× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Now is the time to invest in Bangladesh Commerce Minister
hear-news
player
print-icon

বাংলাদেশে বিনিয়োগের সময় এখনই: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশে-বিনিয়োগের-সময়-এখনই-বাণিজ্যমন্ত্রী
‘ফরেন ডাইকেন্ট ইনভেস্টমেন্ট ফর লজিস্টিক সেক্টর’ আলোচনা সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রোববার বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ছবি: নিউজবাংলা
‘এখানে বিনিয়োগের সব প্রকার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। বাংলাদেশে কম খরচে পণ্য উৎপাদন করে সহজেই অন্য দেশে রপ্তানি করা সম্ভব।’

দেশে অবকাঠামো সেক্টরে বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবকাঠামো সেক্টরে বিনিয়োগ প্রয়োজন। যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়নে দেশব্যাপী কাজ চলছে। তাই এখনই সময় বাংলাদেশে শিল্প সেবা অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের।’

‘ফরেন ডাইকেন্ট ইনভেস্টমেন্ট ফর লজিস্টিক সেক্টর’ আলোচনা সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রোববার তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর একটি হোটেলে নরডিক চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন অ্যাম্বাসি এবং ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের হেড অফ ডেলিগেশনের সহযোগিতায় এ আলোচনা সভা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা তুলে ধরে বলেন, ‘প্রায় ১৭ কোটি মানুষের একটি বড় বাজার হলো বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ ভাগ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেশ ভালো। পার্শ্ববর্তী ভারত এবং চীন দুটি বড় বাজার। বাংলাদেশে প্রচুর দক্ষ জনশক্তি রয়েছে।

‘এখানে বিনিয়োগের সব প্রকার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। বাংলাদেশে কম খরচে পণ্য উৎপাদন করে সহজেই অন্য দেশে রপ্তানি করা সম্ভব।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ সব ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন টিপু মুনশি। বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন শক্ত অর্থনৈতিক শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশে উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। আগামী ২০৩০ সালে এসডিজি অর্জনের মাধ্যমে ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে।

‘দেশে রপ্তানি বাণিজ্য দ্রুত বাড়ছে। বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় এবং সময়োপযোগী জাতীয় লজিস্টিক নীতিমালা গ্রহণ করেছে। শিল্প-কলকারখানা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং বাণিজ্যের সুযোগ-সুবিধার টেকসই উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। লজিস্টিক সেক্টর দেশের আমদানি ও রপ্তানির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশে বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে এবং ব্যবসাবান্ধব টেকসই পরিবেশ সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে বাংলাদেশ পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশ জিডিপি অর্জন সন্তোষজনক ছিল। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে এলডিসি গ্রাজুয়েশন করে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের সামনে এখন অনেক চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য দেশ প্রস্তুত।’

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।

আরও বক্তব্য দেন নরডিক চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট তাহরিন আনাম, এইচএসবিসিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার পাঠানো মিষ্টিকে ‘অসাধারণ’ বললেন মমতা
রোজায় কেনাকাটায় হুড়াহুড়ি নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী
অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: বাণিজ্যমন্ত্রী
ব্রাজিলে পণ্যমূল্য বাড়ায় পদত্যাগ চাইলে করব: বাণিজ্যমন্ত্রী
লাভ করেন, লোভ করবেন না: ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Application fee increased in government jobs

সরকারি চাকরিতে বাড়ল আবেদন ফি

সরকারি চাকরিতে বাড়ল আবেদন ফি সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার একটি কেন্দ্র। ফাইল ছবি
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, এখন থেকে নবম গ্রেডে চাকরিপ্রত্যাশীদের আবেদন ফি হবে ৬০০ টাকা, যা আগে ছিল ৫০০ টাকা।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বাড়ানো হয়েছে সরকারি চাকরিতে আবেদনের ফি।

এ নিয়ে রোববার পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

পরিপত্র অনুযায়ী, এখন থেকে নবম গ্রেডে চাকরিপ্রত্যাশীদের আবেদন ফি হবে ৬০০ টাকা, যা আগে ছিল ৫০০ টাকা।

দশম গ্রেডে চাকরিপ্রত্যাশীদের আবেদন ফি আগের মতো ৫০০ টাকা রাখা হয়েছে।

১১ ও ১২তম গ্রেডে চাকরিপ্রত্যাশীদের আবেদন ফি ধরা হয়েছে ৩০০ টাকা। আগে গ্রেড দুটির চাকরির আবেদন ফি নির্ধারণ করা ছিল না।

১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে চাকরিপ্রত্যাশীদের আবেদন ফি দ্বিগুণ বাড়িয়ে ২০০ টাকা করা হয়েছে।

অন্যদিকে ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিপ্রত্যাশীদের আবেদন ফি ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে।

অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে পরিপত্রে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ভিন্ন ভিন্ন আদেশ জারি করে বিচ্ছিন্নভাবে লোক নিয়োগ করত। নতুন আদেশে এখন থেকে লোক নিয়োগ একীভূত করা হলো। অর্থাৎ অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে লোক নিয়োগাদেশ এবং ফি আদায় করা হবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফি পুনর্নির্ধারণ করা হলো।’

যেভাবে ফি আদায়

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, টেলিটকের মাধ্যমে অনলাইনে পরীক্ষার ফি নেয়া হবে। এর বিনিময়ে টেলিটক কমিশন পাবে। কমিশনের পরিমাণ হবে সংগৃহীত পরীক্ষার ফি আদায়ের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ।

টেলিটকের মাধ্যমে ফি বাবদ টাকা পাঠানোর তিন কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংক চেকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে জমা হবে। এরপর ওই প্রতিষ্ঠান দ্রুত চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা করবে।

অনলাইনে ফি জমা না দিলে চালানের মাধ্যমে তা গ্রহণ করা হবে, তবে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডারে অর্থ নিতে পারবে।

আরও পড়ুন:
এইচএসসি পাসে কার্য-সহকারী পদে চাকরি দিচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন
সারা দেশ থেকে অফিসার নিচ্ছে প্রিমিয়ার ব্যাংক
পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে চাকরি
স্বল্পমেয়াদি কমিশনে আর্মড ফোর্সেস নার্সিং সার্ভিসে চাকরি
৬ পদে ১০ চাকরি দিচ্ছে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Bangladesh must follow Chinas growth Minister of State for Planning

চীনের প্রবৃদ্ধি অনুসরণ করতে হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

চীনের প্রবৃদ্ধি অনুসরণ করতে হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক। ছবি: সংগৃহীত
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ চীনের বাজারে ৯৯ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত অ্যাক্সেস উপভোগ করছে। তবে আমাদের দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং এফটিএফ প্রয়োজন। বাংলাদেশ চায় চীন থেকে আরও বেশি এফডিআই আসুক। আমরা চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য ডেডিকেটেড বিশেষ অর্থনৈতিক জোন তৈরি করেছি।’

দেশের অর্থনীতি সম্প্রসারণে চীনের প্রবৃদ্ধি অনুসরণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

ঢাকার পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘চায়না-বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজেস কো-অপারেশন ফোরাম ২০২২’ শীর্ষক বিজনেস নেটওয়ার্কিং প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শনিবার তিনি এ কথা বলেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চীনের সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি বুঝতে পেরেছিলেন এবং দ্রুত বর্ধনশীল দেশের সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব শুরু করেছিলেন।

চীন বাংলাদেশের অবকাঠামো নির্মাণ, অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনাসহ বিভিন্নভাবে সাহায্য করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সফর, সাংস্কৃতিক সফরসহ আরও অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদার করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ চীনের বাজারে ৯৯ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত অ্যাক্সেস উপভোগ করছে। তবে আমাদের দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং এফটিএফ প্রয়োজন। বাংলাদেশ চায় চীন থেকে আরও বেশি এফডিআই আসুক। আমরা চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য ডেডিকেটেড বিশেষ অর্থনৈতিক জোন তৈরি করেছি।’

চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, ‘চীন-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী, পরিপূরক এবং ক্রমবর্ধমান। আমাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বিশাল এবং মজবুত। গত শতাব্দীর সত্তরের দশকের মাঝামাঝি চীন ও বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে দুই পক্ষ কৃষি, বাণিজ্য, সামুদ্রিক বিষয়, জলবায়ু পরিবর্তন, অবকাঠামো, নগর ব্যবস্থাপনা এবং দারিদ্র্যের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ব্যাপক সাফল্য অর্জন করছে।’

তিনি বলেন, ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অধীনে চীন ১৪৯টি দেশ এবং ৩২টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে ২০০টিরও বেশি সহযোগিতার নথিতে স্বাক্ষর করেছে। এই বছরের প্রথমার্ধে বিআরআইয়ে জড়িত দেশগুলোর সঙ্গে চীনের পণ্যের বাণিজ্য মোট ১১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন এবং এই দেশগুলোতে এর অ-আর্থিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ ১৪৯ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে।’

লি জিমিং বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সম্পদ বৃদ্ধি এবং জনগণের জীবন-জীবিকা সহজ করা বাংলাদেশ সরকারের লক্ষ্য।

সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে চীন অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশকে ক্রমাগত সহযোগিতা করছে। এর মধ্যে রয়েছে রেয়াতি ঋণ, বিনিয়োগ সহযোগিতা, প্রকল্প চুক্তি এবং চীন-সহায়তা প্রকল্প।

বাংলাদেশে আরও চীনা বাজারমুখী বিনিয়োগ প্রয়োজন। রপ্তানি বাড়াতে চীনের বাজারে যা প্রয়োজন তা বাংলাদেশকে উৎপাদন করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রথম শিল্প পার্ক হিসেবে শিগগিরই চট্টগ্রামে নির্মিত হবে চীনা অর্থনৈতিক জোন, যা যুগান্তকারী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
দায়িত্বে ফিরছেন ছয় ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধান
৭ দিনের বিশ্রাম শেষে বাড়ি যাবেন নারী ফুটবলাররা
জয়ে ফেরার প্রত্যাশা নিয়ে আমিরাত গেল বাংলাদেশ দল
আমিরাতের বিপক্ষে দলে নেই সাকিব-মাহেদী, অধিনায়ক সোহান
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সেমিতে বাংলাদেশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Big fall in gold prices has little effect on the world market

স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে, দেশে প্রভাব সামান্য

স্বর্ণের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে, দেশে প্রভাব সামান্য
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে। স্থানীয় বাজারে কিছুটা কমেছে স্বর্ণের দর। তবে বিশ্ববাজারে যে হারে কমেছে, দেশের বাজারে সেই হারে কমেনি। বরং চলতি মাসে বিশ্ববাজারে যখন স্বর্ণের দাম কমের দিকে ছিল, সে সময়ও দেশের বাজারে উল্টো বাড়ানো হয়।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমছেই। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ২৯ ডলার বা ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৪৩ ডলার ৯০ সেন্টে নেমে এসেছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর টানা পড়ছে। এই দর দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ১ হাজার ৬৫০ ডলারের নিচে নেমে এসেছিল।

তবে বিশ্ববাজারে যে হারে স্বর্ণের দর কমছে, দেশের বাজারে সে হারে কমছে না। এমনকি পড়তির বাজারেও স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন হলেও দেশের বাজারে কেন কমছে না- এ প্রশ্নের উত্তরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, বাজারে গোল্ডের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে গোল্ড আমদানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার, প্রথম দিকে কয়েকজন কিছু আমদানি করলেও এখন আর কেউ করে না। কারণ শুল্ক, ভ্যাটসহ আমদানির খরচ অনেক বেড়ে যায়। সে দামে বিক্রি করলে স্বর্ণের ভরি ৯০ হাজার টাকা বেশি হবে। অন্যদিকে এখন ব্যাগেজ রুলসের আওতায়ও কম গোল্ড আসছে।’

‘সে কারণে আমাদের স্থানীয় বাজারের তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই গোল্ডের দাম অনেক বেড়ে গেছে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি কমলেও তার সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা দেশের বাজারে কমাতে পারছি না।’

‘আমরা প্রতি ভরি গোল্ড বিক্রি করে মাত্র ১ হাজার টাকা লাভ করি’ হিসাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘তেজাবি স্বর্ণ আমদানি করা হয় না। এটি দেশেই পাওয়া যায়। এই স্বর্ণ একেবারে পিওর বা ১০০ শতাংশ খাঁটি। আমাদের তাঁতীবাজারের ব্যবসায়ীরা সারা দেশ থেকে পুরোনো স্বর্ণ কিনে সেগুলো মেশিনে মাধ্যমে খাদ বাদ দিয়ে যে স্বর্ণ আলাদা করে, সেটাকেই পিওর বা ১০০ শতাংশ খাঁটি স্বর্ণ বলে। এটাকে আমরা তেজাবি স্বর্ণ বলি। এই স্বর্ণের দামই অনেক বেড়ে গেছে। যেহেতু আমদানি নেই, ব্যাগেজ রুলসের আওতায়ও কম আসছে, সে কারণে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা এখন আর গোল্ড বিক্রি করতে পারছি না।’

আন্তর্জাতিক বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমছে। গত ১২ আগস্ট প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ১ হাজার ৮০১ ডলার ৮২ সেন্ট। সেখান থেকে কমতে কমতে এখন ১ হাজার ৬৫০ ডলারেরর নিচে নেমে এসেছে। এ হিসাবে দেড় মাসের কম সময়ের মধ্যে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে ১৫৮ ডলার।

গত এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে ৩১ ডলার ৬৬ সেন্ট। এক মাসের ব্যবধানে কমেছে ১০৮ ডলার বা ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার প্রভাব দেশের বাজারে পড়েছে। স্থানীয় বাজারে কিছুটা কমেছে স্বর্ণের দর। তবে বিশ্ববাজারে যে হারে কমেছে, দেশের বাজারে সেই হারে কমেনি। বরং চলতি মাসে বিশ্ববাজারে যখন স্বর্ণের দাম কমের দিকে ছিল, সে সময়ও দেশের বাজারে উল্টো বাড়ানো হয়।

এতে ১১ সেপ্টেম্বর সব রেকর্ড ভেঙে দেশের বাজারে নতুন উচ্চতায় ওঠে স্বর্ণের দাম। সে সময় সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ১ হাজার ২৮৩ টাকা বাড়িয়ে ৮৪ হাজার ৫৬৪ টাকা করা হয়। এর আগে দেশের বাজারে স্বর্ণের এত দাম দেখা যায়নি।

অবশ্য এই রেকর্ড দাম স্পর্শ করার পর সম্প্রতি দুই দফা দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এর মধ্যে সর্বশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৯৩৩ টাকা কমিয়ে ৮২ হাজার ৩৪৮ টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৮৭৫ টাকা কমিয়ে ৭৮ হাজার ৬১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৭০০ টাকা কমিয়ে ৬৭ হাজার ৪১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫৮৩ টাকা কমিয়ে ৫৫ হাজার ৮৭১ টাকা করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে এ দামেই বিক্রি হচ্ছে এই ধাতু।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া-ইউক্রেনে হামলার পর বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে স্বর্ণের দর। মার্চের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। এরপর গত কয়েক মাসে কয়েক দফা ওঠা-নামা করে। তবে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে কমছেই।

আরও পড়ুন:
৭২ ভরি স্বর্ণ চুরি, তিন সপ্তাহে ধরে ফেলল পুলিশ
স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরি ৮৪ হাজার ৫৬৪
‘স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের অবস্থা খুব খারাপ’
ডলার শক্তিশালী হওয়ায় কমল স্বর্ণের দাম
গোলাগুলিতে পালাতে গিয়ে স্বর্ণ চোরাকারবারির মৃত্যু, আটক ২

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
New Committee of MBA Association

এমবিএ অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি 

এমবিএ অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি  বাংলাদেশ এমবিএ অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটির সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
নতুন নির্বাহী কমিটিতে সভাপতি পুনর্নির্বাচিত হন সংসদ সদস্য (এমপি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সাইফ আই মাহমুদ।

বাংলাদেশ এমবিএ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএএ) নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) মিলনায়তনে শনিবার বিএমবিএএর দশম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এ কমিটি গঠন হয়।

একই দিন দেশি প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডগুলোকে নিয়ে একটি বিজনেস কেস বুকের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

নতুন নির্বাহী কমিটিতে সভাপতি পুনর্নির্বাচিত হন সংসদ সদস্য (এমপি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সাইফ আই মাহমুদ।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান এবং আকিজ ভেঞ্চার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আলমগীর।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, দেশি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা।

দেশে এমবিএ ডিগ্রীধারীদের সবচেয়ে পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন এমবিএ অ্যাসোসিয়েশন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর শুরুর দিককার এমবিএ ডিগ্রীধারী এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ, হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল, ওয়ার্টন বিজনেস স্কুল ও স্ট্যানফোর্ড বিজনেস স্কুলের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমবিএ ডিগ্রিধারী বাংলাদেশিদের নিয়ে ১৯৮৬ সালে যাত্রা শুরু হয় এ সংগঠনের।

বর্তমানে সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত আছেন দেশের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমবিএ ডিগ্রিধারীরা।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Anti dumping and taxes at source hamper the development of jute industry

পাটশিল্প বিকাশে বাধা অ্যান্টি ডাম্পিং ও উৎসে কর

পাটশিল্প বিকাশে বাধা অ্যান্টি ডাম্পিং ও উৎসে কর
বিজেএমএ চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘পাট খাতের উন্নয়নে দুটি প্রধান বাধা স্পষ্ট। তা হচ্ছে কাঁচা পাটের ওপর ২ শতাংশ উৎসে কর এবং প্রধান রপ্তানি বাজার ভারতের অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি। এই বাধা দূর হলে ঘুরে দাঁড়াবে এ খাত।’

সোনালি আঁশ আর রুপালি কাঠি- দুয়ে মিলে সম্ভাবনার ফসল পাট। একসময়ের সোনালি আঁশ একপর্যায়ে হয়ে দাঁড়ায় কৃষকের গলার ফাঁস। নানামুখী উদ্যোগে সেই পাট ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। ঘুরে দাঁড়াতে শুরুছে এই অর্থকরী ফসল। কিন্তু সেই ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামনে এসেছে দুই প্রতিবন্ধকতা- কাঁচা পাটের ওপর উৎসে কর এবং প্রধান বাজার ভারতের অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি আরোপ।

সংকট সুরাহায় বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ)।

সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন জানান, পাট খাতের উন্নয়নে দুটি প্রধান বাধা স্পষ্ট। তা হচ্ছে কাঁচা পাটের ওপর ২ শতাংশ উৎসে কর এবং প্রধান রপ্তানি বাজার ভারতের অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি। এই বাধা দূর হলে পাট খাতের রপ্তানি কয়েক গুণ বাড়বে। ঘুরে দাঁড়াবে এই খাত।

বিজেএমএ মহাসচিব আব্দুল বারিক খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে উৎপাদিত কাঁচা পাট অত্যন্ত উন্নতমানের। সে সুবাদে বিশ্ববাজারে পাটের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু কাঁচা পাট রপ্তানিতে এ দুটি বাধা দূর করা জরুরি।

‘স্বাধীনতাপূর্ব ও পরবর্তী সময়ে পাটই ছিল একমাত্র বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত। কিন্তু পাট খাতে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল থেকে কোনো সহায়তা দেয়া হয় না। বিদেশ থেকে তুলা আমদানিতে এই তহবিলের সুবিধা মেলে। তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানিকারকরা এ তহবিল থেকে বড় সহায়তা পান। অথচ স্বল্পসুদের এই তহবিল থেকে পাটশিল্প কোনো সহায়তা পায় না।’

বলা হচ্ছে, এ তিনটি সুবিধা বাস্তবায়ন করলে পাট রপ্তানি করে বর্তমানের চেয়ে পাঁচ গুণ আয় করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে কয়েক বছরের মধ্যে ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার আয় আসবে পাট রপ্তানি থেকে।

ট্যারিফ কমিশনে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘কৃষক-শ্রমিকসহ পাটশিল্প খাতের সঙ্গে পাঁচ কোটি মানুষের জীবিকা জড়িত। পাট খাতে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি সমস্যা পাট খাতের উন্নয়ন ও সার্বিক কার্যক্রমে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমস্যা দুটি জরুরিভাবে সমাধান করা না হলে পাটশিল্প ক্রমান্বয়ে মুখ থুবড়ে পড়বে। ফলে পাটপণ্য রপ্তানি ও রপ্তানি আয় ব্যাপকভাবে কমে যাবে।’

উৎসে কর

কাঁচা পাটের ওপর ২ শতাংশ উৎসে কর দেশের কৃষক ও ফড়িয়াদের ওপর পড়ে। ফলে কৃষকরা পাট উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হবেন এবং পাট উৎপাদন কমে যাবে। তাই কৃষক ও শ্রমিক বাঁচাতে কাঁচা পাটের ওপর উৎসে কর রহিত করা প্রয়োজন।

শতভাগ দেশীয় উৎপাদিত কাঁচা পাট দিয়ে বহুমুখী পণ্য উৎপাদন করা হয়। ২ শতাংশ উৎসে কর থাকলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকা সম্ভব হবে না। পাটকলগুলোও একে একে বন্ধ হয়ে যাবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন কারণে পাটপণ্য টিকে থাকতে পারছে না। ২ শতাংশ উৎসে কর ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি

বাংলাদেশে পাটপণ্য রপ্তানির ওপর ২০১৭ সালে অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি আরোপ করায় ভারতে পাট রপ্তানি কমে গেছে। পাটের মিলগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চালু থাকা মিলগুলোও ঋণে জর্জরিত। ভারতের আরোপ করা এই অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি রোধকল্পে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) জরুরি ভিত্তিতে আপিল করে এ শিল্পকে রক্ষা করা জরুরি।

ইতোমধ্যে ভারতের মহাপরিচালক ট্রেড রিমিডিজের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে তদন্ত করেছে। ভারত আগামী পাঁচ বছরের জন্য পুনরায় অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি আরোপ করতে চায়।

বাংলাদেশি পাটপণ্যের বড় বাজার ছিল ভারত। কিন্তু পাটপণ্য রপ্তানির ওপর অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে রাখায় দেশটিতে পাট সুতা রপ্তানি ২৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

চিঠিতে বিষয় দুটি জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়ার বিষয়ে ট্যারিফ কমিশনের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

পাট রপ্তানি

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭ লাখ ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে ওই অর্থবছরে ৬ লাখ ৮২ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়। তিন দশক আগেও দেশে ১২ লাখ হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদিত হতো।

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ) সূত্রে জানা যায়, বছরে দেশে ৭৫ থেকে ৮০ লাখ বেল কাঁচা পাট উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে পাটপণ্য উৎপাদনের জন্য লাগে ৬০ লাখ বেল। আর ১০ থেকে ১২ লাখ বেল কাঁচা পাট রপ্তানি করে বাংলাদেশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১১৬ কোটি ডলারেরও বেশি। ওই অর্থবছরে প্রায় ১৪ কোটি ডলার মূল্যের কাঁচা পাট রপ্তানি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আবার দক্ষিণে দিশা
দেশে তৈরি হচ্ছে ২৮২ ধরনের পাটজাত পণ্য
পানির অভাবে স্বপ্ন মলিন সোনালি আঁশ চাষির
ভোগান্তির পর খুশি মেহেরপুরের পাটচাষিরা
‘বড় বিপদে আছি বাপু’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Grameenphone 5G Test in Divisional Cities

বিভাগীয় শহরে গ্রামীণফোনের ফাইভজি পরীক্ষা

বিভাগীয় শহরে গ্রামীণফোনের ফাইভজি পরীক্ষা
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জিপি হাউসে ইনোভেশন ল্যাবে এই পরীক্ষা করা হয়।

দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন দেশের আট বিভাগীয় শহরে পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক সেবা ফাইভজি পরীক্ষা সফলভাবে পরিচালনা করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গত বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জিপি হাউসে ইনোভেশন ল্যাবে এই পরীক্ষা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার।

গ্রামীণফোনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গত ২৬ জুলাই ঢাকা ও চট্টগ্রামে সফলভাবে ফাইভজি ট্রায়াল পরিচালনা করে ডিজিটাল বাংলাদেশের কানেক্টিভিটি পার্টনার গ্রামীণফোন। এর ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাজের ক্ষমতায়ন এবং স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিজেদের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দেশের টেক সার্ভিস লিডার এ প্রতিষ্ঠানটি দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে গ্রাহকদের ফাইভজি ট্রায়াল শুরু করেছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসির কমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ দিলজার হোসেন, বিটিআরসির স্পেক্ট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান জুয়েল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ, সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক আশীষ কুমার কুন্ডু, গ্রামীণফোনের প্রতিষ্ঠানটির চিফ মার্কেটিং অফিসার সাজ্জাদ হাসিব, চীফ ডিজিটাল অফিসার সোলায়মান আলম, চীফ টিকনোলজি অফিসার জয় প্রকাশ, চীফ কর্পোরেট এ্যাফেয়ার্স অফিসার হ্যান্স মার্টিন হেনরিক্সন প্রমুখ।

গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান অনুষ্ঠানে ফাইভজি বিষয়ে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

এর আগে গত ২৬ জুলাই গ্রামীণফোন দেশে প্রথমবারের মতো ঢাকা ও চট্টগ্রামে ইউজ কেস সহ ফাইভজি ট্রায়াল পরিচালনা করে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, ‘দেশজুড়ে ধারাবাহিকভাবে ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতেই প্রমাণিত হয়, আমাদের দেশ ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা জানি সেবা প্রদানে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে যেখানে আমরা সবাই কাজ করছি। কিন্ত বিষয়টা এমন নয় নতুন প্রযুক্তিকে স্বাগত জানানো যাবে না। আমাদের বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তি সুবিধা নিতে হলে সকল প্রযুক্তি মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সম্ভাবনা উন্মোচনে আমাদের ফাইভজির মতো উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োজন।’

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমান বলেন, “প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজের ক্ষমতায়ন ও সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে গ্রামীণফোন। আসন্ন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে চলমান ডিজিটালাইজেশন ত্বরাণ্বিত করার মাধ্যমে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ এর লক্ষ্য অর্জনের দায়িত্ব আমাদের সবার। টুজি, থ্রিজি ও ফোরজি থেকে এখন ফাইভজি কানেক্টিভিটি যুগেও উচ্চগতির কানেক্টিভিটি এবং উন্নত ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্যুশন নিয়ে দেশের রূপান্তরে আমরা কানেক্টিভিটি পার্টনার হিসেবে কাজ করছি।”

আরও পড়ুন:
নতুন দুটি ডেটা প্যাক নিয়ে এল গ্রামীণফোন
ঢাকা ও চট্টগ্রামে গ্রামীণফোনের ফাইভজি পরীক্ষা
বন্যার্তদের ১০ মিনিট ফ্রি টক টাইম দিয়েছে গ্রামীণফোন
গ্রামীণফোনের সঙ্গে মুন্ডিফার্মার চুক্তি
গ্রামীণফোনের নতুন সিসিএও হ্যান্স মার্টিন হেনরিক্সন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The much anticipated ATB is launching soon

শিগগিরই চালু হচ্ছে অনেক আশার এটিবি

শিগগিরই চালু হচ্ছে অনেক আশার এটিবি ফাইল ছবি
শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হাসান বলেন, ‘এটি চালু হলে মার্কেটের গভীরতা অনেক বাড়বে। অনেক ভালো কোম্পানি আছে যারা বিভিন্ন কারণে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে চাচ্ছে না, তারা এখানে তালিকাভুক্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা ভালো শেয়ার পাবে। এটা কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের একটা লিকুইডিটি দিবে, টাকা চাইলে শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলতে পারবে। এ ছাড়া ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিগুলো এখানে একটা এক্সিট পয়েন্ট পাবে।’

ব্যবসায় মূলধন প্রাপ্তি ও শেয়ারের মালিকানা পরিবর্তন সহজ করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শিগগিরই চালু হচ্ছে বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থা বা অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি)।

ব্যবস্থাটি চালু হলে পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা যেকোনো কোম্পানি এটিবিতে সরাসরি তালিকাভুক্ত হয়ে শেয়ার লেনদেন করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে কোম্পানিটিকে অবশ্যই প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তিত হতে হবে।

বর্তমানে পুঁজিবাজারের বাইরে দুই হাজারেরও বেশি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানি চাইলে সরাসরি এটিবিতে নিজেদের শেয়ার লেনদেনের সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত ২৯ আগস্ট এ-সংক্রান্ত আইন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড) রেগুলেশন, ২০২২ অনুমোদন দিয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর যা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য পাঠিয়েছে ডিএসই। এটি প্রকাশ হলেই এটিবি চালু হওয়ার পথে সব আইনি বাধা দূর হবে।

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শেয়ার লেনদেনের এ বিকল্পব্যবস্থাকে স্টক এক্সচেঞ্জে বৈপ্লবিক সংযোজন হিসেবে দেখছেন।

ডিএসই ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটিবি চালু হলে পুঁজিবাজারের বাইরের কোম্পানির উদ্যোক্তারা খুব সহজে মালিকানা পরিবর্তন বা শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবেন। আগে এ কাজটি করতে অনেক খরচ হতো। এখন তা কম খরচেই করা যাবে। এ ছাড়া কোম্পানিগুলো সরাসরি শেয়ার লেনদেনের সুযোগ পাওয়ায় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল জোগানদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের মূলধন দিতে উৎসাহিত হবে। কেননা এটিবিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটালগুলোর বিনিয়োগ করা শেয়ার হস্তান্তরের অবারিত সুযাগ তৈরি হবে।’

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল হলো এমন ধরনের মূলধন, যা কোনো আর্থিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, যারা কিনা ভবিষ্যতে লাভজনক হতে পারে- এমন স্টার্টআপ বা ছোট কোম্পানিতে মালিকানা বা শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগ করে থাকে। সাধারণত বড় বড় বিনিয়োগকারী, ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে এ ধরনের তহবিল গঠন হয়ে থাকে। বাজারে বিনিয়োগকৃত শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মুনাফা ও মূলধন ফেরত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

দেশে এতদিন শেয়ার লেনদেনের বিষয়টি সহজ ছিল না। ফলে বেশ কয়েকটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল জোগানদাতা প্রতিষ্ঠান থাকলেও তা খুব বেশি কাজে আসছিল না।

শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হাসান বলেন, ‘এটি চালু হলে মার্কেটের গভীরতা অনেক বাড়বে। অনেক ভালো কোম্পানি আছে যারা বিভিন্ন কারণে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে চাচ্ছে না, তারা এখানে তালিকাভুক্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা ভালো শেয়ার পাবে। এটা কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের একটা লিকুইডিটি দিবে, টাকা চাইলে শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলতে পারবে। এ ছাড়া ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিগুলো এখানে একটা এক্সিট পয়েন্ট পাবে।’

এটিবিতে কারা লেনদেন করতে পারবে

বর্তমানে যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসগুলোর নিবন্ধকের পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) দুই লাখ ৬৩ হাজার ৮৮৮টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত আছে। এর মধ্যে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি এক লাখ ৯৫ হাজার ৪৫টি, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি দুই হাজার ৫২৩টি আর একক মালিকানা কোম্পানি আছে ১৬৫টি।

বাকিগুলো হচ্ছে ট্রেড অর্গানাইজেশন, বিদেশি কোম্পানি, সোসাইটি আর অংশীদারি কোম্পানি। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মধ্যে পুঁজিবাজারে আছে ৩৫০টি কোম্পানি। সেই হিসাবে ২ হাজার ১৭৩টি কোম্পানি এখন স্টক এক্সচেঞ্জের বাইরে। এই কোম্পানিগুলো এটিবি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের শেয়ার লেনদেনের সুযোগ নিতে পারবে। আর বাকিগুলোকে আগে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হতে হবে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে জানান, পুঁজিবাজারে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে তালিকাচ্যুত বা তালিকাবহির্ভূত যে সিকিউরিটিজগুলো আছে সেগুলো এটিবিতে লেনদেন করা যাবে। এ ছাড়া ডেবিট সিকিউরিটিজ ও মিউচুয়াল ফান্ডও লেনদেন হবে।

রেজাউল করিম বলেন, এটিবি চালু হলে বাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়বে। সামগ্রিকভাবে যা বাজারে গভীরতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগের বিকল্প সুযোগ সৃষ্টি করবে।

এটিবিতে কী সুবিধা

বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাবহির্ভূত যেকোনো কোম্পানি তাদের শেয়ার হস্তান্তর করতে গেলে ট্রান্সফার ফি ও মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটসহ বড় ধরনের খরচের বোঝা বহন করতে হয়। এ ছাড়া ১১৭ ফরম পূরণ করতে আরজেএসসিতে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হয়। এটিবিতে এলে কোনো ধরনের ঝুটঝামেলা ছাড়াই সামান্য কমিশনেই শেয়ার হস্তান্তর করা যাবে। বাড়তি কোনো ফি দিতে হবে না। উদ্যোক্তারা তাদের কোম্পানির বাজারমূল্য সম্পর্কে ধারণা পাবে। এ ছাড়া কোম্পানির পরিচিতি, সুনাম বা ব্র্যান্ড ভেল্যুও বাড়বে।

এমনকি কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে এখান থেকে রাইট শেয়ার কিংবা প্রাইভেট প্লেসমেন্ট শেয়ার ছেড়ে তাদের মূলধন বাড়াতেও পারবে।
বিএসইসির মুখপাত্রের আশা, এতে অনেক কোম্পানি এখানে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে। ফলে বাজার মূলধন ও লেনদেন বাড়বে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের গুরুত্বও বেড়ে যাবে।

এটিবিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো যাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মতো কর সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করতে এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে বিএসইসি। এনবিআরের সম্মতি পেলে সাড়ে ৭ শতাংশ কর ছাড় পাবে কোম্পানিগুলো।
পুঁজিবাজারে এলে কোম্পানি পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আগের চেয়ে বাড়ে, যা প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতে বড় ভূমিকা রাখে।

কীভাবে তালিকাভুক্তি

এটিবিতে তালিকাভুক্তি অনেকটা সরাসরি বা ডায়রেক্ট লিস্টিংয়ের মতো। নতুন শেয়ার না ছেড়ে উদ্যোক্তার হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির উদ্দেশ্যে তালিকাভুক্তি নেয়া যাবে। শেয়ারের মূল্যও হবে বাজারভিত্তিক।

আরও পড়ুন:
শিগগিরই চালু হচ্ছে অনেক আশার এটিবি
এসএমই বোর্ড নিয়ে আবার নীতি পরিবর্তন বিএসইসির
পুঁজিবাজার আবার বিভ্রান্তিতে

মন্তব্য

p
উপরে