× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

অর্থ-বাণিজ্য
The two percent barrier also jumps in transactions with the index
hear-news
player

‘দুই শতাংশের বাধা’ কাটায় সূচকের সঙ্গে লেনদেনেও লাফ

দুই-শতাংশের-বাধা-কাটায়-সূচকের-সঙ্গে-লেনদেনেও-লাফ মন্দাভাব থেকে বের হয়ে আসার ইঙ্গিত পাওয়ার পর ব্রোকারেজ হাউজে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি বাড়তে দেখা গেছে। ছবি: নিউজবাংলা
দিন শেষে লেনদেন যা হয়েছে, সেটি চলতি মাস তথা রমজানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। রোজায় বড় বিনিয়োগের আশ্বাস আসার পর প্রথম কর্মদিবসেই লেনদেন আগের কর্মদিবসের তুলনায় আড়াই শ কোটি টাকার বেশি কমে গিয়ে হয়েছিল ৮৩৬ কোটি ৬২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। আর আজ হাতবদল হয়েছে ৭৫৪ কোটি ৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। আগের দিন লেনদেন ছিল ৬০৫ কোটি ৯৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

পুঁজিবাজারে এক দিনে কোনো কোম্পানির শেয়ারের দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা দুই শতাংশ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশ করার নির্দেশ জারির পর দিনও আবার উত্থান হলো পুঁজিবাজারে। সব মিলিয়ে এই তিন দিনে সূচকে যোগ হলো ১৭৮ পয়েন্ট। তবে এখন রমজানের আগের অবস্থান থেকে সূচক কম ৯৫ পয়েন্ট।

টানা তৃতীয় দিন সূচক বাড়ার ঘটনার স্বস্তির পাশাপাশি পুঁজিবাজারের জন্য ইতিচক যে বিষয়টি দেখা গেছে, সেটি হলো লেনদেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে লেনদেন যে অবস্থানে নেমেছিল, সেখান থেকে প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে তা।

রোজা শুরুর পর থেকে টানা নিম্নমুখি পুঁজিবাজারে যখন হতাশা গাঢ় হচ্ছিল, তখন মঙ্গলবার এক পর্যায়ে ৫৯ পয়েন্ট কমে গিয়েও লেনদেন শেষ করে ৪৭ পয়েন্ট বেড়ে। মন্দাভাব থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টার ইঙ্গিত সেদিনই ছিল। সেটি আরও স্পষ্ট হয় বুধবার আরও ৭৬ পয়েন্ট বাড়ার মধ্য দিয়ে।

এদিনই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি শেয়ারের দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ করে দেয়া আদেশ সংশোধন করে জানায়, এখন থেকে এক দিনে সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ দর কমতে পারবে। আর বৃদ্ধির সীমা আগের মতোই থাকবে ১০ শতাংশ।

ইউক্রেনে রুশ হামলার পর পুঁজিবাজারে ধস ঠেকাতে গত ৮ মার্চ এক দিনে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ১০ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়টি বাজারের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা দিলেও পরে দেখা যায়, এটি লেনদেন কমে যাওয়ার একটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

পুঁজিবাজারে এক দিনে কোনো কোম্পানির ২ শতাংশ দরপতন মোটেও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। দাম কমলে শেয়ারের চাহিদা বাড়লে আবার দর বাড়ার প্রবণতাও দেখা দেয়। কিন্তু ২ শতাংশের এই নির্দেশনা আসার পর দেখা যাচ্ছিল, ২ শতাংশ দাম কমে গেলে শেয়ারের আর ক্রেতা পাওয়া যায় না। এভাবে দিনের পর দিন কোম্পানিগুলোর দরপতন হচ্ছিল। আর ক্রেতা না থাকায় লেনদেন ক্রমেই কমছিল।

রোজা শুরুর আগে বাজারে এক হাজার এক শ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হলেও গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল তা নেমে আসে চার শ কোটি টাকার ঘরে।

গত দুই দিন সূচকের পাশাপাশি লেনদেনও কিছুট গতি পেতে থাকে। এর মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ২ শতাংশের এই বাধা দূর করে আদেশ দেয়ার পর বাজার সংশ্লিষ্টরা একে ইতিবাচক আখ্যা দেন, যদিও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় ছিল যে, দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ৫ শতাংশ করার কারণে আবার দরপতন হয় কি না।

‘দুই শতাংশের বাধা’ কাটায় সূচকের সঙ্গে লেনদেনেও লাফ
বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরুর পর বিনিয়োগকারীরা যে সতর্ক ছিলেন, সেটাও বোঝা যায়। সকাল ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সূচক বাড়তে থাকলেও এর পরের আধা ঘণ্টায় তা আবার পড়তে থাকে। তবে এরপর আবার ক্রয়চাপ তৈরি হয়। বেলা সোয়া ১১টা থেকে শেষ পর্যন্ত ঢেউয়ের মতো করে সূচক বাড়তে থাকে।

শেষ পর্যন্ত আগের তুলনায় সূচক বাড়ে ৫৫ পয়েন্ট। তবে শেষ মুহূর্তের সমন্বয়ের আগ মুহূর্তে সেটি বেড়েছিল ৬৪ পয়েন্ট।

দিন শেষে লেনদেন যা হয়েছে, সেটি চলতি মাস তথা রমজানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। রোজায় বড় বিনিয়োগের আশ্বাস আসার পর প্রথম কর্মদিবসেই লেনদেন আগের কর্মদিবসের তুলনায় আড়াই শ কোটি টাকার বেশি কমে গিয়ে হয়েছিল ৮৩৬ কোটি ৬২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। আর আজ হাতবদল হয়েছে ৭৫৪ কোটি ৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। আগের দিন লেনদেন ছিল ৬০৫ কোটি ৯৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

রোববার এক দিনে ৩৪৭টি কোম্পানির দর কমেছিল। বিপরীত চিত্র দেখা গেছে আজ। যতগুলো কোম্পানি দর হারিয়েছে তার প্রায় ছয়গুণ কোম্পানির দর বেড়েছে। ৩০০টি শেয়ারের দাম বেড়ে ও ২৫টি অপরিবর্তিত দামে লেনদেন হয়েছে। বিপরীতে কমেছে ৫৫টির দর। এর মধ্যে বেশ কিছু কোম্পানির দর সমন্বয় হয়েছে লভ্যাংশ ইস্যুতে।

দর পতনের সীমা ২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে উন্নীতকরণ বাজারের জন্য ইতিবাচক হয়েছে বলে মনে করেন ট্রেজার সিকিউরিটিজের চিফ অপারেটিং অফিসার মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাজারে একটা ফ্লেক্সিবিলিটি তৈরি হয়েছে। যার কারণে আগের দিনের চেয়ে প্রায় দেড় শ কোটি টাকা টার্নওভার বেড়েছে।’

তবে বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে- এমন সিদ্ধান্তে এখনই আসতে চান না তিনি। বলেন, ‘বরং ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। লেনদেন ৮০০ থেকে ১২০০ কোটি টাকার মধ্যে চলে আসলে বলা যাবে বাজার ফিরেছে। এতে করে যারা টাকা ক্যাশ করে সাইডলাইনে আছেন, বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন তারাও বাজারে ফিরবেন। ওই টাকাগুলোও বাজারে আসতে শুরু করবে।’

সূচক বাড়াল যেসব কোম্পানি

সূচকে সর্বোচ্চ ৪.৯৪ পয়েন্ট যোগ করেছে গ্রামীণফোন। কোম্পানিটির ০.৭৮ শতাংশ দর বৃদ্ধি পেয়েছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আইসিবির দর বেড়েছে ৩.৪১ শতাংশ আর এতে সূচক বেড়েছে ৪.০১ পয়েন্ট।

রবির ১.৫৩ শতাংশ দর বৃদ্ধিতে সূচক বেড়েছে ৩.৮৩ পয়েন্ট। আর ১.১৭ শতাংশ দর বাড়ায় বেক্সিমকো সূচকে যোগ করেছে ২.১৮ পয়েন্ট।

এছাড়া ১ পয়েন্টের বেশি সূচক বাড়িয়েছে আইপিডিসি, লাফার্জ হোলসিম, এনআরবিসি ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, ব্যাংক এশিয়া ও লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স।
সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ২৫.৩৫ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ৩.৩৬ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংক। প্রাইম ব্যাংকের ৪.৯৮ শতাংশ দর পতনে সূচক কমেছে ১.৮২ শতাংশ।

এছাড়া সূচক পতনে ভূমিকা রেখেছে ফরচুন শুজ, আল আরাফাহ ব্যাংক, ইউনাইটেড পাওয়ার, রেনাটা, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, সোনালী পেপার ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংক। তবে কোনোটিই এক পয়েন্ট সূচক কমাতে পারেনি।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

একমাত্র কোম্পানি হিসেবে বিডি কমের দর বেড়েছে দিনের সর্বোচ্চ। ৯.৭৩ শতাংশ দর বেড়ে প্রতিটি শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৩৭ টাকা ২০ পয়সায়। আগের দিন শেয়ারদর ছিল ৩৩ টাকা ৯০ পয়সা।

এরপরেই আইডিসি ও এনআরবিসি ব্যাংকের দর বেড়েছে ৭ শতাংশ করে। আইপিডিসির প্রতিটি শেয়ার গতকাল লেনদেন হয় ৪৯ টাকা ৩০ পয়সায়। আজকে ৫৩ টাকা ৪০ পয়সায় বেচাকেনা হলেও শেষ পর্যন্ত দর দাঁড়িয়েছে ৫২ টাকা ৯০ পয়সায়।

আর এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ারদর সাত শতাংশ বেড়ে ২৪ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়েছে। গতকাল এটি লেনদেন হয়েছে ২৩ টাকা ৯০ পয়সায়।

মোজাফ্ফর স্পিনিংয়ের ৬.৮২ শতাংশ, ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের ৬.২৫ শতাংশ, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্সের ৫.৯৬ শতাংশ, এসইএমল লেকচার ইক্যুয়িটি ফান্ডের ৫.৮৮ শতাংশ দর বেড়েছে।

পাঁচ শতাংশের ওপর দর বেড়েছে এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স, ইনটেক ও আমরা টেকনোলজিসের।

দর পতনের শীর্ষ ১০

এই তালিকার শীর্ষে প্রিমিয়ার ব্যাংককে দেখালেও আসলে এর দাম অতটা কমেনি।

পাঁচ শতাংশের বেশি দর কমার সুযোগ না থাকার পরও এই পরিমাণ দর কমার কারণ এর লভ্যাংশ সমন্বয়ের ইস্যু।

কোম্পানিটি এবার ১০ শতাংশ বোনাসের পাশাপাশি সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। বুধবার রেকর্ড ডেটে দাম ছিল ১৬ টাকা ২০ পয়সা। বোনাস সমন্বয়ে দাম হয় ১৪ টাকা ৬০ পয়সা। দর কমার সুযোগ ছিল ৬০ পয়সা। এই পরিমাণই কমেছে দাম।

ফলে ১৩.৫৮ শতাংশ দাম কমার বিষয়টি দেখালেও আসলে কমেছে ৩.৭০ শতাংশ।

দরপতনের দ্বিতীয় স্থানে দেখানো প্রাইম ব্যাংকের দরই আসলে সবচেয়ে বেশি ৪.৯৭ শতাংশ কমেছে। এই ব্যাংকটির বিনিয়োগকারীদের জন্য ঘোষণা করা শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৭৫ পয়সা লভ্যাংশের রেকর্ড ডেট গেছে বুধবার।

সেদিন দর ছিল ২২ টাকা ১০ পয়সা। নগদ লভ্যাংশের ক্ষেত্রে দর সমন্বয়ের কিছু না থাকলেও দেশের পুঁজিবাজারে দাম কমার প্রবণতা দেখা যায়। এমনও দেখা যায়, যে পরিমাণ লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা করা হয়, দাম কমে যায় তার চেয়ে বেশি। ফলে নগদ লভ্যাংশ নিলে শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীর আসলে লাভ হয় না।

তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে থাকা আইসিবিআই ব্যাংক ও ফ্যামিলি টেক্সটাইলের দর কমেছে ২০ পয়সা করে। ৫ টাকার নিচে লেনদেন হওয়ার কারণে এই কোম্পানি দুটির দর গত ৯ মার্চের পর থেকে কমতে পারেনি। আর দরপতনের সীমা পাঁচ শতাংশ হওয়ার পর এখন দর কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

শীর্ষ দশের অন্য কোম্পানিগুলো হলো বিআইএফসি, জিলবাংলা সুগার, ফরচুন সুজ, দুলামিয়া কটন, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা মিল্ক ও সোনারগাঁও টেক্সটাইল।

এই ১১টি কোম্পানির দরই কেবল ২ শতাংশের বেশি কমেছে।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে রাষ্ট্রায়ত্ত ৪ ব্যাংককে বিএসইসির চিঠি
পুঁজিবাজারে ‘দুই শতাংশের বাধা’ দূর
পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট
বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি কি আসলেই দিয়েছিল ডিবিএ?
তলানি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় পুঁজিবাজার

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The rise begins and the fall ends

উত্থানে শুরু, পতনে শেষ

উত্থানে শুরু, পতনে শেষ
‘সব কিছুই যেন হঠাৎ করে কেমন হয়ে যাচ্ছে। বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। আস্থা সংকটই এখন প্রধান সমস্যা। নানা সময়ে নানান গুজবে ভয় পেয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে সবাই। বিক্রির চাপে বাজার পড়ছে। আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।’

পুঁজিবাজারে টানা দ্বিতীয় দিন বড় দরপতনে বিনিয়োগকীদের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আরও বাড়ল। যদিও দিনটির শুরু ছিল ঝলমলে। সূচক অনেকটাই বেড়েই শুরু হয় লেনদেন। তবে পরে অনেকটাই পড়ে যায়। শেষ দিকে অবশ্য যতটা হারিয়েছিল, তা থেকে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়।

বিশ্ব জড়ে অর্থনীতি নিয়ে মন্দার আশঙ্কার মধ্যে সোমবার ১৩৪ পয়েন্ট দরপতন হয় দেশের পুঁজিবাজারে। এর মধ্যে খবর প্রকাশ হয় বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে ৭০০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ কোম্পানি আইসিবি।

তবে লেনদেন শেষে আইসিবিকে এই ঋণ সমন্বয়ে আরও এক বছর সময় দেয়ার খবরও প্রকাশ হয় বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় লেনদেন শুরু হলে সাত মিনিটেই সূচক বেড়ে যায় ৫৪ পয়েন্ট। কিন্তু আবার শুরু হয় পতন। কিন্তু বেলা ১৩টা ৩৩ মিনিটে আগের দিনের চেয়ে সূচক কমে যায় ১১২ পয়েন্ট।

এতে পুঁজিবাজার নিয়ে আতঙ্ক আরও বাড়ে। পরে সেখান ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত সূচক ২৭ পয়েন্ট কমে শেষ হয় লেনদেন।

যখন সূচক এক শ পয়েন্টের বেশি পড়ে গিয়েছিল, তখন প্রায় সাড়ে তিন শ কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়ে ফেলে। শেষ পর্যন্ত ২৪৫টির দর হারিয়ে শেষ হয় লেনদেন। বিপরীতে বাড়ে ৮৯টির। ৪৫টির দর থাকে অপরিবর্তিত।

আগের দিন দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ শতাংশ ছুঁয়ে শতাধিক কোম্পানির লেনদেন শেষ হয়েছিল। সেটি কমে হয়েছে ১৫টির মতো।

সব মিলিয়ে ২৩টি কোম্পানি ৪ শতাংশের বেশি, আরও ৩২টি কোম্পানির দর ৩ শতাংশের বেশি, ২৯টির দর ২ শতাংশের বেশি এবং আরও ৭৬টির দর কমে এক শতাংশের বেশি।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাক আহমেদ সাদেক বাজারের সার্বিক পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সব কিছুই যেন হঠাৎ করে কেমন হয়ে যাচ্ছে। বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। আস্থা সংকটই এখন প্রধান সমস্যা। নানা সময়ে নানান গুজবে ভয় পেয়ে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে সবাই। বিক্রির চাপে বাজার পড়ছে। আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের অস্থির বাজারের প্রভাবও বাজারে পড়েছে। জানি না বাজারের সবশেষ পরিণতি কী হবে? কবে বাজার স্বাভাবিক হবে।’

আরও আসছে…

আরও পড়ুন:
হঠাৎ বিক্রয়চাপে পতন, আরও বাড়ল লেনদেন
সূচক পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ, লেনদেন তিন মাসের
‘ঈদ অবসর’ শেষে লেনদেনে ‘চার শুভ ইঙ্গিত’
ঈদের ছুটি শেষে লেনদেনে ফের ভাটা
গোমড়া মুখে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Investors are lost in the collapse of the capital market

পুঁজিবাজারে ধসে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা

পুঁজিবাজারে ধসে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা
শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর নানা ধরনের গুজবে পুঁজিবাজার টালমাটাল ছিল। কিন্তু তাই বলে এত বড় ধস কেন, সোট আমরা বুঝতে পারছি না। কী কারণে আকষ্মিক এত বড় ধস হলো, সেটা আমরা সত্যিই কেউ বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে সবাই বিক্রি করে বাজার থেকে চলে যাবে- এমন অবস্থা: ডিবিএর সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক

এক দিনে সূচকের পতন প্রায় দুই শতাংশ। ৩৮১টি কোম্পানির মধ্যে দর হারাল প্রায় সাড়ে তিন শ। শতাধিক কোম্পানির দর কমেছে এক দিনে যতটা কমা সম্ভব ততটাই।

এমন দিনেও লেনদেন ছাড়াল হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ দম দামে হলেও শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে বিনিয়োগকারীরা।

সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষুব্ধ, স্টক ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশনের একজন নেতা বলেছেন, বাজারে কী হয়েছে, সেটি তারা বুঝতে পারছেন না। রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ কোম্পানি আইসিবিও শেয়ার বিক্রি করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে নিত্যপণের দাম ক্রমেই বেড়ে চলার মধ্যে পুঁজিবাজার নিয়ে উৎকণ্ঠা বেড়েই চলছে বিনিয়োগকারীদের।

ফেব্রুয়ারির শেষে ইউক্রেনে রুশ হামলার পর পুঁজিবাজারে যে ধস নামে, সেটি টানা কয়েক মাস চলার পর রোজার শেষ দিকে থাকার ইঙ্গিত দেয়। ঈদ শেষে বাজারে লেনদেন বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তা এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। বাড়তে থাকে শেয়ারদর।

কিন্তু শুভ ইঙ্গিত দিয়ে গত সপ্তাহে আবার মুখ থুবড়ে পড়ে পুঁজিবাজার। টানা তিন দিনে পতন হয় ১৩২ পয়েন্ট। দুই দিনের সাপ্তাহিক বন্ধ শেষে বুদ্ধ পুর্ণিমার ছুটি শেষে সোমবার আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিল বিনিয়োগকারীদের। আগের তিন দিনে মিলিয়ে সূচক যত পড়েছিল, এক দিনেই পড়ল তার চেয়ে ২ পয়েন্ট বেশি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান এখন ৬ হাজার ৪৩০ পয়েন্ট, যা গত বছরের ২৯ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন। সেদিন সূচক ছিল ৬ হাজার ৪২৫ পয়েন্ট।

তবে সে সময় পুঁজিবাজারে ছিল সুবাতাশ। প্রতি দিনই সূচক বাড়ছিল। এক পর্যায়ে তা সাত হাজার ছাড়িয়ে ১০ হাজারে পৌঁছবে বলে আশাবাদ তৈরি হয়।

তবে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর বাজারে দর সংশোধন শুরু হয়, যা বছরের শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে। নতুন বছর ২০২২ সালের শুরুতে বাজারে ঊর্ধ্বগতি ফেরার ইঙ্গিত দিলেও ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর আবার নামে ধস। শেয়ারদর কমতে থাকার পর লেনদেনও নেমে আসে তলানিতে।

এই যুদ্ধ প্রলম্বিত হতে থাকায় সারা বিশ্বই অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে খাদ্যপণ্যের বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশেও নানা গুজব ছড়ায়।

পুঁজিবাজারে ধসে বিনিয়োগকারীরা দিশেহারা
সোমবার পুঁজিবাজারে লেনদেনের এই চিত্রে ব্যাপকভাবে লোকসানে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা

সোমবারের বাজার দেখে কিছু বুঝে উঠতে পারছেন না পুঁজিবাজারে স্টক ব্রোকারদের সমিতি বাংলাদেশ স্টক ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশন-ডিবিএর সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর নানা ধরনের গুজবে পুঁজিবাজার টালমাটাল ছিল। কিন্তু তাই বলে এত বড় ধস কেন, সোট আমরা বুঝতে পারছি না। কী কারণে আকষ্মিক এত বড় ধস হলো, সেটা আমরা সত্যিই কেউ বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে সবাই বিক্রি করে বাজার থেকে চলে যাবে- এমন অবস্থা।’

তিনি বলেন, ‘কেবল সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নয়, আইসিবিও শেয়ার বিক্রি করছে। যাদের সাপোর্ট দেয়ার কথা, তারাও যদি বিক্রি করে, তাহলে বাজারের এমন না হয়ে কী হবে?’

পুঁজিবাজারে এক দিনে এর চেয়ে বেশি দরপতন দেখা গিয়েছিল ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল। লকডাউন আতঙ্কে সেদিন ডিএসইতে সূচক কমেছিল ১৮১ পয়েন্ট।

পরের দিন থেকে করোনার কারণে বিধিনিষেধে যাওয়ার কথা ছিল দেশ। ২০২০ সালে সাধারণ ছুটির সময় পুঁজিবাজারে লেনদেন স্থগিত থাকে। সেবারও তাই হবে ভেবে আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করেছিল বিনিয়োগকারীরা। তবে এই পতনের দিনই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসে যে, লকডাউনেও লেনদেন চলবে। পর দিন থেকেই পুঁজিবাজারে শুরু হয় উত্থান।

আর এখন পুঁজিবাজারের সূচক ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

সব খাতেই দরপতনের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ২৩ কোম্পানির সবগুলো দর হারিয়েছে। সিমেন্ট, আবাসন, তথ্য প্রযুক্তি, ভ্রমণ ও অবসর, টেলিকমিউনিকেশন, কাগজ, পাট খাতেরও শতভাগ কোম্পানির দরপতন হয়েছে।

এছাড়া বস্ত্র খাতে তিনটি কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ৫৬টি, সাধারণ বিমা খাতে একটির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ৩৯টি, জীবন বিমা খাতে একটির দর বৃদ্ধি ও একটির দর ধরে রাখার বিপরীতে আরও ১১টি, প্রকৌশল খাতে তিনটির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ৩৯টি, ওষুধ ও রসায়ন খাতে তিনটির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ২৮টি, মিউচ্যুয়াল ফান্ডে দুটির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ২৮টি এবং বিবিধ খাতে একটির দর বৃদ্ধির বিপরীতে দর হারিয়েছে ১৩টি কোম্পনি।

ব্যাংক খাতে ৬টির দর বেড়েছে, আগের দিনের দরে লেনদেন হয়েছে আরও ছয়টি আর কমেছে বাকি ২১টির দর।

দুটি কোম্পানির দর কমেছে এক দিনে দর পতনের সর্বোচ্চ সীমা ৫ শতাংশ। আরও শতাধিক কোম্পানির দর কমেছে আশেপাশে।

সব মিলিয়ে ১৩০টি কোম্পানির দর কমেছে ৪ শতাংশের বেশি, আরও ৭৬টির দর কমেছে ৩ শতাংশের বেশি, ৫৭টির দর কমেছে ২ শতাংশের বেশি।

আরও পড়ুন:
সূচক পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ, লেনদেন তিন মাসের
‘ঈদ অবসর’ শেষে লেনদেনে ‘চার শুভ ইঙ্গিত’
ঈদের ছুটি শেষে লেনদেনে ফের ভাটা
গোমড়া মুখে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার
আয় বাড়তে থাকলেও লভ্যাংশ কমাচ্ছে ম্যারিকো

মন্তব্য

তহবিলে প্রতিশ্রুত অর্থ না আসায় ক্ষোভ সিএমএসএফের

তহবিলে প্রতিশ্রুত অর্থ না আসায় ক্ষোভ সিএমএসএফের সিএমএসএফের অডিট কমিটির সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
সিএমএসএফের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর দীর্ঘ দিনের অবণ্টিত লভ্যাংশের বিপুল পরিমাণ অর্থ ও শেয়ার এ ফান্ডে আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ৪৬০ কোটি টাকা এবং বর্তমান বাজারমূল্যে ৩৩৮ কোটি টাকার সমপরিমাণ শেয়ার এই ফান্ডে জমা হয়েছে। এটি খুবই নগণ্য।

ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (সিএমএসএফ) অর্থ ও শেয়ার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জমা না হওয়ায় ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলোর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ফান্ডের অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ম্যানেজমেন্ট কমিটি (এএএমসি)।

সিএমএসএফের চিফ অফ অপারেশন মনোয়ার হোসেন এফসিএ, এফসিএমএ স্বাক্ষরিত শুক্রবারের বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর দীর্ঘ দিনের অবণ্টিত লভ্যাংশের বিপুল পরিমাণ অর্থ ও শেয়ার এ ফান্ডে আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ৪৬০ কোটি টাকা এবং বর্তমান বাজারমূল্যে ৩৩৮ কোটি টাকার সমপরিমাণ শেয়ার এই ফান্ডে জমা হয়েছে। এটি খুবই নগণ্য।

নিরপেক্ষ অডিট কমিটির সভায় এএএমসির প্রধান ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবদুর রউফ বলেন, ৩১ মে পর্যন্ত বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলো সিএসএফের ফান্ডে অর্থ ও শেয়ার ট্রান্সফার না করলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) সঙ্গে নিয়ে নিয়ম অনুযায়ী যে অর্থ ও শেয়ার এই ফান্ডে আসার কথা, তা কীভাবে আনা যায়, সে বিষয়ে মনিটরিংসহ সার্বিক তত্ত্বাবধান করা হবে।

অডিট কমিটির অন্য সদস্য এ.কে.এম. দেলোয়ার হোসেন এফসিএমএ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম.এ. মহি পিএসসি, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ফিন্যান্স কন্ট্রোলার শাহেদা খানম, সিসিবিএলের পরিচালক মুহাম্মদ তাজদিকুল ইসলাম, এফসিএমএ আবদুর রউফের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর দীর্ঘদিনের অবণ্টিত লভ্যাংশের বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে। সেই অর্থ একসঙ্গে করে বাজারের উন্নয়নে কাজে লাগাতে বিএসইসি সিএমএসএফ নামে বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়।

সেই সঙ্গে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড রুলস-২০২১ গ্রেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

ফান্ডটি নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনার জন্য ১০ সদস্যের একটি শক্তিশালী কমিটি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান এই ফান্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

সিএমএসএফ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি দক্ষ পুঁজিবাজার গঠনে কাজ করে যাচ্ছে।

ফান্ডটি তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ ইস্যুকারীর কাছ থেকে অদাবিকৃত এবং অবণ্টিত নগদ বা স্টক ডিভিডেন্ড, অফেরত পাবলিক সাবস্ক্রিপশনের অর্থ এবং অবরাদ্দকৃত রাইট শেয়ার স্থানান্তর করার মাধ্যমে প্রাপ্ত বিনিয়োগকারীদের পক্ষে নগদ এবং স্টকের অভিভাবক হিসেবে কাজ করছে।

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির মাধ্যমে স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। পুঁজিবাজারের সেকেন্ডারি মার্কেটে তারল্য প্রবাহ নিশ্চিত করতেই এই অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে।

বাজার স্থিতিশীলতায় সিএমএসএফ ‘আইসিবি এএমসিএল সিএমএসএফ গোল্ডেন জুবিলি মিউচুয়াল ফান্ড’ নামে একটি ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডও গঠন করে। এই ফান্ডের আকার ১০০ কোটি টাকা, যার ইউনিটপ্রতি অভিহিত মূল্য ১০ টাকা।

সিএমএসএফ পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

সিএমএসএফ কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২২ লাখ ৯৬ হাজার ৮৮০ টাকার অমীমাংসিত দাবি নিষ্পত্তির আবেদন গ্রহণ করেছে।

ইতোমধ্যে ২১ লাখ ৩৩ হাজার ২২৬ টাকার দাবি নিষ্পত্তি করেছে, যা মোট দাবির ৯৩ শতাংশ।

সিএমএসএফ চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতায় কাজ করছি এবং একই সঙ্গে ক্যাডার ও বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ যাচাই সাপেক্ষে অবিলম্বে দাবি নিষ্পত্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

‘আমরা দৃঢ় বিশ্বাস রাখি, সিএমএসএফের কার্যক্রমের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’

আরও পড়ুন:
‘ঈদ অবসর’ শেষে লেনদেনে ‘চার শুভ ইঙ্গিত’
ঈদের ছুটি শেষে লেনদেনে ফের ভাটা
গোমড়া মুখে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার
আয় বাড়তে থাকলেও লভ্যাংশ কমাচ্ছে ম্যারিকো
মুনাফায় ফিরলেও টানা দুই প্রান্তিকে লোকসান হাইডেলবার্গে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Dividends of Rs 1 in a mutual fund of Rs

৮ টাকার মিউচুয়াল ফান্ডে এক টাকা লভ্যাংশ

৮ টাকার মিউচুয়াল ফান্ডে এক টাকা লভ্যাংশ
গত বছরও বেশির ভাগ মিউচুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ এর ইউনিট মূল্যের বিবেচনায় বেশ ভালো ছিল। ওই বছরও সঞ্চয়পত্রের মুনাফার তুলনায় বেশি হারে লভ্যাংশ পেয়েও বিনিয়োগকারীরা লাভবান হতে পারেননি। কারণ রেকর্ড ডেটের পর ইউনিটমূল্য কমে গেছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি মিউচুয়াল ফান্ড লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। দুটি ফান্ডই ইউনিটপ্রতি ১ টাকা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেগুলোর ইউনিটগুলো ৮ থেকে সাড়ে ৮ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।

ফান্ড দুটি হলো এআইবিএল ইসলামিক এবং এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। দুটি ফান্ডই পরিচালনা করে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি এলআর গ্লোবাল।

বৃহস্পতিবার ফান্ড দুটির ট্রাস্টি বোর্ড গত মার্চে সমাপ্ত অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেয়। দুটি ফান্ডই ২০২১ সালে যত টাকা আয় করেছে, তার পুরোটাই লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর মধ্যে এমবিএলের ইউনিট দর ৮ টাকা, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এআইবিএলের ইউনিট দর ৮ টাকা ৫০ পয়সা, অর্থাৎ এর ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ লভ্যাংশ হিসেবে পাওয়া যাবে। এই শতকরা হার দেশে যেকোনো সঞ্চয়ী হিসাব, এমনকি সঞ্চয়পত্রের হারের চেয়ে বেশি।

মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ আরও লাভজনক এই কারণে যে এখানে লভ্যাংশের ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত। ২৫ হাজারের বেশি যত টাকা হবে, তার ওপর কর দিতে হয় ১০ শতাংশ।

অন্য শেয়ারের লভ্যাংশের ওপর থেকে যাদের কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন আছে, তাদের কাছ থেকে ১০ শতাংশ এবং যাদের নেই তাদের কাছ থেকে ১৫ শতাংশ কর কাটা হয়।

গত বছরও বেশির ভাগ মিউচুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ এর ইউনিট মূল্যের বিবেচনায় বেশ ভালো ছিল। ওই বছরও সঞ্চয়পত্রের মুনাফার তুলনায় বেশি হারে লভ্যাংশ পেয়েও বিনিয়োগকারীরা লাভবান হতে পারেনি এ কারণে যে রেকর্ড ডেটের পর ইউনিট মূল্য এতটাই কমে গেছে, আসলে লোকসানে পড়তে হয়েছে সবাইকে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলো গত বছর দারুণ আয় করার পর বেশ ভালো লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাপক হারে দর হারাতে থাকে।

এই কয় মাসে পুঁজিবাজারে সূচক কমেছে ৭০০ পয়েন্টের বেশি। আর ফান্ডগুলো যে প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, তাতে আগের বছরের চেয়ে কম আয় করার কথা জানিয়েছে।

লভ্যাংশ ঘোষণা করা দুটি ফান্ডই আগের বছরের চেয়ে কম আয় করার পরও বেশি লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পেরেছে এ কারণে যে আগের বছর কোনো লোকসান না থাকায় সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হয়নি।

গত বছর যত আয় হয়েছিল, সে তুলনায় লভ্যাংশ কম ছিল এ কারণে যে তার আগের বছর ফান্ডগুলো ইউনিটপ্রতি বিপুল পরিমাণ লোকসান দিয়েছিল।

এমবিএল ফার্স্ট

ইউনিটপ্রতি ৮ টাকায় লেনদেন হওয়া এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরে ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা, যা আগের বছরের প্রায় অর্ধেক।

২০২০ সালে সমাপ্ত অর্থবছরে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৯৫ পয়সা। ওই বছর লভ্যাংশ এসেছিল ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা পেয়েছেন ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ১৫ পয়সা।

সে বছর এবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ আয় করার পরও লভ্যাংশ কম দেয়ার কারণ ছিল ২০১৯ সালে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি ৯৭ পয়সা লোকসান। সেই লোকসানের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করে লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়।

৮ টাকার মিউচুয়াল ফান্ডে এক টাকা লভ্যাংশ
এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের লভ্যাংশসংক্রান্ত ঘোষণা

গত ৩১ ডিসেম্বর ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১১ টাকা ৮৩ পয়সা, তার আগের বছর ছিল ১১ টাকা ৮৯ পয়সা।

যারা এই লভ্যাংশ নিতে চান, তাদের আগামী ৫ জুন ইউনিট ধরে রাখতে হবে। অর্থাৎ সেদিন হবে রেকর্ড ডেট।

গত এক বছরে ফান্ডটির ইউনিট মূল্য ৭ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১০ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত ওঠানামা করেছে।

গত বছর ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ১৫ পয়সা লভ্যাংশ পেয়েও বিনিয়োগকারীরা লাভবান হতে পারেননি। রেকর্ড ডেটের দিন ফান্ডটির ইউনিট মূল্য ছিল ১০ টাকা ১০ পয়সা। যারা লভ্যাংশ নিয়েছেন তারা এখনও লোকসানে আছেন।

এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক

এই ফান্ডটিও ইউনিটপ্রতি আয় করেছে ১ টাকা, লভ্যাংশও দেয়া হবে এর পুরোটাই।

আগের বছর ফান্ডটি ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৮৩ পয়সা আয় করে লভ্যাংশ দিয়েছিল ১ টাকা ২৫ পয়সা বা সাড়ে ১২ শতাংশ।

ওই বছর যত আয় হয়েছিল, তার পুরোটা লভ্যাংশ আকারে বিতরণ না করার কারণ তার আগের বছর ইউনিটপ্রতি ৬২ পয়সা লোকসানের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ।

৮ টাকার মিউচুয়াল ফান্ডে এক টাকা লভ্যাংশ
এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের লভ্যাংশসংক্রান্ত ঘোষণা

এ ফান্ডটির ইউনিট মূল্য ৮ টাকা ৫০ পয়সা, যা গত এক বছরের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি। এই বছরে সবচেয়ে কম দাম ছিল ৮ টাকা ৩০ পয়সা আর সবচেয়ে বেশি দাম ছিল ১১ টাকা ১০ পয়সা।

গত বছর লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেটের দিন ফান্ডটির ইউনিট মূল্য ছিল ১০ টাকা ৯০ পয়সা। ১ টাকা ২৫ পয়সা লভ্যাংশ হিসেবে পাওয়ার পর ইউনিট মূল্য কমে যাওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীরা আসলে লোকসানে আছেন।

গত ৩১ ডিসেম্বর ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিইউ) ছিল ১১ টাকা ২৩ পয়সা, যা এক বছর আগে ছিল ১১ টাকা ৫৭ পয়সা।

এই ফান্ডটির রেকর্ড ডেটও নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ জুন। অর্থাৎ যারা লভ্যাংশ নিতে চান, তাদের সেদিন ইউনিট ধরে রাখতে হবে।

আরও পড়ুন:
মিউচ্যুয়াল ফান্ডে আগ্রহ বাড়াতে বিএসইসিতে ১৬ প্রস্তাব
সম্পদ ১২ টাকার, দাম ৬ টাকা
বিনিয়োগের বিকল্প বন্ড, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, তবে…
লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!
লভ্যাংশ ১.৭৫ টাকা, দাম কমল ২ টাকা ৩০ পয়সা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The capital market is on the decline again

ফের পতনের ধারায় পুঁজিবাজার

ফের পতনের ধারায় পুঁজিবাজার
ঈদের আগে থেকে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েও আবার পতনের ধারায় ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বাজার নিয়ে যে আস্থাহীনতা তার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা গুজবের প্রভাব কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এ ছাড়াও একটি বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিও হিসাব থেকে শেয়ার বিক্রির বিষয়টি সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা পরিণত হয়েছে ক্ষোভে।

ঈদের পর টানা তিন কর্মদিবসে বাড়তে থাকার পর এবার টানা দুই দিন কমল লেনদেন। তা আবার নেমে এসেছে এক হাজার কোটি টাকার নিচে।

এক দিনেই কমল আরও প্রায় আড়াই কোম্পানির দর। এর মধ্যে দর পতনের সর্বোচ্চ সীমায় লেনদেন হওয়া কোম্পানির সংখ্যা আগের তুলনায় কিছুটা কম দেখা গেছে।

সপ্তাহের প্রথম দুই কর্মদিবসে সূচক ৫৪ পয়েন্ট বাড়ার পর টানা তিন দিনে সূচক কমল ১৩২ পয়েন্ট।

এর মধ্যে মঙ্গলবার লেনদেনের অর্ধেকটা সময় সূচক বেড়ে লেনদেন হতে থাকলেও শেষ আধাঘণ্টায় হঠাৎ সূচক নেমে আসতে থাকে। পরের দিনও একই প্রবণতা দেখা যায়। শেষ আড়াই ঘণ্টায় সূচকের পতন হয় আরও বেশি।

বৃহস্পতিবারের প্রবণতা ছিল এ থেকে ভিন্ন। লেনদেনের শুরুতেই সূচক অনেকটাই কমে গেলেও পরে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা দেখা যায়। এরপর আবার পড়ে।

প্রথম আধাঘণ্টায় সূচক পড়ে যায় ৩৭ পয়েন্ট। তবে পরের ২৫ মিনিটে সেখান থেকে ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে সূচকে যোগ হয় ৬ পয়েন্ট।

এরপর সূচক আবার পড়ে দুপুর ১২টার দিকে আগের দিনের চেয়ে বেড়ে লেনদেন হতে থাকে। পরে সেখান থেকে আবার পড়ে।

শেষ পর্যন্ত আগের দিনের চেয়ে ২৬ পয়েন্ট কমে সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৬৫ পয়েন্ট।

সূচকের অবস্থান নেমে গেল গত ১৯ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে। সেদিন সূচক ছিল ৬ হাজার ৫৩০ পয়েন্ট।

ফের পতনের ধারায় পুঁজিবাজার
সপ্তাহের প্রথম দুই কর্মদিবসে সূচক ৫৪ পয়েন্ট বাড়ার পর তিন দিনে কমল ১৩২ পয়েন্ট

ঈদের আগে থেকে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েও আবার পতনের ধারায় ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বাজার নিয়ে যে আস্থাহীনতা তার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা গুজবের প্রভাব কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। এ ছাড়াও একটি বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিও হিসাব থেকে শেয়ার বিক্রির বিষয়টি সামনে এসেছে।

এসব ঘটনায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা পরিণত হয়েছে ক্ষোভে।

পুঁজিবাজারের প্রবণতা নিয়ে ট্রেজার সিকিউরিটিজের চিফ অপারেটিং অফিসার মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, 'লেনদেন তলানীতে নামার পর কাঙ্ক্ষিত টার্নওভার ছিল ৮০০ থেকে ১২০০ কোটি টাকা, যেটা দুই দিন আগে ছাড়িয়েছিল। এখন আবার সেটা নিচে নেমে গেছে। এর কারণ মার্কেটের নতুন ফান্ড ইনজেক্ট হচ্ছে না। সেল প্রেসারের কারণে টার্নওভার বেশি দেখাচ্ছে কিন্তু বায়ার দাঁড়াচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই সমন্বয়টা হতে হবে।’

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকায় নাখোশ মাহবুব। বলেন, ‘অতীতে দেখা গেছে, যখনই বাজার নিম্নমুখী হয় তখনই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিজেদেরকে গুটিয়ে নেন আরেকটু ভালো সুযোগ পাওয়ার জন্য। কিন্তু এটি বাজারকে স্থিতিশীল হতে দিচ্ছে না।’

সূচক কমাল যেসব কোম্পনি

সূচক যত কমেছে তার ৩০ শতাংশই ফেলেছে গ্রামীণ ফোন একাই। কোম্পানিটির শেয়ারদর ১.৬২ শতাংশ কমার কারণে সূচক পড়েছে ৮.১১ পয়েন্ট।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকোর দর ০.৬২ শতাংশ কমায় সূচক পড়েছে ২.২৯ পয়েন্ট, তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওয়ালটনের দর ০.৫০ শতাংশ কমায় সূচক পড়েছে ২.০৭ পয়েন্ট। চতুর্থ অবস্থানে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেডের দর ১.৩৭ শতাংশ কমায় সূচক ২.০৬ পয়েন্ট কমেছে।

এছাড়া ব্র্যাক বাংক ও রবির দরপতনে ১.২৩ পয়েন্ট করে, এনআরবিসির দরপতনে ০.৯৬ পয়েন্ট, ইউনাইটেড পাওয়ারের দরপতনে ০.৮৯ পয়েন্ট, পূবালী ব্যাংকের দরপতনে ০.৭৩ পয়েন্ট এবং বার্জার পেইন্টসের দরপতনে সূচক কমেছে ০.৭ পয়েন্ট।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানির কারণেই সূচক পড়েছে ২০.২৭ পয়েন্ট।

বিপরীতে সূচকে পয়েন্ট যোগ করতে পেরেছে খুব কম সংখ্যক কোম্পানিই। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১.৫৮ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে বিকন ফার্মা। কোম্পানিটির দর বেড়েছে ২.২৯ শতাংশ।

এছাড়া স্কয়ার ফার্মা ১.১৫ পয়েন্ট, জেএমআই হসপিটাল ০.৮৪ পয়েন্ট, শাইনপুকুর সিরামিকস ০.৬৮ পয়েন্ট, রেনাটা ০.৪৭ পয়েন্ট, আরএকে সিরামিক ও ইউসিবি ব্যাংক ০.৪৫ পয়েন্ট করে, সালভো ক্যামিকেল ০.৪০ পয়েন্ট, এসিআই ফর্মুলেশন ০.৩৯ পয়েন্ট এবং নাহী অ্যালুমিনিয়ম ০.৩১ পয়েন্ট যোগ করতে পেরেছে।

সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট যোগ করা ১০ কোম্পানির কারণে সূচক বেড়েছে ৬.৭২ পয়েন্ট।

দরপতনের শীর্ষ ১০

এই তালিকার প্রায় সব কটি কোম্পানিই দুর্বল মৌলভিত্তির, যেগুলোর লভ্যাংশের ইতিহাস ভালো নয় কোনো বিবেচনাতেই। কয়েকটি আছে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি।

এই তালিকার শীর্ষে দেখা গেছে বেক্সিমকো গ্রুপের শাইনপুকুর সিরামিক, যার দর গত কয়েকদিন ধরেই অস্বাভাবিক হারে বাড়তে দেখা গেছে।

গত ২৭ এপ্রিলও কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২৬ টাকা ৪০ পয়সা। সাত কর্মদিবসে সেখান থেকে ১৬ টাকা ৬০ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৪৩ টাকা। বেড়েছে ৬২.৮৭ শতাংশ।

এর মধ্যে আজ বেড়েছে ৯.৯৭ শতাংশ। আগের দিন দর ছিল ৩৯ টাকা ১০ পয়সা। বাড়ার সুযোগ ছিল ৩ টাকা ৯০ পয়সা। এতটাই বেড়েছে।

দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ফুওয়াং সিরামিক, যার দরও এক দিনে যতটা সম্ভব বেড়েছে ততটাই। আগের দিন দর ছিল ১৬ টাকা ২০ পয়সা। ১ টাকা ৬০ পয়সা বা ৯.৮৭ শতাংশ বেড়ে নতুন দাম ১৭.৮০ শতাংশ।

এই দুটি কোম্পানির দরই এক দিনে দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়ে লেনদেন হয়েছে। এর বাইরে বিডি থাই ফুডের দর সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি ছুঁয়ে লেনদেন হয়েছে। দর বেড়েছে ৯.১৪ শতাংশ।

এর বাইরে সালভো ক্যামিকেলসের দর ৮.৮৪ শতাংশ, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৭.৭৯ শতাংশ, ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালান্ডস ফান্ডের দর ৬.৮৪ শতাংশ, জেএমআই হসপিটালের দর ৬.৬৬ শতাংশ, নাহী অ্যালুমিনিয়মের দর ৫.৯৯ শতাংশ, লাভেলো আইসক্রিমের দর ৫.১০ শতাংশ, সোনারগাঁও টেক্সটাইলের দর ৫.০৭ শতাংশ বেড়েছে।

শীর্ষ দশের বাইরে আরও একটি কোম্পানির দর ৫ শতাংশ, ২টির দর ৪ শতাংশের বেশি, ৩ টির দর ৩ শতাংশের বেশি, ১১টির দর ২ শতাংশ বেড়েছে।

দর পতনের শীর্ষ ১০

এই তালিকার শীর্ষে ছিল সাধারণ বিমা খাতের কোম্পানি। ১০টির মধ্যে চারটিই এক খাতের। এর বাইরে দুটি কোম্পানি কাগজ ও প্রকাশনা খাতের।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪.৯৯ শতাংশ দর কমেছে পেপার প্রসেসিংয়ের। দ্বিতীয় অবস্থানে ছির মনস্পুল পেপার, যার দর কমেছে ৪.৯৭ শতাংশ।

গত বছর ওটিসি মার্কেট থেকে ফেরা কোম্পানিগুলোর দর অস্বাভাবিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন হলে সেগুলো দর হারিয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক মাসে আবার ব্যাপকভাবে বেড়ে যায় দর। সম্প্রতি আবার সংশোধন হচ্ছে।

তৃতীয় অবস্থানে ছিল ওটিসি ফেরত তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল, যার দর কমেছে ৪.৯২ শতাংশ। এই কোম্পানির শেয়ারদরও কাগজ খাতের দুই কোম্পানির সঙ্গে তাল মিলিয়ে উঠানামা করছে।

চতুর্থ অবস্থানে ছিল জেমিনি সি ফুড, যেটির দর সম্প্রতি ৫৫৩ টাকা ৯০ পয়সায় উঠে গিয়ে পড়ে টানা পড়ছে। বর্তমান দর ৩৪২ টাকা ৪০ পয়সা।

বিমা খাতের চারটি কোম্পানির মধ্যে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের দর ৪.১৯ শতাংশ, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.৯৭ শতাংশ, এশিয়ান ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.৫৫ শতাংশ, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দর ৩.২০ শতাংশ কমেছে।

অন্য দুটি কোম্পানি হলো জি কিউ বলপেন যার দর ৩.০৭ শতাংশ এবং ন্যাশনাল ফিড মিলের দর ৩.০৪ শতাংশ কমেছে।

এই তালিকার ৫ নম্বরে এনআরবি কমার্শিয়ার ব্যাংকের নাম থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এর লভ্যাংশ সংক্রান্ত সমন্বয় হয়েছে।

কোম্পানিটি এবার শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে যার অর্ধেক নগদ এবং অর্ধেক বোনাস। বুধবার রেকর্ড ডেটে দর ছিল ২৩ টাকা ৯০ পয়সা। অর্থাৎ দাম কমে হতে পারত ২২ টাকা ৩০ পয়সা। কিন্তু দিন শেষে দর দাঁড়িয়েছে ২২ টাাক ৮০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
‘ঈদ অবসর’ শেষে লেনদেনে ‘চার শুভ ইঙ্গিত’
ঈদের ছুটি শেষে লেনদেনে ফের ভাটা
গোমড়া মুখে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার
আয় বাড়তে থাকলেও লভ্যাংশ কমাচ্ছে ম্যারিকো
মুনাফায় ফিরলেও টানা দুই প্রান্তিকে লোকসান হাইডেলবার্গে

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The journey of SFIL Securities begins

এসএফআইএল সিকিউরিটিজের যাত্রা শুরু

এসএফআইএল সিকিউরিটিজের যাত্রা শুরু এসএফআইএল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কাটার মাধ্যমে নতুন স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করেন স্ট্রাটেজিক হোল্ডিংসের ভাইস চেয়ারম্যান শাহনুল হাসান খান। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা
স্ট্রাটেজিক হোল্ডিংসের ভাইস চেয়ারম্যান শাহনুল হাসান খান বলেন, ‘আমাদের কাজ হবে বিনিয়োগকারীদের সাহায্য করা। শেয়ার বেচাকেনার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করব না। কারণ আমরা মার্কেট এক্সপার্ট না। সামান্য বিজনেসের জন্য প্রতিনিধি হিসেবে এমন কিছু আমরা বলব না, যে কারণে ক্ষতি হয়। মার্কেটে টার্গেট থাকবে। কিন্তু আমরা সতর্ক থাকব। না বুঝে কোনো বিষয়ে কোনো মন্তব্য আমরা করব না।’

পুঁজিবাজারে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করল নতুন স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার প্রতিষ্ঠান এসএফআইএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্রগতি সরণিতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কাটার মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন স্ট্রাটেজিক হোল্ডিংসের ভাইস চেয়ারম্যান শাহনুল হাসান খান।

এসএফআইএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড শতভাগ স্ট্রাটেজিক ফাইন্যান্সের মালিকানাধীন সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান। এটি ঢাকা ও চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জের নিবন্ধিত একটি পূর্ণ সেবাদানকারী স্টক ব্রোকার। এখানে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য বিও হিসাব খোলা, ডিপোজিটরি সার্ভিস, আইপিও আবেদন, শেয়ার কেনাবেচা, সিকিউরিটি ট্রেডিং ইত্যাদি সেবা পাওয়া যাবে। অনলাইনের মাধ্যমেও বিভিন্ন সেবা নিতে পারবেন গ্রাহকরা।

অনুষ্ঠানে শাহনুল হাসান খান বলেন, ‘আমাদের কাজ হবে বিনিয়োগকারীদের সাহায্য করা। শেয়ার বেচাকেনার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করব না। কারণ আমরা মার্কেট এক্সপার্ট না। সামান্য বিজনেসের জন্য প্রতিনিধি হিসেবে এমন কিছু আমরা বলব না, যে কারণে ক্ষতি হয়।’

কমপ্লায়েন্সের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘মার্কেটে টার্গেট থাকবে। কিন্তু আমরা সতর্ক থাকব। না বুঝে কোনো বিষয়ে কোনো মন্তব্য আমরা করব না।’

এসএফআইএল সিকিউরিটিজের যাত্রা শুরু

স্ট্রাটেজিক ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এহসানুল কবীর বলেন, ‘ক্লায়েন্টদের সেবার বিষয়ে আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের ক্লায়েন্টের কাছে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। তাদের সঠিক তথ্য দিতে হবে, যাতে করে তারা সন্তুষ্ট হয়। এতে করে প্রতিষ্ঠানের ওপর তাদের আস্থা মজবুত হবে।’

তিনি বলেন, ‘ট্রেডাররা কাস্টমারদের শেয়ার কেনার পরামর্শ দেয়। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কাস্টমারদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ভালো পরামর্শ দিতে হবে। কাস্টমাররা যেন উপলব্ধি করে যে ট্রাডিশনাল ব্রোকার হাউসের মতো এসএফআইএল না। এখান থেকে তারা ভিন্ন সেবা পাচ্ছে, সেটা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

এসএফআইএল সিকিউরিটিজের যাত্রা শুরু

স্ট্রাটেজিক ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইরতেজা আহমেদ খান বলেন, ‘এসএফআইএল সিকিউরিটিজ ও আমরা একসঙ্গে কাজ করব। আমরা গ্রাহকদের স্বচ্ছতার সঙ্গে সেবা দিতে চাই। প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতার প্রতিফলন রাখতে চাই। প্রাতিষ্ঠানিক যেকোনো বিনিয়োগে গ্রাহক সুরক্ষার বিষয়ে আমরা বদ্ধপরিকর।’

এসএফআইএল সিকিউরিটিজের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফেরদৌস হুসাইন বলেন, ‘গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে আমরা কাজ ও সেবা করতে চাই। অন্য যেকোনো ব্রোকারেজ হাউসের চেয়ে আমরা ভালো কাজ করতে পারব বলে আশা করি।’

অনুষ্ঠানে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক হাসান ইমাম রুবেল বলেন, ‘নতুন ব্রোকার হাউস এসএফআইএল সিকিউরিটিজকে ইনস্টিটিউশন হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে কালচার ডেভেলপ করতে হবে। সেটা করতে পারলে আস্থার জায়গা তৈরি হবে। প্রতিষ্ঠান যেন আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে শীর্ষ ১০ ব্রোকার হাউসের মধ্যে নিজেদের অবস্থান করতে পারে, সে লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।’

স্ট্রাটেজিক ফাইন্যান্সের পর্ষদের সদস্য এহসানুল কবীর, মো. শরিফুল ইসলাম ও রিয়াদুজ্জামান রিদয়, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তামিম মারজান হুদাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
মুনাফায় ফিরলেও টানা দুই প্রান্তিকে লোকসান হাইডেলবার্গে
এসএফআইএল-বিটিআই চুক্তি, বাড়তি সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা
আয় বাড়িয়ে লভ্যাংশও কিছুটা বাড়াল কন্টিনেন্টাল
আয় বাড়লেও লভ্যাংশ কমাল লংকাবাংলা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The capital market was scared again

‘শ্রীলঙ্কার বিপর্যয়ে’ ভয় দেখাল দেশের পুঁজিবাজার

‘শ্রীলঙ্কার বিপর্যয়ে’ ভয় দেখাল দেশের পুঁজিবাজার
ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে যা হচ্ছে তার চাইতেও বেশি লেখালেখি হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন নেতিবাচক লেখালেখি হচ্ছে, শেয়ারিং হচ্ছে। বিষয়টা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে গেছে। অনেকেই আতঙ্কিত হচ্ছেন। এটা বাজারে একটা প্রভাব ফেলেছে বা ফেলছে।’

ঈদের অবসর শেষে দুই দিনে পুঁজিবাজারে সূচক যতটা বেড়েছিল, তৃতীয় দিনে তার ৬০ শতাংশ কমে গিয়ে উদ্বেগে রাখা পুঁজিবাজার চতুর্থ কর্মদিবসে এতে দেখাল আরও ভয়।

বুধবার লেনদেন শুরুর সোয়া এক ঘণ্টা পর্যন্ত সূচক বেড়ে লেনদেন হতে থাকলেও এরপর তা টানা নিচে নেমে আসে। ৭৩ পয়েন্ট দরপতনে লেনদেন কমে ১০০ কোটি টাকার বেশি।

পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট একজন শীর্ষ কর্মকর্তার ধারণা, শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। বাংলাদেশের অর্থনীতিও বিপাকে পড়বে বলে সামাজিকমাধ্যমে যেসব অপপ্রচার চলছে, তার প্রভাব পড়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।

রোজার মতোই এক দিনে তিন শতাধিক শেয়ারের দরপতনের স্মৃতিও ফিরে এসেছে। একগুচ্ছ কোম্পানি দরপতনের সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছিতে নেমে লেনদেনের বিষয়টিও দেখা গেল বেশ কিছুদিন পর।

দিন শেষে ৩৫টি কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৩২৩টির দর। অপরিবর্তিত থাকে ২১টির।

একটি কোম্পানির দরও দিনের দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ছুঁতে পারেনি, যে চিত্রটি দেখা গেছে রোজার শুরু থেকে শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। সবচেয়ে বেশি দর বৃ্দ্ধি পাওয়া কোম্পানির শেয়ারে যোগ হয়েছে ৬.৯৬ শতাংশ।

বিপরীতে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়ে বা কাছাকাছি পতন হয়েছে ২০টির মতো কোম্পানির। আর একটি কোম্পানির লভ্যাংশ সংক্রান্ত কারণে মূল্যসীমা না থাকায় একটি কোম্পানির দর কমেছে ৬.৩৭ শতাংশ।

ঢালাও পতনের দিন এমন কোনো খাত ছিল না যে খাতের বিনিয়োগকারীরা কিছুটা হলেও স্বস্তিতে থাকবে। বস্ত্র খাতে ৫৪টি কোম্পানির দরপতনের বিপরীতে বেড়েছে কেবল তিনটির, সাধারণ বিমা খাতের ৩৭টি কোম্পানির দর পতনের বিপরীতেও তিনটির, প্রকৌশল খাতে ৩৮টি কোম্পানির দরপতনের বিপরীতে কেবল দুটির, ব্যাংক খাতের ২৩টির দর পতনের বিপরীতে দুটির দর বেড়েছে।

‘শ্রীলঙ্কার বিপর্যয়ে’ ভয় দেখাল দেশের পুঁজিবাজার
বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক টানা পড়েছে বেলা সোয়া ১১টা থেকে

ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও মনে করেন, শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ধসে যাওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে যেসব লেখালেখি হচ্ছে, তার প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে যা হচ্ছে তার চাইতেও বেশি লেখালেখি হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন নেতিবাচক লেখালেখি হচ্ছে, শেয়ারিং হচ্ছে। বিষয়টা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে গেছে। অনেকেই আতঙ্কিত হচ্ছেন। এটা বাজারে একটা প্রভাব ফেলেছে বা ফেলছে।’

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করার পর দেশটিতে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। পদত্যাগী সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের ওপর হামলা চলছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির সঙ্গে শ্রীলঙ্কার কোনো তুলনাই চলে না- বলছেন অর্থনীতিবিদরা। এমনকি দাতা সংস্থা এডিবিও বলেছে, করোনার প্রভাব কাটিয়ে বিশ্বে যে কয়টি অর্থনীতি সবচেয়ে ভালো করেছে, বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি।

পতন চলছে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকেই

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সংশোধনে যাওয়া পুঁজিবাজারে ফেব্রুয়ারির চতুর্থ সপ্তাহে ইউক্রেনে রুশ হামলার পর নামে ধস। সে সময় ধস ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ ব্যর্থ হওয়ার পর রোজার শেষ সপ্তাহ থেকে আবার ধীরে ধীরে লেনদেন বাড়তে থাকে। ক্রয়চাপ বাড়ার পর শেয়ারদর ও সূচক ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।

ঈদের সব অবসর শেষে চলতি সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছুঁই ছুঁই হওয়ার পরের দুই দিনে তা এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

তবে মঙ্গলবার শেষ সোয়া এক ঘণ্টায় হঠাৎ করেই পুঁজিবাজারের সূচক নিচে নেমে আসে দ্রুত। পরে জানা যায়, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, এক দিনে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আবার ১০ শতাংশ করা হচ্ছে।

তবে ডিবিএ সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও জানান, তারা এমন কোনো ইঙ্গিত পাননি। তিনি বলেন, 'এটা নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। না ব্রোকারদের মধ্যে, না বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। এমনকি নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। আলোচনা নেই, এটা বাজারে প্রভাব ফেলছে না, এই মুহূর্তে।’

বুধবারও শুরুতে সূচক বেড়েই লেনদেন হচ্ছিল। বেলা ১১টা ১৭ মিনিটেও সূচক আগের দিনের চেয়ে ১১ পয়েন্ট বেশিতে লেনদেন হচ্ছিল। এরপর শুরু হয় আগের দিনের মতো পতন। এই অবস্থান থেকে বেলা সোয়া ২টা পর্যন্ত টানা পতন হয়। সে সময় আগের দিনের চেয়ে ৮০ পয়েন্ট, আর দিনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ৯১ পয়েন্ট কমে লেনদেন হতে থাকে।

শেষ ১৫ মিনিটে সেখান থেকে সূচক কিছুটা বাড়লেও দিন শেষে ৭৩ পয়েন্ট হারিয়ে বিনিয়োগকারীদের আবার হতাশায় ফেলে পুঁজিবাজার।

দিন শেষে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ১৩৫ কোটি ৭০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল এক হাজার ২৫৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, যা ছিল গত ১৩ ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ।

লেনদেন কমলেও টানা তিন দিন হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন গত ১৬ ফেব্রুয়ারির পর প্রথমবারের মতো দেখল দেশের পুঁজিবাজার।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এক্সপো ট্রেডার্সের সিইও শহিদুল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাজারে অস্বাভাবিক কিছু ঘটেনি। মার্চেন্ট ব্যাংকসহ কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী শেয়ার কিনেছিল। কিছু প্রফিট হয়েছে, প্রফিট টেকিংয়ের কারণে কিছুটা ডাউন।’

তিনি বলেন, ‘লক্ষ করে দেখবেন যে বাজারে টার্নওভার ভালো রয়েছে। লেনদেন ভালো রয়েছে বলে আশঙ্কার কিছু নেই। বিনিয়োগ হচ্ছে, প্রফিট টেকিং হচ্ছে। সহজ সমীকরণ।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাজারে স্থিতিশীলতা এসেছে, এটা বলা যায় না। কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দিয়ে শেয়ার কেনানো হচ্ছে, যার কারণে টার্নওভার ভালো।

‘এই দামেই কিছুদিন বেচাকেনা হবে। এই হাত, ওই হাত ঘুরবে। বাজারে আসলে গতি ফিরবে কি না সেটা আলাদা বিষয়, সময়ই বলে দেবে।’

ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘মার্কেট খারাপ হলেই মানুষ কারণ খোঁজা শুরু করে। গত দুই দিন যে ভালো ছিল, কেউ কিন্তু জানতে চায়নি যে কেন ভালো হলো? একটু খারাপ হলেই জানতে চায় সবাই।

‘বাজার ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাইয়ের ওপর চলে। সাপ্লাই বা সেলার বেশি। মার্চেন্ট ব্যাংক বা অন্য যে কেউই হোক, তার ক্যাপাসিটির বেশি তো কিনতে পারবে না।’

সূচকের বড় পতনে যেসব কোম্পানি

গ্রামীণ ফোনের ১.০৭ শতাংশ দর পতনের কারণে সূচক পড়েছে সবচেয়ে বেশি ৭.৫১ পয়েন্ট। রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির ৩.১৬ শতাংশ দরপতন সূচক কমিয়েছে ৪.৩৫ পয়েন্ট।

এছাড়া রবি ৪.২৯ পয়েন্ট, স্কয়ার ফার্মা ২.৯ পয়েন্ট, ইউনাইটেড পাওয়ার ২.১৮ পয়েন্ট, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট ২.০৯ পয়েন্ট, ইউনিক হোটেল ১.৭৩ পয়েন্ট, বেক্সিমকো ফার্মা ১.৬১ পয়েন্ট, আর এ কে সিরামিকস ১.২৬ পয়েন্ট এবং এসিআই লিমিটেড সূচক ফেলেছে ১.২২ পয়েন্ট।

সব মিলিয়ে কেবল ১০টি কোম্পনিই সূচক ফেলেছে ২৯ পয়েন্ট।

অন্যদিকে সূচকে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট যোগ করা ১০টি কোম্পানি মিলিয়েও যোগ করতে পারেনি ১০ পয়েন্ট।

এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেড একাই যোগ করেছে ২.৫৮ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওয়ালটন ২.২৮ পয়েন্ট আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা এসিআই ফর্মুলা যোগ করেছে ১.০৩ পয়েন্ট।

এর বাইরে কোনো কোম্পানিই এক পয়েন্ট যোগ করতে পারেনি। ওপরের তিনটি এবং ম্যারিকো, বিডি ফাইন্যান্স, ট্রাস্ট ব্যাংক, যমুনা অয়েল, আরডি ফুড, বার্জার পেইন্টস ও সিভিও পেট্রো ক্যামিকেলস মিলিয়ে যোগ করতে পেরেছে ৯.৮৯ পয়েন্ট।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশ

এই তালিকার শীর্ষে থাকা বিডি ফাইনান্সের শেয়ারদরে যোগ হয়েছে ৬.৯৬ শতাংশ। আগের দিন দর ছিল ৪৩ টাকা ১০ পয়সা। সেটি বেড়ে হয়েছে ৪৬ টাকা ১০ পয়সা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইমাম বাটনের শেয়ারদরে যোগ হয়েছে ৬.৯৫ পয়েন্ট। এই কোম্পানিটির শেয়ারদর টানা তিন দিন পাঁচ শতাংশ বা কাছাকাছি দর কমেছিল।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা এসিআই ফর্মুলেশনের দর বেড়েছে ৬.৫ পয়েন্ট। দিনের শুরুতে বেড়েছিল ১০ শতাংশের মতো। আগের দুই দিন কোম্পানটির দর ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা আরডি ফুডের দর ৪.৭৫ শতাংশ বেড়েছে। আগের দিন দর ছিল ৫৬ টাকা ৮০ পয়সা। সেটি বেড়ে হয়েছে ৫৯ টাকা ৫০ পয়সা।

এছাড়া বঙ্গজের দর ৩.২০ শতাংশ, সিভিও পেট্রো ক্যামিকেলের দর ২.৯২ শতাংশ, পদ্মা লাইফের দর ২.০৩ শতাংশ, জিকিউ বলপেনের দর ১.৯৬ শতাংশ, ডেফোডিলস কম্পিউটারের দর ১.৭৩ শতাংশ এবং আমান ফিডের দর বেড়েছে ১.৬৭ শতাংশ।

দর পতনের শীর্ষ দশে যেসব কোম্পানি

এক দিনে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ৫ শতাংশ হলেও এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের দর এরচেয়ে বেশি কমতে পেরেছে এর লভ্যাংশ সংক্রান্ত ঘোষণার কারণে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি দেড় টাকা লভ্যাংশ ঘোষণার পর এর লেনদেনে কোনো মূল্যসীমা ছিল না।

এই লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের মনঃপুত না হওয়ার পর দর কমেছে ৬.৩৭ শতাংশ। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭২ টাকা ২০ পয়সায়, সেটি নেমে এসেছে ৬৭ টাকা ৬০ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর উড়তে থাকা জেএমআই হসপিটালের দর কমেছে ৫ শতাংশ। টানা বাড়তে থাকা কোম্পানিটির দর আগেরদিনও প্রায় সম হারে কমেছিল।

এছাড়া জেমিনি সি ফুডের দর ৪.৯৮ শতাংশ, পেপার প্রসেসিংয়ের দর ৪.৯৬ শতাংশ, মনস্পুল পেপারের দর ৪.৯৫ শতাংশ, প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের দর ৪.৯৪ শতাংশ, জিলবাংলা সুগারের দর ৪.৯২ শতাংশ, ইউনিক হোটেলের দর ৪.৮৫ শতাংশ, তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের দর ৪.৭৭ শতাংশ, ইস্টার্ন হাউজিংংয়ের দর ৪.৭২ শতাংশ, কমেছে।

আরও ২৩টির দর ৪ শতাংশের বেশি, ৫০টির দর ৩ শতাংশের বেশি এবং ৯৬টির দর কমেছে ২ শতাংশের বেশি।

আরও পড়ুন:
হঠাৎ বিক্রয়চাপে পতন, আরও বাড়ল লেনদেন
সূচক পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ, লেনদেন তিন মাসের
‘ঈদ অবসর’ শেষে লেনদেনে ‘চার শুভ ইঙ্গিত’
ঈদের ছুটি শেষে লেনদেনে ফের ভাটা
গোমড়া মুখে ঈদের ছুটিতে পুঁজিবাজার

মন্তব্য

উপরে