× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

অর্থ-বাণিজ্য
Islami Bank received Bangladesh Bank Remittance Award
hear-news
player
print-icon

বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড পেল ইসলামী ব্যাংক

বাংলাদেশ-ব্যাংক-রেমিট্যান্স-অ্যাওয়ার্ড-পেল-ইসলামী-ব্যাংক
রেমিট্যান্স আহরণে বিশেষ অবদান রাখায় ২০১৯ ও ২০২০ সালের জন্য ব্যাংকটি এই পুরস্কার পেয়েছেG
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা।

বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড।

রেমিট্যান্স আহরণে বিশেষ অবদান রাখায় ২০১৯ ও ২০২০ সালের জন্য ব্যাংকটি এই পুরস্কার পেয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা।

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মোঃ নাছের ও নির্বাহী পরিচালক আবুল বশর, ইসলামী ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আ ন ম সিদ্দিকুর রহমান ও মিফতাহ উদ্দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ইসলামী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের সভা
ইসলামী ব্যাংক রামপুরা শাখা স্থানান্তর
ইসলামী ব্যাংক খুলনা জোনের এজেন্ট ব্যাংকিং সম্মেলন
ইসলামী ব্যাংকে ইন্টারনাল অডিট নিয়ে কর্মশালা
রমজানজুড়ে পথচারীদের ইফতার করাবে ইসলামী ব্যাংক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The bank adjacent to Dhakas cattle market is open till 8 pm

ঢাকার পশুর হাটসংলগ্ন ব্যাংক রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা

ঢাকার পশুর হাটসংলগ্ন ব্যাংক রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা পশুর হাট সংলগ্ন ব্যাংক রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কোরবানির পশুর হাটের নিকটবর্তী ব্যাংক শাখা বিশেষ ব্যবস্থায় ৭ জুলাই বিকেল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু রাখা যাবে। এছাড়া ৮ ও ৯ জুলাই শুক্র ও শনিবার এসব শাখার কার্যক্রম সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু রাখা যাবে।

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে পশুর হা‌ট সংলগ্ন ব্যাংকের শাখায় বিশেষ ব্যবস্থায় ঈদের আগে তিনদিন রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যাংক কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে।

এতে বলা হয়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত কোরবানির পশুর হাটগুলোয় প্রচুর ব্যবসায়ীর সমাগম ঘটে। এসব হাটে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের লেনদেন হয়। ফলে হাটগুলোয় আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তার বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ। কোরবানির পশুর হাটগুলোর কাছেই বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে। হাটগুলোর নিকটবর্তী এসব ব্যাংকের শাখা ব্যবহার করে ব্যবসায়ীরা তাদের পশু বিক্রির অর্থ লেনদেন করতে পারেন।

এ ছাড়া পশুর হাটে ব্যাংকের অস্থায়ী বুথ খোলা হলে ব্যবসায়ীরা তা থেকে সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কোরবানির পশুর হাটের নিকটবর্তী ব্যাংক শাখা বিশেষ ব্যবস্থায় ৭ জুলাই বিকেল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু রাখা যাবে। এছাড়া ৮ ও ৯ জুলাই শুক্র ও শনিবার এসব শাখার কার্যক্রম সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু রাখা যাবে।

প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কোরবানির পশুর হাটে স্বীয় বিবেচনায় অস্থায়ী বুথ স্থাপন করতে হবে।

চলমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় হাটগুলোতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

এসব শাখায় বাড়তি সময় ও বন্ধের দিনে সেবা চালু রাখলে অতিরিক্ত সময় দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ ভাতা দিতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতু হয়ে বাড়ি ফেরার ঢল
ট্রেন আসতে দেরি করায় ছাড়তে দেরি
গরুর চামড়া বর্গফুটে বাড়ল ৭ টাকা, খাসির ৩
প্রথম দিনেই ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়, ভোগান্তি
ঈদে বাড়তি চাপ নেই আকাশপথে

মন্তব্য

বিজিএমইএ-এর নতুন লোগো

বিজিএমইএ-এর নতুন লোগো
ফারুক হাসান বলেন, ‘এটি একটি ডাইনামিক লোগো যাতে ৯টি অগ্রাধিকার সম্পন্ন বিষয়কে ডটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এগুলোর প্রত্যেকটিরই স্বতন্ত্র অর্থ আছে।’

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ তাদের লোগোতে পরিবর্তন এনেছে।

টেকসই শিল্প নির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে মঙ্গলবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নতুন লোগো উন্মোচন করেন। এতে নয়টি অগ্রাধিকার সম্পন্ন বিষয়কে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে পোশাক শিল্পের জন্য নতুন রূপকল্প প্রণয়নের ঘোষণা দেয়া হয়।

ফারুক হাসান বলেন, ‘প্রযুক্তির ব্যাপক পরিবর্তনের সঙ্গে পোশাক শিল্প এমন একটি জায়গায় পৌছেঁছে, যে শিল্পের প্রচলিত নিয়মগুলো খাটছে না, প্রায়শই চ্যালেঞ্জের সম্মুক্ষীন হতে হচ্ছে। শিল্পকে আরও এগিয়ে নেয়ার জন্য পণ্যেও ডিজাইন পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়া, লিড টাইম হ্রাস করা, সর্বশেষ প্রযুক্তি গ্রহণ, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং কারখানাগুলোকে আরও টেকসই করার কোন বিকল্প নেই।’

‘আর এ প্রচেষ্টাগুলো শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে জ্ঞানার্জনের জন্য আমরা উত্তরায় বিজিএমইএর প্রধান কার্যালয়ে নতুন সেন্টার ফর ইনোভেশন, এফিসিয়েন্সি অ্যান্ড অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ প্রতিষ্ঠা করেছি। এই কেন্দ্রের লক্ষ্য হচ্ছে- পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও ক্যাপাসিটি বিল্ডিং করা।’

তিনি বলেন, ‘পোশাক শিল্পের মুখপাত্র সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটি শিল্পকে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং সময়ের প্রয়োজনে শিল্পকে এগিয়ে নিতে যখন যে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন তাই নিচ্ছে। পোশাক শিল্পকে টেকসই উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নেয়ার জন্য বিজিএমইএ শিল্পের জন্য একটি টেকসই শিল্পায়নে রোডম্যাপ তৈরি করতে যাচ্ছে, যা সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হচ্ছে।’

‘যেহেতু বিজিএমইএ আমাদের পোশাক শিল্পের মূখপাত্র, তাই এই শিল্পের এগিয়ে যাওয়া এবং ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য বিজিএমইএর নিজস্ব ব্র্যান্ডিংও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই আমরা বিজিএমইএর অতীত ঐতিহ্যকে অটুট রেখে আগামীর টেকসই শিল্প নির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে বিজিএমইএর কর্পোরেট আইডেনটিটি অর্থাৎ লোগোতে পরিবর্তন এনেছি।’

‘আমরা মনে করি বিজিএমইএর রিনিউড ভিশন বা নতুন প্রত্যয় সমগ্র পৃথিবীতে আমাদের পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট বার্তা প্রদান করবে। এটি একটি ডাইনামিক লোগো যাতে ৯টি অগ্রাধিকার সম্পন্ন বিষয়কে ডটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এগুলোর প্রত্যেকটিরই স্বতন্ত্র অর্থ আছে।’

বিজিএমইএ-এর নতুন লোগো

গত ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ে ৫২ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ফারুক হাসান বলেন, ‘তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে একসময় তাচ্ছিল্য করা হলেও নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ অর্জন।’

‘গত ৫ দশকে যে অর্জনগুলো আমাদের দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি এনে দিয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অর্জন হলো প্রথম সারির তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে উঠে আসা।

‘আনন্দের বিষয় হলো- পোশাক শিল্পের ৪০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো আমাদের রপ্তানি আয় ৪০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। আর আমাদের এই খাতটির ওপর ভর করেই এবার দেশেল মোট রপ্তানি আয় ৫২ দশমিক শূন্য আট ০৮ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে।’

‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি আয় অর্জন করতে পারাটা অনেক বড় অর্জন বলে আমরা মনে করি।’

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী, বর্তমান সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম, মিরান আলী, পরিচালক ব্যারিষ্টার শেহরিন সালাম ঐশী, আসিফ আশরাফ, মহিউদ্দিন রুবেল, হারুন অর রশিদ, নাভিদুল হক, ব্যারিষ্টার ভিদিয়া অমৃত খান, ইনামুল হক খান (বাবলু), ইমরানুর রহমান, হোসনে আরা নীলা, জায়ান্ট গ্রুপের পরিচালক শারমিন হাসান তিথীসহ অন্য পোশাক শিল্পমালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
পাচার অর্থ বিনা প্রশ্নে দেশে আনার প্রস্তাবে বিজিএমইএর সমর্থন
পোশাকের ন্যায্য দর পেতে আইএলওর হস্তক্ষেপ চাইলেন রপ্তানিকারকরা
গ্যাস-বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর অনুরোধ বিজিএমইএর
দেশে সবুজ পোশাক কারখানা এখন ১৬১টি
পোশাক শিল্পের দ্যুতি বিশ্বকে দেখাতে ঢাকায় বিশাল আয়োজন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
I will change the revenue system NBR chairman

রাজস্বব্যবস্থাকে বদলে দেব: এনবিআর চেয়ারম্যান

রাজস্বব্যবস্থাকে বদলে দেব: এনবিআর চেয়ারম্যান বুধবার সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। ছবি: নিউজবাংলা
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘জোর করে কারো কাছ থেকে রাজস্ব আহরণ করা যায় না। সে জন্য জনগণকে সচেতন করতে হবে।’

জনগণ সহজেই যেন কর দিতে পারে সে জন্য সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্বব্যবস্থাকে বদলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জোর করে কারো কাছ থেকে রাজস্ব আহরণ করা যায় না। সে জন্য জনগণকে সচেতন করতে হবে।’

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা জোর দিয়েছি সিস্টেমের ওপর। সিস্টেম যাতে সহজ হয় সে জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।’

এ সময় এনবিআরের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ১৮তম লটারির ড্রয়ের পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রহমাতুল মুনিম জানান, গত তিন বছর পর পর করহার কমানো হয়েছে। ধারণা করা হয়, করহার কমলে রাজস্ব আহরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু এটা ঠিক নয়, বরং করহার কমালে ও আদায় প্রক্রিয়া সহজ করলে রাজস্ব আদায় বাড়ে। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে এনবিআর কাজ করছে।

বর্ধিত কর আহরণের জন্য নেট বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। দেশে করদাতা শনাক্তকারী নম্বর বা টিআইএনধারীর সংখ্যা অনেক বেশি হলেও সে অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা কম বলে জানান তিনি।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, রিটার্ন জমার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে নতুন অর্থবছরে। সেটি হলো রিটার্ন দাখিলের সঙ্গে আগের বছরের দলিলপত্র ও আনুষঙ্গিক প্রমাণাদি জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে করে আশা করা হচ্ছে, রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বাড়বে।

তিনি বলেন, 'উপজেলা পর্যন্ত নতুন করদাতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সে জন্য আমরা উপজেলা পর্যন্ত কর অফিস সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছি এবং এ বিষয়ে সম্প্রসারণ প্রস্তাব জনপ্রশাসনের জমা দেয়া হয়েছে। আশা করছি, এটি কার্যকর হলে উপজেলা পর্যায়ে করদাতা শনাক্ত করা সহজ হবে।'

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আয়কর, মূল্য সংযোজন কর ও কাস্টমসে আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলছে। ফলে গোটা রাজস্বব্যবস্থা বদলে যাবে। রাজস্ব আহরণে বাড়বে গতি। সামগ্রিকভাবে দেশের চেহারা বদলে দেয়ার জন্য এনবিআর বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে আগামী দিনে।

ভ্যাটব্যবস্থায় প্রবর্তিত আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন

ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস বা ইএফডি নিয়ে কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এটি একটি নতুন প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত হতে একটু সময় লাগবে। সারা দেশে ৭ হাজার ভ্যাট মেশিন বসানো হয়েছে। যদিও গত বছর পর্যন্ত টার্গেট ছিল ১০ হাজার মেশিন বসানোর।

চেয়ারম্যান জানান, ইএফডি মেশিন ব্যবহার উৎসাহিত করতে লটারি সিস্টেম চালু করা হলেও এর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ তেমন নেই। কেন আগ্রহ নেই সেটি বোধগম্য নয় বল জানান তিনি।

এ বিষয়ে তিনি আরো জানান, লটারি ড্রর পর পুরস্কারের জন্য আবেদন জমা হয়েছে প্রায় ১৮০০। কিন্তু দাবি এসেছে মাত্র একটি। অবশ্য পুরস্কারের জন্য দাবি কেন কম পড়েছে তার ব্যাখ্যা দেননি এনবিআর চেয়ারম্যান।

খুচরা পর্যায় ভ্যাট আদায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। বলেন, এই খাতে ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়া এখনো অস্বচ্ছ। চেষ্টা করা হচ্ছে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার। কিন্তু সফল হতে পারছি না। এর একটি কারণ হতে পারে, খুচরা ব্যবসায়ীদের সংখ্যা অনেক বেশি। যে কারণে তাদের কাছ থেকে যথাযথ ভ্যাট আদায় করা কঠিন।

তিনি বলেন, এখানে তদারকি ব্যবস্থা দুর্বল। এটি শক্তিশালী করা গেলে খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট আদায়ের যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। এ জন্য অটোমেশনে কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমে এনবিআর কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ওপর কড়াকড়ি
১০ হাজার ভ্যাট মেশিন বসানো হবে
বাজেটের আগে দুই শতাধিক ‘বিলাসপণ্যে’ শুল্ক বাড়ছে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The skin of the cow increased by 6 rupees

গরুর চামড়া বর্গফুটে বাড়ল ৭ টাকা, খাসির ৩

গরুর চামড়া বর্গফুটে বাড়ল ৭ টাকা, খাসির ৩ কোরবানির ঈদের পর পশুর চামড়া কিনছেন ব্যবসায়ীরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
এবার ঢাকায় লবণযুক্ত চামড়া কিনতে হবে ৪৭-৫২ টাকায়, যা গত বছর ৪০ থেকে ৪৫ টাকা বর্গফুট হিসেবে কিনেছিলেন ব্যবসায়ীরা। এই দর তার আগের বছর বা ২০২০ সালে ছিল ৩৫-৪০ টাকা।

ঈদকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহে দাম নির্ধারণ করে দিল সরকার। ট্যানারি মালিকদের এবার আগের তুলনায় প্রতি বর্গফুটে গরুর চামড়া ৭ টাকা ও খাসির চামড়া ৩ টাকা বাড়তি দরে কিনতে হবে।

অবশ্য এই দর ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ভিন্ন হবে। এবার ঢাকায় লবণযুক্ত চামড়া কিনতে হবে ৪৭-৫২ টাকায়, যা গত বছর ৪০ থেকে ৪৫ টাকা বর্গফুট হিসেবে কিনেছিলেন ব্যবসায়ীরা।

এই দর তার আগের বছর বা ২০২০ সালে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

ঢাকার বাইরে এবার সারা দেশে ট্যানারি মালিকরা লবণযুক্ত গরুর চামড়া কিনবেন ৪০ থেকে ৪৪ টাকা দরে। গত বছর এই দাম ছিল ৩৩-৩৭ টাকা। আর ২০২০ সালে ছিল ২৮ থেকে ৩২ টাকা বর্গফুট।

এ ছাড়া সারা দেশে লবণযুক্ত খাসির চামড়ার দর ৩ টাকা বাড়িয়ে প্রতি বর্গফুটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ থেকে ২০ টাকা। গত বছর খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম ছিল ১৫ থেকে ১৭ টাকা, যা ২০২০ সালে ছিল ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

তবে এবার বকরির চামড়ার বর্গফুটপ্রতি দাম গত বছরেরটাই বহাল রাখা হয়েছে। গত বছর বকরির লবণযুক্ত চামড়ার দাম ছিল ১২ থেকে ১৪ টাকা, যা ২০২০ সালে ছিল ১০ থেকে ১২ টাকা।

মঙ্গলবার ঈদুল আজহা ২০২২ উপলক্ষে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত বৈঠক শেষে বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ চামড়ার এই মূল্যস্তর নির্ধারণ করেন।

এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি চামড়ার এই মূল্য নির্ধারণ করে দেন।

তবে এবার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাই প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ৫ টাকা ও খাসির চামড়ার দাম ৩ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের গরুর চামড়ার দাম প্রস্তাবের সঙ্গে দুই টাকা বাড়তি যোগ করে খাসির চামড়ার দাম ৩ টাকা অপরিবর্তিত রাখেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ বৈঠকে কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ, ক্রয়-বিক্রয়, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, মজুত, চামড়ায় লবণ লাগানো ও মিডিয়ায় প্রচারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় আসতে পারে এক হাজার কেজি ওজনের বুদু মিয়া
খেলাপি হলেও ঋণের সুযোগ চামড়া ব্যবসায়ীদের
ঈদুল আজহা ১০ জুলাই
জিলহজের চাঁদ দেখা গেছে, সৌদিতে ঈদ ৯ জুলাই
ঈদে নাশকতার শঙ্কা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
There is no extra pressure on Eid by air

ঈদে বাড়তি চাপ নেই আকাশপথে

ঈদে বাড়তি চাপ নেই আকাশপথে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এবার আকাশপথে তেমন একটা চাপ নেই বলে জানিয়েছে দেশি এয়ারলাইনসগুলো। ফাইল ছবি
নভো এয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, ‘এবার বাড়তি কোনো চাপই নেই। তবে এর মধ্যেও সৈয়দপুর রুটের ফ্লাইটের প্রতি যাত্রীদের কিছুটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আর অন্যান্যগুলো স্বাভাবিক সময়ের মতো।’

প্রতি বছর দুই ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপে হিমশিম খেতে হয় এয়ারলাইনসগুলোকে। এ কারণে ঈদের সময় প্রতিটি রুটেই বেশ কিছু অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন।

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এবার আকাশপথে তেমন একটা চাপ নেই বলে জানিয়েছে দেশি এয়ারলাইনসগুলো। তারা বলছে, রোজার ঈদের তুলনায় এবার যাত্রীদের আকাশপথে ভ্রমণের প্রবণতা কম। আর এ কারণে প্রস্তুতি রাখা হলেও এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ছাড়া আর কোনো দেশি এয়ারলাইনসই অতিরিক্ত ফ্লাইট ঘোষণা করেনি।

এবার পদ্মা সেতু হওয়ার পর যশোর এবং বরিশাল রুটে আকাশপথে অন্যান্য বারের মতো বাড়তি কোনো চাপ নেই। স্বাভাবিক ফ্লাইট দিয়েই এ দুটি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইনসগুলো।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঈদকে সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ সাত রুটে ২৯টি অতিরিক্ত ফ্লাইট ঘোষণা করেছে। স্বাভাবিক সময়ে দেশি এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানই সবচেয়ে কম ফ্লাইট পরিচালনা করে।

বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার বলেন, ‘এবার অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান অতিরিক্ত ২৯টি (যাওয়া-আসা মিলে ৫৮টি) ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ৫ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত ফ্লাইটগুলো পরিচালনা করা হবে।

ঈদে বাড়তি চাপ নেই আকাশপথে
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঈদকে সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ সাত রুটে ২৯টি অতিরিক্ত ফ্লাইট ঘোষণা করেছে। ফাইল ছবি

‘এর মধ্যে সৈয়দপুর রুটে ৯টি, যশোর রুটে ৮টি, বরিশাল রুটে ৬টি এবং রাজশাহী রুটে ৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।’

ঈদকে সামনে রেখে অতিরিক্ত ফ্লাইটের প্রস্তুতি রাখা হলেও এখনও বাড়তি ফ্লাইট ঘোষণা করেনি বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস বাংলা। অভ্যন্তরীণ রুটে এই এয়ারলাইনসটির ফ্লাইটই সবচেয়ে বেশি।

এয়ারলাইনসটির জনসংযোগ ও বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবার ঈদে সবচেয়ে বেশি চাপ সৈয়দপুর ও রাজশাহী রুটে। এই রুট দুটিতে ৭, ৮ ও ৯ জুলাইয়ের ফ্লাইটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। অন্য রুটগুলোতে এখনও বাড়তি চাপ নেই।’

পদ্মা সেতু হওয়ার পর যশোর ও বরিশালের ফ্লাইটে কোনো তারতম্য দেখা যাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুব স্বাভাবিকভাবেই পদ্মা সেতু একটি আকর্ষণ তৈরি করেছে। অনেকেই হয়তো এটাকে ঘিরে যাত্রার পরিকল্পনা সাজাতে চাইবে। তবে দীর্ঘ সময়ে আকাশপথ আর সড়ক পথ কখনই প্রতিদ্বন্দ্বী হবে না। এই রুটগুলোতে স্বাভাবিক যাত্রীই আমরা দেখছি। বাড়তি কোনো চাপ নেই।

‘রোজার ঈদের সঙ্গে তুলনা করলে এবার এমনিতেই আকাশপথের যাত্রী সংখ্যা কম। এর জন্য তিনটি কারণ রয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। এবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতি রয়েছে, তারপর কোভিড পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগের কারণ হচ্ছে। এবার কিন্তু সরকারি ছুটিও কম। এই তিন কারণেই মানুষের মুভমেন্ট কম বলে মনে হচ্ছে।’

একই পরিস্থিতি দেশের আরেক বেসরকারি এয়ারলাইনস নভো এয়ারেও। এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবার বাড়তি কোনো চাপই নেই। তবে এর মধ্যেও সৈয়দপুর রুটের ফ্লাইটের প্রতি যাত্রীদের কিছুটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আর অন্যান্যগুলো স্বাভাবিক সময়ের মতো।’

পদ্মা সেতুর কোনো প্রভাব বরিশাল ও যশোর রুটে পড়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কিছুটা পড়েছে। যেমন বরিশালে তেমন একটা ডিমান্ড আমরা দেখছি না। আর যশোরেই অন্যান্য বারের চেয়ে অন্তত ৪০ ভাগ কম চাহিদা দেখা যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
শিমুলিয়ায় পারাপার স্বাভাবিক, বাংলাবাজারে চাপ
২২ ঘণ্টা পর বালাসী-বাহাদুরাবাদে লঞ্চ চলাচল শুরু
চাপ কমেছে বাংলাবাজার-শিমুলিয়ায়
দৌলতদিয়ায় ৬ কিলোমিটার জট
ঈদযাত্রা হয় না সামিরনের

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The country is facing a record deficit in the balance of transactions

লেনদেন ভারসাম্যে রেকর্ড ঘাটতির মুখে দেশ

লেনদেন ভারসাম্যে রেকর্ড ঘাটতির মুখে দেশ
৩০ জুন ২০২১-২২  অর্থবছর শেষ হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার বিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাসের (জুলাই-মে) ব্যালান্স অফ পেমেন্টের তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, ওই ১১ মাসে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার।

বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) বিশাল ঘাটতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। অর্থবছরের এক মাস বাকি থাকতেই অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এই ঘাটতি ১৭ বিলিয়ন (১ হাজার ৭০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই কোনো অর্থবছরে এত বড় ঘাটতি দেখা যায়নি। আমদানির উল্লম্ফনে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচকে এই বেহাল দশা হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতির গবেষকরা।

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেই ১ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে ২০২২-২৩ অর্থবছর। করোনাভাইরাস নতুন করে চোখ রাঙাচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রের যুদ্ধের আঘাত তো লেগেই আছে। সিলেট-সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং হচ্ছে।

সব মিলিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ নিয়েই শুরু হলো নতুন অর্থবছর। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরা। অস্বাভাবিক আমদানি বৃদ্ধি অর্থনীতিকে যে সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে, সেই ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরাও আরেকটি চ্যালেঞ্জ।

৩০ জুন ২০২১-২২ অর্থবছর শেষ হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার বিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাসের (জুলাই-মে) ব্যালান্স অফ পেমেন্টের তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, ওই ১১ মাসে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার।

আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে এই সূচক মাত্র ২ দশমিক ৭৮ বিলিলয়ন ডলার ঘাটতি ছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছর শুরুই হয়েছিল লেনদেনের ভারসাম্যে ঘাটতি নিয়ে। প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৩১ কোটি ৪০ লাখ (২.৩১ বিলিয়ন) ডলার। চার মাস শেষে (জুলাই-অক্টোবর) তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭৭ কোটি ডলার। এভাবে প্রতি মাসেই বাড়তে বাড়তে ১১ মাস শেষে অর্থাৎ মে মাস শেষে এই ঘাটতি ১৭ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অর্থবছরের বাকি এক মাসের তথ্য যোগ হলে এই ঘাটতি ২০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছতে পারে বলে হিসাব দিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘অস্বাভাবিক আমদানি বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক লেনদেনে এই বিশাল ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ কথা ঠিক যে, আমদানি বাড়ার একটা ভালো দিকও আছে। দেশে বিনিয়োগ বাড়ে; কর্মসংস্থান হয়। অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি খাতে খরচ যেভাবে বাড়ছে, তা ধারণ করার মতো ক্ষমতা বাংলাদেশের অর্থনীতির নেই। সে কারণেই মুদ্রাবাজার তথা ডলারের বাজারে অসিস্থরতা বা সংকট দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাজারে ডলার ছেড়েও নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না।’

‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের জিনিসের ঊর্ধ্বমূল্য আমদানি খরচ বাড়ার একটি কারণ। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও আমদানি ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। এই ব্যয় বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে অর্থনীতিতে সংকট বাড়ছে।’

এ অবস্থায় আমদানি কমাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পরামর্শ দেন ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান মনসুর।

বেশ কয়েক বছর পর ২০২০-২১ অর্থবছরে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতিতে পড়ে বাংলাদেশ। প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছিল ওই বছর।

তার আগে ৯ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলারের বড় উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষ হয়েছিল। তার আগের বছরে উদ্বৃত্ত ছিল ৩১৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি

সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে (ওভারঅল ব্যালেন্স) ঘাটতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার।

অথচ গত বছরের একই সময়ে এই উদ্বৃত্ত ছিল ৮ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার।

নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় চলতি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। এই হিসাব উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।

আর্থিক হিসাবে বড় উদ্বৃত্ত

তবে আর্থিক হিসাবে (ফাইন্যানশিয়াল অ্যাকাউন্ট) এখনও বড় উদ্বৃত্ত ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে এই উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের এই সময়ে ১১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ অন্য দাতাদেশ ও সংস্থার কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ঋণসহায়তা পাওয়ায় আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত হয়েছে বলে জানান আহসান মনসুর।

বাণিজ্য ঘাটতি ৩১ বিলিয়ন ডলার

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে দেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এর পর থেকেকই আমদানিতে জোয়ার বইতে শুরু করেছে। আর এতে আমদানি-রপ্তানির মধ্যে ব্যবধানও চূড়ায় উঠতে শুরু করে।

বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) বাংলাদেশে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার। এক্ষেত্রেও রেকর্ড হয়েছে। এর আগে কখনই এত বাণিজ্য ঘাটতির মুথে পড়েনি দেশ।

গত অর্থবছরের একই সময়ের এই ঘাটতি ছিল ২০ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার। আর পুরো অর্থবছরে এই ঘাটতি ছিল ২২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-মে ৭৫ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৯ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ বেশি।

২০২০-২১ অর্থবছরের এই ১১ মাসে ৫৪ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল।

অন্যদিকে জুলাই-মে সময়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৪৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন রপ্তানিকারকরা। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৩ শতাংশ বেশি।

এ হিসাবেই ১১ মাসে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলার।

নতুন বছরে বাণিজ্য ঘাটতি হবে ৩৭ বিলিয়ন ডলার

আমদানি কমার কোনো সুখবর দিতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। উল্টো উদ্বেগের সঙ্গে জানিয়েছে, নতুন বছরে বাণিজ্য ঘাটতি ৩৭ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। আর বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে এই ঘাটতি ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার ২০২২-২৩ অর্থবছরের যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে, তাতে এই পূর্বাভাস দিয়েছে।

নতুন মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, দেশে রপ্তানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ৩০ জুন শেষ হওয়া বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ৩৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২১-২২ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে ২৬ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি হতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছিল।

নতুন মুদ্রানীতিতে বাণিজ্য ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার।

নতুন মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানিতে ৩২ শতাংশ প্রবিৃদ্ধি হবে। অর্থাৎ বিদায়ী অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে ৩২ শতাংশ বেশি রপ্তানি আয় দেশে আসবে। অন্যদিকে আমদানি ব্যয় বাড়বে ৩৫ শতাংশ। প্রবাসীয়দের পাঠানো প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স কমবে ১৪ শতাংশ। সব মিলিয়ে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১৭ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার।

নতুন অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি কমে ১৩ শতাংশে নেমে আসবে। আমদানি ব্যয় বাড়বে ১২ শতাংশ। রেমিট্যান্স ঊর্ধ্বমুখী হবে এবং ১৫ শতাংশ বাড়বে। ব্যালেন্স অব পেমেন্টে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১৬ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার।

সেবা বাণিজ্যে ঘাটতিও বাড়ছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ২ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার।

মূলত বিমা, ভ্রমণ ইত্যাদি খাতের আয়-ব্যয় হিসাব করে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি পরিমাপ করা হয়।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানে বাণিজ্য ঘাটতি সর্বকালের শীর্ষে
বাণিজ্য ঘাটতি ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
অর্থনীতিতে সংকট বাড়ছে
ঘাটতি নেই, অভিযান চলবে: খাদ্যমন্ত্রী
অর্থনীতিকে চোখ রাঙাচ্ছে পাহাড়সম বাণিজ্য ঘাটতি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The government will provide all kinds of assistance to poultry Livestock Minister

পোলট্রিতে সব ধরনের সহায়তা দেবে সরকার: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

পোলট্রিতে সব ধরনের সহায়তা দেবে সরকার: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী সোনারগাঁও হোটেলে ‘নিরাপদ ও টেকসই পোলট্রি উৎপাদন: প্রত্যাশা ও পরিকল্পনা’ শিরোনামে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। ছবি: সংগৃহীত
মন্ত্রী বলেন, এ খাতে বিদেশনির্ভরতা কমাতে হবে। দেশের ফিড ইন্ডাস্ট্রির কাঁচামাল তৈরিতে সহায়ক ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে হবে। সে ক্ষেত্রে মেশিনারিজ আমদানিতে সরকার কর অব্যাহতিসহ অন্যান্য সুবিধা দেবে। পোলট্রি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে গেলে এর সহায়ক খাতও বিকশিত করতে হবে। রাষ্ট্র সব সহায়তা দেবে।

নিরাপদ ও টেকসই পোলট্রি উৎপাদনে সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে রোববার রাতে ‘নিরাপদ ও টেকসই পোলট্রি উৎপাদন: প্রত্যাশা ও পরিকল্পনা’ শিরোনামে নীতিনির্ধারণী আলোচনা সভায় মন্ত্রী এ আশ্বাস দেন।

ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ শাখা এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সোমবার রাতে আয়োজক সংস্থার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পোলট্রি খাতের যেকোনো সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে। পোলট্রিসংশ্লিষ্ট নীতিমালা আধুনিক ও সময়োপযোগী করার পদক্ষেপ নেয়া হবে। করোনার সময় পোলট্রি খাতে উদ্ভূত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে। কারণ প্রাণিসম্পদ খাত নুয়ে পড়লে দেশে আমিষের সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মানুষের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণে প্রাণিসম্পদ খাত রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

পোলট্রির উন্নয়নে ব্র্যান্ডিংয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, পোলট্রি ফিড তৈরির জন্য যে প্রোটিন বাইরে থেকে আমদানি করতে হয় তার ওপর কর নেয়া হয় না। সরকার পোলট্রি খাদ্যের দাম কমানোর জন্য কর রেয়াত দিয়েছে অথচ এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তার উৎপাদন সক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত উপকরণ আমদানি করে গুদামজাত করেছে, বিক্রিও করেছে। এ জন্য প্রোটিন আমদানির অনুমতি কাদের কতটুকু দেয়া হয়েছে সরকার সে তথ্য সংগ্রহ করছে। কার উৎপাদন সক্ষমতা কতটা আছে এবং তিনি কতটুকু কাঁচামাল বাইরে থেকে এনে কতটুকু ব্যবহার করেছেন ও বাকিটা কী করেছেন সেটি জানতে চাওয়া হবে।

সরকার পোলট্রি খাতে সহায়তা করতে চায়, তবে সেটা যথাযথভাবে সংশ্লিষ্টদের গ্রহণ করতে বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ খাতে বিদেশনির্ভরতা কমাতে হবে। দেশের ফিড ইন্ডাস্ট্রির কাঁচামাল তৈরিতে সহায়ক ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে হবে। সে ক্ষেত্রে মেশিনারিজ আমদানিতে সরকার কর অব্যাহতিসহ অন্যান্য সুবিধা দেবে। পোলট্রি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে গেলে এর সহায়ক খাতও বিকশিত করতে হবে। রাষ্ট্র সব সহায়তা দেবে।

তিনি আরও বলেন, পোলট্রি শিল্পে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা অবশ্যই করতে হবে। খামারে দূষণ হলে নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। এ জায়গায় দায়িত্বশীল থাকতে হবে। যাদের বড় খামার আছে তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে ভোক্তারা পোলট্রি থেকে উৎপাদিত খাদ্যের ওপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

পোলট্রি থেকে উৎপাদিত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহারের জন্য শিল্প স্থাপনের ওপর এ সময় গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। এ ধরনের শিল্প স্থাপনে রাষ্ট্র সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা দিতে চায় বলে জানান মন্ত্রী।

ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার (ওয়াপসা-বিবি) সভাপতি মসিউর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা ও বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

অদূর ভবিষ্যতে দেশীয় পোলট্রি খাত রপ্তানিতেও অবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, নিরাপদ পোলট্রি উৎপাদনে সহায়তা করছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

পাটের ব্যাগে পোলট্রি ও মৎস্য খাদ্য মোড়কীকরণের নেতিবাচক দিক তুলে ধরেন ড. চৌধুরী। তিনি জানান, বাংলাদেশ জুট মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন একটি মামলা করেছে, যেখানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কেও এ বিষয়ে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

ওয়াপসা বাংলাদেশ শাখার সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, প্রতিটি খামারে অবশ্যই ওয়েস্ট ডিসপোজাল ব্যবস্থা থাকতে হবে। অনেক বড় কোম্পানিও রাতের আঁধারে পোলট্রি লিটার এখানে-সেখানে ফেলে আসছে। জীবাণু ছড়াচ্ছে। এভাবে আমরা নিজেরাই নিজের পায়ে কুড়াল মারছি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জীবনিরাপত্তা সন্তোষজনক না হলে লাইসেন্স নবায়ন না করার আহ্বান জানান মসিউর।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আলোচনা সভার টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ।

আরও পড়ুন:
মানুষ চাইলে এখন তিন বেলা মাংস খেতে পারে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
৬ মাসের মধ্যে মৎস্যজীবীদের নিবন্ধন
‘বঙ্গবন্ধু‌কে রক্ষা কর‌তে না পারা বাঙালির বড় ব্যর্থতা’
মৎস্য খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে হবে
‘রাষ্ট্র লাভবান না হলে প্রকল্প অর্থহীন’

মন্তব্য

p
উপরে