× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

অর্থ-বাণিজ্য
Consumer rights will be examined by corporate control in the rice market
hear-news
player
print-icon

চালের বাজারে করপোরেট নিয়ন্ত্রণ খতিয়ে দেখবে ভোক্তা অধিকার

চালের-বাজারে-করপোরেট-নিয়ন্ত্রণ-খতিয়ে-দেখবে-ভোক্তা-অধিকার
সম্প্রতি দিনাজপুরে স্কয়ার গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার টনের বেশি মজুত চাল জব্দ করা হয়। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মন্টু বলেন, ‘বড় কোম্পানিগুলো হাজার হাজার টন ধান রেখেছে গুদামে। বিক্রি করছে না। কোনো কোনো মিলার ঢাকার পাইকারি চাল ব্যবসায়ীদের চালের কেজি ১০০ টাকায় পৌঁছাবে বলেও জানিয়েছেন। ফলে পাইকাররাও চালের সংগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। এভাবে কিছুটা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।’

চালের বাজার করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা নিয়ন্ত্রণ করছে, সেটি খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেছেন, ‘প্যাকেটজাত করার পর চালের দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি কীভাবে হয় সেটা খতিয়ে দেখা হবে।’

বোরো ধান ওঠার পর চালের দামে ঊর্ধ্বগতির মধ্যে সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

চালের মজুত, সরবরাহ এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে মিল মালিক ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়।

সফিকুজ্জামান বলেন, ‘আতঙ্ক ছড়িয়ে চালের বাজারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে যেভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে ঠিক সেইভাবে কোনো একটি গোষ্ঠী চালের বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।’

গত কয়েক বছরে চালের বাজারে নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছেন করপোরেট ব্যবসায়ীরা। স্কয়ার, সিটি গ্রুপ, প্রাণ, আকিজ, এসিআইয়ের মতো কোম্পানিগুলো লাখ লাখ টন চাল সরবরাহ করছে।

সম্প্রতি চালের দরে ঊর্ধ্বগতির পর মিল মালিকরা দামের ঊর্ধ্বগতির জন্য করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করে আসছেন।

এই পরিস্থিতিতে এ সভায় চালের মিল মালিক, সিটি, প্রাণ, আকিজ, মেঘনা, বাংলাদেশ এডিবল অয়েলসহ বিভিন্ন করপোরেট হাউসের প্রতিনিধি, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সিটি গ্রুপের উপদেষ্টা অমিতাব চক্রবর্তী বলেন, ‘করপোরেট বড়জোর ৮ থেকে ৯ শতাংশ চাল সংগ্রহ করে বিক্রি করে। এই স্বল্প পরিমাণ সংগ্রহের কারণে বাজারে এত বড় প্রভাব পড়ার কথা নয়।’

প্রাণ গ্রুপের সিনিয়র ম্যানেজার নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘ধানের ও চালের ক্ষেত্রে মৌসুমি ব্যবসায়ী তৈরি হয়েছে, যারা চাল কিনে বিভিন্ন গুদামে মজুত রাখছে।’

তিনি জানান, মাসে তাদের প্যাকেটজাত চাল ৫০০ থেকে ৬০০ টন বিক্রি হলেও গত দুই মাসে তা কমে অর্ধেকে নেমেছে।

চাল উৎপাদন নিয়মিত হচ্ছে জানিয়ে এসিআই গ্রুপের প্রতিনিধি জানান, তাদের দৈনিক চাল উৎপাদন ক্ষমতা ১৫০ টন।

সভায় খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের পক্ষে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন বলেন, ‘ক্রয়াদেশ দিলে মিলাররা সময়মতো চাল দেন না। তাদের কেউ কেউ বলছেন, উৎপাদন কম হয়েছে। দাম বেড়ে যাবে। সেখানে অভিযান চালাতে হবে।

‘তা ছাড়া মিল থেকে চাল কিনে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো প্যাকেটজাত করে বেশি দামে বাজারে বিক্রি করছে। একই মানের খোলা চালের চেয়ে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর চালের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি।’

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মন্টু বলেন, ‘বড় কোম্পানিগুলো হাজার হাজার টন ধান রেখেছে গুদামে। বিক্রি করছে না। কোনো কোনো মিলার ঢাকার পাইকারি চাল ব্যবসায়ীদের চালের কেজি ১০০ টাকায় পৌঁছাবে বলেও জানিয়েছেন। ফলে পাইকাররাও চালের সংগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। এভাবে কিছুটা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।’

মজুত জানানোর নির্দেশ

ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, তারা চালের মজুত খতিয়ে দেখবেন। কোন মিলে কত চাল মজুত আছে, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে তা জানাতে হবে।

তিনি বলেন, ‘চালের বাজারে এখন যে অস্থিরতা চলছে, তার কোনো কারণ নেই। মজুত করে অস্থিরতা করা হচ্ছে।’

তেলের মতো এখানেও অভিযান চলবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার এ বছর মোট ১১ লাখ টন চাল কিনবে। এর জন্য এত আতঙ্ক তৈরি হওয়ার কথা নয়। মিল মালিকদের কাছে কী পরিমাণ চাল মজুত আছে, তা আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে ভোক্তা অধিদপ্তরকে জানাতে হবে। এরপর আগামী সপ্তাহে চালের মিলে অভিযান করা হবে।’

এত চাল কেন বিক্রি হচ্ছে?

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাগর অটোরাইস মিলের মালিক মুনসুর রহমান বলেন, ‘এবার ধানের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শ্রমিক সংকটে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। অন্য বছরের চেয়ে শ্রমিক খরচও বেড়েছে। ফলে ধানের দাম কিছুটা বেড়েছে।

‘তবে অন্য বছরের এই সময়ের চেয়ে এ বছর বিক্রি দ্বিগুণ বেড়েছে। কোনো মিলে চাল মজুত নেই। ক্রেতাদের সিরিয়াল লেগে গেছে। ক্রেতারা কেন এত বেশি চাল কিনছেন তা বুঝতে পারছি না।’

খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর কিছুটা দোষ চাপিয়ে তিনি বলেন, ‘১০ থেকে ১৫ দিন আগে মিলগেটে ৫০ কেজি চালের যে বস্তা বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। তা খুচরা বাজারে কীভাবে ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে?’

আরও পড়ুন:
গাজীপুরে ৬ চাল ব্যবসায়ীকে জরিমানা
দারিদ্র্য দক্ষিণ এশিয়ার অভিন্ন শত্রু: প্রধানমন্ত্রী
কুষ্টিয়ায় খুচরা বাজারে চালের দাম কমল এক টাকা
খাদ্যে পরনির্ভরশীলতা কাটাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
অভিযানে কমেছে চালের দাম: খাদ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
4 lakh tons of rice is coming after the withdrawal of duty

শুল্ক প্রত্যাহারের পর আসছে ৪ লাখ টন চাল

শুল্ক প্রত্যাহারের পর আসছে ৪ লাখ টন চাল ফাইল ছবি
আমদানিকারকদের আগামী ১১ আগস্টের মধ্যে পুরো চাল বাংলাদেশের বাজারে আনতে হবে। আমদানি করা চালের পরিমাণ গুদামজাত ও বাজারজাত করার তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককেও জানাতে হবে।

চালের দামে লাগাম পরাতে আমদানি শুল্ক তুলে নেয়ার পর প্রথম দফায় বেসরকারিভাবে ৪ লাখ ৯ হাজার টন আমদানি করতে ৯৫টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিতে যাচ্ছে সরকার।

আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাল আনার আমদানির অনুমতি দিতে অনুরোধ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ক চিঠি দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

শর্ত হিসেবে চিঠিতে বলা হয়েছে, বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে এলসি খুলতে হবে এবং এ সংক্রান্ত তথ্য খাদ্য মন্ত্রণালয়কে ই-মেইলে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে হবে।

আমদানিকারকদের আগামী ১১ আগস্টের মধ্যে পুরো চাল বাংলাদেশের বাজারে আনতে হবে। আমদানি করা চালের পরিমাণ গুদামজাত ও বাজারজাত করার তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককেও জানাতে হবে।

সরকারি হিসাবে দেশে চালের সরবরাহ ও মজুতের মধ্যে কোনো ঘাটতি নেই। তারপরও চালের দাম বেড়ে চলেছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবির হিসাবে গত এক বছরে সরু চালের দাম বেড়েছে ১৯ শতাংশ এবং মোটা চালের দাম বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। এর মধ্যে সরু চালের দাম এক মাসেই বেড়েছে ৯ শতাংশ।

টিসিবির হিসাবে এক বছর আগে এই সময়ে দেশে সরু চাল বিক্রি হতো কেজিপ্রতি ৫৬ থেকে ৬৫ টাকায়। এখন তা ৬৪ থেকে ৮০ টাকা।

এক বছর আগে মাঝারি চালের দাম ছিল ৫০ থেকে ৫৬ টাকা কেজি, যেটি এখন হয়েছে ৫২ থেকে ৬০ টাকা। এক বছর আগে মোটা চালের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৪ থেকে ৪৮ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৪৮ থেকে ৫২ টাকা।

চালের দাম এভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সরকারও অস্বাভাবিক হিসেবেই দেখছে। সম্প্রতি বিভিন্ন চালকল ও বাজারে সরকার অভিযানও চালাচ্ছে। বৈধ মাত্রার চেয়ে বেশি মজুত করায় মামলাও হয়েছে স্কয়ার গ্রুপের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযানের সুফল বাজারে কমই মিলছে।

চাল উৎপাদনের প্রধান বোরো মৌসুমে চালের দামে এই লাফ বছরের বাকি সময়ের জন্য শঙ্কা তৈরি করছে। তার ওপর দেশের উত্তর পূর্বে সিলেট অঞ্চলে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, উত্তরে কুড়িগ্রাম অঞ্চলেও চোখ রাঙাচ্ছে বন্যা। এতে আমনের ফলনেও ঘাটতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বোরো ধান ওঠার পরও চালের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এবার আমদানি বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় সরকার। এর অংশ হিসেবে আমদানিতে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে শুল্ক।

তবে নিয়ন্ত্রণমূক শুল্ক, অগ্রিম আয়কর, অ্যাডভান্সড ট্রেড ভ্যাট বা এটিভি এখনও কিছু বহাল আছে, যদিও এর হার কমানো হয়েছে অনেকটাই।

এতদিন চাল আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো সরকারকে। অর্থাৎ আমদানিতে ১০০ টাকা খরচ হলে সরকারকে দিতে হতো ২৫ টাকা। এই খাতে এখন কোনো টাকা দিতে হবে না।

যদিও নিয়ন্ত্রণমূলক যে ২৫ শতাংশ শুল্ক ছিল, সেটি পুরোপুরি প্রত্যাহার হয়নি, তবে কমানো হয়েছে অনেকটাই।

এতদিন এই শুল্ক ছিল ২৫ শতাংশ, সেটি কমিয়ে করা হয়েছে ১০ শতাংশ। এর বাইরে অগ্রিম আয়কর, এটিভি মিলিয়ে শুল্ক দিতে হবে ২৫ শতাংশ।

এতদিন আমদানি শুল্কের সঙ্গে এগুলো মিলিয়ে শুল্ক ছিল ৬২ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ টাকার পণ্য আনতে সরকারকে দিতে হতো ৬২ টাকা। এখন কম দিতে হবে ৩৭ টাকা।

আমদানি করা চালের মূল্য আগের চেয়ে কম পড়লে দেশি উৎপাদকরা প্রতিযোগিতার স্বার্থে দাম কমাতে বাধ্য হবে বলে আশা করছে এনবিআর। আর এর ফলে চালের বাজার স্থিতিশীল হবে এবং ভোক্তারা কম দামে চাল কিনে খেতে পারবে।

চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত শুল্কহার কমানোর এই আদেশ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

চাল আমদানির ক্ষেত্রে শর্ত দেয়া হয়েছে, আমদানি করা চাল স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান নিজেদের নামে পুনরায় প্যাকেটজাত করতে পারবে না। চাল বিক্রি করতে হবে প্লাস্টিক বস্তায়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকে এলসি খুলতে ব্যর্থ হলে বরাদ্দ বাতিল হয়ে যাবে বলেও শর্ত দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
১০ টাকা কেজির চাল ১৫ টাকায় বিক্রি শুরু শুক্রবার
কুষ্টিয়ায় বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম
চালের দামে লাগাম পরাতে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
From Friday 10 rupees per kg of rice at 15 rupees

১০ টাকা কেজির চাল ১৫ টাকায় বিক্রি শুরু শুক্রবার

১০ টাকা কেজির চাল ১৫ টাকায় বিক্রি শুরু শুক্রবার
অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারের কাছে ১৫ টাকা কেজি দরে এবং সমতলের ডিলারদের কাছে ১৩ টাকা ৫০ পয়সা ও দুর্গম এলাকার ডিলারদের কাছে ১৩ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি হবে।

সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় অতি দরিদ্রদের জন্য চালের দাম পাঁচ টাকা বাড়িয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এখন থেকে প্রতি কেজি চাল কিনতে হবে ১৫ টাকায়।

গত ২২ জুন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের দাম পুনর্নির্ধারণ করার কথা বলা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার চালের নতুন দাম কার্যকর করতে খাদ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।

১ জুলাই থেকে চালের নতুন এই দাম কার্যকর হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সেই চিঠিতে বলা হয়, ‘ইউনিয়ন পর্যায়ে হতদরিদ্রদের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য বিতরণ নীতিমালা, ২০১৬’ অনুযায়ী খাদ্যবান্ধব কার্যক্রমের আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচিত সর্বোচ্চ ৫০ লাখ পরিবারকে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর, মার্চ ও এপ্রিল মাসে ৩০ কেজি চাল বিক্রির ক্ষেত্রে দাম পুনর্নির্ধারণ করা হলো।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারের কাছে ১৫ টাকা কেজি দরে এবং সমতলের ডিলারদের কাছে ১৩ টাকা ৫০ পয়সা ও দুর্গম এলাকার ডিলারদের কাছে ১৩ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি হবে।

আরও পড়ুন:
স্ত্রী-দুই মেয়েকে ‘পিটিয়ে’ আত্মহত্যার চেষ্টা, এক মেয়ের মৃত্যু
২ মিলে ভুয়া ব্র্যান্ডের চাল, লাখ টাকা জরিমানা
দামি গাড়ি আরও দামি হলো
খাদ্যে ভর্তুকি জরুরি ছিল: জাপা
দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Leather traders have the opportunity to apply for a loan even if they are in default Opportunity to regularize leather traders

খেলাপি হলেও ঋণের সুযোগ চামড়া ব্যবসায়ীদের

খেলাপি হলেও ঋণের সুযোগ চামড়া ব্যবসায়ীদের আড়তে মজুত করা চামড়ার স্তূপ। ফাইল ছবি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, কোরবানির পশুর চামড়া কেনার জন্য আগে বিতরণ করা কোনো ঋণের অংশবিশেষ খেলাপি হয়ে থাকলে ন্যূনতম ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে পুনঃতফসিল করা যাবে।

ঈদুল আজহা সামনে রেখে চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের খেলাপি ঋণের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়েই ঋণ নিয়মিত করতে পারবেন তারা। পাশাপাশি নতুন ঋণের জন্য আবেদনও করা যাবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বিশেষ এই সুবিধা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বহাল থাকবে।

সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এই সার্কুলার পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, কোরবানির পশুর চামড়া কেনার জন্য আগে বিতরণ করা কোনো ঋণের অংশবিশেষ খেলাপি হয়ে থাকলে ন্যূনতম ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে পুনঃতফসিল করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার গোডাউনে স্টক বা সহায়ক জামানত থাকতে হবে।

পরে ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা যাচাই সাপেক্ষে ২০২২ সালে কোরবানির পশুর চামড়া কেনার জন্য ঋণ বিতরণ করতে পারবে তফসিলি ব্যাংকগুলো। নতুন ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজড অ্যামাউন্ট আদায় করা যাবে না।

কোরবানীকৃত পশুর কাঁচা চামড়া কেনার উদ্দেশ্যে বরাদ্দকৃত ঋণের সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিতকরণসহ তৃণমূল পর্যায়ে চামড়া ক্রয়-বিক্রয়ে জড়িতদের কাছে পৌঁছে দেয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

শরিয়াহ্ভিত্তিক পরিচালিত ব্যাংক এসব নীতিমালা অনুসরণ করে এই খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, চামড়াশিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের প্রায় অর্ধেক জোগান আসে প্রতি বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানীকৃত পশুর চামড়া থেকে। এ সময় চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে চামড়াশিল্পের মূল্যবান কাঁচামাল সংরক্ষণের পাশাপাশি চামড়া ক্রয়-বিক্রয় কাজে সরাসরি জড়িত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করা আবশ্যক।

চামড়াশিল্পে বিরাজমান সমস্যাসহ কোভিড-১৯-এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে আগের কোরবানির ঈদ মৌসুমে কাঁচা চামড়া কেনার উদ্দেশ্যে বিতরণকৃত বেশ কিছু ঋণ অনাদায়ী রয়ে গেছে।

নতুনভাবে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি, বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থা এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কয়েকটি এলাকায় সংঘটিত আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে আগামী কোরবানির মৌসুমে প্রয়োজনীয় অর্থের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
ঋণ পুনর্গঠনে চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানকে আরও তিন মাস সময়
চামড়া শিল্পের উন্নয়নে আসছে কর্তৃপক্ষ
চামড়া শিল্পনগরী কেন বন্ধ হবে না, বিসিককে নোটিশ
সাভারের চামড়া শিল্পনগরী বন্ধের সুপারিশ
এবার চামড়া নষ্ট হয়নি: শিল্পমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
New project to be self sufficient in spices

মসলায় স্বনির্ভর হতে নতুন প্রকল্প

মসলায় স্বনির্ভর হতে নতুন প্রকল্প
পরিকল্পনা কমিশন জানায়, দেশে প্রায় ৫০ ধরনের মসলার চাহিদা থাকলেও, চাষ হয় ৭ ধরনের। ফলে বাকি পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। বিশ্ববাজারে দর বাড়লে বিপাকে পড়েন গ্রাহকরা।

রান্না মজাদার ও সুস্বাদু করার প্রধান অনুষঙ্গ মসলা। তবে, চাহিদার সিংহভাগ মসলাই আমদানিনির্ভর। তাই এবার মসলার উৎপাদন বাড়াতে চায় সরকার। এ জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে দেশের ১১০টি উপজেলা ও ২৫টি হর্টিকালচার সেন্টার। গুরুত্ব পাবে ২৩ ধরনের মসলার ৪৮টি জাত।

এ-সংক্রান্ত প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিফ্রিং করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি জানান, ‘‘মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১২০ কোটি টাকা।’’

প্রকল্পটির কাজ আগামী মাসেই শুরু হবে। ২০২৭ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা বলে জানান তিনি।

পরিকল্পনা কমিশন জানায়, দেশে প্রায় ৫০ ধরনের মসলার চাহিদা থাকলেও, চাষ হয় ৭ ধরনের। ফলে বাকি পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। বিশ্ববাজারে দর বাড়লে বিপাকে পড়েন গ্রাহকরা।

পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, ধনিয়া, মরিচ, গোলমরিচ, দারুচিনি, জিরার মতো মসলা দেশেই আবাদ সম্ভব। এর সুবাদে মিটবে ভোক্তার চাহিদার পুরোটাই।

সভায় অনুমোদন পায় যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্প। এ ছাড়া কুষ্টিয়া (ত্রিমোহনী)-মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ (আর-৭৪৫) আঞ্চলিক মহাসড়কের ৮১তম কিমি-এ রেলবাজার রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্প।

চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়ীয়া-পাথরঘাটা মহাসড়কের পিরোজপুর অংশের জরাজীর্ণ সড়ক সংস্কার, অপ্রশস্ত বেইলি সেতুর স্থলে পিসি গার্ডার সেতু ও আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।

এ ছাড়া কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ (১.৬০ কিমি থেকে ৩২.০০ কিমি পর্যন্ত) সড়ক প্রশস্তকরণ; জামালপুর শহরের গেটপাড় এলাকায় রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ (১ম সংশোধিত); বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা সদরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ (১ম পর্যায়) (৩য় সংশোধিত) কাজের অনুমোদন দেয়া হয়।

ঢাকা সেনানিবাসে এমইএস (মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার সার্ভিসেস)-এর ভৌত অবকাঠামো সুবিধা সম্প্রসারণ; কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পও অনুমোদন পায়।

একনেক সভায় ২ হাজার ২১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন হয়। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ৮৭৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ও বৈদেশিক অর্থায়ন ৩৪১ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
স্বাস্থ্যের বড় কর্মসূচির সংশোধনসহ ১১ প্রকল্প অনুমোদন
বিদেশে সার কারখানা দিতে পারবে দেশি উদ্যোক্তারা
উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতিতে প্রধানমন্ত্রীর বিরক্তি প্রকাশ
প্রকল্প সংশোধন: বছরে বাড়তি ব্যয় ৩৭ হাজার কোটি টাকা
সরকারি তথ্য নিরাপদ রাখতে সমন্বিত ক্লাউড-প্ল্যাটফর্ম

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The decision to reduce the price of edible oil took a day or two

ভোজ্যতেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত দু-এক দিনেই

ভোজ্যতেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত দু-এক দিনেই ফাইল ছবি
ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে গেছে, সেই হিসেবে দেশেও দাম কমানো হবে।’

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা কমে আসায় দেশেও ভোজ্যতেলের দাম দু-এক দিনের মধ্যে কমানোর সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার দ্বাদশ মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে আলোচনার নানা দিক তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ।

ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে গেছে, সেই হিসেবে দেশেও দাম কমানো হবে।’

দাম কমলে কত কমানো হতে পারে- এমন প্রশ্নে তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘আগামী দু-এক দিনের মধ্যে কিংবা চলতি সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক করা হবে।

‘সেখানে আন্তর্জাতিক দাম অনুযায়ী দেশে গত এক মাসের মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সেই দাম নির্ধারণ করা হবে। তবে ডলারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খুব বেশি কমানো সম্ভব নাও হতে পারে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউ সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সয়াবিন তেল মিলছে আগের দামেই
দেশে ৪০ ভাগ ভোজ্যতেল উৎপাদনের পরিকল্পনা
ভোজ্যতেলের দাম কমার আভাস বাণিজ্যমন্ত্রীর

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
What is the benefit of increasing stocks in the rice market?

চালের বাজার চড়ছেই, মজুত বেড়ে কী লাভ?

চালের বাজার চড়ছেই, মজুত বেড়ে কী লাভ?
কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়াটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রচুর চাল মজুত আছে। এ অবস্থায় দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।’

সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুত বাড়ছে; তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চাল-আটার দাম। বন্যার কারণে দেশে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে কি না তা নিয়ে শঙ্কিত ব্যবসায়ীরা। তবে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, বন্যায় খাদ্যঘাটতি হবে না। প্রয়োজনে চাল আমদানি করে চাহিদা পূরণ করা হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৈনিক খাদ্যশস্য পরিস্থিতি প্রতিবেদন বলছে, বৃহস্পতিবার দেশে মোট খাদ্যশস্য মজুতের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৪৯ হাজার টন। এর মধ্যে চালের মজুত হচ্ছে ১৩ লাখ ২৪ হাজার টন। গম ১ লাখ ৬৫ হাজার; আর ধান ৯২ হাজার টন।

ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এই মজুত ২০ লাখ টন ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা ছিল রেকর্ড। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই সরকারিভাবে এত খাদ্যশস্য মজুত ছিল না। কিন্তু এর পর থেকে কমতে কমতে সেই মজুত মে মাস শেষে ১২ লাখ ৫২ হাজার টনে নেমে আসে।

এরই মধ্যে ২৮ এপ্রিল থেকে দেশে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করে সরকার। এর ফলে আবার বাড়ছে খাদ্যের মজুত।

বিস্ময়কর হলো, তারপরও চালের দাম কমছে না; উল্টো বেড়েই চলেছে। এবারই প্রথম ভরা বোরো মৌসুমেও মোটা চালের দাম কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা বেড়েছে। সরু চালের দাম বেড়েছে আরও বেশি; ১০ থেকে ১২ টাকা।

চালের দামের লাগাম টেনে ধরতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চালকল, আড়ত, বড় বড় পাইকারি বাজারে অভিযান চালানোর পরও দাম কমেনি।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাজারগুলোতে ৪৮ থেকে ৫৩ টাকা কেজি দরে মোটা চাল বিক্রি হয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। আর বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আর সরু চাল (মিনিকেট-নাজিরশাইল) বিক্রি হয়েছে ৬৪ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। এক মাসে এই চালের দাম ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে। বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ১৭ দশমিক শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

আটার দাম বেড়েছে আরও বেশি। প্রতি কেজি খোলা আটাই এখন ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

আটার দাম বাড়ার জন্য অবশ্য রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।

বর্তমান মজুত ‘সন্তোষজনক’ উল্লেখ করে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বোরো সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৯৫১ টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ৬১০ টন ধান, ৪ লাখ ৫১ হাজার ১০৫ টন সেদ্ধ চাল এবং ৭ হাজার ৭৮০ টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। ধান, চালের আকারে মোট মজুতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ হিসাবে মোট চাল সংগ্রহ করা হয়েছে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৯৩১ টন। আর গম ২০ লাখ টন।

চালের বাজার চড়ছেই, মজুত বেড়ে কী লাভ?

গত ২৮ এপ্রিল থেকে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে; চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এবার প্রতি কেজি বোরো ধানের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭ টাকা, সেদ্ধ চাল ৪০ টাকা এবং আতপ চাল ৩৯ টাকা।

এই মৌসুমে ৬ লাখ ৫০ হাজার টন ধান, ১১ লাখ টন সেদ্ধ চাল এবং ৫০ হাজার টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে সরকার।

নতুন চালেও কমছে না দাম

বুধবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে চালের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। নতুন চালও প্রচুর এসেছে। কিন্তু দাম কমছে না।

রাজধানীর শেওড়াপাড়া বাজারের একটি মুদি দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভালো মানের সরু চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭৪ থেকে ৮২ টাকা; যা এক মাস আগেও ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা।

এই বাজারের এক মুদি দোকানের মালিক রিপন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে চালের দাম বাড়েনি। ১৫/২০ দিন আগে যে দাম বেড়েছিল, সেই দামেই বিক্রি করছি।’

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ধানের দাম বেশি। সে কারণে চালের দাম কমছে না। ১৪০০/১৫০০ টাকা মণ দরে ধান কিনে আমরা কীভাবে কম দামে চাল বিক্রি করব।’

তিনি বলেন, ‘এর আগে হাওর অঞ্চলে বন্যার কারণে বোরো ধানের ফলনের ক্ষতি হয়েছে। এখন সিলেট-সুনামগঞ্জ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ফলনের পাশাপাশি যারা ধান তুলে বাড়িতে বা গুদামে রেখেছিলেন সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে আমরা বুঝতে পারছি না।’

ধানের দাম না কমলে চালের দাম কমবে না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন লায়েক আলী।

কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়াটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রচুর চাল মজুত আছে। এ অবস্থায় দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।’

‘এটা সরকারকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে অভিযান শুরুর নির্দেশ নিয়েছেন তা সারা দেশে পরিচালনা অব্যাহত রাখতে হবে।’

বন্যার কারণে দেশে খাদ্য ঘাটতি হবে না বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘‘বন্যা পরিস্থিতির কারণে দেশে খাদ্য ঘাটতির কোনো শঙ্কা নেই। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। দেশে এখনও ১৬ লাখ টন ধান-চাল মজুত আছে। তারপরও আমাদের সংগ্রহ অভিযান চলছে। এ ছাড়া সে রকম কোনো অবস্থা দেখলে আমরা চাল আমদানি করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জিরো ট্যাক্সে বেসরকারিভাবে চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছেন।’

প্রয়োজনে চাল আমদানি করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ধান কাটার আগেও কিছুটা বন্যা হয়েছিল, তা আমরা কাটিয়ে উঠেছি। ওই সময় ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছিল। তবে চলমান বন্যার কারণে প্রধান খাদ্যশস্য ধানসহ অন্যান্য ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি। মাঠে এখন তেমন ফসল নেই। কিছু হয়তো আউশ ধান ছিল। সরকারি খাদ্যগুদামে যে মজুত রয়েছে, তাতে এখন পর্যন্ত দেশে খাদ্যের কোনো ঘাটতি হবে না। প্রয়োজনে চাল আমদানি করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে।’

আরও পড়ুন:
চালের ঘাটতি পূরণে আমদানি চান নওগাঁর ব্যবসায়ীরা
চালের বাজারে করপোরেট নিয়ন্ত্রণ খতিয়ে দেখবে ভোক্তা অধিকার
চাল মজুত: স্কয়ারের অঞ্জন চৌধুরীর জামিন
দাম নিয়ন্ত্রণে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Shops are open till 10 pm on the occasion of Eid

ঈদ উপলক্ষে দোকানপাট খোলা রাত ১০টা পর্যন্ত

ঈদ উপলক্ষে দোকানপাট খোলা রাত ১০টা পর্যন্ত ফাইল ছবি
আগামী ১ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে বলে বুধবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশে রাত ৮টায় দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত কিছুটা শিথিল হয়েছে, ৮টার পরিবর্তে দোকান বন্ধ হবে রাত ১০টায়।

আগামী ১ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে বলে বুধবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত রাত ৮টায় দোকানপাট বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় ২০ ‍জুন থেকে।

রাত ৮টার পরিবর্তে ১০টায় দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ১১৪ এর ৪ উপধারার ক্ষমতাবলে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ জুন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে শ্রম মন্ত্রণালয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিণ, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন মালিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দোকানপাট, মার্কেট, বিপণিবিতান রাত ৮টায় বন্ধের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়। পরদিন সারা দেশে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।

তবে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি আগামী ১ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি চান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবারের এ সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুন:
দোকানপাট-শপিংমল খোলার সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের স্বস্তি
ঈদ শপিংয়ে বসুন্ধরা খাঁখাঁ
মার্কেট খুললেও জমেনি ঈদের কেনাকাটা

মন্তব্য

p
উপরে