× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

অর্থ-বাণিজ্য
Al Arafah did not cut its six year minimum income dividend
hear-news
player

ছয় বছরের সর্বনিম্ন আয়, লভ্যাংশ কমায়নি আল আরাফাহ

ছয়-বছরের-সর্বনিম্ন-আয়-লভ্যাংশ-কমায়নি-আল-আরাফাহ
২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আল আরাফাহর শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৯৬ পয়সা। ২০১৬ সাল থেকে কখনও এত কম আয় করেনি ব্যাংকটি। ২০১৯ সালে শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ২৮ পয়সা আয় ছিল এর আগে সর্বনিম্ন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক আল আরাফাহ গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন আয় করেও আগের বছরের সমান লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য শেয়ারপ্রতি দেড় টাকা বা ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকটি।

মঙ্গলবার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়, যা বুধবার ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পাবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আল আরাফাহর শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৯৬ পয়সা, যা আগের বছরের তুলনায় অনেকটাই কম।

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৪১ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে ৪৫ পয়সা বা ১৮.৬৭ শতাংশ।

এখন পর্যন্ত যেসব ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে খুব কমসংখ্যক ব্যাংকেরই আয় কমেছে। বেশির ভাগ ব্যাংকই আয় বাড়াতে পেরেছে।

আল আরাফাহর আয় কেবল গতবারের তুলনায় কমেছে এমন নয়, এই আয় ২০১৬ সালের পর সর্বনিম্ন। ওই বছর ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৩ টাকা ৭ পয়সা, পরের বছর যা বেড়ে হয় শেয়ারপ্রতি ৩ টাকা ১৭ পয়সা।

তবে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিন বছরে কখনও ব্যাংকটি শেয়ারপ্রতি তিন টাকা আয় করতে পারেনি আর। এর মধ্যে ২০১৮ সালে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৩৫ পয়সা, পরের বছর ২ টাকা ২৮ পয়সা এবং গত বছর ২ টাকা ৪১ পয়সা।

এই ব্যাংকটি লভ্যাংশের ক্ষেত্রে নগদে বিতরণেই প্রাধান্য দিয়ে আসছে ২০১৬ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০১৭ সালে নগদের সঙ্গে ৫ শতাংশ এবং পরের বছর নগদের সঙ্গে ২ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়া হয়েছে লভ্যাংশ হিসেবে।

এই ছয় বছরে সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ছিল ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ২০ শতাংশ করে, যার মধ্যে প্রথম বছর ছিল পুরোটাই নগদ, আর দ্বিতীয় বছরে ৫ শতাংশ বোনাসে ১৫ শতাংশ নগদে।

২০১৮ সালে ২ শতাংশ বোনাসের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ দেয়া হয় নগদে। তার পরের বছর ১৩ শতাংশ দেয়া হয় নগদে।

আয় কমলেও আল আরাফাহর সম্পদ বেড়েছে ২০২১ সালে বছর। ডিসেম্বর শেষে শেয়ারপ্রতি ২২ টাকা ৭৩ পয়সা সম্পদ দেখিয়েছে ব্যাংকটি, আগের বছরের ডিসেম্বর শেষে যা ছিল ২ টাকা ৩৫ পয়সা।

আয়ে ভাটা পড়লেও ব্যাংকটির শেয়ারদর সমপর্যায়ের অন্যান্য ব্যাংকের চেয়ে বেশি। গত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৩ টাকা ৪৬ পয়সা আয় করে সাড়ে ১৭ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করা মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ারদর যেখানে ১৫ টাকা ৪০ পয়সা, সেখানে আল আরফাহর শেয়ারদর এখন ২৬ টাকা ৩০ পয়সা।

গত এক বছরে ব্যাংকটির শেয়ারদর ২১ টাকা থেকে ৩০ টাকা ১০ পয়সা পর্যন্ত ওঠানামা করেছে।

যারা এবার লভ্যাংশ নিতে চান, তাদের আগামী ৮ জুন শেয়ার ধরে রাখতে হবে। অর্থাৎ, সেদিন হবে রেকর্ড ডেট। এই লভ্যাংশ চূড়ান্ত করতে বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে আগামী ১১ আগস্ট।

আরও পড়ুন:
প্রাইম ব্যাংকেরও দারুণ প্রথম প্রান্তিক
মার্কেন্টাইলের আয় বেড়েই চলেছে
লভ্যাংশ বাড়াল এনআরবিসি ব্যাংক
মুনাফা বাড়লেও লভ্যাংশ বাড়ায়নি পূবালী
নগদ কমিয়ে বোনাস বাড়াচ্ছে সিটি, লভ্যাংশ দশকের সর্বোচ্চ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
ICB has demanded Rs 500 crore from DSE

ডিএসইর কাছে ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে আইসিবি

ডিএসইর কাছে ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে আইসিবি পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে আইসিবি’র শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক জরুরি বৈঠকে এই আশার কথা জানানো হয়েছে।
আইসিবি’র কাছে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যাওয়া এফডিআর নবায়ন তথা মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিবাচক সাড়া দেবে বলে আশা করছে আইসিবি।

পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক গতি ফেরাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে সাপোর্ট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানার বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ-আইসিবি। বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কাছে ৫০০ কোটি টাকার মেয়াদি আমানত চেয়েছে।

এছাড়া আইসিবির কাছে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যাওয়া এফডিআর নবায়ন তথা মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে আইসিবি। প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিবাচক সাড়া দেবে বলে আইসিবি আশা করছে।

মঙ্গলবার পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে আইসিবি’র শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক জরুরি বৈঠকে এই আশার কথা জানানো হয়েছে।

আইসিবি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রাজধানীর মতিঝিলে আইসিবির প্রধান কার্যালয়ে এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।

সভায় বিএসইসির পক্ষে নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম ও সহকারী পরিচালক দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে আইসিবির পক্ষে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল হোসেন গাজী, আইসিবির সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহাব্যবস্থাপকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে আইসিবির নেয়া চারটি উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরা হয়-

১. ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড থেকে ইতোমধ্যে প্রাপ্ত এবং ভবিষ্যতে প্রাপ্ত অর্থ সেকেন্ডারী মার্কেটে বিনিয়োগের মাধ্যমে সাপোর্ট অব্যাহত রাখা হবে।

২. আগামী কয়েকদিন আইসিবি ও আইসিবির সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী এবং অন্য স্টেকহোল্ডারদের সিকিউরিটি বিক্রিতে নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

৩. ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে ৫০০ কোটি টাকার মেয়াদি আমানত প্রদানের অনুরোধ জানিয়ে আইসিবির পক্ষ থেকে ডিএসইকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

৪. আইসিবির কাছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংরক্ষিত মেয়াদি আমানতসমূহ নবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বরাবর আইসিবির পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানগুলো বিবেচনা করলে আপাতত নিম্নমুখী বাজারে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে আইসিবিকে অর্থ ফেরত দেয়া হবে না।

সভায় উপস্থিত বিএসইসির প্রতিনিধিরা পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আইসিবির এসব পদক্ষেপের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে বর্ণিত বিষয়গুলো তুলে ধরাসহ বিএসইসির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
কমল আয়, বাড়ল লভ্যাংশ
আয়ে ভাটা, প্যারামাউন্টের লভ্যাংশ কমে অর্ধেক
আয় বাড়াতে না পারা রবির চূড়ান্ত লভ্যাংশ শেয়ারে ২০ পয়সা
ওয়ালটনের হাত ধরে ইলেকট্রনিকস পণ্য রপ্তানিতে দেশ: বিএসইসি চেয়ারম্যান
করোনার বছরে লিন্ডে বিডির রেকর্ড লভ্যাংশ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The rise begins and the fall ends

উত্থানে শুরু, পতনে শেষ

উত্থানে শুরু, পতনে শেষ
‘সব কিছুই যেন হঠাৎ করে কেমন হয়ে যাচ্ছে। বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। আস্থা সংকটই এখন প্রধান সমস্যা। নানা সময়ে নানান গুজবে ভয় পেয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে সবাই। বিক্রির চাপে বাজার পড়ছে। আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।’

পুঁজিবাজারে টানা দ্বিতীয় দিন বড় দরপতনে বিনিয়োগকীদের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আরও বাড়ল। যদিও দিনটির শুরু ছিল ঝলমলে। সূচক অনেকটাই বেড়েই শুরু হয় লেনদেন। তবে পরে অনেকটাই পড়ে যায়। শেষ দিকে অবশ্য যতটা হারিয়েছিল, তা থেকে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়।

বিশ্ব জড়ে অর্থনীতি নিয়ে মন্দার আশঙ্কার মধ্যে সোমবার ১৩৪ পয়েন্ট দরপতন হয় দেশের পুঁজিবাজারে। এর মধ্যে খবর প্রকাশ হয় বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে ৭০০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ কোম্পানি আইসিবি।

তবে লেনদেন শেষে আইসিবিকে এই ঋণ সমন্বয়ে আরও এক বছর সময় দেয়ার খবরও প্রকাশ হয় বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় লেনদেন শুরু হলে সাত মিনিটেই সূচক বেড়ে যায় ৫৪ পয়েন্ট। কিন্তু আবার শুরু হয় পতন। কিন্তু বেলা ১৩টা ৩৩ মিনিটে আগের দিনের চেয়ে সূচক কমে যায় ১১২ পয়েন্ট।

এতে পুঁজিবাজার নিয়ে আতঙ্ক আরও বাড়ে। পরে সেখান ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত সূচক ২৭ পয়েন্ট কমে শেষ হয় লেনদেন।

যখন সূচক এক শ পয়েন্টের বেশি পড়ে গিয়েছিল, তখন প্রায় সাড়ে তিন শ কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়ে ফেলে। শেষ পর্যন্ত ২৪৫টির দর হারিয়ে শেষ হয় লেনদেন। বিপরীতে বাড়ে ৮৯টির। ৪৫টির দর থাকে অপরিবর্তিত।

আগের দিন দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ শতাংশ ছুঁয়ে শতাধিক কোম্পানির লেনদেন শেষ হয়েছিল। সেটি কমে হয়েছে ১৫টির মতো।

সব মিলিয়ে ২৩টি কোম্পানি ৪ শতাংশের বেশি, আরও ৩২টি কোম্পানির দর ৩ শতাংশের বেশি, ২৯টির দর ২ শতাংশের বেশি এবং আরও ৭৬টির দর কমে এক শতাংশের বেশি।

উত্থানে শুরু, পতনে শেষ
মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাক আহমেদ সাদেক বাজারের সার্বিক পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সব কিছুই যেন হঠাৎ করে কেমন হয়ে যাচ্ছে। বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। আস্থা সংকটই এখন প্রধান সমস্যা। নানা সময়ে নানান গুজবে ভয় পেয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে সবাই। বিক্রির চাপে বাজার পড়ছে। আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের অস্থির বাজারের প্রভাবও বাজারে পড়েছে। জানি না বাজারের সবশেষ পরিণতি কী হবে? কবে বাজার স্বাভাবিক হবে।’

দরপতন সব খাতেই

পাট এবং সেবা ও আবাসন খাতে সব কোম্পানি দর হারিয়েছে। সিরামিক খাতে পাঁচটির মধ্যে কমেছে চারটির দর।

প্রধান খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বাজে দিন গেছে সাধারণ বিমায়। এই খাতে দুটি কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৩৭টির দর। জীবন বিমা খাতে বেড়েছে তিনটির কমেছে ১০টির।

বস্ত্র খাতে ১০টির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ৪১টির, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সাতটির বিপরীতে ১৪টি, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১০টির বিপরীতে ২০টি, ব্যাংক খাতে ৭টির বিপরীতে ১৪টি, আর্থিক খাতে চারটির বিপরীতে ১৫টি, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে সাতটির বিপরীতে ১৪টি, বিবিধ খাতে পাঁচটির বিপরীতে আটটি কোম্পানি দর হারিয়েছে।

কেবল প্রকৌশল খাতে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। যদিও এই খাতেও বেশিরভাগ কোম্পানি দর হারিয়েছে। এই খাতে কোম্পানির সংখ্যা ৪২টি। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭টির, কমেছে ২২টির, অপরিবর্তিত ছিল তিনটি।

সূচক পতনের এই দিনে কেবল একটি কোম্পানির দর দিনের দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ছুঁতে পারেনি একটি কোম্পানিরও।

পি কে হালদার কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স ও ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ারদর দুই দিন ধরে বাড়ছে।

পি কে হালদার কলকাতায় গ্রেপ্তারের খবরে এই দুটি কোম্পানির শেয়ারদর সোমবার বেড়েছিল দিনের সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত। দ্বিতীয় দিনও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের দর বেড়েছে যতটুকু বাড়া সম্ভব ততটুকুর কাছাকাছি।

সোমবার দর ছিল ৬ টাকা। বাড়ার সুযোগ ছিল ৬০ পয়সা। বেগেছে ৬০ পয়সা।

ফাস ফাইন্যান্সের দর ছিল ৫ টাকা ৬০ পয়সা। বেড়েছে ২০ পয়সা।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি দর হারানো আরডি ফুড, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, আইপিডিসি ও জুট স্পিনার্সের দর কমেছে যতটুকু কমা সম্ভব ততটুকুই।

আরও পড়ুন:
হঠাৎ বিক্রয়চাপে পতন, আরও বাড়ল লেনদেন
সূচক পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ, লেনদেন তিন মাসের
‘ঈদ অবসর’ শেষে লেনদেনে ‘চার শুভ ইঙ্গিত’
ঈদের ছুটি শেষে লেনদেনে ফের ভাটা
গোমড়া মুখে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Investors are lost in the collapse of the capital market

পুঁজিবাজারে ধসে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা

পুঁজিবাজারে ধসে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা
শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর নানা ধরনের গুজবে পুঁজিবাজার টালমাটাল ছিল। কিন্তু তাই বলে এত বড় ধস কেন, সোট আমরা বুঝতে পারছি না। কী কারণে আকষ্মিক এত বড় ধস হলো, সেটা আমরা সত্যিই কেউ বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে সবাই বিক্রি করে বাজার থেকে চলে যাবে- এমন অবস্থা: ডিবিএর সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক

এক দিনে সূচকের পতন প্রায় দুই শতাংশ। ৩৮১টি কোম্পানির মধ্যে দর হারাল প্রায় সাড়ে তিন শ। শতাধিক কোম্পানির দর কমেছে এক দিনে যতটা কমা সম্ভব ততটাই।

এমন দিনেও লেনদেন ছাড়াল হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ দম দামে হলেও শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে বিনিয়োগকারীরা।

সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষুব্ধ, স্টক ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশনের একজন নেতা বলেছেন, বাজারে কী হয়েছে, সেটি তারা বুঝতে পারছেন না। রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ কোম্পানি আইসিবিও শেয়ার বিক্রি করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে নিত্যপণের দাম ক্রমেই বেড়ে চলার মধ্যে পুঁজিবাজার নিয়ে উৎকণ্ঠা বেড়েই চলছে বিনিয়োগকারীদের।

ফেব্রুয়ারির শেষে ইউক্রেনে রুশ হামলার পর পুঁজিবাজারে যে ধস নামে, সেটি টানা কয়েক মাস চলার পর রোজার শেষ দিকে থাকার ইঙ্গিত দেয়। ঈদ শেষে বাজারে লেনদেন বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তা এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। বাড়তে থাকে শেয়ারদর।

কিন্তু শুভ ইঙ্গিত দিয়ে গত সপ্তাহে আবার মুখ থুবড়ে পড়ে পুঁজিবাজার। টানা তিন দিনে পতন হয় ১৩২ পয়েন্ট। দুই দিনের সাপ্তাহিক বন্ধ শেষে বুদ্ধ পুর্ণিমার ছুটি শেষে সোমবার আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিল বিনিয়োগকারীদের। আগের তিন দিনে মিলিয়ে সূচক যত পড়েছিল, এক দিনেই পড়ল তার চেয়ে ২ পয়েন্ট বেশি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান এখন ৬ হাজার ৪৩০ পয়েন্ট, যা গত বছরের ২৯ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন। সেদিন সূচক ছিল ৬ হাজার ৪২৫ পয়েন্ট।

তবে সে সময় পুঁজিবাজারে ছিল সুবাতাশ। প্রতি দিনই সূচক বাড়ছিল। এক পর্যায়ে তা সাত হাজার ছাড়িয়ে ১০ হাজারে পৌঁছবে বলে আশাবাদ তৈরি হয়।

তবে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর বাজারে দর সংশোধন শুরু হয়, যা বছরের শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে। নতুন বছর ২০২২ সালের শুরুতে বাজারে ঊর্ধ্বগতি ফেরার ইঙ্গিত দিলেও ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর আবার নামে ধস। শেয়ারদর কমতে থাকার পর লেনদেনও নেমে আসে তলানিতে।

এই যুদ্ধ প্রলম্বিত হতে থাকায় সারা বিশ্বই অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে খাদ্যপণ্যের বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশেও নানা গুজব ছড়ায়।

পুঁজিবাজারে ধসে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা
সোমবার পুঁজিবাজারে লেনদেনের এই চিত্রে ব্যাপকভাবে লোকসানে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা

সোমবারের বাজার দেখে কিছু বুঝে উঠতে পারছেন না পুঁজিবাজারে স্টক ব্রোকারদের সমিতি বাংলাদেশ স্টক ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশন-ডিবিএর সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর নানা ধরনের গুজবে পুঁজিবাজার টালমাটাল ছিল। কিন্তু তাই বলে এত বড় ধস কেন, সোট আমরা বুঝতে পারছি না। কী কারণে আকষ্মিক এত বড় ধস হলো, সেটা আমরা সত্যিই কেউ বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে সবাই বিক্রি করে বাজার থেকে চলে যাবে- এমন অবস্থা।’

তিনি বলেন, ‘কেবল সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নয়, আইসিবিও শেয়ার বিক্রি করছে। যাদের সাপোর্ট দেয়ার কথা, তারাও যদি বিক্রি করে, তাহলে বাজারের এমন না হয়ে কী হবে?’

পুঁজিবাজারে এক দিনে এর চেয়ে বেশি দরপতন দেখা গিয়েছিল ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল। লকডাউন আতঙ্কে সেদিন ডিএসইতে সূচক কমেছিল ১৮১ পয়েন্ট।

পরের দিন থেকে করোনার কারণে বিধিনিষেধে যাওয়ার কথা ছিল দেশ। ২০২০ সালে সাধারণ ছুটির সময় পুঁজিবাজারে লেনদেন স্থগিত থাকে। সেবারও তাই হবে ভেবে আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করেছিল বিনিয়োগকারীরা। তবে এই পতনের দিনই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসে যে, লকডাউনেও লেনদেন চলবে। পর দিন থেকেই পুঁজিবাজারে শুরু হয় উত্থান।

আর এখন পুঁজিবাজারের সূচক ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

সব খাতেই দরপতনের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ২৩ কোম্পানির সবগুলো দর হারিয়েছে। সিমেন্ট, আবাসন, তথ্য প্রযুক্তি, ভ্রমণ ও অবসর, টেলিকমিউনিকেশন, কাগজ, পাট খাতেরও শতভাগ কোম্পানির দরপতন হয়েছে।

এছাড়া বস্ত্র খাতে তিনটি কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ৫৬টি, সাধারণ বিমা খাতে একটির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ৩৯টি, জীবন বিমা খাতে একটির দর বৃদ্ধি ও একটির দর ধরে রাখার বিপরীতে আরও ১১টি, প্রকৌশল খাতে তিনটির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ৩৯টি, ওষুধ ও রসায়ন খাতে তিনটির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ২৮টি, মিউচ্যুয়াল ফান্ডে দুটির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ২৮টি এবং বিবিধ খাতে একটির দর বৃদ্ধির বিপরীতে দর হারিয়েছে ১৩টি কোম্পনি।

ব্যাংক খাতে ৬টির দর বেড়েছে, আগের দিনের দরে লেনদেন হয়েছে আরও ছয়টি আর কমেছে বাকি ২১টির দর।

দুটি কোম্পানির দর কমেছে এক দিনে দর পতনের সর্বোচ্চ সীমা ৫ শতাংশ। আরও শতাধিক কোম্পানির দর কমেছে আশেপাশে।

সব মিলিয়ে ১৩০টি কোম্পানির দর কমেছে ৪ শতাংশের বেশি, আরও ৭৬টির দর কমেছে ৩ শতাংশের বেশি, ৫৭টির দর কমেছে ২ শতাংশের বেশি।

আরও পড়ুন:
সূচক পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ, লেনদেন তিন মাসের
‘ঈদ অবসর’ শেষে লেনদেনে ‘চার শুভ ইঙ্গিত’
ঈদের ছুটি শেষে লেনদেনে ফের ভাটা
গোমড়া মুখে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার
আয় বাড়তে থাকলেও লভ্যাংশ কমাচ্ছে ম্যারিকো

মন্তব্য

তহবিলে প্রতিশ্রুত অর্থ না আসায় ক্ষোভ সিএমএসএফের

তহবিলে প্রতিশ্রুত অর্থ না আসায় ক্ষোভ সিএমএসএফের সিএমএসএফের অডিট কমিটির সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
সিএমএসএফের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর দীর্ঘ দিনের অবণ্টিত লভ্যাংশের বিপুল পরিমাণ অর্থ ও শেয়ার এ ফান্ডে আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ৪৬০ কোটি টাকা এবং বর্তমান বাজারমূল্যে ৩৩৮ কোটি টাকার সমপরিমাণ শেয়ার এই ফান্ডে জমা হয়েছে। এটি খুবই নগণ্য।

ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (সিএমএসএফ) অর্থ ও শেয়ার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জমা না হওয়ায় ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলোর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ফান্ডের অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ম্যানেজমেন্ট কমিটি (এএএমসি)।

সিএমএসএফের চিফ অফ অপারেশন মনোয়ার হোসেন এফসিএ, এফসিএমএ স্বাক্ষরিত শুক্রবারের বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর দীর্ঘ দিনের অবণ্টিত লভ্যাংশের বিপুল পরিমাণ অর্থ ও শেয়ার এ ফান্ডে আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ৪৬০ কোটি টাকা এবং বর্তমান বাজারমূল্যে ৩৩৮ কোটি টাকার সমপরিমাণ শেয়ার এই ফান্ডে জমা হয়েছে। এটি খুবই নগণ্য।

নিরপেক্ষ অডিট কমিটির সভায় এএএমসির প্রধান ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবদুর রউফ বলেন, ৩১ মে পর্যন্ত বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলো সিএসএফের ফান্ডে অর্থ ও শেয়ার ট্রান্সফার না করলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) সঙ্গে নিয়ে নিয়ম অনুযায়ী যে অর্থ ও শেয়ার এই ফান্ডে আসার কথা, তা কীভাবে আনা যায়, সে বিষয়ে মনিটরিংসহ সার্বিক তত্ত্বাবধান করা হবে।

অডিট কমিটির অন্য সদস্য এ.কে.এম. দেলোয়ার হোসেন এফসিএমএ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম.এ. মহি পিএসসি, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ফিন্যান্স কন্ট্রোলার শাহেদা খানম, সিসিবিএলের পরিচালক মুহাম্মদ তাজদিকুল ইসলাম, এফসিএমএ আবদুর রউফের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর দীর্ঘদিনের অবণ্টিত লভ্যাংশের বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে। সেই অর্থ একসঙ্গে করে বাজারের উন্নয়নে কাজে লাগাতে বিএসইসি সিএমএসএফ নামে বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়।

সেই সঙ্গে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড রুলস-২০২১ গ্রেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

ফান্ডটি নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনার জন্য ১০ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিটি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান এই ফান্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

সিএমএসএফ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি দক্ষ পুঁজিবাজার গঠনে কাজ করে যাচ্ছে।

ফান্ডটি তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ ইস্যুকারীর কাছ থেকে অদাবিকৃত এবং অবণ্টিত নগদ বা স্টক ডিভিডেন্ড, অফেরত পাবলিক সাবস্ক্রিপশনের অর্থ এবং অবরাদ্দকৃত রাইট শেয়ার স্থানান্তর করার মাধ্যমে প্রাপ্ত বিনিয়োগকারীদের পক্ষে নগদ এবং স্টকের অভিভাবক হিসেবে কাজ করছে।

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির মাধ্যমে স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। পুঁজিবাজারের সেকেন্ডারি মার্কেটে তারল্য প্রবাহ নিশ্চিত করতেই এই অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে।

বাজার স্থিতিশীলতায় সিএমএসএফ ‘আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড’ নামে একটি ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডও গঠন করে। এই ফান্ডের আকার ১০০ কোটি টাকা, যার ইউনিটপ্রতি অভিহিত মূল্য ১০ টাকা।

সিএমএসএফ পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

সিএমএসএফ কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২২ লাখ ৯৬ হাজার ৮৮০ টাকার অমীমাংসিত দাবি নিষ্পত্তির আবেদন গ্রহণ করেছে।

ইতোমধ্যে ২১ লাখ ৩৩ হাজার ২২৬ টাকার দাবি নিষ্পত্তি করেছে, যা মোট দাবির ৯৩ শতাংশ।

সিএমএসএফ চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতায় কাজ করছি এবং একই সঙ্গে ক্যাডার ও বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ যাচাই সাপেক্ষে অবিলম্বে দাবি নিষ্পত্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

‘আমরা দৃঢ় বিশ্বাস রাখি, সিএমএসএফের কার্যক্রমের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’

আরও পড়ুন:
‘ঈদ অবসর’ শেষে লেনদেনে ‘চার শুভ ইঙ্গিত’
ঈদের ছুটি শেষে লেনদেনে ফের ভাটা
গোমড়া মুখে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার
আয় বাড়তে থাকলেও লভ্যাংশ কমাচ্ছে ম্যারিকো
মুনাফায় ফিরলেও টানা দুই প্রান্তিকে লোকসান হাইডেলবার্গে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Approval of Rs 44 dividend on shares of Unilever

ইউনিলিভারের শেয়ারে ৪৪ টাকা লভ্যাংশ অনুমোদন

ইউনিলিভারের শেয়ারে ৪৪ টাকা লভ্যাংশ অনুমোদন
মঙ্গলবার সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডাররা গত বছরের ডিরেক্টর’স রিপোর্ট, অডিটরস রিপোর্ট ও অডিটেড অ্যাকাউন্টস অনুমোদন করেছেন, যাতে প্রতি ১০ টাকার সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ৪৪০ শতাংশ বা প্রায় ৪৪ টাকা নগদ লভ্যাংশ দেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়।

ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার লিমিটেডের ৪৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএমে ৪৪ টাকা নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডাররা গত বছরের ডিরেক্টর’স রিপোর্ট, অডিটরস রিপোর্ট ও অডিটেড অ্যাকাউন্টস অনুমোদন করেছেন, যাতে প্রতি ১০ টাকার সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ৪৪০ শতাংশ বা প্রায় ৪৪ টাকা নগদ লভ্যাংশ দেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়।

গত বছর ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের আয় বেড়েছে ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ, যেখানে মুনাফা হয়েছে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে ধারাবাহিকভাবে এবার তৃতীয়বারের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই এজিএম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কোম্পানির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বতে সভায় উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর কে এস এম মিনহাজ।

অন্য ডিরেক্টরদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাহিদুল ইসলাম মালিতা, এস ও এম রাশেদুল কাইউম, আবুল হোসাইন, মোহসিন উদ্দিন আহমেদ, রেজাউল হক চৌধুরী।

এ ছাড়া কোম্পানি সেক্রেটারি মোহাম্মদ নাহারুল ইসলাম মোল্লা, কোম্পানির স্ট্যাচুটরি অডিটর ও সিনিয়র ম্যানেজমেন্টসহ বেশ কয়েকজন শেয়ার হোল্ডারও সভায় অংশ নেন।

ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, ‘২০২১ সালে আমরা কোম্পানির ব্যয় প্রশমন, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, ভোক্তাচাহিদা উপলব্ধি ও বাজার ঘনিষ্ঠতা গভীরভাবে বুঝতে কৌশলগত সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ভোক্তাদের জন্য পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করতে আমরা মূল হরলিক্স ও জুনিয়র হরলিক্স এর প্যাক সহজলভ্য করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য-সুরক্ষা কোম্পানি হিসেবে ভোক্তাদের কল্যাণকে ঘিরেই আমাদের ব্যবসায়িক ভাবনা আবর্তিত হয়েছে এবং সে সঙ্গে ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গড়ার পাশাপাশি সবার জন্য স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে অবদান রাখা-ই আমাদের মূল লক্ষ্য।

‘স্থানীয়ভাবে প্রতিটি শ্রেণির মানুষের জন্য উপযুক্ত পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছাতে চাই। সকল পর্যায়ের জনগোষ্ঠীর কাছে ভারসাম্যপূর্ণ ও যথাযথ পুষ্টিপণ্য নির্বিঘ্নে সরবরাহ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা বিশ্বাস করি, টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য বৈষম্যহীন ও সুন্দর একটি সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে অবশ্যই জাতির পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে হবে।’

দেশের অন্যতম বৃহত্তম নিত্য ব্যবহার্য ও ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি) প্রস্তুতকারী কোম্পানি ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার লিমিটেড (ইউসিএল) ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

চার দশকের পথচলায় দেশের স্বাস্থ্য-খাদ্য-পানীয় ক্যাটাগরিতে ইউসিএল শক্তভাবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। ইউসিএলের পোর্টফোলিওতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে হরলিক্স, মালটোভা, বুস্ট, গ্লুকোম্যাক্স-ডি এর মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড।

আরও পড়ুন:
উত্থানে শুরু, পতনে শেষ
পুঁজিবাজারে ধসে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা
তহবিলে প্রতিশ্রুত অর্থ না আসায় ক্ষোভ সিএমএসএফের
ফের পতনের ধারায় পুঁজিবাজার
এসএফআইএল সিকিউরিটিজের যাত্রা শুরু

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Dividends of Rs 1 in a mutual fund of Rs

৮ টাকার মিউচুয়াল ফান্ডে এক টাকা লভ্যাংশ

৮ টাকার মিউচুয়াল ফান্ডে এক টাকা লভ্যাংশ
গত বছরও বেশির ভাগ মিউচুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ এর ইউনিট মূল্যের বিবেচনায় বেশ ভালো ছিল। ওই বছরও সঞ্চয়পত্রের মুনাফার তুলনায় বেশি হারে লভ্যাংশ পেয়েও বিনিয়োগকারীরা লাভবান হতে পারেননি। কারণ রেকর্ড ডেটের পর ইউনিটমূল্য কমে গেছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি মিউচুয়াল ফান্ড লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। দুটি ফান্ডই ইউনিটপ্রতি ১ টাকা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেগুলোর ইউনিটগুলো ৮ থেকে সাড়ে ৮ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।

ফান্ড দুটি হলো এআইবিএল ইসলামিক এবং এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। দুটি ফান্ডই পরিচালনা করে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি এলআর গ্লোবাল।

বৃহস্পতিবার ফান্ড দুটির ট্রাস্টি বোর্ড গত মার্চে সমাপ্ত অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেয়। দুটি ফান্ডই ২০২১ সালে যত টাকা আয় করেছে, তার পুরোটাই লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর মধ্যে এমবিএলের ইউনিট দর ৮ টাকা, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এআইবিএলের ইউনিট দর ৮ টাকা ৫০ পয়সা, অর্থাৎ এর ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে পাওয়া যাবে। এই শতকরা হার দেশে যেকোনো সঞ্চয়ী হিসাব, এমনকি সঞ্চয়পত্রের হারের চেয়ে বেশি।

মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ আরও লাভজনক এই কারণে যে এখানে লভ্যাংশের ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত। ২৫ হাজারের বেশি যত টাকা হবে, তার ওপর কর দিতে হয় ১০ শতাংশ।

অন্য শেয়ারের লভ্যাংশের ওপর থেকে যাদের কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন আছে, তাদের কাছ থেকে ১০ শতাংশ এবং যাদের নেই তাদের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ কর কাটা হয়।

গত বছরও বেশির ভাগ মিউচুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ এর ইউনিট মূল্যের বিবেচনায় বেশ ভালো ছিল। ওই বছরও সঞ্চয়পত্রের মুনাফার তুলনায় বেশি হারে লভ্যাংশ পেয়েও বিনিয়োগকারীরা লাভবান হতে পারেনি এ কারণে যে রেকর্ড ডেটের পর ইউনিট মূল্য এতটাই কমে গেছে, আসলে লোকসানে পড়তে হয়েছে সবাইকে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলো গত বছর দারুণ আয় করার পর বেশ ভালো লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাপক হারে দর হারাতে থাকে।

এই কয় মাসে পুঁজিবাজারে সূচক কমেছে ৭০০ পয়েন্টের বেশি। আর ফান্ডগুলো যে প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, তাতে আগের বছরের চেয়ে কম আয় করার কথা জানিয়েছে।

লভ্যাংশ ঘোষণা করা দুটি ফান্ডই আগের বছরের চেয়ে কম আয় করার পরও বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পেরেছে এ কারণে যে আগের বছর কোনো লোকসান না থাকায় সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হয়নি।

গত বছর যত আয় হয়েছিল, সে তুলনায় লভ্যাংশ কম ছিল এ কারণে যে তার আগের বছর ফান্ডগুলো ইউনিটপ্রতি বিপুল পরিমাণ লোকসান দিয়েছিল।

এমবিএল ফার্স্ট

ইউনিটপ্রতি ৮ টাকায় লেনদেন হওয়া এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা, যা আগের বছরের প্রায় অর্ধেক।

২০২০ সালে সমাপ্ত অর্থবছরে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৯৫ পয়সা। ওই বছর লভ্যাংশ এসেছিল ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা পেয়েছেন ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ১৫ পয়সা।

সে বছর এবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ আয় করার পরও লভ্যাংশ কম দেয়ার কারণ ছিল ২০১৯ সালে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি ৯৭ পয়সা লোকসান। সেই লোকসানের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করে লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়।

৮ টাকার মিউচুয়াল ফান্ডে এক টাকা লভ্যাংশ
এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের লভ্যাংশসংক্রান্ত ঘোষণা

গত ৩১ ডিসেম্বর ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১১ টাকা ৮৩ পয়সা, তার আগের বছর ছিল ১১ টাকা ৮৯ পয়সা।

যারা এই লভ্যাংশ নিতে চান, তাদের আগামী ৫ জুন ইউনিট ধরে রাখতে হবে। অর্থাৎ সেদিন হবে রেকর্ড ডেট।

গত এক বছরে ফান্ডটির ইউনিট মূল্য ৭ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১০ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত ওঠানামা করেছে।

গত বছর ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ১৫ পয়সা লভ্যাংশ পেয়েও বিনিয়োগকারীরা লাভবান হতে পারেননি। রেকর্ড ডেটের দিন ফান্ডটির ইউনিট মূল্য ছিল ১০ টাকা ১০ পয়সা। যারা লভ্যাংশ নিয়েছেন তারা এখনও লোকসানে আছেন।

এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক

এই ফান্ডটিও ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা, লভ্যাংশও দেয়া হবে এর পুরোটাই।

আগের বছর ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৮৩ পয়সা আয় করে লভ্যাংশ দিয়েছিল ১ টাকা ২৫ পয়সা বা সাড়ে ১২ শতাংশ।

ওই বছর যত আয় হয়েছিল, তার পুরোটা লভ্যাংশ আকারে বিতরণ না করার কারণ তার আগের বছর ইউনিটপ্রতি ৬২ পয়সা লোকসানের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ।

৮ টাকার মিউচুয়াল ফান্ডে এক টাকা লভ্যাংশ
এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের লভ্যাংশসংক্রান্ত ঘোষণা

এ ফান্ডটির ইউনিট মূল্য ৮ টাকা ৫০ পয়সা, যা গত এক বছরের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি। এই বছরে সবচেয়ে কম দাম ছিল ৮ টাকা ৩০ পয়সা আর সবচেয়ে বেশি দাম ছিল ১১ টাকা ১০ পয়সা।

গত বছর লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেটের দিন ফান্ডটির ইউনিট মূল্য ছিল ১০ টাকা ৯০ পয়সা। ১ টাকা ২৫ পয়সা লভ্যাংশ হিসেবে পাওয়ার পর ইউনিট মূল্য কমে যাওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীরা আসলে লোকসানে আছেন।

গত ৩১ ডিসেম্বর ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিইউ) ছিল ১১ টাকা ২৩ পয়সা, যা এক বছর আগে ছিল ১১ টাকা ৫৭ পয়সা।

এই ফান্ডটির রেকর্ড ডেটও নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ জুন। অর্থাৎ যারা লভ্যাংশ নিতে চান, তাদের সেদিন ইউনিট ধরে রাখতে হবে।

আরও পড়ুন:
মিউচ্যুয়াল ফান্ডে আগ্রহ বাড়াতে বিএসইসিতে ১৬ প্রস্তাব
সম্পদ ১২ টাকার, দাম ৬ টাকা
বিনিয়োগের বিকল্প বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, তবে…
লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!
লভ্যাংশ ১.৭৫ টাকা, দাম কমল ২ টাকা ৩০ পয়সা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The capital market is on the decline again

ফের পতনের ধারায় পুঁজিবাজার

ফের পতনের ধারায় পুঁজিবাজার
ঈদের আগে থেকে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েও আবার পতনের ধারায় ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বাজার নিয়ে যে আস্থাহীনতা তার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা গুজবের প্রভাব কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এ ছাড়াও একটি বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিও হিসাব থেকে শেয়ার বিক্রির বিষয়টি সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা পরিণত হয়েছে ক্ষোভে।

ঈদের পর টানা তিন কর্মদিবসে বাড়তে থাকার পর এবার টানা দুই দিন কমল লেনদেন। তা আবার নেমে এসেছে এক হাজার কোটি টাকার নিচে।

এক দিনেই কমল আরও প্রায় আড়াই কোম্পানির দর। এর মধ্যে দর পতনের সর্বোচ্চ সীমায় লেনদেন হওয়া কোম্পানির সংখ্যা আগের তুলনায় কিছুটা কম দেখা গেছে।

সপ্তাহের প্রথম দুই কর্মদিবসে সূচক ৫৪ পয়েন্ট বাড়ার পর টানা তিন দিনে সূচক কমল ১৩২ পয়েন্ট।

এর মধ্যে মঙ্গলবার লেনদেনের অর্ধেকটা সময় সূচক বেড়ে লেনদেন হতে থাকলেও শেষ আধাঘণ্টায় হঠাৎ সূচক নেমে আসতে থাকে। পরের দিনও একই প্রবণতা দেখা যায়। শেষ আড়াই ঘণ্টায় সূচকের পতন হয় আরও বেশি।

বৃহস্পতিবারের প্রবণতা ছিল এ থেকে ভিন্ন। লেনদেনের শুরুতেই সূচক অনেকটাই কমে গেলেও পরে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা দেখা যায়। এরপর আবার পড়ে।

প্রথম আধাঘণ্টায় সূচক পড়ে যায় ৩৭ পয়েন্ট। তবে পরের ২৫ মিনিটে সেখান থেকে ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে সূচকে যোগ হয় ৬ পয়েন্ট।

এরপর সূচক আবার পড়ে দুপুর ১২টার দিকে আগের দিনের চেয়ে বেড়ে লেনদেন হতে থাকে। পরে সেখান থেকে আবার পড়ে।

শেষ পর্যন্ত আগের দিনের চেয়ে ২৬ পয়েন্ট কমে সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৬৫ পয়েন্ট।

সূচকের অবস্থান নেমে গেল গত ১৯ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে। সেদিন সূচক ছিল ৬ হাজার ৫৩০ পয়েন্ট।

ফের পতনের ধারায় পুঁজিবাজার
সপ্তাহের প্রথম দুই কর্মদিবসে সূচক ৫৪ পয়েন্ট বাড়ার পর তিন দিনে কমল ১৩২ পয়েন্ট

ঈদের আগে থেকে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েও আবার পতনের ধারায় ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বাজার নিয়ে যে আস্থাহীনতা তার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা গুজবের প্রভাব কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এ ছাড়াও একটি বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিও হিসাব থেকে শেয়ার বিক্রির বিষয়টি সামনে এসেছে।

এসব ঘটনায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা পরিণত হয়েছে ক্ষোভে।

পুঁজিবাজারের প্রবণতা নিয়ে ট্রেজার সিকিউরিটিজের চিফ অপারেটিং অফিসার মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, 'লেনদেন তলানীতে নামার পর কাঙ্ক্ষিত টার্নওভার ছিল ৮০০ থেকে ১২০০ কোটি টাকা, যেটা দুই দিন আগে ছাড়িয়েছিল। এখন আবার সেটা নিচে নেমে গেছে। এর কারণ মার্কেটের নতুন ফান্ড ইনজেক্ট হচ্ছে না। সেল প্রেসারের কারণে টার্নওভার বেশি দেখাচ্ছে কিন্তু বায়ার দাঁড়াচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই সমন্বয়টা হতে হবে।’

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকায় নাখোশ মাহবুব। বলেন, ‘অতীতে দেখা গেছে, যখনই বাজার নিম্নমুখী হয় তখনই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিজেদেরকে গুটিয়ে নেন আরেকটু ভালো সুযোগ পাওয়ার জন্য। কিন্তু এটি বাজারকে স্থিতিশীল হতে দিচ্ছে না।’

সূচক কমাল যেসব কোম্পনি

সূচক যত কমেছে তার ৩০ শতাংশই ফেলেছে গ্রামীণ ফোন একাই। কোম্পানিটির শেয়ারদর ১.৬২ শতাংশ কমার কারণে সূচক পড়েছে ৮.১১ পয়েন্ট।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকোর দর ০.৬২ শতাংশ কমায় সূচক পড়েছে ২.২৯ পয়েন্ট, তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওয়ালটনের দর ০.৫০ শতাংশ কমায় সূচক পড়েছে ২.০৭ পয়েন্ট। চতুর্থ অবস্থানে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেডের দর ১.৩৭ শতাংশ কমায় সূচক ২.০৬ পয়েন্ট কমেছে।

এছাড়া ব্র্যাক বাংক ও রবির দরপতনে ১.২৩ পয়েন্ট করে, এনআরবিসির দরপতনে ০.৯৬ পয়েন্ট, ইউনাইটেড পাওয়ারের দরপতনে ০.৮৯ পয়েন্ট, পূবালী ব্যাংকের দরপতনে ০.৭৩ পয়েন্ট এবং বার্জার পেইন্টসের দরপতনে সূচক কমেছে ০.৭ পয়েন্ট।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানির কারণেই সূচক পড়েছে ২০.২৭ পয়েন্ট।

বিপরীতে সূচকে পয়েন্ট যোগ করতে পেরেছে খুব কম সংখ্যক কোম্পানিই। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১.৫৮ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে বিকন ফার্মা। কোম্পানিটির দর বেড়েছে ২.২৯ শতাংশ।

এছাড়া স্কয়ার ফার্মা ১.১৫ পয়েন্ট, জেএমআই হসপিটাল ০.৮৪ পয়েন্ট, শাইনপুকুর সিরামিকস ০.৬৮ পয়েন্ট, রেনাটা ০.৪৭ পয়েন্ট, আরএকে সিরামিক ও ইউসিবি ব্যাংক ০.৪৫ পয়েন্ট করে, সালভো ক্যামিকেল ০.৪০ পয়েন্ট, এসিআই ফর্মুলেশন ০.৩৯ পয়েন্ট এবং নাহী অ্যালুমিনিয়ম ০.৩১ পয়েন্ট যোগ করতে পেরেছে।

সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট যোগ করা ১০ কোম্পানির কারণে সূচক বেড়েছে ৬.৭২ পয়েন্ট।

দরপতনের শীর্ষ ১০

এই তালিকার প্রায় সব কটি কোম্পানিই দুর্বল মৌলভিত্তির, যেগুলোর লভ্যাংশের ইতিহাস ভালো নয় কোনো বিবেচনাতেই। কয়েকটি আছে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি।

এই তালিকার শীর্ষে দেখা গেছে বেক্সিমকো গ্রুপের শাইনপুকুর সিরামিক, যার দর গত কয়েকদিন ধরেই অস্বাভাবিক হারে বাড়তে দেখা গেছে।

গত ২৭ এপ্রিলও কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২৬ টাকা ৪০ পয়সা। সাত কর্মদিবসে সেখান থেকে ১৬ টাকা ৬০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৪৩ টাকা। বেড়েছে ৬২.৮৭ শতাংশ।

এর মধ্যে আজ বেড়েছে ৯.৯৭ শতাংশ। আগের দিন দর ছিল ৩৯ টাকা ১০ পয়সা। বাড়ার সুযোগ ছিল ৩ টাকা ৯০ পয়সা। এতটাই বেড়েছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ফুওয়াং সিরামিক, যার দরও এক দিনে যতটা সম্ভব বেড়েছে ততটাই। আগের দিন দর ছিল ১৬ টাকা ২০ পয়সা। ১ টাকা ৬০ পয়সা বা ৯.৮৭ শতাংশ বেড়ে নতুন দাম ১৭.৮০ শতাংশ।

এই দুটি কোম্পানির দরই এক দিনে দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়ে লেনদেন হয়েছে। এর বাইরে বিডি থাই ফুডের দর সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি ছুঁয়ে লেনদেন হয়েছে। দর বেড়েছে ৯.১৪ শতাংশ।

এর বাইরে সালভো ক্যামিকেলসের দর ৮.৮৪ শতাংশ, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৭.৭৯ শতাংশ, ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্ডস ফান্ডের দর ৬.৮৪ শতাংশ, জেএমআই হসপিটালের দর ৬.৬৬ শতাংশ, নাহী অ্যালুমিনিয়মের দর ৫.৯৯ শতাংশ, লাভেলো আইসক্রিমের দর ৫.১০ শতাংশ, সোনারগাঁও টেক্সটাইলের দর ৫.০৭ শতাংশ বেড়েছে।

শীর্ষ দশের বাইরে আরও একটি কোম্পানির দর ৫ শতাংশ, ২টির দর ৪ শতাংশের বেশি, ৩ টির দর ৩ শতাংশের বেশি, ১১টির দর ২ শতাংশ বেড়েছে।

দর পতনের শীর্ষ ১০

এই তালিকার শীর্ষে ছিল সাধারণ বিমা খাতের কোম্পানি। ১০টির মধ্যে চারটিই এক খাতের। এর বাইরে দুটি কোম্পানি কাগজ ও প্রকাশনা খাতের।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪.৯৯ শতাংশ দর কমেছে পেপার প্রসেসিংয়ের। দ্বিতীয় অবস্থানে ছির মনস্পুল পেপার, যার দর কমেছে ৪.৯৭ শতাংশ।

গত বছর ওটিসি মার্কেট থেকে ফেরা কোম্পানিগুলোর দর অস্বাভাবিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন হলে সেগুলো দর হারিয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক মাসে আবার ব্যাপকভাবে বেড়ে যায় দর। সম্প্রতি আবার সংশোধন হচ্ছে।

তৃতীয় অবস্থানে ছিল ওটিসি ফেরত তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল, যার দর কমেছে ৪.৯২ শতাংশ। এই কোম্পানির শেয়ারদরও কাগজ খাতের দুই কোম্পানির সঙ্গে তাল মিলিয়ে উঠানামা করছে।

চতুর্থ অবস্থানে ছিল জেমিনি সি ফুড, যেটির দর সম্প্রতি ৫৫৩ টাকা ৯০ পয়সায় উঠে গিয়ে পড়ে টানা পড়ছে। বর্তমান দর ৩৪২ টাকা ৪০ পয়সা।

বিমা খাতের চারটি কোম্পানির মধ্যে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের দর ৪.১৯ শতাংশ, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.৯৭ শতাংশ, এশিয়ান ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.৫৫ শতাংশ, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.২০ শতাংশ কমেছে।

অন্য দুটি কোম্পানি হলো জি কিউ বলপেন যার দর ৩.০৭ শতাংশ এবং ন্যাশনাল ফিড মিলের দর ৩.০৪ শতাংশ কমেছে।

এই তালিকার ৫ নম্বরে এনআরবি কমার্শিয়ার ব্যাংকের নাম থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এর লভ্যাংশ সংক্রান্ত সমন্বয় হয়েছে।

কোম্পানিটি এবার শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে যার অর্ধেক নগদ এবং অর্ধেক বোনাস। বুধবার রেকর্ড ডেটে দর ছিল ২৩ টাকা ৯০ পয়সা। অর্থাৎ দাম কমে হতে পারত ২২ টাকা ৩০ পয়সা। কিন্তু দিন শেষে দর দাঁড়িয়েছে ২২ টাাক ৮০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
‘ঈদ অবসর’ শেষে লেনদেনে ‘চার শুভ ইঙ্গিত’
ঈদের ছুটি শেষে লেনদেনে ফের ভাটা
গোমড়া মুখে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার
আয় বাড়তে থাকলেও লভ্যাংশ কমাচ্ছে ম্যারিকো
মুনাফায় ফিরলেও টানা দুই প্রান্তিকে লোকসান হাইডেলবার্গে

মন্তব্য

উপরে