ই-কমার্স: আগে পণ্য পরে টাকায় অনড় বাংলাদেশ ব্যাংক

ই-কমার্স: আগে পণ্য পরে টাকায় অনড় বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ-এর মহাব্যবস্থাপক মেজবাউল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ই-কমার্স পেমেন্টের ক্ষেত্রে যে নীতিমালা দেয়া হয়েছে সেটি বহাল থাকবে। গ্রাহকের অর্ডার পাওয়ার পর সময়মতো ডেলিভারি করলে ব্যবসায় সমস্যা হওয়ার কথা না।’

আগে পণ্য পরে অর্থ ছাড়। সেই সঙ্গে পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যেই গ্রাহককে দিতে হবে পণ্য ডেলিভারি। ই-কমার্সে লেনদেন নিয়ে এই নীতিমালায় অনড় থাকা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রতি ই-কমার্স ব্যবসা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধূম্রজাল। ব্যবসার ধরন নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এমন অবস্থায় এই ব্যবসায় পণ্য ডেলিভারিতে ভোক্তাদের স্বার্থে সময় বেঁধে দিয়ে এবং অর্থ ছাড় নিয়ে শর্ত বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

শর্তের মধ্যে রয়েছে পণ্য ডেলিভারির পর পরিশোধ করা হবে অর্থ। আর অর্ডারের পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে গ্রাহকের ঠিকানায় পৌঁছাতে হবে পণ্য।

এই নীতিমালা নিয়ে এরই মধ্যে উঠেছে বিতর্ক। এত কম সময়ে পণ্য ডেলিভারি দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যাবে সেই শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকে। তবে নীতিমালায় দেয়া শর্তেই অনড় থাকছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে ই-কমার্স নিয়ে নীতিমালাটি তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ। এই বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মেজবাউল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ই-কমার্স পেমেন্টের ক্ষেত্রে যে নীতিমালা দেয়া হয়েছে সেটি বহাল থাকবে। গ্রাহকের অর্ডার পাওয়ার পর সময়মতো ডেলিভারি করলে ব্যবসায় সমস্যা হওয়ার কথা না।’

তিনি বলেন, ‘পণ্য ডেলিভারির সঙ্গে সঙ্গে অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা হয়েছে। তবে, সময়মতো ডেলিভারি না করলে, কত দিন পরে পেমেন্ট হবে সেই প্রশ্ন আসছে। সুতরাং, আমরা এমনভাবে নীতিমালা করেছি যারা ডেলিভারি রেগুলার করে যাচ্ছে তাদের ব্যবসায় সমস্যা হবে না।’

অনলাইন ব্যবসায় ক্ষোভ

দেশে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। তবে ওয়েবসাইটে একটি পেইজ খুলে অবিশ্বাস্য ছাড়ে পণ্য বিক্রির প্রলোভন দেখাচ্ছে অনেকেই। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে আগেই দিতে হয় টাকা, তারপর দেয়া হয় পণ্য। কিন্তু টাকা পরিশোধের দুই থেকে চার মাসও চলে যায়, অনেক ক্ষেত্রেই পণ্যের ডেলিভারি দেয়া হয় না। এ নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভের শেষ নেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক

সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে গত ২৫ জুন ই-কমার্স নিয়ে বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্ত হয়, কোনো প্রতিষ্ঠান পণ্য পৌঁছে দেয়ার আগে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিতে পারবে না। ক্রেতার অর্ডার করা পণ্য হাতে না পাওয়া পর্যন্ত ওই পণ্যের পেমেন্টসংশ্লিষ্ট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা হবে না। এ জন্য পণ্য অর্ডারের বিপরীতে পরিশোধিত টাকা বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদিত মিডলম্যান প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা জমা থাকবে।

অর্ডার করা পণ্য ক্রেতা হাতে পাওয়ার পর ডেলিভারিম্যানের কাছে দেয়া স্বাক্ষরযুক্ত রিসিভ কপি জমা দিলেই পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে টাকা ছাড় হবে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গেটওয়ে সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে করা হবে।

নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে অনলাইন ব্যবসা পরিচালনায় নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গেল ৩০ জুন জারি করা ওই নীতিমালায় বলা হয়, অন্যের উৎপাদিত পণ্য বা সেবা ই-কমার্সের আওতায় বিনিময় হলে ৫ দিনের মধ্যে লেনদেন নিষ্পত্তি করতে হবে। নিজস্বভাবে উৎপাদিত পণ্য বা সেবা ই-কমার্সের আওতায় বিনিময় হলে ৭ দিনের মধ্যে লেনদেন নিষ্পত্তি করতে হবে।

দুই ক্ষেত্রেই গ্রাহকের নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, পণ্য বা সেবা নেয়ার বিবরণ এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সংরক্ষণ করবে। সেবা বা পণ্য পাওয়ার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে অর্থ ছাড় করবে। পণ্য বা সেবা কোনো কারণে প্রদান করতে না পারলে মূল্য ফেরত দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো চার্জ নেয়া যাবে না।

লেনদেন নিষ্পত্তি হতে হলে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্ট পরিশোধ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। কারণ পণ্য বিক্রির টাকা ওই অ্যাকাউন্টে জমা হবে এবং গ্রাহক পণ্য বুঝে পেয়েছে এমন ক্লিয়ারেন্সের ভিত্তিতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে অর্থ ছাড় করবে পরিশোধ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান তথা ব্যাংক, এমএফএস ও ই-ওয়ালেট প্রতিষ্ঠান।

অনড় বাংলাদেশ ব্যাংক

নীতিমালা জারি করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ-এর মহাব্যবস্থাপক মো. মেজবাউল হক বলেন, ‘আমরা এমনভাবে নীতিমালা করেছি যারা ডেলিভারি রেগুলার করে যাচ্ছে তাদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। সপ্তাহে দুদিন সেটেলমেন্ট হলে তারা টাকা পেয়ে যাবে। এক দিন পরপর সেটেলমেন্ট হলে ওভাবেই পাবে।

‘কিন্তু যারা গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে পণ্য ডেলিভারি করত না বা অনেক দেরি করত তাদের জন্য এটা ক্রিটিক্যাল হবে। তারা চাপে পড়বে। কিন্তু তারা যখনই ডেলিভারি করবে ওই ডকুমেন্ট দিলেই টাকা রিলিজ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো নীতিমালা জারির পর প্রয়োগে শুরুর দিকে একটু সমস্যা হয়। এক বা দুই সপ্তাহ পেমেন্টের এ পদ্ধতির জন্য খাপ খাওয়াতে একটু সমস্যা হবে। কিন্তু আমরাও খোঁজ নিচ্ছি, এখন অনেকে বলছে তারা পণ্য ডেলিভারি রেগুলার করে ফেলছে। কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’

পেমেন্ট সিস্টেমের এ নীতিমালার ফলে ই-কমার্স ব্যবসায়ে কোনো সমস্যা হবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। গ্রাহককে পণ্য সময়মতো দেয়া হলে সঙ্গে সঙ্গে তারা টাকা পেয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠান জানালেই হবে, গ্রাহকের জানানো লাগবে না। ব্যাংক হয়তো তাদের স্বার্থে দুই-তিনটি ভ্যারিফাই করবে যে গ্রাহক কাঙ্ক্ষিত পণ্য পেয়েছেন কি না। এখানে যারা ব্যবসা করবে তাদের পলিসিগত ত্রুটি না থাকলে কোনো সমস্যা হবে না।’

নীতিমালায় দৃশ্যমান আপত্তি নেই

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকম ডটকমের প্রধান রিপন মিয়া সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও দেশে ই-কমার্সের ব্যবসা নতুন হওয়ায় এতে এ খাত কতটা খাপ খাইয়ে নিতে পারবে তা নিয়ে কিছুটা সংশয়ও প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘মিডলম্যান লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না। এর ফলে গ্রাহক, বিক্রেতা, ই-কমার্সসহ পুরো ইকো সিস্টেমই উপকৃত হবে। কিন্তু ই-কমার্স ধারণা এখনো সেভাবে প্রসার পায়নি।’

নীতিমালা জারি হলেও এখনও সেটির বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। ফলে আগের মতোই অগ্রিম অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম অব্যাহত আছে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোক্তাদের সংগঠন ই-ক্যাব জানিয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করার বিষয়ে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাগিদ দিয়ে চলতি সপ্তাহেই চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।

অন্যদিকে ই-কমার্স লেনদেন নিষ্পত্তিতে দায়িত্ব পালনকারী ব্যাংক, এমএফএস ও ই-ওয়ালেট প্রতিষ্ঠানগুলোও নীতিমালা বাস্তবায়ন শুরু করতে পারেনি। এ ছাড়া, যে ব্যাংকগুলো ইভ্যালিসহ ১০টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্ডে লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছিল, সেই ব্যাংকগুলো এখনো সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়নি।

বিভিন্ন ব্যাংক, এমএফএস ও ই-ওয়ালেট প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা এখনও বাস্তবায়ন শুরু হয়নি।

অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ই-কমার্স নীতিমালায় কী বলা আছে, সেটা বোঝার চেষ্টা করছি। বিশেষ করে ই-কমার্সের সঙ্গে লেনদেন কতটুকু কাভার করে সে বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখছি।’

আরও পড়ুন:
ইভ্যালিকে সময় দিতে চায় সরকার
পুরোনো অর্ডার দিতে ৬ মাস সময় চাইল ইভ্যালি
ইভ্যালির কাছে ছয় প্রশ্নের জবাব চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
খেলাপি অর্ডারের বিষয়ে ঈদের পরে জানাবেন রাসেল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিমানবন্দরে তিন কেজি সোনা জব্দ

বিমানবন্দরে তিন কেজি সোনা জব্দ

বিমানবন্দরে জব্দ করা সোনার বার। ছবি: নিউজবাংলা

সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে করে সৌদি থেকে আসা মোহাম্মদ রিপন নামে এক যাত্রীর জ্যাকেটে ছিল ২৫টি সোনার বার।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদিফেরত এক যাত্রীর কাছ থেকে দুই কোটি টাকা মূল্যের সোনার বার উদ্ধার করেছে কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ টিম।

বুধবার রাত ১১টা ১২ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে করে সৌদি থেকে আসা মোহাম্মদ রিপন নামে এক যাত্রীর কাছ থেকে ২৫টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। এগুলোর ওজন ২ কেজি ৯০০ গ্রাম।

অবৈধভাবে সোনা নিয়ে আসার অভিযোগে রিপনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার (প্রিভেনটিভ) সানোয়ারুল কবীর।

সৌদি আরব ফেরত এ যাত্রীর হাতে থাকা হুডি জ্যাকেটের ভেতরে ছিল সোনার বার। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সোনা আনার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

রিপনকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালিকে সময় দিতে চায় সরকার
পুরোনো অর্ডার দিতে ৬ মাস সময় চাইল ইভ্যালি
ইভ্যালির কাছে ছয় প্রশ্নের জবাব চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
খেলাপি অর্ডারের বিষয়ে ঈদের পরে জানাবেন রাসেল

শেয়ার করুন

সাজেকে মাইক্রোবাস খাদে পড়ে আহত ১২ 

সাজেকে মাইক্রোবাস খাদে পড়ে আহত ১২ 

সাজেকে মাইক্রোবাস খাদে পড়ে আহত একজনের চিকিৎসা চলছে। ছবি: নিউজবাংলা

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আনোয়ার বলেন, ‘আহতদের মধ্যে ১১ পর্যটক রাজশাহী থেকে সাজেকে ঘুরতে এসেছিল বলে জেনেছি। অন্য আহত পুলিশ সদস্য সাজেক রুইলুই পাড়া ক্যাম্পে দায়িত্বরত।’

খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক যাওয়ার পথে একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ১২ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীও রয়েছেন।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাজেকের শিজকছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। অন্যরা আশঙ্কামুক্ত।

দুর্ঘটনার পরপরই বাঘাইহাট সেনা জোনের একটি দল আহতদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়।

হাসপাতাল থেকে জানা গেছে, গুরুতর আহত তিনজন হলেন পুলিশ সদস্য রাইসুল ইসলাম, মোছা. দুলালী ও অন্তঃসত্ত্বা নারী খাদিজা বেগম।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আনোয়ার বলেন, ‘আহতদের মধ্যে ১১ পর্যটক রাজশাহী থেকে সাজেকে ঘুরতে এসেছিল বলে জেনেছি। অন্য আহত পুলিশ সদস্য সাজেক রুইলুই পাড়া ক্যাম্পে দায়িত্বরত। তিনি গাড়িটি স্কটের দায়িত্বে ছিলেন।’

আরও পড়ুন:
ইভ্যালিকে সময় দিতে চায় সরকার
পুরোনো অর্ডার দিতে ৬ মাস সময় চাইল ইভ্যালি
ইভ্যালির কাছে ছয় প্রশ্নের জবাব চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
খেলাপি অর্ডারের বিষয়ে ঈদের পরে জানাবেন রাসেল

শেয়ার করুন

গাড়ি ‘সাইড’ না দেয়ায় ছাত্রলীগ নেতাকে সাংসদের মারধর

গাড়ি ‘সাইড’ না দেয়ায় ছাত্রলীগ নেতাকে সাংসদের মারধর

বরগুনা-২ আসনের সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমন ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সাংসদ রিমন আমাকে গাড়িতে দেখেই ক্ষিপ্ত হন। তিনি তখন মাইক্রোবাস চালককে কিছু না বলে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। মূলত আমি প্রয়াত সাংসদ গোলাম সবুর টুলুর স্ত্রী ও বর্তমান সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ নাদিরা সবুরের হয়ে শোকদিবস উপলক্ষে ব্যানার ও পোস্টার লাগিয়েছিলাম। এতেই তিনি ক্ষিপ্ত ছিলেন এবং আমাকে মেরে তিনি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের মিটিয়েছেন।’

সংসদ সদস্যের মোটরসাইকেল বহরকে সাইড না দেয়ার অজুহাতে বরগুনা-২ আসনের সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে নজরুল ইসলাম নামের সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার বিকেল ৪টার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা পৌর শহরের স্টেডিয়াম মাঠ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নজরুল ইসলাম পাথরঘাটা পৌর ছাত্রলীগের ৮ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বিএফডিসি মৎস্য পাইকার সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক।

নজরুল বলেন, ‘পাথরঘাটা স্টেডিয়াম মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছিল। বিকেল চারটার দিকে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনসহ উপজেলা ছাত্রলীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী মোটরসাইকেল যোগে মাঠে খেলা দেখতে যাচ্ছিলেন। মাঠের কাছাকাছি পৌঁছাতেই খেলোয়ারবাহী একটি মাইক্রোবাস সংসদ সদস্যের মোটরসাইকেল বহরের সামনে পড়ে। মাইক্রোবাসটিতে আমিও ছিলাম।

‘এসময় মাইক্রোবাসটিকে সরে যেতে সাংসদকে বহনকারি মোটরসাইকেল থেকে হর্ন বাজানো হয়। কিন্ত সড়ক সরু হওয়ায় মাইক্রোবাসটির চালক জায়গা পাচ্ছিলেন না। এতেই বিরক্ত ও ক্ষিপ্ত হন সাংসদ। পরে কিছুটা সামনে গিয়ে জায়গা পেয়ে মোটরসাইকেল বহরকে সাইড দেয় খেলোয়ারবাহী মাইক্রোবাসের চালক। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত সাংসদ রিমন মঞ্চে বসে আমাকে ডেকে পাঠান। সাংসদের সামনে আসতেই পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন মধু আমাকে এমপির পা ধরে মাফ চাইতে বলেন। সামনে এগিয়ে যেতেই এমপি রিমন মাঠভর্তি দর্শক, খেলোয়ার ও অতিথিদের সামনেই আমাকে চড়-থাপ্পর দিতে শুরু করেন।’

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘সাংসদ রিমন আমাকে গাড়িতে দেখেই ক্ষিপ্ত হন। তিনি তখন মাইক্রোবাস চালককে কিছু না বলে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। মূলত, আমি প্রয়াত সাংসদ গোলাম সবুর টুলুর স্ত্রী ও বর্তমান সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ নাদিরা সবুরের হয়ে শোকদিবস উপলক্ষে ব্যানার ও পোস্টার লাগিয়েছিলাম। এতেই তিনি ক্ষিপ্ত ছিলেন এবং আমাকে মেরে তিনি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের মিটিয়েছেন।’

এ বিষয়ে জানতে বরগুনা ২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনকে একাধিকবার কল এবং পরে মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালিকে সময় দিতে চায় সরকার
পুরোনো অর্ডার দিতে ৬ মাস সময় চাইল ইভ্যালি
ইভ্যালির কাছে ছয় প্রশ্নের জবাব চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
খেলাপি অর্ডারের বিষয়ে ঈদের পরে জানাবেন রাসেল

শেয়ার করুন

মেয়ে ধর্ষণের মামলায় বাবা গ্রেপ্তার

মেয়ে ধর্ষণের মামলায় বাবা গ্রেপ্তার

গত বছরের ১০ আগস্ট ওই কিশোরীর মা তার দুই মেয়েকে রেখে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। এ সুযোগে ওই দিন রাতে কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ করেন তার স্বামী। মেয়ে লজ্জা ও ভয়ে পরিবারের সবার কাছ থেকে বিষয়টি গোপন করে।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ১৩ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্ত্রীর করা মামলায় ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুর ২টার দিকে মামলাটি করেন ওই কিশোরীর মা।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন মুক্তাগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) চাঁদ মিয়া।

মামলার বরাত দিয়ে তিনি জানান, গত বছরের ১০ আগস্ট ওই কিশোরীর মা তার দুই মেয়েকে রেখে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। এ সুযোগে ওই দিন রাতে কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ করেন তার স্বামী। মেয়ে লজ্জা ও ভয়ে পরিবারের সবার কাছ থেকে বিষয়টি গোপন করে।

এরপর চলতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর ওই গৃহবধূ ফের বাবার বাড়িতে গেলে রাতে মেয়ের ঘরে ঢুকে তার স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন স্বামী। মেয়ে টের পেয়ে চিৎকার করলে তিনি ঘর থেকে পালিয়ে যান।

পর দিন বাবার বাড়ি থেকে ফিরে আসলে মেয়ে তাকে সব খুলে জানায়। পরে স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে মামলাটি করেন কিশোরীর মা।

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, মামলা হওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে ময়মনসিংহ মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে পাঠানো হবে।

কিশোরীর মামা জানান, তার বোনের প্রথম দুই মেয়ের জন্ম হওয়ার পর তাকে তাড়িয়ে দিয়ে পাঁচ বছর আগে আরেকটি বিয়ে করেন তার স্বামী। ওই স্ত্রীর সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরে পরে তার বোনকে ফিরিয়ে নেন আসামি৷

তিনি আসামির উপযুক্ত শাস্তির দাবিও জানান।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালিকে সময় দিতে চায় সরকার
পুরোনো অর্ডার দিতে ৬ মাস সময় চাইল ইভ্যালি
ইভ্যালির কাছে ছয় প্রশ্নের জবাব চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
খেলাপি অর্ডারের বিষয়ে ঈদের পরে জানাবেন রাসেল

শেয়ার করুন

করোনা টিকাকে ‘বৈশ্বিক জনপণ্য’ ঘোষণার দাবি প্রধানমন্ত্রীর

করোনা টিকাকে ‘বৈশ্বিক জনপণ্য’ ঘোষণার দাবি প্রধানমন্ত্রীর

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলনে ধারণ করা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে করোনা প্রতিরোধী টিকা কর্মসূচি পরিচালনার অংশ হিসেবে কোভিড-১৯ টিকাকে বৈশ্বিক জনপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা দরকার। সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে সক্ষমতা রয়েছে এমন উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে টিকা উৎপাদনের সুযোগ দেয়া উচিত।’

বিশ্বে সবার জন্য করোনা প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করতে কোভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক জনপণ্য’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে সক্ষমতা রয়েছে এমন উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে টিকা উৎপাদনের সুযোগ দেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসে বুধবার কোভিড-১৯ সংক্রান্ত ‘হোয়াইট হাউস কোভিড-১৯ সামিট: অ্যান্ডিং দ্য প্যানডেমিক অ্যান্ড বিল্ডিং ব্যাক বেটার হেলথ সিকিউরিটি টু প্রিপেয়ার ফর দ্য নেক্সট’ শীর্ষক শীর্ষ সম্মেলনে ধারণ করা বক্তব্যে বিশ্বনেতাদের প্রতি এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ভার্চুয়াল এ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে করোনা প্রতিরোধী টিকা কর্মসূচি পরিচালনার অংশ হিসেবে কোভিড-১৯ টিকাকে বৈশ্বিক জনপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা দরকার। সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে সক্ষমতা রয়েছে এমন উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে টিকা উৎপাদনের সুযোগ দেয়া উচিত।’

হোয়াইট হাউস আমন্ত্রিতদের জানিয়েছে, এ বছরের শেষের দিকে এবং ২০২২ সালের শুরুতে ফলো-আপ ইভেন্টগুলো অংশগ্রহণকারীদেরকে তাদের প্রতিশ্রুতির জন্য দায়বদ্ধ রাখার উদ্দেশে আয়োজন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তার ধারণ করা বক্তব্যে বলেছেন, ‘করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়তে তিন পন্থা অবলম্বন করেছে বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘জীবন বাঁচাতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা, মেডিক্যাল সরঞ্জাম, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

দেশের মানুষের জন্য, বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবিকা সুরক্ষায় সহায়তা দেয়া এবং যত দ্রুত সম্ভব অর্থনৈতিক চাকা সচল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান সরকারপ্রধান।

আগামী দিনগুলোকে নিরাপদ করার জন্য তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেয়ার কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

প্রথমত, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং সামাজিক সুরক্ষা বলয় কর্মসূচির ওপর জোর দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নীতির দিকে মনোনিবেশ করা।

দ্বিতীয়ত, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে যাতে টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হয়।

তৃতীয়ত, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং কার্বণ নিঃসরণ হার কমানোর দিকে দিকে মনোনিবেশ করা।

বক্তব্যে করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপগুলোও বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ১৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ বরাদ্দ দিয়েছি। দরিদ্র, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরাসহ ৪৪ লাখ সুবিধাভোগীদের মাঝে ১৬৬ মিলিয়ন ডলার বিতরণ করা হয়েছে।’

১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে সাড়ে তিন কোটিরও বেশি ডোজ করোনা প্রতিরোধী টিকা দেয়া হয়েছে বলেও সম্মেলনে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘২০২২-এর আগস্ট মাসের মধ্যে মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ লোককে টিকার আওতায় আনা হবে। আর সেটা নিশ্চিত করার জন্য প্রতি মাসে ২ কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’

এসময়, কোভিড-১৯ মহামারি অবসানে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার জন্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, ব্যবসায়ী এবং বেসরকারি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে জার্মান চ্যান্সলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো, আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসা এবং জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালিকে সময় দিতে চায় সরকার
পুরোনো অর্ডার দিতে ৬ মাস সময় চাইল ইভ্যালি
ইভ্যালির কাছে ছয় প্রশ্নের জবাব চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
খেলাপি অর্ডারের বিষয়ে ঈদের পরে জানাবেন রাসেল

শেয়ার করুন

সেন্টমার্টিনে জালে লাল কোরালের ঝাঁক 

সেন্টমার্টিনে জালে লাল কোরালের ঝাঁক 

আইয়ুব নামে একজনের মালিকানাধীন এফবি রিয়াজ নামে ট্রলারটি নিয়ে সোমবার মাছ ধরতে যান জেলেরা। সেন্টমার্টিনের কাছে শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় মঙ্গলবার জাল ফেললে মাছগুলো ধরা পড়ে। বুধবার সকালে মাছগুলো নিয়ে শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ঘাটে যান জেলেরা।

কক্সবাজার সেন্টমার্টিন এলাকায় এক সঙ্গে জালে ধরা পড়েছে ১৭৮টি লাল কোরাল। এসব মাছের ওজন প্রায় ৬০০ কেজি। প্রতিটি মাছের ওজন গড়ে ৩-৪ কেজি।

শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় জাল ফেললে মঙ্গলবার রাতে কোরালের ঝাঁকটি ধরা পড়ে। পরে মাছগুলো প্রতি মণ ২০ হাজার টাকা হিসাবে কিনে নেন ওই এলাকার ব্যবসায়ী হামিদ হোসেন ও ছাব্বির আহমদ।

স্থানীয়রা জানান, আইয়ুব নামে একজনের মালিকানাধীন এফবি রিয়াজ নামে ট্রলারটি নিয়ে সোমবার মাছ ধরতে যান জেলেরা। সেন্টমার্টিনের কাছে শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় মঙ্গলবার জাল ফেললে মাছগুলো ধরা পড়ে। বুধবার সকালে মাছগুলো নিয়ে শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ঘাটে যান জেলেরা।

ট্রলার মালিক আইয়ুব জানান, মাঝি সৈয়দের নেতৃত্বে জেলেরা মঙ্গলবার রাতে জাল তুলে লাল কোরালগুলো পান। প্রায় ১৫ মণ মাছগুলো বিক্রি হয়েছে তিন লাখ টাকায়।

টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, সেন্টমার্টিনে সম্প্রতি ভালোই মাছ পাওয়া যাচ্ছে। কয়েক মাস আগেও এক জেলের বড়শিতে ৬০ কেজি ওজনের বোল মাছ ধরা পড়ে। মঙ্গলবার রাতে এক জেলের জালে ১৫ মণ লাল কোরাল ধরা পড়ার খবর পেয়েছেন।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালিকে সময় দিতে চায় সরকার
পুরোনো অর্ডার দিতে ৬ মাস সময় চাইল ইভ্যালি
ইভ্যালির কাছে ছয় প্রশ্নের জবাব চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
খেলাপি অর্ডারের বিষয়ে ঈদের পরে জানাবেন রাসেল

শেয়ার করুন

স্ত্রীর মামলায় সিআইডির উপপরিদর্শক কারাগারে

স্ত্রীর মামলায় সিআইডির উপপরিদর্শক কারাগারে

অভিযোগ, স্ত্রী তিথিকে নিজ বাড়িতে তুলে নেয়ার জন্য দুই বিঘা জমি, ১০ ভরি স্বর্ণ ও ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন সিআইডি কর্মকর্তা মিঠুন। এর জন্য তিথিকে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন মিঠুন।

যৌতুক চেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এক উপপরিদর্শককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১-এ বুধবার আত্মসমর্পন করে জামিন চাইলে বিচারক দিলরুবা আক্তার তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আসামি সিআইডি কর্মকর্তা মিঠুন রায়ের বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়া থানা এলাকার বান্দার গ্রামে। তিনি রাজধানীর মালিবাগ সিআইডির সাইবার জোনে রয়েছেন।

এজাহারে বলা হয়, খুলনার বটিয়াঘাটা দেবীতলা গ্রামের তিথী বিশ্বাসের সঙ্গে ২০১৫ সালে পরিচয় হয় মিঠুনের। পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে ২০১৯ সালে তারা গোপনে বিয়ে করেন। এরপর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসা থেকেছেন তারা। সম্প্রতি স্ত্রী হিসেবে নিজ বাড়িতে তুলে নেয়ার জন্য দুই বিঘা জমি, ১০ ভরি স্বর্ণ ও ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন মিঠুন। এর জন্য তিথিকে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন মিঠুন।

নির্যাতনের অভিযোগে খুলনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১-এ মিঠুনের বিরুদ্ধে পরে মামলাটি করেন তিথি। সেই মামলায় বুধবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন মিঠুন।

মিঠুনের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার, বাদির পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো এবং সামাজিকভাবে পরিবারটিকে একঘরে করে রাখার অভিযোগও উঠেছে।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালিকে সময় দিতে চায় সরকার
পুরোনো অর্ডার দিতে ৬ মাস সময় চাইল ইভ্যালি
ইভ্যালির কাছে ছয় প্রশ্নের জবাব চায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
খেলাপি অর্ডারের বিষয়ে ঈদের পরে জানাবেন রাসেল

শেয়ার করুন