× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Rice hoarders are counting fines
hear-news
player
google_news print-icon

জরিমানা গুনছেন চাল মজুতকারীরা, বন্ধ হচ্ছে প্রতিষ্ঠান

জরিমানা-গুনছেন-চাল-মজুতকারীরা-বন্ধ-হচ্ছে-প্রতিষ্ঠান
নিউজবাংলার জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তধ্য অনুযায়ী বুধবার দিনভর ১২ জেলার বিভিন্ন আড়ত, মিল ও দোকানে অভিযান চালায় প্রশাসন। এ সময় অবৈধভাবে চালের মজুত করাসহ নানা অনিয়মের দায়ে নানা অংকের জরিমানা করা হয়। বন্ধ করে দেয়া হয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান।  

চালের দাম ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিকে গত সোমবার চাল মজুতকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর থেকে সারা দেশে অভিযানে নামেন কর্মকর্তারা।

নিউজবাংলার জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তধ্য অনুযায়ী বুধবার দিনভর ১২ জেলার বিভিন্ন আড়ত, মিল ও দোকানে অভিযান চালায় প্রশাসন। এ সময় অবৈধভাবে চালের মজুত করাসহ নানা অনিয়মের দায়ে নানা অংকের জরিমানা করা হয়। বন্ধ করে দেয়া হয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান।

চালের অবৈধ মজুতের তথ্য জানতে বুধবার কন্ট্রোল রুম চালুর ঘোষণা দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। তিনটি ফোন নম্বরের মাধ্যমে যে কেউ চালের অবাধ মজুত সম্পর্কে জানাতে পারবেন। তথ্য জানাতে +৮৮০২২২৩৩৮০২১১৩, ০১৭৯০৪৯৯৯৪২ এবং ০১৭১৩০০৩৫০৬ নম্বরে ফোন করে তথ্য দিতে অনুরোধ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।


বগুড়া

অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে লেবেল লাগিয়ে চাল মজুত ও বিক্রির দায়ে বগুড়ার শেরপুরের শিনু এগ্রো লিমিটেড নামে এক প্রতিষ্ঠানকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হকের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তাতে বলা হয়েছে, এদিন বগুড়ার সব উপজেলায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ চাল মজুত করা ও লাইসেন্স না থাকার দায়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ১১ লাখ ৫২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শেরপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন জানান, উপজেলার জোয়ানপুর এলাকায় শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ২৪৬ টন চাল ও ২ হাজার ১৪৬ টন ধানের মজুত পাওয়া যায়। তবে চালগুলো এসিআই ফুডস লিমিটেডের লেবেলযুক্ত এবং নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের বস্তায় পাওয়া যায়। এসিআই ফুডস লিমিটেডের শেরপুরে মিলের ও ধান-চাল মজুতের কোনো লাইসেন্স নেই।

জরিমানা গুনছেন চাল মজুতকারীরা, বন্ধ হচ্ছে প্রতিষ্ঠান

সাবরিনা আরও জানান, এসব চাল গত মার্চ মাস থেকে মজুত অবস্থায় আছে বলে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার এনামুল হক স্বীকার করেছেন। এই অপরাধে শিনু এগ্রো লিমিটেডকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এর আগে গৌর গৌরাঙ্গ ভাণ্ডার নামে উপজেলার আরও এক প্রতিষ্ঠানে ২০০ টন চালের অবৈধ মজুত পাওয়া যায় বলে জানান সাবরিনা। তাদের ১০০ টন পর্যন্ত চাল মজুতের অনুমোদন আছে।


চট্টগ্রাম

চাল মজুত করে দাম বাড়ানোর দায়ে নগরীর ৪ আড়তদারকে ৩৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সিলগালা করা হয়েছে একটি আড়তকে।

নগরীর পাহাড়তলি বাজারে বুধবার সন্ধ্যায় এই অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চালের দাম বাড়িয়ে ও অতিরিক্ত চাল মজুত করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে চাল মজুদ করার লাইসেন্সে উল্লেখিত পরিমাণের বাইরে চাল মজুত করছিল। তাদের অর্থদণ্ড করে মুচলেকা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানকে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সিলগালা করা হয়েছে।’

জরিমানা গুনছেন চাল মজুতকারীরা, বন্ধ হচ্ছে প্রতিষ্ঠান


রংপুর

অবৈধভাবে ১ হাজার টন ধান মজুত ও অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করার দায়ে নর্দান এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিস লিমিটেড নামে একটি অটো রাইস মিল বন্ধ করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মিল মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

রংপুর সদর উপজেলার উত্তম বানিপাড়া এলাকায় বুধবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে এই পদক্ষেপ নেন সহকারী কমিশনার আমিনুল ইসলাম।

রংপুর সদর খাদ্য কর্মকর্তা আরিফ হোসেন জানান, মিল মালিক ইসতিয়াক আহমেদ জানিয়েছে যে তারা আর মিলটি চালাবেন না।

এদিন দুপুরে মাহিগঞ্জ এলাকায় চালের আড়তে অভিযান চালিয়ে বিক্রয় রসিদ না দেয়া এবং স্পষ্ট মূল্য তালিকা না রাখার দায়ে ৩টি প্রতিষ্ঠানে ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করে জেলা ভোক্তা অধিদপ্তর।


বরিশাল

মূল্য তালিকা না থাকায় এবং বেশি দামে চাল বিক্রি করার দায়ে নগরীর ৪ ব্যবসায়ীকে ৫৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

নগরীর ফরিয়াপট্টির চালের আড়তে বুধবার দুপুরে এই অভিযান চালিয়েছেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক শাহ শোয়াইব মিয়া।

তি‌নি জানান, মূল্য তালিকা না ঝুলিয়ে অতিরিক্ত দামে চাল বিক্রি করে আসছিল ফরিয়াপট্টির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো- এমন অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে মহাদেব ভাণ্ডারকে ৩৫ হাজার টাকা, গৌর নিতাই ভাণ্ডারকে ২০ হাজার এবং দুই খুচরা চালের দোকানিকে ৩ হাজার ও ১ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

জরিমানা গুনছেন চাল মজুতকারীরা, বন্ধ হচ্ছে প্রতিষ্ঠান

একই দিন জেলা প্রশাস‌নের নির্বাহী ম‌্যা‌জি‌স্ট্রেট সমা‌প্তি রায় ও কামরুন্নাহার তামন্নার নেতৃ‌ত্বে দুই‌টি দল নগরীর বাজার রোড, ফরিয়া পট্টি, সাগরদী বাজারসহ নগরীর কিছু চালের আড়তে অভিযান চালায়। অবৈধভাবে চাল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি, অধিক মুনাফায় চাল বিক্রি এবং মূল্য তালিকা সংরক্ষণ না করায় ৩টি চালের আড়তকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সিলেট

জেলার সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কালিঘাটে বুধবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে ৫ প্রতিষ্ঠানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

নিউজবাংলাকে অধিদপ্তরের সিলেট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিরুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘অভিযানকালে অতিরিক্ত মূল্যে চাল বিক্রি, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, মূল্য তালিকায় প্রদর্শিত মূল্য ও প্রকৃত বিক্রয় মূল্যের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকা এবং পাকা রশিদ সংরক্ষণ না করার দায়ে কালিঘাটের ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।’

কুষ্টিয়া

দেশের অন্যতম বড় চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে চালকলে বুধবার দুপুরে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাধন কুমার বিশ্বাস ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরীর নেতৃত্বে এই অভিযানে যায়।

এ সময় অতিরিক্ত মজুত বা মুনাফা করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি- বলে জানান খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী। তবে ভূয়া নামে চাল ব্র্যান্ডিং করায় নিউ বনফুল ও নিউ ফোরস্টার মিলকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

জরিমানা গুনছেন চাল মজুতকারীরা, বন্ধ হচ্ছে প্রতিষ্ঠান


ফরিদপুর

নিম্নমানের চাল বিক্রি করে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা এবং বেশি দামে চাল বিক্রির দায়ে ফরিদপুর শহরের দুই ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দ করা হয় নিম্নমানের ৪০ বস্তা (২৫ কেজি করে) চাল।

শহরের চক বাজার এলাকায় বুধবার দুপুরে এই অভিযান চালায় জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, খাদ্যদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও কৃষি বিপণনের কর্মকর্তারা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সোহেল শেখ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হঠাৎ করে জেলায় চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে বলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অভিযান চালানো হয়।

এ সময় মেসার্স সোহেল খাদ্য ভাণ্ডারের একটি গুদাম বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি ৪০ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। গুদামমালিক আয়নাল হককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সমপরিমাণ জরিমানা করা হয় বাজারের মেসার্স জয় গোবিন্দ সাহা খাদ্য ভাণ্ডারকেও।

হবিগঞ্জ

কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে মজুত করা ও অনুমোদনহীনভাবে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে একটি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ ও অন্যটিকে লাইসেন্স করতে এক দিন সময় দেয়া হয়েছে।

জরিমানা গুনছেন চাল মজুতকারীরা, বন্ধ হচ্ছে প্রতিষ্ঠান
শহরের খাদ্যগুদাম রোড এলাকায় বুধবার দুপুরে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

নিউজবাংলাকে তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) জহিরুল ইসলাম।


ব্রাহ্মণবাড়িয়া

জেলায় প্রশাসন ও জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের দিনভর অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ামিন হোসেনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত শহরের আনন্দ বাজারের চালের দোকানগুলোতে সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই অভিযান চালায়।

এ সময় প্লাস্টিকের বস্তায় চাল রাখার দায়ে আবুল খায়ের এন্টারপ্রাইজকে ১০ হাজার টাকা এবং এক মাসের বেশি চাল মজুত করে রাখায় শামীম এন্টারপ্রাইজকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ামিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জরিমানা গুনছেন চাল মজুতকারীরা, বন্ধ হচ্ছে প্রতিষ্ঠান

নাটোর

সিংড়া উপজেলার শ্রী নিরেন্দ্রনাথ মানীর তিনটি গুদামে প্রায় ১ হাজার টন ধানের অবৈধ মজুত পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গুদামমালিককে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

উপজেলার কলম বাজারে দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সিংড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল ইমরান এই জরিমানা করেন।


শেরপুর

জেলা খাদ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন বুধবার বিকেলে শহরের নয়ানীবাজার এলাকায় চালের পাইকারি গুদামে অভিযান চালায়। খাদ্য বিভাগের লাইসেন্স না থাকায় এ সময় বৃষ্টি চাল ভান্ডারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানাউল মোর্শেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও

জেলা শহরে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত দামে চাল বিক্রি ও নিয়ম না মানার দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

কালিবাড়ি বাজারের বুধবার দুপুরে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন এবং জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্মকর্তা শেখ সাদী জানান, চালের মূল্য তালিকা দেখাতে না পারা, রশিদ সংরক্ষণ না করা ও অধিক মূল্যে চাল বিক্রির দায়ে কালিবাড়ি বাজারের তানভীর চাউল ঘর ও সাইফুল ট্রেডার্সকে ৫ হাজার করে জরিমানা করা হয়েছে। সদরের শীবগঞ্জে কাশেম হাসকিং মিলকে গুনতে হয়েছে ২০ হাজার টাকা জরিমানা।

দিনাজপুর

অভিযানে চালের সবচেয়ে অবৈধ মজুত পাওয়া যায় দিনাজপুরে। সদরের স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের গুদাম থেকে ৫ হাজার ১২৪ টন আতপ চাল জব্দ করে প্রশাসন। এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে মিলের ইনচার্জকে।

জরিমানা গুনছেন চাল মজুতকারীরা, বন্ধ হচ্ছে প্রতিষ্ঠান

উপজেলার ১ নম্বর চেহেলগাজী ইউনিয়নের গোপালগঞ্জ বাজারে কোম্পানিটির ছয়টি গুদামে মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত এই অভিযান চালানো হয়। তবে বুধবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মর্তুজা আল মঈদ।

তিনি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় আমরা স্কায়ারের মিলে অভিযান পরিচালনা করি। এ সময় মিলের ছয়টি গুদামে ৫ হাজার ১২৪ টন আতপ চাল পাওয়া যায়। তবে মিলের অনুমোদন রয়েছে মাত্র ৩১২ টন। সে হিসাবে মিলে বেশি মজুত ছিল চার হাজার টনের বেশি চাল।’

আরও পড়ুন:
স্কয়ারের গুদাম থেকে জব্দ ৫১২৪ টন চাল
দেশি চাল প্যাকেট করে বিক্রি করা যাবে না: খাদ্যমন্ত্রী
ঢাকায় চালের বাজারে অভিযান
চালের দাম ফের বাড়ল কুষ্টিয়ায়
ব্যবসায়ীর ঘরে সরকারি ১৫ মণ চাল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Mustard smiles on the fallen horizon

পতিত দিগন্তে সরিষার হাসি

পতিত দিগন্তে সরিষার হাসি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়পুর বেলবাড়ি এলাকায় পতিত পড়ে থাকা বিস্তীর্ণ এলাকা এখন সরিষার ক্ষেত। ছবি: নিউজবাংলা
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়পুর বেলবাড়ি এলাকায় এক সময় পতিত পড়ে থাকা ১১০ বিঘা জমি এখন কৃষকের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। কৃষকদের হাতের ছোঁয়ায় সেই পতিত জমিতে এখন সরিষার হাসি। এই সরিষা গোলায় তোলার পর পর্যায়ক্রমে রোপণ করা হবে তিল, আউশ ও আমন ধান।

ওপারে ভারত। আর এপারে সীমান্ত সংলগ্ন ১১০ বিঘা জমি বছরের পর বছর পতিত পড়ে ছিল। দিগন্ত বিস্তৃত এই ফাঁকা জমিতে গরু-ছাগল চড়ত। চারণ ভূমিটি এখন কৃষকদের স্বপ্ন পূরণের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সর্তক দৃষ্টির মাঝে কৃষকদের হাতের ছোঁয়ায় সেই পতিত জমিতে এখন সরিষার হাসি। এই সরিষা গোলায় তোলার পর পর্যায়ক্রমে রোপণ করা হবে তিল, আউশ ও আমন ধান।

বৃহস্পতিবার কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়পুর বেলবাড়ি এলাকার এই পতিত জমি পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউটের কুমিল্লা উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. আশিকুর রহমান ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ফারহানা ইয়াসমিন।

পতিত জমিতে সরিষা আবাদ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাকারী বুড়িচং উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা বানিন রায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরিষার মাঠ ঘুরে দেখান। এ সময় স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. শাহেদ হোসেনসহ সরিষা চাষী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষক ওমর ফারুক, জাহাঙ্গীর আলম ও আবদুল হালিম জানালেন, গত বছর খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন চাষের পর পাহাড়পুর গ্রামের বেলবাড়ি মাঠের জমিগুলো পতিত থাকবে শুনে উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের সরিষা চাষের পরামর্শ দেয়। গত বছর ৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হলেও এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছি ১১০ হেক্টর। বর্তমানে ফসলের পরিস্থিতি দেখে বিঘাপ্রতি ১২-১৪ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তারা।

পতিত দিগন্তে সরিষার হাসি

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বৃহস্পতিবার বেলবাড়ি এলাকার সরিষা ক্ষেত পরিদর্শন করেন। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গেল আউশ মৌসুমে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো ৭০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেন তারা। আমন মৌসুমেও প্রচলিত ব্রি-৪৯ ও স্বর্ণমসুরি ধানের বিপরীতে স্বল্প জীবনকালীন ব্রি-৭১, ব্রি-৭৫ ও বিনা-১৭ ধানের আবাদ করা হয়। আর বর্তমান সরিষা মৌসুমে নতুন জাত হিসেবে বিনা সরিষা-৯, বিনা সরিষা-৪ ও বারি সরিষা-১৮ এর বীজ বিতরণ করে কৃষি বিভাগ।

পরিদর্শনকালে বিনার মহাপরিচারক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম সরিষা চাষীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি সরিষা চাষের সম্ভাবনার কথা কৃষকদের সামনে তুলে ধরেন। তাছাড়া তিনি সরিষা চাষের কিছু ব্যবস্থাপনা, বীজ সংগ্রহ ও বীজের সংরক্ষণ বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ বানিন রায় বলেন, ‘পাহাড়পুরের বিস্তীর্ণ জমিতে বোরো-পতিত-রোপা আমন শস্য বিন্যাসের পরিবর্তে সরিষা-তিল-রোপা আউশ-রোপা আমন ও সরিষা-আউশ-রোপা আমন শস্য বিন্যাস বাস্তবায়ন হয়েছে। আগামী মৌসুমগুলোতে নতুন নতুন জাত নিয়ে তিল, আউশ ও রোপা আমন আবাদে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবেন। পাশাপাশি দেশেরও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।’

আরও পড়ুন:
নবম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে শরীয়তপুরে
কৃষিপণ্য রপ্তানির নীতিমালা হচ্ছে
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ
‘কৃষি বাণিজ্য মেলা’ করবে ডিএনসিসি
সরিষা ফুলে ভরে গেছে ঝিনাইদহের মাঠ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Bumper yield of onion in Teesta pasture

তিস্তার চরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন

তিস্তার চরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন নীলফামারীর ডোমারে তিস্তা নদীর চর জুড়ে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, টেপা খড়িবাড়ী, খগা খড়িবাড়ী, ঝুনাগাছ চাপানী, খালিশা চাপানী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চর ঘুরে দেখা গেছে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন।

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদীর বালুচরে যেদিকে চোখ যায় শুধুই পেঁয়াজের আবাদ। দাম বেশি পাওয়ার আশায় এবার কৃষকেরা পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকেছেন। অনুকূল আবহাওয়া এবং রোগবালাই কম থাকায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চরাঞ্চলবাসী।

কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজের সঙ্কট এবং দাম বেশি হওয়ায় এসব চরাঞ্চলের কৃষকরা অন্যান্য ফসলের চেয়ে পেঁয়াজ চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। অন্যান্য বছরের মতো গম ও তামাক চাষ না করে এবার অধিকাংশ কৃষক পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।

উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, টেপা খড়িবাড়ী, খগা খড়িবাড়ী, ঝুনাগাছ চাপানী, খালিশা চাপানী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চর ঘুরে দেখা গেছে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন। এসব চর এলাকার কৃষকরা বন্যায় রোপা আমন চাষে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পেঁয়াজ চাষে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন।

কৃষক নুর ইসলাম, হুকুম আলী, জুলহাস, আজাহার ও আবুল হোসেন জানান, তারা প্রত্যেকেই ৩/৪ বিঘা করে জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ১৫শ’ টাকার বীজ কিনে রোপণ করে শতক প্রতি এক থেকে দেড় মণ করে পেঁয়াজ ফলনের স্বপ্ন তাদের।

হুকুম আলী বলেন, সব মিলে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এই ক্ষেতে। ৭০ শতক জমিতে ৭০ থেকে ৯০ মণ পেঁয়াজ পেলে বাজার অনুযায়ী মণ প্রতি ৫ থেকে ৬ শ’ টাকা দরে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিক্রি হবে।

জুলহাস বলেন, ‘খরচ ও পরিশ্রম কম হয়ে ভালো ফলন হওয়ায় চরের অধিকাংশ কৃষকই এখন পেঁয়াজ চাষের দিকে ঝুঁকছে। সহজ সেচ ব্যবস্থা ও ন্যায্য মূল্যের নিশ্চয়তা পেলে চরে পেঁয়াজ চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে। তাতে দেশে পেঁয়াজের ঘাটতিও পূরণ হবে।’

ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী বলেন, ‘তিস্তায় জেগে ওঠা চরে এখন বিভিন্ন ধরনের ফসল হচ্ছে। তিস্তার চরাঞ্চলে বন্যা-পরবর্তী ফসল হিসেবে এবার ৬৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। বিঘা প্রতি ৬০ থেকে ৭০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ‘মসলা জাতীয় এই ফসলে কৃষকরা সময় সময় লাভবান হন। চরের কৃষকদের ভালো ফলনের জন্য আমরা কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক পরামর্শসহ বীজ থেকে শুরু করে অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
নবম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে শরীয়তপুরে
কৃষিপণ্য রপ্তানির নীতিমালা হচ্ছে
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ
‘কৃষি বাণিজ্য মেলা’ করবে ডিএনসিসি
সরিষা ফুলে ভরে গেছে ঝিনাইদহের মাঠ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Successful businessman started mushroom cultivation after watching YouTube

ইউটিউব দেখে মাশরুম চাষ শুরু করে সফল ব্যবসায়ী

ইউটিউব দেখে মাশরুম চাষ শুরু করে সফল ব্যবসায়ী মাশরুম পরিচর্যায় সাগর আলী। ছবি: নিউজবাংলা
মাশরুম চাষি সাগর আলী বলেন, ‘গত বছরের শেষের দিকে মাশরুম খামার গড়ে তুলি। সবমিলে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। খরচের টাকা উঠে কিছু লাভও হয়েছে। বর্তমানে খামারে মাশরুম বীজ আছে তা থেকে আগামী তিন মাস বিক্রি করা যাবে মাশরুম। আশা করছি তিন মাস মাশরুম বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকার আয় করতে পারব।’

নওগাঁ সদর উপজেলার কির্ত্তিপুর ইউনিয়ন বিনে ফতেপুর গ্রামের সাগর আলী। পড়াশোনা করেছেন পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত। আবাদের জন্য তেমন কৃষি জমি নেই। গত ১৪-১৫ বছর যাবৎ নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদের সামনে রাস্তার পাশে বাজারে সবজি বিক্রি করে আসছেন।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউটিউবে মাশরুম চাষের একটি ভিডিও দেখে সিন্ধান্ত নেন তিনি মাশরুম চাষ করবেন। এর পর মার্চ মাসের শুরুর দিকে যশোর ডিএম সেন্টার নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চারদিনের একটি কোর্স করেন মাশরুম চাষের ওপর।

এরপর অক্টোবর মাসে সেখান থেকে কিছু বীজ সংগ্রহ করে নিজ বাড়ির পাশের জায়গায় শুরু করেন মাশরুম চাষ। তার খামারে বর্তমানে দুই কেজির একটি স্পন প্যাকেট করা ৩০০টি মাশরুমের স্পন রয়েছে।

খড়, কাঠের গুঁড়া, কাগজ, গমের ভুসি, বীজ, ছাঁউনিসহ সবমিলে খরচ হয়েছিল ১৫ হাজার টাকার মতো। ইতোমধ্যে তিনি মাশরুম বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন। আগামী তিন মাস যাবৎ তিনি তার খামার থেকে মাশরুম বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

প্রতিদিনই সাগরের মাসরুমের খামার দেখতে আসছেন অনেকই আবার কেউবা মাশরুম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা তার এই সফলতা দেখে আগামীতে এমন উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানান।

ইউটিউব দেখে মাশরুম চাষ শুরু করে সফল ব্যবসায়ী

স্থানীয় বিনে ফতেপুর গ্রামের বুলবুলি বেগম বলেন, ‘সাগর চাচার মাশরুম খামার দেখে খুবই ভালো লাগছে। একবার বীজ ৩০ থেকে নাকি ৩৫ বার ফলন পাওয়া যায়। আমরাও বাড়ির ফাঁকা জায়গায় এমন মাশরুম চাষ করার পরিকল্পনা করছি।’

সাজ্জাত হোসেন নামের স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘সাগর চারমাস আগে থেকে এখানে মাশরুম চাষ শুরু করেছে। বর্তমানে তিনি সফল একজন চাষি। সবজি বিক্রির পাশাপাশি মাশরুম চাষ করে থাকেন। প্রথম মাসেই তিনি মাশরুম চাষে লাভবান হয়েছেন। কম খরচে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব, আমরা এমন উদ্যোগ নিব বলে ভাবছি।’

নওগাঁ শহরের থানার মোড় এলাকা থেকে মাশরুম কিনতে এসেছেন আব্দুল্লাহ আল মুসাব্বের। তিনি বলেন, ‘বাজার থেকে মাশরুম কিনলে অনেক সময় কীটনাশক যুক্ত হয়। যার কারণে ফ্রেস ও টাটকা মাশরুম যাতে পাই, সেজন্য সাগর ভাইয়ের এখানে এসেছি। মাশরুম খামার থেকে সংগ্রহ করে ৩০০ টাকা কেজি দরে দুই কেজি কিনলাম।’

মাশরুম চাষি সাগর আলী বলেন, ‘খড়, কাঠের গুঁড়া, কাগজ, গমের ভুসি, ইত্যাদি দিয়ে ওয়েষ্টার জাতের মাসরুমের খামার গড়ে তুলেছি। প্রথম স্পন প্যাকেট থেকে ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ফলন আসে। দুই কেজির একটি স্পন প্যাকেট থেকে প্রায় দুই কেজি মাশরুম পাওয়া যায়। প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ কেজি মাশরুম বিক্রি করে থাকি। প্রতি কেজি কাঁচা মাশরুম পাইকারি ২৫০ এবং খুচরা ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে থাকি। যশোরে চার দিনের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলাম।

‘গত বছরের শেষের দিকে মাশরুম খামার গড়ে তুলি। সবমিলে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। খরচের টাকা উঠে কিছু লাভও হয়েছে। বর্তমানে খামারে মাশরুম বীজ আছে তা থেকে আগামী তিন মাস বিক্রি করা যাবে মাশরুম। আশা করছি তিন মাস মাশরুম বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকার আয় করতে পারব।’

ইউটিউব দেখে মাশরুম চাষ শুরু করে সফল ব্যবসায়ী

সাগর আরও বলেন, ‘খামারে প্রতিদিন তিন বেলা পানি দিয়ে স্প্রে করতে হয়। আমার কাজে আমার মেয়ে ও পরিবারের সদস্যরা সহযোগিতা করে থাকেন। যদি কৃষি অফিস থেকে সহায়তা পেতাম তবে আগামীতে আরও বড় পরিসরে মাশরুমের আবাদ করতাম।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপপরিচালক আবু হোসেন বলেন, ‘মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর সুস্বাদু ও ওষধি গুণসম্পন্ন খাবার। ইতোমধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এটি। দিন দিন নওগাঁতেও মাশরুম চাষের আগ্রহ বাড়ছে। মাশরুম চাষ বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মাশরুম চাষি সাগর আলী বর্তমান এটি চাষে সফল হয়েছেন। যদি কৃষি অফিস থেকে কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, তবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অবশ্যই তাকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাশরুম চাষে কোনো আবাদি জমির প্রয়োজন হয় না। চাষের জমি না থাকলেও বসত ঘরের পাশে অব্যবহৃত জায়গা ও ঘরের বারান্দা ব্যবহার করে অধিক পরিমাণ মাশরুম উৎপাদন করা সম্ভব। সহজেই মাশরুমের বীজতলা তৈরি করা যায়।’

আরও পড়ুন:
আশা জাগাচ্ছে কাসাভা
ঠাকুরগাঁওয়ে কমেছে আলুর আবাদ, সংরক্ষণ নিয়েও শঙ্কা
মেহেরপুরে গমের বীজসংকট, দিশেহারা কৃষক
কমলা-মাল্টা চাষে একরামুলের বছরে আয় ৭০ লাখ
শিম চাষে ভাগ্য বদল চাকরি হারানো যুবকের

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Sukhsagar is the hope of farmers in onion seeds

সুখসাগর পেঁয়াজের বীজে চাষিদের আশা

সুখসাগর পেঁয়াজের বীজে চাষিদের আশা মেহেরপুর মুজিবনগর উপজেলার একটি মাঠ থেকে সম্প্রতি সময় সুখসাগর জাতের পেঁয়াজের ফুল। ছবি: নিউজবাংলা
মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শঙ্কর কুমার মজুমদার বলেন, ‘মেহেরপুরের আবহাওয়া পেঁয়াজ চাষের জন‍্য বেশ উপযোগী। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৫ হাজার ৬০০ টন। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি করা হবে এ পেঁয়াজ।’

মেহেরপুরে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে সুখসাগর পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করে সফল হয়ে লাভবান হচ্ছেন জেলার স্থানীয় কৃষকরা।

একটা সময় ছিল পেঁয়াজের বীজ বপণের মৌসুম আসলেই আমদানি করা পেঁয়াজের বীজের জন‍্য অপেক্ষা করা লাগত। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেক সময় অসাধু ব‍্যবসায়ীরা নিম্নমানের বীজ কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়ায় বির্পযয়ের মুখে পড়ে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে কৃষকদের। আবার ভালো বীজের আশায় বীজ সংকটকের সময় অতিরিক্ত দামে কিনতে হয়েছে পেঁয়াজের বীজ।

কৃষকরা বলছেন, নিজেদের উৎপাদিত পেঁয়াজের বীজে ঝুঁকি কম থাকে, ফলনও ভালো হয়। এতে উৎপাদন খরচ কমে গিয়ে অধিক মুনাফা পাওয়া যায়।

কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকরা নিজ উদ্যোগে বীজ উৎপাদন করে সফল হওয়ায় আমদানি নির্ভরতা কমে যাবে। এতে উৎপাদন ব‍্যায়টাও কমে যাবে। নিজেদের বাড়ির বীজ হওয়াই সঠিক সময়ে বীজ বপণও করতে পারবে। তাই বীজ উৎপাদনে চাষিদেরকে প্রণোদনাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তাও করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ২৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৫ হাজার ৬০০ টন। এটি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের রাজধানীসহ বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি করা হবে।

জেলার মুজিব নগর ও সদর উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কৃষি নির্ভর মেহেরপুর জেলার সদর ও মুজিব নগর উপজেলায় বিগত পাঁচ বছর যাবত সুখসাগর পেঁয়াজের চাষ করছেন সেখানকার চাষিরা। অন্যান্য যেকোনো জাতের পেঁয়াজ চাষের তুলনায় কম খরচে অধিক ফলন পাওয়া যায় সুখসাগর জাতের পেঁয়াজে। এই এলাকাগুলোতে আরও বেশ কয়েকটি জাতের পেঁয়াজ চাষ ও বেশ জনপ্রিয় তাদের মধ‍্যে অন‍্যতম তাহেরপুরি, বারি ৪, নাসিকা রেড ও ফিপটি।

তবে আকারে বড় অধিক ফলন ও বীজ উৎপাদনের পাশাপাশি পেঁয়াজ ও পাওয়ায় এক খরচে দুই ফলন। ফলে খরচের তুলনায় বেশি লাভবান হওয়া যায় এ সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ চাষে।

তাই বেশ কয়েক বছর এ জাতটি পেঁয়াজ চাষিদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে বীজটি যখন আমদানি নির্ভর ছিল। তখন ভরা মৌসুমে বীজ পেতে চাষিদের বেশ বেগ পেতে হতো। আবার বীজ সংকটের কারনে দ্বিগুন দাম দিয়ে কিনতে হতো।

শুধু বপনকালীন বীজ সংকট কিংবা বেশি মূল্য দিয়ে বীজ কেনা নয়। কতিপয় অসাধু ব‍্যাবসায়ীরা কৃষকদের চাহিদাকে পুঁজি করে ভেজাল বীজ বিক্রয়ের ফলে ফলন বিপর্যয়ে চাষিদের লোকসান গুণতে হয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে বীজ উৎপাদন হওয়াই চাষিদের আর এই সকল সমস‍্যার সম্মুখীন হতে হবে না বলেও কৃষকরা মনে করেন।

মুজিব নগর গ্রামের কৃষক জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি বীজ বিক্রি হয়ে থাকে ২৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। আবার বীজ সংকট দেখা দিলে এর চেয়ে বেশি দামেও কেনা লাগে। আর জমিতে বীজ ভালো হলে প্রতি বিঘা জমিতে ৮০ থেকে ৯০ কেজি পযর্ন্ত বীজ পাওয়া সম্ভব।

একই এলাকার পেঁয়াজ চাষি রাজিবুল বলেন, ‘সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ আবাদ মানে একসঙ্গে দুই ফসল পাওয়ার মতো। শুধু বীজ নয়, ফুল থেকে বীজ সংগ্রহ করার পর গাছ থেকে পেঁয়াজ পাওয়া যায়। প্রতি বিঘায় ৩৫ থেকে ৪০ মণ পেঁয়াজ পাওয়ার পাশাপাশি ৬০ থেকে ৭০ মণ পযর্ন্ত বীজ পাওয়া সম্ভব।

মেহেরপুর সদর উপজেলার কৃষক আরমান আলী বলেন, ‘আমাদের একটা সময় গেছে পেঁয়াজ চাষের ভরা মৌসুম আসলেই বীজের সংকট দেখা দিত। এতে আমরা অনেক সময়, সঠিক সময়ে বীজ বপণ করতে পারিনি। আবার বাজারে বীজ থাকলেও অধিক দামে কেনা লাগছে। আজ দুই বছর মত হবে নিজেদের বীজ থেকেই পেঁয়াজ চাষ করছি। ঘরের বীজ, তাই বীজ নিয়ে টেনশন করতে হয় না।’

একই এলাকার আরেক চাষি রশিদ বলেন, ‘আমি দুই বছর আগে বাজার থেকে সুখসাগর জাতের পেঁয়াজের বীজ কিনে এনে প্রতারিত হয়েছি। মাঠে বীজ বপণের পরে অর্ধেকের কম হবে, কোনো ফলনি পাইনি।’

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শঙ্কর কুমার মজুমদার বলেন, ‘মেহেরপুরের আবহাওয়া পেঁয়াজ চাষের জন‍্য বেশ উপযোগী। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২৮ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৫ হাজার ৬০০ টন। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি করা হবে এ পেঁয়াজ।’

সাধারণত বছরের নভেম্বর মাসে পেঁয়াজ বীজ বপন করা হয়ে থাকে। জানুয়ারি মাসের দিকে পেঁয়াজ বাজারজাত করা হয়। আর বীজ উৎপাদন হয় মার্চ মাসের শেষের দিকে। সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ চাষ করে কৃষকরা দুই সুবিধা পাচ্ছে। পেঁয়াজের পাশাপাশি বীজ পাওয়া যায়। ফলে প্রতিনিয়তই জেলার কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছে। তাছাড়া পেঁয়াজ উৎপাদন না বাড়ালে আমদানি নির্ভরতা থেকে বের হওয়া আসা সম্ভব হবে না। তাই কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের পরামর্শের পাশাপাশি প্রনোদণাও দেয়া হচ্ছে।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Poison free cucumber village

বিষমুক্ত শসার গ্রাম

বিষমুক্ত শসার গ্রাম কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মুগুজি গ্রামে বিষমুক্ত শসা চাষ হচ্ছে। ছবি: কোলাজ নিউজবাংলা
মুগুজি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এই এলাকার ৩৫ হেক্টর জমিতে শসা উৎপাদন হবে। প্রতি হেক্টরে ৯০০ মণ শসা হবে ৷ অন্তত ৩১ হাজার ৫০০ মণ শসা উৎপাদন হবে। গড়ে প্রতি কেজি ৫০ টাকা বিক্রি হলে ৬ কোটি টাকার বেশি শসা বিক্রি হবে।’

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার মুগুজি গ্রামে ৬ কোটি টাকার বিষমুক্ত শসা বিক্রির আশা করছে কৃষি কর্মকর্তারা। গত বছর এই গ্রামে সাড়ে চার কোটি টাকার শসা বিক্রি হয়। এবার কীটনাশকমুক্ত পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চাষ করায় বেড়েছে শসার চাহিদা। কৃষকদের আশা তারা বেশি দাম পাবেন। আগামী দিন পনেরর মধ্যে এই গ্রামের শসা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে মধ্য প্রাচ্যের দেশ দুবাইতে যাবে জানান কৃষি কর্মকর্তারা।

মুগুজি গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশের ৩৫ হেক্টর জমিতে শসার চাষ হয়েছে। যেদিকে চোখ যায় সেখানে সবুজ আর সবুজ। কোথাও শসার হলুদ ফুল মাথা উঁকি দিয়ে আগমনী বার্তা জানান দিচ্ছে। কোথাও বাতাসে দুলছে কচি শসা। পোকা দমনে ব্যবহার করা হয় পাতা-লতার রস।

মুগুজি গ্রামে বিষমুক্ত শসা ও সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষক সমাবেশ ও মাঠ পরিদর্শন করেন কৃষি কর্মকর্তারা।

স্থানীয় কৃষক আমীর হোসেন বলেন, শসা চাষে ১০ গন্ডায় (২০ শতাংশ) এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে ৩ লাখ টাকা বিক্রি হবে। বিষমুক্ত উপায়ে চাষ করায় ক্রেতাদের চাহিদা বেড়ে গেছে।’

মনির হোসেন, সাহাব উদ্দিন ও সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘৬ গন্ডায় (১২ শতাংশ) খরচ হয়েছে ৭০ হাজার বিক্রি হবে দেড় লাখ টাকা। সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করতে পারলে আমাদের আয়ও বাড়বে। বিষমুক্ত শসার উৎপাদনে কৃষি অফিস উদ্বুদ্ধ করেছে। আশা করছি ভালো ফলন হবে।’

মুগুজি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এই এলাকার ৩৫ হেক্টর জমিতে শসা উৎপাদন হবে। প্রতি হেক্টরে ৯০০ মণ শসা হবে ৷ অন্তত ৩১ হাজার ৫০০ মণ শসা উৎপাদন হবে। গড়ে প্রতি কেজি ৫০ টাকা বিক্রি হলে ৬ কোটি টাকার বেশি শসা বিক্রি হবে।’

কুমিল্লা জেলার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা এইখানে নিরাপদ শসা উৎপাদনে উদ্যোগ নিয়েছি। এখানের শসা স্থানীয় চাহিদা মেটানোর সঙ্গে বিদেশে রপ্তানি করা যাবে।’

কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহিত কুমার দে বলেন, ‘নিরাপদ সবজি চাষ বিষয়টি এখানে কৃষকরা প্রশংসনীয়ভাবে আত্মস্ত করেছেন। আমরা এই অগ্রগতি ধরে রাখবো। এটি আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি।’

পরিচালক (সরেজমিন উইং) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ রকম দেশের ২০টি ইউনিয়নে এই বিষমুক্ত শসা চাষের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তার একটি বরুড়ার খোশবাস দক্ষিণ ইউনিয়ন। কৃষি পণ্য বিদেশে রপ্তানির জন্য তাদের কিছু শর্ত থাকে। আমরা তা পূরণের চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে রপ্তানিকারকরা আসা শুরু করেছেন।’

আরও পড়ুন:
দাম কমেছে তরমুজের, শঙ্কায় চাষিরা
ঝড়ের শঙ্কায় বাজার ভরেছে কাঁচা আমে
শসার কেজি শহরে ৪০ টাকা, গ্রামে ৪
দাকোপে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চাষির মৃত্যু
দাবদাহে ঝরছে আমের গুটি, শঙ্কায় চাষি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The value of gourd eggplant is increasing

কদর বাড়ছে লাউ বেগুনের

কদর বাড়ছে লাউ বেগুনের লাউ বেগুন চাষে আগ্রহ বাড়ছে কুমিল্লার কৃষকদের। ছবি: নিউজবাংলা
চান্দিনা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকতা গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘এই বেগুন প্রথমবার কুমিল্লায় চাষ শুরু হয়েছে। আমার এরিয়াতে কৃষকরা বেশ উদ্বুদ্ধ হয়েছে লাউ বেগুন চাষে। মাঠে এসে কৃষকদের সব সময় পরামর্শ দিচ্ছি কীভাবে পাখি ও কীটপতঙ্গ থেকে বেগুন রক্ষা করা যায়।’

মাঝারি গাছের ডালে দোল খাচ্ছে বড় বড় সবুজ বেগুন। দূর থেকে দেখলে মনে হবে বেগুন গাছে লাউ ঝুলছে। এমন বেগুন চাষে আগ্রহ বাড়ছে কুমিল্লার কৃষকদের।

একটি বেগুনের ওজন ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। আকারে বড়, নরম ও স্বাদে পুষ্টিমানে অনন্য বারি বেগুনের বাজার চাহিদা অনেক।

সরেজমিনে কুমিল্লা্র চান্দিনা উপজেলার বড় গোবিন্দপুর গিয়ে দেখা যায় বিস্তৃত জমিতে কাজ করছেন কৃষকরা। যতদূর চোখ যায় সবুজ আর সবুজ। তার মাঝে লাউ বেগুনের জমিতে চোখ আটকে যায় সবার।

কৃষক আমির হোসেন জানান, কৃষি অফিস থেকে বারি-১২ জাতের বেগুনের বীজ এনেছেন তিনি। ৩০ শতক জমিতে প্রথমবারের মত লাউ বেগুন চাষ করেছেন। ফলন ভালো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রতি কেজি বেগুন ৩৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। বাজারে নিতে হয় না। গ্রাহকরা জমিতে এসেই বেগুন নিয়ে যায়৷’

লাউ বেগুন আকারে বড় এবং অনেক নরম। তাই পাখির প্রিয় খাবার এই লাউ বেগুন। এতে কৃষকরা চিন্তা করেন পাখির ঠোঁট থেকে কীভাবে তাদের লাউ বেগুনকে রক্ষা করবে।

কৃষক শাহজাহান ভূইয়া বলেন, ‘লাউ বেগুন খুব নরম বলে পাখি ও পোকামাকড়ের প্রিয় খাবার। তাই এ বেগুন রক্ষায় জাল দিয়ে পুরো জমি ঢেকে দিয়েছি। না হয় জমিতে বেগুন থাকবে না।’

চান্দিনা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকতা গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘এই বেগুন প্রথমবার কুমিল্লায় চাষ শুরু হয়েছে। আমার এরিয়াতে কৃষকরা বেশ উদ্বুদ্ধ হয়েছে লাউ বেগুন চাষে। মাঠে এসে কৃষকদের সব সময় পরামর্শ দিচ্ছি কীভাবে পাখি ও কীটপতঙ্গ থেকে বেগুন রক্ষা করা যায়।’

কদর বাড়ছে লাউ বেগুনের

চান্দিনা উপজেলা কৃষি কমকর্তা মনিরুল হক রোমেল বলেন, ‘আমরা প্রথমে ২০ গ্রাম বীজ থেকে চারা উৎপাদন করি। পাইলট প্রকল্প হিসেবে কয়েকজন কৃষককে বাছাই করি। কৃষি অফিসার ও কৃষকদের আন্তরিকতায় প্রথম বছরই ভালো ফলন হয়েছে। আমরা আশাকরি আগামী বছর আমরা পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়বে বারি-১২ জাতের এই বেগুন।’

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, এ বছর পুরো জেলায় দেড় হেক্টর জমিতে বারি ১২ জাতের বেগুন চাষ হয়েছে। এই বেগুন আকারে অনেক বড় হয়। প্রতিটা বেগুন ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের হয়। এই বেগুনের টিস্যু অনেক নরম। খেতে সুস্বাদু। আশা করি আগামী বছর কুমিল্লায় সবজির একটা বড় অভাব পূরণ হবে বারি ১২ জাতের বেগুনে।

কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ কাঁচা বাজারের তরকারী ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া বলেন, ‘এত বড় বেগুন আগে দেখি নাই। খুব বড় এবং নরম। এ বেগুনের প্রচুর চাহিদা আছে বাজারে।’

আরও পড়ুন:
বেগুনে ক্ষতিকর ধাতু, মাটিদূষণে অন্য সবজি নিয়েও শঙ্কা
বেগুনের ভালো ফলন, বেড়েছে চাহিদাও

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Mustard in the mango orchard

আমবাগানের ফাঁকে সরিষা

আমবাগানের ফাঁকে সরিষা নওগাঁয় আমবাগানের ফাঁকে সরিষা চাষে বাড়তি আয়ের আশা চাষিদের। ছবি: নিউজবাংলা
পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার বলেন, ‘ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কৃষকদের আম বাগানের ফাঁকে জায়গাগুলোতে সরিষার আবাদ করতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে চাষিদের আমরা পরামর্শ ও সাধ্যমত সহায়তা করে থাকি।’

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁ। জেলার অন্তবর্তী ঠাঁ ঠাঁ বরেন্দ্র অঞ্চল নামে পরিচিত পোরশা উপজেলা। গত কয়েক বছর আগে যেখানে বৃষ্টিনির্ভর আমন ধান ছাড়া আর কিছুই উৎপাদন করা সম্ভব হতো না।

বর্তমানে জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে আমের জন্য বিখ্যাত পোরশা উপজেলা। আমের জন্য বিখ্যাত হলেও উপজেলার বাগানে বাগানে আম গাছের ফাঁকে ফাঁকে শোভা ছড়াচ্ছে হলুদ সরিষার ফুল। একই জমিতে দুই ফসল হওয়ায় বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে কৃষকদের মাঝে। অল্প সময়ে স্বল্প খরচে বাড়তি ফসল করে বাড়তি আয়ের আশা চাষিরা।

স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় সরিষার আবাদ হয়েছে চার হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে। আমের আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আম বাগানে চাষ হয়েছে এক হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে।

জেলার কয়েকজন কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিকল্প চাষ হিসেবে আম বাগানের ভেতর সরিষার চাষের দিকে ঝুঁকছেন তারা।

পোরশা উপজেলার সরাইগাছী গ্রামের চাষি জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বছর ১০ বিঘা জমিতে আমের আবাদ করেছি। এ ছাড়া এ বাগানের অবশিষ্ট ফাঁকা জায়গায় সরিষার আবাদ করেছি। এর আগে কখনো এমনভাবে আবাদ করিনি। এই প্রথম আম বাগানে সরিষার আবাদ করলাম। কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি।’

একই এলাকার মেজবাউল হক নামের আরেক চাষি বলেন, ‘আমবাগানে সরিষার আবাদ এই প্রথম করলাম। সরিষার ফলনও ভালো হয়েছে। তেমন কোনো রোগবালাই নাই। আমি ১৫বিঘা জমিতে আম ও সরিষার আবাদ করেছি। পরীক্ষামূলকভাবেই এবার আম বাগানে সরিষার আবাদ করেছি। এর আগে এমন উদ্যোগ কেউ নেয়নি। এবার সঙ্গে দুই ফসল পাচ্ছি। এতে আমরা বাড়তি আয় করতে পারব।’

উপজেলার নিতপুর গ্রামের মোবারক হোসেন বলেন, ‘ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার কৃষি অফিসের পরামর্শে আমার পাঁচ বিঘা আমার বাগানের ফাঁকে সরিষার আবাদ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। আমাদের এখানে বৃষ্টিনির্ভর আমান আবাদ ছাড়া তেমন কোনো ফসল হতো না। গত কয়েক বছর আমার আবাদ হচ্ছে। আর এইবার আমরা আমের পাশাপাশি বাগানে সরিষারও আবাদ করেছি। ফুল ধরেছে। রোগবালাই হয়নি। আম গাছেরও কোনো ক্ষতি হয়নি। আশা করছি আম ও সরিষার দুই আবাদই ভালো হবে।’

পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার বলেন, ‘এই প্রথম জেলার পোরশায় এবার সরিষার আবাদ হয়েছে চার হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আম বাগানে চাষ হয়েছে ১৭৭৫ হেক্টর জমিতে। ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে কৃষকদের আম বাগানের ফাঁকে জায়গাগুলোতে সরিষার আবাদ করতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে চাষিদের আমরা পরামর্শ ও সাধ্যমত সহায়তা করে থাকি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগামীতে আম বাগনে যেন সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পায় সেজন্য চাষিদের নিয়ে মাঠদিবস, উঠান বৈঠকসহ নানার ধরনের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
‘কৃষি বাণিজ্য মেলা’ করবে ডিএনসিসি
সরিষা ফুলে ভরে গেছে ঝিনাইদহের মাঠ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দিচ্ছে প্রথম শ্রেণির চাকরি
কৃষিঋণে ব্যর্থ ব্যাংকগুলোর অর্থ জমা রাখতে তহবিল
৬০ বছর হলে পেনশন চান ক্ষেতমজুররা

মন্তব্য

p
উপরে