× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

অর্থ-বাণিজ্য
Again volatile oil market
hear-news
player
print-icon

আবার অস্থির তেলের বাজার

আবার-অস্থির-তেলের-বাজার তেলের বাজার আবারও অস্থির। ফাইল ছবি
খুচরা বাজারে শুক্রবার প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অনেকে বোতলজাত সয়াবিন কিনে তা ভেঙে খোলা হিসেবে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট কমানোর পর কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসা ভোজ্যতেলের বাজার আবার অস্থির হয়ে গেছে ইন্দোনেশিয়ার পাম তেল রপ্তানি নিষিদ্ধের খবরে। দোকান থেকে উধাও হয়ে গেছে বোতলজাত সয়াবিন তেল। খোলা মিললেও এক লিটার বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত দরের চেয়ে ৫০ টাকার বেশিতে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সপ্তাহখানেক ধরে সরবরাহ কমিয়ে দেয়ার পর দুই দিন থেকে খুচরা বাজারে তেল সরবরাহই বন্ধ রয়েছে। এতে বাজার থেকে অনেকটাই উধাও এ নিত্যপণ্য।

আরেক দফা দাম বাড়ানোর জন্য সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতারা।

কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের পূর্বপাশে বেশ কয়েকটি মুদি দোকান রয়েছে। অন্য সময় সবগুলো দোকানের সমনে এক থেকে ৫ লিটারের বোতল সারি করে সাজিয়ে রাখা হয়। কিন্তু শুক্রবার দোকানগুলোর সামনে কোনো বোতলের দেখা মিলল না। তার জায়গা দখল করে রেখেছে সেমাই, চিনি ও অন্যান্য ঈদসামগ্রী।

তেলের লিটার কত জানতে চাইলে বাশার এন্টারপ্রাইজের মালিক আবুল বাশার বলেন, ‘পাঁচ-সাত দিন ধইরা কোনো কোম্পানি ঠিকমতো তেল দিতাছে না। তিন দিন ধইরা একেবারেই বন্ধ। তেল না থাকায় অন্য মালও বেচতে পারতেছি না।

‘বড় দোকানদাররা হয়তো কিছু স্টক রাখছিল, সেগুলো এখন বেচতাছে। আমরা ছোট দোকানদার। মাল আনি আর বেচি। স্টকও নাই, বেচাও নাই। কাস্টমার এক দোকান থেইকা সব কিনতে চায়। এক মাল না পাইলে অন্যগুলোও নেয় না।’

তেল আছে কিনা জানতে চাইলে বিসমিল্লাহ ট্রেডিংয়ের বিক্রয়কর্মী আবদুর রহমান বলেন, ‘তেল নিয়ে যে কী হইতাছে, কিছুই বুঝতেছি না। দু-তিন দিন ধইরা তেল পাইতেছি না। কাস্টমার আইসা ফিরা যায়। আমরা তেল মজুত করতে পারতেছি না।

‘পাশেই মার্কেটের দোতলায় তেল হোলসেল করা হয়। কাস্টমারের যেমন চাহিদা থাকে তেমন আনি আর বিক্রি করি। দুই দিন ধইরা খোলা তেল আনার জন্য লোক পাঠাইয়াও পুরো বাজারে পাই নাই। এমনকি এক লিটার বোতলের তেলও পাই নাই।’

নিজের বাসার জন্য আট-দশ দোকান খুঁজে এক লিটার তেল কিনেছেন বলে জানালেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অথচ আমরা শুনছি দোতলার গোডাউনগুলা ভরা। কিন্তু তেল বাজারে ছাড়তাছে না। স্টক কম দেখায়া দাম আবার বাড়ানোর চিন্তা। তেল ব্যবসায়ীরা গত এক বছরে যে টাকা কামাই করতাছে গত ১০ বছরেও এত কামাই করছে কি না আমার সন্দেহ।’

এ দোকানি বলেন, ‘তেল কোম্পানিগুলো একেকবার একেক ফন্দি করে। এর আগে তীর কোম্পানি শর্ত দিছিল তিন কার্টন সয়াবিন তেল নিলে এক কার্টন সরিষার তেল নিতে হবে। এক কার্টনে ১৮ লিটার তেল। আবার প্রতি লিটার সরিষার তেল ৩১০ টাকা। এত দাম দিয়া কে কিনবে? তাই পাইলে তেল বেচি না পাইলে বেচি না।’

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরেই অস্থির তেলের বাজার। দেশের বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে তিন পর্যায়ে ৩০ শতাংশ ভ্যাট মওকুফের সুবিধা দিয়েছে সরকার। যা ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।

কর ছাড়ের পর লিটারপ্রতি দাম কিছুটা কমানো হয়েছিল। আর রোজার আগে আগে এই পদক্ষেপে কিছুদিন সরবরাহ ছিল স্থিতিশীল। তবে হঠাৎ করেই বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেল নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। পাম অয়েলের বড় সরবরাহকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া এরই মধ্যে তেল রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এরপর থেকেই দেশের বাজারে নতুন অস্থিরতার শুরু।

কারওয়ান বাজারে ভিড়ে হঠাৎ দেখা গেল একজন ৫ লিটারের তেলের বোতল নিয়ে যাচ্ছেন। নাম সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘১০-১২ দোকান ঘুরে এক দোকানে তেল পাইছি। তবে দাম বেশি রাখে নাই ৮০০ টাকাই নিচে। তাও যে তেল পাইছি এটাই অনেক। কিন্তু তেল নাই কেন বুঝলাম না। সরকার তো ট্যাক্স কমাইছে। কইছে, অনেক তেল আসতাছে। তাহলে তেল থাকবে না কেন? নিশ্চয়ই দাম বাড়ানোর ফন্দি।’

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কয়েক মাস ধরেই তেলের বাজারে কারসাজি চলছে। এ জন্য আমরা বাজার তদারকি চালিয়ে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। তবে সমস্যা তো সব পণ্যেই রয়েছে। তাই আমরা যেই অন্য পণ্যের দিকে নজর দিয়েছি, সেই সুযোগে ভোজ্যতেলের বাজারে আবারও অস্থিরতার পাঁয়তারা চলছে। আমরা আবারও তেলের বাজার তদারকি শুরু করব।’

রাজধানীর অন্যান্য বাজারে তেলের সংকট চলছে। সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের আল আমিন স্টোরের মালিক মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে তেল আনা বন্ধ। এক লিটার, দুই লিটার, পাঁচ লিটার কোনো মালই পাইতেছি না। কয়দিন ধরে দোকানে সয়াবিন তেল বিক্রি বন্ধ।’

পাশের দোকানের বিক্রেতা তারেক বলেন, ‘১০ দিন আগে বসুন্ধরা ও তীর কোম্পানি কিছু মাল দিয়েছিল। তাও শর্ত ছিল তাদের ব্যান্ডের হালিম মিক্স, চা পাতা, মসলা কিনতে হবে। যেগুলো খুব একটা চলে না। এখন দোকানে ২ লিটারের দুইটা বোতল আর এক লিটারের একটা বোতল আছে।’

এদিকে খুচরা বাজারে শুক্রবার প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অনেকে বোতলজাত সয়াবিন কিনে তা ভেঙে খোলা হিসাবে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, এক বছরের ব্যবধানে তেলের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ। আর মাসের ব্যবধানে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

সংস্থাটির হিসাবে এক বছর আগে এক লিটার খোলা সয়াবিন তেলে ছিল ১২০ টাকার মতো, এক মাস আগে ছিল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮৪ থেকে ১৮৬ টাকায়। বছরের ব্যবধানে ৫০ শতাংশ এবং মাসের ব্যবধানে দাম ২৫.৪২ শতাংশ বেড়েছে।

এক বছর আগের ১০৬-১১০ টাকার খোলা পাম অয়েল এক মাস আগে বিক্রি হয়েছে ১৩১ থেকে ১৩৬ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। বছরের ৫৫ শতাংশ এবং মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২৫.৪৭ শতাংশ।

পাম অয়েল সুপার এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬৭ থেকে ১৭২ টাকায়, যা এক বছর আগেও ছিল ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। এক মাস আগে যা ছিল ১৪০ থেকে ১৪৪ টাকা। বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৫৪ শতাংশ আর মাসের ব্যবধানে ১৯.৩৭ শতাংশ।

আর বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম এক বছর আগে ছিল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। এক মাস আগে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়।

আরও পড়ুন:
৩০০ ব্যারেল সয়াবিন তেল মজুত, ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা
তেলের মূল্যবৃদ্ধি রোধে রিট: আদেশ সোমবার
মিল ছেড়ে বাজারে কেন, ভোক্তা অধিকারকে ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন
তেলের দামে কারসাজি, দোকানে দোকানে জরিমানা
ভোজ্যতেলের রিফাইনারিগুলোর তিন মাসের তথ্য তলব

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Special discounts on interest waivers for private banks

বেসরকারি ব্যাংকে সুদ মওকুফে ‘বিশেষ’ ছাড়

বেসরকারি ব্যাংকে সুদ মওকুফে ‘বিশেষ’ ছাড়
বেশ কিছু দিন ধরে সুদ মওকুফ সুবিধা নিতে কয়েকটি ব্যবসায়ী গ্রুপ যে অপতৎপরতা শুরু করেছিল, এই সার্কুলারের মাধ্যমে তাদের সেই তৎপরতার সুযোগ করে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে সুদ মওকুফে ‘বিশেষ’ ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে যে সার্কুলার জারি করা হয়েছে, তাতে বেশ কৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মঙ্গলবার এক সার্কুলারে বলেছে, রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো আয় খাত বিকলন করে সুদ মওকুফ করতে পারবে না। ফলে বেসরকারি ব্যাংকগুলো আগের আয় থেকে সুদ মওকুফ করতে পারবে।

বেশ কিছু দিন ধরে সুদ মওকুফ সুবিধা নিতে কয়েকটি ব্যবসায়ী গ্রুপ যে অপতৎপরতা শুরু করেছিল, এই সার্কুলারের মাধ্যমে তাদের সেই তৎপরতার সুযোগ করে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ব্যাংকের পরিচালক, তাদের পরিবারের সদস্য ও পরিচালকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।

দেশের শীর্ষ দুই ব্যবসায়ী গ্রুপ একে অপরের ব্যাংক থেকে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার সুদ মওকুফ সুবিধা নিয়েছে। যার অনাপত্তি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আরও অনেক গ্রুপ নিজেদের সুদ মওকুফ করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর সবই বেসরকারি ব্যাংকের ঋণ।

এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মঙ্গলবার এই নির্দেশনা জারি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মাকসুদা বেগমের সই করা সার্কুলারটি মঙ্গলবার সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়।

তাতে বলা হয়েছে, গত ২২ এপ্রিল `সুদ মওকুফ সম্পর্কিত নীতিমালা প্রসঙ্গে’ শীর্ষক সার্কুলারে সুদ মওকুফ সংক্রান্ত নীতিমালা অবলোপনকৃত ঋণের সুদ মওকুফের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে কি না এ বিষয়ে অস্পষ্টতা নিরসনকল্পে এ মর্মে সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, তফসিলি ব্যাংকের অবলোপনকৃত ঋণের সুদ মওকুফের ক্ষেত্রেও উক্ত নীতিমালা অনুসরণীয় হবে। রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের আয় খাত বিকলন করে সুদ মওকুফ করা যাবে না।

ইতোপূর্বে জারি করা সার্কুলারে রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি ও বিদেশি সব ব্যাংকের আয় খাত বিকলন করে সুদ মওকুফ করা যাবে না বলে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। নতুন নির্দেশনায় বেসরকারি ও বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকের জন্য এ শর্ত তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন শুধু রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের আয় খাত বিকলন করে সুদ মওকুফ করতে পারবে না।

মঙ্গলবারের সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ‘সুদ মওকুফে অপরিহার্য ক্ষেত্রে তহবিল ব্যয় আদায়ের শর্ত শিথিল করার জন্য এর যৌক্তিকতা নিশ্চিতকরণে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের মাধ্যমে নিরীক্ষা করে হেড অব ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স (এইচআইসিসি) এর মতামত গ্রহণ করতে হবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেসরকারি এক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিউজবাংলাকে বলেন, “ব্যাংক পরিচালকেরা আগে নিজের ব্যাংক থেকে ইচ্ছেমতো ঋণ নিতেন। পরে আইনি বাধার কারণে সেই সুযোগ কমে যায়। এরপর শুরু হয় এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের পরিচালকদের আতাতের মাধ্যমে সীমার বেশি ঋণ নেওয়া। যার মাধ্যমে উভয় ব্যাংকের পরিচালকদের মধ্যে গড়ে ওঠে অশুভ জোট। এখন সেই পরিচালকেরা ‘অশুভ আঁতাত’ এর মাধ্যমে একে অপরের ঋণের পুরো সুদ মওকুফ করে নিচ্ছেন।”

এতে ব্যাংকিং খাতের বড় ক্ষতি হবে বলে জানান ওই ব্যাংকার।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি চট্টগ্রামভিত্তিক একটি গ্রুপের সব ঋণের সুদ মওকুফ করে দিয়েছে বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক। আবার রাজধানীর একটি গ্রুপের ঋণের সুদ মওকুফ করে দিয়েছে ইসলামী ধারার ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। ফলে ব্যাংকগুলো পড়ছে ঝুঁকিতে। আর সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়েছে জনগণের আমানত।

আরও পড়ুন:
প্রবাসীদের বিদেশি মুদ্রার হিসাব খোলার সুযোগ
ব্যবসায় চলতি মূলধন ঋণসীমা বাড়ানোর সুযোগ
ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ঋণের সুদ মওকুফ নয়
তিন বছরের জন্য কৃষি ঋণ পুনঃতফসিলে সুযোগ
ডলার বিক্রি করেও দামে লাগাম পরানো যাচ্ছে না

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The policy of contraction in the country to cope with the economic recession

অর্থনৈতিক মন্দা সামলাতে দেশে দেশে সঙ্কোচন নীতি

অর্থনৈতিক মন্দা সামলাতে দেশে দেশে সঙ্কোচন নীতি মুরগি রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া। ছবি: সংগৃহীত
সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ স্কুল অফ পাবলিক পলিসির সহকারী অধ্যাপক সোনিয়া আক্তার বলেন, ‘২০০৭-২০০৮ সালের খাদ্য সংকটের অভিজ্ঞতা থেকে এটি আশা করা যায় যে আরও দেশ এই ধারা অনুসরণ করবে। এতে সংকটের পাশাপাশি খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।’

বিশ্বজুড়ে চলছে অর্থনৈতিক মন্দা। বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতি, কমেছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। পরিস্থিতি সামলাতে বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে আমদানি নানা পণ্যে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে। তবে দেশের স্বার্থে বিপরীত পদক্ষেপ নেয়ারও ঘোষণা দিয়েছে কিছু দেশ।

মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে ঘাটতি পূরণে তারা মুরগি রপ্তানি বন্ধ করতে যাচ্ছে। তা কার্যকর হবে জুনেই।

এশিয়ার অন্য দেশের মধ্যে ভারত এরইমধ্যে গম রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। পাম-ওয়েল রপ্তানি তিন সপ্তাহের জন্য বন্ধ রেখেছিল ইন্দোনেশিয়া।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে খাদ্য সরবরাহে বড় বিপর্যয় নেমে আসে। সামনের দিনগুলোতে বিশ্ব বড় ধরনের খাদ্য সংকটে পড়তে যাচ্ছে বলে বারবার সতর্ক করছে জাতিসংঘ। এরই মধ্যে মুরগি রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিল মালয়েশিয়া।

অস্থিতিশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে ‘খাদ্য জাতীয়তাবাদ’ –এর সম্ভাব্য উত্থান দেখছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

মালয়েশিয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মুরগির দাম বাড়তে দেখা গেছে। সংকট বিবেচনায় খুচরা ব্যবসায়ীরা কেবল চাহিদা অনুযায়ী মাংস সংগ্রহ করছেন।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকোব বলেন, ‘মাসে ৩৬ লাখ মুরগির রপ্তানি বন্ধ করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ দাম এবং উৎপাদন স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। নিজেদের নাগরিক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।’

মালয়েশিয়ার মুরগির প্রায় এক তৃতীয়াংশ কিনে থাকে প্রতিবেশী সিঙ্গাপুর। এ পদক্ষেপে দেশটি বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।

সিঙ্গাপুর ফুড এজেন্সি এক বিবৃতিতে জানায়, হিমায়িত মুরগির সরবরাহে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তবে ঘাটতি কমাতে বিকল্প খোঁজা হচ্ছে। যতটুকু প্রয়োজন কেবল ততটুকু কিনতে ভোক্তাদের পরামর্শ দিচ্ছি।

যুদ্ধের প্রভাব

মালয়েশিয়ার মুরগির রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের সবশেষ পদক্ষেপ। এপ্রিলে বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছিল, খাদ্যের দামের এই রেকর্ড বৃদ্ধি, কয়েক মিলিয়ন মানুষকে দারিদ্র্য এবং নিম্ন পুষ্টির মধ্যে ঠেলে দিতে পারে

গম রপ্তানির অন্যতম শীর্ষ দেশ ইউক্রেন। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে উৎপাদন কমে গেছে। সরবরাহেও দেখা দিয়েছে নানা বিপত্তি। ফলে বিশ্বজুড়ে বেড়ে গেছে গমের দাম। যা রপ্তানিনির্ভর দেশগুলোকে এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করছে।

ইউক্রেনের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্ভিরিডেনকো বলেন, “ইউক্রেনে আটকে থাকা লাখ লাখ টন শস্যের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলকে সোচ্চার হতে হবে। সরবরাহের জন্য একটি ‘নিরাপদ পথ’ তৈরি করা উচিত।”

ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সাইডলাইন বৈঠক শেষে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি বলেন, “ইউক্রেনের খাদ্য রপ্তানিতে রাশিয়ার বাধা ‘বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ ঘোষণার সামিল। আমরা ইতোমধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে খারাপ খাদ্য সংকটের মুখোমুখি।”

কর্মক্ষেত্রে ‘খাদ্য জাতীয়তাবাদ’?

ভারত প্রধান খাদ্যশস্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করার পর এই মাসের শুরুতে গমের দাম আবার বেড়েছে। দেশে তাপপ্রবাহের কারণে অভ্যন্তরীণ দাম রেকর্ড পর্যায়ে চলে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয় দিল্লি। এবার চিনি রপ্তানিতে লাগাম টানার বিষয়টিও ভাবছে মোদি সরকার।

এ ছাড়া খরা এবং বন্যার কারণে অন্যান্য প্রধান ফসল হুমকিতে আছে। যদিও ইউক্রেনের বদলে ভারত থেকে গম সরবরাহের প্রত্যাশা করেছিলেন ব্যবসায়ীরা।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাম-ওয়েলের দামও বেড়েছে। রান্নার তেলের দাম স্থানীয় পর্যায়ে কমাতে তিন সপ্তাহের জন্য রপ্তানি রেখেছিল পাম-ওয়েল উৎপাদনের অন্যতম দেশ ইন্দোনেশিয়া। সোমবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।

সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ স্কুল অফ পাবলিক পলিসির সহকারী অধ্যাপক সোনিয়া আক্তারের মতে “এগুলো ‘খাদ্য জাতীয়তাবাদ’-এর উদাহরণ।

“সরকাররা এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে। কারণ তারা মনে করে যে তাদের নাগরিকদের সবার আগে রক্ষা করতে হবে।”

সোনিয়া আরও বলেন, ‘২০০৭-২০০৮ সালের খাদ্য সংকটের অভিজ্ঞতা থেকে এটি আশা করা যায় যে আরও দেশ এই ধারা অনুসরণ করবে। এতে সংকটের পাশাপাশি খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।’

তবে সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিকাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক উইলিয়াম চেন মনে করেন, ‘রপ্তানি বিধিনিষেধ সম্পূর্ণরূপে একটি অস্থায়ী পদক্ষেপ। খাদ্য জাতীয়তাবাদের সঙ্গে এর তুলনা চলে না। অন্যান্য দেশগুলো খাদ্যদ্রব্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং পরে তা তুলে নিয়েছে।’

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Tariffs on 135 products to reduce imports

আমদানি কমাতে ১৩৫ পণ্যে শুল্কারোপ

আমদানি কমাতে ১৩৫ পণ্যে শুল্কারোপ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ কমাতে আমদানি পণ্যে শুল্কারোপ করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে অনেকটাই। এতে রিজার্ভে চাপ পড়ার পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নও করতে হচ্ছে। এর ফলে আবার নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় সরকার বিলাস দ্রব্যের আমদানি সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের বিদেশ যাত্রায় দেয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমদানি ব্যয়ের চাপ কমাতে বিভিন্ন খাতের ১৩৫ পণ্যের উপর বাজেটের আগে নতুন করে শুল্ক বসানো হয়েছে। এসব পণ্যের উপর সর্বনিম্ন তিন শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ হারে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বা রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি) আরোপ করা হয়েছে।

পণ্যগুলো আমদানি করতে বর্তমানে যে পরিমাণ শুল্ক কর লাগে তার সঙ্গে ‘অতিরিক্ত’ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বসানো হলো। এর ফলে এসব পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত হবে এবং রিজার্ভের উপর চাপ কমবে।

মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন শুল্ক হার কার্যকর করেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে অনেকটাই। এতে রিজার্ভে চাপ পড়ার পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নও করতে হচ্ছে। এর ফলে আবার নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে।

এই অবস্থায় সরকার বিলাস দ্রব্যের আমদানি সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের বিদেশ যাত্রায় দেয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এমনকি ব্যাংকাররা নিজের টাকায় দেশের বাইরে যেতে পারবেন না, এমন আদেশও জারি করা হয়েছে। এতেও ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন ঠেকানো যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় নয়, এমন সব পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করতে বর্ধিত শুল্ক হার ২৩ মে থেকে কার্যকর করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের শেষ কর্মদিবস ৩০ জুন পর্যন্ত এই আদেশ বহাল থাকবে। তবে সরকার চাইলে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সময় বাড়াতে পারে।

মূলত ফল, ফুল, প্রসাধনী সামগ্রী, ফার্নিচার এই চারটি খাতের বিভিন্ন পণ্যে বাড়তি নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করেছে এনবিআর। আম, আনারস, আপেল, আঙুর, তরমুজ ও পেয়ারাসহ সব ধরনের তাজা ফল আনতে দিতে হবে এই পরিমাণ শুল্ক।

তাজা ফুল আনতেও দিতে হবে বাড়তি এই কর।

ব্রাউন রাইস, আলুর চিপস, চিনি, ফ্লাই অ্যাশ, লুব্রিকেন্ট ওয়েল, টয়লেট পেপার, মেয়েদের মেকআপ, রডের কাঁচামাল, ইনগট, বিলেট, অ্যালুমিনিয়াম তার, গ্লুকোজ, গাড়ির টায়ার, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলস, মোটর কার, স্টেশন ওয়াগন, ডবল কেবিন পিকআপ, প্লাস্টিকসহ সব ধরনের আসবাবপত্রও আছে এ তালিকায়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্থানীয় শিল্পের স্বার্থ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে এসব পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে আমদানি ব্যয়ের যে চাপ আছে তা অনেকটাই কমবে এবং রিজার্ভের উপর চাপ কমবে।’

পণ্যগুলো আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর ফলে বাড়তি দেড় হাজার কোটি টাকার মতো রাজস্ব আসবে বলে মনে করছে রাজস্ব বোর্ড। এর মধ্যে ফল আমদানি থেকে আসবে এক হাজার কোটি টাকার মতো।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১০ মে এক পরিপত্র জারি করে আমদানিতে লাগাম টেনে ধরতে এলসি মার্জিনের নগদ টাকার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর এবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করে পণ্য আমদানিকে নিরুৎসাহিত করার পদক্ষেপ নিল।

আরও পড়ুন:
বড় মাইক্রোবাসে কমল শুল্ক
টিকে থাকতে বছরে ১০টি ভারতীয় সিনেমা চায় প্রদর্শক সমিতি
বেনাপোল দিয়ে রেলে ভারতীয় পণ্য আমদানি বেড়েছে ৩ গুণ
চাল আমদানির হিড়িক কেন
১৭ দেশ থেকে এসেছে ছোলা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
India is also curbing sugar exports

চিনি রপ্তানিতেও লাগাম টানছে ভারত

চিনি রপ্তানিতেও লাগাম টানছে ভারত
রপ্তানি ১ কোটি টন পেরোলে চিনি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবে ভারত। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি রপ্তানিকারক দেশ থেকে বাংলাদেশও চিনি আমদানি করে থাকে।

বিশ্বব্যাপী খাদ্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে গমের পর চিনি রপ্তানিও সীমিত করার কথা ভাবছে ভারত। অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে ভারত সরকার এ পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছে বলে খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি চিনি উৎপাদনকারী দেশ ভারত রপ্তানিতেও দ্বিতীয়। রপ্তানিতে শীর্ষে থাকা ব্রাজিলেও এবার উৎপাদন কম হয়েছে।

পাশাপাশি তেলের উচ্চ মূল্যের কারণে মিলগুলো আখভিত্তিক জ্বালানি ইথানল উৎপাদনে ঝুঁকছে, যার দাম ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে চড়ে গেছে।

এ পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখতে এবং দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে ভারত ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চিনি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা ভাবছে।

কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, শুরুতে ৮০ লাখ টন চিনি রপ্তানির পর তাতে লাগাম টানার চিন্তা ছিল ভারত সরকারের। কিন্তু প্রাক্কলনের চাইতে উৎপাদন বেশি হওয়ায় আরও কিছু চিনি রপ্তানিতে সায় দেয় সরকার। এখন ১ কোটি টন রপ্তানি হয়ে গেলেই নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।

বাংলাদেশে চিনির চাহিদার সিংহভাগই পূরণ হয় আমদানির মাধ্যমে। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোতে উৎপাদন কম থাকায় ব্রাজিল, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়া থেকে অপরিশোধিত চিনি আমদানি করে বাংলাদেশ। সরকারি হিসাবে দেশে বছরে চিনির চাহিদা ১৮ লাখ টন।

ভারত বিশ্বের অন্তত ১২১টি দেশে চিনি রপ্তানি করলেও তাদের প্রধান ক্রেতা ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, সুদান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। যদিও চিনি পরিশোধনকারী কোম্পানি ও ব্যবসায়ীরা মনে করেন এ চাহিদা আরও অনেক বেশি। দেশে সবশেষ কয়েক বছর গড়ে ২২ লাখ টনের বেশি চিনি আমদানি হয়েছে। এতে ব্যয় হচ্ছে ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ভারতীয় চিনি উৎপাদকদের সংগঠন দ্য ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশন চলতি মৌসুমে ৩ কোটি ১০ লাখ টন চিনি উৎপাদনের প্রাক্কলন ধরেছিল। তবে সংশোধিত হিসাবে তা ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৫৫ লাখ টন।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারি ভর্তুকি ছাড়াই ৮৫ লাখ টন চিনি রপ্তানিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ভারতের চিনিকলগুলো। ইতোমধ্যে প্রায় ৭১ লাখ টন চিনি পাঠানোও হয়েছে।

এই খবরের মধ্যে মঙ্গলবার বলরামপুর, ডালমিয়া ভারত, ধামপুর, দ্বারিকেশ ও শ্রী রেনুকা সুগার মিলের শেয়ারের দাম ৮ শতাংশ পড়ে গেছে।

তবে ১ কোটি টন চিনি রপ্তানির সম্ভাব্য সীমাকে যৌক্তিক বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। মুম্বাইভিত্তিক এক রপ্তানিকারক বলেন, ‘রপ্তানিসীমা ১ কোটি টন আসলেই বড় অংক, এতে চিনিকল ও সরকার উভয়ই লাভবান হবে।’

তিনি বলেন, ‘১ কোটি টন চিনি রপ্তানির পরও ১ অক্টোবর থেকে চিনি সংগ্রহ অভিযানে সরকারের গোলায় ৬০ লাখ টন চিনি আসবে, যা দিয়ে ডিসেম্বর প্রান্তিকের উৎসব মৌসুম অনায়াসেই সামাল দেওয়া যাবে।’

মহামারির ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ইউক্রেন যুদ্ধ আন্তর্জাতিক পণ্য বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী খাদ্য মূল্য গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউক্রেন থেকে সূর্যমুখী তেল না পাওয়ায় এবং ইন্দোনেশিয়া পাম তেল রপ্তানি বন্ধ রাখায় রান্নার তেলের দাম চড়ে গেছে অনেক দেশেই।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্ব বাজারের ৩০ শতাংশ গম আসত রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে। ওই সময় ইউক্রেনের বন্দরগুলো দিয়ে প্রতি মাসে ৪৫ লাখ টন কৃষি পণ্য রপ্তানি হতো, যে কারণে ইউক্রেনকে বিশ্বের ‘রুটির ঝুঁড়ি’ বলা হত।

২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া প্রতিবেশী ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করলে এসব রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়; তাতে দাম উর্ধ্বমুখি হতে শুরু করে। ভারত গমের সেই ঘাটতি অনেকটা পূরণ করতে পারবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তীব্র গরমে ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারতের বাজারেই গমের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ প্রেক্ষাপটে এ পণ্যটির রপ্তানিতেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দিল্লি।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, যুদ্ধের কারণে মূল্য বাড়তে থাকায় দরিদ্র দেশগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে; ইউক্রেনের রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব স্তরে ফেরানো না গেলে বিশ্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে আর তা কয়েক বছর স্থায়ী হতে পারে।

আরও পড়ুন:
ভারতে রপ্তানি ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর হাতছানি
ভর্তুকিতে হলেও বন্ধ চিনিকলগুলো চালুর দাবি
কোথায় গম পাবে বাংলাদেশ?
পোশাক শিল্পের দ্যুতি বিশ্বকে দেখাতে ঢাকায় বিশাল আয়োজন
পরচুলায় দিনবদল

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Indonesias move will reduce edible oil prices

ইন্দোনেশিয়ার পদক্ষেপ কমাবে ভোজ্যতেলের দাম

ইন্দোনেশিয়ার পদক্ষেপ কমাবে ভোজ্যতেলের দাম
টি কে গ্রুপের হেড অব বিজনেস আলম চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পাম তেল রপ্তানিতে ইন্দোনেশিয়ার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়াটা অবশ্যই একটি ভালো খবর। এতে আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বস্তি আসবে। ভোজ্যতেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কমবে। ভোক্তারাও লাভবান হবে।’

পাম অয়েল রপ্তানির দুয়ার খুলে দিয়েছে বড় উৎপাদক দেশ ইন্দোনেশিয়া। এতে দেশে তেল আমদানিতে সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানির অপেক্ষায় থাকা প্রায় এক লাখ টন তেল দেশে আসার বাধাও কাটছে। এটা দেশে ভোজ্যতেলের দামে ঊর্ধ্বগতিতে লাগাম পরাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইন্দোনেশিয়া গত ২৮ এপ্রিল পাম অয়েল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। প্রায় এক মাসের ব্যবধানে সোমবার পুনরায় রপ্তানি শুরুর ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশটি।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় দেশের বাজারে লাগামহীন হয়ে পড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। পুরো রমজান মাস তেলের সংকট থাকার পর ঈদের পরই লিটারে ৩৮ টাকা বেড়ে সয়াবিন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ হয়েছে ১৯৮ টাকা। ১৩০ টাকার পাম তেল হয়েছে ১৭২ টাকা। তার ওপর বাজারে এর চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এখন নতুন আমদানির সুযোগ দাম আরও বেড়ে যাওয়া রোধ এমনকি দাম কমাতে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

দেশে বছরে ২০ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। এর বেশির ভাগই পূরণ হয় পাম তেল দিয়ে। আর এই তেলের বড় জোগানটা আসে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানির মাধ্যমে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে দেশে পাম তেলের ৯০ শতাংশ আমদানি হয়েছে ইন্দোনেশিয়া থেকে। দেশটি রপ্তানি বন্ধের পর বিকল্প উৎস থেকে আমদানি না করে ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় ছিলেন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের। সোমবার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার খবরে তাই স্বস্তি ফিরেছে আমদানিকারকদের মধ্যে।

তাছাড়া ইন্দোনেশিয়া রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগের চার দিনে প্রায় ৯০ হাজার টন তেল আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়। এসব তেল জাহাজে তোলার আগেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়ে যায়। ফলে আটকে যায় সেই চালান।

দেশে ভোজ্যতেলের শীর্ষ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান টি কে গ্রুপের হেড অব বিজনেস আলম চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পাম তেল রপ্তানিতে ইন্দোনেশিয়ার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়াটা অবশ্যই একটি ভালো খবর। এতে আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বস্তি আসবে। ভোজ্যতেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কমবে। ভোক্তারাও লাভবান হবে।

‘সবকিছুই নির্ভর করছে আমদানির সুযোগ কতটা অব্যাহত থাকবে তার ওপর। দেশটি নতুন কোনো শর্ত আরোপ করে কি না এবং কী দামে রপ্তানির সুযোগ দেবে তাও দেখতে হবে। এটা বলতে পারি শিগগির ইন্দোনেশিয়া থেকে তেল না এলে বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট দেখা দিতে পরে। কারণ যত বেশি তেল আমদানির সুযোগ তৈরি হবে, তত বেশি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। দামও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার আগে যেসব ঋণপত্রের বিপরীতে পাম তেল আমদানি বন্ধ হয়ে যায় সেসব চালান দেশে আসতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই ইন্দোনেশিয়ার মনোভাব বোঝা যাবে। আবার দেশে বর্তমানে কী পরিমাণ তেল আছে তার ওপরও নতুন আমদানির পরিমাণ নির্ভর করছে।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও ইন্দোনেশিয়া তেলের দাম নির্ধারণ এবং কতদিনের জন্য কী পরিমাণ তেল রপ্তানির সুযোগ দেবে সেটা একটা বিষয়। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই এসব বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে।

‘তেল এলে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দামে ইতিবাচক প্রভাবই পড়বে। তবে সেই প্রভাব আমাদের বাজারে পড়তে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। মিল মালিকরা কতটুকু আমদানি করবে সেটাও দেখতে হবে। কারণ আগে তো তারা বেশি দামে পণ্য এনেছে। সেগুলোর কতটুকু বাজারে গেছে এবং কতটুকু মজুত আছে তা হিসাব করেই তারা আমদানি করবে।’

দেশে ভোজ্যতেল আমদানির দুই বছরের চিত্র বলছে, পাম অয়েলের দামে ঊর্ধ্বগতি থাকলেও আমদানি তেমন হেরফের হয়নি। চলতি অর্থবছরের ১৫ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১১ লাখ ৯৬ হাজার টন পাম তেল খালাস করেছেন ব্যবসায়ীরা। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ১২ লাখ ১৮ হাজার টন।

বিশ্বের ভোজ্যতেলের এক-তৃতীয়াংশই আসে পাম অয়েল থেকে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশই সরবরাহ করে ইন্দোনেশিয়া। সোমবার তিন সপ্তাহ ধরে চলা নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটে। তবে সরকার দাম কমানোর যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল তা এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। দেশটিতে প্রতি লিটার পাম অয়েলের দাম ১৪ হাজার রুপিয়ায় (ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা) নামিয়ে আনার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বর্তমানে দাম ১৭ হাজার রুপিয়ায় অবস্থান করছে। নিষেধাজ্ঞার আগে প্রতি লিটারের দাম ১৯ হাজার রুপিয়ারও বেশি ছিল।

(এক ডলার সমান ১৪ হাজার ৬২৪ ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া। আর এক টাকা সমান ১৬৬ রুপিয়া।)

আরও পড়ুন:
৬ হাজার লিটার ভোজ্যতেল জব্দ, জরিমানা আড়াই লাখ
দুই জেলায় ১০ হাজার ৩৬৪ লিটার সয়াবিন জব্দ
সরিষা তেলের দামও আকাশমুখী
মজুত ২ হাজার লিটার তেল জব্দ, জরিমানা
অবৈধ মজুত: আরও ৪৭ হাজার লিটার সয়াবিন জব্দ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The price of commemorative gold coins also went up

স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দামও বাড়ল

স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দামও বাড়ল
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে এই দাম বাড়া‌নো হ‌য়ে‌ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিটি মুদ্রার দাম ৪ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৭২ হাজার টাকা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে এই দাম বাড়া‌নো হ‌য়ে‌ছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন এ দাম মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রিত ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০০০’, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবর্ষ ১৯২০-২০২০’এবং ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ১৯৭১-২০২১’ শীর্ষক স্মারক স্বর্ণমুদ্রার মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি স্মারক মুদ্রা ২২ ক্যারেট মানের স্বর্ণে তৈরি ও প্রতিটির ওজন ১০ গ্রাম। স্মারক স্বর্ণমুদ্রাগুলো (বাক্সসহ) প্রতিটির ৭২ হাজার টাকায় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতদিন এ স্মারক স্বর্ণমুদ্রা ৬৮ হাজার টাকায় বিক্রি হতো।

গত ২১ মে দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে ৮২ হাজার ৪৬৪ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুস। এই দর বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে কখনই এত বেশি দামে স্বর্ণ বিক্রি হয়নি দেশে। ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ৪ হাজার ২৪ টাকা বেড়ে হয়েছে ৭৮ হাজার ৭৩২ টাকা।

১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম বে‌ড়ে‌ছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা; বিক্রি হচ্ছে ৬৭ হাজার ৫৩৫ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম ২ হাজার ৮৫৭ টাকা বেড়ে হয়েছে ৫৬ হাজার ২২০ টাকা।

স্মারক স্বর্ণমুদ্রা তৈরিতে ২২ ক্যারেট অথবা ২১ ক্যারেট স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন:
শাহজালালে স্বর্ণসহ ৩ যাত্রী আটক
স্বর্ণ পাচারের শাস্তি: শুধু বেতন কমল বেবিচক কর্মকর্তার
বিমানবন্দরের টয়লেটে ৪৬টি স্বর্ণের বার
বাজুস সদস্য ছাড়া স্বর্ণালংকার না কেনার পরামর্শ
স্বর্ণের দাম কমল ভরিতে ১১৬৬ টাকা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Debut of Bangladesh Bank Officers Welfare Council

বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের অভিষেক

বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের অভিষেক
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান।

বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল, ঢাকা এর নবনির্বাচিত পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে সোমবার এই অনুষ্ঠান হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান। কাউন্সিলের সদস্য ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এবং ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানের ছাইদুর রহমান চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সামর্থ্য সৃষ্টি করতে প্রশাসনের পাশাপাশি নবনির্বাচিত কাউন্সিলের পরিষদকেও কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক ওবায়দুল হক, জিএম মাকছুদা বেগম এবং আবুল কালাম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পুরাতন পরিষদকে বিদায় ও নবনির্বাচিত পরিষদকে বরণ করে নেওয়া হয়। পুরাতন পরিষদের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়ার সিদ্দিকী এবং নবনির্বাচিত পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ যথাক্রমে বিদায়ী ও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।

গত ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত কাউন্সিল নির্বাচনে সভাপতি পদে মহাব্যবস্থাপক এইচ এম দেলোয়ার হোসাইন, সহসভাপতি পদে যুগ্মপরিচালক তানভীর আহমেদ ও উপমহাব্যবস্থাপক জয়দেব চন্দ্র বণিক, সাধারণ সম্পাদক যুগ্মপরিচালক এ কে এম মাসুম বিল্লাহ, সহসাধারণ সম্পাদক যুগ্মপরিচালক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ ও যুগ্ম পরিচালক এ ইউ এম.মান্না ভূইয়া, কোষাধ্যক্ষ পদে যুগ্ম পরিচালক জহুরুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক উপ পরিচালক তানবীর এহসান শোভন, প্রচার সম্পাদক উপ পরিচালক আজহারুল ইসলাম এবং দপ্তর সম্পাদক পদে উপপরিচালক তৌফিকুর রহমান নিরআচিত হন।

আরও পড়ুন:
ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে মাঠে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বিদেশ থেকে প্রাপ্ত আয় সংরক্ষণ বৈদেশিক মুদ্রায়
ব্যাংক ও কমিটির চেয়ারম্যানরা সহযোগী প্রতিষ্ঠানে থাকতে পারবেন না
এক হাজার টাকার লাল নোট বাতিলের ‘নোটিশ’টি ভুয়া
প্রবাসীদের বিদেশি মুদ্রার হিসাব খোলার সুযোগ

মন্তব্য

p
উপরে