মুদ্রানীতি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক নয় : সিপিডি

মুদ্রানীতি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক নয় : সিপিডি

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নে প্রান্তিক খামারিদের বদলে স্বচ্ছলদের প্রণোদনার অর্থ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ২০১৪ এর পরবর্তী তিন বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির তুলনায় বেসরকারি ঋণ প্রবাহ বেশ কম ছিল। ২০১৯ সালের পর থেকে সেই গতি ১০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। ফলে সম্প্রতি ঘোষণা করা মুদ্রানীতিতে প্রায় ১৫ শতাংশ ঋণ প্রদানের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়। ঋণের বাজারে চাহিদাও কমেছে। করোনামুক্ত বা কমে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন বেশিরভাগ উদ্যোক্তা। এর ফলে গত কয়েকবছরে ব্যাংকের তারল্য অনেক বেড়েছে।

করোনাকালে বিপর্যস্ত অর্থনীতির চাকা সচল করতে এবং জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবিত মুদ্রানীতি খুব বেশি সহায়ক হবে না। কারণ, মহামারির এসময়ে, চলতি অর্থবছরে কি এমন চাহিদার সৃষ্টি হবে, যাতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ বাড়তে পারে? কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্দেশে এমন প্রশ্নই তুলে ধরে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

‘সাম্প্রতিক মুদ্রানীতি কি অর্থনীতির বর্তমান চাহিদা মেটাতে পারবে? সিপিডির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার এ কথা জানায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এ সময়ে সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষক তৌফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সংস্থাটি জানায়, করোনার কারণে প্রায় দেড় বছর বিপর্যস্ত দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা। যার প্রভাব পড়েছে পুরো অর্থনীতির খাত-উপখাতে। আর এ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সম্প্রতি আগামী অর্থবছরের জন্য বাজারে মুদ্রা সরবরাহ নীতি অব্যাহত রেখেই সম্প্রসারণশীল মুদ্রানীতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মুদ্রানীতি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক নয় : সিপিডি

সিপিডির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া শীর্ষক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। এ সময়ে সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষক তৌফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ছবি: নিউজবাংলা

সিপিডি বলছে, জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়লেও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ পর্যাপ্ত নয়। করোনার আগে একাধিক বছরে এ অর্থায়ন নিম্নমুখী ছিল। যার প্রভাব পড়েছে সার্বিক বিনিয়োগে। লাগামহীন খেলাপি ঋণ, ব্যাংক খাতে সুশাসনের অভাবের পাশাপাশি বিনিয়োগে স্থবিরতা, উদ্বৃত্ত তারল্য বাড়ছে ব্যাংকগুলোতে। যা জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়ার শংকার পাশাপাশি পুঁজিবাজারসহ অন্য ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগেরও শংকা বাড়াচ্ছে।

তারা বলছে, বেসরকারি বিনিয়োগ, ব্যাপক মুদ্রার যোগান কিংবা মূল্যস্ফীতি, চলতি অর্থবছরের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেয়া মুদ্রানীতিতে বেঁধে দেয়া লক্ষ্যমাত্রা অপূর্ণই থেকে যাবে। মুদ্রানীতির আলোচনায় ব্যাংক খাতে অধিক তারল্য, প্রবাসী আয় বাড়াতে সরকারের দেয়া ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনার অপব্যবহার আর নগদ প্রণোদনা প্যাকেজের সঠিক বন্টন না হবার মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।

এ অবস্থায়, করোনার এই সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে মুদ্রানীতির গুণগত বাস্তবায়ন নিশ্চিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নতুন পথ খোঁজার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি।

সংস্থাটি বলছে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জীবন ও জীবিকার মেলবন্ধনের জন্য অন্তত ৭০ ভাগ মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে হবে। আর এ জন্য সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মূল প্রবন্ধে দেশে করোনা শুরু আগের অর্থনীতির সূচকগুলোর চালচিত্র ও পরের দিনগুলোতে ব্যাংক খাতের সংকটের ওপর আলোকপাত করেন ফাহমিদা খাতুন।

তিনি বলেন, ২০১৪ এর পরবর্তী তিন বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির তুলনায় বেসরকারি ঋণ প্রবাহ বেশ কম ছিল। ২০১৯ সালের পর থেকে সেই গতি ১০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। ফলে সম্প্রতি ঘোষণা করা মুদ্রানীতিতে প্রায় ১৫ শতাংশ ঋণ প্রদানের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়। ঋণের বাজারে চাহিদাও কমেছে। করোনামুক্ত বা কমে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন বেশিরভাগ উদ্যোক্তা। এর ফলে গত কয়েকবছরে ব্যাংকের তারল্য অনেক বেড়েছে।

মহামারিতে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিপিডি। তারা দাবি করেন, করোনায় নিম্নবিত্তের আয় আরও কমেছে। বেড়েছে অনেক পণ্যের দাম। তাই এ লক্ষ্য বাস্তবতা বিবর্জিত।

সিপিডির গবেষক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী কয়েক মাস অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে বিশাল জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনতে পারলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করবে। তিনি আরও বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জোর দিতে হবে।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত নতুন মুদ্রানীতিতে তাদের সম্প্রসারণমূলক অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা। বেসরকারিখাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ অর্জন কঠিন হবে। এ পরিস্থিতিতে, ঋণ প্রবাহ ১২ শতাংশ পর্যন্ত সংশোধন করা যেতে পার।

প্রণোদনার টাকা ফেরত আসা নিয়ে শঙ্কা

সিপিডি বলছে, প্রণোদনার ঋণের টাকা ফেরত আসবে কি না, তা নিয়ে চিন্তিত ব্যাংকগুলো। কারণ, ইচ্ছা করে ঋণখেলাপি হওয়ার প্রবণতা এ দেশে আছে। করোনার মতো সংকটের সুযোগে অনেকে ইচ্ছা করে ঋণখেলাপি হয়ে যেতে পারেন। বিষয়টি কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে সম্প্রতি ঘোষিত মুদ্রানীতিতে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রণোদনার টাকা বড় উদ্যোক্তারা ব্যবহার করতে পারছেন। কিন্তু ছোট উদ্যোক্তারা প্রণোদনার অর্থ তেমন পাচ্ছেন না। ফলে ছোটরা ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না, তারা পেছনে পড়ে যাচ্ছেন। মহামারির সময় এতে বৈষম্য বেড়ে যাবে এমন আশঙ্কা আছে।

অতিরিক্ত তারল্য তুলে নেয়া

সিপিডি মনে করে, বাজারে এখন অধিক তারল্য আছে। উৎপাদনশীল খাতে অর্থ না গিয়ে পুঁজিবাজারে যাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার তাগিদ দিয়েছে সিপিডি।

তারা বলছে, গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, প্রণোদনার অর্থ শেয়ারবাজারে যাচ্ছে। সিপিডি মনে করে, করোনার কারণে অর্থনীতির এই অবস্থায় শেয়ারবাজার চাঙা হওয়ার কারণ নেই।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ইদানীং সন্দেহজনক স্টকে বিনিয়োগ বাড়ছে। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, নাকি শেয়ারের দাম বাড়িয়ে টাকা বানানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কাজ করতে পারে।’

ফাহমিদা খাতুন তার উপস্থাপনায় বলেন, গত এক বছরে অতিরিক্ত তারল্য দ্বিগুণ হয়েছে। বেসরকারিখাতের ঋণের চাহিদা না থাকায় তারল্য বেড়েছে।

তিনি বলেন, নতুন মুদ্রানীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রার হার শিথিল রেখেছে। কিন্তু এখন সময় এসেছে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের বিষয়ে চিন্তা করার। অতিরিক্ত তরলতা সংগ্রহের জন্য সিআরআর (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও) প্রয়োজন বাড়িয়ে দিতে পারে।

রেমিট্যান্স প্রণোদনা

প্রবাসী আয় অধিক তারল্য সৃষ্টি করছে কী না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, করোনার সময়ে বিভিন্ন পরিবারের আয় কমেছে, তাদের সহায়তায় বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আসছে। ২ শতাংশ প্রণোদনাও এতে কাজ করছে। রেমিট্যান্সের টাকা বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন রেমিট্যান্স থেকে ২ শতাংশ প্রণোদনা উঠিয়ে নিতে পারে। তিনি রেমিটেন্সের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ৫ হাজার ডলার রেমিট্যান্সে কোনো যাচাই–বাছাই ছাড়া ২ শতাংশ নগদ সহায়তা প্রদান বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার ঋণ কোথায় গেল, জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
প্রণোদনার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ নেই
প্রণোদনা: যারা ঋণ পেয়েছেন তাদের আর নয়
প্রণোদনার টাকা আ. লীগ নেতারা নিয়ে যাচ্ছে: ফখরুল
প্রণোদনার ঋণ অপব্যবহার, সতর্ক করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

থেমে গেল ওস্তাদ জুলহাসউদ্দিনের কণ্ঠ   

থেমে গেল ওস্তাদ জুলহাসউদ্দিনের কণ্ঠ   

ফাইল ছবি।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বাড়ৈখালিতে নিজ বাসায় শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে মারা যান জনপ্রিয় এই নজরুল সংগীত সাধক। সন্ধ্যায় স্থানীয় মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীত শিল্পী ওস্তাদ জুলহাসউদ্দিন আহমেদ আর নেই। ৮৮ বছর বয়সে থেমে গেছে তার জীবন প্রদীপ।

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের বাড়ৈখালিতে নিজ বাসায় শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে মারা যান জনপ্রিয় এই নজরুল সংগীত সাধক।

সন্ধ্যায় স্থানীয় মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

গুনী এই শিল্পীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণব কুমার ঘোষ ও মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর নাছিরউদ্দিন উজ্জ্বল।

জুলহাসউদ্দীন আহমেদ ১৯৩৩ সালের ১০ নভেম্বর মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী গ্রামে জন্ম নেন। সঙ্গীতে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৭ সালে একুশে পদকে ভূষিত হয়েছিলেন।

এ ছাড়া নজরুল স্বর্ণপদক, নাছিরউদ্দিন স্বর্ণপদক, শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক সংবর্ধনা, বুলবুল একাডেমি কর্তৃক সংবর্ধনা, এবি ব্যাংক-চ্যানেল আই আজীবন সম্মাননাসহ নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।

রাজশাহীতে এক সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদকসহ ‘সুর সাগর’ উপাধি লাভ করেছিলেন ওস্তাদ জুলহাসউদ্দিন।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার ঋণ কোথায় গেল, জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
প্রণোদনার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ নেই
প্রণোদনা: যারা ঋণ পেয়েছেন তাদের আর নয়
প্রণোদনার টাকা আ. লীগ নেতারা নিয়ে যাচ্ছে: ফখরুল
প্রণোদনার ঋণ অপব্যবহার, সতর্ক করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

শেয়ার করুন

অফিস কক্ষে ভাইস চেয়ারম্যানের ঝুলন্ত মরদেহ

অফিস কক্ষে ভাইস চেয়ারম্যানের ঝুলন্ত মরদেহ

নিহতের ভাই নুরুল আফসার ভূঁইয়া বলেন, ‘বাড্ডায় লামিনাল গ্রুপ নামের একটি ফরেন ইনভেস্টর অফিস রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এক নারী, তার পার্টনার হিসেবে আমার বড় ভাই ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন।’

রাজধানীর বাড্ডার আফতাবনগর এলাকার একটি অফিস কক্ষ থেকে নুরনবী ভূঁইয়া নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সকালের দিকে তার পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

বাড্ডা থানার পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে বাড্ডার আফতাবনগর এলাকার নুরুল টাওয়ারের একটি একটি বাসার ৯ তলা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করি।

‘আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।’

তিনি জানান, তাকে হত্যা করা হয়েছে না কি এটি আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বলা যাবে।

নিহতের ভাই নুরুল আফসার ভূঁইয়া বলেন, ‘বাড্ডায় লামিনাল গ্রুপ নামের একটি ফরেন ইনভেস্টর অফিস রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এক নারী, তার পার্টনার হিসেবে আমার বড় ভাই ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন।

‘সৌদির সঙ্গে কমিশনে ব্যবসা করতেন, আমাদের বাসা থেকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বের হন। ভাইকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান অফিসে যাচ্ছি। এর কিছুক্ষণ পরে খবর পাই অফিসের মধ্যে চাদর দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দেয়ার। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।’

৫৫ বছর বয়সী নূরনবী ভূঁইয়ার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী সোনাইমুড়ী থানার আবির পাড়ায়।

তিনি বাড্ডার আফতাবনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার ঋণ কোথায় গেল, জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
প্রণোদনার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ নেই
প্রণোদনা: যারা ঋণ পেয়েছেন তাদের আর নয়
প্রণোদনার টাকা আ. লীগ নেতারা নিয়ে যাচ্ছে: ফখরুল
প্রণোদনার ঋণ অপব্যবহার, সতর্ক করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

শেয়ার করুন

ঢাবিতে ডোপ টেস্ট চলতি বছর থেকেই

ঢাবিতে ডোপ টেস্ট চলতি বছর থেকেই

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের প্রধান কর্মকর্তা ডা. সারওয়ার জাহান মুক্তাফী বলেন, ‘এই বছর যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হবে, তাদের দিয়েই মূলত ডোপ টেস্ট কার্যক্রম শুরু হবে। তাদেরকে টার্গেটে রেখেই আমরা এটি শুরু করব।’

চলতি বছর থেকেই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্টের আওতায় আনতে চায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ বছর যেসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন, তাদের দিয়েই মূলত ডোপ টেস্ট কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করা হবে। তবে টেস্টের খরচ শিক্ষার্থীরা নাকি বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে সেটি এখনও ঠিক করা হয়নি।

শুক্রবার নিউজবাংলার সঙ্গে আলাপে এসব তথ্য জানিয়েছেন ডোপ টেস্ট নিয়ে গঠিত কমিটির সদস্য সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের প্রধান কর্মকর্তা ডা. সারওয়ার জাহান মুক্তাফী।

তিনি বলেন, ‘এই বছর যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হবে, তাদের দিয়েই মূলত ডোপ টেস্ট কার্যক্রম শুরু হবে। তাদেরকে টার্গেটে রেখেই আমরা এটি শুরু করব।’

৩১ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের এক নিয়মিত সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিক্ষক নিয়োগে ডোপ টেস্ট কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ লক্ষ্যে ডোপ টেস্টের সক্ষমতা যাচাইয়ে ডিনস কমিটির করা সাত সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেয় সিন্ডিকেট।

কমিটির প্রধান করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষণা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. টিটো মিঞাকে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রহমতুল্লাহ, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা, ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রহমান, চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার নবী, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান জোবেদা খাতুন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. সারওয়ার জাহান মুক্তাফী।

৭ সেপ্টেম্বর এ কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে কমিটি সদস্য ও চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার নবী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা কোন জায়গায় এই টেস্ট করাব, কীভাবে করানো হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ল্যাবরেটরি আছে, সেগুলোকে উন্নত করে এই টেস্ট করানোর সুযোগ আছে কী না সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

টেস্টের খরচ বহনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু না। আমরা শুধু কোন জায়গায় টেস্ট করাতে কী খরচ সেটি কর্তৃপক্ষকে জানাব। তারাই সিদ্ধান্ত নিবে এই খরচ কে বহন করবে।’

কমিটির সদস্য সচিব ডা. সারওয়ার জাহান মুক্তাফী বলেন, ‘কমিটির সদস্যরা ডোপ টেস্ট নিয়ে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করছে। কোথায় থেকে টেস্ট করানো হবে, খরচটা কীভাবে বহন করা হবে এগুলো নিয়েই ওনারা প্রস্তাব দিবেন। এ প্রস্তাবনাগুলোই কমিটির আগামী সভায় আলোচনা হবে। এগুলোই পরবর্তীতে ডিনস কমিটি, প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি এরপর সিন্ডিকেটে সভায় যাবে। সেখানেই ডোপ টেস্ট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।’

নতুন সভা কবে হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির সময় এটি কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে, তাই এটি নিয়ে এখনই তাড়াহুড়া করা হচ্ছে না। কিছুদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু হবে। সেটির জন্য এখন একটু ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। ভ্যাকসিনেশন শুরু করতে পারলে পরে আরেকটা সভায় আমরা বসব।’

টেস্টের খরচের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো প্রাইভেট সংগঠনে যেতে চাই না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়েই হয়তো আমাদের টেস্ট করাতে হবে। এখানেই মূলত খরচটা সবচেয়ে কম। এই টেস্টে দুই ধরনের খরচ আছে।

‘একটা প্রায় ৫০০ টাকা, অন্যটি এক হাজার টাকার মতো। এই দুটিই প্রস্তাবনা হিসেবে আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব। তারাই সিদ্ধান্ত নিবে। তবে এই খরচটা বিশ্ববিদ্যালয় নাকি শিক্ষার্থীরা বহন করবে এটি পুরোপুরি আলোচনা হয়নি। প্রস্তাবনা আকারে সব সদস্য থেকে নিয়ে তারপর এটি আলোচনা করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘ডোপ টেস্ট নিয়ে গঠিত কমিটি কাজ করছে। তাদের রিপোর্ট জমা পড়লে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার ঋণ কোথায় গেল, জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
প্রণোদনার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ নেই
প্রণোদনা: যারা ঋণ পেয়েছেন তাদের আর নয়
প্রণোদনার টাকা আ. লীগ নেতারা নিয়ে যাচ্ছে: ফখরুল
প্রণোদনার ঋণ অপব্যবহার, সতর্ক করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

শেয়ার করুন

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার অনুমতি

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার অনুমতি

রাজধানীর বাড্ডায় বেসরকারি কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। ছবি: নিউজবাংলা

অফিস আদেশে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তক্রমে নিজ ব্যবস্থাপনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে ক্লাস, পরীক্ষাসহ শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে পারবে।

করোনায় ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর শর্তসাপেক্ষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস, পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে এর জন্য স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমতি লাগবে এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পরিচালক (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগ) মো. ওমর ফারুখের সই করা অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও করোনার এক ডোজ টিকা অথবা টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে এই শর্তে সশরীরে ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।’

অফিস আদেশে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তক্রমে নিজ ব্যবস্থাপনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে ক্লাস, পরীক্ষাসহ শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে পারবে।

শর্ত সমূহ:

১. শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীগণ ইতোমধ্যে কমপক্ষে এক ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছে অথবা ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য জাতীয় পরিচয় (NID) সহযোগে জাতীয় সুরক্ষা সেবা ওয়েব (https://surokkha.gov.bd/) অথবা surokkha app-এর মাধ্যমে নিবন্ধন করে থাকলে।

২. ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব শিক্ষার্থী, যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তারা জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্য ব্যবহার করে কমিশনের ওয়েবলিংক (https://univac.ugc.gov.bd)-এ ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য প্রাথমিক নিবন্ধন করে থাকলে এবং পরবর্তীতে জাতীয় সুরক্ষা সেবা ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে টিকা গ্রহণের জন্য নিবন্ধন করে থাকলে।

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও উপাচার্যদের বৈঠকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের টিকা নিবন্ধন শেষে কিছু ব্যবস্থা নেয়া সাপেক্ষে যেকোনো দিন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত হয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে গত বছরের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার ঋণ কোথায় গেল, জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
প্রণোদনার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ নেই
প্রণোদনা: যারা ঋণ পেয়েছেন তাদের আর নয়
প্রণোদনার টাকা আ. লীগ নেতারা নিয়ে যাচ্ছে: ফখরুল
প্রণোদনার ঋণ অপব্যবহার, সতর্ক করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

শেয়ার করুন

বাগেরহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২১

বাগেরহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২১

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুর ইসলাম বলেন, ‘জুমার নামাজ শুরুর আগে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে নামাজ শেষে তারা সংঘর্ষে জড়ান। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়নে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শেখরা গ্রামে শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে এ সংঘর্ষ হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুর ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘জুমার নামাজ শুরুর আগে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে নামাজ শেষে তারা সংঘর্ষে জড়ান। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয় পেতে চলতি মাসের শুরুতে গ্রামের মসজিদে দোয়ার ব্যবস্থা করেন ইউপি সদস্য প্রার্থী আব্দুল লতিফ। ইমাম নামাজ শেষে দোয়া করেন।

কিন্তু ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচনে জয় পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন আনিসুর রহমান।

শুক্রবার জুমার নামাজের আগে আনিসুর রহমানের সমর্থক ফারুক মসজিদের ইমামকে ওই দিন দোয়া করার বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল লতিফের সমর্থক বাবুল ফকির। একপর্যায়ে তারা তর্কে জড়ান। পরে নামাজ শেষে দুই পক্ষ ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

এ বিষয়ে আব্দুল লতিফ জানান, আমাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছেন আনিসুরের লোকজন। তাদের হামলায় আমার ১৩ জন সমর্থক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বাবুল ফকিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কজেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আনিসুর রহমান বলেন, ‘মসজিদের মধ্যে বাবুল ফকির, কামরুল ইশারাত শেখসহ বেশ কয়েকজন আমার লোকজনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তখন দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।’

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার ঋণ কোথায় গেল, জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
প্রণোদনার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ নেই
প্রণোদনা: যারা ঋণ পেয়েছেন তাদের আর নয়
প্রণোদনার টাকা আ. লীগ নেতারা নিয়ে যাচ্ছে: ফখরুল
প্রণোদনার ঋণ অপব্যবহার, সতর্ক করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

শেয়ার করুন

হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ

হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে বাড়ছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ছবি: নিউজবাংলা

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশু ওয়ার্ডে গত আট দিনে ১৬০ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত ৫৫।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া দাবদাহে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা। এমন পরিস্থিতিতে জেলার জেনারেল হাসপাতালে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডায়রিয়া আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যাই বেশি।

কয়েক মাস আগে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডকে করোনা রোগীর চিকিৎসায় বরাদ্দ দেয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালে আসা ডায়রিয়া রোগীদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের মেডিসিন ওয়ার্ডে এবং শিশুদের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশু ওয়ার্ডে গত আট দিনে ১৬০ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত ৫৫।

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ওয়ার্ডে ৩২ শিশু চিকিৎসাধীন, তাদের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ১২।

আর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে গত আট দিনে প্রাপ্তবয়স্ক ৫০ ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১০ জন।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, শয্যার থেকে বেশি রোগী থাকায় কয়েকজনকে মেঝেতে রাখতে হয়েছে।

রোগীদের স্বজনরা জানান, রোগীর চাপ বাড়লে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক পাওয়া যায় না। তবে নার্সরা আন্তরিক। তারা নিজেদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করেন।

নার্সদের পাশাপাশি প্রতি ওয়ার্ডে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক থাকলে চিকিৎসাসেবার মান আরও বাড়ত বলে জানান তারা।

কসবা উপজেলার কুটি চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা শাকিল মিয়া তার ডায়রিয়া আক্রান্ত চার মাসের শিশু হাসান মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ছোট বাইচ্চাডারে দুই দিন ধইরা হাসপাতালে ভর্তি করছি। হেরে ওষুধ দিছে, কিন্তু এখনও হের ডায়রিয়া ভালো হইছে না।’

শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘অপরিষ্কার পানি ও খাবার, মায়েদের অসাবধানতা, ময়লামিশ্রিত হাত মুখে দেয়ার কারণে শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ খাবারের বিষয়ে মায়েদের সাবধান থাকতে হবে।’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. ওয়াহীদুজ্জামান বলেন, ‘হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীদের সেবায় সব সময় নিয়োজিত।’

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার ঋণ কোথায় গেল, জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
প্রণোদনার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ নেই
প্রণোদনা: যারা ঋণ পেয়েছেন তাদের আর নয়
প্রণোদনার টাকা আ. লীগ নেতারা নিয়ে যাচ্ছে: ফখরুল
প্রণোদনার ঋণ অপব্যবহার, সতর্ক করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

শেয়ার করুন

ইউএনও ঠেকালেন বাল্যবিবাহ

ইউএনও ঠেকালেন বাল্যবিবাহ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ইউএনওর হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহ। ছবি: নিউজবাংলা

ইউএনও শাহাদাত বলেন, ‘ওই ছাত্রীর পরিবার প্রশাসনের নজর এড়িয়ে তার বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা আমাকে জানান তার বয়স ১৮-এর কম। তারা বিয়ে বন্ধের অনুরোধ করেন। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় ওই এলাকার এক ইউপি সদস্যকে।’

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেল এক স্কুলছাত্রী।

উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বিয়েবাড়িতে অভিযান চালান ইউএনও শাহাদাত হোসেন।

এ সময় কনের বাবা-মাকে বিয়ে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে মুচলেকা নেয়া হয়, ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত ওই স্কুলছাত্রীর বিয়ে না দেয়ার।

শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় একটি স্কুলের ১০ম শ্রেণির ওই ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন করা হয়।

ইউএনও শাহাদাত বলেন, ‘ওই ছাত্রীর পরিবার প্রশাসনের নজর এড়িয়ে তার বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা আমাকে জানান তার বয়স ১৮-এর কম। তারা বিয়ে বন্ধের অনুরোধ করেন। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় ওই এলাকার এক ইউপি সদস্যকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরে আমি ওই বাড়িতে গিয়ে বর-কনে দুই পক্ষের অভিভাবকদের সঙ্গে আলাপ করে তাদের বিয়ে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিয়ে দেয়ার জন্য আমি ওই ছাত্রীর অভিভাবককে পরামর্শ দিয়েছি। ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেবেন না বলে মেয়ের বাবা লিখিত অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছেন।’

আরও পড়ুন:
প্রণোদনার ঋণ কোথায় গেল, জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
প্রণোদনার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ নেই
প্রণোদনা: যারা ঋণ পেয়েছেন তাদের আর নয়
প্রণোদনার টাকা আ. লীগ নেতারা নিয়ে যাচ্ছে: ফখরুল
প্রণোদনার ঋণ অপব্যবহার, সতর্ক করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

শেয়ার করুন