× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

অর্থ-বাণিজ্য
Financial institutions are added to RTGS
hear-news
player

আরটিজিএসে যুক্ত হলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান

আরটিজিএসে-যুক্ত-হলো-আর্থিক-প্রতিষ্ঠান
সার্কুলারে বলা হয়, সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আন্তঃব্যাংক মানি মার্কেট লেনদেন সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ আবশ্যিকভাবে ইডিএস মানি প্ল্যার্টফর্মের মাধ্যমে সম্পাদন করছে। লেনদেন সম্পাদনের পর ফান্ড সেটেলমেন্টের বিষয়টি গতিশীল ও তাৎক্ষণিভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরটিজিএস প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হলো।

ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রিয়েল-টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রাথমিকভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু প্রাতিষ্ঠানিক লেনদেন করতে পারবে, কোনো গ্রাহকের লেনদেন করতে পারবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার এ সংক্রান্তে সার্কুলার জারি করে সব তফসিলী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আন্তঃব্যাংক মানি মার্কেট লেনদেন সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ আবশ্যিকভাবে ইডিএস মানি প্ল্যার্টফর্মের মাধ্যমে সম্পাদন করছে। লেনদেন সম্পাদনের পর ফান্ড সেটেলমেন্টের বিষয়টি গতিশীল ও তাৎক্ষণিভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরটিজিএস প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হলো।

আগামী ১ জুন থেকে আরটিজিএস লেনদেন শুরু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আন্তঃব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম সহজ করার জন্য ২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর আরটিজিএস প্ল্যাটফর্ম চালু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ইলেকট্রনিক সেটেলমেন্ট সিস্টেম রিয়েল টাইমে এবং গ্রস ভিত্তিতে আন্তঃব্যাংক তহবিল স্থানান্তরের অনুমতি দেয়ায় লেনদেন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিষ্পত্তিও করা হয়।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Funding is being increased by reducing the project

প্রকল্প কমিয়ে অর্থায়ন বাড়ানো হচ্ছে

প্রকল্প কমিয়ে অর্থায়ন বাড়ানো হচ্ছে শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্টদের বৈঠক। ছবি: পিআইডি
আগামী অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন করেছে সরকার। এতে সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় হবে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬ কোটি ৯ লাখ টাকা, বিদেশি উৎস থেকে নেয়া ঋণ থাকবে ৯৩ হাজার কোটি টাকা।

সরকারি অর্থায়ন, বৈদেশিক ঋণ এবং বিভিন্ন সংস্থার নিজস্ব ব্যয় মিলে আগামী এক বছরের জন্য ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি- অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের বৈঠকে এই এডিপি অনুমোদন পায়।

প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষ এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে সংশ্লিষ্টরা বৈঠকে অংশ নেয়।

এনইসি বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকার মূল বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট (এডিপি) অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর সঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের প্রায় ৯ হাজার ১৩০ কোটি টাকা রয়েছে । সব মিলিয়ে এডিপির আকার দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, দেশের সম্পদ, বৈদেশিক অর্থায়ন ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে এডিপি প্রণয়ন হয়েছে। এডিপির সফল বাস্তবায়ন দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার, কোভিড ১৯ মোকাবিলা, অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা খাতে সেবার মানোন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, দারিদ্র্য বিমোচন ও দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

মোট এডিপির মধ্যে সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় হবে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬ কোটি ৯ লাখ টাকা, বিদেশি উৎস থেকে নেয়া ঋণ থাকবে ৯৩ হাজার কোটি টাকা। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা করপোরেশন তাদের নিজেদের অংশ থেকে ব্যয় করবে ৯ হাজার ৯৩৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

ছোট ছোট প্রকল্প না নিয়ে এখন থেকে সমন্বিত প্রকল্প নেয়ার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। এ জন্য এডিপিতে প্রকল্পের প্রকৃত সংখ্যা কমছে। নতুন এডিপিতে মোট প্রকল্প থাকবে ১ হাজার ৪৩৫টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১ হাজার ২৪৪টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১০৬টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প ৮৫টি।

এ বছর এডিপিতে নতুন প্রকল্প যোগ হয়েছে ৪৪টি। আগামী অর্থবছরে প্রকল্প সম্প্রসারিত হয়েছে ৮০৯টি।

এবার সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে। নতুন এডিপিতে এ খাতে যাচ্ছে ৭০ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা বা ২৮.৭৩ শতাংশ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বরাদ্দ ৩৯ হাজার ৪১২ কোটি টাকা বা ১৬ শতাংশ। শিক্ষায় ২৯ হাজার ৮১ কোটি টাকা বা প্রায় ১২ শতাংশ ব্যয় করবে সরকার। এ ছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্তে ২৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বা প্রায় ১০ শতাংশ, স্বাস্থ্যে ১৯ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা বা প্রায় ৮ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার খাতে ১৬ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা বা প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ, কৃষিতে ১০ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা বা ৪ শতাংশ, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদে ৯ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা বা ৪ শতাংশ, শিল্প খাতে ৫ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা বা সোয়া ২ শতাংশ এবং বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৪ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা বা পৌনে ২ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এডিপি বাস্তবায়নে কচ্ছপগতি
এডিপি বাস্তবায়নে এবারও ঢিমেতাল
এডিপি বাস্তবায়ন ৫৮ শতাংশ
এডিপি বরাদ্দে শীর্ষে যোগাযোগ ও জ্বালানি খাত
ব্যয়ের সক্ষমতায় ঘাটতি, তবু বড় এডিপি আসছে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The wings of the planning minister have been cut

‘ডানা কাটা’ হয়েছে পরিকল্পনামন্ত্রীর

‘ডানা কাটা’ হয়েছে পরিকল্পনামন্ত্রীর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ফাইল ছবি
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে নতুন পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাসতে হাসতে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, ‘আমার ক্ষমতা কমানো হয়েছে, আমার ডানা কাটা হয়েছে।’

প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিকল্পনামন্ত্রীর ক্ষমতা কমানো হয়েছে। আগে কারিগরি প্রকল্পের ক্ষেত্রে যেকোনো অংকের প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষমতা ছিল পরিকল্পনামন্ত্রীর। এখন তা কমিয়ে ৫০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন পরিপত্রে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে নতুন পরিপত্রে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে নতুন পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাসতে হাসতে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আমার ক্ষমতা কমানো হয়েছে, আমার ডানা কাটা হয়েছে।’

পরিপত্রে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘আগে যেকোনো কারিগরি প্রকল্পের ক্ষেত্রে যেকোনো অংকের প্রকল্প অনুমোদন দিতে পারতেন পরিকল্পনামন্ত্রী, এখন সেটা ৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে। ৫০ কোটির বেশি কোন কারিগরি প্রকল্প হলে তা অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপন করতে হবে।’

অর্থাৎ এখন থেকে কারিগরি প্রকল্প কিংবা বিনিয়োগ প্রকল্প সবক্ষেত্রেই ৫০ কোটি টাকার বেশি প্রকল্পের ব্যয় হলেই তা একনেকে অনুমোদন নিতে হবে।

পরিপত্রের অন্যান্য পরিবর্তন বিষয়ে পরিকল্পনা সচিব বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি বিষয়ে আগে উদ্যোগী মন্ত্রণালয় দুই দফায় দুই বছর পর্যন্ত বাড়াতে পারত। এখন মন্ত্রণালয় এক বছর বাড়াতে পারবে। এর বেশি প্রয়োজন হলে পরিকল্পনা কমিশনের কাছে আসতে হবে।

‘এডিপি রিভিউ সভা যেগুলো উদ্যোগী মন্ত্রণালয় করে থাকে, সেগুলোর বিষয়ে ক্লিয়ার কোনো ইন্সট্রাকশন ছিল না। এখন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলো নিয়ে প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করতে হবে সচিবের নেতৃত্বে। প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রতি ছয় মাসে একবার এসব মিটিং পরিবীক্ষণ করবেন।’

সচিব বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রকল্পের ক্ষেত্রে আগে একবার মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ ছিল। এখন সেটা বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনবোধে একের অধিক বার মেয়াদ বাড়ানো যাবে।’

দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা ছিল, সেগুলো নতুন পরিপত্রে সংযোজন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ কখনও শ্রীলঙ্কা হবে না: পরিকল্পনামন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The rise begins and the fall ends

উত্থানে শুরু, পতনে শেষ

উত্থানে শুরু, পতনে শেষ
‘সব কিছুই যেন হঠাৎ করে কেমন হয়ে যাচ্ছে। বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। আস্থা সংকটই এখন প্রধান সমস্যা। নানা সময়ে নানান গুজবে ভয় পেয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে সবাই। বিক্রির চাপে বাজার পড়ছে। আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।’

পুঁজিবাজারে টানা দ্বিতীয় দিন বড় দরপতনে বিনিয়োগকীদের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আরও বাড়ল। যদিও দিনটির শুরু ছিল ঝলমলে। সূচক অনেকটাই বেড়েই শুরু হয় লেনদেন। তবে পরে অনেকটাই পড়ে যায়। শেষ দিকে অবশ্য যতটা হারিয়েছিল, তা থেকে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়।

বিশ্ব জড়ে অর্থনীতি নিয়ে মন্দার আশঙ্কার মধ্যে সোমবার ১৩৪ পয়েন্ট দরপতন হয় দেশের পুঁজিবাজারে। এর মধ্যে খবর প্রকাশ হয় বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে ৭০০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ কোম্পানি আইসিবি।

তবে লেনদেন শেষে আইসিবিকে এই ঋণ সমন্বয়ে আরও এক বছর সময় দেয়ার খবরও প্রকাশ হয় বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় লেনদেন শুরু হলে সাত মিনিটেই সূচক বেড়ে যায় ৫৪ পয়েন্ট। কিন্তু আবার শুরু হয় পতন। কিন্তু বেলা ১৩টা ৩৩ মিনিটে আগের দিনের চেয়ে সূচক কমে যায় ১১২ পয়েন্ট।

এতে পুঁজিবাজার নিয়ে আতঙ্ক আরও বাড়ে। পরে সেখান ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত সূচক ২৭ পয়েন্ট কমে শেষ হয় লেনদেন।

যখন সূচক এক শ পয়েন্টের বেশি পড়ে গিয়েছিল, তখন প্রায় সাড়ে তিন শ কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়ে ফেলে। শেষ পর্যন্ত ২৪৫টির দর হারিয়ে শেষ হয় লেনদেন। বিপরীতে বাড়ে ৮৯টির। ৪৫টির দর থাকে অপরিবর্তিত।

আগের দিন দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ শতাংশ ছুঁয়ে শতাধিক কোম্পানির লেনদেন শেষ হয়েছিল। সেটি কমে হয়েছে ১৫টির মতো।

সব মিলিয়ে ২৩টি কোম্পানি ৪ শতাংশের বেশি, আরও ৩২টি কোম্পানির দর ৩ শতাংশের বেশি, ২৯টির দর ২ শতাংশের বেশি এবং আরও ৭৬টির দর কমে এক শতাংশের বেশি।

উত্থানে শুরু, পতনে শেষ
মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাক আহমেদ সাদেক বাজারের সার্বিক পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সব কিছুই যেন হঠাৎ করে কেমন হয়ে যাচ্ছে। বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। আস্থা সংকটই এখন প্রধান সমস্যা। নানা সময়ে নানান গুজবে ভয় পেয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে সবাই। বিক্রির চাপে বাজার পড়ছে। আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের অস্থির বাজারের প্রভাবও বাজারে পড়েছে। জানি না বাজারের সবশেষ পরিণতি কী হবে? কবে বাজার স্বাভাবিক হবে।’

দরপতন সব খাতেই

পাট এবং সেবা ও আবাসন খাতে সব কোম্পানি দর হারিয়েছে। সিরামিক খাতে পাঁচটির মধ্যে কমেছে চারটির দর।

প্রধান খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বাজে দিন গেছে সাধারণ বিমায়। এই খাতে দুটি কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৩৭টির দর। জীবন বিমা খাতে বেড়েছে তিনটির কমেছে ১০টির।

বস্ত্র খাতে ১০টির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ৪১টির, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সাতটির বিপরীতে ১৪টি, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১০টির বিপরীতে ২০টি, ব্যাংক খাতে ৭টির বিপরীতে ১৪টি, আর্থিক খাতে চারটির বিপরীতে ১৫টি, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে সাতটির বিপরীতে ১৪টি, বিবিধ খাতে পাঁচটির বিপরীতে আটটি কোম্পানি দর হারিয়েছে।

কেবল প্রকৌশল খাতে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। যদিও এই খাতেও বেশিরভাগ কোম্পানি দর হারিয়েছে। এই খাতে কোম্পানির সংখ্যা ৪২টি। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭টির, কমেছে ২২টির, অপরিবর্তিত ছিল তিনটি।

সূচক পতনের এই দিনে কেবল একটি কোম্পানির দর দিনের দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ছুঁতে পারেনি একটি কোম্পানিরও।

পি কে হালদার কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স ও ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ারদর দুই দিন ধরে বাড়ছে।

পি কে হালদার কলকাতায় গ্রেপ্তারের খবরে এই দুটি কোম্পানির শেয়ারদর সোমবার বেড়েছিল দিনের সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত। দ্বিতীয় দিনও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের দর বেড়েছে যতটুকু বাড়া সম্ভব ততটুকুর কাছাকাছি।

সোমবার দর ছিল ৬ টাকা। বাড়ার সুযোগ ছিল ৬০ পয়সা। বেগেছে ৬০ পয়সা।

ফাস ফাইন্যান্সের দর ছিল ৫ টাকা ৬০ পয়সা। বেড়েছে ২০ পয়সা।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি দর হারানো আরডি ফুড, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, আইপিডিসি ও জুট স্পিনার্সের দর কমেছে যতটুকু কমা সম্ভব ততটুকুই।

আরও পড়ুন:
হঠাৎ বিক্রয়চাপে পতন, আরও বাড়ল লেনদেন
সূচক পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ, লেনদেন তিন মাসের
‘ঈদ অবসর’ শেষে লেনদেনে ‘চার শুভ ইঙ্গিত’
ঈদের ছুটি শেষে লেনদেনে ফের ভাটা
গোমড়া মুখে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Dollar Century in the open market

খোলা বাজারে ডলারের সেঞ্চুরি

খোলা বাজারে ডলারের সেঞ্চুরি দর বাড়ছে ডলারের
৯ মাসে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে খোলা বাজারে বেড়েছে আরও বেশি। আর ব্যাংকের বাইরে এখন ডলার পাওয়াই যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে ডলারের দর ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

মঙ্গলবার এই বাজার থেকে এক ডলার কিনতে ১০০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০১ টাকা দিতে হয়েছে। সোমবার ৯৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩০ পয়সায় ডলার বিক্রি হয়েছিল।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, খোলা বাজারে ডলারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সে কারণেই প্রতি দিনই দর বাড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ডলার পাচ্ছি না। আজ আমি এক ডলারও কিনতে পারিনি। তাই কোনো ডলার বিক্রিও করতে পারছি না।’

বেশ কিছুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমছে। সোমবার বড় দরপতন হয়। এক দিনেই আমেরিকান ডলারের বিপরীতে ৮০ পয়সা দর হারায় টাকা। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক দিনে টাকার এত বড় দরপতন হয়নি।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে সোমবার ১ ডলারের জন্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা খরচ করতে হয়। মঙ্গলবারও এই একই দামে বাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ৭০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছিল। ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করছে এর চেয়ে ৫ টাকা বেশি দরে।

ঈদের ছুটির আগে ২৭ এপ্রিল ডলারের বিপরীতে টাকার মান ২৫ পয়সা কমিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তার আগে প্রতি ডলারের জন্য ৮৬ টাকা ২০ পয়সা লাগত। এরপর ১০ এপ্রিল আরও ২৫ পয়সা কমিয়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রোববার সরকারি ছুটির কারণে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার বন্ধ ছিল। সোমবার ডলারের বিপরীতে টাকার মান এক লাফে আরও ৮০ পয়সা কমিয়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

টাকার মূল্য পতনে রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও আমদানি পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমানো ছাড়া অন্য বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। পাশের দেশ ভারতসহ পৃথিবীর সব দেশই তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করছে। এখন আমরা যদি না করি, তাহলে প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে পড়ব।’

তিনি বলেন, ‘এ কথা ঠিক, আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। কিন্তু একই সঙ্গে ডলারের দাম বেশি হওয়ায় আমদানিটা কিছুটা নিরুৎসাহিত হবে। অন্যদিকে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়বে। রিজার্ভ বাড়বে।’

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা মঙ্গলবার ৯২ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। অগ্রণী ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সা দরে। বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংকও ৯২ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই একই জায়গায় স্থির ছিল ডলারের দর। এর পর থেকেই শক্তিশালী হতে থাকে ডলার; দুর্বল হচ্ছে টাকা।

হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, এই ৯ মাসে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।

মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বাড়ায় বাজারে ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। আমদানির লাগাম টেনে ধরা ছাড়া ডলারের বাজার স্বাভাবিক হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

এদিকে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেও দামে লাগাম পরানো যাচ্ছে না। মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে ডলার বিক্রি করেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের সোমবার পর্যন্ত (সাড়ে ১০ মাসে, ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ১৬ মে পর্যন্ত) ৫২০ কোটি (৫.২০ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপরও বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। বেড়েই চলেছে ডলারের দর।

খোলা বাজারের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো হাত নেই। তবে ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার বিক্রি করলে বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে থাকে। কেননা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আন্তব্যাংক দরে ডলার কিনে সেই ডলার বিক্রি করে থাকে ব্যাংকগুলো।

এর আগে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর বিক্রি করা ডলারের দর আর আন্তব্যাংক রেটের মধ্যে বেশি ব্যবধান হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই পার্থক্যের একটা সীমা নির্ধারণ করে দিত; সেটা এক থেকে দুই টাকার মধ্যে থাকত।

কিন্তু কয়েক মাস ধরে ব্যাংকগুলো আন্তব্যাংক রেটের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডলার বিক্রি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো হস্তক্ষেপ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

সে কারণেই দিন যত যাচ্ছে, ইচ্ছামতো যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দাম বাড়িয়ে চলেছে ব্যাংকগুলো; কমছে টাকার মান। এ পরিস্থিতিতে আমদানি খরচ বেড়েই যাচ্ছে; বাড়ছে পণ্যের দাম। তবে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা লাভবান হচ্ছেন।

করোনা মহামারির কারণে গত ২০২০-২১ অর্থবছরজুড়ে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন দেখা যায়। সে কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যায়। সে পরিস্থিতিতে ডলারের দর ধরে রাখতে গত অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

কিন্তু আগস্ট মাস থেকে দেখা যায় উল্টো চিত্র। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে আমদানি। রপ্তানি বাড়লেও কমতে থাকে রেমিট্যান্স। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও কমতে থাকে। বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়; বাড়তে থাকে দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

আমদানি কমাতেই হবে

অর্থনীতির গবেষক বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক মঞ্জুর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, চাহিদা বাড়ায় রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে ঠিক কাজটিই করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ হস্তক্ষেপকে সময়োপযোগী একটা পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এই অর্থনীতিবিদ।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমদানি বাড়ায় বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। স্বাভাবিক নিয়মেই বেড়েছে দর। কিন্তু এখন আমদানির লাগাম টেনে ধরতে হবে; যে করেই হোক আমদানি কমাতে হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া অন্য সব পণ্য আমদানিতে এলসি মার্জিন ৭৫ শতাংশ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আমি মনে করি, এটি একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে পণ্য আমদানির আড়ালে বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।’

অর্থনীতির আরেক বিশ্লেষক গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যিই ডলারের বাজারে চরম অস্থিরতা চলছে। এটা কোথায় গিয়ে শেষ হবে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করেও বাজার স্বাভাবিক রাখতে পারছে না। আমার মনে হয়, এভাবে হস্তক্ষেপ করে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম, বাজারকে বাজারের মতো চলতে দিতে হবে; বাজারকে তার গতিতেই যেতে দিতে হবে। কিন্তু সেটা না করে বাজারকে হস্তক্ষেপ করে ডলারের দাম ধরে রাখা হয়েছিল। অল্প অল্প করে দাম বাড়ানো হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ হস্তক্ষেপ ঠিক ছিল না বলে আমি মনে করি।

‘আমি বলেছিলাম, বাজারকে বাজারের মতো চলতে দিলে ডলারের দাম যদি ৮৭/৮৮ টাকাতেও উঠে যায়, যাক। তারপর বাজার তার নিজের নিয়মেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই ৮৭/৮৮ টাকাতেই ডলারের দাম ওঠাচ্ছে। কিন্তু বাজারটাকে অস্থির করার পর।’

আহসান মনসুর বলেন, ‘ডলারের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ব্যাপক তফাত। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; ৫০ শতাংশের মতো। কিন্তু রেমিট্যান্স না বেড়ে উল্টো ২০ শতাংশ কমেছে। রপ্তানি বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু তা চাহিদার চেয়ে অনেক কম।

‘এখন কথা হচ্ছে, কতদিন এই অস্থিরতা চলবে। আমার পরামর্শ হচ্ছে, অনেক হয়েছে আর নয়। যে করেই হোক আমদানি কমাতেই হবে। এ ছাড়া এখন আর অন্য কোনো পথ খোলা নেই। আর যদি এটা করা না যায়, তাহলে রিজার্ভের ওপর চাপ আরও বাড়বে। কয়েক মাস আগেও রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখন ৪২ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।’

ডলারের ব্যয় কমাতে সরকার এরই মধ্যে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিলাস দ্রব্য আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে দেয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। আমদানিনির্ভর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেগুলো জরুরি নয়, সেগুলোর বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, উন্নয়ন প্রকল্পও বাস্তবায়ন হবে বেছে বেছে। যেসব প্রকল্প এই মুহূর্তে বাস্তবায়ন না করলেই নয়, সেগুলোই কেবল বাস্তবায়ন হবে।

আরও পড়ুন:
ডলারের পাগলা ঘোড়ার দাপটে টাকার রেকর্ড দরপতন
রিজার্ভ থেকে রেকর্ড ডলার ছেড়েও অস্থির বাজার
আরও দুর্বল হলো টাকা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Pakistani rupee loses for 7 consecutive days

টানা ৬ দিন দর হারাল পাকিস্তানি রুপি

টানা ৬ দিন দর হারাল পাকিস্তানি রুপি পাকিস্তানি রুপির রেকর্ড পতন হয়েছে মঙ্গলবার। ১ ডলারের বিপরীতে গুনতে হয়েছে ১৯৬.১০ রুপি। ছবি: এএফপি
মঙ্গলবার টানা ষষ্ঠ দিন ডলারের বিপরীতে রুপির পতন অব্যাহত রয়েছে। দিনের শুরুতে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের জন্য ১৯৬.১০ রুপি গুনতে হয়েছে। দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত আমদানির কারণে রুপির দরপতন অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানের মুদ্রা রুপির সর্বোচ্চ পতন রেকর্ড করা হয়েছে।

মঙ্গলবার টানা ষষ্ঠ দিন ডলারের বিপরীতে রুপির পতন অব্যাহত রয়েছে। দিনের শুরুতে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের জন্য ১৯৬.১০ রুপি গুনতে হয়েছে।

দেশটির মুদ্রাবিষয়ক সংস্থা ফরেক্স অ্যাসোসিয়েশন অফ পাকিস্তানের (এফএপি) প্রতিবেদন মতে, সোমবারের চেয়ে রুপির দর ডলারের বিপরীতে ১.৫০ কমে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে রেকর্ড করা হয়েছে ১৯৬.১০ রুপি।

দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত আমদানির কারণে রুপির দরপতন অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

রুপির দরপতন শুরু হয়েছে গত মঙ্গলবার। সেদিন ডলারের বিপরীতে রুপির লেনদেন হয়েছে ১৮৮.৬৬ তে। বুধবার তা আরও বেড়ে হয়েছে ১৯০.৯০। বৃহস্পতি, শুক্র ও সোমবার ডলারের বিপরীতে দেশটির মুদ্রার বিনিময় হার রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ১৯২, ১৯৩.১০ ও ১৯৪ রুপি। ষষ্ঠ দিন মঙ্গলবার তা হয়েছে ১৯৬.১০ রুপি।

দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরজুড়ে ডলারের উচ্চদরে হিমশিম খাচ্ছিল পাকিস্তানি রুপি। তবে অর্থবছরের শেষ দুই মাসে সেই পতন ভয়াবহ পর্যায়ে নামতে থাকে।

আরও পড়ুন:
পাকিস্তানের অস্বস্তি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Where will Bangladesh get wheat?

কোথায় গম পাবে বাংলাদেশ?

কোথায় গম পাবে বাংলাদেশ? খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে গম রপ্তানির অনুরোধ করা হলে বাংলাদেশের ডাকে ভারত সরকার সাড়া দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষক ও পিআরআইয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক ড. আব্দুর রাজ্জাক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর করা কখনোই সুখকর হয় না। অতীতে বারবার তা প্রমাণ হয়েছে। সরকারের উচিত যত দ্রুত সম্ভব অল্টারনেটিভ সোর্স কান্ট্রি নির্ধারণ করা এবং সেসব বাজার থেকে গম আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।’

তীব্র দাবদাহের প্রভাবে উৎপাদন হ্রাস ও স্থানীয় বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ভারত। তবে এই নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কি না তা নিয়ে এক ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে।

ভারত সরকার শুক্রবার হঠাৎ করেই গম রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকে বাংলাদেশেও এটি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ী পর্যায় থেকে শুরু করে সাধারণের মধ্যেও এই আলোচনায় ডালপালা গজিয়েছে।

সরকারের দুই মন্ত্রীর বক্তব্য থেকে এই অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। রোববার সিলেটে এক অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার দাবি করেন, গম রপ্তানিতে ভারত সরকার নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। আর সোমবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ভারত বাংলাদেশকে গম দেবে।

প্রকৃত ঘটনা হলো, গম রপ্তানির ওপর ভারত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার খবর যেমন সত্য, তেমনি বাংলাদেশের দুই মন্ত্রীর দাবিও অসত্য নয়।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) শুক্রবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। তাতে বিশ্বব্যাপী গম রপ্তানির ওপর সরকারি-বেসরকারি আমদানিকারকদের জন্য সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

তবে প্রজ্ঞাপনে দুটি ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগও রাখা হয়েছে। একটি হলো ১২ মের আগে খোলা যেসব ঋণপত্র (এলসি) বাতিলযোগ্য নয়, তার বিপরীতে গম রপ্তানি করা যাবে।

অর্থাৎ এখানে সরকারি-বেসরকারি দুভাবেই ১২ মের আগে চুক্তির বিপরীতে সম্পন্ন হওয়া এলসির বিপরীতে চাহিদাকৃত গম রপ্তানি করা যাবে। এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা তৈরি হলে বেসরকারি খাতের আমদানিকারকরা ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা নিতে পারবেন।

তবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে খোলা এলসির বিপরীতে গম রপ্তানির সুযোগ কোনো দেশের ক্ষেত্রেই বিবেচিত হবে না।

প্রজ্ঞাপনে রাখা অপর সুযোগটি হলো খাদ্য ঘাটতিতে থাকা দেশের সরকারের অনুরোধের বিপরীতে ভারত সরকার অনুমতি দিলে সে দেশে গম রপ্তানি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আবার প্রতিবেশী দেশকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

অর্থাৎ প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের ভালো বোঝাপড়া রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে গম রপ্তানির অনুরোধ করা হলে বাংলাদেশের ডাকে ভারত সরকার সাড়া দেবে বলেই আশা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকার বনাম সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে ভারত থেকে গম আমদানির সুযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারত গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি বলে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার যে দাবি করেছেন সেটি মূলত ভারত সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের দ্বিতীয় সুযোগটিকে ভিত্তি করে। একইভাবে ভারত বাংলাদেশকে গম দেবে- বাণিজ্যমন্ত্রীর এমন দাবির সারকথাও সেটিই।

ভারতের বাণিজ্য দপ্তরের সচিব বি ভি আর সুব্রহ্মণ্যমের বক্তব্যে বাংলাদেশের দুই মন্ত্রীর এ বক্তব্যের সত্যতা মেলে। রোববার তিনি সাংবাদিকদের বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও খাদ্যসংকটে থাকা দেশগুলোতে সরকারি পর্যায়ে গম রপ্তানির সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া আগের দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার বেসরকারি সংস্থাগুলোকে জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৪৩ লাখ টন গম রপ্তানির অনুমতি দেবে।

এদিকে গমের বৈশ্বিক দাম বৃদ্ধি এবং রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর খাদ্য নিরাপত্তাকে কিছুটা হুমকির মুখে ফেলছে।

যদিও ভারতের বাণিজ্য দপ্তর দাবি করেছে, গম রপ্তানির ওপর এ নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী নয় এবং যেকোনো সময় সিদ্ধান্তে বদল আসতে পারে।

ভারতের বর্তমান অবস্থান পর্যালোচনা করলে এটা স্পষ্ট যে, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে জিটুজি পর্যায়ে অনুরোধ সাপেক্ষে আমদানির সুযোগ থাকলেও ভারত থেকে বেসরকারি পর্যায়ে দেশে গম আমদানি আপাতত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

দেশে বার্ষিক গমের চাহিদা ৭৫ লাখ টন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাদ দিলে বছরে ৬২ থেকে ৬৫ লাখ টন গম আমদানি করতে হয়। এর প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি হয়ে থাকে বেসরকারিভাবে। আর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরুর পর গত তিন মাসে বেসরকারি পর্যায়ে আমদানির ৬৩ শতাংশই এসেছে ভারত থেকে। এর পরিমাণ ২৭ লাখ ১৫ হাজার টন। এ অবস্থায় ভারতের গম রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বে শীর্ষ গম রপ্তানিকারক দেশ হলো রাশিয়া, ইউক্রেন, চীন, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা, বুলগেরিয়া ও ভারত। চীনে এ বছর গমের উৎপাদন ভালো হয়নি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ইউরোপে যুদ্ধের প্রভাব পড়ায় আমদানি অনিশ্চয়তা আছে কানাডার বাজার থেকেও। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গম রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা।

এত সব ঘটনায় ইতোমধ্যে দেশে গম নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গমের অভ্যন্তরীণ মজুতও শক্তিশালী অবস্থানে নেই।

বাণিজ্য বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন, গম রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা সাময়িক হলে দাম বৃদ্ধি ছাড়া বড় কোনো সমস্যা হবে না। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে তা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি করবে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষক ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক ড. আব্দুর রাজ্জাক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর করা কখনোই সুখকর হয় না। অতীতে বারবার তা প্রমাণ হয়েছে। সরকারের উচিত যত দ্রুত সম্ভব অল্টারনেটিভ সোর্স কান্ট্রি নির্ধারণ করা এবং সেসব বাজার থেকে গম আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

‘একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে জিটুজি পদ্ধতিতে অতিসত্বর আরও গম আমদানির চুক্তি করার পদক্ষেপ নিতে হবে। এ দুইয়ের ব্যত্যয় হলে এবং সেটি দীর্ঘ মেয়াদে চলতে থাকলে তা বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তবে স্বল্প মেয়াদে কোনো ঝুঁকি না থাকলেও দাম বৃদ্ধির প্রবণতা ভোক্তাকে বেশ ভোগাবে।’

অনুরূপ মন্তব্য করেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারত বেসরকারি খাতের জন্য রপ্তানি বন্ধ করলেও সেখানে সরকারিভাবে আমদানির সুযোগ এখনও রয়েছে। সরকারকে দ্রুত ভারত সরকারের সঙ্গে কথা বলে এই জিটুজি পর্যায়ের সুযোগটি নিতে হবে। এর মাধ্যমে বড় চালানের প্রয়োজনীয় গম আনতে পারে সরকার। পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও যাতে গম আমদানি করা যায় তার অনুরোধ করতে হবে। আর ভারতের বাইরে অন্য দেশগুলো থেকেও দ্রুত গম আমদানির উদ্যোগ নিতে হবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মনুশি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ভারত রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর সরকার আরও পাঁচটি দেশ থেকে গম আমদানির পথ খুঁজছে। ইতোমধ্যে কানাডার হাইকমিশনারের সঙ্গে গম আমদানির বিষয়ে কথা হয়েছে। বুলগেরিয়ার সঙ্গেও চুক্তি পর্যায়ে পৌঁছানো গেছে। আর ভারত রপ্তানি বন্ধ করলেও প্রতিবেশী হিসেবে তারা আমাদের গম দেবে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’

খাদ্যসচিব মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম জানিয়েছেন, জিটুজিতে গম আনার বিষয়ে ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আমরা প্রক্রিয়াগুলো নিয়ে কাজ করছি। এ ছাড়া বেসরকারি খাত যদি গম আমদানির ব্যাপারে সহায়তা চায়, আমরা অবশ্যই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেই সহায়তা দেয়ার চেষ্টা করব।’

আরও পড়ুন:
গম রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের জন্য নয়
ভারতের নিষেধাজ্ঞা: বিশ্ববাজারে বাড়ল গমের দাম
ভারতের গম রপ্তানি বন্ধে দেশে প্রভাব পড়বে
ভারত গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি: খাদ্যমন্ত্রী
পোশাক শিল্পের দ্যুতি বিশ্বকে দেখাতে ঢাকায় বিশাল আয়োজন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Two and a half lakh crore rupees has been spent on development this time

উন্নয়নে এবার আড়াই লাখ কোটি টাকা ব্যয়

উন্নয়নে এবার আড়াই লাখ কোটি টাকা ব্যয় পরিবহন, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আগামী বছরে সরকার আড়াই লাখ কোটি টাকা ব্যয় করবে। গত বছর অক্টোবরে রাজধানীর পল্টন এলাকায় মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজের ছবিটি তুলেছেন সাইফুল ইসলাম।
মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে খসড়া এডিপি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তোলা হচ্ছে। মূল এডিপির প্রায় অর্ধেক টাকা যাচ্ছে পরিবহন-যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে।

আগামী এক বছরে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আড়াই লাখ কোটি টাকা ব্যয় করবে। আর এর বেশির ভাগই ব্যয় করা হবে পরিবহন, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে।

এই লক্ষ্য ঠিক করা হচ্ছে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপিতে। দেশে প্রথমবারের মতো আড়াই লাখ কোটি টাকার মাইলফলক ছাড়াচ্ছে উন্নয়ন ব্যয়।

নতুন এই এডিপি চলতি বছরের সংশোধিত এডিপি থেকে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা বেশি।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (এনইসি) খসড়া এডিপি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তোলা হচ্ছে। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এই দিন অনুষ্ঠেয় সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, এডিপির তিনটি অংশের মধ্যে সরকারি অর্থায়নের অংশ রয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। বৈদেশিক সহায়তার অংশ রয়েছে ৯৩ হাজার কোটি টাকা। এ ‍দুই অংশ মিলে মূল এডিপি দাঁড়ায় ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। এর সঙ্গে বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন রয়েছে ৯ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। সব মিলয়ে এডিপির আকার দাঁড়াবে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩ কোটি টাকা।

এরই মধ্যে এডিপির খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে ১১ মে অনুষ্ঠিত এ-সংক্রান্ত বর্ধিত সভায় এডিপির বিভিন্ন অংশের অর্থ জোগানের পাশাপাশি খাতওয়ারি বরাদ্দও চূড়ান্ত করা হয়।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘সরকারের মেগা প্রকল্পের কয়েকটি এরই মধ্যে শেষের দিকে রয়েছে। তাই সেগুলোতে বরাদ্দের চাপ কমছে, তবে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাবে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এনইসি সভায় সব খাতের ব্যয় চূড়ান্ত হবে।’

চলতি বছরের সংশোধিত এডিপির (আরএডিপি) মোট বরাদ্দের মধ্যে বৈদেশিক সহায়তার অংশ ৭০ হাজার ২৫০ কোটি এবং দেশীয় অর্থায়ন ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের প্রায় ৯ হাজার ৬১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা রয়েছে। এতে এডিপির সর্বমোট আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ১৬৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। তবে বছরের শুরুতে এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা।

সে হিসাবে চলতি বছরের এডিপি থেকে ১৯ হাজার কোটি টাকা এবং সংশোধিত এডিপি থেকে ৩৯ হাজার কোটি টাকা বাড়ছে নতুন এডিপির আকার।

প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের মূল এডিপির প্রায় অর্ধেক টাকা যাচ্ছে পরিবহন-যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে। দুই খাত মিলে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। এ দুই খাতের স্বায়ত্তশাসিত অংশ মিলে যা ১ লাখ ১৬ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির প্রায় ৪৫ শতাংশ।

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, মূলত সরকারের উন্নয়ন কাজের চলমান বড় বড় প্রকল্পগুলো যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ খাতের আওতায় রয়েছে। এ জন্য এ দুই খাতে বরাদ্দও বেশি দিতে হচ্ছে।

এর মধ্যে যোগাযোগ খাতের পদ্মা সেতু, চট্টগ্রামের কর্ণফুলি টানেল, ঢাকার মেট্রোরেল (এমআরটি-৬), যমুনা রেল সেতু, পদ্মা রেল সংযোগ, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মাতারবাড়ি সমুদ্র বন্দরসহ বড় বড় প্রকল্পেই যাচ্ছে সিংহভাগ বরাদ্দ। অপরদিকে বিদ্যুৎ খাতে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প ‍রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ।

বর্তমানে আরএডিপিতে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। নতুন এডিপিতে এ খাতে যাচ্ছে ৭০ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বরাদ্দ ২০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৩৯ হাজার ৪১২ কোটি টাকা করা হচ্ছে।

খাতভিত্তিক বরাদ্দ

অন্যান্য খাতের মধ্যে শিক্ষায় ২৯ হাজার ৮১ কোটি টাকা টাকা বা প্রায় ১২ শতাংশ ব্যয় করবে সরকার। এছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্তে ২৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা বা প্রায় ১০ শতাংশ, স্বাস্থ্যে ১৯ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা বা প্রায় ৮ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার খাতে ১৬ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা বা প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ, কৃষিতে ১০ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা বা ৪ শতাংশ, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদে ৯ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকা বা ৪ শতাংশ, শিল্প খাতে ৫ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা বা সোয়া ২ শতাংশ এবং বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৪ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা বা পৌনে ২ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে যাচ্ছে।

তবে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ভিত্তিক বরাদ্দে স্থানীয় সরকার বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ৩১ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগে ২৪ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ১৬ হাজার ১১ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে ১৫ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে ১৪ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে বড় এডিপি আসছে
সংশোধিত এডিপিতে কমল ১৭ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা
এডিপি কাটছাঁট হচ্ছে ৮ শতাংশ
এডিপি: ঋণ সহায়তায় বড় কাটছাঁট হচ্ছে
এডিপি বাস্তবায়নে কচ্ছপগতি

মন্তব্য

উপরে