× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

অর্থ-বাণিজ্য
Demand for resumption of closed sugar mills even with subsidy
hear-news
player
print-icon

ভর্তুকিতে হলেও বন্ধ চিনিকলগুলো চালুর দাবি

ভর্তুকিতে-হলেও-বন্ধ-চিনিকলগুলো-চালুর-দাবি
রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে শনিবার বন্ধ চিনিকলগুলো চালুর দাবিতে সেমিনার করেছেন শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্য পরিষদের নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা
বক্তারা বলেন, ডলারের দাম বাড়ছে হু হু করে। ফলে চিনির মতো অপরিহার্য খাদ্য আমদানি আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। সব দিক থেকে চিনির দামের ওপর ঊর্ধ্বগতি চাপ শুধু এখন অপেক্ষার বিষয়।

ভর্তুকি দিয়ে হলেও বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো অবিলম্বে চালুর দাবি জানিয়েছে পাটকল চিনিকল রক্ষায় শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র-জনতা ঐক্য পরিষদ।

রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে শনিবার এক সেমিনারে এ দাবি জানান সংগঠনের নেতারা।

সেমিনারে বলা হয়, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে চিনি একটি কৌশলগত খাদ্যপণ্য। বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক। ফলে দাম এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে সব সময় একটা অনিশ্চয়তা কাজ করে। এ থেকে স্বস্তি পেতে সাময়িক লোকসান হলেও ভর্তুকি দিয়ে এসব চিনিকলগুলো বাঁচিয়ে রাখা জরুরি।

একই সঙ্গে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে এর ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, লোকসান কমানো এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় এর বিকাশ ঘটানো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটেই এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান তারা। সেটি না করা হলে দেশের ১৭ কোটি ভোক্তাকে এর চরম খেসারত দিতে হবে বলেও দাবি করেন তারা।

সেমিনারে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের রাজেকুজ্জামান রতন ও বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম।

সেমিনারে ভোজ্যতেল, জ্বালানি তেল ও গমের পর চিনির বাজারেও অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

বক্তারা বলেন, ২০২০ সালের শেষ দিকে দেশের ১৫টি রাষ্ট্রীয় চিনিকলের মধ্যে ছয়টি রাষ্ট্রীয় চিনিকল বন্ধের ঘোষণা আসে। ২০২০-এর মাড়াই মৌসুমের পাবনা চিনিকল, কুষ্টিয়া চিনিকল, রংপুর চিনিকল, পঞ্চগড় চিনিকল, শ্যামপুর চিনিকল, সেতাবগঞ্জ চিনিকলের আখ মাড়াই বন্ধ করে উৎপাদিত চিনি পার্শ্ববর্তী চিনিকলগুলোয় মাড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বন্ধ হওয়ার পর থেকে দুটি মাড়াই মৌসুম চলে গেল। এ বছরের নভেম্বরে তৃতীয় মাড়াই মৌসুম শুরু হবে।

এরই মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন আগ্রাসন শুরুর পর বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে শুরু হয়েছে আসন্ন তীব্র খাদ্য সংকটের অশনিসংকেত। এ বছরের শুরু থেকে জ্বালানি তেলের মূল্য শুধু বাড়েনি, বেড়েছে ভোজ্যতেলের দামও। দুটি বৃহৎ গম রপ্তানিকারক দেশ ইউক্রেন-রাশিয়ার গম উৎপাদন ও গুদামজাতকরণ হুমকির মুখে গমের দাম বেড়ে গেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের চাহিদা বৃদ্ধি এবং মূল্য বেড়ে যাওয়ায় ভারত গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে। এখন চিনির দাম বেড়ে গেলে চিনি রপ্তানিতে ভারত কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না সে বিষয়েও কোনো নিশ্চয়তা নেই। ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ চিনি উৎপাদনকারী দেশ ব্রাজিলের চিনিকলগুলো চিনি রপ্তানির চুক্তি বাতিল করে আখ থেকে ইথানল উৎপাদন করে রপ্তানি করতে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে সব ধরনের জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় আখ থেকে উৎপাদিত বায়োফুয়েলের চাহিদা বেড়েছে।

ফলে চিনির চেয়ে আখ থেকে ইথানল উৎপাদন অধিক লাভজনক হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে চিনির বাজারে সংকট ঘনীভূত হবে এবং এ কারণে চিনির দাম বাড়ার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।

বক্তারা বলেন, ডলারের দাম বাড়ছে হু হু করে। ফলে চিনির মতো অপরিহার্য খাদ্য আমদানি আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। সবদিক থেকে চিনির দামের ওপর ঊর্ধ্বগতি চাপ শুধু এখন অপেক্ষার বিষয়।

সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, চিনিকলগুলো বন্ধ রাখার পর দেশের চিনির উৎপাদন পরপর দুই বছর ৪১ শতাংশ ও ৫৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অথচ বৈশ্বিক এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও এ সময়ে ভারতে ৪০ ও ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ ভারতে চিনিশিল্পের বিকাশ ঘটলেও দেশের চিনিশিল্প মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না।

সেমিনার থেকে আগামী অর্থবছরের বাজেটে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সাত দফা সুপারিশ করা হয়।

১. বন্ধ করে দেয়ার ছয়টি মিল পুনরায় চালু করা।

২. চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী স্থগিত মিলগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে। মিলগুলো বসিয়ে না রেখে এবং যন্ত্রপাতি নষ্ট হতে না দিয়ে অবিলম্বে মিলগুলো চালুর উদ্যোগ নেয়া।

৩. বকেয়া বেতন-ভাতা ১৩ কোটি ১১ লাখ টাকা, পিএফ বকেয়া ১১১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, গ্রাচুইটি বকেয়া ২৮৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা অবিলম্বে পরিশোধ করার জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখতে হবে।

৪. আখ ক্রয়ের জন্য ২৫ শতাংশ ভর্তুকি দিতে হবে।

৫. আখ চাষের জন্য ১৫টি চিনিকল সবগুলো চিনিকলসংলগ্ন এলাকায় আগের মতো ঋণ দিতে হবে।

৬. মিলগুলোর পুঞ্জিভূত ৩ হাজার ৮৫ কোটি টাকা মওকুফ করতে হবে।

৭. মিলগুলো পুনরায় চালুর পর সেগুলোকে কীভাবে লাভজনক করা যায়, তার সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে।

আরও পড়ুন:
বিকল্প পণ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা কুষ্টিয়া চিনিকলের
চিনি চুরিতে শুরু হয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত
চিনি চুরিতে সাধারণ ডায়েরি, নাম নেই কারো
গুদাম থেকে গায়েব ৫০ টন চিনি, স্টোরকিপার বরখাস্ত
পুরোপুরি বন্ধের পথে ৬ দশকের চিনিকল

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Bimans Toronto flight starts on July 26

বিমানের টরন্টো ফ্লাইট শুরু ২৭ জুলাই

বিমানের টরন্টো ফ্লাইট শুরু ২৭ জুলাই বোয়িং-৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে পরিচালিত হবে ঢাকা-টরন্টো ফ্লাইট। ছবি: নিউজবাংলা
প্রাথমিকভাবে ঢাকা-টরন্টো রুটে সপ্তাহে দুটি করে ফ্লাইট পরিচালিত হবে। ঢাকা থেকে প্রতি বুধবার ও রোববার বিমানের ফ্লাইট টরন্টোর উদ্দেশে যাত্রা করবে। একই দিন টরন্টো থেকে ফিরতি ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-টরন্টো রুটে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হচ্ছে ২৭ জুলাই। টরন্টো ফ্লাইটে ভ্রমণে ইচ্ছুকরা এখন থেকেই অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

রোববার প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশ-বিদেশে অবস্থিত বিমানের যে কোনো সেলস্ সেন্টার, বিমান অনুমোদিত যে কোনো ট্রাভেল এজেন্সি, বিমানের বাণিজ্যিক ওয়েবসাইট www.biman-airlines.com ও কল সেন্টার ০১৯৯০৯৯৭৯৯৭ থেকে এ রুটের টিকিট কেনা এবং আনুষঙ্গিক সেবাগুলো গ্রহণ করা যাবে।

তবে কানাডা থেকে আপাতত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট কেনা যাবে না। বিষয়টি এখনও অ্যাকটিভেশন পর্যায়ে রয়েছে।

বিমান বলছে, প্রাথমিকভাবে ঢাকা-টরন্টো রুটে সপ্তাহে দুটি করে ফ্লাইট পরিচালিত হবে। ঢাকা থেকে প্রতি বুধবার ও রোববার বিমানের ফ্লাইট টরন্টোর উদ্দেশে যাত্রা করবে। একই দিন টরন্টো থেকে ফিরতি ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে। রুটটিতে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে বিমানের বহরে থাকা বোয়িং-৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ।

ঢাকা থেকে যাওয়ার সময় ফ্লাইটটি তুরস্কের ইস্তানবুলে এক ঘণ্টার জন্য টেকনিক্যাল ল্যান্ডিং করবে। তবে ফিরতি ফ্লাইটটি সরাসরি ঢাকায় অবতরণ করবে বলে জানিয়েছে বিমান।

বাংলাদেশ থেকে ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণে একমুখী যাত্রার জন্য ভাড়া ঠিক করা হয়েছে সর্বনিম্ন ৯০ হাজার ৫১০ টাকা। আর রিটার্ন টিকিটের ভাড়া ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭০ টাকা।

প্রিমিয়াম ইকোনমি ক্লাসের একমুখী ভাড়া ১ লাখ ২৭ হাজার ৩০০ টাকা আর রিটার্ন ভাড়া ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫৫ টাকা।

আর বিজনেস ক্লাসের ক্লাসে ভ্রমণে একমুখী ভাড়া শুরু হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টাকা এবং রিটার্ন টিকিটের সর্বনিম্ন ভাড়া ঠিক করা হয়েছে ৩ লাখ ৪ হাজার ৩০২ টাকা।

টরন্টো থেকে যারা ঢাকায় আসবেন তাদের জন্য ইকোনমি ক্লাসে একমুখী ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৯০ কানাডিয়ান ডলার আর রিটার্ন টিকিটের দাম ১ হাজার ২৩৩ কানাডিয়ান ডলার।

প্রিমিয়াম ইকোনমি ক্লাসের ক্ষেত্রে একমুখী ভাড়া ১ হাজার ২৩০ কানাডিয়ান ডলার এবং রিটার্ন টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ২ হাজার ১৭৮ কানাডিয়ান ডলার। আর বিজনেস ক্লাসের ক্ষেত্রে একমুখী ভাড়া ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৬০ কানাডিয়ান ডলার এবং রিটার্ন টিকিটের দাম ধরা হয়েছে সর্বনিম্ন ৩ হাজার ৭৮ কানাডিয়ান ডলার।

আরও পড়ুন:
ফ্লাইটের ভাড়া নির্ধারণে বসছে সভা
বিমান অসুস্থ প্রতিযোগিতা করছে: এওএবি
কারিগরি ত্রুটি: বিমানের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ
অল্পের জন্য বাঁচল বিমানের ড্রিমলাইনার
দুবাইফেরত যাত্রীর কাছে সোয়া কেজি স্বর্ণ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Abdul Monem Limited was attached to the Padma Bridge

পদ্মা সেতুতে যুক্ত ছিল আব্দুল মোনেম লিমিটেড

পদ্মা সেতুতে যুক্ত ছিল আব্দুল মোনেম লিমিটেড
স্বপ্নের এই সেতুর ৫টি প্রকল্পের ৩টিই করেছে বাংলাদেশের নির্মাণ শিল্পের পথিকৃৎ এই প্রতিষ্ঠানটি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক, সার্ভিস এরিয়া, টোল প্লাজা, নদীশাসনসহ বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল দেশীয় প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেড। স্বপ্নের এই সেতুর ৫টি প্রকল্পের ৩টিই করেছে বাংলাদেশের নির্মাণ শিল্পের পথিকৃৎ এই প্রতিষ্ঠানটি।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রোববার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরলসভাবে যুক্ত ছিল একমাত্র দেশীয় প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেড। ঐতিহাসিক এই যাত্রায় জাতির স্বপ্ন বাস্তবায়নের গর্বিত অংশীদার প্রতিষ্ঠানটি। পুরো প্রকল্পে সেতুর গুনগত মান ঠিক রাখতে প্রায় এক কোটি আমেরিকান ডলার খরচ করে জার্মানি থেকে দুটি মেশিন নিয়ে আসার পাশাপাশি অন্যান্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতেও আব্দুল মোনেম লিমিটেড বিনিয়োগ করেছে।’

আবদুল মোনেম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনউদ্দিন মোনেম বলেন, ‘পদ্মা সেতুর ৫টি প্রকল্পের ৩টিই করেছি আমরা। এই প্রকল্পে একনিষ্ঠভাবে কাজ করতে গিয়ে আমরা আমাদের সক্ষমতা সম্পর্কে আরও একবার নিশ্চিত হয়েছি। ভবিষ্যতে দেশের আরও যেকোনো বড় প্রকল্পে আরও দক্ষতার সাথে অবদান রাখতে পারব বলে বিশ্বাস করে।’

আমাদের ওপর আস্থা রাখার জন্য এবং জাতির স্বপ্ন বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জনের গর্বিত অংশীদার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Jane Alam is the marketing head of Shanta Asset

শান্তা অ্যাসেটের বিপণন প্রধান হলেন জানে আলম

শান্তা অ্যাসেটের বিপণন প্রধান হলেন জানে আলম দেশের পরিচিত বিপণন ব্যক্তিত্ব জানে আলম রোমেল। ছবি: ফেসবুক থেকে নেয়া
শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান বলেন, ‘এফএমসিজি, এয়ারলাইনস, ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন এবং ইলেকট্রনিকস ইন্ডাস্ট্রির মতো বৈচিত্র্যময় কর্মক্ষেত্র রোমেলের অভিজ্ঞতাকে পরিণত ও সমৃদ্ধ করেছে। আমরা আশাবাদী, তার ভিন্নধর্মী চিন্তাধারা, বিপণন নিয়ে ভিন্ন কিছু করার অদম্য ইচ্ছা আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।’

দেশের জনপ্রিয় বিপণন ব্যক্তিত্ব জানে আলম রোমেল শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বিপণন, ডিজিটাল বিজনেস ও গ্রাহক পরিষেবার প্রধান হিসেবে সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন।

তিনি শান্তার পুঁজিবাজার ব্যবসার অঙ্গসংস্থাসমূহ শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট, শান্তা সিকিউরিটিজ এবং শান্তা ইকুইটির সামগ্রিক বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান বলেন, ‘এফএমসিজি, এয়ারলাইনস, ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন এবং ইলেকট্রনিকস ইন্ডাস্ট্রির মতো বৈচিত্র্যময় কর্মক্ষেত্র রোমেলের অভিজ্ঞতাকে পরিণত ও সমৃদ্ধ করেছে। আমরা আশাবাদী, তার ভিন্নধর্মী চিন্তাধারা, বিপণন নিয়ে ভিন্ন কিছু করার অদম্য ইচ্ছা আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।’

শান্তা অ্যাসেটে যোগদানের আগে জানে আলম রোমেল ছয় বছর আইডিএলসি ফাইন্যান্সের চিফ মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কাজ করেছেন।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ শেষ করার পর জানে আলম ২০০৫ সালে এমজিএইচ গ্রুপে তার কর্মজীবন শুরু করেন। পরে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস বাংলাদেশের বিক্রয় ও বিপণন প্রধান হিসেবে যোগ দেন।

কর্মজীবনের দীর্ঘ সময় তিনি আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মার্কেটিং কমিউনিকেশনের প্রধান এবং র‌্যাংগস ইন্ডাস্ট্রিজের মার্কেটিং প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

শান্তা আসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমরান হাসান বলেন, ‘জানে আলম রোমেলকে আমাদের মাঝে পেয়ে আমরা আনন্দিত। কাজের প্রতি তার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, কর্ম-উদ্দীপনা, বিক্রয় এবং বিপণনের বিস্তৃত অভিজ্ঞতা আমাদের আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা রাখি।’

আরও পড়ুন:
ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ধারা ভাঙছে ওয়্যার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Books worth crores of rupees wasted in Ban water

বানের জলে নষ্ট ‘কোটি টাকার’ বই

বানের জলে নষ্ট ‘কোটি টাকার’ বই বন্যার পানি ঢুকে পড়ে সিলেটের সবচেয়ে বড় বইয়ের মার্কেট রাজা ম্যানশনে। ছবি: নিউজবাংলা
রাজা ম্যানশন ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন রহিম বলেন, ‘বন্যার পানিতে মার্কেটের নিচতলার সবগুলো দোকান এবং প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কেবল বই ব্যবসায়ীদেরই ক্ষতি হয়েছে কোটি টাকার মতো।’

সিলেটের সবচেয়ে বড় বইয়ের মার্কেট রাজা ম্যানশন। গত ১৮ জুন এই মার্কেটে বন্যার পানি ঢুকে নিচের তলা পুরোপুরি ডুবে যায়। এতে কোটি টাকার বই নষ্ট হয়ে গেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

গত ১৫ জুন থেকে সিলেটে বন্যা দেখা দেয়। এর দুদিন পর থেকে ভয়ংকর রূপ নেয় বন্যা। ১৮ জুন সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় নগরের উঁচু এলাকাগুলোও। ওইদিন পানি ঢুকে পড়ে নগরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা জিন্দাবাজারের বেশির ভাগ শপিং মল ও দোকানপাটে।

পানি ঢোকে জিন্দাবাজার এলাকার রাজা ম্যানশনেও। মার্কেটের নিচতলার অর্ধশত বইয়ের দোকান, ছাপাখানা ও কম্পিউটারের দোকানে পানি ঢুকে পড়ে।

রাজা ম্যানশনের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১৬ জুন বৃহস্পতিবার রাতে তারা জিন্দাবাজার এলাকা পানিশূন্য অবস্থায় দেখে ঘরে ফেরেন। পরের দিন শুক্রবার মার্কেট বন্ধ ছিল। আর ১৮ জুন শনিবার সকালে এসে দেখতে পান পানিতে তলিয়ে গেছে মার্কেট। পানি ঢুকে পড়েছে নিচতলার সব দোকানে। অনেক দোকানে কোমর সমান পানিও জমা হয়।

বানের জলে নষ্ট ‘কোটি টাকার’ বই

তারা আরও জানান, পানিতে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বই ব্যবসায়ীরা। বইয়ের দোকানের নিচের তাকগুলোয় থাকা সব বই ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন এগুলো ফেলে দিতে হচ্ছে।

শনিবার রাজা ম্যানশনে গিয়ে দেখা যায়, মার্কেট থেকে পানি নেমে গেছে। ভিজে নষ্ট হওয়া বই ভ্যানে করে সরিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কিছু বই আবার রোদে শুকানোর চেষ্টা করছেন তারা।

এ সময় কথা হয় মার্কেটের শুভেচ্ছা লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী তানজিল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার দোকান মার্কেটের একেবারে সম্মুখে। তাই বন্যার পানি প্রথমে আমার দোকানেই ঢুকে পড়ে। পানিতে দোকানের প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার বই ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এগুলো আর ব্যবহারের উপযোগী নয়।’

তিনি বলেন, ‘রাজা ম্যানশনে বন্যার পানি ঢুকবে তা কখনও কল্পনাও করিনি। অথচ নিমিষেই পানিতে তলিয়ে গেল মার্কেটের পুরো নিচতলা। এখন ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে উঠবো তা বুঝতে পারছি না।’

প্যারাগন লাইব্রেরির বিক্রেতা আকাশ আহমদ বলেন, ‘আমাদের অন্তত ৭ লাখ টাকার বই নষ্ট হয়েছে। নষ্ট হওয়া বইগুলো পুরনো কাগজের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিতে হয়েছে। যেগুলো অল্প ভিজেছে সেগুলো শুকিয়ে ঠিক করা যায় কি না সে চেষ্টা করছি।’

বানের জলে নষ্ট ‘কোটি টাকার’ বই

জানা গেছে, বইয়ের পাশাপাশি ক্ষতি হয়েছে মার্কেটের নিচতলার ছাপাখানা ও কম্পিউটার ব্যবসায়ীদেরও।

প্যারাডাইস প্রেস নামের একটি ছাপাখানার কর্মকর্তা সুমন বক্স বলেন, ‘আমাদের প্রেস মেশিনসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশে পানি ঢুকে গেছে। এগুলোর মেরামত কাজ চলছে। ফলে ছাপাখানা আপাতত বন্ধ আছে।’

রাজা ম্যানশন ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন রহিম বলেন, ‘বন্যার পানিতে মার্কেটের নিচতলার সব দোকান এবং প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কেবল বই ব্যবসায়ীদেরই ক্ষতি হয়েছে কোটি টাকার মতো।’

ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতির কেন্দ্রীয় নেতাদের অভিহিত করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘করোনার আগেও আমরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েছিলাম। এবার বন্যার কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে হলো। বন্যা আমাদের সব মূলধন নিয়ে চলে গেল।’

আরও পড়ুন:
‘যেখানে এখনও ত্রাণ পৌঁছেনি, আমরা নিয়ে যাচ্ছি’
বন্যায় মৃত্যু নিয়ে সুনামগঞ্জের ডিসির বক্তব্য অসত্য, দাবি বিএনপির
‘কেউ খবর নেয় না’
এত ত্রাণ, তবু কেন হাহাকার
আসামে বন্যায় মৃত ১১৭

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The decision to reduce the price of edible oil took a day or two

ভোজ্যতেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত দু-এক দিনেই

ভোজ্যতেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত দু-এক দিনেই ফাইল ছবি
ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে গেছে, সেই হিসেবে দেশেও দাম কমানো হবে।’

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা কমে আসায় দেশেও ভোজ্যতেলের দাম দু-এক দিনের মধ্যে কমানোর সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার দ্বাদশ মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে আলোচনার নানা দিক তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ।

ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে গেছে, সেই হিসেবে দেশেও দাম কমানো হবে।’

দাম কমলে কত কমানো হতে পারে- এমন প্রশ্নে তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘আগামী দু-এক দিনের মধ্যে কিংবা চলতি সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক করা হবে।

‘সেখানে আন্তর্জাতিক দাম অনুযায়ী দেশে গত এক মাসের মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সেই দাম নির্ধারণ করা হবে। তবে ডলারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খুব বেশি কমানো সম্ভব নাও হতে পারে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউ সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সয়াবিন তেল মিলছে আগের দামেই
দেশে ৪০ ভাগ ভোজ্যতেল উৎপাদনের পরিকল্পনা
ভোজ্যতেলের দাম কমার আভাস বাণিজ্যমন্ত্রীর

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Agreement between Teletalk and Metropolitan Police

টেলিটক ও মেট্রোপলিটন পুলিশের মধ্যে চুক্তি

টেলিটক ও মেট্রোপলিটন পুলিশের মধ্যে চুক্তি
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিআইজি (প্রশাসন) মীর রেজাউল আলম উপস্থিত ছিলেন।

টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মধ্যে কর্পোরেট ডিজিটাল সার্ভিসেস প্রদান সংক্রান্ত একটি চুক্তি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এই চুক্তি হয় বলে টেলিটকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিআইজি (প্রশাসন) মীর রেজাউল আলম, উপপুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) টুটুল চক্রবর্তী এবং টেলিটকের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং এন্ড ভ্যাস) তাহমিনা খাতুন, অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (ভ্যাস) আল-রাজ্জাকুজ্জামানসহ দুই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বন্যার্তদের টেলিটকের ১৫ মিনিট ফ্রি টক টাইম
গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বললেন টেলিটকের এমডি
সাক্ষীকে মামলার তারিখ জানাবে টেলিটক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The way it came to provide its own money

নিজস্ব অর্থের জোগান এলো যেভাবে

নিজস্ব অর্থের জোগান এলো যেভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। ফাইল ছবি
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘আমার মনে আছে, ২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ বিভাগের কর্মকর্তা আর অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তারা মিলে আমরা একটা সভা করেছিলাম। সে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, অগ্রণী ব্যাংক তার তহবিল থেকে ফরেন এক্সচেঞ্জ দেবে। বাজারে কিনতে পাওয়া গেলে কিনবে এবং না পেলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সমর্থন দেয়া হবে।’

২০১২ সালের ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। এর পরই শুরু হয় স্বপ্নের এই সেতু নিমার্ণের কর্মযজ্ঞ। সেতু নির্মাণে বিদেশি কেনাকাটায় বিপুল অঙ্কের যে বিদেশি মুদ্রার প্রয়োজন, তা জোগানের আশ্বাস দেন সে সময়কার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

জরুরি প্রয়োজনে আতিউর রহমান বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার জুমে যুক্ত হয়ে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে পদ্মা সেতুতে বিদেশি মুদ্রা সরবরাহের গল্প শোনান তিনি। সেই সঙ্গে পদ্মা সেতু বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী বিপ্লব আনবে, একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে সে বিষয়েও বিস্তারিত বলেছেন।

আতিউর বলেন, ‘আমরা সম্ভাব্যতার বড় জায়গাটায় না গেলাম, সর্বনিম্ন সমীক্ষাটিই যদি গ্রহণ করি, তাও তো জিডিপি বাড়ার হার ন্যূনতম এক শতাংশ হবে। এটাই হলো আমাদের পদ্মা সেতু, যা বাংলাদেশের সক্ষমতা, সমৃদ্ধি, অহংকার ও সাহসের প্রতীক, যার স্বপ্ন দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

তিনি বলেন, ‘উত্তরবঙ্গে যমুনা নদীতে বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার হওয়ার পর দেশের অর্থনীতিতে বিরাট বিস্ফোরণ ঘটেছিল, যার ধারাবাহিকতা এখনও আছে। পদ্মা সেতু চালুর ফলে আগামীর অর্থনীতিতে তার চেয়েও বড় বিস্ফোরণ ঘটাতে যাচ্ছে।’

নিজস্ব অর্থের জোগান এলো যেভাবে

নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের সাহস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কীভাবে পেয়েছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে আতিউর রহমান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহস কখনোই কম ছিল না। সেই সময়ও তিনি সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। বিশ্বব্যাংক যে নোংরামি করেছিল, তা আমাদের ক্ষুব্ধ করে। সেটা আমি খুব কাছে থেকে দেখেছি। আমার স্পষ্ট মনে আছে, আমরা বাজেট নিয়ে মিটিং করেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে।

‘মিটিং শেষ করার পর আমি ও প্রধানমন্ত্রী বসেছিলাম। সেখানে আমরা জানতে পেরেছিলাম, কী ধরনের নোংরামি বিশ্বব্যাংক শুরু করেছে। বিশ্বব্যাংকের ইন্টিগ্রিটি ডিপার্টমেন্ট থেকে বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন অভিযোগ আনা হয়েছিল, যেটা আমাদের জন্য মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী সাহস জুগিয়েছিলেন এটি বলে যে, আমরা কি পারব না এই পরিমাণ অর্থ জোগাড় করতে?’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এ গভর্নর বলেন, ‘২০০৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন সরকার গঠন করেন, তখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে। পরের বছরই এটা আমরা ১০ বিলিয়নে নিয়ে গেলাম। তার পরের বছর থেকে এটা বাড়ছে। যখন আমরা পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে আলাপ করছি, তখন এটা ১৪ থেকে ১৫ বিলিয়ন হয়ে গেছে। সেই সময়ই প্রবাসী আয়, রপ্তানি আয় বাড়ছে।

‘প্রধানমন্ত্রীর সাহসের বড় জায়গা হলো যে, তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গ্রোথ (অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি) দেখতে পেয়েছিলেন। বাংলাদেশে যে এত দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে, এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে গতিশীল দেশ হবে এবং সেখানে যে এমন এক সময় আসবে, যখন বাংলাদেশের এক্সপোর্ট দ্রুত এগিয়ে যাবে, এগুলো তিনি অনুধাবন করেছিলেন বলে সাহস করেছিলেন।

‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে আমরাও বলেছিলাম অবশ্যই সম্ভব। এক দিনেই তো এই পরিমাণ ডলার লাগবে না। ১.৪ বিলিয়ন ডলারের কথা বলা হচ্ছে; সেটা তো একবারেই লাগছে না। কোনো বছরে হয়তো ২০০ মিলিয়ন ডলার, কোনো বছরে হয়তো ৫০০ মিলিয়ন ডলার লাগবে। এভাবে ভেঙে ভেঙে আমরা ফরেন এক্সচেঞ্জ দিতে পারব।

‘আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কথা দিয়েছিলাম, একটা কমফোর্ট লেটার দিতে হয় যে কনসালট্যান্ট কাজ করবে তাকে। অগ্রণী ব্যাংক কমফোর্ট লেটার দেয়ার কাজটা করেছে। আমার মনে আছে, ২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকে পদ্মা সেতুর প্রকল্পের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ বিভাগের কর্মকর্তা আর অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তারা মিলে আমরা একটা সভা করেছিলাম। সে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, অগ্রণী ব্যাংক তার তহবিল থেকে ফরেন এক্সচেঞ্জ দেবে। বাজারে কিনতে পাওয়া গেলে কিনবে এবং না পেলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সমর্থন দেয়া হবে।

‘এর বাইরেও আলোচনা হয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানিকে কমফোর্ট লেটার অগ্রণী ব্যাংক দেবে। খুব দ্রুত সময়ে যাতে অনুমোদন দিতে পারে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তার ব্যবস্থা করেছিলাম। যখনই ফরেন এক্সচেঞ্জ কোথাও পাঠাতে হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ব অনুমোদন লাগে। আমরা বলেছি, যতবার লাগবে ততবার দেবার প্রয়োজন নেই। একবারে আমরা দিয়ে দেব। পদ্মা সেতুর যত খরচ লাগে, বছরের শুরুতে একবারে আমরা সেই অনুমোদন দিয়ে দেব। এ রকম একটা সুবিধা আমরা করেছিলাম।’

সে সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর বলেন, ‘আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। চিঠিতে রিকুয়েস্ট আসবে না বাংলাদেশ ব্যাংকে। সরাসরি আমাদের সংশ্লিষ্ট জেনারেল ম্যানেজারের কাছে আসবে অগ্রণী ব্যাংক বা অন্য যেকোনো ব্যাংক থেকে এবং সরাসরি সেখানে অনুমোদন দিয়ে দেয়া হবে।

‘এ রকম অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে যেটাকে বলে রেগুলেটরি কমফোর্ট, সেটা আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দিতে সমর্থ হয়েছিলাম। আমাদের এই ব্যবস্থাটা খুব কাজে লেগেছিল। এ রকম সংকটকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে উন্নয়নমুখী পদক্ষেপ নিতে পেরেছিল, তার প্রশংসা করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এর জন্য তার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’

তিনি বলেন, ‘কোভিডকালে উন্নয়নমুখী পদক্ষেপে বাংলাদেশ ব্যাংক ভূমিকা রাখতে পেরেছিল। এটা সম্ভব হয়েছিল আমাদের প্রবাসীদের কারণে। প্রবাসীরা এমনই অনুপ্রাণিত ছিল পদ্মা সেতুর ব্যাপারে। সেই সময় আমরা শত শত ইমেইল ও এসএমএস পেয়েছি। তারা জানতে চেয়েছিলেন, কোথায় কীভাবে ডলার পাঠাবেন। আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছিলাম, যখন আমাদের দরকার হবে, তখন আমরা চাইব।’

পদ্মা সেতু কোথায় নিয়ে যাবে বাংলাদেশকে এমন প্রশ্নের জবাবে আতিউর বলেন, “পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতু নয়। পদ্মা সেতু আমাদের আত্মমর্যাদার প্রতীক, সক্ষমতার স্মারক। পদ্মা সেতুর কারণে আমাদের জাতীয় মননে ‘আমরাও পারি’ সংস্কৃতিটি বেশ জোরদার হয়েছে।

‘প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যার, যিনি এই পদ্মা সেতুর কারিগরি কমিটির প্রধান ছিলেন, তিনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে এবং একটি অনুষ্ঠানে বলছিলেন, বিশ্বব্যাংক যে অন্যায় অভিযোগ এনেছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এই পদ্মা সেতু আমরা করতে পারি এবং করব। এর ফলে আমাদের যে সক্ষমতা তৈরি হবে, তাতে আমরা এ রকম আরও ১০টি সেতু ভবিষ্যতে তৈরি করতে পারব। আমাদের প্রকৌশলীরা, কন্ট্রাক্টররা, ব্যবস্থাপকরা এই পদ্মা সেতুতে এমনভাবে হাত পাকাবে যে ভবিষ্যতে আমরা এর চেয়ে বড় বড় সেতু তৈরি করব।’

আতিউর রহমান বলেন, ‘এটি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিক থেকে চ্যালেঞ্জিং সেতু। পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খরস্রোতা নদী হলো পদ্মা। ১২৮ মিটার গভীর পিলারের ওপরে সেতু বসাতে হয়েছে। এটি কঠিন বাস্তবতার মধ্যে বসাতে হয়েছে। আমাদের জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে কারিগরি টিম এটাকে গাইড করেছে। সেনাবাহিনীর প্রকৌশলী, আব্দুল মোনেম গ্রুপ এবং বিদেশিরা একসঙ্গে মিলে এখানে আমরা কাজ করেছি। এর ফলে এ রকম মেগা প্রকল্প আমরা করতে পারব। এই সক্ষমতার বীজ প্রধানমন্ত্রী আমাদের মধ্যে বুনে দিলেন। এটা প্রথম অর্জন।

‘দ্বিতীয়ত, পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণ বাংলার সঙ্গে সারা বাংলাদেশের একটা সংযোগ বেড়ে গেল। কানেকটিভিটি আরও বাড়বে, যখন রেল চালু হবে। আমরা হিসাব করে দেখেছি, সেতু চালু হওয়ার পরে আমাদের জাতীয় আয়ে বছরে আরও ১.২৬ শতাংশ যুক্ত হবে। ওই ২১টি জেলার যে জিডিপি, সেখানে সাড়ে ৩ শতাংশ হারে বাড়তি জিডিপি যুক্ত হবে। যতই দিন যাবে ততই তা বাড়তে থাকবে।

‘বঙ্গবন্ধু সেতু যেটি রয়েছে, সেটির আলোকে বলছি। সেখানে প্রায় ২ শতাংশ নতুন জিডিপি যুক্ত হয়েছে বছরে। আমাদের এখানেও যুক্ত হবে। আমরা আরেকটি হিসাব করে দেখেছি, পদ্মা সেতুর কারণে অর্থনীতির যে বিস্ফোরণ ঘটবে, দক্ষিণ বাংলায় তার প্রভাবে কলকারখানা, স্মল ও মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ, রিসোর্টে হবে। ট্যুরিজমের সুযোগ বাড়বে। বরিশাল, খুলনায় জাহাজ শিল্প গড়ে উঠবে। পায়রা ও মোংলা বন্দরের ক্যাপাসিটি অনেক বাড়বে।

‘রেলে ও সড়কে কলকাতা যেতে সময় অর্ধেক হয়ে যাবে। এর কারণে এই অঞ্চলে ভুটান, নেপাল, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম–এসব জায়গাতে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে আমরা ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়ে ও রেলের সঙ্গে যুক্ত হব। দক্ষিণ বাংলায় অনেক রাস্তাঘাট রয়েছে, যেগুলো ব্যবহার হয় না। এই কানেকটিভিটির কারণে এগুলোর ব্যবহার বেড়ে যাবে এবং সক্ষমতা বেড়ে যাবে।’

পদ্মা সেতু দারিদ্র্য কমাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে আতিউর বলেন, ‘প্রতি বছর পদ্মা সেতুর কারণেই ১.০২ শতাংশ দারিদ্র্য কমবে। এই ২১ জেলার যে দারিদ্র্য, তা আমাদের দেশের গড় দারিদ্র্যের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি। অথচ পদ্মা সেতু হওয়ার পরই আরও ১ শতাংশের বেশি করে দারিদ্র্যের হার কমতে থাকবে।

‘যে কর্মসংস্থান হবে, তাতে টোটাল লেবার ফোর্সের ১.২ শতাংশ করে কর্মীর বাড়তি কর্মসংস্থান হবে। সেটা হিসাব করলে দেখা যায়, ২ লাখেরও বেশি মানুষের নতুন করে কর্মসংস্থান হবে। এটা বাড়তেই থাকবে। ৫ বছরের মধ্যে এটা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।’

কৃষকরা কী সুফল পাবেন, তা নিয়ে আতিউর রহমান বলেন, ‘কৃষকরা যারা পণ্য উৎপাদন করেন, তারা কিন্তু ঢাকার বাজার ধরতে পারছিলেন না। তারা ঘাটে এসে বসে থাকতেন; ট্রাক বসে থাকত, মাল পচে যেত, সেগুলো এখন দ্রুত চলে আসবে।

‘এ ছাড়া ছোট ব্যবসায়ী, যাদের কাঁচামাল নরসিংদী থেকে বা ঢাকা থেকে নিতে কষ্ট হত, এগুলো এখন সহজেই চলে যাবে। সুতরাং পণ্য ও মানুষের এই চলাচলের ফলে অর্থনীতিতে চাঙা ভাব চলে আসবে। আরেকটি ঘটনা ঘটবে, জামিলুর রেজা স্যারই বলেছিলেন। পদ্মা সেতু এমন সম্ভাবনা তৈরি করবে যে, সেতুর ওই পারে আমরা সাংহাইয়ের মতো নতুন শহর তৈরি করতে পারব। আমরা সেই দিকেই যাচ্ছি। সেখানে নতুন বিমানবন্দর হতে পারে। সেখানে ইতোমধ্যে বেশ কিছু অবকাঠামো শুরু হয়েছে। একটি তাঁতপল্লি হচ্ছে জাজিরাতে।’

ফরিদপুরের সম্ভাবনা নিয়ে আতিউর রহমান বলেন, ‘ফরিদপুর একটা বড় সেন্টার হিসেবে গড়ে উঠবে। ভাঙ্গা একটি নতুন স্মার্ট শহর হয়ে যাবে। শরীয়তপুর, মাদারীপুর এসব জায়গায় নতুন নতুন শহর গড়ে উঠবে। সুতরাং আমার মনে হয় যে, পদ্মা সেতু আমাদের অর্থনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
ঝিনাইদহে পদ্মা সেতুর আদলে প্রতীকী পদ্মা সেতু
‘পদ্মা সেতু আমার লাগবে আপনার লাগবে’
পদ্মা সেতু হয়েছে কি না দেখে যান: খালেদাকে প্রধানমন্ত্রী
কেক কেটে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন টাইগারদের
পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে চবিতে উচ্ছ্বাস, শোভাযাত্রা-মিষ্টি বিতরণ

মন্তব্য

p
উপরে