ফেরত গেল উন্নয়নের ৩৭ হাজার কোটি টাকা

ফেরত গেল উন্নয়নের ৩৭ হাজার কোটি টাকা

২০২০-২১ অর্থবছর শেষে এডিপির ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি ফেরত গেছে। ছবি: সংগৃহীত

করোনায় ব্যয় কমানোর লক্ষ্য সামনে রেখে শুধু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। সেই প্রকল্পগুলোও পুরো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। বিশাল এডিপি নিয়ে তার পুরোটা খরচ করতে না পারায় সরকারের সক্ষমতার অভাবকে দায়ী করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা।

সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরের শুরু থেকেই ধীরগতি ছিল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে। মাঝামাঝিতে এসে কিছুটা কাটছাঁট করে আকার ছোট করা হয় উন্নয়ন বাজেটের। শেষ দুই মাসে ব্যয় কিছুটা বাড়লেও বছরের শেষটাও আশাব্যঞ্জক হয়নি। ২০২০-২১ অর্থবছর শেষে এডিপির ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি ফেরত গেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যদিও বছরের শুরু থেকে বলা হয়েছিল, করোনার সময় সরকারের ব্যয় কমানোর লক্ষ্য সামনে রেখে শুধু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পকেই এডিপিতে স্থান দেয়া হয়েছে। সেগুলোতেই বরাদ্দ দেয়া হবে। তবে নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোও পুরো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি। এমনকি কাজে বিলম্ব যেন না হয়, তার জন্য শুরু থেকেই পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল।

আইএমইডির প্রতিবেদন বলছে, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে উন্নয়নের পেছনে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। তবে বছরের মাঝামাঝিতে এসে তা কমিয়ে সংশোধিত এডিপি ২ লাখ ৯ হাজার ২৭২ কোটি টাকায় নামানো হয়। অথচ গত জুন শেষে তা থেকে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৫২ কোটি টাকা।

জাতীয়ভাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৮২ দশমিক ২১ শতাংশে। বাকি ১৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ পেয়েও খরচ করতে পারেনি সরকারের ৫৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ।

বিশাল এডিপি নিয়েও তার পুরোটা খরচ করতে না পারায় বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও দূরদর্শিতার অভাবকে দায়ী করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এডিপির যে বাস্তবায়ন হার, তাতে কেবল সংখ্যা বা আর্থিক দিক পাওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে কতটুকু কাজ হয়, তাও খতিয়ে দেখা উচিত। আবার কাজের মান কেমন, তাও দেখা উচিত। এসব বিবেচনায় নিলে এডিপির বাস্তবায়ন চিত্রে হতাশা ছাড়া কিছুই মিলবে না।

বিশ্লেষকরা বলেন, বছরের শুরুতে বরাদ্দ পেলেও তখন খরচ না করে বছরের শেষের জন্য রেখে দেয়া হয়। এতে শেষ সময়ে যেনতেনভাবে অর্থ খরচ করা হয়। এতে শুধু সরকারের অর্থেরই অপচয় হয় না, অর্থব্যয়ের পর তা কোনো কাজেই আসে না। তবে এডিপির কম ব্যয়ের পেছনে করোনার কিছুটা প্রভাবও রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বছরের শুরুতে এডিপির আকার কত বাড়ানো যায় তার একটা প্রবণতা থাকে। কিন্তু আকার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবায়ন হার এবং কোয়ালিটি, এই দুটি যদি বৃদ্ধি না হয়, তাহলে টাকার অঙ্কে এডিপি কত বড় হলো তাতে অর্থনীতির কিছু আসে-যায় না। বরাবরই আমরা বলে আসছি, বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়াতে হবে, অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে, কোনগুলো জাতীয় অর্থনীতির জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোতে নজর দিতে হবে।’

অর্থ ব্যয় কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর প্রকল্পের সংখ্যা বেড়েই চলছে। তাই আকার ও প্রকল্প সংখ্যায় এডিপি যতটা ভারী হচ্ছে, সেই তুলনায় বাস্তবায়নকারীরা তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। যদিও প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন থেকে শুরু করে কী কাজ করা হবে, কী কেনাকাটা হবে, কীভাবে কেনাকাটা হবে, কী ধরনের লোকবল লাগবে- সবই ঠিক করা থাকে। কিন্তু কাজ শুরুর পর দেখা যায়, সব ক্ষেত্রে অস্পূর্ণতা। মাঝপথে লোকবলের পরিবর্তন হয়, সংশোধন করতে হয়, কাজে দেরি হয়। প্রতিবছরই এ ধরনের একটা চিত্র দেখা যায়। সরকার এ থেকে বের হবে কবে?’

সক্ষমতা কম থাকার পাশাপাশি করোনাও এডিপিতে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর বড় এডিপি নেয় সরকার, কিন্তু ব্যয় করতে পারে না। সক্ষমতার অভাব তো রয়েছেই, এবার করোনার কারণে খরচ একটু কম হয়েছে। তবে এর মধ্যেও কিছু কিছু প্রকল্পে কাজ হচ্ছে।’

কোন অংশে কত ফেরত গেল

গত অর্থবছরে সংশোধিত এডিপিতে সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা। বছর শেষে এ খাত থেকে অব্যয়িত থেকে যায় ২২ হাজার ৬৬২ কোটি টাকার মতো। খরচ হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা।

বৈদেশিক সহায়তা থেকে নেয়ার জন্য ধার্য করা হয়েছিল ৬৩ হাজার কোটি টাকা। তা থেকে রয়ে গেছে ১০ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। খরচ হয়েছে ৫২ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা।

বিভিন্ন বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ছিল ১১ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। জুন শেষের হিসাবে তা থেকে ব্যয় হয়নি ৭ হাজার ৬১০ কোটি টাকা।

শেষ দুই মাসে ব্যয়

বরাবরই দেখা যায়, বছরের শুরুতে কাজের তেমন গতি থাকে না। শেষ দিকে অর্থব্যয় লাফিয়ে বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শুধু জুনে এডিপির খরচ হয়েছে ৪৯ হাজার ৯২০ কোটি টাকা বা মোট এডিপির প্রায় ২৪ শতাংশ। এর আগে মে মাসে খরচ হয়েছিল ১৯ হাজার ৪০১ কোটি টাকা বা ৯.২৭ শতাংশ। এতে শেষ দুই মাসেই খরচ হয়েছে ৭০ হাজার ৩২১ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ। আর বাকি ১০ মাসে খরচ হয়েছে ১ লাখ কোটি টাকা।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর ২০১৯-২০ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। চলতি বছর তা থেকে কিছুটা উন্নতি হলেও তা গত বছর বাদে ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, এডিপি বাস্তবায়নে বড় দুর্বলতা হচ্ছে মন্ত্রণালয়গুলোর গাফিলতি। বছরের শুরুতে কাজ না করলেও দেখা যায়, শেষ মাসে প্রচুর টাকা ছাড় করে মন্ত্রণালয়গুলো হিসাব দেখায় বাস্তবায়ন বেড়েছে। এতে কাজ মানসম্মত হয় না। এটা কোনো সিস্টেম হতে পারে না। এ জায়গায় মনিটরিং ও জবাবদিহি জোরদার করতে হবে।’

বাস্তবায়ন হারে শীর্ষে যারা

আইএমইডির প্রতিবেদন বলছে, এডিপি বাস্তবায়নে সবার চেয়ে এগিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। বিভাগটি মোট বরাদ্দের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি অর্থ খরচ করেছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন হারও ১০১ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ ছাড়া, কৃষি মন্ত্রণালয় ৯৭ দশমিক ৫২ শতাংশ, বিদ্যুৎ বিভাগ ৮৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ৮৮ শতাংশ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রায় ৮৯ শতাংশ, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৮৯ শতাংশ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ ৯৭ শতাংশ, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় প্রায় ৮৭ শতাংশ, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ৮৫ শতাংশ এবং সেতু বিভাগ প্রায় ৮৪ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে।

ব্যয়ের হারে তলানিতে যারা

ব্যয়ের দিক দিয়ে সবার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ৩৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৪১ দশমিক ৮৭ শতাংশ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৪৭ শতাংশ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ৪৮ শতাংশ, আইন ও বিচার বিভাগ ৫০ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।

আরও পড়ুন:
করোনার মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি: এডিবি
মহামারিতে বাংলাদেশকে এডিবির ২০০ কোটি ডলার সহায়তা
খরচে লাগাম, ধীর হবে উন্নয়ন প্রকল্প
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজবে এডিবি সম্মেলন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন গায়ক শাফিন

জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান হলেন গায়ক শাফিন

জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলসের লিড ভোকালিস্ট শাফিন আহমেদ জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন।

দলটির যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিস্তারিত আসছে…

আরও পড়ুন:
করোনার মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি: এডিবি
মহামারিতে বাংলাদেশকে এডিবির ২০০ কোটি ডলার সহায়তা
খরচে লাগাম, ধীর হবে উন্নয়ন প্রকল্প
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজবে এডিবি সম্মেলন

শেয়ার করুন

বজ্রপাত ঠেকাতে তালবীজ রোপণ করলো শিশুরা

বজ্রপাত ঠেকাতে তালবীজ রোপণ করলো শিশুরা

বজ্রপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে তালবীজ রোপণ করেছে কয়েকজন শিশু। ছবি: নিউজবাংলা

আজহারুল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের সুরিয়া নদীর পাড়ে এক কিলোমিটার এবং নয়ানগর থেকে লক্ষীনগর সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের দুপাশে তালবীজ রোপন করি। ইকবাল হাসান, রাহুল মিয়া, শাকিল মিয়া, রুমান মিয়াসহ ১২ থেকে ১৫ জন শিশু এ কাজে অংশ নিয়ে আনন্দ পেয়েছে।’

বজ্রপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে তালবীজ রোপণ করেছে কয়েকজন শিশু।

উপজেলার দুই কিলোমিটার সড়কের দুইপাশে শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তালের বীজ রোপণ করে তারা।

নেত্রকোনা সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আজহারুল করিম শিশুদের সঙ্গে তালের বীজ রোপণের কাজে অংশ নেয়।

এ বিষয়ে আজহারুল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের সুরিয়া নদীর পাড়ে এক কিলোমিটার এবং নয়ানগর থেকে লক্ষীনগর সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের দুপাশে তালবীজ রোপন করি। ইকবাল হাসান, রাহুল মিয়া, শাকিল মিয়া, রুমান মিয়াসহ ১২ থেকে ১৫ জন শিশু এ কাজে অংশ নিয়ে আনন্দ পেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাল গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় বজ্রপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে ভূমিকা রাখে। তালের রস ও শাস অতি সুস্বাদু। এর পাশাপাশি ঘরের খুঁটি ও হাতপাখা তৈরিতে তালগাছ ব্যবহার হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় তালবীজ রোপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনার মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি: এডিবি
মহামারিতে বাংলাদেশকে এডিবির ২০০ কোটি ডলার সহায়তা
খরচে লাগাম, ধীর হবে উন্নয়ন প্রকল্প
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজবে এডিবি সম্মেলন

শেয়ার করুন

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে আরেক মামলা

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে আরেক মামলা

ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও সিইও মো. রাসেল। ফাইল ছবি

ধানমন্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার কামরুল ইসলাম নামে একজন মার্চেন্ট মামলা করেছেন। তিনি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য সরবরাহ করেছেন। কিন্তু ইভ্যালি তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি।’

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা হয়েছে।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার কামরুল ইসলাম নামে একজন মার্চেন্ট মামলা করেছেন। তিনি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য সরবরাহ করেছেন। কিন্তু ইভ্যালি তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি।’

ইকরাম আলী আরও বলেন, ‘আমরা শোন অ্যারেস্ট দেখিয়েছি। রিমান্ডের আবেদনও করা হয়েছে। গুলশানে রিমান্ড শেষে আমাদেরকে দিবে।’

ধানমন্ডি থানার মামলায় রাসেল, শামীমাসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাত আসামি আছে আরও কয়েকজন।

মামলার নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন সিইও রাসেল, চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন, ভাইস চেয়ারম্যান আকাশ, ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম হেময়, সিনিয়র কী অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার তানভীর আলম, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কমার্শিয়াল জাওয়াদুল হক চৌধুরী, হেড অব অ্যাকাউন্ট সেলিম রেজা, অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার জুবায়ের আল মাহমুদ, অ্যাকাউন্ট শাখার সোহেল, আকিবুর রহমান তূর্য, পিএস টু সিইও রেজওয়ান, বাইক বিভাগের সাকিব রহমান।

অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৫ থেকে ২০ জনকে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করেন আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক। ওই দিন বিকেলেই রাসেলের মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব।

অভিযানে রাসেল ও শামীমাকে আটক করা হয়। পরের দিন গুলশান থানা পুলিশে দুজনকে হস্তান্তর করা হয়। ওই থানা পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইভ্যালির সিইও ও চেয়ারম্যানকে তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।

আরও পড়ুন:
করোনার মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি: এডিবি
মহামারিতে বাংলাদেশকে এডিবির ২০০ কোটি ডলার সহায়তা
খরচে লাগাম, ধীর হবে উন্নয়ন প্রকল্প
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজবে এডিবি সম্মেলন

শেয়ার করুন

হল-ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

হল-ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা, হল ও ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাস আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে খুলে দেয়ার দাবিতে সেখানে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করাসহ তিন দফা দাবি তুলেছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় মিছিল বের করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সব সড়ক ঘুরে কাজী নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে তা শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করেন তারা।

বিস্তারিত আসছে...

আরও পড়ুন:
করোনার মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি: এডিবি
মহামারিতে বাংলাদেশকে এডিবির ২০০ কোটি ডলার সহায়তা
খরচে লাগাম, ধীর হবে উন্নয়ন প্রকল্প
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজবে এডিবি সম্মেলন

শেয়ার করুন

ফোনালাপে আড়ি পাতা নিয়ে আদেশ ২৯ সেপ্টেম্বর

ফোনালাপে আড়ি পাতা নিয়ে আদেশ ২৯ সেপ্টেম্বর

প্রতীকী ছবি

ফোনালাপে আড়ি পাতা বন্ধ চেয়ে গত ১০ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী রিটটি করেন। এতে বিবাদী করা হয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সচিব, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যানকে।

ফোনালাপে আড়ি পাতা বন্ধের নিশ্চয়তা ও ফাঁস হওয়া ঘটনাগুলোর তদন্ত চেয়ে দায়ের করা রিটের শুনানি নিয়ে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য রেখেছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মুস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ঠিক করে দেয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

ফোনালাপে আড়ি পাতা বন্ধ চেয়ে গত ১০ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী রিটটি করেন।

রিটে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সচিব, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

এর আগে গত ২২ জুন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কোনো জবাব না পাওয়ায় রিট করা হয়।

আড়ি পাতার ঘটনা বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে বহুল প্রচারিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। অথচ সর্বজনীন মানবাধিকার সনদপত্র, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী পৃথিবীর সব আধুনিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার স্বীকৃত ও সংরক্ষিত।

এমনকি বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে চিঠিপত্র ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা সংরক্ষণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ অধিকার সংবিধানের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট বিচারপতি মো. শওকত হোসাইন, বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি এ এস এম আবদুল মবিনের বৃহত্তর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে একটি রায় দেয়।

ওই রায়ে বলা হয়, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ও টেলিফোন সেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর দায়িত্ব সর্বাধিক। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংরক্ষণ তাদের দায়িত্ব। তারা আইনের বিধান ব্যতিরেকে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য প্রদান করতে পারে না।

মঙ্গলবার রিটকারী ১০ আইনজীবী হলেন মুস্তাফিজুর রহমান, রেজওয়ানা ফেরদৌস, উত্তম কুমার বনিক, শাহ নাবিলা কাশফী, ফরহাদ আহমেদ সিদ্দীকী, মোহাম্মদ নওয়াব আলী, মোহাম্মদ ইবরাহিম খলিল, জি এম মুজাহিদুর রহমান (মুন্না), ইমরুল কায়েস ও একরামুল কবির।

আরও পড়ুন:
করোনার মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি: এডিবি
মহামারিতে বাংলাদেশকে এডিবির ২০০ কোটি ডলার সহায়তা
খরচে লাগাম, ধীর হবে উন্নয়ন প্রকল্প
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজবে এডিবি সম্মেলন

শেয়ার করুন

সব হাসপাতালে সাপের বিষের প্রতিষেধক সরবরাহের নির্দেশ

সব হাসপাতালে সাপের বিষের প্রতিষেধক সরবরাহের নির্দেশ

দেশে সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরির কাজ অনেকটা এগিয়েছে। ফাইল ছবি

চতুর্থ আন্তর্জাতিক সর্পদংশন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে রোববার ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সব হাসপাতালে অ্যন্টিভেনম (সাপের বিষের প্রতিষেধক) সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

দেশে বর্ষা মৌসুমে সাপের ছোবলের ঘটনা বেশি ঘটে। এ সময় সাপে কাটার শিকার বেশি হয় গ্রামের মানুষ। অথচ উপজেলা পর্যায়ে দেশের বেশিরভাগ সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সাপের বিষের প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনম) নেই।

এমন বাস্তবতায় সব হাসপাতালে অ্যন্টিভেনম সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

চতুর্থ আন্তর্জাতিক সর্পদংশন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে রোববার ভার্চুয়াল এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি বছর আনুমানিক ছয় লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। আর সাপের কামড়ে মারা যান ছয় হাজার মানুষ।

‘সাপের কামড়ে যেন প্রাণহানি না হয়, সে জন্য উপজেলা পর্যায়সহ সবখানে এন্টিভেনম ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করলেই হবে না, পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবল থাকতে হবে। মাঝে মাঝে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) নাসিমা সুলতানা, অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলামসহ অনেকেই।

আরও পড়ুন:
করোনার মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি: এডিবি
মহামারিতে বাংলাদেশকে এডিবির ২০০ কোটি ডলার সহায়তা
খরচে লাগাম, ধীর হবে উন্নয়ন প্রকল্প
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজবে এডিবি সম্মেলন

শেয়ার করুন

২ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে প্লাইউড ফ্যাক্টরির আগুন

২ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে প্লাইউড ফ্যাক্টরির আগুন

বাগেরহাট সদর উপজেলার প্লাইউড কারখানায় আগুন লাগে। ছবি: নিউজবাংলা

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক গোলাম সরোয়ার বলেন, ইঞ্জিন রুমে মজুত রাখা তেল থেকে আগুনের সূত্রপাত। এ জন্য আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের বেগ পেতে হয়। সোডিয়াম বাই কার্বনেট ও অ্যালমিনিয়াম সালফেড দিয়ে তৈরি বিশেষ ফোম আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। 

বাগেরহাট সদর উপজেলার প্লাইউড কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কথা জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

টিকে গ্রুপের এই কারখানার আগুন রোববার দুপুর ১২টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক গোলাম সরোয়ার।

তিনি জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বাগেরহাট, খুলনা, মোংলা, মোংলা ইপিজেড, শরণখোলা ও মোড়েলগঞ্জ থেকে ৬টি ইউনিট সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর পর দুই ঘণ্টার চেষ্টায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ইঞ্জিন রুমে মজুত রাখা তেল থেকে আগুনের সূত্রপাত। এ জন্য আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের বেগ পেতে হয়। সোডিয়াম বাই কার্বনেট ও অ্যালমিনিয়াম সালফেড দিয়ে তৈরি বিশেষ ফোম আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে পরে জানান হবে। ডাম্বিংয়ের কাজ চলছে।

২০০০ সালে যাত্রা করা এই ফ্যাক্টরিতে কাঠ দিয়ে ফাইবোর বোর্ড তৈরি করা হয়।

আরও পড়ুন:
করোনার মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি: এডিবি
মহামারিতে বাংলাদেশকে এডিবির ২০০ কোটি ডলার সহায়তা
খরচে লাগাম, ধীর হবে উন্নয়ন প্রকল্প
অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ খুঁজবে এডিবি সম্মেলন

শেয়ার করুন