× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

অর্থ-বাণিজ্য
The new price of soybean increased by Tk 36 in one leap
hear-news
player
print-icon

এক লাফে ৩৮ টাকা বেড়ে সয়াবিনের নতুন দর ১৯৮

এক-লাফে-৩৮-টাকা-বেড়ে-সয়াবিনের-নতুন-দর-১৯৮ ঈদের আগে বাজারে সয়াবিন তেল উধাও হয়ে যায়। সরিষার তেল, বাইন ব্যান ও সূর্যমুখীর তেল বিক্রি হয় ঈদে। ছবিটি কারওয়ান বাজারের হাজি জেনারেল স্টোরের।
এক বছর আগেও বোতলজাত তেলের লিটার ছিল ১৩৪ টাকা করে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি তা নির্ধারণ করা হয় ১৬৮ টাকা। ব্যবসায়ীরা মার্চ থেকে লিটারে আরও ১২ টাকা বাড়িয়ে ১৮০ টাকা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার রাজি না হয়ে ভোজ্যতেল উৎপাদন ও বিক্রির ওপর থেকে ভ্যাট পুরোপুরি আর আমদানিতে ৫ শতাংশ রেখে বাকি সব ভ্যাট প্রত্যাহার করে নেয়। পরে গত ২০ মার্চ লিটারে ৮ টাকা কমিয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ঠিক করা হয় ১৬০ টাকা।

এখন থেকে রান্নায় ব্যবহৃত সয়াবিন তেল কিনতে হবে ২০০ টাকা ছুঁইছুঁই দামে। ঈদের আগে উধাও হয়ে যাওয়া ভোজ্যতেলের দাম এক লাফে বাড়ানো হলো লিটারে ৩৮ টাকা। নতুন দাম ১৯৮ টাকা।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স ও বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশে তেলের মূল্য সমন্বয় করা হলো।

এখন থেকে খোলা সয়াবিন তেল এক লিটার ১৮০ টাকায় বিক্রি হবে। আর পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হবে ৯৮৫ টাকায়।

এক লিটার পাম তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭২ টাকা।

পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে তোলপাড় সবচেয়ে বেশি। এক বছর আগেও বোতলজাত তেলের লিটার ছিল ১৩৪ টাকা করে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি তা নির্ধারণ করা হয় ১৬৮ টাকা। ব্যবসায়ীরা মার্চ থেকে লিটারে আরও ১২ টাকা বাড়িয়ে ১৮০ টাকা করতে চেয়েছিল। কিন্তু সরকার রাজি না হলে সেদিন থেকে বাজারে সরবরাহে দেখা দেয় ঘাটতি।

এক লাফে ৩৮ টাকা বেড়ে সয়াবিনের নতুন দর ১৯৮
ভোজ্যতেলের নতুন দাম

এরপর সরকার ভোজ্যতেল উৎপাদন ও বিক্রির ওপর থেকে ভ্যাট পুরোপুরি আর আমদানিতে ৫ শতাংশ রেখে বাকি সব ভ্যাট প্রত্যাহার করে নেয়। পরে গত ২০ মার্চ লিটারে ৮ টাকা কমিয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ঠিক করা হয় ১৬০ টাকা।

সেদিন পাঁচ লিটারের বোতল ৭৯৫ টাকা থেকে কমিয়ে ৭৬০ টাকা এবং খোলা সয়াবিনের দাম ১৪৩ টাকা থেকে কমিয়ে ১৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এরপর বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে এলেও ঈদের আগে আবার অস্থির হয়ে ওঠে বাজার। বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় সয়াবিন তেল। কিছু রাইস ব্র্যান ও সূর্যমুখীর তেল পাওয়া যায়।

আর যেসব দোকানে সয়াবিন তেল ছিল, সেগুলো বিক্রি হচ্ছিল সরকারের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে অনেক বেশিতে।

সরবরাহে ঘাটতির বিষয়ে ভোজ্যতেলের অন্যতম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের পরিচালক (অর্থ) বিশ্বজিৎ সাহা নিউজবাংলাকে সম্প্রতি বলেন, ‘আপনি ব্যবসা করলে কি লোকসান দিয়ে ব্যবসা করবেন? কোম্পানিগুলোর কী দায় পড়েছে লিটারে ৫০ টাকা লোকসান দিয়ে তেল সরবরাহের।’

বাজারে তেলের সরবরাহে ঘাটতির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘ঈদের পর দাম সমন্বয় হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।’

আরও পড়ুন:
ভোজ্যতেল নিয়ে তেলেসমাতি কারবার
২ হাজার লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার, জরিমানা
পামঅয়েলের দাম কমল লিটারে ৩ টাকা
বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সঙ্গে সঙ্গে, দাম কমানোর ঘোষণায় গড়িমসি
সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা কমিয়ে ১৬০

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Cab wants the consumer rights department to control the market

বাজার নিয়ন্ত্রণে ‘ভোক্তা অধিকার বিভাগ’ চায় ক্যাব

বাজার নিয়ন্ত্রণে ‘ভোক্তা অধিকার বিভাগ’ চায় ক্যাব সোমবার ‘অতিমুনাফা ও প্রতারণার শিকার ভোক্তারা: আইন মানার তোয়াক্কাই নেই’ শীর্ষক অনলাইন সেমিনারের আয়োজন করে ক্যাব। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ক্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এম সামসুল আলম বলেন, ‘দেশে এমন কোনো খাত নেই যেখানে অসাধু ব্যবসায়ীরা মাথাচাড়া দেয়নি। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ছাড়া আর কোথাও ভোক্তাদের যাওয়ার জায়গা নেই। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে অধিদপ্তরই যথেষ্ট নয়, বিভাগ চাই।’

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সহনীয় রাখতে অসাধু ব্যবসায়ীদের ফৌজদারি আইনের আওতায় শাস্তি চায় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বালাদেশ-ক্যাব। বেসরকারি এই সংগঠন মনে করে, ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণে ভোক্তা অধিদপ্তর যথেষ্ট নয়; এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘ভোক্তা অধিকার বিভাগ’ জরুরি।

সোমবার ‘অতিমুনাফা ও প্রতারণার শিকার ভোক্তারা: আইন মানার তোয়াক্কাই নেই’ শীর্ষক এক অনলাইন সেমিনারে বক্তারা এমন বক্তব্য তুলে ধরেন।

ওয়েবিনারে ক্যাবের নেতারা বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সহনীয় রাখতে উচ্চ পর্যায়ে টাস্কফোর্স গঠন করা হলেও বেপরোয়া কিছু ব্যবসায়ীর কারণে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। চাল-ডাল থেকে শুরু করে ভোগপণ্যের বাজারে কিছু ব্যবসায়ী নিম্ন মানের পণ্য বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। তাদের অপতৎপরতা বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় এসব ব্যবসায়ীকে ঠেকাতে কেবল জরিমানা নয়, আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।’

ওয়েবিনারটি পরিচালনা করেন ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মিজানুর রহমান রাজু। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন।

মূল প্রবন্ধে নাজের হোসাইন বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা ঠেকাতে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনের বাজারে অভিযান পরিচালনা করছে। অপরাধের জন্য সতর্ক করার পাশাপাশি জরিমানাও আদায় করা হচ্ছে। তারপরও অপতৎপরতা বন্ধ হচ্ছে না।’

সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীদের ভিত এতটাই শক্তিশালী যে সরকারি প্রশাসন যন্ত্র মনে হয় তাদের কাছে অসহায়। এরা টাকার জোরে সরকারি আমলা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিভিন্ন মিডিয়াকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেন।’

ব্যবসায় অসাধু প্রক্রিয়ায় কোটিপতির সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আগে একই কায়দায় গুঁড়োদুধে ময়দা মিশ্রিত করার হোতাসহ চিনি, সয়াবিন, চাল কেলেঙ্কারির হোতাদের কোনো শাস্তি হয়নি। তারা বরাবরই পর্দার আড়ালে থেকে রেহাই পেয়ে যায়।’

‘ব্যবসায় এমন প্রতারণা ফৌজদারি অপরাধও বটে। তবে আইন দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সব সময় সম্ভব না-ও হতে পারে। এজন্য প্রয়োজন অতিমুনাফালোভী, প্রতারক, মজুতকারী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করা। তাহলে ব্যবসা-বাণিজ্যে জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত হতে পারে।’

ক্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এম সামসুল আলম বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ছাড়া আর কোথাও ভোক্তাদের যাওয়ার জায়গা নেই। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের জন্য কেবল ভোক্তা অধিদপ্তরই যথেষ্ট নয়, বিভাগ চাই।

‘দেশে এমন কোনো খাত নেই যেখানে অসাধু ব্যবসায়ীরা মাথাচাড়া দেয়নি। আমরা ভোক্তারা অনেকটা বন্দি হয়ে গেছি। এই বন্দিদশা থেকে মুক্তি দিতে দেশের আইন, সরকারি প্রতিষ্ঠান কেউ-ই সফল নয়।’

‘দেশে অসাধু ব্যবসায়ীর সংখ্যা কম। কিন্তু সৎ ব্যবসায়ীরা এই অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারছেন না। তারা অসাধু ব্যবসায়ীদের দ্বারা নির্যাতিত, নিপীড়িত হচ্ছেন।’

ভোক্তাদের প্রতি অনুরোধ রেখে তিনি বলেন, ‘আপনারা জেলায় জেলায় অন্তত একটা করে ঘটনা চিহ্নিত করুন। যাতে এসব ঘটনাকে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা আইনের আওতায় ফৌজদারি আইনে মামলা করা যায়। ভোক্তা অধিদপ্তরের হয়তো এখনও মামলা করার অধিকার নেই। তবে আইন করা হচ্ছে। ক্যাক একমাত্র সংগঠন, যাকে মামলা করার অধিকার দেয়া হয়েছে। ভোক্তা স্বার্থবিরোধী এসব ঘটনায় আমরা প্রয়োজনে প্রমাণসহ আদালতে যাব।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামের ই-ক্যাব সদস্যদের সঙ্গে দ্য চেঞ্জমেকার্সের মতবিনিময়
রপ্তানি বাড়াতে পণ্যে বৈচিত্র্য ‌আনা জরুরি
ডিক্যাব লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধুর ছবি
বাড়ছে শিক্ষার সঙ্গে কাজের ধরনে পার্থক্য
‘আধুনিক ঢাকা গড়তে এগুতে হবে তরুণদের’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
52000 tons of wheat came from India

ভারত থেকে এলো সাড়ে ৫২ হাজার টন গম

ভারত থেকে এলো সাড়ে ৫২ হাজার টন গম ভারত থেকে এসেছে ৫২ হাজার ৫০০ টন গম। ফাইল ছবি: এএফপি
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুল কাদের বলেন, ‘এই মাসে গম নিয়ে আরও দুটো জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এর আগে গত ১৬ মে একই পরিমাণ গম নিয়ে আরেকটি জাহাজ আসে চট্টগ্রাম বন্দরে।’

গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ভারত থেকে ৫২ হাজার ৫০০ টন গম নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে এমভি স্টার নামে জাহাজ।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে শনিবার এসে ভিড়েছে জাহাজটি।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য এবং চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আবদুল কাদের।

এর আগে গত ১৪ মে অভ্যন্তরীণ মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে গম রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত। দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য সংক্রান্ত সংস্থা ডিজিএফটি এ ঘোষণা দেয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, এ ঘোষণার আগে লেটার অফ ক্রেডিট (এলওসি) ইস্যু হয়েছে এমন সব রপ্তানি চালান সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠানো যাবে। এর বাইরে কোনো দেশের অনুরোধে গম রপ্তানি করা যাবে।

তবে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কারণ নেই বলে জানিয়েছে দেশটি।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভারতের ঢাকা দূতাবাস জানিয়েছে, সম্প্রতি ভারত থেকে গম রপ্তানিতে দেয়া নয়াদিল্লির নিষেধাজ্ঞা প্রতিবেশীদের জন্য নয়।

এই চালান আসায় দেশের অস্থির গমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি নেমেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুল কাদের বলেন, ‘সোমবার থেকে লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে এসব গম পতেঙ্গায় সাইলো জেটিতে খালাস করা শুরু হবে। ইতোমধ্যে গমের মান যাচাইসহ নমুনা সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর এসব গম দেশের বিভিন্ন সরকারি খাদ্য গুদামে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

‘এই মাসে গম নিয়ে আরও দুটো জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এর আগে গত ১৬ মে একই পরিমাণ গম নিয়ে আরেকটি জাহাজ আসে চট্টগ্রাম বন্দরে।’

সরকারি ব্যবস্থাপনায় গম আসায় বাজারে এর দাম কমেছে। গত সপ্তাহে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে মণপ্রতি গম বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে গমের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

চট্টগ্রামের অন্যতম ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বলেন, ‘সরকারিভাবে আমদানি করা গমভর্তি জাহাজ আসার খবরে বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। পাশাপাশি সরকারের উচিত আমাদের মতো যেসব প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে গম আনার বিষয়ে চুক্তি করেছে তা দেশে আনার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো। তাহলেই গমের বাজার স্থিতিশীল থাকবে।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে গত ১ জুলাই থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৫ লাখ ৪৬ হাজার টন গম দেশে এসেছে।

আরও পড়ুন:
ভারতের গম রপ্তানি বন্ধে দেশে প্রভাব পড়বে
ভারত গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি: খাদ্যমন্ত্রী
মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা ভারতের
জুনে পশ্চিমবঙ্গে ভোজ্যতেলের দাম কমবে, আশা ব্যবসায়ীদের
ঘোষণা ছাড়া তিনবিঘা করিডর হঠাৎ বন্ধে দুর্ভোগ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
This time Naogaon will sell mangoes worth Tk 1900 crore

নওগাঁর আমের ১৯০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

নওগাঁর আমের ১৯০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা নওগাঁর বিভিন্ন বাগানে ঝুলছে নানা জাতের আম। ছবি: নিউজবাংলা
নওগাঁ জেলার বিভিন্ন আম বাগান ঘুরেও বিপুল আমের সমাহার দেখা গেছে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে, দোল খাচ্ছে বিভিন্ন জাতের আম। বাগানে বাগানে চলছে শেষ সময়ের পরিচর্যা।

ধানের জন্য দেশের শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাতি আছে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা নওগাঁর। বর্তমানে আমের রাজধানী হিসেবেও পরিচিতি পাচ্ছে এই জেলাটি। আম চাষ লাভজনক হওয়ায় জেলায় প্রতি বছরই সুস্বাদু এই ফলটির চাষাবাদ বাড়ছে।

চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় ২৯ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৫০ টন। এই হিসাবে এবার জেলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৫ টন আম।

প্রতি কেজি আমের গড় মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করে চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৮৪২ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার আম বাণিজ্যের আশা করছে জেলার কৃষি বিভাগ।

এদিকে নওগাঁর আম পাড়ার সময়সীমাও নির্ধারণ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সে অনুযায়ী, আগামী ২৫ মে থেকে গুটি জাতের আম পাড়ার মধ্য দিয়ে এ জেলার আম পাড়া শুরু হবে। এ ছাড়া গোপালভোগ ৩০ মে, ক্ষীরসাপাত বা হিমসাগর ৫ জুন, নাগ ফজলি ৮ জুন, ল্যাংড়া ও হাঁড়িভাঙ্গা ১২ জুন, ফজলি ২২ জুন ও আম্রপালি আম ২৫ জুন থেকে পাড়া শুরু হবে। সর্বশেষ ১০ জুলাই থেকে পাড়া যাবে আশ্বিনা, বারী-৪ ও গৌরমতী জাতের আম।

জেলার বিভিন্ন আম বাগান ঘুরেও বিপুল আমের সমাহার দেখা গেছে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে, দোল খাচ্ছে বিভিন্ন জাতের আম। বাগানে বাগানে চলছে শেষ সময়ের পরিচর্চা। কেউ ভিটামিন স্প্রে করছেন, কেউ পোকা দমনে কীটনাশক স্প্রে করছেন। মহামারি কেটে যাওয়ায় এবার ভালো বিক্রির আশায় বিভোর নওগাঁর আম চাষিরা।

জেলার পোরশা উপজেলার আম বাগান মালিক আব্দুল কুদ্দুস জানান, বিগত কয়েক বছরের চেয়ে এবার আম গাছগুলোতে বেশি মুকুল এসেছে। কিন্তু গাছে গুঁটি আসার সময় ও গুটি আসার পর তীব্র দাবদাহে পানিশূন্যতায় ব্যাপক হারে মুকুল ঝড়ে গেছে। এতে ফলন কিছু কম হবে। তবে বাজারে আমের ভালো দাম থাকলে তারা এবার লাভের আশাই করছেন।

নওগাঁর আমের ১৯০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

সাপাহার উপজেলার রসুলপুর গ্রামের আম চাষি বাবুল হোসেন বলেন, ‘আমি তিন বিঘা জমিতে আম চাষ করেছি। গত বছর ফলন ভালো হলেও করোনা ও রোজার কারণে আমের দাম পাইনি। তবে এবার ফলন কম হলেও আমের ভালো দাম পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’

একই উপজেলার মাহফুজুর রহমান ৩৫ বিঘা জমি বিভিন্ন মেয়াদে লিজ নিয়ে আম বাগান গড়ে তুলেছেন। তার বাগানে আম্রপালি, বারি-৪, গৌড়মতী ও আশ্বিনা জাতের সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি আমগাছ রয়েছে। এবার প্রতিটি গাছে যথেষ্ট পরিমাণ আমের মুকুল এসেছিল। কিন্তু তীব্র দাবদাহে গাছ থেকে ঝড়ে গেছে অসংখ্য মুকুল। এ ছাড়া কয়েক দফা ঝড়েও তার বাগানে আমের ক্ষতি হয়েছে। তারপরও গাছে যে পরিমাণ আম আছে, বাজারদর ভালো থাকলে লাভবান হওয়ারই আশা করছেন মাহফুজ।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় জেলায় এবার আমের উৎপাদন বেড়েছে। গত মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭৫ টন। গড়ে ৪৫ টাকা কেজি দরে আম কেনাবেচা নির্ধারণ করেছিল কৃষি অধিদপ্তর। সেই হিসাবে গত মৌসুমে ১ হাজার ৫৭০ কোটি ৩৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার আমের ব্যবসা হয়েছে।

নওগাঁর আমের ১৯০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

চলতি মৌসুমে তুলনামূলকভাবে বেশি জমিতে আমের চাষ হয়েছে এবং আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৩৫ মেট্রিকটন। আর প্রতি কেজি আমের গড় মূল্য এবার ৫০ টাকা নির্ধারণ করায় ১ হাজার ৮৪২ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার আম বাণিজ্যের আশা কৃষি বিভাগের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আরও জানায়, নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলায় কমবেশি আমের চাষ হয়। তবে সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদন হয় সাপাহার ও পোরশা উপজেলায়। চলতি মৌসুমে সাপাহারে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ধরা হয়েছে ১২.৬৫ মেট্রিক টন। পোরশা উপজেলায় ১০ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে এবং এখানে হেক্টরপ্রতি ফলন ধরা হয়েছে ১২.৫০ মেট্রিক টন।

এ ছাড়া সদর উপজেলায় ৪৪৫ হেক্টর, রানীনগরে ১১০ হেক্টর, আত্রাইয়ে ১২০ হেক্টর, বদলগাছীতে ৫২৫ হেক্টর ও পত্নীতলায় ৪ হাজার ৮৬৫ হেক্টর, মহাদেবপুরে ৬৮০ হেক্টর, ধামইরহাটে ৬৭৫ হেক্টর, নিয়ামতপুরে ১ হাজার ১৩৫ হেক্টর এবং মান্দা উপজেলায় ৪০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে।

জেলার সবচেয়ে বড় আমের আড়ত সাপাহার বাজারের আম ব্যবসায়ী কার্তিক দাস বলেন, ‘গত বছর করোনার কারণে ব্যবসায় খুব বেশি লাভ পাইনি। এবার হয়তো আমের ব্যবসায় গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শামছুল ওয়াদুদ বলেন, ‘ইতোমধ্যে আম সংরক্ষণের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। আগামী ২৫ মে থেকে গুটি জাতের আম পাড়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে আম পাড়া। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম পাড়া হবে। বেঁধে দেয়া তারিখের আগে কোনো চাষি আম নামালে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ ছাড়া ফরমালিনমুক্ত আম নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ টিম সব সময় মনিটর করবে বলেও জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই উপপরিচালক।

আরও পড়ুন:
ঝড়ের দিনে আম কুড়ানো
মেহেরপুরে আম পাড়া শুরু ২৫ মে
৪০ কেজিতে আমের মণ নির্ধারণে সভা
হরমোনে কমেছে হাঁড়িভাঙার ফলন
এবার হংকং যাচ্ছে সাতক্ষীরার আম

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Petrol diesel prices are low in India

ভারতে পেট্রল-ডিজেলের দাম কমল

ভারতে পেট্রল-ডিজেলের দাম কমল ভারতে দাম কমানো হয়েছে পেট্রল ও ডিজেলের। ছবি: এনডিটিভি
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বলেছেন, ‘আমরা পেট্রলের প্রতি লিটারে কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক ৪ টাকা এবং ডিজেলে প্রতি লিটারে ৬ টাকা কমিয়ে দিচ্ছি। এর ফলে পেট্রলের দাম প্রতি লিটারে সাড়ে ৯ টাকা এবং ডিজেলের ৭ টাকা করে কমবে।’

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেই পেট্রল ও ডিজেলের ওপর থেকে শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার। এতে দেশটিতে এই দুই ধরনের জ্বালানির দাম কমেছে।

এ ছাড়া রান্নার গ্যাস ও সারে ভর্তুকির পাশাপাশি আমদানি নির্ভরশীলতা সত্ত্বেও প্লাস্টিক পণ্যের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্যের ওপর থেকে কমানো হয়েছে শুল্ক।

দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার এক টুইট বার্তায় সিদ্ধান্তটির কথা জানান ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ।

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বলেছেন, ‘আমরা পেট্রলের প্রতি লিটারে কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক ৪ রুপি এবং ডিজেলে প্রতি লিটারে ৬ রুপি কমিয়ে দিচ্ছি। এর ফলে পেট্রলের দাম প্রতি লিটারে সাড়ে ৯ রুপি এবং ডিজেলের ৭ রুপি করে কমবে।’

এতে দেশটিতে রোববার থেকে পেট্রল বিক্রি হবে ৯৫ দশমিক ৯১ রুপি এবং ডিজেল বিক্রি হবে ৮৯ দশমিক ৬৭ রুপিতে।

৬ মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো আবগারি শুল্ক কমাল ভারত। গত বছরের নভেম্বরে প্রতি লিটারে ৫ রুপি করে কমানো হয়েছিল।

আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পেট্রল-ডিজেলের পাশাপাশি উজ্জ্বলা গ্যাস সিলিন্ডারে ২০০ রুপি করে ভর্তুকির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই সুবিধা পাওয়া যাবে বছরে ১২টি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে।

এতে ৯ কোটি গ্রাহক উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী সীতারমণ।

ওয়েলপ্রাইস ডটকম বলছে, শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলার ৩০ সেন্টে বিক্রি হচ্ছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দর দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১২ ডলার ৬০ সেন্টে বিক্রি হচ্ছে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে এই দুই ধরনের তেলের দাম ১১০ ডলার থেকে ১১৫ ডলারের মধ্যে উঠানামা করছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে হামলার পর থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল তেলের দাম; একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেলের দর ১৩৯ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল।

আরও পড়ুন:
ফের অস্থির জ্বালানি তেল, ১২২ ডলার ছাড়াল
তেলসংকটে শ্রীলঙ্কা, পেট্রোল পাম্পে সেনা
জ্বালানির দাম না বাড়ানোর পরামর্শ সিপিডির
জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় ১০০ ডলারের নিচে
কম দামে রাশিয়ার তেল কিনছে ভারত

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The price of flour is skyrocketing

গমজাত পণ্যের দাম আকাশচুম্বী

গমজাত পণ্যের দাম আকাশচুম্বী আটা-ময়দার দাম বাড়ার পর বেড়েছে বিস্কুটসহ অন্য ময়দাজাতীয় পণ্যের দাম। কেনার আগে দাম যাচাই করে নিচ্ছেন এক ক্রেতা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
বিভিন্ন খুচরা বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি খোলা সাদা আটা ৪৬ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, আর প্যাকেট আটা ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেট আটা দুই কেজি আগে ৭০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন সেটা ৯৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাঁঠালবাগানের দাওয়াত-ই ঢাকা রেস্টুরেন্ট। এতদিন এই দোকানে পরোটার দাম ছিল ৫ টাকা। আশপাশের দোকান থেকে দাম কিছুটা কম বলে এ রেস্টুরেন্টে সব সময়ই লেগে থাকত ভিড়। কিন্তু ময়দার দাম বাড়ায় এক লাফে আরও ৫ টাকা বেড়ে এখন নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা।

দোকানি সোহেল মিয়া বলেন, ‘৫ টাকায় বিক্রি করে পোষাচ্ছিল না। এ জন্য পরোটার সাইজ একটু বড় করে ১০ টাকা করা হয়েছে।’

আটা ও ময়দা দিয়ে তৈরি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। রুটি, বেকারি পণ্য, নুডলস থেকে শুরু করে ফাস্টফুডের সব আইটেমের দাম ধীরে ধীরে সবাই বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ চা দোকানে এসব পণ্যের দাম ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে। অনেক হোটেল তাদের খাবারের তালিকায় পণ্যের আগের দাম কেটে নতুন দাম টানিয়েছে।

আগে যে পরোটা বিক্রি হতো ৫ টাকায়, তা এখন ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১০ টাকার পাতলা নানরুটি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। স্পেশাল নানরুটি আগে দাম ছিল ২০ টাকা। এখন ৫ টাকা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে।

কোনো কোনো জায়গায় স্পেশাল নানরুটি আগে ১৫ টাকা ছিল, এখন ২৫ টাকা করা হয়েছে।

বেকারির যে বিস্কুট ২০০-২৫০ টাকা কেজি ছিল, সেটা এখন ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের বনরুটি বা পাউরুটি আগে চায়ের দোকানে ১০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন সেটা ১২-১৫ টাকা করা হয়েছে।

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছোট পাউরুটি ১৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০ টাকা। মাঝারি আকারের পাউরুটি ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা। ৫০ টাকার পাউরুটি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।

টোস্টের ৫০ টাকার প্যাকেট হয়েছে ৭০ টাকা। প্রতি প্যাকেট বিস্কুটের দাম আকারভেদে ৫-১০ টাকা বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে গম আমদানি বন্ধ থাকায় আটা-ময়দার দাম বাড়ছে।

সম্প্রতি অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাময়িকভাবে পণ্যটি রপ্তানি বন্ধের কথা জানিয়েছিল ভারত। এরপর হু হু করে বাড়তে থাকে গমজাতীয় পণ্যের দাম।

কিন্তু ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গমের যেসব চালান পরীক্ষার জন্য কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ১৩ মে বা এর আগে তাদের কাছে নিবন্ধিত হয়েছে, এ ধরনের চালানগুলো রপ্তানির অনুমতি দেয়া হবে। কিন্তু বাজারে সেটার প্রভাব দেখা যায়নি।

রাজধানীর শেওড়াপাড়া, কাঁঠালবাগানের বিভিন্ন খুচরা বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি খোলা সাদা আটা ৪৬-৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, আর প্যাকেট আটা ৪৮-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেট আটা দুই কেজি আগে ৭০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন সেটা ৯৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খোলা ময়দা ৫৮-৬০ টাকা ও প্যাকেট ময়দা ৬৫-৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেট ময়দা দুই কেজির দর ছিল ৯৮ টাকা। সেটা কিনতে এখন ১৩৬ টাকা গুনতে হচ্ছে।

সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশ (টিসিবি) বাজারদরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি খোলা আটার দাম ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ, প্যাকেট আটার দাম ১২ দশমিক ৬৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

পাশাপাশি খোলা ময়দার দাম ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ ও প্যাকেট ময়দার দাম ১৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, এক বছর আগে দেশের বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা ৩০-৩২ টাকা, প্যাকেট আটা ৩২-৩৫ টাকা, খোলা ময়দা ৩৫-৩৬ টাকা ও প্যাকেট ময়দা ৪২-৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রতি কেজি আটা-ময়দায় ১৬ থেকে ২৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

২০২১ সালের নভেম্বর থেকে বিশ্ববাজারে গমের দাম বাড়তে থাকে। সেপ্টেম্বরে প্রতি টনের দাম ছিল ২৬৪ ডলার। নভেম্বরে তা বেড়ে হয় ৩৩৫ ডলার।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা আরও বেড়ে যায়। দাম হয় ৫৩৩ ডলার। এপ্রিলে তা আরও বেড়ে হয় ৬৭৩ ডলার। বর্তমানে সেটা আরও বেড়ে ১ হাজার ১৭৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি গম আমদানি করা হয় রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে এ দুটি দেশ থেকে গম আমদানি করা হয় ৬৩ শতাংশ। কানাডা থেকে ১৮ শতাংশ ও বাকিটা অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা হয়।

২০২০-২১ অর্থবছরে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম আমদানির পরিমাণ ৪৫ শতাংশ। এ ছাড়া কানাডা থেকে ২৩ ও ভারত থেকে ১৭ শতাংশ আমদানি করা হয়।

আরও পড়ুন:
নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী
১৭ বছর পর ফিরে স্ত্রীকে জানালেন আরেক বিয়ের কথা
গ্যাসের দাম বাড়ানোর সুপারিশ কারিগরি কমিটির
বেশি দাম দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না রড
ওষুধের দামে অরাজকতা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
16 crore internet users in the country Mustafa Jabbar

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১৮ কোটি: মোস্তাফা জব্বার

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১৮ কোটি: মোস্তাফা জব্বার বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে হুয়াওয়ে এশিয়া প্যাসিফিক ডিজিটাল ইনোভেশন কংগ্রেসে বক্তব্য দেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ছবি: সংগৃহীত
‘ইন্টারনেট বাংলাদেশের জনসাধারণের জীবনকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগোপযোগী নেতৃত্ব এবং এই খাতের সব অংশীজনের সার্বিক সহযোগিতায় কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব সময়েও বাংলাদেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে।’

২০২১ সালের শেষ দিকে এসে দেশে মোবাইল ব্রডব্যান্ড কভারেজ ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৮ কোটি জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে সংখ্যাটি ছিল মাত্র চার কোটি।

সিঙ্গাপুরে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে হুয়াওয়ে এশিয়া প্যাসিফিক ডিজিটাল ইনোভেশন কংগ্রেস-২০২২। সম্মেলনের প্রথম দিনে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডিজিটাল স্ট্র‍্যাটেজি অ্যান্ড প্র‍্যাকটিস’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে মোস্তাফা জব্বার এ তথ্য জানান।

হুয়াওয়ে থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ পরিকল্পনা ঘোষিত হওয়ার পর বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাত দ্রুত বিকাশ লাভ করার চিত্রও তুলে ধরেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট বাংলাদেশের জনসাধারণের জীবনকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগোপযোগী নেতৃত্ব এবং এই খাতের সব অংশীজনের সার্বিক সহযোগিতায় কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব সময়েও বাংলাদেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে।’

২০২১ সালে জাতিসংঘের ব্রডব্যান্ড কমিশন প্রকাশিত বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন অর্থাৎ সাশ্রয়ী মূল্যে দেশের মানুষকে ইন্টারনেট সেবা দেয়ার সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে ডিজিটাল সেবা কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে তার ওপর আলোকপাত করেন মোস্তাফা জব্বার।

হুয়াওয়ের আয়োজিত এই সম্মেলনে মালয়েশিয়ার বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন মন্ত্রী দাতো শ্রী ড. আদহাম বিন বাবা, হুয়াওয়ের রোটেটিং চেয়ারম্যান কেন হু, আসিয়ান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. ইয়াং মি ইং, থাইল্যান্ডের ডিজিটাল অর্থনীতি ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব আজারিন পাত্তানাপাঞ্চাই, হুয়াওয়ে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট সাইমন লিন বক্তব্য দেন।

হুয়াওয়ে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে হুয়াওয়ে একটি পরিপূর্ণ আইসিটি সল্যুশন পোর্টফোলিও প্রতিষ্ঠা করেছে, যা গ্রাহকদের টেলিকম ও এন্টারপ্রাইজ নেটওয়ার্ক, ডিভাইস এবং ক্লাউড কম্পিউটিং সুবিধা দিয়ে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটি ১৭০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে সেবা দিচ্ছে, যা বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ জনসংখ্যার সমান। এক লাখ ৯৭ হাজারের বেশি কর্মী নিয়ে বিশ্বব্যাপী টেলিকম অপারেটর, উদ্যোক্তা ও গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করে ভবিষ্যতের তথ্য-প্রযুক্তি ভিত্তিক সমাজ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে হুয়াওয়ে।

আরও পড়ুন:
সত্যিই কি নতুন স্মার্টফোন আনছে হুয়াওয়ে
চীনের ট্রেনিং শেষে এখন গ্লোবাল কম্পিটিশনে বাংলাদেশ দল
হুয়াওয়ে ক্লাউডে প্রথম ভার্চুয়াল মানুষ
তরুণদের নিয়ে আবার শুরু হুয়াওয়ের সিডস ফর দ্য ফিউচার
স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরির সরঞ্জাম দিল হুয়াওয়ে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Irregularities are being caught wherever the hand is falling

‘যেখানেই হাত পড়ছে, সেখানেই ধরা পড়ছে অনিয়ম’

‘যেখানেই হাত পড়ছে, সেখানেই ধরা পড়ছে অনিয়ম’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘ভারতের নাসিকে বৃষ্টি হচ্ছে, আর বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ভারত গম রপ্তানি বন্ধের পরদিনই দেশে গমের দাম বেড়েছে। ডাল-চিনি তো একই অবস্থা। ভোজ্যতেলের কারসাজি তো সবারই জানা।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বাজারে অভিযানসংক্রান্ত তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেছেন, ‘বাজারে তেল, ডাল, পেঁয়াজ, গম, চিনি, পোশাক, জুতা সবখানেই অনিয়মের রাজত্ব। যেখানেই হাত পড়ছে, সেখানেই অনিয়ম ধরা পড়ছে।’

বৃহস্পতিবার ভোক্তা অধিকার সম্পর্কিত এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফের) এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যৌথভাবে সেমিনারের আয়োজন করে।

সফিকুজ্জামান বলেন, ‘ভারতের নাসিকে বৃষ্টি হচ্ছে, আর বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ভারত গম রপ্তানি বন্ধের পরদিনই দেশে গমের দাম বেড়েছে। ডাল-চিনি তো একই অবস্থা। ভোজ্যতেলের কারসাজি তো সবারই জানা।’

তিনি বলেন, ‘মিলারদের কারসাজি আমরা দেখেছি। এরপর ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়েও কারসাজি দেখলাম। বেনারসি পল্লিতে ৫ হাজার টাকার শাড়িতে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের ট্যাগ দেয়া হয়। জুতার দোকানদারদেও একই অবস্থা।’

সফিকুজ্জামান ভোক্তার স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ‘চিকিৎসকদের চেম্বারের সামনে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা দাঁড়িয়ে থাকছে। তা থেকে ধারণা করা যায়, চিকিৎসকরা কোম্পানির সুপারিশে ওষুধ লিখছেন। আবার ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা রোগীর প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে নিচ্ছে। এতে রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

‘ইংরেজি মাধ্যম কোনো কোনো স্কুলে ভর্তির সময়ই কয়েক মাসের বেতন আগাম নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বই, খাতা, কলম, পোশাক স্কুল থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। কক্সবাজার পর্যটন কেন্দ্রে ছবি তোলা, বাইক চালানো, ঘোড়াসহ বিভিন্ন লোক পর্যটকদের চারপাশে সারক্ষণ ঘুরঘুর করছে। পর্যটকরা নিজেদের মতো সময় কাটাতে পারছেন না।

‘কোনো সেবা নিলে উচ্চহারে মূল্য দিতে হচ্ছে। ওয়াসা, ডেসা, তিতাস থেকেও মানুষ যথাযথ সেবা পাচ্ছে না। পানির মান ভালো না। গ্যাসের চাপ কম থাকে। বিদ্যুতে লোডশেডিং হচ্ছে। বিমান সময়মতো ছাড়ছে না। এক কথায় যেখানেই হাত দিচ্ছি, সেখানেই অনিয়ম পাচ্ছি।’

এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে আইন অনুযায়ী ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়ে এটির মহাপরিচালক বলেন, ’ভোক্তা অধিদপ্তরের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সঠিক তথ্যের অভাব। এই সংস্থার তথ্যের বৈধ উৎস নেই। ভোক্তা বা ব্যক্তিগত উৎস থেকে যে তথ্য পাওয়া যায়, সেগুলোর সঠিকতা যাচাই করারও সুযোগ নেই। এ জন্য ভোক্তা অধিদপ্তর সব গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

তিনি জানান, পাশাপাশি বিদ্যমান আইনেও অনেক দুর্বলতা আছে। সেই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে ইতোমধ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। শিগগিরই এটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পেয়ে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হবে। সংশোধিত আইনে ভোক্তা অধিকার আরও সুসংহত হবে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি ওয়াসা, ডেসা, ডেসকো, তিতাসের সেবা বিষয়ে অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিচালনার ইঙ্গিত দেন।

মহাপরিচালক বলেন, ভোক্তারা প্রতারিত হতে হতে এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে, কখন অধিকার খর্ব হচ্ছে, সেটাই আর বুঝতে পারে না।


‘যেখানেই হাত পড়ছে, সেখানেই ধরা পড়ছে অনিয়ম’


বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত ইস্যু ভোজ্যতেলের সংকট নিয়ে কথা বলেন। সফিকুজ্জামান বলেন, ‘তথ্য অনুযায়ী তেলের সংকট হওয়ার কথা নয়। কিন্তু সংকট হয়েছে। কোম্পানিগুলো উৎপাদন কমিয়েছে। ব্যবসায়ীরা সরবরাহ আদেশ ধরে রাখছে। এক কথায়, এই বাজারে এক ধরনের মনোপলি বা সিন্ডিকেট হয়ে গেছে। এসব জেনে-বুঝেও কিছু করার থাকছে না। সরকার চায় পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে।’

অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মনজুর মোহাম্মাদ শাহরিয়ার বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে জনবলসহ অন্যান্য সহায়তা দিয়ে শক্তিশালী করতে হবে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকেও শক্তিশালী করা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি জায়গায় অনিয়ম রয়েছে। নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও প্রচুর অনিয়ম রয়েছে। ভোক্তা অধিদপ্তর ঠিকমতো কাজ করতে পারলে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে জরিমানা বা শাস্তি হবে না।’

তিনি ভোক্তা অধিকার রক্ষায় গণমাধ্যমের সহযোগিতা আশা করেন।

এএফপির ব্যুরো চিফ ও ইআরএফের সহসভাপতি শফিকুল আলম বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ফলে ব্যবসার ধরন পাল্টেছে। আবার ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতাও বেড়েছে। ফলে ভোক্তা অধিকার আইনটি সংশোধন করতে হবে। আইন ভঙ্গের শাস্তি আরও কঠোর করতে হবে। ভোক্তা অধিদপ্তরের গবেষণা ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়াতে হবে।’

ইআরএফ সভাপতি শারমিন রিনভীও আইন ভঙ্গকারীদের শাস্তি কঠোর করার পরামর্শ দেন।

ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ক্যাবের উপদেষ্টা কাজী আব্দুল হান্নান। এতে ভোক্তা অধিদপ্তরের কার্যক্রম ও আইন নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রজবী নাহার রজনী।

আরও পড়ুন:
ডিএসইর কাছে ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে আইসিবি
ইউনিলিভারের শেয়ারে ৪৪ টাকা লভ্যাংশ অনুমোদন
উত্থানে শুরু, পতনে শেষ
পুঁজিবাজারে ধসে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা
ভুয়া চিকিৎসককে জরিমানা, ক্লিনিক সিলগালা

মন্তব্য

p
উপরে