংস্থান করবে। অনেক পোশাক কারখানার মালিক ইতোমধ্যে বরিশাল ও পায়রা বন্দরকে সংযোগকারী মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করেছেন।

‘ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পণ্য তৈরি করতে কারখানার মালিকরা ভোলা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আনার দাবি জানিয়েছেন। প্রায় ৫০ হাজার লোক পোশাক খাতে কাজ করার সুযোগ পাবে এই অঞ্চলে।’

সাংবাদিক অজয় দাশ গুপ্ত বলেন, ‘শিল্প সংস্থার অনুমান এক দশকে কেবল বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলায় ৫০০ থেকে এক হাজার শিল্প স্থাপিত হবে। যেখানে ১০ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে।

‘কেবল মাছের আড়ত নয়, এই অঞ্চলের উদ্যোক্তারা আধুনিক মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন করতে পারেন। বড় আকারের লঞ্চ নির্মাণের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাহাজ নির্মাণ শিল্প স্থাপনেও বিনিয়োগ হতে পারে সমুদ্র উপকূলে। আর এতে করে বেকারত্ব ঘুচবে দক্ষিণাঞ্চলে।’

বরিশালের অ্যালেক্স জুতার স্বত্বাধিকারী আমির হোসেন বলেন, ‘ঢাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ উন্নত হলে আমার কারখানার উৎপাদন দ্বিগুণ হবে। বর্তমানে এখানে প্রায় ৫০ জন কাজ করছে, তবে সেতু উদ্বোধনের পর শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়াবে ২০০-তে।’

বরিশাল বিসিকের জিম ফুড প্রডাক্টসের স্বত্বাধিকারী তাওহিদ হোসেন জামাল বলেন, ‘আমার কোম্পানিতে এখন প্রায় ১৫০ জন কাজ করছেন। সেতু চালু হওয়ার পর সংখ্যা দ্বিগুণ হবে। আমাকে উৎপাদন বাড়াতে হবে, কারণ রাজধানীতে পণ্য পাঠাতে অনেক কম সময় ও ঝামেলা লাগবে।’

বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে বলেন, বরিশাল অঞ্চলে গণপরিবহনের সংখ্যা পাঁচ গুণ বাড়বে, যার জন্য আরও অন্তত ১০ হাজার পরিবহন শ্রমিক লাগবে। একই অবস্থা দেখা দেবে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও।’

কুয়াকাটা হোটেল অ্যান্ড মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব হোসেন বলেন, ‘বছরব্যাপী এই বিভাগের পর্যটন স্পটগুলোতে, বিশেষ করে কুয়াকাটায় বেশি লোকের ভিড় করায় পর্যটন খাতে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বেশ কয়েকটি নতুন হোটেল এবং রেস্তোরাঁ এখন নির্মাণাধীন রয়েছে এবং তাদের পরিচালনার জন্য আরও লোকের প্রয়োজন হবে।’

বরিশাল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টুও বলেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘পর্যটন খাতেও প্রচুর লোকের কর্মসংস্থান হবে। কারণ, এই বিভাগে অসংখ্য পর্যটন স্পট রয়েছে যেগুলো এখন ব্রিজের কারণে দর্শনার্থীদের কাছে সহজলভ্য হবে।’

আরও পড়ুন:
কতটা আঘাত সইতে পারবে পদ্মা সেতু
পদ্মা সেতুতে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের মহড়া
পদ্মার আশপাশের জমি এখন সোনার হরিণ
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন: সাতক্ষীরা-পিরোজপুর থেকে যাচ্ছেন ৩৫ হাজার মানুষ
পদ্মা সেতু ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Pigeons will also fly for the sake of Padma

পদ্মার সুবাদে উড়বে পায়রাও

পদ্মার সুবাদে উড়বে পায়রাও পায়রা সমুদ্রবন্দর। ছবি: সংগৃহীত
সারা দেশের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে এখনই ঝুঁকছে পায়রার দিকে। বন্দরের আশপাশ এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার হিড়িক পড়েছে। এর পাশাপাশি খাদ্য ও মাছে উদ্বৃত্ত পটুয়াখালী থেকে পণ্য পরিবহন অনেক সহজ হবে।

দক্ষিণের অন্য সব জেলার মতো পটুয়াখালীবাসীর তরও আর সইছে না। এই সেতুর এখানকার পর্যটনের পাশাপাশি মৎস্য, খাদ্যশস্য আর পায়রা সমুদ্রবন্দরের আমূল পরিবর্তন ঘটবে।

চট্টগ্রাম আর মোংলার তুলনায় সড়কপথে ঢাকাসহ সারা দেশে পণ্য আনা-নেয়া খুব সহজ হবে পায়রা দিয়ে। সেই প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে পায়রা কর্তৃপক্ষ।

বন্দরসংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা যাবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে।

খাদ্যশস্য উৎপাদনে পটুয়াখালীর সুনাম আছে। দেশে উৎপাদিত মুগ ডালের অর্ধেকেরও বেশি হয় এখানে। দেড় হাজার কোটি টাকার তরমুজ আর সমপরিমাণ টাকার আমন ধান বিক্রি হয় এ জেলায়। পদ্মা সেতু চালু হলে এসব পণ্য ঢাকায় পরিবহন অনেক সহজ হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পটুয়াখালী কার্যালয়ের উপপরিচালক এ কে এম মহিউদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, জেলাভিত্তিক আবাদ ও উৎপাদনে পটুয়াখালী বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। এক মৌসুমে চাল উৎপাদন ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭৯৮ টন। এ জেলায় মানুষের প্রয়োজন ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৬৫ টন। উদ্বৃত্ত ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৩ টন চাল অন্য জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে।

চলতি রবি মৌসুমে প্রায় ৮৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টন মুগ ডাল উৎপন্ন হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এর সিংহভাগই অন্য জেলায় পাঠানো হয়েছে।

চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২২ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে ১০ লাখ ৩০ হাজার ৫০ টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। সারা দেশে তরমুজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে পটুয়াখালী জেলা প্রথম অবস্থানে।

মহিউদ্দিন বলেন, ‘চাল, মুগ ডাল আর তরমুজ সরবরাহের ক্ষেত্রে ফেরিঘাটে নানা জটিলতা সৃষ্টি হতো বিগত বছরে। তরমুজ পচে যেত, দাগ পড়ে যেত। এতে ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতেন। যে কারণে ঢাকাসহ অন্যান্য বাজারে পটুয়াখালীর তরমুজের মূল্য থাকত চড়া। ভোক্তারা অনেক বেশি মূল্য দিয়ে তরমুজ ক্রয় করত।

‘কিন্তু এখন আর সেই দুশ্চিন্তা নাই। মানুষের হাতের নাগালের মধ্যে থাকবে এ এলাকার তরমুজ। ফলে প্রান্তিক চাষিরা ফসল বিক্রি করে তাদের ন্যায্যমূল্য নিতে পারবে।

‘এখানকার মুগ ডাল দেশের বাইরে বিশেষ করে চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। এই রুটের ফেরির ভোগান্তিতে ব্যবসায়ীরা ছিলেন অতিষ্ঠ। কিন্তু আগামী মৌসুমে এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।’

পটুয়াখালীর সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানান, জেলার সাগর ও নদনদী থেকে ২০২০-২০২১ সালে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৯ টন দেশি, ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ ধরা হয়েছে। জেলায় চাহিদা ৩৬ হাজার ৯৪৩ টন। বাকি ৮৭ হাজার ৩৬ টন মাছ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ হয়ে থাকে।

‘ফেরিঘাটে ট্রাক ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকায় বরফ গলে মাছ নষ্ট হয়ে যেত। বিশেষ করে মাওয়া ঘাটে এ দুর্ভোগ ছিল চরমে। এখন এসব মাছ ঢাকাবাসীর হাতের নাগালে থাকবে। পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টায় ঢাকার বাজারে চলে যাবে এগুলো। এতে বজায় থাকবে প্রোটিনসহ মাছের গুণগত মান।’

সারা দেশের ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে এখনই ঝুঁকছেন পায়রার দিকে। বন্দরের আশপাশ এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার হিড়িক পড়েছে।

পায়রা সমুদ্রবন্দরের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, ‘পদ্মা সেতু আর পায়রা সমুদ্রবন্দর ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বন্দরের অন্যতম শর্ত সড়ক সংযোগ, যেটি নিয়ে এতদিন জটিলতা ছিল। কিন্তু ২৫ তারিখের পর এই সমস্যা আর থাকছে না। এখানে পণ্য খালাসের জন্য ফোর লেনের সড়ক অনেক আগেই হয়েছে।

‘পায়রা হবে একটি আধুনিক বন্দর। ইতোমধ্যে মূল টার্মিনাল নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের পথে। নাব্যতা সমস্যা দূর করতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং কাজও চলছে। এই বন্দরে দেশি, বিদেশি অনেক জাহাজের আগমন ঘটবে। এতে আমাদের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে।’

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও পায়রা বন্দরের দূরত্বে সমান হলেও মোহাম্মদ সোয়াহেলের ধারণা, ব্যবসায়ীরা পায়রাকে বেছে নেবেন বন্দরের সুবিধা ও সড়কপথে যাতায়াত সহজতর বলে। সড়কে চাপ কম বলে চট্টগ্রামের চেয়ে দ্রুততর যাতায়াত করা যাবে।

সোহায়েল বলেন, ‘বন্দরকে কেন্দ্র করেই পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর এলাকায় ইপিজেড নির্মাণ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এটি চালু হলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।’

আরও পড়ুন:
সভামঞ্চ পদ্মা সেতুর আদলেই
পদ্মা সেতু নিয়ে উচ্ছ্বসিত সেই বিশ্বব্যাংক
পদ্মা সেতুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দানবীয় ক্রেন ‘তিয়ান-ই’
দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চসেবাতেও উন্নতির আশা
বদলে গেছে পদ্মা সেতুতে জমি হারানোদের জীবনও

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Commemorative note on the occasion of Padma bridge

পদ্মা সেতু উপলক্ষে স্মারক নোট

পদ্মা সেতু উপলক্ষে স্মারক নোট
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির স্বাক্ষরিত ১৪৬ মিলিমিটার গুণক ৬৩ মিলিমিটার পরিমাপের এ স্মারক নোটের সম্মুখভাগের বামপাশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি রয়েছে।

পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে ১০০ টাকা মূল্যমান স্মারক নোট ছাড়ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার থেকে নোটটি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস এবং পরে অন্যান্য শাখা অফিসে পাওয়া যাবে।

ফোল্ডার ছাড়া শুধু খামসহ স্মারক নোটটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ এবং ফোল্ডার ও খামসহ স্মারক নোটটির মূল্য ২০০ টাকা।

স্মারক নোটটির জন্য পৃথকভাবে বাংলা ও ইংরেজি লিটারেচার সংবলিত ফোল্ডার প্রস্তুত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নোটের ডিজাইন ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির স্বাক্ষরিত ১৪৬ মিলিমিটার গুণক ৬৩ মিলিমিটার পরিমাপের এ স্মারক নোটের সম্মুখভাগের বামপাশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি রয়েছে।

ব্যাকগ্রাউন্ডে পদ্মা সেতুর ছবি মুদ্রিত।

নোটের উপরিভাগে সামান্য ডানে নোটের শিরোনাম ‘জাতির গৌরবের প্রতীক পদ্মা সেতু’ লেখা রয়েছে।

নোটের ওপরে ডান কোণে স্মারক নোটের মূল্যমান ইংরেজিতে ১০০, নিচে ডান কোণে মূল্যমান বাংলায় ‘১০০’ এবং উপরিভাগে মাঝখানে ‘একশত টাকা’ লেখা রয়েছে।

নোটের পেছনভাগে পদ্মা সেতুর একটি ছবি দেয়া হয়েছে।

নোটের উপরিভাগে ডান দিকে নোটের শিরোনাম ইংরেজিতে ‘পদ্মা ব্রিজ দি সিম্বল অফ ন্যাশনাল প্রাইড ওয়ান হান্ড্রেড টাকা’ লেখা।

নোটের ওপরে বাম কোণে ও নিচের ডান কোণে মূল্যমান ইংরেজিতে ১০০ এবং নিচে বাম কোণে বাংলায় ‘১০০’ লেখা রয়েছে।

নোটের নিচে মাঝখানে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম এবং এর বামপাশে ইংরেজিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডানপাশে ইংরেজিতে ওয়ান হান্ড্রেড টাকা’ লেখা।

নোটটির সম্মুখভাগে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির বামে মিলিমিটার চওড়া নিরাপত্তা সুতা এবং ডানদিকে জলছাপ এলাকায় ‘বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি’, ‘২০০’ এবং ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ মুদ্রিত।

নোটের উভয় পাতায় ভার্নিশের প্রলেপ দেয়া।

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে ড. ইউনূস কি থাকছেন
মানুষকে অভুক্ত রেখে পদ্মা সেতু নিয়ে উৎসব: ফখরুল
আওয়ামী লীগের ৭৩ বছরের পথচলা: একটি নির্মোহ মূল্যায়ন 
পদ্মা সেতুর আলোকচ্ছটা প্রবাসেও
সেতুতে নিষ্প্রাণ হওয়ার পথে পদ্মার ফেরি-লঞ্চঘাট

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
One and a half lakh women workers abroad

বিদেশে সাড়ে ১০ লাখ নারী শ্রমিক

বিদেশে সাড়ে ১০ লাখ নারী শ্রমিক ফাইল ছবি
ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর হোসেনের প্রশ্নের উত্তরে ইমরান আহমেদ জানান, মহামারি করোনাভাইরাসের আবির্ভাবের পর থেকে পাঁচ লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী কর্মসংস্থান হারিয়ে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন।

বর্তমানে বিশ্বের ৮৪টি দেশে বাংলাদেশের নারী শ্রমিক কাজ করছেন বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ।

‘তিনি বলেন, এসব দেশে কর্মরত মোট নারী শ্রমিকের সংখ্যা ১০ লাখ ৫০ হাজার ৮১৯ জন।’

একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশনে বৃহস্পতিবার প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

আওয়ামী লীগদলীয় সদস্য মামুনুর রশীদ কিরনের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নানামুখী কূটনৈতিক তৎপরতায় ২০২২ সালের মে পর্যন্ত ৫ লাখ ৩ হাজার ৯৭৯ জন কর্মী বৈদেশিক কর্মসংস্থান লাভ করেছেন।’

ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর হোসেনের প্রশ্নের উত্তরে ইমরান আহমেদ জানান, মহামারি করোনাভাইরাসের আবির্ভাবের পর থেকে পাঁচ লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী কর্মসংস্থান হারিয়ে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
What is the benefit of increasing stocks in the rice market?

চালের বাজার চড়ছেই, মজুত বেড়ে কী লাভ?

চালের বাজার চড়ছেই, মজুত বেড়ে কী লাভ?
কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়াটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রচুর চাল মজুত আছে। এ অবস্থায় দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।’

সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুত বাড়ছে; তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চাল-আটার দাম। বন্যার কারণে দেশে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে কি না তা নিয়ে শঙ্কিত ব্যবসায়ীরা। তবে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, বন্যায় খাদ্যঘাটতি হবে না। প্রয়োজনে চাল আমদানি করে চাহিদা পূরণ করা হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক খাদ্যশস্য পরিস্থিতি প্রতিবেদন বলছে, বৃহস্পতিবার দেশে মোট খাদ্যশস্য মজুতের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৪৯ হাজার টন। এর মধ্যে চালের মজুত হচ্ছে ১৩ লাখ ২৪ হাজার টন। গম ১ লাখ ৬৫ হাজার; আর ধান ৯২ হাজার টন।

ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এই মজুত ২০ লাখ টন ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা ছিল রেকর্ড। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই সরকারিভাবে এত খাদ্যশস্য মজুত ছিল না। কিন্তু এর পর থেকে কমতে কমতে সেই মজুত মে মাস শেষে ১২ লাখ ৫২ হাজার টনে নেমে আসে।

এরই মধ্যে ২৮ এপ্রিল থেকে দেশে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করে সরকার। এর ফলে আবার বাড়ছে খাদ্যের মজুত।

বিস্ময়কর হলো, তারপরও চালের দাম কমছে না; উল্টো বেড়েই চলেছে। এবারই প্রথম ভরা বোরো মৌসুমেও মোটা চালের দাম কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা বেড়েছে। সরু চালের দাম বেড়েছে আরও বেশি; ১০ থেকে ১২ টাকা।

চালের দামের লাগাম টেনে ধরতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চালকল, আড়ত, বড় বড় পাইকারি বাজারে অভিযান চালানোর পরও দাম কমেনি।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাজারগুলোতে ৪৮ থেকে ৫৩ টাকা কেজি দরে মোটা চাল বিক্রি হয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। আর বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আর সরু চাল (মিনিকেট-নাজিরশাইল) বিক্রি হয়েছে ৬৪ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। এক মাসে এই চালের দাম ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে। বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ১৭ দশমিক শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

আটার দাম বেড়েছে আরও বেশি। প্রতি কেজি খোলা আটাই এখন ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

আটার দাম বাড়ার জন্য অবশ্য রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।

বর্তমান মজুত ‘সন্তোষজনক’ উল্লেখ করে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বোরো সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৯৫১ টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৬১০ টন ধান, ৪ লাখ ৫১ হাজার ১০৫ টন সেদ্ধ চাল এবং ৭ হাজার ৭৮০ টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। ধান, চালের আকারে মোট মজুতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ হিসাবে মোট চাল সংগ্রহ করা হয়েছে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৯৩১ টন। আর গম ২০ লাখ টন।

চালের বাজার চড়ছেই, মজুত বেড়ে কী লাভ?

গত ২৮ এপ্রিল থেকে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে; চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এবার প্রতি কেজি বোরো ধানের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ টাকা, সেদ্ধ চাল ৪০ টাকা এবং আতপ চাল ৩৯ টাকা।

এই মৌসুমে ৬ লাখ ৫০ হাজার টন ধান, ১১ লাখ টন সেদ্ধ চাল এবং ৫০ হাজার টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে সরকার।

নতুন চালেও কমছে না দাম

বুধবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে চালের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। নতুন চালও প্রচুর এসেছে। কিন্তু দাম কমছে না।

রাজধানীর শেওড়াপাড়া বাজারের একটি মুদি দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভালো মানের সরু চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭৪ থেকে ৮২ টাকা; যা এক মাস আগেও ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা।

এই বাজারের এক মুদি দোকানের মালিক রিপন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে চালের দাম বাড়েনি। ১৫/২০ দিন আগে যে দাম বেড়েছিল, সেই দামেই বিক্রি করছি।’

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ধানের দাম বেশি। সে কারণে চালের দাম কমছে না। ১৪০০/১৫০০ টাকা মণ দরে ধান কিনে আমরা কীভাবে কম দামে চাল বিক্রি করব।’

তিনি বলেন, ‘এর আগে হাওর অঞ্চলে বন্যার কারণে বোরো ধানের ফলনের ক্ষতি হয়েছে। এখন সিলেট-সুনামগঞ্জ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ফলনের পাশাপাশি যারা ধান তুলে বাড়িতে বা গুদামে রেখেছিলেন সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে আমরা বুঝতে পারছি না।’

ধানের দাম না কমলে চালের দাম কমবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন লায়েক আলী।

কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়াটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রচুর চাল মজুত আছে। এ অবস্থায় দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।’

‘এটা সরকারকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে অভিযান শুরুর নির্দেশ নিয়েছেন তা সারা দেশে পরিচালনা অব্যাহত রাখতে হবে।’

বন্যার কারণে দেশে খাদ্য ঘাটতি হবে না বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘‘বন্যা পরিস্থিতির কারণে দেশে খাদ্য ঘাটতির কোনো শঙ্কা নেই। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। দেশে এখনও ১৬ লাখ টন ধান-চাল মজুত আছে। তারপরও আমাদের সংগ্রহ অভিযান চলছে। এ ছাড়া সে রকম কোনো অবস্থা দেখলে আমরা চাল আমদানি করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জিরো ট্যাক্সে বেসরকারিভাবে চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছেন।’

প্রয়োজনে চাল আমদানি করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ধান কাটার আগেও কিছুটা বন্যা হয়েছিল, তা আমরা কাটিয়ে উঠেছি। ওই সময় ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছিল। তবে চলমান বন্যার কারণে প্রধান খাদ্যশস্য ধানসহ অন্যান্য ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি। মাঠে এখন তেমন ফসল নেই। কিছু হয়তো আউশ ধান ছিল। সরকারি খাদ্যগুদামে যে মজুত রয়েছে, তাতে এখন পর্যন্ত দেশে খাদ্যের কোনো ঘাটতি হবে না। প্রয়োজনে চাল আমদানি করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে।’

আরও পড়ুন:
চালের ঘাটতি পূরণে আমদানি চান নওগাঁর ব্যবসায়ীরা
চালের বাজারে করপোরেট নিয়ন্ত্রণ খতিয়ে দেখবে ভোক্তা অধিকার
চাল মজুত: স্কয়ারের অঞ্জন চৌধুরীর জামিন
দাম নিয়ন্ত্রণে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Italy wants to supply LNG to Bangladesh

বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করতে চায় ইতালি

বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করতে চায় ইতালি ইতালির রাষ্ট্রদূত ইনরিকো নুনজিয়াতার নেতৃত্বে দেশটির একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। ছবি: নিউজবাংলা
মোজাম্বিকে থাকা ইতালীয় কোম্পানির মালিকানাধীন খনি থেকে উত্তোলিত গ্যাস বাংলাদেশে এলএনজি আকারে পাঠানোর কথা ভাবছে তারা।

গ্যাস সরবরাহ বন্ধে রাশিয়ার হুমকির মুখে ইউরোপ। এ অবস্থায় জ্বালানি সংকটের শঙ্কা থেকে ইতালিও মুক্ত নয়। তার পরও দেশটি বাংলাদেশে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ এ খাতের নানা খাত-উপখাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউরোপের দেশটি।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ প্রস্তাব দেন ঢাকায় ইতালির রাষ্ট্রদূত ইনরিকো নুনজিয়াতা। এ সময় তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রদূত জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তি খাতে ইতালির অবস্থান তুলে ধরেন। এ সময় ডিকার্বোনাইজেশন, বায়ো রিফাইনিং, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হাইড্রোকার্বন প্রডাকশন, এলএনজি, বায়ুবিদ্যুৎ ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনাকালে ইতালির রাষ্ট্রীয় সমন্বিত জ্বালানি কোম্পানি ইনি এসপিএ বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থায় অবদান রাখতে অনুসন্ধান, এলএনজি, বায়ো এবং ট্রাডিশনাল পরিশোধন কার্যকলাপ, বায়ু, জলবায়ু সংরক্ষণ, হাইড্রোজেন ও নবপ্রযুক্তি বিষয়ে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।

নসরুল হামিদ বলেন, ‘ইউরোপিয়ান কোম্পানিকে বাংলাদেশে কাজ করতে স্বাগত জানানো হবে। তবে তারা কীভাবে এলএনজি রপ্তানি করবে তার বিজনেস মডেল নিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পর্যালোচনা হওয়া প্রয়োজন।

‘হাইড্রোজেন ফুয়েল ও গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা যেতে পারে। একটি নির্দিষ্ট ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় কর্মকর্তা পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারলে উভয় দেশ উপকৃত হবে।’

এ সময় অন্যদের মাঝে ইনি এসপিএর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার অ্যানালাইসিস অ্যান্ড বিজনেস সাপোর্ট বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মারকো পিরিদদা ও এলএনজি বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাওরো রিনাওদো উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নিজেদের জ্বালানি সংকটের মধ্যে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহে ইতালির আগ্রহ বিষয়ে জানতে চান প্রতিমন্ত্রী। জবাবে ইতালির প্রতিনিধি দল জানায়, মোজাম্বিকে থাকা ইতালীয় কোম্পানির মালিকানাধীন খনি থেকে উত্তোলিত গ্যাস বাংলাদেশে এলএনজি আকারে পাঠানোর কথা ভাবছে তারা।

আরও পড়ুন:
গ্যাস সংকট: আসছে ২৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি
মুরিং লাইন ছিড়ে এলএনজি সরবরাহ বিঘ্ন
মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আনবে বাংলাদেশ
এলএনজি আমদানিতে ৪ কোম্পানিকে অনুমোদন

মন্তব্য

p
ad-close 20220623060837.jpg
উপরে