দেশে ৯১ লাখ পশু কোরবানি, বেড়েছে অনলাইনে বিক্রি

দেশে ৯১ লাখ পশু কোরবানি, বেড়েছে অনলাইনে বিক্রি

ফাইল ছবি

এ বছর অনলাইনে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭৯টি গবাদিপশু বিক্রি হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ২ হাজার ৭৩৫ কোটি ১১ লাখ ১৫ হাজার ৬৭৮ টাকা।

পবিত্র ঈদুল আজহায় সারা দেশে ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। কোরবানি করা পশুর মধ্যে রয়েছে ৪০ লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৯টি গরু-মহিষ, ৫০ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৮টি ছাগল-ভেড়া ও অন্য প্রজাতির ৭১৫টি পশু। চলতি বছর অনলাইন প্লাটফর্মে বিক্রি বেড়েছে ৫ গুণ।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিভাগে ৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮৩৩টি গরু-মহিষ, ১২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৬টি ছাগল-ভেড়া ও অন্য ৩৬৩টিসহ ২২ লাখ ৩৯ হাজার ২৫২টি পশু কোরবানি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ লাখ ৭১ হাজার ২৩১টি গরু-মহিষ, ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮৬টি ছাগল-ভেড়া ও অন্য ২০১টিসহ ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৫১৮টি পশু কোরবানি দেয়া হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগে কোরবানি করা হয়েছে ৬ লাখ ১৬ হাজার ৭৩৩টি গরু-মহিষ, ১২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৩টি ছাগল-ভেড়া ও অন্য ১২৯টিসহ ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৫টি পশু।

খুলনা বিভাগে ২ লাখ ৩৯ হাজার ১৪৭টি গরু-মহিষ, ৬ লাখ ১৮ হাজার ৪৪৩টি ছাগল-ভেড়া ও অন্য ১১টিসহ ৮ লাখ ৫৭ হাজার ৬০১টি পশু কোরবানি হয়েছে।

বরিশাল বিভাগে কোরবানি হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬২১টি গরু-মহিষ, ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৮টি ছাগল-ভেড়াসহ ৪ লাখ ৬১ হাজার ৯৭৯টি পশু।

সিলেট বিভাগে ২ লাখ ৯ হাজার ৫৬৯টি গরু-মহিষ, ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৬৪টি ছাগল-ভেড়া ও অন্য ৮টিসহ ৪ লাখ ৮ হাজার ৯৪১টি পশু কোরবানি হয়েছে।

রংপুর বিভাগে কোরবানি করা হয়েছে ৪ লাখ ৯৬ হাজার ২২০টি গরু-মহিষ, ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩৯টি ছাগল-ভেড়াসহ ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৮৫৯টি পশু।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ১ লাখ ৮০ হাজার ৩২৫টি গরু-মহিষ, ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬১৯টি ছাগল-ভেড়া ও অন্য ৩টিসহ ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭টি গবাদিপশু কোরবানি করা হয়েছে ইদুল আজহার তিন দিনে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনলাইনে পশু বিক্রি গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৫ গুণ বেশি হয়েছে।

এ বছর অনলাইনে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭৯টি গবাদিপশু বিক্রি হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ২ হাজার ৭৩৫ কোটি ১১ লাখ ১৫ হাজার ৬৭৮ টাকা।

গতবছর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গবাদিপশু বিক্রি হয়েছিল ৮৬ হাজার ৮৭৪টি। যার আর্থিক মূল্য ছিল ৫৯৫ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ৭৪ হাজার ৮২৯ টাকা।

আগামী বছর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গবাদিপশু কেনা-বেচার পরিসর আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কাজ করবে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সরকার এ বছর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গবাদিপশু কেনা-বেচার কার্যক্রম নেয়। সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও আইসিটি বিভাগসহ অন্য দপ্তর-সংস্থা, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশসহ অন্য বেসরকারি সংগঠন ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে গবাদিপশুর ডিজিটাল হাট পরিচালনা করে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানায় মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন:
ঢাকা উত্তরে নির্ধারিত স্থানে চার হাজার কোরবানি
ফিরিয়ে নেয়া গরু নিয়ে মহাবিপত্তি
আজ কোরবানি শেষ করার আহ্বান তাপসের
ঈদের দ্বিতীয় দিনেও কোরবানি
বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় বক্তব্য দেন মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। ছবি: সংগৃহীত

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। জাতীয় স্বার্থ যারা ধ্বংস করতে চাইবে, তাদের বিষয়ে কোনো ধরনের বিবেচনা বা অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ নেই।

মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

মৎস্য অধিদপ্তরে বুধবার ইলিশসম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ কথা বলেন তিনি।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। জাতীয় স্বার্থ যারা ধ্বংস করতে চাইবে, তাদের বিষয়ে কোনো ধরনের বিবেচনা বা অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ নেই।

‘এ ক্ষেত্রে কঠিন থেকে কঠিনতর পদক্ষেপ নিতে আমরা কুণ্ঠাবোধ করব না। দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় যত কঠিন হওয়া লাগে, তত কঠিন হতে হবে। কাউকে এ বিষয়ে ছাড় দেয়ার অবকাশ নেই।’

তিনি বলেন, ‘মৎস্য খাতকে কোনোভাবেই ধ্বংস হতে দেয়া হবে না। শেখ হাসিনার নির্দেশনা, নজরদারি ও পৃষ্ঠপোষকতায় মাছে-ভাতে বাঙালির বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

‘মৎস্যসম্পদ রক্ষার মাধ্যমে খাদ্যের চাহিদা পূরণ হচ্ছে, বেকারত্ব দূর হচ্ছে, উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হচ্ছে এবং দেশের রপ্তানি আয় বাড়ছে।’

টাস্কফোর্সের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, চলতি বছর প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ শিকার বন্ধ থাকবে। এ সময় সারা দেশে ইলিশ আহরণ, বিপণন, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুত ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পাশাপাশি ইলিশের প্রজননক্ষেত্রে সব ধরনের মৎস্য শিকার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ইলিশের নিরাপদ প্রজননের স্বার্থে ও মা-ইলিশ সংরক্ষণে এ কার্যক্রম নেয়া হয়েছে বলে জানায় টাস্কফোর্স।

সাধারণত আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে-পরে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ে। তাই এই সময়ে সাগরের নোনা জল ছেড়ে নদীমুখে ছুটে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ।

মা-ইলিশ রক্ষার অংশ হিসেবে প্রতিবছর এ সময়টাতে বেশ কয়েক বছর ধরেই ইলিশ ধরা বন্ধ রেখে আসছে সরকার। মূলত মা-ইলিশ যেন নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পায়, সেটি নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ। এর ফলে দেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ।

আরও পড়ুন:
ঢাকা উত্তরে নির্ধারিত স্থানে চার হাজার কোরবানি
ফিরিয়ে নেয়া গরু নিয়ে মহাবিপত্তি
আজ কোরবানি শেষ করার আহ্বান তাপসের
ঈদের দ্বিতীয় দিনেও কোরবানি
বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান

শেয়ার করুন

৩ মাস সবজি চারা বেচে আয় ‘৩ লাখ’

৩ মাস সবজি চারা বেচে আয় ‘৩ লাখ’

সবজির চারা বিক্রি করেই সংসার চলে এ গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের। ছবি: নিউজবাংলা

বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা আক্তার বলেন, ‘গড়ে প্রতিবছর এখানে ৪ হেক্টর জমিতে রবিশস্যের চারা উৎপাদন হয়। প্রতি মৌসুমে গড়ে ৩ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়।’

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে গোমতী নদীর পাড়ে সমেষপুর গ্রামটি চারা গ্রাম নামে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। কারণ এ গ্রামের মানুষের উপার্জনের প্রধান মাধ্যম গাছের চারা বিক্রি।

গ্রাম ঘুরে জানা গেছে, এখানকার কৃষকদের ব্যস্ততা থাকে মূলত প্রতিবছরের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চারা গ্রাম থেকে প্রতিবছর এই তিন মাসে গড়ে ৩ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়।

এ বছরও চারা বিক্রির এই আনুমানিক লক্ষ্যমাত্রা ধরে রাখতে এখন বেশ ব্যস্ত সমেষপুরের কৃষকরা।

শীত আসার অনেক আগেই তৈরি করা হয়েছে সেখানকার বীজতলা। এখন জমিগুলোতে শোভা পাচ্ছে টম্যাটো, মরিচ, বেগুন, ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা।

চারার পরিচর্যায় ব্যস্ততার ফাঁকে কৃষক মনির হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, ৮ শতক জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। আশ্বিন থেকে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত অন্তত তিনবার চারা উৎপাদন হবে তার বীজতলায়।

তিনি আরও জানান, প্রতিবার চারা উৎপাদনে খরচ হবে ৮০ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। খরচের মধ্যে আছে বীজতলা তৈরির জন্য বাঁশ, পলিথিন, কীটনাশক, সার ও শ্রমিকের মজুরি।

৩ মাস সবজি চারা বেচে আয় ‘৩ লাখ’

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চারা বিক্রি করে সাড়ে ৩ লাখ টাকা উঠবে বলে আশা করছেন তিনি।

মনিরের মতো চারা উৎপাদনে জড়িত সমেষপুর গ্রামের শতাধিক পরিবার।

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে চারা গ্রামে চারা কিনতে প্রতিদিনই কৃষকরা আসেন। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের ফয়সাল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘সমেষপুরের চারা নিঃসন্দেহে অনেক ভালো। এক দশক ধরে আমি সমেষপুর থেকে চারা নিয়ে নিয়ে জমিতে রোপণ করি।

‘ফুলকপির এক হাজার চারার দাম ৮০০ টাকা, বাঁধাকপি ও ফুলকপি প্রতি হাজার ৬০০ টাকা করে। এ ছাড়াও তাল বেগুন যেগুলো প্রতিটি এক কেজি করে হয়, ওই বেগুনের প্রতি হাজার চারা ১ হাজার টাকায় কিনেছি। আঁটি বেঁধে গাড়িতে তুলেছি। পরদিন বিকেলে গিয়ে জমিতে রোপণ করব।’

৩ মাস সবজি চারা বেচে আয় ‘৩ লাখ’

বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা আক্তার বলেন, ‘গড়ে প্রতিবছর এখানে ৪ হেক্টর জমিতে রবিশস্যের চারা উৎপাদন হয়। প্রতি মৌসুমে গড়ে ৩ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়।’

তবে কৃষকদের অভিযোগ, চারা বিক্রির ওপর চলছে যে গ্রাম, কৃষি বিভাগের নজর নেই সে গ্রামের দিকে।

আবু আওয়াল নামের এক চাষি জানান, তিনি এ বছর ২০ শতক জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। বীজ, সার কিংবা পরামর্শসংক্রান্ত কোনো সহযোগিতা কৃষি বিভাগ থেকে পাননি। কোনো সমস্যা হলে কৃষক নিজেরাই আলাপ করে সমাধান খুঁজে নেন।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, ‘যদি সমেষপুরের কৃষক কৃষি বিভাগের কোনো সাপোর্ট না পান সেটা অবশ্যই দুঃখজনক। আমি ওই কৃষকদের জন্য করণীয় সবকিছু করার ব্যবস্থা শুরু করব।’

আরও পড়ুন:
ঢাকা উত্তরে নির্ধারিত স্থানে চার হাজার কোরবানি
ফিরিয়ে নেয়া গরু নিয়ে মহাবিপত্তি
আজ কোরবানি শেষ করার আহ্বান তাপসের
ঈদের দ্বিতীয় দিনেও কোরবানি
বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান

শেয়ার করুন

পাটকাঠিতে লাভবান কৃষক

পাটকাঠিতে লাভবান কৃষক

পাটের আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠিরও ভালো দাম পাচ্ছেন রাজবাড়ীর কৃষক। ছবি: নিউজবাংলা।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির কল্যাণে পাটকাঠির আর্থিক উপযোগিতা বেড়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন পার্টিকেল বোর্ড ও চারকোল কারখানায় রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা।

রাজবাড়ীর পাটের সুনাম দীর্ঘদিনের। দাম ভালো পাওয়ায় প্রতিবছর বাড়ছে পাটের আবাদ, সোনালি আঁশের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।

এক সময় ঘরের ছাউনি,বাড়ির চারপাশে বেড়া,পানের বরজ এমনকি রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হতো পাটকাঠি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর আর্থিক উপযোগিতা বেড়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন পার্টিকেল বোর্ড ও চারকোল কারখানায় পাটকাঠির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, গ্রামীণ সড়কের পাশে পাটকাঠি শুকানোর কাজ চলছে। অনেকেই বাড়ির পাশে উঁচু মাচা বানিয়ে গাদা করে রাখছে পাটকাঠি।

সদর উপজেলার রামকান্তপুরের কৃষক আবু বক্কার শেখ বলেন, ‘আগে পাটখড়ি (পাটকাঠি) ঘরের বেড়া, পানের বরজের ছাউনি আর রান্নার সময় পোড়ানো ছাড়া কোনো কাজে লাগত না। এখন পাটের পাশাপাশি পাটকাঠিও বিক্রি করতে পারছি। দামও ভালো। ভেজা পাটকাঠি প্রতি এক শ আঁটি বিক্রি হয় তিন শ-চার শ টাকায়। আর শুকনোটা বিক্রি করতে পারি পাঁচ শ থেকে সাত শ টাকায়।‘

আরেক কৃষক সালাম মোল্লা বলেন, ‘পাটের আঁশের চেয়ে পাটকাঠি বিক্রি করেই আমাদের ভালো টাকা আসে।‘

পাটকাঠি বিশেষ চুল্লিতে পুড়িয়ে তৈরি কার্বন বা চারকোল চীনসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। কার্বন পেপার, ফটোকপির কালি, আতশবাজি, ফেসওয়াশ, প্রসাধনী পণ্য, মোবাইলের ব্যাটারি, দাঁত মাজার ওষুধ, খেতের সারসহ নানা পণ্য তৈরিতে ব্যবহার হয় এই কার্বন।

রাজবাড়ীর উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা সোহান হোসেন জানান, উন্নত মানের কারণে এ জেলার পাটকাঠি দেশের বিভিন্ন জায়গার কারখানায় যাচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষক।

আরও পড়ুন:
ঢাকা উত্তরে নির্ধারিত স্থানে চার হাজার কোরবানি
ফিরিয়ে নেয়া গরু নিয়ে মহাবিপত্তি
আজ কোরবানি শেষ করার আহ্বান তাপসের
ঈদের দ্বিতীয় দিনেও কোরবানি
বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান

শেয়ার করুন

চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম

চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম

নওগাঁয় ইউরিয়া সারের দাম বাড়ায় বিপাকে কৃষক। ছবি: নিউজবাংলা।

কৃষকরা জানিয়েছেন, আমন মৌসুমের শুরুতে ৮১০ থেকে ৮২০ টাকায় ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি হয়েছে। তবে গত ১০-১৫ দিন ধরে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৮৮০ থেকে ৯২০ টাকায়।

আমন চাষের মধ্যবর্তী সময়ে হঠাৎ নওগাঁয় বেড়েছে ইউরিয়া সারের দাম। ধান চাষে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সারটির প্রতি বস্তায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন জেলার প্রায় ৬৬ হাজার প্রান্তিক কৃষক।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এই মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের সবজি ও কৃষিশস্য রয়েছে আরও ২৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে।

ভরা মৌসুমে জেলায় ইউরিয়া সারের আনুমানিক চাহিদা ৩৩ হাজার টন। এসব সার সরবরাহে জেলায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিবন্ধিত সার ডিলার রয়েছেন ১২৭ জন।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে নওগাঁর ১১টি উপজেলায় ৬৬ হাজার পরিবার কৃষির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন মৌসুমের শুরুতে ৮১০ থেকে ৮২০ টাকায় ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি হয়েছে।

তবে গত ১০-১৫ দিন আগে নানা অজুহাতে সার ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। বর্তমানে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৮৮০ থেকে ৯২০ টাকায়।

এ বিষয়ে সঠিক তদারকি ও বাজার পর্যবেক্ষণ না থাকায় ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার সুযোগ নিচ্ছেন বলে জানান কৃষকরা।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কাশিয়ারা গ্রামের কৃষক আব্দুল মমিন জানান, ‘হামি পাঁচ বিঘা জমিত আমনের আবাদ করিছি। ধান লাগানার শুরুত ইউরিয়া সারের দাম আছিল বস্তাপ্রতি ৮১০-৮২০ টেকা করা। বর্তমানে প্রতি বস্তা দাম ৮৮০ থ্যাকা ৯২০ টেকা পর্যন্ত বাড়া গেছে।

‘প্রতি বস্তায় যদি কয়েক দিনের মধ্যে ৮০ থ্যাকা ১০০ টেকা পর্যন্ত বাড়া যায় তালে হামরা কীভাবে আবাদ করা পোষামু। বেশি মুনাফার আশায় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াছে ইচ্ছা করা।’

রাণীনগর উপজেলার তিলাবদুর গ্রামের কৃষক সুবল দাস বলেন, ‘হামি ১০ বিঘা জমিত আমন ধানের আবাদ করিছি। প্রতি বিঘাত জমি হালচাষ, নিড়ানি, সার, সেচ, শ্রমিক খরচ দিয়া মোট সাড়ে ৭ হাজার থ্যাকা ৮ হাজারের মতো খরচ হয়। আর ফলন ভালো হলে সর্বোচ্চ ৮ থ্যাকা ১০ মণের মতো ধান পাওয়া যায় প্রতি বিঘাত।

চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম

‘এখন আমনের ভরা মৌসুম, তাই এখন ইউরিয়া সার জমিত দেওয়া লাগে। তবে বাজারোত প্রতি বস্তাত প্রায় ৮০-১০০ টেকার মতো বেশি দাম বাড়া গেছে। দোকানদাররা কচ্ছে, সারের নাকি সাল্পাই কম, তাই দাম বেশি। এত দাম যদি সারোত বাড়া যায়, জমির অন্য খরচ তো আছেই, সব মিলা তো কুলা উঠা পারমু না হামরা।’

সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কৃষক সুজন হোসেন বলেন, ‘হামাকেরে এটি ইউরিয়া সার বস্তাপ্রতি কেনা লাগিচ্ছে ৮৮০ থ্যাকা ৯২০ টাকা দরে। কয়েক দিন আগেই ৮১০ থ্যাকা ৮২০ টেকা বস্তা দাম আছল। হঠাৎ দাম বাড়া গেল। কৃষকরা ধান উৎপাদন করে সবার চাহিদা মিটায়, কিন্তু কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা সেভাবে কেউ দেখে না।’

নওগাঁ সদর উপজেলার পাহাড়পুর বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা জাহিদুর রহমান জানান, ডিলারদের কাছ থেকে তাদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। আমন মৌসুমের শুরুতে ৮০০ টাকায় এক বস্তা ইউরিয়া সার কিনে খুচরায় বিক্রি করেছেন ৮২০ থেকে ৮৩০ টাকা দরে।

এখন ডিলারদের কাছ থেকেই তাদের ৮৬০ থেকে ৮৭০ টাকায় প্রতি বস্তা ইউরিয়া কিনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচ যোগ করে খুচরা পর্যায়ে সেই সার তারা কৃষকের কাছে ৮৯০ কেউ ৯২০ টাকা বস্তা হিসেবে বিক্রি করছেন।

নিয়ামতপুর উপজেলার স্থানীয় ছাতড়া বাজারের সার ডিলার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ইউরিয়া সারের চাহিদা অনুযায়ী আমরা পাচ্ছি না। এ ছাড়া গাড়ি ভাড়াও বৃদ্ধি হয়েছে। এসব কারণে খুচরা পর্যায়ে সার কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হতে পারে। তবে আমরা ডিলাররা সরকার নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করছি। অতিরিক্ত দামে বিক্রি তো করছি না।’

জেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই এবং নির্ধারিত দামে ডিলাররা সার বিক্রি করছেন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি রেজাউল করিম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চলতি ভরা মৌসুমে ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের কোনো সংকট হয়নি। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ রয়েছে ৩ হাজার ৮০০ টন। ইতিমধ্যে বিসিআইসি ডিলাররা বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে বাফার গুদাম থেকে বরাদ্দ অনুযায়ী তাদের সার উত্তোলন করেছেন।

‘এখন পর্যন্ত ডিলাররা বেশি দামে সার বিক্রি করছেন এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। কোনোভাবেই যাতে সরকার নির্ধারিত দামের চাইতে বেশি না নেয়া হয় সেটা ডিলারদের নির্দেশনা দেয়া আছে। তবে অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।’

নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শামসুল ওয়াদুদ জানান, ইউরিয়া সারের দাম বেশি নেয়া হচ্ছে কৃষকদের কাছ থেকে এমন অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাননি। তবে কৃষকরা যদি সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেন তাহলে ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আপনি যেহেতু ইউরিয়া সারের দাম বেশি নেয়ার কথা বললেন, সে ক্ষেত্রে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

আরও পড়ুন:
ঢাকা উত্তরে নির্ধারিত স্থানে চার হাজার কোরবানি
ফিরিয়ে নেয়া গরু নিয়ে মহাবিপত্তি
আজ কোরবানি শেষ করার আহ্বান তাপসের
ঈদের দ্বিতীয় দিনেও কোরবানি
বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান

শেয়ার করুন

সুদিন ফিরেছে পাটচাষির

সুদিন ফিরেছে পাটচাষির

পাটের আবাদ ও উৎপাদন ভালো হওয়ায় হাসি ফুটেছে চাষির মুখে। ছবি: নিউজবাংলা

শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে জেলায় ২৬ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৬২ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন। এ বছর পাটের আবাদ হয়েছে ২৭ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮ হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন।

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর এলাকার কৃষক নুরুল ইসলাম চৌকিদার। এবার ৫৬ শতাংশ জমিতে তিনি পাটের আবাদ করেছিলেন। ফলন হয় ১৫ মণ ২০ কেজি। এর জন্য নুরুলকে গুনতে হয়েছিল ১৫ হাজার টাকা।

গত সোমবার নড়িয়ার ভোজেশ্বর বাজারে মণপ্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকায় পাট বিক্রি করেন নুরুল। উৎপাদন খরচ ১৫ হাজার টাকা বাদ দিয়ে তার লাভ হয় ৩৯ হাজার ২৫০ টাকা।

নুরুল ইসলামের মতো এবার পাটের আবাদ করে লাভের মুখ দেখেছেন অনেক কৃষক।

কৃষক নুরুল জানান, গত বছর প্রতি শতাংশ জমিতে পাট উৎপাদন হয়েছিল ৯ কেজি। এবার তা বেড়ে হয়েছে ১১ কেজি। এ ছাড়া ২০২০ সালে প্রতি মণ পাট বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে। এবার ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে।

শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে জেলায় ২৬ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৬২ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন। এ বছর পাটের আবাদ হয়েছে ২৭ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮ হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন।

শরীয়তপুরে পাট বেচাকেনার সবচেয়ে বড় হাট নড়িয়ার ভোজেশ্বর। সোমবার হাটে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর ও খুলনার বিভিন্ন বেসরকারি পাটকলের পাইকাররা পাট কিনছেন।

বাজারে তোষা জাতের পাট প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। মেছতা জাতের বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার টাকায়। আর সাদা পাট ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ভোজেশ্বরের পাট ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম বেশি। সামনে কী হবে বুঝতেছি না। এ জন্য এখনই পাট কিনে মজুত করছি না। মিলের চাহিদা অনুযায়ী কিনে সরবরাহ করছি।’

নড়িয়ার রাজনগর এলাকার কৃষক আব্বাস শেখ বলেন, ‘উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে পাট বিক্রি করে দিতে হয়। এ বছর মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পেয়ে পাট বিক্রি করেছি। আমার দুই বিঘা জমিতে খরচ বাদ দিয়ে ৪৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।’

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক গোলাম রসুল বলেন, ‘গত বছর এ অঞ্চলে বন্যা হয়েছিল। যার ফলে কৃষিজমিতে পলি জমেছিল। এ জন্য উৎপাদন এবার বেশি হয়েছে। আর পাটের নানাবিধ চাহিদা সৃষ্টি হওয়ায় বাজার দামও ভালো।’

আরও পড়ুন:
ঢাকা উত্তরে নির্ধারিত স্থানে চার হাজার কোরবানি
ফিরিয়ে নেয়া গরু নিয়ে মহাবিপত্তি
আজ কোরবানি শেষ করার আহ্বান তাপসের
ঈদের দ্বিতীয় দিনেও কোরবানি
বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান

শেয়ার করুন

আইএইএ পুরস্কার পেল বিনা

আইএইএ পুরস্কার পেল বিনা

এ ছাড়া, প্ল্যান্ট মিউটেশন ব্রিডিং ও রিলেটেড বায়োটেকনোলজিতে অসামান্য অবদানের জন্য ‘উইমেন ইন প্ল্যান্ট মিউটেশন ব্রিডিং অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামছুন্নাহার বেগম।

মিউটেশন ব্রিডিংয়ে অসামান্য অবদান রাখার জন্য আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) এর সম্মাননা পেয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)।

সংস্থার আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার অর্জন করে বিনা।

এ ছাড়া, প্ল্যান্ট মিউটেশন ব্রিডিং ও রিলেটেড বায়োটেকনোলজিতে অসামান্য অবদানের জন্য ‘উইমেন ইন প্ল্যান্ট মিউটেশন ব্রিডিং অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামছুন্নাহার বেগম।

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আইএইএর প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আব্দুল মুহিতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার দুটি হস্তান্তর করেন।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা গত কয়েক বছর ধরে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মিউটেশন ব্রিডিং-এ অসাধারণ অবদান রাখার জন্য তিন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করে আসছে।

ক্যাটাগরিগুলো হলো: আউটস্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট, নারী বিজ্ঞানীদের মিউটেশন ব্রিডিংয়ে অনন্য অবদান এবং তরুণ বিজ্ঞানী পুরস্কার।

এ বছর ১৭৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে আউটস্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট ক্যাটাগরিতে ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, নারী বিজ্ঞানীদের মিউটেশন ব্রিডিং ক্যাটাগরিতে ১০ জন নারী বিজ্ঞানী ও তরুণ বিজ্ঞানী ক্যাটাগরিতে ৭ জন তরুণ বিজ্ঞানী পুরস্কার পেয়েছেন।

এর আগেও ২০১৪ সালে বিনার বর্তমান মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম মিউটেশন ব্রিডিংয়ে অসাধারণ সফলতা পুরস্কার পেয়েছিলেন।

এক প্রতিক্রিয়ায় বিনার মহাপরিচালক মির্জা মোফাজ্জল জানান, বিনার বিজ্ঞানীরা পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে মিউটেশন ব্রিডিং (কনভেনশনাল ব্রিডিং ও অন্যান্য উন্নত কলাকৌশলের সংমিশ্রণ) প্রয়োগ করে এখন পর্যন্ত ১৮টি ফসলের ৮৩টি মিউট্যান্ট জাতসহ সর্বমোট ১১৭টি উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত গুণাগুণ সম্পন্ন জাত উদ্ভাবন করেছে।

এসব অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিনা ও বিনার বিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন সময়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা হতে পুরস্কৃত হয়েছেন বলে জানান মোফাজ্জল।

আরও পড়ুন:
ঢাকা উত্তরে নির্ধারিত স্থানে চার হাজার কোরবানি
ফিরিয়ে নেয়া গরু নিয়ে মহাবিপত্তি
আজ কোরবানি শেষ করার আহ্বান তাপসের
ঈদের দ্বিতীয় দিনেও কোরবানি
বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান

শেয়ার করুন

আমেরিকায় যাচ্ছে প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম

আমেরিকায় যাচ্ছে প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম

মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, ‘আমাদের দেশে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে কাজুবাদাম চাষ হচ্ছে। এই তিন জেলায় প্রতিবছর ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টন কাজু উৎপাদিত হয়। আমরা উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করছি। আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে কাজুর উৎপাদন চার গুণ বৃদ্ধি পাবে।’

নীলফামারীতে প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম আমেরিকায় রপ্তানি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের চিনিকুটিতে জ্যাকপট ক্যাশুনাটস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা পরিদর্শনের সময় সোমবার দুপুরে মোহাম্মদ ইউসুফ এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কাজুবাদাম গুণগত মানসম্পন্ন হওয়ায় বৈদেশিক বাজারে এর চাহিদা বেশি। নীলফামারীতে প্রক্রিয়াজাত কাজু চার মাস হলো আমেরিকায় রপ্তানি করা হচ্ছে। এর উৎপাদন বাড়াতে নানা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

‘আমাদের দেশে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে কাজুবাদাম চাষ হচ্ছে। এই তিন জেলায় প্রতিবছর ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টন কাজু উৎপাদিত হয়। আমরা উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করছি। আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে কাজুর উৎপাদন চার গুণ বৃদ্ধি পাবে।’

জ্যাকপট ক্যাশুনাটস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইবনুল আরিফুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কারখানায় প্রতি মাসে ৪২ টন কাজু প্রক্রিয়াজাত করে ৭ টন উৎপাদিত হয়। কাঁচামালের জোগান কম হওয়ায় এখানে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে না।

‘স্থানীয় পদ্ধতিতে নারী শ্রমিকরা কাজটি করছেন। কারখানায় নিয়মিত ৭৫ জন শ্রমিক কাজ করেন।’

চারা রোপণের ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে কাজুর ফলন শুরু হয়। নীলফামারীতেও এর চাষ শুরু হয়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকার জাতীয় বিপণন নীতিমালা তৈরি করেছে বলে জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, ‘নীতিমালাটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হবে। ভোক্তারাও পণ্যের মূল্য সম্পর্কে নিশ্চিত থাকবেন।’

আরও পড়ুন:
ঢাকা উত্তরে নির্ধারিত স্থানে চার হাজার কোরবানি
ফিরিয়ে নেয়া গরু নিয়ে মহাবিপত্তি
আজ কোরবানি শেষ করার আহ্বান তাপসের
ঈদের দ্বিতীয় দিনেও কোরবানি
বেচা হলো না গরু, কষ্ট বৃথা, ট্রাক ভাড়াটা লোকসান

শেয়ার করুন