চামড়া কেনার টাকা নেই কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ীদের

চামড়া কেনার টাকা নেই কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ীদের

কুষ্টিয়ার মোকামে চলছে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ। ছবি: নিউজবাংলা

কুষ্টিয়ার চামড়া ব্যবসায়ীদের পাওনা ১৪ কোটির মধ্যে মাসুদ মিয়া নামে একজনেরই ৬ কোটি টাকা। বকেয়ার এ টাকার কিছুই পাননি মাসুদ। ট্যানারি মালিকরা বকেয়ার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ দিয়েই পরিশোধ হিসেবে ধরার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীদেরকে। এ শর্ত কেউ মেনেছেন আবার কেউ ফিরে এসেছেন।

ঢাকা ও সাভারের ট্যানারি মালিকদের কাছে দেশের অন্যতম মোকাম কুষ্টিয়ার চামড়া ব্যবসায়ীদের বকেয়া ছিল ১৪ কোটি টাকা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পাওনা টাকার জন্য দেনায় জর্জরিত এসব ব্যবসায়ীরা দুই সপ্তাহ ধরে ধর্না দিয়েছেন ট্যানারি মালিকদের কাছে। পরে নানা শর্তে পেয়েছেন মাত্র দুই কোটি টাকা।

সেই টাকা আর পরিচিতজনদের কাছ থেকে পাওয়া ঋণের কিছু টাকায় এবার কোরবানির পশুর চামড়া কেনার সম্বল এখানকার ব্যবসায়ীদের। তবে তাদের দাবি, এ টাকা খুবই সামান্য। ঠিকমতো চামড়া কেনা ও তা প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাত করে ঢাকায় পাঠানোর মতো মূলধন নেই তাদের।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে তাদের আরেক চ্যালেঞ্জ পরিবহন। ঈদের একদিন পরই দেশে শুরু হচ্ছে ১৪ দিনের লকডাউন। চামড়াবাহী যান এ লকডাউনের সীমার বাইরে থাকলেও, ফেরার পথে আটকানো হতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের। সেক্ষেত্রে চামড়া ঠিকমতো পাঠাতেও পারবেন না।

কুষ্টিয়া জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিস কোরাইশী জানান, পাওনা ১৪ কোটির মধ্যে মাসুদ মিয়া নামে একজনেরই ৬ কোটি টাকা। বকেয়ার এ টাকার কিছুই পাননি মাসুদ। ট্যানারি মালিকরা বকেয়ার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ দিয়েই পরিশোধ হিসেবে ধরার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীদেরকে। এ শর্ত কেউ মেনেছেন আবার কেউ ফিরে এসেছেন।

তিনি বলেন, ‘ওই প্রস্তাব মেনে নিতে হলে কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ীদের পুঁজিই হারিয়ে যাবে। পথে বসার উপক্রম হবে। তারপরও অনেকেই মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন। সব মিলিয়ে ২ কোটি টাকার মতো পেয়েছেন কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ীরা।’

অর্থের অভাবে আগের মতো চামড়া কিনতে পারবেন না জানিয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সব মিলিয়ে এ মোকাম এবারও ঝিমিয়ে পড়তে পারে।

কুষ্টিয়া শহরের বারর আলী গেট এলাকায় রয়েছে ৫০ চামড়া ব্যবসায়ীর আড়ত। আনিস কোরাইশী নামে এখানকার একজন বলেন, ‘চামড়া ব্যবসায়ীরা এত ক্ষতির মুখে তারপরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রণোদনা বা অনুদান পাননি।

‘আমরা চাইও না। তবে পাওনা টাকা তুলে দিতে পারলে আবার ব্যবসা করতে পারতাম। ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করলে আরও ভালো হতো।’

চামড়া পরিবহন নিয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, চামড়ার যান লকডাউনের আওতামুক্ত হলেও হয়রানি হতে পারে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ১৯ ও ২০ জুলাই বৈঠক করেছেন তারা। আশ্বাস পেয়েছেন। তারপরও শঙ্কা যায়নি।

ব্যবসায়ী সাদিকুল হক বলেন, ‘গ্রাম এলাকায় স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনে করেই এসব চামড়া পরিবহন হবে। এদের বৈধ লাইসেন্স নেই। চামড়া আনলোড করে ফেরার পথে সমস্যায় পড়বে বলে আশঙ্কা করছি। একবার কাউকে আটকালে আর যানবাহন পাওয়া যাবে না।’

চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি হাজী মোজাম্মেল হক জানান, মহাজনদের কাছে অনেক টাকা পাওনা রয়েছে। এই টাকা না পেলে চামড়া কিনতে পারবেন না। অনেক দিন বেচাকেনা ভালো নেই।

করোনা মহামারির কারণে গতবারের তুলনায় এবার কোরবানি কম হবে বলে ধরে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রাজু আহমেদ নামে এক ব্যবসায়ী জানান, মানুষ বাড়ির ওপর যাবে, করোনা ছড়াতে পারে। এ ছাড়া আর্থিক সংকট রয়েছে। এ কারণে কোরবানিই কম হবে বলে মনে হচ্ছে।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘কোনো সংকটের কারণে যদি চামড়া কেনায় ঘাটতি হয়, তাহলে গতবারের মতো গ্রামে গ্রামে চামড়া ফেলে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। আর ব্যবসায়ীরা কিনতে না পারলে চামড়া সীমান্ত দিয়ে পাচার হতে পারে।’

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলম বলেন, ‘কেউ একটি চামড়াও সীমান্তে নিয়ে যেতে পারবে না। এ ব্যাপারে পুলিশ আগে থেকেই সজাগ আছে।’

আরও পড়ুন:
চামড়া নিয়ে আগ্রহ নেই সিলেটের ব্যবসায়ীদের
চামড়া ব্যবস্থাপনা তদারকে তিনস্তরের কমিটি
চামড়া শিল্পনগরীর ‘গোড়ায় গলদ’
গরুর চামড়ার দাম বাড়ল ৫, ছাগলের ২ টাকা
চামড়ার ঋণে ব্যাংকের অনীহা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ছবি: মংগৃহীত

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘প্রিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের আহাম্মদ নগর ছোটপোদ্দার বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ২১ বছর বয়সী নওরোজ আফরিন প্রিয়া ওই এলাকার প্রবাসী ইসমাইল হোসেনের একমাত্র মেয়ে। তার দুই বছরের একটি মেয়ে আছে।

পুলিশ সুপার (এসপি) মিলন মাহমুদ বলেন, ‘প্রিয়া পাঁচ দিন আগে কুমিল্লা থেকে পবিরারসহ বাবার বাড়ি বেড়াতে আসেন। ঘটনার সময় ঘরে তিনি ও তার মেয়ে ছিলেন। পরে ঘর থেকে প্রিয়ার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’

এসপি আরও বলেন, ‘বাড়িটি নিরিবিলি এলাকায় ছিল। তবে ঘরের কোনো মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির আলামত পাওয়া যায়নি। ঠিক কী কারণে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

দুর্বৃত্তরা মাকে হত্যা করলেও তার শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। সে তার মায়ের মরদেহের পাশে বসে কাঁদছিল বলে জানান ওসি।

নিহতের মা রুমি আক্তার আহাজারি করে বলেন, ‘আমার নাতিন অসুস্থ। ওর জন্য ওষুধ আনতে পাশের বাড়ির স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে যাই। ঘরে এসে দেখি আমার মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কারা কেন এমন করেছে, আমি কিছুই জানি না।’

নিহত প্রিয়ার ভাই পরশ জানায়, ‘পাঁচ দিন আগে দুলাভাইসহ আপু বাড়ি আসেন। কয়েক দিন বেড়ানোর পর দুলাভাই কুমিল্লা চলে যান। আজকে সন্ধ্যার পর আমি বাজারে যাই। রাতে শুনি আপুকে কারা যেন হত্যা করেছে।’

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘প্রিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের ধরতে পুলিশ মাঠে নেমেছে বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
চামড়া নিয়ে আগ্রহ নেই সিলেটের ব্যবসায়ীদের
চামড়া ব্যবস্থাপনা তদারকে তিনস্তরের কমিটি
চামড়া শিল্পনগরীর ‘গোড়ায় গলদ’
গরুর চামড়ার দাম বাড়ল ৫, ছাগলের ২ টাকা
চামড়ার ঋণে ব্যাংকের অনীহা

শেয়ার করুন

জেএসএস নেতাকে গুলি করে হত্যা

জেএসএস নেতাকে গুলি করে হত্যা

প্রতীকী ছবি

স্থানীয় লোকজন জানান, সুরেশ কান্তি চাকমা তার বাড়ির কাঠাকাছি আরেকটি বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। শুক্রবার ভোররাত ৪টার দিকে কে বা কারা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।

উপজেলার ৩৫ নম্বর বঙ্গলতলী ইউনিয়নের বি ব্লক এলাকায় শুক্রবার ভোররাত ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সুরেশ কান্তি চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস মূল দল) নেতা ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন বঙ্গলতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জ্ঞান জ্যোতি চাকমা।

স্থানীয় লোকজন জানান, সুরেশ কান্তি চাকমা তার বাড়ির কাঠাকাছি আরেকটি বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। শুক্রবার ভোররাত ৪টার দিকে কে বা কারা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। কিছুক্ষণ আগে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

আরও পড়ুন:
চামড়া নিয়ে আগ্রহ নেই সিলেটের ব্যবসায়ীদের
চামড়া ব্যবস্থাপনা তদারকে তিনস্তরের কমিটি
চামড়া শিল্পনগরীর ‘গোড়ায় গলদ’
গরুর চামড়ার দাম বাড়ল ৫, ছাগলের ২ টাকা
চামড়ার ঋণে ব্যাংকের অনীহা

শেয়ার করুন

দেশি বাগানে সৌদির খেজুর

দেশি বাগানে সৌদির খেজুর

ময়মনসিংহের ভালুকায় সৌদি আরবের বিভিন্ন জাতের খেজুরের বাগান গড়ে তুলেছেন আফাজ পাঠান। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৬ সালের শেষের দিকে সৌদি আরবের এক বন্ধুর কাছ থেকে খেজুরের বীজ সংগ্রহ করেন আফাজ পাঠান। সে বছরই দুই বিঘা জমিতে আড়াই হাজার চারা হয়।

মরিয়ম, আজওয়া, ছুকারি, আমবার, বারহী, চেগী, নেপতা, মেগজুনসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন জাতের খেজুর ঝুলছে দেশেরই হাসানিয়া সৌদিয়া নামের এক বাগানে।

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামের আফাজ পাঠান পাঁচ বছর আগে ১০ বিঘা জমিতে গড়ে তোলেন এই খেজুর বাগান।

সৌদি আরবের ১০ জাতের খেজুরের প্রায় ৫ হাজার গাছ ও ৫ হাজার চারা আছে তার বাগানে। বাগান পরিচর্যায় কাজ করেন ১৫ শ্রমিক।

দেশি বাগানে সৌদির খেজুর

২০১৬ সালের শেষের দিকে সৌদি আরবের এক বন্ধুর কাছ থেকে খেজুরের বীজ সংগ্রহ করেন। সে বছরই দুই বিঘা জমিতে আড়াই হাজার চারা হয়।

আফাজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিটি চারা ২ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করি। তবে আমি যে চারাগুলো ২৫ হাজারে বিক্রি করি, সেটির বাজারমূল্য ১ লাখ টাকা। তবুও বাংলাদেশে এই জাতের চারা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কম দামে বিক্রি করছি। প্রতিবছর ২৫ লাখ টাকার চারা বিক্রি করি।

‘লাভের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি হওয়ায় আরও জায়গা কিনেছি। বর্তমানে ১০ বিঘা জমিতে খেজুর চাষ করছি। বাগানের একটি গাছে সাধারণত ১৫০ কেজি খেজুর ধরে। তবে গাছ ৫ থেকে ১০ ফুট লম্বা হলে আরও বেশি হয়।’

খেজুরগাছের চারা বিক্রি করলেও এখনও খেজুর বিক্রি শুরু করেননি আফাজ।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন প্রথম খেজুর চাষের উদ্যোগ নেই, তখন মনে মনে শপথ করেছিলাম কয়েক বছর খেজুর বাজারে বিক্রি করব না। যা হবে সব বিনা মূল্যে মানুষকে খেতে দেব। স্থানীয় লোকজনকে তো দিইই, যারা বাগান দেখতে আসে, তাদের সবাইকে খেজুর দিই। তবে আগামী বছর থেকে বাজারে বিক্রি করব।’

দেশি বাগানে সৌদির খেজুর

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তার বাগান থেকে দেশে সৌদি আরবের খেজুরের চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে মনে করেন আফাজ।

খেজুর চাষ করে শুধু আফাজের ভাগ্যই ফেরেনি, কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার কিছু মানুষেরও।

বাগানে কাজ করতে করতে আব্দুল করিম নামের এক শ্রমিক জানান, আগে দূরে গিয়ে কাজ করার সময় থাকা-খাওয়ায় অনেক টাকা খরচ হয়ে যেত। এখন বাড়ির পাশেই কাজ করছেন। প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে পান। সংসার খরচের পর কিছু টাকা জমাতে পারছেন।

স্থানীয় কৃষক আফছার উদ্দিন খান বলেন, ‘আফাজ পাঁচ বছর আগেও অনেক কষ্টে দিন কাটিয়েছে। এখন তার দেয়া বেতনে অনেকের সংসার চলে। এই সফলতা এসেছে তার পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তির কারণে।’

ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন নাহার জানান, অনেক বেকার যুবক ও স্থানীয় কৃষক আফাজের খেজুর বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। কেউ খেজুর চাষ করতে চাইলে তাকে সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
চামড়া নিয়ে আগ্রহ নেই সিলেটের ব্যবসায়ীদের
চামড়া ব্যবস্থাপনা তদারকে তিনস্তরের কমিটি
চামড়া শিল্পনগরীর ‘গোড়ায় গলদ’
গরুর চামড়ার দাম বাড়ল ৫, ছাগলের ২ টাকা
চামড়ার ঋণে ব্যাংকের অনীহা

শেয়ার করুন

কিস্তির টাকা চাওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধর

কিস্তির টাকা চাওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধর

ব্যাংক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি আনিচুর রহমান মোল্লা জানান, এনআরবিসি ব্যাংকের আড়াইহাজার শাখা থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন স্থানীয় জাকির খান, সজীবুল ইসলাম ও তার মা তাছলিমা আক্তার। কিস্তির টাকা চাওয়া নিয়েই ঘটেছে মারপিট ও হামলা।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ঋণের কিস্তির টাকা চাওয়ায় এনআরবিসি ব্যাংকের শাখা কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

লাসারদী গ্রামে ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়িতে ঢুকে বুধবার রাত ৮টার দিকে তাকে মারধর করে কয়েকজন। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে খাগকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ভাইসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

মামলার বরাত দিয়ে ওসি জানান, এনআরবিসি ব্যাংকের আড়াইহাজার শাখা থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন স্থানীয় দুবাই প্লাজার জাকির খান কম্পিউটার অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের মালিক জাকির খান, খাগকান্দা ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই সজীবুল ইসলাম ও তার মা তাছলিমা আক্তার। কিস্তির টাকা চাওয়া নিয়েই ঘটেছে মারপিট ও হামলা।

ঋণ নেয়ার পর তারা কয়েকটি কিস্তির টাকা পরিশোধ না করায় তাগাদা দেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। বুধবার দুপুরে ব্যাংকের কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, শাখা ব্যবস্থাপক কচি শিকদার ও ক্রেডিট অফিসার আজহারুল হক যান ঋণগ্রহীতাদের বাড়িতে। জাকির, সজীব ও তাছলিমা বেগমকে কিস্তি পরিশোধের জন্য তাগিদ দেন। এ সময় আসামিরা উত্তেজিত হয়ে হুমকি দেন।

পরে রাতে ৮টায় ঘটে হামলার ঘটনা। ব্যাংক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের বাসায় গিয়ে তাকে মারধর করে কয়েকজন। স্ত্রী আয়েশা বানু বাধা দিলে তাকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। ভাঙচুর করা হয় ঘরের আসবাব।

ওসি জানান, হামলার ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম মামলা করেছেন। আসামি করা হয়েছে সজীবুল ইসলাম সজীব, তাছলিমা আক্তার, জাকির খান ও মুজাহিদ নামে চারজনকে।

আরও পড়ুন:
চামড়া নিয়ে আগ্রহ নেই সিলেটের ব্যবসায়ীদের
চামড়া ব্যবস্থাপনা তদারকে তিনস্তরের কমিটি
চামড়া শিল্পনগরীর ‘গোড়ায় গলদ’
গরুর চামড়ার দাম বাড়ল ৫, ছাগলের ২ টাকা
চামড়ার ঋণে ব্যাংকের অনীহা

শেয়ার করুন

নিখোঁজের ৫ দিন পর মাদ্রাসার ৩ ছাত্রী উদ্ধার

নিখোঁজের ৫ দিন পর মাদ্রাসার ৩ ছাত্রী উদ্ধার

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বাংলা বাজার এলাকার দারুত তাক্বওয়া মহিলা ক্বওমী মাদ্রাসা। ছবি: নিউজবাংলা

জামালপুরের ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুমন মিয়া জানান, মাদ্রাসা থেকে পালানোর পর রোববার ভোরে ইসলামপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে ঢাকায় যায় মাদ্রাসার এই তিন ছাত্রী। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রিকশায় ওঠে তিন ছাত্রী। স্টেশন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে রিকশাচালককে শনাক্তের পর মুগদা থানার মানডা এলাকার একটি বস্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ইসলামপুর থানা পুলিশ। পরে রিকশাচালকের বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় ওই তিন ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজের পাঁচ দিন পর জামালপুরের তিন মাদ্রাসাছাত্রীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করেছে ইসলামপুর থানার পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় ঢাকার মুগদার একটি বস্তিতে অভিযান চালিয়ে এক রিকশাচালকের ঘর থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের পোড়ারচর সরদারপাড়া গ্রামের মাফেজ শেখের মেয়ে মীম আক্তার, গোয়ালেরচর ইউনিয়নের সভুকুড়া মোল্লাপাড়া গ্রামের মনোয়ার হোসেনের মেয়ে মনিরা এবং সুরুজ্জামানের মেয়ে সূর্যবানু।

জামালপুরের ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সুমন মিয়া জানান, মাদ্রাসা থেকে পালানোর পর রোববার ভোরে ইসলামপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে ঢাকায় যায় মাদ্রাসার এই তিন ছাত্রী। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রিকশায় উঠে তিন ছাত্রী। স্টেশন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে রিকশাচালককে শনাক্তের পর মুগদা থানার মানডা এলাকার একটি বস্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ইসলামপুর থানা পুলিশ। পরে রিকশাচালকের বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় ওই তিন ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।

এই বিষয় নিয়ে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন ১২ সেপ্টেম্বর ভোরে ফজরের নামাজের সময় উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নের বাংলাবাজা এলাকার দারুত তাক্বওয়া মহিলা কওমি মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয় তিন ছাত্রী। এ ঘটনায় ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ইসলামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মাদ্রাসাটির মোহতামিম মো. আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসাটির মোহতামিম মো. আসাদুজ্জামান, সহকারী শিক্ষক মোছা. রাবেয়া আক্তার, শুকরিয়া আক্তার এবং মো. ইলিয়াস হোসেনকে থানায় আনে পুলিশ। এ সময় মাদ্রাসাটির পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।

এই ঘটনায় বুধবার রাতে নিখোঁজ মনিরার বাবা মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মানবপাচার বিরোধ আইনে একটি মামলা করেন। পরে চার শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করে আদালত।

আরও পড়ুন:
চামড়া নিয়ে আগ্রহ নেই সিলেটের ব্যবসায়ীদের
চামড়া ব্যবস্থাপনা তদারকে তিনস্তরের কমিটি
চামড়া শিল্পনগরীর ‘গোড়ায় গলদ’
গরুর চামড়ার দাম বাড়ল ৫, ছাগলের ২ টাকা
চামড়ার ঋণে ব্যাংকের অনীহা

শেয়ার করুন

বান্দরবানে জিপ থেকে ছিটকে পড়ে নারী নিহত

বান্দরবানে জিপ থেকে ছিটকে পড়ে নারী নিহত

স্থানীয়রা জানান, লোহাগাড়া থেকে জিপ গাড়িতে বান্দরবানে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন তৈয়বা। জিপ গাড়িটি সুয়ালক এলাকার লম্বা রাস্তায় আসলে ছিটকে পড়ে যান তিনি। জিপ থেকে পড়ার পরই অপরদিক থেকে আসা আরেকটি গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়।

বান্দরবানে জিপগাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে তৈয়বা সুলতানা নামে এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান ফেরার পথে সুয়ালক এলাকার লম্বা রাস্তায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, লোহাগাড়া থেকে জিপ গাড়িতে বান্দরবানে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন তৈয়বা। জিপ গাড়িটি সুয়ালক এলাকার লম্বা রাস্তায় আসলে ছিটকে পড়ে যান তিনি।

তারা জানান, জিপ থেকে পড়ার পরই অপরদিক থেকে আসা আরেকটি গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এসময় ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান তৈয়বা।

বান্দরবান সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই গোবিন্দ বলেন, ‘কোন চালক চাপা দিয়ে পালিয়েছে সেটি এখনও জানা যায়নি। পরে তদন্ত অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
চামড়া নিয়ে আগ্রহ নেই সিলেটের ব্যবসায়ীদের
চামড়া ব্যবস্থাপনা তদারকে তিনস্তরের কমিটি
চামড়া শিল্পনগরীর ‘গোড়ায় গলদ’
গরুর চামড়ার দাম বাড়ল ৫, ছাগলের ২ টাকা
চামড়ার ঋণে ব্যাংকের অনীহা

শেয়ার করুন

দেবীগঞ্জে ইজিবাইকের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু 

দেবীগঞ্জে ইজিবাইকের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু 

প্রতীকী ছবি

বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে দেবীগঞ্জ-ভাউলাগঞ্জ সড়ক পার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিল সুমাইয়া। এ সময় দেবীগঞ্জ থেকে ভাউলাগঞ্জগামী একটি ইজিবাইক ধাক্কা দিলে সড়কে ছিটকে পড়ে সুমাইয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক সুমাইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। 

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ইজিবাইকের ধাক্কায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের চর তিস্তা পাড়া এলাকায় দেবীগঞ্জ-ভাউলাগঞ্জ সড়কে বৃহস্পতিবার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত শিশুর নাম সুমাইয়া আক্তার। আট বছরের সুমাইয়া চর তিস্তা পাড়া এলাকার আবদুল কুদ্দুসের মেয়ে এবং কসিম উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে দেবীগঞ্জ-ভাউলাগঞ্জ সড়ক পার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিল সুমাইয়া। এ সময় দেবীগঞ্জ থেকে ভাউলাগঞ্জগামী একটি ইজিবাইক ধাক্কা দিলে সড়কে ছিটকে পড়ে সুমাইয়া। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক সুমাইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

দেবীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হেলাল উদ্দীন জানান, কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চামড়া নিয়ে আগ্রহ নেই সিলেটের ব্যবসায়ীদের
চামড়া ব্যবস্থাপনা তদারকে তিনস্তরের কমিটি
চামড়া শিল্পনগরীর ‘গোড়ায় গলদ’
গরুর চামড়ার দাম বাড়ল ৫, ছাগলের ২ টাকা
চামড়ার ঋণে ব্যাংকের অনীহা

শেয়ার করুন