× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

অর্থ-বাণিজ্য
Turkey is embroiled in Erdogans strange monetary policy
hear-news
player
print-icon

এরদোয়ানের ‘অদ্ভুত’ আর্থিক নীতিতে ধুঁকছে তুরস্ক

এরদোয়ানের-অদ্ভুত-আর্থিক-নীতিতে-ধুঁকছে-তুরস্ক তুরস্কে এক বছরে ভোগ্যপণ্যের দাম ৭০ শতাংশ বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সংকট মোকাবিলায় এখন অনেক দেশই লড়াই করছে। তবে তুরস্কের পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের একটি সিদ্ধান্তে। তিনি সুদের হার বাড়ানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

অনেক দিন ধরেই মুদ্রাস্ফীতিতে ধুঁকছে তুরস্ক। নিত্যপ্যণের দাম আকাশছোঁয়া। দেশটির সরকার বলছে, গত এক বছরে ভোগ্যপ্যণের দাম প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে।

পরিবহন, খাদ্য এবং গৃহস্থালির আসবাবপত্রের দাম বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতিতে রেকর্ড গড়েছে। এক বছরে পরিবহন খরচ বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সংকট মোকাবিলায় এখন অনেক দেশই লড়াই করছে। তবে তুরস্কের পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানের একটি সিদ্ধান্তে। তিনি সুদের হার বাড়ানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সুদের হার বাড়ানোর মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা হয় অনেকটায়।

খাদ্য এবং নন-অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের দাম বছরে বেড়েছে ৮৯ দশমিক ১ শতাংশ। আসবাবপত্র এবং গৃহস্থালির সরঞ্জামে বেড়েছে ৭৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

টার্কিশ পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, এপ্রিলে দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ।

তুরস্ক মুদ্রা লিরার দাম পড়ে যাওয়ার বিষয়টি সবার জানা। আর এর কারণ প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান মুদ্রার স্থিতিশীলতার চেয়ে রপ্তানিকে অগ্রাধিকার দিতে থাকেন।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট সুদের হারকে ‘সব মন্দের বাবা-মা’ বলে বর্ণনা করেছেন। ভোগ্যপণ্যের মূল্য কমানোর জন্য তিনি বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে হস্তক্ষেপসহ অপ্রথাগত কিছু নীতিও প্রয়োগ করেছেন।

এরদোয়ানের চাপে গত সেপ্টেম্বরে সুদের হার ১৯ থেকে ১৪ শতাংশে নামিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এপ্রিলে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও সিদ্ধান্তে অটল আছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

ইস্তাম্বুলের বাসিন্দা সাবেক স্বাস্থ্যকর্মী তুবা ক্যানপোলাট। তিনি বলেন, কেবল স্বামীর বেতন দিয়ে সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। আমার স্বামী নির্মাণ শ্রমিক।’

তিন মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে চাকরিতে ফিরতে চেয়েছিলেন তুবা। কিন্তু সন্তানের দেখভালের জন্য বাড়তি খরচ জোগাড় করা তাদের পক্ষে সম্ভব না। তাই আর কাজে ফেরেননি তুর্কি এই নারী।

এরদোয়ানের ‘অদ্ভুত’ আর্থিক নীতিতে ধুঁকছে তুরস্ক
নিত্যপ্যণের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তুবা। ছবি: সংগৃহীত

তুবা বলেন, ‘তুরস্কে যাকে আমরা বেকারত্বের সুবিধা বলি সবই পাচ্ছি। তবে এই সুবিধা এতই কম যে বাচ্চার মাসিক ডায়াপারের চাহিদাও পূরণ হয় না এতে।

‘অনলাইনে করা যায় এমন ছোটখাটো চাকরি খুঁজছি। তবে এখন আমাদের পক্ষে ৫ হাজার লিরার বেতনে জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। বাড়ি ভাড়াই ৩ থেকে ৪ হাজার লিরা।’

তুবা আরও বলেন, ‘বাচ্চার জন্য সস্তায় ন্যাপি কিনতে বাধ্য হচ্ছি। এখন খাবারের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ন্যাপি বদল করছি অনেক পর পর।

‘আমরা আর পারছি না। বেঁচে আছি আসলে পরিবারের সমর্থনে।’

‘অদ্ভুত আর্থিক নীতি’

রেনেসাঁ ক্যাপিটালের গ্লোবাল চিফ ইকোনমিস্ট চার্লি রবার্টসন বলছেন, ‘ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ব্যাঘাত খাদ্যের দামসহ উচ্চমূল্যের অন্যতম কারণ। তবে তুরস্কের মুদ্রাস্ফীতির কারণ তাদের ‘অদ্ভুত আর্থিক নীতি’।

তবে ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের উদীয়মান বাজার অর্থনীতিবিদ জেসন টুভে বলছেন, ‘সুদের হারে পরিবর্তন কিংবা সুদের হার বাড়াতে চলেছেন এমন কোনো লক্ষণ নেই নীতিনির্ধারকদের মধ্যে। তাই এ বছরের বেশির ভাগ সময় মুদ্রাস্ফীতি উচ্চহারের কাছাকাছি থাকতে পারে।’

এরদোয়ানের ‘অদ্ভুত’ আর্থিক নীতিতে ধুঁকছে তুরস্ক
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। ছবি: সংগৃহীত

করোনার কারণে সরবরাহে ঘাটতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি এবং খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে দাম বাড়ছে দ্রুত।

অনেক দেশ মুদ্রাস্ফীতি কমানোর লক্ষ্যে সুদের হার বাড়িয়েছে। তাদের ধারণা, এতে করে খরচ কমবে।

ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড ২০০৯ সাল থেকে সর্বোচ্চ স্তরে সুদের হার বাড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ বুধবার দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় হার বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। ভারত, অস্ট্রেলিয়াসহ অনেক দেশ বাড়িয়েছে ঋণের খরচ।

আরও পড়ুন:
৩ বছরে আড়াই কোটি পর্যটক মসজিদটিতে
তুরস্কে এরদোয়ানবিরোধীর যাবজ্জীবন
এবার ইরাকে তুরস্কের সামরিক অভিযান
বিশ্বের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু উদ্বোধন
ইসরায়েল তুরস্ক সম্পর্কে নতুন দিগন্তের সূচনা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The policy of contraction in the country to cope with the economic recession

অর্থনৈতিক মন্দা সামলাতে দেশে দেশে সঙ্কোচন নীতি

অর্থনৈতিক মন্দা সামলাতে দেশে দেশে সঙ্কোচন নীতি মুরগি রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া। ছবি: সংগৃহীত
সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ স্কুল অফ পাবলিক পলিসির সহকারী অধ্যাপক সোনিয়া আক্তার বলেন, ‘২০০৭-২০০৮ সালের খাদ্য সংকটের অভিজ্ঞতা থেকে এটি আশা করা যায় যে আরও দেশ এই ধারা অনুসরণ করবে। এতে সংকটের পাশাপাশি খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।’

বিশ্বজুড়ে চলছে অর্থনৈতিক মন্দা। বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতি, কমেছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। পরিস্থিতি সামলাতে বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে আমদানি নানা পণ্যে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। তবে দেশের স্বার্থে বিপরীত পদক্ষেপ নেয়ারও ঘোষণা দিয়েছে কিছু দেশ।

মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে ঘাটতি পূরণে তারা মুরগি রপ্তানি বন্ধ করতে যাচ্ছে। তা কার্যকর হবে জুনেই।

এশিয়ার অন্য দেশের মধ্যে ভারত এরইমধ্যে গম রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। পাম-ওয়েল রপ্তানি তিন সপ্তাহের জন্য বন্ধ রেখেছিল ইন্দোনেশিয়া।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে খাদ্য সরবরাহে বড় বিপর্যয় নেমে আসে। সামনের দিনগুলোতে বিশ্ব বড় ধরনের খাদ্য সংকটে পড়তে যাচ্ছে বলে বারবার সতর্ক করছে জাতিসংঘ। এরই মধ্যে মুরগি রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিল মালয়েশিয়া।

অস্থিতিশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে ‘খাদ্য জাতীয়তাবাদ’ –এর সম্ভাব্য উত্থান দেখছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

মালয়েশিয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মুরগির দাম বাড়তে দেখা গেছে। সংকট বিবেচনায় খুচরা ব্যবসায়ীরা কেবল চাহিদা অনুযায়ী মাংস সংগ্রহ করছেন।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকোব বলেন, ‘মাসে ৩৬ লাখ মুরগির রপ্তানি বন্ধ করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ দাম এবং উৎপাদন স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। নিজেদের নাগরিক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।’

মালয়েশিয়ার মুরগির প্রায় এক তৃতীয়াংশ কিনে থাকে প্রতিবেশী সিঙ্গাপুর। এ পদক্ষেপে দেশটি বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।

সিঙ্গাপুর ফুড এজেন্সি এক বিবৃতিতে জানায়, হিমায়িত মুরগির সরবরাহে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তবে ঘাটতি কমাতে বিকল্প খোঁজা হচ্ছে। যতটুকু প্রয়োজন কেবল ততটুকু কিনতে ভোক্তাদের পরামর্শ দিচ্ছি।

যুদ্ধের প্রভাব

মালয়েশিয়ার মুরগির রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের সবশেষ পদক্ষেপ। এপ্রিলে বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছিল, খাদ্যের দামের এই রেকর্ড বৃদ্ধি, কয়েক মিলিয়ন মানুষকে দারিদ্র্য এবং নিম্ন পুষ্টির মধ্যে ঠেলে দিতে পারে

গম রপ্তানির অন্যতম শীর্ষ দেশ ইউক্রেন। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে উৎপাদন কমে গেছে। সরবরাহেও দেখা দিয়েছে নানা বিপত্তি। ফলে বিশ্বজুড়ে বেড়ে গেছে গমের দাম। যা রপ্তানিনির্ভর দেশগুলোকে এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে।

ইউক্রেনের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্ভিরিডেনকো বলেন, “ইউক্রেনে আটকে থাকা লাখ লাখ টন শস্যের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে সোচ্চার হতে হবে। সরবরাহের জন্য একটি ‘নিরাপদ পথ’ তৈরি করা উচিত।”

ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সাইডলাইন বৈঠক শেষে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি বলেন, “ইউক্রেনের খাদ্য রপ্তানিতে রাশিয়ার বাধা ‘বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ ঘোষণার সামিল। আমরা ইতোমধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে খারাপ খাদ্য সংকটের মুখোমুখি।”

কর্মক্ষেত্রে ‘খাদ্য জাতীয়তাবাদ’?

ভারত প্রধান খাদ্যশস্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করার পর এই মাসের শুরুতে গমের দাম আবার বেড়েছে। দেশে তাপপ্রবাহের কারণে অভ্যন্তরীণ দাম রেকর্ড পর্যায়ে চলে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয় দিল্লি। এবার চিনি রপ্তানিতে লাগাম টানার বিষয়টিও ভাবছে মোদি সরকার।

এ ছাড়া খরা এবং বন্যার কারণে অন্যান্য প্রধান ফসল হুমকিতে আছে। যদিও ইউক্রেনের বদলে ভারত থেকে গম সরবরাহের প্রত্যাশা করেছিলেন ব্যবসায়ীরা।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাম-ওয়েলের দামও বেড়েছে। রান্নার তেলের দাম স্থানীয় পর্যায়ে কমাতে তিন সপ্তাহের জন্য রপ্তানি রেখেছিল পাম-ওয়েল উৎপাদনের অন্যতম দেশ ইন্দোনেশিয়া। সোমবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।

সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ স্কুল অফ পাবলিক পলিসির সহকারী অধ্যাপক সোনিয়া আক্তারের মতে “এগুলো ‘খাদ্য জাতীয়তাবাদ’-এর উদাহরণ।

“সরকাররা এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে। কারণ তারা মনে করে যে তাদের নাগরিকদের সবার আগে রক্ষা করতে হবে।”

সোনিয়া আরও বলেন, ‘২০০৭-২০০৮ সালের খাদ্য সংকটের অভিজ্ঞতা থেকে এটি আশা করা যায় যে আরও দেশ এই ধারা অনুসরণ করবে। এতে সংকটের পাশাপাশি খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।’

তবে সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিকাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক উইলিয়াম চেন মনে করেন, ‘রপ্তানি বিধিনিষেধ সম্পূর্ণরূপে একটি অস্থায়ী পদক্ষেপ। খাদ্য জাতীয়তাবাদের সঙ্গে এর তুলনা চলে না। অন্যান্য দেশগুলো খাদ্যদ্রব্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং পরে তা তুলে নিয়েছে।’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
India is also curbing sugar exports

চিনি রপ্তানিতেও লাগাম টানছে ভারত

চিনি রপ্তানিতেও লাগাম টানছে ভারত
রপ্তানি ১ কোটি টন পেরোলে চিনি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবে ভারত। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি রপ্তানিকারক দেশ থেকে বাংলাদেশও চিনি আমদানি করে থাকে।

বিশ্বব্যাপী খাদ্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে গমের পর চিনি রপ্তানিও সীমিত করার কথা ভাবছে ভারত। অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে ভারত সরকার এ পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছে বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি চিনি উৎপাদনকারী দেশ ভারত রপ্তানিতেও দ্বিতীয়। রপ্তানিতে শীর্ষে থাকা ব্রাজিলেও এবার উৎপাদন কম হয়েছে।

পাশাপাশি তেলের উচ্চ মূল্যের কারণে মিলগুলো আখভিত্তিক জ্বালানি ইথানল উৎপাদনে ঝুঁকছে, যার দাম ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে চড়ে গেছে।

এ পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখতে এবং দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে ভারত ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চিনি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা ভাবছে।

কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, শুরুতে ৮০ লাখ টন চিনি রপ্তানির পর তাতে লাগাম টানার চিন্তা ছিল ভারত সরকারের। কিন্তু প্রাক্কলনের চাইতে উৎপাদন বেশি হওয়ায় আরও কিছু চিনি রপ্তানিতে সায় দেয় সরকার। এখন ১ কোটি টন রপ্তানি হয়ে গেলেই নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।

বাংলাদেশে চিনির চাহিদার সিংহভাগই পূরণ হয় আমদানির মাধ্যমে। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোতে উৎপাদন কম থাকায় ব্রাজিল, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়া থেকে অপরিশোধিত চিনি আমদানি করে বাংলাদেশ। সরকারি হিসাবে দেশে বছরে চিনির চাহিদা ১৮ লাখ টন।

ভারত বিশ্বের অন্তত ১২১টি দেশে চিনি রপ্তানি করলেও তাদের প্রধান ক্রেতা ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, সুদান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। যদিও চিনি পরিশোধনকারী কোম্পানি ও ব্যবসায়ীরা মনে করেন এ চাহিদা আরও অনেক বেশি। দেশে সবশেষ কয়েক বছর গড়ে ২২ লাখ টনের বেশি চিনি আমদানি হয়েছে। এতে ব্যয় হচ্ছে ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ভারতীয় চিনি উৎপাদকদের সংগঠন দ্য ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশন চলতি মৌসুমে ৩ কোটি ১০ লাখ টন চিনি উৎপাদনের প্রাক্কলন ধরেছিল। তবে সংশোধিত হিসাবে তা ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৫৫ লাখ টন।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারি ভর্তুকি ছাড়াই ৮৫ লাখ টন চিনি রপ্তানিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ভারতের চিনিকলগুলো। ইতোমধ্যে প্রায় ৭১ লাখ টন চিনি পাঠানোও হয়েছে।

এই খবরের মধ্যে মঙ্গলবার বলরামপুর, ডালমিয়া ভারত, ধামপুর, দ্বারিকেশ ও শ্রী রেনুকা সুগার মিলের শেয়ারের দাম ৮ শতাংশ পড়ে গেছে।

তবে ১ কোটি টন চিনি রপ্তানির সম্ভাব্য সীমাকে যৌক্তিক বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। মুম্বাইভিত্তিক এক রপ্তানিকারক বলেন, ‘রপ্তানিসীমা ১ কোটি টন আসলেই বড় অংক, এতে চিনিকল ও সরকার উভয়ই লাভবান হবে।’

তিনি বলেন, ‘১ কোটি টন চিনি রপ্তানির পরও ১ অক্টোবর থেকে চিনি সংগ্রহ অভিযানে সরকারের গোলায় ৬০ লাখ টন চিনি আসবে, যা দিয়ে ডিসেম্বর প্রান্তিকের উৎসব মৌসুম অনায়াসেই সামাল দেওয়া যাবে।’

মহামারির ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ইউক্রেন যুদ্ধ আন্তর্জাতিক পণ্য বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী খাদ্য মূল্য গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউক্রেন থেকে সূর্যমুখী তেল না পাওয়ায় এবং ইন্দোনেশিয়া পাম তেল রপ্তানি বন্ধ রাখায় রান্নার তেলের দাম চড়ে গেছে অনেক দেশেই।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ব বাজারের ৩০ শতাংশ গম আসত রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে। ওই সময় ইউক্রেনের বন্দরগুলো দিয়ে প্রতি মাসে ৪৫ লাখ টন কৃষি পণ্য রপ্তানি হতো, যে কারণে ইউক্রেনকে বিশ্বের ‘রুটির ঝুঁড়ি’ বলা হত।

২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া প্রতিবেশী ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করলে এসব রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়; তাতে দাম উর্ধ্বমুখি হতে শুরু করে। ভারত গমের সেই ঘাটতি অনেকটা পূরণ করতে পারবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তীব্র গরমে ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারতের বাজারেই গমের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ প্রেক্ষাপটে এ পণ্যটির রপ্তানিতেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দিল্লি।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, যুদ্ধের কারণে মূল্য বাড়তে থাকায় দরিদ্র দেশগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে; ইউক্রেনের রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব স্তরে ফেরানো না গেলে বিশ্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে আর তা কয়েক বছর স্থায়ী হতে পারে।

আরও পড়ুন:
ভারতে রপ্তানি ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর হাতছানি
ভর্তুকিতে হলেও বন্ধ চিনিকলগুলো চালুর দাবি
কোথায় গম পাবে বাংলাদেশ?
পোশাক শিল্পের দ্যুতি বিশ্বকে দেখাতে ঢাকায় বিশাল আয়োজন
পরচুলায় দিনবদল

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The Muslim MLA played the chewed sweets of the Dalit priest

দলিত পুরোহিতের চিবানো মিষ্টি খেলেন মুসলিম বিধায়ক

দলিত পুরোহিতের চিবানো মিষ্টি খেলেন মুসলিম বিধায়ক বিধানসভার সদস্য জামির আহমেদের অনুরোধে নিজের চিবানো মিষ্টি এমএলএ-র মুখে পুড়ে দেন দলিত পুরোহিত। ছবি: এনডিটিভি
ভারতে হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ইস্যুগুলোকে উসকে দিয়ে ফায়দা আদায় করা রাজনীতিকদের উদ্দেশ করে বিধায়ক জামির আহমেদ খান বলেন, ‘বিভিন্ন ধর্মীয় উগ্রবাদী দল ভারতের মাটিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

সম্প্রীতি আর ভ্রাতৃত্বের বার্তা দিতে এবার দলিত পুরোহিতের চিবানো মিষ্টি হাসিমুখে খেয়ে নিলেন ভারতের এক মুসলিম রাজনীতিবিদ।

বেঙ্গালুরুর চামরাজপেট আসনের বিধায়ক (এমএলএ) জামির আহমেদ খান রোববার দলিত সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব আম্বেদকর জয়ন্তী এবং মুসলমানদের ঈদে মিলন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন।

সেখানে বক্তব্য দেয়ার মাঝে একটি মিষ্টি তিনি তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুরোহিতকে খাইয়ে দেন। এরপর পুরোহিতকে চিবানো মিষ্টি মুখ থেকে বের করে তার মুখে দেয়ার অনুরোধ করেন এমএলএ নিজেই।

এতে পুরোহিত কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বিধানসভার সদস্যের অনুরোধে নিজের চিবানো মিষ্টি পুড়ে দেন এমএলএ-র মুখে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তুলে ধরতে বিধায়কের এমন দৃষ্টান্তমূলক সম্প্রীতির ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

ভারতে হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ইস্যুগুলোকে উসকে দিয়ে ফায়দা আদায় করা রাজনীতিকদের উদ্দেশ করে বিধায়ক জামির আহমেদ খান বলেন, ‘বিভিন্ন ধর্মীয় উগ্রবাদী দল ভারতের মাটিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

চারবারের বিধায়ক জামির খান এর আগে খাদ্য ও নাগরিক অধিকার, ভোক্তা অধিকার এবং সংখ্যালঘুদের কল্যাণবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরও পড়ুন:
ধর্মান্ধতার অন্ধকার ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ
সামাজিক সম্প্রীতি কমায় ধর্মান্ধরা সুযোগ নিচ্ছে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Mitalis journey resumes June 1 Indian Minister of State for Railways

মিতালীর যাত্রা শুরু ১ জুন: ভারতের রেল প্রতিমন্ত্রী

মিতালীর যাত্রা শুরু ১ জুন: ভারতের রেল প্রতিমন্ত্রী ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ ১ জুন পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে। ছবি: এনডিটিভি
ভারতের কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী দর্শনা জারদোশ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক এই ট্রেনের যাত্রা সফল করতে কাস্টমস, ইমিগ্রেশন সার্ভিসকে পুরোদমে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মিতালী এক্সপ্রেস দুই দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ ১ জুন পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে।

সোমবার দেশটির কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী দর্শনা জারদোশ কোচবিহার ও নিউ জলপাইগুড়ি জংশন (এনজেপি) পরিদর্শনে গিয়ে এমনটি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক এই ট্রেনের যাত্রা সফল করতে কাস্টমস, ইমিগ্রেশন সার্ভিসকে পুরোদমে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মিতালী এক্সপ্রেস দুই দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’

মিতালীর যাত্রা শুরু ১ জুন: ভারতের রেল প্রতিমন্ত্রী
ভারতের কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী দর্শনা জারদোশ কোচবিহার ও নিউ জলপাইগুড়ি জংশন (এনজেপি)পরিদর্শনে যান। ছবি: এনডিটিভি

প্রতিবেশী দুই দেশে চালু হওয়া যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে মিতালী হচ্ছে তৃতীয় এক্সপ্রেস ট্রেন।

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ছেড়ে ৯ ঘণ্টায় ৫১৩ কিলোমিটার দুরত্ব পাড়ি দিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে পৌঁছাবে মিতালী।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চারটি কেভিন কোচ ও চারটি চেয়ার কার ও ডিজেলচালিত ইঞ্জিন থাকবে এই আন্তর্জাতিক এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে। এতে মোট আসন সংখ্যা ৪৫৬টি।

গত বছর ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ ট্রেন উদ্বোধন করেন। ওই দিন ট্রেনটি চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রুটে পরীক্ষামূলকভাবে চলাচল করে। তবে করোনা মহামারির কারণে ট্রেনটি এত দিন নিয়মিত চলাচল শুরু করতে পারেনি।

চলতি বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ) থেকে চালু হবার কথা ছিল ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে নতুন ট্রেন ‘মিতালী এক্সপ্রেস’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রস্তুতি চূড়ান্ত না হওয়ায় তা চালু হয়নি। এতে হতাশ হয় দুই দেশের পর্যটকরা।

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হচ্ছে বলে ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের কথা দেশটির পূর্ব রেলের মহাব্যবস্থাপক ও উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়েকে জানানো হয়। গত ১৯ মে ভারতীয় রেলের এই সিদ্ধান্ত চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশে রেলওয়েকে জানানো হয়।

চিঠিতে আগামী ২৯ মে থেকে ঢাকা থেকে কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস ও কলকাতা-খুলনা বন্ধন এক্সপ্রেস চালুর প্রস্তাব করা হয়। এ ছাড়া ১ জুন থেকে মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর প্রস্তাব করা হয়।

ভারতীয় রেলের চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতের হাইকমিশন, ঢাকা ও বাংলাদেশ রেল মন্ত্রণালয় ক্রস বর্ডার যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালুর জন্য অনুরোধ করেছে। সেই অনুযায়ী বিআর রেক দ্বারা ঢাকা থেকে কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস এবং আইআর রেক দ্বারা কলকাতা-খুলনা বন্ধন এক্সপ্রেস পুনরায় চালু করার প্রস্তাব করেছে।

এর আগে বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছিল, করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল দুই দেশের যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ। বন্ধ ছিল দুই দেশের পর্যটন ভিসা প্রক্রিয়াও। পরে শুধু ব্যবসা, শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে দুদেশে জরুরি ভিত্তিতে নাগরিকদের চলাচল করছিলেন।

গত ২৩ মার্চ ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর সঙ্গে বৈঠক করেন রেলমন্ত্রী নূরল ইসলাম সুজন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তর্দেশীয় মৈত্রী, বন্ধন এবং মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে দুই দেশের নিয়মিত পর্যটন ভিসা চালু হলেই বন্ধ ট্রেনগুলো চালু করা হবে বলে মত দেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন:
মৈত্রী ট্রেন ফের চালু হচ্ছে
ভারতের নিষেধাজ্ঞা: বিশ্ববাজারে বাড়ল গমের দাম
রেলের জমিতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ চায় স্থায়ী কমিটি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Revolutionary Guard colonel assassinated in Iran

ইরানে বিপ্লবী গার্ডের কর্নেলকে হত্যা

ইরানে বিপ্লবী গার্ডের কর্নেলকে হত্যা তেহরানের পূর্বাঞ্চলে বাড়িতে প্রবেশের আগে গুলিবিদ্ধ হন আইআরজিসির কর্নেল হাসান সাইয়েদ খোদায়ি। ছবি: প্রেস টিভি
ইরানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, তেহরানের পূর্বাঞ্চলে বাড়িতে প্রবেশের আগে গাড়ি থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে গুলিবিদ্ধ হন হাসান সাইয়েদ খোদায়ি। মোটরসাইকেলে করে আসা দুই আততায়ী তাকে পাঁচটি গুলি করে পালিয়ে যায়।

ইরানের রাজধানী তেহরানে গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক কর্নেল।

স্থানীয় সময় রোববার বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ।

ইরানের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত আরেক সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, তেহরানের পূর্বাঞ্চলে বাড়িতে প্রবেশের আগে গাড়ি থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে গুলিবিদ্ধ হন হাসান সাইয়েদ খোদায়ি।

মোটরসাইকেলে করা আসা দুই আততায়ী তাকে পাঁচটি গুলি করে পালিয়ে যায়।

বার্তা সংস্থা আইআরআইবি জানিয়েছে, তিনটি গুলি খোদায়ির মাথায় বিদ্ধ হয়। দুটি গুলি লাগে তার হাতে।

খোদায়ি নিহত হওয়ার পরপরই বিবৃতি দেয় আইআরজিসি। এতে বলা হয়, প্রতিবিপ্লবী অংশের আততায়ীদের সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছেন আইআরজিসির এক সদস্য।

বিবৃতিতে নিহত আইআরজিসি কর্নেলের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। পাশাপাশি তার হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানানো হয়।

খোদায়িকে হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রসিকিউটরদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন তেহরানের বিচারিক আদালতের প্রধান আলি আলকাসি।

তিনি বলেন, ‘গুপ্তহত্যার সঙ্গে জড়িতদের চড়া মূল্য দিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
সোলেইমানি হত্যায় ট্রাম্প এখনও ইরানের টার্গেট
মহাকাশে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণ
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ করছে আমিরাত
তীব্র পানি সংকটে বিক্ষুব্ধ ইরানি শহর, দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন
যুক্তরাষ্ট্রকে জবাব দিতে ইরানের বিশাল সামরিক মহড়া

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Conquer Everest without oxygen

অক্সিজেন ছাড়াই এভারেস্ট জয়

অক্সিজেন ছাড়াই এভারেস্ট জয় পর্বতারোহী পিয়ালী বসাক। ছবি: সংগৃহীত
বিশিষ্ট পর্বতারোহী ও এভারেষ্ট জয়ী বসন্ত সিংহ রায় বলেন, ‘এই সাফল্য বর্ণনা করার ভাষা নেই। ক্যাম্প-থ্রির পর থেকেই অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। অক্সিজেন ছাড়া এভারেস্ট জয় ভাবাই যায় না। ও এখনো নামেনি। প্রার্থনা করি, সুস্থভাবে নেমে আসুক।’

অক্সিজেন ছাড়াই মাউন্ট এভারেস্টের শীর্ষে উঠেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগরের পিয়ালী বসাক। এ নিয়ে দ্বিতীয় বার এভারেস্ট জয় করলেন তিনি। তবে এবারের বিশেষত্ব হলো, প্রথম ভারতীয় হিসেবে পরিপূরক অক্সিজেন ছাড়াই তিনি এভারেস্ট জয় করেছেন।

রোববার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ এভারেস্ট পর্বত শৃঙ্গের শীর্ষে পৌঁছে যান পিয়ালী। অক্সিজেন ছাড়া এই নজির ভারতবর্ষে আর কারও নেই।

বিশিষ্ট পর্বতারোহী ও এভারেষ্ট জয়ী বসন্ত সিংহ রায় বলেন, ‘এই সাফল্য বর্ণনা করার ভাষা নেই। ক্যাম্প-থ্রির পর থেকেই অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। অক্সিজেন ছাড়া এভারেস্ট জয় ভাবাই যায় না। ও এখনো নামেনি। প্রার্থনা করি, সুস্থভাবে নেমে আসুক।’

পিয়ালী পেশায় চন্দননগর কানাইলাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্যারাটিচার। বাড়িতে রয়েছেন অসুস্থ বাবা-মা ও বোন তমালী। বাবা-মাকে দিদির এই অনন্য ইতিহাস গড়ার খবরটি দেন বোন তমালী। শত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও মেয়ের এই অসাধ্য সাধনে খুশি পিয়ালীর মা।

বাড়িতে ব্যাপক অর্থ সমস্যা ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও অক্সিজেন ছাড়া একজন নারী হিসেবে পিয়ালীর এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় অনেক অভিজ্ঞ পর্বতারোহীকেও বিস্মিত করেছে।

সপ্ত শৃঙ্গজয়ী পর্বতারোহী সত্যরূপ বলেন, ‘অসাধারণ সাফল্য! বাঙালি হিসেবে এই সাফল্য গর্বের। এভারেস্টের ৮ হাজার ফুট উচ্চতায় অক্সিজেন ছাড়া যাওয়াটা বিশাল বড় অ্যাডভেঞ্চার। পর্বতারোহীদের কাছে পিয়ালী একটা দিগন্ত খুলে দিয়েছে।’

পিয়ালী বসাক ৩ মে বেস ক্যাম্প থেকে এভারেস্ট জয়ের জন্য রওনা হন। ২২ মে রোববার সকাল সাড়ে ৮টায় অক্সিজেন ছাড়া প্রথম অসামরিক ভারতীয় হিসেবে এই সাফল্য অর্জন করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
মায়ের বানানো বিশেষ পতাকা নিয়ে এভারেস্টের চূড়ায়
আরেক বাঙালির এভারেস্ট জয়
এভারেস্টের ২ সহস্রাব্দের বরফ গলেছে ২৫ বছরে
এভারেস্টের চূড়া ‘দেখলেন’ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী
এভারেস্টেও পৌঁছে গেছে করোনা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The first flight with all the female crew in Saudi

সৌদিতে সব নারী ক্রু দিয়ে উড়ল ফ্লাইট

সৌদিতে সব নারী ক্রু দিয়ে উড়ল ফ্লাইট সৌদি আরবে নারী ক্রুদের দিয়ে প্রথমবারের মতো ফ্লাইট পরিচালনা করে বেসামরিক এয়ারলাইনস ফ্লাইডেল। ছবি: ফ্লাইডেল
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মধ্যপ্রাচ্যের রক্ষণশীল দেশটিতে এ ঘটনাকে নারীর ক্ষমতায়নের মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সৌদি আরবে সাশ্রয়ী খরচে পরিচালিত এয়ারলাইনস ফ্লাইডেল এটি পরিচালনা করে। নতুন মডেলের এয়ারবাস এ-৩২০-এর ফ্লাইটটি শনিবার রাজধানী রিয়াদ থেকে উড্ডয়ন করে উপকূলীয় শহর জেদ্দায় পৌঁছায়।’

সব নারী ক্রু দিয়ে এই প্রথম একটি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে সৌদি আরবের বেসামরিক এয়ারলাইনস ফ্লাইডেল।

স্থানীয় সময় শনিবার ফ্লাইডেল কর্তৃপক্ষ এ কথা জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা আরব নিউজের প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

ফ্লাইডেলের মুখপাত্র ইমাদ ইসকানদারানি বলেন, ‘ওই উড়োজাহাজের সাতজন ক্রুর মধ্যে বেশির ভাগই সৌদি নারী। ক্রুদের মধ্যে ফার্স্ট অফিসার একজন সৌদি নারী। তবে ফ্লাইটটির ক্যাপ্টেনের দায়িত্বে ছিলেন বিদেশি একজন নারী।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মধ্যপ্রাচ্যের রক্ষণশীল দেশটিতে এ ঘটনাকে নারীর ক্ষমতায়নের মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সৌদি আরবে সাশ্রয়ী খরচে পরিচালিত এয়ারলাইনস ফ্লাইডেল এটি পরিচালনা করে। নতুন মডেলের এয়ারবাস এ-৩২০-এর ফ্লাইটটি শনিবার রাজধানী রিয়াদ থেকে উড্ডয়ন করে উপকূলীয় শহর জেদ্দায় পৌঁছায়।’

ফ্লাইডেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটিই প্রথম ফ্লাইট যেখানে সব নারী ক্রুর পাশাপাশি একজন সৌদি নারী কো–পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সৌদিতে সব নারী ক্রু দিয়ে উড়ল ফ্লাইট
সৌদি আরবের বেসামরিক এয়ারলাইনস ফ্লাইডেলের নারী ক্রু। ছবি:আরব নিউজ

রক্ষণশীল এই আরব দেশটিতে গত কয়েক বছর যুবরাজ ও দেশটির কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান নারীদের গাড়ি চালনায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পুরুষ অভিভাবক ছাড়া নারীদের বাইরে যাওয়ার ওপর থাকা বিভিন্ন বিধিনিষেধ তুলে দেন।

সৌদি কর্তৃপক্ষ অ্যাভিয়েশন খাতের উন্নয়নে চেষ্টা চালাচ্ছেন, যাতে দেশটি আকাশপথে বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনায় নারীদের ভূমিকা আরও জোরালো করার আশ্বাস দেয়।

এই ফ্লাইটে কো-পাইলটের দায়িত্বে ছিলেন ২৩ বছর বয়সী সৌদি নাগরিক ইয়ারা জান। তিনি দেশটির সবচেয়ে কম বয়সী নারী পাইলট।

তিনি বলেন, ‘দেশটির এমন ঐতিহাসিক মুহূর্তের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারায় নিজেকে অনেক গর্বিত মনে হচ্ছে।

‘একজন সৌদি নারী হিসেবে আমি চাইব দেশের এমন সব অগ্রযাত্রার সঙ্গে নিজের নাম স্মরণীয় করে রাখতে।’

ইয়ারা জান ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি ফ্লাইট স্কুল থেকে পাইলট হিসেবে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ফ্লাইডেল এয়ারলাইনসে পাইলট হিসেবে তিনি চাকরি শুরু করেন ২০২১ সালের জুনে।

তিনি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ এই ফ্লাইটটিতে কো-পাইলট হিসেবে পাইলটকে সহযোগিতা করতে নেভিগেশন ও বিভিন্ন চেকলিস্ট সম্পন্ন করতে হয়েছে আমাকে।’

‘যদিও একজন সৌদি নারীর জন্য পাইলট হওয়া নতুন তবে আমাদের প্রজন্মের জন্য এখন এটি আর অসম্ভব কিছু নয়। বিশেষ করে আমরা আমাদের প্রিয় দেশ এবং আমাদের সম্মানিত নেতাদের কাছ থেকে যে সমর্থন পাচ্ছি। এর ফলে আমি সৌদিতে সর্বকনিষ্ঠ নারী পাইলট হতে অনেক সহায়ক হয়েছে। আমি সব সময় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে সহায়ক হয়ে কাজ করার সুযোগ পেলে আরও বেশি উচ্ছ্বসিত হব।’

সম্প্রতি সৌদি আরবে নারী পাইলটের সংখ্যা বাড়ছে।

এই ক্ষেত্রে আরও তিনটি নাম স্মরণীয় হয়ে আছে। হানাদি জাকারিয়া আল-হিন্দি যিনি সৌদি বাণিজ্যিক পাইলটের লাইসেন্স নিয়ে উড়োজাহাজ পরিচালনা করা প্রথম নারী পাইলট।

রাওয়াইয়া আল-রিফি প্রথম নারী যিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে একটি আন্তর্জাতিক বেসামরিক ফ্লাইট এয়ারবাস এ-৩২০ পরিচালনা করে নিজ দেশ সৌদি আরবে নিয়ে আসেন।

ইয়াসমিন আল-মাইমানি, যিনি সৌদি আরবে প্রথম একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে নারী কো-পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন:
চোয়ালের ব্যথাও হতে পারে মেনোপজের লক্ষণ
পিরিয়ড জটিলতায় ছুটি স্পেনের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
চালচিত্র কফিশপের নারী কর্মী পাবেন পিরিয়ডের সময় ছুটি

মন্তব্য

p
উপরে