× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

অর্থ-বাণিজ্য
Allegations of embezzlement from FirstLead Securities
hear-news
player
print-icon

ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ফার্স্টলিড-সিকিউরিটিজ-থেকে-অর্থ-আত্মসাতের-অভিযোগ
ঢাকার ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
‘আমরা সব টাকা হারিয়ে নিঃস্ব। আমাদের টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করুন। শেয়ার বাজারকে বাঁচান, নিঃস্ব বিনিয়োগকারীদের বাঁচান।’

নকল সফটওয়্যার ব‍্যবহার করে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবে থাকা সব শেয়ার বিক্রি করে ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজ লিমিটেড ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিনিয়োগকারীরা। অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা।

ঢাকার ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম কার্যালয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিনিয়োগকারীরা। সাংবাদিকদের সামনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন মোহাম্মদ আইয়ুব খান।

আইয়ুব খান বলেন, ‘ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঢাকা অফিসের আমাদের ৩০ জন বিনিয়োগকারীর সব শেয়ার বিক্রি করে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।’

শেয়ার বিক্রি সংক্রান্ত কোনো এসএমএস ও ইমেইল ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজ থেকে বিনিয়োগকারীদের পাঠানো হতো বলেও দাবি করেন তিনি।

আইয়ুব খান বলেন, ‘বিষয়টি তাদের জানানো হলে তারা সব ঠিক হয়ে যাবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বাধ্য হয়ে আমরা অন্য হাউজে বিও হিসাব খুলে শেয়ার হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেই, সেটাও হয়নি। পরে জানতে পেরেছি ২০২১ সালের মার্চ থেকে ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজের লেনদেন বন্ধ করে রেখেছে বিএসইসি।’

হাউস বন্ধ থাকলেও নকল সফটওয়্যার ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ার লেনদেন করতেন বলেও অভিযোগ বিনিয়োগকারীদের।

তিনি বলেন, ‘গত ২০ জানুয়ারি আমরা সিএসই-এর সিআরও বরাবর শেয়ার হস্তান্তরের আবেদন করি। দীর্ঘদিন পার হলেও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ আমাদের কোনো শেয়ার হস্তান্তর করে নাই। এরপর আমার বিএসইসির চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করলেও কমিশন থেকে আমরা কোনো সদুত্তর পাইনি। তবে সিডিবিএল থেকে জানানো হয় আমাদের হিসাবে কোনো শেয়ার নেই।’

প্রতিষ্ঠানটি শেয়ার বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করায় বিনিয়োগকারীরা আর্থিক কষ্টে পড়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

আইয়ুব খান বলেন, ‘আমরা খুব আর্থিক কষ্টে আছি। এখন আমাদের টাকা বা শেয়ার যত দ্রুত সম্ভব ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রী এবং বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে দাবি জানাই।’

বিএসইসির চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে বিনিয়োগকারীরা বলেন, ‘আমরা সব টাকা হারিয়ে নিঃস্ব। আমাদের টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করুন। শেয়ার বাজারকে বাঁচান, নিঃস্ব বিনিয়োগকারীদের বাঁচান।’

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ আলী চোকদার, মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, কৃষ্ণ রায়, কামরুজ্জামান, সাইফুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ আইনুর।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বারের সাবেক পরিচালকের ৪ বছর কারাদণ্ড
ব্যাংক কর্মকর্তার ৩০ বছরের কারাদণ্ড
১৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ: জামিন নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার
অর্থ আত্মসাৎ: সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক কারাগারে
১০ লাখ টাকা আত্মসাতে বিআইডব্লিউটিএ কর্মচারীর কারাদণ্ড

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
4 lakh tons of rice is coming after the withdrawal of duty

শুল্ক প্রত্যাহারের পর আসছে ৪ লাখ টন চাল

শুল্ক প্রত্যাহারের পর আসছে ৪ লাখ টন চাল ফাইল ছবি
আমদানিকারকদের আগামী ১১ আগস্টের মধ্যে পুরো চাল বাংলাদেশের বাজারে আনতে হবে। আমদানি করা চালের পরিমাণ গুদামজাত ও বাজারজাত করার তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককেও জানাতে হবে।

চালের দামে লাগাম পরাতে আমদানি শুল্ক তুলে নেয়ার পর প্রথম দফায় বেসরকারিভাবে ৪ লাখ ৯ হাজার টন আমদানি করতে ৯৫টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিতে যাচ্ছে সরকার।

আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাল আনার আমদানির অনুমতি দিতে অনুরোধ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ক চিঠি দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

শর্ত হিসেবে চিঠিতে বলা হয়েছে, বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে এলসি খুলতে হবে এবং এ সংক্রান্ত তথ্য খাদ্য মন্ত্রণালয়কে ই-মেইলে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে হবে।

আমদানিকারকদের আগামী ১১ আগস্টের মধ্যে পুরো চাল বাংলাদেশের বাজারে আনতে হবে। আমদানি করা চালের পরিমাণ গুদামজাত ও বাজারজাত করার তথ্য সংশ্লিষ্ট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককেও জানাতে হবে।

সরকারি হিসাবে দেশে চালের সরবরাহ ও মজুতের মধ্যে কোনো ঘাটতি নেই। তারপরও চালের দাম বেড়ে চলেছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবির হিসাবে গত এক বছরে সরু চালের দাম বেড়েছে ১৯ শতাংশ এবং মোটা চালের দাম বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। এর মধ্যে সরু চালের দাম এক মাসেই বেড়েছে ৯ শতাংশ।

টিসিবির হিসাবে এক বছর আগে এই সময়ে দেশে সরু চাল বিক্রি হতো কেজিপ্রতি ৫৬ থেকে ৬৫ টাকায়। এখন তা ৬৪ থেকে ৮০ টাকা।

এক বছর আগে মাঝারি চালের দাম ছিল ৫০ থেকে ৫৬ টাকা কেজি, যেটি এখন হয়েছে ৫২ থেকে ৬০ টাকা। এক বছর আগে মোটা চালের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৪ থেকে ৪৮ টাকা, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৪৮ থেকে ৫২ টাকা।

চালের দাম এভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সরকারও অস্বাভাবিক হিসেবেই দেখছে। সম্প্রতি বিভিন্ন চালকল ও বাজারে সরকার অভিযানও চালাচ্ছে। বৈধ মাত্রার চেয়ে বেশি মজুত করায় মামলাও হয়েছে স্কয়ার গ্রুপের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযানের সুফল বাজারে কমই মিলছে।

চাল উৎপাদনের প্রধান বোরো মৌসুমে চালের দামে এই লাফ বছরের বাকি সময়ের জন্য শঙ্কা তৈরি করছে। তার ওপর দেশের উত্তর পূর্বে সিলেট অঞ্চলে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, উত্তরে কুড়িগ্রাম অঞ্চলেও চোখ রাঙাচ্ছে বন্যা। এতে আমনের ফলনেও ঘাটতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বোরো ধান ওঠার পরও চালের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এবার আমদানি বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় সরকার। এর অংশ হিসেবে আমদানিতে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে শুল্ক।

তবে নিয়ন্ত্রণমূক শুল্ক, অগ্রিম আয়কর, অ্যাডভান্সড ট্রেড ভ্যাট বা এটিভি এখনও কিছু বহাল আছে, যদিও এর হার কমানো হয়েছে অনেকটাই।

এতদিন চাল আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো সরকারকে। অর্থাৎ আমদানিতে ১০০ টাকা খরচ হলে সরকারকে দিতে হতো ২৫ টাকা। এই খাতে এখন কোনো টাকা দিতে হবে না।

যদিও নিয়ন্ত্রণমূলক যে ২৫ শতাংশ শুল্ক ছিল, সেটি পুরোপুরি প্রত্যাহার হয়নি, তবে কমানো হয়েছে অনেকটাই।

এতদিন এই শুল্ক ছিল ২৫ শতাংশ, সেটি কমিয়ে করা হয়েছে ১০ শতাংশ। এর বাইরে অগ্রিম আয়কর, এটিভি মিলিয়ে শুল্ক দিতে হবে ২৫ শতাংশ।

এতদিন আমদানি শুল্কের সঙ্গে এগুলো মিলিয়ে শুল্ক ছিল ৬২ শতাংশ। অর্থাৎ ১০০ টাকার পণ্য আনতে সরকারকে দিতে হতো ৬২ টাকা। এখন কম দিতে হবে ৩৭ টাকা।

আমদানি করা চালের মূল্য আগের চেয়ে কম পড়লে দেশি উৎপাদকরা প্রতিযোগিতার স্বার্থে দাম কমাতে বাধ্য হবে বলে আশা করছে এনবিআর। আর এর ফলে চালের বাজার স্থিতিশীল হবে এবং ভোক্তারা কম দামে চাল কিনে খেতে পারবে।

চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত শুল্কহার কমানোর এই আদেশ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

চাল আমদানির ক্ষেত্রে শর্ত দেয়া হয়েছে, আমদানি করা চাল স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান নিজেদের নামে পুনরায় প্যাকেটজাত করতে পারবে না। চাল বিক্রি করতে হবে প্লাস্টিক বস্তায়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকে এলসি খুলতে ব্যর্থ হলে বরাদ্দ বাতিল হয়ে যাবে বলেও শর্ত দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
১০ টাকা কেজির চাল ১৫ টাকায় বিক্রি শুরু শুক্রবার
কুষ্টিয়ায় বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম
চালের দামে লাগাম পরাতে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Russell of Evali is not giving the password the customers money is stuck

পাসওয়ার্ড দিচ্ছেন না ইভ্যালির রাসেল, আটকে গ্রাহকের টাকা

পাসওয়ার্ড দিচ্ছেন না ইভ্যালির রাসেল, আটকে গ্রাহকের টাকা সংবাদ সম্মেলনে ইভ্যালির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। ছবি: নিউজবাংলা
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‌‘এক পাসওয়ার্ডেই আটকে আছে ইভ্যালির গ্রাহকদের অর্থ। বারবার ধরনা দিয়েও সিইও মোহাম্মদ রাসেলের কাছ থেকে পাসওয়ার্ড উদ্ধার করতে পারেনি পরিচালনা পর্ষদ।’

বারবার ধরনা দিয়েও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেলের কাছ থেকে মূল সার্ভারের পাসওয়ার্ড উদ্ধার করা যায়নি, এ কারণে আটকে আছে গ্রাহকদের টাকা।

ইভ্যালির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক প্রতিষ্ঠানের ধানমন্ডি কার্যালয়ে অডিটের সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‌‘এক পাসওয়ার্ডেই আটকে আছে ইভ্যালির গ্রাহকদের অর্থ। বারবার ধরনা দিয়েও সিইও মোহাম্মদ রাসেলের কাছ থেকে পাসওয়ার্ড উদ্ধার করতে পারেনি পরিচালনা পর্ষদ।’

তিনি বলেন, ‘ইভ্যালিরর কাছে এখন প্রায় ২৫ কোটি টাকার পণ্য রয়েছে। পাওনাদারদের তথ্য না পাওয়ায় ২৫ কোটি টাকার পণ্য থাকলেও তা দেয়া যাচ্ছে না। এর ব্যাংকে যে টাকা আছে, তা দিয়ে গ্রাহকদের পাওনা মেটানো সম্ভব নয়।’

এ মাসেই ইভ্যালির অডিট কার্যক্রম শেষ হবে এমন আশা প্রকাশ করে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আমরা কাজ করে যাচ্ছি। চলতি মাসের শেষ নাগাদ ইভ্যালির অডিটের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়া যাবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের সদস্য সাবেক সচিব মোহাম্মদ রেজাউল আহসান, মাহবুবুল করিম, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফখরুদ্দিন আহম্মেদ ও আইনজীবী ব্যারিস্টার খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।

সংবাদ সম্মেলনের আগে ইভ্যালির প্রধান কার্যালয়ের সামনে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সিইও রাসেলের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন গ্রাহকরা।

তাদের দাবি, ইভ্যালির রাসেলকে মুক্তি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দিলে প্রতিষ্ঠান ঘুরে দাঁড়াবে। গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরত পাবেন। মার্চেন্ডরাও পাবেন। মিলবে বিনিয়োগকারীও।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা এক মামলায় ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও সিইও রাসেলকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এরপর তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি মামলা হয়।

পণ্য অর্ডার দিয়ে টাকা জমার পর পণ্য ও অর্থ ফেরত না পেয়ে গত সেপ্টেম্বরে ইভ্যালির অবসায়ন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন এক গ্রাহক। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৮ অক্টোবর আদালত ইভ্যালির ব্যবস্থাপনায় পাঁচ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেয়।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে রংপুরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ইভ্যালির লেনদেনের তথ্য জানাতে হাইকোর্টের নির্দেশ
৯ মামলায় জামিন, তবে কারাগারেই থাকছেন ইভ্যালির রাসেল

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The legitimacy of bringing back the money of trafficking is good for evil

পাচারের অর্থ ফিরিয়ে আনার বৈধতা ‘মন্দের ভালো’

পাচারের অর্থ ফিরিয়ে আনার বৈধতা ‘মন্দের ভালো’ রাজধানীর এফডিসিতে শুক্রবার নতুন অর্থবছরের বাজেট নিয়ে ছায়া সংসদে প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ট্রফি ও সনদপত্র বিতরণ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ছবি: নিউজবাংলা
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘যেসব দেশে টাকা পাচার করা হয়, সেসব দেশের সরকার অর্থের বৈধতা যাচাই না করেই তা বিনিয়োগের সুযোগ করে দিচ্ছে। সে ক্ষেত্রে দেশে কিছু টাকা ফেরত এলে অসুবিধা কোথায়? তাই পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত মন্দের ভালো।’

নতুন অর্থবছরে বাজেটে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনগতভাবে বৈধতা দেয়া হলেও সেটা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তবে এ সিদ্ধান্তকে ‘মন্দের ভালো’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

রাজধানীর এফডিসিতে শুক্রবার নতুন অর্থবছরের বাজেট নিয়ে এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

এম এ মান্নান বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, আইনের বৈধতা দিয়েও তা পুরোপুরি ফেরত আনা সম্ভব নয়। চুরি করা টাকা ফেরানোর জন্য পাচার করেনি পাচারকারীরা। তাই পাচারকৃত অর্থের খুব সামান্যই দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে।’

বাংলাদেশে একশ্রেণির মানুষের কাছে প্রচুর টাকা রয়েছে এবং তারা পাচার করছেন বলেও মন্তব্য করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যেসব দেশে টাকা পাচার করা হয়, সেসব দেশের সরকার অর্থের বৈধতা যাচাই না করেই তা বিনিয়োগের সুযোগ করে দিচ্ছে। সে ক্ষেত্রে দেশে কিছু টাকা ফেরত এলে অসুবিধা কোথায়? তাই পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত মন্দের ভালো।’

এ ক্ষেত্রে সরকার বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির জন্য কাজ করছে না বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

প্রতিযোগিতায় সরকারি তিতুমীর কলেজকে পরাজিত করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ছায়া সংসদে বিচারক ছিলেন উন্নয়ন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক রিজভী নেওয়াজ, সাংবাদিক কাবেরী মৈত্রেয় ও সাংবাদিক আরিফুর রহমান। ছায়া সংসদে মক স্পিকার হিসেবে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ট্রফি ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

আরও পড়ুন:
বড় পরিবর্তন ছাড়া বাজেট পাস, কার্যকর শুক্রবার থেকে
বড় পরিবর্তন ছাড়াই পাস হচ্ছে প্রস্তাবিত বাজেট
মেডিটেশনে ভ্যাট কমল, বাড়ল বিটুমিনে
মিতব্যয়ী হোন, দেশেই চিকিৎসা নিন: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
From Friday 10 rupees per kg of rice at 15 rupees

১০ টাকা কেজির চাল ১৫ টাকায় বিক্রি শুরু শুক্রবার

১০ টাকা কেজির চাল ১৫ টাকায় বিক্রি শুরু শুক্রবার
অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারের কাছে ১৫ টাকা কেজি দরে এবং সমতলের ডিলারদের কাছে ১৩ টাকা ৫০ পয়সা ও দুর্গম এলাকার ডিলারদের কাছে ১৩ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি হবে।

সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় অতি দরিদ্রদের জন্য চালের দাম পাঁচ টাকা বাড়িয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এখন থেকে প্রতি কেজি চাল কিনতে হবে ১৫ টাকায়।

গত ২২ জুন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের দাম পুনর্নির্ধারণ করার কথা বলা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার চালের নতুন দাম কার্যকর করতে খাদ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।

১ জুলাই থেকে চালের নতুন এই দাম কার্যকর হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সেই চিঠিতে বলা হয়, ‘ইউনিয়ন পর্যায়ে হতদরিদ্রদের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য বিতরণ নীতিমালা, ২০১৬’ অনুযায়ী খাদ্যবান্ধব কার্যক্রমের আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচিত সর্বোচ্চ ৫০ লাখ পরিবারকে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর, মার্চ ও এপ্রিল মাসে ৩০ কেজি চাল বিক্রির ক্ষেত্রে দাম পুনর্নির্ধারণ করা হলো।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারের কাছে ১৫ টাকা কেজি দরে এবং সমতলের ডিলারদের কাছে ১৩ টাকা ৫০ পয়সা ও দুর্গম এলাকার ডিলারদের কাছে ১৩ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি হবে।

আরও পড়ুন:
স্ত্রী-দুই মেয়েকে ‘পিটিয়ে’ আত্মহত্যার চেষ্টা, এক মেয়ের মৃত্যু
২ মিলে ভুয়া ব্র্যান্ডের চাল, লাখ টাকা জরিমানা
দামি গাড়ি আরও দামি হলো
খাদ্যে ভর্তুকি জরুরি ছিল: জাপা
দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Union Bank in trouble Governor

ইউনিয়ন ব্যাংকে ‘সমস্যা’ আছে, সমাধান করা হবে: গভর্নর

ইউনিয়ন ব্যাংকে ‘সমস্যা’ আছে, সমাধান করা হবে: গভর্নর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে বৃহস্পতিবার আসন্ন অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ফজলে কবির। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/ নিউজবাংলা
গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘ঋণের সিংহভাগ খেলাপিযোগ্য হওয়ায় বেসরকারি ইউনিয়ন ব্যাংকে সমস্যা রয়েছে, তবে যেখানে যে সমস্যা হবে আমরা দেখব। সমাধানের পথও বের করব। শরিয়াহভিত্তিক নতুন ব্যাংকটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যাদি মনিটরিং করা হচ্ছে।’

চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ইউনিয়ন ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৯৫ শতাংশই খেলাপিযোগ্য। এর পরিমাণ ১৮ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত পরিদর্শনে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এটিকে সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করা হবে।

মূল্যস্ফীতি ও টাকার বিনিময় হারের নড়বড়ে অবস্থার চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আসন্ন অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ফজলে কবির।

এটি ছিল বর্তমান গভর্নরঘোষিত শেষ মুদ্রানীতি। কারণ ৩ জুলাই রোববার তার শেষ কর্মদিবস। নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বর্তমান অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার।

মুদ্রানীতি ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিদায়ী গভর্নর বলেন, ‘ঋণের সিংহভাগ খেলাপিযোগ্য হওয়ায় চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি ইউনিয়ন ব্যাংকে সমস্যা রয়েছে, তবে যেখানে যে সমস্যা হবে, আমরা দেখব। সমাধানের পথও আমরা বের করব। আমরাই উদ্ধার করব।

‘শরিয়াহভিত্তিক নতুন ব্যাংকটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যাদি মনিটরিং করা হচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইউনিয়ন ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৯৫ শতাংশই খেলাপিযোগ্য। এর পরিমাণ ১৮ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত পরিদর্শনে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

‌ইউনিয়ন ব্যাংক ২০১৩ সালে ব্যাংকিং কার্যক্রমে যুক্ত হয়। এই নয় বছরে ব্যাংকটিতে এমন অবস্থা কীভাবে তৈরি হয়েছে তা জানতে চাইলে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘ইউনিয়ন ব্যাংকে সমস্যা একটা হয়েছে। পত্রিকায় খবরও এসেছে। এটি আমাদের নিয়মিত তদারকির মধ্যে রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সব ব্যাংক এক রকম নয়। ভালো, খারাপ, মন্দ সব ধরনের ব্যাংকই আছে। আবার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক এক রকম, ব্যক্তি খাতের ব্যাংক অন্য রকম। একইভাবে বিদেশি ব্যাংক এক রকম, শরিয়াহ ব্যাংক আরেক রকম। আমাদের ক্যামেলস রেটিংসে এসব বিষয় আসবে।’

ইউনিয়ন ব্যাংকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সাল শেষে বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ১৮ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, যা পরে আরও বেড়েছে।

এর মধ্যে ১৮ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকাই ‘খেলাপিযোগ্য’ বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে বেরিয়ে এসেছে। এসব ঋণ সমন্বয় করতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমন্বয় করতে না পারলে এসব ঋণ খেলাপি করতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The trade deficit dropped to 33 billion

বাণিজ্য ঘাটতি ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

বাণিজ্য ঘাটতি ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে এই ঘাটতি ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। আর নতুন বছরে বাণিজ্য ঘাটতি ঠেকতে পারে ৩৭ বিলিয়ন ডলারে।

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেই ১ জুলাই শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ২০২২-২৩ অর্থবছর। করোনাভাইরাস নতুন করে চোখ রাঙাচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রের যুদ্ধের আঘাত তো লেগেই আছে। সিলেট-সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সব মিলিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ নিয়েই শুরু হলো নতুন অর্থবছর। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা। অস্বাভাবিক আমদানি বৃদ্ধি অর্থনীতিকে যে সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে, সেই ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরাও আরেকটি চ্যালেঞ্জ।

কিন্তু আমদানি কমার কোনো সুখবর দিতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। উল্টো উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছে, নতুন বছরে বাণিজ্য ঘাটতি ৩৭ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। আর বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে এই ঘাটতি ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার ২০২২-২৩ অর্থবছরের যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে, তাতে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

নতুন মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, দেশে রপ্তানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ৩০ জুন শেষ হওয়া বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ৩৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২১-২২ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে ২৬ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি হতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছিল।

নতুন মুদ্রানীতিতে বাণিজ্য ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার।

বাণিজ্য ঘাটতির ১০ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) তথ্য প্রকাশ করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে দেখা যায় এই ১০ মাসে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।

এর মধ্যে অর্থবছরের বাকি দুই মাস (মে ও জুন) শেষ হয়ে গেছে। সেই দুই মাসের তথ্য যোগ করে বৃহস্পতিবার নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানিতে ৩২ শতাংশ প্রবিৃদ্ধি হবে। অর্থাৎ বিদায়ী অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে ৩২ শতাংশ বেশি রপ্তানি আয় দেশে আসবে। অন্যদিকে আমদানি ব্যয় বাড়বে ৩৫ শতাংশ। প্রবাসীয়দের পাঠানো প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স কমবে ১৪ শতাংশ। সব মিলিয়ে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ক্যারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালান্স বা ব্যালেন্স অব পেমেন্টে) ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১৭ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার।

বাণিজ্য ঘাটতি ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

নতুন অর্থবছরে পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি কমে ১৩ শতাংশে নেমে আসবে। আমদানি ব্যয় বাড়বে ১২ শতাংশ। রেমিট্যান্স ঊর্ধ্বমুখী হবে এবং ১৫ শতাংশ বাড়বে। ব্যালেন্স অব পেমেন্টে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১৬ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার।

আমদানিতে জোয়ারের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্য, জ্বালানিসহ সব ধরনের পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাণিজ্য ঘাটতি চূড়ায় উঠেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরের ১০ মাসেই (জুলাই-এপ্রিল) পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার।

এই অঙ্ক আগের অর্থবছরের পুরো সময়ের (১২ মাস, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন) চেয়েও ২১ শতাংশ বেশি। আর জুলাই-এপ্রিল সময়ের চেয়ে বেশি প্রায় ৫৩ শতাংশ।

২০২০-২১ অর্থবছরের এই ১০ মাসে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৮ দশমিক শূন্য ১ বিলিয়ন ডলার। আর পুরো অর্থবছরে এই ঘাটতি ছিল ২২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার।

এর আগে কখনই কোনো অর্থবছরে এত বিশাল অঙ্কের বাণিজ্য ঘাটতির মুখে পড়েনি বাংলাদেশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে ৬৮ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরের এই ১০ মাসে ৪৮ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল।

অন্যদিকে এই ১০ মাসে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৪১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন রপ্তানিকারকরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।

এ হিসাবেই ১০ মাসের হিসাবে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার।

এর ফলে ব্যালান্স অফ পেমেন্টেও বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে; অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ১৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে।

গত অর্থবছরের একই সময়ে মাত্র ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি ছিল।

পণ্য আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ও লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতিতে বাংলাদেশ এই মাইলফলক অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

নিউজববাংলাকে তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকেই আমদানিতে জোয়ার বইছে। আর এতে আমদানি-রপ্তানির মধ্যে ব্যবধান বা বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েই চলেছে।

‘আমদানি ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে; তারপরও তেমন আমদানি কমছে না। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় রপ্তানি আয় কমলেও আমদানি কমার কোনো লক্ষণ দেয়া যাচ্ছে না। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সও নিম্নমুখী। সব মিলিয়ে দিন যত যাচ্ছে, অর্থনীতিতে সংকট ততই বাড়ছে।

‘করোনা মহামারির ধাক্কা থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিলাম। এরই মধ্যে যুদ্ধ নতুন সংকটে ফেলে দিয়েছে। বন্যায় বড় ক্ষতি হচ্ছে। এতো কিছুর মধ্যে নতুন করে আবার করোনা বাড়তে শুরু করেছে। এতে বোঝাই যাচ্ছে, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা-আতঙ্কের মধ্যেই কাটাতে হবে নতুন অর্থবছর।’

রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারে নিচে নামছে

আমদানি বাড়ায় বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন (৪ হাজার ২০০কোটি) ডলারের নিচে নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪১ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে ৮ বিলিয়ন ডলার আমদানি খরচ হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে ৫ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে অর্থাৎ কয়েকদিনের মধ্যেই এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মে-জুন মেয়াদের ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি আমদানি বিল পরিশোধ করতে হবে। তখন রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল- প্রতি মাসেই ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে দেশে। এ হিসাবেই বর্তমানের রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

গত বছরের ২৪ আগস্ট এই রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। তখন ওই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ১০ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যেত। তখন অবশ্য প্রতি মাসে ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হতো।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুত থাকতে হয়।

দুই মাস পর পর আকুর দেনা পরিশোধ করতে হয়।

আরও পড়ুন:
বিলাস পণ্যের আমদানিতে লাগাম
রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি ২ লাখ কোটি টাকা
আমদানির জোয়ারে বাণিজ্য ঘাটতি চূড়ায়
লেনদেন ভারসাম্যে বড় ঘাটতিতে বাংলাদেশ
আমদানির জোয়ারে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে তিন গুণ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The period of agricultural incentives has been extended

কৃষি প্রণোদনার মেয়াদ বাড়ল

কৃষি প্রণোদনার মেয়াদ বাড়ল আর্থিক সংকট মোকাবিলায় কৃষকের জন্য প্রণোদনা তহবিল গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ছবি: নিউজবাংলা
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে জামানতবিহীন ও সহজ শর্তে মাত্র ৪ শতাংশ সুদহারে ঋণ নিতে পারছেন কৃষকরা। অংশগ্রহণকারী ব্যাংক নিজস্ব কৃষক ও গ্রাহক পর্যায়ে এ তহবিলের আওতায় ঋণ বিতরণ করছে। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের জন্য এককভাবে জামানতবিহীন সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ঋণ দেয়া হচ্ছে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকট মোকাবিলায় কৃষকের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রণোদনার এ তহবিল থেকে ঋণ বিতরণের মেয়াদ তিন মাস বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা দিয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুসারে, পুনঃ অর্থায়ন তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ করা যাবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। যা ছিল চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব এ তহবিল থেকে জামানতবিহীন ও সহজ শর্তে মাত্র ৪ শতাংশ সুদহারে ঋণ নিতে পারছেন কৃষকরা। অংশগ্রহণকারী ব্যাংক নিজস্ব কৃষক ও গ্রাহক পর্যায়ে এ তহবিলের আওতায় ঋণ বিতরণ করছে। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের জন্য এককভাবে জামানতবিহীন সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ঋণ দেয়া হচ্ছে।

এর আগে কৃষকদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ তহবিল থেকে তখন ১ লাখ ৮৩ হাজার ৭০ জন গ্রাহককে ৪ হাজার ২৯৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে ব্যাংকগুলো। বিতরণ করা এ অর্থ স্কিমের তহবিলের ৮৫ দশমিক ৯০ শতাংশ।

কৃষি খাতে চলতি মূলধন সরবরাহের উদ্দেশ্যে ‘কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয়তা পায়। স্কিমের এ অর্থ সাধারণ কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করেছে, এমন ১৭টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীকে প্রশংসাপত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রণোদনার এ তহবিল থেকে এবারের ঋণ বিতরণের মেয়াদ তিন মাস বাড়ানোর ফলে বেশি সংখ্যাক কৃষককে স্কিমের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
বিশেষ প্রণোদনার ঋণ পেয়েছেন ১ লাখ ৮৩ হাজার কৃষক
প্রণোদনার সার-বীজ পাচ্ছেন না ‘প্রকৃত কৃষক’
হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পাবে প্রণোদনা
প্রণোদনার ঋণ নিশ্চিতে হটলাইন চালুর চিন্তা

মন্তব্য

p
উপরে