× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
১০ মাস ধরে বন্ধ সিলেটের সরকারি জ্বালানি তেল শোধনাগার সরকারি প্লান্ট বন্ধ বেসরকারি প্লান্টে চলছে তেল পরিশোধন
google_news print-icon

১০ মাস বন্ধ জ্বালানি তেল শোধনাগার

১০-মাস-বন্ধ-জ্বালানি-তেল-শোধনাগার
আরপিজিসিএলের আওতাধীন কৈলাশটিলা এলপিজি প্ল্যান্টের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আলী আল জাহিদ বলেন, ‘প্ল্যান্ট চালুর প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি, শিগগিরই আবার চালু হবে।’ তবে সেটি কবে, তা তিনি জানেন না। 

বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মান অনুসরণ করতে না পারায় ১০ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সিলেটের ছয়টি সরকারি জ্বালানি তেল শোধনাগার। এখন গ্যাসের উপজাত (কনডেনসেট) থেকে জ্বালানি তেল পরিশোধন করা হচ্ছে বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে।

পেট্রলের মান পুনর্নির্ধারণ করে গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। এতে পেট্রলের মান নিয়ন্ত্রক রিসার্চ অকটেন নম্বর ৮৯ (আরওএন) করা হয়। সেই সঙ্গে এ গুণমান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) গত বছরের জুনে চিঠি দেয় সংস্থাটি।

এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পেট্রলের মান উন্নয়ন করতে পারেনি বিপিসির নিয়ন্ত্রণাধীন ১১টি পরিশোধনাগার। উল্টো পরিশোধনাগারগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পেট্রলের মান আগের আরওএন ৮০-তে ফিরিয়ে নিতে এই বছরের শুরুর দিকে শিল্প মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বিএসটিআই।

এসব চিঠি চালাচালিতে কোনো সমাধানে পৌঁছতে না পারায় এখনও বন্ধ রয়েছে রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগারগুলো।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে গ্যাসের সঙ্গে উপজাত হিসেবে প্রচুর পরিমাণে কনডেনসেট পাওয়া যায়। সিলেটের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শোধনাগারগুলোতে পরিশোধন করে এই কনডেনসেট থেকে পেট্রল, ডিজেল ও অকটেন উৎপাদন করা হতো।

এর মধ্যে প্রতিদিন গোলাপগঞ্জের রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) দুটি প্ল্যান্ট থেকে ৮০০ ও ৫০০ ব্যারেল, সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের আওতাধীন হরিপুরে ৬০ ব্যারেল, কৈলাশটিলায় ৩০০ ব্যারেল এবং রশিদপুরের দুটি প্ল্যান্টে ৩৭৫০ ও ৪০০০ ব্যারেল পেট্রল, ডিজেল ও এলপিজি উৎপাদন হতো।

এগুলো সবই বন্ধ গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে। এতে এই অঞ্চলে দেখা দেয় জ্বালানিসংকট।

এই সময়ে চট্টগ্রাম ও ঘোড়াশালের কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উপজাত থেকে জ্বালানি তেল রূপান্তর করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে রেলের ওয়াগনে করে তেল নিয়ে এসে সিলেটের চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছিল না। গত বছর শেষের দিকে ওয়াগনসংকট ও তেলবাহী ট্রেনের ঘন ঘন দুর্ঘটনার কারণে ব্যাহত হয় তেল পরিবহন।

১০ মাস বন্ধ জ্বালানি তেল শোধনাগার

এ অবস্থায় গত জানুয়ারিতে সিলেট বিভাগজুড়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেন জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা। এরপর গত ১০ মার্চ সিলেট আসেন বিপিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান আবু বকর ছিদ্দিক। তিনি মানজনিত সমস্যা সমাধান করে দুই মাসের মধ্যে সিলেটের সব কটি শোধনাগার ফের চালুর আশ্বাস দেন।

এই আশ্বাসেরও চার মাস পেরিয়ে গেছে; চালু হয়নি ৬ প্ল্যান্ট।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, মানসম্পন্ন জ্বালানি তেল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না এমন অজুহাতে রাষ্ট্রীয় শোধনাগারগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অথচ চট্টগ্রামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত জ্বালানি তেলের মান আরও খারাপ। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের ষড়যন্ত্র থেকেই সিলেটের শোধনাগারগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।

সিলেটের জ্বালানি ব্যবসায়ীরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে সিলেট বিভাগের ১১৪টি পাম্পে পেট্রল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিনের প্রতিদিনের চাহিদা থাকে প্রায় ৩০ লাখ লিটার। বর্ষা মৌসুমে এই চাহিদা কমে ১০ লাখ লিটারে দাঁড়ায়। বর্তমানে চাহিদা কম থাকায় সংকট না থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে সিলেটে মারাত্মক জ্বালানিসংকট দেখা দেয়। তখন চট্টগ্রাম থেকে রেলের ওয়াগনে করে তেল এনে সিলেট বিভাগের চাহিদা পূরণ সম্ভব হয় না।

রাষ্ট্রীয় শোধনাগারগুলো চালু না হওয়ার কারণ জানতে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের লিক্যুইড পেট্রোলিয়াম মার্কেটিং ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বিশ্বাসের কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে গত ১ অক্টোবর থেকে প্ল্যান্ট পুরো বন্ধ আছে জানিয়ে আরপিজিসিএলের আওতাধীন কৈলাশটিলা এলপিজি প্ল্যান্টের উপমহাব্যবস্থাক (ডিজিএম) আলী আল জাহিদ বলেন, প্ল্যান্ট চালুর প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি, শিগগিরই আবার চালু হবে। তবে সেটি কবে, তা তিনি জানেন না।

সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের একাধিক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, তাদের চারটি পরিশোধনাগার বন্ধ রয়েছে। এগুলো বন্ধ থাকায় গ্যাস ফিল্ডের আওতাধীন গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে পাওয়া উপজাত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। প্রতি লিটার উপজাত ৩৮ দশমিক ৯৭০ টাকায় বিক্রি করা হয় বলে জানান তারা।

এই প্রতিষ্ঠানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘সিলেটের রশিদপুরে প্রতিদিন ১৫০০ ব্যারেল পেট্রল অকটেনে রূপান্তর ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যাটালাইটিক রিফরমিং ইউনিট (সিআরইউ) ও ৫০০০ ব্যারেল রূপান্তর ক্ষমতাসম্পন্ন সিআরইউযুক্ত ফ্রাকশনেশন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হচ্ছে। চলতি বছরই এগুলোর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।’

তিনি জানান, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এসব প্ল্যান্ট চালু হলে এগুলো থেকে সরবরাহকৃত জ্বালানি তেলের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠবে না।

আরও পড়ুন:
সিলেটে জ্বালানি সংকট, ধর্মঘটের হুমকি
করোনা বাড়ায় ফের কমছে তেলের দাম

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Annas murder The investigation will not be hampered even if the accused retract their statements
ডিএমপি ডিবি প্রধান বললেন

আনার হত্যা: আসামিরা জবানবন্দি প্রত্যাহার করলেও তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে না

আনার হত্যা: আসামিরা জবানবন্দি প্রত্যাহার করলেও তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে না ডিএমপি ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ শনিবার মিন্টো রোডের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ছবি: নিউজবাংলা
এমপি আনার হত্যার ঘটনায় তিন আসামি জবানবন্দি প্রত্যাহার করতে চাওয়ায় মামলায় কোনো প্রভাব পড়বে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আদালতে যে কেউ আবেদন করতে পারেন। সেই আবেদন আদালত গ্রহণ করতে পারে আবার বাতিলও করতে পারে। এতে তদন্তে কোনো বাধার সৃষ্টি হবে না।’

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ মামলায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবুসহ তিনজন আইনজীবীর মাধ্যমে জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। এ ঘটনায় মামলার তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করা অন্য দুজন হলেন শিমুল ভুইঁয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভুইঁয়া ওরফে আমানুল্যাহ সাঈদ ও তানভীর ভুইঁয়া।

তিনজন আসামি জবানবন্দি প্রত্যাহার করতে চেয়েছেন। এতে মামলায় কোনো প্রভাব পড়বে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে হারুন বলেন, ‘আদালতে যে কেউ আবেদন করতে পারেন। সেই আবেদন আদালত গ্রহণ করতে পারে আবার বাতিলও করতে পারে। এতে তদন্তে কোনো বাধার সৃষ্টি হবে না।’

হারুন বলেন, ‘আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া ভারতীয় পুলিশের কাছে দুজন রয়েছেন।

ডিএমপি ডিবিপ্রধান বলেন, ‘আমরা আগেও বলেছি যে অযথা কাউকে ডাকাডাকি করছি না। আবার এ ঘটনার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত তিনি বা তারা যত বড় নেতাই হোন কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না। আরও বেশ কয়েকজনের নাম আমরা পেয়েছি। এর মধ্যে মাস্টারমাইন্ড দেশের বাইরে রয়েছে। সবকিছু মিলিয়েই তদন্ত কার্যক্রম চলছে। ভারতের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে আমাদের।’

তিনি বলেন, ‘এমপি আনার হত্যার ঘটনায় অবাধ ও সুষ্ঠু তদন্ত করছে ডিবি। তদন্তের প্রয়োজনে আমরা কলকাতা ও নেপালে গিয়েছি। আদালতের অনুমতি নিয়ে গ্যাস বাবুকে সঙ্গে নিয়ে ঝিনাইদহের দুটি পুকুরে মোবাইল উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
মমতার বৈঠকে এমপি আনার হত্যা প্রসঙ্গ
আনার হত্যা মামলায় ফয়সাল ও মোস্তাফিজুর রিমান্ডে
আনার হত্যা মামলার আসামি মোস্তাফিজ ও ফয়সাল গ্রেপ্তার
গ্যাস বাবুর ফেলে দেয়া ফোন উদ্ধারে ঝিনাইদহে অভিযান
এমপি আনার হত্যা: গ্যাস বাবুকে ঝিনাইদহ কারাগারে স্থানান্তর

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Do not mislead young students External Affairs Minister

কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে বিভ্রান্ত করবেন না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে বিভ্রান্ত করবেন না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার বগুড়ায় আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সরকার শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়েই কোটা বাতিল করেছিল, আদালত সেটি পুনর্বহাল করেছিল। সুতরাং কোটার সমাধান আদালতের মাধ্যমেই হতে হবে। বিষয়টি যারা বোঝেন না বা বুঝেও বুঝতে চান না এবং যাদেরকে বিএনপিসহ অন্যরা ইন্ধন দিচ্ছে তাদেরকে বলব, কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে বিভ্রান্ত করবেন না।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘সরকার শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়েই কোটা বাতিল করেছিল, আদালত সেটি পুনর্বহাল করেছিল। সুতরাং কোটার সমাধান আদালতের মাধ্যমেই হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি যারা বোঝেন না বা বুঝেও বুঝতে চান না এবং যাদেরকে বিএনপিসহ অন্যরা ইন্ধন দিচ্ছে তাদেরকে বলবো, কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে বিভ্রান্ত করবেন না।’

শনিবার সন্ধ্যায় বগুড়া শহরে পৌর এডওয়ার্ড পার্কের শহীদ টিটু মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্লাটিনাম রজতজয়ন্তী উদযাপন ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতৃবৃন্দের সংবর্ধনা ও প্রয়াতদের মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।

সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি সংস্কার নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বিশদ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘কোটা সরকার পুনর্বহাল করেনি। সরকার বরং শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে কোটা বাতিল করেছিল। বাতিলের পর কোটাহীনভাবে সরকারি ও অন্যান্য চাকরিতে নিয়োগ হচ্ছে।

‘হাইকোর্ট রায় দিয়েছে কোটা পুনর্বহালের জন্য। সুপ্রিম কোর্ট সেটি স্থগিত করেছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে বা বিচারাধীন বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। তাহলে আদালত অবমাননা হবে।

‘এসব বুঝেও যারা জনভোগান্তি ঘটাচ্ছেন তাদের উদ্দেশে বলব- জনগণের ভোগান্তি যাতে না ঘটে, সেজন্য সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। আশা করবো শিক্ষার্থীরা সুপ্রিম কোর্টের রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন।’

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মজিবর রহমান মজনু এমপির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু এমপির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন এমপি প্রধান বক্তা এবং সাহাদারা মান্নান এমপি ও ডা. মোস্তফা আলম নান্নু এমপি বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
বাংলাদেশকে এক বিলিয়ন ইয়েন অর্থসহায়তা দেবে চীন
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ২২ এমওইউর সম্ভাবনা, চুক্তি হবে না
সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক দেখে বিএনপির গাত্রদাহ হচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কানেকটিভিটির মর্ম বিএনপি বোঝে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজনীতিতে পরজীবী হয়ে গেছে বিএনপি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Governments support for football development will continue PM

ফুটবলের উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

ফুটবলের উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে শেখ হাসিনা আন্তঃব্যাংক ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন সরকারে এসেছি তখন থেকেই আমার প্রচেষ্টা, বাংলাদেশ যেন খেলাধুলায় আরও এগিয়ে যায়। দেশের প্রতিটি উপজেলায় আমরা খেলার মাঠ করে দিচ্ছি, সেটা হলো শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। চেষ্টা করে যাচ্ছি সবাই যেন খেলাধুলার প্রতি আরও মনোযোগী হয়।’

দেশে ফুটবলের উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে শেখ হাসিনা আন্তঃব্যাংক ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেকে দেশের জন্য প্রস্তুত করে তোলা যায়। এজন্য প্রত্যেক উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম গড়ে তোলা হচ্ছে। সময় পেলে আমি নিজেও ফুটবল খেলা উপভোগ করি।

‘আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফুটবল খেলতেন। আমার ভাই শেখ কামাল এবং শেখ জামালও ফুটবল খেলতেন। এখন আমাদের নাতি-নাতনীরাও ফুটবল খেলছে।’

তিনি বলেন, ‘খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা এগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা না করলে হয় না। এমন আয়োজনের মাধ্যমে ভালো খেলোয়াড় তৈরি হবে, যাতে করে দেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হতে পারে বিশ্ব-পরিমণ্ডলে। একদিন আমাদের খেলোয়াড়রাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পারদর্শিতা দেখাবে।’

খেলাধুলার প্রসারে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন সরকারে এসেছি তখন থেকে আমার প্রচেষ্টা, বাংলাদেশ যেন খেলাধুলায় আরও এগিয়ে যায়; ছেলেমেয়েরা আরও বেশি মনোযোগী হয়। বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় আমরা খেলার মাঠ করে দিচ্ছি, সেটা হলো শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। চেষ্টা করে যাচ্ছি সবাই যেন খেলাধুলার প্রতি আরও মনোযোগী হয়।’

প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকারপ্রধান বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের উপযুক্ত করে গড়ে তোলা, এটা সবচেয়ে বেশি দরকার। সেজন্য আমরা প্রত্যেক বিভাগে একটি করে বিকেএসপি করে দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের অর্থনীতিকে উন্নত করেছি। দারিদ্র্যের হার অর্ধেকের বেশি কমিয়ে এনেছি, এখন ১৮ দশমিক ৭ ভাগ। অতিদারিদ্র্যের হার ২৫ ভাগের উপরে ছিল, তা ৫ দশমিক ৬ ভাগে নামিয়ে এনেছি। ইনশাল্লাহ, এটুকুও থাকবে না। বাংলাদেশে কোনো মানুষ অতিদরিদ্র থাকবে না। প্রত্যেককে বিনা পয়সায় ঘর করে দিচ্ছি, লেখাপড়ার বই দিচ্ছি, বৃত্তি দিচ্ছি- সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এই ধারা অব্যাহত রেখে আমরা এগিয়ে যাব। বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে বিশ্ব দরবারে এগিয়ে যাবে উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে।’

খেলাধুলায় বাংলাদেশ ভালো করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে মেয়েদের বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং ছেলেদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রতিযোগিতা আছে। সেখান থেকে ধীরে ধীরে ভালো খেলোয়াড় উঠে আসছে। তারা শুধু দেশে না, দেশের মাটি পার হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য মর্যাদা বয়ে নিয়ে আসছে। বাংলাদেশকে খেলাধুলার মাধ্যমে বিশ্বের কাছে তুলে ধরা, এটা তারা করছে।’

ফুটবল টুর্নামেন্টটি আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই খেলাধুলার মধ্য দিয়ে এক সময় উপযুক্ত খেলোয়াড় গড়ে উঠবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলাধুলা করে কোনোদিন হয়ত বিশ্ব ফুটবলে আমরা চ্যাম্পিয়নও হয়ে যেতে পারি। সেটাই আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার।

টুর্নামেন্টের ফাইনালে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইসলামী ব্যাংক প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে ফাইনাল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

আরও পড়ুন:
২১ সহযোগিতা নথিতে সই ঢাকা-বেইজিংয়ের
বাংলাদেশ-চীন প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক শুরু
ঋণের সুদ হার কমাতে এআইআইবির প্রতি শেখ হাসিনার আহ্বান
সময় এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগের: চীনা ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী
বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Three people died due to electrocution in the capital

রাজধানীতে বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু

রাজধানীতে বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু প্রতীকী ছবি।
শুক্রবার রাজধানীর পল্লবী ও কোতোয়ালি থানার সিএমএম আদালতের পাশে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন আলাউদ্দিন, রাসেল ও আইউব আলী।

রাজধানীতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর পল্লবী ও কোতোয়ালি থানার সিএমএম আদালতের পাশে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন আলাউদ্দিন, রাসেল ও আইউব আলী।

আলাউদ্দিন ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার মেঘেরা গ্রামের বাচ্চু মিয়ার সন্তান। রাসেল চট্টগ্রামের পটিয়া থানার কেলিশহর দারোগার হাট গ্রামের রতন দাসের ছেলে। দুজনই পল্লবী এলাকায় থাকতেন। আর আইউব আলী পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার তারাবুনিয়া গ্রামের বেলায়েত শেখের সন্তান।

শুক্রবার দুপুরে পল্লবীর আজিজ মার্কেটের পাশে আসবাব কারখানায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান আলাউদ্দিন ও রাসেল। তারা দুজনই ওই কারখানায় মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আজিজ বলেন, ‘খবর পেয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ট্রলির ওপর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, বৃষ্টির কারণে আসবাব কারখানায় পানি জমে যায়। মালপত্র রেখে পানি সরানোর সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এই দুজন। তবুও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

অপর ঘটনায় শুক্রবার রাতে ঢাকার সিএমএম আদালতের পাশে আগরবাতি গলিতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান আইউব আলী। তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আইউব আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম জানান, তার বাবা মিস্ত্রির কাজ করতেন। রাতে কাজ শেষ করে বাসায় ফেরার পথে আগরবাতি গলি এলাকায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ন্যাশনাল হাসপাতাল নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিক্যারল কলেজ হাসাপাতালে নিলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

কোতোয়ালি থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজীব ঢালী জানান, খবর পেয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
আইপিএস মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মিস্ত্রির মৃত্যু
কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সহোদর দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু
কুকুর মারার ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষকের মৃত্যু
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রাশিয়া থেকে বাড়িতে আসা ছেলের সঙ্গে প্রাণ গেল মায়েরও
নকলায় বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে দুজনের মৃত্যু

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Attempts are being made to sideline the quota agitators Harun

কোটা আন্দোলনকারীদের অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চলছে: হারুন

কোটা আন্দোলনকারীদের অন্যদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চলছে: হারুন রাজধানীর মিণ্টো রোডের কার্যালয়ে শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপি ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ। ছবি: সংগৃহীত
ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে যে আদালত মানবে না, পুলিশের কথা মানবে না, তাহলে আমাদের করার কী আছে? আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে ক্ষমতা আমরা সেটাই করবো।’

কোটা আন্দোলনকারীদের অন্য কেউ ইন্ধন দিতে পারে এবং ঘটনাটি অন্যদিকে ধাবিত করারও চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে শনিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘কেউ যদি আদালতের আদেশ না মানে, সড়ক অবরোধ করে এবং আন্দোলনের নামে জানমালের ক্ষতি করে তাহলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে যৌক্তিক কাজ সেটাই করা হবে।

তিনি বলেন, ‘কোটার ব্যবস্থার প্রচলন শুধু বাংলাদেশে নয়, অনেক দেশেই আছে। কোটার বিরোধিতা করে কিছু লোক ও কিছু শিক্ষার্থী রাস্তায় আন্দোলন করছে। ইতোমধ্যে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের ওপর এক মাসের স্থিতাবস্থা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

‘সুপ্রিম কোর্ট সবার ভরসাস্থল। আদালতের নির্দেশনা সবার মেনে চলা উচিত। কিন্তু কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে না গিয়ে বিভিন্ন সড়কে বসে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। অনেক জায়গায় গাড়িতে তারা হাত দিচ্ছে এবং একটি মামলাও রুজু হয়েছে।’

হারুন বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে যে আদালত মানবে না, পুলিশের কথা মানবে না, তাহলে আমাদের করার কী আছে? আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে ক্ষমতা আমরা সেটাই করবো।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্য কেউ ইন্ধন দিচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি ডিবি প্রধান বলেন, ‘আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে কিনা, ঘটনাটি অপরদিকে ধাবিত করার চেষ্টা চলছে কিনা- এসব নিয়ে ডিবির টিম ও পুলিশ কাজ করছে। কেউ যদি হাইকোর্টের নির্দেশনা না মেনে আন্দোলনের নামে সড়কে নেমে অবরোধ করে গাড়িতে হামলা ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে, তবে আমরা ধরে নিতে পারি অনুপ্রবেশকারীরাই এসব কাজ করছে।’

আরও পড়ুন:
কোটা আন্দোলনকারীদের দাবি সংবিধানবিরোধী: কাদের
কোটা আন্দোলনকারীদের নামে শাহবাগ থানায় মামলা পুলিশের
কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি সঠিক নয়: সেলিম মাহমুদ
পুলিশি হামলার প্রতিবাদে কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
রাজশাহীতে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Sheikh Hasina returned from China empty handed Rizvi

শেখ হাসিনা চীন থেকে শূন্য হাতে ফিরেছেন: রিজভী

শেখ হাসিনা চীন থেকে শূন্য হাতে ফিরেছেন: রিজভী
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘শেখ হাসিনা চীনের কাছে ২০ বিলিয়ন ডলার চেয়েছিলেন। আর আশ্বাস পেয়েছেন এক বিলিয়ন ইয়েনের। ২০ বিলিয়ন ডলার চেয়ে খালি ঝুড়ি নিয়ে ফেরত এসেছেন তিনি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ বিক্রি করার মহাজন বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা ভারতকে নিরাপদ করতে বাংলাদেশকে অনিরাপদ করেছেন। বাংলাদেশকে ভারতের নয়া উপনিবেশ বানানোর চেষ্টা করছেন তিনি।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে ভাসানী ভবনে শনিবার ওলামা দলের পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘১৯৫ জন সফরসঙ্গী নিয়ে চীনে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি শূন্য হাতে দেশে ফিরেছেন।

‘শেখ হাসিনা চীনের কাছে ২০ বিলিয়ন ডলার চেয়েছিলেন। আর আশ্বাস পেয়েছেন এক বিলিয়ন ইয়েনের। ২০ বিলিয়ন ডলার চেয়ে খালি ঝুড়ি নিয়ে ফেরত এসেছেন তিনি।’

সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, ‘দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, কর্তৃত্ববাদী শাসন-শোষণের ফলে দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির মুখে।’

ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা সেলিম রেজার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল হোসেনের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, এটিএম আবদুল বারী ড্যানী, মাওলানা আলমগীর হোসেন, ক্বারী গোলাম মোস্তফা, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম ও মাওলানা মাসুম বিল্লাহ।

আরও পড়ুন:
দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অবস্থান ‘জাতীয় তামাশা’: রিজভী
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় রোববার সারা দেশে বিএনপির দোয়া মাহফিল
বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের রেল যোগাযোগ পরিকল্পনায় উদ্বেগ বিএনপির
বাংলাদেশ কার স্বার্থ রক্ষা করছে- মিয়ানমার ইস্যুতে প্রশ্ন রিজভীর
আজিজ-বেনজীরের মতো অনেক রূপকথার কাহিনী আছে: রিজভী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
50 year old shop is being swallowed by the river

‘৫০ বছরের দোকান নদী গিলে খাইছে’

‘৫০ বছরের দোকান নদী গিলে খাইছে’ মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার দীঘিরপাড় বাজারে পদ্মা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা। ছবি: নিউজবাংলা
দীঘিরপাড় বাজারে শুক্রবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, স্রোতের তীব্রতায় শাখা নদীর তীরের মাটি ভেঙে আছড়ে পড়ছে। বড় বড় ঢেউয়ের আঘাতে বাজারের তীরঘেঁষা দোকানপাটের ভিটেমাটি পড়ছে নদীর বুকে। বাজারের পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকের ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে সবচেয়ে বেশি ভাঙনের চিত্র চোখে পড়ে।

‘বছরের পর বছর ধরে কাজ করে আইতাছি এই দোকানেই। চোখের সামনেই ৫০ বছরের সেই দোকান নদী গিলে খাইছে। এহন কই যামু এই বয়সে? কী কইর‌্যা খামু? পেটও তো বাঁচাইতে অইব।’

পদ্মার শাখা নদীর ভাঙনে নিজের দোকানঘর হারিয়ে এসব কথা বলেই আক্ষেপ করছিলেন মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার দীঘিরপাড় বাজারের কামার সুনীল মন্ডল (৭৫)।

তার ভাষ্য, কিশোর বয়সেই বাবার হাত ধরে এ পেশায় আসেন। বাবার মৃত্যুর পর পাঁচ দশক ধরে বাবার রেখে যাওয়া দোকানে লোহার সঙ্গে হাতুড়ি পেটার কাজ করে আসছেন।

নদীর দুই দিনের ভাঙনে দীঘিরপাড় বাজারের কামার সুনীল মন্ডলের মতোই পাঁচজন কামার দোকানঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার সকালে ভাঙন শুরু হয়। শুক্রবারও ভাঙন অব্যাহত ছিল। এ দুই দিনে ভাঙনের কবলে বাজারের অন্তত ১৫টি দোকানঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ওই বাজারের পুরোটই এখন ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় অনেকেই দোকানঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্য জায়গায় সরিয়ে নিচ্ছেন।

দীঘিরপাড় বাজারে শুক্রবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, স্রোতের তীব্রতায় শাখা নদীর তীরের মাটি ভেঙে আছড়ে পড়ছে। বড় বড় ঢেউয়ের আঘাতে বাজারের তীরঘেঁষা দোকানপাটের ভিটেমাটি পড়ছে নদীর বুকে। বাজারের পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকের ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে সবচেয়ে বেশি ভাঙনের চিত্র চোখে পড়ে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ভাঙনের মুখে বাজারের কামারপট্টির সাতটি দোকানঘর, দুটি পাটের আড়ত, দুটি সারের দোকান ও চারটি মুদি দোকানঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে পড়েন কামার গৌতম মন্ডল, দিলীপ মন্ডল, অনীল মন্ডল, সুনীল মন্ডল, শ্যামল মন্ডল, উত্তম মন্ডল ও কালু মন্ডল। এ ছাড়া ভাঙনে অলি বেপারী ও আলমাছ বেপারীর পাটের আড়ত এবং নজির হালদারের দুটি সারের দোকান বিলীন হয়েছে। দোকান হারিয়েছেন আরও চার মুদি দোকানি।

এদিকে ভাঙন প্রতিরোধে চলমান স্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলার কারণেই এ ভাঙনের কবলে পড়েছেন বলে অভিযোগ বাজারের দোকানিদের।

তারা জানান, আড়াই যুগ ধরেই পদ্মা ও পদ্মার শাখা নদীতে বর্ষা মৌসুমে ভাঙন চলে আসছে। এতে ভাঙন প্রতিরোধে বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয় বছর দুয়েক আগে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খড়িয়া থেকে টংগিবাড়ী উপজেলার দীঘিরপাড় বাজার পর্যন্ত পদ্মা তীরে ৪৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের মে মাসে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে কয়েকটি ভাগে একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে।

দীঘিরপাড় বাজার ঘেষে বাঁধ নির্মাণ করছে সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স কোম্পানি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির নদীর তীরে জিও ব্যাগ ফেলে ও ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কথা রয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির।

দীঘিরপাড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাইজুদ্দিন বেপারী বলেন, ‘বর্ষা এলেই এখানে ভাঙন দেখা দেয়। অথচ শুষ্ক মৌসুমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টুকিটাকি করে বাঁধ নির্মাণ কাজ করে আসছে। আমরা এক মাসে আগেও অনুরোধ করেছি ব্লক ফেলে এখানে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য।

‘আমাদের কথা কর্ণপাতই করেনি। আজকের মধ্যে যদি জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলা হয়, তাতেও বাজারটি রক্ষা পাবে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্সের ব্যবস্থাপক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত আমাদের কাজের সময় বাড়ানো হয়েছে। কাজেই যথাসময়েই বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। আকস্মিক ভাঙন ঠেকাতে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলানো হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড মুন্সীগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আর্থিক বরাদ্ধ দিতে না পারার পাশাপাশি কিছু সমস্যার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সময় বাড়ানো হয়েছে, তবে বর্তমানে আকস্মিক ভাঙন ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানটিকে জিও ব্যাগ ফেলার জন্য বলা হয়েছে।

‘ইতোমধ্যে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ট্রলারে রাখা আছে। তীব্র স্রোতের কারণে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
টাঙ্গাইলে যমুনার পানি কমতে শুরু করছে
শীতলক্ষ্যায় ভাঙনে গৃহহারা ৫ পরিবার
আতঙ্ক ছড়িয়ে যমুনায় ভাঙন শুরু
৭২ ঘণ্টায় পানি বাড়তে পারে উত্তরাঞ্চল, সিলেটের বিভিন্ন নদীর
মাছ ধরতে নদীতে বাঁধ

মন্তব্য

p
উপরে