খেলাপি ঋণ: পাকিস্তানের চেয়ে কম, ভারতের চেয়ে বেশি

খেলাপি ঋণ: পাকিস্তানের চেয়ে কম, ভারতের চেয়ে বেশি

বিভিন্ন দেশে মোট বিতরণকৃত ঋণের খেলাপির পরিমাণ। ছবি: নিউজবাংলা

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের অনুপাত মোট বিতরণ করা ঋণের ২ শতাংশের মধ্যে রাখতে হয়, যা বাংলাদেশ কখনই অর্জন করতে পারেনি। চলতি বছরের মার্চ শেষে যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ০৭ ভাগ খেলাপি। ভারতে এই হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ, আর পাকিস্তানে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। উপমহাদেশের মধ্যে নেপালের অবস্থান সবচেয়ে ভালো, ১ দশমিক ৭ শতাংশ, আর শ্রীলঙ্কায় খেলাপির হার ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

উপমহাদেশে প্রধান দেশগুলোর তুলনায় খেলাপি ঋণের দিক দিয়ে বাংলাদেশ খুব একটা খারাপ অবস্থানে নেই। তবে আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি বেশ নিচে।

মন্দ ঋণ নিয়ে বাংলাদেশে বরাবর আলোচনা তুমুল। এ জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রতি বছর সঞ্চিতি হিসেবে সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। এতে সরকারি-বেসরকারি কিংবা বিশেষায়িত প্রতিটি ব্যাংকেরই বড় অংকের বিনিয়োগ আটকে পড়েছে। ব্যাংক খাতে মূলধন ঘাটতি বাড়ছে; কোনো কোনো ব্যাংক পড়েছে লোকসানে।

চলতি বছরের মার্চ শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৮ দশমিক ০৭ ভাগ।

২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

একই সময়ে ব্যাংকগুলো অবলোপন করেছে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এগুলো আদায়ও অনেকটাই অনিশ্চিত।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের অনুপাত মোট বিতরণ করা ঋণের ২ শতাংশের মধ্যে রাখতে হয়, যা বাংলাদেশ কখনই অর্জন করতে পারেনি।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাাতিক মানদণ্ড বজায় রেখেছে শুধু নেপাল। দেশটির খেলাপি ঋণ মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ শ্রীলঙ্কায়ও এই হার বেশ কম, ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারত খেলাপি ঋণে বাংলাদেশের কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

আর দুর্বল অর্থনীতির দেশ পাকিস্তানের খেলাপি ঋণ ৯ দশমিক ৯ শতাংশ, যা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১২ দশমিক ২ শতাংশ।

বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি বেশি খারাপ দেখাচ্ছে সরকারি ব্যাংকগুলোর কারণে। ছয়টি রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকে খেলাপির হার বিতরণ করা ঋণের ২০ শতাংশের বেশি। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে বিতরণ করা ঋণের পাঁচ শতাংশের আশেপাশে। আর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোতে এই হার ৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

খেলাপি ঋণ: পাকিস্তানের চেয়ে কম, ভারতের চেয়ে বেশি
বিভিন্ন দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ

৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে, কলম্বিয়া ৫ দশমিক ২ শতাংশ, ইটালি ৫ দশমিক ২ শতাংশ, আজারবাইজান ৫ দশমিক ৯, ক্রোয়েশিয়া ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

৩ শতাংশের নিচে খেলাপি ঋণ রয়েছে এমন উল্লেখযোগ্য দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনামে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ২ দশমিক ৯ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ, কম্বোডিয়ায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

চীনে খেলাপি ঋণের হার কমে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ আর ফিলিপাইনে ১ দশমিক ৯ শতাংশের মধ্যে।

খেলাপিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ব্যবস্থা

খেলাপি ঋণের অনুপাত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বা এর কাছাকাছি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া দেশগুলো মধ্যে মালয়েশিয়ায় ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ গ্রাহকরা দেশ ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি পান না।

থাইল্যান্ড সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (এএমসি) গঠন করে খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে সফলতা পেয়েছে। আইন ও নীতির কঠোর বাস্তবায়ন করে দ্রুত খেলাপি ঋণ কমিয়েছে শ্রীলঙ্কাও।

চীনে খেলাপিদের ওপর উড়োজাহাজ ও উচ্চগতির ট্রেনের টিকিট ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। করপোরেট সংস্থার নির্বাহী বা প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করতে পারেন না খেলাপিরা। এমনকি খেলাপিরা ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কোনো হোটেল সুবিধা নিতে পারেন না, রিয়েল এস্টেট কিনতে পারেন না।

নেপালে ঋণখেলাপিদের পাসপোর্ট সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ভিয়েতনামের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

ভারতও খেলাপির হার কমিয়ে আনতে ‘ফিউজিটিভ ইকোনমিক অফেন্ডারস বিল’ নামে একটি আইন অনুমোদন করেছে। আইনটির আওতায় কোনো ঋণখেলাপি দেশ ত্যাগ করলে তার সম্পদ জব্দ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির পাসপোর্টও প্রত্যাহার করেছে দেশটি।

ঋণ আদায়ে বিকল্প ব্যবস্থা

স্বাধীনতা-পরবর্তীসময়ে ব্যাংকিং খাতের তেমন কোনো আইন-কানুন না থাকায় ১৯৮৩ সালে ব্যাংকগুলোর ঋণ মন্দঋণে পরিণত হওয়া শুরু হয়।

১৯৯০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু ব্যাংকিং নীতিমালা চালু করে।

তবে ব্যাংকারদের অনভিজ্ঞতা, দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দুর্বলতাসহ নানা কারণেই দেশে খেলাপি ঋণ তৈরি হওয়া শুরু হয়। কিন্তু আইনি কাঠামোর অভাবে ঋণখেলাপিদের কিছু বলাও যেত না।

খেলাপি হওয়া অর্থ আদায়ে ১৯৯৬ সালে কাজ শুরু করে ‘ডেট রিকভারি এজেন্ট’। ২০০৩ সাল থেকে জোরেশোরেই মাঠে নামে অন্তত চারটি প্রতিষ্ঠান। উদ্দেশ্য ছিল, অনাদায়ী মন্দ ও কু ঋণ এবং মামলায় আটকে থাকা খেলাপি ঋণ উত্তোলন।

এমন ব্যবস্থায় আদায়ও হয় বড় অংকের অর্থ। কিন্তু ঋণের অর্থ তুলে দেয়ার পর কোম্পানিকে কমিশন দেয়া নিয়ে নানান জটিলতা তৈরি হয়। পরে ভেস্তে যায় সেই উদ্যোগ।

এরপর ২০১৯ সালে অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়। যার নামকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে, ‘সিকিউরিজেশন অফ নন পারফরমিং লোন’।

এই আইন বলে ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ঋণ খেলাপির প্রতিষ্ঠান দখলে নিতে পারবে। তবে এই উদ্যোগটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মন্দ ঋণ বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। বেসরকারি কোম্পানিগুলো ব্যাংকের কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ অর্ধেক বা এর চেয়ে কম মূল্যে কিনে নেয়। এতে ব্যাংকের খাতায় খেলাপি ঋণ কমে যায়।

আর বেসরকারি কোম্পানি ঋণখেলাপির জামানত হিসেবে দেয়া সম্পদ বিক্রি করে অর্থ আদায় করে।

কার্যকর ব্যবস্থার তাগিদ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা বেশি হয়ে যাওয়ায় আমানত সংগ্রহ ও ঋণ দেয়ায় অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে।’

তিনি বলেন, আর্থিক কেলেঙ্কারি, নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপানার কারণে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ হচ্ছে। সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। সরকার কঠোর হলে খেলাপি ঋণ দ্রুত কমে আসব।’

ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বেশ দুর্বল বলেও মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর। বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও শক্তিশালী করতে হবে। বিভিন্ন দেশে খেলাপি ঋণ আদায়ে ঋণ খেলাপিদের তালিকা প্রকাশ্যে দেয়। অন্যান্য অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু আমাদের দেশে এই বিশাল অর্থ উদ্ধারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যাংক খাতে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের নিয়ে। এদের বিরুদ্ধে আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না। এই ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারায় অন্যরাও উৎসাহিত হচ্ছেন। এই খেলাপিদের আইনগতভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মধ্যে যদি আনা যায়, তাহলে খেলাপি সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে।’

আরও পড়ুন:
দুই বছরে ৬৬ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নিয়মিত
ঋণ পরিশোধে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চায় এফবিসিসিআই
খেলাপি ঋণ আদায়ে নজির ব্যাংক এশিয়ার
খেলাপি ঋণে ভালো অবস্থানে পুঁজিবাজারের ব্যাংক
মামলা করে আদায় খেলাপি ঋণের ১৮ হাজার কোটি টাকা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জমি নিয়ে বিরোধ, চাচাতো ভাইদের হাতে ‘খুন’

জমি নিয়ে বিরোধ, চাচাতো ভাইদের হাতে ‘খুন’

স্থানীয়রা জানান, আবু জাফর তার চাচাতো ভাইদের কাছে কিছু জমি বিক্রি করেন। ২১ অক্টোবর সেই জমির দলিল করা হয়। চাচাতো ভাইরা কৌশলে জাফরের বাড়ির দাগের জমি ভেন্ডারের মাধ্যমে দলিলে যুক্ত করে নেন। ঘটনা জানতে পেরে শনিবার দুপুরে দুই পরিবারের লোকজন বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠককে কেন্দ্র করেই হত্যার ঘটনা ঘটে।

বরিশালের বাকেরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আবু জাফর শরীফ নামের এক যুবক চাচাতো ভাইদের হাতে খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের গুড়িয়া গ্রামে শনিবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ৩৮ বছর বয়সী আবু জাফর তার চাচাতো ভাইদের কাছে কিছু জমি বিক্রি করেন। ২১ অক্টোবর সেই জমির দলিল করা হয়। চাচাতো ভাইরা কৌশলে জাফরের বাড়ির দাগের জমি ভেন্ডারের মাধ্যমে দলিলে যুক্ত করে নেন। ঘটনা জানতে পেরে শনিবার দুপুরে দুই পরিবারের লোকজন বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠককে কেন্দ্র করেই হত্যার ঘটনা ঘটে।

জাফরের ভাই তোফাজ্জেল শরীফ বলেন, ‘চাচাতো ভাই জামাল শরীফ ও আবুল শরীফের কাছে আমার ভাই জাফর কিছু জমি বিক্রয় করে। সেই জমি দলিল করার সময় তারা ভেন্ডারের মাধ্যমে বাড়ির দাগের জমি দলিলে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। সবকিছু জেনে আবু জাফর বাড়ির দুই পরিবারের লোকদের সঙ্গে আলোচনায় বসলে একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি হয়। তখন চাচাতো ভাইরা জাফরকে তাদের ঘরের নিয়ে আটকে রাখে। কিছুক্ষণ পরে রক্তাক্ত অবস্থায় জাফরকে বৈঠকের রুমে ফেলে তারা পালিয়ে যায়। তাকে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

বাকেরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সত্যরঞ্জন খাসকেল এ ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দুই বছরে ৬৬ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নিয়মিত
ঋণ পরিশোধে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চায় এফবিসিসিআই
খেলাপি ঋণ আদায়ে নজির ব্যাংক এশিয়ার
খেলাপি ঋণে ভালো অবস্থানে পুঁজিবাজারের ব্যাংক
মামলা করে আদায় খেলাপি ঋণের ১৮ হাজার কোটি টাকা

শেয়ার করুন

বাড্ডায় ফার্নিচারের দোকানে আগুন

বাড্ডায় ফার্নিচারের দোকানে আগুন

ফাইল ছবি

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার ফরহাদ জানান, সাতারকুল জিএম বাড়ি এলাকায় ফার্নিচারের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে, আরও তিনটি ইউনিট যুক্ত হচ্ছে।

রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুল এলাকার একটি ফার্নিচারের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট।

শনিবার রাত ১০টার দিকে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার ফরহাদ জানান, সাতারকুল জিএম বাড়ি এলাকায় ফার্নিচারের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে, আরও তিনটি ইউনিট যুক্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তবে ফরহাদ হোসেন প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি।

আরও পড়ুন:
দুই বছরে ৬৬ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নিয়মিত
ঋণ পরিশোধে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চায় এফবিসিসিআই
খেলাপি ঋণ আদায়ে নজির ব্যাংক এশিয়ার
খেলাপি ঋণে ভালো অবস্থানে পুঁজিবাজারের ব্যাংক
মামলা করে আদায় খেলাপি ঋণের ১৮ হাজার কোটি টাকা

শেয়ার করুন

‘গুজব ছড়ানোয়’ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার

‘গুজব ছড়ানোয়’ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নাজির হোসেন ইমরান। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা জানান, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের গুজব ছড়িয়ে ইমরান জনসাধারণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা চালান। পরে ওই পোস্ট ডিলিট করে আত্মগোপনে চলে যান।

ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ থেকে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকা থেকে শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার নাজির হোসেন ইমরান বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।

র‍্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা শনিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের উদ্দেশ্যে ইমরান ফেসবুকে বিভিন্ন উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করছিলেন।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের গুজব ছড়িয়ে ইমরান জনসাধারণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা চালান। পরে ওই পোস্ট ডিলিট করে আত্মগোপনে চলে যান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব তাকে আটক করে।

এরপর র‍্যাব তাকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে হস্তান্তর করেন।

আরও পড়ুন:
দুই বছরে ৬৬ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নিয়মিত
ঋণ পরিশোধে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চায় এফবিসিসিআই
খেলাপি ঋণ আদায়ে নজির ব্যাংক এশিয়ার
খেলাপি ঋণে ভালো অবস্থানে পুঁজিবাজারের ব্যাংক
মামলা করে আদায় খেলাপি ঋণের ১৮ হাজার কোটি টাকা

শেয়ার করুন

‘রাজাকারের’ ছেলেকে নৌকা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ

‘রাজাকারের’ ছেলেকে নৌকা, 
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুরে মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

মানববন্ধনে অংশ নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বলেন, ‘এই দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ছিল রাজাকাররা। এখন কিছু নেতাকর্মী টাকা খেয়ে তাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে শক্তির দল আওয়ামী লীগে ভিড়িয়েছে। এই জন্য কী বঙ্গবন্ধুর ডাকে এই দেশটাকে স্বাধীন করেছিলাম?’

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুরে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বিল্লাল হোসেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী তৎকালীন শান্তি কমিটির স্থানীয় সভাপতি মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বিল্লালকে নৌকা প্রতীক দেয়ার প্রতিবাদে শনিবার তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলও করেছেন।

বিল্লালকে নৌকা প্রতীক দেয়ার প্রতিবাদে বিকেলে রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল রায়পুর বাজার প্রদক্ষিণ করে।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া বিল্লাল হোসেন। তার দাবি, তার বাবা রাজাকার ছিলেন না। আর এর আগে তিনি যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে ছিলেন।

তবে মানববন্ধনে বক্তারা জানান, রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগের একটি পক্ষকে অর্থের মাধ্যমে হাত করে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য রনজিৎ রায়ের মদদপুষ্ট হয়ে বিল্লাল হোসেন আওয়ামী লীগের নেতা হয়ে উঠেছেন।

এভাবেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদে বিল্লালকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছে। এখন রাজাকারের ছেলে যদি নৌকা প্রতীক পান তবে আওয়ামী ইজ্জত বলে কিছু থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তারা।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বলেন, ‘এই দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ছিল রাজাকাররা। এখন কিছু নেতাকর্মী টাকা খেয়ে তাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে শক্তির দল আওয়ামী লীগে ভিড়িয়েছে। এই জন্য কী বঙ্গবন্ধুর ডাকে এই দেশটাকে স্বাধীন করেছিলাম?’

তিনি আরও বলেন, ‘বাঘারপাড়াসহ রায়পুরে শান্তি কমিটির প্রভাবশালী নেতা ছিল রাজাকার মোহাম্মদ আলী। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মানুষের বাড়িতে ডাকাতির সাথে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে সে।

‘সেই রাজাকারের ছেলে বিল্লাল হোসেন। তার পরিবারও রাজাকার। বর্তমানে অর্থের প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতাকে ম্যানেজ করে নৌকা প্রতীক পাওয়ার পায়তারা করছে।’

রাজাকারের সন্তানের পরিবর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের নৌকা প্রতীক দেয়ার দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়া, ইয়াকুব আলী, ডা. ইরাদত আলী, হাফিজুর রহমান, আলী বক্স, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান ও আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুর রহমান, রিপন হোসেন ও মাসুদুর রহমান রাজু।

অভিযোগের বিষয়ে বিল্লাল হোসেন জানান, তার বাবা রাজাকার ছিলেন না। সে সময় রাজাকার কমান্ডার ছিলেন ছড়িয়ালা আজিজ। পরে সভাপতি হন মৌলভী আবুল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ২০০৬ সালে ভোটের মাধ্যমে জিতে রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। আমি এরশাদের সময় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। এর আগে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে ছিলাম।’

তবে বিল্লাল হোসেন যাদের রাজাকার কমান্ডার বলছেন কীসের ভিত্তিতে বলেছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘স্থানীয় মুরব্বিদের কাছে শুনেছি।’

আরও পড়ুন:
দুই বছরে ৬৬ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নিয়মিত
ঋণ পরিশোধে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চায় এফবিসিসিআই
খেলাপি ঋণ আদায়ে নজির ব্যাংক এশিয়ার
খেলাপি ঋণে ভালো অবস্থানে পুঁজিবাজারের ব্যাংক
মামলা করে আদায় খেলাপি ঋণের ১৮ হাজার কোটি টাকা

শেয়ার করুন

জলবায়ু তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ দাবি দেশি গবেষকদের

জলবায়ু তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ দাবি দেশি গবেষকদের

‘কপ-২৬’ উপলক্ষ্যে ‘বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা এবং প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সভায় দেশি জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।

করোনার কারণে ২০২০ সালে কপ সম্মেলন অনুষ্ঠিত না হওয়ার এবারের সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্মেলনে কার্বন নিঃসরণ কমাতে রাষ্ট্রগুলোকে একটি লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিবে হবে বলেও মনে করেন সিপিআরডি-এর প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা।

জলবায়ুজনিত ক্ষতির প্রভাব কমিয়ে আনতে প্রতিশ্রুত অর্থ দিচ্ছে না শিল্পোন্নত দেশগুলো। এ জন্য আসন্ন কপ-২৬ সম্মেলনে জলবায়ু তহবিল বা গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে পর্যাপ্ত অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার ডেইলি স্টার সেন্টারের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে ‘সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপম্যান্ট’ (সিপিআরডি) আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এই দাবি করেন।

ইউএনসিসিসি’র ২৬তম জলবায়ু সম্মেলন অর্থাৎ ‘কপ-২৬’ উপলক্ষ্যে ‘বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা এবং প্রস্তাবনা’ শীর্ষক ওই সভায় কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী সংগঠন অংশ নেয়।

সভায় অংশ নেয়া সংগঠনগুলোর মধ্যে সিপিআরডি-এর প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ‘জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবের জন্য শিল্পোন্নত দেশগুলো দায়ী হলেও এর ক্ষতির শিকার হচ্ছে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। এ ক্ষতি কমাতে শিল্পোন্নত দেশগুলো গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রাখছে না। আগামী কপ-২৬ সম্মেলনে এই তহবিলে ১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রবাহ অব্যাহত প্রতিশ্রুতির বাস্তয়নে জোর দিতে হবে।’

ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিল্পোন্নত দেশগুলোতে ২০৩০ সালের মধ্যে এবং উন্নয়নশীল বিশ্বকে ২০৪০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। কপ-২৬ সম্মেলনেই এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি নিতে হবে।’

শামসুদ্দোহা জানান, করোনার কারণে ২০২০ সালে কপ সম্মেলন অনুষ্ঠিত না হওয়ার এবারের সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্মেলনে কার্বন নিঃসরণ কমাতে রাষ্ট্রগুলোকে একটি লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিবে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তন ও বন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ধরিত্রী সরকার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা থাকলেও উন্নত বিশ্ব তা প্রাক-শিল্প বিপ্লব সময়ের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে যথাযথ সঠিক এনডিসি ডকুমেন্টই পারে এই বৈশ্বিক তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে।’

জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে সরকার, গবেষক, নীতি-নির্ধারক এবং নাগরিক সমাজকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক সৈয়দ আমিনুল হক বলেন, ‘অসছে সম্মেলনে শিল্পোন্নত দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের পাশ কাটিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে পারে। এ জন্য ক্ষতিগ্রস্থ দেশের প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে এই অপচেষ্টাকে মোকাবিলা করতে হবে।’

সিডিপির নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গির হাসান মাসুম বলেন, ‘উন্নত বিশ্ব কার্বন নির্গমণ কমানোর বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন ইস্যুকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সামনে নিয়ে আসে। ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলো যদি কার্বন নির্গমন কমানোর উপরই মূল চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখতো তাহলে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন রকম থাকত।’

আরও পড়ুন:
দুই বছরে ৬৬ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নিয়মিত
ঋণ পরিশোধে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চায় এফবিসিসিআই
খেলাপি ঋণ আদায়ে নজির ব্যাংক এশিয়ার
খেলাপি ঋণে ভালো অবস্থানে পুঁজিবাজারের ব্যাংক
মামলা করে আদায় খেলাপি ঋণের ১৮ হাজার কোটি টাকা

শেয়ার করুন

নাশকতার মামলায় ১২ জামায়াত-শিবির সদস্য কারাগারে

নাশকতার মামলায় ১২ জামায়াত-শিবির সদস্য কারাগারে

রাজশাহীর পবা থেকে গ্রেপ্তার জামায়াত-শিবিরের ১২ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

এজাহারের বরাতে আদালত পরিদর্শক আবুল হাশেম জানান, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার লক্ষ্যে বৈঠক চলছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় পালোপাড়া মধ্যপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় জব্দ হয় বেশকিছু জিহাদি বই, ব্যানার, কর্মী সংগ্রহের ফরম ও চাঁদা আদায়ের রশিদ।

রাজশাহীর পবা থেকে গ্রেপ্তার জামায়াত-শিবিরের ১২ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

রাজাশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিম রেজাউল করিমের আদালতে শনিবার বিকেলে তোলা হলে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়।

যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন, ৫০ বছরের মনিরুল ইসলাম, ৬৮ বছরের কলিম উদ্দিন, ২৫ বছরের আব্দুল মতিন ও আব্দুল মমিন, ২০ বছরের ফয়সাল আহমেদ, ৩৫ বছরের আজাহার আলী, ৪২ বছরের আবু বক্কর, ৩০ বছরের আব্দুর রব, ৩৪ বছরের উজ্জ্বল হোসেন, ৩৫ বছরের আব্দুল হালিম, ৫০ বছরের ওবেদ আলী ও ৬১ বছরের আবুল হোসেন। তারা সবার বাড়ি পবা উপজেলায়।

এসব নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক আবুল হাশেম।

মামলার এজাহারের বরাতে তিনি জানান, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার লক্ষ্যে বৈঠক চলছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় পালোপাড়া মধ্যপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় জব্দ হয় বেশকিছু জিহাদি বই, ব্যানার, কর্মী সংগ্রহের ফরম ও চাঁদা আদায়ের রশিদ।

পরে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার বিকেলে তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক রেজাউল করিম কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন:
দুই বছরে ৬৬ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নিয়মিত
ঋণ পরিশোধে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চায় এফবিসিসিআই
খেলাপি ঋণ আদায়ে নজির ব্যাংক এশিয়ার
খেলাপি ঋণে ভালো অবস্থানে পুঁজিবাজারের ব্যাংক
মামলা করে আদায় খেলাপি ঋণের ১৮ হাজার কোটি টাকা

শেয়ার করুন

পরিচ্ছন্নতাকর্মী বন্ধুকে বুকে টেনে নিলেন মন্ত্রী

পরিচ্ছন্নতাকর্মী বন্ধুকে বুকে টেনে নিলেন মন্ত্রী

বন্ধু ছিতুয়ার সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বন্ধুকে নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানের দেয়া পোস্টে মাত্র দুই ঘণ্টায় লাইক ও রিঅ্যাক্ট পড়েছে আট হাজার। কমেন্ট করেছেন তেরো শর বেশি বন্ধু ও অনুসারী। তারা সবাই মন্ত্রীর এমন আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

রংপুরের পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে গিয়েছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। সেখানেই তার দেখা হয় বাল্যবন্ধু ছিতুয়ার সঙ্গে।

পেশায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ছিতুয়া মানুষের ভিড়ে নিজেকে আড়াল করতে চাইলেও পারেননি। মন্ত্রী তাকে সবার সামনেই বন্ধু সম্বোধন করে টেনে নিয়েছেন বুকে। কাঁধে হাত রেখে তুলেছেন ছবি।

বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সেই ছবি নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্টও করেছেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী। প্রকাশ করেছেন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের এক চিত্র।

ছিতুয়া সম্প্রতি রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরি থেকে অবসরে গেছেন। স্ত্রী গীতা রানী এখনও চাকরি করছেন। ছিতুয়ার মা চানিয়া রানীও ছিলেন রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

বন্ধুর কর্মস্থল রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর দপ্তরের সামনে জড়িয়ে ধরে রাখা ছবিটি তোলেন প্রতিমন্ত্রী এনামুর।

শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক ওয়ালে সেই ছবি দিয়ে স্মৃতিচারণা করে আবেগঘন এক পোস্ট দেন ঢাকা-২০ আসনের (সাভার) এই সংসদ সদস্য।

তার সেই পোস্টে মাত্র দুই ঘণ্টায় লাইক ও রিঅ্যাক্ট পড়েছে আট হাজার। কমেন্ট করেছেন তেরো শর বেশি বন্ধু ও অনুসারী। তারা সবাই মন্ত্রীর এমন আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

হাসান ইকবাল শাহীন নামে একজন লেখেন, ‘আপনার এই অনুভূতি, চিন্তাধারা আর স্বীকারোক্তি এবং বাস্তবতার সংমিশ্রণ ভালোবাসার নিদর্শন আমাদের জন্য। প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য প্রেরণা ও আদর্শ হয়ে থাকবে। উঁচু-নিচুর বৈষম্যহীনতাই আমাদের জন্য জরুরি, যা ইসলাম ধর্মেও আছে… সবার উপরে মানুষ সত্য এটাই যেন রয়!’

মনির আহমেদ সুজন নামে আরেকজন লেখেন, ‘বাংলাদেশের সকল এমপি মহোদয়ের মনমানসিকতা এমন হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ আরও বহুদূর এগিয়ে যেত।’

পরিচ্ছন্নতাকর্মী বন্ধুকে বুকে টেনে নিলেন মন্ত্রী

মন্ত্রী তার ফেসবুকে লিখেছেন- পতাকাবাহী গাড়ি। পুলিশ প্রটোকল। বাড়তি লোকজনের ভিড়। এসব দেখে কিছুটা হতভম্ব ছিতুয়া। আমাদের সেই বন্ধুত্বের আবেগ আর আমার দুরন্তপনার দিনগুলো তখন অতীতের স্মৃতির ঝাঁপি খুলে জ্বলজ্বলে তারা হয়ে উপস্থিত আমার চোখের সামনে।

কিন্তু ছিতুয়া প্রচণ্ড আড়ষ্ট। নিজেকে আড়াল করার কী ব্যর্থ চেষ্টা! আমি বুঝতে পারছিলাম, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে চারপাশের প্রটোকলের আবহ ছিতুয়া আর আমার সম্পর্কের মধ্যে এক অদৃশ্য দেয়াল টেনে দিচ্ছে।

জনারণ্যে ‘এ্যাই ছিতুয়া’ বলে ডাকতেই ফিরে তাকাল সে। পড়ন্ত বয়সেও যেন সেই হারানো যৌবনের চকচকে চোখে মৃদু হাসিতে তাকাল আমার দিকে। দৃষ্টি বিনিময় হতেই বন্ধুকে বুকে টেনে নিয়ে বুক ফুলিয়ে গর্বের সাথে বললাম, এই ছিতুয়াই আমার স্কুলের বন্ধু। ছিতুয়ার তখন ছলছলে চোখ। আমারও গোপন অশ্রুবিন্দুগুলো তখন স্মৃতির মণিমুক্তা হয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে দুই নয়ন।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মী (সুইপার) থেকে সম্প্রতি অবসর নিয়েছে ছিতুয়া। ছিতুয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে ধারাবাহিক পেশাগত সম্পর্ক ধরে রেখেছে বৌদি গীতা রানী। সেও এখন সুইপার পদে কর্মরত।

তো আসছি ছিতুয়ার প্রসঙ্গে। আমার বাবা মরহুম আক্তারুজ্জামান খান ছিলেন এই অফিসেরই উচ্চমান সরকারী (ইউডি অ্যাসিসট্যান্ট)। আর ছিতুয়ার মা (আমাদের প্রিয় মাসি মা) চানিয়া রানী ছিলেন সুইপার।

তখন ছিল স্বর্ণালি যুগ। আমরা যে মূল্যবোধে বেড়ে উঠছিলাম, সেখানে জাতপাতের কোনো বালাই ছিল না।

আরও অন্য বন্ধুদের মতো ছিতুয়াও ছিল আমার দুরন্ত শৈশব আর কৈশোর অসাধারণ এক বন্ধু। রংপুরের রবার্টসনগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত আমাদের সঙ্গেই ছিল ছিতুয়া। তারপর পড়াশোনায় সে ইস্তফা দিলেও আমাদের বন্ধুত্বে ভাটা পড়েনি কখনো।

আহারে জীবন। আমার সোনালি অতীত। সোনালি কৈশোরের কত শত স্মৃতিমাখা এই রংপুর।

আজ ছিতুয়া ঝাপসা করে দিচ্ছে আমার চোখ দুটো।

ছিতুয়া আর আমার দুরন্তপনায় রীতিমতো অস্থির থাকত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলোনি। আমি দুঃসাহসী ‘গাছো’ ছিলাম। যে কোন গাছে কাঠবিড়ালের মতো তরতর উঠে পড়তে আমার আর ছিতুয়ার ছিল জুড়ি মেলা ভার। তো কলোনির আঙিনায় সারি সারি নারিকেল গাছের নারিকেল পরিপক্ব হওয়ার আগেই তা আমাদের কারণে সাবাড় হয়ে যেত। তেমনি আম-কাঁঠালও।

জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে কৈশোরের হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলো একদিকে যেমন আনন্দের, অন্যদিকে অনেক কষ্টের।

সেই আনন্দ আর কষ্টের মিশেলে ভিন্ন‌ এক অনুভূতি আজ উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছে আমার বন্ধু ছিতুয়া।

সরকারি চাকরি কনটিনিউ করলে বেশ কয়েক বছর আগে আমার নিজেরও অবসর নিতে হতো। আমার বন্ধুদের অনেকেই দেশবরেণ্য চিকিৎসক, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিবসহ আরও কত কি!

ছিতুয়া অবশ্যই তাদের তুলনায় কম কিছু নয়।

বন্ধু মানে আস্থা, নির্ভরতা। বন্ধু মানে ভালোবাসা, যেখানে থাকে না কোনো স্বার্থ।

গাড়ির পতাকা, প্রটোকল, পদ-পদবি, সামাজিক অবস্থান এগুলো সব কিছুই সাময়িক। কিন্তু বন্ধুত্বের বন্ধন চিরদিনের।

ছিতুয়া বন্ধু আমার। তোর জন্য ভালোবাসা।

আরও পড়ুন:
দুই বছরে ৬৬ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নিয়মিত
ঋণ পরিশোধে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চায় এফবিসিসিআই
খেলাপি ঋণ আদায়ে নজির ব্যাংক এশিয়ার
খেলাপি ঋণে ভালো অবস্থানে পুঁজিবাজারের ব্যাংক
মামলা করে আদায় খেলাপি ঋণের ১৮ হাজার কোটি টাকা

শেয়ার করুন