× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

অর্থ-বাণিজ্য
The governor is sitting with the bank MDs with dollars
hear-news
player
print-icon

ডলার নিয়ে ব্যাংক এমডিদের সঙ্গে বসছেন গভর্নর

ডলার-নিয়ে-ব্যাংক-এমডিদের-সঙ্গে-বসছেন-গভর্নর
ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাচ্ছে গত কিছুদিন থেকেই। অলঙ্করণ: মামুন হোসাইন/নিউজবাংলা
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের উল্লম্ফনে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলতে প্রয়োজনীয় ডলার পাচ্ছে না ব্যাংকগুলো; বাধ্য হয়ে ব্যাংক রেটের চেয়ে সাত-আট টাকা বেশি দিয়ে ডলার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট হয়ে গেছে। ডলার বাজারের এই অস্থিরতা অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

ডলারের অস্থির বাজার নিয়ে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বসছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

বৃহস্পতিবার এই বৈঠক হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন।

নিউজবাংলাকে বুধবার রাতে তিনি বলেন, ‘ডলারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কাল (বৃহস্পতিবার) গভর্নর স্যার ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে ব্যাংকগুলো কেনো আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারের দরের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে-সে বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।’

মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক হবে। বৈঠকে ডলার পরিস্থিতি ছাড়াও ব্যাংকিং খাতের অন্যন্য বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে বলে জানান তিনি।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে এবিবি চেয়ারম্যান ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি এখন মিটিংয়ে আছি। বৈঠকের বিষয়ে কিছু জানতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানেন।’

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের উল্লম্ফনে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলতে প্রয়োজনীয় ডলার পাচ্ছে না ব্যাংকগুলো; বাধ্য হয়ে ব্যাংক রেটের চেয়ে সাত-আট টাকা বেশি দিয়ে ডলার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট হয়ে গেছে। ডলার বাজারের এই অস্থিরতা অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

বাধ্য হয়ে সরকার আমদানি ব্যয়ের লাগাম টানতে ব্যয় সংকোচনের পথ বেছে নিয়েছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের কর্তাদেরও বিদেশ সফর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কম গুরুত্বপূর্ণ আমদানিনির্ভর প্রকল্পের বাস্তবায়ন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। বিলাস পণ্য আমদানিতে ৭৫ শতাংশ এলসি মার্জিন রাখতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সবশেষ মঙ্গলবার বেশকিছু বিলাসপণ্যের আমদানির উপর অতিরিক্স শুল্ক আলোপ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর।

মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১০ মাস ২৫ দিনে (২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ২৫ মে পর্যন্ত) ৫৬০ কোটি (৫.৬০ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বিপরীতে বাজার থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা) মতো তুলে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এত ডলার বাজারে ছাড়া হয়নি। এরপরও বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। বেড়েই চলেছে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দর। দুর্বল হচ্ছে টাকা।

সবশেষ গত সোমবার ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও ৪০ পয়সা কমিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ নিয়ে চলতি মে মাসেই তৃতীয়বারের মতো কমানো হলো টাকার মান। তিন দফায় ডলারের দাম বেড়েছে ১ টাকা ৪৫ পয়সা।

বুধবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৭ টাকা ৯০ পয়সায় বিক্রি হলেও ব্যাংকগুলো এর চেয়ে ৮-১০ টাকা বেশি দরে নগদ ডলার বিক্রি করছে। এই ব্যবধান কমাতে গত বৃহস্পতিবার থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চারটি তদন্ত দল মাঠে নেমেছে। তারা ব্যাংকগুলো পরিদর্শন করেছে। তারপরও ব্যাংকগুলো ডলারের দর কমায়নি।

ব্যাংকগুলোর ওয়েবসাইটে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক রোববার ৯২ টাকা ৪৫ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছে। জনতা ব্যাংক করেছে ৯৩ টাকা ৯০ পয়সায়। অগ্রণী ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে। আর বেসরকারি ইস্টার্ন ও প্রাইম ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯৭ টাকায় ডলার বিক্রি করেছে।

কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজারে বুধবার ৯৮ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৪০ পয়সায় ডলার বিক্রি হয়েছে। ১৭ মে অবশ্য এই দর ১০০ টাকা ছাড়িয়ে ১০৪ টাকায় উঠেছিল।

আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বাড়ায় বাজারে ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। আমদানির লাগাম টেনে ধরা ছাড়া ডলারের বাজার স্বাভাবিক হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে দামে ডলার কেনে বা বিক্রি করে, তাকে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার বলে। এ হিসাবে আন্তঃব্যাংক রেটের চেয়ে ৮ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে ব্যাংকগুলো। অথচ এই ব্যবধান বা পার্থক্য এক-দেড় টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।

খোলাবাজারের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো হাত নেই। তবে ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার বিক্রি করলে বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে থাকে। কেননা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আন্তঃব্যাংক দরে ডলার কিনে সেই ডলার বিক্রি করে থাকে ব্যাংকগুলো।

এর আগে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর বিক্রি করা ডলারের দর আর আন্তঃব্যাংক বা ব্যাংক রেটের মধ্যে বেশি ব্যবধান হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই পার্থক্যের একটা সীমা নির্ধারণ করে দিত; সেটা এক থেকে দুই টাকার মধ্যে থাকত। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে ব্যাংকগুলো আন্তঃব্যাংক রেটের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডলার বিক্রি করলেও এতোদিন কোনো হস্তক্ষেপ করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সে কারণেই এতোদিন ইচ্ছামতো যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দাম বাড়িয়ে চলেছে ব্যাংকগুলো; কমছে টাকার মান। এ পরিস্থিতিতে আমদানি খরচ বেড়েই যাচ্ছে; বাড়ছে পণ্যের দাম। তবে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা লাভবান হচ্ছেন।

করোনা মহামারির কারণে গত ২০২০-২১ অর্থবছর জুড়ে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন দেখা যায়। সে কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যায়। সে পরিস্থিতিতে ডলারের দর ধরে রাখতে গত অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তারই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

আগস্ট মাস থেকে দেখা যায় উল্টো চিত্র। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে আমদানি। রপ্তানি বাড়লেও কমতে থাকে রেমিট্যান্স। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও কমতে থাকে। বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়; বাড়তে থাকে দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই একই জায়গায় ‘স্থির’ ছিল ডলারের দর। এরপর থেকেই বাড়তে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রার দর।

হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, এই সাড়ে ৯ মাসে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ব্যাংকগুলোতে বেড়েছে আরও বেশি।

সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সংগঠন হচ্ছে এবিবি।

আরও পড়ুন:
আরও কমল টাকার মান, মে মাসেই তিনবার
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার বিক্রি ৫৫০ কোটি ডলার ছাড়াল
দেশে কালো টাকা সাড়ে ৮৮ লাখ কোটি
ডলারের দাপট দেশে দেশে, সবচেয়ে কম বেড়েছে বাংলাদেশে
ডলারের দামে ব্যাংকগুলোর ‘পোয়াবারো’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Union Bank in trouble Governor

ইউনিয়ন ব্যাংকে ‘সমস্যা’ আছে, সমাধান করা হবে: গভর্নর

ইউনিয়ন ব্যাংকে ‘সমস্যা’ আছে, সমাধান করা হবে: গভর্নর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে বৃহস্পতিবার আসন্ন অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ফজলে কবির। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/ নিউজবাংলা
গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘ঋণের সিংহভাগ খেলাপিযোগ্য হওয়ায় বেসরকারি ইউনিয়ন ব্যাংকে সমস্যা রয়েছে, তবে যেখানে যে সমস্যা হবে আমরা দেখব। সমাধানের পথও বের করব। শরিয়াহভিত্তিক নতুন ব্যাংকটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যাদি মনিটরিং করা হচ্ছে।’

চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ইউনিয়ন ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৯৫ শতাংশই খেলাপিযোগ্য। এর পরিমাণ ১৮ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত পরিদর্শনে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এটিকে সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করা হবে।

মূল্যস্ফীতি ও টাকার বিনিময় হারের নড়বড়ে অবস্থার চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আসন্ন অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ফজলে কবির।

এটি ছিল বর্তমান গভর্নরঘোষিত শেষ মুদ্রানীতি। কারণ ৩ জুলাই রোববার তার শেষ কর্মদিবস। নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বর্তমান অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার।

মুদ্রানীতি ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিদায়ী গভর্নর বলেন, ‘ঋণের সিংহভাগ খেলাপিযোগ্য হওয়ায় চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ইউনিয়ন ব্যাংকে সমস্যা রয়েছে, তবে যেখানে যে সমস্যা হবে, আমরা দেখব। সমাধানের পথও আমরা বের করব। আমরাই উদ্ধার করব।

‘শরিয়াহভিত্তিক নতুন ব্যাংকটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যাদি মনিটরিং করা হচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইউনিয়ন ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৯৫ শতাংশই খেলাপিযোগ্য। এর পরিমাণ ১৮ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত পরিদর্শনে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

‌ইউনিয়ন ব্যাংক ২০১৩ সালে ব্যাংকিং কার্যক্রমে যুক্ত হয়। এই নয় বছরে ব্যাংকটিতে এমন অবস্থা কীভাবে তৈরি হয়েছে তা জানতে চাইলে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘ইউনিয়ন ব্যাংকে সমস্যা একটা হয়েছে। পত্রিকায় খবরও এসেছে। এটি আমাদের নিয়মিত তদারকির মধ্যে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সব ব্যাংক এক রকম নয়। ভালো, খারাপ, মন্দ সব ধরনের ব্যাংকই আছে। আবার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক এক রকম, ব্যক্তি খাতের ব্যাংক অন্য রকম। একইভাবে বিদেশি ব্যাংক এক রকম, শরিয়াহ ব্যাংক আরেক রকম। আমাদের ক্যামেলস রেটিংসে এসব বিষয় আসবে।’

ইউনিয়ন ব্যাংকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সাল শেষে বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ১৮ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, যা পরে আরও বেড়েছে।

এর মধ্যে ১৮ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকাই ‘খেলাপিযোগ্য’ বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে বেরিয়ে এসেছে। এসব ঋণ সমন্বয় করতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমন্বয় করতে না পারলে এসব ঋণ খেলাপি করতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The period of agricultural incentives has been extended

কৃষি প্রণোদনার মেয়াদ বাড়ল

কৃষি প্রণোদনার মেয়াদ বাড়ল আর্থিক সংকট মোকাবিলায় কৃষকের জন্য প্রণোদনা তহবিল গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে জামানতবিহীন ও সহজ শর্তে মাত্র ৪ শতাংশ সুদহারে ঋণ নিতে পারছেন কৃষকরা। অংশগ্রহণকারী ব্যাংক নিজস্ব কৃষক ও গ্রাহক পর্যায়ে এ তহবিলের আওতায় ঋণ বিতরণ করছে। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের জন্য এককভাবে জামানতবিহীন সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ঋণ দেয়া হচ্ছে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকট মোকাবিলায় কৃষকের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রণোদনার এ তহবিল থেকে ঋণ বিতরণের মেয়াদ তিন মাস বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা দিয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুসারে, পুনঃ অর্থায়ন তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ করা যাবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। যা ছিল চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব এ তহবিল থেকে জামানতবিহীন ও সহজ শর্তে মাত্র ৪ শতাংশ সুদহারে ঋণ নিতে পারছেন কৃষকরা। অংশগ্রহণকারী ব্যাংক নিজস্ব কৃষক ও গ্রাহক পর্যায়ে এ তহবিলের আওতায় ঋণ বিতরণ করছে। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের জন্য এককভাবে জামানতবিহীন সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ঋণ দেয়া হচ্ছে।

এর আগে কৃষকদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ তহবিল থেকে তখন ১ লাখ ৮৩ হাজার ৭০ জন গ্রাহককে ৪ হাজার ২৯৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে ব্যাংকগুলো। বিতরণ করা এ অর্থ স্কিমের তহবিলের ৮৫ দশমিক ৯০ শতাংশ।

কৃষি খাতে চলতি মূলধন সরবরাহের উদ্দেশ্যে ‘কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয়তা পায়। স্কিমের এ অর্থ সাধারণ কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করেছে, এমন ১৭টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীকে প্রশংসাপত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রণোদনার এ তহবিল থেকে এবারের ঋণ বিতরণের মেয়াদ তিন মাস বাড়ানোর ফলে বেশি সংখ্যাক কৃষককে স্কিমের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
বিশেষ প্রণোদনার ঋণ পেয়েছেন ১ লাখ ৮৩ হাজার কৃষক
প্রণোদনার সার-বীজ পাচ্ছেন না ‘প্রকৃত কৃষক’
হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পাবে প্রণোদনা
প্রণোদনার ঋণ নিশ্চিতে হটলাইন চালুর চিন্তা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
No mask no service in the bank again

ব্যাংকে আবারও ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’

ব্যাংকে আবারও ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ ব্যাংকের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যাংকের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সঙ্গে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি প্রয়োগ করা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের জ্বর, সর্দি, কাশি বা করোনার উপসর্গ দেখা দিলে কোভিড টেস্ট করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

ব্যাংকগুলোতে আবারও ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি প্রয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অফ সাইট সুপারভিশন (ডিওএস) থেকে বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বরাবর পাঠানো হয়েছে।

একই সঙ্গে ব্যাংকের এক নির্দেশনায় কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যাংকের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সঙ্গে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি প্রয়োগ করা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের জ্বর, সর্দি, কাশি বা করোনার উপসর্গ দেখা দিলে কোভিড টেস্ট করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

আরও পড়ুন:
করোনার চতুর্থ ঢেউয়ে সাড়ে তিন মাসের সর্বোচ্চ মৃত্যু
করোনার চতুর্থ ঢেউয়েও মাস্কে অনীহা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
IFICs mass friendly banking services

আইএফআইসির গণমানুষবান্ধব একগুচ্ছ ব্যাংকিং সেবা

আইএফআইসির গণমানুষবান্ধব একগুচ্ছ ব্যাংকিং সেবা
সালমান এফ রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বিপুল এক ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হবে, যদি আমরা সুবিধা বঞ্চিত মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে পারি। সেই লক্ষ্যেই আইএফআইসি গণমানুষের ব্যাংকিং সেবাগুচ্ছ চালু করল।’

দেশজুড়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান আইএফআইসি ব্যাংক চালু করেছে গণমানুষবান্ধব একগুচ্ছ ব্যাংকিং সেবা।

সেবাগুলো হচ্ছে-আইএফআইসি সহজ অ্যাকাউন্ট, আইএফআইসি সহজ ঋণ, আইএফআইসি আমার সুবর্ণগ্রাম, আইএফআইসি আমার অ্যাকাউন্ট, আইএফআইসি আমার বাড়ি, আইএফআইসি ওয়ান স্টপ সার্ভিস, আইএফআইসি আমার প্রতিবেশী, সরাসরি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সাথে লেনদেন, ২৪ ঘণ্টা গ্রাহক সেবা কেন্দ্র এবং আইএফআইসি ডেবিট কার্ড দিয়ে যে কোনো ব্যাংকের যেকোনো এটিএম বুথ থেকে বিনা মূল্যে টাকা উত্তোলন সুবিধা।

রাজধানীর দিলকুশায় হোটেল পূর্বাণীতে মঙ্গলবার এই একগুচ্ছ সেবার উদ্ভোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

এ সময় আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী শাহ এ সারওয়ারসহ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘গণমানুষের প্রয়োজনে আইএফআইসি ব্যাংক যে সেবাগুলো নিয়ে এসেছে সেগুলোর নাম যেমন সুন্দর, ঠিক তেমনি সুন্দর এসব সেবার বৈশিষ্ট্য। যা সত্যিই অভিনব ও উপযোগী। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে মাত্র ১০ টাকায় অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা গণমানুষকে নিয়ে আসবে ব্যাংকিং সেবার আওতায়।’

‘সেই সাথে অভিন্ন সেবার পরিধি নিয়ে উপশাখার মতো অভিনব ও অনন্য ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে আইএফআইসি যেভাবে সারা দেশে জনসাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে, তা ব্যাংকিং খাতে গণমানুষের সম্পৃক্ততা নিঃসন্দেহে আরও বাড়িয়ে তুলবে।’

গভর্নর বলেন, ‘আমরা এক সময় ওয়ান স্টপ ব্যাংকিং সার্ভিস বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলাম, কোনো কারণে তা সম্ভব না হলেও আইএফআইসি তা চালু করেছে, যা প্রশংসার দাবিদার। আইএফআইসির সহজ ঋণের ফলে সৃষ্টি হবে অনেক কর্মসংস্থান, এগিয়ে যাবে গ্রামীণ অর্থনীতি, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখবে এবং আমাদের একটি টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।’

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আজ আমরা উপশাখার মাধ্যমে যেভাবে দেশজুড়ে গণমানুষের কাছে যেতে পারছি, তাদের সম্পৃক্ত করতে পারছি এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বিশেষ করে গভর্নর ফজলে কবিরকে ধন্যবাদ জানাই। তার সহযোগিতায় আমরা উপশাখার অনুমোদন পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বিপুল এক ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হবে, যদি আমরা সুবিধা বঞ্চিত মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে পারি। সেই লক্ষ্যেই আইএফআইসি এই গণমানুষের ব্যাংকিং সেবাগুচ্ছ চালু করল।’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Grants from 45 banks including Padma to the Prime Ministers Relief Fund for Banavasi

বানভাসিদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পদ্মাসহ ৪৫ ব্যাংকের অনুদান

বানভাসিদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পদ্মাসহ ৪৫ ব্যাংকের অনুদান বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী তারেক রিয়াজ খান। ছবি: ফোকাস বাংলা
পদ্মা ব্যাংকের পক্ষে অনুদানের চেক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের হাতে তুলে দেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী তারেক রিয়াজ খান।

দেশে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৩০৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দিয়েছে পদ্মা ব্যাংকসহ ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

ঢাকার তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের করবী হলে সোমবার সকালে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী ও পরিচালকরা অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন।

গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার পক্ষে অনুদানের অর্থ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস।

পদ্মা ব্যাংকের পক্ষে অনুদানের চেক প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের হাতে তুলে দেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী তারেক রিয়াজ খান।

আরও পড়ুন:
পাঁচ বছরে অন্যতম শক্তিশালী ব্যাংক হবে পদ্মা: এমডি
প্রযোজক সারা, শাকিব, অপু- নির্মাতা অমিতাভ, উজ্জ্বল পেলেন অনুদান
সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে পদ্মা ব্যাংকে
সেন্ট্রালাইজড ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়করণ শুরু পদ্মা ব্যাংকের
মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে পদ্মা ব্যাংকের কর্মশালা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Pran RFL agreement with Islami Bank

ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে প্রাণ-আরএফএলের চুক্তি

ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে প্রাণ-আরএফএলের চুক্তি
চুক্তির ফলে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সকল আউটলেটে পস মেশিনে কার্ড ব্যবহার করে পণ্য ক্রয় করতে পারবেন।

ইসলামী ব্যাংক পয়েন্ট অব সেল (পস) মেশিনে কার্ড ব্যবহার করে পণ্য ক্রয় করার সুযোগ প্রদানের লক্ষ্যে প্রাণ- আরএফএল গ্রপের সাথে সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

এই চুক্তির ফলে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সকল আউটলেটে পস মেশিনে কার্ড ব্যবহার করে পণ্য ক্রয় করতে পারবেন।

ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে গত বুধবার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলার উপস্থিতিতে উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সেক্রেটারি জে কিউ এম হাবিবুল্লাহ ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ফিন্যান্স ডাইরেক্টর উজমা চেীধুরী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন বলে ইসলামী ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এ সময় ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ কায়সার আলী ও ওমর ফারুক খান, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আবুল ফায়েজ মুহাম্মদ কামালউদ্দীন, মাকসুদুর রহমান ও মাহমুদুর রহমান, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মিজানুর রহমান ভুঁইয়া ও মিফতাহ উদ্দীন এবং প্রান-আরএফএল গ্রপের ডেপুটি ম্যানেজার মাহফুজুর রহমান ও ফারজানা ফেরদৌস রহমান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ইসলামী ব্যাংকের হজ বুথ উদ্বোধন
হজযাত্রীদের জন্য ইসলামী ব্যাংকের উপহার                                   
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ১৫টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট উদ্বোধন
বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড পেল ইসলামী ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মশালা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Slow down remittances before Eid

ঈদের আগে রেমিট্যান্সে ধীরগতি

ঈদের আগে রেমিট্যান্সে ধীরগতি
২৩ দিনে ১২৮ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এ হিসাবে প্রতিদিন রেমিট্যান্স এসেছে সাড়ে ৫ কোটি ডলার। মাসের বাকি সাত দিনে এই হারে রেমিট্যান্স এলে দাঁড়াবে ১৬৭ কোটি ডলারের কিছু বেশি, যা হবে গত তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

প্রত্যাশা করা হয়েছিল, রোজার ঈদের মতো কোরবানির ঈদের আগের মাস জুনেও বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসবে। কিন্তু তেমনটা লক্ষ করা যাচ্ছে না।

এই মাসের ২৩ দিনের তথ্য রোববার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষ মাস জুনের ১ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত ১২৮ কোটি ৪৮ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এ হিসাবে প্রতিদিন রেমিট্যান্স এসেছে ৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। মাসের বাকি সাত দিনে এই হারে রেমিট্যান্স এলে দাঁড়াবে ১৬৭ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, যা হবে গত তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪৯ কোটি ৪৪ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল ২০২১-২২ অর্থবছরের ১১ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। মার্চে আসে ১৮৬ কোটি ডলার।

গত ৩ মে মাসে দেশে রোজার ঈদ উদযাপিত হয়। ঈদ সামনে রেখে এপ্রিলে ২০১ কোটি (২.০১ বিলিয়ন) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, একক মাসের হিসাবে যা ছিল ১১ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

ঈদের পরের মাসেও মোটামুটি ভালোই এসেছিল। মে মাসে ১৮৮ কোটি ৫৩ লাখ (১.৮৮ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন তারা।

প্রতি বছরই দুই ঈদ সামনে রেখে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সারতে পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি অর্থ দেশে পাঠান প্রবাসীরা। কিন্তু দুই ঈদের পরের এক-দুই মাস রেমিট্যান্স বেশ কম আসে। কিন্তু রোজার ঈদের পর মে মাসে তেমনটি হয়নি।

৯ অথবা ১০ জুলাই দেশে কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। সেই উৎসবকে কেন্দ্র করে জুন মাসে এপ্রিলের মতো ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসবে বলে আশা করা হচ্ছিল। ১৬ দিনের (১ থেকে ১৬ জুন) তথ্যে তেমন আভাসও পাওয়া যাচ্ছিল; ৯৬ কোটি ৪২ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। কিন্তু পরের সপ্তাহে অর্থাৎ ১৭ থেকে ২৩ জুন এসেছে ৩২ কোটি ৬ লাখ ডলার। এই সাত দিনে গড়ে ৪ কোটি ৫৮ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

জুনে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসতে হলে মাসের বাকি সাত দিনে (২৪ থেকে ৩০ জুন) প্রতিদিন ১০ কোটি ডলারের বেশি আসতে হবে; সেটা কখনই আসেনি দেশে।

২০২০-২১ অর্থবছরে ২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছর বা বছরে আসা সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স। তার আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসেছিল ১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে আসে ১৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এসেছিল ১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের ১১ মাস ২৩ দিনে (২০২১ সালের ১ জুলাই-থেকে ২০২২ সালের ২৩ জুন) মোট ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ শতাংশের মতো কম।

বিদায়ী অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে রেমিট্যান্স কমার কারণ জানতে চাইলে অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্সে হঠাৎ যে উল্লম্ফন হয়েছিল, তার একটি ভিন্ন পেক্ষাপট ছিল। ওই বছরের পুরোটা সময় কোভিডের কারণে গোটা পৃথিবী বন্ধই ছিল বলা চলে। সে কারণে হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোও বন্ধ ছিল। প্রবাসীরা সব টাকা পাঠিয়েছিলেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে। সে কারণেই রেমিট্যান্স বেড়েছিল।’

‘আমার বিবেচনায় বাংলাদেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আসলে ১৬ থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরে এর চেয়ে বেশি যে রেমিট্যান্স এসেছিল সেটা আসলে হুন্ডি বন্ধ থাকার কারণেই এসেছিল। কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় এবং কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম বেশি থাকায় এখন আগের মতো অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা।

‘এর পরও বিদায়ী অর্থবছরের সাত দিন বাকি থাকতেই সাড়ে ২০ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্সকে আমি খুবই ইতিবাচক মনে করছি।’

টানা পাঁচ মাস কমার পর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বেড়েছিল অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে ফের হোঁচট খায়। ওই মাসে ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। মার্চে এসেছিল ১৮৬ কোটি ডলার।

ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে এসেছিল যথাক্রমে ১৬৩ কোটি ৬ লাখ ও ১৭০ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। ফেব্রুয়ারি মাস ২৮ দিন হওয়ায় ওই মাসে রেমিট্যান্সপ্রবাহ কমেছিল বলে জানায় ব্যাংকগুলো।

তবে মার্চে এই সূচকে ফের গতি ফেরে; ১৮৮ কোটি ডলার পাঠান প্রবাসীরা। ওই মাসে ফেব্রুয়ারির চেয়ে ২৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, জুন মাসের ২৩ দিনে যে রেমিট্যান্স এসেছে, তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার। ৪২টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১০৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। আর পাঁচটি বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৬২ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

আরও পড়ুন:
রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ৮১ মিশনে চিঠি
মে মাসে ১৬৭৮০ কোটি টাকা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা
২৬ দিনেই ১৪৭৩০ কোটি টাকা পাঠালেন প্রবাসীরা
শর্তের বেড়াজাল থেকে মুক্ত রেমিট্যান্স
রেমিট্যান্সে আবার সেই উল্লম্ফন, বাড়ছে রিজার্ভ

মন্তব্য

p
উপরে