× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Development is coming to a halt at the unbridled price of rod cement
google_news print-icon

রড-সিমেন্টের লাগামহীন দামে থমকে যাচ্ছে উন্নয়ন

রড-সিমেন্টের-লাগামহীন-দামে-থমকে-যাচ্ছে-উন্নয়ন
দেশে রড সিমেন্টের দাম বেড়ে যাওয়ায় উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফাইল ছবি
ঠিকাদাররা বলছেন, নির্মাণ উপকরণের দাম হু হু করে বাড়তে থাকায় সরকারি উন্নয়নকাজে আগের চুক্তিতে তাদের পোষাচ্ছে না। এ কারণে কাজের গতি যাচ্ছে কমে। আবার বেসরকারি নির্মাণকাজও মুখ থুবড়ে পড়ছে। নির্মাণ উপকরণের কোনো কোনোটির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে।

সারা দেশে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো নির্মাণ কাজ। এই মুহূর্তে সরকারের মেগা প্রকল্পগুলো ছাড়া কোনো প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়নে নেই গতি।

প্রায় বছর ধরে নির্মাণসামগ্রীর মুখ্য উপকরণ রড, সিমেন্ট ও ইট-পাথরের দামের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

দাম স্থিতিশীল রাখতে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ইস্পাত এবং সিমেন্ট শিল্পে আগাম কর প্রত্যাহার করে নেয়। পাশাপাশি লৌহজাত পণ্য প্রস্তুতে ব্যবহার্য কয়েকটি কাঁচামাল, স্ক্র্যাপ ভেসেল ও পিভিসি, পিইটি রেজিন উৎপাদনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ইথানল গ্লাইকলসহ বিভিন্ন পণ্যের আগাম কর অব্যাহতি দেয়া হয়। কিন্তু বাজেট কার্যকরের পর এক মাস পার হলেও বাজারে কমেনি এসব নির্মাণ উপকরণের দাম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারের হাতে এখন ছোট-বড় ও মাঝারি বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ২ হাজার প্রকল্পের উন্নয়নকাজ চলমান আছে। অন্যদিকে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার কাজও চলছে। এ ছাড়া আবাসন চাহিদা পূরণেও খাতসংশ্লিষ্টদের হাতে রয়েছে সহস্রাধিক প্রকল্প। উৎপাদনমুখী বিভিন্ন খাতেও শিল্প-কারখানা নির্মাণ ও সম্প্রসারণের কাজ হচ্ছে। এর বাইরে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত কয়েক লাখ ঘর-বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ রয়েছে।

এভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান উন্নয়নযজ্ঞে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার টন রড, সিমেন্ট, ইট ও পাথরের জোগান প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু দেশে-বিদেশে করোনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং দফায় দফায় লকডাউনে এসব উপকরণের দাম আকাশ ছুঁয়েছে, যা সার্বিক উন্নয়নের লাগাম টেনে ধরছে।

এই পরিস্থিতিতে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের তালিকায় থাকা পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেলসহ হাতেগোনা কয়েকটি প্রকল্প ছাড়া অন্য সব প্রকল্পের কাজ অব্যাহত রাখায় ভাটা পড়েছে।

উপকরণের মাত্রাতিরিক্ত দামের কারণে বাড়তি খরচ সমন্বয়ের সুযোগ না থাকায় বেঁকে বসছে অধিকাংশ ঠিকাদার। জরুরি বিবেচনায় আগের চুক্তিমূল্যেই যারা কাজ চালিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের কাজের গতিও খুব ধীর এবং সেখানে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে দাম কমার আশায় ব্যক্তি উদ্যোগে ঘর-বাড়ি নির্মাণকাজ এবং উদ্যোক্তাদের চলমান অনেক উন্নয়নকাজও এখন বন্ধ হয়ে গেছে।

আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (রিহ্যাব) জানিয়েছে, শুধু চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই দেশে অবকাঠামো নির্মাণে খরচ বেড়েছে কমপক্ষে ২০ শতাংশ।

অন্যদিকে দেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রি (বিএসিআই) জানায়, প্রকৌশল বিধি অনুযায়ী প্রকল্পের গুরুত্ব বুঝে ৩৮ থেকে ৪২ শতাংশ রড, ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ ইট বা পাথর এবং ১৮-২২ শতাংশ পর্যন্ত সিমেন্ট ব্যবহারের দরকার পড়ে। অর্থাৎ কোনো একটি অবকাঠামোর কমপক্ষে ৯০ শতাংশজুড়েই থাকে এসব উপকরণ। এর কোনো একটির ঘাটতি হলে অবকাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

গত বছর ডিসেম্বর থেকে এই সময় পর্যন্ত উপকরণভেদে রডের দাম ৩২ থেকে ৩৫ শতাংশ, পাথরের ৩৫ শতাংশ, সিমেন্টের ১৫ শতাংশ এবং ইটের ২৫-৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার পরিস্থিতি

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের রডের দাম প্রতি টনে বেড়েছে ১৮-২২ হাজার টাকা পর্যন্ত। সবচেয়ে ভালো মানের ৭৫ গ্রেডের এমএস (মাইল্ড স্টিল) রড এখন কোম্পানিভেদে বিক্রি হচ্ছে ৭২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৭৪ হাজার ৫০০ টাকায়। গত বছর নভেম্বরে এই গ্রেডের রড বিক্রি হতো ৫২-৫৪ হাজার টাকার মধ্যে।

৬০ গ্রেডের রড বিক্রি হচ্ছে ৬৬-৬৭ হাজার টাকায়। গত বছর নভেম্বরে এই দাম ছিল ৪২-৪৪ হাজার টাকার মধ্যে। সাধারণ ৪০ গ্রেডের প্রতি টন এমএস রড বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৬৩ হাজার ৫০০ থেকে ৬৪ হাজার টাকায়। একই রড গত নভেম্বরে ছিল ৪০ হাজার টাকার মধ্যে। এ ছাড়া বাংলা রড (গ্রেড ছাড়া) বিক্রি হচ্ছে ৬১ হাজার ৫০০ টাকায়। গত বছর নভেম্বরে এর দাম ছিল মাত্র ৩৮ হাজার টাকার মধ্যে।

বাজারে এখন সিমেন্টের সর্বনিম্ন দাম বস্তাপ্রতি ৪১০ টাকা থেকে ৪৮০ টাকার মধ্যে। এই সময়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বস্তাপ্রতি সিমেন্টের দাম বেড়েছে ৩০-৫০ টাকা।

প্রতি টন পাথরের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে ৪০০-৬০০ টাকা এবং ইটের দর প্রতি হাজারে এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত।

চাহিদা বনাম সরবরাহ

দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০০টি ইস্পাত কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৮০ লাখ টন। আর অভ্যন্তরীণ ইস্পাত ব্যবহারের পরিমাণ ৭৫ লাখ টন।

সিমেন্ট কারখানার সংখ্যা ৩৮টি। উৎপাদনে আছে ৩৪টি। সব কোম্পানির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৪ কোটি টন। কিন্তু কারখানাগুলোর সক্ষমতার তুলনায় বাজারে চাহিদা কম। বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী ২ কোটি ৪০ লাখ টন থেকে সোয়া ৩ কোটি টন উৎপাদনে সীমাবদ্ধ থাকছে কোম্পানিগুলো।

খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর (বিএমডি) তথ্য বলছে, উন্নয়ন-কর্মকাণ্ডের কারণে এখন প্রতি বছর পাথরের চাহিদা তৈরি হচ্ছে ৭০-৮০ লাখ টন। এর ৮৩ দশমিক ৪ ভাগই আমদানিনির্ভর। মাত্র ৬ দশমিক ৬ শতাংশ পূরণ হয় দেশীয় উৎপাদন থেকে। অর্থাৎ গড়ে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টন পাথর আমদানি করতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির তথ্যমতে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৪ কোটি পিস ইটের চাহিদা তৈরি হয়। সারা দেশে ছোট-বড় আধুনিক ও সনাতনী সাড়ে ৬ হাজার ইটভাটা থেকে তার চেয়ে বেশিই ইট উৎপাদন করছে, যার ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ইট সরকারি প্রকল্পে ব্যবহার হয়।

দাম নিয়ে সংকটের নেপথ্যে

লাগামহীন দাম বৃদ্ধির পেছনে এসব উপকরণের স্থানীয় উৎপাদক ও বাজারজাতকারীরা দায়ী করছেন আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের ঊর্ধ্বগতি এবং জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধিকে।

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, চাহিদার বিপরীতে প্রায় সব উপকরণেরই সরবরাহ আছে দেশে। তবে দেশে এসব উপকরণ উৎপাদনের বেলায় সারা বছর নির্ভর করতে হয় কাঁচামাল আমদানির ওপর।

বাংলাদেশে স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) চেয়ারম্যান শেখ মাসুদুল আলম মাসুদ নিউজবাংলাকে বলেন, স্টিল ও রডের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ‘বিলেট ও স্ক্র্যাপ’-এর প্রায় শতভাগ আমদানিনির্ভর। কিন্তু করোনার গ্যাঁড়াকলে আন্তর্জাতিক বাজারে এ কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে।

তিনি জানান, গত বছর নভেম্বর-ডিসেম্বরে প্রতি টন স্ক্র্যাপের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ছিল ২৭০-৩৫০ ডলারের মধ্যে। এখন তা ৫৬০-৫৭০ ডলারে ওঠে গেছে। বিলেটের বাজারমূল্য ছিল ৭৫০-৮০০ ডলারের মধ্যে। এখন সেটি ১ হাজার ৩৫০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

আগে দেশে এক কনটেইনার মেল্টিং মেটাল আমদানিতে খরচ পড়ত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ ডলার। এখন একই পরিমাণ মেল্টিং মেটাল আমদানিতে খরচ পড়ে ২ হাজার ৮০০ ডলার পর্যন্ত। দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।

একইভাবে বেড়েছে কেমিক্যালের দামও। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় দেশেও এর দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।

বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) সভাপতি ও ক্রাউন সিমেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আলমগীর কবির বলেন, দেশে সিমেন্ট উৎপাদনের কাঁচামাল ক্লিংকারের ৭৫ ভাগ আমদানিনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে এই ক্লিংকারের দাম বাড়ার পাশাপাশি দেশে জাহাজীকরণের খরচও বেড়ে গেছে।

জানা গেছে, আগে ইন্দোনেশিয়া বা ভিয়েতনাম এমনকি মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতি টন ক্লিংকার পরিবহনে ২২ থেকে ২৪ ডলার খরচ হতো। এখন তা গুনতে হচ্ছে ২৮ থেকে ৩০ ডলার পর্যন্ত। এ ছাড়া প্রতি টন ক্লিংকারের সিএফআর মূল্য পড়ছে ৬০ থেকে ৬৫ ডলার, যা গত বছর নভেম্বরে ছিল ৫৫-৫৭ ডলার।

বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান বাবুল জানান, ইট পোড়ানোর প্রধান কাঁচামাল হলো কয়লা। এর ৬৫-৭০ ভাগই আমদানি হচ্ছে। রপ্তানিকারক দেশগুলোতে দাম বেশি। আনতে ভাড়াও লাগছে বেশি। শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। এর প্রভাব ইটের দামে পড়েছে।

জানা গেছে, প্রতি টন কয়লার দাম বেড়ে এখন ১৪ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। আগে এর দাম ছিল ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে।

একই তথ্য দিয়েছেন পাথর আমদানিকারকরাও। দেশে প্রয়োজনীয় পাথরের ৯০ শতাংশের বেশি আমদানি করতে হচ্ছে। পদ্মা সেতুসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পাথরের চাহিদা বেড়েছে। রপ্তানিকারক দেশগুলো বাড়িয়ে দিয়েছে টনপ্রতি পাথরের দাম।

পাথরের আমদানি মূল্য টনপ্রতি ৬ ডলারের বেশি নয়। কিন্তু দাম বাড়াচ্ছে পরিবহন ও মজুরি খরচ। ৪ থেকে ৬ ডলারের মধ্যে এলসি করা পাথর ওই দেশের কোয়ারি থেকে জাহাজে উঠানো ও চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত পৌঁছতে মোট আমদানি মূল্য দাঁড়ায় টনপ্রতি ১৯ থেকে ২২ ডলার পর্যন্ত। অর্থাৎ পাথরের এলসি মূল্যের চেয়ে পরিবহন ও ‌উঠানো-নামানোর খরচ বেশি।

সবচেয়ে নিকটবর্তী রপ্তানিকারক দেশ ভারতে প্রতি টন পাথরের দাম ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সরবরাহ চেইনেও আছে জটিলতা

চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দফায় দফায় লকডাউনে পড়েছে দেশ। একই পরিস্থিতি ছিল উপকরণের রপ্তানিকারক দেশগুলোতেও। ফলে সর্বত্র বিঘ্নিত হয়েছে উৎপাদন। এ কারণে কমেছে রপ্তানি।

অন্যদিকে বিশ্বের বৃহৎ উৎপাদনকারী দেশ চীন আগে মেল্টিং স্ক্র্যাপ আমদানি করত খুব কম। নিজস্ব খনিজ লোহা দিয়েই তারা স্টিল উৎপাদনে ছিল। এখন বিভিন্ন কারণে চীন মেল্টিং স্ক্র্যাপ আমদানির দিকে ঝুঁকেছে। ফলে বিশ্বব্যাপী স্ক্র্যাপ মেটালের একটা বড় অংশ এখন সেখানেই যাচ্ছে।

সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার এবং পাথর ও কয়লার ক্ষেত্রেও তাই ঘটছে। এতে আমদানিও দীর্ঘসূত্রতায় পড়ছে। দেশেও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ চেইনেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া দফায় দফায় লকডাউন শুরু হওয়ায় উপকরণের বাজারমূল্য আরও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে।

আবাসন খাতে কী ক্ষতি

রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সংগঠনের সদস্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ১৫১। গড়ে একটি করে ধরলেও সমপরিমাণ প্রকল্পের চাহিদা আছে। কিন্তু বাড়তি খরচের ভয়ে এখন নতুন কোনো প্রকল্প হাতে নেয়ার সাহস করছে না কেউ। সবাই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ধীরে চলো নীতিতে এগোচ্ছে। অথচ সবার এখন নতুন প্রকল্প শুরু জরুরি হয়ে পড়েছে।’

এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ২০২০ সালের শুরুর দিকে আবাসন ব্যবসায়ীদের হাতে প্রায় ৬ হাজার রেডি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট অবিক্রিত ছিল। গত এক বছরে তার থেকে ৫ হাজার ৫১৮টি বিক্রি হয়ে গেছে। অর্থাৎ আবাসন খাতে রেডি ফ্ল্যাট স্মরণকালের সর্বনিম্ন অবস্থায় নেমে এসেছে।

নানা বাস্তবতার কারণে দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ফ্ল্যাট কেনায় আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে। তারা সক্ষমতা অনুযায়ী ছোট ফ্ল্যাট সুলভমূল্যে পেতে চায়। ফলে এখনই কয়েক হাজার ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ শুরু করা জরুরি। তার ওপর দেড় হাজারের বেশি ফ্ল্যাটের বুকিং অর্ডার রয়েছে। কিন্তু নির্মাণ উপকরণের মাত্রাতিরিক্ত দামের কারণে এখন কোনো প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। একইভাবে বড় পরিসরের ফ্ল্যাট নির্মাণও শুরু করা যাচ্ছে না।

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, উপকরণসামগ্রীর দামে এখনই লাগাম পরানো না গেলে অধরাই থেকে যাবে মধ্যবিত্তের নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে আবাসন খাতে।

সরকারি প্রকল্পে ধীর গতি, ক্ষতিতে ঠিকাদাররা

আবাসন ব্যবসায়ীদের চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি এখন সরকারি উন্নয়নকাজের ঠিকাদারদের।

এ প্রসঙ্গে বিএসিআইর প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার এস এম খোরশেদ আলম নিউজবাংলাকে জানান, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলো ফিক্সড প্রাইস চুক্তিতে চলে। কাজ সম্পাদনের নির্দিষ্ট সময়ও বেঁধে দেয়া থাকে। কিন্তু দেশে নির্মাণ উপকরণের দাম লাগামহীন হয়ে পড়ায় প্রায় বছর ধরে কোনো কিছুই ঠিকভাবে চলছে না।

তিনি জানান, সরকারি কোনো প্রকল্পেরই চলমান কাজ এগিয়ে নেয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে বেশির ভাগ প্রকল্পের উন্নয়নকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। জরুরি বিবেচনায় কয়েকটির কাজ চালিয়ে নেয়া হলেও উপকরণের বাড়তি দামে প্রকল্পের ব্যয় আগের সীমায় আটকে রাখা যাচ্ছে না। এতে লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন ঠিকাদাররা। উপকরণের দাম বৃদ্ধির হার অনুযায়ী কাজ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাড়তি খরচ আদায় করা যাচ্ছে না। ফলে আগের নির্ধারিত চুক্তিমূল্য থেকে ২০ শতাংশ বাড়তি খরচ সমন্বয় করতে গিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর এখন প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে চুক্তিবদ্ধ ঠিকাদাররা সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয়ে না পারছেন প্রকল্প গুটিয়ে চলে যেতে, আবার না পারছেন লোকসান দিয়ে কাজ চালিয়ে নিতে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন তথা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন দীর্ঘসূত্রতায় গড়াচ্ছে। আবার উন্নয়নকাজের মান নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও প্রকট হবে, যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর।

বিএসিআইর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এস এম খোরশেদ আলম দাবি করেন, সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সুফল পৌঁছায়। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এর বাস্তবায়ন হওয়ার পাশাপাশি এগুলোর মানসম্পন্ন বাস্তবায়নও দরকার। এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে ফিক্সড প্রাইস কনট্রাক্টের চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। যদি তা বহালও থাকে, তাতে সময়ে সময়ে পরিপত্র জারির মাধ্যমে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া উপকরণগুলোর দাম সমন্বয় করে ভ্যারিয়েশন বিল দেয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। একইভাবে পিপিআরের বিধান অনুযায়ী ভবিষ্যতে আহ্বানকৃত সব দরপত্রের প্রাইস সমন্বয়ের ধারা অন্তর্ভুক্ত করা না হলে প্রকল্পের বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমানো যাবে না।

উপকরণের বাজার মনিটরিংয়ের পরামর্শ

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিয়মিত মনিটরিং হয়। বিভিন্ন সময় বাজারভেদে পরিচালনা করা হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য না হলেও নিয়মিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রতিদিন ব্যবহার হয় হাজার হাজার টন রড, সিমেন্ট, পাথর ও ইট; যার দামের ঊর্ধ্বগতি দেখার নেই কেউ।

এ পরিস্থিতিতে এসব উপকরণের প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি ও বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ দাম নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ রেখেছেন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান।

তিনি বলেন, উচ্চ মুনাফানির্ভর এসব খাতের সরবরাহকৃত উপকরণে ভোক্তারা ঠকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এটা যাতে না হয়, সে জন্য ভোগ্যপণ্যের মতো ফিনিশড পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণেও বাজার মনিটরিং সুফল দিতে পারে। এর পাশাপাশি সরকার বাজেটে যে শুল্ক সুবিধা দিয়েছে, তা কতটা কার্যকর হয়েছে, সেটি না হলে গলদ কোথায় কিংবা গৃহীত উদ্যোগ যথেষ্ট কিনা, না হলে আরও কী করা যেতে পারে, সমষ্টিগত উন্নয়ন স্বার্থে তা বিবেচনায় নিতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

কী ভাবছে সরকার

বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভোক্তার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার দায়িত্ব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর বর্তায়। এই পরিস্থিতিতে করণীয় কী জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের প্রধান আমদানি কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফীকুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, ‘এটা ঠিক, দেশে নির্মাণসামগ্রীর দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। এ ধরনের উপকরণের দাম বেড়ে গেলে সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন খরচই বাড়ে। এতে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।

তবে বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের স্থানীয় শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতার বেশির ভাগই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভরশীল। সেখানে দাম বাড়লে দেশেও বাড়ে।

এক প্রশ্নের জবাবে দেশের প্রধান এই আমদানি কর্মকর্তা জানান, ‘উত্তরণের উপায়টি কারও একার হাতে নেই। এটি সম্মিলিত উদ্যোগের বিষয়। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দুই ভাবে কাজ করছে। বিশ্ববাজার থেকে যেসব কাঁচামাল আমদানি হচ্ছে, তা দেশে আনার খরচ অত্যধিক বেড়েছে। এর যৌক্তিকতা নিয়ে আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার উপায়ও বের করার চেষ্টা চলছে।

‘এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে যে হারে উপকরণের কাঁচামালের দাম বেড়েছে, তা দেশে কারখানায় ফিনিশড পণ্যের উৎপাদন শেষে যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তা কতটা যৌক্তিক কিংবা অযৌক্তিক সেটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে মন্ত্রণালয় থেকে যথাযথ মাধ্যমে ট্যারিফ কমিশনকে প্রতিবেদন দেয়ার অনুরোধ করা। এর মধ্যে বাজার পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে না এলে ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
"Business Review Meeting 2026" held by Bengal Commercial Bank

বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ”ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা ২০২৬” অনুষ্ঠিত

বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের  ”ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা ২০২৬” অনুষ্ঠিত

সফলভাবে অনুষ্ঠিত হল বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের “ব্যবসায়িক পর্যালোচনা সভা-২০২৬”। বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, রাজধানীর গুলশানে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভার সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক মোর্শেদ। চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত ব্যাংকের ব্যবসায়িক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যত লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাসহ আগামীর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিবিও কে. এম. আওলাদ হোসেন। তিনি শাখাভিত্তিক ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমানত সংগ্রহ, মানসম্মত ঋণ বিতরণ এবং গ্রাহকসেবা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম সিকান্দার, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিটিও ড. মো. রফিকুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব মো. হুমায়ুন কবির, এফসিএস; বিভাগীয় প্রধানগণ এবং সকল শাখা ব্যববস্থাপকগণ সভায় অংশ নেন।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Award distribution to winners of National Cyber ​​Drill completed

জাতীয় সাইবার ড্রিলের বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন

জাতীয় সাইবার ড্রিলের বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর প্রতিনিধিরা প্রধান অতিথির কাছ থেকে চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করছেন

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (NCSA)-এর উদ্যোগে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগিতায় আয়োজিত জাতীয় সাইবার ড্রিলের বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ১৩ জুন ২০২৬ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাইবার ড্রিলের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব ফকির মাহবুব আনাম, এমপি, মাননীয় মন্ত্রী, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

এছাড়া অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঞা, ভারপ্রাপ্ত সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং ড. মো. তৈয়বুর রহমান, মহাপরিচালক, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি।

বক্তারা দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা দক্ষতা বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক মানের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Global growth could drop to 13 percent if war breaks out
বিশ্বব্যাংকের সতর্কতা

যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নামতে পারে ১.৩ শতাংশে

যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নামতে পারে ১.৩ শতাংশে ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে ২০২৬ সালের জন্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি তাদের অর্ধবার্ষিক ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদনে এক আশঙ্কাজনক সতর্কবার্তা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যদি এই যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হয় এবং জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়, তবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ আর্থিক সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে ওয়াশিংটনভিত্তিক এই ঋণদাতা সংস্থা।

রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে যে বিশ্বব্যাংকের এবারের পূর্বাভাস গত জানুয়ারির অনুমানের চেয়ে দশমিক ১ শতাংশ কম। কোভিড-১৯ মহামারীর পরবর্তী সময়ে এটিই বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৫ সালে বিশ্ব অর্থনীতি কিছুটা ভালো অবস্থানে থাকলেও বর্তমান সামরিক সংঘাত পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাংক বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দেশেরই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে দিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন চতুর্থ মাসে পা দিয়েছে। যুদ্ধের কারণে বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদহারের মতো কঠোর মুদ্রানীতির কথা ভাবছে। এছাড়া যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে সারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক তাদের মূল প্রাক্কলনে ব্রেন্ট ক্রুড জ্বালানি তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলার হওয়ার সম্ভাবনা ধরে নিয়েছে। তবে বিকল্প একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারে পৌঁছালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে। পরিস্থিতি আরও চরমে পৌঁছালে প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৩ শতাংশে ঠেকতে পারে। বিশ্বব্যাংকের উপ-প্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেন, ‘জ্বালানি সরবরাহ সংকট এবং আর্থিক বাজারের চাপ যখন একে অন্যকে প্রভাবিত করে, তখন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে প্রবৃদ্ধি সামান্য ঘুরে দাঁড়ালেও তা ২০১০-এর দশকের গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে অনেক কম থাকবে। প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল জানিয়েছেন, উচ্চ সরকারি ঋণ, বেসরকারি বিনিয়োগে মন্দা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের শ্লথগতি এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ২ শতাংশ এবং চীনের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্বব্যাপী এই মন্দার মধ্যেও ভারত ৬ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক স্থবিরতার সম্মুখীন হয়েছে।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Irans four major banks are victims of cyber attacks

ইরানের প্রধান চার ব্যাংক সাইবার হামলার শিকার

ইরানের প্রধান চার ব্যাংক সাইবার হামলার শিকার ছবি: সংগৃহীত

সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছে ইরানের শীর্ষস্থানীয় চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। এই অতর্কিত হামলার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর নিয়মিত আর্থিক সেবা প্রদান প্রক্রিয়ায় সাময়িক বিপর্যয় ও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

ইরানের ব্যাংকিং সমন্বয় পরিষদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্যে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার কিংবা তথ্য চুরির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে হামলার কারণে ব্যাংকগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, হামলাটি মূলত ব্যাংক মেল্লি, ব্যাংক তেজারাত, ব্যাংক সাদেরাত এবং এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব ইরান-এর ব্যবহৃত একটি যৌথ যোগাযোগ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সেবা পুনরায় স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
After the withdrawal of the floor price the two stocks reacted in two ways

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর দুই শেয়ারে দুই রকম প্রতিক্রিয়া

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর দুই শেয়ারে দুই রকম প্রতিক্রিয়া ছবি: সংগৃহীত

শেয়ারবাজারের দুই আলোচিত প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এবং বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর ভিন্নধর্মী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গত মঙ্গলবার ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘ সময় পর সম্পূর্ণ ফ্লোর মুক্ত হলেও আজ (১৪ জুন) নতুন সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে কোম্পানি দুটির শেয়ারের মুভমেন্ট ছিল সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী।
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের প্রথম কয়েক দিন উভয় কোম্পানিতেই ক্রেতা সংকট দেখা দিলেও আজ দুপুরে চিত্রটি পাল্টে যায়। ইসলামী ব্যাংক ফ্লোর প্রত্যাহারের প্রাথমিক ধাক্কা সামলে বিনিয়োগকারীদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেখা যায়, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে প্রচুর ক্রয় আদেশ থাকলেও বিক্রেতার সংখ্যা ছিল শূন্য। ফলে কোম্পানিটির শেয়ারদর সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা অর্থাৎ প্রায় ১০ শতাংশ বা ২ টাকা ৯০ পয়সা বেড়ে ৩২ টাকায় লেনদেন শেষ হয়। হল্টেড হওয়ার আগে কোম্পানিটির প্রায় ৮৫ লাখ ১০ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।
অন্যদিকে, বেক্সিমকো লিমিটেডের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। ফ্লোর পরবর্তী সময়ে শেয়ারটি বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আজ দুপুরে দেখা গেছে, বেক্সিমকোর শেয়ারে বিপুল পরিমাণ বিক্রয় আদেশ থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। এর ফলে কোম্পানিটির শেয়ারদর সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন সীমা বা ১০ শতাংশ (৮ টাকা) কমে ৭২ টাকা ৩০ পয়সায় অবস্থান নেয়। লেনদেনের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত নগণ্য, মাত্র ৫৭ বারে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের পুনরায় ফিরে আসা বাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত হলেও বেক্সিমকোর ক্ষেত্রে ফ্লোর পরবর্তী দরপতন বিনিয়োগকারীদের মাঝে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সকল কোম্পানি ফ্লোর মুক্ত হওয়ায় বাজার তার স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে বলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Eurocham Bangladesh emphasizes modernization of tax administration in economic transition

অর্থনৈতিক উত্তরণে কর প্রশাসন আধুনিকীকরণের ওপর জোর ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের

অর্থনৈতিক উত্তরণে কর প্রশাসন আধুনিকীকরণের ওপর জোর ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির এই সন্ধিক্ষণে সামষ্টিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের পাশাপাশি কর ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘ইউরোচ্যাম বাংলাদেশ’। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে রোববার (১৪ জুন) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে যে, বাজেটে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে এর প্রকৃত সুফল পেতে হলে কার্যকর বাস্তবায়ন ও ধারাবাহিক নীতি সংস্কার অপরিহার্য।

ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের পর্যালোচনা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বাজেটে তাদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশের প্রতিফলন ঘটেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—একটি বহু-বার্ষিক কর নীতি রোডম্যাপের প্রবর্তন, কর প্রদান ও রিফান্ড ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বন্ডেড ও শুল্কমুক্ত সুবিধার সম্প্রসারণ। এছাড়া প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) কাঠামোকেও তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। সংগঠনটি মনে করে, এই উদ্যোগগুলো ব্যবসায়িক নীতির পূর্বাভাসযোগ্যতা বাড়িয়ে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

নবায়নযোগ্য শক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি), আইসিটি এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতের জন্য ঘোষিত প্রণোদনাকে সাধুবাদ জানিয়ে ইউরোচ্যাম বলেছে যে, সরকারের ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ এবং বেসরকারি খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আরিফ শাম্মা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর প্রশাসন ও বাণিজ্য সহজীকরণের ভালো উদ্যোগ থাকলেও বিদেশি বিনিয়োগ টানতে ব্যবসার পরিবেশের উন্নতি ও ধারাবাহিক সংস্কারের বিকল্প নেই। তবে তিনি সবকিছুর মূলে এই নীতিমালার সঠিক ও কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন ইউরোচ্যাম সরকারকে নীতিমালার ধারাবাহিকতা রক্ষা, শুল্ক আধুনিকীকরণ এবং মানসম্মত সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আরও বেশি জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করতে সংগঠনটি সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Sufi Nights organized by Twab Pioneers Coalition

সুফি নাইটস আয়োজন করলো টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোট

সুফি নাইটস আয়োজন করলো টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোট ছবি: সংগৃহীত

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্যানেল টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোট শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি কনভেনশন হলে “সুফি নাইটস ও ডিনার” শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে টোয়াবের সম্মানিত সদস্যদের উপস্থিতিতে গড়ে ওঠে এক অনন্য সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও পেশাগত ঐক্যের পরিবেশ।

সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে টোয়াবের সদস্যবৃন্দ, পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় এবং নৈশভোজের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পেশাগত বন্ধন ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখে। আগামী টোয়াব নির্বাচনের প্রাক্কালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র একটি সামাজিক মিলনমেলা নয়, বরং দেশের পর্যটন শিল্পের অংশীদারদের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।

অনুষ্ঠানে সুফি সংগীত পরিবেশনা, নৈশভোজ এবং অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পর্যটন শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। উপস্থিত প্যানেল প্রধান ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জনাব ড. তাসলিম আমিন শোভন ও সদস্যরা একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ এবং টেকসই পর্যটন খাত গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প আজ এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যেখানে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। তারা শিল্পের উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৌফিক উদ্দিন আহমেদ, সাবেক সভাপতি, টোয়াব এবং গ্রুপ চেয়ারম্যান, গ্যালাক্সি বাংলাদেশ; ফরিদুল হক, সাবেক সভাপতি, টোয়াব ও চেয়ারম্যান, ইনোগ্লোব; সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ, সভাপতি, বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (বোটোয়া); সৈয়দ গোলাম কাদির, প্রধান সম্পাদক, ট্রাভেল ক্যানভাস; এবং রেজাউল একরাম (রাজু), প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (বোটোয়া) ও নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট (বিএফটিডি)। এছাড়াও টোয়াবের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ এবং পর্যটন শিল্পের বিশিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ট্রাভেলবাংলা ডটকমের প্রধান সম্পাদক প্রণব সাহা। পুরো আয়োজনটি সমন্বয় করেন টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোটের প্রধান সমন্বয়কারী চৌধুরী হাসানুজ্জামান রনি, সভাপতি, বোটফ; এবং উপ-সমন্বয়কারী আবদুল্লাহ আল কাফি, সিইও, বাংলাদেশ ভ্যাকেশন।

মন্তব্য

p
উপরে