× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

অর্থ-বাণিজ্য
Railways is sitting with ADB blank check to give loan
hear-news
player
print-icon

‘রেলে ঋণ দিতে এডিবি ব্ল্যাঙ্ক চেক নিয়ে বসে আছে’

রেলে-ঋণ-দিতে-এডিবি-ব্ল্যাঙ্ক-চেক-নিয়ে-বসে-আছে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে সাক্ষাতে এডিবির প্রতিনিধি দল। ছবি: নিউজবাংলা
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এডিবি রেল খাতে আরও বিনিয়োগ করতে চায়, এতে আমরা অনেক খুশি। রেলখাতে ঋণ দিতে এডিবি এক ধরনের ব্ল্যাঙ্ক চেক নিয়ে বসে আছে। আমরা যা চাইব তাই দেবে এডিবি।’

দেশের রেলখাত আধুনিকায়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) আরও ঋণ দিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বলেছেন, রেলখাতে ঋণ দিতে এডিবি এক ধরনের ব্ল্যাঙ্ক চেক নিয়ে বসে আছে।

বৃহস্পতিবার পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে সাক্ষাতে এডিবির প্রতিনিধি দল এ আগ্রহের কথা জানায়।

পরিকল্পনামন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাতে বাংলাদেশ সফররত এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট শিজিন চেন, এডিবির দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের উপ-মহাপরিচালক মনমোহন প্রকাশ, কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং, ঢাকা অফিসের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এডিবি রেল খাতে আরও বিনিয়োগ করতে চায়, এতে আমরা অনেক খুশি। রেলখাতে ঋণ দিতে এডিবি এক ধরনের ব্ল্যাঙ্ক চেক নিয়ে বসে আছে। আমরা যা চাইব তাই দেবে এডিবি। এডিবি বলেছে, আপনারা আসেন। যদি যুক্তিসঙ্গত প্রস্তাব নিয়ে আসেন, চাহিদা ফুলফিল করব। অবকাঠামো খাতে যা টাকা লাগবে তা দিতে রাজি এডিবি।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘রেলটাকে আমরা আধুনিক করতে চাই। ক্রমান্বয়ে মিটারগেজ রেলকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর দিতে চাই। আমরা পর্যায়ক্রমে সব রেলপথকে প্রথমে ডুয়েল গেজ, পরে ব্রডগেজে রূপান্তর করা হবে। রেলপথ ডাবলগেজ করলে কোথাও আসা-যাওয়ার জন্য থামতে হবে না। সিগন্যালে পড়তে হবে না। এটা একটা বিশাল কাজ।

‘এখানে বিশাল বিনিয়োগের দরকার। এডিবির আছে, অভিজ্ঞতা আছে। আমরা এক সঙ্গে কাজ করব। রেলকে আরও এগিয়ে নেব।’

বাংলাদেশ কখনও ঋণের কিস্তি দিতে ব্যর্থ হয়নি জানিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘ঋণের কিস্তির বিষয়ে আমাদের কখনও রিমাইন্ডার দিতে হয়নি। কোভিডের সময় এডিবি আমাদের জরুরি সহায়তা দিয়েছে। এটা আমাদের খুবই প্রয়োজন ছিল। টিকা সংগ্রহ করতে এডিবি ঋণ দিয়েছে। শিক্ষা খাতেও এডিবি অনেক বড় অবদান রেখেছে। এ বছর বাজেট সহায়তা হিসেবে এডিবি ৫০ কোটি ডলার দেবে। আগামী বছরও একই পরিমাণে বাজেট সহায়তা করবে।’

এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশের পাশে থেকেছে এডিবি। আমরা রেলখাতে আরও বিনিয়োগে আগ্রহী। এ খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হচ্ছে, সে অনুপাতে রেলখাতকেও আধুনিক করতে হবে।’

দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের উপ-মহাপরিচালক মনমোহন প্রকাশ বলেন, ‘রেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটকে ডাবল লাইন করতে হবে। এখানে আরও দ্রুতগতির রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজন। কারণ এ দুটি শহর দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। তবে এজন্য নারায়ণগঞ্জ হয়ে সরাসরি লাইন প্রয়োজন। তাহলে দূরত্ব ৩৩০ কিলোমিটার থেকে ২৩০ কিলোমিটারে নেমে আসবে। বুলেট ট্রেন নয়, দেড়শ কিলোমিটার গতির ট্রেন চললেও সময় লাগবে ৯০ মিনেটের কম।’

আরও পড়ুন:
এলজিইডির উন্নয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখলেন এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট
মহামারি মোকাবিলায় ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে এডিবি
উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে ‘ভালো করছে’ বাংলাদেশ: এডিবি
এডিবি ভাইস প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসছেন সোমবার
কোন পথে অর্থনীতি: মূল্যায়নে বসছে সরকার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Exports to India are expected to reach 2 billion

ভারতে রপ্তানি ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর হাতছানি

ভারতে রপ্তানি ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর হাতছানি
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে এখন চমৎকার বাণিজ্য সম্পর্ক বিরাজ করছে। দুদেশের বাণিজ্য বাড়ছে। এই অর্থবছরেই ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে। এটা হবে একটা মাইলফলক।’

শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের দেশগুলোতে নয়, পাশের দেশ ভারতেও পণ্য রপ্তানিতে চমক দেখিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। প্রতি মাসেই বাড়ছে রপ্তানি। প্রথমবারের মতো দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করতে চলেছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা ভারতের বাজারে ১৭০ কোটি ৬২ লাখ (১.৭০ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছেন।

এই অঙ্ক গত অর্থবছরের পুরো সময়ের (১২ মাস, ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন) চেয়েও ৩৩ শতাংশ বেশি। আর একই সময়ের চেয়ে বেশি ৫৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

অর্থবছর শেষ হবে ৩০ জুন। মে মাস চলছে; এই মাসেও ভারতে রপ্তানি বৃদ্ধির আশার কথা শুনিয়েছেন রপ্তানিকারকরা। জুন মাসসহ আগামী দিনগুলোতেও এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

একই কথা শুনিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে এখন চমৎকার বাণিজ্য সম্পর্ক বিরাজ করছে। দুদেশের বাণিজ্য বাড়ছে। এই অর্থবছরেই ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে। এটা হবে একটা মাইলফলক।’

সে হিসাবে বড় ধরনের কোনো অঘটন না ঘটলে অর্থবছর শেষে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করবে, এটা নিশ্চিত করে বলা যায়।

মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির পালে হাওয়া লেগেছে। জুলাই-এপ্রিল সময়ে সব মিলিয়ে ৪৩ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৪ হাজার ৩৩৪ কোটি ৪৩ লাখ) ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৫ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি এবং পুরো বছরের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সমান।

এই সময়ে সব দেশেই ভালো রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে, ভারতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সবশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একক দেশ হিসেবে পাশের দেশ ভারত এখন বাংলাদেশের সপ্তম রপ্তানি বাজারের তালিকায় উঠে এসেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের শীর্ষ ১০ বাজারের একটি এখন ভারত।

অথচ গত অর্থবছরেও বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ রপ্তানি বাজারের তালিকায় ভারতের স্থান ছিল না। আগের বছরগুলোতে ভারতের অবস্থান ছিল ১৪-১৫তম স্থানে।

সবার ওপরে বরাবরের মতোই যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান করছে। দ্বিতীয় স্থানে জার্মানি। তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও পোল্যান্ড।

পোল্যান্ড ও ভারতে রপ্তানির অঙ্ক প্রায় সমান। জুলাই-এপ্রিল সময়ে পোল্যান্ডে রপ্তানি হয়েছে ১৭৬ কোটি ৩০ লাখ ডলারের পণ্য; ভারতে হয়েছে ১৭০ কোটি ৬২ লাখ ডলার।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে মাত্র তিনটি অর্থবছরে ভারতে পণ্য রপ্তানি ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের বেশি হয়েছে। তাও সেটা গত তিন বছরে। তার আগের বছরগুলোয় ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১ বিলিয়নের নিচে।

তবে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ছয় মাসেই অর্থাৎ জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে সেই রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে ১০৬ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। সাত মাসে তা বেড়ে ১২১ কোটি ২৪ লাখ ডলারে দাঁড়ায়। আট মাসে অর্থাৎ জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে তা আরও বেড়ে ১৩৬ কোটি ১০ ডলারে উঠে।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা ভারতে ১২৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেন, যা ছিল এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে এ আয় বেশি ছিল প্রায় ১৭ শতাংশ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারতের বাজারে ১২৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা কমে ১০৯ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ডলারে নেমে আসে।

গত অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১০৭ কোটি ৭৫ লাখ ডলার। এ হিসাবেই এই নয় মাসে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ৫৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

আগামী দিনগুলোতে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও বাড়বে বলে সুখবর দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

সম্প্রতি বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতির সঙ্গে বৈঠকে দোরাইস্বামী বলেন, ‘গত এক বছরে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। চলতি অর্থবছর শেষে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। আর এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে।’

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে ভারতে মোট রপ্তানির মধ্যে ৩৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে। নিট পোশাক রপ্তাানি হয়েছে ২৫ কোটি ৩৫ লাখ ডলারের।

অন্যান্য পণ্যের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১৬ কোটি ১৮ লাখ ডলারের। ৮ কোটি ২৪ লাখ ডলার এসেছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে। কটন ও কটন প্রোডাক্টস থেকে এসেছে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি থেকে এসেছে ১ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই দশ মাসে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ভারত থেকে এসেছে ৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্র সবার শীর্ষে

বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির প্রধান বাজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মোট রপ্তানি আয়ের ২০ শতাংশই আসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির এই দেশটি থেকে। ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে বাজারটিতে ৮৬৪ কোটি ৫৮ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫২ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি।

৬৩২ কোটি ৩৪ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জার্মানি; রপ্তানি বেড়েছে ২৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। তৃতীয় যুক্তরাজ্য; রপ্তানির অঙ্ক ৪০৬ কোটি ডলার। ২৬৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে চতুর্থ স্পেন। পঞ্চম স্থানে রয়েছে ফ্রান্স, রপ্তানির পরিমাণ ২২২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার।

অন্যান্য দেশের মধ্যে ইতালি বাংলাদেশ থেকে জুলাই-এপ্রিল সময়ে ১৩৮কোটি ৫৪ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। কানাডা ১২২ কোটি ৪৮ লাখ ডলার, বেলজিয়াম ৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার, নেদারল্যান্ডস ১৪৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার, জাপান ১১৫ কোটি ৪৮ লাখ ডলার এবং চীন ৫৯ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য বাংলাদেশ থেকে আমদানি করেছে।

এছাড়া জুলাই-এপ্রিল সময়ে অষ্ট্রেলিয়ায় ৭৮ কোটি ৭ লাখ ডলার এবং তুরস্কে ৩৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।

যুদ্ধের মধ্যেও রাশিয়ায় রপ্তানির ইতিবাচক ধারা অব্যাহত আছে। এই দশ মাসে দেশটিতে ৫৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরেও রপ্তানি আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করে চলেছি। পোশাকের অর্ডার বাড়ছে; দামও বেশি পাচ্ছি। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে পণ্য সরবরাহ ঠিকমতো না হওয়ায় এবং সব ধরনের জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। মানুষ পোশাক কেনা কমিয়ে দিতে পারে। এ অবস্থায় পাশের দেশ ভারতে রপ্তানি বাড়লে আমাদের জন্য খুবই ভালো হয়।’

‘ভারতে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের কদর বাড়ছে। ভৌগোলিক কারণেই ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। এখন থেকে তা বাড়তেই থাকবে বলে মনে হচ্ছে আমার কাছে। প্রায় দেড় শ কোটি লোকের চাহিদা মেটাতে ভারতকে বাংলাদেশ থেকে পোশাক কিনতেই হবে। ভারতে পোশাক তৈরি করতে যে খরচ হয়, বাংলাদেশ থেকে আমদানি করলে তার থেকে অনেক কম পড়ে। সে কারণে সব হিসাব-নিকাশ করেই তারা এখন বাংলাদেশ থেকে বেশি বেশি পোশাক কিনছে।’

ফারুক বলেন, ‘ভারতের অনেক ব্যবসায়ী এখন বাংলাদেশের কারখানায় পোশাক তৈরি করে তাদের দেশে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছেন। এতে তাদের একদিকে যেমন লিড টাইম কম লাগছে, অন্যদিকে খরচও কম হচ্ছে।

‘এ ছাড়া গত বছর ভারত সরকারকে বাংলাদেশের রপ্তানি-আমদানি বাণিজ্য দ্রুত ও সহজ করতে আমরা বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে ভারতীয় হাইকমিশনারকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। তার ইতিবাচক ফলও পাওয়া যাচ্ছে।’

সব মিলিয়ে ভারতের বিশাল বাজার বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য আগামী দিনে ‘সুদিন’ বয়ে আনবে বলে মনে করছেন ফারুক।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারতে বাংলাদেশের একটি বৃহৎ ও বিকাশমান বাজার রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেখান থেকে এখন পর্যন্ত যথেষ্ট পরিমাণে লাভবান হতে পারেনি। বৈশ্বিক বাজার থেকে ভারতের আমদানির মোট মূল্যমান প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি।

‘এখন ভারতে আমাদের রপ্তানি বাড়ছে। সেটা কিন্তু ভারতের দেড়’শ কোটি লোকের বিশাল বাজারের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। এখন দুদেশের সরকারের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক বিরাজ করছে, সেটাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ হবে।’

‘একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, পাশের দেশ হওয়ায় ভারতে খুবই কম খরচে আমরা পণ্য রপ্তানি করতে পারি। এতে রপ্তানিকারকরা বেশি লাভবান হয়। তাই ভারতে রপ্তানি বাড়াতে সরকারের কুটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়ানো উচিৎ বলে আমি মনে করি।’

আরও পড়ুন:
এক বছরে মাথাপিছু আয়ে যোগ প্রায় ২২ হাজার টাকা
এখন ২০% মূল্য সংযোজনেই মিলবে প্রণোদনা
বছরের রপ্তানির লক্ষ্য পূরণ ১০ মাসেই
ইউরোপে পণ্য পরিবহনে আরও তিন জাহাজ
বুড়িমারী স্থলবন্দরে ৭ দিন আমদানি- রপ্তানি বন্ধ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The value of lotus money is three times in May

আরও কমল টাকার মান, মে মাসেই তিনবার

আরও কমল টাকার মান, মে মাসেই তিনবার ডলারের বিপরীতে টাকার মান আবার ৪০ পয়সা কমল। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে মুদ্রার মান বরং কমেছে সবচেয়ে কম হারে। ভারতের মুদ্রার মান কমেছে বাংলাদেশের দ্বিগুণ হারে। আর পাকিস্তানে কমেছে বাংলাদেশের প্রায় ১০ গুণ হারে। মিয়ানমারে কমেছে পাঁচ গুণ হারে।

ডলারের বিপরীতে টাকার মান আবার ৪০ পয়সা কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়ে চলতি মে মাসেই তৃতীয়বারের মতো কমানো হলো এই মান। তিন দফায় ডলারের দাম বাড়ল ১ টাকা ৪৫ পয়সা।

এখন থেকে ব্যাংক চ্যানেলে ডলারের দাম ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা ঠিক করে দেয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকগুলোকে ৮৮ টাকায় আমদানি বিল আদায়ের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ নিয়ে চলতি বছর ষষ্ঠবারের মতো বাড়ল আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মুদ্রাটির মান। অর্থাৎ ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমল ছয় দফা।

এটি অবশ্য কেবল বাংলাদেশের চিত্র নয়। করোনা পরিস্থিতির উন্নতির পর আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য ক্রমেই বেড়ে চলার পরিপ্রেক্ষিতে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে দেশে দেশে। ডলারের টান পড়ায় দেশে দেশেই মুদ্রার মান কমছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে মুদ্রার মান বরং কমেছে সবচেয়ে কম হারে। ভারতের মুদ্রার মান কমেছে বাংলাদেশের দ্বিগুণ হারে। আর পাকিস্তানে কমেছে বাংলাদেশের প্রায় ১০ গুণ হারে। মিয়ানমারে কমেছে পাঁচ গুণ হারে।

গত জানুয়ারির শুরুতে ডলারের বিনিময় মূল্য ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২৩ মার্চ তা আবার ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা ২০ পয়সা করা হয়। গত ২৭ এপ্রিল বাড়ানো হয় আরও ২৫ পয়সা। তখন ১ ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়ায় ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা। ৯ মে ডলারের বিনিময় মূল্য ২৫ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

এরপর গত ১৬ মে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক দিনে সবচেয়ে বড় অবমূল্যায়ন করা হয় টাকার। সেদিন টাকার মান ৮০ পয়সা কমিয়ে ডলারের বিপরীতে করা হয় ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা।

অবশ্য খোলা বাজারে ডলার কিনতে গেলে এর চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। সম্প্রতি তা ইতিহাসের রেকর্ড ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। টাকার মান আরও কমবে- এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়ার পর ১০৪ টাকাতেও ডলারে কেনার ঘটনাও প্রকাশ পায়।

তবে মুনাফা করার আশায় গুড়েবালি হয়েছে। বিদেশযাত্রায় সরকার লাগাম পরানোর পর খোলা বাজারে ডলারের চাহিদা কিছুটা কমায় দামও কমে ৯০-এর ঘরে চলে এসেছে।

মানি এক্সচেঞ্জ থেকে ডলার কিনতে সোমবার ৯৮ দশমিক ২০ টাকা গুনতে হয়েছে ক্রেতাদের। এর আগে গত ১৭ মে খোলা বাজারে ডলারের দাম ১০২ টাকায় উঠেছিল।

দাম বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রিও করেছে। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৫৫০ কোটি ডলার বাজারে ছেড়েছে তারা।

ডলারের দাম আরও বাড়ায় রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা লাভবান হবেন। অন্যদিকে আমদানিকারকদের খরচ বাড়বে। আর আমদানি খরচ বাড়া মানে ভোক্তাদের একই পণ্যের জন্য আরও বেশি খরচ করা।

ডলার নিয়ে এই অস্থিরতার মধ্যে ব্যয় সংকোচন এবং ডলারের ওপর চাপ কমাতে অতি জরুরি প্রকল্প ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে অর্থায়নে সতর্কতা অবলম্বন করছে সরকার।পাশাপাশি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণও সীমিত করা হয়েছে। বিলাসপণ্যের পেছনে খরচ কমিয়ে আনতে আমদানিতে এলসি মার্জিন বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

সরকার বিশ্ব মন্দার আশঙ্কাও করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধ না হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

আরও পড়ুন:
ব্যাংকেও সেঞ্চুরি হাঁকানোর পথে ডলার
ডলার সংকটে বেসামাল অর্থনীতি
খোলা বাজারে ডলারের সেঞ্চুরি
ডলারের পাগলা ঘোড়ার দাপটে টাকার রেকর্ড দরপতন
রিজার্ভ থেকে রেকর্ড ডলার ছেড়েও অস্থির বাজার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Tariffs on more than two hundred luxury items are rising before the budget

বাজেটের আগে দুই শতাধিক ‘বিলাসপণ্যে’ শুল্ক বাড়ছে

বাজেটের আগে দুই শতাধিক ‘বিলাসপণ্যে’ শুল্ক বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ কমাতে আমদানি পণ্যে বিধি-নিষেধ আসছে। ছবি: সংগৃহীত
আমদানি নিরুৎসাহিত করতে সরকারের আরেক দফা পদক্ষেপ। এবার এনবিআর বাড়তি শুল্ক বসাতে যাচ্ছে। পণ্যের তালিকা এবং কত হারে শুল্ক বসানো হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে যেসব পণ্য ব্যবহার না করলে ভোক্তাদের আপাতত সমস্যা হবে না কিংবা দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, তালিকায় সেইসব পণ্য যুক্ত করা হচ্ছে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) উদ্যোগ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ‘বিলাস ও অনভিপ্রেত’ পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী বাজেট ঘোষণার আগেই এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার অথবা তার পরের দিন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে তা কার্যকর করবে এনবিআর। রাজস্ব বোর্ডের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একটি সূত্র নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করছে।

পণ্যের তালিকা এবং কত হারে শুল্ক বসানো হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে যেসব পণ্য ব্যবহার না করলে ভোক্তাদের আপাতত সমস্যা হবে না কিংবা দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, তালিকায় সেইসব পণ্য যুক্ত করা হচ্ছে।

এনবিআরের একটি সূত্র বলেছে, পণ্যের সংখ্য দুই শতাধিক হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: আমদানি করা বিস্কুট, চকলেট, বিভিন্ন জাতের ফল, জুস ও বিদেশি তৈরি পোশাক।

এসব পণ্যের ওপর তিন ধরনের শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। আমদানি শুল্ক বা কাস্টম ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বা আরডি।

বর্তমানে যে পরিমাণ শুল্কহার আছে তার সঙ্গে বিভিন্ন হারে বাড়তি শুল্ক ধার্য করা হবে।

মূলত ওইসব পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করতে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বাড়তি শুল্কহার কার্যকর হলে দেশীয় বাজারে পণ্যগুলোর দাম বেড়ে যাবে।

এনবিআর বলেছে, সাময়িকভাবে এ শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। যেদিন থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে সেদিন থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। তবে সরকার ইচ্ছা করলে বাস্তবতার আলোকে মেয়াদ আরও বাড়াতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্য, কাঁচামাল ও তেলের দামসহ সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। সঙ্গে বেড়েছে জাহাজ ভাড়াও। এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এর চাপ পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর।

আমদানি যে হারে বেড়েছে, রপ্তানি সে হারে বাড়েনি। আবার প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সও কমে গেছে। ফলে প্রতি মাসে বিশাল ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এ কারণে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে জোগান দিতে হচ্ছে আমদানির খরচ। সোমবার পর্যন্ত রিজার্ভের পরিমাণ ৪২ বিলিয়ন ডলার।

এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে বিলাস ও অত্যাবশ্যকীয় নয় এমন পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করতে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১০ মে এক পরিপত্র জারি করে ওইসব পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করতে এলসি মার্জিন বা ঋণপত্র খোলার জন্য নগদ টাকা জমার পরিমাণ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর এবার এনবিআর বিভিন্ন হারে বাড়তি শুল্ক ধার্য করতে যাচ্ছে।

রাজস্ব বোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে এনবিআরের কর্মকর্তাদের জরুরি বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। কোন কোন পণ্যের শুল্ক বাড়ানো হবে, তা যাচাই-বাছাই করে দেখছে এনবিআর।

রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সরকার দুটি ব্যবস্থা নিতে পারে। আমদানিকে নিরৎসাহিত করতে এলসির বিপরীতে নগদ টাকা জমার পরিমাণ বাড়ানো এবং সাময়িক সময়ের জন্য বাড়তি শুল্ক আরোপ করা। সরকার এখন সেই পথেই হাঁটছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সরকার চাইলে কাস্টম আইনের ১৫ ধারা অথবা আমদানি নীতির ১৬ ধারা প্রয়োগ করে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে পারে।

এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদউদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, কাস্টমস আইনে উল্লেখ থাকলেও সাধারণত এনবিআর পণ্য আমদানি বন্ধ বা নিষিদ্ধ করে না। শুল্ক আরোপ করাই এনবিআরের কাজ। পণ্য আমদানি নিষিদ্ধের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

কাস্টমস আইনে বিলাস পণ্যের কোনো সংজ্ঞা নেই। তবে যেসব পণ্যে উচ্চহারে শুল্ক আরোপ রয়েছে, সাধারণত সেইসব পণ্য ‘বিলাস ও অনভিপ্রেত’ বলে বিবেচনা করা হয়।

বর্তমানে আমদানি করা প্রস্তুতকৃত প্রায় সব পণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বা আরডি আরোপ আছে। এর সর্বোচ্চ হার ৩৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন হার ৩ শতাংশ। অপরদিকে আমদানি করা ১ হাজার ৮৭৮টি পণ্যের ওপর বিভিন্ন হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
এনবিআর কর্মীদের সম্পদের হিসাব দেয়ার নির্দেশ
বাজেট প্রস্তাব চেয়েছে এনবিআর
সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিন, ব্যবস্থা নেব: এনবিআর চেয়ারম্যান
এনবিআর চেয়ারম্যান রহমাতুল মুনিমের মেয়াদ দুই বছর বাড়ল
আয়েশা'স বিউটি পার্লারের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Cab wants the consumer rights department to control the market

বাজার নিয়ন্ত্রণে ‘ভোক্তা অধিকার বিভাগ’ চায় ক্যাব

বাজার নিয়ন্ত্রণে ‘ভোক্তা অধিকার বিভাগ’ চায় ক্যাব সোমবার ‘অতিমুনাফা ও প্রতারণার শিকার ভোক্তারা: আইন মানার তোয়াক্কাই নেই’ শীর্ষক অনলাইন সেমিনারের আয়োজন করে ক্যাব। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ক্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এম সামসুল আলম বলেন, ‘দেশে এমন কোনো খাত নেই যেখানে অসাধু ব্যবসায়ীরা মাথাচাড়া দেয়নি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ছাড়া আর কোথাও ভোক্তাদের যাওয়ার জায়গা নেই। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে অধিদপ্তরই যথেষ্ট নয়, বিভাগ চাই।’

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সহনীয় রাখতে অসাধু ব্যবসায়ীদের ফৌজদারি আইনের আওতায় শাস্তি চায় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বালাদেশ-ক্যাব। বেসরকারি এই সংগঠন মনে করে, ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণে ভোক্তা অধিদপ্তর যথেষ্ট নয়; এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘ভোক্তা অধিকার বিভাগ’ জরুরি।

সোমবার ‘অতিমুনাফা ও প্রতারণার শিকার ভোক্তারা: আইন মানার তোয়াক্কাই নেই’ শীর্ষক এক অনলাইন সেমিনারে বক্তারা এমন বক্তব্য তুলে ধরেন।

ওয়েবিনারে ক্যাবের নেতারা বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সহনীয় রাখতে উচ্চ পর্যায়ে টাস্কফোর্স গঠন করা হলেও বেপরোয়া কিছু ব্যবসায়ীর কারণে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। চাল-ডাল থেকে শুরু করে ভোগপণ্যের বাজারে কিছু ব্যবসায়ী নিম্ন মানের পণ্য বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। তাদের অপতৎপরতা বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় এসব ব্যবসায়ীকে ঠেকাতে কেবল জরিমানা নয়, আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।’

ওয়েবিনারটি পরিচালনা করেন ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মিজানুর রহমান রাজু। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন।

মূল প্রবন্ধে নাজের হোসাইন বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা ঠেকাতে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনের বাজারে অভিযান পরিচালনা করছে। অপরাধের জন্য সতর্ক করার পাশাপাশি জরিমানাও আদায় করা হচ্ছে। তারপরও অপতৎপরতা বন্ধ হচ্ছে না।’

সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীদের ভিত এতটাই শক্তিশালী যে সরকারি প্রশাসন যন্ত্র মনে হয় তাদের কাছে অসহায়। এরা টাকার জোরে সরকারি আমলা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিভিন্ন মিডিয়াকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেন।’

ব্যবসায় অসাধু প্রক্রিয়ায় কোটিপতির সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আগে একই কায়দায় গুঁড়োদুধে ময়দা মিশ্রিত করার হোতাসহ চিনি, সয়াবিন, চাল কেলেঙ্কারির হোতাদের কোনো শাস্তি হয়নি। তারা বরাবরই পর্দার আড়ালে থেকে রেহাই পেয়ে যায়।’

‘ব্যবসায় এমন প্রতারণা ফৌজদারি অপরাধও বটে। তবে আইন দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সব সময় সম্ভব না-ও হতে পারে। এজন্য প্রয়োজন অতিমুনাফালোভী, প্রতারক, মজুতকারী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করা। তাহলে ব্যবসা-বাণিজ্যে জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত হতে পারে।’

ক্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এম সামসুল আলম বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ছাড়া আর কোথাও ভোক্তাদের যাওয়ার জায়গা নেই। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের জন্য কেবল ভোক্তা অধিদপ্তরই যথেষ্ট নয়, বিভাগ চাই।

‘দেশে এমন কোনো খাত নেই যেখানে অসাধু ব্যবসায়ীরা মাথাচাড়া দেয়নি। আমরা ভোক্তারা অনেকটা বন্দি হয়ে গেছি। এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি দিতে দেশের আইন, সরকারি প্রতিষ্ঠান কেউ-ই সফল নয়।’

‘দেশে অসাধু ব্যবসায়ীর সংখ্যা কম। কিন্তু সৎ ব্যবসায়ীরা এই অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারছেন না। তারা অসাধু ব্যবসায়ীদের দ্বারা নির্যাতিত, নিপীড়িত হচ্ছেন।’

ভোক্তাদের প্রতি অনুরোধ রেখে তিনি বলেন, ‘আপনারা জেলায় জেলায় অন্তত একটা করে ঘটনা চিহ্নিত করুন। যাতে এসব ঘটনাকে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা আইনের আওতায় ফৌজদারি আইনে মামলা করা যায়। ভোক্তা অধিদপ্তরের হয়তো এখনও মামলা করার অধিকার নেই। তবে আইন করা হচ্ছে। ক্যাক একমাত্র সংগঠন, যাকে মামলা করার অধিকার দেয়া হয়েছে। ভোক্তা স্বার্থবিরোধী এসব ঘটনায় আমরা প্রয়োজনে প্রমাণসহ আদালতে যাব।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামের ই-ক্যাব সদস্যদের সঙ্গে দ্য চেঞ্জমেকার্সের মতবিনিময়
রপ্তানি বাড়াতে পণ্যে বৈচিত্র্য ‌আনা জরুরি
ডিক্যাব লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধুর ছবি
বাড়ছে শিক্ষার সঙ্গে কাজের ধরনে পার্থক্য
‘আধুনিক ঢাকা গড়তে এগুতে হবে তরুণদের’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Remittance free from conditional fencing

শর্তের বেড়াজাল থেকে মুক্ত রেমিট্যান্স

শর্তের বেড়াজাল থেকে মুক্ত রেমিট্যান্স
জ্বালানি ও পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ডলারের মজুত এখন দেশের প্রধান দুশ্চিন্তার একটি হয়ে গেছে। গত বছরের ২৪ আগস্ট এই রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। তখন ওই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ১০ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যেত। তখন অবশ্য প্রতি মাসে ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হতো। সেটি এখন নেমে এসেছে ৪২ বিলিয়ন ডলারে। এই অর্থে সাড়ে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যায়।

প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শর্ত রইল না আর।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে রিজার্ভে টান পড়ার মধ্যে রেমিট্যান্স পাঠানোর পথ সহজ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এখন থেকে পাঁচ হাজার ডলার বা ৫ লাখ টাকার বেশি রেমিট্যান্স এলে কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই পাওয়া যাবে প্রণোদনা।

সোমবার সিদ্ধান্তটি জারির দিন থেকেই তা কার্যকর করা হয়েছে।

বৈধ উপায়ে রেমিট্যান্সের বিপরীতে প্রণোদনার প্রক্রিয়া সহজ করতে এ নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে পাঁচ হাজার থেকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি রেমিট্যান্স পাঠাতে গেলে রেমিটারকে (অর্থপ্রেরক) বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসের কাছে বিস্তারিত কাগজপত্র জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল।

সেটি তুলে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘পাঁচ হাজার অথবা পাঁচ লাখ টাকার বেশি রেমিট্যান্স পাঠালে প্রণোদনা বা নগদ সহায়তা পাওয়ার জন্য প্রবাসীর কাগজপত্র বিদেশের এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এখন থেকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৈধ উপায়ে দেশে রেমিট্যান্স প্রেরণের বিপরীতে রেমিট্যান্স প্রণোদনা/নগদ সহায়তা প্রদানে রেমিটারের কোনো কাগজপত্র ব্যতীত বিদ্যমান হারে (২.৫০ শতাংশ) রেমিট্যান্স প্রণোদনা/নগদ সহায়তা প্রযোজ্য হবে।’

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিপরীতে কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই নগদ সহায়তা পাওয়া যাবে।

প্রতি ডলারের বিপরীতে নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত পাওয়া যাবে আরও আড়াই টাকা। ডলারের সবশেষ বিনিময় হার ঠিক হয়েছে ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা। এর সঙ্গে আড়াই টাকা যোগ হয়ে পাওয়া যাবে ৯০ টাকা ৪০ পয়সা।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।

জ্বালানি ও পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ডলারের মজুত এখন দেশের প্রধান দুশ্চিন্তার একটি হয়ে গেছে।

গত বছরের ২৪ আগস্ট এই রিজার্ভ অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। তখন ওই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় ১০ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যেত। তখন অবশ্য প্রতি মাসে ৪ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হতো।

তবে আমদানি ব্যয় বাড়ায় গত ৯ মে আকুর (এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন) রেকর্ড ২২৪ কোটি (২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন) ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এরপর সপ্তাহ খানেক রিজার্ভ ৪২ বিলিয়নন ডলারের নিচে অবস্থান করে।

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ায় গত বুধবার রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। গত কদিন তা আরও বেড়ে রোববার দিন শেষে ৪২ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে ওঠে।

জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ- প্রতি মাসে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে দেশে। এ হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

আরও পড়ুন:
১১ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এপ্রিলে
ঈদের আগে রেমিট্যান্সের ঢল
ঈদের আগে রেমিট্যান্সে স্রোত
১৩ দিনেই ৮ হাজার কোটি টাকার রেমিট্যান্স
ঈদ সামনে রেখে রেমিট্যান্সে ঢল

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
1 lakh 83 thousand farmers have received special incentive loans

বিশেষ প্রণোদনার ঋণ পেয়েছেন ১ লাখ ৮৩ হাজার কৃষক

বিশেষ প্রণোদনার ঋণ পেয়েছেন ১ লাখ ৮৩ হাজার কৃষক
যেসব ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের এ অর্থ সাধারণ কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করেছে, তাদের মধ্যে সফল বাস্তবায়নকারী ১৭টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীকে প্রশংসাপত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকট মোকাবিলায় কৃষকের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ তহবিল থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৭০ জন গ্রাহককে ৪ হাজার ২৯৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে ব্যাংকগুলো। বিতরণ করা এ অর্থ স্কিমের তহবিলের ৮৫ দশমিক ৯০ শতাংশ।

সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে কৃষি খাতে চলতি মূলধন সরবরাহের উদ্দেশ্যে ‘কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ নামে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়। পুনঃঅর্থায়ন স্কিম থেকে জামানতবিহীন সহজ শর্তে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাচ্ছেন কৃষক।

যেসব ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের এ অর্থ সাধারণ কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করেছে, তাদের মধ্যে সফল বাস্তবায়নকারী ১৭টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীকে প্রশংসাপত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের এ এন হামিদুল্লাহ্ কনফারেন্স রুমে একটি সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশংসাপত্র তুলে দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

প্রশংসাপত্র পাওয়া ব্যাংকগুলো হলো সোনালী, অগ্রণী, রূপালী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট, কৃষি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন, ইসলামী, এক্সিম, ব্র্যাক, প্রিমিয়ার, ওয়ান , ব্যাংক এশিয়া, শাহজালাল ইসলামী, উত্তরা, এবি, এনআরবি কমার্শিয়াল এবং মধুমতি ব্যাংক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এ কে এম সাজেদুর রহমান খান, নির্বাহী পরিচালক আওলাদ হোসেন চৌধুরী ও কৃষি ঋণ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল হাকিমসহ অন্যরা।

আরও পড়ুন:
চাকরি হারিয়ে গ্রামে ফেরাদের ৫ লাখ পর্যন্ত ঋণ দিতে তহবিল
নীলফামারীতে ১২০০ কৃষক পাচ্ছেন প্রণোদনা
প্রণোদনার ঋণ নিশ্চিতে হটলাইন চালুর চিন্তা
পর্যটনে প্রণোদনা ঋণ, আবেদন যেভাবে
প্রণোদনার সিএমএসএমই ঋণ বিতরণে নতুন নির্দেশনা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Khulna Shipyard is building two high capacity tugboats

উচ্চক্ষমতার দুটি টাগবোট বানাচ্ছে খুলনা শিপইয়ার্ড

উচ্চক্ষমতার দুটি টাগবোট বানাচ্ছে খুলনা শিপইয়ার্ড খুলনা শিপইয়ার্ডে সোমবার দুপুরে দুইটি টাগবোটের ক্লাসিফিকেশন সনদপত্র হস্তান্তর করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
খুলনা শিপইয়ার্ডে সোমবার দুপুরে দুটি টাগবোটের কিল লেয়িং উদ্বোধন করেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল।

পায়রা বন্দরের জন্য উচ্চক্ষমতার দুটি টাগবোট নির্মাণ করছে খুলনা শিপইয়ার্ড।

৭০ টন বোলার্ড পুলবিশিষ্ট দুটি টাগবোট তৈরি করা হবে। নির্মাণ শেষ হলে এ দুটি হবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বোলার্ড পুল ক্ষমতার টাগবোট।

সোমবার দুপুরে খুলনা শিপইয়ার্ডে দুটি টাগবোটের কিল লেয়িং উদ্বোধন করেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল।

তিনি বলেন, পায়রা বন্দরের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। অচিরেই এটি দেশের আমদানি-রপ্তানির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে যাচ্ছে। এই বন্দরকে কেন্দ্র করে প্রচুর দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসছে।

পায়রা বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, জাহাজ নির্মাণে খুলনা শিপইয়ার্ডের ঐতিহ্য রয়েছে। ভবিষ্যতেও পায়রা বন্দর ও খুলনা শিপইয়ার্ড পারস্পরিক উন্নয়নে এক সঙ্গে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এম সামছুল আজিজ। উপস্থিত ছিলেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন) কমডোর এম মামুনুর রশীদসহ শিপইয়ার্ডের কর্মকর্তারা।

খুলনা শিপইয়ার্ড সূত্রে জানা যায়, সর্বাধুনিক প্রযুক্তির টাগ বোট দুটিতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন হবে। এটা আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় যাতায়াতে সক্ষম।

বোট দুটি বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াবে। এ ছাড়া পায়রা বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বন্দরে পরিণত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য

p
উপরে