× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

অর্থ-বাণিজ্য
Shaheen Iqbal is the DMD of BRAC Bank
hear-news
player

ব্র্যাক ব্যাংকের ডিএমডি হলেন শাহীন ইকবাল

ব্র্যাক-ব্যাংকের-ডিএমডি-হলেন-শাহীন-ইকবাল
‘মহামারির সময় ব্যাংকের আয় বৃদ্ধি ছাড়াও উদ্ভাবনী প্রোডাক্টস ও নতুন বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যাংককে আর্থিকভাবে লাভবান করেছেন। আগামী চার বছরে ব্র্যাক ব্যাংক ব্যবসা দ্বিগুণ করার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তা অর্জনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আমি আশা করি।’

ব্র্যাক ব্যাংকের ডিএমডি (উপব্যবস্থাপনা পরিচালক) হয়েছেন শাহীন ইকবাল। তিনি ২০১৪ সাল থেকে বেসরকারি এই ব্যাংকটির হেড অব ট্রেজারি অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশনস পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

এ তথ্য জানিয়ে ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রকৌশলী থেকে ব্যাংকার হওয়া শাহীন ইকবাল ২০০৪ সালে ব্র্যাক ব্যাংকে যোগদান করেন। ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিশেষ করে ফরেন এক্সচেঞ্জ, মানি মার্কেট, ক্যাপিটাল মার্কেট, বিনিয়োগ বিশ্লেষণ, ফিন্যান্সিয়াল প্রোডাক্টস অ্যান্ড ডেরিভেটিভস, অ্যাসেট লায়াবিলিটি ম্যানেজমেন্ট ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্টে তার বিশেষ দক্ষতা আছে।

তিনি বেক্সিমকোতে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯৯ সালে ডাচ-বাংলা ব্যাংকে যোগদানের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে তার প্রবেশ ঘটে।

শাহীন ইকবালের পদোন্নতির বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ‘উদ্ভাবনী প্রোডাক্টস ও বিজনেস সেগমেন্টগুলোকে নিবেদিত সহায়তার মাধ্যমে শাহীন ইকবাল গত কয়েক বছরে আমাদের ট্রেজারিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তার নেতৃত্বে ট্রেজারি অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশনস অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেছে।’

‘মহামারির সময় ব্যাংকের আয় বৃদ্ধি ছাড়াও উদ্ভাবনী প্রোডাক্টস ও নতুন বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যাংককে আর্থিকভাবে লাভবান করেছেন। আগামী চার বছরে ব্র্যাক ব্যাংক ব্যবসা দ্বিগুণ করার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তা অর্জনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আমি আশা করি।’

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি, চট্টগ্রাম (বর্তমানে চুয়েট) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন শাহীন ইকবাল।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার সিএফএ ইন্সটিটিউট থেকে চার্টার্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট (সিএফএ) চার্টার অর্জন করেন।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Sri Lanka is now in default

শ্রীলঙ্কা এখন ঋণখেলাপি

শ্রীলঙ্কা এখন ঋণখেলাপি কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ছুড়ে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। ফাইল ছবি/এএফপি
শ্রীলঙ্কা ঋণখেলাপি কি না জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর পি নন্দলাল উইরাসিংহে বলেন, ‘আমাদের অবস্থান খুবই স্বচ্ছ। আমরা বলেছি, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা (সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ) আমাদের (ঋণ) পুনর্গঠনে না আসবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা পরিশোধ করতে পারব না। এ কারণে এটাকে আপনি আগাম খেলাপি বলতে পারেন।’

স্বাধীন হওয়ার ৭০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপি হয়েছে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটে পড়া শ্রীলঙ্কা।

ঋণের সুদ হিসেবে আসা ৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার পরিশোধে অতিরিক্ত ৩০ দিন পার হওয়ার পর বুধবার ঋণখেলাপি হয় দেশটি।

এমন বাস্তবতায় শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলেছেন, তার দেশ ‘আগাম ‍ঋণখেলাপি’ হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কাকে ঋণখেলাপি বলেছে বিশ্বের বৃহৎ দুই ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিও।

ঋণের আংশিক বা পুরোপুরি পরিশোধে অক্ষম হলে কোনো দেশ ঋণখেলাপি হয়। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

ঋণখেলাপি দেশকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রয়োজনীয় ঋণ পেতে বেগ পেতে হয়। এর ফলে ওই দেশের মুদ্রা, অর্থনীতি নিয়েও আস্থাহীনতা বাড়তে পারে।

শ্রীলঙ্কা ঋণখেলাপি কি না জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর পি নন্দলাল উইরাসিংহে বলেন, ‘আমাদের অবস্থান খুবই স্বচ্ছ। আমরা বলেছি, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা (সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ) আমাদের (ঋণ) পুনর্গঠনে না আসবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা পরিশোধ করতে পারব না। এ কারণে এটাকে আপনি আগাম খেলাপি বলতে পারেন।

‘প্রায়োগিক ক্ষেত্রে সংজ্ঞা থাকতে পারে…তাদের জায়গা থেকে তারা এটাকে খেলাপি বলতে পারে। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। ঋণ পুনর্গঠনের আগ পর্যন্ত আমরা পরিশোধ করতে পারব না।’

বিদেশি ঋণদাতার কাছ থেকে নেয়া ৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি ঋণ পুনর্গঠন করতে চাইছে শ্রীলঙ্কা। এর মাধ্যমে দেশটি সহজে এসব ঋণ পরিশোধ করতে চাইছে।

করোনাভাইরাস মহামারি, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি মূল্য এবং কর কর্তনে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি।

বিদেশি মুদ্রার তীব্র সংকট এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতিতে দেশটিতে ওষুধ, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রীর সংকটও চরমে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে, যার কোনো কোনোটি সহিংস রূপ নিয়েছে।

আরও পড়ুন:
নিজের ব্যাটিং নিয়ে চিন্তিত নন মুমিনুল
দলীয় প্রচেষ্টায় সন্তুষ্ট অধিনায়ক
পরিবারতন্ত্রের ফল আজকের শ্রীলঙ্কা
পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ
ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছে চট্টগ্রাম টেস্ট

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
At midnight 4500 liters of soybeans were seized

মধ্যরাতে অভিযান, সাড়ে ৪ হাজার লিটার সয়াবিন জব্দ

মধ্যরাতে অভিযান, সাড়ে ৪ হাজার লিটার সয়াবিন জব্দ উপজেলার লাল মিয়া বাজারে অভিযান চালিয়ে এসব তেল জব্দ করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসায়ী সুমন রায় ও তার সহযোগীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে মাঝরাতে পাচারকালে ৪ হাজার ৫৭৩ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

এ সময় পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার লাল মিয়া বাজারে অভিযান চালিয়ে এসব তেল জব্দ করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিকুল ইসলাম অভিযান পরিচালনা করেন।

শফিকুল ইসলাম জানান, গোপন তথ্যের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, লাল মিয়া বাজার থেকে মজুতকৃত সয়াবিন তেল পাচার করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে বাজারের ব্যবসায়ী সুমন রায়ের গুদাম থেকে সয়াবিন তেল ট্রাকে লোড করার সময় হাতেনাতে ধরা হয়।

পরে গোডাউন থেকে ৫ লিটারের ৬৬৫টি বোতল এবং ১ লিটারের ১২৪৮টি বোতল জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪০০ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়। এই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ী সুমন রায় ও তার এক সহযোগীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’


আরও পড়ুন:
সরিষা তেলের দামও আকাশমুখী
মজুত ২ হাজার লিটার তেল জব্দ, জরিমানা
অবৈধ মজুত: আরও ৪৭ হাজার লিটার সয়াবিন জব্দ
৮ ভোজ্যতেল কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা
পুরোনো বোতলের সয়াবিন নতুন দামে বিক্রি, জরিমানা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Poyaboro of banks in dollar prices

ডলারের দামে ব্যাংকগুলোর ‘পোয়াবারো’

ডলারের দামে ব্যাংকগুলোর ‘পোয়াবারো’ ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতনের সুযোগে মুদ্রা বিনিময় করে সাড়ে সাত টাকা থেকে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত মুনাফা করেছে ব্যাংকগুলো। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
কোনো ব্যাংক ১ ডলারে নিচ্ছে ৯৫ টাকা, কেউবা নিচ্ছে ৯৮। অর্থাৎ ১০০ ছুঁইছুঁই। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই ডলার তারা কিনছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায়। অর্থাৎ মুদ্রা বিনিময় করে সাড়ে ৭ টাকা থেকে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত মুনাফা করেছে ব্যাংকগুলো। অথচ ৮৭ টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করে এক বছরে ব্যাংকের সর্বোচ্চ আয় হতে পারে ৭ টাকা ৮৩ পয়সা।

উত্তপ্ত ডলারের বাজার। টাকার মান পড়ছেই। বাংলাদেশ ডলারের যে দাম ঠিক করে দিয়েছে, খোলাবাজারে তার চেয়ে ১৫ টাকা বেশিতেও বিক্রি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাটি।

এ নিয়ে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার শেষ নেই। তবে এই সংকট কিন্তু দেশের ব্যাংকগুলোর জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ করে দিয়েছে।

কোনো ব্যাংক ১ ডলারে নিচ্ছে ৯৫ টাকা, কেউবা নিচ্ছে ৯৮। অর্থাৎ ১০০ ছুঁইছুঁই। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই ডলার তারা কিনছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায়।

অর্থাৎ মুদ্রা বিনিময় করে সাড়ে ৭ টাকা থেকে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত মুনাফা করেছে ব্যাংকগুলো। অথচ ৮৭ টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণ করে এক বছরে ব্যাংকের সর্বোচ্চ আয় হতে পারে ৭ টাকা ৮৩ পয়সা।

ডলারের দামে ব্যাংকগুলোর ‘পোয়াবারো’

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে এখন ১ ডলারের জন্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা খরচ করতে হচ্ছে। এর আগের সপ্তাহেও যা ছিল ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একই জায়গায় ‘স্থির’ ছিল ডলারের দর। ২০২১ সালের ৫ আগস্ট আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এর পর থেকেই শক্তিশালী হতে থাকে ডলার; দুর্বল হচ্ছে টাকা।

সবশেষ চলতি মাসের ১৬ তারিখ ডলারের বিপরীতে টাকার মানে বড় দরপতন হয়। এক দিনেই ইউএস ডলারের বিপরীতে ৮০ পয়সা দর হারায় টাকা। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক দিনে টাকার এতটা দরপতন হয়নি।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে এখন ১ ডলারের জন্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা খরচ করতে হচ্ছে। এর আগের সপ্তাহেও যা ছিল ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা।

গত ৯ মাসে টাকার বিপরীতে ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ।

তবে খোলাবাজারের পরিস্থিতি ভিন্ন। এমনিতে মানি এক্সচেঞ্জে ডলারের দাম সাধারণত ব্যাংক রেট থেকে কিছু বেশি থাকে। কিন্তু মঙ্গলবার ১০১ থেকে ১০২ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুদ্রাটি।

এই সুযোগ নিচ্ছে ব্যাংকও। তাদের কাছে ডলার কিনতে যাওয়ার পর একেক ব্যাংক একেক দাম চাইছে গ্রাহকদের কাছ থেকে।

কোন ব্যাংকে কত রেট

ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে দামে ডলার কেনে বা বিক্রি করে, তাকে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার বলে। এ হিসাবে আন্তব্যাংক রেটের চেয়ে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে নগদ ডলার বিক্রি করছে ব্যাংকগুলো। কিন্তু এই ব্যবধান বা পার্থক্য এক-দেড় টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।

ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার বিক্রি করলে বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে থাকে। এর আগে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর বিক্রি করা ডলারের দর আর আন্তব্যাংক রেটের মধ্যে বেশি ব্যবধান হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই পার্থক্যের একটা সীমা নির্ধারণ করে দিত; সেটা এক থেকে দুই টাকার মধ্যে থাকত। কিন্তু কয়েক মাস ধরে ব্যাংকগুলো আন্তব্যাংক রেটের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডলার বিক্রি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো হস্তক্ষেপ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

সে কারণে দিন যত যাচ্ছে, ইচ্ছেমতো যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দাম বাড়িয়ে চলেছে ব্যাংকগুলো।

বিভিন্ন ব্যাংকের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানার জনতা ব্যাংক থেকে এক ডলার কিনতে গুনতে হয়েছে ৯৪ টাকা। আর গ্রাহকের থেকে ডলার কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকটির দর ৯২ টাকা।

অগ্রণীতে বিক্রি হয়েছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সা। আর কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকটি নিয়েছে ৯০ টাকা ৫০ পয়সা।

সোনালীতে ১ ডলার কিনতে গুনতে হচ্ছে ৯২ টাকা ৪৫ পয়সা। আর ব্যাংকটি কিনেছে ৯২ টাকা দরে।

রূপালীতে ১ ডলার কিনতে দিতে হচ্ছে ৮৭ টাকা ৬০ পয়সা। আর ব্যাংকটি নিজে কিনছে ৮৬ টাকা ৬০ পয়সা দরে।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকে ১ ডলার কিনতে হচ্ছে ৮৬ টাকা ৬০ পয়সায়।

ব্যাংক এশিয়ার গ্রাহকের কাছ থেকে ডলার কেনার ক্ষেত্রে দিচ্ছে ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু ব্যাংকটি ১ ডলার বিক্রি করছে ৮৬ টাকা ৮০ পয়সায়।

ব্র্যাক ব্যাংকে ১ ডলারে গুনতে হবে ৮৭ টাকা ৬০ পয়সা। আর ব্যাংকটি গ্রাহক থেকে কেনার ক্ষেত্রে দিচ্ছে ৮৬ টাকা ৬০ পয়সা।

সিটি ব্যাংকের ১ ডলার সমান ৮৬ টাকায় কেনাবেচা করছে।

ইস্টার্ন ব্যাংকে এক ডলারে ৮৭ টাকা ৬০ পয়সা গুনতে হবে। আর ব্যাংকটি নিজে কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহককে দিচ্ছে ৮৬ টাকা ৬০ পয়সা। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকেও একই দরে বেচাকেনা হচ্ছে।

প্রাইম ব্যাংক বুধবার ৯৮ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকটির রেট ৯৬ টাকা।

বিদেশি ব্যাংক কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনে ডলারের সবচেয়ে চড়া দাম। ব্যাংকটির ওয়েরসাইটে দেখা গেছে, ১ ডলার বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যাংকটি নিচ্ছে ৯৮ টাকা। আর গ্রাহকের কাছ থেকে কেনার ক্ষেত্রে ১ ডলার সমান ৮৬ টাকা ৬০ পয়সা।

সিটি ব্যাংক এনএ-তে ১ ডলার ৮৬ টাকা ৬৭ পয়সা দরে কেনাবেচা হচ্ছে।

ব্যাংকাররা যা বলছেন

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডলারের বাজারে চরম অস্থিরতা চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করেও বাজার স্বাভাবিক রাখতে পারছে না। এভাবে হস্তক্ষেপ করে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে না। বাজারকে বাজারের মতো চলতে দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে যদি আন্তব্যাংক রেট আরও বেশি হয়, তাও যেতে দিতে হবে। তাহলে ব্যাংকগুলো ও কার্ব মার্কেটের সঙ্গে ব্যাংক রেটে ডলারের যে পার্থক্য তা কমে আসবে। ধীরে ধীরে বাজারও স্থিতিশীল হয়ে আসবে।’

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামস-উল-ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মানতে গিয়ে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। আমদানি চাহিদা বাড়ছে, রেমিট্যান্স কমেছে। ডলারে কিছু ব্যাংক আগ্রাসী রেট ধরে দিচ্ছে। এটাতে মিডলম্যান লাভবান হচ্ছে, প্রবাসীরা হয় না। সকল ব্যাংকে এক রেট হওয়া উচিত।’

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এমডি আবুল কাশেম মোহাম্মদ শিরিন বলেন, ‘সারা দেশের সব ব্যাংকে এক রেট করা উচিত। ব্যাংকের চেয়ে হুন্ডি রেট বেশি দিলে ব্যাংকের রেমিট্যান্স কমে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক একটি রেট দিলে আমরা পরিপালন করি, অন্য যারা করছে না তারা রেমিট্যান্স বেশি পায়। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তাই যেকোনো নিয়ম করলে যাতে সবাই পরিপালন করে সেই ব্যবস্থা করা উচিত।’

কী বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খোলা বাজারে ডলার অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। চাহিদা বেশি, তাই গ্রাহকদের অতিপ্রয়োজনীয় সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী ডলারের দাম বেশি নিয়ে অতি মুনাফা করছে।’

আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোও বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে এমন প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ‘যেসব ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দরে ডলার বিক্রি করছে, তাদের বিষয়টি তদারকি করা হবে। কোনো অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
মুনাফার লোভে ডলার কিনে মাথায় হাত
ডলার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই: গভর্নর
ব্যাংকেও সেঞ্চুরি হাঁকানোর পথে ডলার
ডলার সংকটে বেসামাল অর্থনীতি
খোলা বাজারে ডলারের সেঞ্চুরি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
16 crore internet users in the country Mustafa Jabbar

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১৮ কোটি: মোস্তাফা জব্বার

দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১৮ কোটি: মোস্তাফা জব্বার বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে হুয়াওয়ে এশিয়া প্যাসিফিক ডিজিটাল ইনোভেশন কংগ্রেসে বক্তব্য দেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ছবি: সংগৃহীত
‘ইন্টারনেট বাংলাদেশের জনসাধারণের জীবনকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগোপযোগী নেতৃত্ব এবং এই খাতের সব অংশীজনের সার্বিক সহযোগিতায় কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব সময়েও বাংলাদেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে।’

২০২১ সালের শেষ দিকে এসে দেশে মোবাইল ব্রডব্যান্ড কভারেজ ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৮ কোটি জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে সংখ্যাটি ছিল মাত্র চার কোটি।

সিঙ্গাপুরে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে হুয়াওয়ে এশিয়া প্যাসিফিক ডিজিটাল ইনোভেশন কংগ্রেস-২০২২। সম্মেলনের প্রথম দিনে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডিজিটাল স্ট্র‍্যাটেজি অ্যান্ড প্র‍্যাকটিস’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে মোস্তাফা জব্বার এ তথ্য জানান।

হুয়াওয়ে থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ পরিকল্পনা ঘোষিত হওয়ার পর বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাত দ্রুত বিকাশ লাভ করার চিত্রও তুলে ধরেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট বাংলাদেশের জনসাধারণের জীবনকে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগোপযোগী নেতৃত্ব এবং এই খাতের সব অংশীজনের সার্বিক সহযোগিতায় কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব সময়েও বাংলাদেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে।’

২০২১ সালে জাতিসংঘের ব্রডব্যান্ড কমিশন প্রকাশিত বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন অর্থাৎ সাশ্রয়ী মূল্যে দেশের মানুষকে ইন্টারনেট সেবা দেয়ার সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে ডিজিটাল সেবা কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে তার ওপর আলোকপাত করেন মোস্তাফা জব্বার।

হুয়াওয়ের আয়োজিত এই সম্মেলনে মালয়েশিয়ার বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন মন্ত্রী দাতো শ্রী ড. আদহাম বিন বাবা, হুয়াওয়ের রোটেটিং চেয়ারম্যান কেন হু, আসিয়ান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. ইয়াং মি ইং, থাইল্যান্ডের ডিজিটাল অর্থনীতি ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব আজারিন পাত্তানাপাঞ্চাই, হুয়াওয়ে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট সাইমন লিন বক্তব্য দেন।

হুয়াওয়ে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে হুয়াওয়ে একটি পরিপূর্ণ আইসিটি সল্যুশন পোর্টফোলিও প্রতিষ্ঠা করেছে, যা গ্রাহকদের টেলিকম ও এন্টারপ্রাইজ নেটওয়ার্ক, ডিভাইস এবং ক্লাউড কম্পিউটিং সুবিধা দিয়ে থাকে।

প্রতিষ্ঠানটি ১৭০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে সেবা দিচ্ছে, যা বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ জনসংখ্যার সমান। এক লাখ ৯৭ হাজারের বেশি কর্মী নিয়ে বিশ্বব্যাপী টেলিকম অপারেটর, উদ্যোক্তা ও গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করে ভবিষ্যতের তথ্য-প্রযুক্তি ভিত্তিক সমাজ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে হুয়াওয়ে।

আরও পড়ুন:
সত্যিই কি নতুন স্মার্টফোন আনছে হুয়াওয়ে
চীনের ট্রেনিং শেষে এখন গ্লোবাল কম্পিটিশনে বাংলাদেশ দল
হুয়াওয়ে ক্লাউডে প্রথম ভার্চুয়াল মানুষ
তরুণদের নিয়ে আবার শুরু হুয়াওয়ের সিডস ফর দ্য ফিউচার
স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরির সরঞ্জাম দিল হুয়াওয়ে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Pakistan bans import of 36 luxury goods

পাকিস্তানে ৩৮ বিলাস পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা

পাকিস্তানে ৩৮ বিলাস পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা ৩৮টি আমদানি পণ্যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। ছবি: সংগৃহীত
সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে দিনরাত কাজ করছেন। এ জন্য সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় বিলাসবহুল সামগ্রী আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

শ্রীলঙ্কার মতো অর্থনৈতিক মন্দা আর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। ইতিহাসের সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে পাকিস্তানি রুপির। প্রতি ডলারের বিপরীতে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানি রুপির বাজারদর ২০০-তে পৌঁছেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ৩৮ অপরিহার্য নয়, এমন বিলাসবহুল পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসলামাবাদ। এ পদক্ষেপকে ‘জরুরি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা’ বলছে পাকিস্তান সরকার।

দেশটির তথ্যমন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব ইসলামাবাদে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে নিষেধাজ্ঞার এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। । ‘জরুরি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার’ আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

পাকিস্তানে ৩৮ বিলাস পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা
ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব। ছবি: ডন নিউজ

এর কিছু পরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জানান, এ সিদ্ধান্তে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা রক্ষা পাবে।

টুইটে শাহবাজ বলেন, ‘আমরা কঠোরতা অনুশীলন করব। আর্থিকভাবে শক্তিশালী ব্যক্তিদের এই প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিতে হবে। যাতে আমাদের মধ্যে কম সুবিধাপ্রাপ্তদের পিটিআই (ইমরান খানের দল) সরকারের চাপানো বোঝা বহন করতে না হয়।’

ক্রমবর্ধমান আমদানি ব্যয়, হিসাবের ঘাটতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাসের কারণে গত কয়েক সপ্তাহে ডলারের বিপরীতে রুপির দর হারিয়েছে ব্যাপকহারে। এই পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তানের নতুন সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে দিনরাত কাজ করছেন। এ জন্য সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় বিলাসবহুল সামগ্রী আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

নিষিদ্ধ হয়েছে যেসব পণ্য

গাড়ি, মুঠোফোন, সিগারেট, গৃহস্থালির সরঞ্জাম, ফলমূল, ক্রোকারিজ, ব্যক্তিগত অস্ত্র ও গোলাবারুদ, জুতা, বৈদ্যুতিক বাতি, হেডফোন ও লাউড স্পিকার, সস, দরজা ও জানালার কাঠামো, ভ্রমণে ব্যবহৃত ব্যাগ, স্যানিটারি পণ্য, মাছ, কার্পেট, সংরক্ষিত ফলমূল, টিস্যু পেপার, আসবাব, শ্যাম্পু, বেকারি পণ্য, বিলাসবহুল ম্যাট্রেস ও স্লিপিং ব্যাগ, জ্যাম ও জেলি, কর্নফ্লেক্স, প্রসাধনী, হিটার ও ব্লোয়ার, সানগ্লাস, রান্নাঘরের সরঞ্জাম, হিমায়িত মাংস, ফলের জুস, পাস্তা, আইসক্রিম, দাড়ি কামানোর সামগ্রী, বিলাসী চামড়াজাত পোশাক, বাদ্যযন্ত্র, সেলুনের সরঞ্জাম, চকলেট ও কোমল পানীয় আমদানীতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন জরুরি পরিস্থিতি চলছে। পাকিস্তানের জনগণকে ধৈর্য্য ধরতে হবে। অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে মেনে নিতে হবে। যদিও এর জন্য ৬ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিতে পড়তে হবে। বিলাসবহুল পণ্যের ওপর এই নিষেধাজ্ঞায় ৬০০ কোটি ডলার খরচ কমবে।

‘ইতোমধ্যে সেসব আমদানি আদেশের ক্রেডিট চিঠি খোলা হয়েছে বা অর্থ প্রদান করা হয়েছে সেগুলোর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।

‘আমাদের আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। সরকার এখন রপ্তানির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার আওতায় স্থানীয় শিল্পের উন্নতি ঘটবে, কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।’

তথ্যমন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব আরও বলেন, ‘নতুন ব্যবস্থাগুলো চলতি অ্যাকাউন্টের ঘাটতির ওপরও প্রভাব ফেলবে। তবে পদক্ষেপটি একটি “জরুরি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা” এর অধীনে নেয়া হয়েছিল। ভোক্তাদের ওপর জ্বালানির দামের প্রভাব কীভাবে কমানো যায় সে বিষয়েও ভাবছে সরকার।’

পিটিআই-এর নেতৃত্বাধীন সাবেক সরকারের সমালোচনা করে আওরঙ্গজেব বলেন, ‘ইমরান খান সরকার মূল্যস্ফীতির তীব্র বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সন্ত্রাসের জন্য দায়ী। তিনি (ইমরান খান) একটি অপরিশোধিত জ্বালানিতে ভর্তুকি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি অর্থনীতির সঙ্গে খেলছিলেন। আগত সরকারকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন।’

আগাম নির্বাচনের জন্য পিটিআই-এর ক্রমাগত আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে মন্ত্রী বলনে, সরকার এবং তার মিত্ররা এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। কখন নির্বাচন করা হবে এটা আমাদের সিদ্ধান্ত। আপনি যদি নির্বাচন করতে চান, তাহলে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করার আগেই তা করতেন।’

বর্তমান সরকারই কেবল বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট দেশককে থেকে বের করে আনতে পারে বলে দাবি করেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মুদ্রাস্ফীতি কমানোর জন্য কাজ করছেন। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য সার্বক্ষণিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

‘বর্তমান অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো সমাধান করার ক্ষমতা এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে আমাদের। আমদানি করা পণ্য নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপটি অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে নেয়া হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে এ ইস্যুতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ।’

সরকারের এমন পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন পিটিআই নেতা হাম্মাদ আজহার। তার ভাষ্য, নিষিদ্ধ হওয়া পণ্যগুলো মোট আমদানির ছোট একটা অংশ কেবল।

টুইটে তিনি বলেন, ‘ লাখ লাখ ব্যবসায়ী এবং দোকানদার এই পদক্ষেপে প্রভাবিত হবে। এটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলবে। এতে চোরাচালান বাড়ার আশঙ্কাও তীব্র। বৃদ্ধিতেও অবদান রাখবে।

আরও পড়ুন:
শাহবাজের পাকিস্তানের পাশেও সৌদি
বেলুচ নারী শিক্ষক কেন আত্মঘাতী হামলাকারী?
করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিস্ফোরণ, তিন চীনাসহ নিহত ৪
সৌদি যাচ্ছেন শাহবাজ, সঙ্গে নাতি-নাতনি
নতুন পাসপোর্ট পেলেন নওয়াজ শরিফ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Inflation is taking away the extra income of garment workers

মূল্যস্ফীতি কেড়ে নিচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের বাড়তি আয়

মূল্যস্ফীতি কেড়ে নিচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের বাড়তি আয়
সানেমের জরিপের তথ্য বলছে, পোশাক শ্রমিকরা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি কর্মঘণ্টা কাজ করছেন। বেতন ও ওভারটাইম মিলে আয় বাড়লেও বাড়তি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে তা ব্যয় হয়ে যাচ্ছে।

করোনা মহামারি কাটিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পোশাক শ্রমিকদের বেতন ও ওভারটাইম বাড়লেও তা খেয়ে দিচ্ছে মূল্যস্ফীতি। কারণ এ সময়ে চালে ব্যয় বেড়েছে ১৩ শতাংশ আর বাড়িভাড়া বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

পোশাক শ্রমিকরা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি কর্মঘণ্টা কাজ করছেন। গড়ে ১০ ঘণ্টার শ্রমে ভালো পারিশ্রমিক আসছে। এর সঙ্গে আছে ওভারটাইম। বেতন ও ওভারটাইম মিলে আয় বাড়লেও বাড়তি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে তা পকেট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকনোমিক মডেলিং (সানেম) এবং পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ চ্যানেল দ্য গার্মেন্ট ওয়ার্কার ডায়েরিসের (জিডব্লিউডি) যৌথ জরিপের এ তথ্য বৃহস্পতিবার তুলে ধরে সানেম।

জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত ওয়েবিনারে এসব তথ্য তুলে ধরেন সানেম চেয়ারম্যান বজলুল হক খন্দকার এবং জিডব্লিউডির মাঠ ব্যবস্থাপক ফারাহ মারজান।

জরিপে শ্রমিকদের এ সংকটময় পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে তাদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। শ্রমিকদের জন্য রেশনিংয়ের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সানেমের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘২০২০ সাল থেকে সপ্তাহভিত্তিতে শ্রমিকদের গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা এবং শ্রমিকদের কাছে থাকা ডায়েরি থেকে নেয়া হিসাবের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

জরিপে উঠে আসা ফল থেকে ব্র্র্যান্ড-ক্রেতা, উদ্যোক্তা ও মালিক পক্ষ যাতে নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপ নিতে পারে সে ব্যাপারে সহায়তা দেয়াও জরিপের উদ্দেশ্য।

এক হাজার ৩০০ শ্রমিক জরিপে অংশ নেন, যাদের ৭৬ শতাংশই নারী। জরিপ এলাকা ছিল ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া ও চট্টগ্রাম।

জরিপে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কে তুলনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০২০ সালের এপ্রিলে লকডাউন শুরুর পর থেকেই শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা বেড়েছে। এতে বেতনের সঙ্গে ওভারটাইমসহ শ্রমিকদের আয়ও বেড়েছে। তবে যে পরিমাণ আয় বেড়েছে তার চেয়ে বেশি হারে বেড়েছে চালের দাম।

এ সময়ে শ্রমিকরা যে ধরনের চাল কিনে থাকেন সেগুলোর দর বেড়েছে ১৩ শতাংশ। এ সময়ে বাড়ি ভাড়া বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

জরিপের সাক্ষাৎকারে একজন শ্রমিক জানান, করোনা-পরবর্তী সময়ের তুলনায় এখন তারা ভালো আছেন। কারণ করোনার আগে কারখানায় কাজ কম ছিল। এ কারণে বেতনও নিয়মিত ছিল না। প্রতি মাসে বেতনের অর্ধেকের মতো খাওয়া বাবদ খরচ হয়ে যেত। এখন নিয়মিত বেতন পান তিনি।

জরিপে দেখা যায়, করোনা টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন অন্তত ৮০ শতাংশ শ্রমিক। নারী শ্রমিকদের মধ্যে এ হার ৭৭ শতাংশ। তবে দ্বিতীয় ডোজ কত শ্রমিক পেয়েছেন সে ব্যাপারে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

করোনাকালে মাত্র ১০ শতাংশ শ্রমিক তাদের সন্তানের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পেরেছেন।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে পোশাক খাতে রপ্তানি আদেশ অনেক বেড়েছে। ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন উদ্যোক্তারা। এতে শ্রমিক সংকট দেখা দিচ্ছে। এ কারণে শ্রমিকদের দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করাতে হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাকালে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে সরকারের দেয়া প্রণোদনার আওতায় ডিজিটাল মাধ্যমে বেতন পেতেন শ্রমিকরা।

২০২০ সালের এপ্রিলে ৭৬ শতাংশ বা প্রায় ২০ লাখ শ্রমিক এ ব্যবস্থায় যুক্ত ছিলেন। তবে তার তিন মাস পরই আবার নগদ বেতন পরিশোধের পদ্ধতিতে ফিরে গেছেন মালিকরা। এখন তা ৫৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

কী কারণে ডিজিটালাইজেশনের এ প্রক্রিয়া থেমে গেল তা জেনে ব্যবস্থা নেয়া দরকার বলে মন্তব্য করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

আরও পড়ুন:
প্রতিবন্ধিতা জরিপ: পরিসংখ্যান ব্যুরোর সঙ্গে সমাজসেবার সমন্বয় দাবি
করোনার ধাক্কা সামলেছে ৬০ ভাগ প্রতিষ্ঠান: সানেম
ভূমি জরিপের ভোগান্তি কমাতে উদ্যোগ

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The central bank in the field to control the value of the dollar

ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে মাঠে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে মাঠে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে চারটি তদারকি টিম গঠন করে মাঠে নেমেছে। অলংকরণ: মামুন হোসাইন
সরকার থেকে আভাস মিলেছে, কার্ব মার্কেটের মতো ইচ্ছেমতো দামে ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশেই বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে চারটি তদারকি টিম গঠন করে মাঠে নেমেছে।

ডলারের বাজার স্বাভাবিক করতে এবার মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে পরিদর্শন শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চারটি পরিদর্শক দল।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার বা ব্যাংক রেটের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডলার কেনা-বেচা নিয়ে শোরগোলের মধ্যে এ পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম এ খবর নিশ্চিত করেছেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বাজার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই পরিদর্শন চলবে।’

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমছে কিছুদিন ধরেই। সোমবার বড় দরপতন হয়। এক দিনেই আমেরিকান ডলারের বিপরীতে ৮০ পয়সা দর হারায় টাকা। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক দিনে টাকার এত বড় দরপতন হয়নি।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ওইদিন এক ডলারের জন্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা খরচ করতে হয়। বুধ ও বৃহস্পতিবারও একই দামে বাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ৭০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছিল। ঈদের ছুটির আগে ২৭ এপ্রিল ডলারের বিপরীতে টাকার মান ২৫ পয়সা কমিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তার আগে প্রতি ডলারের জন্য ৮৬ টাকা ২০ পয়সা লাগত।

এরপর ১০ এপ্রিল আরও ২৫ পয়সা কমিয়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সবশেষ সোমবার এক লাফে ৮০ পয়সা বাড়িয়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়।

বেসরকারি ইস্টার্ন ও প্রাইম ব্যাংক বৃহস্পতিবার ৯৮ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক থেকে এক ডলার কিনতে খরচ হয়েছে ৯৩ টাকা ৯০ পয়সা, অগ্রণী ব্যাংকে ৯২ টাকা ৫০ পয়সায় এবং সোনালী ব্যাংকে ৯২ টাকা ৪৫ পয়সায় ডলার বেচাকেনা হয়েছে।

এই ডামাডোলে মঙ্গলবার কার্ব মার্কেট বা খোলাবাজারে ডলারের দর সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ১০০ টাকা অতিক্রম করলে হইচই পড়ে যায় গোটা দেশে। এদিন টাকার বিপরীতে ডলার বেচাকেনা হয় ১০৪ টাকা পর্যন্ত।

অবশ্য বুধবার তা কমে ১০০ টাকায় নেমে আসে। বৃহস্পতিবার আরও কমে ৯৬ টাকায় চলে লেনদেন।

বাড়তি মুনাফার আশায় যারা খোলাবাজার থেকে ১০০ টাকার বেশি দরে ডলার কিনেছিলেন তাদের এখন মাথায় হাত। পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটতে থাকা ডলার হোঁচট খেয়ে এখন উল্টো দিকে হাঁটছে।

তবে ব্যাংকগুলো বৃহস্পতিবারও বেশি দামে ডলার বিক্রি করেছে। কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক নির্ধারিত রেটের চেয়ে ১০ টাকা বেশি দামে ডলার বিক্রি করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সাড়ে ৫ টাকা থেকে ৭ টাকা বেশি দামে বিক্রি করেছে আমেরিকান ডলার।

সরকার থেকে আভাস মিলেছে, কার্ব মার্কেটের মতো ইচ্ছেমতো দামে ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশেই বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে চারটি তদারকি টিম গঠন করে মাঠে নেমেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তারা কয়েকটি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুপুর থেকে শুরু করেন ট্রেজারি ও ফরেন এক্সচেঞ্জ বিভাগের নথি ও ডলার সংগ্রহের অনলাইন ও নগদে বেচাকেনার তথ্য যাচাইয়ের কাজ।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বিনিময় হার নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি সরেজমিনে দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য চারটি টিম কাজ করছে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেয়া ব্যাংক রেট আর ব্যাংকগুলোর ডলার বিক্রির রেটের মধ্যে এতো বেশি ব্যবধান কোনোভাবেই ‘কাম্য’ নয় উল্লেখ করে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমদানি ব্যয় কমতে শুরু করেছে। বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। চাহিদা মোতাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করছে।

‘বাজারে কোনো ধরনের সংকট নেই। তাই ব্যাংকগুলো যেন আর বেশি দামে ডলার বিক্রি করতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই টিম চারটি কাজ করবে।’

আরও পড়ুন:
ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ঋণের সুদ মওকুফ নয়
তিন বছরের জন্য কৃষি ঋণ পুনঃতফসিলে সুযোগ
ডলার বিক্রি করেও দামে লাগাম পরানো যাচ্ছে না
পুনঃতফসিল ঋণ আদায় ছাড়া সুদ আয় খাতে নয়
জাল নোট প্রতিরোধে ভিডিও প্রচারের নির্দেশ

মন্তব্য

উপরে