× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
সম্ভাবনার ওষুধ শিল্প স্বস্তির মধ্যেও শঙ্কা
hear-news
player
google_news print-icon

সম্ভাবনার ওষুধশিল্প: স্বস্তির মধ্যেও শঙ্কা

সম্ভাবনার-ওষুধশিল্প-স্বস্তির-মধ্যেও-শঙ্কা
ফাইল ছবি
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে ওষুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন যে সুবিধা পাচ্ছে, উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হলে সেই সুবিধা আর থাকবে না। তখন বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের অবস্থা কী হবে?

বাংলাদেশের ওষুধশিল্প হাঁটি হাঁটি পা পা করে অনেক দূর এগিয়েছে। দেশের ওষুধ এখন বিশ্ববাজারেও সমাদৃত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানিসহ বর্তমানে ১৬০টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি এই শিল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

এত সাফল্যের পরও সম্ভাবনাময় এ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে ওষুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন যে সুবিধা পাচ্ছে, উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হলে সেই সুবিধা আর থাকবে না। তখন বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের অবস্থা কী হবে, কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাবে। এরই মধ্যে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ করেছে।

উত্তরণকালীন বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে বাংলাদেশের। বাজারসুবিধা, কম সুদে ঋণসহ নানান বিষয়ে আলোচনা শুরু হলেও ওষুধশিল্পের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে সরকারি-বেসরকারি মহলে তেমন কোনো আলোচনা হয় না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে এলডিসি হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কপিরাইট আইন বা ‘মেধাস্বত্ব ছাড়ের’ সুবিধা ভোগ করছে বাংলাদেশ, যার মেয়াদ ২০৩৩ সাল পর্যন্ত দেয়া আছে।

এই সুবিধার আওতায় ওষুধ উৎপাদনে বিদেশি পেটেন্ট ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশকে কোনো রয়্যালিটি বা কোনো ধরনের ফি দিতে হয় না। যে কারণে অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ সস্তায় ওষুধ উৎপাদন করতে পারছে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ‘বাণিজ্য-সংক্রান্ত মেধাস্বত্ব’(ট্রিপস) আইনে বাংলাদেশকে পেটেন্ট করার অধিকার দেয়া রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাঁচ বছর পর ২০২৬ সালে যখন বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাবে, তখন এ সুবিধা আর থাকবে না। এতে করে বাংলাদেশের ওষুধশিল্প বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কেননা, ওষুধ উৎপাদনে বিদেশি পেটেন্ট ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে রয়্যালটি বা ফি দিতে হবে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে ওষুধের। যার প্রভাব পড়তে পারে ওষুধের দামের ওপর। কিছু ওষুধের দাম এমন অবস্থায় যেতে পারে যে, সব মানুষের পক্ষে সব ওষুধ কেনা সম্ভব না-ও হতে পারে, এমন আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি ওষুধ উদ্ভাবন বা ফর্মুলা আবিষ্কারের জন্য সার্বিক গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বিপুল অর্থ ও সময় প্রয়োজন। তাই, সরকার কিংবা বেসরকারি ওষুধ উৎপাদনকারীরা এ ব্যাপারে আগ্রহী নন।

এ অবস্থায় দেশীয় ওষুধশিল্পের সুরক্ষায় এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্ততি নিতে হবে। সক্ষমতা অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশের ওষুধশিল্পকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।

বর্তমানে অন্য দেশে থেকে পেটেন্ট (ফর্মুলা) নিয়ে এসে বাংলাদেশ যে ওষুধ উৎপাদিত হচ্ছে, তার কাঁচামালও আসছে বিদেশ থেকে।

বাংলাদেশে ওষুধের কাঁচামালের ৮৫ শতাংশ আমদানিনির্ভর।

পরিসংখ্যান বলে, বাংলাদেশ যদি ওষুধের কাঁচামালও উৎপাদন করতে পারে, তবে প্রায় ৭ বিলিয়ন বা ৭০০ কোটি ডলার (প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা) রপ্তানি আয় করা সম্ভব।

এক যুগেও হয়নি এপিআই পার্ক

দেশীয় ওষুধশিল্পের প্রসার, প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টি করতে পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ, ওষুধের মান উন্নয়নে গবেষণা করা এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল যেন বাংলাদেশেই উৎপাদন করা যায়, সেই লক্ষ্যে ২০০৮ সালে দেশে একটি পৃথক ওষুধশিল্প পার্ক গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয় এবং একই বছরের ডিসেম্বরে একটি প্রকল্প ‘একনেকে’ অনুমোদন দেয়া হয়।

পোশাকি ভাষায় এই পার্কের নাম ‘অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডিয়েন্ট’ বা এপিআই নামে পরিচিতি। যেখানে ৪২টি ওষুধ কোম্পানিকে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এত বছর পরও এ পার্কের কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।

যোগাযোগ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান আ ব ম ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, বেসরকারি কোম্পানিগুলো এপিআই-এর অবকাঠামো ঠিকমতো তৈরি করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর বাস্তবায়ন দ্রুত সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এপিআই হলে ওষুধশিল্পের কাঁচামালের আমদানি নির্ভরতা কমবে। শুধু তা-ই নয়, কাঁচামাল রপ্তানি করা সম্ভব হবে। তিনি মনে করেন, সময়মতো এপিআই পার্ক না হওয়াটাই ওষুধশিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশ এখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অন্য দেশ থেকে জেনেরিক বা ফমুর্লা কপি করে ওষধু উৎপাদন করে। ‘ট্রিপসের’ আওতায় বাংলাদেশকে এ অধিকার দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ যখন এলডিসি থাকবে না, তখন এই সুবিধা বাতিল হবে। এতে করে দেশের ওষুধশিল্প চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ফলে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকে প্রস্তুতি নেয়া দরকার বলে জানান তিনি।

কী ধরনের প্রস্ততি নিতে হবে জানতে চাইলে এই গবেষক বলেন, শিল্পের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। কাঁচামালের সিংহভাগ যাতে দেশেই উৎপন্ন হয়, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ওষুধশিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) খুবই কম। এ খাতে প্রচুর এফডিআই আনতে হবে।

তবে এটিকে অত বড় শঙ্কার বিষয় বলে মনে করেন না বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতিরি সভাপতি শফিউজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘ভয়ের কোনো কারণ দেখছি না। এলডিসি-উত্তর দেশের ওষুধশিল্পকে বড় ধরনের কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাাবিলা করতে হবে না।

‘আমাদের ওষুধ এখন বিশ্বমানে পৌঁছে গেছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ বড় বড় বাজারে ওষুধ যাচ্ছে।’

উন্নয়নশীল দেশ হলে এ শিল্পে কিছুটা চ্যালেঞ্জ আসতে পারে এ কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ওষুধের দাম বাড়লেও তা বাড়বে সামান্য। তাতে খুব একটা প্রভাব পড়বে না।

সিপিডির গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশের দাবি হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পরও যাতে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ট্রিপস ছাড়ের সুবিধা বহাল রাখা হয়। ভবিষ্যতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বৈঠকে যে দরকষাকষি হবে, সেখানে এই বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সাধারণ সভা

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মাসের ২৬ ও ২৭ জুলাই জেনেভায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সাধারণ কাউন্সিল সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় বাণিজ্য-সংক্রান্ত মেধাস্বত্ব আইন বা ট্রিপস নিয়ে আলোচনা হবে। এতে বাংলাদেশের ওষুধশিল্প প্রসঙ্গটি নিয়ে আলোচনা হবে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ও জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির সদস্য ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, শুধু জেনেভাভিত্তিক আলোচনা করে দাবি আদায় করা যাবে না। এর জন্য শক্তিশালী রাজনৈতিক তদবির লাগবে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপানসহ বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের বড় বড় মিশনগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। দেশের উন্নয়ন সহযোগিদের সমর্থন আদায় করতে হবে।

তিনি মনে করেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিণত হতে হলে প্রস্তুতিপর্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মেধাস্বত্বের অনুষঙ্গ। এটি আগামী দিনের অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দেবে। ফলে জেনেভায় দরকষাকষিতে বাংলাদেশকে এ বিষয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

ড. দেবপ্রিয় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘অতীতে দেখা গেছে, ট্রিপস বা বাণিজ্য-সংক্রান্ত মেধাস্বত্ব আলোচনায় ওষুধশিল্প নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, সেখানে আরও সুবিধা দাও, এটা চাই ওটা চাই- এসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এ শিল্পকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য কার্যকর কোনো কিছু আলোচনা করতে দেখা যায়নি।’

তিনি প্রশ্ন করেন, এ শিল্প প্রায় ৪০ বছর ধরে সুবিধা পেয়ে আসছে, অথচ এখন পর্যন্ত নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেনি, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে?

রপ্তানি বাড়ছে

বর্তমানে দেশীয় চাহিদার ৯৮ শতাংশ পূরণ করে ওষুধ রপ্তানি হয় বিশ্বের প্রায় ১৬০ দেশে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মিলে এ শিল্পের বার্ষিক বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা।

খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ মুহূর্তে ওষুধশিল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জ কাঁচামাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। তাহলে আরও এগিয়ে যাবে এ খাত।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, করোনাকালে সদ্য বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার বা সমপরিমাণ ১ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। আলোচ্য অর্থবছরে ওষুধে আয় বেড়েছে বা প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় সাড়ে ২৪ শতাংশ।

এর আগের অর্থবছরে অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল প্রায় ১৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ১ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Bangladesh economy stable under stress Fitch Ratings

চাপের মধ্যেও স্থিতিশীল বাংলাদেশের অর্থনীতি: ফিচ রেটিং

চাপের মধ্যেও স্থিতিশীল বাংলাদেশের অর্থনীতি: ফিচ রেটিং
দুই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতি ওলোটপালট হয়ে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব দেশে। মন্দার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতির এই মন্থর গতি আর দেশের ভেতরে মূল্যস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও বাংলাদেশের ‘শক্তিশালী’ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে আন্তর্জাতিক ঋণ মান সংস্থা ফিচ রেটিং।

স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস (এসঅ্যান্ডপি) এবং মুডি’স এর পর আরেকটি আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে সুখবর দিয়েছে। এই ঋণমান সংস্থাটি হচ্ছে ফিচ রেটিং।

সংস্থাটি বলেছে, নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আগের মতোই ‘স্থিতিশীল’ থাকবে। বাংলাদেশের জন্য ‘বিবি মাইনাস’ রেটিং বহাল রেখেছে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি

ফিচ রেটিং-এর বিবেচনায় ‘বিবি মাইনাস’ রেটিং হচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন স্থিতিশীল অবস্থায় আছে; কোনো ঝুঁকি নেই।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

দুই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতি ওলোটপালট হয়ে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব দেশে। মন্দার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতির এই মন্থর গতি আর দেশের ভেতরে মূল্যস্ফীতির চাপ সত্ত্বেও বাংলাদেশের ‘শক্তিশালী’ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে আন্তর্জাতিক ঋণ মান সংস্থা ফিচ রেটিং।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি বলছে, বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ এখনও পরিশোধ সক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে।

সেই বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য ‘বিবি মাইনাস’ রেটিং বহাল রেখেছে ফিচ। এর অর্থ হল, ঋণ খেলাপির ঝুঁকি থাকলেও আর্থিক প্রতিশ্রুতি পূরণে বাংলাদেশের ব্যবসা ও আর্থিক খাতের খাপ খাইয়ে নেওয়ার মত স্থিতিস্থাপকতা আছে এবং আর্থিক প্রতিশ্রুতি পূরণের সক্ষমতা রয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ, যে সংকটের কারণে দেশে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে।

যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ প্রভাব সামলাতে সরকার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভও চাপের মধ্যে পড়েছে।

ফিচ রেটিং বলছে, ‘ইউক্রেইন যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সুদ হার বৃদ্ধির ফলে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, বিনিময় হারে নমনীয়তা এবং বিদেশি-সরকারি ঋণের সহায়তার মাধ্যমে তা মোকাবেলা করতে পারে বাংলাদেশ।’

আট মাসের মধ্যে বাংলাদেশে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ১৬ শতাংশ কমে ৩৮ দশমিক ৯ বিলিয়নে নেমেছে; তারপরও আমদানি কমাতে নীতিগত পদক্ষেপ, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং বিনিময় হারে বৃহত্তর নমনীয়তার কারণে রিজার্ভের ওপর চাপ কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে ফিচ।

২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকবে বলে মনে করছে ফিচ, যদিও তা চার মাসের বেশি আমদানি মূল্য পরিশোধের জন্য যথেষ্ট।

এ ছাড়া এ অর্থবছরে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ঘাটতি কমে জিডিপির ৩ শতাংশে এবং পরের অর্থবছরে ২ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ফিচের প্রতিবেদনে।

এ এজেন্সির পূর্বাভাস বলছে, আমদানিতে লাগাম এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে কমিয়ে দেওয়ার কারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নেমে আসবে ৫ শতাংশে, তবে এ সকল কড়াকড়ি তুলে নিয়ে নিত্যপণ্যের দামে লাগাম টানা গেলে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

চাপের মধ্যেও স্থিতিশীল বাংলাদেশের অর্থনীতি: ফিচ রেটিং

১৯১৩ সালে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে ফিচ। ওইসময় প্রতিষ্ঠানটি শিল্প বিনিয়োগের জন্য অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান নিয়ে ‘দ্য ফিচ স্টক অ্যান্ড বন্ড ম্যানুয়াল’এবং ‘দ্য ফিচ বন্ড বুক’নামের দুটো প্রকাশনা বের করতো।

এরপর ১৯২৪ সালে কোম্পানিটি রেটিং কার্যক্রম শুরু করে।

বর্তমানে বিশ্বের ত্রিশটি দেশে কার্যক্রম চালু রয়েছে ফিচের, যৌথভাবে যার মালিকানায় রয়েছে প্যারিসভিত্তিক ফিমালাক এস এ এবং নিউইয়র্ক ভিত্তিক হার্টস কর্পোরেশন।

এর আগে ২৯ জুলাই আন্তর্জাতিক ঋণমাণ সংস্থা মুডিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে; তবে সংকটের ঝুঁকি কম।

এর পর ২৫ আগস্ট আরেক আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস (এসঅ্যান্ডপি) বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের রেটিং প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক সেবাদাতা সংস্থাটি বাংলাদেশের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘বিবি-’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘বি’বহাল রাখে।

এই ঋণমানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ বেশ কিছুদিন ধরে বাহ্যিক চাপের মধ্যে রয়েছে। আর এই চাপে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) বড় ঘাটতিতে পড়েছে। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ কমছে। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক গতিপথে রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশটির অর্থনীতি স্থিতিশীল অবস্থা ফিরে পাবে।’

আরও পড়ুন:
ব্যায়াম করছে মুরগির ছানা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Trade license is valid for five years to facilitate business

ব্যবসা সহজ করতে ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর হচ্ছে

ব্যবসা সহজ করতে ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর হচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
ব্যবসা করার জন্য অনুমতিপত্র বা ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর করা হচ্ছে। এর ফলে এটি প্রতি বছর নবায়ন করার নামে যে যন্ত্রণা পোহাতে হয় ব্যবসায়ীদের, তা থেকে তারা রেহাই পাবেন।

দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক খবর দিচ্ছে সরকার। বিশেষ করে যারা ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে চান, তাদের জন্য ভালো খবর আসছে।

ব্যবসা করার জন্য অনুমতিপত্র বা ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর করা হচ্ছে। এর ফলে এটি প্রতি বছর নবায়ন করার নামে যে যন্ত্রণা পোহাতে হয় ব্যবসায়ীদের, তা থেকে তারা রেহাই পাবেন। স্থানীয় সরকার ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও প্রভাবশালী সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (এমসিসিআই) ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সম্প্রতি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালায়ের কাছে লিখিত প্রস্তাব করে। একই সঙ্গে এর অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার কথা বলে। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনা করছে সরকার।

যোগাযোগ করা হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যবসা সহজ করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর একটি হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানো। সরকার এ বিষয়ে ইতিবাচক। তবে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও দপ্তর জড়িত। আমি মনে করি, ব্যবসা সহজীকরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। আশা করছি তারাও ইতিবাচক হবে।’

ট্রেড লাইসেন্স ব্যবসা-বাণিজ্য করার অনুমতিপত্র। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিটি করপোরেশন এর অনুমোদন দেয়। বাংলাদেশে বৈধভাবে ব্যবসা করতে হলে ট্রেড লাইনেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। স্থানীয় সরকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এটি দেয়া হয়।

বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্স অনুমোদনের কয়েকটি ধাপ আছে। আইনে আবেদন করার সাত কর্মদিবসের মধ্যে এর অনুমোদন দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয় না। ঘুষ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স মেলেন– এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

আগে সনাতনি প্রথায় ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হতো। এখন অনলাইনে করা যায়। তবে অটোমেশন করার পরও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

প্রতিবেশি ভারতসহ অনেক দেশ এক ধাপে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করে। বাংলাদেশে এখনও সাত থেকে আট ধাপ লাগে।

এমসিসিআইয়ের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্বের সব দেশে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্সের অনুমোদন দেয়া হয়। বাংলাদেশেও এটি চালু করা যেতে পারে।’

ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট’ বা বিল্ড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, ‘সিটি করপোরশন এবং মিউনিসিপ্যাল ট্যাক্সেশন আইনে ট্রেড লাইসেন্স পাঁচ বছরের জন্য দিতে কোনো বাধা নেই।’

বিশ্বব্যাংকের ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ শীর্ষক সবশেষ প্রতিবেদনে ব্যবসা সহজীকরণে বাংলাদেশের আট ধাপ এগোনোর কথা উল্লেখ করা হলেও সার্বিক বিবেচনায় অগ্রগতি বলা যায় না। বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৮তম। অর্থাৎ বাংলাদেশ এখনও পেছনের সারিতে রয়ে গেছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ শুধু আফগানিস্তান থেকে এগিয়ে।

তবে ডুয়িং বিজনেস প্রতিবেদন এখন আর করছে না বিশ্বব্যাংক।

বিল্ড বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ট্রেড লেইসেন্সের মেয়াদ পাঁচ বছর করার যে প্রস্তাব তারা করেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তা গ্রহণ করেছে। এটি এখন কার্যকরের অপেক্ষায়।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি সামস মাহমুদ জানান, ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ একবারে পাঁচ বছর করলে ব্যবসা আরও সহজ হবে। এতে করে হয়রানি কমবে। স্পিড মানি ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স হয় না– এ কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে বেশির ভাগই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাদের পক্ষে অনেক সময় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জোগাড় করা সম্ভব হয় না। এ জন্য লাইসেন্স করার ক্ষেত্রে হয়রানির স্বীকার হন। ফলে যারা ব্যবসা শুরু করতে চান, তারা নিরুৎসাহিত হন।’

আরও পড়ুন:
আরও দুই মানি চেঞ্জারের লাইসেন্স স্থগিত
যারা নিয়ম মানবে তারা মদের লাইসেন্স পাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিধিমালা নেই, তাই লাইসেন্স বাতিলের ভয়ও নেই চালকের
চার মাসের মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার নির্দেশ
ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে অপেক্ষার শেষ নেই

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
In the promotion play Dissatisfaction with DSE

‘পদোন্নতির খেলায়’ ডিএসইতে অসন্তোষ

‘পদোন্নতির খেলায়’ 
ডিএসইতে অসন্তোষ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ভবন। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
একজন সিনিয়র ম্যানেজার বলেন, ‘আমাকে যখন পদোন্নতি দেয়া হলো, তখন আমি সব মহল থেকে অনেক শুভেচ্ছা পেয়েছি। এখন পদোন্নতি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। ঠিকমতো কাজে মনোযোগ দিতে পারছি না। সব জায়গায় হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। এটা রীতিমতো একটা মানসিক টর্চার।’

ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইর সেই ৯৫ কর্মকর্তাকে আগের পদ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে ইমেইল করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা বুঝতে পারছেন না, তারা এখন কোন পদে। এর কারণ, নতুন পদ ব্যবহার করতে নিষেধ করা হলেও নতুন পদের যে সুযোগ সুবিধা, সেগুলো বহাল আছে।

স্টক এক্সচেঞ্জটির পক্ষে থেকে বলা হচ্ছে কিছু কিছু কর্মকর্তার পদোন্নতির সিদ্ধান্ত সংশোধন হবে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে পদোন্নতি দেয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর এখন এসব কর্মকাণ্ডে তারা মানসিক চাপে আছেন। এতে কর্মপরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের উদ্দীপনা ফেরাতে গত ২৩ আগস্ট ৯৫ জনকে পদোন্নতি দেন ডিএসইর সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূঁইয়া। কিন্তু নিজেদের মনমতো না হওয়ায় শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিল পরিচালনা পর্ষদ। এ টানাপড়েনের সমাপ্তি ঘটে এমডির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে।

পদোন্নতি পাওয়া ডিএসইর একজন মহাব্যবস্থাপক নিউজবাংলাকে জানান, এমডি পদত্যাগ করার পর, তাদেরকে মেইল করে আগের পদবি ব্যবহার করে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এতে বিস্ময় প্রকাশ করে সেই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা কীভাবে হতে পারে? যেখানে অফিশিয়ালি আমাদের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে, সেখানে মেইল করে পদ বাতিল করে আগের পদেই কাজ করার কথা বলাটা কতটুকু যৌক্তিক?

‘পদোন্নতির খেলায়’ 
ডিএসইতে অসন্তোষ
ডিএসইতে পদোন্নতি নিয়ে বিরোধের জেরে এমডির পদ ছেড়েছেন তারিক আমিন ভূঁইয়া

পদোন্নতি বাতিল হওয়ায় মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান একজন সিনিয়র ম্যানেজার। তিনি বলেন, ‘আমাকে যখন পদোন্নতি দেয়া হলো, তখন আমি সব মহল থেকে অনেক শুভেচ্ছা পেয়েছি। এখন পদোন্নতি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। ঠিকমতো কাজে মনোযোগ দিতে পারছি না। সব জায়গায় হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। এটা রীতিমতো একটা মানসিক টর্চার।

‘এখন আমার পদ কী, সেটাই নিশ্চিত নই। অফিশিয়ালি জানানো হয়েছে আমি সিনিয়র ম্যানেজার হয়েছি। অথচ মেইল করে বলা হচ্ছে আমি ম্যানেজারই আছি। এখন আমি কোনটা লেখব? কোনটা ঠিক? এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর খুঁজে পাই না।’

জিএম পদবির আরেকজন বলেন, ‘ভুল করলে কর্তৃপক্ষ করেছে। সে জন্য এমপ্লয়িরা কেন শাস্তি পাবেন, অপমানিত হবেন, এটা কী আইন।’

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা জানান, আগের এমডির নির্দেশনা মেনে যারা কাজ করেছেন, তারা এখন নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন। জিএম হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া একজন বলেন, ‘এক মাসের বেশি হয়েছে আমি পদোন্নতি পেয়েছি। কিন্তু এইচআর থেকে বলা হয়েছে আমি নাকি সেই ডিজিএমই আছি। আবার আমাকে জিএম হিসেবে গাড়ি দেয়া হচ্ছে, মোবাইল অ্যালাউন্সসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও দেয়া হচ্ছে জিএম হিসেবেই। তাহলে আমার পদ কোনটা?’

পদোন্নতি পাওয়া একজন এজিএম বলেন, ‘আমাদের পদোন্নতি দেয়া হলেও, আমরা সে অনুযায়ী টাইটেল লিখতে পারছি না। আমাদের টাইটেল লিখতে বাধা দেয়া হচ্ছে।’

কর্তৃপক্ষ কী বলছে

এ বিষয়ে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘খুব শিগগিরই বোর্ড মিটিং করে এসব কর্মকর্তার পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বেশ কিছু পদ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল হবে। আর কিছু সংশোধন করা হবে।’

তিনি বলেন, যেখানে আইন আছে, কর্তৃপক্ষ আছে, সেখানে তো কেউ চাইলেই তা লঙ্ঘন করতে পারে না। আইন যেখানে লঙ্ঘন করা হয়েছে, তা ঠিক করতে হবে। যেসব কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল তা সম্পূর্ণ আইন লঙ্ঘিত করে দেয়া হয়েছিল। সেটাই ঠিক করা হবে।’

কবে এটা কার্যকর হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই এটা হচ্ছে। যেগুলো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তা থেকে কিছু বাদ যাবে আর কিছু সংশোধন হবে।’

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের ইমেইলে আগের পদেই বহাল থেকে কাজ করতে নির্দেশনা প্রসঙ্গে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, ‘বোর্ড থেকে সিদ্ধান্ত আসার পরপরই, সবাইকে আবারও অফিশিয়ালি জানিয়ে দেয়া হবে তাদের পদের ব্যাপারে। এতে তাদের কাজের কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না ।’

জানতে চাইলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের এখনও কিছু জানায়নি ডিএসই। আমরা রোববার খবর নেব। বিষয়টা এমন হতে পারে, ওদের অর্গানোগ্রামের বাইরে বোধ হয় কয়েকটা পদোন্নতি হয়ে গেছে, তাই হয়ত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী সংশোধন হতে পারে।’

‘যদি ডিএসই অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী সংশোধন বা পদোন্নতি বাতিল করে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। যদি এর বাইরে করে তাহলে আমাদের জানাবে’- যোগ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

এর আগে জিএম থেকে সিনিয়র জিএম তিনজন, ডিজিএম থেকে জিএম তিনজন, এজিএম থেকে ডিজিএম তিনজন, সিনিয়র ম্যানেজার থেকে এজিএম ১৯ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়। এ ছাড়া ম্যানেজার থেকে সিনিয়র ম্যানেজার ১৫ জন, ডেপুটি ম্যানেজার থেকে ম্যানেজার ২৯ জন, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ থেকে ডেপুটি ম্যানেজার ২৯ জন, এক্সিকিউটিভ থেকে ডেপুটি ম্যানেজার ১০ জন, জুনিয়র এক্সিকিউটিভ থেকে এক্সিকিউটিভ ছয়জন, সিনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে জুনিয়র এক্সিকিউটিভ একজন, অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে সিনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট দুজন, জুনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট একজন, জিএসএস থেকে জুনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ছয়জন পদোন্নতি পান।

আরও পড়ুন:
ক্রেতা নেই শেয়ারের, ২০০ কোম্পানিতে লেনদেন ৪০ কোটি
পুঁজিবাজারের নিয়ে বিএমবিএ-বিআইসিএমের সমঝোতা
২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা
নূরানীর জালিয়াতি: বিনিয়োগকারীর বিপুল লোকসানের দায় কার
বেক্সিমকোর উত্থান, ওরিয়নের পতন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Sonali Bank will give loan for cinema hall renovation

সিনেমা হল সংস্কারে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক

সিনেমা হল সংস্কারে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক পঞ্চগড়ের টুনিরহাট সিনেমা হলে চলে ভাঙ্গারির ব্যবসা। এ ধরনের হল সংস্কারে অর্থ দেবে সোনালী ব্যাংক। ফাইল ছবি
সিনেমা হলের মালিকদের ঋণ দিতে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ‘অংশগ্রহণ চুক্তিপত্র’ সই করেছে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলনকক্ষে বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংকের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও ও এমডি আফজাল করিম। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সই করেন অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগের পরিচালক আবদুল মান্নান।

দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে হলগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়ন এবং নতুন সিনেমা হল নির্মাণে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক।

চলচ্চিত্রের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সিনেমা হলগুলোর জন্য এক হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেড় শতাংশ হারে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে পারে। বিভাগীয় শহরের জন্য সুদহার হবে ৫ শতাংশ। অন্যান্য এলাকায় সাড়ে ৪ শতাংশ।

সেই ধারাবাহিকতায় এবার সিনেমা হলের মালিকদের ঋণ দিতে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ‘অংশগ্রহণ চুক্তিপত্র’ সই করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলনকক্ষে বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংকের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আফজাল করিম। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সই করেন অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগের পরিচালক আবদুল মান্নান।

নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো এ ঋণ দেবে। এর বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন নিতে পারবে। আর সময়মতো ঋণ শোধ না করলে ব্যাংকগুলোর হিসাব থেকে টাকা কেটে নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ তহবিল থেকে সিনেমা হল সংস্কার, আধুনিকায়ন ও নতুন হল নির্মাণে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নেয়া যাবে।

বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্সে বিদ্যমান সিনেমা হলসহ নতুনভাবে নির্মিত সিনেমা হলগুলোও এই তহবিলের আওতায় ঋণ সুবিধা পাবে, তবে চলতি মূলধন বাবদ কোনো ধরনের ঋণ দেয়া হবে না।

তহবিলের আওতায় গৃহীত ঋণ দিয়ে কোনোভাবেই অন্য কোনো ঋণের দায় শোধ করা যাবে না।

এ ঋণ শোধ করা যাবে আট বছর পর্যন্ত। প্রথম বছরে ঋণ পরিশোধে পাওয়া যাবে গ্রেস পিরিয়ড।

আরও পড়ুন:
নরসিংদীর শিবপুরে ইসলামী ব্যাংক
নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে এক্সিম ব্যাংকের উপশাখা
টেকসই ও সবুজ অর্থায়নে ব্যয় বাড়িয়েছে ব্যাংক
মামলা থাকলে শুদ্ধাচার পুরস্কার নয়
গম-ভুট্টা চাষে ঋণ দেবে সোনালী ব্যাংক

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Excess profit in dollars 6 remaining banks also liquidated

ডলারে অতিরিক্ত মুনাফা: বাকি ৬ ব্যাংককেও নিষ্কৃতি

ডলারে অতিরিক্ত মুনাফা: বাকি ৬ ব্যাংককেও নিষ্কৃতি প্রতীকী ছবি
ছয় ব্যাংকের এমডির কাছে পাঠানো চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতির বিষয়টি জানায়। ওই ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), ঢাকা ব্যাংক ও এইচএসবিসি ব্যাংক।

ডলার কেনাবেচা থেকে অতিরিক্ত মুনাফা করা ১২ ব্যাংকের মধ্যে বাকি ৬টিকেও অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংক ছয়টির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে পাঠানো চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

ওই ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), ঢাকা ব্যাংক ও এইচএসবিসি ব্যাংক।

ব্যাংকগুলোর একাধিক ট্রেজারি কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর পাঠানো চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। মে-জুন মাসে ডলার কেনাবেচা করে ব্যাংকগুলো যে মুনাফা করেছিল তার অর্ধেক আয় খাতে নিতে বলা হয়েছে। বাকি অর্ধেক অর্থ সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতে (সিএসআর) বরাদ্দ রাখতে বলা হয়েছে।

এর আগে ব্যাংকগুলোর করা এই মুনাফার পুরোটাই আলাদা রাখতে নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ডলার কেনাবেচা থেকে অতিরিক্ত মুনাফা করা ৬ ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। জবাবে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি দেয়।

সব মিলিয়ে অভিযুক্ত ১২ ব্যাংককে ডলার কেনাবেচা থেকে অতিরিক্ত মুনাফা ও ভুল তথ্য দেয়াসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ থেকে মুক্তি দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে ডলারে অতি মুনাফার জন্য বেসরকারি ছয় ব্যাংকের ট্রেজারিপ্রধানদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক যে ব্যবস্থা নিয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে ওই দায়িত্বে ফেরার সুযোগ দেয়া হয়।

আগের ৬ ব্যাংক হলো ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, প্রাইম ও সাউথইস্ট ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। সেপ্টেম্বরে তাদেরও ডলার কেনাবেচা থেকে করা মুনাফা নিয়ে একই নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।

তখন ওই ৬ ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানদের সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে আগের পদে ফেরার সুযোগও দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কোন ব্যাংক কত মুনাফা করল

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের হিসাবে ডলার কেনাবেচা থেকে ব্যাংক এশিয়া ১৭৭ কোটি বা ৭৭০ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংক ১২৬ কোটি বা ৫০৪ শতাংশ, ব্র‍্যাক ব্যাংক ৭৫ কোটি বা ৪১৭ শতাংশ, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ১০৬ কোটি বা ৪০৩ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংক ১০৬ কোটি বা ৩৫৩ শতাংশ, সিটি ব্যাংক ১৩৬ কোটি বা ৩৪০ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ১২০ কোটি বা ২৪৫ শতাংশ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ৯৭ কোটি বা ২৩৪ শতাংশ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ১৩৫ কোটি বা ২০৫ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংক ৪৩ কোটি বা ১৫৯ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংক ১৩৬ কোটি বা ১৪০ শতাংশ মুনাফা করে।

চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় কিছুটা কমার কারণে ডলারের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।

বাজারে আরও স্থিতিশীলতা আনতে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) সব ব্যাংকের জন্য ডলারের একক দর নির্ধারণ করে দেয়। রেমিট্যান্স আনতে প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ দর হবে ১০৭ টাকা ৫০ পয়সা এবং রপ্তানি বিল নগদায়ন হবে সর্বোচ্চ ৯৯ টাকায়।

আমদানির ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স আহরণ ও রপ্তানি বিল নগদায়নে ব্যাংকগুলোর গড় খরচের সঙ্গে এক টাকা যোগ করে আমদানিকারকের কাছে ডলার বিক্রি করবে ব্যাংকগুলো। অর্থাৎ স্প্রেড সীমা হবে এক টাকা।

পয়লা অক্টোবর থেকে দেশের সব ব্যাংকে এই দর অনুসরণ করা হবে বলে জানায় বাফেদা।

আরও পড়ুন:
ডলারের বিপরীতে রেকর্ড পতন চীনা ইউয়ানের
রেমিট্যান্সে ডলারের দর কমল ৫০ পয়সা
কমছে রেমিট্যান্সের ডলারের দর
৩৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এলো রিজার্ভ
ডলারকে দুর্বল করে এবার শক্তি পাচ্ছে টাকা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
IMF impressed with development of financial inclusion in Bangladesh

বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিকাশে মুগ্ধ আইএমএফ

বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিকাশে মুগ্ধ আইএমএফ
আইএমেএফের ডিএমডি আন্তোয়েনেট এম সায়েহ বলেন, ‘আমাদের আজকের অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ। বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির যাত্রা শুরু হয় এক দশক আগে। এই সময়ে দেশটি বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবার মধ্যে আনতে সক্ষম হয়েছে। অনেক দেশের বাংলাদেশের কাছ থেকে শেখার আছে।’

বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির দ্রুত বিকাশের গল্প শুনে মুগ্ধ হয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আন্তোয়েনেট এম সায়েহ।

তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এগোচ্ছে। সমানতালে এগুচ্ছে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি; উন্নত হচ্ছে আর্থিক সেবাদান প্রক্রিয়া। বর্তমানে বাংলাদেশে আর্থিক লেনদেনের জন্য মোবাইল ফোনের ব্যবহার একটি সাধারণ ব্যাপার। মানুষ ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবা, এজেন্ট ব্যাংকিং, শাখাবিহীন ব্যাংকিং এবং মোবাইল মানি ব্যবহারে অভ্যস্ত। এক দশকে দেশটির এই সাফল্য দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ। এক্ষেত্রে অনেক দেশের বাংলাদেশের কাছ থেকে শেখার আছে।’

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পথচলা নিয়ে আয়োজিত এক ওয়েবিনারের তিনি এ কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফের সদর দপ্তর থেকে ওয়েবিনারটি পরিচালনা করা হয়। এতে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন আন্তোয়েনেট এম সায়েহ। এতে বাংলাদেশ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান, মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

ওয়েবিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর চ্যাং ইয়ং রি। আরও দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, সিনিয়র আইএমএফের ইনস্টিটিউট ফর ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্টের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ তাও উ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান।

কেনিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর প্যাট্রিক নজোরোজসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দুইশ’র বেশি ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও তথ্য প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা ওয়েবিনারে অংশ নেন।

‘ফিনটেক অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যান্ড দ্য কেস অফ বাংলাদেশের: পিয়ার-লার্নিং সিরিজ’ শীর্ষক এই ওয়েবিনারে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন আইএমএফের ডিএমডি আন্তোয়েনেট এম সায়েহ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের আজকের অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ। বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির যাত্রা শুরু হয় এক দশক আগে। এই সময়ে দেশটি বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবার মধ্যে আনতে সক্ষম হয়েছে। এই যাত্রা, যা প্রথম মাইক্রোক্রেডিট (ক্ষুদ্র ঋণ) দিয়ে শুরু হয়েছিল, তারপর থেকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সব দিককে কভার করার জন্য বিকশিত হয়েছে। একদিকে যেমন সুযোগ সুবিধা বেড়েছে। তেমনি ব্যবহার ও গুণমানের দিক দিয়েও অনেক দূর এগিয়ে গেছে দেশটি।’

‘বর্তমানে বাংলাদেশে আর্থিক লেনদেনের জন্য মোবাইল ফোনের ব্যবহার একটি সাধারণ ব্যাপার। মানুষ ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবা, এজেন্ট ব্যাংকিং, শাখাবিহীন ব্যাংকিং এবং মোবাইল মানি ব্যবহারে অভ্যস্ত। অল্প সময়ের মধ্যে স্বপ্নের মতো এ সব সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।’

এম সায়েহ বলেন, ‘সরকারি নীতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোগকে সক্ষম করেছে এবং নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা করেছে। আর সুবিধাগুলো শুধু শহুরে এলাকার জন্যই নয়; কৃষি এবং গ্রামীণ খাতগুলোও নীতির জন্য অগ্রসর হয়েছে-যেমন ফ্লোর অন ক্রেডিট, যা রেয়াত শর্তে পুনঃঅর্থায়ন লাইন দ্বারা সমর্থিত।’

‘অবশ্যই, এই গতি বজায় রাখার জন্য, সুবিধাকে আরও প্রসারিত করতে এবং লিঙ্গগত ব্যবধানগুলোকে দূর করতে আরও কাজ করা দরকার। তবে আমি অবশ্যই বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে তাদের সাম্প্রতিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশলের সমৃদ্ধ নীতিমালার জন্য প্রশংসা করব, যা অগ্রাধিকার খাতে ঋণ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে অর্থায়ন, লিঙ্গ অগ্রাধিকার, গ্রামীণ এলাকায় অর্থের সুবিধা এবং সবুজ অর্থায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোকে কভার করে।’

‘বাংলাদেশ ডিজিটাল অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বিনিয়োগ করেছে এবং সেই অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে অনেক নতুন কোম্পানির আবির্ভাব হয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে আমি জেনে ও শুনে মুগ্ধ হয়েছি। ক্রেডিট ব্যুরো, সম্পদ নিবন্ধন, পেমেন্ট সিস্টেম এবং মাইক্রো-ফাইনান্স প্রতিষ্ঠানের মতো ক্ষেত্রগুলোকে ক্রমাগত জোর দেওয়া আর্থিক পরিষেবার খরচ আরও কমিয়ে দেবে। এর মধ্যে কিছু অর্জনের জন্য বেসরকারি খাতের সঙ্গে সহযোগিতা করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। কিন্তু উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।’

‘বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে আমি বলতে চাই, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৈষম্য হ্রাস করার ক্ষেত্রে বড় অবদান রাখে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার ক্ষমতা রাখে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ওয়েবিনারে আইএমএফের কর্মকর্তারা ছাড়াও সব দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিকাশে প্রশংসা করেছেন। আমি এতে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছি। তাতে বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিকাশের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।’

আইএমএফের ওয়েবসাইটে ওয়েবিনারটি সরাসরি প্রচার করা হয়।

ব্যাকিং সেবার বাইরে থাকা এবং সীমিত ব্যাংকিং সেবা পাওয়া জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে ১০ বছর আগে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস খাত। ১০ বছরের পথচলায় এমএফএস খাতের ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে অনেক অর্জন, যা দেশের সীমা ছাড়িয়ে বিশ্বের বুকে উদাহরণ তৈরি করেছে।

দেশের কোটি মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে এমএফএস খাতের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। এখন একজন গ্রাহক তার দৈনন্দিন প্রায় সব ধরনের আর্থিক লেনদেন এমএফএস দিয়েই করতে পারেন। টাকা যেখানে প্রয়োজন সেখান থেকেই ব্যবহারের এই অনন্যতার কারণেই এমএফএস বিপ্লব আনতে পেরেছে।

সরকারের সদিচ্ছা, বাংলাদেশ ব্যাংকের যথাযথ দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধান এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টায় গত এক দশকে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় প্রভাব রাখতে সক্ষম হয়েছে এমএফএস। ২০১৩ সালে যেখানে বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ছিল মাত্র ২০ শতাংশ, এমএফএস সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কল্যাণে ২০২১ সালে এসে তা বেড়ে ৬৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

১১ কোটি বেশি গ্রাহকসংখ্যা, দৈনিক আড়াই হাজার কোটি টাকার লেনদেন এবং ১১ লাখের বেশি এজেন্টের সুবিস্তৃত নেটওয়ার্ক নিয়ে এমএফএস খাত বাংলাদেশের আর্থিক খাতের চেহারা বদলে দিচ্ছে।

অন্যদিকে ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্রায় সব ব্যাংক এখন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামের মানুষকেও ব্যাংকিংসেবা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন:
খুদে ভক্তকে ক্রিকেট সরঞ্জাম ও জার্সি উপহার সাকিবের
বাংলাদেশ সংকটে নেই: আইএমএফ
‘ক্ষুদে সাকিব’ বল করলেন সাকিব আল হাসানকে
সুইস ব্যাংকে দুর্নীতির অর্থ রাখার সুযোগ নেই: রাষ্ট্রদূত
৯৯% বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধার ঘোষণা চীনের

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Without reforms GDP growth will fall to 5 percent World Bank

সংস্কার না হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে নামবে: বিশ্বব্যাংক

সংস্কার না হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে নামবে: বিশ্বব্যাংক
সংস্কার না হলে দেশটির মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির গতিও কমে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়ে বিশ্বব্যাংক বলেছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে বিশ্বের শীর্ষ প্রবৃদ্ধির দেশগুলোর মতো বাংলাদেশকে প্রবৃদ্ধির কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে।

বাংলাদেশের টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে তিনটি বাধা চিহ্নিত করেছে উন্নয়ন সংস্থা বিশ্বব্যাংক। এই বাধাগুলো দূর করতে সংস্কার কার্যক্রম জোরালো না হলে ২০৩৫ থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে নেমে যেতে পারে। আর মোটামুটি ধরনের সংস্কার হলে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ হবে। আর ভালো রকম সংস্কার হলে সাড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে।

অন্যদিকে সংস্কার না হলে দেশটির মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির গতিও কমে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়ে বিশ্বব্যাংক বলেছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে বিশ্বের শীর্ষ প্রবৃদ্ধির দেশগুলোর মতো বাংলাদেশকে প্রবৃদ্ধির কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে।

বাংলাদেশের পেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংক যে তিনটি বাধা চিহ্নিত করেছে, সেগুলো হচ্ছে- বাণিজ্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস, দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক খাত এবং ভারসাম্যহীন ও অপর্যাপ্ত নগরায়ণ। এ তিন বাধা দূর করতে পারলে বাংলাদেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি আরও টেকসই হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘দ্য কান্ট্রি ইকোনমিক মেমোরন্ডোম- চেঞ্জ অব ফেব্রিক’ শীর্ষক প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে এসব কথা বলা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। আয়োজনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ডানডান চেন।

এতে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অর্থনীতির বিশ্লেষক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন এবং বর্তমান জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ নোরা ডিহেল। প্যানেল আলোচক ছিলেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান এবং এসবিকে টেক ভেঞ্চারস এবং এসবিকে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সোনিয়া বশির কবির।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, `বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কথা বলেছে। এটা ঠিক যে, আকাশে কালো মেঘ আমরা দেখতে পারছি। তবে আমরা আশা করি, এই কালো মেঘ থেকে ঝড় আসবে না। কেননা, ঝড় কারও জন্যই মঙ্গল হবে না। লাঠিসোঁটা দিয়ে দ্রব্যমূল্য বা মুদ্রাস্ফীতি কমানো যাবে না। এগুলোর জন্য কাজ করতে হবে, বসে আলোচনা করতে হবে। আমরা একটি বিশ্বমানের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠতে চাই এবং সেই বিবেচনায় আমাদের বিশ্বমানের আচরণে গড়ে উঠতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাণিজ্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস, দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক খাত এবং ভারসাম্যহীন ও অপর্যাপ্ত নগরায়ণ বাংলাদেশের টেকসই প্রবৃদ্ধি অজনের পথে প্রধান বাধা। এই তিনটি বাধা দূর করতে পারলে উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি আরও টেকসই হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক দশক ধরে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি সেরা প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশগুলোর একটি হলো বাংলাদেশ। কিন্তু এতে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কারণ নেই। অর্থনীতির তেজিভাব কখনো স্থায়ী প্রবণতা নয়। দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি সব সময় উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। তবে কয়েকটি দেশ দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। শীর্ষ ১০-এ থাকা দেশগুলোর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ দেশ পরের দশকেও উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত এক দশকে (২০১০-১৯) যেসব দেশ শীর্ষ ১০-এ ছিল, সেসব দেশ আগের দশকে শীর্ষ ১০-এ ছিল না।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিশ্বব্যাংক কিছু সুপারিশ করেছে। যেমন রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের শুল্ক-করহার অন্য দেশের তুলনায় বেশি, যে কারণে বাণিজ্য সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ব্যাংক খাত সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক বলেছে, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংক খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। কিন্তু দেশের আর্থিক খাত অতটা গভীর নয়। গত চার দশকে আর্থিক খাতের উন্নতি হলেও এখনো তা পর্যাপ্ত নয়। অন্যদিকে আধুনিক নগরায়ণই বাংলাদেশের পরবর্তী ধাপের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভারসাম্যপূর্ণ আধুনিক নগরায়ণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান বলেন, ‘বন্ধু হিসেবে বিশ্বব্যাংক আমাদের বেশকিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে। আমরা এই প্রতিবেদনের প্রস্তাবগুলো দেখব; তারপর সেখান থেকে পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যবস্থা নেব। বিশেষ করে তারা কয়েকটি কথা বলেছে, যেমন আমরা কাপড়ের ওপর নির্ভরশীল, ব্যাংকিং সেক্টরে আমাদের কিছু সমস্যা আছে। তবে আমাদের একটা লেভেল আছে এবং আমরা আরও উন্নতি করতে চাই।’

‘দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক কিছু সমস্যা আছে, এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং এর ফল আমরা হাতে হাতে পেয়েছি। প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, খাদ্য ঘাটতি কমেছে, প্রত্যেক ঘরে বিদ্যুৎ গেছে, সাক্ষরতা বেড়েছে। সারা বাংলাদেশে এপার থেকে ওপারে যাবেন, একটা ফেরি পার হতে হবে না। এগুলো কি চিন্তা করার মতো বিষয় নয়? সুতরাং যেসব বিষয়ে বিশ্বব্যাংক বলেছে, আমরা তা করছি এবং চালিয়ে যাব।’

সংস্কার না হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে নামবে: বিশ্বব্যাংক

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের বর্তমান জিডিপি হচ্ছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। এই অবস্থা চলতে থাকলে এটি ক্রমেই নিচের দিকে যাবে। ২০২১ থেকে ’২৫ সাল পর্যন্ত গড়ে এটি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ থাকবে। ২০২৬-৩০ সালের মধ্যে আরও কমে ৬ দশমিক শূন্য শতাংশে আসবে। ২০৩১ থেকে ’৩৫ সালে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, এমনকি ২০৩৬-৪১ সালে এটি ৫ শতাংশে নেমে আসবে। তবে মডারেট রিফর্ম অর্থাৎ আরওে কিছুটা ভালোভাবে গেলে ২০২১ থেকে ’২৫ সাল পর্যন্ত গড়ে এটি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হবে। ২০২৬ থেকে ’৩০ সালের মধ্যে হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০৩১ থেকে ’৩৫ সালে ৬ দশমিক ২ শতাংশ এবং ২০৩৬ থেকে ’৪১ সালে এটি ৫ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসবে।

আর জোরালো সংস্কার অর্থাৎ অর্থনীতির চাকা আরও শক্তিশালী হলে ২০২১ থেকে ’২৫ সাল পর্যন্ত গড়ে এটি ৭ শতাংশ। ২০২৬ থেকে ’৩০ সালের মধ্যে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০৩৬-৪১ সালে এটি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে।

প্রতিবেদনের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান আরও বলেন, ‘টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ প্রতিবেদনে যেসব চ্যালেঞ্জের কথা বলা হয়েছে সেগুলো আমরা সমাধানে উদ্যোগ নিচ্ছি। তবে সবগুলো একসঙ্গে হবে না। আকাশে কালো মেঘ দেখতে পায়, আমরা আশা করব কালো মেঘ থেকে ঝড় আসবে না। ঝড় কারোর জন্যই মঙ্গল হবে না। এটা সবার জন্যই অমঙ্গল হবে।’

‘আজকে আবারও বলছি, আমাদের সবাইকে আলোচনার পথে আসতে হবে। সভ্যতা-ভভ্যতার পথে আসতে হবে। একটা বিশ্বমানের রাষ্ট্র হিসেবে আমরা এটাকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সেই বিবেচনায় আমাদের বিশ্বমানের আচরণও করতে হবে। আমি বিনয়ের সঙ্গে সব মহলের রাজনীতিবিদদের বলব, আসুন আলোচনা করি।’

তিনি বলেন, ‘সড়কে লাটিসোঁটা নিয়ে দ্রব্যমূল্য কমানো যাবে না। লাটিসোঁটা দিয়ে মূল্যস্ফীতি বা মুদ্রাস্ফীতিও কমানো যাবে না। মূল্যস্ফীতি কমাতে গেলে বসে কথা বলতে হবে, আমাদের মিলেমিশে কাজ করতে হবে।’

ব্যাংকিং খাত নিয়ে এম এ মান্নান বলেন, ‘ব্যাংকি খাতের সমস্যা আছে। এগুলো মোকাবিলা করব। আমরা এগুলো সমাধান করব। আমাদের সংস্কার করতেই হবে, আমাদের ভোটাররা এটা চাই। পলিটিক্যাল কিছু বিষয় আছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।’

এক যুগে দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘জোর কদমে হাঁটতে পারব না, তবে কদম সামনে যাবেই। আমরা সঠিকপথে আছি, শেখ হাসিনার কৌশল দেশের জন্য কল্যাণ হচ্ছে। শেখ হাসিনার কৌশল মানেই দেশের কল্যাণের জন্য। শেখ হাসিনার কৌশলের ফল আমরা হাতে হাতে পেয়েছি। দেশে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, খাদ্য ঘাটতি কমেছে, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ গেছে। খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে, সাক্ষরতার হার বেড়েছে আর কটা বলব।’

‘সারা বাংলাদেশ এপার-ওপার করতে পারে সেতু হয়েছে, কালভার্ট হয়েছে। শ্যামগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জ, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া গাড়ি চালিয়ে যাবেন একটা খালও আপনার জন্য সমস্যা না, সবখানে সেতু। এটা আমরাই করেছি।’

আরও পড়ুন:
শেখ হাসিনার উন্নয়ন-নেতৃত্বের প্রশংসায় বিশ্বব্যাংক
করোনার ধাক্কা সামলাতে আরও ৩০ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক
বন্যা মোকাবিলায় ৫০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে ৪৮১২ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ: ক্ষতিপূরণ চান মোমেন

মন্তব্য

p
উপরে