× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
NBR against the opportunity to launder money
hear-news
player
google_news print-icon

টাকা সাদা করার সুযোগের বিপক্ষে এনবিআর

টাকা-সাদা-করার-সুযোগের-বিপক্ষে-এনবিআর
সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এনবিআর এই সুযোগ আর দিতে না চাইলেও অর্থমন্ত্রী তা অব্যাহত রাখার পক্ষে। তিনি মনে করেন, দেশ থেকে টাকা পাচার বেড়ে গেছে। এটা বন্ধ করতে হলে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ দেয়ার বিকল্প নেই।

প্রতি বছর জাতীয় বাজেটের আগে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট মহলে একটি বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। তা হলো নতুন বাজেটেও কালো টাকা (অপ্রদর্শিত আয়) সাদা করার সুযোগ থাকছে কি না।

ব্যতিক্রম নয় এবারও। অবশ্য বিদায়ী অর্থবছরে (২০২১-২২) ‘অতিরিক্ত’ জরিমানা দিয়ে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেয়া আছে। আগামী ৩০ জুন এই সুযোগের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।

অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগটি আসন্ন বাজেটেও থাকছে নাকি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এখনও। তবে এ ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অবস্থান বিপক্ষে। সে জন্য আসন্ন বাজেটে বিদ্যমান সুযোগটি বহাল রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে না।

এনবিআরের এই অবস্থান সত্ত্বেও এটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না যে আগামী বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে না।

বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক ইস্যু। ফলে শেষ মুহূর্তে সরকারের শীর্ষ মহল থেকে এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত আসবে তা-ই চূড়ান্ত।

সরকারে নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এনবিআর এই সুযোগ আর দিতে না চাইলেও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তা অব্যাহত রাখার পক্ষে। অর্থমন্ত্রী মনে করেন, দেশ থেকে টাকা পাচার বেড়ে গেছে। এটা বন্ধ করতে হলে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ দেয়া ছাড়া আপাতত অন্য কোনো বিকল্প নেই।

বিদ্যমান সুযোগটি বহাল থাকলে অন্তত কিছু হলেও দেশ থেকে টাকা পাচার কমবে এবং তা অর্থনীতির মূল স্রোতে ফিরে আসবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেই এ বিষয়ে বাজেটে চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী।

এদিকে বারবার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ায় সরকারের সমালোচনা করেছেন দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেন, ‘ন্যায়বিচারের পরিপন্থি এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সৎ করদাতাদের প্রতি অবিচার করা হয়। তা ছাড়া সুযোগটা দেয়া হলেও কালো টাকার মালিকদের পক্ষ থেকে তেমন একটা সাড়াও মেলে না।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সব সরকারই টাকা বৈধ করার সুযোগ দিয়ে এসেছে। সবশেষ চলতি অর্থবছরে শর্ত সাপেক্ষে এই সুযোগ দেয় আওয়ামী লীগ সরকার।

অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকাকে অর্থনীতির মূল ধারায় আনতে ও দেশে বিনিয়োগ চাঙা করতে চলতি অর্থবছরে শেয়ারবাজার, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, নগদ অর্থ, সঞ্চয়পত্র, জমি ও অ্যাপার্টমেন্ট কিনতে টাকা বৈধ করার সুযোগ দেয়া হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, কেউ উল্লিখিত খাতগুলোতে প্রযোজ্য হার এবং তার সঙ্গে ‘অতিরিক্ত’ ৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার ঘোষণা দিতে পারেন। এ জন্য এনবিআর, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কিংবা সরকারের অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা তাদের আয়ের উৎস নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলবে না।

আগের অর্থবছরে ওইসব খাতে শুধু ১০ শতাংশ কর দিয়ে ঢালাওভাবে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এ কারণে মোটামুটি সাড়াও মিলেছিল। কিন্তু এবার শর্ত কিছুটা কঠোর করায় তেমন সাড়া মেলেনি।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও আইএমএফের সাবেক কর্মকর্তা ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে অন্যায় করছে সরকার। তা ছাড়া যে উদ্দেশ্যে সরকার এই সুযোগটা দেয় তা অর্জিত হয় না। এটি দেয়ার ফলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়।’

এনবিআরের সবশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে শেয়ারবাজার, নগদ টাকাসহ বিভিন্ন খাতে সরকার যে সুযোগ দিয়েছে তাতে কালো টাকার মালিকদের পক্ষ থেকে কম সংখ্যায়ই আগ্রহ মিলেছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে মাত্র ২ হাজার ৩১৩ জন ঘোষণা দিয়ে টাকা সাদা করার সুযোগ নেন। এর বিপরীতে সরকার কর পেয়েছে মাত্র ৯৫ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরে ১২ হাজারের বেশি মানুষ এই সুযোগ নিয়েছিল। বিপরীতে সরকার প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা কর পায়।

এবার সাড়া কম কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে এনবিআরের বেশ কজন কর্মকর্তা বলেন, কঠোর শর্ত। কর হার অত্যন্ত বেশি। এতে বেশি করারোপের কারণে আগ্রহ দেখাচ্ছে না সংশ্লিষ্টরা। কালো টাকা সাদা করতে হলে এখনকার নিয়মে একজন করদাতাকে সর্বোচ্চ ২৭ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়। এত বেশি কর দিয়ে টাকা বৈধ করতে অনেকেই নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

এনবিআরের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের ৮ মাসে সবচেয়ে বেশি টাকা সাদা হয়েছে নগদ অর্থ, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ ও সঞ্চয়পত্রে। ২ হাজার ২৫৮ জন করদাতা এসব খাতে টাকা বৈধ করার ঘোষণা দেন। কর আহরণ হয় প্রায় ৯৩ কোটি টাকা।

কালো টাকার মালিকদের পক্ষ থেকে এবার শেয়ারবাজারেও তেমন একটা সাড়া মেলেনি। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৪৬ জন শেয়ার, ডিবেঞ্চার ও সরকার অনুমোদিত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করেছেন। এ থেকে কর আহরণ হয় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

গত বছর ২৮৬ জন শেয়ারবাজারে টাকা সাদা করেছিলেন। এর বিপরীতে কর আহরণ হয় ৪০ কোটি টাকা।

করোনা মহামারির কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ চাঙা করতে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবারের বাজেটে। বলা হয়েছে, উৎপাদনমুখী যেকোনো শিল্প খাতে নতুন করে বিনিয়োগ করলে তার আয়ের উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে না। কিন্তু তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মাত্র ৯ জন উদ্যোক্তা এতে সাড়া দেন।

এনবিআরের সাবেক সদস্য আমিনুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান আইনে ভলান্টারি ডিসক্লোজার বা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে কালো টাকা বৈধ করার যে সুযোগ আছে, এটি প্রায় অকার্যকর। নতুন নিয়মে যে সুযোগ দেয়া হয়েছে তা-ও একই ধরনের। এতেও তেমন সাড়া মেলেনি।’

এবারের বাজেটের বাইরে আরও তিনটি খাতে আগে থেকেই কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ বহাল রয়েছে। ১০ শতাংশ কর দিয়ে হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ করলে আয়ের উৎস সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করা হবে না। রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে বিনিয়োগেও একই সুবিধা দেয়া আছে।

এ ছাড়া সিটি ও পৌর করপোরেশনের মধ্যে এলাকাভেদে ফ্ল্যাটে প্রতি বর্গমিটারে নির্ধারিত কর দিয়ে টাকা বৈধ করা যায়। আর স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে জরিমানা দিয়ে টাকা সাদা করার স্থায়ী সুযোগ অনেক আগে থেকেই দেয়া আছে।

আরও পড়ুন:
বাজেটে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব
৯ জুন চাপ সামলানোর বাজেট দেবেন অর্থমন্ত্রী
ধনীদের কর বাড়িয়ে গরিবের ভাতা বাড়ান: সিপিডি
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায় ভ্যাট কমানোর দাবি ব্যবসায়ীদের
বাজেটে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ অগ্রাধিকার পাবে: অর্থমন্ত্রী

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
No longer a fund in the sense of reserve Governor

রিজার্ভের অর্থে আর তহবিল নয়: গভর্নর

রিজার্ভের অর্থে আর তহবিল নয়: গভর্নর সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার। ছবি: নিউজবাংলা
রপ্তানি খাতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গঠন করা রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত থেকে অর্থ নেয়া হয়েছিল। এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে যে এই তহবিল থেকে বিতরণ করা অর্থ সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ তহবিলের অর্থ ফেরত আসার পর নতুন করে আর তা বিতরণ করা হবে না।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে আপাতত আর কোনো তহবিল গঠন করা হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি একথা জানান। বলেন, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে দেয়া অর্থ ‘সমন্বয়’ করে এর আকার ধীরে ধীরে কমানো হবে। ইতোমধ্যে ইডিএফের ১০০ কোটি ডলার সমন্বয় হয়েছে।

রপ্তানি খাতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল গঠন করেছিল এবং এর জন্য বৈদেশিক মুদ্রার মজুত থেকে অর্থ নেয়া হয়েছিল। এখন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে এই তহবিল থেকে বিতরণ করা অর্থ সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ তহবিলের অর্থ ফেরত আসার পর নতুন করে আর সেই অর্থ বিতরণ করা হবে না।

রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশ ও প্রসারে বাংলাদেশ ব্যাংক গঠিত ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে ঋণ নিতে চুক্তি করেছে ৪৯টি ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্যাংকগুলো মাত্র দেড় শতাংশ সুদে এ ঋণ পাবে। গ্রাহক পর্যায়ে ৪ শতাংশ সুদে এ তহবিল থেকে কাঁচামাল কেনা বা আমদানির বিপরীতে রপ্তানিকারকদের দেশি মুদ্রায় ঋণ নেয়ার সুযোগ রয়েছে।

গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে এই চুক্তি সই হয়। চুক্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পরিচালক মাকসুদা বেগম এবং স্ব-স্ব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা সই করেন।

এ সময় গভর্নর বলেন, নতুনভাবে গঠিত ১০ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন তহবিলটিও দেশের রপ্তানি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। রপ্তানি সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন তহবিল থেকে অর্থায়ন কার্যক্রম শিগগির শুরু হবে। মাত্র ৪ শতাংশ সুদে এ তহবিল থেকে কাঁচামাল কেনা বা আমদানির বিপরীতে প্রত্যক্ষ ও প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকদের দেশি মুদ্রায় ঋণ নেয়ার সুযোগ থাকবে। এর মেয়াদ হবে ১৮০ দিন। এই ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংক পর্যায়ে সুদ হার হবে ১ দশমিক ৫ শতাংশ।

আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, করোনা মহামারি-পরবর্তী অর্থনৈতিক অভিঘাত ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিরূপ অবস্থা বিরাজ করছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিকতর অভিঘাত সহনশীল করার পাশাপাশি এ খাতের বিকাশ ও প্রসারের চলমান ধারা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্পূর্ণ অর্থায়নে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি রপ্তানি সহায়ক ‘প্রাক-অর্থায়ন তহবিল’ গঠন করা হয়।

তিনি বলেন, সমাজের দরিদ্র ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর আর্থিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক নিরন্তর কাজ করে চলেছে। সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। কৃষক, নারী উদ্যোক্তা, কুটির শিল্পসহ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ উদ্যোক্তা এবং রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীদের জন্য বেশ কয়েকটি প্রণোদনা ঋণ প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এছাড়া ব্যাংকগুলোকে নীতি সহায়তা প্রদান, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় অধিকতর মানুষকে জাতীয় উৎপাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মো. নাছের নতুন এই তহবিলের বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাগুলো তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি নির্বাহী পরিচালক নূরুন নাহার তহবিল সম্পর্কে ধারণা সংবলিত একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেন।

এ সময় সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আফজাল করিম, অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর. এফ. হোসেন তাদের বক্তব্যে তহবিলটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন:
ব্যাংকের ৬০ শতাংশ উপ-শাখা সিটি ও পৌরসভার বাইরে হবে
বৈদেশিক মুদ্রায় দীর্ঘমেয়াদি ঋণে সুদ হার কমল
রোজার পণ্য আমদানির এলসি খুলতে গভর্নরের নির্দেশ
পুনঃ অর্থায়ন তহবিলের ঋণ নিতে ৫০ ব্যাংকের চুক্তি
২৭৭৫ অফিসার নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Withdrawal of CandF agents strike

সিএন্ডএফ এজেন্টদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

সিএন্ডএফ এজেন্টদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিএন্ডএফ) এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মবিরতি। ছবি: নিউজবাংলা
সোমবার সকাল নয়টা থেকে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে দুই দিনের কর্মবিরতি শুরু করে সিএন্ডএফ এজেন্টরা। কাস্টমস এজেন্টস লাইসেন্সিং বিধিমালা-২০২০ ও পণ্য চালান শুল্কায়নে এইচএস কোড ও সিপিসি নির্ধারণে প্রণীত বিভিন্ন বিতর্কিত আইন বাতিলের দাবিতে দেশের নৌ, বিমান ও স্থল বন্দরগুলোতে এই কর্মবিরতির ডাক দেন তারা।

বিভিন্ন দাবিতে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিএন্ডএফ) এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা দুই দিনের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথ আলোচনা সভার মাধ্যমে ফেডারেশনের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়ায় সোমবার বিকেল তিনটার দিকে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিএন্ডএফ) এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব সুলতান হোসাইন খান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি পূরণে এনবিআর চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে যৌথ আলোচনা সভার আশ্বাস দেয়ায় আমরা কর্মবিরতি সাময়িক স্থগিত করেছি। এখন ৭ ফেব্রুয়ারি আলোচনা সভার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ওইদিন আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হবে।’

এর আগে সোমবার সকাল নয়টা থেকে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে দুই দিনের কর্মবিরতি শুরু করে সিএন্ডএফ এজেন্টরা। কাস্টমস এজেন্টস লাইসেন্সিং বিধিমালা-২০২০ ও পণ্য চালান শুল্কায়নে এইচএস কোড ও সিপিসি নির্ধারণে প্রণীত বিভিন্ন বিতর্কিত আইন বাতিলের দাবিতে দেশের নৌ, বিমান ও স্থল বন্দরগুলোতে এই কর্মবিরতির ডাক দেন তারা।

আরও পড়ুন:
দুই দিনের কর্মবিরতিতে সিএন্ডএফ এজেন্টরা
চা-বাগানে ফের ক্ষোভ
বাঘাবাড়ীতে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি দ্বিতীয় দিনে
শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে বন্ধ লঞ্চ, বিপা‌কে বরিশালের যাত্রীরা
বরিশালে নৌযান শ্রমিকদের বিক্ষোভ মিছিল

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Bajus Jewelery Fair starts on February 9

বাজুস জুয়েলারি মেলা শুরু ৯ ফেব্রুয়ারি

বাজুস জুয়েলারি মেলা শুরু ৯ ফেব্রুয়ারি
বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ বলেন, ‘এবার নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে এ মেলা। গত বারের চেয়ে এবারের মেলায় অনেক ভিন্নতা থাকবে। এবার আরেকটু গোছানো থাকবে।’

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) উদ্যোগে দেশে দ্বিতীয়বারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে ‘বাজুস ফেয়ার-২০২৩’। তিন দিনব্যাপী এই মেলা শুরু হবে ৯ ফেব্রুয়ারি।

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) ৪ নম্বর হলে আয়োজন হতে যাওয়া এই মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে।

বাজুসের পক্ষ থেকে রোববার নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ বলেন, ‘এবার নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে এ মেলা। গত বারের চেয়ে এবারের মেলায় অনেক ভিন্নতা থাকবে। এবার আরেকটু গোছানো থাকবে।

‘গতবারের চেয়ে এবার মেলা নিয়ে আমরা অনেক বেশি আশাবাদী। জুয়েলারি শিল্পকে দেশ-বিদেশে নতুন করে তুলে ধরতে এ মেলার আয়োজন করছে বাজুস।’

আরও পড়ুন:
বাজুসের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মাতালেন মমতাজ
স্বর্ণের দামে রেকর্ড, ভরি ৮৭ হাজার টাকা ছাড়াল
‘বসুন্ধরা গোল্ড রিফাইনারি মার্চে উৎপাদনে যাবে’
সোনা চোরাচালান রোধে কাজ করতে চায় বাজুস
চোরাচালানে জব্দ সোনার ২৫ শতাংশ পুরস্কারের প্রস্তাব বাজুসের

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Postal and Telecommunication Medal 2023 won cash

ডাক ও টেলিযোগাযোগ পদক-২০২৩ জিতল নগদ

ডাক ও টেলিযোগাযোগ পদক-২০২৩ জিতল নগদ ‘নগদ’-এর করপোরেট কমিউনিকেশন ডিরেক্টর মোহাম্মদ সোলাইমান ও হেড অব পাবলিক কমিউনিকেশন্স মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করছেন। ছবি: নিউজবাংলা
পুরস্কার গ্রহণের পর নগদ’-এর করপোরেট কমিউনিকেশন-এর ডিরেক্টর মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ‘যেকোনো পুরস্কার প্রাপ্তি অত্যন্ত গর্বের ব্যাপার। নগদ সবসময় নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে মানুষের পাশে থাকতে চায়।

বাংলাদেশ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ আয়োজিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা-২০২৩’-এর ডাক ও টেলিযোগাযোগ পদক-২০২৩ জিতেছে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অবদান রাখায় নগদকে এই পুরস্কার দেয়া হয়।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শনিবার ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘নগদ’-এর করপোরেট কমিউনিকেশন ডিরেক্টর মোহাম্মদ সোলাইমান ও হেড অব পাবলিক কমিউনিকেশন্স মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ইলেকট্রনিক কেওয়াইসি ও *১৬৭# চেপে অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি উদ্ভাবন করে নগদ একটা বিপ্লব করেছে। আমরা যে উদ্ভাবনী শক্তির কথা বলছি, তা করে দেখিয়েছে ডাক বিভাগের এই সেবাটি। সে জন্যই তাদের সম্মানিত করা।’

পুরস্কার গ্রহণের পর নগদ’-এর করপোরেট কমিউনিকেশন-এর ডিরেক্টর মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ‘যেকোনো পুরস্কার প্রাপ্তি অত্যন্ত গর্বের ব্যাপার। নগদ সবসময় নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে মানুষের পাশে থাকতে চায়। সেই পথে আমাদের উদ্ভাবন যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পুরস্কার পেল, এটা পুরো দেশের জন্য একটা অর্জন। সমস্ত নগদ পরিবারের পক্ষ থেকে আমি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

তিন দিনের এই আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদার এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক।

মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্টলের পাশাপাশি ছিল নগদ-এর আকর্ষণীয় একটি স্টল। সেখানে মানুষের ভিড় জমেছিল নগদ-এর বিভিন্ন সুবিধা ও ফিচার সম্পর্কে জানতে। এ ছাড়া এই স্টলে ভিআর ফুটবল খেলার ব্যবস্থা ছিল। যা অনেক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ আয়োজন করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ পুরস্কার। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস-এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নগদ-কে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে মাত্র চার বছরেরও কম সময়ে নগদ-এর উন্নতি এবং উদ্ভাবনকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পুলিশের জন্য ‘নগদে’র চার্জ ফ্রি লেনদেন
নগদে মাস্টারকার্ড থেকে অ্যাড মানি করলে ২০০ টাকা বোনাস
নগদ-দারাজ পেমেন্টে ক্যাশব্যাক
ব্যবসায়িক সহযোগীদের নিয়ে ‘নগদ’-এর ‘সিনে নাইট’
মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নগদের কর্মশালা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Foreign loan assistance commitments fell by 60 percent

বিদেশি ঋণ-সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমেছে ৬০ শতাংশ

বিদেশি ঋণ-সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমেছে ৬০ শতাংশ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে বিদেশি ঋণ-সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমে গেছে অর্ধেকেরও বেশি। ফাইল ছবি
অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর মনে করেন- সরকার আইএমএফ-এর পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও এআইআইবি’র কাছ থেকে বাড়তি বাজেট সহায়তার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ঋণ পাওয়া গেলেও অর্থবছর শেষে মোট ঋণ-সহায়তার পরিমাণ ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে না।

যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বেশ চাপে পড়েছে। অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর পাশাপাশি রিজার্ভ নেমে এসেছে ৩২ বিলিয়ন ডলারে। এই চাপ সামাল দিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এখন কম সুদের বিদেশি ঋণ-সহায়তা। কিন্তু তেমনটি না হয়ে উল্টো কমছে।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ৪৪০ কোটি (৪.৪০ বিলিয়ন) ডলার ঋণ-সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দাতারা।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে তা ১৭৬ কোটি ২২ লাখ (১.৭৬ বিলিয়ন) ডলারে নেমে এসেছে। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বিদেশি ঋণ-সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমেছে ৬০ শতাংশ।

এই ছয় মাসে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ৩৭৮ কোটি ৫ লাখ (৩.৭৮ বিলিয়ন) ডলারের ঋণ-সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ কম। গত বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ৪১৭ কোটি ৬০ লাখ (৪.১৭ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) ডলারের বেশি বিদেশি ঋণ পেয়েছিল বাংলাদেশ, যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি। দুই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় চাপে পড়া অর্থনীতিকে সামাল দিতে কম সুদের বিশাল অঙ্কের এই ঋণ বেশ অবদান রেখেছিল।

কিন্তু সেই জোয়ার আর নেই। সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক এডিবি (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) কাছ থেকে বাড়তি বাজেট সহায়তার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ঋণ পাওয়া গেলেও এবার অর্থবছর শেষে মোট ঋণ-সহায়তার পরিমাণ ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর।

তবে আশার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) কাছ থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী ঋণ-সহায়তা পাওয়া গেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে জাপান, ৯২ কোটি ১৬ লাখ ১০ হাজার ডলার। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই ছয় মাসে মোট বিদেশি ঋণের ২৪ দশমিক ৩৭ শতাংশই দিয়েছে জাইকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) রোববার বিদেশি ঋণপ্রবাহের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় বিদেশি ঋণপ্রবাহের উল্লম্ফন নিয়ে শুরু হয়েছিল ২০২২-২৩ অর্থবছরে। প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ৪৯ কোটি ডলারের বিদেশি ঋণ-সহায়তা এসেছিল, যা ছিল গত জুলাইয়ের চেয়ে ৪৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। কিন্তু দ্বিতীয় মাস আগস্টে এসে হোঁচট খায়। ওই মাসে ৩৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের ঋণ ছাড় করে দাতারা, যা ছিল আগের মাস জুলাইয়ের চেয়ে প্রায় ২৩ শতাংশ কম।

পরের দুই মাস সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে অবশ্য কিছুটা বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে আসে ৪৮ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। আর অক্টোবরে আসে ৬২ কোটি ১৪ লাখ ডলার। নভেম্বর মাসে তা কমে ৪৯ কোটি ডলারে নেমে আসে।

বিদেশি ঋণ-সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমেছে ৬০ শতাংশ

সবশেষ গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে অবশ্য বিদেশি ঋণ-সহায়তার অঙ্ক বেশ বেড়েছে; এই মাসে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ১৩২ কোটি ডলার এসেছে। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ বিদেশি ঋণ কম এসেছে দেশে।

‘এই মুহূর্তে কম সুদের বিদেশি ঋণ খুবই প্রয়োজন’ মন্তব্য করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অর্থনীতির বিশ্লেষক আতিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের রিজার্ভ চাপের মধ্যে আছে। এই চাপ সামলাতে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকাসহ বিভিন্ন দাতাসংস্থার ঋণ প্রয়োজন। এসব সংস্থার পাইপলাইনে যেসব ঋণ আছে, সেগুলো দ্রুত আনতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

‘সুখের খবর হচ্ছে, আইএমএফ ঋণ দিচ্ছে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই এই ঋণের প্রথম কিস্তি পাওয়া যাবে। বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ অন্যরাও আশ্বাস দিয়েছে। এসব ঋণ যত দ্রুত পাওয়া যাবে, ততই মঙ্গল। তাতে সরকার সহজেই সংকট মোকাবিলা করতে পারবে। আমার বিশ্বাস, ২০২৩ সাল থেকেই সরকার সাহস সঞ্চার করে ঘুরে দাঁড়াবে। অর্থনীতিও আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।’

অর্থনীতির আরেক গবেষক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘বৈশ্বিক কারণে পৃথিবীর অনেক দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বেশ চাপের মধ্যে পড়েছে। এ চাপ সামলাতে এই মুহূর্তে কম সুদের বেশি বেশি বিদেশি ঋণের খুব দরকার ছিল। কিন্তু উল্টো কমে যাচ্ছে। সরকারকে চাপমুক্ত হতে বেগ পেতে হচ্ছে।

‘যুদ্ধের ধাক্কা সামাল দিতে বাংলাদেশের মতো অনেক দেশকে দাতাদের সহায়তা করতে হচ্ছে। সে কারণে এবার ঋণটা একটু কম আসছে। তবে ফেব্রুয়ারিতে যদি আমরা আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তিটা পেয়ে যাই, তাহলে কিন্তু আমাদের সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। রিজার্ভ কমার যে ধারা রয়েছে, সেটা আর থাকবে না।’

এই অর্থবছরে বিদেশি ঋণ কমার কারণ ব্যাখ্যা করে দীর্ঘদিন আইএমএফের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর বলেন, ‘দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা মহামারি করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে গত অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ঋণ-সহায়তা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু এখন তো আর কোভিডের ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশকে ঋণ নিতে হচ্ছে দাতা সংস্থাগুলোকে। সে কারণেই বিদেশি ঋণ কমছে। আমার মনে হচ্ছে, এবার গতবারের চেয়ে ঋণ বেশ খানিকটা কম আসবে।’

ইআরডির তথ্যে দেখা যায়, জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে দাতাদের কাছ থেকে যে ৩৭৮ কোটি ডলারের ঋণ-সহায়তা পাওয়া গেছে, তার মধ্যে প্রকল্প সাহায্য এসেছে ৩৫৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার। আর অনুদান পাওয়া গেছে ২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময় প্রকল্প সাহায্য পাওয়া গিয়েছিল ৪০২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। অনুদান এসেছিল ১৬ কোটি ৭ লাখ ডলার।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭৯৫ কোটি ৭৫ লাখ ৬০ হাজার (৭ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন) ডলার ঋণ-সহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ। তার আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসেছিল ৭৩৮ কোটি (৭ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন) ডলার।

বাংলাদেশে বিদেশি ঋণ বাড়তে থাকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে। ওই বছরই এক লাফে অর্থ ছাড় ৩০০ কোটি থেকে ৬৩৭ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। তারপর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আসে ৬৫৪ কোটি ডলার।

সবচেয়ে বেশি ঋণ-সহায়তা জাপানের

বরাবরের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি ঋণ-সহায়তা পাওয়া গেছে জাইকার কাছ থেকে। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে সংস্থাটি বাংলাদেশকে মাত্র ৩৪ কোটি ১০ লাখ ডলার ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে; ছাড় করেছে প্রায় ১ বিলিয়ন (৯২ কোটি ১৬ লাখ) ডলার অর্থ ছাড় করেছে। এই ছয় মাসে মোট বিদেশি ঋণের ২৪ দশমিক ৩৭ শতাংশই দিয়েছে জাইকা।

এডিবি দিয়েছে ৫৬ কোটি ৭৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার, প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ৩৮ কোটি ৩২ লাখ ডলার। বিশ্বব্যাংক ছাড় করেছে ৫৪ কোটি ৪ লাখ ডলার, প্রতিশ্রুতির অঙ্ক ৩০ কোটি ডলারের। চীনের কাছ থেকে পাওয়া গেছে ৫৩ কোটি ৫০ লাখ ৬০ হাজার ডলার; কোনো প্রতিশ্রুতি মিলেনি। এ ছাড়া ভারত দিয়েছে ১৬ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। এ ছাড়া রাশিয়ার কাছ থেকে পাওয়া গেছে প্রায় ৪৪ কোটি ডলার। এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) দিয়েছে ২৫ কোটি ডলার।

সুদ পরিশোধ বেড়েছে

জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে আগে নেয়া ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ১০৫ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। গত বছরের একই সময়ে সুদ-আসল বাবদ প্রায় একই পরিমাণ ১০৪ কোটি ৪ লাখ ডলার শোধ করা হয়েছিল। এ হিসাবে এই পাঁচ মাসে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে সুদ-আসল পরিশোধ বাবদ ১ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে সরকারকে।

আরও পড়ুন:
বিদেশি ঋণে ভাটা, ৫ মাসে কমেছে ২০.৩০ শতাংশ
বিদেশি ঋণেও যুদ্ধের ধাক্কা, ৪ মাসে কমল ২৫ শতাংশ
বিদেশি ঋণে সেই জোয়ার আর নেই
বিদেশি মুদ্রায় ঋণের সুদহার বাড়িয়ে আগের অবস্থানে বাংলাদেশ ব্যাংক
বিদেশি ঋণে হোঁচট

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Walton Plaza is confident of being the top sales network in the country
চ্যালেঞ্জারস সামিট-২০২৩

দেশের শীর্ষ সেলস নেটওয়ার্ক হওয়ার প্রত্যয় ওয়ালটন প্লাজার

দেশের শীর্ষ সেলস নেটওয়ার্ক হওয়ার প্রত্যয় ওয়ালটন প্লাজার ওয়ালটন প্লাজার ‘চ্যালেঞ্জারস সামিট-২০২৩’ অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে পুরস্কৃত কর্মকর্তাদের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত
চ্যালেঞ্জারস সামিটে ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং পার্টনার এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, ‘যারা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে নতুন কিছু সৃষ্টি করেন, তারাই হলেন চ্যালেঞ্জার। ওয়ালটন প্লাজার প্রতিটি সদস্য একেকজন চ্যালেঞ্জার। আর চ্যালেঞ্জারদের শক্তি দেশের অগণিত ক্রেতারা।'

ক্রেতাদের সবসময় সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে দাবি করে ওয়ালটন প্লাজার একা কর্মকর্তা বলেছেন, এ কারণেই ২০২২ সালে এর মুনাফা ৯৩ শতাংশ বেড়েছে। প্রবৃদ্ধির এই ধারা বজায় রেখে দ্রুতই দেশের শীর্ষ সেলস নেটওয়ার্ক হতে চায় ওয়ালটন প্লাজা।

তিনি আরও বলেছেন, লক্ষ্য পূরণে প্রতিষ্ঠানটি ওয়ানস্টপ সলিউশন চালু এবং কিস্তি ক্রেতা সুরক্ষা সহায়তা নীতিসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

ওয়ালটন প্লাজা আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জারস সামিট-২০২৩’ অনুষ্ঠানে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ হেডকোয়ার্টার্সে দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

‘আমরা সেরা ছিলাম, আমরা সেরা আছি, আমরা সেরা থাকব’ স্লোগানে সম্মেলনে অংশ নেন দেড় সহস্রাধিক প্লাজা ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজারসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

সম্মেলনে ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য ব্যবসা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। সেলস এক্সিকিউটিভদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেয় ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ।

ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং পার্টনার এস এম মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে ‘চ্যালেঞ্জার’স সামিট-২০২৩’-এর প্রধান অতিথি ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এস এম নূরুল আলম রেজভী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম, পরিচালক এস এম মঞ্জুরুল আলম, জাকিয়া সুলতানা ও নিশাত তাসনিম শুচি, ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও গোলাম মুর্শেদ এবং ওয়ালটন প্লাজার চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) মোহাম্মদ রায়হান।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও পরিচালনা করেন ওয়ালটনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর চিত্রনায়ক আমিন খান।

চ্যালেঞ্জারস সামিটে ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজিং পার্টনার এস এম মাহবুবুল আলম বলেন, ‘যারা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে নতুন কিছু সৃষ্টি করেন, তারাই হলেন চ্যালেঞ্জার। ওয়ালটন প্লাজার প্রতিটি সদস্য একেকজন চ্যালেঞ্জার। আর চ্যালেঞ্জারদের শক্তি দেশের অগণিত ক্রেতারা।

‘ক্রেতাদের কারণে ওয়ালটন আজ দেশ ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ড হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই তাদের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।’

ওই সময় তিনি ওয়ালটন প্লাজার জন্য ‘ক্রেতা তুমি আপনজন, ঘোর বিপদেও আমরা সাথী সারাক্ষণ’ শীর্ষক নতুন স্লোগান ঠিক করেন।

এস এম মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্যের বাজার পরিবর্তনশীল। মার্কেট কী ধরনের পরিবর্তন চায়, আমাদের সেলস এক্সিউিটিভরা হলেন তার বার্তাবাহক। তারা যদি সঠিক মেসেজ দেন, তবে আমরা সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যেতে পারব।’

গোলাম মুর্শেদ বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তি খাতে আমাদের অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে, কিন্তু ওয়ালটন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশের চিত্র পাল্টে গেছে। এখন প্রায় প্রত্যেক পরিবারেই ফ্রিজ-টিভির মতো ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য আছে। ক্রেতারা সবসময় আমাদের পাশে ছিলেন।

‘এর সঙ্গে আমাদের চৌকস সেলস টিমসহ সকল বিভাগের সদস্যদের নিরলস শ্রমে ওয়ালটন আজ শীর্ষ ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য বিশ্বজয়ের। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জটা অনেক বড়, যা আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।’

মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘ওয়ালটন প্লাজার সেলস ফাইটারগণ হচ্ছে বিশ্বের সেরা। ওয়ালটন পণ্য বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পণ্য। এমন শক্তিশালী সেলস বাহিনী এবং শ্রেষ্ঠ পণ্য থাকতে বিদেশি কোনো ব্র্যান্ড কিংবা পণ্য বাংলাদেশের বাজারে কখনোই সুবিধা করতে পারবে না। দেশের বাজারে সবসময় আমরাই শীর্ষে থাকব।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বে একমাত্র ওয়ালটন প্লাজাই কিস্তি ক্রেতা সুরক্ষা সহায়তা সুবিধা চালু করেছে। আমরা প্রতিটি ঘরে ওয়ানস্টপ সার্ভিস পৌঁছে দিচ্ছি। ২০২২ সালে ১২ লাখ ৫০ হাজার ক্রেতা আমাদের কাস্টমার ব্যাংকে যুক্ত হয়েছেন।

‘চলতি বছর আরও ১৮ লাখ কাস্টমার আমাদের ব্যাংকে যুক্ত হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতিটি বাড়ি ওয়ালটন প্লাজার কাস্টমার ব্যাংকের আওতায় আসবে। ওয়ালটন প্লাজা হবে দেশের শীর্ষ সেলস নেটওয়ার্ক।’

সম্মেলনে বিভিন্ন অঞ্চলের ওয়ালটন প্লাজা শাখার সেরা ম্যানেজার ও এরিয়া ম্যানেজাদের পুরস্কৃত করা হয়। সবশেষে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আরও পড়ুন:
অগ্নিনির্বাপক প্রযুক্তিযুক্ত টিভি উদ্ভাবন ওয়ালটনের
বাজারে ওয়ালটনের ‘অরবিট’ সিরিজের স্মার্টফোন
আয়ারল্যান্ডে ওয়ালটন স্মার্ট টিভিতে ব্যাপক সাড়া
নতুন মেকানিক্যাল কিবোর্ড আনল ওয়ালটন
স্টার ব্র্যান্ড প্রোমোটার কার্যক্রম শুরু করল ওয়ালটন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Corruption Major Obstacles to Business Survey

ব্যবসায় প্রধান বাধা দুর্নীতি: জরিপ

ব্যবসায় প্রধান বাধা দুর্নীতি: জরিপ উদ্যোক্তা মতামত জরিপের ফল প্রকাশ করে রোববার এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। ছবি: নিউজবাংলা
রাজধানীর ধানমন্ডি কার্যালয়ে ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সিপিডি জানায়, জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬৪.৬ শতাংশ ব্যবসায়ী দুর্নীতিকে তাদের ব্যবসার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখেছেন। লাইসেন্স নেয়া কিংবা কর দেয়ার মতো কাজে গিয়ে তাদের ঘুষ দিতে হয়েছে।

দেশে ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা দুর্নীতিকেই প্রধান বাধা হিসেবে দেখছেন বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

গত বছরের এপ্রিল থেকে জুলাইয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে জরিপের সময় ব্যবসায়ীরা এমন মত দেন বলে জানায় সংস্থাটি।

ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম বিশ্বজুড়ে এ জরিপ পরিচালনা করে। গত দুই দশকের মতো গত বছরও সংস্থাটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশে জরিপের কাজে অংশ নেয় সিপিডি।

উদ্যোক্তা মতামত জরিপের ফল প্রকাশ করে রোববার এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

রাজধানীর ধানমন্ডি কার্যালয়ে ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সিপিডি জানায়, জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬৪.৬ শতাংশ ব্যবসায়ী দুর্নীতিকে তাদের ব্যবসার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখেছেন। লাইসেন্স নেয়া কিংবা কর দেয়ার মতো কাজে গিয়ে তাদের ঘুষ দিতে হয়েছে।

সংস্থাটির ভাষ্য, ব্যবসায় অন্যান্য প্রধান সমস্যার মধ্যে রয়েছে অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া এবং অদক্ষ আমলাতন্ত্র, যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিতিশীলতা ও নীতি ধারাবাহিকতার অভাব। এসব কারণে দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

দেশে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসার পরিবেশ আরও খারাপ হয়েছে জানিয়ে সিপিডি বলেছে, বেসরকারি খাতে সুশাসন, নীতিশাস্ত্রের অভাব এবং দুর্বল তদারকির কারণে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের অবনতি হয়েছে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘২০২১-এর তুলনায় ২০২২ সালে ব্যবসার পরিবেশ দুর্বল ছিল। কর কাঠামোতে এখনও ভারসাম্য আনা যায়নি। সড়ক, রেল, নৌপথে অনেক অবকাঠামো মানসম্মত নয়।’

সুপারিশ

জরিপের ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে ব্যবসায়ীদের মত ও নিজেদের সুপারিশ পেশ করে সিপিডি।

ব্যবসায়ীরা মনে করেন, পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তুলতে বিদেশি সহযোগীদের কাছ থেকে আলাদা ঋণ আসা উচিত। এতে পরিবেশ দূষণ অনেকাংশে কমবে।

রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে ব্যবসায় মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রা সংকট ও অস্থিতিশীল নীতির মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মাথাচাড়া দিয়েছে জানিয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন ও সুদহারের সীমা উন্মুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি।

সংস্থাটির মতে, বাংলাদেশের আর্থিক খাতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্ত মেনে চলার অংশ হিসেবে ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধন, ঋণে সুদহারের সীমা তুলে নেয়া, বকেয়া ঋণে স্বচ্ছতা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটির (আইডিআরএ) কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, এনবিআর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের যথাযথ ভূমিকা পালন করা উচিত।

আরও পড়ুন:
অবশেষে সেই পাসপোর্ট কর্মকর্তা বদলি
৫৮২ কোটি টাকার সার আত্মসাৎ: বিসিআইসির কাছে ব্যাখ্যা চাইল হাইকোর্ট
বাজারে আগুন, ব্যবসায়ীর মৃত্যু
দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স বাংলাদেশে: ওআইসিকে আইনমন্ত্রী
‘ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নয়, অ্যাকশন নিন’

মন্তব্য

p
উপরে