ই-অরেঞ্জের সিওও আমান কারাগারে

ই-অরেঞ্জের সিওও আমান কারাগারে

ই-অরেঞ্জের চিফ অপারেটিং অফিসার আমান উল্যাহ। ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম সিওও আমান উল্যাহকে ১০ দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আবেদন করেন।

১১ শ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় ই-অরেঞ্জের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) আমান উল্যাহকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম সিওও আমান উল্যাহকে ১০ দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আবেদন করেন।

তবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হননি। এজন্য ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্যমহানগর হাকিম আবুবকর ছিদ্দিক তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির তারিখ ২৩ আগস্ট ঠিক করেন।

গত বুধবার সন্ধ্যায় আমান উল্যাহকে গুলশান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ সময় তার কাছ থেকে ২৪টি ক্রেডিট কার্ড, ১৬ লাখ টাকা এবং একটি গাড়ি জব্দ করা হয়।

প্রতারণা করে গ্রাহকের ১১ শ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ভুক্তভোগীর করা মামলায় আমান উল্যাহ তিন নম্বর আসামি। একই মামলার দুই আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

তারা হলেন ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমান।

গত সোমবার রাতে সোনিয়া ও মাসুকুরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলাটি করেন তাহেরুল ইসলাম নামে এক গ্রাহক। মামলা করার সময় আরও ৩৭ জন গ্রাহক উপস্থিত থেকে তার সঙ্গে সাক্ষ্য দেন।

মামলার আসামিরা হলেন, সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমান, আমানউল্লাহ, বিথী আক্তার ও কাওসার। প্রতিষ্ঠানটির সব মালিককেও এতে আসামি করা হয়। তবে তাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

মামলায় তাহেরুল অভিযোগ করেন, তিনি গত ২১ এপ্রিল পণ্য কেনার জন্য ই-অরেঞ্জে অগ্রিম টাকা দেন। তবে ই-অরেঞ্জ নির্ধারিত তারিখে পণ্য সরবরাহ করেনি। টাকাও ফেরত দেয়নি। নিজেদের ফেসবুক পেজে বার বার নোটিশ দিয়েছে, সময় চেয়েছে, কিন্তু পণ্য বা টাকা ফেরত দেয়নি।

তিনি জানান, সবশেষ তারা (ই-অরেঞ্জ) গুলশান-১ এর ১৩৬/১৩৭ নম্বর রোডের ৫/এ নম্বর ভবনে অবস্থিত অফিস থেকে পণ্য ডেলিভারির কথা বললেও দেয়া হয়নি। এ ছাড়া তারা বিভিন্ন আউটলেটের যে গিফট ভাউচার বিক্রি করেছিলেন, সেগুলোর টাকা আটকে রাখায় আউটলেটগুলো ভাউচারের বিপরীতে পণ্য দিচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘এই করোনাকালীন সময়ে আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ পাচ্ছি না, বরং প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছি। এ ছাড়া আজ পর্যন্ত কোনো পণ্য ডেলিভারি না করে এক লাখ গ্রাহকের প্রায় ১১ শ কোটি টাকা প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।’

গত ১৭ আগস্ট ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমানকে আদালতে এনে আইনজীবীদের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।

আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আরও পড়ুন:
এবার ই-অরেঞ্জের সিওও গ্রেপ্তার
গ্রাহকের মামলায় ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া কারাগারে
দ্রুত রিফান্ড অথবা পণ্য চান ই-অরেঞ্জ গ্রাহকরা
ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি মাশরাফির

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু

ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সবুজবাগের নাভানা টাওয়ারের পাঁচতলা থেকে পড়ে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।

রাজধানীর সবুজবাগের মধ্য বাসাবো এলাকায় নাভানা টাওয়ারের ৯ম তলা থেকে পড়ে এক ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম শওকত হোসেন ফকির।

তৌফিক হোসেন নামে এক পথচারী বলেন, ‘নাভানা টাওয়ারের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাই। বেলা ১১টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়দের মুখে জানতে পারি, নিহত ব্যক্তি টাওয়ারের পঞ্চম তলায় ভাড়া থাকতেন। ভবনের ছাদ থেকে তিনি নিচে লাফ দিয়েছেন। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে পারিনি।’

নিহতের বড় বোন সুলতানা মাহমুদা জানান, ৬ ভাই-বোনের মধ্যে শওকত ছিল সবার ছোট। তার স্ত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অফিসে যাওয়ার জন্য সকালে বাসা থেকে বের হয় তৌফিক। পরে খবর পান ভবন থেকে নিচে পড়ে গেছে সে।

তিনি আরও জানান, শওকত বেসিক ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় কর্মরত ছিল। কিন্তু কেন সে অফিসে না যেয়ে ছাদে গেল আর কীভাবে নিচে পড়ে গেল এটাতে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সবুজবাগের নাভানা টাওয়ারের পাঁচতলা থেকে পড়ে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুর কারণ এখনও জানা যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে ঘটনা বিস্তারিত জানা যাবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এবার ই-অরেঞ্জের সিওও গ্রেপ্তার
গ্রাহকের মামলায় ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া কারাগারে
দ্রুত রিফান্ড অথবা পণ্য চান ই-অরেঞ্জ গ্রাহকরা
ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি মাশরাফির

শেয়ার করুন

চুরির চার মাস পর গ্রেপ্তার ৭

চুরির চার মাস পর গ্রেপ্তার ৭

চোর চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলন করে গোয়েন্দা পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম জানান, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে চক্রটির হাতে খড়ি। তিন-চার বছর আগে তারা ঢাকায় চলে আসে। প্রথমে ছোট ভবনে চুরি করলেও পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সুউচ্চ ভবনের নামীদামি অফিসে চুরির টার্গেট করে। প্রথমে দুই-তিন দিন ধরে তারা রেকি করে। এরপর সব ধরনের তালা ভেঙে মালামাল ও টাকাপয়সা চুরি করে কৌশলে বের হয়ে যায়।

রাজধানীর উত্তরা প্যারাডাইস টাওয়ারে চার মাস আগে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে সোমবার রাজধানীর ডেমরা ও কুমিল্লার কান্দিরপাড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি হাতুড়ি, একটি লোহার রেঞ্জ, তিনটি হ্যাক্সো ব্লেড, একটি প্লায়ার্স, তিনটি স্ক্রু ড্রাইভার ও ২০টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জামাল উদ্দিন, শফিক ভূঁইয়া ওরফে বাছা, জসিম উদ্দীন, কাদের কিবরিয়া ওরফে বাবু, মো. শাকিল, মো. আলামিন ও মুক্তা আক্তার।

চক্রের হোতা জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি মামলা চট্টগ্রামে ও বাকি চার মামলা ঢাকায়। এদের একজন ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এ ছাড়া গ্রুপের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, গত ১১ জুন উত্তরার প্যারাডাইস টাওয়ারের ৮ম তলায় ‘গোল্ডেন টাচ ইমপোর্ট (আইএনসি)’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৩ জুন উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা হয়। মামলার ছায়া তদন্তের সময় ঘটনাস্থলের সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গোয়েন্দা উত্তরা জোনাল টিম।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে চক্রটির হাতে খড়ি। তিন-চার বছর আগে তারা ঢাকায় চলে আসে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, প্রথমে ছোট ছোট ভবনে চুরি করলেও পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সুউচ্চ ভবনের নামীদামি অফিসে চুরির জন্য টার্গেট করে। সদস্যরা প্রথমে টার্গেটকৃত অফিস দুই-তিন দিন ধরে রেকি করে। এরপর অফিসের তালা, সিকিউরিটি লক, ডিজিটাল লক ও অফিস কক্ষের ড্রয়ার ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও টাকাপয়সা চুরি করে কৌশলে বের হয়ে চলে যায়।

কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা আদাবর টাওয়ারের ৪র্থ তলার এক্সপার্ট গ্রুপ, কাকরাইলে নাসির উদ্দিন টাওয়ারের ১০ম তলায় আমিন গ্রুপ, গুলশান জব্বার টাওয়ারের ১৯ তলায় এসিউর গ্রুপ, বাড্ডা রূপায়ন টাওয়ারের ৬ষ্ঠ তলায় অবস্থিত সফট লিংক কোম্পানি ও ৭ম তলায় অবস্থিত এক্সজিবল কোম্পানির অফিসে চুরি করেছে বলে তথ্য দিয়েছে। ঘটনাস্থলগুলোর সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনায়ও এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

মাহবুব আলম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘অনেক ভবনে সিসি টিভি থাকলেও ওভাবে পর্যালোচনা করা হয় না। চক্রের নারী সদস্য চুরিতে সহযোগী ছিলেন। তিনি চুরির সময় থাকেন না। তবে আগে থেকে জায়গায় গিয়ে রেকি করা, তথ্য নেয়া ও মালামাল গচ্ছিত রাখার কাজ করেন। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চুরির আরও অনেক ঘটনা জানা যাবে।’

আরও পড়ুন:
এবার ই-অরেঞ্জের সিওও গ্রেপ্তার
গ্রাহকের মামলায় ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া কারাগারে
দ্রুত রিফান্ড অথবা পণ্য চান ই-অরেঞ্জ গ্রাহকরা
ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি মাশরাফির

শেয়ার করুন

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার মুক্তি চেয়ে মানববন্ধন

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার মুক্তি চেয়ে মানববন্ধন

আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধনে ইভ্যালির গ্রাহক মো. রানা বলেন, ‘আমি প্রায় ৫ লাখ টাকার পণ্য অর্ডার দিয়েছিলাম। দেড় লাখ টাকার পণ্য পাওয়া বাকি রয়েছে। রাসেলকে মুক্তি দিলে সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে। প্রয়োজনে রাসেলকে আমরা আরও সময় দেব। তবুও তার মুক্তি চাই।’

দেশের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের মুক্তি চেয়ে মানববন্ধন করেছেন ক্রেতা-সেলাররা।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার সকালে এ মানববন্ধন হয়।

অর্থ আত্মসাতের মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে ইভ্যালির রাসেল ও শামীমাকে মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত করা হবে।

মানববন্ধনে ইভ্যালির গ্রাহক মো. রানা বলেন, ‘আমি প্রায় ৫ লাখ টাকার পণ্য অর্ডার দিয়েছিলাম। দেড় লাখ টাকার পণ্য পাওয়া বাকি রয়েছে। রাসেলকে মুক্তি দিলে সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে। প্রয়োজনে রাসেলকে আমরা আরও সময় দেব। তবুও তার মুক্তি চাই।’

আরেক গ্রাহক নিলয় বলেন, ‘আমরা সময় দিচ্ছি, আপনারা সময় কেন দিচ্ছেন না। রাসেলকে সময় দিলে সব ঠিক হয়ে যাবে আশা করি। রাসেলকে মুক্তি দিন ই- কমার্সকে বাঁচতে দেন।

গ্রেপ্তারের পর আদালতে তোলা হলে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম গুলশান থানায় অর্থ আত্মসাৎ মামলায় রাসেল-শামীমাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ফ্ল্যাট থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাবের একটি দল।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ২৯ মে থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোটরসাইকেলসহ বেশ কয়েকটি পণ্য অর্ডার করেন বাদী আরিফ বাকের। এগুলো ৭ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে দেয়ার কথা থাকলেও তিনি তা পাননি। এমনকি কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিয়েও এর সমাধান পাননি। অফিসে গিয়ে তাদের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বললে তারা সঠিক কোনো জবাব দিতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তাব্যক্তির সঙ্গেও কেউ দেখা করতে দেয়নি।

বারবার এ চেষ্টা করা হলেও ইভ্যালির পক্ষ থেকে খারাপ ব্যবহার ছাড়া কিছুই পাননি আরিফ বাকের। কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি গুলশান থানায় মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
এবার ই-অরেঞ্জের সিওও গ্রেপ্তার
গ্রাহকের মামলায় ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া কারাগারে
দ্রুত রিফান্ড অথবা পণ্য চান ই-অরেঞ্জ গ্রাহকরা
ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি মাশরাফির

শেয়ার করুন

ইসলামি বক্তা মুফতি যুবায়ের ‘নিখোঁজ’

ইসলামি বক্তা মুফতি যুবায়ের ‘নিখোঁজ’

সংবাদ সম্মেলনে যুবায়েরের পরিবারের সদস্যরা। ছবি: নিউজবাংলা

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে, যেখানে দ্বীন শিক্ষার অভাব রয়েছে সেইসব এলাকায় মক্তব-মাদ্রাসা পরিচালনা করেন যুবায়ের। শিশুদেরকে কালামে পাক শিক্ষা দেন।

গত শুক্রবার রংপুর থেকে বিমানযোগে ঢাকায় পৌঁছান ইসলমি বক্তা মুফতি যুবায়ের আহমাদ। এরপর থেকেই তার আর খোঁজ নেই বলে দাবি করেছে পরিবার।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে মুফতি যুবায়ের আহমাদের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবারের সদস্যরা। এ সময় স্বামীকে খুঁজে দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান যুবায়েরের স্ত্রী বিলকিস আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে বিলকিস বলেন, ‘মুফতি যুবায়ের আহমাদ সাহেব বাংলাদেশের একজন পরিচিত মুখ আলেম। যিনি কোনো রাজনৈতিক দল-মত, বিশৃংখলা বা রাষ্ট্রবিরোধী কাজের সঙ্গে জড়িত নন।

‘তার কোনো বক্তব্য কিংবা লেখায় কখনও কোনো প্রকার উস্কানিমূলক, দেশ ও সরকারবিরোধী এমন কোনো কিছুই খুঁজে পাওয়া যাবে না। তার প্রতিটা কাজই দৃশ্যমান। লুকিয়ে কোনো কাজ করতেন না। বিভিন্ন সময়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত অনেকেই উনার প্রশংসা করেছেন। সারা দেশের মানুষ, সকল উলামায়ে কেরামদের মধ্যে উনার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।’

যুবায়েরের স্ত্রী দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল যেখানে ধর্ম শিক্ষার অভাব রয়েছে সেইসব এলাকায় মক্তব-মাদ্রাসা পরিচালনা করেন যুবায়ের। শিশুদেরকে কালামে পাক শিক্ষা দেন। করোনার মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রংপুরের বিভিন্ন মাদ্রাসা পরিদর্শন ও কীভাবে কার্যক্রম শুরু করা যায় সেসব বিষয়ে পরামর্শ দিতে কিছুদিন আগে তিনি সফরে বের হন। পরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিমানযোগে বিকেল ৫টার একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান।

বিমান থেকে নেমে পরিবারের কাছে কল করে যুবায়ের জানান, তার ফিরতে কিছুটা দেরি হতে পারে। এরপর থেকেই তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

যুবায়েরের নিখোঁজের ব্যাপারে ইতোমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চেয়েছে তার পরিবার। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো থানায়ই সাধারণ ডায়রি নিচ্ছে না বলে দাবি করেন বিলকিস।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি আকুল আবেদন জানাচ্ছি, তিনি যেন আমার নিরপরাধ স্বামীকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশ দেন। আমরা অনেক দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। তিনিও যেন একজন পিতাহারা নারী হিসেবে আমার সন্তানদের দুঃখ কষ্টগুলো অনুধাবন করেন।

‘আশা করছি তিনি আমার স্বামী ও আমার সন্তানদের পিতাকে অবিলম্বে গুরুত্ব সহকারে খুঁজে বের করতে নির্দেশ দেবেন।’

বিলকিস জানান, মুফতি যুবায়ের ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। তিনি কখনো কোনো অমুসলিমকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ম চাপিয়ে দেননি বা জোর করে দাওয়াতও দেননি। কারণ তিনি দৃঢভাবে এই কথায় বিশ্বাস করতেন যে, ধর্ম কোনো চাপিয়ে দেয়ার বিষয় নয়। কিন্তু ধর্মের দাওয়াত দেয়া জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মুফতি যুবায়ের আহমাদের ছোট ভাই মো. হাবিবুল্লাহ, মো. হিজবুল্লাহ প্রমুখ৷

আরও পড়ুন:
এবার ই-অরেঞ্জের সিওও গ্রেপ্তার
গ্রাহকের মামলায় ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া কারাগারে
দ্রুত রিফান্ড অথবা পণ্য চান ই-অরেঞ্জ গ্রাহকরা
ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি মাশরাফির

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

দাবার বোর্ডে ঘুঁটির চাল দিয়ে ‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করছেন অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন ও সাউথ এশিয়ান দাবা কাউন্সিলের সভাপতি পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ। সম্মানীয় অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন হয়েছে।

রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয় এ আয়োজন। তবে বিভিন্ন রাউন্ডের খেলা রোববারই শুরু হয়েছে বিজয়নগরের হোটেল ৭১-এ।

বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন আয়োজিত ৯ দিনের এই টুর্নামেন্টে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন ও সাউথ এশিয়ান দাবা কাউন্সিলের সভাপতি পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ। সম্মানীয় অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সহসভাপতি কে এম শহীদুল্লাহ্, দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. শোয়েব রিয়াজ আলম, ফেডারেশনের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মল্লিক এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন
‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো একজন মহীয়সী নারীর নামে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পেরে আমরা অনেক গর্বিত ও আনন্দিত।’

তিনি বলেন, ‘১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশের জন্য মাত্র ৭০ মিলিয়ন ডলার উন্নয়ন সহায়তা জোগাড় করতে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে প্যারিসে জবাবদিহি করতে হতো। অথচ এখন সেই বাংলাদেশ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কাকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে, সুদানকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে।’

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে। আমরা এর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।’

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন
‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সভাপতি পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) যখন দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসেন, তখন বাংলাদেশের ৪৫ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস কর‍ত। আর এখন সেটি ৯ ভাগের নিচে। করোনা মহামারি না এলে দারিদ্র্যসীমা এতদিনে হয়তো আরও নিচে নামত।’

চলতি বছর থেকে জেলা ও স্কুল পর্যায়ে দাবা টুর্নামেন্ট শুরুর ঘোষণা দেন দাবা ফেডারেশনের সভাপতি।

এ ছাড়া শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে অক্টোবরে আরও একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দেন তিনি।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন
‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘আজ যে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন আমরা করতে যাচ্ছি সেটি একজন অনন্য নেতার নামে। শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, পৃথিবীর সর্বত্র তাকে মানবতার জননী ও একজন শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক চিন্তাবিদ হিসেবে মানুষ শ্রদ্ধা করে। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেটি বাস্তবায়িত হয়েছে অনন্য এক নেতার কয়েক দশকের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। আমাদের গণতন্ত্র, উন্নয়ন, জীবনমান, সমৃদ্ধ অর্থনীতি- সবকিছুই অর্জন সম্ভব হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ নেতৃত্বের মাধ্যমে।’

তিনি বলেন, ‘সুন্দর মন মানুষের মর্যাদার পক্ষে কথা বলে। যে কারণে আমাদের গত বছরের দাবার আসর এতটা সাফল্য পেয়েছিল। অংশগ্রহণকারী, আয়োজক, সাংবাদিক ও স্টেকহোল্ডাররা জন্মদিন উদযাপনের এই টুর্নামেন্টের অংশ হতে পারাকে সত্যিকারের সম্মানের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

“কারণ এই উদযাপন বাধ্যবাধকতা নয় বরং এটি ‘মানবতার জননীর’ প্রতি শ্রদ্ধা থেকে করা হয়েছে।”

আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম টুর্নামেন্ট আয়োজনে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা দেয়াসহ সব ধরনের সহায়তা দেয়ায় চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন ও কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ-এর প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ এ আরাফাত ক্রীড়া ও শিল্পের বিকাশে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। টুর্নামেন্ট আয়োজনে সহায়তা দেয়ায় চৌধুরী নাফিজ সরাফাতকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন
‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’ উদ্বোধন করছেন অতিথিরা

বক্তব্য শেষে দাবার বোর্ডে ঘুঁটির চাল দিয়ে এবং ফিতা কেটে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অতিথিরা।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে গত বছরের সেপ্টেম্বরে হয়েছিল জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অনলাইন দাবা টুর্নামেন্ট। ওই টুর্নামেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সভাপতি আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ এবং সহসভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রতিবছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে গ্র্যান্ডমাস্টার টুর্নামেন্ট আয়োজন করার। সে ঘোষণা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত হচ্ছে এবারের টুর্নামেন্ট।

এর আগে গত শুক্রবার টুর্নামেন্টের বিস্তারিত জানাতে বনানীর হোটেল শেরাটনে সংবাদ সম্মেলন করেন আয়োজকেরা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সচিব ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, ফেডারেশনের সহসভাপতি কে এম শহীদুল্লাহ্, দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. শোয়েব রিয়াজ আলম।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ১২ জন গ্র্যান্ডমাস্টার, ১৬ জন আন্তর্জাতিক মাস্টার ও তিনজন নারী আন্তর্জাতিক মাস্টার এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন। বিদেশি খেলোয়াড়রা হচ্ছেন: গ্র্যান্ডমাস্টার দীপ দাস গুপ্ত (ভারত), এহসান ঘাইম মাগামি (ইরান), মাসোউদ মোসাদেগপোর (ইরান), ভাদিম মালাখাটকো (বেলজিয়াম), অড্রে সুমেটস (ইউক্রেন), জুভারেভ আলেক্সান্ডার (ইউক্রেন) ও আলেক্সেই কিসলিনসি (চেক রিপাবলিক)।

আন্তর্জাতিক, ফিদে ও ক্যান্ডিডেট মাস্টারেরা হলেন শেখ মোহাম্মদ নুবাইর শাহ (ভারত), আবদিহাপার আসিলবেক (কিরগিজস্তান), মাহমুদ লোদি (পাকিস্তান), অরোক ঘোষ (ভারত), কোস্তোভ চ্যাটার্জি (ভারত), চক্রবর্তী রেড্ডি মেরেড্ডি (ভারত), মিত্রভা গুহ (ভারত), মোকশকুমার অমিতকুমার দোশি (ভারত), নিলাশ সাহা (ভারত), সামেদ সেকুয়ার সেটি (ভারত), সায়ন্তন দাস (ভারত), সোমক পালিত (ভারত), শ্রীজিত পাল (ভারত), শুভায়ন কুণ্ডু (ভারত), সংকল্প গুপ্ত (ভারত), সংকেত চক্রবর্তী (ভারত), সৌরথ বিশ্বাস (ভারত), অরপিতা মুখার্জি (ডব্লিউআইএম, ভারত), লিয়ানাগে রানিদু দিলশান (সিএম, শ্রীলঙ্কা), সাসিথ নিপুন পিউমান্থা (এফএম, শ্রীলঙ্কা) এবং রুপেশ জসওয়াল (এফএম, নেপাল)।

দেশের পাঁচ গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ, জিয়াউর রহমান, রিফাত বিন সাত্তার, মোল্লা আব্দুল্লাহ আল রাকিব, এনামুল হোসেন রাজীব; তিন আন্তর্জাতিক মাস্টার আবু সফিয়ান শাকিল, মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন, মোহাম্মদ ফাহাদ রহমান, দুই নারী আন্তর্জাতিক মাস্টার রানী হামিদ ও শারমীন সুলতানা শিরিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়দের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

৯ রাউন্ড সুইস লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠেয় এ প্রতিযোগিতায় গ্র্যান্ডমাস্টার, আন্তর্জাতিক মাস্টার, নারী গ্র্যান্ডমাস্টার ও নারী আন্তর্জাতিক মাস্টারের নর্ম অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিযোগিতায় মোট নগদ ১৫ হাজার আমেরিকান ডলার অর্থ পুরস্কার দেয়া হবে।

এর মধ্যে মূল পুরস্কার থাকবে ১৩ হাজার ডলার (চ্যাম্পিয়ন ৪০০০, রানার-আপ ২৫০০, তৃতীয় ১৫০০, চতুর্থ ১০০০, পঞ্চম ১০০০, ষষ্ঠ ১০০০, সপ্তম ১০০০, অষ্টম ১০০০ ডলার)।

বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য দুই হাজার আমেরিকান ডলার (প্রথম ৭০০, দ্বিতীয় ৫০০, তৃতীয় ৪০০, চতুর্থ ২০০ এবং পঞ্চমকে ২০০ ডলার) পুরস্কার দেয়া হবে।

বনানীর হোটেল শেরাটনে ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হবে প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান।

আরও পড়ুন:
এবার ই-অরেঞ্জের সিওও গ্রেপ্তার
গ্রাহকের মামলায় ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া কারাগারে
দ্রুত রিফান্ড অথবা পণ্য চান ই-অরেঞ্জ গ্রাহকরা
ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি মাশরাফির

শেয়ার করুন

ব্যাডমিন্টন ব্যাট দিয়ে স্বামীকে খুন

ব্যাডমিন্টন ব্যাট দিয়ে স্বামীকে খুন

আব্দুর রহমানের মৃতদেহ

দুই ছেলে এক মেয়ের জনক নিহত আব্দুর রহমান মুরগির ব্যবসা করতেন।

রাজধানীর খিলগাঁও গোড়ান এলাকায় ভাঙা স্টিলের ব্যাডমিন্টন ব্যাট বুকে ঢুকিয়ে স্বামীকে খুন করলেন এক নারী। ৪০ বছর বয়সী নিহত আব্দুর রহমান নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা থানার কটুয়া গ্রামের শমসের আলীর সন্তান।

সোমবার ভোরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।

খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে খিলগাঁও খিদমাহ হাসপাতালে গিয়ে আব্দুর রহমানের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আত্মীয়স্বজনের বরাতে শফিকুল ইসলাম আরও জানান, নিহত আব্দুর রহমান ও তার স্ত্রী নাজমা বেগমের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। সোমবার ভোরে এই বিবাদ চরমে পৌঁছে। এ সময় হাতের কাছে থাকা ব্যাডমিন্টনের স্টিলের ভাঙা ব্যাট দিয়ে আব্দুর রহমানের বুকে সজোরে আঘাত করেন নাজমা। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় আব্দুর রহমানকে উদ্ধার করে খিদমাহ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নাজমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

নিহতের আত্মীয় আবদুস সালাম জানান, দুই ছেলে এক মেয়ের জনক আব্দুর রহমান খিলগাঁওয়ের পূর্ব গোড়ান মদিনা মসজিদ গলির একটি বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। তিনি মুরগির ব্যবসা করতেন।

আরও পড়ুন:
এবার ই-অরেঞ্জের সিওও গ্রেপ্তার
গ্রাহকের মামলায় ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া কারাগারে
দ্রুত রিফান্ড অথবা পণ্য চান ই-অরেঞ্জ গ্রাহকরা
ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি মাশরাফির

শেয়ার করুন

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইন্টারনেট কর্মচারীর মৃত্যু

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইন্টারনেট কর্মচারীর মৃত্যু

কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার শ্যালক নেট প্রতিষ্ঠানে কাজের সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ইমনের বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বাঘেরা গ্রামে। তিনি কদমতলীর শ্যামপুর আলিবহর এলাকাতেই থাকতেন।’

রাজধানীর কদমতলীর আলিবহর এলাকায় মিডিয়া অনলাইন নামের একটি ইন্টারনেট সরবরাহ প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইমন মোল্লা নামে এক কর্মচারী প্রাণ হারিয়েছেন।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনলে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইমনের বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বাঘেরা গ্রামে। তিনি কদমতলীর শ্যামপুর আলিবহর এলাকাতেই থাকতেন।

ইমনের দুলাভাই কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার শ্যালক নেট প্রতিষ্ঠানে কাজের সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
এবার ই-অরেঞ্জের সিওও গ্রেপ্তার
গ্রাহকের মামলায় ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া কারাগারে
দ্রুত রিফান্ড অথবা পণ্য চান ই-অরেঞ্জ গ্রাহকরা
ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি মাশরাফির

শেয়ার করুন