× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

অর্থ-বাণিজ্য
Ministers mega showroom in Banasree
hear-news
player

বনশ্রীতে মিনিস্টারের মেগা শো-রুম

বনশ্রীতে-মিনিস্টারের-মেগা-শো-রুম রাজধানীর বনশ্রীতে মিনিস্টার পণ্যের শো-রুম উদ্বোধনে অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত
নতুন এই শো-রুম থেকে রাজধানীবাসী খুব সহজে মিনিস্টারের ইলেকট্রনিক্স ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স এবং হিউম্যান কেয়ার পণ্য খুব সহজে সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতে পারবেন।

ঢাকার বনশ্রীতে ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি মিনিস্টার নতুন মেগা শো-রুমের উদ্বোধন করেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে শো-রুমটি উদ্বোধন করেন মিনিস্টার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট এম এ রাজ্জাক খান রাজ।

শো-রুম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম লিটন, জেনারেল ম্যানেজার সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং রিয়াজ মাহমুদ, মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের সহকারী পরিচালক -সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং (ঢাকা জোন) সজিবুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নতুন এই শো-রুম থেকে রাজধানীবাসী খুব সহজে মিনিস্টারের ইলেকট্রনিক্স ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স এবং হিউম্যান কেয়ার পণ্য খুব সহজে সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতে পারবেন।

তা ছাড়া এই শো-রুমে পাওয়া যাবে আকর্ষণীয় অফারে আকর্ষণীয় সকল মিনিস্টারের পণ্য। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শো-রুমটিতে চলছে বিশেষ অফার ও ডিসকাউন্ট।

মিনিস্টার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআই ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজ্জাক খান রাজ বলেন, ‘দেশীয় পণ্যে বিশ্ব জয়ের লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন ডিজাইনের ইলেকট্রনিক্স পণ্যসহ হিউম্যান কেয়ার প্রোডাক্টস নিয়ে এসেছি। যা ইতোমধ্যে মানুষের মন জয় করে নিয়েছে।

‘তারই ভিত্তিতে রাজধানীবাসীর জন্য আরও একটি নতুন শো-রুম চালু করা হলো। আশা করি, এই শো-রুমটির মাধ্যমে বনশ্রীর আশেপাশের মানুষ খুব সহজেই সাশ্রয়ী মূল্যে দেশীয় ফ্রিজ, এলইডি টিভি, এয়ার কন্ডিশনার, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার, আয়রন, ইলেকট্রিক কেটলি, হিউম্যান কেয়ার প্রোডাক্টস কিনতে পারবেন।’

আরও পড়ুন:
আসছে মিনিস্টার গ্রুপের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘ই-রাজ’
ঢাকা ওআইসি ইয়্যুথ ক্যাপিটাল পুরস্কার পেল মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপ
মিনিস্টার গ্রুপের ডিলার সম্মেলন
বিজয়ের ৫০ বছরে মিনিস্টার পণ্যে ৫০% ছাড়
স্বাধীনতার পঞ্চাশে ৫০টি শোরুম খুলল মিনিস্টার গ্রুপ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Criticism like Arbachin is not acceptable Sheikh Hasina

অর্বাচীনের মতো সমালোচনা গ্রহণযোগ্য নয়: শেখ হাসিনা

অর্বাচীনের মতো সমালোচনা গ্রহণযোগ্য নয়: শেখ হাসিনা ঢাকার শেরে বাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় গণভবনপ্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিএমও
তারা অর্বাচীনের মতোই একেকটা কথা বলবে, আর মিথ্যে বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে, এটা কিন্তু গ্রহণ করা যায় না।… যারা এখন বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে কথা বলবে, আমার মনে হয় তাদের বাড়ির বিদ্যুৎগুলো বন্ধ করে দেয়া উচিত। তারা জেনারেটর চালিয়ে চলুক। সেটি বোধহয় ভালো। তাহলে তারা বুঝবে, বিদ্যুতের প্রয়োজন আছে কি না।

পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্পগুলো নিয়ে সমালোচনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমালোচকদের ‘অর্বাচীন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মিথ্যে দিয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্তের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।’

এসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন তাদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সমালোচকদের দরকার না থাকলেও দেশের মানুষের জন্য দরকার আছে।’

যারা বিদ্যুৎ নিয়ে সমালোচনা করেন তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা উচিত বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তার ধারণা, ‘এর মধ্য দিয়ে সমালোচকরা বুঝতে পারবেন বিদ্যুৎ কতটা প্রয়োজনীয়।’

ঢাকার শেরে বাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দিয়েছেন। গণভবনপ্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সভার সভাপতিত্ব করেন সরকারপ্রধান।

পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে ছড়ানো নানা কথার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের সমালোচনা ৪০ হাজার কোটি টাকা নাকি আমরা ধার করেছি। যারা এই কথাগুলো বলছেন, তাদের স্পষ্টভাবে বলতে চাই, পদ্মা সেতুর একটি টাকাও কারও কাছ থেকে আমরা ঋণ নিইনি, ধার করিনি। এটা সম্পূর্ণ বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে করা হচ্ছে। এটা তাদের জানা উচিত।

‘একেবারে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা দিয়ে আমরা তৈরি করছি। তারা অর্বাচীনের মতোই একেকটা কথা বলবে, আর মিথ্যে বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে, এটা কিন্তু গ্রহণ করা যায় না।’

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গ

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক কথা। তারপর আসল পদ্মা সেতুর রেললাইন ৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে নির্মাণ করার কী দরকার ছিল? কারা চলবে এ রেললাইনে।

‘আমি অপেক্ষা করছি, রেললাইন যখন চালু হবে তখন তারা চলে কি না। এই মানুষগুলোকে আমার মনে হয় ধরে নিয়ে দেখানো দরকার যে রেলসেতুতে মানুষ চলে কি না।’

পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের অর্থনীতি বেগবান হবে বলেও মনে করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘এই একটা সেতু নির্মাণ হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের যে জেলাগুলো, অঞ্চলগুলো আছে, সেখানে অর্থনীতিতে যে গতিশীলতা আসবে, এই মানুষগুলোর চলাচল, পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে- সেটা তারা একবার ভেবে দেখছেন না।

‘মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়। আর এখন রেলে করে তারা চলে আসবেন। আর এই রেলসেতু তো মোংলা পোর্ট পর্যন্ত সংযুক্ত হচ্ছে। ভবিষ্যতে পায়রা পোর্ট যখন আমরা করব, পায়রা পোর্ট পর্যন্ত যাতে সংযুক্ত হয় তার ব্যবস্থাও আমরা নিচ্ছি। কিন্তু সেটা এই মুহূর্তে খুব বেশি প্রয়োজন নেই বলে আমরা একটু ধীর গতিতে যাচ্ছি।’

রূপপুর নিয়ে সমালোচনা কেন

সবচেয়ে বেশি টাকার সরকারি প্রকল্প রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সমালোচনারও জবাব দেন শেখ হাসিনা।

বলেন, ‘এটা আমাদের একটা লক্ষ্য ছিল যে আমাদের করতেই হবে। আজকে আমরা সেই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছি। বিদ্যুৎ উৎপাদন যখন শুরু হবে, সেটা দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতি আরও সচল হবে। এটা তো সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব একটা বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটা নিয়ে এত সমালোচনা কেন। এটা নিয়ে কারা কথা বলছেন?

‘যারা এখন বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে কথা বলবে, আমার মনে হয় তাদের বাড়ির বিদ্যুৎগুলো বন্ধ করে দেয়া উচিত। তারা জেনারেটর চালিয়ে চলুক। সেটি বোধহয় ভালো। তাহলে তারা বুঝবে, বিদ্যুতের প্রয়োজন আছে কি না।

গরিব মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ গেছে এটা সমালোচকদের পছন্দ নয় কি না- এই প্রশ্নও রাখেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘তারাই খাবেন ভালো থাকবেন আর আমার গরিব মানুষগুলো ধুঁকে ধুঁকে মরবেন এটাই তারা চায়?’

স্যাটেলাইট দেশবাসীর প্রয়োজন আছে

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের সময়ও নানা সমালোচনা করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তখনও তারা বলেছে এটার কী দরকার ছিল? যা করবেন তাতে বলবে, এটার কী দরকার ছিল? তাদের জন্য দরকার না থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের জন্য দরকার আছে।

‘তবে আমি মনে করি, আমাদের করা সব সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারও করবেন, আবার সমালোচনা করে মানুষকে বিভ্রান্তও করবেন, এটা বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু জানে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে কতগুলো নাম আর চরিত্র আছে, এদেরকে আমরা চিনি। নিজের আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলতে হবে।’

‘মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্য নিয়েই ফিরেছি’

শেখ হাসিনা এই কথাগুলো বলেন তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৪১ বছর পূর্তির দিন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ছয় বছর পর ১৯৮১ সালের এই দিনে তিনি দেশে ফেরেন।

শেখ হাসিনার বক্তব্যে এই বিষয়টিও উঠে আসে। বলেন, ‘ফিরে আসি একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে যে জাতির জন্য আমার বাবা সারাটা জীবন কষ্ট করে গেছেন, জেল খেটেছেন…আমরা তো পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। যে বয়সে ছেলেমেয়ে বাবার হাত ধরেই স্কুলে যায়, সেই সুযোগ তো আমাদের হয়নি।’

বাবার স্মৃতিচারণা করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘আমরা জ্ঞান হওয়ার পর থেকে জানি আমার আব্বা জেলে। তারপর হয়তো এক বছর, দেড় বছর, তারপর আবার জেলে। জেলখানায় দেখা। এইভাবেই আমাদের জীবন কেটেছে। কিন্তু তিনি যা করেছিলেন এ দেশের মানুষের জন্য, কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের জন্য।’

যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছেন, সেই দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো নিশ্চিত করতে চান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে যখন বাংলার মাটিতে ফিরে আসি, আমি এসেছি একটা লক্ষ্যই সামনে নিয়ে, এ দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাব। কারণ এটিই ছিল আমার বাবার স্বপ্ন। আমি আসার পর সারা বাংলাদেশে ঘুরেছি। ঘুরতে চেয়ে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নাই কিন্তু আমি পেয়েছি বাংলাদেশের সব মানুষের ভালোবাসা, আস্থা বিশ্বাস।’

আরও পড়ুন:
বিশ্ব মন্দার শঙ্কায় উন্নয়ন প্রকল্পও বেছে বেছে
৩০ বছর পর নারী প্রধানমন্ত্রী পেল ফ্রান্স
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গৌতম ঘোষ
প্রধানমন্ত্রী ও পরিবারের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি
উন্নতি দেখতে গ্রাম ঘুরে আসুন, সমালোচকদের প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Dollar Century in the open market

খোলা বাজারে ডলারের সেঞ্চুরি

খোলা বাজারে ডলারের সেঞ্চুরি দর বাড়ছে ডলারের
৯ মাসে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে খোলা বাজারে বেড়েছে আরও বেশি। আর ব্যাংকের বাইরে এখন ডলার পাওয়াই যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে ডলারের দর ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

মঙ্গলবার এই বাজার থেকে এক ডলার কিনতে ১০০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০১ টাকা দিতে হয়েছে। সোমবার ৯৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৩০ পয়সায় ডলার বিক্রি হয়েছিল।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, খোলা বাজারে ডলারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সে কারণেই প্রতি দিনই দর বাড়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ডলার পাচ্ছি না। আজ আমি এক ডলারও কিনতে পারিনি। তাই কোনো ডলার বিক্রিও করতে পারছি না।’

বেশ কিছুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমছে। সোমবার বড় দরপতন হয়। এক দিনেই আমেরিকান ডলারের বিপরীতে ৮০ পয়সা দর হারায় টাকা। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক দিনে টাকার এত বড় দরপতন হয়নি।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে সোমবার ১ ডলারের জন্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা খরচ করতে হয়। মঙ্গলবারও এই একই দামে বাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ৭০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছিল। ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করছে এর চেয়ে ৫ টাকা বেশি দরে।

ঈদের ছুটির আগে ২৭ এপ্রিল ডলারের বিপরীতে টাকার মান ২৫ পয়সা কমিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তার আগে প্রতি ডলারের জন্য ৮৬ টাকা ২০ পয়সা লাগত। এরপর ১০ এপ্রিল আরও ২৫ পয়সা কমিয়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রোববার সরকারি ছুটির কারণে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার বন্ধ ছিল। সোমবার ডলারের বিপরীতে টাকার মান এক লাফে আরও ৮০ পয়সা কমিয়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

টাকার মূল্য পতনে রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও আমদানি পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমানো ছাড়া অন্য বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। পাশের দেশ ভারতসহ পৃথিবীর সব দেশই তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন করছে। এখন আমরা যদি না করি, তাহলে প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে পড়ব।’

তিনি বলেন, ‘এ কথা ঠিক, আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। কিন্তু একই সঙ্গে ডলারের দাম বেশি হওয়ায় আমদানিটা কিছুটা নিরুৎসাহিত হবে। অন্যদিকে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়বে। রিজার্ভ বাড়বে।’

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা মঙ্গলবার ৯২ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। অগ্রণী ব্যাংক বিক্রি করেছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সা দরে। বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংকও ৯২ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই একই জায়গায় স্থির ছিল ডলারের দর। এর পর থেকেই শক্তিশালী হতে থাকে ডলার; দুর্বল হচ্ছে টাকা।

হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, এই ৯ মাসে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকার বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।

মহামারি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বাড়ায় বাজারে ডলারের সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। আমদানির লাগাম টেনে ধরা ছাড়া ডলারের বাজার স্বাভাবিক হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তারা।

এদিকে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেও দামে লাগাম পরানো যাচ্ছে না। মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে ডলার বিক্রি করেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের সোমবার পর্যন্ত (সাড়ে ১০ মাসে, ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ১৬ মে পর্যন্ত) ৫২০ কোটি (৫.২০ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপরও বাজারের অস্থিরতা কাটছে না। বেড়েই চলেছে ডলারের দর।

খোলা বাজারের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো হাত নেই। তবে ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার বিক্রি করলে বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে থাকে। কেননা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আন্তব্যাংক দরে ডলার কিনে সেই ডলার বিক্রি করে থাকে ব্যাংকগুলো।

এর আগে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর বিক্রি করা ডলারের দর আর আন্তব্যাংক রেটের মধ্যে বেশি ব্যবধান হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই পার্থক্যের একটা সীমা নির্ধারণ করে দিত; সেটা এক থেকে দুই টাকার মধ্যে থাকত।

কিন্তু কয়েক মাস ধরে ব্যাংকগুলো আন্তব্যাংক রেটের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডলার বিক্রি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো হস্তক্ষেপ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

সে কারণেই দিন যত যাচ্ছে, ইচ্ছামতো যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দাম বাড়িয়ে চলেছে ব্যাংকগুলো; কমছে টাকার মান। এ পরিস্থিতিতে আমদানি খরচ বেড়েই যাচ্ছে; বাড়ছে পণ্যের দাম। তবে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা লাভবান হচ্ছেন।

করোনা মহামারির কারণে গত ২০২০-২১ অর্থবছরজুড়ে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে উল্লম্ফন দেখা যায়। সে কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যায়। সে পরিস্থিতিতে ডলারের দর ধরে রাখতে গত অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়।

কিন্তু আগস্ট মাস থেকে দেখা যায় উল্টো চিত্র। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে আমদানি। রপ্তানি বাড়লেও কমতে থাকে রেমিট্যান্স। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও কমতে থাকে। বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়; বাড়তে থাকে দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

আমদানি কমাতেই হবে

অর্থনীতির গবেষক বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক মঞ্জুর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, চাহিদা বাড়ায় রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে ঠিক কাজটিই করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ হস্তক্ষেপকে সময়োপযোগী একটা পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এই অর্থনীতিবিদ।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমদানি বাড়ায় বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। স্বাভাবিক নিয়মেই বেড়েছে দর। কিন্তু এখন আমদানির লাগাম টেনে ধরতে হবে; যে করেই হোক আমদানি কমাতে হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া অন্য সব পণ্য আমদানিতে এলসি মার্জিন ৭৫ শতাংশ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আমি মনে করি, এটি একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে পণ্য আমদানির আড়ালে বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।’

অর্থনীতির আরেক বিশ্লেষক গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যিই ডলারের বাজারে চরম অস্থিরতা চলছে। এটা কোথায় গিয়ে শেষ হবে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করেও বাজার স্বাভাবিক রাখতে পারছে না। আমার মনে হয়, এভাবে হস্তক্ষেপ করে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম, বাজারকে বাজারের মতো চলতে দিতে হবে; বাজারকে তার গতিতেই যেতে দিতে হবে। কিন্তু সেটা না করে বাজারকে হস্তক্ষেপ করে ডলারের দাম ধরে রাখা হয়েছিল। অল্প অল্প করে দাম বাড়ানো হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ হস্তক্ষেপ ঠিক ছিল না বলে আমি মনে করি।

‘আমি বলেছিলাম, বাজারকে বাজারের মতো চলতে দিলে ডলারের দাম যদি ৮৭/৮৮ টাকাতেও উঠে যায়, যাক। তারপর বাজার তার নিজের নিয়মেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই ৮৭/৮৮ টাকাতেই ডলারের দাম ওঠাচ্ছে। কিন্তু বাজারটাকে অস্থির করার পর।’

আহসান মনসুর বলেন, ‘ডলারের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ব্যাপক তফাত। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; ৫০ শতাংশের মতো। কিন্তু রেমিট্যান্স না বেড়ে উল্টো ২০ শতাংশ কমেছে। রপ্তানি বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু তা চাহিদার চেয়ে অনেক কম।

‘এখন কথা হচ্ছে, কতদিন এই অস্থিরতা চলবে। আমার পরামর্শ হচ্ছে, অনেক হয়েছে আর নয়। যে করেই হোক আমদানি কমাতেই হবে। এ ছাড়া এখন আর অন্য কোনো পথ খোলা নেই। আর যদি এটা করা না যায়, তাহলে রিজার্ভের ওপর চাপ আরও বাড়বে। কয়েক মাস আগেও রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এখন ৪২ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।’

ডলারের ব্যয় কমাতে সরকার এরই মধ্যে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিলাস দ্রব্য আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে দেয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। আমদানিনির্ভর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেগুলো জরুরি নয়, সেগুলোর বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, উন্নয়ন প্রকল্পও বাস্তবায়ন হবে বেছে বেছে। যেসব প্রকল্প এই মুহূর্তে বাস্তবায়ন না করলেই নয়, সেগুলোই কেবল বাস্তবায়ন হবে।

আরও পড়ুন:
ডলারের পাগলা ঘোড়ার দাপটে টাকার রেকর্ড দরপতন
রিজার্ভ থেকে রেকর্ড ডলার ছেড়েও অস্থির বাজার
আরও দুর্বল হলো টাকা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
PK Haldar is being taken to court today

পি কে হালদারকে আজ আদালতে তোলা হচ্ছে

পি কে হালদারকে আজ আদালতে তোলা হচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তারের পর পি কে হালদার। ফাইল ছবি
ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হেফাজতে থাকা পি কে হালদারসহ ৬ জনকে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্টের সিবিআই আদালতে নেয়া হবে।

কয়েক হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা ও আত্মসাৎ ঘটনার হোতা প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারকে আদালতে তোলা হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হেফাজতে থাকা পি কে হালদারসহ ৬ জনকে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল কোর্টের সিবিআই আদালতে নেয়া হবে।

আদালতে তোলার আগে ইডির তদন্তকারীরা টানা জিজ্ঞাসাবাদ করে পি কে হালদার চক্রের বেআইনি সম্পত্তি, পাচার করা অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্র জানার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে কোন কোন প্রভাবশালীর সঙ্গে তার উঠাবসা রয়েছে বা ছিল এবং তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেনের বিস্তারিত জেনে নিতে চাইছেন তারা।

এসব বিষয়ের সদর্থক জবাব না পেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পি কে হালদারসহ পাঁচজনকে আবারও হেফাজতে নেয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানাতে পারে ইডি।

পাশাপাশি ভুয়া পরিচয়পত্র দিয়ে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, এমনকি পাসপোর্ট জাল করে অবৈধভাবে এদেশে থাকার বিষয়টি ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই বা সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন তদন্ত করতে পারে। কারণ ইডি কেবল অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করার এখতিয়ার রাখে।

মঙ্গলবার রুটিন মেডিক্যাল চেকআপের পর পি কে হালদারসহ ৬ জনকে সিবিআই আদালতে তোলা হবে।

‘আমি দেশে ফিরতে চাই’

পি কে হালদারকে সোমবার বিধাননগর মহাকুমা হাসপাতালে রুটিন মেডিক্যাল চেকআপের পর সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির অফিসে ফিরিয়ে আনা হয়। এ সময় লিফটের মধ্যে তিনি বলেন, ‘আমি দেশে ফিরতে চাই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

ইডি সূত্রে খবর, প্রথম দিকে তদন্তকারীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে অসহযোগিতা করলেও লাগাতার জেরার মুখে এক পর্যায়ে ভেঙে পড়েন পি কে হালদার। তদন্তে সহযোগিতা করতে রাজি হন তিনি। এদিন কখনও একা, আবার কখনও ইডির রিমান্ডে থাকা সহযোগীদের পাশে বসিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ইতোমধ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পি কে হালদার জালিয়াত চক্রের বেআইনি বিনিয়োগের বহু তথ্য ও নথি ইডির তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। প্রয়োজনে আরও জেরা করতে ইডি অভিযুক্তদের আবারও হেফাজতে নেয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানাতে পারে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন:
পি কে হালদারকে দেশে আনা নিয়ে রুলের শুনানি আজ
পি কের গ্রেপ্তারকে কীভাবে দেখছেন এলাকাবাসী
পি কে হালদারের টাকার খোঁজ শুরু
পি কে গ্রেপ্তারে সর্বস্বান্তদের মনে আশার আলো
পি কে হালদারের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Company taxpayers can submit returns till June 15

কোম্পানি করদাতারা ১৫ জুন পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন

কোম্পানি করদাতারা ১৫ জুন পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন
আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের পাশাপাশি কোম্পানি শ্রেণীর করদাতাদেরও বাধ্যতামূলক আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়। ক্যালেন্ডার বছর শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই রিটার্ন জমা দেয়ার বিধান রয়েছে।

কোম্পানি করদাতারা তাদের বার্ষিক আয়কর রিটার্ন আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত জমা দিতে পারবেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সোমবার রাতে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে এই সুবিধা দিয়েছে।

এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কর আইন-১) মহিদুল ইসলাম চৌধুরীর সই করা ‘কোম্পানি শ্রেণীর করদাতার ২০২১-২২ কর বছরের রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বর্ধিতকরণ’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা 184G এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, কোম্পানি শ্রেণীর করদাতার ২০২১-২২ কর বছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা (যা ট্যাক্স ডে নামে সজ্ঞায়িত) ১৫ জুন ২০২২ পর্যন্ত বার্ধিত করল।

আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের পাশাপাশি কোম্পানি শ্রেণীর করদাতাদেরও বাধ্যতামূলক আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়। ক্যালেন্ডার বছর শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই রিটার্ন জমা দেয়ার বিধান রয়েছে।

সে হিসাবে ২০২১ সালের বার্ষিক আয়কর রিটার্ন ২০২২ সালের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে জমা দেয়ার শেষ সময় ছিল। কিন্তু মহামারি করোনার কারণে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা সময়মতো রিটার্ন জমা দিতে পারেননি।

তাদের সুবিধার্থে কোম্পানি করদাতারাদের রিটার্ন জমার সময় আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২ লাখের বেশি কোম্পানি নিবন্ধন আছে। তাদের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোম্পানি আয়কর রিটার্ন জমা দেয়।

আরও পড়ুন:
বাজেট প্রস্তাব চেয়েছে এনবিআর
সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিন, ব্যবস্থা নেব: এনবিআর চেয়ারম্যান
এনবিআর চেয়ারম্যান রহমাতুল মুনিমের মেয়াদ দুই বছর বাড়ল
আয়েশা'স বিউটি পার্লারের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা
কর দেয়া সহজ করছে সরকার: এনবিআর চেয়ারম্যান

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Waltons digital campaign season 15 begins

ওয়ালটনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-১৫ শুরু

ওয়ালটনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-১৫ শুরু
এই ক্যাম্পেইন আওতায় দেশের যে কোনো ওয়ালটন প্লাজা, পরিবেশক শোরুম কিংবা অনলাইনের ই-প্লাজা থেকে ফ্রিজ, টিভি, এসি, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ব্লেন্ডার, গ্যাস স্টোভ, রাইস কুকার ও ফ্যান কিনে ক্রেতারা পেতে পারেন ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক।

ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে সারা দেশে শুরু হলো ওয়ালটন ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-১৫।

এই ক্যাম্পেইন আওতায় দেশের যে কোনো ওয়ালটন প্লাজা, পরিবেশক শোরুম কিংবা অনলাইনের ই-প্লাজা থেকে ফ্রিজ, টিভি, এসি, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ব্লেন্ডার, গ্যাস স্টোভ, রাইস কুকার ও ফ্যান কিনে ক্রেতারা পেতে পারেন ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত ক্যাশব্যাক। এছাড়া রয়েছে কোটি কোটি টাকার ওয়ালটন পণ্য ফ্রি।

১৬মে সোমবার থেকে গ্রাহকরা এসব সুবিধা পাচ্ছেন।

রাজধানীর ওয়ালটন করপোরেট অফিসে রোববার এই ক্যাম্পেইন চালু এবং এর আওতায় ঈদ উৎসেব এসব ক্রেতাসুবিধার ঘোষণা দেয়া হয় বলে প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনলাইন অটোমেশনের মাধ্যমে গ্রাহকদের আরও দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে সারা দেশে ডিজিটাল ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে ওয়ালটন। ইতোমধ্যে সফলভাবে ক্যাম্পেইনের ১৪ টি সিজন সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি সিজনেই গ্রাহকদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের সিজন-১৫ শুরু করা হয়েছে। এর আওতায় ঈদ উৎসবে প্রতিষ্ঠানটি ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত ক্যাশব্যাক এবং কোটি কোটি টাকার ফ্রি পণ্যসহ বিভিন্ন ক্রেতাসুবিধার ঘোষণা দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নজরুল ইসলাম সরকার, এমদাদুল হক সরকার, ইভা রিজওয়ানা নিলু ও হুমায়ূন কবীর, প্লাজা ট্রেডের সিইও মোহাম্মদ রায়হান, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এস এম জাহিদ হাসান, প্রধান বিপণন কর্মকর্তা ফিরোজ আলম, হেড অব বিজনেস ইন্টেলিজেন্স আরিফুল আম্বিয়া, এসির চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) তানভীর রহমান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সের সিবিও সোহেল রানা, কিচেন অ্যাপ্লায়েন্সের সিবিও মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ঈদ উৎসবে দেশের যেকোনো ওয়ালটন প্লাজা, পরিবেশক শোরুম কিংবা অনলাইনে ই-প্লাজা থেকে ফ্রিজ, টিভি, এসি, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ব্লেন্ডার, গ্যাস স্টোভ, রাইস কুকার এবং ফ্যান কেনার সময় পণ্যটির ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করা হবে। এরপর ক্রেতার দেয়া মোবাইল নাম্বারে এসএমএস-এর মাধ্যমে ক্যাশব্যাকের পরিমাণ কিংবা ফ্রি পণ্য সম্পর্কে জানিয়ে দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট ওয়ালটন প্লাজা কিংবা শোরুম ক্রেতাদেরকে প্রাপ্ত ক্যাশব্যাক কিংবা ফ্রি পণ্য বুঝিয়ে দেবে।

এক্ষেত্রে ওয়ালটনের সংশ্লিষ্ট প্রতিটি পণ্যের ক্রেতা ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত ক্যাশব্যাক পাবেন। আর কোটি কোটি টাকার ফ্রি পণ্যের মধ্যে থাকছে ওয়ালটন ব্র্যান্ডের ফ্রিজ, টিভি, এসি, ওয়াশিং মেশিন, মোবাইল ফোন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ব্লেন্ডার, গ্যাস স্টোভ, রাইস কুকার, ফ্যান, আয়রন, এলইডি বাল্ব, এক্সটেনশন সকেট ইত্যাদি।

ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতিতে ক্রেতার নাম, মোবাইল নম্বর এবং বিক্রি করা পণ্যের মডেল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য ওয়ালটনের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে ওয়ারেন্টি কার্ড হারিয়ে ফেললেও দেশের যেকোনো ওয়ালটন সার্ভিস সেন্টার থেকে দ্রুত সেবা পাচ্ছেন গ্রাহক। অন্যদিকে সার্ভিস সেন্টারের প্রতিনিধিরাও গ্রাহকের ফিডব্যাক জানতে পারছেন।

আরও পড়ুন:
গেমিং স্মার্টফোন আনল ওয়ালটন
ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ২০ লাখ পেলেন আরও দুই ক্রেতা
ওয়ালটনের দ্বাদশ প্রজন্মের নতুন গেমিং ল্যাপটপ
ঈদে কম্পিউটার পণ্যে ওয়ালটনের বিশেষ সুবিধা
ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের বাজারে ওয়ালটনের নতুন মাইলফলক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
When will PK Haldar be brought back?

পি কে হালদারকে কবে ফিরিয়ে আনা যাবে

পি কে হালদারকে কবে ফিরিয়ে আনা যাবে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের হোতা পি কে হালদার। অলঙ্করণ: মামুন হোসাইন/নিউজবাংলা
বাংলাদেশের পলাতক আসামি পি কে হালদারকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে হলে বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় কতদিন লাগতে পারে, এ সম্পর্কে কেউ ধারণা দিতে পারছেন না। এর আগেও ভারত থেকে দুজন পলাতক আসামিকে ফিরিয়ে এনেছিল বাংলাদেশ। তবে এবার প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হতে পারে। কেননা জালিয়াতির অপরাধে আগে ভারতের আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে পি কে হালদারকে। 

ভারতে আটক আর্থিক কেলেঙ্কারির নায়ক প্রশান্ত কুমার হালদার বা পি কে হালদারকে কবে দেশে ফেরত আনা যাবে– তা বলতে পারছেন না কেউই। ভারতের অর্থ গোয়েন্দা সংস্থা তাকে গ্রেপ্তার করেছে নাগরিকত্ব সনদ জালিয়াতি, অবৈধভাবে অবস্থানসহ সে দেশে করা একাধিক অপরাধের দায়ে। ফলে সেসব মামলার বিচার ও শাস্তি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হতে পারে।

আবার কূটনীতিক ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যেই পি কে হালদারকে দেশে ফেরানো সম্ভব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পি কে হালদার বাংলাদেশের মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তি। তিনি ভারতে গ্রেপ্তার হলেও অফিসিয়ালি বিষয়টি আমাদের এখনও জানানো হয়নি। তাকে ফিরিয়ে আনতে আইনিভাবে যা করা প্রয়োজন, আমরা তা-ই করব। এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কাগজপত্র পাওয়ার পর ফিরিয়ে আনতে আইনি চেষ্টা অব্যাহত রাখব।

‘তিনি (পি কে হালদার) যেখানে আছেন, সেখানে কী করেছেন, সেখানকার আইনের মুখোমুখি হবেন কিনা– এসব বিষয় দেখার পর আমরাও তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত চাইব।’

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সোমবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারতে আটক পি কে হালদারের বিষয়ে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে কোনো কিছু এখনও জানায়নি। জানালে, দুই দেশের পূর্বনির্ধারিত নিয়ম মতো তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় নেয়া হবে। স্বরাষ্ট্র কিংবা পররাষ্ট্র যে কোনো মন্ত্রণালয়কে জানাতে পারে দেশটি।

‘পি কে হালদারের বিরুদ্ধে যেহেতু সে দেশেও মামলা চলমান, সে ক্ষেত্রে ভারতেও বিচার ও শাস্তি হতে পারে। পরে বাংলাদেশকে ফেরত দিলে এখানেও বিচার ও শাস্তি হবে। অথবা, ভারত বিচার শেষে বাংলাদেশকে দিলে এখানেও শাস্তি কার্যকর হতে পারে। যোগাযোগ না হওয়ায় এখনই সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।’

এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। পাশাপাশি দেশে তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জনগণের অর্থ ফিরিয়ে দেয়া হবে।

‘জালিয়াতির কারণে ভারতের আইনে তার বিচার হবে। তিনি মিথ্যা নাগরিকত্ব সনদ নিয়েছেন। জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন। আমাদের এখানে অর্থ পাচারের মামলাটা বিচারাধীন রয়ে গেছে। সেই মামলায় বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে তাকে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেশে থাকা অবৈধ সম্পদ এরই মধ্যে জব্দ করা হয়েছে। জনগণের টাকা জনগণকে ভাগ করে দেয়া হবে।’

সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান মনে করেন, পি কে হালদারকে দেশে ফেরত আনতে কোনো সমস্যা হবে না। তিনি বলেন ‘যে তথ্য-উপাত্ত তারা (ইডি) পাবে, সেগুলো বরং আমাদের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এখানে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যোগাযোগ করবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সঙ্গে সঙ্গে তাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দেবে। এটা আসলে এক দিনের ব্যাপার। যেহেতু তার বিরুদ্ধে সেখানে মামলা হয়েছে, সেগুলো নিষ্পত্তি করতে হবে। বন্দিবিনিময় চুক্তির সব প্রক্রিয়া শেষ হতে বড় জোর ছয় মাস সময় লাগবে।’

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, পি কে হালদারের বিরুদ্ধে মোট ৩৭টি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে ৩৬টি অর্থ পাচার ও একটি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন মামলা।

তিনি বলেন, ‘দুদকের করা এরই মধ্যে তিনটি মামলার তদন্তকাজ শেষ হয়েছে। অন্যগুলো চলমান। তাকে যদি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, সে ক্ষেত্রে দুদকের অনুমতি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

এদিকে দুদকের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘পি কে হালদারের একটি মামলার চার্জশিট হয়েছে। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারি করেছিলাম। আমরা ইতিমধ্যে ইন্টারপোল অথরিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারা আমাদের জানিয়েছেন যে, তারা ইতিমধ্যে ভারতের যে ইন্টারপোল অথরিটি রয়েছে, তাদের যে বডি রয়েছে এনসিবি, সেখানে যোগাযোগ করেছেন এবং ওই আসামিকে দ্রুত যাতে বাংলাদেশে ফেরত নিয়ে আসা যায় সেই বিষয়ে ভারতে ইন্টারপোলের কাউন্টারপার্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমরা আশা করছি যত দ্রুত সম্ভব সেটা করা হবে।

‘এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি লেখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যাতে যত দ্রুত সম্ভব আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করা যায়। আপনারা জানেন ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভারতে যে সম্পত্তির খবর আমরা পাচ্ছি, তার কিছু কিছু আমরা আগে জানতাম। আরও কিছু খবর আমরা জানছি। এ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করার জন্য বাংলাদেশের ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের কাছে আমরা অনুরোধ জানাব। পাশাপাশি ভারতে বাংলাদেশ দূতাবাসকেও আমরা অনুরোধ করব, তাদের মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব সেখানকার আদালত থেকে তথ্য সংগ্রহ করে যাতে আমাদের এখানে আনতে পারি। সেসব তথ্য নিয়ে নতুন করে সাপলিমেন্টারি চার্জশিট দেওয়ার বিষয়ে পরিবর্তিতে পদক্ষেপ নেব।

‘ইন্টারপোল খুব দ্রুত রিঅ্যাক্ট করেছে, তারা দ্রুতই আমাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় ইন্টারপোল বডির সাথে যোগাযোগ করে আসামিকে ফেরত আনার পদক্ষেপ নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতে যেহেতু তারা বেশ কিছু মামলা করেছে, হয়তো আরও মামলা করবে। দুই-একটা মামলায় রিমান্ডেও নিয়েছে। এখন আমাদের দিক থেকে প্রেশার ও চেষ্টা থাকবে, যত দ্রুত তাকে আমরা আমাদের দেশে নিয়ে আসতে পারি। সে জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের অনুরোধ ও চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

‘সেখান থেকে কতদিনের মধ্যে ফেরত আনা যায় সেটা স্পেসেফিক বলা কঠিন। সেখানে মামলা বা এর বিচার কতদিন লাগবে অথবা বিচারের আগেও ফেরত আনা যাবে কি যাবে না, এই বিভিন্ন বিষয়ের কারণে সময়ে বিষয়টি নির্দিষ্টি করে বলা যাবে না।’

এ দিকে, এরই মধ্যে গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ভারতের অর্থ গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) অন্তত ২২টি মামলায় পি কে হালদারসহ তার সহযোগীদের অভিযুক্ত করতে যাচ্ছে। তবে তাকে বাংলাদেশে ফেরানো সহজ করতে মামলার সংখ্যা কমাতে পারে ইডি।

বন্দি বিনিময় কতোটা সময়সাপেক্ষ

কূটনৈতিক সূত্র মতে, ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট থাকা আসামি হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনকে প্রাধান্য দিয়ে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট অ্যাক্ট, মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট, ফরেনার্স অ্যাক্টসহ ৮-১০টি মামলার আসামি হিসেবে প্রাথমিক অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারে ভারতীয় সংস্থাটি।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের দেয়া তথ্য মতে, পি কে হালদারকে দেশে ফেরাতে হলে আপাতত অপেক্ষা করতে হবে ভারতের আদালতে তার সবকটি মামলার বিচার ও সাজা ঘোষণা পর্যন্ত। এর পরই বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় সাজার মেয়াদ বাংলাদেশের জেল হেফাজতে পূরণ করার শর্তে দেশে ফেরানো যেতে পারে পি কে হালদারসহ বাকি ছয় অভিযুক্তকে।

সূত্র মতে, স্বাভাবিক নিয়মে অভিযোগপত্র হালকা করার কোনো সুযোগ নেই। তবে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে এই আসামিদের দেশে ফেরানোর ব্যাপারে বড় চাপ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা হলে হতে পারে অনেক কিছুই।

এর আগেও বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের আসামি নূর হোসেন, দিল্লির তিহার জেলে বন্দি থাকা বাদল ফারাজিকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে বাংলাদেশ। নূর হোসেনের ক্ষেত্রে অস্ত্র আইন ও ফরেনার্স অ্যাক্টের মামলা ছিল। যাবজ্জীবন সাজার আসামি বাদল ফারাজির ক্ষেত্রে ছিল সরাসরি খুনের অভিযোগ। দুই ক্ষেত্রেই ভারতের আদালতে ঘোষিত সাজার মেয়াদ বাংলাদেশে শেষ করতে হবে- এমন শর্তেই দুই আসামিকে ফেরত পেয়েছিল বাংলাদেশ।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খানের মতে, আদালতের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে আইনি পথেই দেশে ফেরানো সম্ভব হবে। অবৈধভাবে নাগরিকত্ব নেয়ার অভিযোগে ভারতে তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হলে সেটি সময় সাপেক্ষও হয়ে উঠতে পারে। পি কে হালদার অবৈধভাবে ভারতের পাসপোর্ট ও ভোটার আইডি কার্ড নিয়েছেন। ভারতের আইনে এটি গুরুতর অপরাধ। এই অপরাধে তার বিরুদ্ধে ভারতে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন রোববার সুপ্রিম কোর্টের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের বন্দি বিনিময় চুক্তির আলোকে পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। কারণ তিনি জনগণের টাকা পাচার করেছেন। ভারতে বিভিন্ন জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অবস্থান করে আসছিলেন। সেটা তাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমাদের যে অর্থপাচারের বিষয়টা, আর্থিক কেলেঙ্কারির বিষয়, সেটা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সেই মামলায় তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

‘নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বন্দিকে ফেরত আনতে হলে ভারতের কর্তৃপক্ষের কাছে বন্দিকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ অনুরোধ জানানো হয়। এরপর আদালতের কাছে সেই বন্দিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুমতি চাওয়া হয়। আদালত অনুমতি দিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ সেই বন্দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে।

‘বিএসএফ বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে বৈঠকের মাধ্যমে বন্দি হস্তান্তর করে। বিজিবির কাছ থেকে ওই ব্যক্তিকে গ্রহণ করে আদালতে হাজির করে বিচারের মুখোমুখি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

আরও পড়ুন:
পি কে হালদারকে ফেরাতে প্রক্রিয়া শুরু দুদকের
‘অভিযোগ ভিত্তিহীন, দেশে ফিরতে চাই’
পি কে হালদারের অর্থ পাচার সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সহায়তায়: মোশাররফ
পি কে হালদারকে দেশে আনা যাবে কবে
পি কে হালদারকে দেশে আনা নিয়ে রুলের শুনানি আজ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
In three years the revenue of Bangabandhu Satellite is 300 crore rupees

তিন বছরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আয় ৩০০ কোটি টাকা

তিন বছরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের আয় ৩০০ কোটি টাকা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের কেডেনি স্পেস সেন্টার থেকে। ছবি: সংগৃহীত
কোম্পানি জানায়, বিএসসিএলের এখন পর্যন্ত আয় ৩০০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। বর্তমানে কোম্পানির মাসিক আয় প্রায় ১০ কোটি টাকা, যার প্রায় পুরোটাই দেশীয় বাজার থেকে হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে এই আয় আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

উৎক্ষেপণের চার বছর অতিক্রম করেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। উৎক্ষেপণের পর তিন বছরে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট থেকে ৩০০ কোটি টাকার বেশি আয় হয়েছে। এখন দেশের বাজার থেকেই প্রতি মাসে আয় ১০ কোটি টাকার বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড।

দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট: তিন বছর আয় করতে পারেনি, খরচ উঠবে কবে’ শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে সেটি সঠিক তথ্যভিত্তিক নয় বলেও অভিযোগ তুলেছে বিএসসিএল।

বিএসসিএল এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার দাবি করেছে, ‘প্রতিবেদনটিতে কোম্পানির প্রকৃত ব্যবসায়িক চিত্র প্রতিফলিত হয়নি, ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।’

২০১৮ সালের ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয়। ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস স্যাটেলাইটটি তৈরি ও উৎক্ষেপণের দায়িত্বে ছিল। সব মিলিয়ে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠাতে বাংলাদেশের খরচ হয় ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে বিএসসিএল জানায়, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট তিন বছরে কোনো আয় করতে পারেনি কথাটি সঠিক নয়, বরং তিন বছর ধরেই আয়ের ধারায় রয়েছে কোম্পানি।

কোম্পানি জানায়, বিএসসিএলের এখন পর্যন্ত আয় ৩০০ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। বর্তমানে কোম্পানির মাসিক আয় প্রায় ১০ কোটি টাকা, যার প্রায় পুরোটাই দেশীয় বাজার থেকে হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে এই আয় আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

অবশ্য বিএসসিএল কোম্পানি গঠনের আগে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ থেকে সাত বছরে এর খরচ উঠে আসবে। সাধারণত এমন স্যাটেলাইটের আয়ু ধরা হয় ১৫ বছর। তবে এখনকার আয়ের ধারা অব্যাহত থাকলে তা সম্ভব হবে না।

বিএসসিএলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টিভি চ্যানেলসহ ৩৯টি টিভি চ্যানেল এবং দেশের একমাত্র ডিটিএইচ অপারেটর আকাশ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার করছে।

দেশের দুটি স্বনামধন্য ব্যাংক এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ব্যবহার করে তাদের এটিএম সেবা দেয়া শুরু করেছে। আরও অনেকগুলো সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলমান আছে, যারা অদূর ভবিষ্যতে চুক্তি স্বাক্ষর করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সেবার আওতায় আসবে বলে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ (আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন) বিএসসিএলের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এর আওতায় বাংলাদেশে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী এবং ডিজিএফআই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সেবার আওতায় আসবে। বাহিনীগুলো সম্মিলিতভাবে তিনটি ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে সেবা নেবে।

বাংলাদেশ সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে বিএসসিএল ৩১টি দুর্গম ও প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলের ১১২টি স্থানে টেলিযোগাযোগ সেবা দিচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে আরও বেশিসংখ্যক দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগণকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সেবার আওতায় আনা হবে বলে জানানো হয়।

জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সেবা নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং অনেকের সঙ্গেই আলোচনা চলছে। পর্যায়ক্রমে এই ব্যবসায়িক আলোচনা সফল হলে দেশীয় বাজারেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর বৃহৎ গ্রাহক তৈরি হবে এবং এর থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়ও সম্ভব হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটির সেবা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল নেপাল ও ফিলিপাইন। অবশ্য বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সে উদ্যোগে অনেকটাই ভাটা পড়ে।

চাহিদার তুলনায় বৈশ্বিক বাজারে স্যাটেলাইট ব্যান্ডউইথের সরবরাহ বেশি থাকায় এবং করোনার কারণে বিদেশের বাজারে বিপণন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এখন সে উদ্যোগ পুরোদমে শুরু হয়েছে বলে জানায় বিএসসিএল।

এখন দেশের বাজারে এর বিপণন বাড়াতেও কাজ করা হচ্ছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার শুরুর মাধ্যমে বিএসসিএল বিদেশের বাজারেও ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু করেছে। সামনে এটি আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা কোম্পানির।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ, জাতির উন্নয়ন ও গর্বের প্রতীক। এর ওপরে জাতির অগাধ বিশ্বাস রয়েছে। তাই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিয়ে যেকোনো নেতিবাচক সংবাদ জনগণকে বিভ্রান্ত ও মর্মাহত করে।

সরকারি মালিকানাধীন হলেও বিএসসিএল একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং প্রচলিত নিয়মকানুন মেনেই এটিকে সামনের দিকে এগোতে হবে। এটি বিবেচনায় রেখে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বা বিএসসিএলের অর্জনগুলোকে ইতিবাচকভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য সংবাদমাধ্যমগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে স্যাটেলাইট কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
মার্চে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সম্প্রচারে ৮ দিন বিঘ্ন
বঙ্গবন্ধুর নামে আরেক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে সমঝোতা স্মারক
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে সম্প্রচার বিঘ্ন ৮ দিন

মন্তব্য

উপরে