× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

অর্থ-বাণিজ্য
Stopping Indias wheat exports will have an impact on the country
hear-news
player
print-icon

ভারতের গম রপ্তানি বন্ধে দেশে প্রভাব পড়বে

ভারতের-গম-রপ্তানি-বন্ধে-দেশে-প্রভাব-পড়বে
ফাইল ছবি
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গম আমদানির উৎস দেশ হিসেবে ভারতের দিকে ঝুঁকেছে বাংলাদেশ। একক দেশ হিসেবে ভারত থেকে বাংলাদেশের গম আমদানির অংশ এখন দাঁড়িয়েছে ৬৩ শতাংশে। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ২৭ লাখ ১৫ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে শুধু ভারত থেকে।

গম আমদানিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। প্রতি বছর চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় গমের ৮৫ শতাংশই আমদানি করা হয়, যার ৬৮ শতাংশ এতদিন আমদানি হতো রাশিয়া-ইউক্রেন ও কানাডা থেকে।

ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অতিসম্প্রতি বাংলাদেশের এই নিত্যপণ্যটি আমদানির বড় উৎসে পরিণত হয়েছে ভারত। যুদ্ধের কারণে গমের আন্তর্জাতিক বাজার রাতারাতি পাল্টে গেছে। একই কারণে কানাডা থেকে গম আমদানিও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এসব কারণে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে একক দেশ হিসেবে ভারত থেকে বাংলাদেশের গম আমদানির অংশ দাঁড়িয়েছে ৬৩ শতাংশে। চলতি অর্থবছরের ১ মার্চ পর্যন্ত ২৭ লাখ ১৫ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে শুধু ভারত থেকে।

ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তর থেকে গম রপ্তানিতে বিশ্বজুড়ে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে বাধ্য। কারণ এর মাধ্যমে আমদানির বড় উৎস বন্ধ হয়ে গেল।

গত শুক্রবার ভারত এই নিষেধাজ্ঞা জারির পর শনিবারই বাংলাদেশের গমের পাইকারি বড় বাজার খাতুনগঞ্জে বেড়ে গেছে গমের মণপ্রতি দাম। এই বাজারে বৃহস্পতিবার ভারতীয় গমের দাম ছিল ১ হাজার ৪০০ টাকা, কানাডার গমের দাম ছিল ১ হাজার ৯৫০ টাকা। শনিবার থেকে সেই ভারতীয় গম ১ হাজার ৫৫০ টাকা এবং কানাডার গম ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু এ প্রসঙ্গে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাম্প্রতিককালে বিশ্ববাজার পরিস্থিতি খুবই ঘোলাটে অবস্থায় রয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই বাজারগুলো থেকে এখন গম আমদানি বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় বিকল্প বাজার হয়ে ওঠা ভারত যদি পণ্যটি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়, তার একটা মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায় তো আছেই।

‘কিন্তু তার মানে এই নয় যে শুক্রবার নিষেধাজ্ঞা দিল আর শনিবার থেকেই দেশে দাম বেড়ে যাবে। এটা কোনোভাবেই নৈতিক নয় এবং কেউ সমর্থনও করবে না। দেশে যেটা হয়ে থাকে তা হলো কিছু ব্যবসায়ীর অতি লোভ-লালসার প্রভাব, যারা কোনো একটি ইস্যুকে পুঁজি করে স্বল্প সময়ের মধ্যে বাড়তি ফায়দা লোটার চেষ্টা করে।’

তিনি এ বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, এই রপ্তানি বন্ধের সুযোগ নিয়ে বাজার পরিস্থিতি যাতে ঘোলাটে না হয়, সে জন্য আগে থেকেই সরকারের সতর্ক থাকা উচিত।

এফবিসিসিআই সহসভাপতি বলেন, ‘ভারত বেসরকারি খাতের জন্য রপ্তানি বন্ধ করলেও সেখানে সরকারিভাবে আমদানির সুযোগ এখনও রয়েছে। সরকারকে অতিসত্বর ভারত সরকারের সঙ্গে কথা বলে এই জি-টু-জি পর্যায়ে গম কেনার সুযোগটি নিতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও যাতে গম আমদানি করা যায় তার অনুরোধ করতে হবে।’

এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারত থেকে জি-টু-জি পর্যায়ে বাংলাদেশ গম আমদানির সুযোগ তো আছেই। গম তো আমাদের প্রয়োজন। এখন এই উদ্যোগটি খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে আসতে হবে। তারা আগ্রহ দেখালে বা চাহিদাপত্র দিলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সেই অনুযায়ী গম আমদানির পথ সুগম করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ভারত সরকারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ করতে প্রস্তুত।’

তিনি জানান, দেশে পর্যাপ্ত গম আমদানি হয়েছে। ভারত ছাড়াও আরও অনেক দেশ থেকে আমদানির সুযোগ রয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, প্রতি বছর দেশে গমের চাহিদা আছে ৭৫ লাখ টনের। এ হিসাবে দৈনিক ২০ হাজার ৫৪৭ টন গম বা গমের আটা-ময়দার প্রয়োজন হয়। দেশে প্রতি বছর গড়ে উৎপাদন হয় ১১ লাখ টন গম।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ের তুলনায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে গম আমদানির পরিমাণ অনেক বেড়েছে, দামের দিক থেকে যা ৩৫ কোটি ৩৯ লাখ মার্কিন ডলার বেশি। এটা শুধু তবে গম আমদানির পরিমাণ বাড়ার কারণে ঘটেনি, বিশ্ববাজারে গমের বাড়তি মূল্যের কারণেও ঘটেছে।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য মতে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে সরকারি-বেসরকারিভাবে মোট ৫৫ লাখ ৪৬ হাজার টন গম দেশে এসেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন আর ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আমদানিকৃত গম দিয়ে দেশের চলতি অর্থবছরের মে পর্যন্ত চাহিদা পূরণ হওয়ার কথা। গমের সম্ভাব্য ঘাটতি এবং রপ্তানি বন্ধের সুযোগ ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীরা নিয়েছেন। সামনে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অটো বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শফিকুর রহমান ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে জানান, ‘ভারত থেকে আমদানি করা গম দিয়ে সাধারণত নানান রকম রুটি ও বিস্কুট তৈরি হয়। এই রুটি বিস্কুট মূলত দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের খাদ্য।

‘এখন ভারত সরকার বেসরকারিভাবে গম রপ্তানি সাময়িক বন্ধ রেখেছে। অথচ দেশে গমের যত প্রয়োজন তার ৯০ ভাগই আমদানি করে বেসরকারি খাত। রপ্তানি বন্ধের প্রভাব দেশেও পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। আর গমের দাম বাড়লে শেষ পর্যন্ত সেটার প্রভাব গমনির্ভর পণ্য আটা, ময়দা, রুটি, পরোটা, পাউরুটি, বিস্কুট, কেক, পাস্তা, পিৎজা, নুডলস, বার্গারসহ বিভিন্ন পণ্যে পড়বে, যেমনটি হয়েছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর।’

জানা গেছে, আটা-ময়দা এবং ভোজ্যতেলের দাম বাড়ায় দেশে অনেক আগেই পরোটার দাম দ্বিগুণ হয়ে ১০ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া বাজারে আগে ৩২৫ থেকে ৩৫০ গ্রাম ওজনের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাউরুটির দাম ছিল ৩৫ টাকা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর গম রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে সেই পাউরুটির প্যাকেটের দাম বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা। আনুপাতিক হারে বেড়েছে কেক-বিস্কুটসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নুডলসের দামও। একইভাবে ভারতের গম রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত দীর্ঘতর হলে তার প্রভাব পর্যায়ক্রমে সবখানেই পড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্যসচিব ড. নাজমানারা খানুম নিউজবাংলাকে জানান, বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী গমের কোনো ঘাটতি নেই। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়া এবং গমনির্ভর পণ্যের দাম বাড়ারও কারণ নেই।

জি-টু-জি উদ্যোগে ভারত থেকে বড় লটে গম আমদানির পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে খাদ্যসচিব বলেন, ‘গম আমদানির জন্য বাংলাদেশ সব ধরনের সুযোগ নিতে চায়। ভারতের বাইরে অন্যান্য দেশ থেকেও গম আনার জন্য মন্ত্রণালয়ের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে বুলগেরিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউক্রেন ও রাশিয়াসহ অন্যান্য রপ্তানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তবে এই পরিস্থিতিতে সরকার জি-টু-জি পর্যায়ে ভারত থেকে আরও গম আমদানির বিষয়েও নতুন করে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। চূড়ান্ত কিছু হলে সেটি আপনারা জানবেন।’

তিনি জানান, চলতি অর্থবছর ১২ মে পর্যন্ত সরকারিভাবে দেশে গম আমদানি হয়েছে ৪ লাখ ৪২ হাজার টন। বেসরকারি খাতে আমদানি হয়েছে ৩০ লাখ টন। সরকার আরও ৩ লাখ টন গম আমদানি করছে, যার প্রথম চালান ১ লাখ টন দুই-এক দিনের মধ্যে বন্দরে ভিড়বে। এ ছাড়া গুদামে মজুত আছে ১ লাখ ১৮ হাজার টন গম।

এর বাইরে বেসরকারিভাবে আমদানি করা ১ লাখ ২৫ হাজার ৩০০ টন গম নিয়ে জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে, যা এখন খালাসের অপেক্ষায়। অন্য দিকে চলতি অর্থবছরের ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত আরও ৬ লাখ ২৬ হাজার ৩৮০ টন গম আমদানির এলসি খোলা হয়েছে। পাইপলাইনে থাকা এসব গম দ্রুতই দেশে আসবে। এ ছাড়া ইউক্রেন-রাশিয়া ও ভারত ছাড়াও গম আমদানির আরও বাজার আছে। সেইসব দেশ থেকেও বেসরকারিভাবে গম আমদানি হচ্ছে। সব মিলিয়ে মজুত ও পাইপলাইনে থাকা গম দিয়ে আগামী আগস্ট পর্যন্ত চাহিদায় কোনো ঘাটতি হওয়ার কথা নয়।

আরও পড়ুন:
ভারত গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি: খাদ্যমন্ত্রী
মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা ভারতের
তাসকিয়া-মহিউদ্দিনের মৃত্যু এবং নিরাপত্তার অসহায়ত্ব

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The price of gold is Rs

স্বর্ণের দাম কমল ভরিতে ১১৬৬ টাকা

স্বর্ণের দাম কমল ভরিতে ১১৬৬ টাকা
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা।

ঈদের আগে কমল স্বর্ণের দাম। দেড় মাসের ব্যবধানে সবচেয়ে ভালো মানের মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমে ৭৮ হাজার ৩৮২ টাকায় নেমে এসেছে।

অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও একই হারে কমেছে। বৃহস্পতিবার থেকে নতুন দর কার্য‌কর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুস।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারসহ অন্যান্য মুদ্রার দাম নিম্নমুখী হওয়ায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা।

সবশেষ ২৬ মে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। ওই সময় সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম কমল ভরিতে ২ হাজার ৯১৬ টাকা কমানো হয়েছিল।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত ৮ মার্চ দেশের বাজারে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। তার চার দিন আগে ৪ মার্চ বাড়ানো হয়েছিল ভরিতে ৩ হাজার ২৬৫ টাকা।

এরপর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করায় ১৫ মার্চ দেশের বাজারে ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। ২১ মার্চ কমানো হয় ভরিতে আরও ১ হাজার ৫০ টাকা।

কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় ১১ এপ্রিল সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭৮ হাজার ৮৪৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস।

এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় ২৫ এপ্রিল প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানো হয়। ১০ মে একই পরিমাণ কমানো হয়েছিল।

দুই দফায় ভরিতে ২ হাজার ৩৩২ টাকা কমানোর পর ১৭ মে ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়ানো হয়।

মাত্র চার দিনের ব্যবধানে ২১ মে সেই স্বর্ণের দাম এক ধাক্কায় ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে দেয় বাজুস। অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে স্বর্ণের দাম উঠে যায় ৮২ হাজার ৪৬৬ টাকায়।

২৬ মে সেই স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ৯১৬ টাকা কমিয়ে ৭৯ হাজার ৫৪৮ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। প্রায় দেড় মাস পর বুধবার আরও ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাজুস।

বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে আমেরিকান ডলার ও অন্যান্য মুদ্রার দাম নিম্নমুখী। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটেও স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে এই নতুন দর কার্য‌কর হবে।

দাম কমানোর কারণ জানতে চাইলে বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি মুহূর্তে গোল্ডের দাম ওঠানামা করছে। এই বাড়ছে তো ওই কমছে। গত দেড় মাসে দাম খানিকটা কমেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দামও কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে। সে কারণে সবকিছু হিসাব করে আমরাও গোল্ডের দাম কমিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি মুহূর্তে বাজার পর্যবেক্ষণ করি। এখন বিশ্ববাজারে দাম কমছে; আমরাও কমিয়েছি। দেশে স্বর্ণের দাম বাড়া বা কমা নির্ভর করে আসলে বিশ্ববাজারের ওপর।’

‘তবে সাম্প্রতিক সময়ে গোল্ডের দাম উঠানামা করছে আসলে ডলারেরে উত্থান-পতনের উপর। ডলারের পাশাপাশি অন্যান্য মুদ্রার দামও উঠানামা করছে। সবকিছু মিলিয়েই আমাদের দাম নির্ধারণ করতে হচ্ছে,’ বলেন দেশের অন্যতম শীর্ষ স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আগারওয়ালা।

বিশ্ববাজারে বুধবার রাত সাড়ে ৭টায় প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম, ২.৬৫ ভরি) স্বর্ণের দাম ছিল ১ হাজার ৭৬৩ ডলার ৪২ সেন্ট। সর্বশেষ ২৬ মে রাতে যখন স্বর্ণের দাম কমানো হয়, তখন প্রতি আউন্সের দাম ছিল ছিল ১ হাজার ৮৪৩ ডলার ৪৯ সেন্ট।

মার্চের প্রথম সপ্তাহে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বাড়তে বাড়তে ২ হাজার ৬০ ডলারে উঠেছিল।

বৃহস্পতিবার থেকে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে লাগবে ৭৮ হাজার ৩৮২ টাকা। বুধবার পর্যন্ত এই মানের স্বর্ণ ৭৯ হাজার ৫৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কমেছে ১ হাজার ১৬৬ টাকা।

২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা কমে ৭৪ হাজার ৮৮৩ টাকা হয়েছে। এই দেড় মাস ৭৫ হাজার ৯৩৩ টাকায় বিক্রি হয়েছে এই মানের স্বর্ণ।

১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ৯৩৩ টাকা কমে হয়েছে ৬৪ হাজার ১৫২ টাকা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৬৫ হাজার ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম ৭৫৮ টাকা কমিয়ে ৫৩ হাজার ৪৭৯ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাজুস। এতদিন ৫৪ হাজার ২৩৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে এক ভরি।

তবে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আগের দামেই বিক্রি হবে এই ধাতু।

আরও পড়ুন:
তিন কারে মিলল ১৩৫টি স্বর্ণের বার
আমিরাতপ্রবাসী যাত্রীর শরীরে বাঁধা স্বর্ণের ৩৪ বার
সৌদিপ্রবাসীর লাগেজে স্বর্ণের ২৮ বার
নেবুলাইজারে ১ কেজি সোনা
স্বর্ণের দাম কমল ভরিতে ২৯১৬ টাকা

মন্তব্য

২৪ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি, রোলস রয়েস জব্দ

২৪ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি, রোলস রয়েস জব্দ বারিধারায় জব্দ করা হয়েছে ২৭ কোটি টাকা দামের রোলস রয়েস। ছবি: সংগৃহীত
গত ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম ইপিজেডের মাধ্যমে আমদানি করা হয়েছিল। এরপর এর শুল্ক না পরিশোধ করেই অবৈধভাবে গাড়িটি গত ১৭ মে রাতে ইপিজেড থেকে বের করে ঢাকার বারিধারায় নিয়ে আসা হয়।

শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে একটি বিলাসবহুল রোলস রয়েস ব্র্যান্ডের গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

গাড়িটি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ব্র্যান্ড রোলস রয়েস ২০২১ মডেলের অত্যাধুনিক এসইউভি। গাড়িটি ৬৭৫০ সিসির, যার বাজারমূল্য ২৭ কোটি টাকা।

অবৈধভাবে এই গাড়িটি চট্টগ্রাম ইপিজেড থেকে বের করে ২৪ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের উপপরিচালক আহমেদুর রেজা চৌধুরী জানান, গত ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম ইপিজেডের মাধ্যমে আমদানি করা হয়েছিল। এরপর এর শুল্ক না পরিশোধ করেই অবৈধভাবে গাড়িটি গত ১৭ মে রাতে ইপিজেড থেকে বের করে ঢাকার বারিধারায় নিয়ে আসা হয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পারি গত ৪ জুলাই পর্যন্ত এই গাড়ির শুল্ক জমা হয়নি। গোয়েন্দা তৎপরতায় গাড়িটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের এমডির গুলশানের বারিধারার নিজ বাসভবনে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় জব্দ করা হয়েছে।’

জব্দ করা গাড়িটি শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় পড়বে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জেডঅ্যান্ডজেড ইনটাইমস লিমিটেডের মাধ্যমে হংকং এবং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য এ গাড়িটি আনা হয়। কিন্তু আমদানিকারক বেআইনিভাবে কাস্টমস শুল্কায়ন সম্পন্ন এবং শুল্ক-কর পরিশোধ না করে তার ব্যক্তিগত গ্যারেজে গাড়িটি লুকিয়ে রাখেন।

কাস্টমস আইন অনুযায়ী গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কী কারণে আমদানি করা গাড়িটি ছাড় হওয়ার ৭০ দিন পরও শুল্কায়ন করা হয়নি, সে বিষয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The first barge with naphtha from India to Bangladesh on protocol route

প্রটোকল রুটে ভারত থেকে বাংলাদেশের পথে পণ্যবাহী প্রথম বার্জ

প্রটোকল রুটে ভারত থেকে বাংলাদেশের পথে পণ্যবাহী প্রথম বার্জ প্রটোকল রুটে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া বন্দর থেকে ন্যাপথা নিয়ে একটি বার্জ রোববার বাংলাদেশের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। ছবি: নিউজবাংলা
পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া বন্দরের আইওসি রিফাইনারি থেকে ১৮ কোটি টাকার ন্যাপথা নিয়ে রওনা হওয়া বার্জটি প্রথমে ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জে পৌঁছবে। সেখান থেকে চালানটি যাবে নরসিংদী জেলায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে আমেরিকান প্রযুক্তিতে গড়ে ওঠা অ্যাকোয়া রিফাইনারিতে।

প্রটোকল রুটে প্রথমবারের মতো ভারত থেকে বাংলাদেশে দুই হাজার টন ন্যাপথা রপ্তানি করা হয়েছে।

রোববার ওটি সাংহাই এইট নামের একটি বার্জ পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া বন্দর থেকে ১৮ কোটি টাকা মূল্যের ন্যাপথা নিয়ে বাংলাদেশের অ্যাকোয়া রিফাইনারি সংস্থার উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নদীপথে বার্জ যাত্রার সূচনা করেন হলদিয়া বন্দরের ডেপুটি চেয়ারম্যান অমল কুমার মেহেরা এবং ইন্ডিয়ান অয়েলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পার্থ ঘোষ।

পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া বন্দরের আইওসি রিফাইনারি থেকে ১৮ কোটি টাকার ন্যাপথা নিয়ে রওনা হওয়া বার্জটি প্রথমে ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জে পৌঁছবে। সেখান থেকে চালানটি যাবে নরসিংদী জেলায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে আমেরিকান প্রযুক্তিতে গড়ে ওঠা অ্যাকোয়া রিফাইনারিতে।

হলদিয়া বন্দরের ডেপুটি চেয়ারম্যান অমল মেহরা বলেন, ‘ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে প্রটোকল রুটে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগের কার্যকারিতা দিন দিন বাড়ছে। হলদিয়া বন্দর ও শিল্পগুলোর বাড়তি বাণিজ্যের সুযোগ করে দিয়েছে এই প্রটোকল রুট।’

প্রটোকল রুটের কার্যকারিতাকে গুরুত্ব দিয়ে হলদিয়া বন্দরের রপ্তানি বাড়াতে মাল্টিমোডাম হাব ও জেটি তৈরি করা হয়েছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রটোকল রুটে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী বাণিজ্যের সূচনা করেন ভারতের জাহাজ মন্ত্রী।

আইওসির ডিরেক্টর পার্থ ঘোষ বলেন, ‘হলদিয়া থেকে রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে হলদিয়া রিফাইনারির নতুন সম্পর্ক তৈরি হলো। ন্যাপথা ছাড়াও বাংলাদেশে হাই স্পিড ডিজেল, হার্সেল অয়েল, সালফার পেটকোকের বিপুল চাহিদা রয়েছে। আগামী দিনে এই পণ্যগুলো বার্জে করে বাংলাদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলো।’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The bank adjacent to Dhakas cattle market is open till 8 pm

ঢাকার পশুর হাটসংলগ্ন ব্যাংক রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা

ঢাকার পশুর হাটসংলগ্ন ব্যাংক রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা পশুর হাট সংলগ্ন ব্যাংক রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কোরবানির পশুর হাটের নিকটবর্তী ব্যাংক শাখা বিশেষ ব্যবস্থায় ৭ জুলাই বিকেল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু রাখা যাবে। এছাড়া ৮ ও ৯ জুলাই শুক্র ও শনিবার এসব শাখার কার্যক্রম সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু রাখা যাবে।

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে পশুর হা‌ট সংলগ্ন ব্যাংকের শাখায় বিশেষ ব্যবস্থায় ঈদের আগে তিনদিন রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যাংক কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে।

এতে বলা হয়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত কোরবানির পশুর হাটগুলোয় প্রচুর ব্যবসায়ীর সমাগম ঘটে। এসব হাটে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের লেনদেন হয়। ফলে হাটগুলোয় আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তার বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ। কোরবানির পশুর হাটগুলোর কাছেই বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে। হাটগুলোর নিকটবর্তী এসব ব্যাংকের শাখা ব্যবহার করে ব্যবসায়ীরা তাদের পশু বিক্রির অর্থ লেনদেন করতে পারেন।

এ ছাড়া পশুর হাটে ব্যাংকের অস্থায়ী বুথ খোলা হলে ব্যবসায়ীরা তা থেকে সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কোরবানির পশুর হাটের নিকটবর্তী ব্যাংক শাখা বিশেষ ব্যবস্থায় ৭ জুলাই বিকেল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু রাখা যাবে। এছাড়া ৮ ও ৯ জুলাই শুক্র ও শনিবার এসব শাখার কার্যক্রম সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু রাখা যাবে।

প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কোরবানির পশুর হাটে স্বীয় বিবেচনায় অস্থায়ী বুথ স্থাপন করতে হবে।

চলমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় হাটগুলোতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

এসব শাখায় বাড়তি সময় ও বন্ধের দিনে সেবা চালু রাখলে অতিরিক্ত সময় দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ ভাতা দিতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতু হয়ে বাড়ি ফেরার ঢল
ট্রেন আসতে দেরি করায় ছাড়তে দেরি
গরুর চামড়া বর্গফুটে বাড়ল ৭ টাকা, খাসির ৩
প্রথম দিনেই ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়, ভোগান্তি
ঈদে বাড়তি চাপ নেই আকাশপথে

মন্তব্য

বিজিএমইএ-এর নতুন লোগো

বিজিএমইএ-এর নতুন লোগো
ফারুক হাসান বলেন, ‘এটি একটি ডাইনামিক লোগো যাতে ৯টি অগ্রাধিকার সম্পন্ন বিষয়কে ডটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এগুলোর প্রত্যেকটিরই স্বতন্ত্র অর্থ আছে।’

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ তাদের লোগোতে পরিবর্তন এনেছে।

টেকসই শিল্প নির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে মঙ্গলবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নতুন লোগো উন্মোচন করেন। এতে নয়টি অগ্রাধিকার সম্পন্ন বিষয়কে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে পোশাক শিল্পের জন্য নতুন রূপকল্প প্রণয়নের ঘোষণা দেয়া হয়।

ফারুক হাসান বলেন, ‘প্রযুক্তির ব্যাপক পরিবর্তনের সঙ্গে পোশাক শিল্প এমন একটি জায়গায় পৌছেঁছে, যে শিল্পের প্রচলিত নিয়মগুলো খাটছে না, প্রায়শই চ্যালেঞ্জের সম্মুক্ষীন হতে হচ্ছে। শিল্পকে আরও এগিয়ে নেয়ার জন্য পণ্যেও ডিজাইন পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়া, লিড টাইম হ্রাস করা, সর্বশেষ প্রযুক্তি গ্রহণ, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং কারখানাগুলোকে আরও টেকসই করার কোন বিকল্প নেই।’

‘আর এ প্রচেষ্টাগুলো শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে জ্ঞানার্জনের জন্য আমরা উত্তরায় বিজিএমইএর প্রধান কার্যালয়ে নতুন সেন্টার ফর ইনোভেশন, এফিসিয়েন্সি অ্যান্ড অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ প্রতিষ্ঠা করেছি। এই কেন্দ্রের লক্ষ্য হচ্ছে- পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও ক্যাপাসিটি বিল্ডিং করা।’

তিনি বলেন, ‘পোশাক শিল্পের মুখপাত্র সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটি শিল্পকে নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং সময়ের প্রয়োজনে শিল্পকে এগিয়ে নিতে যখন যে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন তাই নিচ্ছে। পোশাক শিল্পকে টেকসই উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নেয়ার জন্য বিজিএমইএ শিল্পের জন্য একটি টেকসই শিল্পায়নে রোডম্যাপ তৈরি করতে যাচ্ছে, যা সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হচ্ছে।’

‘যেহেতু বিজিএমইএ আমাদের পোশাক শিল্পের মূখপাত্র, তাই এই শিল্পের এগিয়ে যাওয়া এবং ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য বিজিএমইএর নিজস্ব ব্র্যান্ডিংও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই আমরা বিজিএমইএর অতীত ঐতিহ্যকে অটুট রেখে আগামীর টেকসই শিল্প নির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে বিজিএমইএর কর্পোরেট আইডেনটিটি অর্থাৎ লোগোতে পরিবর্তন এনেছি।’

‘আমরা মনে করি বিজিএমইএর রিনিউড ভিশন বা নতুন প্রত্যয় সমগ্র পৃথিবীতে আমাদের পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট বার্তা প্রদান করবে। এটি একটি ডাইনামিক লোগো যাতে ৯টি অগ্রাধিকার সম্পন্ন বিষয়কে ডটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এগুলোর প্রত্যেকটিরই স্বতন্ত্র অর্থ আছে।’

বিজিএমইএ-এর নতুন লোগো

গত ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ে ৫২ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ফারুক হাসান বলেন, ‘তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে একসময় তাচ্ছিল্য করা হলেও নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি অসাধারণ অর্জন।’

‘গত ৫ দশকে যে অর্জনগুলো আমাদের দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি এনে দিয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অর্জন হলো প্রথম সারির তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে উঠে আসা।

‘আনন্দের বিষয় হলো- পোশাক শিল্পের ৪০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো আমাদের রপ্তানি আয় ৪০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। আর আমাদের এই খাতটির ওপর ভর করেই এবার দেশেল মোট রপ্তানি আয় ৫২ দশমিক শূন্য আট ০৮ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে।’

‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি আয় অর্জন করতে পারাটা অনেক বড় অর্জন বলে আমরা মনে করি।’

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী, বর্তমান সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম, মিরান আলী, পরিচালক ব্যারিষ্টার শেহরিন সালাম ঐশী, আসিফ আশরাফ, মহিউদ্দিন রুবেল, হারুন অর রশিদ, নাভিদুল হক, ব্যারিষ্টার ভিদিয়া অমৃত খান, ইনামুল হক খান (বাবলু), ইমরানুর রহমান, হোসনে আরা নীলা, জায়ান্ট গ্রুপের পরিচালক শারমিন হাসান তিথীসহ অন্য পোশাক শিল্পমালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
পাচার অর্থ বিনা প্রশ্নে দেশে আনার প্রস্তাবে বিজিএমইএর সমর্থন
পোশাকের ন্যায্য দর পেতে আইএলওর হস্তক্ষেপ চাইলেন রপ্তানিকারকরা
গ্যাস-বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর অনুরোধ বিজিএমইএর
দেশে সবুজ পোশাক কারখানা এখন ১৬১টি
পোশাক শিল্পের দ্যুতি বিশ্বকে দেখাতে ঢাকায় বিশাল আয়োজন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
BICM research seminar held

বিআইসিএমের গবেষণা সেমিনার অনুষ্ঠিত

বিআইসিএমের গবেষণা সেমিনার অনুষ্ঠিত
সেমিনারটির উদ্বোধন করে বিআইসিএমের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ড. মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘আজকের পেপারে যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল আমরা দেখেছি। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কাজটি রেপ্লিকেট করার গুরুত্ব অপরিসীম।’

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) উদ্যোগে ‘বিআইসিএম রিসার্চ সেমিনার-১৩’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টার দিকে সংস্থাটির মাল্টিপারপাস হলে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারের আলোচ্য বিষয় ছিল ‘ডু কো-অপ্টেড বোর্ডস অ্যাফেক্ট ফার্ম ম্যানেজারিয়াল অ্যাবিলিটি ইন দ্য ইউএস’।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওমানের ইউনিভার্সিটি অফ নিজওয়ার ইকোনোমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স বিভাগের প্রধান ড. মোহাম্মাদ দুলাল মিয়া।

মূল প্রবন্ধে ড. মোহাম্মাদ দুলাল মিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখান। তিনি বলেন, ‘কো-অপ্ট বোর্ডের সদস্যরা ব্যবস্থাপনার ক্ষমতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। পুরুষ কো-অপ্ট সদস্যরা এই বিষয়ের প্রভাবক হিসেবে অন্তরায়। তবে নন-কোপ্ট সদস্যরা ব্যবস্থাপনাগত ক্ষমতা বাড়ায়। ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা নির্ধারণে নারী পরিচালকদের নিরপেক্ষ ভূমিকা দেখা যায়।’

এই গবেষণার ওপর ভিত্তি করে ড. মোহাম্মাদ দুলাল মিয়া ফার্ম এবং পুঁজিবাজারের জন্য কিছু পরামর্শ দেন। বলেন, ‘করপোরেট গভর্নেন্স ফ্রেমওয়ার্কে বোর্ড কো-অপশনের সীমা নির্দিষ্ট করা উচিত। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনাগত ক্ষমতা এবং দক্ষতা বাড়াতে বোর্ডে জেন্ডার বৈচিত্র্যকে উৎসাহিত করতে হবে।’

সেমিনারটির উদ্বোধন করে বিআইসিএমের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ড. মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘আজকের পেপারে যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল আমরা দেখেছি। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কাজটি রেপ্লিকেট করার গুরুত্ব অপরিসীম।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিআইসিএম পুঁজিবাজারের সাথে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা, ডিপ্লোমা ও মাস্টার্স প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। সামনের দিনগুলোতে ইনস্টিটিউট গবেষণা পরিচালনার উপর অধিক গুরুত্বারোপ করবে।’

সেমিনারটিতে আলোচক হিসেবে হিসেবে বক্তব্য রাখেন, দ্য ইউনিভার্সিটি অফ কুইনসল্যান্ডের ফাইন্যান্স স্কুল অফ বিজনেস বিভাগের প্রভাষক ড. হাসিবুল চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক তাহের জামিল।

সেমিনারে উপস্থিত আলোচকরা বৃহত্তর স্বার্থে ভবিষ্যতে ইনস্টিটিউটের সাথে গবেষণা সহযোগী হিসেবে কাজ করার ব্যাপারে প্রস্তাব রাখেন।

তারা বলেন, গবেষণাটির সুপারিশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অল্টারনেটিভ কিছু পরিমাপকে এই তথ্যগুলোর ফলাফল দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশেও এ ধরনের গবেষণা পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক সাফায়েদুজ্জামান খান। এতে বিআইসিএমের অনুষদ সদস্য, কর্মকর্তা এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বিআইসিএমের রিসার্চ সেমিনার- ১২ অনুষ্ঠিত
নারী বিনিয়োগকারীদের নিয়ে পুঁজিবাজার বিষয়ে প্রশিক্ষণ
বিআইসিএমের রিসার্চ সেমিনার-১১ অনুষ্ঠিত
বিআইসিএমের রিসার্চ সেমিনার-১০ অনুষ্ঠিত
ছোটদের ঋণ সহজ ও দ্রুত করবে ফিনটেক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
I will change the revenue system NBR chairman

রাজস্বব্যবস্থাকে বদলে দেব: এনবিআর চেয়ারম্যান

রাজস্বব্যবস্থাকে বদলে দেব: এনবিআর চেয়ারম্যান বুধবার সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। ছবি: নিউজবাংলা
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘জোর করে কারো কাছ থেকে রাজস্ব আহরণ করা যায় না। সে জন্য জনগণকে সচেতন করতে হবে।’

জনগণ সহজেই যেন কর দিতে পারে সে জন্য সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্বব্যবস্থাকে বদলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জোর করে কারো কাছ থেকে রাজস্ব আহরণ করা যায় না। সে জন্য জনগণকে সচেতন করতে হবে।’

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা জোর দিয়েছি সিস্টেমের ওপর। সিস্টেম যাতে সহজ হয় সে জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।’

এ সময় এনবিআরের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ১৮তম লটারির ড্রয়ের পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রহমাতুল মুনিম জানান, গত তিন বছর পর পর করহার কমানো হয়েছে। ধারণা করা হয়, করহার কমলে রাজস্ব আহরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু এটা ঠিক নয়, বরং করহার কমালে ও আদায় প্রক্রিয়া সহজ করলে রাজস্ব আদায় বাড়ে। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে এনবিআর কাজ করছে।

বর্ধিত কর আহরণের জন্য নেট বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। দেশে করদাতা শনাক্তকারী নম্বর বা টিআইএনধারীর সংখ্যা অনেক বেশি হলেও সে অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা কম বলে জানান তিনি।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, রিটার্ন জমার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে নতুন অর্থবছরে। সেটি হলো রিটার্ন দাখিলের সঙ্গে আগের বছরের দলিলপত্র ও আনুষঙ্গিক প্রমাণাদি জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে করে আশা করা হচ্ছে, রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বাড়বে।

তিনি বলেন, 'উপজেলা পর্যন্ত নতুন করদাতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সে জন্য আমরা উপজেলা পর্যন্ত কর অফিস সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছি এবং এ বিষয়ে সম্প্রসারণ প্রস্তাব জনপ্রশাসনের জমা দেয়া হয়েছে। আশা করছি, এটি কার্যকর হলে উপজেলা পর্যায়ে করদাতা শনাক্ত করা সহজ হবে।'

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আয়কর, মূল্য সংযোজন কর ও কাস্টমসে আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলছে। ফলে গোটা রাজস্বব্যবস্থা বদলে যাবে। রাজস্ব আহরণে বাড়বে গতি। সামগ্রিকভাবে দেশের চেহারা বদলে দেয়ার জন্য এনবিআর বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে আগামী দিনে।

ভ্যাটব্যবস্থায় প্রবর্তিত আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন

ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস বা ইএফডি নিয়ে কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এটি একটি নতুন প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত হতে একটু সময় লাগবে। সারা দেশে ৭ হাজার ভ্যাট মেশিন বসানো হয়েছে। যদিও গত বছর পর্যন্ত টার্গেট ছিল ১০ হাজার মেশিন বসানোর।

চেয়ারম্যান জানান, ইএফডি মেশিন ব্যবহার উৎসাহিত করতে লটারি সিস্টেম চালু করা হলেও এর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ তেমন নেই। কেন আগ্রহ নেই সেটি বোধগম্য নয় বল জানান তিনি।

এ বিষয়ে তিনি আরো জানান, লটারি ড্রর পর পুরস্কারের জন্য আবেদন জমা হয়েছে প্রায় ১৮০০। কিন্তু দাবি এসেছে মাত্র একটি। অবশ্য পুরস্কারের জন্য দাবি কেন কম পড়েছে তার ব্যাখ্যা দেননি এনবিআর চেয়ারম্যান।

খুচরা পর্যায় ভ্যাট আদায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান। বলেন, এই খাতে ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়া এখনো অস্বচ্ছ। চেষ্টা করা হচ্ছে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার। কিন্তু সফল হতে পারছি না। এর একটি কারণ হতে পারে, খুচরা ব্যবসায়ীদের সংখ্যা অনেক বেশি। যে কারণে তাদের কাছ থেকে যথাযথ ভ্যাট আদায় করা কঠিন।

তিনি বলেন, এখানে তদারকি ব্যবস্থা দুর্বল। এটি শক্তিশালী করা গেলে খুচরা পর্যায়ে ভ্যাট আদায়ের যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। এ জন্য অটোমেশনে কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমে এনবিআর কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ওপর কড়াকড়ি
১০ হাজার ভ্যাট মেশিন বসানো হবে
বাজেটের আগে দুই শতাধিক ‘বিলাসপণ্যে’ শুল্ক বাড়ছে

মন্তব্য

p
উপরে