বিদেশি সহায়তা ছাড়িয়ে গেছে ৭ বিলিয়ন ডলার

বিদেশি সহায়তা ছাড়িয়ে গেছে ৭ বিলিয়ন ডলার

সমাপ্ত ২০২০-২১ অর্থবছরে ঋণ-অনুদান মিলে মোট ৭১১ কোটি ডলার বিদেশি সহায়তা পাওয়া গেছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এটি বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে এত বেশি বিদেশি সহায়তা আর কখনো আসেনি।

করোনাভাইরাস মহামারিতে নানা দুঃসংবাদের মধ্যে অর্থনীতিতে স্বস্তিদায়ক একটি খবর এসেছে। এ সময় অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ দুর্বল হলেও বিদেশি সহায়তায় সুবাতাস বইছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরপর দুই অর্থবছর বিদেশি সাহায্য ঋণ-অনুদান মিলে ৭০০ কোটি ডলার (৭ বিলিয়ন) ছাড়িয়ে গেছে।

দেশের অর্থনীতিবিদরা এই প্রবণতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন।

সমাপ্ত ২০২০-২১ অর্থবছরে ঋণ-অনুদান মিলে মোট ৭১১ কোটি ডলার বিদেশি সহায়তা পাওয়া গেছে, বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা।

এর মধ্যে ঋণের অংশই বেশি, যার পরিমাণ ৬৭৭ কোটি ডলার। অবশিষ্ট অংশ অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে।

এর আগের অর্থবছর ২০১৯-২০ অর্থবছরে ঋণ-অনুদান মিলে পাওয়া গিয়েছিল ৭২৭ কোটি ডলার। এর মধ্যে ঋণ ছিল ৬৭৪ কোটি ডলার। বাকিটা অনুদান।

মূলত করোনার মধ্যেই বেশি পরিমাণ বাজেট সহায়তা ও বিদেশি সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর কারণে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও জাপানসহ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বেশি ঋণ এসেছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে এত বেশি বিদেশি সহায়তা আর কখনো আসেনি। করোনার আগে গত কয়েক বছর ধরে গড়ে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা পাওয়া যেত।

‘এখন তা ৭ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এটি আমাদের জন্য বড় অর্জন।’

করোনা মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক, এডিবি বাংলাদেশকে বাজেট সহায়তা দেয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকার আশা করছে নতুন অর্থবছরেও প্রত্যাশিত বাজেট সহায়তা পাওয়া যাবে। ফলে এবারও বিদেশি ঋণ রেকর্ড ছাড়াবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, প্রকল্পের বিপরীতে ঋণের চেয়ে বাজেট সহায়তা সরকারের সবচেয়ে বড় সুবিধা। কারণ বাজেট সহায়তার টাকা করোনা প্রতিরোধসহ প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা যায়। এ ক্ষেত্রে কোনো শর্ত লাগে না। এ জন্য বেশি পরিমাণ বাজেট সহায়তা পেতে আগ্রহী সরকার।

প্রতিশ্রুতি ছিল আরও বেশি

সহায়তার পরিমাণ বাড়লেও প্রতিশ্রুতি ছিল আরও বেশি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিদায়ি অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি ছিল ৯৩৫ কোটি ডলার। এর মধ্যে পাওয়া গেছে ৭১১ কোটি ডলার।

অর্থাৎ প্রতিশ্রুত সহায়তার চেয়ে কম এসেছে প্রায় ২৪ শতাংশ। এর আগের বছরে একই পরিমাণ সহায়তা কম এসেছিল।

ইআরডির কর্মকর্তারা বলেন, প্রতিশ্রুতি মানে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি। আর সহায়তা পাওয়া মানে অর্থছাড়।

শর্ত পালনে জটিলতাসহ নানা কারণে অর্থ ছাড়ে দেরি হয়। এ জন্য লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সাহায্য পাওয়া যায় না।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সাবেক জ্যেষ্ঠ পরিচালক ও বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘বিদেশি সহায়তার পরিমাণ ৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য ভালো খবর। তবে খেয়াল রাখতে হবে দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ এখনও দুর্বল।’

তিনি আরও বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি বিপর্যস্ত হওয়ায় রাজস্ব আদায় কমে গেছে। চলতি অর্থবছরও এর প্রভাব থাকবে। ফলে বিশাল বাজেট অর্থায়নে আরও বেশি বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে সরকারকে।

করোনাকালে স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা ও প্রণোদনাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গত ৩ জুন নতুন অর্থবছরে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বিশাল বাজেট ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ কমে যাওয়ায় ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিয়ে এ বাজেট বাস্তবায়নের কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিদেশি সহায়তার উচ্চ লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়।

সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে মাত্রাতিরিক্ত ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। সে জন্য বাজেটে অর্থায়নে আরও বেশি বিদেশি সহায়তার দিকে নজর দিতে হবে সরকারকে।

‘পাইপলাইনে (ছাড়যোগ্য বৈদেশিক সাহায্য) অনেক অর্থ আটকে আছে। ওই অর্থ ছাড়ের জন্য সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। এখান থেকে কিছু অংশ ছাড় হলে সরকারের বাড়তি ব্যয়ের চাহিদা পূরণ করা যাবে।’

ইআরডির কর্মকর্তারা বলেন, বর্তমানে পাইপলাইনে পুঞ্জিভূত সহায়তার পরিমাণ ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

উন্নয়ন সহযোগীরা বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ব্যয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তা হলে দ্রুত ছাড় হবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, পাইপলাইনে যে পরিমাণ সহায়তা আছে, তার ১০ শতাংশ অর্থ ছাড় করতে পারলে বাজেট সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে। ফলে এ দিকে সরকারকে আরও মনোযোগ দেয়া উচিত।

ইআরডির এক কর্মকর্তা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগীদের দেয়া শর্ত পালন করা সম্ভব হয় না। এ ছাড়া অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হয়। এসব কারণে পাইপলাইনে পুঞ্জিভূত অর্থের পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যে বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে বেশি সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তারা এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আশা করছি এবার বিদেশি সহায়তাও আরও বাড়বে।’

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অর্থায়নে বিদেশি সাহায্য ক্রমশ হ্রাস পেলেও এখনও উল্লেখযোগ্য অংশ বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। এডিপিতে অর্থ বরাদ্দের ৩০ শতাংশ বিদেশি সহায়তার মাধ্যমে পূরণ করা হয়। এক দশক আগে এর অংশ ছিল ৪০ শতাংশের বেশি।

করোনাকালীন বাড়তি ব্যয় মেটানোর লক্ষ্যে ৬ শতাংশের বেশি ঘাটতি প্রাক্কলন করে চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়।

চলতি বাজেটে বিদেশি উৎস থেকে অর্থপ্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করা হয় প্রায় ৯৭ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা, যা বিদায়ি অর্থবছরে ছিল ৭৬ হাজার কোটি টাকা।

এবারের এডিপিতে ১ হাজার ৫৩৮টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে বাস্তবায়নাধীন বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পের সংখ্যা ৩৬৫টি।

বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ বহুপক্ষীয় এবং দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাংলাদেশ বিদেশি সহায়তা পায়। বহুপক্ষীয় সংস্থার মধ্যে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ঋণ দেয় বিশ্বব্যাংক। আর দ্বিপক্ষীয়র মধ্যে সর্বোচ্চ ঋণ দেয় জাপান।

বর্তমানে ঋণ ও অনুদান দুটোই বাংলাদেশ পায়। তবে অনুদানের অংশ কম। এটা মোট সহায়তা প্রাপ্তির ৪ থেকে ৫ শতাংশ। অবশিষ্ট সিংহভাগ ঋণ হিসেবে দেয় উন্নয়ন সহযোগীরা।

আগে খাদ্য সহায়তার নামে কিছু অর্থ আসত। এখন পুরো টাকা প্রকল্প সাহায্যের নামে আসে।

ইআরডির এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ যে ঋণ নেয়, তার বেশির ভাগই মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে। এসব ঋণ নমনীয়। এ কারণে সুদ পরিশোধে চাপ কম থাকে।

বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশের সক্ষমতা বিশ্বমানের বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
কৃষিতে ২৮,৩৯১ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো
মহামারির বছরে ঋণপ্রবাহ দ্বিগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য
এনজিওর মামলায় থানায় মা, বাড়িতে কাঁদছে দুধের শিশু
ক্রেডিট গ্যারান্টির ঋণ দিতে প্রতি বছর চুক্তি নয়
মোবাইল-ল্যাপটপ কিনতে ঋণ মিলবে ৭০%

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সমুদ্রসীমা নিয়ে জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে আপত্তি

সমুদ্রসীমা নিয়ে জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে আপত্তি

বঙ্গোপসাগর

মহিসোপান নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিতর্ক শুরু ২০০৯ সালে। সেবার ভারত তাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের জন্য যে বেইজ পয়েন্ট নির্ধারণ করে, তার দুটি নিয়ে আপত্তি ছিল বাংলাদেশের।

সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারতের দাবির বিরোধীতা করে জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে চিঠিটি প্রকাশিত হয়েছে।

২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতের রায়ে বাংলাদেশ নতুন প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা পেয়েছে। কিন্তু গত এপ্রিলে বাংলাদেশের দাবির উপরে আপত্তি এবং নিজেদের কিছু দাবি দাওয়া জানিয়ে চিঠি দেয় ভারত। চিঠিতে বলা হয়- বাংলাদেশ যে মহীসোপান নিজেদের বলে দাবি করছে, তা ভারতের মহীসোপানের অংশ।

সেই সময়ই বাংলাদেশ জানিয়ে দেয় যে, ভারতের ওই আপত্তির কোন আইনগত ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহীসোপান নির্ধারণ কমিশনের সামনে নিজেদের বক্তব্যও তুলে ধরে বাংলাদেশ।

এবার সরাসরি জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে চিঠি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

মহিসোপান নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিতর্ক শুরু ২০০৯ সালে। সেবার ভারত তাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের জন্য যে ভিত্তিরেখা বা বেইজ পয়েন্ট নির্ধারণ করে, তার একটি ছিল বাংলাদেশের জলসীমার ভেতরে। আরেকটি ছিল সাড়ে দশ নটিক্যাল মাইল সমুদ্রের ভেতরে।

ওই দুটি বেইজ পয়েন্টের ক্ষেত্রে ভারত কোনো নিয়ম মানেনি বলে দাবি করে বাংলাদেশ। তাই এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সংশোধনের অনুরোধ করা হয় এবং ২০১১ সালে জাতিসংঘের মহীসোপান নির্ধারণ বিষয়ক কমিশনেও যাওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালে বাংলাদেশের পক্ষে রায় আসে।

আদালতের রায় নিয়ে সেই সময় কোনো উচ্চ বাচ্য না করলেও পরে দ্বিপক্ষীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে জল ঘোলা করতে থাকে ভারত। সাত বছর এমন চলার পর সর্বশেষ গত এপ্রিলে জাতিসংঘে নিজেদের দাবি দাওয়া উপস্থাপন করে তারা। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো ছাড় না দেওয়ার মনোভব বাংলাদেশের।

আরও পড়ুন:
কৃষিতে ২৮,৩৯১ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো
মহামারির বছরে ঋণপ্রবাহ দ্বিগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য
এনজিওর মামলায় থানায় মা, বাড়িতে কাঁদছে দুধের শিশু
ক্রেডিট গ্যারান্টির ঋণ দিতে প্রতি বছর চুক্তি নয়
মোবাইল-ল্যাপটপ কিনতে ঋণ মিলবে ৭০%

শেয়ার করুন

সৌদিতে শুল্ক ছাড়াই ১৩৭ পণ্য রপ্তানি চায় বাংলাদেশ

সৌদিতে শুল্ক ছাড়াই ১৩৭ পণ্য রপ্তানি চায় বাংলাদেশ

সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে সৌদি আরবে সফররত বাংলাদেশি দল

সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) আওতায় দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়েও অনুরোধ সালমান এফ রহমান।

সৌদি আরবে ১৩৭টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী আল কাসাবির কাছে এই অনুরোধ করেন।

শনিবার আল কাসাবির সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হন সালমান এফ রহমান। সরকারি সফরে তিনি এখন সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব বর্তমানে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত ও প্লাস্টিক পণ্য, হিমায়িত মাছ ও ওষুধ আমদানি করে উল্লেখ করে সালমান এফ রহমান হালাল মাংস রপ্তানিতেও আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে জোরদার করতে সৌদি আরবে রপ্তানি হয় এমন ১৩৭টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা চান তিনি। এ ছাড়া সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাবসা করার সুযোগ দেওয়ারও অনুরোধ করেন।

সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তার দেশ বিদেশিদের বৈধভাবে ব্যবসা করার সুযোগ দেয়। বাংলাদেশিরা এ ব্যপারে সৌদি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সহায়তা পাবে।

সৌদি আরব চাইলে বাংলাদেশ সৌদি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করে বিশেষ সুবিধা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও আল কাসাবিকে জানান সালমান এফ রহমান। সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) আওতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়েও অনুরোধ জানান তিনি। এ ব্যপারে ইতিবাচক মনোভব দেখান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীও।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের ঢাকা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ এবং কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করতে পারে।

এ ছাড়া ২০১৯ সালে সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরের সময় দুই বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন সমঝোতা দ্রুত কার্যকর করারও অনুরোধ জানান তিনি। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন কাসাবি।

সালমান এফ রহমান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানান। এই আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করেন আল কাসাবি।

এর আগে বৈঠকের শুরুতেই সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন সালমান এফ রহমান। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সৌদি সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলে জানান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী।

ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন, পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজ এবং সৌদি আরবে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
কৃষিতে ২৮,৩৯১ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো
মহামারির বছরে ঋণপ্রবাহ দ্বিগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য
এনজিওর মামলায় থানায় মা, বাড়িতে কাঁদছে দুধের শিশু
ক্রেডিট গ্যারান্টির ঋণ দিতে প্রতি বছর চুক্তি নয়
মোবাইল-ল্যাপটপ কিনতে ঋণ মিলবে ৭০%

শেয়ার করুন

তুরাগে যাত্রীসহ প্রাইভেটকার, নিহত ১

তুরাগে যাত্রীসহ প্রাইভেটকার, নিহত ১

প্রতীকী ছবি।

উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মনির হোসেন জানান, প্রাইভেটকারটি ঢাকা থেকে আশুলিয়ার দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটি টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের মরাগাং এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে তুরাগ নদে পড়ে যায়। এসময় গাড়ি থেকে দুইজন বেরিয়ে আসতে পারলেও, আটকা পড়েন একজন।

ঢাকার সাভারে একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তুরাগ নদে পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুইজন।

তাদের আশুলিয়ার নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের মরাগাং এলাকায় শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম ভোলা দাশ। আহত দুইজনের নাম জানা যায়নি।

উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মনির হোসেন জানান, প্রাইভেটকারটি ঢাকা থেকে আশুলিয়ার দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটি টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের মরাগাং এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে তুরাগ নদে পড়ে যায়। এসময় গাড়ি থেকে দুইজন বেরিয়ে আসতে পারলেও, আটকা পড়েন একজন।

‘ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গাড়ির ভেতর থেকে একজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। আহত দুইজনকে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।’

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুদীপ কুমার গোপ বলেন, ‘পানিতে তলিয়ে যাওয়া প্রাইভেটকারের আহত দুই যাত্রীকে আশুলিয়ার নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। মরদেহ থানায় নেয়া হয়েছে। পানির নিচে থাকা প্রাইভেটকারটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
কৃষিতে ২৮,৩৯১ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো
মহামারির বছরে ঋণপ্রবাহ দ্বিগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য
এনজিওর মামলায় থানায় মা, বাড়িতে কাঁদছে দুধের শিশু
ক্রেডিট গ্যারান্টির ঋণ দিতে প্রতি বছর চুক্তি নয়
মোবাইল-ল্যাপটপ কিনতে ঋণ মিলবে ৭০%

শেয়ার করুন

গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত মরদেহের পাশে বসে কাঁদছিল শিশু

গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত মরদেহের পাশে বসে কাঁদছিল শিশু

ওবায়দুর রহমান বলেন, এলাকার একটি হাওরে কয়েকজন লোক মাছ ধরছিলেন। এ সময় তারা একটি শিশুর কান্না শুনতে পান। তখন আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে দেখতে পান হাওরের পাশে নির্জন স্থানে ক্ষতবিক্ষত এক নারীর মরদেহ পড়ে আছে। পাশে বসে শিশুটি কাঁদছে।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ইয়াসমিন নামে এক গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন স্বামীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গাঙাইল ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে মদনপুর-যুগের হাওর নামক স্থান থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন নান্দাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওবায়দুর রহমান।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, শ্রীরামপুর গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামের ইয়াসমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক কলহ ছিল। তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। পারিবারিক কলহে গৃহবধূ ইয়াসমিন তার বাপের বাড়িতে চলে গেলেও দুই দিন আগে স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন।

ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘এলাকার একটি হাওরে কয়েকজন লোক মাছ ধরছিলেন। এ সময় তারা একটি শিশুর কান্না শুনতে পান। তখন আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে দেখতে পান হাওরের পাশে নির্জন স্থানে ক্ষতবিক্ষত এক নারীর মরদেহ পড়ে আছে। পাশে বসে শিশুটি কাঁদছে।

‘জেলেদের চিৎকারে স্থানীয়রা এসে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।’

পুলিশের ওই এসআই বলেন, ‘তিন বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার নামের শিশুটি নিহত গৃহবধূর মেয়ে। গৃহবধূর বুকে, পিটে ও হাতে ছুরির আঘাত রয়েছে। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হতে পারে।’

মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে। রোববার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার পর থেকে ওই নারীর স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা লাপাত্তা বলে জানায় পুলিশ।

আরও পড়ুন:
কৃষিতে ২৮,৩৯১ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো
মহামারির বছরে ঋণপ্রবাহ দ্বিগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য
এনজিওর মামলায় থানায় মা, বাড়িতে কাঁদছে দুধের শিশু
ক্রেডিট গ্যারান্টির ঋণ দিতে প্রতি বছর চুক্তি নয়
মোবাইল-ল্যাপটপ কিনতে ঋণ মিলবে ৭০%

শেয়ার করুন

স্কুলের মাঠ দখল করে কলাবাগান

স্কুলের মাঠ দখল করে কলাবাগান

স্কুলের মাঠ দখল করে সেখানে রোপন করা হয় কলাগাছ। ছবি: নিউজবাংলা

করোনায় বন্ধ থাকার সুযোগে স্কুলের মাঠে কলাগাছের চারা রোপন করেন ওই স্কুলের জমিদাতার নাতিরা। তাদের দাবি, জমির মালিকানা তাদের দাদি পিয়ারজান বিবির ছিল না। তাই তিনি জমি লিখে দিতে পারেন না। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও জমিদাতার স্বজনদের মধ্যে।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে কলাগাছের বাগান করেছেন জমিদাতার পরিবারের সদস্যরা। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে পাঠদান চললেও, মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অবিভাবকসহ স্থানীয়রা।

উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের কুতুবপুর পিয়ারজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে কলাগাছ লাগানোর ঘটনায় কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদ জানালেও, লাভ হয়নি। সালিশে বসেও সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে বিদ্যালয়ের নামে জমি লিখে দেন পিয়ারজান বিবি নামের এক নারী। তিনি বর্তমানে বেঁচে নেই।

৪৭ বছর পর জমিদাতার নাতিরা দাবি করছেন, জমির মালিকানা পিয়ারজান বিবির ছিল না। তাই তাদের দাদি জমি লিখে দিতে পারেন না। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও জমিদাতার স্বজনদের মধ্যে।

স্থানীয়রা জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রায় দেড় বছর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এ সময়ে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে কম আসতেন। এই সুযোগে বিদ্যালয় মাঠে কলাগাছের চারা রোপন করে জমিদাতার স্বজনরা।

খবর পেয়ে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে গেলে তাদের দেয়া হয় নানা রকম হুমকি। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে নান্দাইল মডেল থানায় মামলা করেন।

প্রধান শিক্ষক রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘গত ২৯ মে স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় জমিদাতার স্বজনরা বিদ্যালয়কে ৩১ শতক জমি সাফকবলা দলিল করে দেবেন। বিনিময়ে তাদের তিন লাখ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু এখন তারা জমি লিখে দেয়ার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে পাঠদানের জন্য একমাত্র টিনশেড ঘরটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, মাঠ থেকে কলাগাছ সরানো হয়নি। এ অবস্থায় গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি খোলা হয়।’

জমিদাতা পিয়ারজান বিবির নাতি আবুল ইসলাম জানান, তারা তিন লাখ টাকা পেয়েছেন। তবে জমি লিখে দিতে হলে আগের দলিল বাতিল করতে হবে।

পিয়ারজান বিবির আরেক নাতি সুরুজ আলী বলেন, ‘আগের দলিল বাতিল করা না হলে নতুন করে জমি লিখে দেব না। গাছগুলো সরানোর বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক বলেন, ‘একটি মীমাংসিত বিষয়কে জটিল করে তুলেছেন জমিদাতার স্বজনরা। ঘটনাটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
কৃষিতে ২৮,৩৯১ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো
মহামারির বছরে ঋণপ্রবাহ দ্বিগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য
এনজিওর মামলায় থানায় মা, বাড়িতে কাঁদছে দুধের শিশু
ক্রেডিট গ্যারান্টির ঋণ দিতে প্রতি বছর চুক্তি নয়
মোবাইল-ল্যাপটপ কিনতে ঋণ মিলবে ৭০%

শেয়ার করুন

ছাদ থেকে পড়ে মেট্রোরেলের কর্মী নিহত

ছাদ থেকে পড়ে মেট্রোরেলের কর্মী নিহত

ঢাকা মেডিক্যালে শান্তর মৃতদেহ

মেট্রোরেলের শেওড়াপাড়া আট নম্বর স্টেশনে কাজ করতেন ২৩ বছর বয়সী শান্ত। আগারগাঁও তালতলার একটি বাসায় কয়েকজন মিলে থাকতেন।

রাজধানীর আগারগাঁও তালতলা এলাকার একটি ভবনের ৬ তলা ছাদ থেকে অসাবধানতায় পড়ে গিয়ে আরিফুল ইসলাম শান্ত নামে এক মেট্রোরেল কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে নয়টার তার মৃত্যু হয়।

নিহতের চাচা আব্দুল হান্নান জানান, মেট্রোরেলের শেওড়াপাড়া আট নম্বর স্টেশনে কাজ করতেন ২৩ বছর বয়সী শান্ত। আগারগাঁও তালতলার একটি বাসায় কয়েকজন মিলে থাকেন। ওই বাসার ছয় তলার ছাদে মোবাইলে কথা বলতে বলতে অসাবধানবশত নিচে পড়ে যান।

প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলেও পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যালে শান্তকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার শংকরপাশা গ্রামের আবু সালেকের সন্তান তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল খান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকেও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কৃষিতে ২৮,৩৯১ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো
মহামারির বছরে ঋণপ্রবাহ দ্বিগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য
এনজিওর মামলায় থানায় মা, বাড়িতে কাঁদছে দুধের শিশু
ক্রেডিট গ্যারান্টির ঋণ দিতে প্রতি বছর চুক্তি নয়
মোবাইল-ল্যাপটপ কিনতে ঋণ মিলবে ৭০%

শেয়ার করুন

প্রতারক চাকরিদাতারা রিমান্ডে

প্রতারক চাকরিদাতারা রিমান্ডে

গ্রেপ্তার হওয়া তিন প্রতারক

ড্রিম জবস ইন কানাডা নামে প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রতারণা করে আসছে। চক্রের একটি অংশ প্রথমে ভিকটিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিবিড় বন্ধুত্ব গড়ে তোলে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক মেসেঞ্জার, ভয়েস-ওভার-আইপি সার্ভিস ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারণার দায়ে গ্রেপ্তার তিন প্রতারককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে একদিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

শনিবার প্রতারণায় অভিযুক্ত মো. কবির হোসেন, শামসুল কবীর ও ইয়াছিন আলীকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। পরে কদমতলী থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম আসামিদের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে শুক্রবার রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের একটি দল। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের ২৫৭টি চেকবই, ২৩৪টি ডেবিট কার্ড, ৮টি মোবাইল ফোন ও ১১টি মোবাইলের সিম জব্দ করা হয়।

শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত কমিশনার ডিবির প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার।

হাফিজ জানান, ড্রিম জবস ইন কানাডা নামে প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রতারণা করে আসছে। চক্রের একটি অংশ প্রথমে ভিকটিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিবিড় বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। আবার ফেসবুকে বিদেশে চাকরির অফার দিয়ে আগ্রহীদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ই-মেইলে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ফির বাহানায় ব্যাংকে টাকা জমা দিতে বলে প্রতারকরা। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর প্রদান করে। এভাবে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা আয় তাদের।

আরও পড়ুন:
কৃষিতে ২৮,৩৯১ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো
মহামারির বছরে ঋণপ্রবাহ দ্বিগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য
এনজিওর মামলায় থানায় মা, বাড়িতে কাঁদছে দুধের শিশু
ক্রেডিট গ্যারান্টির ঋণ দিতে প্রতি বছর চুক্তি নয়
মোবাইল-ল্যাপটপ কিনতে ঋণ মিলবে ৭০%

শেয়ার করুন