নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ফ্রান্সের ৫০০ কোটি টাকা ঋণ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ফ্রান্সের ৫০০ কোটি টাকা ঋণ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সুতিয়াখালীতে ৫০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প। ছবি:নিউজবাংলা

জ্বালানি খাতে দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৫০ মিলিয়ন ইউরোর সমান ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে ফ্রান্স। এ অর্থ জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধি ও নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে নেয়া প্রকল্পে ব্যয় হবে।

ঋণের বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার দেশটির উন্নয়ন সংস্থা এজেন্সি ফ্রান্সেস ডেভেলপমেন্টের (এএফডি) সঙ্গে ঋণ চুক্তিও সই করেছে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। সোমবার ইআরডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইআরডি জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের কক্ষে ইআরডি সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং ফ্রান্সের পক্ষে এএফডির কান্ট্রি ডিরেক্টর বেনয়েট চাশাতে চুক্তিতে সই করেন। ফ্রান্সের দেয়া এ ঋণ তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ (এ সময় ঋণের কিস্তি দিতে হবে না) ১৫ বছরে শোধ করতে হবে।

ইআরডি বলছে, এ অর্থায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সবুজ অর্থনীতির (গ্রিন ইকোনমি) দিকে যাত্রা আরও সুদৃঢ় হবে। বিশেষ করে এটি জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের দক্ষতা বাড়াবে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে উৎপাদনও বাড়াবে।

একই সঙ্গে গ্রামীণ এলাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাত ও সমবায়ভিত্তিক বিনিয়োগ উৎসাহিত করবে, যা নতুন নতুন খাতে নারী উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাদের এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফিন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের (বিআইএফএফএল) মাধ্যমে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

ফ্রান্স সরকারের উন্নয়ন সংস্থা এএফডি ২০১২ সাল থেকেই বাংলাদেশে কাজ করছে। এটি সাধারণত গ্রামীণ এলাকার অবকাঠামো ও উন্নয়নের লক্ষে বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ সহায়তা দেয়। সংস্থাটি এ পর্যন্ত দেশের পানি ও স্যানিটেশন, গণপরিবহন, গ্রামীণ সেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত এবং সামাজিক নিরাপত্তায় সহায়তা দিয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের আঞ্চলিক সহযোগিতার আওতায় বাংলাদেশকে নমনীয় ঋণ ও অনুদানও দিয়ে থাকে।

আরও পড়ুন:
বিদেশি সহায়তা ছাড়িয়ে গেছে ৭ বিলিয়ন ডলার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বোর্ডের কাছে ৬ মাস টাকা চাইতে পারবে না ইভ্যালির গ্রাহক

বোর্ডের কাছে ৬ মাস টাকা চাইতে পারবে না ইভ্যালির গ্রাহক

ফাইল ছবি

ইভ্যালির স্থাবর-অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তির হিসাবসহ সব তথ্য নতুন বোর্ডের কাছে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদেশে ইভ্যালির বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন দম্পত্তিকে সব সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে।

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির গ্রাহকরা আগামী ছয় মাস আদালতের নিয়োগ দেয়া বোর্ডের কাছে অর্থ ফেরত দিতে চাপ দিতে পারবে না। এমন আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। তবে গ্রাহকেরা সমস্যা সমাধানে ইভ্যালির প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার এ আদেশের লিখিত অনুলিপি প্রকাশ হয়েছে।

একইসঙ্গে, স্থাবর-অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তির হিসাবসহ সব তথ্য নতুন বোর্ডের কাছে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বোর্ড গঠন করে গত ১৮ অক্টোবর আদেশ দেয় বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

লিখিত আদেশে ইভ্যালির বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন দম্পত্তিকে সব সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে। এসময় তারা ইভ্যালির একজন শেয়ার হোল্ডার হিসেবে থাকবেন।

লিখিত আদেশের এসব নির্দেশনার পাশাপাশি নতুন কমিটির সদস্যদের সম্মানী নির্ধারণ করে দিয়েছে আদালত।

আদেশে আদালত ইভ্যালির জন্য গঠিত বোর্ডের প্রধান বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের জন্য বোর্ড মিটিংয়ে ২৫ হাজার টাকা সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতি বার্ষিক সাধারণ সভায় ২ লাখ টাকা পাবেন।

আর বোর্ডের তিন সদস্য সাবেক সচিব মো. রেজাউল আহসান, আইনজীবী ব্যারিস্টার খান মো. শামীম আজিজ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফখরুদ্দিন আহম্মেদ প্রতি বোর্ড মিটিংএ ১০ হাজার টাকা সম্মানী পাবেন। আর বার্ষিক সাধারণ সভায় তারা এক লাখ টাকা করে পাবেন।

আর বোর্ডের অপর সদস্য ওএসডিতে থাকা অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব কবীর সরকার থেকে বেতন নেবেন। তবে তিনি অবসরে গেলে তখন থেকে তার সর্বশেষ বেতনের আনুপাতিক ইভ্যালি থেকে পাবেন।

আদালতে ইভ্যালি অবসায়ন চেয়ে করা আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসাইন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ছিলেন তাপস কান্তি বল।

গত ২২ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির অবসায়ন চেয়ে আবেদন করা হয়। সেখানে একটি আবেদন ছিল ইভ্যালি অবসায়নে যাতে একটি কমিটি বা বোর্ড গঠন করে দেয়।

ইভ্যালি যে পরিমাণ সম্পদ থাকার কথা জানিয়েছে, তা গ্রাহক ও মার্চেন্টদের পাওনার তুলনায় অনেক কম। বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ এনে সক্ষমতা বাড়িয়ে নিয়মিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম দিয়ে গ্রাহক ও মার্চেন্টদের পাওনা পরিশোধের কথা বলা হয়। ইভ্যালিতে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েও তা থেকে সরে আসে যমুনা গ্রুপ।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইভ্যালিসহ ১০ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে থার্ড পার্টি অডিটর নিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা জানতে আলাদা নিরীক্ষা করার সুপারিশ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
বিদেশি সহায়তা ছাড়িয়ে গেছে ৭ বিলিয়ন ডলার

শেয়ার করুন

বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশের সঙ্গে এমওইউ চায় স্পেন

বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশের সঙ্গে এমওইউ চায় স্পেন

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিসকো ডি আসিস বেনিতেজ সালাস। ছবি: নিউজবাংলা

স্পেনের রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিসকো ডি আসিস বেনিতেজ সালাস জানান, বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা–বাণিজ্য বাড়বে। সে জন্য সমঝোতা স্মারক সই হওয়া জরুরি। এর মধ্য দিয়ে স্পেনের উদ্যোক্তাদের কাছে বাংলাদেশকে পরিচিত করে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চায় স্পেন। এ জন্য দু দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের কথা জানিয়েছে দেশটি।

বৃহস্পতিবার এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এমনটি জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিসকো ডি আসিস বেনিতেজ সালাস।

স্পেনের রাষ্ট্রদূত জানান, ইনডিটেক্স ও জারাসহ অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ব্যবসা করছে। কিন্তু কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মেশিন প্রস্তুতসহ বেশ কয়েকটি খাতে বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় বহু স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

তাদের অনেকেরই বাংলাদেশ সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। তাই দুদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা–বাণিজ্য বাড়বে। সে জন্য দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়া জরুরি।

এর মধ্য দিয়ে স্পেনের উদ্যোক্তাদের কাছে বাংলাদেশকে পরিচিত করে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

এমওইউ-এর প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে হলে, দুদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন জরুরি।

এজন্য, স্পেনের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের সঙ্গে এফবিসিসিআই’র সমঝোতা স্মারকের প্রয়োজন। এতে করে ব্যবসায়ীক তথ্য দেয়া-নেয়া সহজ হবে।

এফবিসিসিআই‘র সভাপতি বলেন, শুধু রপ্তানি নয়, বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্যও বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এখন আকর্ষণীয় গন্তব্য।

দেশজুড়ে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড় তোলার তথ্য জানিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, চীন, জাপান, কোরিয়া, ভারতের মতো স্পেন এককভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপন করতে পারে।

অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু দুদেশের ব্যবসায়ীদের যৌথ মালিকানায় সিরামিক ও টাইলস খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি এম এ মোমেন এবং মো. হাবীব উল্লাহ ডন, পরিচালক মোহাম্মাদ রিয়াদ আলী এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।

আরও পড়ুন:
বিদেশি সহায়তা ছাড়িয়ে গেছে ৭ বিলিয়ন ডলার

শেয়ার করুন

নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ-কানাডা যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ

নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ-কানাডা যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে কানাডিয়ান হাই কমিশনার প্রফনটেইন।

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নত করতে এরইমধ্যে একজন জ্যেষ্ঠ ট্রেড কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে কানাডিয়ান দূতাবাস।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদার করতে ২০১৭ সালে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করতে সম্মত হয়েছিল বাংলাদেশ ও কানাডা। এ লক্ষ্যে একটি কর্মপরিধিও তৈরি হলেও এখনও বাস্তব রূপ লাভ করেনি।

সেই যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ নভেম্বরের মধ্যে চালু করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাই কমিশনার বেনোই প্রফনটেইন।

বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রফনটেইন।

তিনি জানান, এই ওয়াকিং গ্রুপ কার্যকর করতে ইতোমধ্যেই কানাডার পক্ষ থেকে বেসরকারি খাতের চার প্রতিনিধি মনোনীত করা হয়েছে।

কানাডিয়ান হাই কমিশনারের এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন জানান, চলতি মাসেই যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে এফবিসিসিআই।

এফবিসিসিআই সভাপতি কানাডিয়ান হাই কমিশনারকে জানান, বাংলাদেশে নির্মাণাধীন ১০০টি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে অনেকগুলো দেশ বিনিয়োগ করেছে। কানাডার বিনিয়োগকারীদের জন্যও এসব অঞ্চল আকর্ষণীয় হতে পারে। প্রাইমারি টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, সিরামিকস, আসাবাব শিল্প, অবকাঠামো ও ব্লু ইকোনমি খাতে বিনিয়োগের জন্য কানাডিয়ান উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানান জসিম উদ্দিন।

এ সময় বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে কানাডিয়ান হাই কমিশনার বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিশাল বাজারের বিকাশসহ আর্থ সামাজিক নানা সূচকে এ অঞ্চলের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল অর্থনীতির দেশ হয়েও, কানাডার বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ এখনও অনেকটাই অপরিচিতি।’

এ কারণেই নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বিবেচনা করছে না কানাডার উদ্যোক্তারা। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নত করতে এরইমধ্যে একজন জ্যেষ্ঠ ট্রেড কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে কানাডিয়ান দূতাবাস।

সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি এম এ মোমেন বলেন, বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা নানা কারণে বিনিয়োগের জন্য চীনের বিকল্প গন্তব্য খুঁজছে। কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলো এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বিবেচনা করতে পারে। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য কানাডার ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহ-সভাপতি আমিন হেলালী, সহ-সভাপতি হাবীব উল্লাহ ডন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।

আরও পড়ুন:
বিদেশি সহায়তা ছাড়িয়ে গেছে ৭ বিলিয়ন ডলার

শেয়ার করুন

চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ

চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বাড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব দেশে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফসহ বিভিন্ন আর্থিক সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। চলতি অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

এর অর্থ হলো, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যে পণ্য বা সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সেই পণ্য বা সেবার জন্য ১০৫ টাকা ৬০ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।

আগের মাস আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। জুলাইয়ে হয়েছিল ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

এর পর থেকে প্রতি মাসেই বাড়ছে মূল্যস্ফীতি।

সেপ্টেম্বরে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বৃহস্পতিবার মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে সরকার। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে এই লক্ষ্য ধরা ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু অর্থবছর শেষ হয় ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ে।

অর্থাৎ বাজেটের লক্ষ্যের চেয়ে খানিকটা বেশি ছিল গড় মূল্যস্ফীতি।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করার পর থেকেই বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বাড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব দেশে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফসহ বিভিন্ন আর্থিক সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলেছে, খাদ্যশস্য ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে খাদ্যের মূল্য এখন ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এফএওর খাদ্যমূল্য সূচক দাঁড়িয়েছে ১৩০। অথচ গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশ। খাদ্যে ব্যয় বৃদ্ধি অবস্থাপন্ন মানুষের জন্য বড় সমস্যা না হলেও দরিদ্র মানুষের জন্য তা বড় সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। কারণ, আনুপাতিক হারে দরিদ্র মানুষের খাদ্যব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি।

সংস্থাটি বলছে, সারা বিশ্বেই পণ্যের মূল্য বাড়ছে। ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই মূল্যস্ফীতি বাড়তির দিকে। আবার এ সমস্যার শিগগির সমাধান হচ্ছে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে কানাডায়। সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। আগস্টের তুলনায় বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ।

২০০৩ সালের পর এই প্রথম এতটা মূল্যস্ফীতি বাড়ে কানাডায়। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, পরিবহন, আবাসন ও খাদ্যের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বৈশ্বিক সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব পড়েছে দেশটির ওপরে।

কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসারও কথা রয়েছে তাদের।

বৃহস্পতিবার বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার খবর আগেই প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

গত ১২ অক্টোবর প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতিও বাড়বে।

আইএমএফ বলছে, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এবার তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ২১ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ।

আগের মাস আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ।

সেপ্টেম্বর মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। আগস্টে হয়েছিল ৫ দশমিক ২২ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

এই মাসে শহর এলাকায় খাদ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির হ্রাস-বৃদ্ধি পর্যালোচনায় বিবিএস বলেছে, আগস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরে চাল, আটা-ময়দা, চিনি, ব্রয়লার মুরগি, ডিম, সবজিসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দামই বেড়েছে।

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা স্বাভাবিক হয়ে আসায় বিশ্ববাজারে সব ধরনের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। চাহিদা বাড়লে দাম বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। এ ছাড়া জাহাজ ভাড়াসহ অন্য পরিবহন খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে সব দেশেই মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।’

আগামী দিনগুলোতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করে দেন এই অর্থনীতিবিদ।

আরও পড়ুন:
বিদেশি সহায়তা ছাড়িয়ে গেছে ৭ বিলিয়ন ডলার

শেয়ার করুন

দেশে স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু শাওমির

দেশে স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু শাওমির

শাওমির ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের মোবাইল উৎপাদন কারখানাটি গাজীপুরে। সেমি নকডাউন (এসকেডি) বা হ্যান্ডসেটের যন্ত্রাংশ এনে সংযোজন করে স্মার্টফোন করবে চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। উৎপাদিত মোবাইল ফোন দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানিও করা হবে।

বিশ্বের অন্যতম সেরা কয়েকটি ব্র্যান্ডের পর এবার বাংলাদেশে মোবাইল উৎপাদন শুরু করেছে শাওমি। গাজীপুরের চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় উৎপাদিত মোবাইল ফোন দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানিও করা হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বৃহস্পতিবার তার দপ্তর থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শাওমির ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের মোবাইল উৎপাদন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এ উপলক্ষে বনানীর শেরাটন হোটেলে শাওমির বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিয়াউদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

দেশে সেমি নকডাউন (এসকেডি) বা হ্যান্ডসেটের যন্ত্রাংশ এনে সংযোজন করে স্মার্টফোন তৈরি করবে শাওমি।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, আমদানিকারক দেশ থেকে রপ্তানিকারী দেশে রূপান্তরে ২০১৫ সালে ডিজিটাল ডিভাইসবিষয়ক টাস্কফোর্স মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দেন। তার দৃঢ় অঙ্গীকার এবং তার বিনিয়োগ সহায়ক কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের ফলে দেশে ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের যাত্রা শুরু হয়েছে।

মোস্তাফা জব্বার জানান, শাওমির বাংলাদেশ কারখানার উৎপাদিত মোবাইল সেট কেবল দেশেই নয় দেশের বাইরেও রপ্তানি হবে। দেশে এখন ১৪টি মোবাইল কারখানা থেকে উৎপাদিত মোবাইল সেট দেশের মোট চাহিদার শতকরা ৬৫ ভাগের বেশি পূরণ করছে। কারখানাগুলোর ৯৯ ভাগ কর্মীই এদেশের।

তিনি বলেন, ‘তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোবাইল উৎপাদন কারখানায় কাজ করছে। বাংলাদেশের কারখানা থেকে উৎপাদিত ফাইভজি মোবাইল সেট আমেরিকায় যাচ্ছে। সৌদি আরবে আইওটি ডিভাইস রপ্তানি করছি। বিশ্বের ৮০টি দেশে বাংলাদেশ থেকে সফটওয়্যার রপ্তানি হচ্ছে। সৌদি আরব ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করছি। অথচ এক সময় কাপড় কাঁচার সাবান থেকে প্রায় প্রতিটি পণ্য বিদেশ থেকে আমাদের আমদানি করতে হয়েছে।’

সরকারের গৃহীত বিনিয়োগ উপযোগী পরিবেশের পাশাপাশি মেধাবী জনসম্পদের কারণে বিশ্ব সেরা ব্র্যান্ডের মোবাইল উৎপাদন প্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনে আকৃষ্ট হচ্ছে বলে জানান টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী। বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনের জন্য শাওমি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি। আশ্বাস দেন সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার।

মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ দৃশ্যমান দেখেছি, সাবমেরিন ক্যাবল ও মহাকাশে স্যাটেলাইটসহ দেশের প্রতিটি ইউনিয়নসহ, দুর্গম চরাঞ্চল, হাওর ও দ্বীপ এবং পার্বত্য অঞ্চলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ এবং ফোরজি সার্ভিস পৌঁছে দেয়ায় দেশে শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। গত দুই বছর করোনাকালে মানুষের জীবন যাত্রা-শিল্প-বাণিজ্য সচল রাখা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্পখাত ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘তরুণ নেতৃত্ব ও শাওমির মতো তরুণ কোম্পানির ওপর আমাদের যথেষ্ট বিশ্বাস রয়েছে। এমন নতুন প্রজন্মের সব কোম্পানি ও উদ্যোক্তাই হচ্ছে বাংলাদেশের একেকটা সফলতা। ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে শাওমির প্রথম উৎপাদন ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে দেশের তরুণদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বৈশ্বিক মানের ইলেক্ট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠা হবে।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে স্মার্টফোন উৎপাদন কারখানা চালুর জন্য শাওমিকে অভিনন্দন। এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে মেড ইন বাংলাদেশ উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। এখন থেকে দেশের মানুষ একটি প্রতিযোগিতামূলক দামে বিশ্বমানের শাওমির সবশেষ সব উদ্ভাবনী পণ্য উপভোগ করবে।’

বাংলাদেশে স্যামসাং, ভিভো, অপো, রিয়েলমি, নোকিয়া, ওয়ালটন, সিম্ফনি, আইটেল-ট্র্যানসান, ফাইভস্টার, লাভা, ওকে মোবাইল, উইনস্টারসহ বিভিন্ন কোম্পানি মোবাইল উৎপাদন করছে। দেশে মটোরোলাসহ আরও কয়েকটি ব্র্যান্ড মোবাইল ফোনের কারখানা করতে আগ্রহ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিদেশি সহায়তা ছাড়িয়ে গেছে ৭ বিলিয়ন ডলার

শেয়ার করুন

দেশ উন্নয়নশীল হলে বাণিজ্য সুবিধা কমবে না, বাড়বে

দেশ উন্নয়নশীল হলে বাণিজ্য সুবিধা কমবে না, বাড়বে

রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মনীতির আওতায় যেসব বিকল্প সহায়তা পাওয়া যাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সেগুলো আমরা নেব, নিতে পারব। কাজেই আমার মনে হয় এখানে কোনো অসুবিধা হবে না।…সুবিধা বঞ্চিত হওয়ার থেকেও সুবিধা অর্জন করতে পারব আরও অনেক অনেক বেশি।’

উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে বাংলাদেশ বাণিজ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না, বরং আরও অনেক বেশি সুবিধা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীর পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার’-এর উদ্বোধনের সময় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন সরকারপ্রধান।

অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মনীতির আওতায় যেসব বিকল্প সহায়তা পাওয়া যাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সেগুলো আমরা নেব, নিতে পারব। কাজেই আমার মনে হয় এখানে কোনো অসুবিধা হবে না।

‘অনেকের হয়তো একটু সন্দেহ থাকতে পারে, উন্নয়নশীল দেশ হলে বোধ হয় অনেক সুবিধা বঞ্চিত হব। সুবিধা বঞ্চিত হওয়ার থেকেও সুবিধা অর্জন করতে পারব আরও অনেক অনেক বেশি।’

সুবিধা অর্জন করার সুযোগটা ‘বড় বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে আমরা আরও সুযোগ পাব রপ্তানি সম্প্রসারণ করতে, দেশের বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করতে।’

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাইরে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও সরকার তৈরি করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অনেক দেশে আমরাও বিনিয়োগ করতে পারি। আমাদের ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ করতে পারেন। বেসরকারি খাতও বিনিয়োগ করতে পারবে। আমি ভবিষ্যতে সেই সুযোগটাও সৃষ্টি করব। তার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

নিজের উন্নয়ন দর্শন তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা ছিল বলেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘২০০৯ থেকে ধারাবাহিকভাবে এই ২০২১ সাল পর্যন্ত সরকারে আছি বলেই প্রকৃতপক্ষে উন্নয়নটা আমরা পরিকল্পিতভাবে করতে পেরেছি। যার জন্য আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল বাংলাদেশের মর্যাদাটা পেয়েছে। এটাই আমাদের বড় একটা অর্জন।

‘সেজন্য আমি বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানাই, কৃতজ্ঞতা জানাই। যারা আমাদের প্রতি নির্বাচনে সহযোগিতা করেছেন, সমর্থন দিয়েছেন, ভোট দিয়েছেন তাদেরও আমি ধন্যবাদ জানাই।’

মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে ‘কিপ্টামি’ নয়

দেশের রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা ও বাজার বাড়াতে মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সেখানে কিন্তু কিপ্টামি চলবে না।’

এ সময় রপ্তানি বাজারে টিকে থাকতে ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা তৈরির ওপরও তাগিদ দেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘যখনই আপনারা কোনো পণ্য উৎপাদন করবেন সময়ের চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে বা কোন দেশের জন্য করছেন, সেখানকার চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে উন্নতমানের (পণ্য) উৎপাদন করতে হবে। সেখানে কিন্তু কিপ্টামি করলে চলবে না। কাজেই সেটা যদি করতে পারেন, বাজারে টিকে থাকতে পারবেন।’

পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নতুন বাজার তৈরিতে উদ্যোক্তাদের নজর দেয়ার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যত শিল্প খাত আছে, তাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সেই প্রস্তুতিতে আমি এতটুকু বলতে পারি, আপনাদের সরকারের পক্ষ থেকে যত ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, সেই সহযোগিতাটা আপনারা পাবেন। সেটা আপনাদের আমরা দেব, কিন্তু আপনাদের সেই উদ্যোগ থাকতে হবে।

‘ব্যাবসায়িক সম্প্রদায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো তাদের সবাইকে আমি এই অনুরোধটা করব, আপনারা এই চেষ্টাটা করবেন; আমাদের পণ্যের আরও বহুমুখীকরণ করা, রপ্তানি বাস্কেটটা আরও বৃদ্ধি করা এবং কোন ধরনের পণ্য কোন দেশে আমরা রপ্তানি করতে পারি, সে বিষয়টার ওপর আরও গুরুত্ব দেয়া এবং সেভাবে পণ্য উৎপাদনের ব্যবস্থা নেয়া।’

আরও পড়ুন:
বিদেশি সহায়তা ছাড়িয়ে গেছে ৭ বিলিয়ন ডলার

শেয়ার করুন

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে আর অর্থায়ন নয়: এডিবি

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে আর অর্থায়ন নয়: এডিবি

ছবি: সংগৃহীত

এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিদ্যুতের ভূমিকা মুখ্য। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদননীতি জলবায়ু ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে। এডিবির নতুন জ্বালানিনীতি আমাদের উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোকে (ডিএমসি) নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী মূল্যে ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি পেতে সহায়তা করবে।’

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে নতুন করে অর্থায়ন করবে না এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি।

ফিলিপাইনের ম্যানিলায় সংস্থটির সদর দপ্তরে বুধবার এক বোর্ড সভায় নতুন জ্বালানিনীতি অনুমোদন পায়।

এতে বলা হয়েছে, আর কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অর্থায়ন করবে না এডিবি। গুরুত্ব দেয়া হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কার্বন নিঃসরণ কমানোকে। পাশাপাশি বিশ্বের সবার জন্য কম খরচে জ্বালানি নিশ্চিতে কাজ করবে এডিবি।

এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে গভীর সংকটের মুখে বিশ্ব। এ কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

‘অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিদ্যুতের ভূমিকা মুখ্য। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদননীতি জলবায়ু ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে। এডিবির নতুন জ্বালানিনীতি আমাদের উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোকে (ডিএমসি) নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী মূল্যে ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি দিতে সহায়তা করবে।’

এডিবি ঢাকা অফিসের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে এডিবি অর্থায়ন করেনি। নতুন নীতিমালার কারণে ভবিষ্যতে অর্থায়ন করার তো প্রশ্নই ওঠে না।’

২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর (ডিএমসি) জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এডিবি। গত ১৩ অক্টোবর এই ঘোষণাটি আসে। তার এক সপ্তাহের মাথায় নতুন জ্বালানিনীতি অনুমোদন পেল।

এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, ‘এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে জলবায়ুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে হয় জয় নয়তো পরাজয় ঘটবে। জলবায়ু পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় জলবায়ু ইস্যুতে অনেকেই অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের নিজস্ব সম্পদ থেকে জলবায়ু ইস্যুতে অর্থায়ন ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
বিদেশি সহায়তা ছাড়িয়ে গেছে ৭ বিলিয়ন ডলার

শেয়ার করুন