টিআইএনের চক্করে সঞ্চয়পত্রের ক্রেতারা

টিআইএনের চক্করে সঞ্চয়পত্রের ক্রেতারা

সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করায় বেড়েছে হয়রানি। ফাইল ছবি

সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করায় অনেকে এটিকে বাড়তি ঝামেলা মনে করছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা এতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

‘একটা মহিলা মানুষ দুই লাখ-তিন লাখ ট্যাকা জমাইলো কষ্ট কইরা, সেই ট্যাকা সঞ্চয়পত্র কিনন্যা রাখব। কিন্তু ইনকাম ট্যাক্সের কাগজ দিতে হইব। এইডা করলে তো বৎসর বৎসর আবার রিটার্ন দিতে হইব। ইনকাম ট্যাক্স অফিস সম্পর্কে আমগো ধারণা নাইক্যা। এখন সে (মেয়ে) টাকা জমাইতে রাজি হইতেছে না। কয় এই ঝামেলায় যামু না।’

বললেন কবীর শেখ নামে পুরান ঢাকায় বাস করা এক ব্যক্তি। সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার শর্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ তিনি। নিজ মেয়ের কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন করা নিয়ে তিনি ঝক্কি-ঝামেলার কথা তুলে ধরেন।

বলেন, ‘আমার মেয়ে বলতেছে, তার দ্বারা সম্ভব না। টিন সার্টিফিকেট করমু, ইনকাম ট্যাক্স করমু, মহা ঝামেলা।’

কবীর শেখ জানান, তার মেয়ের স্বামী বিদেশে থাকেন। স্বামীর পাঠানো অর্থ থেকে সঞ্চয় করছেন তার মেয়ে। আয়করসংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরি করা তাদের জন্য বিরাট ঝামেলা।

সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে উপযোগী মাধ্যম সঞ্চয়পত্র। ব্যাংকে টাকা রাখার চেয়ে এই ব্যবস্থায় মুনাফা বেশি। আছে নানান স্কিম। কিন্তু অর্থ জমা রাখার ক্ষেত্রে জুড়ে দেয়া হয়েছে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন সার্টিফিকেট জমা দেয়ার শর্ত।

১ লাখ টাকা সঞ্চয়পত্রের ওপরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে টিআইএন নম্বর দেয়ার বাধ্যবাধকতা আনা হয়েছে গত বছর থেকে। এতে দুর্ভোগের মুখে সাধারণ বিনিয়োগকারী। চলতি বাজেটে কেনার ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেয় অর্থমন্ত্রী। বলা হয়, টিআইএন নম্বর ছাড়া ২ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কেনা ও পোস্টাল সেভিংস অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে। কিন্তু তারপরেও স্বস্তি নেই।

বিনিয়োগকারীদের আক্ষেপ

করযোগ্য আয় নেই। তারপরেও কর শনাক্তকরণ নম্বর দিতে হচ্ছে। এটা ঝামেলার কাজ বলে মনে করেন বিনিয়োগকারী আবুল কালাম। পোস্ট অফিসের লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দেয়া খুবই জটিল কাজ।’

মুনাফা তুলতে আসা সোলাইমান জানান, সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করার জন্য টিআইএন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি খুবই বিরক্তিকর কাজ। বলেন, অনলাইনে কেনা এবং মুনাফা তোলার কাজটি কচ্ছপ গতিতে এগোচ্ছে।

বিনিয়োগকারী নাসিমা খাতুন জানান, ‘ব্যাংকের চেয়ে সুদহার ভালো বলে এখানে আমরা বিনিয়োগ করতে চাই। কিন্তু কর নম্বর দেয়া কঠিন কাজ। সাধারণ মানুষ এই কঠিন মারপ্যাঁচ বোঝে না।’

সীমা খাতুন জানান, অনেকেই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে চান। কিন্তু কর সার্টিফিকেট করতে পারেন না বলেই করেন না।

আলিমুজ্জামান জানান, টিআইএনের ঝামেলার কারণে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে অর্থ রাখছেন। বেশি মুনাফার লোভে ‘হায় হায় কোম্পানিতে’ টাকা বিনিয়োগ করে পরে সব টাকাই খোয়াচ্ছে।

বিলকিছ আলম বলেন, ২ লাখ টাকা পর্যন্ত টাকা রাখতে টিআইএন নম্বর লাগবে না। কিন্তু পোস্ট অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, এখনও সেই চিঠি আসে নাই।

সুমন দাস জানান, ‘প্রতি তিন মাস পর এসে মুনাফা তোলার জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়। লম্বা লাইন, আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু লাইন একটু কমেনি। অনলাইনে হলে ভালো হয়।’

বাজেটে সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়ন নেই

কর শনাক্তকরণ নম্বর ছাড়াই ২ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কেনা ও পোস্টাল সেভিংস অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে– বাজেটে এমন সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এতদিন এ সুবিধা ছিল ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। এর আগে অবশ্য কোনো সঞ্চয়পত্র কিনতেই টিআইএনের প্রয়োজন ছিল না।

কিন্তু বাজেট পাস হওয়ার পর দেড় মাসের বেশি সময় চলে গেলেও নতুন সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। অর্থাৎ সঞ্চয় অধিদপ্তর, পোস্ট অফিস এবং ব্যাংকে এখনও এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবগত নয়।

সঞ্চয় অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মোতালেব হোসেন জানান, এ বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা আসেনি। ফলে আগের নিয়মেই কেনা হচ্ছে সঞ্চয়পত্র।

সঞ্চয়পত্রের সুদহার না কমিয়ে বিক্রি কমাতে ২০১৯ সালের মে মাস থেকে সঞ্চয়পত্র কেনায় বিভিন্ন কঠোরতা আরোপ করে সরকার। টিআইএনের পাশাপাশি সঞ্চয়পত্র কেনা ও মুনাফা নেয়ার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক করা হয়। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্র কেনার সীমা কমানো এবং ঘোষণার অতিরিক্ত সঞ্চয়পত্র কেনা বন্ধে সব অফিস থেকে অভিন্ন সফটওয়্যারে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।

ব্যাংক নয়, সঞ্চপত্রেই সুবিধা বেশি

ব্যাংক খাতে জুন শেষে আমানতের বিপরীতে গড় সুদহার ৪ দশমিক ১৩ ভাগ। অন্যদিকে একই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হারও দাঁড়িয়েছে সাড়ে পাঁচ ভাগের বেশি। অথচ পাঁচ বছর আগেও সুদহার ছিল ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ।

সুদহার যতটুকু, তার সবটাই আবার হাতে আসে না। বাদ দিতে হয় ব্যাংকের চার্জ ও সরকারের শুল্ক। এর মানে টাকার মূল্যমানের অবচয় বিবেচনায় আমানতকারী যে পরিমাণ টাকা রাখছেন, বছর শেষে পাচ্ছেন তার চেয়ে কম।

এ কারণে ব্যাংকে টাকা রেখে সঞ্চয়কারীরা এখন আর প্রকৃত অর্থে লাভবান হতে পারছেন না।

ব্যাংকের সুদহারের সাথে বড় ধরনের তফাতের কারণে গত কয়েক বছরে সাধারণ মানুষের টাকা জমা রাখার নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠেছিল সঞ্চয়পত্র।

তবে এখানে বিনিয়োগে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে কেউ সঞ্চয়পত্র কেনার পর এক বছরের মধ্যে ভাঙালে কোনো সুদ পান না। তবে সুদহার বেশি হওয়ার কারণে গত কয়েকটি অর্থবছরে এর বিক্রি সরকারের বাজেটে ধরা লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যেতে থাকে।

লক্ষ্যের চেয়েও বিক্রি বেশি

২০২০-২১ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ১৮৮ কোটি ২৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। এর মধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৭০ হাজার ২২৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এ হিসাবে গেল অর্থবছরের নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৯৫৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি।

২০১৯-২০ অর্থবছরের পুরো সময়ে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ আসে ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা।

অটোমেশন কার্যক্রম

২০১৯ সালের ফ্রেব্রুয়ারিতে শুরু হয় অনলাইনে সঞ্চয়পত্র কেনাবেচা কার্যক্রম। ফলে এই সময়ের পর যারা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেছেন, তাদের মুনাফার অর্থ গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। কিন্তু এর আগে যারা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সঞ্চয়পত্র কিনেছেন, তাদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।

সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ শেষ হবে অটোমেশন কার্যক্রম। তখন সনাতনী ব্যবস্থায় যারা সঞ্চয়পত্র কিনেছেন, তাদের স্কিম পূর্ণ হবে। এরপর নতুন করে যারাই বিনিয়োগ করবেন, তারাই পাবেন অনলাইন সুবিধা।

সঞ্চয়পত্রের বিভিন্ন স্কিম

বর্তমানে দেশে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র স্কিম প্রচলিত আছে। এর মধ্যে পারিবারিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ।

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ তিন বছর। পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ পাঁচ বছর। পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফা মাসিক কিস্তিতে তোলা যায়। পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফা মাসিক ও ত্রৈমাসিক উভয় ভিত্তিতে তোলা যায়।

২০১৫ সালের ২৩ মে থেকে এ হার কার্যকর রয়েছে। তার আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ছিল ১৩ শতাংশেরও বেশি।

বিশ্লেষণ

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ বেশি নেয়া হয়।

চলতি অর্থবছরে বিদেশি উৎস থেকে ঋণ ধরা হয়েছে ৪৫ শতাংশের বেশি। বাকি ৫৫ শতাংশ দেশি উৎস থেকে। কিন্তু দেখা গেছে বছর শেষে সরকারের এ লক্ষ্যমাত্রা ঠিক থাকে না। প্রতিবছর সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ধরে রাখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ব্যাংকে প্রচুর তারল্য উদ্বৃত্ত আছে। সরকার ব্যয়বহুল এ খাত থেকে ঋণ নিচ্ছে। বিদেশি ঋণের সুযোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এখান থেকে আরও অর্থ ছাড়ের সম্ভাবনা থাকত। সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ সহনীয় মাত্রায় রাখা উচিত। সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আছে। এগুলো শিথিল করলে বিক্রির প্রবণতা আরও বাড়বে।

সঞ্চয় অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মোতালেব হোসেন বলেন, টিআইএন বাধ্যতামূলক করার শর্ত পাঁচ লাখ টাকা থেকে করা হলে সুবিধা হতো। তিনি বলেন, স্বল্প বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়েন।

তিনি আরও জানান, টিআইএন শর্ত আরও শিথিল করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে তিন গুণ
ব্যাংকে রাখলে টাকা কমে?
মহামারিতেও লাখ কোটি টাকা ছাড়াল সঞ্চয়পত্র বিক্রি
৯ মাসেই ৮৬ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি
ব্যাংক ও ডাকঘরে মিলবে না ‘বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এসপি অফিসের সামনে দুই শিশুকে রেখে গেলেন মা

এসপি অফিসের সামনে দুই শিশুকে রেখে গেলেন মা

ঝালকাঠি এসপি কার্যালয়ের সামনে যমজ দুই শিশুকে ফেলে বাড়িতে চলে গেছেন তাদের মা। ছবি: নিউজবাংলা

সুমাইয়া আক্তার জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে টাইফয়েড জ্বরে ভুগছে শিশু আরাফ ও আয়ান। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করলে রোববার সকালে চিকিৎসক ৬ হাজার টাকার বেশ কিছু টেস্ট দেন, যে টাকা তার কাছে ছিল না। বাবা ইমরানকে বিষয়টি জানালে, তিনি টাকা পাঠাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সেই ক্ষোভে যমজ দুই ছেলেকে এসপি কার্যালয়ের গার্ডরুমের সামনে রেখে বাড়ি চলে যান সুমাইয়া।

ঝালকাঠি পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ের সামনে ১১ মাসের যমজ দুই শিশুকে ফেলে বাড়িতে চলে গেছেন তাদের মা সুমাইয়া আক্তার।

রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। রাত ১০টা পর্যন্ত কাঁদছিল টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত শিশু দুটি। পরে দাদি এসে তাদের নিয়ে যান।

বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তানের দায়িত্ব না নেয়ায় পুলিশ সদস্য স্বামীর ওপর রাগ করে তিনি শিশু দুটিকে ফেলে যান।

সুমাইয়ার অভিযোগ, ৬ মাস আগে স্বামী ইমরান হোসেনের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর দুই সন্তান তার কাছে ছিল।

ইমরান হোসেন ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া থানায় পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়ায়।

সুমাইয়া জানান, পুলিশ সদস্য হওয়ার বিবাহবিচ্ছেদের পর ইমরানের সঙ্গে তিনি পেরে উঠছিলেন না। স্থানীয় লোকজন এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয়, শিশু দুটি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত মায়ের কাছে থাকবে এবং ভরণপোষণের জন্য ইমরান প্রতি মাসে তিন হাজার করে টাকা দেবেন।

তবে সন্তানদের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার জন্য কোনো খরচ দেন না ইমরান-এমনটাই অভিযোগ সুমাইয়ার।

কনস্টেবল ইমরান সুমাইয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘প্রতি মাসে শিশু দুটির ভরণপোষণের জন্য তিন হাজার করে টাকা সুমাইয়াকে দিয়ে আসছি।’

সুমাইয়া আক্তার জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে টাইফয়েড জ্বরে ভুগছে শিশু আরাফ ও আয়ান। ওদেরকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে রোববার সকালে চিকিৎসক ৬ হাজার টাকার বেশ কিছু টেস্ট দেন, যে টাকা তার কাছে ছিল না।

টাকা চেয়ে সন্তানদের বাবা ইমরানকে বিষয়টি জানালে, তিনি টাকা পাঠাতে অপারগতা প্রকাশ করে জানান, প্রশিক্ষণের জন্য জামালপুরে আছেন। সেই ক্ষোভে যমজ দুই ছেলেকে এসপি কার্যালয়ের গার্ডরুমের সামনে রেখে ঝালকাঠি সদরের খাওক্ষির গ্রামের বাড়িতে চলে যান সুমাইয়া।

বিকেলে দুই শিশুকে ঝালকাঠি সদর থানায় নিয়ে নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কে দায়িত্বরত নারী কনস্টেবলের হেফাজতে রাখা হয়। তিনি জানান, তখন দুইজনের শরীরে বেশ জ্বর ছিল। শিশু দুটি অনবরত কান্না করতে থাকে।

সদর থানা থেকে ইমরানকে বিষয়টি জানানো হলে তার মা রাত ১০টার দিকে শিশু দুটিকে নিয়ে যান। দাদির কাছে যাওয়ার পরপরই কান্না থামে তাদের।

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি খলিলুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, জমজ দুই শিশুকে রাতেই ওদের দাদির জিম্মায় দেয়া হয়েছে।

তাদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের মে মাসে সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় ইমরানের। পারিবারিক বিরোধের জেরে গত মার্চে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

আরও পড়ুন:
সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে তিন গুণ
ব্যাংকে রাখলে টাকা কমে?
মহামারিতেও লাখ কোটি টাকা ছাড়াল সঞ্চয়পত্র বিক্রি
৯ মাসেই ৮৬ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি
ব্যাংক ও ডাকঘরে মিলবে না ‘বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র’

শেয়ার করুন

কর্ণফুলীতে জোয়ারের পানিতে ভেসে এলো মরদেহ 

কর্ণফুলীতে জোয়ারের পানিতে ভেসে এলো মরদেহ 

সদরঘাট নৌ থানার ওসি মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, ঘাটের ৫ নম্বর জেটি এলাকায় একটি মরদেহ জোয়ারের পানিতে ভেসে এসেছে-এমন তথ্য পেয়ে তাদের একটি দল সেখানে যায়। পরে বেলা ৩টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নগরীর সদর ঘাটের ৫ নম্বর জেটি এলাকা থেকে রোববার বিকেলে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তবে তার পরিচয় জানা যায়নি।

সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, ঘাটের ৫ নম্বর জেটি এলাকায় একটি মরদেহ জোয়ারের পানিতে ভেসে এসেছে-এমন তথ্য পেয়ে তাদের একটি দল সেখানে যায়। পরে বেলা ৩টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ওসি আরও জানান, মরদেহটি আনুমানিক ৩৫ বছরের যুবকের। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে তিন গুণ
ব্যাংকে রাখলে টাকা কমে?
মহামারিতেও লাখ কোটি টাকা ছাড়াল সঞ্চয়পত্র বিক্রি
৯ মাসেই ৮৬ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি
ব্যাংক ও ডাকঘরে মিলবে না ‘বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র’

শেয়ার করুন

প্রথমেই ঢাকা ও ফরিদপুরের নেতাদের সঙ্গে বসবে বিএনপি

প্রথমেই ঢাকা ও ফরিদপুরের নেতাদের সঙ্গে বসবে বিএনপি

এর আগে গত ১৪, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক, সহ-সম্পাদক, দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফা মতবিনিময় শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি। এ দফার প্রথম দিনেই ঢাকা ও ফরিদপুর বিভাগের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বসতে দলটির হাইকমান্ড।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিভাগের ১০৮ জন, ফরিদপুর বিভাগের ১৪ জন এবং জেলা সভাপতি (জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নয়) ৪ জনসহ মোট ১২৬ জনের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে।

দ্বিতীয় দিন বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) ১২৯ জনের সঙ্গে বসবেন নেতারা। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ৩৭ জন, কুমিল্লার ২৩ জন, ময়মনসিংহের ১৮ জন, সিলেটের ১৪ জন, রংপুরের ১৭ জনসহ জেলা সভাপতি (জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নয়) ২০ জন উপস্থিত থাকবেন।

তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ১০৮ জনের সঙ্গে মতবিনিময় হবে। এর মধ্যে থাকবেন খুলনা বিভাগের ৩২ জন, রাজশাহীর ৩৫ জন, বরিশালের ২৭ জনসহ জেলা সভাপতি (জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নয়) ১৪ জন।

এর আগে গত ১৪, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক, সহ-সম্পাদক, দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন:
সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে তিন গুণ
ব্যাংকে রাখলে টাকা কমে?
মহামারিতেও লাখ কোটি টাকা ছাড়াল সঞ্চয়পত্র বিক্রি
৯ মাসেই ৮৬ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি
ব্যাংক ও ডাকঘরে মিলবে না ‘বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র’

শেয়ার করুন

এহসানের জন্য টাকা তুলে বিপাকে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা

এহসানের জন্য টাকা তুলে বিপাকে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা

হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার পিরোজপুরভিত্তিক এমএলএম কোম্পানি এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মাওলানা রাগীব আহসানসহ তার তিন ভাই। ছবি: নিউজবাংলা

পিরোজপুরের ধর্মীয় নেতাদের দাবি, সুদমুক্ত মুনাফা দেয়ার কথা বলে এহসান প্রতারণা করবেন তা বুঝতেই পারেননি তারা। তবে তাদের কথা মানছেন না হাজার হাজার গ্রাহক। টাকার জন্য এখন তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন অনেক গ্রাহক।

‘শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের’ কথা বলে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে রিমান্ডে রয়েছেন পিরোজপুরভিত্তিক এমএলএম কোম্পানি এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মাওলানা রাগীব আহসানসহ তার তিন ভাই।

তবে তাদের পক্ষে মাঠ পর্যায় থেকে টাকা তুলে এখন বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিন এবং মাদ্রাসার শিক্ষকরা।

এসব ধর্মীয় নেতার দাবি, সুদমুক্ত মুনাফা দেয়ার কথা বলে এহসান প্রতারণা করবেন তা বুঝতেই পারেননি তারা। তবে তাদের কথা মানছেন না হাজার হাজার গ্রাহক। টাকার জন্য এখন তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন অনেক গ্রাহক।

ইসলামি বিনিয়োগকে ব্যবহার এর আগে হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠে এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মাওলানা রাগীব আহসানের বিরুদ্ধে।

এ অভিযোগে রাগীব আহসানসহ তার তিন ভাই মাওলানা আবুল বাশার, খাইরুল ইসলাম ও মুফতি মাহমুদুল হাসানকে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

গত ৯ সেপ্টেম্বর তাদের গ্রেপ্তারের পর টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে নানা আশঙ্কায় রয়েছেন গ্রাহকরা। প্রথমে এহসান গ্রুপের কার্যালয়ে গেলেও এখন তারা ছুটছেন তাদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা স্থানীয় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কাজে।

এর মধ্যে টাকার শোকে ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আজিজ মাঝি নামে ৭০ বছরের ওই বৃদ্ধের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি পাঁচ মেয়ে ও স্ত্রীর কাছ থেকে নিয়ে ৩০ লাখ টাকা এহসান গ্রুপের ফান্ডে জমা করেন। তার সন্তানরা ক্ষুদ্র ব্যবসা এমনকি গৃহপরিচারিকা কাজ করে বাবার বাবার কাছে এ টাকা দেন।

অভিযোগ, এহসান গ্রুপের ব্যবস্থাপক পরিচালক রাগীব আহসান গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর রাতেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় তার।

আজিজ মাঝির কাছ থেকে ওই টাকা নিয়েছিলেন মসজিদের ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ ইলিয়াস। আজিজ মাঝির মেয়ে তাসলিমা বেগম বলেন, ‘বাড়ির পাশের মসজিদের ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ ইলিয়াস আমার বাবাকে ধর্ম ও কোরআনের কথা বলে মন নরম করে আমাদের জমানো ৩০ লাখ টাকা জমা নেয়।

‘কথা ছিল, জমি-জমার ব্যবসা করে সুদমুক্ত লাভ দেবে। তবে কোনো টাকা-পয়সা আমাদের দেন নাই। এরপর টাকার চিন্তায় আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা কয়েকবার রাগীব আহসানের কাছে যাই। চিকিৎসার জন্য হলেও কিছু টাকা ফেরত চাই, কিন্তু তিনি টাকা না দিয়ে ফিরিয়ে দেন। আমার বাবা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং স্ট্রোক করে মারা যান।’

ইন্দুরকানী উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে জানা গেছে, ধর্মীয় নেতা ও মসজিদের ইমামদের কথায় বিশ্বাস করে এ এলাকার জেলে, দিনমজুর, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ প্রায় প্রত্যেক পরিবার থেকেই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এহসান গ্রুপ।

গ্রাহকদের দাবি, পিরোজপুর, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার লক্ষাধিক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন মূলত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা। এহসান গ্রুপের টাকা তুলে এখন তারা পড়েছেন তোপের মুখে। তারা জানান, তাদের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস উঠে গেছে। প্রকাশ্যে চলাফেরা করতেও তারা এখন ভয় পাচ্ছেন।

ইন্দুরকানী উপজেলা থেকেই ৬০০ গ্রাহকের টাকা জমা নিয়েছিলেন ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ ইলিয়াস। তিনি বলেন, ‘আমরা তো বুঝতেই পারিনি এটা ছিল জনগণকে ধোঁকা দেয়ার ফাঁদ। বারবার বোঝানো সত্ত্বেও রাগীব আহসান আমাদের কথায় কর্ণপাত করেননি।

‘গরীব মানুষরা বিশ্বাস করে আমাদের হাতে টাকা গচ্ছিত রেখেছে। কেউ কেউ ভিটেমাটি বিক্রি করেও টাকা দিয়েছে। নিরুপায় হয়ে আমাদের ১০০ জন মাঠকর্মীর পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।’

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ জ ম মাসুদুজ্জামান জানান, রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে আসামিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তা বলা যাচ্ছে না।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (অপরাধ প্রশাসন) বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আশা করি গ্রাহকরা সুবিচার পাবেন।’

আরও পড়ুন:
সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে তিন গুণ
ব্যাংকে রাখলে টাকা কমে?
মহামারিতেও লাখ কোটি টাকা ছাড়াল সঞ্চয়পত্র বিক্রি
৯ মাসেই ৮৬ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি
ব্যাংক ও ডাকঘরে মিলবে না ‘বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র’

শেয়ার করুন

স্তন ক্যান্সারে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যুগান্তকারী সাফল্য

স্তন ক্যান্সারে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যুগান্তকারী সাফল্য

অ্যাস্ট্রাজেনেকার এনহার্টু ট্রায়ালে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্তত ৫০০ রোগীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

বিশ্বে প্রতি আট জনে অন্তত একজন নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশেও প্রতি বছর দেড় লাখের বেশি মানুষ স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।

এবার স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাফল্যের দাবি করেছে গবেষেণা ভিত্তিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের আবিষ্কৃত একটি ওষুধ স্তন ক্যান্সারে প্রচলিত চিকিৎসার পদ্মতির চেয়ে ৭২ শতাংশ বেশি কার্যকর। তাদের ওষুধ রোগীর শরীরে প্রয়োগ করলে মৃত্যুর ঝুঁকি এবং রোগটির ছড়িয়ে পড়া অনেকাংশেই কমে যায়।

ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিটি দাবি করছে, স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে তাদের ‘এনহার্টু’ ট্রায়ালে যুগান্তকারী ফলাফল দেখা গেছে। রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এটি শক্তিশালী প্রমাণ দিয়েছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানা গেছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই এনহার্টু ট্রায়ালে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্তত ৫০০ রোগীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

ইন্ডিপেন্ডেন্টের খবর- ট্রায়ালে অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশের শরীরেই স্তন ক্যান্সার আর বাড়তে পারেনি। সেই তুলনায় ট্রাস্টুজুমাব এমটানসাইন (টি-ডিএম১) নামে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্মতিতে মাত্র ৩৪.১ শতাংশের শরীরে এমন সাড়া মিলেছে। এনহার্টু পদ্মতিতে রোগটি না বাড়ার সময়সীমা ৭.২ মাস থেকে ২৫.১ মাসে উন্নীত হয়েছে।

তিন ধাপের এই ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার ১২ মাস পর অ্যাস্ট্রাজেনেকার এনহার্টু গ্রহণ করা রোগীদের মধ্যে ৯৪.১ শতাংশ বেঁচে ছিলেন। আর ট্রাস্টুজুমাব এমটানসাইন গ্রহণ করাদের মধ্যে বেঁচেছিলেন ৮৫.৯ শতাংশ।

ট্রায়ালের ফলাফলের কথা জানিয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার অঙ্কোলজি বিভাগের নির্বাহী উপ-প্রধান সুসান গ্যালব্রেইথ বলেছেন, ‘এই ফল যুগান্তকারী।’

আরও পড়ুন:
সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে তিন গুণ
ব্যাংকে রাখলে টাকা কমে?
মহামারিতেও লাখ কোটি টাকা ছাড়াল সঞ্চয়পত্র বিক্রি
৯ মাসেই ৮৬ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি
ব্যাংক ও ডাকঘরে মিলবে না ‘বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র’

শেয়ার করুন

থাই দূতাবাস ভিসা আবেদন নেবে সোমবার

থাই দূতাবাস ভিসা আবেদন নেবে সোমবার

থাই দূতাবাস জানায়, ভ্রমণকারীদের অবশ্যই প্রতিটি ভিসার প্রয়োজনীয়তা এবং যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। একইসঙ্গে থাই সরকারের যেসব নিয়মকানুন রয়েছে তা অনুসরণ করতে হবে, যার মধ্যে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনসহ করোনার টিকা নেওয়া থাকতে হবে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বাংলাদেশ থেকে ভিসা আবেদনে দেয়া স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছে পূর্ব এশিয়ার অন্যতম পর্যটনের দেশ থাইল্যান্ড।

সোমবার থেকে নন-থাই নাগরিকদের জন্য ভিসা এবং সার্টিফিকেশন অব এন্ট্রি (সিওই) আবেদন নেয়া শুরু করছে বাংলাদেশে দেশটির দূতাবাস। রোববার ঢাকার থাই দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে গত ১০ মে থেকে ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল থাইল্যান্ড।

রোববার বিজ্ঞপ্তিতে থাই দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশে নন-থাই নাগরিকদের জন্য ভিসা এবং সার্টিফিকেশন অব এন্ট্রি (সিওই) আবেদন চালু করার ঘোষণা করছে রয়েল থাই দূতাবাস। সোমবার থেকে দূতাবাস সব ভিসা এবং সিওই আবেদন নেয়া শুরু করবে।

এতে আরও বলা হয়, ভ্রমণকারীদের অবশ্যই প্রতিটি ভিসার প্রয়োজনীয়তা এবং যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। একইসঙ্গে থাই সরকারের যেসব নিয়মকানুন রয়েছে তা অনুসরণ করতে হবে, যার মধ্যে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনসহ করোনার টিকা নেওয়া থাকতে হবে।

বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি থাইল্যান্ডে যায় পর্যটনের উদ্দেশ্যে। এ ছাড়া শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্যও অনেকে দেশটিতে যান।

আরও পড়ুন:
সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে তিন গুণ
ব্যাংকে রাখলে টাকা কমে?
মহামারিতেও লাখ কোটি টাকা ছাড়াল সঞ্চয়পত্র বিক্রি
৯ মাসেই ৮৬ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি
ব্যাংক ও ডাকঘরে মিলবে না ‘বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র’

শেয়ার করুন

দাঁতের ব্যথায় খিচুনির ওষুধ, কথিত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

দাঁতের ব্যথায় খিচুনির ওষুধ, কথিত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

রাজশাহীতে টেকনোলজিস্টের দেয়া ওষুধ খেয়ে অসুস্থতায় ভুগছে সাত বছরের শিশু আব্দুর রাফি। ছবি: নিউজবাংলা

মফিজুল হকের দেয়া ওষুধ খেয়ে অস্বাভাবিক অসুস্থতায় ভুগছে সাত বছরের শিশু রাফি। ৯ সেপ্টেম্বর থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছে শিশুটি।

রাজশাহীতে দাঁতের ব্যথার চিকিৎসায় খিচুনির ওষুধ খেয়ে গুরুতর অসুস্থ শিশু আবদুর রাফির বাবা আয়নাল হক কথিত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

রোববার রাজশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে করা মামলার আসামি কথিত চিকিৎসক মফিজুল হক। তিনি রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার এমাদপুর মহল্লার বাসিন্দা।

আদালতে মামলাটি উপস্থাপন করেন আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বাবু।

তিনি জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছে। আগামী ২৩ নভেম্বর এ ব্যাপারে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য রাজশাহীর সিভিল সার্জন কাইয়ুম তালুকদারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

মফিজুল হকের দেয়া ওষুধ খেয়ে অস্বাভাবিক অসুস্থতায় ভুগছে সাত বছরের শিশু রাফি। ৯ সেপ্টেম্বর থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করছে শিশুটি।

রাফির বাবা আয়নাল হকের বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার দালালপাড়া গ্রামে। ১৩ আগস্ট তিনি রাফির সমস্যাযুক্ত একটি দাঁত তোলেন মফিজুলের চেম্বারে। এরপর ব্যথা না কমার কারণে ২৬ আগস্ট আবার তার চেম্বারে যান। তখন মফিজুল একটি সিরাপ দেন।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘শিশুটিকে যে ওষুধ দেয়া হয়েছিল, সেটা খিঁচুনির। তার খিচুনি ছিল না। দাঁতে ব্যথা ছিল। সে কারণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একে স্টভেন জনসন সিনড্রম বলে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। এখন ইমপ্রুভ করছে।’

চোখ ছাড়া তার শরীরজুড়ে ক্ষত দেখা দিয়েছে। ফোসকা পড়লে যেমন হয়, ঠিক সে রকম ক্ষত। শরীরের কোথাও কোথাও চামড়া উঠে গেছে। ঠোঁটের ওপরে ক্ষতের কারণে সে কিছু খেতে পারছে না। টানা কয়েকদিন কথাও বলতে পারেনি। তার শরীরে মলম লাগিয়ে রাখা হয়েছে।

দাঁতের ব্যথায় খিচুনির ওষুধ, কথিত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা
রাজশাহীতে টেকনোলজিস্টের দেয়া ওষুধ খেয়ে অসুস্থতায় ভুগছে সাত বছরের শিশু আব্দুর রাফি। ছবি:সংগৃহীত

নিজেকে ডাক্তার দাবি করা মফিজুলের চেম্বার রয়েছে কাটাখালী বাজারে। সেখানে তিনি নিয়মিত রোগীদের চিকিৎসা দেন। ঘটনার পর থেকে চেম্বারটি বন্ধ রয়েছে।

অভিযুক্ত মফিজুলের দাবি, রাজশাহী ইনস্টিটিউট অফ হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) থেকে ২০০৭ সালে ডেন্টাল বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।

রাজশাহী আইএইচটির অধ্যক্ষ ফারহানা হক বলেছেন, ডেন্টাল বিভাগের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট হিসেবে উত্তীর্ণ হলেও কেউ রোগী দেখতে পারেন না। তিনি শুধু ডেন্টাল সার্জনকে সহায়তা করতে পারেন।

কাটাখালী বাজারে চেম্বারে প্যাডে ব্যবস্থাপত্র দেন মফিজুল। তার প্যাডে নিজের নামের নিচে পদবি হিসেবে লিখেছেন, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল), এফটি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ রেজিস্ট্রেশন নম্বর- ৭৬৫৩।

নিবন্ধন নম্বরের ব্যাপারে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের সচিব জাহিদুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের কোনো নিবন্ধন নম্বর আমরা মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের দেই না, যা দিয়ে তারা রোগী দেখতে পারেন। রোগী শুধু এমবিবিএস চিকিৎসক ও ডেন্টাল সার্জনরাই দেখতে পারেন। আর তাদের নিবন্ধন দেয় বাংলাদেশ মেডিক্যাল কাউন্সিল। তাই বলতেই পারি মফিজুলের ওই নিবন্ধন নম্বর ভুয়া।’

আরও পড়ুন:
সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে তিন গুণ
ব্যাংকে রাখলে টাকা কমে?
মহামারিতেও লাখ কোটি টাকা ছাড়াল সঞ্চয়পত্র বিক্রি
৯ মাসেই ৮৬ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি
ব্যাংক ও ডাকঘরে মিলবে না ‘বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র’

শেয়ার করুন