× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

অর্থ-বাণিজ্য
Opportunity to increase working capital credit limit in business
hear-news
player
print-icon

ব্যবসায় চলতি মূলধন ঋণসীমা বাড়ানোর সুযোগ

ব্যবসায়-চলতি-মূলধন-ঋণসীমা-বাড়ানোর-সুযোগ
গত ৩১ মার্চ চলতি মূলধন ঋণসীমা অন্তত ৪০ শতাংশ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন বা এফবিসিসিআই।

চলতি মূলধন ঋণসীমা বাড়ানোর সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ ঋণ সীমা বাড়াতে পারবে।

অর্থাৎ কোনো গ্রাহকের চলতি মূলধন ঋণসীমা যেটা নির্ধারণ করা থাকে, চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলো এখন ওই গ্রাহককে সীমার বেশি ঋণ দিতে পারবে।

তবে ঋণ ঝুঁকি বিবেচনা ও গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ায় এই পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব তফসিলী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালসহ বিভিন্ন উপকরণের মূল্য এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। এ কারণে ব্যাংকগুলোর চলতি মূলধন ঋণসীমার সর্বোচ্চ ব্যবহার সত্ত্বেও চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় কাঁচামালের মূল্য পরিশোধসহ উৎপাদন কার্যক্রম করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে উৎপাদন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমদানি-রপ্তানিসহ চলমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে, উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রাখা এবং আমদানি-রপ্তানিসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা বজায় রাখার জন্য চলতি মূলধন ঋণসীমা প্রয়োজন অনুযায়ী যৌক্তিক পর্যায়ে বৃদ্ধির জন্য নির্দেশনা পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ৩১ মার্চ চলতি মূলধন ঋণসীমা অন্তত ৪০ শতাংশ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন বা এফবিসিসিআই।

চিঠিতে এফবিসিসিআই জানায়, করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালসহ অন্যান্য পণ্যের মূল্য ও জাহাজ ভাড়া প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কাঁচামাল, শিপিং, যাবতীয় লেনদেন চার্জসহ অন্যান্য খরচ বাড়ার কারণে দেশের উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটছে।

কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে ব্যবসায়ীদের ঋণসীমা উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। ফলে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক উভয়ই স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারছেন না। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মূলধন সীমা বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ জরুরি।

আরও পড়ুন:
ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ঋণের সুদ মওকুফ নয়
তিন বছরের জন্য কৃষি ঋণ পুনঃতফসিলে সুযোগ
ডলার বিক্রি করেও দামে লাগাম পরানো যাচ্ছে না
পুনঃতফসিল ঋণ আদায় ছাড়া সুদ আয় খাতে নয়
জাল নোট প্রতিরোধে ভিডিও প্রচারের নির্দেশ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
BGMEA request not to increase gas and electricity prices

গ্যাস-বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর অনুরোধ বিজিএমইএ’র

গ্যাস-বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর অনুরোধ বিজিএমইএ’র
বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘এই মুহূর্তে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হলে তা পোশাক শিল্পের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলবে।’

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ এই মুহূর্তে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম না বাড়াতে সরকারকে অনুরোধ করেছে।

সংগঠনটি বলেছে, এখন গ্যাস-বিদ্যুতের দাম না বাড়ানো হলে শিল্প, অর্থনীতি এবং দেশের মানুষের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বুধবার এই অনুরোধ জানিয়ে সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী নসরুল হামিদের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন।

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘যদিও কোভিড-১৯ মহামারির কারনে সৃষ্ট বিশাল প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে পোশাক শিল্প পুনরুদ্ধারের পথে ফিরে এসেছে, তথাপি শিল্পটি বর্তমানে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুক্ষীণ হচ্ছে। পোশাক শিল্প ইতোমধ্যেই কাঁচামাল সংকট, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, কনটেইনার ও জাহাজ ভাড়া অস্বাভাবিক বৃদ্ধি প্রভৃতি চাপের মধ্যে রয়েছে।’

‘এই মুহূর্তে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হলে তা পোশাক শিল্পের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলবে। কারন এতে করে শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। যার ফলশ্রুতিতে শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা হ্রাস পাবে।’

‘কঠিন এই সময়ে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম না বাড়ানো হলে কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পোশাক শিল্পের পুনরুদ্ধারকে বাধাগ্রস্ত করবে’ উল্লেখ করে ফারুক হাসান চিঠিতে আরও লিখেছেন, ‘চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, আবার বাংলাদেশি পোশাকের প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপের বেশ কিছু দেশে অর্থনৈতিক মন্দার আশংকাও বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ফলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় পোশাকের বাজারে চাহিদার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।’

‘গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি শুধুমাত্র যে পোশাক শিল্পের উপরই প্রভাব ফেলবে তা নয়। বরং এটি জনগণের উপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। এর ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী ও পরিষেবাগুলোর মূল্য বেড়ে যাবে। এ পরিস্থিতিতে মূল্যষ্ফীতির চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।’

চিঠিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য না বাড়ানোর জন্য সরকারকে অনুরোধ জানান বিজিএমইএ সভাপতি।

আরও পড়ুন:
উৎসে কর ৫ বছর বহালের প্রস্তাব পোশাক মালিকদের

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
If the complaint is not settled within 7 days action will be taken against the courier

৭ দিনে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হলে কুরিয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

৭ দিনে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হলে কুরিয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা মতবিনিময় সভায় কুরিয়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ছবি: নিউজবাংলা
ভোক্তার ডিজি বলেন, ‘কুরিয়ারে পণ্য হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া সেবার মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা হয় না। প্রতিশ্রুত সময়ে পণ্য পায় না ভোক্তা। এক্ষেত্রে নানান যুক্তি দেয়া হয়।’

‘নাস্তা’র চাহিদা দিয়ে সকাল ৮টায় খাবার অর্ডার করি। দেড় ঘণ্টা পর সাড়ে ১০টায় জানানো হয়, অনেক চাপ এখন খাবার সরবরাহ করা সম্ভব না।’

পণ্য সরবরাহে নিজের এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান।

বুধবার বিকেলে ভোক্তা অধিদপ্তরের কার্যালয়ে কুরিয়ার সার্ভিস পরিচালনাকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় তিনি এমন কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, অভিযোগ আছে, পণ্য সরবরাহে বেশি অর্থ নেয়া হয়। সহনীয় চার্জ ধার্য করতে হবে। সভায় কুরিয়ার সার্ভিসের সেবার মানের দিকটি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

এ সময় কুরিয়ার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের সভাপতি হাফিজুর রহমান পুলক ছাড়াও বেশ কয়েকটি কুরিয়ার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ভোক্তা অধিকারের মহাপরিচালক সফিকুজ্জামান বলেন, ‘কোনো কুরিয়ার সার্ভিসের সেবা নিয়ে অসন্তুষ্টি থাকলে তা ভোক্তা আগে সেই কুরিয়ারে অভিযোগ জানাতে হবে। সাত দিনের মধ্যে যদি প্রতিকার না মেলে তখন ভোক্তা আমাদের কাছে অভিযোগ করলে খতিয়ে দেখা হবে। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কুরিয়ার সেবা নিয়ে অভিযোগ আগের চেয়ে এখন কিছুটা কমেছে জানিয়ে ভোক্তার ডিজি বলেন, ‘কুরিয়ারে পণ্য হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া সেবার মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা হয় না। প্রতিশ্রুত সময়ে পণ্য পায় না ভোক্তা। এক্ষেত্রে নানান যুক্তি দেয়া হয়।’

হাফিজুর রহমান পুলক বলেন, ‘সামনে আম-কাঠাল আসবে। কিন্তু যানজটের কারণে প্রতিশ্রুত সময়ে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হয় না। ফলে পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে দায় কার?’

ভোক্তার ডিজি বলেন, ‘আম যদি পচে যায় সে ক্ষেত্রে যেখান থেকে পাঠানো হবে, সেখান থেকেই যাচাই করতে হবে। ঢাকায় পৌঁছাতে পচে যাবে কিনা সেটা দেখতে হবে।’

অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ১৬০ জন হলেও ৭৮ জন লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছে। বাকিগুলো প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।

ইকুরিয়ারের সিইও বিপ্লব ঘোষ রাহুল বলেন, ‘ঢাকার বাইরে ক্রেতারা ডেলিভারির ক্ষেত্রে খুব সমস্যায় ফেলে। বলেন, আজ না কাল আসেন। কিছু কাস্টমার প্রতারকও। এতে কুরিয়ার কোম্পানির ডেলিভারিতে ভোগান্তি হয়। ঢাকার বাইরে ১০ দিনের ডেলিভারি দেয়ার নিয়ম আছে।’

সভায় ই-কমার্স পলিসিতে কুরিয়ার কোম্পানিকে বিমার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু এখনো কোনো বিমা কোম্পানি নেই যারা কুরিয়ারকে সহযোগিতা করবে।

এসএ পরিবহন কুরিয়ারের জেনারেল ম্যানেজার মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘আম-লিচুর সময়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডেলিভারি দিতে চাই। কিন্তু চাপাইনবাবগঞ্জ, খাগড়াছড়ি এলাকায় রেটের বিষয় নিয়ে ভোক্তা আইনের কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দেয়ালে সেবার রেট টানানো থেকে অব্যাহতি চাই।’

তিনি বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালত অহেতুক জরিমানা করে ভোক্তা অধিদপ্তরের নামে। এখানে আপিলের সুযোগ নেই। বেসরকারি সার্ভিস ভালো হওয়ার কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় অচল হয়ে গেছে।’

এ জন্য অহেতুক জেল জরিমানা না করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোক্তা অধিদপ্তরের আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধ হোক।’

কুরিয়ার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভোক্তা অভিযোগ করলে জরিমানার ২৫ শতাংশ পান অভিযোগকারী। এ জন্য অনেকে এখন এটা পেশা হিসেবে নিয়েছে। বলা হয়, লাইসেন্স নিতে লাখ লাখ টাকা লাগে। অনেকের এই ফি দেয়ার সামথ্য নেই। পোস্ট অফিসের সার্ভিস চার্জ, কুরিয়ার থেকে বেশি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘কুরিয়ার সেবা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। সমস্যা চিহ্নিত করে সেটা সমাধানে কাজ করতে হবে। একটা অভিযোগ সেল গঠন করা যেতে পারে।’

জানান, যেসব চার্জ নেয়া হয়, তা যৌক্তিক হতে হবে।

ভোক্তার ডিজি জানান, প্রায় অভিযোগ আসে কুরিয়ারে নিষিদ্ধ পণ্য আনা নেয়া করা হয়। কর্তৃপক্ষের উচিত যেখান থেকে পাঠানো হচ্ছে, ভালোভাবে সেখানে যাচাই করা।

কুরিয়ার সেবাকে একটা কাঠামো দাঁড় করানোর আশ্বাস দিয়ে বলা হয়, এখন ক্যাশ অন ডেলিভারি সেবা চালু হয়েছে। ই-কমার্স একটা বিজনেস আইডি নিয়ে ব্যবসা করছে। একটা অ্যাপ শিগগিরই চালু হবে যার মাধ্যমে কাস্টমার এখানে অভিযোগ করতে পারবে।

আরও পড়ুন:
ই-কমার্স: আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার নির্দেশ
ই-কমার্স খাতকে এগিয়ে নিতে নতুন উদ্যোগ ‘দ্য চেঞ্জ মেকারস’
ই-কমার্স: পুলিশকে তালিকা দেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
ইভ্যালি গ্রাহকের মামলা: তাহসান-মিথিলা-ফারিয়াকে অব্যাহতি
গেটওয়ের টাকা ফেরতে গড়িমসি, এপ্রিলেই আইনি ব্যবস্থা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
There are now 161 green garment factories in the country

দেশে সবুজ পোশাক কারখানা এখন ১৬১টি

দেশে সবুজ পোশাক কারখানা এখন ১৬১টি ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরের নিজামনগর এলাকায় অবস্থিত পোশাক কারখানা আমান গ্রাফিক্স অ্যান্ড ডিজাইনস লিমিটেড।
বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘পোশাক খাতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর আমরা শিল্পটিকে পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ নিই। গত এক দশকে আমাদের উদ্যোক্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নিরাপত্তা খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় এবং সরকার-ক্রেতা-উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় আজ বাংলাদেশের পোশাকশিল্প একটি নিরাপদ শিল্প হিসেবে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে।’

করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও রপ্তানিতে চমক দেখিয়ে চলেছে বাংলাদেশ; সেই সঙ্গে বেড়ে চলেছে পরিবেশবান্ধব সবুজ পোশাক কারখানার সংখ্যা।

১০ বছর আগে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্পে পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানার সংখ্যা ছিল মাত্র একটি। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে ১৬১টিতে দাঁড়িয়েছে। যা এই খাতের রপ্তানি বাড়াতে অবদান রাখছে বলে জানিয়েছেন রপ্তানিকারকরা।

সোমবার পরিবেশসম্মত সবুজ কারখানার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন বা লিড সনদ পেয়েছে আরও একটি পোশাক কারখানা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) এ সনদ দেয়।

মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডায়িং নিট ফ্যাক্টরি-২ নামে নতুন সনদ পাওয়া কারখানাটি ঢাকা অঞ্চলের। ক্যাটাগরি গোল্ড।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সবুজ পোশাক কারখানা এখন বাংলাদেশে। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ইউএসজিবিসি ১৬১টি কারখানাকে এই স্বীকৃতি দিয়েছে।

পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা সাজ্জাদুর রহমান মৃধার হাত ধরে ২০১২ সালে প্রথম পরিবেশবান্ধব কারখানার যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশে। পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডে তিনি স্থাপন করেন ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও। তার দেখানো পথ ধরেই দেশে একটার পর একটা পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা গড়ে উঠছে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হয়ে ওঠেন দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। ২০১৪ সালে সবুজ কারখানা স্থাপন করা হয় ৩টি। ২০১৫ সালে হয় ১১টি। ২০১৬, ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে স্থাপন করা হয় যথাক্রমে ১৬, ১৮ এবং ২৪টি।

২০১৯ সালে আরও ২৮টি সবুজ পোশাক কারখানা স্থাপন করেন পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। ২০২০ ও ২০২১ সালে ২৪টি করে আরও ৪৮টি কারখানা গড়ে উঠেছে দেশে।

আর এভাবেই সব মিলিয়ে দেশে মোট পরিবেশবান্ধব সবুজ পোশাক কারখানার সংখ্যা এখন ১৬১টিতে দাঁড়িয়েছে।

পিছিয়ে নেই অন্যরাও। শিপইয়ার্ড, জুতা ও ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাণেও আছে পরিবেশবান্ধব কারখানা। বাণিজ্যিক ভবনও হচ্ছে। তবে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বর্তমানে বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি পরিবেশবান্ধব পোশাক ও বস্ত্রকল রয়েছে।

দেশে ১৬১টি পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা হলেও সেগুলো কিন্তু যেনতেন মানের না। উদাহরণ দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। বিশ্বে জিনস বা ডেনিম কাপড় উৎপাদন করার প্রথম পরিবেশবান্ধব কারখানা বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকায় এনভয় টেক্সটাইল। নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে রেমি হোল্ডিংস, সারা বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা। আবার নারায়ণগঞ্জের উত্তর নরসিংহপুরের প্লামি ফ্যাশনস, নিট পোশাক তৈরি করা বিশ্বের প্রথম ও শীর্ষ নম্বর পাওয়া পরিবেশবান্ধব কারখানা।

দেশে সবুজ পোশাক কারখানা এখন ১৬১টি

বিশ্বের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। তাদের মধ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল-ইউএসজিবিসি। তারা ‘লিড’ নামে পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। লিডের পূর্ণাঙ্গ রূপ লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন। সনদটি পেতে একটি প্রকল্পকে ইউএসজিবিসির তত্ত্বাবধানে নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ মান রক্ষা করতে হয়। ভবন নির্মাণ শেষ হলে কিংবা পুরোনো ভবন সংস্কার করেও আবেদন করা যায়।

১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউএসজিবিসি। সংস্থাটির অধীনে কলকারখানার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভবন, স্কুল, হাসপাতাল, বাড়ি, বিক্রয়কেন্দ্র, প্রার্থনাকেন্দ্র ইত্যাদি পরিবেশবান্ধব স্থাপনা হিসেবে গড়ে তোলা যায়।

লিড সনদের জন্য ৯টি শর্ত পরিপালনে মোট ১১০ পয়েন্ট আছে। এর মধ্যে ৮০ পয়েন্টের ওপরে হলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০-৭৯ হলে ‘লিড গোল্ড’, ৫০-৫৯ হলে ‘লিড সিলভার’ এবং ৪০-৪৯ হলে ‘লিড সার্টিফায়েড’ সনদ মেলে।

সংস্থাটির ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, গত সোমবার পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৬১টি স্থাপনা লিড সনদ পেয়েছে। তার মধ্যে লিড প্লাটিনাম ৪৮টি, গোল্ড ৯৯টি, সিলভার ১০টি এবং ৪টি সার্টিফায়েড সনদ পেয়েছে।

বর্তমানে ৫০০-এর বেশি প্রকল্প পরিবেশবান্ধব হতে ইউএসজিবিসির অধীনে কাজ চলছে।

সাধারণত অন্যান্য স্থাপনার চেয়ে পরিবেশবান্ধব স্থাপনায় ৫-২০ শতাংশ খরচ বেশি হয়। তবে বাড়তি খরচ করলেও দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যায়। ইউএসজিবিসি লিড সনদ পেতে স্থাপনা নির্মাণে ৯টি শর্ত পরিপালন করতে হয়। তার মধ্যে আছে এমন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করতে হয়, যাতে কার্বন নিঃসরণ কম হয়। এ জন্য পুনরুৎপাদনের মাধ্যমে তৈরি ইট, সিমেন্ট ও ইস্পাত লাগে। বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সূর্যের আলো, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বাতি ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পাশাপাশি পানি সাশ্রয়ী কল ও ব্যবহৃত পানি প্রক্রিয়াজাত করে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করতে হয়।

এ ছাড়া স্থাপনায় পর্যাপ্ত খোলা জায়গা রাখার বাধ্যবাধকতা আছে। সব মিলিয়ে পরিবেশবান্ধব স্থাপনায় ২৪-৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ, ৩৩-৩৯ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ এবং ৪০ শতাংশ পানি ব্যবহার কমানো সম্ভব। তার মানে দেশে পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সংখ্যা যত বেশি হবে, ততই তা পরিবেশের ওপর চাপ কমাবে।

পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তৈরি পোশাক উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে সবার থেকে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ৷ এই উদ্যোগ শিল্প ও দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা বাড়াতে সবুজ ভবনে বিনিয়োগ করছেন আমাদের উদ্যোক্তারা।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্যোক্তাদের দূরদর্শিতা ও প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও উদ্যোগের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। সবুজ শিল্পায়নে এই সাফল্যের জন্য ইউএসজিবিসি পৃথিবীর প্রথম ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন হিসেবে ২০২১ সালে বিজিএমইএকে লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে।’

ফারুক হাসান বলেন, ‘পোশাক খাতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর আমরা শিল্পটিকে পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ নিই। গত এক দশকে আমাদের উদ্যোক্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, নিরাপত্তা খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় এবং সরকার-ক্রেতা-উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় আজ বাংলাদেশের পোশাকশিল্প একটি নিরাপদ শিল্প হিসেবে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে।’

‘পরিবেশ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা শিল্পে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের এই উদ্যোগ ও অর্জন বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।’

‘এই যে এখন আমাদের রপ্তানিতে সুবাতাস বইছে, তাতে সবুজ কারখানাগুলো বড় অবদান রাখছে। এখন বিশ্বে আমাদের পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি৷ এটা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বলে আমি মনে করি।’

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৪৩ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৩৫ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে এই খাত থেকে রপ্তানি বেড়েছে ৩৬ শতাংশ।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই ১০ মাসে মোট রপ্তানির ৮১ দশমিক ৫৮ শতাংশই এসেছে পোশাক থেকে।

গত ২০২০-১১ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
এখন ২০% মূল্য সংযোজনেই মিলবে প্রণোদনা
বেতন-বোনাস দিয়েছে শতভাগ কারখানা: বিজিএমইএ
পোশাকশিল্প এলাকায় ব্যাংক খোলা আজ
টাঙ্গাইল তাঁতপল্লিতে বৈশাখে মন্দা, ঈদে চাঙার আশা
এবার রপ্তানিতে চমক বিশেষায়িত টেক্সটাইল খাতের

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Almond sesame paddy lost farmers have drowned in the flood waters

ঢলের পানিতে ডুবেছে বাদাম-তিল-ধান, দিশেহারা কৃষক

ঢলের পানিতে ডুবেছে বাদাম-তিল-ধান, দিশেহারা কৃষক ফরিদপুরে পানিতে ডুবে যাওয়া অপরিপক্ব বাদাম তুলছেন এক কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. হযরত আলী বলেন, ‘হঠাৎ করে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। এতে বাদাম, তিল ও ধানের কিছু ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বাদাম পরিপক্ব না হলেও খেতে পানি ঢোকার কারণে তুলে ফেলতে হচ্ছে; এতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

উজানের ঢলের পানির প্রভাব পড়েছে ফরিদপুরের নিম্নাঞ্চলেও। ঢলে বেড়েছে পদ্মা নদীর পানি। ফলে চরাঞ্চলের বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ভাঙন দেখা দিয়েছে বিভিন্ন স্থানে।

কয়েকদিনের হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে কৃষকের বিভিন্ন ফসল ডুবে গিয়েছে। অন্য বছর সাধারণত নদীতে এই সময় স্বাভাবিক পানি থাকে। তাই কৃষকরা চরাঞ্চলে করেছিলেন বিভিন্ন ফসলের চাষ।

আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে চরাঞ্চলের বাদাম, তিল ও ধান ক্ষেত ডুবিয়ে দিয়েছে। বাধ্য হয়ে কৃষকেরা অপরিপক্ব অনেক ফসল ঘরে তুলছেন।

পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে ইতোমধ্যেই তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলের শতাধিক একর বিভিন্ন জমির ফসল। এর মধ্যে বেশিরভাগই বাদাম ও তিল। তবে কয়েকদিনের মধ্যে যে ধান কেটে তোলার কথা ছিল কৃষকের, সেগুলোও ডুবেছে উজানের ঢলের পানিতে।

বুধবার গোয়ালন্দ পয়েন্টে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ লিডার সালমা খাতুন জানান, গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার পানি বুধবার ৩ সেন্টিমিটার কমে ৬ দশমিক ৮২ সেন্টিমিটার সীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। যা মঙ্গলবার ছিল ৬ দশমিক ৮৫ সেন্টিমিটার।

গত ১৯ মে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নদীতে পানি বৃদ্ধি পায় ৮০ সেন্টিমিটার, ২০ মে বৃদ্ধি পায় ৪৬ সেন্টিমিটার, ২১ মে ২৪ সেন্টিমিটার, ২২ মে ১১ সেন্টিমিটার, ২৩ মে ৮ সেন্টিমিটার ও ২৪ মে ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়।

সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুর সদর উপজেলার পদ্মার নিম্নাঞ্চল ডিক্রিরচর ইউনিয়নের পালডাঙ্গি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বাদাম ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষক অপরিপক্ক বাদাম তুলছেন।

এ ছাড়া ধান ও তিলও তুলতে দেখা যায়। নদীর অন্য প্রান্তেও তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত।

পালডাঙ্গি এলাকার কৃষক রমজান আলী ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি আট বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছিলাম। ৪-৫ দিন পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে সব জমির বাদাম তলিয়ে গেছে। আর মাত্র ১৫ দিন থাকলে বাদাম পরিপক্ব হয়ে যেতো। কিন্তু এখন বাদাম তুলে ফেলতে হচ্ছে। এই বাদাম এখনও পরিপক্ব হয়নি। তুলে নিয়ে গরু, ছাগলকে খাওয়াব। অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।’

সুফিয়া বেগম নামের একজন বলেন, ‘এক একর জমিতে বাদাম চাষ করেছিলাম। আবাদ করতে খরচ হয়েছিল ৩০ হাজার টাকা। এই বাদাম বিক্রি করেই আমাদের সারা বছরের সংসার খরচ চলে, কিন্তু এ বছর সব শেষ হয়ে গেল। গত কয়েকদিন পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অপরিপক্ক বাদাম তুলে ফেলতে হচ্ছে। এই বাদাম গরুকে খাওয়ানো ছাড়া আর কিছুই করা যাবে না।’

নিজের কষ্টের কথা বলছিলেন আরেক কৃষক শেখ জুলমত হোসেন। তিনি বলেন, ‘১০ বিঘা জমিতে বাদাম ও তিল আবাদ করেছিলাম। আর দশটা দিন থাকলে ভালোভাবে ফসল ঘরে উঠাতে পারতাম। পানি বৃদ্ধির ফলে এখনই তুলে ফেলতে হচ্ছে। শুধু আমাদের এলাকা নয়, চরাঞ্চলে যারা আবাদ করেছিল সবারই একই অস্থা হয়েছে।

মুরাদ হোসেন নামের এক কৃষক বলেন, ‘চরাঞ্চলের মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম মাধ্যম বাদাম চাষ। আর এই বাদাম চাষ করেই যা রোজগার হয় তা দিয়েই সারা বছরের সংসার চলে। কিন্তু হঠাৎ করে পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় ফসল নষ্ট হয়ে গেলো। অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা পেলে এই কৃষকেরা বেঁচে থাকতে পারবে।’

ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান মিন্টু বলেন, ‘হঠাৎ করেই উজান থেকে নেমে আসা পানিতে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল। আমার ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকাই চরাঞ্চলবেষ্টিত। এখানে বসবাসরত বেশিরভাগ বাসিন্দারাই বাদাম চাষ করে। পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ বাদাম ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বাদাম অপরিপক্ব অবস্থায় তুলে ফেলতে হচ্ছে। কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ওদের অন্যতম আয়ের উৎস এই বাদাম।’

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর পাঁচ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে বাদাম আবাদ হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ হাজার ৩৭৪ হেক্টর জমিতে তিল ও ২২ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে চরাঞ্চলে বাদাম ও তিল আবাদ হয়েছে বেশি।

মঙ্গলবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে ১০৯ হেক্টর জমি সম্পূর্ণভাবে এবং ১৯৪ হেক্টর জমির ফসল আংশিকভাবে পানিতে ডুবে গেছে।

অধিদপ্তর জানায়, পানি বাড়ায় সবচেয়ে বেশি ফসলি জমি ডুবেছে চরভদ্রাসন উপজেলায়। এই উপজেলার চার ইউনিয়নে ৫১ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ১৭ হেক্টর জমির চীনা বাদাম, ৭ হেক্টর বোরো ধান ও ১১ হেক্টর বোনা আউশ, ৮ হেক্টর ভুট্টা এবং ৮ হেক্টর জমির তিল ডুবে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. হযরত আলী বলেন, ‘হঠাৎ করে পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। এতে বাদাম, তিল ও ধানের কিছু ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বাদাম পরিপক্ব না হলেও খেতে পানি ঢোকার কারণে তুলে ফেলতে হচ্ছে; এতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে সরকারিভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করার আশ্বাস দেন তিনি।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, ‘পদ্মার পানি আজ থেকে কমতে শুরু করেছে। এর আগে ১০ দিনে দুই মিটারের বেশি পানি বেড়েছে।’

আরও পড়ুন:
ট্রেনে কাটা পড়ে কোল কৃষকের মৃত্যু
৭২ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তা
তিড়িং পোকা কাটছে পাতা-ডগা
ঘূর্ণিঝড় আসানি: আধাপাকা ধান কাটছেন চাষি
আগুনে পুড়ল কৃষকের সম্বল

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The tree is the jackfruit of rotting potential

গাছেই পচে সম্ভাবনার কাঁঠাল

গাছেই পচে সম্ভাবনার কাঁঠাল ঠাকুরগাঁওয়ে গাছে গাছে ঝুলছে কাঁঠাল। ছবি: নিউজবাংলা
ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবু হোসেন বলেন, ‘জেলায় প্রচুর পরিমাণে কাঁঠালের উৎপাদন হয়। এ অঞ্চলে কাঁঠাল সংরক্ষণ কেন্দ্র হলে অনেক কারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।’ 

ঠাকুরগাঁওয়ে অধিকাংশ বাড়ির উঠানে ও আশপাশের এলাকাজুড়ে দেখা মেলে অসংখ্য কাঁঠালগাছ। প্রতি বছরই গাছভর্তি কাঁঠাল হলেও এর ন্যায্য দাম পান না মালিকরা। তাই সস্তায় বিক্রি না করে বাধ্য হয়ে কাঁঠাল গবাদিপশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করেন।

অনেক সময় অযত্নে বেড়ে ওঠা কাঁঠাল পচে যায় গাছে। অনেকগুলো আবার পেকে গাছ থেকে খসে পড়ে নষ্ট হয়।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও ব্যাপক ফলন হয়েছে কাঁঠালের। দফায় দফায় শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী আম, লিচুসহ অন্যান্য ফলের ওপর আঘাত হানলেও কাঁঠালের কোনো ক্ষতি হয়নি। তাই প্রায় সব গাছের ডালে ডালে ঝুলতে দেখা গেছে কাঁঠাল।

এ সময় কথা হয় হরিপুর উপজেলায় কাঁঠালডাঙ্গী গ্রামের ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার বাড়িতে কাঁঠালের ১০টি বড় গাছ। এ বছরও অনেক ফলন হয়েছে। ২০ দিনের মধ্যে পাকতে শুরু করবে। কিন্তু প্রতি বছরই দু-একটি খাওয়া হলেও অধিকাংশ পেকে, পড়ে নষ্ট হয়। সেগুলো পরে গবাদিপশুকে খাওয়াই।

‘পাইকাররা প্রতি কাঁঠালের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বলে। এবার ফলন আরও বেশি হওয়ায় দাম আরও কম বলবে। তাই কাঁঠাল বেচার চেয়ে গবাদিপশুকে খাওয়ানো ভালো।’

গাছেই পচে সম্ভাবনার কাঁঠাল

সদর উপজেলা মথুরাপুর এলাকার গৃহবধূ আনসুরা বেগম বলেন, ‘বাড়ির পাশে কাঁঠালগাছের পাতা সারা বছর ছাগলকে খাওয়ায়। পচা-ভালো সব কাঁঠালই ছাগল ও গরুকে খাওয়াই, তবে এর বিঁচি সংগ্রহ করি। এগুলো কয়েক মাস তরকারি হিসেবে খাওয়া যায়।’

একই গ্রামের নারী মমিনা খাতুন মনে করেন ঠাকুরগাঁওয়ে যে পরিমাণ কাঁঠাল উৎপাদন হয় তা অন্য কোনো জেলায় হয় না।

তিনি বলেন, ‘কাঁঠাল দেশের জাতীয় ফল। অথচ এর কোনো কদর নেই। সারা বছর ফলটি কীভাবে সংগ্রহ করা যায় বা আমের মতো গুরুত্ব পায়, সে উদ্যোগ নেয় না কৃষি বিভাগ।’

কৃষক আতাউর রহমান বলেন, ‘জেলার কাঁঠালের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ কাঁঠালে কোনো ঝুঁকি নেই। তবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে বছরজুড়ে মানুষ এর ন্যায্য দাম পাবে।’

গতবারের তুলনায় এ বছর কাঁঠালের আরও বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার কাঁঠালের পাইকারি ব্যবসায়ী পয়গাম আলী। তিনি জানান, এ বছর এখনও কাঁঠাল কেনা শুরু হয়নি, তবে দু-একজন গাছ বা বাগান কিনে রাখছেন। ২০-২৫ দিনের মধ্যে কাঁঠাল কিনবেন ব্যবসায়ীরা।

গ্রাম ঘুরে ঘুরে বাড়ি ও বাগান থেকে সুলভ মূল্যে কাঁঠাল কেনেন ব্যবসায়ী পয়গাম। কিন্তু জেলায় চাহিদা না থাকায় সে কাঁঠাল পাঠান দক্ষিণাঞ্চলে। এতে গাড়ি ভাড়া অনেক বেশি খরচ হয়। অনেক সময় পথেই পচে যায় কাঁঠাল। এতে মোটা অঙ্কের লোকসান গুনতে হয় তাকে। অনেক ব্যবসায়ী লোকসানে পড়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন বলে জানান এ ব্যবসায়ী।

তিনি বলেন, ‘এ বছর কাঁঠাল আরও বেশি পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

ঠাকুরগাঁও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, ‘জেলার অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে কাঁঠালে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এই অঞ্চলে কাঁঠাল সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গাছ মালিকরা কাঁঠালের ন্যায্য দাম পাবেন। তখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ হবে কাঁঠালের।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলায় ২৫০ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের গাছ রয়েছে। তবে এর বেশিও হতে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা আবু হোসেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবু হোসেন জানান, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের কাঁঠাল সংরক্ষণবিষয়ক গবেষণা করছে বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউটের ফল গবেষণা কেন্দ্র। কাঁঠাল দিয়ে কয়েকটি পণ্য উৎপাদন নিয়ে তারা গবেষণা করছেন, যেন কাঁঠালের পণ্যগুলো সারা বছর পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রচুর পরিমাণে কাঁঠাল উৎপাদন হয়। এ অঞ্চলে কাঁঠাল সংরক্ষণ কেন্দ্র হলে অনেক কারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
কাঁঠালের দই আইসক্রিমে বিনিয়োগ করে দ্বিগুণ লাভ
যেভাবে আম-কাঁঠাল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করবেন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Increased tariffs on foreign fruits are good for domestic fruits

বিদেশি ফলে বাড়তি শুল্ক, দেশি ফলের সুদিন

বিদেশি ফলে বাড়তি শুল্ক, দেশি ফলের সুদিন বাজার ভর্তি দেশি ফল। ছবি: নিউজবাংলা
দেশি ফলের যখন ভরা মৌসুম, সে সময় বিদেশি ফল আমদানির ওপর শুল্ক বাড়ল। এতে বাজারে বিদেশি ফলের দাম বাড়বে। তবে দেশি ফলের জন্য এটা সুখবর বলে মনে করা হচ্ছে। তাছাড়া দেশে-বিদেশি ফলের চাষ এতে উৎসাহিত হবে।   

দেশে যেসব ফল উৎপাদন হয় তার প্রায় ৬০ ভাগ উৎপাদিত হয় জুন-জুলাই ও আগস্ট মাসে। তরমুজের মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই বাজারে গড়িয়েছে সুস্বাদু লিচু। আমও আসতে শুরু করেছে। এ ছাড়া কাঁঠাল, পেয়ারা, আমড়া, জামরুল, আমলকী, বরই, পেঁপে, কলা ও আনারসেরও দেখা মিলছে।

বাজারে দেশি ফলের ভরা মৌসুম থাকবে আরও তিন মাস।

ঠিক এ রকম সময়ে সরকার বিদেশি ফল আমদানির ওপর শুল্ক বাড়িয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে দেশের রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখতে এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রতি বছর দেশে ফল আমদানির পেছনে চলে যায় গড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার মতো।

এই আকালের দিনে বিদেশি মুদ্রা দেশের বাইরে যাওয়া ঠেকাতে সরকার অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি সব ধরনের ফল আমদানিকেও নিরুৎসাহিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে।

এত দিন বিদেশি ফল আমদানিতে যে পরিমাণ শুল্ক ধার্য ছিল, তার চেয়ে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বা রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি) আরোপ করা হয়েছে। এত দিন এই নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কহার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ।

মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বাড়তি শুল্ক আরোপ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির দিন থেকেই তা কার্যকর হবে।

এনবিআর বলেছে, দেশে উৎপাদিত ফল খাওয়াকে উৎসাহিত করতে বিদেশি ফলের আমদানির ওপর এই বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হয়।

বর্তমানে ফল আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি (সিডি) ২৫ শতাংশ, ভ্যাট ১৫ শতাংশ, অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ এবং অ্যাডভান্স ট্রেড ভ্যাট ৪ শতাংশ ধার্য রয়েছে। এখন ফল আমদানিকারকদের এর সঙ্গে বাড়তি ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।

এ বিষয়ে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা চাই দেশের মানুষ দেশি ফল খাক। এতে করে দেশি ফলের উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকরা এতে উপকৃত হবেন। অন্যদিকে এই নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপের ফলে বিদেশি ফল আমদানির পরিমাণ কমবে এবং এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।’

তিনি মনে করেন, ফল আমদানিতে এ শুল্ক সাময়িকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিদেশি ফল না খেলেও কোনো অসুবিধা হবে না।

ফল ব্যবসায়ীরা মনে করেন, ফল একটি অতি প্রয়োজনীয় পণ্য। এটি রোগী থেকে শুরু করে শিশুসহ সব শ্রেণির মানুষ খায়। তাছাড়া বিদেশি ফল হচ্ছে আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব আহরণের দিক থেকে শীর্ষ দশ খাতের একটি। এ অবস্থায় সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া ঠিক হয়নি।

বিদেশি ফলে বাড়তি শুল্ক, দেশি ফলের সুদিন

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফআইএ) মহাসচিব সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফল কোনো বিলাসী বা অপ্রয়োজনীয় পণ্য নয়। এটা রোগীর পথ্য এবং শিশুসহ সব বয়সের মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ভাত-মাছ ও সবজির মতো গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত ফল খায় মানুষ। কেন যে সরকার অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্গে এই অত্যাবশ্যকীয় পণ্যকেও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বসিয়ে আমদানি নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নিলো, সেটি আমাদের বোধগম্য নয়।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি যদি সাময়িক সময়ের জন্য হয়ে থাকে তাহলে ঠিক আছে। আমরাও তার বিরোধিতা করছি না। দেশে প্রতিদিন ফলের চাহিদা ১০ থেকে ১২ হাজার টন। সারা বছর ধরে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ফল আমদানি হয়।

‘এর থেকে সরকারকে আমরা ৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব দিতাম। এখন সেটি হবে না। একদিকে আমদানি কমে যাবে। এতে সরকার বাড়তি শুল্ক আরোপ করেও কম রাজস্ব পাবে। অন্যদিকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত ভোক্তাকে বর্তমানের চেয়ে আরও বেশি দামে বিদেশি ফল খেতে হবে।’

জানা গেছে, দেশে ফলের যে চাহিদা, তার ৩৫ শতাংশ অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দিয়ে মেটানো যায়। বাকি ৬৫ শতাংশ ফলই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

শরীরের আবশ্যকীয় বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের উৎস হলো ফল। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশে পুষ্টি চাহিদা পূরণে ধনী-গরিব তথা সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ফল খাওয়ার চাহিদা বেড়েছে। ফলে দেশে ফলমূল কেনাকাটা বা ভোগের একটা বড় বাজার তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, আপেল, কমলা, আঙুর, নাশপাতি, মাল্টা, চেরি, আনার, বরই, আম ছাড়াও বেবি ম্যান্ডারিন, পাম, নেকটারিন, কিউইর, সুইট মিলান, এবাকাডোর মতো কিছু অপরিচিত ফলও আমদানি করা হয়।

দেশি ফলের উৎপাদন

চাহিদা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতি বছর বাড়ছে দেশি ফলে বাণিজ্যিক উৎপাদন। মৌসুমি ফল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ। এখানে এখন ৭২ প্রজাতির ফলের চাষ হচ্ছে।

পুষ্টিমান বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশি ফল রোগ প্রতিরোধ ছাড়াও হজম ও পরিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে ক্যানসার প্রতিরোধী উপাদান অ্যান্থোসায়ানিন, লাইকোপেন ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপস্থিত থাকে।

জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার (এফএও) মতে, ১৮ বছর যাবত বাংলাদেশে সাড়ে ১১ শতাংশ হারে ফল উৎপাদন বেড়েছে। কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয়, আমে সপ্তম। পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম স্থানে।

দেশে প্রতি বছর ফল চাষের জমি ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। গত ১০ বছরে আম ও পেয়ারার উৎপাদন দ্বিগুণ, পেঁপে আড়াই গুণ, লিচু ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া কমলার উৎপাদন প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। মাল্টার উৎপাদন বাড়ছে ১৫-২০ শতাংশ হারে।

গত কয়েক বছর ধরে নতুন ফল ড্রাগন, এভোকাডো এবং দেশি ফল বাতাবি লেবু, তরমুজ, লটকন, আমড়া ও আমলকীর উৎপাদন ব্যাপক হারে বাড়ছে। নতুন করে ড্রাগন ফলের ২৩টি, খেজুরের ১৬টি, নারকেলের দুটি এবং কাঁঠালের তিনটি জাত এখন বছরব্যাপী উৎপাদন ও সম্প্রসারণের কাজ চলমান। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সীমিত জমিতে অধিক ফল উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ফল আমদানি ৭২ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বেড়েছে ২১ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে স্থানীয় ও বিদেশি জাত মিলিয়ে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টন ফল উৎপাদিত হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা বেড়ে ১ কোটি ২০ লাখ টন হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটি ২১ লাখ ১১ হাজার টন এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ কোটি ২১ লাখ ১৫ হাজার টনে দাঁড়ায়। সবশেষ পূর্ণাঙ্গ অর্থবছরের (২০১৯-২০) উৎপাদন তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় ফলমূলের উৎপাদন ১ কোটি ২৩ লাখ টনে পৌঁছায়।

‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’ এর প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মেহেদী মাসুদ জানান, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ২০০ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন। তবে আমরা প্রতিদিন প্রায় গড়ে ৭০-৮০ গ্রাম ফল খাই।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইং ও উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ টনের বেশি আপেল, দেড় থেকে ২ লাখ টন কমলা, ৫০ হাজার টনের বেশি আঙুর আমদানি হয়। তবে মাল্টার আমদানিতে কোনো ধারাবাহিকতা লক্ষ করা যায়নি। কোনো বছর কম, কোনো বছর বেশি। গত পাঁচ বছরে এই চার ধরনের ফল আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণ। দেশে মোট আমদানীকৃত ফলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আপেল, কমলা, মাল্টা ও আঙুরের দখলে। বাকি অংশ পূরণ হয় অন্যান্য ফল আমদানিতে।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে ফল আমদানির পরিমাণ ছিল মোট ৪ লাখ ৭৩ হাজার টন। করোনায় আমদানি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ফল আমদানি ৬ লাখ ২৬ হাজার টনে পৌঁছায়।

বিশ্বের ৪৬টি দেশ থেকে ফল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ভারত, চীন, ব্রাজিল, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ভুটান, মিশর ও দক্ষিণ আফ্রিকা অন্যতম। তবে ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি ফল আসে।

চট্টগ্রাম বন্দর, ঢাকা বিমানবন্দর, ভোমরা, সোনামসজিদ, হিলি ছাড়াও বেশ কটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে এসব ফল আসে।

আরও পড়ুন:
এসএমএসে শুরু এইচএসসি-সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদন
পাসে এগিয়ে মানবিক, জিপিএ ফাইভে বিজ্ঞান 
কারিগরিতে পাসের হার ৯২.৮৫ শতাংশ
পাসে সেরা যশোর, জিপিএ ফাইভে ঢাকা
মাদ্রাসায় পাসের হার ৯৫.৪৯ শতাংশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The price of commemorative gold coins also went up

স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দামও বাড়ল

স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দামও বাড়ল
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে এই দাম বাড়া‌নো হ‌য়ে‌ছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্মারক স্বর্ণমুদ্রার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিটি মুদ্রার দাম ৪ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৭২ হাজার টাকা করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে এই দাম বাড়া‌নো হ‌য়ে‌ছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন এ দাম মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রিত ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০০০’, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবর্ষ ১৯২০-২০২০’এবং ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ১৯৭১-২০২১’ শীর্ষক স্মারক স্বর্ণমুদ্রার মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি স্মারক মুদ্রা ২২ ক্যারেট মানের স্বর্ণে তৈরি ও প্রতিটির ওজন ১০ গ্রাম। স্মারক স্বর্ণমুদ্রাগুলো (বাক্সসহ) প্রতিটির ৭২ হাজার টাকায় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতদিন এ স্মারক স্বর্ণমুদ্রা ৬৮ হাজার টাকায় বিক্রি হতো।

গত ২১ মে দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে ৮২ হাজার ৪৬৪ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুস। এই দর বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে কখনই এত বেশি দামে স্বর্ণ বিক্রি হয়নি দেশে। ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ৪ হাজার ২৪ টাকা বেড়ে হয়েছে ৭৮ হাজার ৭৩২ টাকা।

১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম বে‌ড়ে‌ছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা; বিক্রি হচ্ছে ৬৭ হাজার ৫৩৫ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম ২ হাজার ৮৫৭ টাকা বেড়ে হয়েছে ৫৬ হাজার ২২০ টাকা।

স্মারক স্বর্ণমুদ্রা তৈরিতে ২২ ক্যারেট অথবা ২১ ক্যারেট স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন:
শাহজালালে স্বর্ণসহ ৩ যাত্রী আটক
স্বর্ণ পাচারের শাস্তি: শুধু বেতন কমল বেবিচক কর্মকর্তার
বিমানবন্দরের টয়লেটে ৪৬টি স্বর্ণের বার
বাজুস সদস্য ছাড়া স্বর্ণালংকার না কেনার পরামর্শ
স্বর্ণের দাম কমল ভরিতে ১১৬৬ টাকা

মন্তব্য

p
উপরে