অর্থনীতিকে ‘বাঁচিয়ে’ রেখেছে কৃষি

অর্থনীতিকে ‘বাঁচিয়ে’ রেখেছে কৃষি

করোনা মহামারিতেও জিডিপিতে কৃষির অবদান এতটুকু কমেনি। ছবি: ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

করোনায় শিল্প ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি তলায় নেমে গেলেও কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি অনেক বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে কৃষিতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। কৃষি খাতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বেড়েছে।

মহামারি কেরোনাভাইরাসের এই মহাসংকটের সময়ে কৃষিই বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে। এই কঠিন সময়ে কৃষি খাতের কোনো ক্ষতি হয়নি। উল্টো উৎপাদন বেড়েছে, বেড়েছে কর্মসংস্থান।

অন্যদিকে শিল্প ও সেবা খাত করোনার ছোবলে তছনছ হয়ে গেছে। শিল্প খাতের উৎপাদন তলানিতে নেমে এসেছে। চাকরি হারিয়ে দিশেহারা লাখ লাখ পরিবার।

সেবা খাতেরও একই অবস্থা। প্রায় দেড় বছর ধরে ছোট-বড় সব ধরনের হোটেল-রেস্টুরেন্ট, বিপণিবিতান, পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ। বাস-ট্রেনসহ অন্য পরিবহনও চলছে না ঠিকমতো। বহু মানুষ কাজ হারিয়ে গ্রামে গিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বৃহস্পতিবার ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধির যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তা বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া যায়।

এই প্রথমবারের মতো দুই অর্থবছরের জিডিপির হিসাব একসঙ্গে প্রকাশ করল পরিসংখ্যান ব্যুরো। ২০১৯-২০ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব আর গত ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। তাতে দেখা যাচ্ছে, চূড়ান্ত হিসাবে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। আর প্রাথমিক হিসাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

এই দুই বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে কৃষি খাতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার হচ্ছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। তার আগের দুই অর্থবছর ২০১৮-১৯ এবং ২০১৭-১৯ অর্থবছরে এই হার ছিল যথাক্রমে ৩ দশমিক ৯২ এবং ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

২০১৯-২০ অর্থবছরে শিল্প খাতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার এক ধাক্কায় ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এক দশকে সবচেয়ে কম। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল প্রায় তিনগুণ ১২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ২০১৭-১৯ অর্থবছরে ছিল ১২ দশমিক ০৬ শতাংশ।

অর্থনীতিকে ‘বাঁচিয়ে’ রেখেছে কৃষি
কৃষি খাতে সরকারও সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

সেবা খাতের অবস্থাও বেশ খারাপ হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সেবা খাতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে। সেবা খাতের এই প্রবৃদ্ধিও এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০১৭-১৯ অর্থবছরে ছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

তবে, নয় মাসের (২০২০ সালের ১ জুলাই-২০২১ সালের ৩০ মার্চ) হিসাব কষে পরিসংখ্যান ব্যুরো গত ২০২০-২১ অর্থবছরের ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে হিসাব দিয়েছে, তাতে অবশ্য শিল্প ও সেবা খাতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেশ খানিকটা বেড়েছে।

বিবিএস বলেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে শিল্প খাতে ৬ দশমিক ১২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আর সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কমে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ হয়েছে।

প্রতিবছর দেশের অভ্যন্তরে পণ্য উৎপাদন ও সেবা সৃষ্টি হয়ে কত টাকার মূল্য সংযোজন হয়, সেটাই জিডিপির হিসাবে ধরা হয়। মোটাদাগে কৃষি, শিল্প ও সেবা- এই তিন খাত দিয়ে জিডিপি হিসাব করা হয়। এসব খাতকে গণনা করা হয় সব মিলিয়ে ১৫ খাত দিয়ে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেকর্ড ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করার পর ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছিল সরকার।

এর মধ্যে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীন থেকে ছড়াতে শুরু করে নতুন এক করোনাভাইরাস, অল্প সময়ের মধ্যে তা বিশ্বজুড়ে মহামারির রূপ নেয়।

ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশে দেশে লকডাউন শুরু হয়, বন্ধ হয়ে যায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, ফলে বিশ্ব বাণিজ্য এক কথায় অচল হওয়ার দশা হয়।

বাংলাদেশে মহামারির ধাক্কা শুরু হয় ২০২০ সালের মার্চে। শনাক্ত রোগী বাড়তে শুরু করে বাংলাদেশও অন্যান্য দেশের পথ অনুসরণ করে, ২৬ মার্চ থেকে সব কিছু বন্ধ করে দিয়ে নাগরিকদের ঘরে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়।

সরকারি ভাষায় ওই ‘সাধারণ ছুটি’ চলে টানা দুই মাস, এই সময় অর্থনীতির চাকা একপ্রকার অচল হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের শিল্পোৎপাদনও প্রায় বন্ধই থাকে।

মহামারির প্রথম ধাক্কায় অর্থনীতির ওই পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের সাময়িক হিসাব দিয়েছিল। তবে তাতে সন্দেহ পোষণ করেছিলেন অর্থনীতিবিদদের অনেকে।

অর্থনীতিকে ‘বাঁচিয়ে’ রেখেছে কৃষি
কয়েক বছর ধরে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

এখন পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব বলছে, ওই অর্থবছর সরকারের ধারণার চেয়েও ১.৭৩ শতাংশ পয়েন্ট কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, মহামারির ওই সংকটে অর্থনীতির চাকা যেটুকু সচল ছিল, তার মূল কৃতিত্ব কৃষিখাতের।

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রায় দেড় বছর ধরে মহামারির ছোবলে শিল্প ও সেবা খাত তছনছ হয়ে গেছে; এখনও হচ্ছে। যতদিন না পর্যন্ত আমরা দেশের বেশির ভাগ মানুষষকে টিকা দিতে না পারব, ততদিন এই দুই খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।

‘তবে আনন্দের বিষয় হচ্ছে, এই দেড় বছরে আমাদের কৃষি খাতের কোনো ক্ষতি হয়নি; উল্টো এ খাতের উৎপাদন আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। কৃষক ধান, পাটসহ অন্যান্য ফসলের ভালো দাম পেয়েছে। তার প্রতিফলনই আমরা বিবিএসের হিসাবে দেখতে পাচ্ছি।’

২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের যে হিসাব পরিসংখ্যান ব্যুরো দিয়েছে, সেটাকে ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় বাস্তবভিত্তিক’ বলে মনে হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান মনসুরের।

তিনি বলেন, ‘মহামারির ওপর কারও হাত নেই। অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে এটা আঘাত এনেছে। এই মহামারির কারণে ভারতে প্রায় ১০ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশে ৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি শুনে ভালো লাগছে।’

করোনার ধাক্কা সামলে দেশের অর্থনীতি এখনও যেহেতু পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, তাই প্রবৃদ্ধির দিকে মনোযোগ না দিয়ে চলতি অর্থবছরে ‘সঠিক নীতি সহায়তা’ দিয়ে অর্থনীতিকে সঠিক পথে রাখার ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘মহাসংকটের সময়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাটাই সবচেয়ে বড় অর্জন বলে আমি মনে করি। এই কঠিন সময়ে ৩/৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধিও যদি হয়, সেটাকেও আমি “অসম্ভব অর্জন” বলে মনে করব।’

বিবিএসের মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, কী একটা ভয়াবহ কঠিন সময়ে পার করছে গোটা বিশ্ব। সব দেশের প্রবৃদ্ধিই হোঁচট খেয়েছে। আমাদের পাশের দেশ ভারতসহ অনেক বড় বড় দেশের প্রবৃদ্ধি কমেছে। এর মধ্যে কৃষি খাত ভালো করায় আমাদের প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখেছি।’

মহামারির এই সংকটের সময়ে শিল্প ও সেবা খাতসহ অন্যান্য খাতে কর্মসংস্থান কমলেও কৃষি খাতে বেড়েছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় দেখা যায়, মহামারিকালে কৃষিতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ১৮ শতাংশ।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার কারণে বেসরকারি খাতে ৬২ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছে। তারা গড়ে ৯৫ দিনের মতো কাজ পায়নি। পরে তাদের অনেকেই কাজ পেয়েছে। তবে আয় কমেছে। এর পরিমাণ গড়ে ১২ শতাংশ। করোনার কারণে শিল্প ও সেবা খাতে চাকরি কমেছে। আর কৃষিতে কর্মসংস্থান বেড়েছে ১৮ শতাংশের বেশি।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১৬ জেলার ২ হাজার ৬০০ খানার (পরিবার) ওপর জরিপ চালিয়ে এই তথ্য পেয়েছে সিপিডি।

কৃষি খাতে কর্মসংস্থান কেন বেড়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিপিডির গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোভিডকালে রাজধানী ঢাকাসহ বড় বড় শহরের অনেকেরই চাকরি চলে যাওয়ায় তারা গ্রামে ফিরে গিয়ে কৃষি কাজে সম্পৃক্ত হয়েছে। কেউ নিজের জমিতে চাষাবাদ করছে। অনেকে অন্যের জমি লিজ নিয়ে আবাদ করছে। আবার অনেকে দিনমজুরির কাজে যোগ দিয়েছে।’

সে কারণেই শিল্প ও সেবাসহ অন্যান্য খাতে কর্মসংস্থান কমলেও কৃষিতে বেড়েছে বলে জানান তিনি।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে দেখা যায়, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের মোট জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে (বর্তমান বাজারমূল্যে) ৩০ লাখ ১১ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ২৭ লাখ ৩৯ হাজার ৩৩২ কোটি টাকা।

আর মাথাপিছু আয় ২ হাজার ২৪ ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ২২৭ ডলারে পৌঁছেছে।

গত অর্থবছর জাতীয় বিনিয়োগ (বর্তমান মূল্যে) জিডিপির ২৯ দশমিক ৯২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল ৩০ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এ সময়ে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২২ দশমিক ০৬ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে ২১ দশমিক ২৫ শতাংশে। তবে সরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২১-২১ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৭ শতাংশে।

আরও পড়ুন:
গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৪৭ শতাংশ
জিডিপির হিসাব পাওয়া যাবে কবে?
উন্নয়নে বাংলাদেশের কাছে শিক্ষা নিতে পারে ভারত-পাকিস্তান
চার দশকে ভারতের সর্বনিম্ন জিডিপি
জিডিপির প্রবৃদ্ধি দিয়ে কি দেশের উন্নয়ন বোঝা যায়?

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শিপইয়ার্ডে শ্রমিকের মৃত্যু 

শিপইয়ার্ডে শ্রমিকের মৃত্যু 

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জাফারাবাদে এমবি শিপইয়ার্ডে কাজ করার সময় জাহাজ থেকে পড়ে মনির আহত হন। তাকে উদ্ধার করে দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় শিপইয়ার্ডে কাজ করা সময় জাহাজ থেকে পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ফৌজদারহাট জাফারাবাদে এমবি শিপইয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. মনির হোসেন উপজেলার মধ্যম ছলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা।

তথ্য নিশ্চিত করে পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জাফারাবাদে এমবি শিপইয়ার্ডে কাজ করার সময় জাহাজ থেকে পড়ে মনির আহত হন। তাকে উদ্ধার করে দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

নিহতের মরদেহ চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৪৭ শতাংশ
জিডিপির হিসাব পাওয়া যাবে কবে?
উন্নয়নে বাংলাদেশের কাছে শিক্ষা নিতে পারে ভারত-পাকিস্তান
চার দশকে ভারতের সর্বনিম্ন জিডিপি
জিডিপির প্রবৃদ্ধি দিয়ে কি দেশের উন্নয়ন বোঝা যায়?

শেয়ার করুন

পুলিশের বাধা ঠেলে আবার বিক্ষোভ

পুলিশের বাধা ঠেলে আবার বিক্ষোভ

নিরাপদ সড়কসহ নানা দাবিতে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজের ওপর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীরা ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘আমরা আছি থাকব, যুগে যুগে লড়ব’, ‘একাত্তরের হাতিয়ের গরজে উঠুক আরেকবার’,  ‘জেগেছেরে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’ ইত্যাদি স্লোগান ধরেন।

পুলিশের বাধা ঠেলে নিরাপদ সড়কসহ নানা দাবিতে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজের ওপর আবার বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

দুপুর ১২টা থেকে শিক্ষার্থীদের অবস্থান করার কথা থাকলেও শুরুতে পুলিশের বাধায় তারা প্রথমে নামতে পারেননি। সময়ের সঙ্গে ছাত্রদের সংখ্যা বাড়ে। পরে তারা দুপুর দেড়টার দিকে রাস্তায় নামেন। অবস্থান করেন ২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত।

বিক্ষোভের এ সময় তারা নিরাপদ সড়ক চেয়ে শ্লোগান দেন। সবশেষে রাজধানীতে সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই ছাত্রের উদ্দেশে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। রামপুরা ব্রিজের ওপর শুক্রবার সকাল ১০টায় আবারও জমায়েত হবেন বলে জানান ছাত্ররা।

শিক্ষার্থীরা ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘আমরা আছি থাকব, যুগে যুগে লড়ব’, ‘একাত্তরের হাতিয়ের গরজে উঠুক আরেকবার’, ‘জেগেছেরে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’ ইত্যাদি স্লোগান ধরেন।

পুলিশের বাধা ঠেলে আবার বিক্ষোভ

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা ১২টার দিকে রামপুরা ব্রিজে এসে দাঁড়াতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তাদেরকে লাঞ্চনা করা হয়। পুলিশ কয়েকজনের ফোন নম্বর, বাসার ঠিকানা নিয়েছে বলেও জানান তারা।

খিলগাঁও মডেল কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী বলেন, ‘জেলখানা বড় করেন আমরা আসতেছি। পুলিশ আমাদের আজ আটকিয়েছে। তাদের কাছে বন্দুক আছে, কামান আছে, হাতিয়ার আছে। এক মাঘেই তো শীত চলে যায় না। আজকে আমাদের আটকিয়েছে। ছাত্ররা যখন দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামবে। তখন কীভাবে আটকাবে? ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে যখন জনগণ রাস্তায় নামবে, তখন তাদের কিছু করার থাকবে না।’

আরেক শিক্ষার্থী মো. রাব্বি বলেন, ‘২০১৮ এর আন্দোলন থেমে গেছে কিন্তু ছাত্ররা হাল ছেড়ে দেয় নাই। তাই তারা আবার রাস্তায় নেমেছে। পুলিশ আমাদের সঙ্গে নয় সাংবাদিকদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেছে। তারা আমাদের দাঁড়াতে দেয় নাই। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে দাঁড়াতে চেয়েছি। পুলিশ আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। আমাদের ফোন নম্বর বাসার ঠিকানা নিয়েছে। হয়তো আমাদের নামে মামলা নেবে।’

রাজধানীর খিলগাঁও জোনের এডিসি নুরুল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে তাদের দাবি জানাতে পারে সে ব্যবস্থা আমরা আগেই করে দিয়েছি। ছাত্রদের আন্দোলনে কিছু কুচক্রী আন্দোলনে ঢুকে পড়েছে। তারা আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। গতকাল থেকেই আমরা এটা খুব সুক্ষ্মভাবে ফলো করছি।

‘কারা কারা এই কাজ করছে এমন কিছু মানুষকে আমরা শনাক্ত করেছি। এই কুচক্রীরা ছাত্রদের আন্দোলনে যাতে ঢুকে পড়তে না পারে, আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত না করতে পারে সে ব্যাপারে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি। আমরা তাদের আন্দোলনকে শ্রদ্ধা করি।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে তাদের প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেহেতু মেনে নেয়া হয়েছে, সেখানে আন্দোলন করার কোন সু্যোগ নাই। রোগীসহ সাধারণ মানুষের রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে। তাদের যেন কোনো সমস্যা না হয় আমরা সেদিকে খেয়াল রাখছি।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের উত্তরে এডিসি নুরুল আমীন বলেন, ‘ছাত্ররা যেন আমাদের কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, আমরা সে দিকে খেয়াল রাখছি। তাদের সেঙ্গে আমরা কোন খারাপ আচরণ করি নাই। তারা আমাদের ছোট ভাই-বোন। আমাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাদের সঙ্গে যেন আমরা খারাপ আচরণ না করি।’

বাসভাড়া অর্ধেক করার দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনের মাঝে গত সোমবার রাতে রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের বাসের ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষা দেয়া এক ছাত্রের প্রাণ যায়।

এর আগে ২৪ নভেম্বর রাজধানীর গুলিস্তানে সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয় নটর ডেম কলেজের এক ছাত্র।

এ ঘটনার পর নানা দাবিতে প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পেছনে যারা জড়িত, তাদের বিচারের পাশাপাশি অন্যতম দাবি ছিল বাসভাড়া অর্ধেক করা।

এমন অবস্থায় মঙ্গলবার ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়েছেন তারা। বুধবার থেকেই ঢাকা শহরে ছাত্রদের জন্য কার্যকর করা হবে হাফ পাস।

হাফ পাসের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তজুড়ে দিয়েছে মালিক সমিতি। এর মধ্যে রয়েছে হাফ পাস কার্যকর হবে শুধু রাজধানীতে, হাফ ভাড়া দেয়ার সময় অবশ্যই ছবিসংবলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড দেখাতে হবে। হাফ পাস কার্যকর সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোতে কোনো হাফ পাস থাকবে না।

আরও পড়ুন:
গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৪৭ শতাংশ
জিডিপির হিসাব পাওয়া যাবে কবে?
উন্নয়নে বাংলাদেশের কাছে শিক্ষা নিতে পারে ভারত-পাকিস্তান
চার দশকে ভারতের সর্বনিম্ন জিডিপি
জিডিপির প্রবৃদ্ধি দিয়ে কি দেশের উন্নয়ন বোঝা যায়?

শেয়ার করুন

মেছো বিড়াল হত্যার প্রথম দণ্ড

মেছো বিড়াল হত্যার প্রথম দণ্ড

বন বিভাগের মামলা পরিচালক জুলহাস উদ্দিন জানান, এর আগে সাপ, বানর হত্যার ঘটনায় আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাজা দেয়া হয়েছে। মেছো বিড়াল হত্যা নিয়ে কোনো মামলায় এই প্রথম জরিমানা করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারে একটি মেছো বিড়াল হত্যার মামুন মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে শাস্তি দিয়েছে আদালত।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী।

বিড়াল হত্যার এক বছর পর মামুনকে সাজা হিসেবে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার বন আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সাইফুর রহমান সোমবার মামুন মিয়াকে সাজা দেন।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, মেছো বিড়াল হত্যার ঘটনায় এই প্রথম বন আদালতে কাউকে সাজা দেয়া হলো।

২০২০ সালের নভেম্বরে বাড়ির পুকুরের মাছ খাওয়ার সময় সহযোগীদের নিয়ে মেছো বিড়ালটি হত্যার অভিযোগ ওঠে মামুনের বিরুদ্ধে। তিনি মৌলভীবাজারের রাজনগরের কাজীরহাট গ্রামের বাসিন্দা।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মেছো বিড়াল হত্যা বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কাজীরহাটে মেছো বিড়ালটি হত্যার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সূত্র ধরে মামুনকে শনাক্ত করা হয়। পরে এ ঘটনায় মামলা করেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ফরেস্টার মো. আনিসুজ্জামান।

ঘটনার তদন্ত ও স্থানীয় লোকজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর বন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় রাজনগর থানা।

বন বিভাগের মামলা পরিচালক জুলহাস উদ্দিন জানান, এর আগে সাপ, বানর হত্যার ঘটনায় আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাজা দেয়া হয়েছে। মেছো বিড়াল হত্যা নিয়ে কোনো মামলায় এই প্রথম জরিমানা করা হয়েছে।

রেজাউল করিম চৌধুরী নিউজবাংলাকে জানান, ‘দেশে এই প্রথম মেছো বিড়াল হত্যায় শাস্তি হলো। ইচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে এসব অপরাধের সাজা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই বিচার দেশের বন্যপ্রাণী রক্ষায় অবদান রাখবে।’

আরও পড়ুন:
গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৪৭ শতাংশ
জিডিপির হিসাব পাওয়া যাবে কবে?
উন্নয়নে বাংলাদেশের কাছে শিক্ষা নিতে পারে ভারত-পাকিস্তান
চার দশকে ভারতের সর্বনিম্ন জিডিপি
জিডিপির প্রবৃদ্ধি দিয়ে কি দেশের উন্নয়ন বোঝা যায়?

শেয়ার করুন

চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’

চাপ কাটিয়ে পুঁজিবাজারে উত্থানে ‘নতুন আশা’

অস্বস্তি নিয়ে শুরু হওয়া দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে স্বস্তির আভাস দিয়ে। ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে এ নিয়ে ছিল তুমুল আলোচনা। ছবি: নিউজবাংলা

বৃহস্পতিবার বেলা ১০টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরুই হয় ৮৪ পয়েন্ট পতন দিয়ে। এক পর্যায়ে পড়ে যায় ৯০ পয়েন্ট। তবে এই পরিস্থিতি থাকেনি বেশিক্ষণ। বেলা পৌনে ১২টার দিকেই হারিয়ে ফেলা সূচক ফিরে পায় পুঁজিবাজার। এরপর থেকে বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ১ টা ৪৩ মিনিটে আগের দিনের সূচকের সঙ্গে যোগ হয় ১০১ পয়েন্ট। বেলা শেষে সেখান থেকে কিছুটা কমে ৮৯ পয়েন্ট যোগ হয়ে শেষ হয় লেনদেন।

বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন বিজ্ঞপ্তিতে আতঙ্ক তৈরির পর বড় পতন দিয়ে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর পর তা শেষ হয়েছে উত্থানে। দিনে সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান আর সর্বোচ্চ অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য পৌনে দুইশ পয়েন্টের বেশি।

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের এই চিত্র বিনিয়োগকারীদের মনের শঙ্কা, আতঙ্ক ও চিড় ধরা মনোবল অনেকটাই চাঙা করবে সন্দেহ নেই। সংশোধন কাটিয়ে বাজারে আবার চাঙাভাব ফিরবে, এমন আশার কথা বলাবলি হচ্ছে এরই মধ্যে।

টানা দরপতনের মধ্যে থাকা পুঁজিবাজারে বুধবার বড় উত্থান হয় বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায়। আগের দিন বিকেলে সেই বৈঠক শেষে বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, বাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট বাজারমূল্যের বদলে ক্রয়মূল্যে বিবেচনা এবং বন্ডের বিনিয়োগ এই সীমার বাইরে রাখার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এই বিষয়টি রিভিও করার কথাও বলেন তিনি।

তবে দুই পক্ষ কেবল নীতিগতভাবে একমত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে আরও আলাপ আলোচনা হবে।

দুই পক্ষে আলোচনা হয়েছে আরও নানা ইস্যুতে। তবে এক্সপোজার ও বন্ড ইস্যুতে এক মাসের বেশি সময় ধরে টালমাটাল ছিল পুঁজিবাজার আর দুটি সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান বদলের আভাসে বুধবার শেয়ারদর ও সূচকে দেয় লাফ। এক দিনেই বাড়ে ১৪৩ পয়েন্ট।

তবে সেদিন সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পাঠানো আরেক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এমনকি এমনও বলা হয়, বিএসইসি কমিশনারের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, সেটি সঠিক নয়।

এই বিজ্ঞপ্তির পর তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়, এই বিজ্ঞপ্তিটি নিয়ে। বিনিয়োগকারীদের একটি পক্ষ বলতে থাকে, এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বক্তব্য নয়, সেটি বানোয়াট। কারণ, সেটি তাদের অফিসিয়াল সাইটে নেই।

পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সেটি প্রকাশ হওয়ার পর সেই বিতর্ক আর আগায়নি আর ছড়ায় উদ্বেগ।

বৃহস্পতিবার বেলা ১০টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরুই হয় ৮৪ পয়েন্ট পতন দিয়ে। এক পর্যায়ে পড়ে যায় ৯০ পয়েন্ট। তবে এই পরিস্থিতি থাকেনি বেশিক্ষণ। বেলা পৌনে ১২টার দিকেই হারিয়ে ফেলা সূচক ফিরে পায় পুঁজিবাজার। এরপর থেকে বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ১ টা ৪৩ মিনিটে আগের দিনের সূচকের সঙ্গে যোগ হয় ১০১ পয়েন্ট। বেলা শেষে সেখান থেকে কিছুটা কমে ৮৯ পয়েন্ট যোগ হয়ে শেষ হয় লেনদেন।

এ নিয়ে দুই দিনেই সূচক বাড়ল ২৩২ পয়েন্ট।

দিনে সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান ও বেলা শেষের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য ১৭৯ পয়েন্ট।

কেবল সূচক নয়, বেড়েছে লেনদেনও। গত ৭ কর্মদিবসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এক হাজার ২৪৫ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

সূচকের উত্থানে প্রধান ভূমিকায় যেসব কোম্পানি

দিন শেষে বেড়েছে ২০৮টি কোম্পানির দর। কমে ১১৮টির আর অপরিবর্তিত থাকে ৪৮টির দর।

প্রধান খাতগুলোর মধ্যে ব্যাংক, আর্থিক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ওষুধ ও রসায়ন, প্রকৌশল খাতে গেছে ভালো দিন।

লেনদেনের সেরা ছিল ব্যাংক, এরপর বেক্সিমকো লিমিটেডের কারণে বিবিধ খাত। ওধুধ ও জ্বালানি খাতেও লেনদেন একশ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

এদিন সূচক বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকায় ছিল ওয়ালটন ইন্ডাস্ট্রিজ, যার শেয়ারদর ৩.০৭ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ১১.০৯ পয়েন্ট।

টানা পড়তে থাকা ইউনাইটেড পাওয়ারের শেয়ারদর টানা দ্বিতীয়দিন বেড়েছে। শেয়ারদর ১২ টাকা বা ৪.৮২ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ৭.৪২ পয়েন্ট।

এছাড়া আইসিবি, রেনাটা, গ্রামীণ ফোন, পাওয়ারগ্রিড, স্কয়ার ফার্মা, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, সামিট পাওয়ার ও ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানির দর বৃদ্ধিতে সূচকে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট যোগ হয়েছে।

সব মিলিয়ে ১০টি কোম্পানিই সূচক বাড়িয়েছে ৫০.৯৯ পয়েন্ট।

উত্থানের দ্বিতীয় দিনে সূচক টেনে ধরেছে, এমন কোম্পানিগুলোর ভূমিকা ছিল কমই। ডেল্টা লাইফের দরপতনে সূচক কমেছে সবচেয়ে বেশি ০.৮৮ পয়েন্ট।

ফরচুন সুজ, আইএফআইসি ব্যাংক, ওরিয়ন ফার্মা, এনআরবিসি ব্যাংক, জেনেক্স ইনফোসিস, ওয়ান ব্যাংক, সি পার্ল রহিম টেক্সটাইল ও গ্রিনডেল্টা ইন্স্যুরেন্সও সূচক নিচের দিকে টেনে ধরেছে।

এই ১০টি কোম্পানি মিলিয়ে সূচক কমিয়েছে ২.৭১ পয়েন্ট।

আরও আসছে...

আরও পড়ুন:
গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৪৭ শতাংশ
জিডিপির হিসাব পাওয়া যাবে কবে?
উন্নয়নে বাংলাদেশের কাছে শিক্ষা নিতে পারে ভারত-পাকিস্তান
চার দশকে ভারতের সর্বনিম্ন জিডিপি
জিডিপির প্রবৃদ্ধি দিয়ে কি দেশের উন্নয়ন বোঝা যায়?

শেয়ার করুন

সিলেবাস কমানোর দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ

সিলেবাস কমানোর দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ

ঢাকার সাভারে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে সৃষ্টি হয় যানজট। ছবি: নিউজবাংলা

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এসএসসি-২০২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তেমন পড়াশোনার সুযোগ পাননি। ইতিমধ্যে তাদের সিলেবাসে ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে এই সিলেবাস শেষ করা অসম্ভব। তাই সিলেবাসে ৭০ পারসেন্ট কমিয়ে ৩০ শতাংশ করার দাবিতে তারা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ।

সিলেবাস কমানোর দাবিতে ঢাকার সাভারে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে প্রায় আধাঘণ্টা পর তারা সড়ক ছেড়ে দেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ করেন তারা।

কর্মসূচিতে আমিন মডেল টাউন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আমিন ক্যাডেট একাডেমি, এম এ সালাম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও মাতাব্বর মুজিব স্কুলের প্রায় তিন শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী বিক্ষোভে অংশ নেন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এসএসসি-২০২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তেমন পড়াশোনার সুযোগ পাননি। ইতিমধ্যে তাদের সিলেবাসে ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে এই সিলেবাস শেষ করা অসম্ভব। তাই সিলেবাসে ৭০ পারসেন্ট কমিয়ে ৩০ শতাংশ করার দাবিতে তারা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ।

বিক্ষোভ চলাকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় পাশ বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে থানা ও হাইওয়ে পুলিশ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে তুলে দিলে প্রায় ৩০ মিনিট পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।

আরও পড়ুন:
গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৪৭ শতাংশ
জিডিপির হিসাব পাওয়া যাবে কবে?
উন্নয়নে বাংলাদেশের কাছে শিক্ষা নিতে পারে ভারত-পাকিস্তান
চার দশকে ভারতের সর্বনিম্ন জিডিপি
জিডিপির প্রবৃদ্ধি দিয়ে কি দেশের উন্নয়ন বোঝা যায়?

শেয়ার করুন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে রাবিতে ৭ দিনব্যাপী উৎসব

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে রাবিতে ৭ দিনব্যাপী উৎসব

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ চত্বর।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে, জাতির পিতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান। উৎসবের প্রথম দিনের দ্বিতীয় পর্বে বেলা ৩টা থেকে ‘সাবাস বাংলাদেশ’ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৪ ডিসেম্বর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সিনেট ভবনে আলোচনা সভা ও পরে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৫ ডিসেম্বরও থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ৭ দিনব্যাপী বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে উৎসবের শুরু হবে।

প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে উৎসবের উদ্বোধন করবেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর ও ১১ থেকে ১৪ ডিসেম্বর দুই ধাপে এ কর্মসূচী পালিত হবে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড. আজিজুর রহমান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি মো. আয়েন উদ্দিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মাননীয় সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মলয় ভৌমিক।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ‘জাতির পিতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান।

উৎসবের প্রথম দিনে দ্বিতীয় পর্বে বেলা ৩টা থেকে ‘সাবাস বাংলাদেশ’ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৪ ডিসেম্বর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সিনেট ভবনে আলোচনা সভা ও পরে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৫ ডিসেম্বরও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।

এদিকে ১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা থেকে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে শুরু হবে নাট্যোৎসব ও ১৪ ডিসেম্বর প্রামাণ্যচিত্র ‘বদ্ধভূমিতে একদিন’ প্রদর্শিত হবে।

আরও পড়ুন:
গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৪৭ শতাংশ
জিডিপির হিসাব পাওয়া যাবে কবে?
উন্নয়নে বাংলাদেশের কাছে শিক্ষা নিতে পারে ভারত-পাকিস্তান
চার দশকে ভারতের সর্বনিম্ন জিডিপি
জিডিপির প্রবৃদ্ধি দিয়ে কি দেশের উন্নয়ন বোঝা যায়?

শেয়ার করুন

‘ভাষার অপমানে’ মোস্তফা জব্বারের ‘আত্মহত্যার ইচ্ছা’

‘ভাষার অপমানে’ মোস্তফা জব্বারের ‘আত্মহত্যার ইচ্ছা’

‘আসলে দেখেন, সংখ্যা লেখা অথবা অংক লেখা, এরকম কোনো বাধ্যবাধকতা কোনো চেকের ক্ষেত্রে নেই। ধরেন, আমি ইংরেজিতে 02 December 2021 অথবা 21 লিখতাম, তাহলে সেটার ক্ষেত্রেও কোনো আপত্তি ওদের ছিল না। আসলে এটা মানসিকতার বিষয়।’

চেকে মাসের নাম বাংলায় লেখার পর ব্যাংক থেকে প্রত্যাখানকে ‘ভাষার অপমান’ হিসেবে নিয়ে আত্মহত্যার ইচ্ছা জেগেছিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের মনে। পরে নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, ‘কোন দেশে আছি?’

ঘটনাটি বৃহস্পতিবারের। টাকা তুলতে চেক দিয়ে একজনকে ব্যাংকে পাঠান মন্ত্রী। কিন্তু টাকা তুলতে ব্যর্থ হলেন সেই চেক বাহক। ব্যাংক জানাল, চেকের পাতায় তারিখ লেখা হয়েছে বাংলায়।

সেই কথা কানে আসতেই নিজের ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মোস্তফা জব্বার। তিনি লিখেছেন, ‘মন চাইছে আত্মহত্যা রি একটি চেকে মি ডিসেম্বর বাংলায় লিখেছি বলে কাউন্টার থেকে চেকটি ফেরৎ দিয়েছে কোন দেশে ছি?

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় মন্ত্রীর সঙ্গে। তবে ব্যাংকের নাম জানাতে চাইলেন না তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যাংকের নাম বলব না। কারণ, ব্যাংক একটা ভুল করেছে। সেই ভুলের জন্য অ্যাকচুয়েলি ব্যাংকের নাম সামনে আনার দরকার নেই। আমার যে ব্যবস্থা নেয়ার সে আমি নিয়েছি। এবং যথারীতি আমার চেক তারা অনার করে টাকা যে প্রাপক ছিল তাকে দিয়ে দিয়েছে।’

তাহলে সমস্যা কোথায় ছিল- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘ওরা (ব্যাংক) যে জায়গাটির মধ্যে ভুল করেছিল, সেই জায়গাটি হচ্ছে, ওদের নিজস্ব প্রসিডিওর যে চেকে তারিখের জায়গাতে বাংলায় যদি কোনো মাসের নাম লেখা হয়, ওটা ওরা প্রসেস করে না। পরবর্তীকালে আমি যখন কথা বলেছি, একেবারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত কথা বলার প্রেক্ষিতে ওরা তাদের ভুলটা বুঝতে পেরেছে এবং সেটা সংশোধন করে নিয়েছে।’

ডিসেম্বর বোঝাতে সংখ্যায় ‘১২’ লেখা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘না, ১২ লিখি নাই, আমি ডিসেম্বর লিখেছিলাম। ২ ডিসেম্বর ২১। ২ আর ২১ লিখেছিলাম সংখ্যায় আর ডিসেম্বর লিখেছিলাম কথায়।’

চেকের প্রথম পৃষ্ঠায় কথায় তারিখ লেখার সুযোগ কী আছে?-এমন প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘আসলে দেখেন, সংখ্যা লেখা অথবা অংক লেখা, এরকম কোনো বাধ্যবাধকতা কোনো চেকের ক্ষেত্রে নেই। ধরেন, আমি ইংরেজিতে 02 December 2021 অথবা 21 লিখতাম, তাহলে সেটার ক্ষেত্রেও কোনো আপত্তি ওদের ছিল না। আসলে এটা মানসিকতার বিষয়।’

‘চেকের সবই বাংলায় লিখেছি। ওখানে একটাও ইংরেজি শব্দ নেই’ দাবি করে মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘আমি কনফার্ম করেছি, ব্যাংকের বিধি-বিধান, নিয়ম-কানুন- বাংলা লেখার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু কাউন্টারে যে লোক ছিলেন, অথবা শাখার যে ব্যবস্থাপনা ছিল অথবা তাদের যে প্রসিডিওর আছে, নিজেরা যেটা তৈরি করেছে সেখানে তাদের গলদটা ছিল। এই গলদটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হয়েছে।’

‘ভাষার অপমানে’ মোস্তফা জব্বারের ‘আত্মহত্যার ইচ্ছা’

চেক ফিরিয়ে দেয়ার পরেও কোনো পরিবর্তন করা হয়নি বলে দাবি করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি চেকের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন করিনি। কিন্তু অবশেষে সেটাকে তারা অনার করেছেন। এবং প্রাপক, যে টাকা পাওয়ার কথা তিনি পেয়ে গেছেন।’

তবে এমন ঘটনার কোনো পুনরাবৃত্তি চান না মন্ত্রী। তিনি চান সাধারণ মানুষও যেন বাংলায় লিখে, তার প্রাপ্য সেবাটা বুঝে পান।

তিনি বলেন, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষ মানেই তো ব্যাংক, আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তাদের সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। আমার ধারণা, এই ক্ষেত্রে কেউ দ্বিমত পোষণ করবেন না।

‘ইভেন আমি যে ব্যাংক, তাদের এমডি (ব্যাবস্থাপনা পরিচালক) পর্যায়ে কথা বলেছি। ওনিও দ্বিমত পোষণ করেননি এবং দুঃখপ্রকাশ করেছেন যে এ ধরনের আচরণ আমাদের কাউন্টার থেকে করা উচিত হয়নি। কোনো অবস্থাতেই আমরা বাংলা ভাষার বিপক্ষে না। সেটা আমরা হতেও চাই না। সেক্ষেত্রে যতটুকু ভুল করা হয়েছে, ওইটা একটা পার্টিকুলার শাখায় হয়েছে।’

নাম বলতে না চাইলেও ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী দাবি করেছেন, ওই ব্যাংকের সঙ্গে তার অতীত অভিজ্ঞতা ভালো ছিল।

তিনি বলেন, ‘ওদের হেড অফিসে আমার ব্যাংকিং হয়। সেক্ষেত্রে আমার কখনই কোনো প্রবলেম হয়নি। একটা শাখা অফিসে বিয়ারার চেক নিয়ে গিয়েছিল, সেখানে এই প্রবলেম হয়েছে।’

যেদিন থেকে তিনি ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেছেন, সেদিন থেকেই চেকের মধ্যে পুরোটা বাংলায় লিখে আসছেন বলেও জানান মোস্তফা জব্বার। তিনি বলেন, ‘আমি কোনোদিন ইংরেজি লিখেছি, আমার মনে পড়ে না।’

আরও পড়ুন:
গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৪৭ শতাংশ
জিডিপির হিসাব পাওয়া যাবে কবে?
উন্নয়নে বাংলাদেশের কাছে শিক্ষা নিতে পারে ভারত-পাকিস্তান
চার দশকে ভারতের সর্বনিম্ন জিডিপি
জিডিপির প্রবৃদ্ধি দিয়ে কি দেশের উন্নয়ন বোঝা যায়?

শেয়ার করুন