প্রণোদনার ঋণ অপব্যবহার, সতর্ক করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রণোদনার ঋণ অপব্যবহার, সতর্ক করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানা গেছে, কিছু ব্যবসায়ী প্রণোদনা ঋণের টাকা ব্যবসায় না খাটিয়ে অন্য ব্যাংকের ঋণ শোধ করেছেন। আবার কেউ কেউ কম সুদের ঋণের টাকায় বেশি মুনাফা করতে বিনিয়োগ করেছেন লাভজনক অন্য ব্যবসায়। কেউ কিনেছেন জমি–ফ্ল্যাট। অথচ এসব ঋণ দেয়া হয়েছিল চলতি মূলধন হিসেবে, যা দিয়ে প্রতিদিনকার খরচ মেটানোর কথা।

সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় দেয়া ঋণ কেউ কেউ যথাযথ খাতে ব্যবহার না করে অনুৎপাদনশীল খাতেও ব্যবহার করছে বলে প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রণোদনা ঋণের টাকা নিয়ে ঋণগ্রহীতারা আগের ঋণের দায়ও পরিশোধ করছেন।

এ অবস্থায় প্রণোদনার ঋণ গ্রহীতারা ঋণ নিয়ে কী করছেন তা যথাযথ তদারকি করতে রোববার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ফের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, প্রতিটি ব্যাংককে নিজ নিজ অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ দ্বারা যাচাই করে ঋণের ব্যবহার বিষয়ে নিশ্চিত করতে হবে।

করোনা মহামারিতে অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে গত বছর প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। প্রণোদনা প্যাকেজের সিংহভাগ ছিল স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ। সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে বিতরণ করা হচ্ছে প্রণোদনার ঋণ। সুদের অর্ধেক এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার বেশি ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। কিন্তু কিছু গ্রাহক স্বল্প সুদের এ ঋণের যথাযথ ব্যবহার না করে নানা অনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় প্রদত্ত ঋণের যথাযথ খাতে ব্যবহার না হয়ে কিছু ঋণ অনুৎপাদনশীল খাতে যাচ্ছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রণোদনা ঋণের টাকা নিয়ে ঋণগ্রহীতারা আগের ঋণের দায় পরিশোধ করছে। ঋণের এমন অপব্যবহার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার সুস্পষ্ট পরিপন্থি।

এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে প্রণোদনার ঋণ বিতরণ খতিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি। সামনে দ্বিতীয় দফায় ঋণ বিতরণ শুরু হবে, এ জন্য ব্যাংকগুলোকে আবারও সতর্ক করা হয়েছে। ঋণের ব্যবহার যাতে যথাযথ হয়, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।

প্রণোদনা ঋণের এমন অপব্যবহার রোধে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ‘বিশেষ সেল’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ‘যে ঋণ যে উদ্দেশ্যে দেয়া হয়েছে বা হবে, সে উদ্দেশ্যেই ঋণের ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রণোদনা ঋণের অর্থ দিয়ে ঋণগ্রহীতাকে তার বিদ্যমান অন্য কোনো ঋণ হিসাব সমন্বয় করতে দেয়া যাবে না।’

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানা গেছে, কিছু ব্যবসায়ী প্রণোদনা ঋণের টাকা ব্যবসায় না খাটিয়ে অন্য ব্যাংকের ঋণ শোধ করেছেন। আবার কেউ কেউ কম সুদের ঋণের টাকায় বেশি মুনাফা করতে বিনিয়োগ করেছেন লাভজনক অন্য ব্যবসায়। কেউ কিনেছেন জমি–ফ্ল্যাট। অথচ এসব ঋণ দেয়া হয়েছিল চলতি মূলধন হিসেবে, যা দিয়ে প্রতিদিনকার খরচ মেটানোর কথা।

প্রণোদনার ঋণ বিতরণের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকও নির্দেশনা দিয়েছিল, এ ঋণ দিয়ে অন্য ঋণ শোধ করা যাবে না। ঋণের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে।

করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকার মোট ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। এর মধ্যে ১০টি প্যাকেজের আওতায় সিএমএসএমই, বৃহৎ শিল্প ও সেবা, রপ্তানিমুখী শিল্প ও কৃষি খাতে ভর্তুকি সুদে বিতরণের জন্য ৯৩ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

এ ছাড়া, গত বছরের এপ্রিল ও মে মাসের সার্বিক ব্যাংক ঋণের সুদে ভর্তুকির জন্য ২ হাজার কোটি টাকা দেয় সরকার। আর সিএমএসএমই খাতের ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয় আরও ২ হাজার কোটি টাকা। এসব প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে সিএমএসএমই ও কৃষি খাতে ঋণ বিতরণে তেমন অগ্রগতি না থাকলেও শিল্প ও সেবা খাতের ঋণ দ্রুত বিতরণ হচ্ছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডি ও নির্বাহীদের কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রণোদনা ঋণের অর্থ দ্রুত ছাড় করার জন্যও নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, কোভিড-১৯-এর নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। পাশাপাশি প্রণোদনা ঋণের অর্থ দ্রুততম সময়ে ছাড় করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

এদিকে, দ্বিতীয় দফায় প্রণোদনা ঋণের ৫৩ হাজার কোটি টাকা বিতরণের জন্য ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোন ব্যাংক কত টাকা ঋণ দিতে পারবে, তাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
প্রান্তিক খামারি নয়, ‘সচ্ছলদের’ প্রণোদনা
গরিবদের জন্য আরও ৩ হাজার কোটি টাকা
বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানও পাবে প্রণোদনার ঋণ
আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজের পরামর্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
প্রণোদনার দাবিতে নার্সদের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অফিস কক্ষে ভাইস চেয়ারম্যানের ঝুলন্ত মরদেহ

অফিস কক্ষে ভাইস চেয়ারম্যানের ঝুলন্ত মরদেহ

নিহতের ভাই নুরুল আফসার ভূঁইয়া বলেন, ‘বাড্ডায় লামিনাল গ্রুপ নামের একটি ফরেন ইনভেস্টর অফিস রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এক নারী, তার পার্টনার হিসেবে আমার বড় ভাই ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন।’

রাজধানীর বাড্ডার আফতাবনগর এলাকার একটি অফিস কক্ষ থেকে নুরনবী ভূঁইয়া নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সকালের দিকে তার পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

বাড্ডা থানার পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে বাড্ডার আফতাবনগর এলাকার নুরুল টাওয়ারের একটি একটি বাসার ৯ তলা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করি।

‘আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।’

তিনি জানান, তাকে হত্যা করা হয়েছে না কি এটি আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বলা যাবে।

নিহতের ভাই নুরুল আফসার ভূঁইয়া বলেন, ‘বাড্ডায় লামিনাল গ্রুপ নামের একটি ফরেন ইনভেস্টর অফিস রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এক নারী, তার পার্টনার হিসেবে আমার বড় ভাই ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন।

‘সৌদির সঙ্গে কমিশনে ব্যবসা করতেন, আমাদের বাসা থেকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বের হন। ভাইকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান অফিসে যাচ্ছি। এর কিছুক্ষণ পরে খবর পাই অফিসের মধ্যে চাদর দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দেয়ার। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।’

৫৫ বছর বয়সী নূরনবী ভূঁইয়ার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী সোনাইমুড়ী থানার আবির পাড়ায়।

তিনি বাড্ডার আফতাবনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

আরও পড়ুন:
প্রান্তিক খামারি নয়, ‘সচ্ছলদের’ প্রণোদনা
গরিবদের জন্য আরও ৩ হাজার কোটি টাকা
বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানও পাবে প্রণোদনার ঋণ
আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজের পরামর্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
প্রণোদনার দাবিতে নার্সদের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

ঢাবিতে ডোপ টেস্ট চলতি বছর থেকেই

ঢাবিতে ডোপ টেস্ট চলতি বছর থেকেই

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের প্রধান কর্মকর্তা ডা. সারওয়ার জাহান মুক্তাফী বলেন, ‘এই বছর যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হবে, তাদের দিয়েই মূলত ডোপ টেস্ট কার্যক্রম শুরু হবে। তাদেরকে টার্গেটে রেখেই আমরা এটি শুরু করব।’

চলতি বছর থেকেই ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্টের আওতায় আনতে চায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ বছর যেসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন, তাদের দিয়েই মূলত ডোপ টেস্ট কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করা হবে। তবে টেস্টের খরচ শিক্ষার্থীরা নাকি বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে সেটি এখনও ঠিক করা হয়নি।

শুক্রবার নিউজবাংলার সঙ্গে আলাপে এসব তথ্য জানিয়েছেন ডোপ টেস্ট নিয়ে গঠিত কমিটির সদস্য সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের প্রধান কর্মকর্তা ডা. সারওয়ার জাহান মুক্তাফী।

তিনি বলেন, ‘এই বছর যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হবে, তাদের দিয়েই মূলত ডোপ টেস্ট কার্যক্রম শুরু হবে। তাদেরকে টার্গেটে রেখেই আমরা এটি শুরু করব।’

৩১ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের এক নিয়মিত সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি এবং শিক্ষক নিয়োগে ডোপ টেস্ট কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ লক্ষ্যে ডোপ টেস্টের সক্ষমতা যাচাইয়ে ডিনস কমিটির করা সাত সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেয় সিন্ডিকেট।

কমিটির প্রধান করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষণা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. টিটো মিঞাকে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রহমতুল্লাহ, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা, ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রহমান, চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার নবী, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান জোবেদা খাতুন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. সারওয়ার জাহান মুক্তাফী।

৭ সেপ্টেম্বর এ কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে কমিটি সদস্য ও চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার নবী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা কোন জায়গায় এই টেস্ট করাব, কীভাবে করানো হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ল্যাবরেটরি আছে, সেগুলোকে উন্নত করে এই টেস্ট করানোর সুযোগ আছে কী না সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

টেস্টের খরচ বহনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু না। আমরা শুধু কোন জায়গায় টেস্ট করাতে কী খরচ সেটি কর্তৃপক্ষকে জানাব। তারাই সিদ্ধান্ত নিবে এই খরচ কে বহন করবে।’

কমিটির সদস্য সচিব ডা. সারওয়ার জাহান মুক্তাফী বলেন, ‘কমিটির সদস্যরা ডোপ টেস্ট নিয়ে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করছে। কোথায় থেকে টেস্ট করানো হবে, খরচটা কীভাবে বহন করা হবে এগুলো নিয়েই ওনারা প্রস্তাব দিবেন। এ প্রস্তাবনাগুলোই কমিটির আগামী সভায় আলোচনা হবে। এগুলোই পরবর্তীতে ডিনস কমিটি, প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি এরপর সিন্ডিকেটে সভায় যাবে। সেখানেই ডোপ টেস্ট নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।’

নতুন সভা কবে হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির সময় এটি কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে, তাই এটি নিয়ে এখনই তাড়াহুড়া করা হচ্ছে না। কিছুদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু হবে। সেটির জন্য এখন একটু ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। ভ্যাকসিনেশন শুরু করতে পারলে পরে আরেকটা সভায় আমরা বসব।’

টেস্টের খরচের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো প্রাইভেট সংগঠনে যেতে চাই না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়েই হয়তো আমাদের টেস্ট করাতে হবে। এখানেই মূলত খরচটা সবচেয়ে কম। এই টেস্টে দুই ধরনের খরচ আছে।

‘একটা প্রায় ৫০০ টাকা, অন্যটি এক হাজার টাকার মতো। এই দুটিই প্রস্তাবনা হিসেবে আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব। তারাই সিদ্ধান্ত নিবে। তবে এই খরচটা বিশ্ববিদ্যালয় নাকি শিক্ষার্থীরা বহন করবে এটি পুরোপুরি আলোচনা হয়নি। প্রস্তাবনা আকারে সব সদস্য থেকে নিয়ে তারপর এটি আলোচনা করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘ডোপ টেস্ট নিয়ে গঠিত কমিটি কাজ করছে। তাদের রিপোর্ট জমা পড়লে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।’

আরও পড়ুন:
প্রান্তিক খামারি নয়, ‘সচ্ছলদের’ প্রণোদনা
গরিবদের জন্য আরও ৩ হাজার কোটি টাকা
বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানও পাবে প্রণোদনার ঋণ
আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজের পরামর্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
প্রণোদনার দাবিতে নার্সদের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার অনুমতি

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার অনুমতি

রাজধানীর বাড্ডায় বেসরকারি কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। ছবি: নিউজবাংলা

অফিস আদেশে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তক্রমে নিজ ব্যবস্থাপনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে ক্লাস, পরীক্ষাসহ শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে পারবে।

করোনায় ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর শর্তসাপেক্ষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস, পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে এর জন্য স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমতি লাগবে এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পরিচালক (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগ) মো. ওমর ফারুখের সই করা অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও করোনার এক ডোজ টিকা অথবা টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে এই শর্তে সশরীরে ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।’

অফিস আদেশে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তক্রমে নিজ ব্যবস্থাপনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে ক্লাস, পরীক্ষাসহ শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে পারবে।

শর্ত সমূহ:

১. শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীগণ ইতোমধ্যে কমপক্ষে এক ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছে অথবা ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য জাতীয় পরিচয় (NID) সহযোগে জাতীয় সুরক্ষা সেবা ওয়েব (https://surokkha.gov.bd/) অথবা surokkha app-এর মাধ্যমে নিবন্ধন করে থাকলে।

২. ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব শিক্ষার্থী, যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তারা জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্য ব্যবহার করে কমিশনের ওয়েবলিংক (https://univac.ugc.gov.bd)-এ ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য প্রাথমিক নিবন্ধন করে থাকলে এবং পরবর্তীতে জাতীয় সুরক্ষা সেবা ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে টিকা গ্রহণের জন্য নিবন্ধন করে থাকলে।

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও উপাচার্যদের বৈঠকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের টিকা নিবন্ধন শেষে কিছু ব্যবস্থা নেয়া সাপেক্ষে যেকোনো দিন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত হয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে গত বছরের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। দেড় বছর পর ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয়েছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

আরও পড়ুন:
প্রান্তিক খামারি নয়, ‘সচ্ছলদের’ প্রণোদনা
গরিবদের জন্য আরও ৩ হাজার কোটি টাকা
বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানও পাবে প্রণোদনার ঋণ
আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজের পরামর্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
প্রণোদনার দাবিতে নার্সদের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

বাগেরহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২১

বাগেরহাটে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২১

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুর ইসলাম বলেন, ‘জুমার নামাজ শুরুর আগে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে নামাজ শেষে তারা সংঘর্ষে জড়ান। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়নে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শেখরা গ্রামে শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে এ সংঘর্ষ হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুর ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘জুমার নামাজ শুরুর আগে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে নামাজ শেষে তারা সংঘর্ষে জড়ান। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয় পেতে চলতি মাসের শুরুতে গ্রামের মসজিদে দোয়ার ব্যবস্থা করেন ইউপি সদস্য প্রার্থী আব্দুল লতিফ। ইমাম নামাজ শেষে দোয়া করেন।

কিন্তু ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচনে জয় পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন আনিসুর রহমান।

শুক্রবার জুমার নামাজের আগে আনিসুর রহমানের সমর্থক ফারুক মসজিদের ইমামকে ওই দিন দোয়া করার বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল লতিফের সমর্থক বাবুল ফকির। একপর্যায়ে তারা তর্কে জড়ান। পরে নামাজ শেষে দুই পক্ষ ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

এ বিষয়ে আব্দুল লতিফ জানান, আমাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছেন আনিসুরের লোকজন। তাদের হামলায় আমার ১৩ জন সমর্থক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বাবুল ফকিরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কজেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আনিসুর রহমান বলেন, ‘মসজিদের মধ্যে বাবুল ফকির, কামরুল ইশারাত শেখসহ বেশ কয়েকজন আমার লোকজনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তখন দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।’

আরও পড়ুন:
প্রান্তিক খামারি নয়, ‘সচ্ছলদের’ প্রণোদনা
গরিবদের জন্য আরও ৩ হাজার কোটি টাকা
বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানও পাবে প্রণোদনার ঋণ
আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজের পরামর্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
প্রণোদনার দাবিতে নার্সদের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ

হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে বাড়ছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ছবি: নিউজবাংলা

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশু ওয়ার্ডে গত আট দিনে ১৬০ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত ৫৫।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া দাবদাহে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা। এমন পরিস্থিতিতে জেলার জেনারেল হাসপাতালে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডায়রিয়া আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যাই বেশি।

কয়েক মাস আগে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডকে করোনা রোগীর চিকিৎসায় বরাদ্দ দেয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালে আসা ডায়রিয়া রোগীদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের মেডিসিন ওয়ার্ডে এবং শিশুদের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিশু ওয়ার্ডে গত আট দিনে ১৬০ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত ৫৫।

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ওয়ার্ডে ৩২ শিশু চিকিৎসাধীন, তাদের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ১২।

আর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে গত আট দিনে প্রাপ্তবয়স্ক ৫০ ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১০ জন।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, শয্যার থেকে বেশি রোগী থাকায় কয়েকজনকে মেঝেতে রাখতে হয়েছে।

রোগীদের স্বজনরা জানান, রোগীর চাপ বাড়লে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক পাওয়া যায় না। তবে নার্সরা আন্তরিক। তারা নিজেদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করেন।

নার্সদের পাশাপাশি প্রতি ওয়ার্ডে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক থাকলে চিকিৎসাসেবার মান আরও বাড়ত বলে জানান তারা।

কসবা উপজেলার কুটি চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা শাকিল মিয়া তার ডায়রিয়া আক্রান্ত চার মাসের শিশু হাসান মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ছোট বাইচ্চাডারে দুই দিন ধইরা হাসপাতালে ভর্তি করছি। হেরে ওষুধ দিছে, কিন্তু এখনও হের ডায়রিয়া ভালো হইছে না।’

শিশু ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘অপরিষ্কার পানি ও খাবার, মায়েদের অসাবধানতা, ময়লামিশ্রিত হাত মুখে দেয়ার কারণে শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ খাবারের বিষয়ে মায়েদের সাবধান থাকতে হবে।’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. ওয়াহীদুজ্জামান বলেন, ‘হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীদের সেবায় সব সময় নিয়োজিত।’

আরও পড়ুন:
প্রান্তিক খামারি নয়, ‘সচ্ছলদের’ প্রণোদনা
গরিবদের জন্য আরও ৩ হাজার কোটি টাকা
বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানও পাবে প্রণোদনার ঋণ
আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজের পরামর্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
প্রণোদনার দাবিতে নার্সদের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

ইউএনও ঠেকালেন বাল্যবিবাহ

ইউএনও ঠেকালেন বাল্যবিবাহ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ইউএনওর হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহ। ছবি: নিউজবাংলা

ইউএনও শাহাদাত বলেন, ‘ওই ছাত্রীর পরিবার প্রশাসনের নজর এড়িয়ে তার বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা আমাকে জানান তার বয়স ১৮-এর কম। তারা বিয়ে বন্ধের অনুরোধ করেন। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় ওই এলাকার এক ইউপি সদস্যকে।’

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পেল এক স্কুলছাত্রী।

উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বিয়েবাড়িতে অভিযান চালান ইউএনও শাহাদাত হোসেন।

এ সময় কনের বাবা-মাকে বিয়ে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে মুচলেকা নেয়া হয়, ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত ওই স্কুলছাত্রীর বিয়ে না দেয়ার।

শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় একটি স্কুলের ১০ম শ্রেণির ওই ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন করা হয়।

ইউএনও শাহাদাত বলেন, ‘ওই ছাত্রীর পরিবার প্রশাসনের নজর এড়িয়ে তার বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা আমাকে জানান তার বয়স ১৮-এর কম। তারা বিয়ে বন্ধের অনুরোধ করেন। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় ওই এলাকার এক ইউপি সদস্যকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরে আমি ওই বাড়িতে গিয়ে বর-কনে দুই পক্ষের অভিভাবকদের সঙ্গে আলাপ করে তাদের বিয়ে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়।’

ইউএনও আরও বলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিয়ে দেয়ার জন্য আমি ওই ছাত্রীর অভিভাবককে পরামর্শ দিয়েছি। ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেবেন না বলে মেয়ের বাবা লিখিত অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছেন।’

আরও পড়ুন:
প্রান্তিক খামারি নয়, ‘সচ্ছলদের’ প্রণোদনা
গরিবদের জন্য আরও ৩ হাজার কোটি টাকা
বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানও পাবে প্রণোদনার ঋণ
আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজের পরামর্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
প্রণোদনার দাবিতে নার্সদের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন

উল্টো পাশ দিয়ে আসা বাইকের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু

উল্টো পাশ দিয়ে আসা বাইকের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু

উল্টো দিক থেকে আসা বাইকের ধাক্কায় নিহতের ছেলের আহাজারি। ছবি: নিউজবাংলা

নিহতের ছেলে মিলন জানান, বাইকের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তার মাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।  

রাজধানীর দনিয়ায় রাস্তা পার হওয়ার সময় উল্টো দিক থেকে হঠাৎ আসা একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক নারী পথচারী নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম মহিফুল বেগম। তার বয়স ৬৫।

নিহতের ছেলে মিলন জানান, বাইকের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তার মাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ‘এ ঘটনায় মোটরসাইকেল জব্দ ও চালককে আটক করেছে পুলিশ।’

মিলন জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলার কালা মোল্লা গ্রামে। তারা ধনিয়ার বেলতলায় পরিবার নিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, ‘আমার মা সঠিক রাস্তাতেই ছিল। কিন্তু বাইক উল্টো দিক থেকে এসে ধাক্কা দিয়েছে। আমি মায়ের হত্যাকারীর বিচার চাই।’

আরও পড়ুন:
প্রান্তিক খামারি নয়, ‘সচ্ছলদের’ প্রণোদনা
গরিবদের জন্য আরও ৩ হাজার কোটি টাকা
বিদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানও পাবে প্রণোদনার ঋণ
আরেকটি প্রণোদনা প্যাকেজের পরামর্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
প্রণোদনার দাবিতে নার্সদের বিক্ষোভ

শেয়ার করুন