× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

অর্থ-বাণিজ্য
The capital market is on the decline again
hear-news
player

ফের পতনের ধারায় পুঁজিবাজার

ফের-পতনের-ধারায়-পুঁজিবাজার
ঈদের আগে থেকে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েও আবার পতনের ধারায় ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বাজার নিয়ে যে আস্থাহীনতা তার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা গুজবের প্রভাব কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এ ছাড়াও একটি বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিও হিসাব থেকে শেয়ার বিক্রির বিষয়টি সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা পরিণত হয়েছে ক্ষোভে।

ঈদের পর টানা তিন কর্মদিবসে বাড়তে থাকার পর এবার টানা দুই দিন কমল লেনদেন। তা আবার নেমে এসেছে এক হাজার কোটি টাকার নিচে।

এক দিনেই কমল আরও প্রায় আড়াই কোম্পানির দর। এর মধ্যে দর পতনের সর্বোচ্চ সীমায় লেনদেন হওয়া কোম্পানির সংখ্যা আগের তুলনায় কিছুটা কম দেখা গেছে।

সপ্তাহের প্রথম দুই কর্মদিবসে সূচক ৫৪ পয়েন্ট বাড়ার পর টানা তিন দিনে সূচক কমল ১৩২ পয়েন্ট।

এর মধ্যে মঙ্গলবার লেনদেনের অর্ধেকটা সময় সূচক বেড়ে লেনদেন হতে থাকলেও শেষ আধাঘণ্টায় হঠাৎ সূচক নেমে আসতে থাকে। পরের দিনও একই প্রবণতা দেখা যায়। শেষ আড়াই ঘণ্টায় সূচকের পতন হয় আরও বেশি।

বৃহস্পতিবারের প্রবণতা ছিল এ থেকে ভিন্ন। লেনদেনের শুরুতেই সূচক অনেকটাই কমে গেলেও পরে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা দেখা যায়। এরপর আবার পড়ে।

প্রথম আধাঘণ্টায় সূচক পড়ে যায় ৩৭ পয়েন্ট। তবে পরের ২৫ মিনিটে সেখান থেকে ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে সূচকে যোগ হয় ৬ পয়েন্ট।

এরপর সূচক আবার পড়ে দুপুর ১২টার দিকে আগের দিনের চেয়ে বেড়ে লেনদেন হতে থাকে। পরে সেখান থেকে আবার পড়ে।

শেষ পর্যন্ত আগের দিনের চেয়ে ২৬ পয়েন্ট কমে সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৬৫ পয়েন্ট।

সূচকের অবস্থান নেমে গেল গত ১৯ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে। সেদিন সূচক ছিল ৬ হাজার ৫৩০ পয়েন্ট।

ফের পতনের ধারায় পুঁজিবাজার
সপ্তাহের প্রথম দুই কর্মদিবসে সূচক ৫৪ পয়েন্ট বাড়ার পর তিন দিনে কমল ১৩২ পয়েন্ট

ঈদের আগে থেকে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েও আবার পতনের ধারায় ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বাজার নিয়ে যে আস্থাহীনতা তার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা গুজবের প্রভাব কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এ ছাড়াও একটি বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিও হিসাব থেকে শেয়ার বিক্রির বিষয়টি সামনে এসেছে।

এসব ঘটনায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা পরিণত হয়েছে ক্ষোভে।

পুঁজিবাজারের প্রবণতা নিয়ে ট্রেজার সিকিউরিটিজের চিফ অপারেটিং অফিসার মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, 'লেনদেন তলানীতে নামার পর কাঙ্ক্ষিত টার্নওভার ছিল ৮০০ থেকে ১২০০ কোটি টাকা, যেটা দুই দিন আগে ছাড়িয়েছিল। এখন আবার সেটা নিচে নেমে গেছে। এর কারণ মার্কেটের নতুন ফান্ড ইনজেক্ট হচ্ছে না। সেল প্রেসারের কারণে টার্নওভার বেশি দেখাচ্ছে কিন্তু বায়ার দাঁড়াচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই সমন্বয়টা হতে হবে।’

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকায় নাখোশ মাহবুব। বলেন, ‘অতীতে দেখা গেছে, যখনই বাজার নিম্নমুখী হয় তখনই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিজেদেরকে গুটিয়ে নেন আরেকটু ভালো সুযোগ পাওয়ার জন্য। কিন্তু এটি বাজারকে স্থিতিশীল হতে দিচ্ছে না।’

সূচক কমাল যেসব কোম্পনি

সূচক যত কমেছে তার ৩০ শতাংশই ফেলেছে গ্রামীণ ফোন একাই। কোম্পানিটির শেয়ারদর ১.৬২ শতাংশ কমার কারণে সূচক পড়েছে ৮.১১ পয়েন্ট।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকোর দর ০.৬২ শতাংশ কমায় সূচক পড়েছে ২.২৯ পয়েন্ট, তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওয়ালটনের দর ০.৫০ শতাংশ কমায় সূচক পড়েছে ২.০৭ পয়েন্ট। চতুর্থ অবস্থানে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেডের দর ১.৩৭ শতাংশ কমায় সূচক ২.০৬ পয়েন্ট কমেছে।

এছাড়া ব্র্যাক বাংক ও রবির দরপতনে ১.২৩ পয়েন্ট করে, এনআরবিসির দরপতনে ০.৯৬ পয়েন্ট, ইউনাইটেড পাওয়ারের দরপতনে ০.৮৯ পয়েন্ট, পূবালী ব্যাংকের দরপতনে ০.৭৩ পয়েন্ট এবং বার্জার পেইন্টসের দরপতনে সূচক কমেছে ০.৭ পয়েন্ট।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানির কারণেই সূচক পড়েছে ২০.২৭ পয়েন্ট।

বিপরীতে সূচকে পয়েন্ট যোগ করতে পেরেছে খুব কম সংখ্যক কোম্পানিই। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১.৫৮ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে বিকন ফার্মা। কোম্পানিটির দর বেড়েছে ২.২৯ শতাংশ।

এছাড়া স্কয়ার ফার্মা ১.১৫ পয়েন্ট, জেএমআই হসপিটাল ০.৮৪ পয়েন্ট, শাইনপুকুর সিরামিকস ০.৬৮ পয়েন্ট, রেনাটা ০.৪৭ পয়েন্ট, আরএকে সিরামিক ও ইউসিবি ব্যাংক ০.৪৫ পয়েন্ট করে, সালভো ক্যামিকেল ০.৪০ পয়েন্ট, এসিআই ফর্মুলেশন ০.৩৯ পয়েন্ট এবং নাহী অ্যালুমিনিয়ম ০.৩১ পয়েন্ট যোগ করতে পেরেছে।

সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট যোগ করা ১০ কোম্পানির কারণে সূচক বেড়েছে ৬.৭২ পয়েন্ট।

দরপতনের শীর্ষ ১০

এই তালিকার প্রায় সব কটি কোম্পানিই দুর্বল মৌলভিত্তির, যেগুলোর লভ্যাংশের ইতিহাস ভালো নয় কোনো বিবেচনাতেই। কয়েকটি আছে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি।

এই তালিকার শীর্ষে দেখা গেছে বেক্সিমকো গ্রুপের শাইনপুকুর সিরামিক, যার দর গত কয়েকদিন ধরেই অস্বাভাবিক হারে বাড়তে দেখা গেছে।

গত ২৭ এপ্রিলও কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২৬ টাকা ৪০ পয়সা। সাত কর্মদিবসে সেখান থেকে ১৬ টাকা ৬০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৪৩ টাকা। বেড়েছে ৬২.৮৭ শতাংশ।

এর মধ্যে আজ বেড়েছে ৯.৯৭ শতাংশ। আগের দিন দর ছিল ৩৯ টাকা ১০ পয়সা। বাড়ার সুযোগ ছিল ৩ টাকা ৯০ পয়সা। এতটাই বেড়েছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ফুওয়াং সিরামিক, যার দরও এক দিনে যতটা সম্ভব বেড়েছে ততটাই। আগের দিন দর ছিল ১৬ টাকা ২০ পয়সা। ১ টাকা ৬০ পয়সা বা ৯.৮৭ শতাংশ বেড়ে নতুন দাম ১৭.৮০ শতাংশ।

এই দুটি কোম্পানির দরই এক দিনে দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়ে লেনদেন হয়েছে। এর বাইরে বিডি থাই ফুডের দর সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি ছুঁয়ে লেনদেন হয়েছে। দর বেড়েছে ৯.১৪ শতাংশ।

এর বাইরে সালভো ক্যামিকেলসের দর ৮.৮৪ শতাংশ, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৭.৭৯ শতাংশ, ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্ডস ফান্ডের দর ৬.৮৪ শতাংশ, জেএমআই হসপিটালের দর ৬.৬৬ শতাংশ, নাহী অ্যালুমিনিয়মের দর ৫.৯৯ শতাংশ, লাভেলো আইসক্রিমের দর ৫.১০ শতাংশ, সোনারগাঁও টেক্সটাইলের দর ৫.০৭ শতাংশ বেড়েছে।

শীর্ষ দশের বাইরে আরও একটি কোম্পানির দর ৫ শতাংশ, ২টির দর ৪ শতাংশের বেশি, ৩ টির দর ৩ শতাংশের বেশি, ১১টির দর ২ শতাংশ বেড়েছে।

দর পতনের শীর্ষ ১০

এই তালিকার শীর্ষে ছিল সাধারণ বিমা খাতের কোম্পানি। ১০টির মধ্যে চারটিই এক খাতের। এর বাইরে দুটি কোম্পানি কাগজ ও প্রকাশনা খাতের।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪.৯৯ শতাংশ দর কমেছে পেপার প্রসেসিংয়ের। দ্বিতীয় অবস্থানে ছির মনস্পুল পেপার, যার দর কমেছে ৪.৯৭ শতাংশ।

গত বছর ওটিসি মার্কেট থেকে ফেরা কোম্পানিগুলোর দর অস্বাভাবিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন হলে সেগুলো দর হারিয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক মাসে আবার ব্যাপকভাবে বেড়ে যায় দর। সম্প্রতি আবার সংশোধন হচ্ছে।

তৃতীয় অবস্থানে ছিল ওটিসি ফেরত তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল, যার দর কমেছে ৪.৯২ শতাংশ। এই কোম্পানির শেয়ারদরও কাগজ খাতের দুই কোম্পানির সঙ্গে তাল মিলিয়ে উঠানামা করছে।

চতুর্থ অবস্থানে ছিল জেমিনি সি ফুড, যেটির দর সম্প্রতি ৫৫৩ টাকা ৯০ পয়সায় উঠে গিয়ে পড়ে টানা পড়ছে। বর্তমান দর ৩৪২ টাকা ৪০ পয়সা।

বিমা খাতের চারটি কোম্পানির মধ্যে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের দর ৪.১৯ শতাংশ, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.৯৭ শতাংশ, এশিয়ান ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.৫৫ শতাংশ, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.২০ শতাংশ কমেছে।

অন্য দুটি কোম্পানি হলো জি কিউ বলপেন যার দর ৩.০৭ শতাংশ এবং ন্যাশনাল ফিড মিলের দর ৩.০৪ শতাংশ কমেছে।

এই তালিকার ৫ নম্বরে এনআরবি কমার্শিয়ার ব্যাংকের নাম থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এর লভ্যাংশ সংক্রান্ত সমন্বয় হয়েছে।

কোম্পানিটি এবার শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে যার অর্ধেক নগদ এবং অর্ধেক বোনাস। বুধবার রেকর্ড ডেটে দর ছিল ২৩ টাকা ৯০ পয়সা। অর্থাৎ দাম কমে হতে পারত ২২ টাকা ৩০ পয়সা। কিন্তু দিন শেষে দর দাঁড়িয়েছে ২২ টাাক ৮০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
‘ঈদ অবসর’ শেষে লেনদেনে ‘চার শুভ ইঙ্গিত’
ঈদের ছুটি শেষে লেনদেনে ফের ভাটা
গোমড়া মুখে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার
আয় বাড়তে থাকলেও লভ্যাংশ কমাচ্ছে ম্যারিকো
মুনাফায় ফিরলেও টানা দুই প্রান্তিকে লোকসান হাইডেলবার্গে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The capital market also fell by 308 points in one week

আরও পড়ল পুঁজিবাজার, এক সপ্তাহে হাওয়া ৩০৭ পয়েন্ট

আরও পড়ল পুঁজিবাজার, এক সপ্তাহে হাওয়া ৩০৭ পয়েন্ট
চলতি সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে বড় দরপতনের পর তিন দিনই পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। এ নিয়ে ঈদের অবসর শেষে দুই দিন বেড়ে পরে টানা সাত কর্মদিবসে সূচক পড়ল ৪৩৯ পয়েন্ট।

চলতি সপ্তাহের চার কর্মদিবসের প্রতিদিন হারিয়ে ৩০০ পয়েন্টেরও বেশি পড়ল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স।

এই পতনের মধ্য দিয়ে সূচকের অবস্থান নেমে গেল ১০ মাস আগে ২০২১ সালের ১২ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্নে। সেদিন সূচকের অবস্থান ছিল ৬ হাজার ২০৮ পয়েন্ট।

বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৫৮ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে সূচকের অবস্থান ছিল ৬ হাজার ৫৬৫ পয়েন্ট। অর্থাৎ এক সপ্তাহে কমেছে ৩০৭ পয়েন্ট।

রোববার বুদ্ধপূর্ণিমার বন্ধের পর সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস সোমবার ১৩৪ পয়েন্ট সূচক পতনের পর তিন দিনের প্রতিদিনই বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও পড়েছে।

মঙ্গলবার লেনদেন শুরুর সাত মিনিটে ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে পরে একপর্যায়ে ১১২ পয়েন্ট কমে যায়। তবে শেষ দুই ঘণ্টার ক্রয়চারে শেষ পর্যন্ত ২৭ পয়েন্ট হারিয়ে শেষ করে লেনদেন।

তৃতীয় কর্মদিবস বুধবারও দেখা যায় একই প্রবণতা। লেনদেন শুরু হয় ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কমে যায় ৯৩ পয়েন্ট।

শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই দেখা দেয় দরপতন। এক ঘণ্টায় সূচক পড়ে যায় ৮০ পয়েন্টের বেশি। কিন্তু বেলা দেড়টার দিকে হারানো সূচক পুনরুদ্ধার হয়ে বাড়ে আরও ১৫ পয়েন্ট। কিন্তু এরপর দেড় ঘণ্টায় আবার দেখা দেয় দরপতন। শেষ পর্যন্ত আগের দিনের চেয়ে ৫১ পয়েন্ট কমে শেষ হয় লেনদেন।

এ নিয়ে ঈদের অবসর শেষে দুই দিন বেড়ে পরে টানা সাত কর্মদিবসে সূচক পড়ল ৪৩৯ পয়েন্ট।

দিন শেষে ২৬৩টি কোম্পানি দর হারায়। বিপরীতে বাড়ে ৬৭টি। দর ধরে রাখতে পারে ৫০টি কোম্পানি।

আরও পড়ল পুঁজিবাজার, এক সপ্তাহে হাওয়া ৩০৭ পয়েন্ট
সোমবার বড় দরপতনের পর প্রতিদিনই পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও পড়েছে

পুঁজিবাজারে এই দরপতনের পেছনে নানা বিষয়, শঙ্কা কাজ করছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশেও একই পরিণতিক আশঙ্কার পর সবশেষ যোগ হয়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার মান হারানোর বিষয়টি।

গত এক মাসে টাকার দর কমেছে তিন শতাংশের বেশি, তবে মঙ্গলবার খোলাবাজারে ডলারের দাম সরকারের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে বেশি ছিল আরও অন্তত ১৫ টাকা।

এই পরিস্থিতিতে আরও দরপতনের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা কম দামে হলেও শেয়ার বিক্রি করে দিতে চাইছেন। এর পাশাপাশি আইসিবির ব্যাংক ঋণ পরিশোধে শেয়ারের বিক্রয়চাপ রাখে ভূমিকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত এই বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটি অবশ্য বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আশ্বস্ত করেছে যে ব্যাংকের ঋণের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে তাদের প্রস্তাব সক্রিয় বিবেচনায় আছে। পাশাপাশি তারা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষের কাছে বিনিয়োগের জন্য আরও ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে। সেই সঙ্গে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল থেকে আরও টাকার জোগান দেয়ার ঘোষণা এসেছে।

তবে কোনো টোটকাই এবার কাজে লাগছে না। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবার বাজারে হস্তক্ষেপ না করে তাকে স্বাধীনভাবে চলতে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০২০ সালে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর এভাবে দরপতন হতে থাকা পুঁজিবাজারে প্রতিটি শেয়ারের সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয়া হয়েছিল। এবারও সেই দাবি জোরালোভাবে উঠেছে বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে।

তবে বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী-রুবাইয়াত-উল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেছেন, তারা এটা করবেন না। এর কারণ, তাদের বিবেচনায় এই পদক্ষেপগুলো বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ কমায়। ইউক্রেন যুদ্ধের পর ধস ঠেকাতে এক দিনে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করাটাও ক্ষতির কারণ হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাক আহমেদ সাদেক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারের জন্য খুবই খারাপ সপ্তাহ গেলো একটা। বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখন নেই বললেই চলে। সবাই হতাশ-ক্ষুব্ধ’

কেনো বাজারে টানা পতন হচ্ছে- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে কি, আমরাও বুঝতে পারছি না, কেন এমনটা হচ্ছে। বাজারে উত্থান-পতন থাকবে-এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তার তো সুনির্দিষ্ট কারণ থাকতে হবে। এখন কোনো কারণ ছাড়াই পতন হচ্ছে। পুরোপুরি গুজবনির্ভর হয়ে পড়েছে বাজার। নানান দিক থেকে নানান ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সেই গুজবে ভয় পেয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা, বিক্রির চাপে সূচক পড়ছে।’

এদিন চারটি কোম্পানি দিনের দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমায় গিয়ে লেনদেন শেষ করেছে। আরও একটি কোম্পানির দর ৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আরও দুটির দর সাত শতাংশ, একটির দর ছয় শতাংশ, দুটির দর চার শতাংশ বেড়েছে।

ওদিকে ১৫টির মতো কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে যতটা কমা সম্ভব ততটাই। এর মধ্যে একটির দর ৫ শতাংশ, ২২টির দর ৪ শতাংশের বেশি, ২৮টির দর ৩ শতাংশের বেশি, ৪৯টির দর কমেছে দুই শতাংশের বেশি।

আরও পড়ুন:
তহবিলে প্রতিশ্রুত অর্থ না আসায় ক্ষোভ সিএমএসএফের
ফের পতনের ধারায় পুঁজিবাজার
এসএফআইএল সিকিউরিটিজের যাত্রা শুরু
‘শ্রীলঙ্কার বিপর্যয়ে’ ভয় দেখাল দেশের পুঁজিবাজার
হঠাৎ বিক্রয়চাপে পতন, আরও বাড়ল লেনদেন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Instructions not to transact from closed BO

বন্ধ বিও থেকে লেনদেন নয়

বন্ধ বিও থেকে লেনদেন নয়
চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে, বিএসইসির মার্কেট সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ইন্টিলিজেন্স ডিপার্টমেন্টের পর্যবেক্ষণে বন্ধ/ডামি/ফেক বিও থেকে নিয়মিত লেনদেনের বিষয়টি উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের বিও থেকে লেনদেন করার উদাহরণ নেই। এ ছাড়া দেশে এ জাতীয় লেনদেন করা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ব্যাখ্যাও সন্তোষজনক না।

বন্ধ বা ক্লোজড বেনিশিফিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব থেকে লেনদেন করার সুযোগ না দিতে দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) নির্দেশ দিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

একই নির্দেশনা ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ এবং এইচএসবিসি ব্যাংককেও দেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র সঠিক বা জেনুইন বিও দিয়ে লেনদেন করার জন্য সবাইকে বলা হয়েছে।

বিএসইসির সহকারী পরিচালক আতিকুর রহমানের সই করা এ সংক্রান্ত চিঠি বুধবার প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি বিদেশিদের শেয়ার বিক্রিতে বন্ধ বিও থেকে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের বিরুদ্ধে বেআইনি সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাখ্যা চায় বিএসইসি।

জানা গেছে, চার বছর আগে বন্ধ হওয়া বিদেশি বিনিয়োগকারী বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসির শেয়ার কাস্টডিয়ান হিসাবে রক্ষিত আছে। এই বিও হিসাব থেকেই গত ১১ মে বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রি হয়।

এ ঘটনাকে অস্বাভাবিক বলে মনে করে বিএসইসি। এ কারণে বিও হিসাব পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চায় বিএসইসি। এইচএসবিসির কাছেও ব্যাখ্যা তলব করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এই অস্বাভাবিক লেনদেনের আলোকে কমিশন বন্ধ বা ডামি বা ফেক বিও হিসাব থেকে লেনদেন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি ইস্যু করে।

চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে, বিএসইসির মার্কেট সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ইন্টিলিজেন্স ডিপার্টমেন্টের পর্যবেক্ষনে বন্ধ/ডামি/ফেক বিও থেকে নিয়মিত লেনদেনের বিষয়টি উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের বিও থেকে লেনদেন করার উদাহরন নেই। এ ছাড়া দেশে এ জাতীয় লেনদেন করা ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ব্যাখ্যাও সন্তোষজনক না। এমনকি কোন আইনে এ জাতীয় বিও থেকে লেনদেন করা যায়, তা উল্লেখ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

এই পরিস্থিতিতে কমিশন সঠিক (জেনুইন) বিও দিয়ে লেনদেন করার নির্দেশ দিয়েছে।

সঠিক বা জেনুইন বিও’র বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘যে বিও সঠিক তথ্যের মাধ্যমে খোলা হয়েছে এবং যে বিওতে সিকিউরিটিজ আছে, শুধুমাত্র ওই বিও থেকেই বিক্রি করা যাবে। এক বিওর সিকিউরিটিজ অন্য বিও দিয়ে বিক্রি করা যাবে না।’

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজার নিয়ে গুজব ছড়ানোয় গ্রেপ্তার
পুঁজিবাজারে ধস: এবার ফ্লোর প্রাইস নয়
ডিএসইর কাছে ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে আইসিবি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Arrested for spreading rumors about capital market

পুঁজিবাজার নিয়ে গুজব ছড়ানোয় গ্রেপ্তার

পুঁজিবাজার নিয়ে গুজব ছড়ানোয় গ্রেপ্তার
বিএসইসি থেকে জানানো হয়, গত ১৯ ডিসেম্বর মাহবুবুর রহমান ‘শেয়ারবাজার ২০২১’ নামক ফেসবুক পেজে পোস্ট দেন, ‘যে যা পারেন সেল দিয়ে বের হয়ে যান। ইনডেক্স ৫৬০০ পর্যন্ত পড়বে…প্যানিক নয়, বাস্তবতা!’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পুঁজিবাজার নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশের একটি দল।

মঙ্গলবার মাহবুবুর রহমান নামের ওই ব্যক্তিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাধারণ ডায়েরি করার পরই তাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বিএসইসি থেকে জানানো হয়, গত ১৯ ডিসেম্বর মাহবুবুর রহমান ‘শেয়ারবাজার ২০২১’ নামক ফেসবুক পেজে পোস্ট দেন, ‘যে যা পারেন সেল দিয়ে বের হয়ে যান। ইনডেক্স ৫৬০০ পর্যন্ত পড়বে…প‌্যানিক নয়, বাস্তবতা!’

বিএসইসির ‘সোশ‌্যাল মিডিয়া মনিটরিং সেল’র পর্যবেক্ষণে মাহবুবুর রহমান ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় শেয়ারবাজার সম্পর্কিত গুজব সৃষ্টিকারী পোস্ট করে শেয়ারবাজারকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন বলে উঠে আসে। এর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করে কারসাজি করাই উদ্দেশ্য বলে সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়।

গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় কমিশনের পক্ষে উপপরিচালক মুন্সী মো. এনামুল হক একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ারবাজার নিয়ে গুজব রটনাকারীদের চিহ্নিত করতে ‘সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং সেল’ গঠন করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসি’র মার্কেট সার্ভিল্যান্স অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ডিপার্টমেন্টের (এমএসআইডি) কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধানে এ ‘সোশ‌্যাল মিডিয়া মনিটরিং সেল’-এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শেয়ারবাজারে গুজব নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে আসছে বিএসইসি।

এরইমধ্যে বিএসইসির অভিযোগে ৩১টি গুজব সৃষ্টিকারী ফেসবুক আইডি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে গুজব সৃষ্টিকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব আইডির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে কমিশন।

বিএসইসি থেকে এক নির্দেশনায় বলা হয়, শেয়ারবাজারের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট অথবা শেয়ারবাজার বা সিকিউরিটিজ লেনদেনের সাথে যেকোনো উপায়ে সম্পর্কিত সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানসমূহকে সিকিউরিটিজ মার্কেট ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোন মাধ্যমে বিএসইসি, ডিএসই এবং সিএসই এর নাম বা লোগো ব্যবহার করে কোন তথ্য বা প্রতিবেদন প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয়।

আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে ধস: এবার ফ্লোর প্রাইস নয়
ডিএসইর কাছে ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে আইসিবি
প্রথম নারী কমিশনার পেল বিএসইসি
১৫ ট্রেডারে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার বিএসইসির
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে রাষ্ট্রায়ত্ত ৪ ব্যাংককে বিএসইসির চিঠি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Capital market collapse This time not the floor price

পুঁজিবাজারে ধস: এবার ফ্লোর প্রাইস নয়

পুঁজিবাজারে ধস: এবার ফ্লোর প্রাইস নয়
রোড শো করে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। ছয় মাস ধরে চেষ্টা করে মার্কেটকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছি। ফ্লোর প্রাইস দিলে বিদেশি বিনিয়োগকারী আসতে চায় না। এতে করে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যায়। তারা মনে করে মার্কেট স্ট্যাবল নয়। তারা চায় একটা ফেয়ার মার্কেট: বিএসইসি চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে সব শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য বা ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয়ার দাবি তুললেও এই ধরনের কোনো চিন্তা নেই পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেছেন, এই ধরনের সিদ্ধান্তে বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয়। গত মার্চে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশে নামিয়ে আনার কারণেও বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ বের হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

টালমাটাল বিশ্ব পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পুঁজিবাজারে টানা তৃতীয় দিন বড় পতন হলো। আরও শতাধিক পয়েন্ট সূচক হারিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১০ মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে।

চলতি সপ্তাহের তিন কর্মদিবসেই সূচক পড়েছে ২৫৫ পয়েন্ট। দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ শতাংশ না থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতো কি না তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

নিউজবাংলাকে ফোন করে একজন বিনিয়োগকারী বলেছেন, তিনি মার্জিন ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়েছেন। যদি ফ্লোর প্রাইস না দেয়া হয় তাহলে তার সব টাকা শেষ হয়ে যাবে।

পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক বিভিন্ন ফেসবুক পেজেও ক্রমাগত এই দাবি উঠছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, বিএসইসি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেও যাচ্ছে।

২০২০ সালে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর সব শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয়া হয়। ওই বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে বাজার চাঙা হয়ে উঠতে থাকলে ধীরে ধীরে সেই ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয়া হয়।

তবে এবার সেই পথে না হাঁটার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফ্লোর প্রাইস দেয়ার কোনো ইচ্ছে নেই। বাজার যতটুকু পড়েছে, আবার দুই-এক দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘রোড শো করে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। ছয় মাস ধরে চেষ্টা করে মার্কেটকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছি। ফ্লোর প্রাইস দিলে বিদেশি বিনিয়োগকারী আসতে চায় না। এতে করে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যায়। তারা মনে করে মার্কেট স্ট্যাবল নয়। তারা চায় একটা ফেয়ার মার্কেট।’

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময়ে সার্কিট ব্রেকার ২ শতাংশে নামিয়ে আনার কারণেও অনেক বিদেশি বিনিয়োগ চলে গেছে বলে জানান শিবলী রুবাইয়াত। বলেন, ‘আনুমানিক ১২-১৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ চলে গেছে।’

‘এমনিতেই তো ৫ শতাংশ দিয়ে রেখেছি (এক দিনে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা, যা আগে ছিল ১০ শতাংশ)। এখন আবার ফ্লোর প্রাইস দিয়ে মার্কেট পিছিয়ে দিতে চাই না।’

পুঁজিবাজারে দরপতনের ক্ষেত্রে নতুন ইস্যু হিসেবে যোগ হয়েছে ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন। মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছায়েদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেছেন, ‘নতুন গুজব যোগ হয়েছে, অনেকেই নাকি শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে ডলার কিনছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, সবাই ডলার কিনতে গেলে এত ডলার পাবে কোথায়? আসলে পুঁজিবাজারে পতন শুরু হলেই অনেক গুজব ছড়ানো হয়, এর-ওর সঙ্গে মেলানো হয়। এখন বাজারের অবস্থা খারাপ, তাই নানা গুজব ঘুরছে চারদিকে। সেই গুজবেই পড়ছে বাজার।’

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিভিন্ন নেগেটিভ নিউজ হচ্ছে, এটা ঠিক না। করোনা-পরবর্তী সময়ে উৎপাদনে ফেরার কারণে প্রতি মাসে আমদানি বেড়েছে।’

ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিপুল পরিমাণ আমদানি ব্যয়ের বিষয়টি একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি দেশের জন্য সব সময় খারাপ না বলেও মূল্যায়ন করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘৫০ মিলিয়ন এক্সপোর্ট করতে দেখা যায় কম করে হলেও ৩০ মিলিয়নের সুতা, তুলা আমদানি করতে হচ্ছে। যার কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু এমন কিছু হয়নি, যেখানে ৪১, ৪২ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ রয়েছে সেখানে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশেও কী বার্তা থাকবে- এমন প্রশ্নে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি অনেক এগিয়ে রয়েছে। অন্তত শেয়ার বাজারের জন্য নেতিবাচক কিছু ঘটার মতো হয়নি।’

আরও পড়ুন:
স্থিতিশীলতা তহবিলের সঙ্গে আমানতের সম্পর্ক নেই: বিএসইসি চেয়ারম্যান
লেনদেনের কমিশন কমাতে আগ্রহী, তবে এখনই নয়: বিএসইসি
টাকা তুললে লভ্যাংশ দিতে হবে: শিবলী রুবাইয়াত
পুঁজিবাজারে আসছে বড় অঙ্কের বিদেশি বিনিয়োগ
নতুন পর্ষদে কাজ হয়নি, সিএনএ, ফ্যামিলিটেক্স নিয়ে বিকল্প চিন্তা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Investors in the capital market lost in further decline

আরও পতনে দিশেহারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী

আরও পতনে দিশেহারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী
নতুন গুজব যোগ হয়েছে, অনেকেই নাকি শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে ডলার কিনছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, সবাই ডলার কিনতে গেলে এত ডলার পাবে কোথায়? আসলে পুঁজিবাজারে পতন শুরু হলেই অনেক গুজব ছড়ানো হয়, এর-ওর সঙ্গে মেলানো হয়। এখন বাজারের অবস্থা খারাপ, তাই নানা গুজব ঘুরছে চারদিকে। সেই গুজবেই পড়ছে বাজার: ছায়েদুর রহমান

টালমাটাল বিশ্ব পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পুঁজিবাজারে টানা তৃতীয় দিন বড় পতন হলো। আরও শতাধিক পয়েন্ট সূচক হারিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ১০ মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ব্যাংকগুলোর বিশেষায়িত কোম্পানি মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, তারা জানতে পেরেছেন, ডলারের বিপরীতে টাকার দর হারানোর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন একটি গুজব ছড়ানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, ডলারে বিনিয়োগ এখন বেশি লাভজনক।

ইউক্রেনে রুশ হামলার পর ধস নামা পুঁজিবাজার ঈদের আগে ঘুরে দাাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়ার পর ছুটি শেষেও পরিস্থিতি ছিল ইতিবাচকই। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির ঋণ সমন্বয়ের কারণে শেয়ার বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতির বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও দেশীয় নানা ঘটনায় বাজারে দেখা দেয় আতঙ্ক।

টানা দরপতনের মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও আইসিবির বৈঠকের পর একটি বিজ্ঞপ্তি আসে যে, ব্যাংক ঋণ পরিশোধের সময় পিছিয়ে দিতে আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল থেকে আইসিবিকে আরও টাকা দেয়া হবে। কিন্তু এসব খবরেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসছে না।

টানা দুই দিন সূচক অনেকটাই বেড়ে লেনদেন শুরু হলেও শেষটা হয় পতনের মধ্য দিয়ে।

মঙ্গলবার লেনদেন শুরুর ৭ মিনিটের মধ্যে সূচক বেড়ে গিয়েছিল ৫৪ পয়েন্ট। তবে এক পর্যায়ে ১১২ পয়েন্ট কমে যায়। শেষ দুই ঘণ্টায় ক্রয়চাপে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে হারানো সূচকের অনেকটাই উদ্ধার হয়েছিল।

আগের রাতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে আইসিবির ৫০০ কোটি টাকার তহবিল চেয়ে চিঠি দেয়ার বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে আসার পর বুধবারও শুরুতে উত্থান হয়।

এদিনও প্রথম ৬ মিনিটে সূচক বেড়ে গিয়েছিল ৪৩ পয়েন্ট। বেলা সোয়া ১১ টা পর্যন্তও সূচক অনেকটাই বেড়ে লেনদেন হচ্ছিল। কিন্তু এরপর থেকে সময় যত গড়িয়েছে সূচক তত পড়েছে।

শেষ পর্যন্ত সূচক আগের দিনের চেয়ে ৯৩ পয়েন্ট হারিয়ে সূচকের অবস্থান দাঁড়ায় ৬ হাজার ৩০৯ পয়েন্টে।

মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাজার এখন পুরোপুরি গুজবনির্ভর হয়ে পড়েছে। নানান ধরনের গুজব। এতদিন বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা হওয়া নিয়ে অহেতুক গুজব ছিল। সেই গুজবে কান দিয়ে ছোট-বড় বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। অথচ এই চরম সংকটের মধ্যেও গতকাল শ্রীলঙ্কার শেয়ার বাজারে সূচক কিন্তু ৪০০ পয়েন্ট বেড়েছে। আমাদের বাজারে দরপতন হচ্ছেই। বুঝতে পারছি না, কেনো এমন হচ্ছে। মনে হচ্ছে সবাই গুজবের পেছনে ছুটছে।’

তিনি বলেন,‘নতুন গুজব যোগ হয়েছে, অনেকেই নাকি শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে ডলার কিনছে।কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, সবাই ডলার কিনতে গেলে এত ডলার পাবে কোথায়?

‘আসলে পুঁজিবাজারে পতন শুরু হলেই অনেক গুজব ছড়ানো হয়, এর-ওর সঙ্গে মেলানো হয়। এখন বাজারের অবস্থা খারাপ, তাই নানা গুজব ঘুরছে চারদিকে। সেই গুজবেই পড়ছে বাজার’- বলেন ইবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছায়েদুর।

এক দিনেই দর হারিয়েছে ৩১০টি কোম্পানির শেয়ার। বিপরীতে বেড়েছে ৪২টির। আর ২৯টি কোম্পানি দর ধরে রাখতে পারে।

আরও পতনে দিশেহারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী
টানা দ্বিতীয় দিন সূচক বেড়ে লেনদেন শুরু করলেও শেষটা হয় পতনের মধ্য দিয়ে

যেসব কোম্পানি দর হারিয়েছে তার মধ্যে ৪০টির বেশি কোম্পানি দিনের দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা বা তার কাছাকাছি পরিমাণ দর হারায়।

সব মিলিয়ে ৬০টি কোম্পানি দর হারিয়েছে ৪ থেকে ৫ শতাংশের কাছাকাছি পর্যন্ত। আরও ৪৯টি দর হারিয়েছে ৩ শতাংশের বেশি। আরও ৭৩টি কোম্পানি দর হারিয়েছে ২ শতাংশের বেশি।

চামড়া, সিরামিক, সিমেন্ট, আবাসন ও ভ্রমণ খাতের সবগুলো কোম্পানি দর হারিয়েছে। প্রধান খাতগুলোর মধ্যে বস্ত্রে তিনটির দর বৃদ্ধির বিপলীতে ৫৫টি, সাধারণ বিমা খাতে দুটি কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ৩৬টি, জীবন বিমায় দুটির বিপরীতে ১১টি, প্রকৌশল খাতে তিনটির বিপরীতে ৩৭টি, ওষুধ ও রসায়ন খাতে তিনটির বিপরীতে ২৭টি, ব্যাংকে ৫টির বিপরীতে ২০টি, আর্থিক খাতে তিনটির বিপরীতে ১৬টি কোম্পানি দর হারিয়েছে।

অন্যদিকে কেবল একটি কোম্পানির দর দিনের দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ছুঁতে পেরেছে। সেটি হলো এস আলম কোল্ড রোল স্টিল।

এর চেয়ে কম সূচক ছিল গত বছরের ১৫ জুলাই। তবে সে সময় ৬ হাজার ৩০৭ পয়েন্ট সূচক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। টানা এক দশকের মন্দা কাটিয়ে বাজার সে সময় টানা বাড়ছিল। এক পর্যায়ে সূচক সাত হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর আট হাজার ছুঁয়ে ফেলে কি না, সেই আলোচনা তৈরি হয়।

কিন্তু সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া বাজার সংশোধন শেষ হতে না হতেই দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে মতভিন্নতার বিষয়টি সামনে আসে। সেই ইস্যুর সমাধান হতে না হতেই পরে শুরু হয় ইউক্রেন যুদ্ধ।

এখন আবার দেশে পণ্যমূল্যের পাশাপাশি ডলারে দাম ক্রমেই বেড়ে চলার মধ্যে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমদানিনির্ভর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেগুলো জরুরি নয়, সেগুলো পিছিয়ে দেয়া হবে। সরকারি চাকুরেদের বিদেশ সফরে দেয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা, বিলাস দ্রব্যের আমদানিও করা হচ্ছে নিরুৎসাহিত। কিন্তু এসব ঘটনাতেও ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন ঠেকানো যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
ফের পতনের ধারায় পুঁজিবাজার
এসএফআইএল সিকিউরিটিজের যাত্রা শুরু
‘শ্রীলঙ্কার বিপর্যয়ে’ ভয় দেখাল দেশের পুঁজিবাজার
হঠাৎ বিক্রয়চাপে পতন, আরও বাড়ল লেনদেন
সূচক পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ, লেনদেন তিন মাসের

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
ICB has demanded Rs 500 crore from DSE

ডিএসইর কাছে ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে আইসিবি

ডিএসইর কাছে ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে আইসিবি পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে আইসিবি’র শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক জরুরি বৈঠকে এই আশার কথা জানানো হয়েছে।
আইসিবি’র কাছে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যাওয়া এফডিআর নবায়ন তথা মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিবাচক সাড়া দেবে বলে আশা করছে আইসিবি।

পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক গতি ফেরাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে সাপোর্ট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানার বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ-আইসিবি। বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কাছে ৫০০ কোটি টাকার মেয়াদি আমানত চেয়েছে।

এছাড়া আইসিবির কাছে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যাওয়া এফডিআর নবায়ন তথা মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে আইসিবি। প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিবাচক সাড়া দেবে বলে আইসিবি আশা করছে।

মঙ্গলবার পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে আইসিবি’র শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক জরুরি বৈঠকে এই আশার কথা জানানো হয়েছে।

আইসিবি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রাজধানীর মতিঝিলে আইসিবির প্রধান কার্যালয়ে এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।

সভায় বিএসইসির পক্ষে নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম ও সহকারী পরিচালক দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে আইসিবির পক্ষে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল হোসেন গাজী, আইসিবির সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহাব্যবস্থাপকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে আইসিবির নেয়া চারটি উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরা হয়-

১. ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড থেকে ইতোমধ্যে প্রাপ্ত এবং ভবিষ্যতে প্রাপ্ত অর্থ সেকেন্ডারী মার্কেটে বিনিয়োগের মাধ্যমে সাপোর্ট অব্যাহত রাখা হবে।

২. আগামী কয়েকদিন আইসিবি ও আইসিবির সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী এবং অন্য স্টেকহোল্ডারদের সিকিউরিটি বিক্রিতে নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

৩. ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে ৫০০ কোটি টাকার মেয়াদি আমানত প্রদানের অনুরোধ জানিয়ে আইসিবির পক্ষ থেকে ডিএসইকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

৪. আইসিবির কাছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংরক্ষিত মেয়াদি আমানতসমূহ নবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বরাবর আইসিবির পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানগুলো বিবেচনা করলে আপাতত নিম্নমুখী বাজারে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে আইসিবিকে অর্থ ফেরত দেয়া হবে না।

সভায় উপস্থিত বিএসইসির প্রতিনিধিরা পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আইসিবির এসব পদক্ষেপের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে বর্ণিত বিষয়গুলো তুলে ধরাসহ বিএসইসির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
কমল আয়, বাড়ল লভ্যাংশ
আয়ে ভাটা, প্যারামাউন্টের লভ্যাংশ কমে অর্ধেক
আয় বাড়াতে না পারা রবির চূড়ান্ত লভ্যাংশ শেয়ারে ২০ পয়সা
ওয়ালটনের হাত ধরে ইলেকট্রনিকস পণ্য রপ্তানিতে দেশ: বিএসইসি চেয়ারম্যান
করোনার বছরে লিন্ডে বিডির রেকর্ড লভ্যাংশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The rise begins and the fall ends

উত্থানে শুরু, পতনে শেষ

উত্থানে শুরু, পতনে শেষ
‘সব কিছুই যেন হঠাৎ করে কেমন হয়ে যাচ্ছে। বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। আস্থা সংকটই এখন প্রধান সমস্যা। নানা সময়ে নানান গুজবে ভয় পেয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে সবাই। বিক্রির চাপে বাজার পড়ছে। আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।’

পুঁজিবাজারে টানা দ্বিতীয় দিন বড় দরপতনে বিনিয়োগকীদের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আরও বাড়ল। যদিও দিনটির শুরু ছিল ঝলমলে। সূচক অনেকটাই বেড়েই শুরু হয় লেনদেন। তবে পরে অনেকটাই পড়ে যায়। শেষ দিকে অবশ্য যতটা হারিয়েছিল, তা থেকে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়।

বিশ্ব জড়ে অর্থনীতি নিয়ে মন্দার আশঙ্কার মধ্যে সোমবার ১৩৪ পয়েন্ট দরপতন হয় দেশের পুঁজিবাজারে। এর মধ্যে খবর প্রকাশ হয় বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে ৭০০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ কোম্পানি আইসিবি।

তবে লেনদেন শেষে আইসিবিকে এই ঋণ সমন্বয়ে আরও এক বছর সময় দেয়ার খবরও প্রকাশ হয় বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় লেনদেন শুরু হলে সাত মিনিটেই সূচক বেড়ে যায় ৫৪ পয়েন্ট। কিন্তু আবার শুরু হয় পতন। কিন্তু বেলা ১৩টা ৩৩ মিনিটে আগের দিনের চেয়ে সূচক কমে যায় ১১২ পয়েন্ট।

এতে পুঁজিবাজার নিয়ে আতঙ্ক আরও বাড়ে। পরে সেখান ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত সূচক ২৭ পয়েন্ট কমে শেষ হয় লেনদেন।

যখন সূচক এক শ পয়েন্টের বেশি পড়ে গিয়েছিল, তখন প্রায় সাড়ে তিন শ কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়ে ফেলে। শেষ পর্যন্ত ২৪৫টির দর হারিয়ে শেষ হয় লেনদেন। বিপরীতে বাড়ে ৮৯টির। ৪৫টির দর থাকে অপরিবর্তিত।

আগের দিন দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ শতাংশ ছুঁয়ে শতাধিক কোম্পানির লেনদেন শেষ হয়েছিল। সেটি কমে হয়েছে ১৫টির মতো।

সব মিলিয়ে ২৩টি কোম্পানি ৪ শতাংশের বেশি, আরও ৩২টি কোম্পানির দর ৩ শতাংশের বেশি, ২৯টির দর ২ শতাংশের বেশি এবং আরও ৭৬টির দর কমে এক শতাংশের বেশি।

উত্থানে শুরু, পতনে শেষ
মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাক আহমেদ সাদেক বাজারের সার্বিক পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সব কিছুই যেন হঠাৎ করে কেমন হয়ে যাচ্ছে। বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। আস্থা সংকটই এখন প্রধান সমস্যা। নানা সময়ে নানান গুজবে ভয় পেয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে সবাই। বিক্রির চাপে বাজার পড়ছে। আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের অস্থির বাজারের প্রভাবও বাজারে পড়েছে। জানি না বাজারের সবশেষ পরিণতি কী হবে? কবে বাজার স্বাভাবিক হবে।’

দরপতন সব খাতেই

পাট এবং সেবা ও আবাসন খাতে সব কোম্পানি দর হারিয়েছে। সিরামিক খাতে পাঁচটির মধ্যে কমেছে চারটির দর।

প্রধান খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বাজে দিন গেছে সাধারণ বিমায়। এই খাতে দুটি কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৩৭টির দর। জীবন বিমা খাতে বেড়েছে তিনটির কমেছে ১০টির।

বস্ত্র খাতে ১০টির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ৪১টির, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সাতটির বিপরীতে ১৪টি, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১০টির বিপরীতে ২০টি, ব্যাংক খাতে ৭টির বিপরীতে ১৪টি, আর্থিক খাতে চারটির বিপরীতে ১৫টি, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে সাতটির বিপরীতে ১৪টি, বিবিধ খাতে পাঁচটির বিপরীতে আটটি কোম্পানি দর হারিয়েছে।

কেবল প্রকৌশল খাতে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। যদিও এই খাতেও বেশিরভাগ কোম্পানি দর হারিয়েছে। এই খাতে কোম্পানির সংখ্যা ৪২টি। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭টির, কমেছে ২২টির, অপরিবর্তিত ছিল তিনটি।

সূচক পতনের এই দিনে কেবল একটি কোম্পানির দর দিনের দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ছুঁতে পারেনি একটি কোম্পানিরও।

পি কে হালদার কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স ও ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ারদর দুই দিন ধরে বাড়ছে।

পি কে হালদার কলকাতায় গ্রেপ্তারের খবরে এই দুটি কোম্পানির শেয়ারদর সোমবার বেড়েছিল দিনের সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত। দ্বিতীয় দিনও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের দর বেড়েছে যতটুকু বাড়া সম্ভব ততটুকুর কাছাকাছি।

সোমবার দর ছিল ৬ টাকা। বাড়ার সুযোগ ছিল ৬০ পয়সা। বেগেছে ৬০ পয়সা।

ফাস ফাইন্যান্সের দর ছিল ৫ টাকা ৬০ পয়সা। বেড়েছে ২০ পয়সা।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি দর হারানো আরডি ফুড, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, আইপিডিসি ও জুট স্পিনার্সের দর কমেছে যতটুকু কমা সম্ভব ততটুকুই।

আরও পড়ুন:
হঠাৎ বিক্রয়চাপে পতন, আরও বাড়ল লেনদেন
সূচক পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ, লেনদেন তিন মাসের
‘ঈদ অবসর’ শেষে লেনদেনে ‘চার শুভ ইঙ্গিত’
ঈদের ছুটি শেষে লেনদেনে ফের ভাটা
গোমড়া মুখে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার

মন্তব্য

উপরে