× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

অর্থ-বাণিজ্য
Control room to report preparations for the expedition to the rice market
hear-news
player
print-icon

চালের বাজারে অভিযানের প্রস্তুতি, অভিযোগ জানাতে কন্ট্রোল রুম

চালের-বাজারে-অভিযানের-প্রস্তুতি-অভিযোগ-জানাতে-কন্ট্রোল-রুম
ধান-চালের অবৈধ মজুতের খোঁজে মাঠে নামছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। সংগৃহীত ছবি
খাদ্য মন্ত্রণালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমে অবৈধ মজুদের তথ্য জানাতে +৮৮০২২২৩৩৮০২১১৩, ০১৭৯০৪৯৯৯৪২ এবং ০১৭১৩০০৩৫০৬ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

ধান-চালের অবৈধ মজুতের খোঁজে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই মাঠে নামছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আটটি টিম।

ধান-চাল কেউ অবৈধভাবে মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কিনা তা খতিয়ে দেখবেন টিমের সদস্যরা। অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কাজ করবেন তারা।

মঙ্গলবার খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে তার অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অবৈধ মজুত বিরোধী অভিযানের একটি টিম মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকাতে অভিযান পরিচালনা করবে বলে জানা গেছে।

এদিকে অবৈধ মজুত প্রতিরোধে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের আধা সরকারি চিঠি পাঠানোে এবং এনএসআই, র‌্যাব ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকেও এ বিষয়ে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া শিগগির কৃষি, খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিত সভা আয়োজন করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী।

অভিযোগ জানাতে কন্ট্রোল রুম

খাদ্য মন্ত্রণালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমে অবৈধ মজুতের তথ্য জানাতে +৮৮০২২২৩৩৮০২১১৩, ০১৭৯০৪৯৯৯৪২ এবং ০১৭১৩০০৩৫০৬ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

সভায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব, অতিরিক্ত সচিববৃন্দ, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ভারত থেকে গম আনায় সমস্যা হবে না: খাদ্যমন্ত্রী
চালে গড়মিল, ইউনিয়ন পরিষদের ২ গুদাম সিলগালা
জেলেদের জন্য সাড়ে ১৬ হাজার টন চাল বরাদ্দ
লাইসেন্সের দাবিতে ইজিবাইক চালক‌দের বি‌ক্ষোভ
‘চাল আমদানি না হলে কৃষক ধানের ন্যায্য দাম পাবেন’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The highest dollar sales in history from reserves

রিজার্ভ থেকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ডলার বিক্রি

রিজার্ভ থেকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ডলার বিক্রি
আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় দেশে আমেরিকান ডলারের তীব্র সংকট দেখা দেয়। রপ্তানি আয় বাড়লেও ডলারের সংকট মেটাতে পারছে না। ফলে প্রতিনিয়ত বেড়েছে ডলারের দাম। এ জন্য রিজার্ভ থেকে ডলার ছেড়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিনিয়ত দামও বাড়াচ্ছে। এরপরও কিছুতেই বাগে আসছে না ডলারের তেজী ভাব।

মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে সদ্য সমাপ্ত ২০২১-২২ অর্থবছরে রিজার্ভ থেকে ৭৬২ কোটি ১০ লাখ (৭.৬২ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বিপরীতে বাজার থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকার মতো তুলে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এত ডলার বাজারে ছাড়া হয়নি। এরপরও বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। বেড়েই চলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাটির দর। দুর্বল হচ্ছে টাকা।

এদিকে রিজার্ভ থেকে অব্যাহতভাবে ডলার বিক্রি করায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও বেশ কমে এসেছে। বৃহস্পতিবার এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের সামান্য ওপরে অবস্থান করছে।

ঈদকে সামনে রেখে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের জোয়ারের কারণে রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে আছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, নতুন অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম ছয় দিনে (১ থেকে ৬ জুলাই) ৭৪ কোটি ১০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গড়ে প্রতিদিন এসেছে ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

রেমিট্যান্সে এই উল্লম্ফন না হলে আকুর দেনা শোধের পর রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসত বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

গত এক সপ্তাহ ধরে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সায় বিক্রি হলেও ব্যাংকগুলো এর চেয়ে ৩/৪ টাকা বেশি দরে নগদ ডলার বিক্রি করছে।

আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় দেশে আমেরিকান ডলারের তীব্র সংকট দেখা দেয়। রপ্তানি আয় বাড়লেও ডলারের সংকট মেটাতে পারছে না। ফলে প্রতিনিয়ত বেড়েছে ডলারের দাম। এ জন্য রিজার্ভ থেকে ডলার ছেড়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিনিয়ত দামও বাড়াচ্ছে। এরপরও কিছুতেই বাগে আসছে না ডলারের তেজী ভাব।

বাংলাদেশ ব্যাংক যে দামে ডলার বিক্রি করছে, বাজারে তার চেয়ে ৩-‍৪ টাকা বেশি দরে কেনাবেচা হচ্ছে। ফলে আমদানিকারকদের বেশি দামে ডলার কিনতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করলেও ব্যাংকগুলো প্রবাসী আয় এনেছে ৯৬ থেকে ৯৭ টাকায়, আর আমদানিকারকদের কাছে বিক্রি করেছে ৯৬ থেকে ৯৭ টাকা দামে। খোলা বাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলার বিক্রি হচ্ছে ৯৭ থেতকে ৯৮ টাকার মধ্যে। মে মাসে খোলাবাজারে ডলারের দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক বৃহস্পতিবার ৯৬ টাকা ৫০ পয়সা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯৭ টাকায়।

গত বছরের আগস্ট থেকে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করে; দুর্বল হতে শুরু করে টাকা। তার আগে এক বছরেরও বেশি সময় ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় ‘স্থির’ছিল ডলারের দর।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরজুড়ে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন দেখা যায়। সে কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যায়। সে পরিস্থিতিতে ডলারের দর ধরে রাখতে ওই অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তারই ধারাবাহিকতায় বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

আগস্ট মাস থেকে দেখা যায় উল্টো চিত্র। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে আমদানি। রপ্তানি বাড়লেও কমতে থাকে রেমিট্যান্স। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও কমতে থাকে। বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়; বাড়তে থাকে দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, চলে পুরো অর্থবছর।

চাহিদা মেটাতে নতুন অর্থবছরেও (২০২২-২৩) ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই একই জায়গায় ‘স্থির’ ছিল ডলারের দর। এরপর থেকেই বাড়তে থাকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রার দর।

হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, এই ১১ মাসে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে ডলারের দর বেড়েছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
টাকার মান কমল আরও ৫০ পয়সা
হঠাৎ কিছুটা শক্তি ফিরে পেল টাকা
আবার মান হারাল টাকা, চার দিনে চারবার
এক দিনে টাকার মান কমল দুইবার
টাকার মানের রেকর্ড পতন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Instructions to keep the ATM booth active at all times

এটিএম বুথ সার্বক্ষণিক সচল রাখার নির্দেশ

এটিএম বুথ সার্বক্ষণিক সচল রাখার নির্দেশ
নির্দেশনায় বলা হয়, অটোমেটেড টেলার মেশিনে (এটিএম) সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিতসহ কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা রাখা এবং এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

ঈদের ছুটিতে গ্রাহকের নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিতে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), অনলাইন, ই-পেমেন্ট গেটওয়ে ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে লেনদেনের বিষয়েও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ থেকে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়।

দেশের সব ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার বা পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, অটোমেটেড টেলার মেশিনে (এটিএম) সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিতসহ কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা রাখা এবং এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

পয়েন্ট অব সেলের (পিওএস) ক্ষেত্রে বলা হয়, সার্বক্ষণিক পিওএস সেবা নিশ্চিত করতে হবে, জাল জালিয়াতি রোধে মার্চেন্ট এবং গ্রাহককে সচেতন করতে হবে।

ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও অনলাইন ই-পেমেন্ট গেটওয়ের ক্ষেত্রে বলা হয়, অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে করা লেনদেন ও অনলাইন ই-পেমেন্ট গেটওয়েতে কার্ডভিত্তিক ‘কার্ড নট প্রেজেন্ট’ লেনদেনের ক্ষেত্রে দুই ধরনের যাচাই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী সব ব্যাংক বা তাদের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন এবং এজেন্ট পয়েন্টে পর্যাপ্ত পরিমাণ নগদ অর্থের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

ঈদের ছুটিকালীন সিস্টেমগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ, লেনদেনের তথ্য এসএমএস অ্যালার্ট সার্ভিসের মাধ্যমে গ্রাহককে অবহিত করতে হবে।

এ ছাড়া ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সব ধরনের পরিশোধ সেবার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সতর্কতা অবলম্বনের জন্য গণমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

লেনদেনে গ্রাহক যেন কোনো রকম হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়াসহ সব সময় হেল্প লাইন চালু রাখতে হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
এটিএম বুথে টাকার টান, ভোগান্তি চরমে
এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Banks open on Fridays and Saturdays

শুক্র ও শনিবার যেসব এলাকায় ব্যাংক খোলা

শুক্র ও শনিবার যেসব এলাকায় ব্যাংক খোলা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কোরবানির পশুর হাটের নিকটবর্তী ব্যাংকের শাখা শুক্র ও শনিবার চালু থাকবে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পশুর হা‌টসংলগ্ন ব্যাংকের শাখাগুলোতে বৃহস্পতিবার সান্ধ্যকা‌লীন ব্যাংকিং লেনদেন চলবে। ফলে রাত ৮টা পর্যন্ত সেবা চালু থাকবে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কোরবানির পশুর হাটের নিকটবর্তী ব্যাংকের শাখা বিশেষ ব্যবস্থায় শুক্র ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু রাখা যাবে।

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে পশুর হা‌টসংলগ্ন ব্যাংকের শাখাসহ তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার জন্য শিল্পসংশ্লিষ্ট এলাকায় শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রতি পৃথক পৃথক সার্কুলারে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পশুর হা‌টসংলগ্ন ব্যাংকের শাখাগুলোতে বৃহস্পতিবার সান্ধ্যকা‌লীন ব্যাংকিং লেনদেন চলবে। ফলে রাত ৮টা পর্যন্ত সেবা চালু থাকবে।

পাশাপাশি এসব এলাকায় শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে বিশেষ ব্যবস্থায় খোলা থাকবে ব্যাংক। এ দুদিনও এসব এলাকায় ব্যাংক চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য এক নির্দেশনায় বলা হয়, ঈদুল আজহার আগে তৈরি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক রপ্তানি বিল পরিশোধ ও ওই শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তাদের বেতন-বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার জন্য ঢাকা, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত তফসিলি ব্যাংকের তৈরি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পূর্ণ দিবস খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হলো।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ওই দুই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা চালু থাকবে। তবে ক্লিয়ারিং ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে উল্লিখিত এলাকার বাইরে অবস্থিত কোনো ব্যাংক শাখার ওপর চেক দেয়া যাবে না।

আরও পড়ুন:
এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ
মোবাইল থেকে ব্যাংকে পাঠানো যাবে ৫০ হাজার টাকা
ঢাকার পশুর হাটসংলগ্ন ব্যাংক রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা
টেনশনমুক্ত বিশ্রাম নেব: গভর্নর
কমলাপুর রেলস্টেশনে ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Two thousand crore remittance in one day

এক দিনেই দুই হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স

এক দিনেই দুই হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স
প্রবাসী আয়ের এই জোয়ারের কারণে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামার যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা আর নামবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহে ঢল নেমেছে। ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ততই বাড়ছে। বুধবার এক দিনেই ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারের বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৯৩ টাকা ৪৫ পয়সা) টাকার অঙ্কে এক দিনের এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক দিনে এত রেমিট্যান্স দেশে আসেনি।

আর প্রবাসী আয়ের এই জোয়ারের কারণে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামার যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা আর নামবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

বাজারে ডলারের ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যাংকগুলো আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারের দরের চেয়েও বেশি দামে রেমিট্যান্স দেশে আনছে। কোনো কোনো ব্যাংক ৯৫/৯৬ টাকায় প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স দেশে আনছে।

এ হিসাবে টাকার অঙ্কে এই এক দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও বেশি বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

রেমিট্যান্সপ্রবাহে নিম্নমুখী ধারায় শেষ হয়েছে ২০২১-২২ অর্থবছর। ৩০ জুন শেষ হওয়া এই অর্থবছরে ২১ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা আগের বছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ কম।

২০২০-২১ অর্থবছরে ২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

১০ জুলাই দেশে কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। সেই উৎসবকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুসহ প্রয়োজনীয় অন্য কেনাকাটা করতে অন্যান্যবারের মতো এবারও পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি টাকা পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। সে কারণেই রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এই সময়ে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির খুবই দরকার ছিল। নানা পদক্ষেপের কারণে আমদানি ব্যয় কমতে শুরু করেছে। রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে আশা করছি ঈদের পর মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, নতুন অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম মাস জুলাইয়ের প্রথম ছয় দিনে (১ থেকে ৬ জুলাই) ৭৪ কোটি ১০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গড়ে প্রতিদিন এসেছে ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

এর মধ্যে প্রথম পাঁচ দিনে (১ থেকে ৫ জুলাই) এসেছিল ৫৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ৬ জুলাই বুধবার এসেছে ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

এর আগে কোনো ঈদের আগে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে এমন উল্লম্ফন দেখা যায়নি। ঈদের ছুটির আগে আরও এক দিন (বৃহস্পতিবার) ব্যাংক খোলা। এ দিনেও একই হারে রেমিট্যান্স আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন সিরাজুল ইসলাম।

আর রেমিট্যান্সের এই উল্লম্ফনের কারণে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মে-জুন মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসার যে আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা আর নামবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবার আকুর আমদানি বিল একটু কম এসেছে, ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। বৃহস্পতিবার এই বিল পরিশোধ করা হবে। তখন রিজার্ভ বেশ খানিকটা কমে আসবে। তবে ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামবে না।’

‘বুধবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪২ বিলিয়ন ডলার। ঈদের আগের এক দিনের রেমিট্যান্স যোগ হলে তা আরও বাড়বে। তখন সেখান থেকে ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার চলে গেলে রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের ওপরেই অবস্থান করবে।’

আমদানি ব্যয় বাড়ায় গত ৯ মে আকুর রেকর্ড ২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এরপর সপ্তাহ খানেক রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলারের নিচে অবস্থান করে।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ায় কয়েক দিন পর অবশ্য তা ৪২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। বাজারে ডলারের সংকট দেখা দেয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে প্রচুর ডলার বিক্রি করায় সেই রিজার্ভ ফের ৪২ ডলারের নিচে নেমে আসে; একপর্যায়ে তা ৪১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে গিয়েছিল।

এর আগের মেয়াদে অর্থাৎ মার্চ-এপ্রিল মেয়াদে আকুর ২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল শোধ করা হয়েছিল।

ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল- প্রতি মাসে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে দেশে। এ হিসাবে বর্তমানের রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের কিছু বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

গত বছরের ২৪ আগস্ট এই রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। তখন ওই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ১০ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যেত। তখন অবশ্য প্রতি মাসে ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হতো।

বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পরপর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুত থাকতে হয়।

আরও পড়ুন:
বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে সৌদি প্রবাসীদের রাষ্ট্রদূতের খোলা চিঠি
প্রতিদিন ৬০০ কোটি টাকার বেশি পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা
রেমিট্যান্সে প্রণোদনা আগের মতোই
রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ৮১ মিশনে চিঠি
মে মাসে ১৬৭৮০ কোটি টাকা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The capital market on Eid holidays with a sullen face

গোমড়া মুখে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার

গোমড়া মুখে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার
‘ঈদের আগে বাজার নেতিবাচক হওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। বাজার কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে এখন কিছুই বলা যাচ্ছে না। জুলাইয়ে কিছু ফান্ড ইনজেক্ট হয়, ঈদের পর হয়তো সেটা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু যারা বিনিয়োগ করবেন, তাদের তো ফান্ড কালেক্ট করতে হবে। এখন তারা কতটুকু সমর্থ হবেন, সেটাই দেখার বিষয়। এই মুহূর্তে পুঁজিবাজার নিয়ে মন্তব্য করার মতো কিছু নেই।’

ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে বিনিয়োগকারীদের হাসিটা স্ফীত হতে পারত, এমনকি লেনদেন ঘণ্টা দুয়েক অতিবাহিত হওয়ার পরও এমনটা ভাবা হচ্ছিল, তবে শেষ মুহূর্তের দরপতনে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পুঁজিবাজার।

ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার বিপুলসংখ্যক শেয়ারের দরপতনে সূচকের মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সামান্য ইতিবাচক ছিল, কিন্তু সূচকে যোগ হয়েছে এক পয়েন্টেরও কম। শূন্য দশমিক ৯০ পয়েন্ট বেড়ে সূচক অবস্থান করছে ৬ হাজার ৩৬৬ পয়েন্টে।

অন্যদিকে পতন হয়েছে শরিয়াহ্ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত সূচক ডিএসইএস, কমেছে ১ পয়েন্ট। বড় মূলধনি কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ব্লু-চিপ বা ডিএস৩০ সূচক থেকে হারিয়ে গেছে ৬ পয়েন্ট।

দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটির পাশাপাশি ঈদের ‍দুই দিনের ছুটি শেষে পুঁজিবাজারে আবার লেনদেন চলবে মঙ্গলবার।

লেনদেনের ২৪ মিনিটেই সূচক আগের দিনের ১৯ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর দরপতনে কিছুটা কমে গেলেও বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে আবারও ২০ পয়েন্ট যোগ হয়ে লেনদেন হয়। এরপর দরপতন সূচক টেনে নিয়ে যায় ৬ হাজার ৩৬০ পয়েন্টে, যা আগের দিনের চেয়ে ৬ পয়েন্ট কম। শেষ মুহূর্তের সমন্বয়ে সামান্য সবুজ থেকে লেনদেন শেষ হয়।

প্রায় সমানসংখ্যক শেয়ার দর বৃদ্ধি ও পতন হয়েছে। ১৬৬টি শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ১৪৯টির। অপরিবর্তিত দামে লেনদেন হয়েছে ৬৩টি কোম্পানির শেয়ার।

লেনদেন আগের দিনের চেয়ে একটু বেশি হয়েছে। দিনভর হাতবদল হয়েছে ৭৮৮ কোটি ৬৬ লাখ ১২ হাজার টাকার শেয়ার, যা গতকালের চেয়ে ৪১ কোটি ৭০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা বেশি।

এ নিয়ে সপ্তাহের তিন দিনে সূচক পড়েছে ৩৫ পয়েন্ট, বিপরীতে দুই দিনে যোগ হয়েছে ২৬ পয়েন্টের কাছাকাছি।

গোমড়া মুখে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার
ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসের লেনদেন বিনিয়োগকারীদেরকে খুব একটা খুশি করেনি

তবে ঈদের আগে পুঁজিবাজারের মন্দা পরিস্থিতি এবারই প্রথম নয়। গত ৩ মে ঈদ উল আজহার আগের শেষ কর্মদিবস ছিল ২৮ এপ্রিল। সেদিন ২১ পয়েন্ট সূচকের সঙ্গে লেনদেন আগের দিনের চেয়ে ৬২ কোটি কমতে দেখা যায়। এ ছাড়া ঈদের পরেও বেশ কিছু দিন মন্দার মধ্যেই ছিল পুঁজিবাজার।

চলতি বছরের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক নানা ঘটনাপ্রবাহ, ইউক্রেন যুদ্ধ, শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়, ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন- ইত্যাদি কারণে মন্দা যেন কাটছিল না। এমতাবস্থায় নতুন অর্থবছরে নতুন বিনিয়োগে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে এমন আশার বাণী শোনান পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা।

তবে অর্থবছরের শুরুতেই ঈদের কারণে আবারও কিছু ঝিমিয়ে পড়েছে পুঁজিবাজার। ঈদের আগে বাজারকে কোনোভাবে মূল্যায়ন করতে চান না সংশ্লিষ্টরা।

মিয়া আব্দুর রশিদ সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা শেখ ওহিদুজ্জামান স্বাধীন বলেন, ‘ঈদের আগে বাজার নেতিবাচক হওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। বাজার কোন দিকে যাবে তা নিয়ে এখন কিছুই বলা যাচ্ছে না। জুলাইয়ে কিছু ফান্ড ইনজেক্ট হয়, ঈদের পরে হয়তো সেটা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু যারা বিনিয়োগ করবেন, তাদেরকে তো ফান্ড কালেক্ট করতে হবে। এখন তারা কতটুকু সমর্থ হবেন, সেটাই দেখার বিষয়। এই মুহূর্তে পুঁজিবাজার নিয়ে মন্তব্য করার মতো কিছু নেই।’

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

দর বৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে লোকসানি কোম্পানি জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ। ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে সর্বশেষ দাম ৯ টাকা ১০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

সর্বশেষ ২০১৮ সালে শেয়ারপ্রতি ৬০ পয়সায় আয় হয়েছিল কোম্পানির। এরপর টানা তিন বছর লোকসান গুনছে। ফলে এই তিন বছর কোনো লভ্যাংশ পাননি বিনিয়োগকারীরা। তবে তার আগে ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছরই লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানি।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ দর বেড়েছে সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের। ২০১৭ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৫ বছর সময়ে এক বছর ছাড়া প্রতিবারই লোকসান দিয়েছে কোম্পানি। ২০১৯ সালে মাত্র ৯৩ পয়সা আয় দেখিয়েছিল সোনারগাঁও। গত অর্থবছরের শেয়ারপ্রতি ১৩ টাকা ৩৫ পয়সা লোকসান হয়েছে কোম্পানি।

তবে অজানা কারণে ২৩ নভেম্বর থেকে ধারাবাহিক দর বৃদ্ধি পাচ্ছে কোম্পানিটির শেয়ারের। ওই দিন শেয়ার দর ১৬ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হওয়া শেয়ারটি দর বেড়ে আজ সর্বশেষ ৫১ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।

দর বৃদ্ধির তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইনডেক্স অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের। ধারাবাহিক তিন কর্মদিবস দর বাড়ল কোম্পানিটি। ২০২১ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি প্রথম বছরেই ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের।

তালিকার দশে স্থান পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে এর পরের স্থানে রয়েছে যথাক্রমে নূরানী ডায়িং, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক, প্রাইম টেক্সটাইল, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সাফকো স্পিনিংস মিলস, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ ও লোকসানি কোম্পানি তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িং লিমিটেড।

দর পতনের শীর্ষ ১০

দরপতনের শীর্ষে রয়েছে পুঁজিবাজারে নতুন তালিকাভুক্ত মেঘনা ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির দর দিনের সর্বোচ্চ অর্থাৎ ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমে হাতবদল হয়েছে ৫৪ টাকায়। এ নিয়ে তিন কর্মদিবস কোম্পানিটির দর কমল। এর আগে ৮ জুন লেনদেন শুরুর পর ঘোড়ার বেগে দর বেড়েছে শেয়ারটির।

একই সমান দর কমেছে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্সের। ৮০ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭৮ টাকা ৮০ পয়সায়।

২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটি ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিয়েছে। ২০১৫ সালে ৫ শতাংশ নগদ ছাড়া সবই বোনাস।

পতনের তালিকায় এর পরেই রয়েছে লোকসানি জিলবাংলা সুগার মিলস লিমিটেডের। সর্বোচ্চ সীমা অর্থাৎ ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ দর পতনের মাধ্যমে শেয়ারটির ক্লোজিং প্রাইস দাঁড়িয়েছে ১৭৭ টাকা ৯০ পয়সা।

১৯৮৮ সালে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কোম্পানিটি কোনো দিন লাভের মুখ দেখেনি। লভ্যাংশ জোটেনি বিনিয়োগকারীদেরও। তবে কোম্পানির শেয়ারের দাম ব্যাপক ওঠানামা করে। ২৬ জুন ১৬৫ টাকা ১০ পয়সায় লেনদেনের পরে কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৪ জুন পর্যন্ত। এরপর তিন কর্মদিবস কমল।

দর দর পতনের শীর্ষ দশে রয়েছে যথাক্রমে নর্দার্ন ইসলামি ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ক্যাবলস, জুট স্পিনার্স লিমিটেড, রেনউইক যজ্ঞেশর, রবি, শ্যামপুর সুগার মিলস এবং সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স।

সূচক বাড়াল যারা

সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৩২ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স। এদিন কোম্পানিটির দর ৬ দশমিক শূন্য ৩৩ শতাংশ বেড়েছে।

সূচকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট যোগ করেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। দর শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৮ পয়েন্ট।

তিতাস গ্যাস সূচকে যোগ করেছে শূন্য দশমিক ১৬ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ১ দশমিক ৬২ শতাংশ।

এ ছাড়া ইউনাইটেড পাওয়ার, ওয়ালটন হাইটেক, বেক্সিমকো সুকুক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ইনডেক্স অ্যাগ্রো, খুলনা পাওয়ার ও বিকন ফার্মা সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ১ দশমিক ৪১ পয়েন্ট।

সূচক কমাল যারা

সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৬১ পয়েন্ট সূচক কমেছে গ্রামীণফোনের কারণে। কোম্পানিটির দর কমেছে ১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৮৭ পয়েন্ট কমিয়েছে রবি। কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে ১ দশমিক ৯২ শতাংশ।

এর পরই বেক্সিমকো লিমিটেডের দর শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ কমার কারণে সূচক কমেছে শূন্য দশমিক ২৩ পয়েন্ট।

এ ছাড়া আইসিবি, বেক্সিমকো ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ, আল আরাফাহ ব্যাংক ও ফরচুন সুজের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০ কোম্পানি কমিয়েছে ৩ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট।

আরও পড়ুন:
ব্যান্ডউইথড ক্যাপাসিটি বাড়াবে বিএসসিসিএল
অর্থবছরের প্রথম দিন স্বস্তি দিল না পুঁজিবাজারে
পুঁজিবাজারের উন্নয়নে পাশে থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক: গভর্নর
পুঁজিবাজারে হতাশার বছরে শেষ মুহূর্তের চমক
বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বস্ত্রে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The state minister has indicated an increase in fuel oil prices

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ইঙ্গিত প্রতিমন্ত্রীর

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ইঙ্গিত প্রতিমন্ত্রীর ছবি: সংগৃহীত
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েক দিন ধরেই লক্ষ করছি, ৬-৭ মাস ধরে জ্বালানি তেলের মূল্য ঊর্ধ্বগতি। যে তেল আমরা ৭০ থেকে ৭১ ডলারে কিনতাম, সেটা এখন ১৭১ ডলার হয়ে গেছে। সেটা সব সময় বাড়তির দিকেই যাচ্ছে। আমরা বলে আসছি প্রথম থেকেই যে আমরা জ্বালানি তেলের দামে এডজাস্টমেন্টে যাব। আমরা নিজেদের অর্থে দিয়ে যাচ্ছি ভর্তুকিটা। তার পরও আমার মনে হয় আমাদের একটা সময় এডজাস্টমেন্টে যেতে হবে প্রাইসে।’

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অত্যধিক বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশেও বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছেন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। একই সঙ্গে তেল-গ্যাস ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক অডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

এতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েক দিন ধরেই লক্ষ করছি, ৬-৭ মাস ধরে জ্বালানি তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি। যে তেল আমরা ৭০ থেকে ৭১ ডলারে কিনতাম সেটা এখন ১৭১ ডলার হয়ে গেছে। সেটা সব সময় বাড়তির দিকেই যাচ্ছে। আমরা বলে আসছি প্রথম থেকেই যে আমরা জ্বালানি তেলের দামে এডজাস্টমেন্টে যাব। আমরা নিজেদের অর্থে দিয়ে যাচ্ছি ভর্তুকিটা। তার পরও আমার মনে হয় আমাদের একটা সময় এডজাস্টমেন্টে যেতে হবে প্রাইসে।

‘সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। তেলের দাম তারা সমন্বয় করেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কথাই বলি, সেখানে প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ টাকা ডিফারেন্স লিটারপ্রতি বিভিন্ন তেলের ক্ষেত্রে।’

তিনি বলেন, ‘গ্যাস দিয়ে আমাদের ৬৪ শতাংশ বিদ্যুৎ চলে। আমাদের যে নিজস্ব গ্যাস, আমরা দিন দিন বাড়াচ্ছি আবার দিন দিন কমছেও। দুটো দিকই আছে। যেটা আমরা বাড়াচ্ছি, যে খনিগুলো থেকে আমরা পাচ্ছি, সেটা স্বল্প পরিমাণে পাচ্ছি। আর যেটা কমছে সেটা কমছে দ্রুতগতিতে। সেটাও আমরা প্রায় ১০ বছর থেকে বলে আসছি, আস্তে আস্তে গ্যাস কিন্তু ডিকলাইনের দিকে যাবে।

‘সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো আমরা যে এডজাস্টমেন্টটা করতাম, যে ঘাটতিটা ছিল গ্যাসে, সেটা আমরা ইমপোর্ট গ্যাস দিয়ে পূরণ করতাম। এর মধ্যে আমার দুটি ধারা, একটি হলো লং টার্ম কনটাক্ট সে প্রাইসটা ফিক্স করা। তুলনামূলক এই দামটা তেলের সঙ্গে ওঠানামা করে। আরেকটা হলো স্পট মার্কেট। এই মার্কেটের ডিমান্ড বেড়ে গেছে প্রচন্ডভাবে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তেল এবং গ্যাসের দাম প্রচন্ডভাবে এফেক্ট করেছে। ইউরোপের অধিকাংশ গ্যাস নেয় রাশিয়া থেকে। সেটা তারা এখন বন্ধ করে দিচ্ছে বলেই সব দেশ এই গ্যাসের ওপর (স্পট মার্কেট) প্রচন্ডভাবে নির্ভরশীল হয়ে গেছে।’

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘এ কারণে যেটা ৪ ডলারের গ্যাস, সেটা ৩০ ডলার হয়ে গেছে স্পট মার্কেটে। সেটা কিনতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অর্থের জোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকারি ভর্তুকি দিয়েও এটা সম্ভব হবে না, এই পরিমাণ অর্থ জোগান দেয়া। আমরা যদি শুধু দাম বাড়াতেই থাকি, তাহলে সাধারণ মানুষের ওপর প্রচন্ডভাবে চাপ তৈরি হবে। আমি আগে থেকেই বলে আসছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন কিছু করবেন না যাতে সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা হয়ে থাকে। এর কারণে আমরা গ্যাসে সামান্য পরিমাণ মূল্য সংযোজন করেছি।

‘এখনও আমরা তেলে করিনি। আমি আশা করব, সবাই বিষয়টি বুঝতে পারবেন আর ধৈর্য ধরবেন। এটি খুব সাময়িক। আমাদের প্রচুর পাওয়ার প্ল্যান্ট আছে। কিন্তু গ্যাসের কারণে সেগুলোতে আমরা পাওয়ার জেনারেশন কমিয়ে দিয়েছি। আমরা প্রায়োরিটি দিয়েছি গ্যাসটাকে যে সার উৎপাদনে বেশি খেয়াল রাখব আর ইন্ডাস্ট্রিতে গ্যাসটা বেশি দেব। আপনাদের সবাই যদি গ্যাস ব্যবহারে মিতব্যয়ী হন তাহলে এটা আমরা নিশ্চয়ই মোকাবিলা করতে পারব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আপনারা ভরসা রাখেন, নিশ্চয়ই অল্প সময়ের মধ্যে আমরা বিপদমুক্ত হব।’

আরও পড়ুন:
বিশ্ববাজারে কমছে জ্বালানি তেলের দাম
জ্বালানি তেলের দাম আবার বাড়ানোর চিন্তা
সহনীয় রেখেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে: প্রতিমন্ত্রী
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ফের বাড়ছে
বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে চাই সমন্বিত মহাপরিকল্পনা: প্রতিমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Business leaders want uninterrupted electricity even at higher prices

বাড়তি দামে হলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চান ব্যবসায়ীরা

বাড়তি দামে হলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চান ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের যে চাহিদা তা পূরণ করার সক্ষমতা নেই দেশীয় উৎপাদনে। ফাইল ছবি
আমরা মনে করি লোডশেডিং তো বিদ্যুৎ, জ্বালানির দাম বাড়ানোর চাইতেও আরও বেশি ক্ষতি করছে। সরকার যদি মনে করে যে ভর্তুকি দেয়া সম্ভব না, তাহলে দেবে না। প্রয়োজনে সরকার গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিক। কারণ করার তো কিছু নেই: এফবিসিসিআই সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন কমাতে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি শিল্প খাতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। একজন ব্যবসায়ী নেতা প্রয়োজনে বাড়তি দাম দিয়ে হলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার দাবি করেছেন।

দেশে বিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা এই মুহূর্তে চাহিদা পূরণের জন্য কেবল যথেষ্ট নয়, উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনেরও ক্ষমতা রাখে, তবে ইউক্রেনে রুশ হামলার পর পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে এই উৎপাদন ক্ষমতার অনেকটাই বসিয়ে রাখতে চাইছে সরকার।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের যে চাহিদা, তা পূরণ করার সক্ষমতা নেই দেশীয় উৎপাদনে। আমদানি করা গ্যাস দিয়ে যে চাহিদা মেটানো হতো, সেটিও আপাতত কঠিন। কারণ গত এক বছরে তরল গ্যাস ও এলএনজির দাম ১০ গুণ হয়ে যাওয়ায় সরকার আপাতত আমদানি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জ্বালানি তেলের দামও এখন বেশি। আর আরেক কাঁচামাল কয়লাও সহজলভ্য নয়; যুদ্ধের কারণে পরিবহনও ঝুঁকিতে। আর বৈদেশিক লেনদেনে রেকর্ড ঘাটতির কারণে বাড়তি দাম দিয়ে আমদানি সীমিত করে দেশে লোডশেডিং করার নীতি নিয়েছে সরকার। এতে শিল্পের উদ্যোক্তারা পড়েছেন বিপাকে।

গত এক যুগে বিদ্যুৎ সরবরাহে সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে অনেক শিল্পে নিজস্ব যে ব্যবস্থাপনা ছিল, সেটিও কমানো হয়েছে। বেশির ভাগ শিল্পেই নিজস্ব জেনারেটর না থাকায় লোডশেডিংয়ের পুরো সময় বন্ধ থাকছে উৎপাদন।

বড় শিল্পগুলোয় জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন চালিয়ে নেয়ার চেষ্টাও পুরোপুরি সফল হচ্ছে না। আড়াই ঘণ্টার লোডশেডিং হলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কারখানা সচল থাকছে বড়জোর দেড় ঘণ্টা। বাকি সময় থাকছে বন্ধ।

আবার এভাবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে রপ্তানি পণ্যে নির্দিষ্ট সময়ে জাহাজীকরণ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে এলএনজিসহ সব ধরনের জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, এটি সত্য। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানিতে প্রতিদিন প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে এটিও সত্য। আবার আমরা ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ, জ্বালানির দাম না বাড়াতে বলছি—এটিও মিথ্যা নয়।

‘আমরা মনে করি, লোডশেডিং তো বিদ্যুৎ, জ্বালানির দাম বাড়ানোর চেয়েও আরও বেশি ক্ষতি করছে। সরকার যদি মনে করে যে ভর্তুকি দেয়া সম্ভব না, তাহলে দেবে না। প্রয়োজনে সরকার গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিক। কারণ করার তো কিছু নেই, কিন্তু আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা, উৎপাদন ও সেবা সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হলে বিদ্যুৎ, গ্যাস লাগবে।’

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে দাম না বাড়ালে তাদের প্রায় ৩০ হাজার ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে, আর গ্যাস সেক্টর বলছে দাম না বাড়ালে চলতি বছর (২০২২ সালে) তাদের প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা লোকসান হবে।

বিদ্যুতের চাহিদা প্রতিদিন ২০০ মেগাওয়াট করে বাড়ছে। বিশ্ববাজারে পেট্রোলিয়ামের দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রতিদিন ৮০ কোটি টাকা লোকসান গুনছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে মাসিক ক্ষতি হবে আড়াই হাজার কোটি টাকা।

শুধু তা-ই নয়, গ্যাস, বিদ্যুতের বিপুল পরিমাণ খেলাপি বিলও আছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এখন বিদ্যুতের বিল বকেয়া আছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। আর গ্যাসের বিল বকেয়া আছে ৬ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা।

ব্যবসায়ীদের আরেক সংগঠন বাংলাদেশ চেম্বার অফ ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে একটি ক্রাইসিস পিরিয়ড টলছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সরকারকে যেখানে যে ধরনের পদক্ষেপ নেয়া দরকার তা নিতে হবে।

‘আমরা বলব, এই ব্যয় সংকোচন নীতি তথা কৃচ্ছ্রসাধনে লোডশেডিংয়ের উদ্যোগ যেন কোনোভাবেই শিল্প-কারখানার ওপর প্রভাব না ফেলে। আবার এই উদ্যোগের বিরোধিতাও করছি না। এ ক্ষেত্রে সরকারের উচিত কৌশলী হওয়া।’

তিনি কৃচ্ছ্রসাধনের জন্য ব্যাপক উদ্বুদ্ধকরণ প্রচারের পরামর্শ দিয়েছেন যেন সাধারণ মানুষ বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হয়।

এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘যার বাসায় একাধিক এসি আছে, তার তো সারা দিন সবকটি এসি ব্যবহার না করলেও চলে। প্রয়োজনে একটা চালাক। সব লাইট জ্বালিয়ে রাখার তো দরকার নেই। আজকে ঢাকা শহরে মসজিদের অভাব নেই। সব মসজিদেই এসি আছে। চার্চে এসি আছে।

‌‘এগুলো সাময়িক ব্যবহার না করলেও চলে। অফিস-আদালতেও এসি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে একই কথা প্রযোজ্য। তাহলে এখানেও বিদ্যুতের একটা বড় সাশ্রয় হয়। এ ক্ষেত্রে মোটিভেশনাল ম্যাসিভ প্রোগ্রাম ও প্রচারণা নেয়া দরকার।’

বিদ্যমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘বড় ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে তো সবারই ক্যাপটিভ পাওয়ার আছে, কিন্তু যারা ছোট-মাঝারি তাদের তো আর সবার ক্যাপটিভ পাওয়ার নেই। তারা সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। তা ছাড়া আমরা এমন একটা সময় অতিক্রম করছি যেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দেশের ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে সচল রাখা, কর্মসংস্থানকে ধরে রাখা।’

নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘লোডশেডিং চলাকালে আমরা পুরো সময় তো ক্যাপটিভ পাওয়ার চালাতে পারছি না। দুই ঘণ্টার জায়গায় হয়তো এক ঘণ্টা জেনারেটর চালালাম। বাকি সময় তো বন্ধই থাকছে। ফলে উৎপাদন কম হচ্ছে।

‘এভাবে চললে সময়মতো রপ্তানি অর্ডার শিপমেন্ট করা যাবে না। তখন বাধ্য হয়ে এয়ারশিপমেন্টে যেতে হবে অথবা নির্ধারিত প্রেইসের সঙ্গে ডিসকাউন্ট আপস করতে হবে, যার লোকসান উদ্যোক্তাকেই বহন করতে হয়।

‘এর চেয়ে বড় সমস্যা গ্যাসে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে সক্ষমতার ৫০ শতাংশে নেমে আসছে, যার কারণে আমরা বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। এর বিরূপ প্রভাব কিন্তু গোটা অর্থনীতিতেই অচিরেই পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বিদ্যুৎ রেশনিং চায় এফবিসিসিআই
সিলেট শহর দিনে ৬ ঘণ্টা, গ্রাম ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন
বিদ্যুৎ সংকটে নাকাল উন্নত দেশও
গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হোন: প্রতিমন্ত্রী

মন্তব্য

p
উপরে