ইভ্যালির ব্যবসার ধরনে বদল, মুনাফার দাবি

ইভ্যালির ব্যবসার ধরনে বদল, মুনাফার দাবি

প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি এবং অর্জিত মুনাফা থেকেই গ্রাহক ও মার্চেন্টদের আগের পাওনা পরিশোধ করা হবে। এজন্য সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী, নজরদারিতে থেকে প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর আয়-ব্যয় ও পুরনো গ্রাহকের পাওনা পরিশোধে অগ্রগতির তথ্য জানাতেও তারা প্রস্তুত।

‘সাইক্লোন’ এর মতো ডিসকাউন্ট অফারে লোকসানি ব্যবসা আর করছে না ইভ্যালি। ইতোমধ্যেই জনপ্রিয় এই ক্যাম্পেইন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বদলেছে ব্যবসার ধরন। নতুন স্লোগানে শুরু হয়েছে ‘প্রায়োরিটি ক্যাম্পেইন' এবং 'টি ১০' ক্যাম্পেইন।

বহুল আলোচিত ই-কমার্স সাইটটি গত ৩০ মে এবং ২ জুলাই থেকে পর্যায়ক্রমে এসব ক্যাম্পেইনের আওতায় বাজারে প্রচলিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে (এমআরপি) ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকের প্রতি অর্ডার থেকেই ইভ্যালির অ্যাকাউন্টে যোগ হচ্ছে মুনাফা।

প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি এবং অর্জিত মুনাফা থেকেই গ্রাহক ও মার্চেন্টদের আগের পাওনা পরিশোধ করা হবে। এজন্য সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী, নজরদারিতে থেকে প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর আয়-ব্যয় ও পুরনো গ্রাহকের পাওনা পরিশোধে অগ্রগতি জানাতেও তারা প্রস্তুত।

তবে এখনই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কারণ দর্শানো নোটিশে উল্লেখিত ছয় প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব দিতে তৈরি নয় ইভ্যালি। গত ৩১ জুলাই এক লিখিত জবাবে মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করেছেন ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল।

ইভ্যালির ব্যবসার ধরনে বদল, মুনাফার দাবি

এর আগে গত ১৯ জুলাই ইভ্যালিকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই নোটিশে ছয় প্রশ্ন উল্লেখ করে ১ আগস্টের আগেই এগুলোর জবাব চাওয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের প্রথম প্রশ্ন ছিল, গত ১৪ মার্চ পর্যন্ত গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে মোট ৪০৭ কোটি টাকা দায়ের বিপরীতে ইভ্যালির কাছে মাত্র ৬৫ কোটি টাকা চলতি সম্পদ থাকার কারণ কী? বাকি টাকা ইভ্যালির কাছে আছে কি না। থাকলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে, না থাকলে দিতে হবে পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা।

দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, ১৫ জুলাই পর্যন্ত গ্রাহকের কাছে মোট দায়ের পরিমাণ কত, গ্রাহকের কাছ থেকে নেয়া অর্থের বিনিময়ে যে পণ্য দেয়ার কথা, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা কী এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

তৃতীয় প্রশ্ন, ১৫ জুলাই পর্যন্ত মার্চেন্টদের কাছে দায়ের পরিমাণ কত এবং তা পরিশোধের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

চতুর্থত, ব্যবসা শুরুর পর থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে ইভ্যালি কী পরিমাণ টাকা নিয়েছে, মার্চেন্টদের কত অর্থ পরিশোধ করেছে এবং প্রশাসনিক ও অন্যান্য খাতে কী পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে?

পঞ্চম প্রশ্ন ছিল, ইভ্যালির ব্যবসা পদ্ধতি এবং বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের পরিকল্পনা কী?

এবং ষষ্ঠ প্রশ্ন ছিল, ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা এবং ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো ব্যবসা পদ্ধতি বা কার্যক্রম ইভ্যালিতে এখনও আছে কি না, থাকলে কী?

এ বিষয়ে ইভ্যালির দেয়া জবাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শেষ তিনটি প্রশ্নের আংশিক উত্তর দিয়েছে ইভ্যালি। বাকিগুলোর পূর্ণাঙ্গ জবাবের জন্য জন্য চাওয়া হয়েছে ছয় মাস সময়।

চিঠিতে দায়-দেনা, মূলধন ও পাওনা পরিশোধ সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে ইভ্যালির বিষয়ে যে ঘাটতি তথ্য এসেছে, তা প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করে না। কেননা, ওই সময় তদন্ত দল ইভ্যালির কাছ থেকে যেসব হিসাব চেয়েছিল, সময় স্বল্পতা এবং তাদের প্রদত্ত ফরম্যাট অনুযায়ী ইভ্যালি সম্পূর্ণরূপে তখন তা সরবরাহ করতে সক্ষম হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতিতেও মার্চেন্টদের দায়-এর সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করা যায়নি। এর কারণ হিসেবে ইভ্যালি বলেছে, প্রতিটি মার্চেন্টের অর্ডারের বিপরীতে ডেলিভারির বর্তমান অবস্থা যাচাই, ডেলিভারি করা পণ্য গ্রাহকের যথাযথভাবে পাওয়ার নিশ্চয়তার প্রমাণ, ত্রুটিপূর্ণ পণ্যের অভিযোগ নিষ্পত্তি, পূর্ববর্তী বিলের সমন্বয়সহ নানা বিষয়াদি এর সঙ্গে জড়িত। এই পরিস্থিতিতে ৫ হাজারের বেশি মার্চেন্টের জন্য হিসাব সম্পন্ন করা একটি সময় সাপেক্ষ বিষয়।

ইভ্যালি বলেছে, ‘এ অবস্থায় আমরা একটি তৃতীয় নিরপেক্ষ নিরীক্ষক দ্বারা আমাদের সম্পূর্ণ আর্থিক হিসাব বিবরণী এবং কোম্পানির ভ্যালুয়েশনসহ উপস্থাপন করতে চাই। এর জন্য ছয় মাস সময় চাই। নিরীক্ষা শেষ করার সময় পেলে চাহিদা অনুযায়ী আর্থিক বিবরণীতে আমাদের যাবতীয় হিসাব, যথা, কোম্পানির মোট সম্পদ, দেনার পরিমাণ, মার্চেন্টদের মোট দেনার পরিমাণ, মার্চেন্টদের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী ক্রেডিট লাইনের যাবতীয় বিবরণ প্রদান করা হবে।’

তবে এই সময়ের মধ্যে ইভ্যালি আগের প্রতিশ্রুত পণ্যের ডেলিভারি ক্রমান্বয়ে সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রতি ১৫ দিন অন্তর তারা পণ্য ডেলিভারির অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়কে দিতে প্রস্তুত।

ইভ্যালির ব্যবসার ধরনে বদল, মুনাফার দাবি
ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল

চিঠিতে বর্তমান ব্যবসা পদ্ধতি ও আগের লোকসানি অবস্থা থেকে উত্তরণের রূপরেখাও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বর্তমানে ইভ্যালি ডিজিটাল কমার্স পলিসি ২০২০ (সংশোধিত) এবং ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

চিঠিতে বলা হয়, ‘বর্তমান অবস্থা হতে উত্তরণের লক্ষ্যে ইভ্যালি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পণ্যে প্রচুর ডিসকাউন্ট দেয়া বন্ধ করেছে। এর ধারাবাহিকতায় সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যাম্পেইন ‘সাইক্লোন’ অফার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে ৩০ মে শুরু করা হয়েছে ‘প্রায়োরিটি ক্যাম্পেইন’ এবং ২ জুলাই থেকে চলছে ‘টি ১০’ ক্যাম্পেইন। এসব ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গ্রাহককে ২৪ ঘণ্টার ভেতরে পণ্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে এবং এক্ষেত্রে গ্রাহকরা এমআরপি মূল্যে পণ্য কিনছেন। ফলে এই বিক্রয়লব্ধ কার্যক্রমে ইভ্যালি প্রতি অর্ডারে মুনাফা অর্জন করছে।’

পাশাপাশি মার্চেন্টদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবসা বাড়ানোর চেষ্টার কথাও জানানো হয়েছে চিঠিতে। এতে বলা হয়, ‘ইতোমধ্যে আমরা ১ হাজার কোটি টাকার একটি বিনিয়োগ চুক্তি করেছি। যার মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটি টাকা এবং পর্যায়ক্রমে বাকি অর্থ বিনিয়োগ হবে। এই অর্থ ইভ্যালির বর্তমান আলোচ্য ঘাটতি পুরোপুরি নিরসনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’

এ বিষয়ে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘আমাদের ন্যূনতম ছয় মাস সময় দরকার। এই সময়ের মধ্যে আমরা ভোক্তাদের পূর্ব প্রতিশ্রুত বকেয়া পণ্য সরবরাহ শেষ করবো। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য এবং চাহিদা অনুযায়ী তথ পূর্ণাঙ্গরূপে উপস্থাপনে সক্ষম হবো।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও সেল) এবং ডিজিটাল ই-কমার্স সেলের প্রধান হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইভ্যালি মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দিয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের যে ধরনের চাহিদা ছিল, চিঠিতে তারা পরিপূর্ণ তথ্যের সরবরাহ করেনি। তারা পূর্ণাঙ্গ তথ্যের জন্য ছয় মাস সময় চেয়েছে। ইভ্যালিকে সময় দেয়া হবে কিনা, দিলে সেটি কতদিন বা কত মাস এবং গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ব্যবসার ভবিষ্যৎ কী হবে, সেসব প্রশ্নের সমাধান মিলবে এ সম্পর্কিত কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে। এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি।’

আরও পড়ুন:
ই-কমার্স: আগে পণ্য পরে টাকায় অনড় বাংলাদেশ ব্যাংক
ইভ্যালিকে সময় দিতে চায় সরকার
ইভ্যালিতে যমুনার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা
পুরোনো অর্ডার দিতে ৬ মাস সময় চাইল ইভ্যালি
ইভ্যালির কাছে ছয় প্রশ্নের জবাব চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টয়লেটে ছাত্রীর আটকে থাকার ঘটনায় তদন্ত শুরু

টয়লেটে ছাত্রীর আটকে থাকার ঘটনায় তদন্ত শুরু

হোসেনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন ইউএনও, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। ছবি: নিউজবাংলা

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রী, তার বাবা, স্থানীয় মানুষ, অভিযুক্ত কর্মচারী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা হয়নি। আমার প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হবে।’

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে স্কুলের টয়লেটে বাকশক্তিহীন ছাত্রীর আটকে পড়ার ঘটনা খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু করেছে তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

কমিটির প্রধান তাহমিনা বেগম রোববার দুপুর ১টার দিকে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্লাস শেষ করে আমরা আবারও সবার সঙ্গে কথা বলব। আশা করছি খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।’

এর আগে এই ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে আয়া শাহানারা বেগমকে। তবে তিনি আগের মতোই স্কুলের কাজে নিয়োজিত আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিন সদস্যের কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন স্কুলের সহকারী শিক্ষক উম্মে কুলসুম ও আবু হানিফ ভূইয়া।

টামটা উত্তর ইউনিয়নের হোসেনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শনিবার পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিরীন আক্তার, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গিয়াস উদ্দিন পাটোয়ারী ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আহসান উল্যাহ চৌধুরী।

টয়লেটে ছাত্রীর আটকে থাকার ঘটনায় তদন্ত শুরু

বরখাস্ত আয়া স্কুলে কীভাবে কাজ করেন এই প্রশ্নে প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন বলেন, ‘আমাদের স্কুলে একজন দপ্তরি ও একজন আয়া। এখন তারা না থাকলে বিদ্যালয়ের যে কাজকর্ম রয়েছে তা কীভাবে হবে? আয়া তার কাজ করলেও হাজিরা খাতায় তার সই দেয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।’

ইউএনও শিরীন আক্তার বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রী, তার বাবা, স্থানীয় মানুষ, অভিযুক্ত কর্মচারী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা হয়নি। আমার প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হবে।’

শাহরাস্তি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান উল্যাহ চৌধুরী বলেন, ‘স্কুলের টয়লেটে ছাত্রী থাকাবস্থায় তালাবন্ধ করা, স্থানীয় লোকজন তালা ভেঙে ওই ছাত্রীকে উদ্ধারের সময় স্কুল কর্তৃপক্ষের ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থাকা, ঘটনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করা ও বাকশক্তিহীন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করে তার বিশেষ যত্নের ব্যবস্থা না করায় প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব জমা দিতে হবে।’

এসএসসি পরীক্ষার্থী বাকশক্তিহীন ওই ছাত্রী বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর টয়লেটে গেলে তালাবন্ধ করে চলে যান বিদ্যালয়ের আয়া শাহানারা আক্তার। ১১ ঘণ্টা আটকে থাকার পর রাত ১০টার দিকে টয়লেটের তালা ভেঙে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন:
ই-কমার্স: আগে পণ্য পরে টাকায় অনড় বাংলাদেশ ব্যাংক
ইভ্যালিকে সময় দিতে চায় সরকার
ইভ্যালিতে যমুনার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা
পুরোনো অর্ডার দিতে ৬ মাস সময় চাইল ইভ্যালি
ইভ্যালির কাছে ছয় প্রশ্নের জবাব চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে আরেক মামলা

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে আরেক মামলা

ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও সিইও মো. রাসেল। ফাইল ছবি

ধানমন্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার কামরুল ইসলাম নামে একজন মার্চেন্ট মামলা করেছেন। তিনি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য সরবরাহ করেছেন। কিন্তু ইভ্যালি তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি।’

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা হয়েছে।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার কামরুল ইসলাম নামে একজন মার্চেন্ট মামলা করেছেন। তিনি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য সরবরাহ করেছেন। কিন্তু ইভ্যালি তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি।’

ইকরাম আলী আরও বলেন, ‘আমরা শোন অ্যারেস্ট দেখিয়েছি। রিমান্ডের আবেদনও করা হয়েছে। গুলশানে রিমান্ড শেষে আমাদেরকে দিবে।’

ধানমন্ডি থানার মামলায় রাসেল, শামীমাসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাত আসামি আছে আরও কয়েকজন।

মামলার নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন সিইও রাসেল, চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন, ভাইস চেয়ারম্যান আকাশ, ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম হেময়, সিনিয়র কী অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার তানভীর আলম, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কমার্শিয়াল জাওয়াদুল হক চৌধুরী, হেড অব অ্যাকাউন্ট সেলিম রেজা, অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার জুবায়ের আল মাহমুদ, অ্যাকাউন্ট শাখার সোহেল, আকিবুর রহমান তূর্য, পিএস টু সিইও রেজওয়ান, বাইক বিভাগের সাকিব রহমান।

অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৫ থেকে ২০ জনকে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করেন আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক। ওই দিন বিকেলেই রাসেলের মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব।

অভিযানে রাসেল ও শামীমাকে আটক করা হয়। পরের দিন গুলশান থানা পুলিশে দুজনকে হস্তান্তর করা হয়। ওই থানা পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইভ্যালির সিইও ও চেয়ারম্যানকে তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।

আরও পড়ুন:
ই-কমার্স: আগে পণ্য পরে টাকায় অনড় বাংলাদেশ ব্যাংক
ইভ্যালিকে সময় দিতে চায় সরকার
ইভ্যালিতে যমুনার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা
পুরোনো অর্ডার দিতে ৬ মাস সময় চাইল ইভ্যালি
ইভ্যালির কাছে ছয় প্রশ্নের জবাব চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড নোয়াখালীর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম সরদারকে প্রধান এবং উপপরিচালক আবদুল আলিমকে সদস্য করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। শিগগির তারা প্রতিবেদন দেবেন।’

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে লেগে থাকা গাছের ডাল থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসঙ্গে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।

বিদ্যুতায়ন বোর্ড নোয়াখালীর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা শনিবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম সরদারকে প্রধান এবং উপপরিচালক আবদুল আলিমকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে।’

তবে কত দিনের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি গোলাম মোস্তফা। এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যেই দেয়া হয়।’

উপজেলার বজরা ইউনিয়নের শিলমুদ গ্রামে আব্দুর রহিম সুপার মার্কেটের সামনে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন ওই মার্কেটের মালিক আব্দুর রহিম, মো. ইউসুফ, মো. সুমন ও মো. জুয়েল। তাদের সবার বাড়ি শিলমুদ গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরের দিকে বৃষ্টি হয়েছিল। পানিতে বৈদ্যুতিক খুঁটিটি বিদ্যুতায়িত হয়ে ছিল। খুঁটি লাগোয়া একটি গাছও বিদ্যুতায়িত ছিল। সেই গাছের ডালের সঙ্গে হাত লাগে আব্দুর রহিমের। তাকে বাঁচাতে এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইউসূফ, সুমন ও জুয়েল এগিয়ে যান। এতে তারাও বিদ্যুতায়িত হন।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়া শিলমুদ মধ্যপাড়া মসজিদ প্রাঙ্গণে তাদের দাফন করা হয়।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসঙ্গে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ এই খুঁটি সরাতে কর্মকর্তাদের অনুরোধ করলেও, তা আমলে নেয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহীদ উল্ল্যাহ্‌ বলেন, ‘প্রায় ৩৫ বছর আগে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এখানে খুঁটি স্থাপন করে সংযোগ দেয়। ১০ বছর আগে এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহের এখতিয়ার চলে যায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি সরাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করেননি।’

নিহত আব্দুর রহিমের শ্যালক মোরশেদ আলম বলেন, ‘অনেকবার তাদের খুঁটি সরাতে বলেছি। তারা সরায়নি। তাদের কাছে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই।’

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড নোয়াখালীর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘দুই মাস আগে ওই খুঁটিটি সরাতে গেলে মার্কেটের মালিক আব্দুর রহিম বাধা দেন। এজন্য খুঁটি সরানো হয়নি। দ্রুতই ঝুঁকিপূর্ণ সব খুঁটি সরিয়ে ফেলা হবে।’

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহগুলোর সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’

সোনাইমুড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলুর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে মৃতদের তালিকা পাঠিয়েছি। সেখান থেকে তাদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।’

নোয়াখালী জেলায় গত এক সপ্তাহে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন ৬ জন। গত বুধবার সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের হেলে পড়া একটি খুঁটির তারে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান মফিজ উল্যাহ নামের এক ব্যক্তি।

মফিজ উল্যাহর পরিবারের অভিযোগ, খুঁটি সরাতে একাধিকবার আবেদন করা হলেও কর্তৃপক্ষ তা সরায়নি।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর কবিরহাট পৌর এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান সাজ্জাদ হোসেন রিফাত নামের আরও এক স্কুলছাত্র।

আরও পড়ুন:
ই-কমার্স: আগে পণ্য পরে টাকায় অনড় বাংলাদেশ ব্যাংক
ইভ্যালিকে সময় দিতে চায় সরকার
ইভ্যালিতে যমুনার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা
পুরোনো অর্ডার দিতে ৬ মাস সময় চাইল ইভ্যালি
ইভ্যালির কাছে ছয় প্রশ্নের জবাব চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

দিনাজপুরে ১১ ‘জঙ্গি’র রিমান্ড শুনানি ২১ সেপ্টেম্বর

দিনাজপুরে ১১ ‘জঙ্গি’র রিমান্ড শুনানি ২১ সেপ্টেম্বর

দিনাজপুরে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনকে আদালতে নেয়া হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

দিনাজপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান জানান, বিকেলে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনকে আদালতে তোলা হয়। তাদেরকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ। বিচারক ২১ সেপ্টেম্বর রিমান্ড শুনানির দিন নির্ধারণ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

দিনাজপুরে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনের রিমান্ড শুনানি ২১ সেপ্টেম্বর।

দিনাজপুর বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক লিমেন্ট রায় শনিবার বিকেলে এই আদেশ দেন।

দিনাজপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিকেলে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনকে আদালতে তোলা হয়। তাদেরকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ। বিচারক ২১ সেপ্টেম্বর রিমান্ড শুনানির দিন নির্ধারণ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার ২টি মসজিদ, বিরল উপজেলার ১টি ও বোচাগঞ্জ উপজেলার ১টি মসজিদে ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে ৪৫ জন আটক হয়।

দিনাজপুরে ১১ ‘জঙ্গি’র রিমান্ড শুনানি ২১ সেপ্টেম্বর

পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, তথ্য যাচাই-বাছাই করে ১৯ জনকে আটক রাখা হয়। তাদের মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে ৩ থানায় মামলা করা হয়েছে। ৮ জনের বিরুদ্ধে আগের মামলা থাকায় তাদের সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাকি ২৬ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন ঝিনাইদহ সদরের হরিকুন্ডু গ্রামের রেদোয়ানুল হক কাভি, ঢাকার মিরপুরের সাখাওয়াত আহমেদ বিন কামাল, মোহাম্মদপুরের নাফিস হাবিব, চট্টগ্রামের মিরসরাই থানার মহসিন ভুইয়া ও কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানার আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ।

দিনাজপুরে ১১ ‘জঙ্গি’র রিমান্ড শুনানি ২১ সেপ্টেম্বর

বিরল থানায় গ্রেপ্তার তিনজন হলেন রংপুর বদরগঞ্জের ওয়াহেদুজ্জামান, কাউনিয়া থানার মনিরুল ইসলাম ও নীলফামারী সৈয়দপুরের সাব্বির আহমেদ ওরফে সজল।

বোচাগঞ্জ থানার গ্রেপ্তার তিনজন হলেন রংপুর কোতোয়ালি থানার আবু সায়েদ হাসান ওরফে রূপম, ঢাকার শ্যামপুর থানার জুনায়েদ খান ও দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের হুমায়ুন কবির।

আরও পড়ুন:
ই-কমার্স: আগে পণ্য পরে টাকায় অনড় বাংলাদেশ ব্যাংক
ইভ্যালিকে সময় দিতে চায় সরকার
ইভ্যালিতে যমুনার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা
পুরোনো অর্ডার দিতে ৬ মাস সময় চাইল ইভ্যালি
ইভ্যালির কাছে ছয় প্রশ্নের জবাব চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি

ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি

ইভ্যালির লোগো। ফাইল ছবি

ডিবির প্রধান হাফিজ আক্তার বলেন, ‘ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জসহ এমন আরও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা প্রতারণা করেছে। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে পণ্য বিক্রির অফার দিয়ে যারা গ্রাহকদের পণ্য দেয় না, তারা মূলত প্রতারণা করছে।’

ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জের মতো যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে শনিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ডিবির প্রধান বলেন, ‘ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জসহ এমন আরও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা প্রতারণা করেছে। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে পণ্য বিক্রির অফার দিয়ে যারা গ্রাহকদের পণ্য দেয় না, তারা মূলত প্রতারণা করছে।’

তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ধরনের প্রতারকদের বেশি বেশি ধরা হলে ধীরে ধীরে প্রতারণা কমে আসবে।’

অর্থ আত্মসাতের মামলায় ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে শুক্রবার তিন দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ।

ওই দিন দুপুরে র‌্যাব সদরদপ্তরে তাদের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন হয়। পরে তাদের গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।

গ্রাহকের করা মামলার পর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

আরও পড়ুন:
ই-কমার্স: আগে পণ্য পরে টাকায় অনড় বাংলাদেশ ব্যাংক
ইভ্যালিকে সময় দিতে চায় সরকার
ইভ্যালিতে যমুনার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা
পুরোনো অর্ডার দিতে ৬ মাস সময় চাইল ইভ্যালি
ইভ্যালির কাছে ছয় প্রশ্নের জবাব চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

১১ ‘জঙ্গি’ আদালতে, ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন

১১ ‘জঙ্গি’ আদালতে, ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন

দিনাজপুর অভিযানে চালিয়ে জঙ্গি সন্দেহে আটক ১১ জনকে আদালতে আনা হচ্ছে। ছবি: কুরবান আলী/নিউজবাংলা

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক লিমেন্ট রায়ের আদালতে দিনাজপুর সদর, বিরল ও বোচাগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা ১১ জনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। সেখানে চলছে শুনানি।

দিনাজপুরে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনকে আদালতে তুলে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন করেছে পুলিশ।

দিনাজপুরের আদালতে শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ১১ জনকে আনা হয়।

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক লিমেন্ট রায়ের আদালতে দিনাজপুর সদর, বিরল ও বোচাগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। সেখানে চলছে শুনানি।

আর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার ২টি মসজিদ, বিরল উপজেলার ১টি মসজিদ ও বোচাগঞ্জ উপজেলার ১টি মসজিদে ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অভিযানে ৪৫ জনকে আটক করা হয়।

এদিকে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানান, পরে তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে ১৯ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে ৩টি থানায় মামলা করা হয়েছে।

এছাড়া অপর ৮ জনের বিরুদ্ধে আগের মামলা থাকায় তাদের সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি ২৬ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়।

১১ ‘জঙ্গি’ আদালতে, ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় আটক পাঁচজন হলেন ঝিনাইদহ সদরের হরিকুন্ডু গ্রামের রেদোয়ানুল হক কাভি, ঢাকা মিরপুর-১২-এর সাখাওয়াত আহমেদ বিন কামাল, চট্টগ্রামের মিরসরাই থানার ওয়াহেদপুর গ্রামের মহসিন ভুইয়া, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানার চরহটর আলগি গ্রামের আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ ও ঢাকার মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লার পাইওনিয়ার হাউজিং কলোনীর নাফিস হাবিব।

বিরল থানায় আটক তিনজন হলেন রংপুর বদরগঞ্জের মধুপুর দৌলাপাড়ার ওয়াহেদুজ্জামান, কাউনিয়া থানার নিজপাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম ও নীলফামারী সৈয়দপুরের হাতিখানা নতুন বাবুপাড়ার সাব্বির আহমেদ ওরফে সজল।

১১ ‘জঙ্গি’ আদালতে, ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন

বোচাগঞ্জ থানার আটক তিনজন হলেন রংপুর কোতোয়ালি থানার মুন্সিপাড়ার আবু সায়েদ হাসান ওরফে রূপম, ঢাকার শ্যামপুর থানার রামুরহাট রক্তিম জুরায়েন গ্রামের জুনায়েদ খান ও দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের বরুয়াদৌলা গ্রামের হুমায়ুন কবির।

দিনাজপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিন থানা থেকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ১১ জনকে আদালতে আনা হয়েছে। মামলার সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছেন।

আরও পড়ুন:
ই-কমার্স: আগে পণ্য পরে টাকায় অনড় বাংলাদেশ ব্যাংক
ইভ্যালিকে সময় দিতে চায় সরকার
ইভ্যালিতে যমুনার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা
পুরোনো অর্ডার দিতে ৬ মাস সময় চাইল ইভ্যালি
ইভ্যালির কাছে ছয় প্রশ্নের জবাব চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে এবার যশোরে মামলা

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে এবার যশোরে মামলা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

বাদীর অভিযোগ, এক লাখ ৩০ হাজার ১৪০ টাকায় ভারতীয় বাজাজ কোম্পানির একটি পালসার মোটরসাইকেলের অর্ডার করেন তিনি। এরপর কয়েকটি কিস্তিতে পুরো টাকা পরিশোধও করেন। সাড়ে তিন মাসেও মোটরসাইকেল পাননি তিনি। 

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে এবার যশোরে মামলা করেছেন এক গ্রাহক।

কোতোয়ালি মডেল থানায় শুক্রবার গ্রাহক জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল এই মামলা করেছেন বলে শনিবার সকালে নিশ্চিত করেছেন উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম।

মামলায় বলা হয়েছে, ইভ্যালি থেকে গত ২৯ মে একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা দিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। তা না পাওয়ায় শুক্রবার তিনি মামলা করেছেন।

জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, এক লাখ ৩০ হাজার ১৪০ টাকায় ভারতীয় বাজাজ কোম্পানির একটি পালসার মোটরসাইকেলের অর্ডার করেন তিনি। এরপর কয়েকটি কিস্তিতে পুরো টাকা পরিশোধও করেন। টাকা পরিশোধের ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে পণ্যটি ডেলিভারি দেয়ার কথা ছিল। সাড়ে তিন মাসেও মোটরসাইকেল পাননি তিনি।

এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে একজন অফিসারকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

অর্থ আত্মসাতের মামলার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে র‌্যাবের সদরদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনের পর দুজনকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায়।

ইভ্যালিতে ‘ওয়ান ম্যান শো’ চলত বলে দাবি করেছে র‍্যাব। শুক্রবার প্রেস ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, “ইভ্যালি একটি পরিকল্পিত পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। ইট ওয়াজ ‘ওয়ান ম্যান শো’। ইট ওয়াজ রাসেল ইটসেলফ। নিজস্ব বিচার-বিবেচনায় তিনি সব করতেন। তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল না।”

র‌্যাব জানায়, ইভ্যালি শুরু থেকেই লোকসানি প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৭ সালে শিশুপণ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে রাসেল ১ কোটি টাকা পান। এই টাকা দিয়ে ইভ্যালি শুরু। অফিসসহ অন্যান্য ব্যয় মিলে প্রতি মাসে সাড়ে ৫ কোটি টাকা বহন করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ই-কমার্স: আগে পণ্য পরে টাকায় অনড় বাংলাদেশ ব্যাংক
ইভ্যালিকে সময় দিতে চায় সরকার
ইভ্যালিতে যমুনার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা
পুরোনো অর্ডার দিতে ৬ মাস সময় চাইল ইভ্যালি
ইভ্যালির কাছে ছয় প্রশ্নের জবাব চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

শেয়ার করুন